ঢাকা, সোমবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৮ ১২:৫১:১৯

বিশ্ব মানবাধিকার দিবস আজ

বিশ্ব মানবাধিকার দিবস আজ

আজ ১০ ডিসেম্বর, বিশ্ব মানবাধিকার দিবস। সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও যথাযোগ্য মর্যাদায় বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে এই দিবসটি পালন করা হবে। এ উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন স্থানে নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন। ১৯৪৮ সালের ১০ ডিসেম্বর জাতিসংঘের উদ্যোগে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে সংস্থার সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সর্বসম্মতিক্রমে সার্বজনীন মানবাধিকার সনদ গৃহীত হয়। এরপর থেকে বিশ্বব্যাপী জাতিসংঘ সদস্য রাষ্ট্রগুলো যথাযথ মর্যাদায় বিশ্ব মানবাধিকার দিবস পালন করে আসছে। চলতি বছর ৭০তম বিশ্ব মানবাধিকার দিবস পালিত হতে যাচ্ছে।দিবসটি উপলক্ষে পৃথক পৃথক বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে বলেন, প্রতি বছর এইদিন ‘বিশ্ব মানবাধিকার দিবস’ হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। বাংলাদেশের সংবিধানে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সকল মানবাধিকারের নিশ্চয়তা প্রদান করা হয়েছে। সরকার মানবাধিকার সুরক্ষা ও উন্নয়নের লক্ষ্যে ২০০৯ সালে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন প্রতিষ্ঠা করেছে। একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠান হিসেবে এ কমিশন মানবাধিকার সুরক্ষায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে।’অপরদিকে প্রধানমন্ত্রী তার বাণীতে বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকার দেশের জনগণের মানবাধিকার সুরক্ষায় বদ্ধপরিকর। পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীসহ সব মানুষের মানবাধিকার সুরক্ষা, সমানাধিকার, অর্থনৈতিক ক্ষমতা নিশ্চিতকরণে সরকার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প ও কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।’তিনি বলেন, ‘আমি সরকারের পাশাপাশি মানবাধিকার সুরক্ষার কাজে নিয়োজিত বেসরকারি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থা, উন্নয়ন সহযোগী, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, সিভিল সোসাইটি, গণমাধ্যম, মালিক ও শ্রমিক সংগঠনসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে আরো কার্যকর ভূমিকা পালনের জন্য আহ্বান জানাব।’ এদিকে বিশ্ব মানবাধিকার দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ মানবাধিকার ফেডারেশন (বিএইচআরএফ) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আজ (সোমবার) সকাল ১০টায় এক মানববন্ধন কর্মসূচির আয়োজন করেছে।এসএ/  
শহীদ সাংবাদিক সিরাজুদ্দীনের অন্তর্ধান দিবস

শহীদ সাংবাদিক সিরাজুদ্দীন হোসেনের ৪৭তম অন্তর্ধান দিবস আজ ১০ ডিসেম্বর। ১৯৭১ সালের এই দিনে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের এদেশীয় দোসর আলবদর ও রাজাকার বাহিনীর সদস্যরা তাকে তার চামেলীবাগের বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে যায়। এরপর তাকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। তিনি ছিলেন একাত্তরের ডিসেম্বরে বুদ্ধিজীবী হত্যার নীলনকশার প্রথম শিকার। শহীদ সিরাজুদ্দীন হোসেন ছিলেন দৈনিক ইত্তেফাকের কার্যনির্বাহী ও বার্তা সম্পাদক। ১৯৭১ সালে অবরুদ্ধ এই দেশে তিনি সাহসিকতার সঙ্গে সাংবাদিকতা করে গেছেন। সে সময় তার লেখা ‘ঠগ বাছিতে গাঁ উজাড়’, ‘অধূনা রাজনীতির কয়েকটি অধ্যায়’ ধরনের উপসম্পাদকীয় এবং ‘এতদিনে’ শিরোনামে সম্পাদকীয় মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষে তার দৃঢ় অবস্থানের সাক্ষ্য দেয়। ১৯৫২ সালে দৈনিক আজাদের বার্তা সম্পাদক থাকাকালে ভাষা আন্দোলনেও অবদান রাখেন তিনি। সিরাজুদ্দীন হোসেন ইন্টারন্যাশনাল প্রেস ইনস্টিটিউট অ্যাওয়ার্ডের (আইপিআই) মনোনয়ন লাভ করেন। আইপিআই বুলেটিনেও তার এই সাফল্য নিয়ে বিশদ আলোচনা করেন তৎকালীন সানডে টাইমস ও পরে নিউইয়র্ক টাইমসের সম্পাদক হ্যারল্ড ইভান্স। দিনটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করা হবে। এসএ/

বেগম রোকেয়া দিবস আজ

আজ ৯ ডিসেম্বর বেগম রোকেয়া দিবস। নারী জাগরণের অগ্রদূত বেগম রোকেয়ার ১৩৮তম জন্ম এবং ৮৬তম মৃত্যুবার্ষিকী। প্রতি বছর এ দিন সারাদেশে সরকারিভাবে রোকেয়া দিবস পালন করা হয়। দিনটি উপলক্ষে ঢাকা ও রংপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে প্রতি বছরের মতো এবারো রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। রোকেয়া দিবস উপলক্ষে আজ সকাল ১০টায় রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে রোকেয়া পদক-২০১৮ প্রদান ও আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এতে প্রধান অতিথি থাকবেন। দিবসটি উপলক্ষে বাংলাদেশ গার্ল গাইডস্ এসোসিয়েশনের জাতীয় রেঞ্জার কাউন্সিলের উদ্যোগে গতকাল শনিবার সকাল ১১টায় বেইলী রোডে অবস্থিত গাইড হাউজ, জাতীয় কার্যালয়ে এক আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের প্রতিপাদ্য বিষয় ছিলো ‘রেঞ্জারদের চিন্তা ও চেতনায় বেগম রোকেয়া’। বেগম রোকেয়ার জীবনী নিয়ে তথ্যচিত্র উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেঞ্জার ইউনিটের সদস্য জেসমিন আক্তার। বেগম রোকেয়া ১৮৮০ সালের ৯ ডিসেম্বর রংপুর জেলার মিঠাপুকুর থানার পায়রাবন্দ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। রক্ষণশীল মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেও তিনি নারী জাগরণের অগ্রদূতের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। তিনি উনবিংশ শতাব্দীর একজন খ্যাতিমান বাঙালী সাহিত্যিক ও সমাজ সংস্কারক। ১৯৩২ সালের ৯ ডিসেম্বর তিনি মৃত্যুবরণ করেন। বেগম রোকেয়ার উল্লেখযোগ্য রচনাগুলো হলো- পিপাসা (১৯০২), মতিচূর (১৯০৪), সুলতানার স্বপ্ন (১৯০৮), সওগাত (১৯১৮), পদ্মরাগ (১৯২৪) ও অবরোধবাসিনী (১৯৩১)। একে//

৮ ডিসেম্বর: পিরোজপুর মুক্ত দিবস আজ

আজ ৮ ডিসেম্বর ২০১৮, পিরোজপুর মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এ দিনে পিরোজপুর পাকহানাদার, রাজাকার ও আলবদর মুক্ত হয়। এই দিনে ঘরে ঘরে উড়েছিল লাল সবুজের বিজয় পতাকা। পিরোজপুরের ইতিহাসে এ দিনটি বিশেষ স্মরণীয় দিন। মুক্তিযুদ্ধের সময় পিরোজপুর ছিল মুক্তিযুদ্ধের নবম সেক্টরের অধীন সুন্দরবন সাব-সেক্টর মেজর জিয়াউদ্দিনের কমান্ডের আওতায়। ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করার ১৮ ঘণ্টার মধ্যে পিরোজপুরের আওয়ামী লীগের নেতৃতাধীন মহকুমা সংগ্রাম পরিষদের নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধারা অস্ত্রাগার ভেঙ্গে অস্ত্র গুলি নিয়ে প্রশিক্ষণ শুরু করে ও মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার প্রস্তুতি নেয়। ১৯৭১ সালের ৩ মে পিরোজপুরে প্রথম পাক বাহিনী প্রবেশ করে। শহরের প্রবেশদ্বার হুলারহাট নৌ-বন্দর থেকে পাকবাহিনীরা প্রবেশের পথে প্রথমেই তারা মাছিমপুর ও কৃষ্ণনগর গ্রামে শুরু করে হত্যাযজ্ঞ। তারপর ৮টি মাস স্থানীয় শান্তি কমিটির নেতা ও রাজাকারদের সহায়তায় বিভিন্ন এলাকায় মুক্তিযোদ্ধা, সংখ্যালঘু ও স্বাধীনতার স্বপক্ষের লোকজনদের বাড়ি-ঘরে আগুন দেয়া হয়। হত্যা করা হয় ৩০ সহস্রাধিক মুক্তিকামী নারী-পুরুষ শিশুকে। পিরোজপুরকে হানাদার মুক্ত করতে সুন্দরবনের সাব-সেক্টর কমান্ডার মেজর জিয়াউদ্দিনের নেতৃত্বে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের একটি দল ৭ ডিসেম্বর রাত ১০টায় পিরোজপুরের দক্ষিণপ্রান্ত পাড়েরহাট বন্দর দিয়ে শহরে প্রবেশ করতে থাকে। মুক্তিবাহিনীর এ আগমনের খবর পেয়ে পাক হায়নারা শহরের পূর্বদিকের কচা নদী দিয়ে বরিশালের উদ্দেশ্যে পালিয়ে যায়। এর আগে স্বরূপকাঠী পেয়ারা বাগানে মুক্তিযোদ্ধাদের গড়ে তোলা দূর্গে পাকবাহিনী আক্রমণ করলে মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে কয়েকজন পাক সেনা নিহত হয়। এছাড়া বিভিন্ন স্থানে মুক্তিযোদ্ধাদের গেরিলা আক্রমণে পাকবাহিনী পর্যুদস্ত হতে থাকে। অবশেষে ৮ ডিসেম্বর পিরোজপুর ছেড়ে তারা পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাকবাহিনী ও তাদের দোসররা পিরোজপুর অঞ্চলে প্রায় ৩০ হাজার মানুষকে নির্মমভাবে হত্যা করে। সম্ভ্রম লুটে নেয় প্রায় কয়েক হাজার মা-বোনের। পিরোজপুর মুক্ত দিবস উদযাপন পরিষদ বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। সকাল সাড়ে ৯ টায় টাউন ক্লাব স্বাধীনতা চত্বর থেকে আনন্দ শোভাযাত্রা শেষে শহীদ ভাগিরথী চত্বরে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি স্তম্ভে শ্রদ্ধা নিবেদন ও স্বাধীনতা মঞ্চে স্মৃতিচারণ। সন্ধ্যা ৬টা ১ মিনিটে মোমবাতি প্রজ্জলন ও আলোর মিছিল। এছাড়া উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী সন্ধ্যা ৭ টায় টাউন ক্লাব স্বাধীনতা মঞ্চে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। সূত্র: বাসস একে//

৮ ডিসেম্বর : ব্রাহ্মণবাড়িয়া মুক্ত দিবস

আজ ৮ ডিসেম্বর। ১৯৭১ সালের এ দিন বিনা যুদ্ধে হানাদারমুক্ত হয় ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহর ও সরাইল উপজেলা।১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলাকে হানাদারমুক্ত করার পর মুক্তিযোদ্ধাদের একটি অংশ দক্ষিণ দিক থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের দিকে অগ্রসর হতে থাকে। একই সঙ্গে মিত্রবাহিনীর ৫৭তম মাউন্টের ডিভিশন আখাউড়া-ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেললাইন ও উজানিসার সড়ক দিয়ে শহরের দিকে অগ্রসর হতে থাকে। শহরের চারপাশে মুক্তিবাহিনী ও মিত্রবাহিনীর শক্ত অবস্থানে থাকায় হানাদার বাহিনী পিছু হটতে থাকে।তবে পালিয়ে যাওয়ার সময় ৬ ডিসেম্বর রাজাকারদের সহায়তায় নির্মম হত্যাযজ্ঞ চালায় পাক হানাদার বাহিনী। তৎকালীন ব্রাহ্মণবাড়িয়া কলেজের অধ্যাপক কেএম লুৎফুর রহমানসহ কারাগারে আটকে রাখা অর্ধশত বুদ্ধিজীবী ও সাধারণ মানুষকে পৌর শহরের কুরুলিয়া খালের পাড়ে নিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে হানাদার বাহিনী।এছাড়া শহর ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় তারা কলেজের হোস্টেল, অন্নদা স্কুল বোর্ডিং, বাজার ও গুদামসহ বিভিন্ন স্থানে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরদিন ৭ ডিসেম্বর রাতের অন্ধকারে পাকিস্তানি মিলিটারি বাহিনী ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহর ছেড়ে আশুগঞ্জের দিকে পালাতে থাকে। ৮ ডিসেম্বর বিনা যুদ্ধে মুক্তিবাহিনী ও মিত্রবাহিনী সদস্যরা ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে প্রবেশ করে ব্রাহ্মণবাড়িয়াকে মুক্ত ঘোষণা করে।এদিন সকাল ৯টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করেন মুক্তিযুদ্ধের দক্ষিণ পূর্বাঞ্চল কাউন্সিলের চেয়ারম্যান জহুর আহমেদ চৌধুরী। আজ দিনটি পালনে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা সংগঠনসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন নানা অনুষ্ঠান আয়োজন করছে। এসএ/

৮ ডিসেম্বর : বরিশাল মুক্ত দিবস আজ

আজ ৮ ডিসেম্বর। বরিশাল মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর কবল থেকে বরিশাল মুক্ত হয়েছিল। ‘জয় বাংলা-জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দিয়ে সে দিন মুক্তিযোদ্ধারা বরিশাল মুখর করেছিলেন।১৯৭১-এর ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত বরিশাল ছিল শত্রুমুক্ত। ১৭ এপ্রিল পাকিস্তানি বাহিনী আকাশপথে বরিশাল ও পটুয়াখালীতে হামলা চালায়। দ্বিতীয় দফা হামলা চালায় ২৭ এপ্রিল জল, স্থল ও আকাশপথে। এর আগেই সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ে প্রতিষ্ঠা হয়েছিল স্বাধীন বাংলা সরকারের অস্থায়ী সচিবালয়। আওয়ামী লীগ ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সবাইকে নিয়ে এ সচিবালয় গঠিত হয়। এ ঘাঁটি থেকেই দেশের বিভিন্ন এলাকায় মুক্তিযোদ্ধাদের অস্ত্র ও অর্থ সরবরাহ করা হতো। মুক্তিযোদ্ধাদের সংগঠিত করে ভারতে প্রশিক্ষণ নিতে পাঠানোর কাজও হতো এ সচিবালয় থেকে।৮ ডিসেম্বর দুপুরে পাকিস্তানি সেনা কর্মকর্তারা গানবোট, লঞ্চ, স্টিমারে বরিশাল থেকে গোপনে পালিয়ে যায়। তবে পাকিস্তানি কর্মকর্তাদের গোপনে পালানোর খবরটি জানাজানি হয়ে যায়। ভারতীয় বিমানবাহিনী দুপুর ২টায় বরিশালে হামলা চালায়। পাকিস্তানি দখলদারদের পালিয়ে যাওয়ার খবর পেয়ে বিকেল ৩টায় বরিশালের অদূরে অবস্থানরত সুলতান মাস্টার ও আবদুল মান্নানের নেতৃত্বাধীন মুক্তিযোদ্ধাদের একটি দল প্রবেশ করে শহরের নিয়ন্ত্রণ নেয়।বরিশাল মুক্ত দিবস পালনে মুক্তিযোদ্ধা সংসদের উদ্যোগে সংগঠন কার্যালয়ে আজ সকাল সাড়ে ১০টায় আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। এ ছাড়া উদীচী ও বরিশাল নাটকের উদ্যোগে বিকেল ৫টায় বিজয় বিহঙ্গ চত্বরে মোম প্রজ্বালন ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। এসএ/

৭ ডিসেম্বর: মাগুরা মুক্ত দিবস আজ

আজ ৭ ডিসেম্বর ২০১৮, ঐতিহাসিক মাগুরা মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এ দিনে মহান মুক্তিযুদ্ধে পাক হানাদার মুক্ত হয় মাগুরা। এ সময় পাক বাহিনীর বিরুদ্ধে তৎকালিন মাগুরা মহাকুমায় ব্যাপক প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে সর্বদলীয় সংগ্রাম পরিষদ অগ্রণী ভূমিকা পালন করে। এ সময় মাগুরায় আকবর হোসেন মিয়ার নেতৃত্বাধীন শ্রীপুর বাহিনী, মহম্মদপুরের ইয়াকুব বাহিনী, মহম্মদপুর-ফরিদপুর অঞ্চলের মাশরুরুল হক সিদ্দিকী কমল বাহিনী, মাগুরা শহরের খন্দকার মাজেদ বাহিনী এবং মুজিব বাহিনীসহ মুক্তিযোদ্ধারা ব্যাপক সাহসী ভূমিকা নিয়ে পাক সেনা ও স্থানীয় রাজাকার আল বদর বাহিনীর সাথে প্রাণপণ যুদ্ধ করে। এ সময় শ্রীপুর বাহিনীর রনাঙ্গণে একের পর এক বিরোচিত অভিযান-পাক হানাদার বাহিনীকে তটস্থ করে তোলে। শ্রীপুরের শ্রীকোল ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ আকবর হোসেন মিয়ার নেতৃত্বে গড়ে ওঠা এ বাহিনী মূলত মাগুরা, ঝিনাইদহ, কুষ্টিয়া, রাজবাড়ী, ফরিদপুরের বিভিন্ন এলাকাজুড়ে পাক হানাদার বাহিনী ও রাজাকার আলবদরদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে থাকে। এ গেরিলা বাহিনীর ব্যাপক আক্রমণের মুখে পাক বাহিনী পিছু হটতে শুরু করে। ওই সময় ৬ ডিসেম্বর মুক্তি বাহিনী নিজনান্দুয়ালী গ্রামসহ বিভিন্ন পাকিস্তানী ক্যাম্পে আক্রমণ চালায়। একই সঙ্গে মিত্রবাহিনীর আগ্রাসনের ভয়ে পাকিস্তানী সেনারা রাতারাতি মাগুরা শহর ত্যাগ করতে বাধ্য হয়। এর পরদিন ৭ডিসেম্বর মাগুরা শত্রুমুক্ত হয়। হানাদার মুক্ত হওয়ার আনন্দে মুক্তিকামি মানুষের ঢল নামে সারা শহরে। জয় বাংলা স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে গোটা মাগুরা এলাকা। মাগুরামুক্ত দিবস পালন উপলক্ষে মাগুরা জেলা প্রশাসন নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। সূত্র: বাসস একে//

৬ ডিসেম্বর : বড়লেখা-কুলাউড়া-রাজনগর মুক্ত দিবস

আজ ৬ ডিসেম্বর। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের এই দিনে শত্রু মুক্ত হয় মৌলভীবাজারের কুলাউড়া, রাজনগর ও বড়লেখা উপজেলা।  ১৯৭১ সালের এই দিনে রাজনগর উপজেলা পাকসেনাদের কবল থেকে মুক্ত হয়। যৌথবাহিনীর কামান্ডার কর্নেল এমএ হামিদ প্রথম লাল সবুজের বিজয় পতাকা উড়ান রাজনগরের ক্লাব প্রাঙ্গনে। এর আগে উপজেলার কামারচাক ইউনিয়নে রাজনগর বিজয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। যেখানে নির্মাণ করা হয়েছে ‘শহীদ মিনার’।১৯৭১ সালের ২৩ মার্চ রাজনগর পোর্টিয়াস উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে প্রথম প্রতিরোধ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশের মানচিত্র খচিত স্বাধীন বাংলার পতাকা সংবলিত মিছিল সহকারে কৃষক, শ্রমিক এমনকি সরকারী পেশাজীবিরাও অফিস আদালতে অনুপস্থিত থেকে প্রতিরোধ সমাবেশে অংশ গ্রহণ করেন।ওই সমাবেশে রাজনগরে স্বাধীন বাংলার পতাকা আনুষ্ঠানিক ভাবে উত্তোলন করা হয়। পাক সেনারা মুক্তিযোদ্ধের শেষ সময়ে অপারেশন শুরু করে উদনা চা বাগানে। তখন মুক্তিযোদ্ধারা শমসেরনগর অবস্থান গ্রহণ করেন। সেখান থেকে ৪ ডিসেম্বর ৩০ জন মুক্তিযোদ্ধার একটি দল মৌলভীবাজার হয়ে রাজনগর পৌঁছে। তারা উদনা চা বাগান আক্রমনের চুড়ান্ত প্রস্তুতি গ্রহণ করেন। ৫ ডিসেম্বর হিম শীতে মুক্তিযোদ্ধারা প্রবেশ করেন উদনা চা বাগানে। ত্বড়িত আক্রমন করেন পাকসেনাদের উপর।টানা দুদিন যুদ্ধের পর ৬ ডিসেম্বর ভোর হবার সঙ্গে সঙ্গে পাকসেনারা পালাতে শুরু করে। এতে বহু পাকসেনা মারা যায়। ৬ ডিসেম্বর রাজনগর শত্রু মুক্ত হয়। শ্বাসরুদ্ধকর বিভিষিকা থেকে রাজনগরের মানুষ মুক্ত বাতাসের ছোঁয়া পায়। গ্রামছাড়া মানুষ আবার আসতে শুরু করে গ্রামে।হানাদার বাহিনী পালিয়ে যাওয়ার পর মুক্তিসেনারা হানাদার ক্যাম্পের যাবতীয় অস্ত্র ও গোলা-বারুদ উদ্ধার করেন। অস্ত্র ও গোলা-বারুদের পরিমান ছিল অসংখ্য। মুন্সীবাজার ও উদনা চাবাগান থেকে মোট ৫ ট্রাক অস্ত্র ও গোলা-বারুদ মুক্তিযোদ্ধাদের হস্তগত হয়।১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে বড়লেখাবাসী জেগে উঠেছিল রণ হুঙ্কারে। সেসময় প্রায় ৩২৫টি গ্রাম যেন প্রতিরোধের এক একটি দুর্গে পরিণত হয়। একই সঙ্গে ১৯৭১ সালের এই দিনে মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলা পাকিস্তানি হানাদার মুক্ত হয়।এসএ/

৬ ডিসেম্বর : যশোর মুক্ত দিবস আজ

আজ ৬ ডিসেম্বর। ঐতিহাসিক যশোর মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনেই শত্রুমুক্ত হয় যশোর জেলা। এদিন বিকেলে যশোর সেনানিবাস ছেড়ে পালিয়ে যায় পাক হানাদার বাহিনী। যশোরেই প্রথম উঠেছিল বিজয়ী বাংলাদেশের রক্ত সূর্য খচিত গাঢ় সবুজ পতাকা।৭১ সালের ০৩, ০৪ ও ০৫ ডিসেম্বর যশোর অঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে পাক হানাদার বাহিনীর সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রচণ্ড যুদ্ধ হয়। এ সময় মিত্রবাহিনীও সীমান্ত এলাকা থেকে যশোর সেনানিবাসসহ পাক আর্মিদের বিভিন্ন স্থাপনায় বিমান হামলা ও গোলা নিক্ষেপ করে। এক পর্যায়ে পর্যুদস্তু পাক বাহিনী ০৫ ডিসেম্বর থেকে পলায়ন শুরু করে। যশোর সেনানিবাস ছেড়ে তারা ছিন্নভিন্ন হয়ে খুলনার গিলাতলা সেনানিবাসের দিকে পালিয়ে যেতে থাকে। পলায়নকালে ০৫ ও ০৬ ডিসেম্বর শহরতলীর রাজারহাটসহ বিভিন্ন স্থানে মুক্তিবাহিনীর সঙ্গে তাদের প্রচণ্ড লড়াই হয়।০৬ ডিসেম্বর বিকেলের আগে যশোর সেনানিবাস খালি করে পালিয়ে যায় পাক হানাদাররা। বিকেলে মিত্র বাহিনীর কমান্ডার জেনারেল বারাতের নেতৃত্বে মিত্র ও মুক্তি বাহিনী সেনানিবাসে প্রবেশ করে দখল নেয়। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে মুক্তির আনন্দে উচ্ছ্বসিত মুক্তিযোদ্ধা-জনতার ঢল নামে শহরে। পাড়া মহল্লায়ও চলে খণ্ড খণ্ড আনন্দ মিছিল। মুক্তির আনন্দে ‘জয় বাংলা’ শ্লোগানে ফেটে পড়ে গোটা জেলার মানুষ।আজ ৬ ডিসেম্বর, যশোর মুক্ত দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় উদ্যাপনের লক্ষে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।এসএ/  

মুক্তিযোদ্ধা প্রয়াত মাহবুবুল আলম চেয়ারম্যান এর স্বরণসভা অনুষ্ঠিত 

১৯৭১ সালের যুদ্ধকালীন সময়ে মুজিব বাহিনী নামে পরিচিত ‘বাংলাদেশ লিবারেশন ফোর্স বা বিএলএফ’- চট্টগ্রাম জেলার সন্দ্বীপ থানার ডেপুটি কমান্ডার, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক, প্রয়াত মাহবুবুল আলম চেয়ারম্যানের তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে স্বরণসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।     মঙ্গলবার বিকেলে সন্দ্বীপ উপজেলার মুছাপুর ইউনিয়নে অবস্থিত এবি হাই স্কুল মাঠে এই স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন মাহফুজুর রহমান মিতা (এম পি)। সভাপতিত্ব করেন সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার রফিকুল ইসলাম।    সাংসদ মাহফুজুর রহমান মিতা বলেন, ‘জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রয়াত মাহবুবুল আলম চেয়ারম্যান ছিলেন একজন নিবেদিত দেশপ্রেমিক ও বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক। তিনি আজীবন দেশ ও জাতিকে দিয়ে গেছেন। আজীবন তিনি নিলিপ্তভাবে এলাকার মানুষের জন্যে কাজ করে গেছেন। তাঁর জীবনব্যাপী বিপ্লবী আদর্শ থেকে নতুন প্রজন্মের কাছে শিক্ষণীয়। তাঁর মতো বীরযোদ্ধাকে আমি সম্মান জানাই।    তিনি আরও বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের সময় মাহবুবুল আলম বঙ্গবন্ধুর আদর্শে দিক্ষিত হয়ে মুক্তি সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পরেছিলেন। তাদের নেতৃত্বে সন্দ্বীপ হানাদার মুক্ত হয়।’  মুক্তিযোদ্ধা বেলাল উদ্দিনের সঞ্চালনায় স্মরণ সভায় বক্তব্য রাখেন, সরকারি এবি কলেজ ছাত্রলীগ সভাপতি সাহেদুর রহমান ফাহাদ, সন্দ্বীপ উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি মাহফুজুর রহমান সুমন, সাবেক ছাত্রলীগ সভাপতি রফিকুল ইসলাম, সন্দ্বীপ উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মাইন উদ্দিন মিশন। এতে উপজেলার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।  উল্লেখ্য, ১৯৭১ সালের ২৭ মার্চ সন্দ্বীপ ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের ব্যানারে সর্বপ্রথম সন্দ্বীপ টাউনের কোর্ট প্রাঙ্গণে যে ক’জন মুক্তিযোদ্ধা বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করেন তাঁর মধ্যে মাহবুবুল আলম ছিলেন অন্যতম। এই সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন, কমান্ডার রফিকুল ইসলাম, মো. মশিউর রহমান জগলু, আলী হায়দার চৌধুরী বাবলু। ১৯৭১ সালের জুন মাসে সন্দ্বীপ থেকে ১১জন তরুণ যুদ্ধের প্রশিক্ষণের জন্য ভারতের দেরাদুনে যান। সেখান থেকে প্রায় দুই মাস যুদ্ধের প্রশিক্ষণ গ্রহণ শেষে অগাস্ট মাসের মাঝামাঝি সময়ে সন্দ্বীপে প্রবেশ করেন তারা। এরপর স্থানীয় ৬৩৫ জন তরুণ মুক্তিযোদ্ধাকে প্রশিক্ষণ দেন এবং জনমত সৃষ্টিতে ব্যাপক ভূমিকা রাখেন। সেই সময় তিনি বিএলএফের সন্দ্বীপ ‘মধ্য জোনের’ দায়িত্তপ্রাপ্ত ছিলেন। যুদ্ধকালীন সময়ে তিনি দক্ষিণ সন্দ্বীপ থেকে উত্তর সন্দ্বীপ জাওয়ার সময় রাজকারদের হাতে ধরাও পরেছিলেন। এছাড়া সন্দ্বীপকে শত্রু মুক্ত করতে পরিকল্পনা অনুযায়ী মিলিশিয়া বাহিনীর সাথে প্রায় ৩ ঘণ্টা সম্মুখ যুদ্ধ হয়। সেসময় সন্দ্বীপ থেকে বাইরে যোগাযোগ বন্ধ করতেই আমরা টিন্ডটির যন্ত্রপাতি সরিয়ে ফেলেন তারা। এই সম্মুখ যুদ্ধে অনেকে যোগ দেন। সন্দ্বীপ থানার মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মো. রফিকুল ইসলাম, হেদায়েতুল ইসলাম মিন্টু, আলী হায়দার চৌধুরী বাবলু, মাহবুবুল আলম  মো. শাহাজান (মগধরা), সুদাংশু লাল দাস (হরিশপুর), আজিজ উল্ল্যা প্রকাশ আজিজ ডাক্তার (মাইটভাঙ্গা), শফিউল্লা (সারিকাইত), মাইটভাঙ্গা শিবের বাড়ির অমিয় কর্মকার, কাজী সুফিয়ান (সারিকাইত), ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের শামসুল আলম খাদেম ও জয়নাল চৌধুরি, এবিএম ছিদ্দিকুর রহমান,শ্যামল কান্তি দাস, মো. ইব্রাহীম, মো. কামাল পাশা, মো. মশিউর রহমান জগলু, মৃণাল কান্তি, নাজমুল হোসেন বাবুল প্রমুখ। বিএলএফ ও এফএফ বাহিনীর মিলিত আক্রমণে সন্দ্বীপ ৩ ডিসেম্বর হানাদার মুক্ত হয়। প্রসঙ্গত, স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে তিনি ১৯৭৩ সালে নেমস্তির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৫ সালের ১৮ নভেম্বর তিনি ৬৮ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন।    কেআই/এসি    

লক্ষ্মীপুর হানাদার মুক্ত দিবস আজ

লক্ষ্মীপুর হানাদার মুক্ত দিবস আজ ৪ ডিসেম্বর। মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের পুরো সময় জুড়ে লক্ষ্মীপুর জেলা ছিল স্বাধীনতা বিরোধী পাক-হানাদার বাহিনী ও তাদের এ দেশীয় দোসর রাজাকার-আলবদর আল-শামসদের সহযোগিতায় নৃশংস হত্যা, লুট, অগ্নিসংযোগ ও ধর্ষণের ঘটনায় ক্ষত-বিক্ষত। ১৯৭১ সালের এ দিনে বীর মুক্তিযোদ্ধারা সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে, এ জেলায় পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করে। তাদের হত্যা, লুট, আর পাশবিক নির্যাতনের হাত থেকে মুক্তিপায় জেলাবাসী।লক্ষ্মীপুরকে হানাদার মুক্ত করতে মুক্তিযোদ্ধারা দীর্ঘ ৯ মাস জেলার বিভিন্ন স্থানে পাক হানাদার বাহিনীর সাথে ২২ টি সম্মুখ যুদ্ধসহ ২৯টি দুঃসাহসিক অভিযান চালায়। এতে শহীদ হন ৩৫ জন মুক্তিযোদ্ধাসহ অনেক মুক্তিকামী বাঙ্গালী। পাক-হানাদার বাহিনীকে প্রতিরোধ করতে গিয়ে সর্বপ্রথম মুক্তিযোদ্ধারা লক্ষ্মীপুর শহরের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া রহমতখালী খালের ওপর নির্মিত মাদাম ব্রিজটি উড়িয়ে দেন। আজও এর স্মৃতি হিসেবে ব্রিজের লোহার পিলার দাঁড়িয়ে আছে।৭১’ এর মুক্তিযুদ্ধকালীন এ জেলায় উল্লেখযোগ্য রণক্ষেত্র গুলো হল- কাজির দিঘীর পাড়, মিরগঞ্জ, চৌধুরী বাজার, দালাল বাজার, রায়পুর আলীয়া মাদ্রাসা, ডাকাতিয়া নদীর ঘাট, চর আলেকজান্ডার সিড গোডাউন, প্রতাপগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়, রামগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়, রামগঞ্জের গোডাউন এলাকা। যুদ্ধে লক্ষ্মীপুর জেলায় ৩৫ জন মুক্তিযোদ্ধাসহ শতাধিক লোক শহীদ হয়েছেন। সদর উপজেলায় ২৩ জন, রামগতিতে ২জন, কমলনগর ১জন, রায়পুরে ৭জন ও রামগঞ্জে ২জন বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন।এ সব যুদ্ধে আবু ছায়েদ, আবদুল হালিম বাসু, রবীন্দ্র কুমার সাহা, মাজহারুল মনির সবুজ, মুনছুর আহাম্মদ, চাঁদ মিয়া, মো. মোস্তফা মিয়া, জয়নাল আবেদিনসহ ৩৫ জন বীর মুক্তিযোদ্ধাসহ বহু নিরীহ মুক্তিকামী মানুষ শহীদ হন।মুক্তিযুদ্ধের ৯ মাস ধরে পাকহানাদার বাহিনী ও তাদের দোসররা লক্ষ্মীপুর জেলার বিভিন্ন স্থানে চালায় নারকীয় তান্ডবলীলা। হানাদার বাহিনী শহরের বাগবাড়ীতে ক্যাম্প স্থাপন করে বিভিন্ন এলাকা থেকে মুক্তিকামী হাজার হাজার নর-নারীকে ধরে এনে নির্মমভাবে নির্যাতন করতো এবং যুবতীদের পাশবিক নির্যাতন শেষে হত্যা করে বাগবাড়ীস্থ গণকবর, মাদাম ব্রিজ এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে গর্তে পুতে ফেলতো। এছাড়াও বহু মুক্তিকামী বাঙালিকে হত্যা করে রহমতখালী নদীর খরস্রোতে ফেলে দিয়েছিল হানাদাররা।১৯৭১ সালের ২১ মে ভোর রাতে লক্ষ্মীপুর শহরের উত্তর ও দক্ষিণ মজুপুর গ্রামের হিন্দু পাড়ায় পাকহানাদার বাহিনী ভয়াবহ তান্ডবলীলা চালায়। বাড়ি ঘরে আগুন লাগিয়ে, বহু মানুষকে গুলি ও বেওনেট দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে হত্যা করাসহ নির্যাতন চালায় তারা। এ সময় ১১টি বাড়ির ২৯টি বসত ঘর আগুনে পুড়ে ছাই করে দেওয়া হয়। এতে অগ্নিদগ্ধ হয়ে ও হানাদারদের গুলিতে প্রাণ হারায় প্রায় ৪০ জন নিরস্ত্র বাঙ্গালী। এ সব নারকীয় হত্যাযজ্ঞের আজও নীরব সাক্ষী হয়ে আছে শহরের বাগবাড়ীস্থ গণকবর, মাদাম ব্রিজ, পিয়ারাপুর ব্রিজ ও মজুপুরের কয়েকটি হিন্দু ও মুসলমান বাড়ি।১৯৭১ সালের ১ ডিসেম্বর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল হায়দার চৌধুরী, সুবেদার আব্দুল মতিন, আ.ও.ম. শফিক উল্যা, হামদে রাব্বীর নেতৃত্বে প্রায় দেড় শতাধিক মুক্তিযোদ্ধা সাঁড়াশি অভিযান শুরু করে হানাদার বাহিনীর বিভিন্ন ক্যাম্পে। অবশেষে, ৪ ডিসেম্বর আত্মসমর্পণ করে হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসররা।লক্ষ্মীপুর জেলা মুক্তিযোদ্ধা ইউনিটের সাবেক কমান্ডার হুমায়ুন কবির তোফায়েল বলেন, মুক্তির ৪৭ বছর পরেও এদেশের অলিগলিতে স্বাধীনভাবে ঘুরে বেড়াচ্ছে পাক-হানাদার বাহিনীর এ দেশীয় দোসররা। অথচ এরাই সেদিন পাকিস্তানিদের সাথে আঁতাত করে নির্মম হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছিল। তাই জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে এদের তালিকা করে অনতিবিলম্বে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করার দাবি জানান তিনি।সূত্র : বাসসএসএ/

© ২০১৮ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি