ঢাকা, শনিবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ১১:৪৩:১০

কেমন ছিল ডিজিটাল যুগের আগের প্রেম?

কেমন ছিল ডিজিটাল যুগের আগের প্রেম?

আমাদের সময়ে গ্রামে `প্রেম` কে বলা হত `লাইন`। কেউ যখন কারো সাথে `লাইন` করত, অন্যরা তখন স্কুলের দেওয়ালে তাদের দু`জনের নাম যোগ চিহ্ন দিয়ে লিখে সেই লাইনের প্রচার ও প্রসারে ভূমিকা রাখত। 
আজ ১৮তম সুন্দরবন দিবস

সুন্দরবনের সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িয়ে রয়েছে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলসহ গোটা দেশের পরিবেশ। কিন্তু প্রতিনিয়ত বনখেকোদের আগ্রাসনের ফলে বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবন আজ হুমকির মুখে। তাই দেশের জলবায়ু ও পরিবেশ রক্ষায় জনসচেতনতা খুবই জরুরী। আজ সুন্দরবন দিবস। সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে ১৪ ফেব্রুয়ারি সুন্দরবন দিবস পালিত হয়ে আসছে।২০০১ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের আওতায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনার স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন রূপান্তর ও পরশের উদ্যোগে এবং দেশের আরও ৭০টি পরিবেশবাদী সংগঠনের অংশগ্রহণে প্রথম জাতীয় সুন্দরবন সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।সেই সম্মেলনে ১৪ ফেব্রুয়ারিকে ‘সুন্দরবন দিবস’ ঘোষণা করা হয়। সে হিসেবে এবার পালিত হচ্ছে ১৮তম সুন্দরবন দিবস।বরাবরের মতো এবারেও সুন্দরবন দিবসের মূল অনুষ্ঠানটি হবে খুলনায়। দিবসটি উপলক্ষে নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।সুন্দরবন রয়েছে ৫ হাজার প্রজাতির উদ্ভিদ, ১৯৮ প্রজাতির উভচর প্রাণী, ১২৪ প্রজাতির সরীসৃপ, ৫৭৯ প্রজাতির পাখি, ১২৫ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণী ও ৩০ প্রজাতির চিংড়ি মাছ রয়েছে। এসএ/  

আজ কোস্টগার্ডের ২৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী

উপকূলীয় ও সমুদ্র নিরাপত্তা বাহিনী কোস্টগার্ডের ২৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও বাংলাদেশ কোস্টগার্ড দিবস আজ। এ উপলক্ষে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাহিনীর সদর দপ্তরে অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হচ্ছে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে থাকবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও নৌবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন। অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গার্ড পরিদর্শন করবেন এবং উন্নয়ন ও অপারেশনে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য বাহিনীর সদস্যদের পদক পরিয়ে দেবেন। দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে দেশের জলসীমা ও উপকূলীয় এলাকার নিরাপত্তা বিধানে কোস্টগার্ড নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন। প্রধানমন্ত্রী তার বাণীতে বলেন, ‘দেশের বিশাল সমুদ্র এলাকা, উপকূলবর্তী ও অধিভুক্ত অভ্যন্তরীণ নৌপথে জনসাধারণের জানমাল রক্ষা, চোরাচালান দমন, মাদক নিয়ন্ত্রণ, মানবপাচার রোধ, অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধ, নৌ অপরাধ দমন প্রভৃতি কাজে কোস্টগার্ড জনগণের আস্থা অর্জন করেছে।’ বাহিনীর প্রতিটি সদস্য দেশপ্রেম, আন্তরিকতা, সাহসিকতা ও অবিচল আস্থার সঙ্গে তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করবেন বলেও আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে বাংলাদেশ নৌবাহিনী অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে কোস্টগার্ডের কার্যাবলি পালন করে আসছিল। এর পর ১৯৯৪ সালে তৎকালীন সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা শেখ হাসিনার একান্ত উদ্যোগে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড প্রতিষ্ঠা বিল পাস হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৯৫ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন নৌবাহিনী থেকে দুটি জাহাজ ধার নিয়ে কোস্টগার্ডের যাত্রা শুরু হয়। এরপর থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ কোস্টগার্ড দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় কোস্টগার্ডকে একটি বাহিনীতে পরিণত করতে ২০১৬ সালের ২৯ ফ্রেব্রুয়ারি যুগোপযোগী করে কোস্টগার্ড আইন পাস হয়। এসএ/  

আসুন আলোকিত মানুষ গড়ি

আজ ৫ ফেব্রুয়ারি ‘জাতীয় গ্রন্থাগার দিবস।’ এবার দিবসটির প্রতিপাদ্য বিষয় ‘গ্রন্থাগারে বই পড়ি, আলোকিত মানুষ গড়ি।’ জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত, প্রতিটি দিবসই গুরুত্বপূর্ণ।তারপরও কোনো কাজের অধিকতর গুরুত্ব বোঝাতে আমরা সুনির্দিষ্ট তারিখকে ‘বিশেষ দিবস’ ঘোষণা করি, আড়ম্বরের সঙ্গে উদযাপন করি। তেমনই একটি দিন ৫ ফেব্রুয়ারি ‘জাতীয় গ্রন্থাগার দিবস।’ দেশে ২০১৮ সালে প্রথম জাতীয় গ্রন্থাগার দিবস উদযাপন শুরু হয়। ওই বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য ছিল, ‘বই পড়ি, স্বদেশ গড়ি।’যেভাবে শুরু : মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সাধারণ অধিশাখা ২০১৭ সালের ৭ নভেম্বর একটি পরিপত্র জারি করে। তাতে বলা হয়, ‘সরকার ৫ ফেব্রুয়ারি তারিখকে জাতীয় গ্রন্থাগার দিবস ঘোষণা করেছে এবং ওই তারিখকে জাতীয় গ্রন্থাগার দিবস হিসেবে উদযাপনের নিমিত্তে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবস পালনসংক্রান্ত পরিপত্রের ‘খ’ শ্রেণীভুক্ত দিবস হিসেবে অন্তর্ভুক্তকরণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।’ ২. ‘ওই সিদ্ধান্ত যথাযথভাবে পরিপালনের জন্য সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়-বিভাগ-সংস্থাকে নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হল।’মন্ত্রিপরিষদ পরিপত্র (৭ নভেম্বর ২০১৭) ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিপত্রের (১৪ ডিসেম্বর ২০১৭) আলোকে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড ঢাকা বোর্ডের আওতাধীন অনুমোদিত সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধান (অধ্যক্ষ-প্রধান শিক্ষক) বরাবর ২০১৮ সালের ১৭ জানুয়ারি একটি ‘বিজ্ঞপ্তি’ পাঠায়।তাতে বলা হয়, ‘সরকার ৫ ফেব্রুয়ারি তারিখ জাতীয় গ্রন্থাগার দিবস হিসেবে উদযাপন এবং দিবসটিকে ‘খ’ শ্রেণীভুক্ত হিসেবে ঘোষণা করেছে। এ প্রেক্ষিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিপত্র অনুযায়ী দিবসটি যথাযথভাবে প্রতিপালনের জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হল।’ তবে সারা দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সরকারি ও বেসরকারি গ্রন্থাগারগুলো যথাযথ মর্যাদায় দিবসটি উদযাপন করে।আমাদের দেশে ওপর থেকে চাপিয়ে না দিলে সৃজনশীল কোনো কাজ সহজে হয় না। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে (স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসা) ‘একাডেমিক গ্রন্থাগার’ পরিচালনার নির্দেশনা জারি আছে। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রে তা প্রতিপালন হতে দেখা যায় না।গ্রন্থাগারিকের পদ সৃজন : ২০১০ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের (শাখা-১৩) জনবল কাঠামোবিষয়ক প্রজ্ঞাপনে দেখা যায়, মাধ্যমিক (ষষ্ঠ থেকে দশম) ও উচ্চ মাধ্যমিক (ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ) স্তরে সহকারী গ্রন্থাগারিক-ক্যাটালগারের পদ সৃষ্টি করা হয়েছে। এজন্য সরকারকে ধন্যবাদ।স্কুল-কলেজে পদটি এমপিওভুক্ত হলেও সমমানের মাদ্রাসায় করা হয়নি। এক যাত্রায় দুই ফল। এ বৈষম্যের আশু অবসান জরুরি। এছাড়া সরকার ইতিমধ্যে ক্লাস রুটিনে ‘গ্রন্থাগার বিজ্ঞান’কে অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশনা দিলেও অনেক প্রতিষ্ঠান তা পালন করছে না। বিষয়টির ‘মনিটরিং’ হওয়া দরকার।আমরা মাধ্যমিক-উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের মতো দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোয় সহকারী গ্রন্থাগারিকের পদ সৃষ্টির দাবি জানাচ্ছি।পাঠকসৃজন প্রকল্প : বাংলাদেশ গ্রন্থসুহৃদ সমিতি ও বেরাইদ গণপাঠাগার ২০১০ সাল থেকে ঢাকা জেলার বাড্ডা থানার বেরাইদ ইউনিয়নকে (হালে ডিএনসিসি ওয়ার্ড নং ৪২) ‘পাঠকসৃজন পাইলট প্রকল্প’ ধরে কাজ করছে। সরকারি প্রজ্ঞাপনের আগে থেকেই এখানকার স্কুল-মাদ্রাসা-কলেজে ‘গ্রন্থাগার বিজ্ঞান’কে রুটিনের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।টেকসই উন্নয়ন : বেসরকারি গ্রন্থাগারগুলোকে টেকসই করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ গ্রন্থসুহৃদ সমিতি ২০১৮ সালের ৩০ অক্টোবর তৎকালীন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূরের কাছে তিনটি দাবি পেশ করে। যেমন : ১. বেসরকারি গ্রন্থাগারগুলো ক, খ ও গ শ্রেণীভুক্ত করে স্থায়ী মঞ্জুরির আওতায় আনা হোক।গ্রন্থাগারিকের পদ সৃষ্টি ও পদটি এমপিওভুক্ত করে মাধ্যমিক-উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারিকের সমান বেতন স্কেল দেয়া হোক। ২. অনুদান প্রদানে ‘ওয়ান স্টপ সার্ভিস সেন্টার’ চালু করা হোক। ৩. অনুদান কমিটিতে বাংলাদেশ গ্রন্থসুহৃদ সমিতির প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্ত করা হোক। তাহলে গ্রন্থাগারগুলো টিকে যাবে। জ্ঞানভিত্তিক, অলোকিত, বিজ্ঞানমনস্ক জাতি গঠনে এর বিকল্প নেই বলে মনে করি।পুনশ্চ : গ্রিক শব্দ ‘Libre’ থেকে ‘Library’ শব্দের উৎপত্তি। এর বাংলা অর্থ ‘গ্রন্থাগার’। গ্রন্থাগার হচ্ছে বই-পুস্তক, পত্রপত্রিকা-সাময়িকীসহ অডিও-ভিজ্যুয়াল সামগ্রীর ভাণ্ডার, সংগ্রহশালা, সংরক্ষণাগার। পাঠক গ্রন্থাগারে বসে বই পড়তে পারেন। শর্তসাপেক্ষে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য পড়ার সামগ্রী বাড়িতেও নিতে পারেন।প্রবাদ আছে, ‘একটি জাতিকে ধ্বংস করার জন্য তার গ্রন্থাগার, মহাফেজখানা (আর্কাইভ-সংগ্রহশালা), জাদুঘর ধ্বংস করে দেয়াই যথেষ্ট, আর কিছু লাগবে না।’ এ থেকেই বোঝা যায় প্রতিটি জাতির জন্য গ্রন্থাগারের গুরুত্ব কতটা।বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গ্রন্থাগার সম্পর্কে লিখেছেন, ‘এখানে ভাষা চুপ করিয়া আছে, মানবাত্মার অমর আলোক কালো অক্ষরের শৃঙ্খলে বাঁধা পড়িয়া আছে।’ যে জাতির গ্রন্থাগার যত সমৃদ্ধ, সে জাতি তত উন্নত।লেখক : সাংবাদিক; সভাপতি, বাংলাদেশ গ্রন্থসুহৃদ সমিতি এসএ/  

আজ জাতীয় গ্রন্থাগার দিবস

আজ ৫ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার জাতীয় গ্রন্থাগার দিবস-২০১৯। ‘গ্রন্থাগারে বই পড়ি, আলোকিত মানুষ গড়ি’ এই স্লোগানে দেশব্যাপী উদযাপিত হবে দিবসটি। জনগণকে গ্রন্থাগারমুখী করা, পাঠাভ্যাস বৃদ্ধি, মননশীল সমাজ গঠনের কেন্দ্রবিন্দু ও জনগণের বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে লাইব্রেরির ভূমিকাকে দৃঢ় করাই এ দিবসের লক্ষ্য। ২০১৭ সালের ৩০ অক্টোবর মন্ত্রিপরিষদের সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৫ ফেব্রুয়ারিকে জাতীয় গ্রন্থাগার দিবস হিসেবে ঘোষণা করেন। ২০১৮ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি প্রথমবারের মতো দিবসটি উদযাপন করা হয়। জাতীয় পর্যায়ে এ বছরও শাহবাগে গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তর চত্বর থেকে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়েছে। আজ সকাল ৯টায় সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কেএম খালিদ এ শোভাযাত্রার উদ্বোধন করবেন। র‌্যালিটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস, শহীদ মিনার, বাংলা একাডেমি হয়ে গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তর চত্বরে এসে শেষ হবে। বিকেল ৪টায় গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তরের শওকত ওসমান মিলনায়তনে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হবে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান ও বিশেষ অতিথি থাকবেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কেএম খালিদ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. আবু হেনা মোস্তফা কামাল। সভায় মূল বক্তা থাকবেন রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. বিশ্বজিৎ ঘোষ। স্বাগত বক্তব্য দেবেন গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আশীষ কুমার সরকার।এসএ/  

ঐতিহাসিক সলঙ্গা বিদ্রোহ দিবস আজ

ঐতিহাসিক সলঙ্গা বিদ্রোহ দিবস আজ। ১৯২২ সালের ২৭ জানুয়ারি তদানীন্তন ব্রিটিশ সরকারের লেলিয়ে দেওয়া পুলিশ বাহিনীর গুলিতে সলঙ্গার হাটে বিলেতি পণ্য বর্জন আন্দোলনের কর্মীসহ সাড়ে চার হাজার সাধারণ মানুষ শহীদ হন। দিবসটি পালন উপলক্ষে মাওলানা আবদুর রশিদ তর্কবাগীশ পাঠাগার, নূরুন্নাহার তর্কবাগীশ ডিগ্রি কলেজ, সলঙ্গা সমাজকল্যাণ সমিতি, তর্কবাগীশ মহিলা মাদ্রাসা, তর্কবাগীশ উচ্চ বিদ্যালয়, মাওলানা তর্কবাগীশ গবেষণা কেন্দ্র ও সলঙ্গা ফোরাম নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। উল্লেখ্য যে, ব্রিটিশ শাসনামলে সাম্রাজ্যবাদবিরোধী অসহযোগ আন্দোলন ও খেলাফত আন্দোলনে জনতা উদ্বেলিত হয়ে বিলেতি পণ্য বর্জন করে স্বদেশি পণ্য ব্যবহারের সংগ্রাম শুরু করেছিলেন। এমনি একটি আন্দোলনের ঢেউ এসে আছড়ে পড়ে সলঙ্গায়। সে সময় তৎকালীন পাবনা জেলার (বর্তমান সিরাজগঞ্জে) সলঙ্গায় একটি ব্যবসায়িক জনপদ হিসেবে সপ্তাহে দু’দিন হাট বসত। ১৯২২ সালের ২৭ জানুয়ারি ছিল বড় হাটবার। মাওলানা আবদুর রশিদ তর্কবাগীশের নেতৃত্বে অসহযোগ ও খেলাফত আন্দোলনের কর্মীরা হাটে নামেন বিলেতি পণ্য কেনাবেচা বন্ধ করতে। আর এই স্বদেশি আন্দোলনের কর্মীদের রুখতে ছুটে আসেন পাবনা জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আর এন দাস, জেলা পুলিশ সুপার ও সিরাজগঞ্জ মহকুমা প্রশাসক এস কে সিনহাসহ ৪০ জন সশস্ত্র পুলিশ। সলঙ্গার গো হাটায় ছিল বিপ্লবী স্বদেশি কর্মীদের অফিস। পুলিশ কংগ্রেস অফিস ঘেরাওপূর্বক গ্রেফতার করে মাওলানা আবদুর রশিদকে। সঙ্গে সঙ্গে তাকে মুক্ত করতে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। বিদ্রোহে ফেটে পড়ে সলঙ্গার সংগ্রামী জনতা। জনতার ঢল ও আক্রোশ দেখে ম্যাজিস্ট্রেট জনতাকে ছত্রভঙ্গ করার জন্য গুলি চালাতে নির্দেশ দেন। শুরু হয় বুলেট-বৃষ্টি। ৪০টি রাইফেলের মধ্যে মাত্র একটি থেকে কোনো গুলি বের হয়নি। এ রাইফেলটি ছিল একজন ব্রাহ্মণ পুলিশের। হত্যাকাণ্ডে হতাহতের সরকারি সংখ্যা সাড়ে চার হাজার দেখানো হলেও বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থার মতে এর সংখ্যা ১০ হাজারের অধিক। মাওলানা আবদুর রশিদ সলঙ্গা বিদ্রোহের মাধ্যমে উপনিবেশিক শাসনের ভিত নড়িয়ে দিয়েছিলেন। সলঙ্গার রক্তসিক্ত বিদ্রোহ শুধু বাংলার মাটিকে সিক্ত করেনি, সিক্ত করেছে সমগ্র উপমহাদেশ। যে রক্তে ভেজা পিচ্ছিল পথে অহিংস, অসহযোগ আন্দোলনে যা কিছু অর্জিত হয়েছে, তা সলঙ্গা বিদ্রোহেরই ফসল।এসএ/

কাস্টমস দিবস: এবারের প্রতিপাদ্য’র চারটি দিক

আজ পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক কাস্টমস দিবস। অনেক ঘটা করে দিবসটি উদ্যাপন হচ্ছে দেশব্যাপী। সবার অংশগ্রহণে সকালে শোভাযাত্রা ও বিকেলে সেমিনার আয়োজন এর মূল আকর্ষণ। প্রকাশনা, ক্রোড়পত্র প্রচার এবং টেলিভিশনে আলোচনা দিবসের নানা দিক। এবারের প্রতিপাদ্য হচ্ছে- ‘অবাধ বাণিজ্য, ভ্রমণ এবং পরিবহনের জন্য ঝগঅজঞ সীমান্তব্যবস্থা’। এই ধারণাটি আধুনিক কাস্টমসের প্রতিচ্ছবি। বাংলাদেশসহ ১৮৩টি সদস্য-সংবলিত বিশ্ব কাস্টমস সংস্থা (ওয়ার্ল্ড কাস্টমস অর্গানাইজেশন) প্রতিবছর দিবসটি পালনের জন্য ২৬ জানুয়ারি নির্ধারণ করেছে। এবারের প্রতিপাদ্য বিষয়ের মধ্যে চারটি দিক নিহিত আছে এবং তা আধুনিক কাস্টমসের স্বরূপকে ধারণ করেছে। এর প্রথমটি হলো ‘এস’ বা নিরাপদ (Secure)| এর দ্বারা আসলে সীমান্তকে নিরাপদ রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে অনেক অপরাধের বৈশ্বিক সংযোগ থাকে। বিশ্বায়নের যুগে পণ্যের পরিবহন ও যাত্রীর গমনাগমন ব্যাপকভাবে বেড়েছে। এক দেশের অন্যের ওপর নির্ভরতা আগের তুলনায় স্ফীত হয়েছে। ফলে অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের ভিত ও সচলতা দৃঢ় হয়েছে। কিন্তু এর পাশাপাশি বেড়েছে অপরাধজগতের আনাগোনা। পাল্টেছে অপরাধের ধরনও। এমন অনেক অপরাধ আছে, যার পরিকল্পনা হয় এক দেশে, অর্থ ও ক্ষতিকারক পণ্য (অস্ত্র, বিস্ফোরক ও রাসায়নিক দ্রব্য) আসে অন্য দেশ থেকে, আর সংঘটিত হয় আরেক দেশে। তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় বিভিন্ন দেশে বসবাসরত অপরাধীচক্র নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ রেখে এ কাজটি করার সুযোগ নিচ্ছে। এসব অপরাধের মধ্যে সন্ত্রাস উল্লেখযোগ্য। গত কয়েক বছরে দেখা গেছে, অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে এবং রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার প্রতি হুমকি সৃষ্টি করেছে। সীমান্তের প্রহরী হিসেবে কাস্টমসের ভূমিকায় এই নিরাপত্তা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে স্থান পেয়েছে। যেহেতু অন্যান্য দেশের ওপর নির্ভরতা বর্তমান বিশ্বে একটা বাস্তবতা এবং তা অগ্রাহ্য করা যাবে না, তাই সীমান্ত ব্যবস্থাপনা নিরাপদ হিসেবে গড়ে তোলাটা সময়ের দাবি। বিশ্ব কাস্টমস সংস্থার সমন্বিত ও নিজস্ব উদ্যোগে নানামুখী আধুনিকায়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন চলছে বাংলাদেশ কাস্টমসে। বিশেষ করে চোরাচালানের মাধ্যমে অস্ত্র, বিস্ফোরক, ক্ষতিকর রাসায়নিক দ্রব্য ও পরিবেশ এবং জনস্বাস্থ্যের প্রতি হুমকিস্বরূপ পণ্যসহ নানা অপরাধ প্রতিরোধ গুরুত্বের সঙ্গে স্থান পেয়েছে। এরই মধ্যে Programme Global Shield, Small Arms and Light Weapons (SALW) and Advance Passenger Information (API) and Passenger Name Record (PNR) নামের কিছু উদ্যোগের বাস্তবায়ন চলছে। এ ছাড়া নানা ধরনের আধুনিক যন্ত্রপাতি (যেমন  Raman Spectometer, Back Scatter X-Ray Machine) যুক্ত হয়েছে এবং কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। বিশ্ব কাস্টমস সংস্থার আয়োজনে নিরাপত্তামূলক আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক অভিযানে অংশ নিয়েছে বাংলাদেশ কাস্টমস। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো রাইলো এপির ‘অপারেশন আইরিন ১ ও ২’। এ ছাড়া দেশীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থা পুলিশ, বিজিবি, কোস্ট গার্ড, র‌্যাবসহ অন্যদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে সীমান্ত নিরাপদ করার জন্য। স্বর্ণ, মুদ্রা ও মাদক পাচার রোধে কার্যকর আইন প্রয়োগ করছে বিমানবন্দরসহ কাস্টমস স্টেশনগুলোতে। দ্বিতীয় বিষয়টি হলো, ‘এম’ বা পরিমাপযোগ্য (Measurable)| এর দ্বারা বাংলাদেশ কাস্টমস যে উদ্যোগ নিয়েছে, তা যেন শিগিগরই দৃষ্টিগোচর হয়। সরকারের অর্থ খরচ করে নানা কর্মসূচি নেওয়া হলেও এর ফলাফল ইতিবাচক করার দায়িত্বটা কাস্টমস কর্তৃপক্ষেরই। প্রত্যাশা অনুযায়ী সেবা প্রদান ও উদ্দেশ্য অর্জন কতটা সফল হয়েছে, তা নির্দিষ্ট করাটা গুরুত্বপূর্ণ। সময়াবদ্ধ ক্রমাগত উন্নয়ন সাধন বাংলাদেশ কাস্টমসের এখন বড় দায়িত্ব। সময়ে সময়ে পরিচালিত ‘টাইম রিলিজ স্টাডি’র মাধ্যমে দেখা হচ্ছে, কোথায় কোন সমস্যা হচ্ছে এবং এতে কী পদক্ষেপ নেওয়া যায়। তৃতীয়টা হচ্ছে, ‘এ’ বা স্বয়ংক্রিয়  (Automated) ব্যবস্থা চালু করা। বহুসংখ্যক পণ্য ও যাত্রীকে উত্তম সেবা দেওয়ার জন্য প্রায় প্রতিটি দেশে প্রযুক্তিনির্ভর স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। বাংলাদেশ কাস্টমসও এ ক্ষেত্রে পিছিয়ে নেই। এসাইকুডা ওয়ার্ল্ড নামের ইন্টারনেটভিত্তিক এই ব্যবস্থা চালু হয়েছে বেশ আগে থেকেই। এর মাধ্যমে যেকোনো ব্যবসায়ী যে কোনো স্থান থেকে তার আমদানি বা রপ্তানীকৃত পণ্যের ঘোষণা দাখিল করতে পারছেন। সে অনুযায়ী শুল্কায়নও সম্পন্ন হচ্ছে। বর্তমানে এটি আরো সম্প্রসারণের উদ্যোগ এগিয়ে চলছে। অনলাইন পেমেন্টে এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য স্টেকহোল্ডারের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের কাজটি হচ্ছে। এর ফলে একদিকে স্বচ্ছতার বিষয়টা যেমন নিশ্চিত হচ্ছে, তেমনি দ্রুত সেবাপ্রাপ্তি ঘটছে। চতুর্থ বিষয়টা হচ্ছে ‘আর’ বা ঝুঁকি ব্যবস্থাপনানির্ভর  (Risk Management Based)। বিশ্বায়নের যুগে পণ্য আমদানি ও রপ্তানি যেমন বাড়ছে, তেমনি যাত্রীর গমনাগমনও বৃদ্ধি পাচ্ছে। সে অনুযায়ী কাস্টমসের বাড়তি জনবল ও সম্পদ বাড়ানো সম্ভব নয়। তাই উত্তম চর্চার অংশ হিসেবে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনাকে এগিয়ে নিতে হবে। এই চর্চা অনুযায়ী সব পণ্য ও যাত্রী ঝুঁকিপূর্ণ নয়। শুধু ঝুঁকিপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুকে যথাযথভাবে চিহ্নিত করাটা গুরুত্বপূর্ণ। নির্দিষ্ট কিছু মানদণ্ড এবং গোপন তথ্য অনুযায়ী ওই সব ঝুঁকিপূর্ণ পণ্য বা যাত্রী কাস্টমসের তল্লাশির আওতায় আসবে। শেষ বিষয়টা হলো, ‘টি’ বা প্রযুক্তি নির্ভরতা (Technology Driven) চালু করা। এটি আধুনিকায়নের অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক অনুষঙ্গ। অন্যান্য দেশে পণ্য পরীক্ষায় নানা ধরনের প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতি ব্যবহৃত হয়ে থাকে। বাংলাদেশ কাস্টমসেও এসব প্রযুক্তির ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দরসহ বিভিন্ন স্টেশনে চালু করা হয়েছে কনটেইনার স্ক্যানিং মেশিন। ডগ স্কোয়াড ও হিউম্যান স্ক্যানিং মেশিন চালুর উদ্যোগটিও বিবেচনাধীন রয়েছে। এ সবকিছুই করা হচ্ছে ব্যবসা-বাণিজ্য ও যাত্রীসেবা সামনে রেখে। এর মূল দর্শন হচ্ছে সময় ও খরচ বাঁচিয়ে প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ সৃষ্টি করা। আমদানিপণ্যের খালাসের সময় বাঁচাতে পারলে ‘লিড টাইম’ কমানো যাবে, অন্যদিকে তাদের পণ্যটি সময়মতো গন্তব্যে সরবরাহও নিশ্চিত হবে। তবে পণ্য খালাসে জড়িত শুধু কাস্টমসই এককভাবে দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা নয়। সঙ্গে রয়েছে বন্দর, বিএসটিআই, কোয়ারান্টাইন, পরিবহনসহ বিভিন্ন নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান। তাদেরও একটা একক প্ল্যাটফর্মে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে একটা প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। ‘ন্যাশনাল সিঙ্গেল উইন্ডো’ নামের এ জাতীয় কর্মসূচি বাস্তবায়িত হলে আমদানিকারককে তার আইনি বিধান অনুযায়ী আর অন্য জায়গায় দৌড়াতে বা সময়ক্ষেপণ করতে হবে না। এক জায়গায় বসে এবং দ্রুত সেবাটি হাতের কাছে পাওয়া যাবে। অতীতে রাজস্বনির্ভরতাই ছিল কাস্টমসের অন্যতম কাজ। বিশ্ববাস্তবতায় নিরঙ্কুশ রাজস্বনির্ভরতা থেকে সরে এসে বাণিজ্য সহায়তা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতের নতুন ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে কাস্টমস। নানামুখী আধুনিকায়নের মাধ্যমে নিরাপদ ও আইনসিদ্ধ বাণিজ্য ও প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ সৃষ্টি করাটা হচ্ছে নতুন কাস্টমসের দৃষ্টিপাত। লেখক: কমিশনার অব কাস্টমস ও ভ্যাট, শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক moinul.khan@customs.gov.bd

আন্তর্জাতিক কাস্টমস দিবস আজ

আজ আন্তর্জাতিক কাস্টমস দিবস। বাংলাদেশসহ ওয়ার্ল্ড কাস্টমস অর্গানাইজেশনের সদস্যভুক্ত ১৭৯টি দেশে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি পালন করবে। এবারের প্রতিপাদ্য হচ্ছে ‘স্মার্ট বর্ডার ফর সিমলেস ট্রেড, ট্রাভেল অ্যান্ড ট্রান্সপোর্ট’। দিবসটি উপলক্ষে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) আজ সকাল সাড়ে ৭টায় এনবিআর থেকে একটি শোভাযাত্রা বের করে। শোভাযাত্রা উদ্বোধন করেন সংস্থার চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া। প্রেস ক্লাব-পল্টন-বিজয়নগর হয়ে শোভাযাত্রাটি এনবিআরে এসে শেষ হয়। এ ছাড়া রচনা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। বিকেলে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে কাস্টমস দিবসের আলোচনা সভা ও সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে। এনবিআর চেয়ারম্যানের সভাপতিত্বে সেমিনারে প্রধান অতিথি থাকবেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। বিশেষ অতিথি থাকবেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমান, শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন, বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি এবং এফবিসিসিআই সভাপতি সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন। এসএ/  

আজ ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী

আজ একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির ২৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। ১৯৯২ সালের এ দিনে শহীদ জননী জাহানারা ইমামের নেতৃত্বে এ সংগঠন প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৭১ সালের গণহত্যাকারী ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এবং জামায়াত-শিবির চক্রের সাম্প্রদায়িক রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি নিয়ে এ কমিটি গড়ে ওঠে। নির্মূল কমিটির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আজ রোববার রাজধানীর ধানমণ্ডিতে ডব্লিউভিএ মিলনায়তনে বিকেলে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক। এ ছাড়া সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) কে এম সফিউল্লাহ বীরউত্তম, সংগঠনের সভাপতি শাহরিয়ার কবির, অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন, ডা. উত্তম কুমার বড়ূয়া প্রমুখ উপস্থিত থাকবেন।এসএ/  

আগামীকাল শহীদ আসাদ দিবস

আগামীকাল শহীদ আসাদ দিবস। তদানিন্তন পাকিস্তানের স্বৈরাচার শাসক আইয়ুব খানের পতনের দাবিতে মিছিল করার সময় ১৯৬৯ সালের ২০ জানুয়ারি পুলিশের গুলিতে তিনি নিহত হন। শহীদ আসাদ হচ্ছেন ১৯৬৯ সালের গণ-আন্দোলনের পথিকৃৎ তৎকালীন পূর্ব-পাকিস্তানের তিন শহীদদের একজন। অন্য দু’জন হচ্ছেন শহীদ রস্তম ও শহীদ মতিউর। দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংস্থা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এ উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। শহীদ আসাদ ১৯৪২ সালের ১০ জুন নরসিংদী জেলার শিবপুর উপজেলার ধানুয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৬৯ সালে মৃত্যুকালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগে এম.এ শেষ বর্ষের ছাত্র ছিলেন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৬ দফা দাবির স্বপক্ষে এবং আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় আসামীদের মুক্তি দাবির আন্দোলনে আসাদের মৃত্যু পরিবেশকে উত্তপ্ত করে তোলে। যা পরবর্তীতে বাঙালির মুক্তি সংগ্রামকে তরান্বিত করে। ১৯৬৯ সালের ৪ জানুয়ারি ছাত্রদের ১১ দফা এবং বঙ্গবন্ধুর ৬ দফা দাবির সাথে একাত্মতা পোষণ করে ছাত্র সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। ১৭ জানুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ছাত্ররা দেশব্যাপী সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ধর্মঘটের ডাক দেয়। তদানিন্তন পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর মোনেম খান ছাত্র আন্দোলন দমনের জন্য ১৪৪ ধারা আইন জারি করেন। পূর্ব কর্মসূচি অনুসারে ২০ জানুয়ারি দুপুরে ছাত্রদেরকে নিয়ে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের পার্শ্বে চাঁন খাঁর পুল এলাকায় মিছিল নিয়ে অগ্রসর হচ্ছিলেন আসাদুজ্জামান। পুলিশ তাদেরকে চাঁন খাঁ’র পুলে বাঁধা দেয় ও চলে যেতে বলে। কিন্তু বিক্ষোভকারী ছাত্ররা সেখানে প্রায় এক ঘন্টা অবস্থান নেয় এবং পরে আসাদ ও তার সহযোগীরা স্বৈরাচারী সরকারের বিরুদ্ধে শ্লোগান দিতে মিছিল সহকারে অগ্রসর হয়। ওই অবস্থায় খুব কাছ থেকে আসাদকে লক্ষ্য করে এক পুলিশ অফিসার গুলিবর্ষণ করে। তৎক্ষণাৎ গুরুতর আহত অবস্থায় আসাদকে হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। হাজারো ছাত্র-জনতা আসাদের মৃত্যুতে একত্রিত হয়ে পুনরায় মিছিল বের করে এবং শহীদ মিনারের পাদদেশে জমায়েত হয়। কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ তাকে শ্রদ্ধা জানাতে ২২, ২৩ ও ২৪ জানুয়ারি সারাদেশে ধর্মঘট আহ্বান করে। ধর্মঘটের শেষ দিনে পুলিশ পুণরায় গুলিবর্ষণ করে। ২০১৮ সালে স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধে বিশেষ অবদানের জন্য শহীদ আসাদকে মরণোত্তর সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতিস্বরূপ স্বাধীনতা পদক প্রদান করা হয়। আন্দোলনে পুলিশের গুলিবর্ষণে আসাদের মৃত্যুর পর বাংলাদেশের অনেক জায়গায় জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে আইয়ুব খানের নামফলক পরিবর্তন করে শহীদ আসাদ রাখে। তারই ধারাবাহিকতায় জাতীয় সংসদ ভবনের ডান পার্শ্বে মোহাম্মদপুরে অবস্থিত আইয়ুব গেটের নাম পরিবর্তন করে আসাদ গেট রাখা হয়। প্রতি বছরই জানুয়ারির ২০ তারিখে শহীদ আসাদের মহান আত্মত্যাগ ও অবদানকে বাঙালি জাতি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে গভীর শ্রদ্ধার সাথে শহীদ আসাদ দিবস হিসেবে পালন করে থাকে। দিবসটি উপলক্ষে আগামীকাল বিভিন্ন ছাত্র ও যুব সংগঠন নানান কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। শহীদ আসাদের ৫০তম শাহাদাৎ বার্ষিকীতে “শহীদ আসাদ দিবস ও ৬৯’র গণঅভ্যুত্থানের ৫০ বছর পালন জাতীয় কমিটি” আগামীকাল সকাল সাড়ে ৮টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে নির্মিত আসাদ স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবে এবং আসাদের সংগ্রামী স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করবে। একই সাথে জাতীয় কমিটির পক্ষ থেকে আগামীকাল বেলা ১১ টায় নরসিংদীর শিবপুরে শহীদ আসাদের কবরেও পুষ্পস্তবক প্রদান করে তার প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হবে। এই উপলক্ষে জাতীয় কমিটির পক্ষ থেকে পোস্টার ও স্মরণিকা সুভ্যেনির প্রকাশ করা হয়েছে। জাতীয় কমিটির পক্ষ থেকে ২৪ জানুয়ারি বিকাল ৩টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সড়ক দ্বীপে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। এদিকে শহীদ আসাদ দিবসে আগামীকাল সকাল ৮টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে শহীদ আসাদ স্মৃতিস্তম্ভে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পাটির নেতৃবৃন্দ শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। এ সময় পার্টির কেন্দ্রীয় ও মহানগর নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থাকবেন। এ দিকে আসাদের নিজ গ্রাম নরসিংদীর শিবপুরে তার প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ করবে পার্টি নেতৃবৃন্দ। টিআর

© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি