ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ০১ অক্টোবর ২০২৬

রাজধানীতে শীর্ষ সন্ত্রাসীদের পুরোনো নেটওয়ার্ক সক্রিয়, হতে পারে ‘অপারেশন ক্লিন হার্ট’

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ২২:০৯, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ২২:১১, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

Ekushey Television Ltd.

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বিরোধপূর্ণ দামি জমি, হাউজিং প্রকল্প, সরকারি খাসজমি ও প্রবাসীদের সম্পত্তি দখলকে কেন্দ্র করে পুরোনো অপরাধী নেটওয়ার্ক ও শীর্ষ সন্ত্রাসীদের তৎপরতা নতুন করে বৃদ্ধি পেয়েছে।

রাজনৈতিক পট পরিবর্তন হলেও জমি দখল ও আধিপত্য বিস্তারে অপরাধীদের কৌশল বদলায়নি। নেপথ্যে থেকে বিভিন্ন এলাকায় কিশোর গ্যাং ও ক্যাডারদের ব্যবহার করে হামলা, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও চাঁদাবাজি চালানো হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি ইসিবি চত্বরসংলগ্ন নিউ গিনি প্রোপার্টিজে হামলার ঘটনায় জমি দখলকে কেন্দ্র করে সাবেক সেনা কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরী ও প্রোপার্টিজের মালিক নাজিম উদ্দিন ভূঁইয়ার দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্বের তথ্য সামনে এসেছে। 

অভিযোগ উঠেছে, ওই জমি দখলের জন্য বিদেশে অবস্থানরত শীর্ষ সন্ত্রাসী শাহাদাত হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা হয় এবং তার মাধ্যমেই বিপুলসংখ্যক ক্যাডার পাঠিয়ে হামলা চালানো হয়। পরে ঘটনাটিকে ভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের চাঁদাবাজি হিসেবে প্রচারের কৌশলও নেওয়া হয়েছিল।

অনুরূপভাবে মিরপুরের রাড্ডা ক্লিনিকেও গত ২৪ সেপ্টেম্বর রাতে সম্পত্তি দখলের উদ্দেশ্যে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়। এছাড়া ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে মোহাম্মদপুরের চাঁদ উদ্যান ও আদাবরের শ্যামলী হাউজিং এলাকায় রাজনৈতিক দলের ব্যানার ব্যবহার করে বিভিন্ন অপরাধীচক্রের খাসজমি ও প্রবাসীর জমি দখলের তৎপরতা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই ঘটনাগুলোকে বিচ্ছিন্নভাবে দেখার সুযোগ নেই। ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ জানান, এসব ঘটনার পেছনে জড়িত ও ইন্ধনদাতাদের চিহ্নিত করতে তদন্ত চলছে এবং যাদের নাম আসছে তাদের গ্রেফতার করা হচ্ছে। অপরাধীদের ধরতে পোশাকধারী পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশ যৌথ অভিযান চালাচ্ছে।

পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া) এএইচএম শাহাদাৎ হোসাইন জানিয়েছেন, অপরাধ নিয়ন্ত্রণে গোয়েন্দা নজরদারি, টহল ও চেকপোস্ট জোরদার করার পাশাপাশি অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার কার্যক্রম চলছে।

এদিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক সহিংসতায় শীর্ষ সন্ত্রাসীদের মদদ ও অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের তথ্য গোয়েন্দা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ২০০২ সালের ‘অপারেশন ক্লিন হার্ট’-এর আদলে বড় ধরনের যৌথ অভিযান চালানো হবে কিনা, তা নিয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ে প্রাথমিক আলোচনা চলছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে বিষয়টি নিয়ে আরও নীতিগত বৈঠকের প্রয়োজন রয়েছে বলে জানা গেছে।

এমএইচ 


Ekushey Television Ltd.

© ২০২৬ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি