ঢাকা, সোমবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ১২:০৫:৫৮

‘প্রধানমন্ত্রী আলেমদের সম্মান করেছেন’

‘প্রধানমন্ত্রী আলেমদের সম্মান করেছেন’

দাওরা সনদকে মাস্টার্স সমমানের মর্যাদা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী আলেম সমাজকে সম্মানিত করেছে, আল্লাহ তাকে সম্মানিত করবেন বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামি ফাউন্ডেশনের গভর্নর মেজবাহুর রহমান। গত বৃহস্পতিবার বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবে ইউনাইটেড ইসলামিক স্কলার্স ফোরাম আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।   তিনি বলেন, এই কওমি সনদের স্বীকৃতি দিয়ে তিনি যে সম্মান দেখিয়েছেন। আল্লাহকে হাজির নাজির রেখে আমরা দোয়া করছি আল্লাহ যেন তাকে সর্বোচ্চ সম্মান বাড়িয়ে দেন। আমরা তথা আমাদের পরিবার আজীবন তার জন্য দোয়া করে যাব। আল্লাহ যেন তাকে আবারো রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসীন করেন। আমাদের চেষ্টা থকবে চলমান কাজগুলোকে শেষ করতে পারে সে জন্য আমরাও ভোট দিয়ে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় আনার চেষ্টা করবো। আলোচনা সভায় প্রধান আলোচক মাওলানা ক্বারী হাবিবুল্লাহ বেলালী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমরা কৃতজ্ঞ। আমাদের চেষ্টা থাকবে তাকে পুনরায় ভোটদিয়ে ক্ষমতায় আনার। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন কারেন মেজর জেনারেল (অবঃ) এটি এম আব্দুল ওয়াহাব এমপি। আলোচকরা বলেন, ইসলামের প্রচার- প্রসারে যে সকল অবদান রেখেছেন তার একটি বাস্তব চিত্র জাতির সামনে দৃশ্যমান। তিনি ইসলাম প্রচারে ৫৬০ মডেল মসজিদ স্থাপনের কাজ শুরু করেছেন। ১০১০ টি দারুল আরকাম ইবতেদায়ী মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেছেন। এ দেশে একটি স্বতন্ত্র আরবি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাও বাস্তবায়ন করছেন। প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত নির্দেশনায় ২০১০ সালে ৫ বছর মেয়াদী হজ নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে। হজ যাত্রীদের সুবিধার জন্য ২০১১ সালে জেদ্দা হজ্জ টার্মিনাল প্লাজা ভাড়া নিয়ে বাংলাদেশ প্লাজা স্থাপন করেছেন। হজ ব্যবস্থাপনায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার ও রেকর্ড সংখ্যক হজযাত্রী প্রেরণে সাফল্য লাভের জন্য বাংলাদেশ সৌদি সরকারের স্বীকৃতি লাভ করেছে। দেশব্যাপী ১০০০ টি মাদরাসার একাডেমিক ভবন নির্মাণের জন্য ৭৩৮ কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। কালের আবর্তে হারিয়ে যাওয়া মক্তব শিক্ষার পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য ইতোমধ্যে ১০১০ টি দারুল আকরাম মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। আল-কোরআন নির্ভুলভাবে সংরক্ষণ, পঠন ও অনুশীলনের জন্য ৭৪ কোটি ১০ লাখ টাকা ব্যয়ে আল- কোরআন ডিজিটালাইজেশন করা হয়েছে। এছাড়াও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১০ লক্ষ রোহিঙ্গা মুসলমানের বাংলাদেশে আশ্রয় দিয়ে বিশ্বের দরবারে মাদার অব হিউমিনিটি খেতাবে ভূষিত হয়েছেন । আল্লামা রুহুল আমিন খান উজানীর সভাপতিত্বে মুফতি মহিবুল্লাহর সঞ্চালনায় আরো বক্তব্য রাখেন, খেলাফত আন্দোলনের আমীর মাওলানা হাফেজ আতাউল্লাহ, মাওলানা মো. আব্দুর রাজ্জাক, মুফতি নুর হোসেন নুরানি, ডা. মাওলানা হাফেজ ইরফান বিন তোরাব আলী, কারি হাবিবুল্লাহ বেলালী, ড. মুহাম্মাদ ইউসুফ, মাওলানা মুহাম্মাদ কামাল হোসাইন, মাওলানা নুরুল ইসলাম খান, মাওলানা আব্দুল খালেক শরিয়ত পুরী, আহসানুল হাদী, আব্দুল মোমেন, অধ্যাপক সাঈখ উছমান গনী, মাওলানা দেলোয়ার হোসাইন, মাওলানা মুফতি আতিকুর রহমান, জাওহার ইকবাল খান, মুফতি আবু ইউসুফ গওহরী, মারুফ বিল্লাহ, সেলিম-ই আহমাদ প্রমুখ। এসি    
ওসমান গনির মরদেহ ঢাকায়, বিকেলে বনানীতে দাফন

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র ওসমান গনির মরদেহ আজ রোববার বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে সিঙ্গাপুর থেকে ঢাকায় এসে পৌঁছেছে। সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে করে তার কফিন ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। উত্তর সিটির জনসংযোগ কর্মকর্তা এএসএম মামুন এতথ্য নিশ্চিত করছেন। তিনি জানান, বাদ জোহর গুলশানের আজাদ মসজিদে ওসমান গনির প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। তারপর সবার শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য তার কফিন রাখা হবে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের নগর ভবনের সামনে। তিনি জানান, বিকালে আসরের নামাজের পর বাড্ডা আলাতুন্নেছা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আরেক দফা জানাজা শেষে বনানী কবরস্থানে দাফন করা হবে ওসমান গনিকে। ফুসফুসের ক্যান্সারে আক্রান্ত ওসমান গণি শনিবার সকালে সিঙ্গাপুরের একটি হাসাপাতালে মারা যান। ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আনিসুল হক অসুস্থ্য হয়ে চিকিৎসার জন্য লন্ডনে গেলে গত বছর ৪ সেপ্টেম্বর ওসমান গনিকে প্যানেল মেয়রের দায়িত্ব দেয়া হয়। মেয়র আনিসুল হক মারা যাওয়ার পরও প্যানেল মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন তিনি। টিআর/

বিসিবির প্রধান নির্বাচক নান্নুর বাসায় চুরি

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের প্রধান নির্বাচক ও জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার মিনহাজুল আবেদীন নান্নুর বাসায় চুরির ঘটনা ঘটেছে। গত শুক্রবার মোহাম্মদপুরের নবোদয় হাউজিংয়ের বি ব্লক এলাকায় এই ঘটনা ঘটেছে বলে পারিবারিকভাবে নিশ্চিত করছে। তারা স্বজনরা বলেন, শনিবার রাত ৯টার দিকে রাতে বাইরে থেকে দরজা খুলে ভেতরের সবকিছু ওলটপালট দেখতে পান তারা। তাদের দাবি, ২০ থেকে ৩০ ভরি স্বর্ণালঙ্কারসহ ঘরের গুরুত্বপূর্ণ অনেক আসবাবপত্র চুরি গেছে। এশিয়া কাপের জন্য জাতীয় ক্রিকেট দলের সঙ্গে সপরিবারে সংযুক্ত আরব আমিরাতে ছিলেন মিনহাজুল আবেদীন নান্নু। চুরির খবর পেয়ে আজ রোববার সকালে দেশে ফেরেন তিনি। এবিষয়ে নান্নু বলেন,‘খবরটা শুনে আমি সকালেই ঢাকায় এসেছি। বাসায় গিয়ে দেখি,সবকিছু নিয়ে গেছে। বাসার সবকিছু ওলটপালট। ঘরে কোনো জিনিস রাখে নাই। টাকা-পয়সা, অলংকার যা ছিল সব নিয়ে গেছে। কিছুই নেই ঘরে। এখনো সবকিছু জানিও না। হিসাব করে দেখতে হবে। টিআর/

ব্যক্তিগত গাড়ি বন্ধের উদ্যোগ নিচ্ছে ঢাকার দুই সিটি

ব্যক্তিগত গাড়ি বন্ধ ও নিয়ন্ত্রণে ঢাকার দুই সিটিতে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানালেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন। শনিবার রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে ‘বিশ্ব ব্যক্তিগত গাড়িমুক্ত দিবস ২০১৮’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। মেয়র বলেন, ব্যক্তিগত গাড়ি বন্ধে একটি আইন রয়েছে। সামনে সমন্বয় সভা আছে। অংশীজনদের নিয়ে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি এ সমন্বয় সভা করবে। এই সভায় বিস্তারিত আলোচনা হবে। একজন ব্যক্তি কয়টি গাড়ি ব্যবহার করবেন, আদৌ কারও ব্যক্তিগত গাড়ির প্রায়োজন রয়েছে কি-না, বিষয়গুলো নিয়ে আমরা আলোচনা করে উদ্যোগ নেবো। সাঈদ খোকন বলেন, অনেক পরিবারে তিনজন সদস্য। অথচ গাড়ি ব্যবহার করেন পাঁচটি। অনেক সময় ধনীর দুলালরা রেসিং কার নিয়ে রাতে দাঁপিয়ে বেড়ায়। আর এতে অনেক সময় দুর্ঘটনাও ঘটে। মাত্র ৬ থেকে ৭ শতাংশ মানুষ ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার করেন। আর বাকি মানুষ গণপরিবহন ও পায়ে হেঁটে চলাচল করেন। এ ৬ থেকে ৭ শতাংশ মানুষের জন্য নগরীর বৃহৎ জনগোষ্ঠীর কষ্ট হচ্ছে। তাই আমরা এটা চলতে দিতে পারি না। ব্যক্তিগত গাড়ি কমলে শহরের যানজটও কমবে বলে মনে করেন মেয়র। অনুষ্ঠানে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব নজরুল ইসলাম, অভিনেতা ইলিয়াস কাঞ্চন, উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) ভারপ্রাপ্ত মেয়ার জামাল মোস্তফা, ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) নির্বাহী পরিচালক খন্দকার রাকিবুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। একে//

পল্লবীতে যুবকের মরদেহ উদ্ধার 

রাজধানীর পল্লবী থানার বেনারসি পল্লি এলাকায় সাব্বির (২৮) নামের এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সিটি করপোরেশনের একটি পরিত্যক্ত ভবনের পাশ থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। শুক্রবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সাব্বিরের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।    ওসি জানান, নিহত ওই যুবকের নাম সাব্বির বলে তারা জানতে পেরেছেন। তিনি বলেন, ‘ স্থানীয়দের সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার দুপুরে ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ ওই যুবকের মরদেহ উদ্ধার করে। প্রাথমিকভাবে আমরা ধারণা করছি, বৃহস্পতিবার রাতে তাকে হত্যা করে কে বা কারা লাশ ফেলে রেখে গেছে। তবে কী কারণে তাকে হত্যা করা হয়েছে, সে বিষয়ে কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি। ’ নজরুল ইসলাম বলেন, নিহত ব্যাক্তির পূর্ণাঙ্গ পরিচয় বের করার চেষ্টা চলছে। এবং হত্যা রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা চলছে। এসি    

রাজধানীতে স্বস্তির বৃষ্টি

রাজধানী ঢাকায় আজ গরম ছিল তীব্র। আর এই তীব্র গরমে অতিষ্ট খেটে খাওয়া মানুষ। অবশেষে রাতে হলো স্বস্তির বৃষ্টি। এই বৃষ্টি সাধারণ মানুষের জন্য আর্শীরবাদ হয়ে নেমে আসে আজ।  এছাড়াও, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ওপর দিয়ে যে মৃদু তাপ প্রবাহ বয়ে যাচ্ছে তা প্রশমিত হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারী ধরণের ভারী থেকে ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে বলে আজ আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে। এতে বলা হয়, রাজশাহী, বরিশাল ও খুলনা বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং রংপুর, ময়মনসিংহ, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ী দম্কা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারী ধরণের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। দেশের তাপপ্রবাহ সম্পর্কে বলা হয়েছে, ঢাকা, টাঙ্গাইল, ফরিদপুর, মাদারীপুর, চট্টগ্রাম, রাঙ্গামাটি, কুমিল্লা, চাঁদপুর, মাঈজদীকোর্ট, ফেনী, খুলনা, সাতক্ষীরা, যশোর, চুয়াডাঙ্গা, ভোলা ও পটুয়াখালী অঞ্চল সমূহের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া মৃদু তাপ প্রবাহ প্রশমিত হতে পারে।সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা ২-৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস হ্রাস এবং রাতের তাপমাত্রা ১-২ ডিগ্রি সেলসিয়াস হ্রাস পেতে পারে। এসএইচ/

যানজট নিরসনে প্রয়োজন সঠিক পরিকল্পনা   

যানজটে অচল ঢাকা শহর। এই শহরকে যানজটমুক্ত ও পরিবহনখাতকে সুশৃঙ্খল করার যেসব মেগা প্রকল্প হাতে নেওয়া হয় তা সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হয় না। এর কারণ সরকারের কৌশল ও পর্যাপ্ত অর্থনৈতিক বরাদ্দ না থাকা। তবে পরিকল্পনা গ্রহণ করে স্বল্পমেয়াদেই বাস্তবায়নের নজির রয়েছে খোদ রাজধানীর গুলশান ও হাতিরঝিলে। এখান থেকেই সরকার, ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ) শিক্ষা নিতে পারে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞ ও বিশিষ্টজনরা।    বৃহস্পতিবার (২০ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর তোপখানা রোডস্থ সিরডাপ মিলনায়তনে ‘ঢাকা শহরের যানজট নিরসনে স্বল্প মেয়াদী কর্ম পরিকল্পনা-প্রেক্ষিত সংশোধিত কৌশলগত পরিবহন পরিকল্পনা’ এবং ‘ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে বহুমাধ্যম ভিত্তিক পরিবহন ব্যবস্থার গুরুত্ব’ শীর্ষক অংশীজন সভায় এসব কথা বলেন আমন্ত্রিত বিশেষজ্ঞ বিশিষ্টজনরা। ডিটিসিএ এর নির্বাহী পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) খন্দকার রাকিবুর রহমানের সঞ্চালনায় সভায় পৃথক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল অধ্যাপক মোয়াজ্জেম হোসেন ও বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের (বিআইপি) সহ-সভাপতি অধ্যাপক ড. আকতার হোসেন। প্রবন্ধ উপস্থাপন শেষে বিশিষ্ট কলামিস্ট আবুল মকসুদ বলেন, ‘ঢাকা শহরের সঙ্গে অন্য শহরের যদি যোগাযোগ উন্নয়ন না হয় তবে সরকারের সব উন্নয়ন পরিকল্পনাই ব্যর্থ। কী শিক্ষা আর প্রযুক্তি? অন্য সব খাতের তুলনায় এখনই সময় বরাদ্দ বাড়িয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থাকে উন্নত করা।’ তিনি বলেন, ‘কিছু করতে চাইলেই আমরা অন্য সব উন্নত দেশের সঙ্গে তুলনা করি। এ তুলনায় বাংলাদেশের কোনো লাভ নেই। বরং দেশের সব মানুষের মানসিকতা, বাস্তবতা, মতামত, দেশের ভৌগলিক অবস্থা এবং মানুষের সংখ্যা উপলব্ধি করতে হবে। শুধু সড়কের কথা বললে হবে না, সড়কের সঙ্গে নৌ ও রেলের সমন্বয় জরুরি।’ তিনি বলেন, ‘ডিটিসিএ রিভাইস স্ট্র্যাটেজিক ট্রান্সপোর্ট প্ল্যান (আরএসটিপি) তৈরি করেছে। এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সবার মতামত নিয়ে খুব দ্রুত একটা শক্তিশালী কমিশন বা কমিটি গঠন করতে হবে। যা কাজ শুরুর রুট ম্যাপ করে দেবেন। ‘ নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, ‘মানুষ বেশি সড়ক কম। আগে আমাদের চিন্তা, আচরণের পরিবর্তন, নিয়ম মানার মানসিকতা তৈরি করতে হবে। ফুটওভার ব্রিজের চেয়ে রাজধানীতে বেশি সুবিধাজনক আন্ডারপাস সে ব্যাপারে কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে হবে।’ তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘এক রাজধানীতে সব আনতে হবে কেন? জীবিকার টানে কেনই বা সবাইকে ঢাকা আসবে হবে? এই কেন এর জবাব আমরা জানি। কিন্তু বাস্তবায়নের সদিচ্ছা নেই। ডিসেন্ট্রালাইজেশন না হওয়া পর্যন্ত ট্রাফিক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন সহজ হবে না।’ বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. মোসলেহ উদ্দিন বলেন, ‘শহরের পরিবহনকেন্দ্রিক চিন্তা বাড়াতে হবে, মেগাপ্রকল্প গ্রহণ করতে হবে। পরিকল্পনাও হচ্ছে এখন অ্যাকশন জরুরি।’ বুয়েটের এক্সিডেন্ট রিচার্স ইনস্টিটিউটের (এআরআই) সহকারী অধ্যাপক কাজী মো. সাইফুন নেওয়াজ বলেন, ‘রাজধানীর ভূখণ্ড ব্যবহার ও নতুন নতুন রাস্তা তৈরি করে থাকে সিটি কর্পোরেশন। কিন্তু তাদের কোনো গাইড লাইন নেই। একটা রাস্তা তৈরির আগে অনেক কিছুই বিবেচনায় আনতে হয়। সেগুলো শুরু করা উচিত।’ বুয়েটের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. শামসুল হক বলেন, ‘রাজধানীতে যানবাহন চলাচলে শৃঙ্খলা ফেরানো গেলে যানজট এমনিতেই কমে আসবে। কিন্তু সেটা সরকার, কিংবা ডিটিসিএ পারেনি। তাহলে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা যাই গ্রহণ করা হোক না কেন, সেটার বাস্তবায়ন জরুরি।’ তিনি বলেন, ঢাকা উত্তর সিটির প্রয়াত মেয়র আনিসুল হক দরদ ও সাহসিকতার সঙ্গে স্বল্প সময়ের মধ্যে গুলশানে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করেছেন। সেখানকার ফুটপাত এখন রাজধানীর জন্য আদর্শ। তেমনিভাবে রাজধানীর হাতিরঝিলও আদর্শ উদাহরণ। তাহলে আমরা পুরো রাজধানীতে পারছি না কেন?’ এসি     

সংকেত বাতি কাজে না এলেও খরচ হচ্ছে বিদ্যুৎ (ভিডিও)

কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে রাস্তায় স্বয়ংক্রিয় সংকেত বাতি স্থাপন করা হলেও তা কোনো কাজে আসছে না। উল্টো প্রতিদিন বিদ্যুৎ খরচ হচ্ছে। সিটি কর্পোরেশন ও ট্রাফিক পুলিশের সমন্বয় না থাকায় ভোগান্তি বাড়ছে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। রাজধানী থেকে যানজট দূর করতে দেড় যুগ আগে চালু করা হয়েছিল স্বয়ংক্রিয় সিগনাল লাইট। ২০০০ সালে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে গুরুত্বপূর্ণ ৭০টি স্থানে এই বাতি স্থাপন করা হয়। এর ধারাবাহিকতায় ২০১০-১১ অর্থবছরে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ১২ কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। সর্বশেষ ২০১৫ সালে শাহবাগ থেকে কাকলি পর্যন্ত ১১টি স্থানে বাতি বসানো হলেও তা কাজে আসছে না। বর্তমানে রাজধানীর প্রায় একশ’টি স্থানে স¦য়ংক্রিয় বাতি থাকলেও গাড়ী থামানোর কাজ চলে ট্রাফিক পুলিশের হাতের ইশারায়। খরচ হচ্ছে অর্থ, অপচয় হচ্ছে বিদ্যুৎ, কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হচ্ছেনা। পরিবহন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পুলিশ ও সিটি করর্পোরেশনের সমন্বয়হীনতার কারণে সংকেত ব্যবস্থা কার্যকর হচ্ছে না। সমন্বয়হীনতার কথা স্বীকার করে ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার বললেন, পুরো ট্রাফিক ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণের জন্য একটি প্রকল্প জমা দেয়া হয়েছে। স্বয়ংক্রিয় সিগনাল বাতির বিভিন্ন প্রকল্পসহ অব্যবস্থাপনার বিষয়ে কথা বলার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রকল্প পরিচালক ও নির্বাহী প্রকৌশলীর দপ্তরে গিয়েও তাদের পাওয়া যায়নি।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে সিটি কর্পোরেশনের ক্র্যাশ প্রোগ্রাম(ভিডিও)

ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও নগরবাসীকে মশার উপদ্রব থেকে রক্ষায় বিভিন্ন কার্যক্রম হাতে নিয়েছে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করর্পোরেশন। সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ, বাড়ি বাড়ি গিয়ে এডিস মশার লার্ভা ধ্বংস করাসহ ক্র্যাশ প্রোগ্রাম রয়েছে কর্মসূচির আওতায়। বাসা বাড়িতে টব, বালতি, পুরনো টায়ারে জমে থাকা স্বচ্ছ পানিতেই বংশ বিস্তার করে ডেঙ্গুর জীবাণুবাহী এডিস মশা। রাজধানীতে এই মশার কামড়ে অসুস্থ হয়ে প্রতিদিনই হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে অনেকে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য মতে, শুধুমাত্র আগস্ট মাসেই সারাদেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ৪ হাজার। এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মারা গেছে ১৪ জন। এদিকে, বিশেষ কর্মসূচির মাধ্যমে মশা নিধনে কাজ করছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন। বাড়ি বাড়ি গিয়ে এডিস মশার লার্ভা ধ্বংস করা ও লিফলেট বিতরণের পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়ানোর কাজ চলছে বলে জানালেন প্যানেল মেয়র। আর দক্ষিণ সিটি করর্পোরেশনের ৫৭টি ওয়ার্ডে এডিস মশা নিধনে কাজ করছে ৫৭টি দল। মশা নিধনে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন ব্যাপক কার্যক্রম হাতে নিলেও নগরবাসীকে আরো সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

শাহজালালে ফের শতাধিক কেজি মাদক আটক

হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফের ১০৭ কেজি নিউ সাইকোট্রপিক সাবসটেন্সেস (এনপিএস) তথা ‘খাট’ মাদক আটক করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঢাকা কাস্টম হাউস এবং জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থার (এনএসআই) সদস্যরা কার্গো ইউনিটের অভ্যন্তরে অবস্থিত ‘ফরেইন পোস্ট অফিসে’ থেকে এ মাদক আটক করেন। ঢাকা কাস্টম হাউসের ডেপুটি কমিশনার অথেলো চৌধুরী জানান, দুপুর ১টায় ভারত থেকে আসা জেট এয়ারওয়ের একটি ফ্লাইটে ৬টি সন্দেহজনক কার্টন আসে। কার্টনগুলোকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। পরে বিমানবন্দরে কর্মরত বিভিন্ন সংস্থার সদস্যদের উপস্থিতিতে সন্ধ্যা ৭টায় কার্টনগুলো খোলা হয়। এতে ‘গ্রিন টি’র মতো দেখতে পণ্য দেখা যায়, যা মূলত ইথোপিয়ান গাঁজা বা খাট। উল্লেখ্য, এটি এনপিএস মাদকের আটক হওয়া পঞ্চম চালান। পরে মাদকসহ জব্দ কার্টনগুলোকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এমজে/

দুর্নীতির আখড়া বিআরটিএ (ভিডিও)

অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা আর দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি- বিআরটিএ’র কার্যালয়গুলো। টাকা ছাড়া সেবা অনেকটা ভাগ্যের ব্যাপার এখানে। ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযানে দালালদের দৌরাত্ম কিছুটা কমলেও সেই জায়গা দখল করে নিয়েছে আনসার সদস্যরা। আর বরাবরের মতো তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়েছে বিআরটিএ কর্তৃপক্ষ। বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি- বিআরটিএ’র কার্যক্রমের মধ্যে ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদান, মোটরযানের কর আদায়, ফিটনেস চেক, সড়কে শৃংখলা ফেরানো অন্যতম। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ- টিআইবি’র রিপোর্ট অনুযায়ি, গেলো বছর বিআরটিএ’র সেবাগ্রহনকারী প্রায় ৬৬ শতাংশ মানুষকে দুর্নীতির শিকার হতে হয়েছে। সেবাপ্রার্থী মোটরযান মালিকদের প্রায় ৬২ শতাংশ এবং চালকদের প্রায় ৮০ শতাংশকে ঘুষ দিতে হয়েছে। দালাল ছাড়া বিআরটিএতে কাজ করাই দু:সাধ্য। কর্মকর্তাদের সাথে নতুন করে যোগ হয়েছে খোদ আনসার বাহিনী। ভ্রাম্যমান আদালতের কারণে দালালদের দৌরাত্ব কিছুটা কমলেও সে জায়গা দখল করেছে আনসাররা। ইকুরিয়া থেকে প্রতিটি লাইসেন্স পেতে আনসারদের দিতে হয় একশ’ টাকা করে। ইকুরিয়ায় মোটর সাইকেল ও গাড়ীর ড্রাইভিং লাইসেন্স নেয়ার পরীক্ষা হয়। সেবাপ্রার্থী বা পরীক্ষার্থীর প্রতিজনকে গুণতে হয় দু’শ’ টাকা করে। গাড়ীতে ‘ভি’ এঙ্গেল লাগানো অবৈধ হলেও ‘ভি’ এঙ্গেল থাকা অবস্থায় ফিটনেস দেয়া হলো কীভাবে- এমন প্রশ্ন ছিল কর্মকর্তার কাছে। সাভার বিআরটিএ কার্যালয়ে দেখা যায়, প্রকাশ্যে টাকা নিচ্ছেন অফিস সহকারি। এই অফিসেই কাজ করছিলো বহিরাগত এক ব্যক্তি। ক্যামেরা দেখে দৌঁড়ে পালিয়ে যায় সে। বিআরটিএ’র যে কোন শাখায় কাজের জন্য ঘুষ দিতে হয় সেবাপ্রার্থীদের। তবে, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানালেন বিআরটিএ’র এই কর্মকর্তা। বিআরটিএ’র অনিয়ম, দুর্নীতি বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানিয়েছেন সেবাপ্রার্থীরা।

© ২০১৮ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি