মানবতাবিরোধী অপরাধে হানিফসহ ৪ জনের রায় আজ
প্রকাশিত : ১০:১৫, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে কুষ্টিয়ায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলার রায় আজ ঘোষণা করা হবে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এই রায় ঘোষণা করবেন।
প্যানেলের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারক মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবির।
হানিফ ছাড়া মামলার অন্য আসামিরা হলেন—কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সদর উদ্দিন খান, সাধারণ সম্পাদক আজগর আলী এবং শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান আতা। চারজনই বর্তমানে পলাতক।
এ বিষয়ে প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামীম বলেন, ‘আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন হানিফ। জুলাই বিপ্লবে আন্দোলন দমনে শক্তি প্রয়োগের সিদ্ধান্ত সরকারের অংশ হিসেবে মেনে নিয়েছিলেন তিনি। একই সঙ্গে অধীনদের মাধ্যমে আন্দোলন দমনে সবকিছু বাস্তবায়ন করেছিলেন। তিনি একজন বেসামরিক (সিভিলিয়ান) নেতা ছিলেন। এ কারণে অধীনদের নির্দেশ বা টেলিফোনে কথোপকথনের মাধ্যমে এসব বাস্তবায়ন করেছেন।’
তামীম আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা, সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বাহাউদ্দীন নাছিমকে একই অপরাধে সর্বোচ্চ সাজা দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল। সুতরাং একই অবস্থানে থেকে মাহবুব-উল আলম হানিফকেও ট্রাইব্যুনাল একই শাস্তি দেবে বলে আমরা আশা করছি।’
তিনি বলেন, ‘কেননা একটি দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে সব ধরনের সিদ্ধান্তে অংশগ্রহণ করেছেন হানিফ। আমরা আসামিদের অপরাধের যাবতীয় নথিপত্র ট্রাইব্যুনালের কাছে উপস্থাপন করেছি। ১৯ জন সাক্ষী ট্রাইব্যুনালের কাছে আসামিদের অপরাধের বর্ণনা তুলে ধরেছেন। আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি হবে বলে আমরা আশা করছি।’
মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে নির্যাতন, উসকানি, হত্যাচেষ্টা ও হত্যা—এই তিনটি অভিযোগ আনা হয়েছে।
প্রথম অভিযোগে বলা হয়েছে— মাহবুব-উল আলম হানিফ ১৫, ১৭ ও ৩০ জুলাই এবং ৩ আগস্ট আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে উপস্থিত থেকে তাঁর উসকানিমূলক বক্তব্যকে সমর্থন করেন। এ ছাড়া হানিফ ২৯ জুলাই জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক আলোচনা সভায় বক্তব্যে আন্দোলনকারীদের জামায়াত, সন্ত্রাসী ও সাম্প্রদায়িক ট্যাগ দিয়ে তাঁদের হত্যা ও নির্যাতনের নির্দেশ, উসকানি, প্ররোচনা এবং সহায়তার মাধ্যমে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটন করেছেন।
দ্বিতীয় অভিযোগে বলা হয়েছে— ২৭ জুলাই কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে অপর আসামি মো. সদর উদ্দিন খান, আজগর আলী, আতাউর রহমান আতাসহ আওয়ামী লীগের অন্য নেতারা নিরীহ-নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বলে আখ্যা দেন। এ সময় তাঁরা বলেন, কুষ্টিয়া শহরে আন্দোলন দমনে সর্বোচ্চ বল প্রয়োগ করতে হানিফ নির্দেশ দিয়েছেন।
তৃতীয় অভিযোগে বলা হয়েছে— ১৪ দলীয় জোটের নেতা হাসানুল হক ইনু সার্বক্ষণিক শেখ হাসিনার সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে আন্দোলনকারীদের ওপর মরণাস্ত্র ব্যবহার করে নির্মূলের লক্ষ্যে কুষ্টিয়ার দলীয় নেতাকর্মী ও স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনকে নির্দেশ দিতেন। হাসিনাকে দিয়ে আওয়ামী লীগ নেতা মাহবুব-উল আলম হানিফের মাধ্যমে কুষ্টিয়ার পুলিশ প্রশাসন এবং দলীয় নেতাকর্মীদের নির্দেশনা পাঠাতেন ইনু।
এএইচ
আরও পড়ুন










