ঢাকা, ২০১৯-০৪-১৯ ১২:৫৭:৫৯, শুক্রবার

যুক্তরাজ্যে তারেক-জোবায়দার ব্যাংক হিসাব জব্দের আদেশ

যুক্তরাজ্যে তারেক-জোবায়দার ব্যাংক হিসাব জব্দের আদেশ

দুর্নীতি দুমন কমিশনের আবেদনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও তার স্ত্রী জোবায়দা রহমানের নামে থাকা যুক্তরাজ্যের একটি ব্যাংকের তিনটি হিসাব জব্দের নির্দেশ দিয়েছে ঢাকার আদালত। বুধবার ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ কে এম ইমরুল কায়েশ এ আদেশ দেন, যা বৃহস্পতিবার প্রকাশ পেয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশনের একটি আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত এ আদেশ দেয়। দুদকের আইনজীবী মাহমুদ হোসেন জাহাঙ্গীর বলেন, ‘আদেশটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ব্রিটেনের অ্যাটর্নি জেনারেলের অফিসে পাঠানো হবে। সেখানে অ্যাটর্নি জেনারেল অফিস সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে পাঠিয়ে আদেশ কার্যকর করবেন।’ দুদকের অনুমতি (পারমিশন) মামলার আবেদনে বলা হয়, তারেক রহমানের বিরুদ্ধে দেশ থেকে অর্থ পাচার করে বিদেশে বিনিয়োগ করার অভিযোগের অনুসন্ধান চলছে। অনুসন্ধানে দেখা যায়, স্যানট্যান্ডার ব্যাংক ইউকে’তে পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠানের হিসাব থেকে তারেক রহমান এবং জোবায়দা রহমানের তিনটি ব্যাংক হিসাবে ৫৯ হাজার ৩৪১ দশমিক ৯৩ ব্রিটিশ পাউন্ড স্থানান্তর এফআইইউ, ইউকের নির্দেশে আটক আছে। ওই অর্থ তারা অন্যত্র হস্তান্তর বা রূপান্তর করার চেষ্টা করছেন। তাই বর্ণিত অর্থের বিষয়ে এখনি কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে তা বেহাত হয়ে যাওয়ার সম্ভবনা রয়েছে।এসএ/
ধর্মীয় বিষয়ে হস্তক্ষেপ করবো না: হাইকোর্ট

শাবান মাসের চাঁদ দেখা ও শবে বরাত নিয়ে করা রিটের শুনানিতে হাইকোর্ট বলেছেন, এটা ধর্মীয় বিষয়। এ বিষয়ে আমরা হস্তক্ষেপ করবো না। শাবান মাসের চাঁদ দেখা ও শবে বরাত নিয়ে ‘মজলিসু রুইয়াতিল হিলাল’ সংগঠনের পক্ষে ১০ ব্যক্তির করা রিটের শুনানি করতে গেলে বৃহস্পতিবার হাইকোর্টের বিচারপতি তারিক উল হাকিম ও বিচারপতি মো. সোহরাওয়ার্দীর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এমন মন্তব্য করেন। আদালত বলেন, শবে বরাতের দিন নিয়ে সিদ্ধান্ত ইতোমধ্যেই হয়ে গেছে। আমরা এখন আর হস্তক্ষেপ করবো না। আপনারা চাইলে অন্য হাইকোর্ট বেঞ্চে যেতে পারেন। এ সময় রিটকারীদের আইনজীবী তৈমুর আলম খোন্দকার আদালতকে বলেন, এ বছরের জন্য নয়, ভবিষ্যতের জন্য চাঁদ দেখার পদ্ধতিগত বিষয় নিয়ে একটা আদেশ দিতে পারেন। এক্ষেত্রে চাঁদ দেখায় বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অবলম্বনের নির্দেশ দিতে পারেন।’ তখন আদালত আইনজীবীকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘বিশ্বের বিভিন্ন দেশে চাঁদ দেখার ক্ষেত্রে কী ধরনের পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়, সে বিষয়গুলো সংযুক্ত করে আপনারা আদালতে একটি আবেদন করেন। আমরা বিষয়টি পরবর্তীতে শুনবো। এর আগে বুধবার (১৭ এপ্রিল) হাইকোর্টের আরেকটি বেঞ্চে গত ৬ এপ্রিল চাঁদ দেখা নিয়ে এক রিট আবেদনের অনুমতি চাইতে গেলে আদালত বলেছিলেন, এখন একেবারেই লাস্ট স্টেজ। এ অবস্থায় নতুন করে বিভ্রান্তির অবকাশ নেই। গত ৬ এপ্রিল জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি সভা করে জানিয়েছিল, ওইদিন দেশের আকাশে কোথাও শাবান মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। ফলে ৮ এপ্রিল থেকে শাবান মাস গণনা শুরু হবে এবং ২১ এপ্রিল দিবাগত রাতে পবিত্র লাইলাতুল বরাত পালিত হবে। তবে ‘মজলিসু রুইয়াতিল হিলাল’ নামে একটি সংগঠনের দাবি, সেদিন খাগড়াছড়িতে চাঁদ দেখা গেছে। তাদের দাবি অনুযায়ী ২০ এপ্রিল দিবাগত রাতে পবিত্র লাইলাতুল বরাত পালিত হওয়ার কথা। এ নিয়ে বিতর্ক এড়াতেই জরুরি বৈঠক ডাকে সরকার। এর মধ্যে সাব-কমিটি মঙ্গলবার (১৬ এপ্রিল) বৈঠক করার পর ২১ এপ্রিলের সিদ্ধান্ত বহাল রাখে সরকার। এরপরও ‘মজলিসু রুইয়াতিল হিলাল’ নামক সংগঠনের ১০ জন হাইকোর্টে রিট করেন। এরপর বিব্রত প্রকাশ করেন হাইকোর্টের অপর একটি বেঞ্চ। আজ রিটকারীরা আবার আদালতে যান। আরকে//

হাত হারানো রাজীবের মামলার প্রতিবেদন ২২ মে

দুই বাসের চাপায় সরকারি তিতুমীর কলেজের স্নাতকের শিক্ষার্থী রাজীব হোসেনের হাত হারানোর পর মৃত্যুর মামলার প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ পিছিয়ে আগামী ২২ মে দিন ধার্য করেছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (১৮ এপ্রিল) মামলার প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য ছিল। কিন্তু এদিন শাহবাগ থানা পুলিশ তা দাখিল করেনি। এ জন্য ঢাকা মহানগর হাকিম মো. সারাফুজ্জামান আনছারী প্রতিবেদন দাখিলে পরবর্তী ওই দিন ধার্য করেন। ২০১৮ সালের ৩ এপ্রিল বিআরটিসির একটি দোতলা বাসের পেছনের ফটকে দাঁড়িয়ে গন্তব্যে যাচ্ছিলেন সরকারি তিতুমীর কলেজের স্নাতকের (বাণিজ্য) দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র রাজীব হোসেন (২১)। হাতটি বেরিয়েছিল সামান্য বাইরে। হঠাৎই পেছন থেকে স্বজন পরিবহনের একটি বাস বিআরটিসির বাসটিকে গা ঘেঁষে ওভারটেক করার সময় রাজীবের ডান হাত শরী থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। দু-তিনজন পথচারী দ্রুত তাকে পান্থপথের শমরিতা হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু চিকিৎসকেরা চেষ্টা করেও বিচ্ছিন্ন হাতটি রাজীবের শরীরে আর জুড়ে দিতে পারেননি। পরে ওই বছরের ১৬ এপ্রিল দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান রাজীব। মামলাটি প্রথম দণ্ডবিধির ২৭৯ ও ৩৩৮(ক) ধারায় দায়ের করা হয়। পরে রাজিব মারা যাওয়ায় ধারা পরিবর্তন করে দণ্ডবিধির ৩০৪(ক) অন্তর্ভুক্ত করা হয়। মামলার আসামি বিআরটিসি বাসের চালক মো. ওয়াহিদ ও স্বজন পরিবহনের বাসের চালক মো. খোরশেদ বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। আসামিদের গত বছরের ৫ এপ্রিল ২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। এরপর একই বছরের ৮ এপ্রিল আসামিদের রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়। আরকে//

জাহালমের জেল খাটার পেছনে দায়ীদের দেখতে চান হাইকোর্ট

সোনালী ব্যাংকের ঋণ সংক্রান্ত মামলার ভুল আসামি হিসেবে বিনা দোষে জাহালমের তিন বছর জেলে থাকার পেছনে কে বা কারা দায়ী তা দেখার জন্য এ বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রতিবেদন চেয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে জাহালমের জেল খাটার পেছনে জড়িতদের খুঁজে বের করতে দুদকের করা তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বুধবার বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ সংক্রান্ত দুদকের নথি জমা দিতে ২ মে পর্যন্ত সময় দিয়ে আদেশ দেন। আদালতে আজ জাহালম উপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আবদুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার। অপরপক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট অমিত দাশগুপ্ত। দুদকের পক্ষে ছিলেন খুরশীদ আলম খান। আজ শুনানি শুরু হলে দুদকের আইনজীবী খুরশিদ আলম খান সময় চেয়ে আবেদন করেন। এ সময় কোর্ট দেখেন, এ মামলার ফাইল আসেনি। তখন আদালত দুদকের আইনজীবীকে দুই সপ্তাহের মধ্যে সমস্ত নথি দাখিল করতে হবে এবং জাহালমের জেল খাটার পেছনে কারা জড়িত সেই তদন্ত রিপোর্টও দাখিলের নির্দেশ দিয়ে ২ মে দিন ঠিক করে দেন। এর আগে গত ১০ এপ্রিল দুদকের পক্ষে অ্যাডভোকেট খুরশীদ আলম খান সময় চান। এরপর আদালত জাহালমকে আসতে বলে ১৭ এপ্রিল দিন ধার্য করেন। এরও আগে গত ৬ মার্চ টাঙ্গাইলের নাগরপুরের ডুমুরিয়া গ্রামের জাহালমকে ২৬ মামলায় ভুল আসামি করে অভিযোগপত্র দাখিলের যাবতীয় নথি তলব করেন হাইকোর্ট। পরে গত ৩ ফেব্রুয়ারি জাহালমকে ২৬ মামলায় অব্যাহতি দেন হাইকোর্ট। তবে তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া আরও ৭ মামলায় অভিযোগপত্র দাখিল না হওয়ায় মামলাগুলোতে তার অব্যাহতির বিষয়ে আদেশ দেননি আদালত। উল্লেখ্য, আবু সালেকের বিরুদ্ধে সোনালী ব্যাংকের প্রায় সাড়ে ১৮ কোটি টাকা জালিয়াতির ৩৩টি মামলা হয়েছে। কিন্তু আবু সালেকের বদলে জেল খাটছেন, আদালতে হাজিরা দিয়ে চলেছেন এই জাহালম। তিনি পেশায় পাটকল শ্রমিক। ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৬-এ বিচারকের উদ্দেশে তাকে বারবার বলতে দেখা যায়, ‘আমি আবু সালেক না।’ একে//

শবে বরাতকে মামলার বিষয় করা ঠিক হবে না: হাইকোর্ট

পবিত্র শবে বরাতের তারিখ নির্ধারণ সংক্রান্ত বিতর্ক নিরসনে আদালতের হস্তক্ষেপ চেয়ে ১০ আলেমের দায়ের করা রিট আবেদনটি গ্রহণ করেননি হাইকোর্ট। তবে বিষয়টি স্পর্শকাতর হওয়ায় মামলার বিষয়বস্তু করা ঠিক হবে না উল্লেখ করে রিটকারীদের লিখিত আবেদনটি ইসলামিক ফাউন্ডেশনে জমা দিতে বলেছেন আদালত। হাইকোর্ট বলেছেন, পবিত্র শবে বরাত ধর্মীয় স্পর্শকাতর ইস্যু, এটি মামলার বিষয়বস্তু বানানো ঠিক হবে না। ২০ এপ্রিল দিবাগত রাতে শবে বরাত ঘোষণার নির্দেশনা চেয়ে রিট দায়েরের অনুমতিবিষয়ক শুনানিতে আজ সোমবার বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ কথা বলেন। আদালতে রিট আবেদন দায়েরের জন্য অনুমতি প্রত্যাশীদের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী খুরশীদ আলম খান। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল এম সাইফুল আলম। আদালত রিট দায়েরের জন্য অনুমতি দেননি বলে জানান এম সাইফুল আলম। তিনি বলেন, যারা রিট করার অনুমতি চেয়েছিলেন, তাদের কেউ কেউ শাবান মাসের চাঁদ দেখেছেন বলছেন। এই বিষয়ক যেসব তথ্য তাদের কাছে আছে, তা-সহ তাদের লিখিত আবেদন ইসলামিক ফাউন্ডেশনে জমা দিতে বলেছেন আদালত। তাদের লিখিত আবেদন যেন ইসলামিক ফাউন্ডেশন জমা নেয়, তা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রপক্ষকে বলা হয়েছে। পবিত্র শবে বরাত কবে—তা নির্ধারণে ১৭ এপ্রিল জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভা আছে। ওই তথ্যসহ সব তথ্য পর্যালোচনা করে ধর্মীয় অনুশাসন অনুসারে সিদ্ধান্ত নিতে বলেছেন আদালত। ২০ এপ্রিল দিবাগত রাতে শবে বরাত ঘোষণা দিতে নির্দেশনা চেয়ে মসজিদের ইমাম, খতিবসহ ১০ ব্যক্তি রিট দায়েরের জন্য অনুমতি চেয়ে আবেদন করেন বলে জানান আইনজীবী খুরশীদ আলম খান। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, রিট দায়েরে ইচ্ছুক আবেদনকারীদের ১৭ এপ্রিল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বলা হয়েছে। তাদের বক্তব্য, ৭ এপ্রিল শাবান মাসের চাঁদ দেখা গেছে, ওই দিন থেকে গণনা করা ২০ এপ্রিল দিবাগত রাতে শবে বরাত হবে। বিষয়টি তারা ধর্মসচিব ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালককে ১০ এপ্রিল জানিয়েছেন। তবে কোনো জবাব পাননি। তাঁদের লিখিত আবেদন ইসলামিক ফাউন্ডেশনকে বিবেচনা করতে বলা হয়েছে। জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভার সিদ্ধান্ত জানিয়ে ৬ এপ্রিল ইসলামিক ফাউন্ডেশনের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২১ এপ্রিল দিবাগত রাতে সারা দেশে পবিত্র লাইলাতুল বরাত উদযাপিত হবে। আরও বলা হয়, বাংলাদেশের আকাশে শনিবার কোথাও ১৪৪০ হিজরি সনের পবিত্র শাবান মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। ফলে ৭ এপ্রিল রোববার পবিত্র রজব মাসের ৩০ দিন পূর্ণ হবে এবং ৮ এপ্রিল থেকে পবিত্র শাবান মাস শুরু হবে। এরপর ১৩ এপ্রিল পবিত্র শাবান মাসের চাঁদ দেখার বিষয়ে বিশেষ সভা হয়। সভায় পবিত্র শাবান মাসের চাঁদ দেখার সিদ্ধান্তের বিষয়ে ভিন্নমত পোষণকারীদের দাবি যাচাইয়ে ১১ সদস্যের একটি উপকমিটি গঠন করা হয়। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের এক বিজ্ঞপ্তির ভাষ্য, উপকমিটি ১৭ এপ্রিল জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির কাছে সুপারিশ দেবে, যার ভিত্তিতে চাঁদ দেখার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এ অবস্থায় হাইকোর্টে রিট আবেদন দায়েরের জন্য অনুমতি চেয়ে আজ আরজি জানানো হয়। আরকে//

কর্ণফুলীর তীরে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে বাধা নেই

কর্ণফুলী নদীর তীরে থাকা কর্ণফুলী শিপ বিল্ডার্স লিমিটেডের স্থাপনা উচ্ছেদের বিরুদ্ধে করা আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন আপিল বিভাগ। ফলে জেলা প্রশাসনের জরিপে ওই প্রতিষ্ঠানের যতটুকু অংশ নদীর তীরের অংশে পড়েছে, ততটকু স্থাপনা উচ্ছেদে আর কোনো বাধা নেই বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা। সোমবার (১৫ এপ্রিল) প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে কর্ণফুলী শিপ বিল্ডার্সের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী এএম আমিন উদ্দিন। অন্যদিকে রিটের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বলেন, কর্ণফুলী নদীর অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের পক্ষ থেকে একটি রিট দায়ের করা হয়েছিল। ওই রিটের প্রেক্ষিতে একটি জরিপ প্রতিবেদন দিয়েছিল জেলা প্রশাসন। সেখানে প্রায় ২১শ’ অবৈধ স্থাপনা ছিল। এরপর ২০১৬ সালে দেয়া একটি রায়ে এসব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের নির্দেশ দিয়েছিল আদালত। ওই রায়ের প্রেক্ষিতেই গত ৪ ফেব্রুয়ারি জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ উচ্ছেদ অভিযান শুরু করা হয়। তবে গত ৬ ফেব্রুয়ারি কর্ণফুলী শিপ বিল্ডার্স নামে একটি প্রতিষ্ঠান চেম্বার জজ আদালতে আবেদন করলে আদালত অভিযান স্থগিতাদেশ দেন। এরপর সোমবার তাদের ওই আবেদনটি আপিল বিভাগে শুনানি হয়। শুনানি শেষে আদালত তাদের আবেদন ডিসমিস (খারিজ) করে দিয়েছেন। ফলে কর্ণফুলী শিপ বিল্ডার্সের যতটুকু অংশ নদীর জায়গার অংশে পড়েছে, সেটুকু ভাঙ্গতে আর কোনো বাধা নেই। এর আগে গত ৯ এপ্রিল চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর তীরে অবৈধভাবে গড়ে উঠা স্থাপনা অবিলম্বে উচ্ছেদে বন্দর চেয়ারম্যানের প্রতি নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। সেসময় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে ৩০ দিনের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছিল। ওইদিন আদেশের পরে আবেদনকারী আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বলেন, কর্ণফুলী নদীর অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ বন্ধ হয়ে যাওয়ার প্রেক্ষিতে এইচআরপিবির (হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ) পক্ষে আমরা আজকে একটা আবেদন করেছিলাম। শুনানিতে আমরা আবেদন করেছিলাম, আগের আদেশে ডেপুটি কমিশনারসহ আরও পাঁচজনকে নির্দেশ দেয়া হয়েছিল অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করার জন্য। এখন যে জায়গাগুলোতে অবৈধ স্থাপনা রয়েছে, সে জায়গাগুলো মূলত বন্দরের অধীনে। এজন্য আমরা একটি নির্দেশ প্রার্থনা করেছিলাম, বন্দরের চেয়ারম্যান যেন এসব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে একটি প্রতিবেদন দাখিল করেন। তিনি বলেন, শুনানি শেষে বন্দরের চেয়ারম্যান ও বন্দর কর্তৃপক্ষকে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে কর্ণফুলী নদীর পাড়ে যেসব অবৈধ স্থাপনা রয়েছে সার্ভে রিপোর্ট ওআরএস অনুসারে, ইতোপূর্বে ২০১৬ সালের ১৬ আগস্টে দেয়া আদেশ অনুসারে এগুলো উচ্ছেদ করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলেছেন। পাশাপাশি আদালত এ বিষয়ে ১৯ মে পরবর্তী আদেশের জন্য রেখেছেন বলে জানান মনজিল মোরসেদ। ২০১০ সালে কর্ণফুলী নদীর তীরে অবৈধ দখল সংক্রান্ত মিডিয়ায় প্রকাশিত প্রতিবেদন নিয়ে জনস্বার্থে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের পক্ষে রিট করা হয়। রিটের পর আদালত রুল জারি করেন। ওই রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে বিচারপতি মো. রেজাউল হাসান ও বিচারপতি কাশেফা হোসেনের আদালত রুল যথাযথ ঘোষণা করে ১১ দফা নির্দেশনা দিয়েছিলেন। সম্প্রতি ওই রায় অনুসারেই উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু হয়েছিলো। তবে কয়েকদিন চলার পর তা বন্ধ হয়ে যায়। আরকে//

তালাকের নোটিশের পর ভরণ-পোষণ কেন নয়

পবিত্র আল কোরআন এবং আন্তর্জাতিক কনভেনশনের আলোকে বিবাহ বিচ্ছেদ, ভরণ-পোষণ, সন্তান হেফাজত, দেনমোহর ইত্যাদি বিষয়ে সালিসি কাউন্সিলের ভুমিকা নিশ্চিত করতে কেন নীতিমালা করার নির্দেশ দেওয়া হবে না এবং সালিসি কাউন্সিল কার্যকর করতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। বিচারপতি এফআরএম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ সোমবার এ রুল জারি করেন। বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির সম্পাদক সীমা জহুর ও অ্যাডভোকেট কাজী মারুফুল আলমের করা এক রিট আবেদনে এ রুল জারি করা হয়। মন্ত্রিপরিষদ সচিব, আইন সচিব, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং আইন কমিশনের চেয়ারম্যানকে চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। আদালতে রিট আবেদনকারীপক্ষে আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট ফাওজিয়া করিম ফিরোজ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন সহকারি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ সাইফুল আলম। তালাক বিষয়ে গতবছর সংবাদপত্রে প্রকাশিত প্রতিবেদন যুক্ত করে এ রিট আবেদন করা হয়। আদালতের আদেশের পর ফাওজিয়া করিম ফিরোজ সাংবাদিকদের জানান, তালাকের নোটিশ পাওয়ার পর ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইন অনুযায়ী ৯০ দিনের মধ্যে কোনো পক্ষ আপোষ না করলে বা তালাকের নোটিশ প্রত্যাহার না করলে তালাক কার্যকর হয়ে যায়। নিয়ম অনুযায়ী, তালাকের নোটিশের পর সালিসি কাউন্সিল মধ্যস্থতার জন্য উভয়পক্ষকে একসঙ্গে বসার জন্য ৩০ দিন পরপর একটি করে মোট তিনটি নোটিশ দেবে। কিন্তু কাউন্সিলের পক্ষ থেকে এই পদ্ধতি যথাযথভাবে অনুসরণ না করায় এবং কোনোপক্ষ না কাউন্সিলের সঙ্গে না বসলেও আপনাআপনিভাবে তালাক কার্যকর হয়ে যায়। এ কারণে দেনমোহর, ভরণ-পোষণের অর্থ এবং সন্তান থাকলে কার জিম্মায় থাকবে তা নির্ধারণ ছাড়াই তালাক কার্যকর হয়ে যায়। ফলে স্ত্রী পক্ষ অসুবিধায় পড়েন। এনিয়ে ওইসব সুবিধা আদায়ে আদালতে মামলা হয়। যা নিষ্পত্তিতে অনেক সময় লেগে যায়। এ কারণেই বিষয়টি তড়িৎ নিষ্পত্তি করতে জনস্বার্থে রিট আবেদন করা হয়েছে। আদালত রুল জারি করেছেন। ‘ঢাকায় ঘণ্টায় এক তালাক’ শিরোনামে ২০১৮ সালের ২৭ আগস্ট একটি জাতীয় দৈনিকে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, ঢাকা শহরে তালাকের আবেদন বাড়ছে। গড়ে প্রতি ঘণ্টায় একটি করে তালাকের আবেদন করা হচ্ছে। গত ছয় বছরের তথ্য বিশ্লেষণ করে এমন চিত্র পাওয়া গেছে। তালাকের আবেদন সবচেয়ে বেশি বেড়েছে উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায়-প্রায় ৭৫ শতাংশ। দক্ষিণ সিটিতে বেড়েছে ১৬ শতাংশ। দুই সিটিতে আপোষ হচ্ছে গড়ে ৫ শতাংশের কম। গত ছয় বছরে ঢাকার উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে অর্ধলাখের বেশি তালাকের আবেদন জমা পড়েছে। এ হিসাবে মাসে গড়ে ৭৩৬ টি, দিনে ২৪টির বেশি এবং ঘণ্টায় একটি তালাকের আবেদন করা হচ্ছে। প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, তালাকের প্রবণতা সারাদেশের হিসাবেও বাড়ছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য বলছে, গত সাত বছরে তালাকের প্রবণতা ৩৪ শতাংশ বেড়েছে। শিক্ষিত স্বামী-স্ত্রীদের মধ্যে তালাক বেশি হচ্ছে। আরকে//

© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি