ঢাকা, শুক্রবার   ৩০ অক্টোবর ২০২৬

তাহসিফ সাউরির মৃত্যু: দ্বীপ দিলেন চাঞ্চল্যকর তথ্য

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ১৪:৩৬, ৩০ অক্টোবর ২০২৬

Ekushey Television Ltd.

বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা তাহসিফ সাউরির মৃত্যুর ঘটনায় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিলেন তার ‘জুনিয়র বন্ধু’ শাহরিয়ার রেজা দ্বীপ। তাকে পিবিআই ঢাকা মেট্রো উত্তরে আনা হয়েছে। নিখোঁজের আগে তাহসিফ ও দ্বীপ একসঙ্গে ছিলেন। 

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) পিবিআই সদর দপ্তর থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

পিবিআই জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার রাতে শাহরিয়ার দ্বীপকে হেফাজতে এনে পিবিআই ঢাকা মেট্রো উত্তর কার্যালয়ে নিয়ে আসা হয়। যেহেতু নিখোঁজের আগে তাহসিফ ও দ্বীপ একসঙ্গে অবস্থান করেছিলেন, তাই ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে দ্বীপের দেয়া বক্তব্য ও বিভিন্ন তথ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এসময় দ্বীপ যেসব তথ্য জানিয়েছেন, সেগুলো সরেজমিনে যাচাই-বাছাই ও বিশ্লেষণ করছেন পিবিআইয়ের তদন্ত কর্মকর্তারা।

গত বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানার বাবর রোডের বি ব্লকের একটি বাসার তৃতীয় তলা থেকে দ্বীপকে নিয়ে যায় সংস্থাটি। দ্বীপ ওই এলাকার বাসিন্দা সেলিম রেজার ছেলে।

নিখোঁজ হওয়ার আগে তাহসিফের সঙ্গে প্রায় ৬ ঘণ্টা সময় কাটিয়েছিলেন দ্বীপ। তাহসিফের সঙ্গে নিজের সম্পর্কের বর্ণনা দিয়ে দ্বীপ বলেন, উনি আমার বয়সে সিনিয়র। আমার খুবই কাছের একজন বড় ভাই ছিলেন। এমনও হয়েছে, আমরা সপরিবারে তাদের বাসায় দাওয়াত খেতে গিয়েছি।

অপরদিকে সুরতহালে তাহসিফ সাউরির মরদেহে কোনো আঘাতের চিহ্ন পায়নি পুলিশ। তবে প্রতিবেদনে, তার নাক দিয়ে রক্ত বের হওয়ার তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। 

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উদ্ধার হওয়া মরদেহটি শনাক্ত করেন নিহতের খালাতো ভাই জহির হাসান। মরদেহের মাথার চুল কালো, উচ্চতা আনুমানিক ৫ ফুট ৭ ইঞ্চি। কপাল স্বাভাবিক এবং মুখমণ্ডল গোলাকার। মুখ ও চোখ বন্ধ ছিল। নাক দিয়ে রক্ত বের হতে দেখা গেছে। তার ছোট ছোট কালো দাড়ি ও গোঁফ ছিল।

সুরতহাল প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, মরদেহের দুই হাত মাথার সামনের দিকে বাঁকানো ছিল। হাতের মুঠো খোলা অবস্থায় পাওয়া যায়। বুক, পেট, পিঠ ও দুই পা স্বাভাবিক ছিল। শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তবে পেট ফোলা দেখা গেছে।

গত মঙ্গলবার রাত থেকে নিখোঁজ ছিলেন তাহসিফ সাউরি। পরদিন বুধবার জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বর থেকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় নৌ-পুলিশ। এরপর বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে উত্তরখানে তুরাগ নদী থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, তাহসিফের পরনে সাদা পাজামা ও কালো জামা ছিল। তার হাতে একটি ঘড়ি এবং পকেটে একটি আইফোন পাওয়া যায়। ওই ফোনের মাধ্যমে তার পরিচয় শনাক্ত করা হয়। 

তাহসিফের বাবা জানান, গত ২৭ অক্টোবর সারাদিন পরিবারের সদস্যদের জন্য শপিং করেছিলেন তাহসিফ। সন্ধ্যার পর দ্বীপ নামের এক জুনিয়রের ডাকে বাসা থেকে বের হয়ে আর ফেরেননি তিনি।

অপরদিকে তাহসিফ সাউরির মৃত্যুর আগে তার গতিবিধি নিয়ে একটি সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ্যে এসেছে। ফুটেজে দেখা যায়, বন্ধু দ্বীপের সঙ্গে হাত মেলান তাহসিফ। এরপর আলাদা মোটরসাইকেলে বাসা থেকে বের হন তারা দুজন। তার মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে নানা প্রশ্নের মধ্যে ফুটেজটি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

এমএইচ 


Ekushey Television Ltd.

© ২০২৬ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি