ঢাকা, শুক্রবার   ০৬ নভেম্বর ২০২৬

রাজধানীতে ইমপোর্ট এজেন্সিতে চাঁদাবাজির অভিযোগ, আটক ৪

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ২৩:১২, ৫ নভেম্বর ২০২৬

Ekushey Television Ltd.

রাজধানীর ফকিরাপুলে সিএম এক্সপোর্ট অ্যান্ড ইমপোর্ট এজেন্সিতে চাঁদাবাজি ও কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় পল্টন ও মতিঝিল থানায় পৃথক দুটি মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় চারজনকে আটক করেছে পুলিশ। হামলায় প্রতিষ্ঠানটির একাধিক কর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) রাতে এজেন্সিতে চাঁদা দাবি এবং তা দিতে অস্বীকৃতি জানালে হামলার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ সময় দেশীয় অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্রসহ ১৫ থেকে ১৬ জনের একটি দল সেখানে যায়। পুলিশ অভিযান চালিয়ে চারজনকে আটক করে। পরে ১২ জনকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

অভিযোগ রয়েছে, ঘটনার প্রায় আধা ঘণ্টা পর প্রতিষ্ঠানটির কয়েকজন কর্মী বাসায় যাওয়ার জন্য ভবনের নিচে নামলে তাঁদের ওপর হামলা চালায় চাঁদাবাজ চক্রের সদস্যরা। এ সময় তাঁদের হাত ও পায়ে চাপাতি ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে স্থানীয় সন্ত্রাসী শুভর নেতৃত্বে প্রায় ১৫ সদস্যের একটি দল পরিকল্পিতভাবে প্রতিষ্ঠানটিতে চাঁদাবাজি করতে যায়। এ সময় তাঁদের কাছে দেশীয় অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র ছিল।

অভিযোগ অনুযায়ী, শুভর সহযোগী হিসেবে সাইদুর রহমান, ইলিয়াস হোসেন, শিমুল, ফারুক আহমেদ, আরাফ হোসেন, মাইনুদ্দিন, তপন, শাওন, মোশাররফ হোসেন, সামিউল হক, নেছার ও হাসান উপস্থিত ছিলেন।

সংশ্লিষ্টদের দাবি, আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদে জাহিদ ওরফে ‘গের গের জাহিদ’-এর নাম উঠে এসেছে। তাঁদের অভিযোগ, জাহিদের নির্দেশে ওই দলটি সেখানে যায়। তাঁর বিরুদ্ধে অস্ত্র ও চাঁদাবাজির একাধিক মামলা রয়েছে বলেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা দাবি করেছেন।

এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির কর্তৃপক্ষের পক্ষে সাহেব আলী বাদী হয়ে ডিএমপির পল্টন থানায় চাঁদাবাজির মামলা করেছেন। মামলায় ১৭ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ১৫ থেকে ২০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

চাঁদাবাজির ঘটনার প্রায় আধা ঘণ্টা পর প্রতিষ্ঠানটির কয়েকজন কর্মী ভবনের নিচে নামলে তাঁদের ওপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ সময় তাঁদের হাত ও পায়ে চাপাতি ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়।

এই হামলার ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির কর্মী ইমতিয়াজ বাদী হয়ে ডিএমপির মতিঝিল থানায় পৃথক মামলা করেছেন। মামলায় ১৪ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, কর্মীদের ওপর পরবর্তী হামলায় নেতৃত্ব দেন গের গের জাহিদ। তাঁর সঙ্গে থাকা চক্রের অন্য সদস্যরা দেশীয় অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে হামলায় অংশ নেন।

এ বিষয়ে মতিঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাংবাদিকদের বলেন, “এজাহার পাওয়ার পরে মামলা তদন্ত চলছে এবং আসামিদের গ্রেপ্তারের সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। ঘটনার পর থেকে আসামিরা পলাতক, কিন্তু আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে, চেষ্টা করছি, ইনশাআল্লাহ হয়ে যাবে।”

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে এলাকায় মাদক ও চাঁদাবাজির একাধিক অভিযোগ রয়েছে। তাঁদের কারণে ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

এমএইচ


Ekushey Television Ltd.

© ২০২৬ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি