ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ১৫ অক্টোবর ২০২৬

ফুটপাতে মারধর: আটক সেই যুবকের ১৫ দিনের কারাদণ্ড

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ০৮:৫৬, ১৫ অক্টোবর ২০২৬

Ekushey Television Ltd.

ঢাকার ধানমন্ডি এলাকার ফুটপাতে এক ব্যক্তিকে মারধরের ঘটনায় আটক যুবক খালিদ হাসানকে ১৫ দিনের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। 

বুধবার দুপুরে ধানমন্ডির মীনাবাজার এলাকা থেকে খালিদকে আটক করে পুলিশ। পরে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) রমনা জোনের স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত তাঁকে ১৫ দিনের সাজা দিয়ে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠান।

এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ডিএমপির রমনা জোনের স্পেশাল মেট্রোপলিটন আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইমরান আহমেদ। তিনি বলেন, আবদুল্লাহ আল মাসুদ ওরফে মাসুদ রানা (৪৮) নামের এক ব্যক্তিকে মারধর ও কান ধরে ওঠবস করানোর কথা আদালতে স্বীকার করেছেন খালিদ হাসান। এরপর তাঁকে ১৫ দিনের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

গত সোমবার দুপুরে ধানমন্ডি সাতমসজিদ রোডের বেসরকারি বাংলাদেশ আই হসপিটালের উল্টো দিকে ফুটপাতে এ ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, এক তরুণীকে (২৩) শ্লীলতাহানির অভিযোগ ওঠে শহীদ আবদুল্লাহর বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী তরুণী তাঁর স্বজন খালিদকে মুঠোফোনে ডেকে আনেন। তিনি এসে শহীদ আবদুল্লাহকে মারধর করেন।  তাকে চড়থাপ্পড়, লাথি ও কান ধরে ওঠবস করাতে দেখা যায় যুবক খালিদকে। 

এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এ নিয়ে শুরু হয় আলোচনা-সমালোচনা। তবে সব ছাপিয়ে আলোচনায় আসে মারধরের বিষয়টি।

পুলিশ বলছে, এ ঘটনায় আটক খালিদ একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের গ্রাফিক্স ডিজাইনার হিসেবে কাজ করেন। তাঁর ভাগনিকে শ্লীলতাহানি করায় তিনি শহীদ আবদুল্লাহর ওপর চড়াও হয়েছিলেন। 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ২ মিনিট ১২ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, এক যুবক রাগ ও ক্ষোভের সঙ্গে গালাগাল করতে করতে ওই ব্যক্তিকে থাপ্পড় ও লাথি মারছেন। এসময় আশপাশে ভিড় করেন পথচারীরা। তাদের কেউ কেউ ঘটনাটি দেখছেন, আবার কেউ কেউ মোবাইল ফোনে ভিডিও করছিলেন।

ভিডিওতে পথচারীদের কথোপকথনের খণ্ডিত অংশ শোনা যায়। তাদের কাউকে কাউকে বলতে শোনা যায়, ‘মেয়ের গায়ে হাত দিয়েছে, ক্যানটিনে এ ঘটনা ঘটে, মা-বোন নাই!’

এসময় এক পথচারী মারধরের শিকার ব্যক্তির কাছে গিয়ে সেখানে উপস্থিত পুলিশের দুই সদস্যকে দেখিয়ে ব্যক্তিটিকে তাদের হাতে তুলে দিতে বলেন। একপর্যায়ে মারধরের শিকার ব্যক্তিকে বসা অবস্থা থেকে উঠে দাঁড়াতে দেখা যায়। তার মোবাইল ফোন নিয়ে এক পথচারী ও মারধর করা যুবক তাকে বিভিন্ন বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। 

এসময় উত্তেজিত যুবককে বলতে শোনা যায়, ‘কীসের সরি, সরি বললেই সব শেষ হয়ে যায়?’ এরপর ‘মায়ের গায়ে হাত দিয়েছিস’ বলেই ওই ব্যক্তিকে আবারও চড়-থাপ্পড় মারেন।

ভিডিওতে দেখা যায়, ফুটপাতের এ ঘটনা যখন ঘটছে, তখন কয়েক হাত দূরে পুলিশের দুই সদস্য উপস্থিত ছিলেন। আশপাশে ভিড় করা পথচারীদের মতো তারাও ঘটনাটি দেখছিলেন। 

এ ঘটনায় এএসআই আবদুল হাইকে থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে তার দায়িত্ব ছিল। আর পুলিশের বাকি দুই সদস্য পাবলিক অর্ডার ম্যানেজমেন্টের (দাঙ্গা দমন বিভাগের)। তাদের ব্যাপারে তিনি কিছু জানেন না ধানমন্ডি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ ইমদাদুল ইসলাম তৈয়ব।

ওসি জানান, শহীদ আবদুল্লাহ মোহাম্মদপুর এলাকায় থাকেন। তাঁর পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তিনি মানসিক রোগী। এমবিবিএস পড়ার সময় তিনি মানসিক রোগে আক্রান্ত হন। এরপর বিয়ে হলেও তাঁর সংসার টেকেনি।

এএইচ


Ekushey Television Ltd.

© ২০২৬ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি