ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৪ এপ্রিল, ২০১৮ ১৬:১৩:১৫

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর ফেসবুক পেজ হ্যাকড, পোস্ট উধাও

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর ফেসবুক পেজ হ্যাকড, পোস্ট উধাও

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের ফেসবুক পেজ হ্যাকড হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল সোয়া ৯টার দিকে তিনি তার ব্যক্তিগত ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টের মাধ্যমে এ অভিযোগ করেন। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, তারেক রহমানের পাসপোর্টের প্রমাণসহ যে পোস্ট দেওয়া হয়েছিল তা কেউ মুছে দিয়েছে। পোস্টে শাহরিয়ার আলম লেখেন, আমার ফেসবুকের ওপর অনেক অত্যাচার হয়েছে সারারাত। হ্যাকিং। পোস্ট উধাও। বুঝতেই পারছেন এই বিনিয়োগ কারা করেছে। প্রতিমন্ত্রীর দেওয়া এই পোস্টে লাইক পড়েছে ১৩০০, কমেন্ট পড়েছে ২৮৫টি এবং ৩০ বার শেয়ার করা হয়েছে। গতকাল সোমবার প্রতিমন্ত্রী তার ফেসবুক পেজে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পাসপোর্টের ফটোকপি এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র দফতরে তার জমা দেওয়া আবেদনের একটি কপি পোস্ট করেন। এর পর পরই তার ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্ট হ্যাকিংয়ের অভিযোগ আসলো। / আর / এআর
ভাটির শার্দুলের ৭৫ বছরের পথচলা [ভিডিও]

দ্বিতীয় মেয়াদে রাষ্ট্রপতি হিসেবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় শপথ নিচ্ছেন অ্যাডভোকেট আব্দুল হামিদ। বঙ্গভবনে তাকে শপথ বাক্য পাঠ করাবেন প্রধান বিচারপতি। কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চল থেকে সাতবার আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য হওয়ার পাশাপাশি স্পিকার হিসেবেও ছিলেন সর্বজন শ্রদ্ধেয়। ২০১৩ সালে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে আব্দুল আব্দুল হামিদ জাতির সংকটকালে হয়ে উঠেছেন সকলের আস্থার প্রতীক। ১৯৪৪ সালের প্রথমদিন, পহেলা জানুয়ারী তৎকালীন ময়মনসিংহ জেলার কিশোরগঞ্জ মহকুমার প্রত্যন্ত এলাকা মিঠামইনে জন্ম আজকের রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদের। দীর্ঘ রাজনৈতিক পথপরিক্রমায় এখন তিনি বঙ্গভবনে, রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আসনে, মহামান্য রাষ্ট্রপতি। মোহাম্মদ তায়েব উদ্দিন এবং তমিজা খাতুন দম্পতির সন্তান আব্দুল হামিদ প্রথম যৌবনেই ছাত্রলীগের যোগ দিয়ে একসময় হন ময়মনসিংহ জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি। ১৯৬৮তে আইয়ুববিরোধী আন্দোলনে কারাবরণ করেন, ৭০এর নির্বাচনের গনপরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন, ৭১সালে যোগ দেন গৌরবময় মুক্তিযুদ্ধে। নির্বাচিত হন কলেজ ছাত্র সংসদ ও আইনজীবী সমিতির নির্বাচনেও। স্বাধীনতার পর ১৯৭৩ থেকে ৮৬, ৯১, ৯৬, ২০০১, ২০০৮ এর প্রতিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হয়ে জয়লাভ করেন। জাতীয় সংসদের স্পিকারের দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি গ্রহনযোগ্য হয়ে ওঠেন সবার কাছে। ২০১৩ সালে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের মৃত্যুর পর আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হন রাষ্ট্রপতি। দেশের বিবাদমান পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে বিএনপিসহ সব দলের সংলাপের আয়োজন করে তিনি হয়ে ওঠেন জাতীয় ঐক্যের প্রতীক। এই প্রবীন রাজনীতিককে যেমন রাষ্ট্রপতির অনুষ্ঠানিক দায়িত্ব পালনে দেখা যায় ইস্পাত কঠিন চেহারায়। আবার বিশ্ববিদ্যালয়ে চ্যান্সেলর হিসেবে শিক্ষার্থীদের সামনে, বা বিনোদন জগতের কুশলীদের অনুষ্ঠানে মনমুগ্ধ বক্তব্যে অন্যরকম মাত্রা এনে পেয়েছেন আকাশচুম্বি জনপ্রিয়তা। ভাটির শার্দুল খ্যাত হাওরের সন্তান আব্দুল হামিদ রাষ্ট্রপতি হওয়ার পরও সাধারণ মানুষের মতই এলাকায় ঘুরে বেড়ান, প্রোটোকল শিথিল করে হয়ে যান স্বভাবসুলভ সাধারণ মানুষের নেতা। এক মেয়ে ও তিন ছেলের জনক স্ত্রী রশিদা হামিদকে সঙ্গে নিয়ে চলে যান প্রকৃতির সান্নিধ্যে।    ভিডিও :  

যুদ্ধাপরাধ মামলায় এনএসআই’র সাবেক ডিজি গ্রেফতার

একাত্তরে মানবতাবিরোধী মামলায় গ্রেফতার হয়েছেন এনএসআই’র সাবেক ডিজি মো. ওয়াহিদুল হক। আজ মঙ্গলবার দুপুর ১২ টায় গুলশানে নিজ বাসভবন থেকে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ।যুদ্ধাপরাধীদের অপরাধের লক্ষে গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজের করা এক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাকে গ্রেফতার করা হয়। ওয়াহিদুল হক ২০০৫ সালে পুলিশের অতিরিক্ত মহাপুলিশ পরিদর্শক হিসেবে অবসরে যান।  এসব তথ্য নিশ্চিত করে মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউটর ব্যারিষ্টার তুরিন আফরোজ বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে নিরীহ বাঙালিদের উপর নানা ধরণের অত্যাচার ও নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে ওয়াহিদুল হকের বিরুদ্ধে। ২০১৬ সালে ট্রাইব্যুনালে তদন্ত শুরু হয়। সেই তদন্তের পরিপ্রেক্ষিতে আজ তাকে গ্রেফতার করা হলো।ওয়াহিদুল হকের ২৮ মার্চ ১৯৭১ সালে রংপুর ক্যান্টনমেন্টে ৫/৬ মানুষকে মেশিনগানে হত্যার অভিযোগ রয়েছে।আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতেই মো. ওয়াহিদুল হককে গ্রেফতার করা হলো।/আআ/ এআর

রানা প্লাজা ধসে আহত শ্রমিকদের ৪৮ শতাংশ বেকার [ভিডিও]

সাভারে রানা প্লাজা ধসের ৫ বছর পরও আহত শ্রমিকদের ৪৮ শতাংশ বেকার। শারীরিক অক্ষমতা আর মানসিক বিপর্যয়ের কারণে কাজে ফিরতে পারেনি অনেকে। ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল। সাভারে ঢাকা- আরিচা মহাসড়কের পাশের বহুতল ভবন রানা প্লাজা হঠাৎই ধসে পড়ে। ভবনটির তৃতীয় থেকে ষষ্ঠ তলা পর্যন্ত ছিলো কয়েকটি তৈরি পোশাক কারখানা। মুহুর্তেই ধ্বংসস্তুপে চাপা পড়ে কয়েক হাজার মানুষ। ইট পাথরের চাপায় প্রাণ হারায় ১ হাজার একশ’ ৩৮ জন। আহত হয় প্রায় দুই হাজার শ্রমিক। এ’ঘটনা অনাথ করে অনেক শিশু-কিশোরকে। আহতদের মধ্যে অনেকেই কর্মক্ষমতা হারিয়ে ফেলেন চিরদিনের জন্য। সামান্য অনুদান জুটলেও শ্রমিকদের দাবি, মেলেনি ক্ষতিপূরণ। অনুদানের অর্থে পারিবারিক ব্যয় মেটানো সম্ভব হয়নি আহত শ্রমিকদের। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আহত শ্রমিকদের বর্তমান পরিস্থিতি পুন:মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। ঘটনা সামলে নিয়ে সরকার, বিদেশী বিনিয়োগকারী এবং দাতাসংস্থার উদ্যোগে নিহত শ্রমিকদের পরিবার ও আহত শ্রমিকদের সাময়িক অর্থকষ্ট দূর করার চেষ্টা হয়েছে। তবে, অনুদানের অর্থে পরিবারের ব্যয় মিটিয়ে ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব হয়নি আহত শ্রমিকদের। আক্ষেপ আছে পুনর্বাসনের আশ্বাস দিয়ে তা পূরণ না করার। বছরের পর বছর একই কথা বললেও কাজের কাজ হয় না বলে অভিযোগ করেন কেউ কেউ। একটি আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থার বাংলাদেশ কার্যালয় রানা প্লাজা ট্রাজেডিতে আহত ১৪শ’ শ্রমিকের মধ্যে জরিপ করে। এতে বলা হয়েছে, ওই ঘটনায় আহত শ্রমিকদের ৪৮ শতাংশ এখনো বেকার। আর আহত শ্রমিকদের বর্তমান পরিস্থিতি পূন:মূল্যায়নের পরামর্শ দিয়েছেন সিপিডির প্রকল্প পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম। ক্ষতিগ্রস্তদের আর্থিক ঝুঁকি নিরসনে আইনি কাঠামো শক্তিশালী করারও পরামর্শ দিয়েছেন এ বিশেষজ্ঞ।   https://www.youtube.com/watch?v=qJpq2WJ-BJ0    

তিস্তা নিয়ে আশ্বাস মোদির

ভারত সফররত আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি দলকে সেদেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, বাংলাদেশের সুখে-দুঃখে সব সময় পাশে থাকবে দিল্লি। তিস্তার পানিবন্টন চুক্তির বিষয়েও তিনি আশ্বাস দিয়েছেন। বলেছেন, ভারত চায় দ্রুত এর সমাধান হোক। গতকাল সোমবার বিকালে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওয়ায়দুল কাদেরের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলটি মোদির সঙ্গে দেখা করেন। এসময় ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় থেকে যে সম্পর্কের শুরু, আজ তা এক অনন্য উচ্চতায় পৌছে গেছে। ভারত ও বাংলাদেশের এই সম্পর্ক সময়ের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ। ভোটের আগে বাংলাদেশের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠা তিস্তার পানিবণ্টন নিয়ে আধা ঘণ্টার ওই বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলকে মোদি আশ্বাস দেন। বলেন, আমরা দ্রুত এর সমাধান করতে আগ্রহী। রোহিঙ্গা প্রসঙ্গেও তিনি বলেন, বাংলাদেশের ভূমিকা ভারত সমর্থন করে। ভারত চায় দ্রুত এই সমস্যার সমাধান হোক। বিজেপির সর্বভারতীয় সম্পাদক রাম মাধবের আমন্ত্রণে ওবায়দুল কাদেরের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের ২০ জনের এই প্রতিনিধিদল গত রোববার তিন দিনের সফরে দিল্লি আসে। রাজঘাটে ভারতের জাতির জনক মহাত্মা গান্ধীর সমাধিতে গিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়ে সোমবার তারা ভারতীয় সংসদ ভবন ঘুরে দেখেন। বিকাল সোয়া চারটায় বৈঠক হয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে। প্রতিনিধিরা এরপর যান দীনদয়াল উপাধ্যায় মার্গে বিজেপির নতুন সদর দপ্তরে। দলের সভাপতি অমিত শাহর অনুপস্থিতির দরুন অন্য শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে তাঁদের বৈঠক হয়। রাতে তাঁরা যোগ দেন রাম মাধবের দেওয়া নৈশভোজে। আজ প্রতিনিধি দলের ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে। সূত্র : কলকাতা প্রতিদিনি। / এআর /

ই-পাসপোর্ট চালু জুলাইয়ে

মেশিন রিডেবল পাসপোর্টের (এমআরপি) যুগ শেষ হতে যাচ্ছে। এর পরিবর্তে আসছে ইলেকট্রনিক পাসপোর্ট (ই-পাসপোর্ট)। চলতি বছরের জুলাই মাস থেকেই চালু হতে যাচ্ছে এটি। এ বিষয়ে ইতিমধ্যে জার্মানির একটি কোম্পানির সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। অত্যাধুনিক প্রযুক্তির এ পাসপোর্টের একটি ‘চিপ’সহজ করে দেবে বিশ্বভ্রমণ। বর্তমানে বিশ্বের ১১৮টি দেশে ই-পাসপোর্ট চালু আছে। এবার বাংলাদেশ যুক্ত হচ্ছে সেই তালিকায়। এর পাতায় থাকা চিপে সংরক্ষিত থাকবে পাসপোর্টধারীর সব তথ্য। এর আগে ২০১৬ সালে এমআরপির সঙ্গে ই-পাসপোর্ট চালুর সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। পাশাপাশি পাসপোর্টের মেয়াদ বাড়ানোর সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, যে দিন থেকে ই-পাসপোর্ট চালু হবে সেদিন থেকে এমআরপি পাসপোর্ট রিনিউ করতে গেলে ই-পাসপোর্ট করতে হবে। জার্মানির প্রযুক্তি নিয়ে জিটুজির মাধ্যমে বাংলাদেশে ই-পাসপোর্ট করা হবে। এ জন্য বিমান, স্থল ও নৌবন্দরে ই-গেট স্থাপন করা হবে। ইমিগ্রেশন চেকপোস্টে ই-পাসপোর্টধারী ব্যক্তি লাইনে না দাঁড়িয়েই স্বয়ংক্রিয়ভাবে ইমিগ্রেশন শেষ করতে পারবেন। / আর / এআর

রানা প্লাজা ধস: পাঁচ বছরেও শুরু হয়নি বিচার

দেশের স্মরণকালের সবচেয়ে বড় গার্মেন্টস ট্রাজেডি রানা প্লাজা ধসের পাঁচ বছর আজ। তবে ঘটনার পাঁচ বছর পেরিয়ে গেলেও মূল মামলার বিচার শুরু হয়নি এখনো। এদিকে মামলার অগ্রগতি না হওয়ার জন্য পুলিশকে দুষছে হতাহতের স্বজনসহ মানবাধিকার কর্মীরা। জানা যায়, রানা প্লাজা ধসের পাঁচ বছরেও সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়নি দেশের আলোচিত এ মামলাটির। জানা যায়, সাত আসামির করা অবেদনের প্রেক্ষিতে উচ্চ আদালত স্থগিতাদেশ দিলে বন্ধ হয়ে যায় মামলাটির কার্যক্রম। এরপর আর আলোর মুখ দেখেনি মামলাটি। নথিপত্রে দেখা যায়, এখন শুধু আসামি মোহাম্মদ আলীর বিরুদ্ধে মামলার কার্যক্রম আগামী ১২ মে পর্যন্ত স্থগিত রয়েছে। এ ছাড়া বাকি আসামিদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার স্থগিতাদেশ উঠে গেছে বলে জানা গেছে। এরই মধ্যে সাত আসামির একজন সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন। নিহতের নাম আবু বকর সিদ্দিক। তার বাড়ি বরিশালের আগৈলঝাড়ায়। মামলার আরেক আসামি আবুল হোসেনও মারা গেছেন। রানা প্লাজা ট্রাজেডির পরপরই সাভার থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ওয়ালী আশরাফ ভবন নির্মাণে ‘অবহেলা ও অবহেলাজনিত হত্যার অভিযোগে মামলা দায়ের করেন।এরপর ২০১৫ সালের ২৬ এপ্রিল সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার বিজয়কৃষ্ণ কর ভবন মালিক সোহেল রানাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। মামলায় ৫৯৪জনকে সাক্ষী করা হয়। আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালের ১৮ জুলাই ঢাকার জেলা ও দায়রা জজ এস এম কুদ্দুস জামান আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিলেও সেখানেই আটকে আছে মামলা। বার বার সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করলেও এখনও পর্যন্ত নেওয়া হয়নি কোনো সাক্ষীর সাক্ষগ্রহণ। গত ১৫ এপ্রিল সাক্ষ্য গ্রহণের সর্বশেষ দিন ধার্য ছিল। তবে সেদিনও কোনো সাক্ষগ্রহণ হয়নি। এরইমধ্যে আগামী ১৬মে ফের সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করে আদালত। রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান কৌঁসুলি খন্দকার আব্দুল মান্নান সাংবাদিকদের বলেন, ‘হাইকোর্টে যাদের মামলা স্থগিত হয়ে গিয়েছিল, তাদের মধ্যে মোহাম্মদ আলী ছাড়া বাকি সবার মামলার কার্যক্রমের উপর স্থগিতাদেশ উঠে গেছে বলে আমরা জানতে পেরেছি। কিন্তু হাই কোর্টের সংশ্লিষ্ট সেকশন থেকে আমরা এখনও স্থগিতাদেশ খারিজের আদেশটি পাইনি। যে কারণে আমরা সাক্ষ্য নিতে পারছি না।’ উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ইতিহাসে ভয়াবহতম এই ভবন ধসের ঘটনা ঘটে। ভবনটির ধ্বংসস্তূপ থেকে ১ হাজার ১৩৬ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়। আহত হন দুই হাজারের বেশি শ্রমিক, যাদের অনেকে পঙ্গু হয়ে যান। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মামলার আসামিদের মধ্যে তিনজন মো. শাহ আলম মিঠু, মো. আবুল হাসান ও সৈয়দ শফিকুল ইসলাম জনির বিরুদ্ধে প্রধান আসামি সোহেল রানাকে পালাতে সহযোগিতার জন্য দণ্ডবিধির ২১২ ধারায় অভিযোগ আনা হয়। বাকি ৩৮ জনের বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ গঠন করা হয়। আসামিদের মধ্যে সোহেল রানা কারাগারে রয়েছেন। পলাতক রয়েছেন মাহবুবুর রহমান, কামরুল ইসলাম, মনোয়ার হোসেন বিপ্লব, সৈয়দ শফিকুল ইসলাম, রেজাউল করিম, নান্টু কন্ট্রাকটর ও নয়ন মিয়া। এমজে/

‘আমার কোনো বিদেশি পাসপোর্ট নেই’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজিব ওয়াজেদ জয় বলেছেন, তাঁর কোন বিদেশি পাসপোর্ট নেই। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপার্সন এবং খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমানের পাসপোর্ট বিতর্ক যখন তুঙ্গে তখন প্রধানমন্ত্রীর ছেলে এ মন্তব্য করেন। নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পাতায় সজীব ওয়াজেদ লিখেছেন, ‘সবার অবগতির জন্য জানিয়ে রাখি, আমার কোনো বিদেশী পাসপোর্ট নেই। যুক্তরাষ্ট্রে আমার স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি আছে। গর্বের সঙ্গে আমার সবুজ বাংলাদেশী পাসপোর্ট দিয়েই আমি যাতায়াত করি’। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমকে উদ্ধৃত করে রোববার বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে যে বিএনপি নেতা তারেক রহমান বাংলাদেশের পাসপোর্ট হস্তান্তর করে তাঁর নাগরিকত্ব বর্জন করেছেন। এরপর শুরু হয় তীব্র বিতর্ক। তারেক রহমানের `নাগরিকত্ব বর্জন` নিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী যে বক্তব্য দিয়েছে সেটি প্রত্যাখ্যান করে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রিজভী আহমেদ। এরপর সোমবার রাতে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম তাঁর বাসায় পাল্টা এক সংবাদ সম্মেলনে দাবী করেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র দপ্তরের কাছে তাঁর পাসপোর্ট হস্তান্তর করেছেন। শাহরিয়ার আলম প্রশ্ন তোলেন, " এর অর্থ কী দাঁড়ায়? ... আমি মনে করি এটি হচ্ছে নাগরিকত্বকে অস্বীকার করা।" এনিয়ে বিতর্ক যখন তুঙ্গে তখন নিজের ফেসবুক পেজে সজীব ওয়াজেদ বিএনপির কড়া সমালোচনা করেছেন। এদিকে বিএনপির আইন বিষয়ক সম্পাদক এবং তারেক রহমানের আইনজীবী কায়সার কামাল বিবিসি বাংলাকে বলেন, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য বানোয়াট এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে প্রণোদিত। এনিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমকে লিগ্যাল নোটিস পাঠানো হয়েছে তারেক রহমানের আইনজীবীর পক্ষ থেকে। লিগ্যাল নোটিস পাওয়ার কয়েক-ঘণ্টা পরেই সংবাদ-সম্মেলন করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। মি: আলম বলেন, তিনি বিষয়টি আইনগত-ভাবে মোকাবেলার জন্য প্রস্তুত। সূত্র: বিবিসি বাংলাএমজে/

আজ কোথায় বাংলাদেশ আর কোথায় পাকিস্তান!

আর্থসামাজিক উন্নয়নের প্রায় সব সূচকে বাংলাদেশ যে পাকিস্তানের চেয়ে অনেক এগিয়ে গেছে, বাংলাদেশকে সেই সার্টিফিকেট দিয়ে শেখ হাসিনার নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। পাকিস্তানের সমালোচনা করে নরেন্দ্র মোদি বলেন, আজ কোথায় বাংলাদেশ দাঁড়িয়ে আর কোথায় পাকিস্তান পড়ে রয়েছে। দিল্লি সফররত আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সোমবার বিকেলে সৌজন্য সাক্ষাৎ করার সময় ভারতের প্রধানমন্ত্রী এ মন্তব্য করেন। শেখ হাসিনার সাহসী ও বলিষ্ঠ নেতৃত্বের তারিফ করে প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, "একাত্তরে পাকিস্তান ভেঙে যে দেশটার জন্ম হল, তারা আজ পাকিস্তানকে ফেলে কোথায় এগিয়ে গেছে। আজ কোথায় বাংলাদেশ, আর কোথায় পাকিস্তান!" ভারতে ক্ষমতাসীন দল বিজেপির আমন্ত্রণেই আওয়ামী লীগের একটি প্রতিনিধি দল ভারত সফরে গিয়েছে, আর দলটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। সোমবার বিকেলে আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের সময় ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল, পররাষ্ট্র সচিব বিজয় কেশব গোখলে ও মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তারাও হাজির ছিলেন। আওয়ামী লীগের তরফে দলনেতা ওবায়দুল কাদের ছাড়াও মাহবুবুল আলম হানিফ, পীযূষ কান্তি ভট্টাচার্য, আবদুর রহমান, জাহাঙ্গীর কবীর নানক প্রমুখ নেতারা সেখানে ছিলেন। উপস্থিত ছিলেন দিল্লিতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলিও। অমীমাংসিত তিস্তা চুক্তি নিয়ে আওয়ামী লীগ নেতাদের অবশ্য কোনও সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি দিতে পারেননি প্রধানমন্ত্রী মোদি। শুধু বলেছেন, `যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এই চুক্তি যাতে সই করা যায়, আমি সেই চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।` ভারত যে মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের দ্রুত প্রত্যাবাসনের প্রস্তাবকে সমর্থন করে, সে কথাও দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানিয়েছেন তিনি। যে বিজেপির আমন্ত্রণে আওয়ামী লীগ নেতাদের এই দিল্লি সফর, সেই দলের নেতাদের সঙ্গে আওয়ামী লীগ প্রতিনিধিরা সোমবার সন্ধ্যায় বৈঠকে বসেন বিজেপির নতুন কার্যালেয় ভবনে। দিল্লির দীনদয়াল উপাধ্যায় মার্গে অবস্থিত বিজেপি দফতরে সেই বৈঠকে বিজেপির তরফে উপস্থিত ছিলেন সাধারণ সম্পাদক রাম মাধব, অরুণ সিং ও রামলালের মতো শীর্ষ নেতারা। বিজেপি ভাইস-প্রেসিডেন্ট বিনয় সহস্রবুদ্ধে বিবিসিকে বলেন, "বিজেপি যে পার্টি-টু-পার্টি কনট্যাক্ট বা দলীয় স্তরে সংযোগকে কতটা গুরুত্ব দেয়, আওয়ামী লীগকে ভারতে আমন্ত্রণ জানানোর মধ্যে দিয়েই সেটা স্পষ্ট।" বস্তুত বাংলাদেশে এই নির্বাচনের বছরে দিল্লিতে আওয়ামী লীগ প্রতিনিধিদলের সফরকে যথারীতি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে নানা মহলেই। আর এই সফরে প্রধানমন্ত্রী মোদী আওয়ামী লীগ নেতাদের সামনে যেভাবে শেখ হাসিনার নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করলেন, সেটাকেও রীতিমতো তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। সূত্র: বিবিসিএমজে/

আজ দ্বিতীয় মেয়াদে শপথ নেবেন রাষ্ট্রপতি 

রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ দ্বিতীয় মেয়াদের জন্য রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে আজ মঙ্গলবার শপথ নেবেন। রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব জয়নাল আবেদিন গণমাধ্যমকে জানান, জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরিন শারমিন চৌধুরী আজ সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটে বঙ্গভবনের দরবার হলে তাকে শপথবাক্য পাঠ করাবেন। বঙ্গভবনে এ শপথ অনুষ্ঠানের প্রয়োজনীয় সকল প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন করা হয়েছে। জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, প্রধান বিচারপতি, দেশের সাবেক রাষ্ট্রপতিগণ, বিচারকগণ, মন্ত্রিসভার সদস্যবর্গ, সংসদ সদস্যগণ, রাজনৈতিক, কূটনীতিক এবং দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এ শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন। উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ২২ এপ্রিল  বাংলাদেশের ২০তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে আবদুল হামিদ নির্বাচিত হন এবং ২৪ এপ্রিল শপথগ্রহণ করেন। তার আগে রাষ্ট্রপতির অনুপস্থিতিতে তিনি ২০১৩ সলের ১৪ মার্চ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। ওই সময় তৎকালীন রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমান সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন ছিলেন। জিল্লুর রহমানের মৃত্যুর পর তিনি ২০১৩ সালের ২০ মার্চ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হন। আবদুল হামিদ দেশের ২১তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে এবং দ্বিতীয়বারের মতো বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিয়ে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করতে যাচ্ছেন।  কেআই/এসি  

© ২০১৮ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি