ঢাকা, শনিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ২:৪৮:১৭

রোহিঙ্গাদের সহায়তায় মাঠে নামছে সেনাবাহিনী

রোহিঙ্গাদের সহায়তায় মাঠে নামছে সেনাবাহিনী

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে প্রাণ নিয়ে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের সহায়তায় মাঠে নামছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী । শনিবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সেনা সদস্যরা কাজ শুরু করবে বলে জানিয়েছেন কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেন। শুক্রবার সন্ধ্যায় কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এক প্রেস বিফ্রিংয়ে তিনি এ কথা বলেন। জেলা প্রশাসক বলেন, মিয়ানমার থেকে বিতাড়িত রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তায় কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে সেনাবাহিনী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সার্বক্ষণিক কাজ চালিয়ে যাবে। স্যানিটেশন ব্যবস্থা থেকে শুরু করে শেড নির্মাণ ও ত্রাণ বিতরণে কাজ করবে তারা। জেলা প্রশাসক আরো বলেন, আশ্রয়হীন রোহিঙ্গাদের জন্য প্রতিদিন ১২৯ ট্রাক খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে। এতে প্রতিদিন এক লাখ ২০ হাজার রোহিঙ্গা ত্রাণ সুবিধা পাচ্ছে। এছাড়াও প্রতি ঘণ্টায় ২ হাজার লিটার বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সচিব আশরাফুল আলম খোকন, শরণার্থী ও ত্রাণ বিষয়ক হাইকমিশনার আবুল কালাম, কক্সবাজারের পুলিশ সুপার একেএম ইকবাল হোসেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) কাজি আব্দুর রহমান, জেলা তথ্য কর্মকর্তা নাসির উদ্দিন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। ডব্লিউএন
পানি গবেষণায় বৈশ্বিক তহবিল গঠনে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

পানি সম্পদ ও ব্যবস্থাপনা খাতে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে পানি সংক্রান্ত গবেষণা কাজ এবং উদ্ভাবন ও প্রযুক্তি স্থানান্তরে একটি বৈশ্বিক তহবিল গঠনের জন্যে  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেছেন। জাতিসংঘের  সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের পাশাপাশি বৃহস্পতিবার পানি সংক্রান্ত উচ্চ পর্যায়ের প্যানেলের চতুর্থ সভায় তিনি এসব কথা বলেন। শেখ হাসিনা বলেন,‘পানিকে আমরা অধিকার হিসেবেই মূল্য দিয়ে থাকি। পানি মানবিক মর্যাদা নিশ্চিত করে। আমরা সবার জন্য একটি পানি নিরাপদ বিশ্বের কথা ভাবি।’ তিনি বলেন ``আমাদের অবশ্যই অন্যান্য এসডিজি বিষয় বিশেষ করে স্বাস্থ্য, কৃষি, শিল্প, অবকাঠামো এবং নগরের সঙ্গে পানির সম্পৃক্ততার কথা ভুলে গেলে চলবে না। বেঁচে থাকার জন্য আমাদের পানির প্রয়োজন। সবার জন্য নিরাপদ সুপেয় পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন নিশ্চিতে বাংলাদেশের সাফল্যের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৬ কোটি মানুষের এ দেশে প্রায় প্রত্যেকেই নিরাপদ সুপেয় পানি পাচ্ছে। এখন আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে ২০২০ সালের মধ্যে সকলের জন্য সরাসরি নিরাপদ সুপেয় পানি নিশ্চিত করা।`` তিনি আরও বলেন, তাঁর সরকার পুকুর, খাল ও পানি সংরক্ষণাগার পুনঃখনন এবং ভূ-উপরিস্থ পানির টেকসই ব্যবহার বৃদ্ধির লক্ষ্যে এ পানিকে দুষণ থেকে রক্ষায় প্রকল্প গ্রহণ করেছে। স্কুলগুলোতে তাঁর সরকারের ওয়াশ কর্মসূচিকে অগ্রাধিকার দেয়ার কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, তরুণ প্রজন্মের শিক্ষা বিকাশে আমাদের বিনিয়োগ তাদের ভবিষ্যৎ নিরাপদ করবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত প্রভাব এবং বন্যা, খরা, ঘূর্ণিঝড়ের মতো পানি সংক্রান্ত রোগের উপরও আমাদের আলোকপাত করা প্রয়োজন। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় আমাদের দীর্ঘমেয়াদী কৌশল প্রণয়ন দরকার। সূত্র -বাসস কেআই/ডব্লিউএন

এসডিজিতে বেসরকারি খাতকে সম্পৃক্ত করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, এসডিজি বাস্তবায়নে অর্থায়নের ঘাটতি মোকাবেলায় বেসরকারি খাতকে সম্পৃক্ত করা প্রয়োজন। কারণ, এলক্ষে সম্পদের যোগান দেয়া সরকারগুলোর জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বুধবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে উচ্চপর্যায়ের এক আলোচনায় একথা বলেন। আঙ্কটাডের তথ্যের উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এসডিজি বাস্তবায়নে প্রতি বছর বিশ্বের ৩ দশমিক ৩ থেকে ৪ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলার প্রয়োজন। এজন্য এসডিজি বাস্তবায়নে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ প্রয়োজন। প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ সদর দফতরে ‘ক্রিয়েটিং এ্যা পলিসি ভিশন ফর এসডিজি ফিন্যান্স ফ্যাসিলিটেটিং প্রাইভেট সেক্টর ইনভেস্টমেন্ট ইন দ্য এসডিজি’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে বক্তব্য প্রদানকালে এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, উন্নয়নশীল দেশের জিডিপি’র ৬০ শতাংশ, পুঁজি প্রবাহে ৮০ শতাংশ ও কর্মসংস্থানের ৯০ শতাংশ বেসরকারি খাতের আওতায়। এজন্য এসডিজি বাস্তবায়নে তাদের অংশগ্রহণ ও দায়বদ্ধতা রয়েছে। শেখ হাসিনা জানান, বাংলাদেশে বেসরকারি খাত শক্তিশালী ও উৎসাহী অংশীদার হিসেবে বিকশিত হচ্ছে। তাদের এই আগ্রহের প্রেক্ষাপটে তাঁর সরকার এসডিজির জন্য বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ বাড়াতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আওতায় বেশ কিছু সংস্থা গঠন করেছে। তিনি বলেন, এটা উৎসাহব্যঞ্জক যে বিশ্বব্যাপী বেসরকারি খাত এসডিজিকে গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে। বিশ্বের বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের সংস্থার কার্যবিবরণী ও টেকসই ব্যবসা পরিকল্পনায় এসডিজিকে অন্তর্ভুক্ত করেছে।   তিনি বলেন, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ এফডিআই’র উপর গুরুত্বারোপ করে বড় ধরনের বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে এবং বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ আগামী কয়েক বছরে ১শ’ বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করছে। উল্লেখ্য, বাংলাদেশে এফডিআই ২০১০ সালের ১ বিলিয়ন ডলার থেকে ২০১৬ সালে ২ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে। শেখ হাসিনা এ ধরনের বিনিয়োগের গুরুত্বের স্বীকৃতি প্রদান ও ইউএনডিপি ইম্প্যাক্ট ফিন্যান্স (ইউএনএসআইএফ) গঠনের জন্য ইউএনডিপিকে ধন্যবাদ জানান। ‘বিল্ড বাংলাদেশ- ইউএনডিপি ইম্প্যাক্ট ফান্ড ব্যানারে ইউএনএসআইএফ’র প্রথম বিনিয়োগ হবে বাংলাদেশে। এতে বাংলাদেশ অনেক উদ্ভাবনী প্রস্তাব দিয়েছে এবং এই তহবিল চীনের ইম্প্যাক্ট ইনভেস্টরসের সহায়তায় সাশ্রয়ী আবাসন গড়ে তুলতে কাজ করবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি সবার জন্য উপযোগী ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ বাড়াতে একত্রে কাজ করার লক্ষ্যে এগিয়ে যাচ্ছেন। এর আগে প্রধানমন্ত্রী এসডিজি বাস্তবায়ন, অর্থায়ন ও তদারকি শীর্ষক উচ্চ পর্যায়ের এক বৈঠকে বক্তৃতাকালে দক্ষিণ-দক্ষিণ এবং ত্রিপক্ষীয় সহযোগিতার মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের উদ্ভাবন বিনিময়ের উপর গুরুত্বারোপ করেন। শেখ হাসিনা বলেন, দক্ষিণের দেশগুলো একে অপরের উন্নয়ন ও চ্যালেঞ্জগুলো বুঝতে পারে। এজন্য দক্ষিণের মধ্যে গভীর বোঝাপড়া ও বৃহত্তম সমঝোতা গড়ে তোলা প্রয়োজন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ এসডিজি ট্রাকার নামে একটি সহজ কিন্তু শক্তিশালী প্রক্রিয়ার উদ্ভাবন করেছে। এর মাধ্যমে সূচকসহ এসডিজি প্রত্যেক লক্ষ্যমাত্রা যথাযথ লক্ষ্য নির্ধারণ ও অগ্রগতি জানা যাবে। এটি একটি উদ্ভাবনী কর্যপ্রক্রিয়া। আমরা এই ব্যবস্থা দক্ষিণের দেশগুলোর জন্যও সহজলভ্য করব। সূত্র : বাসস কেআই/ডব্লিউএন

এসডিজিতে বেসরকারি খাতকে সম্পৃক্ত করার আহ্বান প্রধানমন্ত্র

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, এসডিজি বাস্তবায়নে অর্থায়নের ঘাটতি মোকাবেলায় বেসরকারি খাতকে সম্পৃক্ত করা প্রয়োজন। কারণ, এলক্ষে সম্পদের যোগান দেয়া সরকারগুলোর জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বুধবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে উচ্চপর্যায়ের এক আলোচনায় একথা বলেন। আঙ্কটাডের তথ্যের উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এসডিজি বাস্তবায়নে প্রতি বছর বিশ্বের ৩ দশমিক ৩ থেকে ৪ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলার প্রয়োজন। এজন্য এসডিজি বাস্তবায়নে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ প্রয়োজন। প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ সদর দফতরে ‘ক্রিয়েটিং এ্যা পলিসি ভিশন ফর এসডিজি ফিন্যান্স ফ্যাসিলিটেটিং প্রাইভেট সেক্টর ইনভেস্টমেন্ট ইন দ্য এসডিজি’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে বক্তব্য প্রদানকালে এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, উন্নয়নশীল দেশের জিডিপি’র ৬০ শতাংশ, পুঁজি প্রবাহে ৮০ শতাংশ ও কর্মসংস্থানের ৯০ শতাংশ বেসরকারি খাতের আওতায়। এজন্য এসডিজি বাস্তবায়নে তাদের অংশগ্রহণ ও দায়বদ্ধতা রয়েছে। শেখ হাসিনা জানান, বাংলাদেশে বেসরকারি খাত শক্তিশালী ও উৎসাহী অংশীদার হিসেবে বিকশিত হচ্ছে। তাদের এই আগ্রহের প্রেক্ষাপটে তাঁর সরকার এসডিজির জন্য বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ বাড়াতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আওতায় বেশ কিছু সংস্থা গঠন করেছে। তিনি বলেন, এটা উৎসাহব্যঞ্জক যে বিশ্বব্যাপী বেসরকারি খাত এসডিজিকে গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে। বিশ্বের বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের সংস্থার কার্যবিবরণী ও টেকসই ব্যবসা পরিকল্পনায় এসডিজিকে অন্তর্ভুক্ত করেছে।   তিনি বলেন, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ এফডিআই’র উপর গুরুত্বারোপ করে বড় ধরনের বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে এবং বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ আগামী কয়েক বছরে ১শ’ বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করছে। উল্লেখ্য, বাংলাদেশে এফডিআই ২০১০ সালের ১ বিলিয়ন ডলার থেকে ২০১৬ সালে ২ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে। শেখ হাসিনা এ ধরনের বিনিয়োগের গুরুত্বের স্বীকৃতি প্রদান ও ইউএনডিপি ইম্প্যাক্ট ফিন্যান্স (ইউএনএসআইএফ) গঠনের জন্য ইউএনডিপিকে ধন্যবাদ জানান। ‘বিল্ড বাংলাদেশ- ইউএনডিপি ইম্প্যাক্ট ফান্ড ব্যানারে ইউএনএসআইএফ’র প্রথম বিনিয়োগ হবে বাংলাদেশে। এতে বাংলাদেশ অনেক উদ্ভাবনী প্রস্তাব দিয়েছে এবং এই তহবিল চীনের ইম্প্যাক্ট ইনভেস্টরসের সহায়তায় সাশ্রয়ী আবাসন গড়ে তুলতে কাজ করবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি সবার জন্য উপযোগী ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ বাড়াতে একত্রে কাজ করার লক্ষ্যে এগিয়ে যাচ্ছেন। এর আগে প্রধানমন্ত্রী এসডিজি বাস্তবায়ন, অর্থায়ন ও তদারকি শীর্ষক উচ্চ পর্যায়ের এক বৈঠকে বক্তৃতাকালে দক্ষিণ-দক্ষিণ এবং ত্রিপক্ষীয় সহযোগিতার মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের উদ্ভাবন বিনিময়ের উপর গুরুত্বারোপ করেন। শেখ হাসিনা বলেন, দক্ষিণের দেশগুলো একে অপরের উন্নয়ন ও চ্যালেঞ্জগুলো বুঝতে পারে। এজন্য দক্ষিণের মধ্যে গভীর বোঝাপড়া ও বৃহত্তম সমঝোতা গড়ে তোলা প্রয়োজন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ এসডিজি ট্রাকার নামে একটি সহজ কিন্তু শক্তিশালী প্রক্রিয়ার উদ্ভাবন করেছে। এর মাধ্যমে সূচকসহ এসডিজি প্রত্যেক লক্ষ্যমাত্রা যথাযথ লক্ষ্য নির্ধারণ ও অগ্রগতি জানা যাবে। এটি একটি উদ্ভাবনী কর্যপ্রক্রিয়া। আমরা এই ব্যবস্থা দক্ষিণের দেশগুলোর জন্যও সহজলভ্য করব। সূত্র : বাসস কেআই/ডব্লিউএন

বাংলাদেশের ডিজিটাল কার্যক্রমের প্রশংসায় তিন দেশ

বাংলাদেশের ডিজিটাল কার্যক্রমের প্রশংসা করেছে এস্তোনিয়া, কলম্বিয়া ও নামিবিয়া। বৃহস্পতিবার (বাংলাদেশ সময় শুক্রবার) নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দফতরে সাধারণ পরিষদ অধিবেশনে এস্তোনিয়ার স্থায়ী মিশন ‘ই-গভর্নেন্স: পার্টনারশিপ ফর অ্যাচিভিং এসডিজিস’ শীর্ষক একে আলোচনায় তিন দেশের নেতারা এ প্রশংসা করেন। অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন এস্তোনিয়ার রাষ্ট্রপতি কেসটি কালজুলাইড, নামিবিয়ার অর্থনৈতিক পরিকল্পনা বিষয়ক মন্ত্রী টম আলেওয়েন্ডো, কলম্বিয়ার জাতীয় পরিকল্পনা বিষয়ক মন্ত্রী লুইস ফার্নান্দেজ মেজিয়া। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালন করেন জাতিসংঘ উন্নয়ন প্রকল্পের অ্যাসিস্ট্যান্ট অ্যাডমিনিস্ট্রেটর, ডিরেক্টর ফর দ্য ব্যুরো ফর পলিসি অ্যান্ড প্রোগ্রাম সাপোর্ট এবং জাতিসংঘের সহকারী মহাপরিচালক মাগদা মার্টিনেজ সলিমান। বক্তারা ডিজিটাল কর্মকাণ্ডে বাংলাদেশ সকল শ্রেণি-পেশার অন্তর্ভুক্তিমূলক কার্যক্রমের প্রশংসা করেন। অনুষ্ঠানে ডিজিটাল বাংলাদেশের কার্যক্রম তুলে ধরেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ। বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ই-গভর্নমেন্ট কার্যক্রমের আওতায় দারিদ্র্য দূরীকরণ, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণসহসহ শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নারী-পুরুষ সমতা নিশ্চিত করতে কাজ করা হচ্ছে। পাশাপাশি বাংলাদেশে ডিজিটাল হেলথ রেকর্ড সিস্টেম, মোবাইল অ্যাপ-ভিত্তিক স্বাস্থ্য সেবা, ডিজিটাল ল্যাব প্রতিষ্ঠা, ডিজিটাল কনটেন্ট, উদ্যোক্তা ইকো-সিস্টেমের মতো উদ্যোগ নিয়ে কাজ চলছে।   /আর/এআর

রোহিঙ্গাদের মর্যাদার সঙ্গে ফিরিয়ে নিন

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সেদেশের সেনবাহিনীর হত্যা-নিপীড়নের মুখে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা শরনার্থীদের রক্ষায় বিশ্ব সম্প্রদায়ের দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দফতরে ৭২ তম সাধারণ অধিবেশনে স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় (বাংলাদেশ সময় শুক্রবার ভোরে) প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে এই দাবি জানান। শেখ হাসিনা মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ‘জাতিগত নিধন’ এখনি বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন, শরণার্থীদের ফেরত নিয়ে তাদের সুরক্ষা দিয়ে পুনর্বাসনের কথা বলেছেন। মুসলিম রোহিঙ্গাদের জন্য জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে মিয়ানমারে ‘সেইফ জোন’ গঠনের প্রস্তাব বিশ্ব সংস্থায় তুলেছেন শেখ হাসিনা। বলেছেন, জাতিসংঘ মহাসচিবকে একটি অনুসন্ধানী দল পাঠাতে। তিনি রোহিঙ্গাদের মর্যাদার সঙ্গে স্বদেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা নিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহবান জানান।

৩ দিন বন্ধ থাকবে প্রথম সাবমেরিন ক্যাবল

দেশের প্রথম সাবমেরিন ক্যাবল (সি-মি-উই-৪) আগামী ৬ অক্টোবর হতে তিন দিন বন্ধ থাকবে। মেরামতের জন্য ক্যাবলটি এ সময়ে পুরোপুরি বন্ধ রাখা হবে। গত ১২ বছরের মধ্যে এই প্রথম ক্যাবলটি শাট ডাউন হচ্ছে বলে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানির এক শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা। মেরামতের সময়  ইন্টারনেট সেবায় গ্রাহকদের ধীর গতিসহ সংশ্লিষ্ট কাজে সমস্যা দেখা দিতে পারে। সি-মি-উই-৪ এর ক্ষমতা সব মিলে আড়াইশ জিবিপিএস-এর মতো। এর মধ্যে প্রায় দুইশ জিবিপিএস এখন ব্যবহার হচ্ছে। অন্যদিকে সম্প্রতি চালু হওয়া সি-মি-উই-৫ ক্যাবল হতে আরও ৫০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ ব্যবহার করা হচ্ছে। দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবল ১৫০০ জিবিপিএস থেকে বর্তমানে ব্যবহার করা যাচ্ছে ২০০ জিবিপিএস। এর পুরোটাও যদি প্রথম ক্যাবল বন্ধ থাকার সময় ব্যবহার করা হয় তাহলেও দেশের মোট চাহিদার ৫০ জিবিপিএসের ঘাটতি থাকবে। তাই বিএসসিসিএল এখন ঘটাতি মেটাতে বিদেশি কোনো কোম্পানির কাছ থেকে এক মাসের জন্য হলেও কিছু সংযোগ কিনতে চাইছে। তবে এ জন্য তাদের গুণতে হবে মোটা অংকের টাকা। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন সি-মি-উই-৪ তে বঙ্গপোসাগারের ভেতরে রিপিটার বদলাতে হচ্ছে। ফলে ক্যাবলটিকে বঙ্গপোসাগরে বন্ধ করে তারপরই মেরামতের কাজ করতে হবে। প্রথম অবস্থায় চলতি মাসের ২৫ থেকে ২৭ তারিখ পর্যন্ত মেরামতের দিন ঠিক হলেও পরে তা বদলে এখন ৬ হতে ৮ অক্টোবর নির্ধারণ করা হয়েছে। কেআই/ডব্লিউএন

৫২ হাজার রোহিঙ্গা শিশু টিকা পেয়েছে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

এখন পর্যন্ত ৫২ হাজার রোহিঙ্গা শিশুকে বিভিন্ন রোগের টিকা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। তিনি বলেন, প্রায় আড়াই হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থীকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে কক্সবাজারের বিভিন্ন হাসপাতাল ও চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। যাদের সবাই প্রায় গুলিবিদ্ধ বা ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আহত। বৃহস্পতিবার দুপুরে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।   রোহিঙ্গা শরণার্থীদের স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা সেবায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কি কি পদক্ষেপ নিয়েছে, তা জানানোর জন্য এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, উখিয়া, টেকনাফ ও বান্দরবান এলাকায় শরণার্থীদের জন্য বাড়তি চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ করা হয়েছে। পাশাপাশি অনেকগুলো নতুন স্বাস্থ্যকেন্দ্র খোলা হয়েছে। সেখানে বিশেষ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে গর্ভবতী নারী ও শিশুদের স্বাস্থ্যসেবায়। এসব জায়গাগুলোতে এ পর্যন্ত প্রায় ৫২ হাজার শিশুকে হাম, রুবেলাসহ নানা রোগের টিকা দেওয়া হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, শরণার্থী এলাকাগুলোতে ৪০টির বেশি বেসরকারি ও আন্তর্জাতিক সংস্থা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে স্বাস্থ্য কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে। সেখানে রোগ প্রতিরোধ, পুষ্টি ও সেবার পাশাপাশি পরিবার পরিকল্পনা সেবা দেওয়া হচ্ছে। মোহাম্মদ নাসিম বলেন, রোহিঙ্গারা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা সেবা থেকে বঞ্চিত। নারীদের পরিবার পরিকল্পনা সম্পর্কে কোনো ধারণাই নেই। বাংলাদেশ সরকার রোহিঙ্গা নারীদের গর্ভ-পূর্ববর্তী, গর্ভকালীন ও প্রসব-পরবর্তী সব ধরনের সেবার ব্যবস্থা করেছে। আর/ডব্লিউএন

শুধু সংলাপ নয়, সুপারিশও বিবেচনায় আনতে হবে

নির্বাচন কমিশন সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে যে সংলাপের আয়োজন করেছে, তা ভালো। কিন্তু এটাই যথেষ্ট নয়, সংলাপে আসা সুপারিশগুলো বিবেচনায় আনতে হবে বলে মন্তব্য করেন সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সাধারণ সম্পাদক ড. বদিউল আলম মুজমদার। বৃহস্পতিবার মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় দি হাঙ্গার প্রজেক্ট-বাংলাদেশের স্বেচ্ছাসেবকদের অভিজ্ঞতা বিনিময় সভায় এসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বদিউল আলম এসব কথা বলেন। স্বেচ্ছাসেবকদের অভিজ্ঞতা বিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরামের মেহেরপুর জেলা শাখার সভাপতি সিরাজুল ইসলাম। উপস্থিত ছিলেন দি হাঙ্গার প্রজেক্টের ইউএসএ এবং বাংলাদেশ কান্ট্রি অফিসের কর্মকর্তা ও স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। সভায় নির্বাচন কমিশনের সংলাপকে স্বাগত জানিয়ে সুজন সাধারণ সম্পাদক বলেন, সংলাপ মানে আলাপ-আলোচনা। আলোচনার মাধ্যমে যদি সমস্যার সমাধান হয়, সেটাই ভালো। নির্বাচন কমিশনকে স্বাগত জানাই তারা আলাপ-আলোচনা করছে। তারা রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজ ও গণমাধ্যমের বক্তব্য শুনছে। আমি আশা করি, সংলাপের মধ্য দিয়ে যে সুপারিশ আসবে, সেগুলো তারা বিবেচনা করবে। এগুলো বিবেচনায় নিয়ে আইনকানুন ও বিধিবিধানে যে ধরণের পরিবর্তন আনা দরকার, সেগুলো তারা করবে। নির্বাচনকে সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও নিরপেক্ষ করার জন্য যা করার দরকার, নির্বাচন কমিশন তা করবে। তাহলেই সংলাপ সফল হবে। আরকে/ডব্লিউএন

রোহিঙ্গার জন্য এ পর্যন্ত ২৭০ টন চাল-আটা এসেছে

মিয়ানমারের রাখাইনে সহিংসতা শুরুর পর এ পর্যন্ত সোয়া চার লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছেন। যাদের জন্য দেশি-বিদেশি বিভিন্ন সংস্থার সহায়তা হিসেবে ২৭০ মেট্রিক টন চাল ও আটা পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে রোহিঙ্গা পরিস্থিতি নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়। সংবাদ সম্মেলনে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, সচিব শাহ কামাল, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক রিয়াজ আহমেদ ছাড়াও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা  উপস্থিত ছিলেন। মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বলেন, গত ২৫ আগস্ট থেকে ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশে আসা ৪ লাখ ২৪ হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থীকে বর্তমানে ১৪টি ক্যাম্পে রাখা হয়েছে। তাদের মধ্যে ৫ হাজার ৫৭৫ জনের বায়োমেট্রিক নিবন্ধন ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য দেশি-বিদেশি বিভিন্ন সংস্থার প্রতিশ্রুত সহায়তা থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ২৫০ মেট্রিক টন চাল এবং ২০ টন আটা সরকারের হাতে এসেছে। এছাড়া বাংলাদেশ সরকারের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় ৫০০ মেট্রিক টন জিআর চাল ও নগদ ৩০ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।  রোহিঙ্গারা মিয়ানমারে ফিরে না যাওয়া পর্যন্ত সরকার সব ধরনের সাহায্য-সহযোগিতা করবে জানিয়ে মায়া বলেন, ইউএনএইচসিআর খাদ্য, চিকিৎসা, আশ্রয়সহ সার্বিক সব ধরনের সহায়তার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। ডব্লিউএফপি আগামী চার মাস চার লাখ পরিবারের খাবার সরবরাহের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। ডব্লিউএফপি ইতোমধ্যে উখিয়ার ১৪টি স্থানে ত্রাণ সামগ্রী সংরক্ষণের জন্য গুদাম নির্মাণের কাজ শুরু করেছে। সেখানে তাদের ৩৬টি মেডিকেল টিম কাজ করছে। আর বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ক্যাম্পগুলোতে প্রতিদিন ১৪ হাজার ইউনিট খাবার পানি সরবারহ করছে। এছাড়া ১০০টি টিউবওয়েল স্থাপন ও ৫০০টি অস্থায়ী টয়লেট নির্মাণ করে দেওয়া হয়েছে। এলজিইডির সঙ্গে সমন্বয় করে নতুন রাস্তা নির্মাণ করা হচ্ছে জানিয়ে মায়া বলেন, চট্টগ্রাম থেকে ত্রাণ সামগ্রী গ্রহণ করে কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের কাছে পৌঁছে দিতে সেনাবাহিনী কাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাসহ ত্রাণ বিতরণ সুষ্ঠু করতে পুলিশ ও বিজিবি সহায়তা দিচ্ছে জানিয়ে ত্রাণমন্ত্রী বলেন, ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের তত্বাবধানে ৮ ঘণ্টায় ৬৪ হাজার লিটার খাবার পানি সরবারহ করতে পারে এমন চারটি মোবাইল ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট কাজ শুরু করেছে। বিচ্ছিন্নভাবে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ৪ লাখের অধিক মানুষকে খাদ্য, চিকিৎসা, নিরাপত্তাসহ প্রয়োজনীয় মানবিক সহায়তা দেওয়ার লক্ষ্যে একটি স্থানে অস্থায়ী বাসস্থানের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানান মায়া। কুতুপালং এলাকায় প্রায় দুই হাজার একর জায়গায় ১৪টি শেড নির্মাণের কাজ চলছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ত্রাণ বিতরণ সুষ্ঠু করতে ১৩টি স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে এবং বিক্ষিপ্তভবে কেউ যাতে ত্রাণ বিতরণ না করে তার জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মায়া বলেন, রোহিঙ্গাদের বিষয়টি আমরা মানবিক দৃষ্টিকোন থেকে বিবেচনা করছি। এত বিপুল সংখ্যক বিদেশি নাগরিকদের আশ্রয়দান বাংলাদেশের জন্য কষ্টদায়ক হলেও এ মানবিক সংকটের সময়ে সাময়িক সময়ের জন্য সীমান্তবর্তী কুতুপালয় ক্যাম্পের পাশে নতুন ক্যাম্পে আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। তাদের জন্য বাংলাদেশের পক্ষে সম্ভব সব ধরনের মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, তুরস্ক, আজারবাইজান, ইরান, ইন্দোনেশিয়া, ভারত, মালয়েশিয়া, মালদ্বীপসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ রোহিঙ্গাদের সমর্থন দিয়েছে বলেও জানান দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী। তিনি বলেন, বাংলাদেশ আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গারা প্রতিনিয়ত স্থান পরিবর্তন করায় এবং বিচ্ছিন্নভাবে বিভিন্ন জায়গায় অবস্থান করায় প্রকৃত সংখ্যা কম-বেশি হতে পারে। ৩৩ হাজার ৫৪২ জন নিবন্ধিত শরণার্থী উখিয়ার কুতুপালং ও টেকনাফের নয়াপাড়া ক্যাম্পে বাস করছে। আরকে/ডব্লিউএন

ডিসেম্বরের মধ্যে ফোর জি সেবা : তারানা

চতুর্থ প্রজন্মের মোবাইল সেবা ফোর জি সেবা চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে চালু করা হবে বলে জানিয়েছেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম। বুধবার সচিবালয়ে ফোর জি সেবা নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান। তারানা হালিম বলেন, নভেম্বরের শেষের দিকে আমরা (ফোর জি তরঙ্গ) নিলাম সম্পন্ন করব এবং ডিসেম্বরের মধ্যে ফোর জি সুবিধা জনগণকে প্রদান করতে সক্ষম হব। এটাই আমাদের টার্গেট। এটাকে আমরা টার্গেট বলছি এ কারণে যে, এর মধ্যে কিছু ইকুইপমেন্ট আমদানির বিষয় আছে। যার উপর আমাদের হাত নেই। আমরা আনুষঙ্গিক কাজ সম্পন্ন করব ডিসেম্বরের মধ্যে। তিনি জানান, ২১০০ মেগাহার্টজে পাঁচটি, ১৮০০ মেগাহার্টজে চারটি ও ৯০০ মেগাহার্টজে দুটো ব্লকে নিলাম হবে। ফোর জি নিলামের মাধ্যমে সরকারের কমপক্ষে ১১ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হবে। তারানা হালিম বলেন, সকল অপারেটর ফোর জির জন্য প্রস্তুত। আমরা (ফোর জি) ট্রায়াল রান করেছি। ফোর জির বিষয়ে সকলেই উৎসাহী। অপারেটররা গত ৬/৭ মাস ধরে যত ইকুইপন্ট এনেছেন ফোর জি ইকুইপমেন্ট আমদানি করেছেন। থ্রি জি’র চেয়ের ফোর জি’র দিকেই বেশি দৃষ্টি দিচ্ছেন। তরঙ্গ নিলাম গাইডলাইন, সেই সঙ্গে ফোর জি লাইসেন্সিং গাইডলাইন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অনুমোদন দিয়েছেন জানিয়ে তারানা হালিম বলেন, সরকারের এই অনুমোদনের পর গাইডলাইন অনুযায়ী ২১০০ মেগাহার্টজ, ১৮০০ মেগাহার্টজ এবং ৯০০ মেগাহার্টজ তরঙ্গ নিলাম হবে। এই নিলামকে যে অপারেটররা আছেন তারা অংশ নিতে পারবেন এবং প্রাক মূল্যায়নে উত্তীর্ণ নতুন প্রতিষ্ঠান ২১০০ মেগাহার্টজ তরঙ্গ নিলামে অংশ নিতে পারবেন। উক্ত ব্যান্ডে বিজয়ী হলে পরবর্তী সময়ে তারা ১৮০০ ও ৯০০ মেগাহার্টজের তরঙ্গ নিলামে অংশ নিতে পারবেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, নতুন গাইডলাইনে কিছু নতুনত্বও রয়েছে। এর ইউনিক ফিচারটি হচ্ছে তরঙ্গ নিলামের মাধ্যমে বরাদ্দ করা সব তরঙ্গ টেকনোলজি নিউট্রাল হবে, অর্থাৎ ওই তরঙ্গে টু-জি, থ্রি-জি এবং ফোর-জি এলটি সেবা দেয়ার জন্য ব্যবহার করা যাবে। তিনি বলেন, ৯০০ মেগাহার্জের স্পেকট্রামের ক্ষেত্রে বর্তমান স্পেকট্রাম থেকে টেকনোলজি নিউট্রালিটি স্পেকট্রাম কনভার্সনের জন্য প্রতি মেগাহার্টজের ফি ১০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার থেকে কমিয়ে ৭ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলার করা হয়েছে। এ ছাড়া আরও কিছু পরিবর্তন করেছি, যেগুলো অনুমোদন হয়েছে। আবেদন করার যোগ্যতার ক্ষেত্রে অপারেটরদের বিদেশি অংশীদারকে বাংলাদেশ থেকে কোনো ঋণ না নিয়ে বৈদেশিক বিনিয়োগের বিধানটি বাদ দিয়েছি, তারা বাংলাদেশের যেকোনো ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে পারবেন।’ লাইসেন্স অ্যাকুইজেশন ফি ১৫ কোটি টাকা থেকে কমিয়ে ১০ কোটি টাকা করা হয়েছে। বার্ষিক লাইসেন্স ফি ৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা থেকে কমিয়ে ৫ কোটি টাকা করা হয়েছে। গ্রস রেভিনিউ শেয়ারিং ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ দশমিত ৫ শতাংশ করা হয়েছে বলেও জানান টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী। সংবাদ সম্মেলনে ডাক ও টেলিযোগাযোগ সচিব শ্যাম সুন্দর সিকদার উপস্থিত ছিলেন। ডব্লিউএন

বিমানবন্দরে শিশুকেই সালাম দিলেন প্রধানমন্ত্রী (ভিডিও)

শিশুদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হৃদ্যতা এবং আন্তরিকতা অন্য সবার থেকে যেন আলাদা। শিশুদের কাছে পেলে তিনিও যেন শিশু হয়ে যান। তাইতো এক শিশুর সালামের জবাবে তাকেও সালাম দিলেন ‘মাদার অব হিউম্যানিটি’ শেখ হাসিনা। জাতিসংঘের ৭২তম সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি বিমানবন্দর নামার পর অনেকেই প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান। এ সময় এক শিশু উচ্চস্বরে প্রধানমন্ত্রীকে সালাম দেয়। জবাবে প্রধানমন্ত্রীও তাকে সালাম দেন এবং বলেন, কেমন আছো তুমি, ভালো আছো? রোববার নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি বিমানবন্দরে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর আগে গত ১২ সেপ্টেম্বর কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গা শরণার্থীদের দুর্দশা দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নির্যাতিত এক শিশুকে দেখে তাকে অশ্রুসজল নয়নে বুকে জড়িয়ে ধরেন তিনি। গত বছর নভেম্বরে জলবায়ু সম্মেলন থেকে ফিরে গণভবনে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, দলীয় নেতৃবৃন্দ ও সাংবাদিকদের সামনে এসেছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেখানে আলোচনার এক পর্যায়ে তাঁর কাছে চলে আসেন তাঁর দৌহিত্ররা। এ পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমার সৈন্য বাহিনী এসে পড়েছে। আর থাকা যাবে না। ডব্লিউএন

ঢাকায় নভেম্বরে সিপিএ সম্মেলন

এ বছর ৬৩তম কমনওয়েলথ পার্লামেন্টারি অ্যাসোসিয়েশনের (সিপিএ) সম্মেলন ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে। আগামী ১ থেকে ৮ নভেম্বর অনুষ্ঠেয় এই সম্মেলনে রোহিঙ্গা সঙ্কট নিয়েও আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা। জঙ্গি হামলার প্রেক্ষাপটে গতবছর ঢাকায় সিপিএ সম্মেলন বাতিল করা হয়। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও সিপিসি’র ভাইস প্যাট্রন শেখ হাসিনা আগামী ৫ নভেম্বর জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় এ সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। সিপিএ চেয়ারপার্সন বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী মঙ্গলবার সংসদ ভবনের মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এই সম্মেলনের বিষয়ে বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরেন। সিপিএ’র ৬২তম সম্মেলন গতবছর সেপ্টেম্বরে ঢাকায় হওয়ার কথা থাকলেও জুলাই মাসে হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলার কারণে তা বাতিল করা হয়। এরপার চলতি বছর এপ্রিলে ঢাকায় ইন্টার পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের (আইপিইউ) সম্মেলন হয়। শিরীন শারমিন চৌধুরী সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “কমনওয়েলথভুক্ত ৫২টি দেশের ১৮০টি জাতীয় ও প্রাদেশিক সংসদের স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার, সংসদ সদস্যসহ ছয় শতাধিক প্রতিনিধি এ সম্মেলনে অংশ নেবেন।” এবারের সম্মেলনের মূল প্রতিপাদ্য হল- ‘কনটিনিউনিং টু এনহ্যান্স দ্য হাই স্ট্যান্ডার্ড অব পারফরমেন্স অব পার্লামেন্টারিয়ানস’। সংসদের ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী মিয়ার নেতৃত্বে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দল এই সম্মেলনে অংশ নেবেন। ডব্লিউএন

© ২০১৭ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি