ঢাকা, শুক্রবার, ১৭ আগস্ট, ২০১৮ ২১:৫৩:৪১

মুক্তিযোদ্ধা কোটা নিয়ে মতামত দেবেন অ্যাটর্নি জেনারেল

মুক্তিযোদ্ধা কোটা নিয়ে মতামত দেবেন অ্যাটর্নি জেনারেল

সরকারি চাকরিতে বিদ্যমান মুক্তিযোদ্ধা কোট নিয়ে মতামত দেবেন রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। আজ শুক্রবার (১৭ আগস্ট) অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন। আগামী সোমবারের (২০ আগস্ট) মধ্যে এই মতামত দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। মাহবুবে আলম বলেন,‘আমি দুই-তিন দিন আগে চিঠি পেয়েছি। চিঠিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটা নিয়ে আমার মতামত চাওয়া হয়েছে। আগামী সোমবারের মধ্যে আমার মতামত দেবো। প্রসঙ্গত, সরকারি চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটা ৩০ শতাংশ রাখার বাধ্যবাধকতা নিয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমের কাছে মতামত জানতে চেয়েছে সরকার গঠিত কোটা সংক্রান্ত কমিটি। এরই পরিপ্রেক্ষিতে মক্তিযোদ্ধা কোটার বিষয়ে তিনি তার মতামত দেবেন। গত ১২ আগস্ট মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম জানান, সরকারি চাকরিতে মেধাকে প্রাধান্য দিয়ে কোটা প্রথা যতটা সম্ভব তুলে দেওয়ার সুপারিশ করছে এ সংক্রান্ত কমিটি। তবে ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটার ব্যাপারে আদালতের রায় থাকায় এ ব্যাপারে সুপ্রিম কোর্টের মতামত চাইবে সরকার। মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘আমরা মাসখানেক কাজ করলাম। সুপারিশ প্রায় চূড়ান্ত। আমাদের কমিটির সুপারিশ হলো— কোটা অলমোস্ট উঠিয়ে দেওয়া, মেধাকে প্রাধান্য দেওয়া। তবে সুপ্রিম কোর্টের একটা রায় আছে, মুক্তিযোদ্ধাদের কোটা প্রতিপালন ও সংরক্ষণ করতে হবে এবং যদি খালি থাকে তা খালি রাখতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘এ কারণে মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের জন্য বর্তমানে থাকা ৩০ শতাংশ কোটার বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের কাছে মতামত চাইবে সরকার। মুক্তিযোদ্ধাদের কোটা সংরক্ষণ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ কমিটি পুরোপুরি বুঝতে না পারার কারণেই এ বিষয়ে আদালতের মতামত চাওয়া হবে। যদি কোর্ট এটাকেও বাদ দিয়ে দেয়— তাহলে কোটা থাকবে না। আর কোর্ট যদি বলে ওই অংশটুকু সংরক্ষিত রাখতে হবে, তাহলে ওই অংশটুকু (মুক্তিযোদ্ধা কোটা) বাদ দিয়ে বাকি সব উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।’ অর্থাৎ আদালত যে মতামত দেয় সেটাই প্রাধান্য পাবে বলেও তিনি জানান। উল্লেখ্য, কোটা ব্যবস্থার সংস্কারের দাবিতে কয়েক মাস ধরে আন্দোলন করেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এ নিয়ে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সড়ক অবরোধ, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ এবং আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের গ্রেফতারের ঘটনাও ঘটে। টিআর/
ট্রেন যাত্রীদের সর্বোচ্চ সেবা দেওয়াই আমাদের লক্ষ: রেলমন্ত্রী  

ঈদের সময় বছরের অন্য সময়ের তুলনায় যাত্রীর চাপ অনেক বেড়ে যায়। চারগুণ বেশি যাত্রী চলাচল করে এ সময়। তারপরও আমাদের সীমিত সম্পদ দিয়ে আমরা সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি বলে জানান রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক।    আজ শুক্রবার বিকেলে কমলাপুর রেলস্টেশনে ঈদ যাত্রার সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে তিনি এ কথা বলেন। মুজিবুল হক বলেন, রেলের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনকারী সব কর্মকর্তার ছুটি বাতিল করা হয়েছে। এর একটাই লক্ষ নির্বিঘ্ন যাত্রা ও নিরাপদ যাত্রী সেবা দেওয়া। রেলমন্ত্রী বলেন, সবসময় আমাদের তদারকির পরও যদি কোনো সমস্যা দেখা দেয় বুঝতে হবে যান্ত্রিক গোলযোগের কারণে হয়েছে। এখানে কর্তৃপক্ষের কারণে কোনো সমস্যা হয়নি। তিনি জানান, ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে স্টেশনে র‌্যাব, পুলিশ, রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদের পাশাপাশি আনসার বাহিনীর লোকজনও কাজ করে যাচ্ছেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন রেল সচিব মোফাজ্জল হোসেন, রেলের মহাপরিচালক আমজাদ হোসেন, কমলাপুর স্টেশন ম্যানেজার সিতাংশু চক্রবর্তী প্রমুখ।    এমএইচ/এসি      

এবার হজ পালন করবেন ১ লাখ ২৬ হাজার বাংলাদেশি

চলতি বছর ২০১৮ সালে ১ লাখ ২৬ বাংলাদেশি হজ পালন করবেন বলে সৌদি আরব গণমাধ্যম আরব নিউজ এ তথ্য প্রকাশ করছেন। একইসঙ্গে ইতোমধ্যে বাংলাদেশ থেকে ১ লাখ ২৫ হাজার হজযাত্রী সৌদি আরব পৌঁছে গেছেন। আজ শুক্রবার সকালে শেষ হজযাত্রীদের নিয়ে শেষ ফ্লাইটটিও সৌদি আরবের উদ্দেশে রওনা দেওয়ার কথা রয়েছে। আরব নিউজে বলা হয়েছে, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ও সৌদি অ্যারাবিয়ান এয়ারলাইন্সে হজের জন্য বিশেষ ফ্লাইটে হজযাত্রীরা পবিত্র শহর মক্কায় পৌঁছেছেন। শুক্রবার সর্বশেষ ফ্লাইটে উভয় কোম্পানি ১ হাজার ৪০০ হজযাত্রীকে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সৌদি আরবের উদ্দেশ্যে রওনা দেবে। এরপর আগামী ২৭ আগস্ট পর্যন্ত হজের বিশেষ এই ফ্লাইট বন্ধ থাকবে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সরকার সৌদি আরবের সঙ্গে বিশেষ উদ্যোগ নিয়ে হজযাত্রীদের সফরসূচি চূড়ান্ত করেছে। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের হজ অফিস ঢাকার পরিচালক সাইফুল ইসলাম বলেন, আমাদের ধর্ম মন্ত্রণালয় হজযাত্রীদের কল্যাণ নিয়ে সব সময় চিন্তা-ভাবনা করে। সৌদি আরবের বাংলাদেশ মিশনসহ প্রায় ২৫০ জন বাংলাদেশি কর্মকর্তা হজ পালনের সময় গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে মোতায়েন থাকবেন। পরিচালক জানান, ধর্ম মন্ত্রণালয়ের বেশিরভাগ কর্মকর্তা ইতোমধ্যেই সৌদি আরব গিয়েছেন বাংলাদেশি হজযাত্রীদের সহযোগিতা ও জরুরি সেবা দেওয়ার জন্য। তিনি বলেন, জেদ্দাহ, মক্কা ও মদিনাতে তিনটি মেডিক্যাল স্থাপন করা হয়েছে। এসব ক্যাম্পে ৩০ জন চিকিৎসক ও নার্স হজযাত্রীদের চিকিৎসাসেবা দেবেন। একেবারে জরুরি অবস্থার ক্ষেত্রে স্থানীয় হাসপাতালে হজযাত্রীদের পাঠানোর ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হয়েছে। হজ এজেন্সিস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (হাব) মহাসচিব এম. শাহাদাত হোসেন তাসলিম বলেন, এই বছর এখন পর্যন্ত সবকিছু নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং ভালোভাবে চলছে। মক্কা থেকে তিনি আরব নিউজকে জানান, এই বছর হজ ব্যবস্থাপনাকে উন্নত করার জন্য সৌদি আরবের হজ মন্ত্রণালয়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি বলেন, গত বছর হজ পালনে বাংলাদেশি হজযাত্রীদের সমস্যায় পড়তে হয়েছিল। বিশেষ করে পরিবহনের অভাবে মিনা, আরাফাত ও মুজদালিফা গমন কঠিন হয়ে পড়েছিল। কিন্তু এবছর এই সমস্যাটি সমাধান করা হয়েছে সময়ের আগেই এবং এখন পর্যন্ত এটা নিয়ে কোনও সমস্যা হয়নি। শাহাদাত হোসেন জানান, বাংলাদেশি হজযাত্রীরা ভালো অবস্থায় রয়েছেন। টিআর/

পিতার ভবনে অমৃতসদনে

বাঙালির অনেক ইতিহাস জড়িয়ে আছে একটি ঐতিহাসিক বাড়ির সঙ্গে। জড়িয়ে আছে হাজারো সংগ্রামের ইতিহাস। একটি জাতির মুক্তির ইতিহাস। একটি দেশের জন্মের ইতিহাস। ’৬০ এর দশক থেকে সেই ছোট্ট বাড়িটি সাহস, দৃঢ়তা আর বিদ্রোহের প্রতীক হয়ে আছে বাংলার মানুষের কাছে। ধানমন্ডির লেকের ধারে ৩২ নম্বর সড়কে ৬৭৭ নম্বরধারী সেই বাড়িটি বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের। বঙ্গবন্ধুকে জানতে হলে দেশের সব নাগরিককে একবারের জন্য হলেও এই ‘পিতার ভবনে অমৃতসদনে’ আসতে হবে। ১৯৬২ সালের সামরিক স্বৈরশাসক আইয়ুববিরোধী ছাত্র আন্দোলন, বাংলার মুক্তিসনদ ’৬৬ সালের ছয় দফা আন্দোলন, আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলাবিরোধী ’৬৯ এর গণ-অভ্যুত্থান, ’৭০ সালের সাধারণ নির্বাচন, ’৭১ সালের শুরুতে অসহযোগ আন্দোলনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বঙ্গবন্ধু নেতা-কর্মীদের সঙ্গে প্রেরণার বাতিঘর হয়ে মতবিনিময় করেছেন এই বাড়িতে বসেই। ৭ মার্চের সেই কালজয়ী ভাষণের রূপরেখাও তিনি তার মানসমুকুরে সাজিয়ে নিয়েছিলেন এ বাড়ির কনফারেন্স টেবিলে বসে। ২৩ মার্চ ১৯৭১ -এ পাকিস্তানের প্রজাতন্ত্র দিবসের দিনটিতেই বিক্ষুব্ধ তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে প্রথম স্বাধীন বাংলার পতাকা উত্তোলন করা হয় এখানেই। যা, সঙ্গে সঙ্গেই ছড়িয়ে যায় সারা বাংলায়। স্বাধীনতোত্তর দিনগুলোতে স্বাধীন দেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবেও এ বাড়ি থেকেই বঙ্গবন্ধু তার রাষ্ট্রীয় কাজকর্ম পরিচালনা করতেন।  ৩২ নম্বরের এই বাড়িটিতে তখনও দেশের সাধারণ মানুষের জন্য ছিল অবারিত দ্বার। আবার এ বাড়িতেই নেমে আসে শোকাবহ রাত ১৫ আগস্ট। ১৯৭৫ এর এই রাতে সপরিবারে হত্যা করা হয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। বাড়িটির এ সমস্ত প্রেরণাদায়ক ঐতিহ্যের কথা ইতিহাসের পাতা থেকে মুছে ফেলার উদ্দেশ্যে পরবর্তীকালে এ বাড়ির নম্বরও পরিবর্তন করে দেওয়া হয়। এই কু-উদ্দেশ্যেই একে বলা হতো, ধানমন্ডি ১১ নম্বর সড়কের ১০ নম্বর বাড়ি। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষের মন থেকে বঙ্গবন্ধুকে মুছে ফেলা যে এতো সহজ নয়, তা জানতো না খুনীরা। তাই, আজও ৩২ নম্বর বলতে মানুষ বঙ্গবন্ধুর বাড়িকেই বোঝে। ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভার কৃষি ও বনমন্ত্রী হন বঙ্গবন্ধু। তবে, সে সরকার বেশিদিন স্থায়ী হয় নি। অতঃপর ১৯৫৬ সালের কোয়ালিশন সরকারের মন্ত্রিসভায় শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান তিনি। তবে তখনও ঢাকায় বঙ্গবন্ধু পরিবারের মাথা গোঁজার নিজস্ব কোনও ঠাঁই ছিল না। তিনি সপরিবারে থাকতেন আবদুল গণি রোডের ১৫ নম্বর বাড়িতে। এসময় পিডবিস্নউডি থেকে বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার মানুষকে প্লট বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছিল। একদিন বঙ্গবন্ধুর পিএস নুরুজ্জামান পিডবিস্নউডি থেকে একটি আবেদনপত্র এনে দেন বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিবকে। সেটি জমা দেয়া হলে ১৯৫৭ সালে বেগম মুজিবের নামে ছয় হাজার টাকা মূল্যের এক বিঘার একটি প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রথমে দুই হাজার টাকা এবং পরে কিস্তিতে বাকি চার হাজার টাকা পরিশোধ করা হয়। ওই বছরই শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। নিবেদিত প্রাণ শেখ মুজিব দলকে সময় দেবেন বলে ছেড়ে দেন মন্ত্রিত্ব। ১৯৫৮ সালে টি বোর্ডের চেয়ারম্যান থাকা অবস্থায় সেগুনবাগিচায় একটি বাসা বরাদ্দ দেওয়া হয় বঙ্গবন্ধুর নামে। সে বছরই আইয়ুব খান মার্শাল ল জারি করলে গ্রেফতার করা হয় বঙ্গবন্ধুকে। ১২ অক্টোবর সেগুনবাগিচার বাড়িটি তিন দিনের মধ্যে ছেড়ে দিতে নির্দেশ দেওয়া হয় বঙ্গবন্ধুর পরিবারকে। সিদ্ধেশ্বরী বয়েজ স্কুল মাঠের পাশে মাসিক ২০০ টাকা ভাড়ায় একটি বাড়িতে এসে ওঠেন বেগম মুজিব। কিন্তু কিছুদিনের মধ্যেই শেখ মুজিবের পরিবার যে এই বাড়িতে থাকেন, তা জানাজানি হয়ে গেলে বাড়ির মালিক বেগম মুজিবকে বাড়ি ছেড়ে দিতে বলেন। সন্তানদের নিয়ে আবার তিনি এসে ওঠেন সেগুনবাগিচার একটি বাসার দোতলায়। পরবর্তী ২ বছর এখানেই তারা ছিলেন। ১৯৬০ সালের ১ অক্টোবর বঙ্গবন্ধু জেল থেকে মুক্তি পান। চাকরি নেন আলফা ইন্সুরেন্স কোম্পানির কন্ট্রোলার অব এজেন্সিস পদে। বেতন ৩ হাজার টাকা। বেতনের সেই টাকার উপর নির্ভর করে পিডবিস্নউডির বরাদ্দ দেওয়া সেই প্লটে ১৯৬১ সালে বাড়ি নির্মাণের কাজ শুরু হয়। বিভিন্ন জনের কাছ থেকে ধারকর্জ করে, বন্ধুবান্ধবদের সহায়তায় এবং হাউস বিল্ডিং ফাইনান্স করপোরেশন থেকে ঋণ নিয়ে ঢাকার বুকে ধীরে ধীরে তৈরি হতে থাকে বঙ্গবন্ধুর নিজস্ব ঠিকানা। নির্মাণ কাজ তদারকি করেছিলেন তৎকালীন পিডবিস্নউডির নির্বাহী প্রকৌশলী ও পরবর্তীকালে পূর্তসচিব মাইনুল ইসলাম। নির্মাণ কাজে নানাভাবে আর্থিক সহযোগিতা করেছিলেন বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক ও দাফতরিক সহকর্মীরা। সবচেয়ে বেশি সহযোগিতা করেছিলেন বঙ্গবন্ধুর একনিষ্ঠ সহকর্মী চাঁদপুরের হাজীগঞ্জের নূরুল ইসলাম। আলফা ইন্সুরেন্স কোম্পানির একজন কর্মকর্তা হিসেবে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে ছিল তার আত্মিক এবং পারিবারিক সম্পর্ক। নূরুল ইসলাম ‘ক্রস ওয়ার্ড’ লটারি খেলতেন। একদিন লটারীতে ব্যবহার করেছিলেন শেখ রেহানার নাম। সেইদিনই তিনি পেয়ে যান ছয় হাজার টাকা। সেই টাকা তিনি গচ্ছিত রাখেন বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের কাছে। বাড়ির নির্মাণ কাজে টাকার সংকট দেখা দিলে নূরুল ইসলাম এই গচ্ছিত টাকা কাজে লাগানোর অনুরোধ করেন। সেই টাকা ঋণ হিসাবে গ্রহণ করে পরবর্তীতে তা পরিশোধও করেন বঙ্গবন্ধু। বাড়ির জানালার গ্রিল সরবরাহ করেছিলেন তৎকালীন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নেতা রংপুরের মতিউর রহমান। বাড়ি নির্মাণকালে কেয়ারটেকার ছিলেন গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ার আরজ আলী। কোনোমতে নির্মাণকাজ শেষ করে ১৯৬১ সালের ১ অক্টোবর সপরিবারে বঙ্গবন্ধু এই বাড়িতে উঠে আসেন। বাড়িতে ঢুকতেই ছিল একটি ছোট রুম, যা ড্রয়িংরুম হিসাবে ব্যবহার করা হতো। আসবাব বলতে ছিল একসেট বেতের সোফা মাত্র। একতলা বাড়িটিতে তখন ছিল দুটি বেডরুম। যার একটিতে থাকতেন বঙ্গবন্ধু ও বেগম মুজিব। অন্যটিতে শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা। তার পাশের কক্ষটি রান্নাঘর হিসেবে ব্যবহার করা হতো। রান্নাঘরের এক পাশে থাকতেন শেখ কামাল ও শেখ জামাল। বঙ্গবন্ধু ও তার সহধর্মিণী বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব ৩২ নম্বরের এ বাড়িটিকে তিলে তিলে গড়ে তুলেছিলেন। ১৯৬৬ সালের শুরুর দিকে দোতলার কাজ শেষ হয়। ১৯৯৪ সালে লেখা ‘শেখ মুজিব আমার পিতা’ বইতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তুলে ধরেছেন ৩২ নম্বরের বাড়িতে তাদের বসবাসের দিনগুলোর কথা : ‘১৯৬১ সালে এই বাড়িটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। কোনোমতে তিনটা কামরা করে এতে আমরা উঠি। এরপর মা একটা একটা কামরা বাড়াতে থাকেন। এভাবে ১৯৬৬ সালের শুরুর দিকে দোতলা শেষ হয়। আমরা দোতলায় উঠে যাই। ছয় দফা দেবার পর কাজকর্ম বেড়ে যায়। নিচতলাটা তখন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডেই ব্যতিব্যস্ত। নিচে আব্বার শোবার কামরাটা লাইব্রেরি করা হয়।’ বঙ্গবন্ধুর বাড়িতে যে টেলিফোনটি প্রথম সংযোগ দেয়া হয় সেটির নম্বর ছিল ২৫৬১। এই টেলিফোন নিয়ে একটি মজার গল্প আছে। আইয়ুব খানের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা প্রায়ই এ টেলিফোনটিতে আড়ি পাততো। তাই, শেখ ফজলুল হক মনি বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে কথা বলতে চাইলে নিজের নাম গোপন করে ‘বালিওয়ালা’ বলে নিজের পরিচয় দিতেন। আর সিরাজুল আলম খান নিজের পরিচয় দিতেন ‘ইটাওয়ালা’ বলে। ধানমন্ডি ৩২ নম্বর বাড়ির সঙ্গে জড়িয়ে আছে বাঙালির স্বপ্নভঙ্গের ইতিহাসও, আছে হারানোর বেদনা। স্বাধীন দেশে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট রাতের অন্ধকারে একদল বিশ্বাসঘাতক বিপথগামী সেনা অফিসারের হাতে ৩২ নম্বরের বাড়িতেই সপরিবারে নিহত হন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। সেদিন নরপিশাচরা রাতের অন্ধকারে হামলা চালায় স্বাধীনতার স্থপতির বাসভবনে। পৈশাচিক উল্লাসে বঙ্গবন্ধুকে নিষ্ঠুর নির্মমভাবে হত্যা করে তারা। সে রাতে বঙ্গবন্ধুর বাসভবনসহ তিনটি বাড়িতে সংঘটিত খুনীদের নারকীয় হত্যাযজ্ঞের বীভৎসতার হৃদয়স্পর্শী বর্ণনা দিয়েছিলেন সেনাবাহিনীর তৎকালীন মেজর আলাউদ্দিন আহমেদ পিএসসি : ‘কী বীভৎসতা! রক্ত, মগজ ও হাড়ের গুঁড়ো ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল বাড়িটির প্রতিটি তলার দেয়াল, জানালার কাঁচ, মেঝে ও ছাদে। রীতিমতো রক্তগঙ্গা বয়ে যায় বাড়িটিতে। গুলির আঘাতে দেয়ালগুলোও ঝাঁঝরা হয়ে গেছে। চারপাশে রক্তের সাগরের মধ্যে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল ঘরের জিনিসপত্র। প্রথম তলার সিঁড়ির মাঝখানে নিথর হয়ে পড়ে আছেন ঘাতকের বুলেটে ঝাঁঝরা হওয়া চেক লুঙ্গি ও সাদা পাঞ্জাবি পরা স্বাধীনতার মহানায়ক বঙ্গবন্ধু। তলপেট ও বুক ছিল বুলেটে ঝাঁঝরা। নিথর দেহের পাশেই পড়েছিলো তার ভাঙ্গা চশমা ও অতিপ্রিয় তামাকের পাইপটি। অভ্যর্থনা কক্ষে শেখ কামাল। টেলিফোন অপারেটর। মূল বেডরুমের সামনে বেগম মুজিব। বেডরুমে সুলতানা কামাল, শেখ জামাল, রোজী জামাল। নিচ তলার সিঁড়িসংলগ্ন বাথরুমে শেখ নাসের। এবং মূল বেডরুমে দুই ভাবীর ঠিক মাঝখানে বুলেটে ক্ষতবিক্ষত রক্তাক্ত অবস্থায় পড়েছিল ছোট্ট শিশু শেখ রাসেলের লাশ।’ সেদিন আরো হত্যা করা হয় বঙ্গবন্ধুর ভগ্নিপতি ও মন্ত্রী আবদুর রব সেরনিয়াবাত, তার ছেলে আরিফ, কন্যা বেবি সেরনিয়াবাত ও শিশুপৌত্র সুকান্ত বাবু, আবদুর রব সেরনিয়াবাতের ভাইয়ের ছেলে শহীদ সেরনিয়াবাত, বঙ্গবন্ধুর ভাগ্নে যুবনেতা শেখ ফজলুল হক মনি, তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী আরজু মনি, সেরনিয়াবাতের বাসায় থাকা আওয়ামী লীগ নেতা আবদুর নঈম খান রিন্টু, বঙ্গবন্ধুর জীবন বাঁচাতে ছুটে আসা রাষ্ট্রপতির ব্যক্তিগত নিরাপত্তা কর্মকর্তা কর্নেল জামিলসহ কয়েক নিরাপত্তা কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে।  এরপর বাড়িটি সিল করে দেয় তৎকালীন সরকার। হত্যাকণ্ডের সময় বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা পশ্চিম জার্মানিতে ছিলেন। পরে, তারা ভারত সরকারের কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করে ভারতে চলে আসেন। নির্বাসিত অবস্থায় দিল্লীতে বসবাস করতে থাকেন শেখ হাসিনা। ১৯৮১ সালে আওয়ামী লীগের সভানেত্রী নির্বাচিত হয়ে দেশে ফিরে এলে বাড়িটি ফিরে পান তিনি। এর বছর খানেক পর শেখ হাসিনা সংবাদপত্রে একটি নিলাম বিজ্ঞপ্তি দেখতে পান। হাউস বিল্ডিং ফাইনান্স করপোরেশনের সেই বিজ্ঞপ্তির তালিকায় ৩২ নম্বরের বাড়িটিও ছিল। বাড়ি নির্মাণে পাকিস্তান আমলে নেওয়া ১২ হাজার টাকা বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী থাকার সময়ও পরিশোধ করতে ব্যর্থ হয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু। ক্ষমতায় থেকেও এই অতি সাধারণ বাড়িটির কোনও ‘উন্নয়নও’ করার চেষ্টা করেননি বঙ্গবন্ধু। ঋণ বকেয়া থাকায় নিলামে ওঠে বাড়িটি। ১২ হাজার টাকা বকেয়া পরিশোধের পর বাড়িটির দখল বুঝিয়ে দেওয়া হয় শেখ হাসিনাকে। জাদুঘরে রূপান্তরের জন্য বাড়িটি বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল ট্রাস্টের কাছে হস্তান্তর করেন তিনি। ১৯৯৪ সালের ১৪ আগস্ট উদ্বোধন করা হয় জাদুঘরটি। নাম দেওয়া হয়- ‘জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্মৃতি জাদুঘর।’ ‘শেখ মুজিব আমার পিতা’ বইতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা লিখেছেন: ‘মিউজিয়াম করতে গেলে অনেক পরিবর্তন করতে হয়। সে পরিবর্তন কমিটি করাচ্ছে। আমি প্রায়ই যাই দেখতে। দেয়ালগুলোতে যখন পেরেক ঠোকে, জিনিসপত্রগুলো যখন সরিয়ে ফেলে, বুকে বড় বাজে, কষ্ট হয়, দুঃখ হয়। মনে হয় ওই পেরেক যেন আমার বুকের মধ্যে ঢুকছে। মাঝে-মাঝেই যাচ্ছি, ঘুরে দেখে আসছি যতই কষ্ট হোক। এই কষ্টের মধ্যে, ব্যথা-বেদনার মধ্যে একটা আনন্দ আছে। সে আনন্দ হলো, আমরা জনগণকে তাদের প্রিয় নেতার বাড়িটি দান করতে পারছি। জনগণের সম্পত্তি হবে ৩২ নম্বর সড়কের বাড়িটি। এটাই আমাদের বড় প্রাপ্তি। আমরা তো চিরদিন থাকবো না কিন্তু এই ঐতিহাসিক বাড়িটি জনগণের সম্পদ হিসেবে সব স্মৃতির ভার নিয়ে ইতিহাসের নীরব সাক্ষী হয়ে থাকবে।’ জাদুঘরটা সাদামাটা। তিন তলা ভবন মাত্র। নয় কক্ষবিশিষ্ট এ ভবনের আসবাব পত্রও একদমই সাধারণ মানের। ভবনে ঢুকতেই চোখে পড়ে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি। প্রথম তলায় আরও রয়েছে, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টে নিহত সবার ছবি এবং কিছু আসবাবপত্র। এই ঘরটি আগে ছিল ড্রইং রুম। এই ঘরে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে দেখা করতে এসেছেন দেশ-বিদেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা। এর পাশের ঘরটি ছিল শেখ মুজিবুর রহমানের পড়ার ঘর। এখানে তিনি লেখালেখির কাজও করতেন। ১৯৭১ সালে এই ঘর থেকেই স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠানো হয়েছিল সারাদেশে। দোতলায় বঙ্গবন্ধুর শয়নকক্ষ। এ ঘরের সামনে করিডর থেকে নিচে যাওয়ার সিঁড়িতেই ঘাতকদের গুলিতে মারা যান জাতির পিতা। এখনও গুলির চিহ্ন সেখানে রয়ে গেছে। আর রয়েছে, শিল্পীর তুলিতে আঁকা বঙ্গবন্ধুর গুলিবিদ্ধ অবস্থার একটি প্রতিকৃতি। বঙ্গবন্ধুর শয়নকক্ষে তার বিছানার পাশেই ছোট টেবিলে সাজানো আছে তার প্রিয় পাইপটি, তামাকের কৌটা। রয়েছে টেলিফোন সেট ও রেডিও। সামনের খাবার ঘরের একপাশে আছে শিশু রাসেলের বাইসাইকেল। আছে খাবার টেবিল, থালা, বাটি। আছে রেকসিনের সোফা। শেখ জামালের কক্ষে দেখা যায় তার সামরিক পোশাক। বাড়ির তৃতীয় তলায় শেখ কামালের কক্ষে তার বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র সাজিয়ে রাখা আছে। এছাড়াও রয়েছে পুত্রবধূ সুলতানা কামালের বৌভাতের সবুজ বেনারসি শাড়ি, রোজী জামালের লাল ঢাকাই জামদানি, বিয়ের জুতা, ভাঙা কাচের চুড়ি, চুলের কাঁটা, শিশু রাসেলের রক্তমাখা জামা, বঙ্গবন্ধুর রক্তমাখা সাদা পাঞ্জাবি, তোয়ালে, লুঙ্গি, ডায়েরি। বাড়ির দেয়াল, দরজা, ছাদসহ বিভিন্ন জায়গায় ঘাতকের বুলেটের চিহ্ন ১৫ আগস্টের সেই অমানবিক বীভৎসতার কথা মনে করিয়ে দেয়। এসব ছিলো, তিনি যাদের ‘ভাই-য়েরা আমার’ বলে সম্বোধন করতেন এ দেশের সেই সমস্ত ভাইদের মধ্যকার একদল বিশ্বাসঘাতকদের। অপকীর্তির ইতিহাসের এই দেয়াল লিখন যুগ যুগ ধরে নিন্দিত হতে থাকবে। এই বাড়ির পেছনে রয়েছে জাদুঘরের স¤প্রসারিত নতুন ভবন। বঙ্গবন্ধুর বাবা-মায়ের নামে এ ভবনের নাম দেওয়া হয়েছে ‘শেখ লুৎফর রহমান ও শেখ সায়েরা খাতুন’ গ্যালারি। ২০১১ সালের ২০ আগস্ট এ অংশটি আনুষ্ঠানিকভাবে খুলে দেওয়া হয়। ছয় তলা এ ভবনের দ্বিতীয় থেকে চতুর্থ তলা পর্যন্ত বঙ্গবন্ধুর জীবনের বিভিন্ন সময়ের আলোকচিত্র রয়েছে। পঞ্চম তলায় রয়েছে পাঠাগার ও গবেষণা কেন্দ্র। বঙ্গবন্ধু ভবনের গেটের উল্টোদিকে একটি স্মৃতিস্তম্ভে খোদাই করে কীর্তিত হয়েছে সাহিত্যিক অন্নদাশঙ্কর রায়ের লেখা একটি অবিস্মরণীয় কবিতার বিশেষ অংশ। যেটা, আসলে কবির উপলব্ধির চিরন্তন সত্যকে ধারণ করেই হয়ে আছে। আজ অবধি মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী প্রতিটি বাঙালির মনের কথা। আর সর্বদা ধ্বনিত-প্রতিধ্বনিত হয়ে চলেছে স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাধারী বাংলাদেশের প্রত্যেকটি মানুষের অন্তরে অন্তরে : ‘যতকাল রবে পদ্মা, মেঘনা গৌরী, যমুনা বহমান ততকাল রবে কীর্তি তোমার শেখ মুজিবুর রহমান’ লেখক : সাংবাদিক, নিউজ রুম এডিটর, একুশে টিভি, ঢাকা।

বিএসএফের হাতে বাংলাদেশি রাখাল জখম

আবু তাহের নামে এক বাংলাদেশি রাখালকে কুপিয়ে আহত করেছে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনী বিএসএফ সদস্যরা। আহত ব্যক্তি শিবগঞ্জ উপজেলার পাকা ইউনিয়নের বাবুপুর চালকা পাড়ার আবদুল খালেকের ছেলে আবু তাহের। আহত তাহেরের পরিবার জানায়, চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার মনোহরপুর সীমান্ত পার হয়ে পদ্মা নদী দিয়ে বৃহস্পতিবার রাত ১০ টার দিকে গরু নিয়ে আসছিল তাহের। এ সময় নিমতিতা ক্যাম্পের বিএসএফ সদস্যরা তার দু পায়ে এলোপাথাড়ী কুপিয়ে ফেলে রেখে চলে যায়। বিষয়টি জানতে পেরে ৫৩ বিজিবির টহল টিমের সদস্য তাকে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে। পরে তাকে চিকিৎসার জন্য শিবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করে ৫৩ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্ণেল সাজ্জাদ সরোয়ার জানান, কিভাবে তাহের আহত হয়েছে সেটি নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। আরকে//

কোরবানীর পশু জবাইয়ে ২ হাজার ৯৩৬ টি স্থান নির্ধারিত    

কোরবানির পশু জবাইয়ের জন্য দেশের ১১টি সিটি কর্পোরেশন এলাকায় নির্দিষ্টভাবে মোট ২ হাজার ৯৩৬ টি স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে।  আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের সম্মেলন কক্ষে কোরবানীর পশু জবাই এবং দ্রুত বর্জ্য অপসারণকল্পে কর্মপরিকল্পনা ও প্রস্তুতি শীর্ষক এক পর্যালোচনা সংক্রান্ত সভায় এ তথ্য জানানো হয়। পবিত্র ঈদুল উল আজহা উপলক্ষে সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভাসহ সারাদেশে নির্দিষ্ট স্থানে কোরবানির পশু জবাই ও বর্জ্য অপসারণের লক্ষ্যে এ সভার আয়োজন করা হয়। এলজিআরডি মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন এ সভায় সভাপতিত্ব করেন। তিনি বলেন,‘নির্দিষ্ট স্থানে কোরবানীর পশু জবাইয়ের বিষয়টি শৃঙ্খলার মধ্যে আনতে আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করছি। আমাদের কিছু সীমাবদ্ধতা সত্বেও দেশের ১১টি সিটি কর্পোরেশন এলাকায় মোট ২ হাজার ৯৩৬ টি নির্দিষ্ট স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। পশু কোরবানীর জন্য এ সংখ্যা যথেষ্ট। তারপরেও অনেকে যদি সেই জায়গায় না আসে সেক্ষেত্রে আমি মেয়রদের অনুরোধ করবো আপনারা যথেষ্ট প্রচার-প্রচারণা চালান। যাতে করে মানুষ নির্দিষ্ট স্থানে পশু জবাই করতে আসে। নির্দিষ্ট স্থানে পশু জবাই করতে আসতেই হবে। আর কোন রকম খোলা স্থানে কোরবানী করাকে আমরা মোটেই উৎসাহিত করি না। অন্যান্যের মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মো. সাঈদ খোকন, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভিসহ দেশের সকল সিটি কর্পোরেশনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ এ সভায় উপস্থিত ছিলেন। মন্ত্রী বলেন, উন্মুক্ত স্থানে পশু কোরবানী না করার বিষয়ে কোন আইন নাই। খোলা স্থানে কোরবানী করলে শাস্তিরও কোন নিয়ম নাই। আর ধর্মীয় বিষয়ে এসব জোর জবরদস্তি করতে গেলে মানুষের মাঝে প্রতিক্রিয়া তৈরি হতে পারে।    তিনি বলেন, সিটি কর্পোরেশনের মাধ্যমে পাড়ায় পাড়ায় যথেষ্ট লোক নিয়োগ করে নির্দিষ্ট স্থানে পশু কোরবানী নিশ্চিত করতে হবে। খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, কাউন্সিলরদের মাধ্যমে পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। তিনি এ বিষয়ে উদ্যোগ গ্রহণ করতে সিটি কর্পোরেশনের মেয়রদের প্রতি আহ্বান জানান। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মো. সাঈদ খোকন বলেন, ‘নির্দিষ্ট স্থানে পশু কোরবানীর বিষয়ে আমাদের প্রস্তুতি চলমান রয়েছে। আমরা গতবছর নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দিয়েছিলাম। এ সময়ের মধ্যে কোরবানীর বর্জ্য পরিস্কার করতে হবে। সেটা আমরা করতে সক্ষম হয়েছিলাম। এবছরও আমরা সর্বোতভাবে প্রস্তুতি নিয়েছি। আমরা আমাদের শহরকে পরিস্কার রাখতে সক্ষম হবো।’ নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভি বলেন,‘মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে যে নির্দেশনা থাকে সেটা আমরা ফলো করার চেষ্টা করবো। প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে আমাদেরকে যে নির্দেশনা দেওয়া হয় আমরা সেই নির্দেশ মোতাবেক কাজ করে যাচ্ছি। আমরা নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনে পশু কোরবানীর জন্য ১৮৩ টি স্থান নির্ধারণ করেছি।’ তথ্যসূত্র: বাসস এমএইচ/এসি     

বাজপেয়ী বাংলাদেশের মহান বন্ধু ছিলেন    

ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ীর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে তাকে বাংলাদেশের একজন মহান বন্ধু হিসেবে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।   আজ বৃহস্পতিবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছে পাঠানো এক শোক বার্তায় শেখ হাসিনা বলেন, ‘অটল বিহারী বাজপেয়ী আমাদের একজন মহান বন্ধু এবং বাংলাদেশে তিনি খুবই শ্রদ্ধা ভাজন ছিলেন।’ তিনি বলেন, ‘ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ীর মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, সুশাসন এবং ভারতসহ এতদঞ্চলের সাধারণ মানুষের শান্তি ও সমৃদ্ধির ক্ষেত্রে অবদান রাখার জন্য অটল বিহারী বাজপেয়ী চিরকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।     শেখ হাসিনা বলেন, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধে অমূল্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ সরকার তাকে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ সম্মাননা প্রদান করে। আজ বাংলাদেশের সকলের জন্যও এটি একটি শোকের দিন। তিনি তার বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করেন। উল্লেখ্য, বিজেপি’র প্রবীণ রাজনীতিক অটল বিহারী বাজপেয়ী আজ বৃহস্পতিবার নয়াদিল্লীর অল-ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সাইন্সে (এআইআইএমএস) মারা যান। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯৩ বছর। সূত্র: বাসস    এমএইচ/এসি      

‘জঙ্গি, মাদক, সাইবার অপরাধের বিরুদ্ধে সোচ্চার হোন’   

জঙ্গি, মাদক, সাইবার অপরাধ ও মিথ্যাচারের বিরুদ্ধে গণমাধ্যমকে আরো সোচ্চার হতে হবে বলে জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু।  আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর পুরানা পল্টনে ‘সারাবাংলা ডট নেট’ অনলাইন সংবাদ পোর্টালের স্টুডিও উদ্বোধনে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন।    তিনি বলেন, ‘সামগ্রিকভাবে আমরা চারটি প্রধান চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। প্রথমত, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ মোকাবিলা করে রাজনৈতিক শান্তি প্রতিষ্ঠা; দ্বিতীয়ত, মাদকের বিস্তার রোধ করে সামাজিক শান্তি আনা; তৃতীয়ত, তথ্যপ্রযুক্তির অবাধ বিচরণ ক্ষেত্র বা সাইবার জগতের নিরাপত্তা বিধান এবং হলুদ সাংবাদিকতা ও মিথ্যাচারের হাত থেকে গণমাধ্যমকে রক্ষা।’ হাসানুল হক ইনু বলেন, গত সাড়ে ৯ বছরে এ সরকারকে প্রাতিষ্ঠানিক ও কাঠামোগত অনেক জঞ্জাল সরাতে হয়েছে। অনেক সংস্কার করতে হয়েছে। সেখানে গণমাধ্যমের অবাধ স্বাধীনতা একটি ঝুঁকিপূর্ণ কাজ। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেই ঝুঁকিপূর্ণ কাজটিই করেছেন। তিনি গণমাধ্যমকে উন্মুক্ত করে গণতন্ত্রের বিকাশকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছেন।’ তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান সরকার মুক্ত গণমাধ্যমের বিকাশে সর্বাত্মক সহযোগিতা করে আসছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সময়ে দেশের গণমাধ্যমের প্রসার ও বিকাশ ঘটেছে। এটি গণমাধ্যমের নতুন সদস্য। আশা করি বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার মাধ্যমে গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রাকে অব্যাহত রাখবে।’     শিশুদের সাম্প্রতিক নিরাপদ সড়ক আন্দোলন বিষয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এই আন্দোলনে শিশুরা যা করে দেখিয়েছে, আমি তাদের বলি সুপার হিরো। তারা যাপিত জীবনের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কানেও শোনেন, চোখেও দেখেন। তিনি বিএনপি সরকারের মতো নন। তিনি বিষয়টি দ্রুত বিবেচনায় এনে তাদের ৯-দফা দাবি মেনে নিয়েছেন।’ এ সময় গাজী গ্রুপের চেয়ারম্যান ও নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য গোলাম দাস্তগীর গাজী বীর প্রতীক, গাজী গ্রুপের পরিচালক ও দৈনিক সারাবাংলার প্রকাশক বদরুল আলম খান, সারাবাংলা ডটনেট ও জিটিভির প্রধান সম্পাদক সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা, সারাবাংলার নির্বাহী সম্পাদক মাহমুদ মেনন খানসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন। সূত্র: বাসস   এমএইচ/এসি       

বঙ্গবন্ধুর খুনিদের দেশে ফিরিয়ে আনতে চিঠি দেওয়া হবে : রিয়াজুল হক

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক বলেছেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পলাতক খুনিদের দেশে ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর কর্তৃপক্ষকে চিঠি পাঠাবে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। আজ বুধবার সকালে কমিশন কার্যালয়ে বঙ্গবন্ধুর ৪৩তম শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় কমিশন চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক এ কথা বলেন। তিনি বলেন,‘বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিচার নিশ্চিত করতে হবে। এর আগে সকালে ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে জাতির জনকের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানান কমিশনের চেয়ারম্যান, সদস্য ও কর্মচারীরা। পরে কমিশন কার্যালয়ে মিলাদ, দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে কাজী রিয়াজুল হক বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর জন্ম না হলে স্বাধীন বাংলাদেশের জন্ম হতো না,বাঙালি আজকের অবস্থানে আসতে পারতো না। বঙ্গবন্ধু তার রাজনৈতিক জীবনের অর্ধেক সময় কারাগারে কাটিয়েছেন কেবল এদেশের মানুষের ভাগ্য উন্নয়নের জন্য। অথচ একদল বিপথগামী সেনা সদস্যের চক্রান্তে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করা হয়। কাজী রিয়াজুল হক আরও বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু এবং তার পরিবারের প্রতিটি সদস্য স্বাধীনতার প্রশ্নে কোনও আপস করেননি। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার জন্য কীভাবে আমরা দারিদ্র্যমুক্ত, ক্ষুধামুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠিত করতে পারি, তার জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা চালাতে হবে। তার খুনিদের বিচার নিশ্চিত করতে হবে। এজন্য বিদেশে পলাতক খুনিদের দেশে এনে শস্তির আওতায় আনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কমিশন থেকে চিঠি পাঠানো হবে। টিআর/

বঙ্গবন্ধু হত্যায় জিয়ার সঙ্গে খালেদাও জড়িত : শেখ হাসিনা

জাতির পিতা হত্যার সঙ্গে শুধু জিয়াউর রহমান নয় তার সঙ্গে খালেদা জিয়াও জড়িত। জাতির পিতার অাত্মস্বীকৃত খুনিদের ভোট চুরি করে পার্লামেন্টে এনেছিল খালেদা জিয়া। অাজ বৃহষ্পতিবার বিকেলে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। জাতীয় শোকদিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগ এ সভার অায়োজন করে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, খুনিরা সব সময় খুনিই হয়। এরাই ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা চালিয়েছে। বার বার আমাকে হত্যার চেষ্টা চালিয়েছে। কাজেই এদের হাতে দেশের ক্ষমতা গেলে দেশের কি উন্নতি হবে, দেশের মানুষ কি ন্যায় বিচার পাবে? জিয়াউর রহমানের রাষ্ট্রক্ষমতায় আসা এবং বিএনপির প্রতিষ্ঠার কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপি অন্যায়ের মধ্যে দিয়ে ক্ষমতা দখল করেছিল। তাই তারা কখনও ন্যায় বিচার করতে পারবে না। ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি এবং জিয়াউর রহমান তাদের দূতাবাসে চাকরিসহ বিভিন্নভাবে পুরস্কৃত করেছিল এমন ঘটনার কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, জিয়া যাদের বাঁচাতে ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করেছিল তাদেরকেই খালেদা জিয়া ভোট চুরি করে সংসদে নিয়েছিল। তার অর্থ দাঁড়াচ্ছে জিয়াউর রহমান একাই নয়, তার স্ত্রীও ১৫ আগস্টের হত্যার ষড়যন্ত্রের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৫ আগস্ট বাঙালি জাতির জন্য সবচেয়ে কলঙ্কজনক দিন। তিনি বলেন, জাতির পিতা বেঁচে থাকলে স্বাধীনতার ১০ বছরের মধ্যে বাঙালি জাতি ক্ষুধা দারিদ্র্যমুক্ত উন্নত জাতি হিসেবে গড়ে উঠতো, উন্নত জাতি হিসেবে বিশ্বে মর্যাদা পেতো। অা অা// এসএইচ/

© ২০১৮ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি