ঢাকা, সোমবার, ২৩ অক্টোবর, ২০১৭ ৮:১৪:০৯

বিষমুক্ত খাবারের সন্ধানে- শেষ পর্ব

বিষমুক্ত খাবারের সন্ধানে- শেষ পর্ব

গ্রামাঞ্চলের মানুষ নিজেদের প্রয়োজন মেটাতে বাড়ির আঙ্গিনায় শিম, বেগুন, মুলা, ধনিয়া ইত্যাদি সবজি চাষ করে থাকেন। ভালো ফসলের জন্য তারা গোবর কিংবা অন্য জৈব সার ব্যবহার করেন। নিজেদের সংগ্রহে রাখা বীজ ব্যবহার করেন, যেগুলো পোকার আক্রমণ থেকে নিজেরা প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সক্ষম। কিন্তু ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে যেসব ফসল ফলানো হয় তাতে জৈব সার ব্যবহার করা হয় না। সেখানে বিভিন্ন রাসায়নিক সারের পাশাপাশি কীটনাশক এবং হরমোন ব্যবহার করা হয় উৎপাদন বাড়ানোর জন্য। যার ফলে উৎপাদিত ফসল থেকে মানুষের শরীরে ঢুকছে বিষ। এ ধারণা পাল্টে দিতে কাজ করছে প্রাকৃতিক কৃষি বিপণন কেন্দ্র। খুব অল্প পরিসরে হলেও রাসায়নিক সারের পরিবর্তে জৈব সারের মাধ্যমে চাষ করার পদ্ধতি কৃষকদের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে তারা। কৃষকদের বুঝিয়ে বিষমুক্ত ফসল উৎপাদনে উৎসাহী করছে প্রাকৃতিক বিপণন কেন্দ্র।  ‍
কাজের সন্ধানে ৭ দিন ধরে নীলক্ষেত মোড়ে বিমল

বিমল চন্দ্র হাওলাদার (৫২)। পেশায় একজন কাঠমিস্ত্রি। বাড়ি পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার মুরাদিয়া গ্রামে। কাজের সন্ধানে ঢাকায় আসা। একসময় নীলক্ষেত বাকুশাহ মার্কেটে তার ফার্নিচারের দোকান ছিল। রাজধানীর বিভিন্ন স্থান থেকে দরজা, জানালা, খাটসহ আসবাব তৈরির অর্ডার আসত তার দোকানে। একা সামাল দিতে না পেরে দোকানে দু’জন লেবারও খাটাতেন বিমল। দোকান থেকে যা আয় হত তা দিয়ে দুই মেয়ে আর এক ছেলেকে নিয়ে সংসার ভালোই কাটছিল এ কাঠমিস্ত্রীর। কিন্তু হঠাৎ করে তার বাবা অসুস্থ হওয়ায় সব এলোমেলো হয়ে যায়। বৃদ্ধ বাবার চিকিৎসা করানো আর পরিবারের ৫ সদস্যের ভরন পোষন করানোর খরচ যোগাতে হিমশিম খেয়ে বসেন বিমল। ছোট্ট দোকান থেকে আসা আয় দিয়ে জীবনযাত্রার ব্যয়ভার মিটাতে না পেরে ২০১১ সালের মাঝামাঝি ঢাকার মায়া ছেড়ে গ্রামে চলে যেতে বাধ্য হন বিমল। শহর হোক আর গ্রাম হোক, জীবনযুদ্ধ তো চালিয়ে যেতে হবে। তাই বসে না থেকে নেমে পড়েন কাজে। গ্রামে দিনভর কাঠমিস্ত্রির কাজ করে যা আয় হতো তা দিয়ে খুব কষ্টে সংসারের ব্যয় নির্বাহ করেন বিমল। এরইমধ্যে অর্শ্ব রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়েছেন বিমল। তাই রিকশা চালানোসহ রোদ-বৃষ্টি গায়ে মাখার কাজগুলো করতে পারেন না বিমল। এখন গ্রামে তার করার মত কোনো কাজ নাই। এদিকে ছোট মেয়েটি আবার বাণিজ্য ব্যবসায় শাখা থেকে এইচএসসি পাশ করেছে। চড়া দ্রব্যমূল্যের এই বাজারে সংসারের খরচ অন্যদিকে মেয়ের পড়া-লেখার ব্যয়ভার বহন করা তার জন্য আরও কষ্টসাধ্য হয়ে পরে। কোনো দিশা না পেয়ে ফের ঢাকায় আসেন বিমল। উদ্দেশ্য যদি কোনো একটা কাজ মেলে। এরইমধ্যে দিন কয়েক হলো ছেলে একটা কোম্পানিতে সিকিউরিটির কাজ পেয়ে গেছে, তবে তার বেতন ধার‌্য করেনি কোম্পানী। ছেলের একার আয়ে যে সংসার চলবে না, সেটি বুঝতে পারছেন বিমল। তাছাড়া ছেলের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে থাকতে চান না কর্মঠ বিমল। সম্ভাব্য জায়গাগুলোতে কাজের সন্ধান করে বেড়াচ্ছেন। কিন্তু কাজ মিলছে না।   বিমল চন্দ্র কাজের আশায় রোজ ভোর ৬টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত নীলক্ষেত মোড়ের ঠিক বিপরীতে নিউমার্কেটে যাওয়ার পথে পুলিশ বক্সের কাছাকাছি বসে থাকেন। বসে থাকেন আর মনে মনে ভাবেন এই বুঝি কেউ এসে একটা কাজের কথা বলবেন। আর তিনি কাজে লেগে যাবেন। এই আশায় ৭টা দিন কেটে গেছে, কিন্তু কেউ কাজের কথা বলেনি বিমলকে। তবে আশা ছাড়েননি। জীবনযুদ্ধে যে অত সহজে পরাজিত হতে চান না বিমল। এ প্রতিবেদককে বিমল বলেন, ‘কাজের সন্ধানে আমি গত সপ্তাহে ঢাকায় এসেছি। এখনও কোনো কাজ পাইনি, কাজ পেলে আমি আমার ছোট মেয়ে প্রিয়াঙ্কাকে পড়ালেখা করাতে পারব। সে বাণিজ্য বিভাগ থেকে এবার জিপিএ-৪ পেয়ে পাশ করেছে। প্রিয়াঙ্কা বরিশাল বিএম কলেজে অনার্সে ভর্তির জন্য ফর্ম তুলেছে। তার লেখাপড়া নির্বিঘ্ন রাখতে একটা কাজ চান বিমল। বিমল জানান, তিনি কারো সাহায্য নিবেন না। ঈশ্বর তাকে দু-হাত দিয়েছেন, শরীরে শক্তি দিয়েছেন। তাই কারো কাছে হাত পাতবেন না। কাজ করতে চান। তার বিশ্বাস যে কোনো উপায়ে একটা কাজের ব্যবস্থাও হয়ে যাবে।    এ ক’দিন কী খেয়েছেন, কোথায় থাকছেন-জানতে চাইলে বিমল বলেন, ‘তিনদিন আগে পূর্বপরিচিত এক মানুষ জোর করে তাকে ১শ’ টাকা দেন। কাজ পেলে সেই টাকা ফেরত নিতে তাকে অনুরোধ করবো। ওই টাকাটা দিয়েই দিনে একবেলা খেয়ে আছি। রাতের বেলায় মার্কেটের ভেতর ফাঁকা জায়গায় ঘুমাই। মার্কেটে যেহেতু আমার আগে দোকান ছিল তাই কেউ বাধা দেয়না, সবার পরিচিত আমি।’ বিমল এক পোশাকেই কাটিয়ে দিয়েছেন কয়েকটা দিন। কাজ না পেলে হয়তো এভাবে আর কতদিন থাকতে হবে সেটি স্রষ্টা-ই জানেন। তবুও ভিক্ষা করবেন না বিমল। কাজ করবেন। বিমলের বয়স চলে যাচ্ছে, চেহারায় পড়েছে বার্ধ্যকের ছাপ। তবুও স্বপ্ন দেখেন পরিবারের জন্য ভালো কিছু করার। বিমল চান শত কষ্ট সহ্য করে হলেও মেয়েকে পড়ালেখা করাবেন। মেয়ে গ্রাজুয়েট হতে পারলে তার সব কষ্ট সার্থক। পাঠক, এভাবে বিমলের মতো আরও বহু লোক কাজের আশায় বসে থাকেন দিনের পর দিন ঢাকা শহরের আনাচে কানাচে। তারা ভিক্ষাবৃত্তি নয়, কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতে চান। সেই সেই ইচ্ছা কি পূরণ হওয়ার নয়?    //এআর

ব্ল্যাক বেঙ্গল বদলে দিল প্রতিবন্ধী শাকুলের জীবন

মোহাম্মদ শাকুল ইসলামের দুই হাতই নেই। বাবা-মায়ের ছয় সন্তানের মধ্যে শাকুল তৃতীয়। দারিদ্রতার বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেই তার বেড়ে ওঠা। অভাব যেন পিছু ছাড়ত না তাদের। পরিবারজুড়ে তাকে নিয়ে ছিল শুধুই গঞ্জনা। অভাবের সংসারে শান্তি ছিল অধরা। ২০০২ সালে বিদ্যুৎস্পষ্ট হয়ে তার দুই হাতের শক্তি হারিয়ে যায়। পরে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে হাত দুটি দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলা হয়। তাই কোনো কাজ বা ব্যবসা করা তার পক্ষে কঠিন হয়ে পড়ে। মূলত: এরপর থেকেই অভাবের সংসারে শাকুল যেন বাড়তি বোঝা হয়ে দাঁড়ায়। এভাবে চলে যায় একটি বছর। পরে বাবার সঙ্গে ৩ হাজার টাকা দিয়ে ব্ল্যাক বেঙ্গল জাতের দুটি ছাগী কেনেন। সেই থেকে তার ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল পালন শুরু। কেনা ছাগী দুটি নিয়মিত বাচ্চা দেওয়ায় এক বছরের মাথায় তার ছাগলের সংখ্যা দাঁড়ায় ৬টিতে। এখন তার ২৫টি ছাগল। এখন শুধু শাকুল নয়, তার পুরো পরিবারের ভরণ পোষণের খরচ জোগার হয় এই ছাগল থেকেই। শাকুলের জীবনে অমানিশার অন্ধকার কেটে গেছে। কারণে-অকারণে আর গঞ্জনা সহ্য করতে হয় না তাকে। ছনের বেড়ার পরিবর্তে তার এখন কংক্রিটের ঘর। কেটে গেছে অভাব অনটন আর ভাত-কাপড়ের অনিশ্চয়তা। তার সন্তান এখন স্কুলে যায়। মেহেরপুর সদর উপজেলার গোপালপুর গ্রামে বিশ্বখ্যাত ‘ব্ল্যাক বেঙ্গল’ জাতের ছাগল পালন করেন তিনি। তার দেখাদেখি গ্রামের অন্যরাও ছোট ছোট খামার তৈরি করে পালন করছেন এই জাতের ছাগল। তার মতো অনেকেই এখন স্বাবলম্বী। শাকুল ২০১২ সালে সাহেদা নামে একজনকে বিয়ে করেন। তার সংসারে সাদিয়া নামে চার বছর বয়সী এক কন্যা সন্তান আছে। শাকুলের জন্ম গোপালপুর গ্রামেই। এ গ্রামে ঢুকতেই মাঠে মাঠে দেখা মিলবে অসংখ্য ছাগল। নারী-পুরুষ ও শিশুরা ছাগল চরাচ্ছে। মাঠেই কথা হয় শাকুলের সঙ্গে। তার সংগ্রামী জীবন নিয়ে কথা হয় এ প্রতিবেদকের। তিনি মাঠে বসেই শোনালেন তার দিন বদলের গল্প। শাকুল বলেন, আমি যখন বিদ্যুৎস্পষ্ট হই, তখন আমাদের সংসারের অবস্থা খুব একটা ভালো ছিল না। এখনও খুব ভালো সেটাও বলব না। তবে এখন অনেক সুখে আছি। সবচেয়ে মজার বিষয় হলো আমি কোনো ভিক্ষাবৃত্তি করছি না। আমি নিজে প্রতিবন্ধী হলেও, আমি ভিক্ষুক না। আমি একজন কর্মক্ষম ব্যক্তি। তিনি বলেন, আমি এক সময় খুব হতাশায় ভুগতাম। পরিবারের অন্য সদস্যরা আমাকে খুব ভালো চোখে দেখত না। কারণ আমি কাজ করতে পারিনা। আমার দুই হাত নেই। নিজে খুব হতাশার মধ্যে থাকতাম। কিন্তু এই হতাশা থেকে আমাকে আলোর পথ দেখায় ছাগল পালন। যেভাবে ছাগল পালন শুরু : শাকুল জানান, ২০০২ সালে যখন বিদ্যুৎস্পষ্ট হয়ে আমি দু’হাত হারাই, তখন চোখের সামনে অন্ধকার দেখতাম। পরে আমার বাবার সহযোগিতায় প্রথমে দুইটি ছাগী ব্ল্যাক বেঙ্গল কিনি। এক বছরের মধ্যেই দুইটি ছাগল থেকে ৬টি ছাগল হয়। এরপর আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি। বর্তমানে আমার ২৫টি ছাগল। গত ঈদুল আজহাতে ৬টি ছাগল ৭০ হাজার টাকায় বিক্রি করেছি। এখন প্রতি বছরেরই বাড়ছে ছাগলের সংখ্যা। শাকুলের স্ত্রী সাহেদা জানান, আমার স্বামী ছাগল পালন করে সংসারের কষ্ট দূর করেছে। আমরা এখন অনেক সুখে আছি। আমাদের মেয়ে স্কুলে যাচ্ছে। আমার স্বামী প্রতিবন্ধী বলে সমাজে আমরা অবহেলিত নই, আমরা কারো কাছে হাত পাতি না। আমার স্বামী এখন একজন সাবলম্বী ব্যক্তি। সে নিজেই আমার সংসার চালায়। কারো কাছে হাত পাততে হয় না তাকে। শাকুল বলেন, আমি এক সময় মাসে মাত্র ৬শ টাকা হারে প্রতিবন্ধী ভাতা পেতাম। যেটা দিয়ে আমার সংসার বা নিজের খরচ চলত না। এখনও ভাতা পাই তবে, আমার এখন ভাতার প্রয়োজন হয়না। তার মতে, অল্প পুঁজিতে বেশি লাভ হয় এ ধরনের ছাগল পালনে। তাই তিনি সকল বেকার এবং প্রতিবন্ধীদের ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল পালনের পরামর্শ দেন। শাকুলের দেখাদেখি ছাগল পালন করে সফলতা পান গোপালপুর গ্রামের অপর বাসিন্দা আয়েশা খাতুন। কথা হয় তার সঙ্গে। তিনি ইটিভি অনলাইনকে বলেন, আমার সংসারে অভাব থাকত। শাকুলের দেখাদেখি আমি মাসে অল্প করে টাকা জমিয়ে ব্ল্যাক বেঙ্গল কিনে ছাগল পালন শুরু করি। এখন আমার সংসারে আর অভাব নেই। তবে কোনো এনজিও বা সরকারি সহযোগিতা পেলে আরও কিছু ছাগল পালন করতে পারতাম। বর্তমানে আয়েশার আছে ৫টি ব্ল্যাক বেঙ্গল জাতের ছাগল। আর/ডব্লিউএন  

বিষমুক্ত খাবারের সন্ধানে : পর্ব ১

ভেজালের ভিড়ে খাঁটি জিনিস যেন সোনার হরিণ। বিশেষ করে রাজধানী ঢাকায় সতেজ ও বিষমুক্ত নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্যদ্রব্য পাওয়াই দুষ্কর। উৎপাদন থেকে শুরু করে বিপণন পর্যন্ত ভেজাল আর ভেজাল। তবে দিন বদলাবে না, তাতো নয়। ভেজালের ভিড়েই আশার গল্প শোনাচ্ছেন গণমাধ্যমকর্মী দেলোয়ার। কুষ্টিয়ার ছেলে দেলোয়ার জাহান ও তার বন্ধুরা মিলে ‘প্রাকৃতিক কৃষি’নামে একটি আন্দোলন শুরু করেছেন। সার ও কীটনাশক প্রয়োগ ছাড়াই কৃষকদের কৃষিকাজে উৎসাহিত করে চলেছেন তাঁরা। পাশাপাশি ঢাকার সলিমুল্লাহ রোডে প্রতিষ্ঠা করেছেন ভোক্তাদের জন্য ‘প্রাকৃতিক কৃষি বিপণন কেন্দ্র’ । যেখানে পাওয়া যাবে কীটনাশক প্রয়োগ ছাড়াই উৎপাদিত বিভিন্ন রকমের সবজি ও ফল। তাদের উদ্দেশ্য হচ্ছে সার ও কীটনাশকমুক্ত খাদ্যদ্রব্য উৎপাদন, বিপনন এবং প্রাকৃতিক কৃষির বিষয়টি সবাইকে জানানো। দেলোয়ার জাহান চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকতা বিভাগে পড়তে গিয়ে প্রাণ, প্রকৃতি ও পরিবেশ রক্ষার বিষয়ে মনোযোগী হন।

সবার অংশগ্রহণে একাদশ সংসদ নির্বাচন চায় ইসি

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে বদ্ধপরিকর নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এজন্য সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পরিবেশ তৈরিতে কাজ করছে নির্বাচন আয়োজনকারী সংস্থাটি। ইসির প্রতি অনাস্থার যে অভিযোগ বিরোধী দলগুলো করে আসছে এই নির্বাচনের মাধ্যমে সেটির অবসান চায় সংস্থাটি। তবে কমিশন এমনটি চাইলেও আগামী নির্বাচন  কতটা অংশগ্রহনমূলক ও প্রশ্নহীন হবে তা নির্ভর করবে সে সময়ের পরিবেশ ও পরিস্থিতির উপর। এমনটাই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। একাদশ নির্বাচন সামনে রেখে প্রায় দেড় বছর আগে (নির্বাচনের সম্ভাব্য সময়ের) রোডম্যাপ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। ইসির রোডম্যাপে ৭টি কর্মপরিকল্পনা উল্লেখ করা হয়েছে। সেগুলো হচ্ছে-১. আইনি কাঠামোগুলো পর্যালোচনা ও সংস্কার। ২. নির্বাচন প্রক্রিয়া সহজীকরণ ও যুগোপযোগী করতে সংশ্লিষ্ট সবার পরামর্শ গ্রহণ। ৩. সংসদীয় এলাকার নির্বাচনী সীমানা পুনর্নিরধারন।

গণহত্যা নিয়ে তামশা শুরু করেছে মিয়ানমার: তুন কিন

গণহত্যা নিয়ে মিয়ানমার সরকার পুরানো খেলায় মেতেছে বলে দাবি করেছেন যুক্তরাজ্য ভিত্তিক সংগঠন ‘বার্মিজ রোহিঙ্গা আর্গানাইজেশন ইউকে (ব্রোক)’-এর সভাপতি মং তুন কিন। বাংলাদেশে অবস্থানরত মং তুন কিন মঙ্গলবার সন্ধ্যায় টেলিফোনে একথা বলেন। তুন কিন বলেন, এসব তাদের পুরানো খেলা, এখন তারা বলছে হিন্দুদের গণকবর পাওয়া গেছে, আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলোকে সেখানে যাওয়ার অনুমতি দিক, তাহলে বুঝা যাবে সেখানে আসলে কি হয়েছে। ইতিহাসের জঘন্যতম গণহত্যা চালিয়ে তারা এখন বিশ্বের দৃষ্টিকে আড়াল করার চেষ্টা করছে। এসব তাদের পুরানো কৌশল এবং বিশ্ব এটা জানে। এর আগে কক্সবাজারের একটি হোটেলে কথা হয় বিশ বছর ধরে যুক্তরাজ্যে নির্বাসিত মং তুন কিনের সঙ্গে। মিয়ানমারের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন এই প্রতিবেদকের সাথে। তিনি বলেন, মিয়ানমার যদি মনে করে গণহত্যা চালিয়ে রোহিঙ্গাদের নির্মূল করতে পারবে তাহলে তারা ভুল করবে। আমরা আমাদের আধিকারের জন্য সবটুকু দিয়ে চেষ্টা করে যাবো। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত রোহিঙ্গারা সংগঠিত হচ্ছে। সবাইকে এক কাতারে নিয়ে আসার প্রচেষ্টা চলছে এবং শীঘ্রই রোহিঙ্গাদের একটি অভিন্ন রাজনৈতিক প্লাটফরমের আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছে। তুন কিন বলেন, যেভাবে গণহত্যা চালানো হয়েছে তা নজিরবিহীন, বিশ্ব সম্প্রদায় মিয়ানমারকে ভালোভাবে প্রেশার দিতে না পারলে তারা (মিয়ানমার) সেখান থেকে রোহিঙ্গাদেরকে চিরতরে উচ্ছেদ করে দিবে। মিয়ানমার এখন জাতিগত নির্মূলের চূড়ান্ত পয়ায়ে পৌঁছেছে। রোহিঙ্গাদেরকে এবার বাংলাদেশ সরকার যে সর্বাত্মকভাবে সহযোগিতা করছে তা নজির বিহীন। এভাবে আশ্রয়, খাদ্য ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করে দৃষ্টান্তমূলক মানবিকতার পরিচয় দিয়েছে বাংলাদেশের সরকার ও জনগণ। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেভাবে পাশে দাঁড়িয়েছেন তা রোহিঙ্গারা কোনোদিন ভুলবেনা বলেও উল্লেখ করেন তিনি। রাখাইন প্রদেশে রোহিঙ্গাদের বিদ্রোহী সংগঠন আরাকান স্যালভেশান আর্মি আরসার কার্যকালাপ সম্পর্কে তুন কিন বলেন, আমি অনেকদিন ধরে মিয়ানমার যেতে পারিনা। সেখানকার প্রকৃত ঘটনা হচ্ছে বহুদিন ধরে রোহিঙ্গারা সেখানে বন্দি জীবন যাপন করছে। শিক্ষা ও চিকিৎসার সুযোগ পায় না, এক গ্রাম থেকে অন্য গ্রামে যেতে হলেও সেনা-পুলিশের অনুমোদন নিতে হয়। এমনকি সরকারের অনুমোদন ছাড়া বিয়ে- শাদিও হয়না। আমার জানা মতে অনেক যুবক বিয়ের অনুমতি পায়নি, এই রকম পরিস্থিতিতে বিক্ষুদ্ধ যুবক সমাজের বিদ্রোহী হয়ে উঠা খুবই স্বাভাবিক। যুক্তরাজ্যে নির্বাসিত এ নেতা আরও বলেন, রোহিঙ্গারা শান্তিপ্রিয় জাতি। আমার শান্তিপূর্ণভাবে শত শত বছর ধরে সেখানে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের সাথে বসবাস করে আসছি। শান্তিপূর্ণ উপায়ে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠির সমস্যা সমাধান করে দেওয়ার জন্য বিশ্ববাসীর কাছে আমরা অনুরোধ করছি। ৩৭ বছর বয়স্ক মং তুন কিন দীর্ঘ ২০বছরের বেশি সময় ধরে যুক্তরাজ্যে বসবাস করছেন। পেশায় তিনি একজন সিভিল ইঞ্জিনিয়ার। তুন কিনের পরিবার মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশের রাজধানী আকিয়াব (বর্তমানে সিটুয়ার অধিবাসী ছিলো)। তার বাবা মোহাম্মদ শফি ছিলেন সেই দেশের রাজস্ব বিভাগের কমিশনার। দাদা আবদুল গাফফার ছিলেন মিয়ানমার পার্লামেন্টের আকিয়াব আসনের সদস্য।   টিকে

রমরমা ইলিশের বাজার

‘‘মামা পদ্মার রুপালি ইলিশ, লয়া যান। হালি মাত্তরে ৭শ’টিয়া। কতেকদিন গেলে আর হাইবেন না। সরকার না করছে মাছ ধরবার। ধরবার না গেলে, দাম আরও বাইর‌্যা যাইবো। নেন আরও একশ’টিয়া কম দ্যান। ফ্রিজে রাইখ্যা দ্যানগা। কতেকদিন হর খাইতে হারবেন।’’ কথাগুলো বলছিলেন খুচরা ইলিশ বিক্রেতা রফিকুল ইসলাম। পাইকারী ও খুচরা মাছ বাজার হিসেবে পরিচিত রাজধানীর কাওরান বাজারের ব্যবসায়ী তিনি। শুধু রফিকুল নন, ইলিশের রমরমা বাজারে ক্রেতা কাছে টানতে তার মতো অন্য ব্যবসায়ীরাও এমন হাঁক দিচ্ছেন সকাল বেলার কাওরান বাজারে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে দাম নাগালের মধ্যে থাকায় ক্রেতাদের ঝোঁক এখন ইলিশের দিকে। ক্রেতাদের এ ঝোঁক কাজে লাগিয়ে বাজারে চলছে অন্য মাছের বদলে ইলিশের একচেটিয়া ব্যবসা। সকাল বেলা বাজারে এতোটাই লোকসমাগম যে, এক দোকান থেকে অন্য দোকানে যাওয়ায় কঠিন। তবু একটু কম দামে কাঙ্ক্ষিত ইলিশ কিনতে ক্রেতার চেষ্টার কমতি নেই। একজনকে ঠেলে অন্যজন যাচ্ছেন পাশের দোকানে। আর উঁপচেপড়া ক্রেতার চাহিদা পূরণে একই জায়গায় পাইকারী ও খুচরা দামে বিক্রি হচ্ছে ইলিশ। 

সুবিধাবঞ্চিতদের মাঝে আলো ছড়াচ্ছে ‘স্বপ্ন স্কুল’

সুবিধাবঞ্চিত শিশু-কিশোরদের মাঝে শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছে ‘স্বপ্ন স্কুল’। এটি গাজীপুরের পূবাইলের নারায়ণকুল গ্রামে অবস্থিত। বাংলা ও ইংরেজি দুই মাধ্যমেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি পরিচালিত হচ্ছে। এখানে গতানুগতিক শিক্ষার নৈতিক শিক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। প্রতিটি শিক্ষার্থীকে সচেতন করে আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে। প্রচলিত শিক্ষার বাইরে গিয়ে ভিন্ন ধাঁচে (যেমন খেলার ছলে পড়া, গ্রুপ স্টাডি, সহশিক্ষা কার্যীক্রম) পাঠদান করানো হয়। বিভিন্ন ক্ষেত্রে সফল ব্যাক্তিদের স্কুলে এনে ড্রিম স্পিচের ব্যবস্থা করে ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের অনুপ্রেরণা যোগানো হয়। প্রতি ক্লাসে প্রতিটি শিক্ষার্থীর জন্য রয়েছে ড্রিম কার্ড। এসব ড্রিম কার্ডে শিক্ষার্থীরা তাদের নিজেদের স্বপ্নের কথা লিখে রাখে। আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষার সঙ্গে এখানকার শিক্ষার সমন্বয় করতে জাপানের সেরা স্কুলের ছাত্রদের সঙ্গে স্কাইপিতে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা বিনিময় করা হয়। দরিদ্র পরিবারের শিক্ষার্থীদের উন্নত এই শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে সম্পূর্ণ বিনা খরচে। মেধাবী শিক্ষার্থীদের বিদেশে উচ্চশিক্ষায় সহায়তা করতে স্কুলটি প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।   খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত স্কুলের শ্রেণীকক্ষে ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করানো হয় মাল্টিমিডিয়া পদ্ধতিতে। রয়েছে সুদীর্ঘ খেলার মাঠসহ বৃহৎ হল রুম ও এগ্রিকালচারাল ফার্মও রয়েছে। ছয় হাজার বইয়ের সমৃদ্ধ লাইব্রেরি। শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিজ্ঞান সম্পন্ন করে গড়ে তোলার জন্য সুবিশাল কম্পিউটার ল্যাব ও বিজ্ঞান গবেষণাগারের সুব্যবস্থাও রয়েছে। মেধাকে শাণিত করার জন্য রয়েছে ডিবেটিং ক্লাব। স্কুলের ক্লাব কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে গণিত ক্লাব, ভলেন্টারি ক্লাব, ব্যাডমিন্টন ক্লাব, অ্যাথলেটিক্স ক্লাব ও মিউজিক ক্লাব। স্কুলের বাংলা বিভাগের শিক্ষক রকিবুল হাসান জানান, শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা সম্পন্ন একজন আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলাই স্কুলের লক্ষ্য। এই স্কুলের শিক্ষার্থীরা রাস্তাঘাটে চলার পথে যেখানে সেখানে ময়লা ফেলে না। পাশাপাশি রাস্তায় কোনো ময়লা দেখতে পেলে তা তুলে নিয়ে ময়লা ফেলার নির্ধারিত স্থানে ময়লা রাখে। শিক্ষার্থীদের সচেতন করতে আশেপাশের পরিবেশ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য বিভিন্ন প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শন করা হয়। শিক্ষক রকিব জানান, স্কুলের ক্ষুদে এসব শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন একদিন তারা বাংলাদেশকে একটি পরিচ্ছন্ন দেশ হিসেবে গড়ে তুলবে। ছুটির পর স্কুলের শ্রেণিকক্ষসহ স্কুলটি শিক্ষার্থীরা নিজেরাই পরিষ্কার করে। খুব আনন্দের সঙ্গেই তারা এ কাজটি করে থাকে।   জাপানের পার্লামেন্ট ডায়েটের সদস্য মিকি ওয়াতানাবের উদ্যোগে ২০১৩ সালে এ স্কুলটি প্রতিষ্ঠিত হয়। স্কুলটির সহযোগিতায় রয়েছে বেসিক ডেভেলপমেন্ট পাটনার্স, স্কুল এইড জাপান ও টোপিওর ইকুবুনকান  গ্লোবাল স্কুল। এখানে বাংলা ও ইংরেজি দুটি মাধ্যমের দুটি স্কুলের মধ্যে একটির নাম নারায়ণকুল ড্রিম মডেল হাই স্কুল (বাংলা মাধ্যম) ও অপরটি নাম জাপান ইন্টারন্যাশনাল ড্রিম স্কুল (ইংরেজি মাধ্যমে)। মোট ১১ একর জমির উপর প্রতিষ্ঠিত স্কুল দুটি প্রতিষ্ঠিত। জাপানের অর্থায়নে এটি পরিচালিত হচ্ছে। ইকুবুনকান গ্লোবাল স্কুলের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে স্কাইপে ক্লাস করে থাকে নারায়ণকুল ড্রিম মডেল হাই স্কুলের শিক্ষার্থীরা। বিশ্বমানের একটি গ্লোবাল স্কুল গড়ে তোলাই নারায়ণকুল ড্রিম মডেল হাই স্কুলের লক্ষ্য। ভিন্ন আঙ্গিকে পাঠদানস্কুলের পাঠ দানের কার্যক্রমটা দেশের অন্য সব বিদ্যালয় থেকে আলাদা। এ স্কুলের প্লে, নার্সারি ও ক্লাস ওয়ানের ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের একাডেমিক পড়াশুনায় খুব বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয় না। এই তিন ক্লাসের শিক্ষার্থীদের আগ্রহের বিষয়ের উপর সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। তাই ক্লাসে শিক্ষার্থীদের জন্য বিভিন্ন ধরনের শিক্ষা সংক্রান্ত খেলনা সামগ্রী রাখা হয়। এগুলো দিয়ে তারা খেলাচ্ছলে বিভিন্ন বিষয় শিখে থাকে। শুধু একাডেমিক পড়াশুনাই নয়, শিক্ষার্থীদের কল্যাণের জন্য স্কুলটি সবর্দা নিবেদিত। এই স্কুলের প্রত্যেকটি শিক্ষার্থী একটি স্বপ্ন ধারণ করে। আর তার স্বপ্ন পূরণের জন্য তাকে গড়ে তোলার দায়িত্ব নিয়েছে এই স্কুলটি। স্কুলের প্রত্যেকটি শিক্ষার্থী স্বপ্ন অন্বেষণ করেন। স্বপ্ন পূরণের জন্য সবর্দা নিরলস চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার জন্য শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রাণশক্তি জাগানো ও জোগানোর কাজটিও করে স্কুলটি। এ লক্ষ্যে প্রতিবছর স্বপ্ন পূরণে সফল ব্যক্তিদের স্কুলে নিয়ে এসে ড্রিম স্পিচ (স্বপ্ন বক্তৃতা)-এর ব্যবস্থা করা হয়। এরই মধ্যে স্কুলটিতে ড্রিম স্পিচ দিয়েছেন ম্যাগসাইসাই পুরস্কারজয়ী অ্যাঞ্জেলা গোমেজ, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান, বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)-এর কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কায়কোবাদ, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব শাইখ সিরাজ প্রমুখ। এসব সফল ব্যক্তিদের প্রেরণা যোগানো কথা শুনে শিক্ষার্থীরা নিজেদের অনুপ্রেরণা পাওয়ার পাশাপাশি স্বপ্ন পূরণে প্রাণশক্তিও জোগায়। শুধু তাই নয়, বছরের শুরুতে প্রতিটি শিক্ষার্থীকে স্কুলের পক্ষ থেকে বিনামূল্যে ড্রিম ডাইরি দেওয়া হয়। যাতে তারা নিজেদের স্বপ্নের কথা লিখে রাখতে পারে। প্রতি ক্লাসে প্রতিটি শিক্ষার্থীর জন্য রয়েছে ড্রিম কার্ড। এসব ড্রিম কার্ডেও শিক্ষার্থীরা তাদের নিজেদের স্বপ্নের কথা লিখে রাখে। সহশিক্ষা কার্যক্রমপ্রতি বছরের ১৬ ডিসেম্বর স্কুলটিতে ড্রিম ডে পালন করা হয়। বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দিনটি পালন করা হয়। আর প্রতি বছর ফেব্রুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত হয় স্পোর্টস ফেস্টিভ্যাল। এই স্পোর্টস ফেস্টিভ্যাল বাংলাদেশে সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি ফেস্টিভ্যাল। সব শিক্ষার্থীদের ছয়টি দলে ভাগ করা হয়। খেলা হয় দলগতভাবে। একটি দলকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। প্রতি বছরের অক্টোবরে স্কুলে অনুষ্ঠিত হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এতে স্কুলের বিভিন্ন শ্রেণির শিক্ষার্থীদের দিয়ে কয়েকটি ক্লাব বানানো হয়। ক্লাবগুলো তাদের বিভিন্ন কার্যক্রম এই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তুলে ধরে। এছাড়া শীতকালে অনুষ্ঠিত হয় পিঠা উৎসব। বিদ্যালয়ে রয়েছে সমৃদ্ধ একটি সাইন্স ক্লাব। এই ক্লাবে বিশ্বের নতুন নতুন উদ্ভাবন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে আসা দর্শকদের সামনে তুলে ধরা হয়। এসব কাজ শিক্ষার্থীরা নিজেরাই করে থাকেন। স্কুলের মাঠে শিক্ষার্থীদের অংশ গ্রহণে স্টেজ পার্ফমেন্স অনুষ্ঠিত হয় । এদিন বহিরাগত দর্শনার্থীদের জন্য স্কুলটি উন্মুক্ত রাখা হয়। অন্য রকম মিলন মেলায় পরিণত হয় দিনটিতে। বিনা খরচে পড়ালেখাসম্পূর্ণ বিনা বেতনে এ বিদ্যালয়টিতে পড়ালেখা করে দরিদ্র শিক্ষার্থীরা। সেই সঙ্গে স্কুল ড্রেস, বই, খাতা-কলমও স্কুল থেকেই দেওয়া হয়। শিক্ষার্থীদের জন্য প্রতিদিন দুপুরের খাবারও সরবহার করা হয় স্কুলের পক্ষ থেকে। স্কুলের নিয়মিত পরীক্ষার ফি শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নেওয়া হয়। এমনকি বোর্ড পরীক্ষার ফিও স্কুলের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়। দারিদ্র্যের কষাঘাতে যেসব ছেলে-মেয়ে কখনো লেখা পড়া করার স্বপ্নও দেখতে পারতো না তাদের মাঝে এই স্কুলের কল্যানে এখন শিক্ষার আলো বিরাজ করছে। কেউ কেউ স্বপ্ন দেখছেন বড় বিজ্ঞানী হওয়ার, কেউ সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার, কেউবা আবার নিজেকে দেশের সেবায় নিয়োজিত করার স্বপ্ন দেখছেন। কেউ স্বপ্ন দেখছেন দেশের সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের নিয়ে কাজ করার। এমনই একজন শিক্ষার্থী রাবেয়া খাতুন। রাবেয়া এই স্কুলের অষ্টম শ্রেণিতে পড়ছে। ছোট বেলায়ই বাবাকে হারায় রাবেয়া। অভাবের সংসারে রাবেয়ার পড়ালেখার কথা চিন্তাই করতে পারত না তার মা। রাবেয়া খাতুন জানান, এই স্কুলে না পড়লে কোনো দিন আমার লেখাপড়াই করা হতো না। কারণ ছোট বেলায় আমার বাবা মারা গেছে। স্কুলের বেতন, পরীক্ষার ফি, স্কুল ড্রেস কেনার মতো সামর্থ্য আমার মায়ের নেই। সম্পূর্ণ বিনা বেতনে ও পড়ালেখার অন্য খরচ কেবল এই স্কুলই আমাকে দিয়েছে। শুধু রাবেয়ার পড়াশুনার খরচই নয়, তার পরিবারের খরচ চলানোর মতো একটি অবলম্বনও করে দিয়েছে এই স্কুলটি। পরিবারের খরচ মেটানোর জন্য রাবেয়ার মাকে একটি সেলাই মেশিনও কিনে দেওয়া হয়েছে স্কুলের পক্ষ থেকে। রাবেয়া জানায়, আমার মা সেলায়ের কাজ করে কোনো রকমে সংসার চালাচ্ছেন। বড় হয়ে একজন আদর্শ শিক্ষক হতে চায় রাবেয়া। শুধু শিক্ষক হওয়াই নয়, বাংলাদেশে এমন বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করাও তার স্বপ্ন। রাবেয়ার ভাষ্য, ‘যাতে অসহায় ছেলে মেয়েরা শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত না হয় সে জন্য আমি নারায়ণ স্কুল ড্রিম স্কুলের মতো একটি স্কুল প্রতিষ্ঠা করতে চাই।’ প্রধান শিক্ষক যা বললেন অসহায় এসব ছেলে-মেয়েরা শিক্ষার আলো পাচ্ছে এতেই খুশি স্কুলটির পরিচালনায় নিয়োজিত জাপানি শিক্ষকরা। স্কুলের প্রধান শিক্ষক কাতসুসি ফুরুসাওয়া। স্কুলটিকে শিক্ষার মডেল হিসেবে তৈরি করার জন্য কাজ করছেন তিনি। কাতসুসি বলেন, নারায়ণকুল ড্রিম মডেল হাই স্কুলকে স্বপ্নের স্কুল হিসেবে গড়ে তোলার জন্য মোট ৬৮ জন শিক্ষক নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। প্রতি বছর তিন জন শিক্ষককে জাপান থেকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। জাপান থেকে ও ঢাকাস্থ জাপান দূতাবাস থেকে প্রতিবছর স্কুলটি পরিদর্শন করা হয়। তিনি আরও বলেন, আমরা পৃথিবীর সুবিধা বঞ্চিত ছেলে-মেয়েদের শিক্ষার জন্য সাহায্য করে থাকি। বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা দেখে আমাদের মনে হয়েছে এটি আসলে প্রকৃত শিক্ষা ব্যবস্থা নয়। শিক্ষার্থীদেরকে স্কুলে না পড়িয়ে কোচিংয়ে পড়ানো হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট পড়ানোর কালচার এদেশে খুব বেশি। জাপান বাংলাদেশের বন্ধু রাষ্ট্র-উল্লেখ্য করে তিনি আরও বলেন, এদেশের শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন ও গরীব ছেলে-মেয়েদের সাহায্য করার জন্যই আমরা গাজীপুরে নারায়ণকুল ড্রিম মডেল হাই স্কুল প্রতিষ্ঠা করি। আমাদের উদ্দেশ্য উপযুক্ত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ শিক্ষক ও শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা যাতে স্বপ্নের শিক্ষা এদেশের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে। ভর্তি প্রক্রিয়াবাংলা মাধ্যমে ৬ষ্ঠ শ্রেণী থেকে ভর্তির কার্য ক্রম শুরু হয়। ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থী বাছাই করা হয়। বাংলা, ইংরেজি, গণিত বিষয়ে মোট ১০০ নম্বরের ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হয়। এদের মধ্যে শতকরা ৬০ ভাগ শিক্ষার্থি দরিদ্র পরিবার থেকে নেওয়া হয়। ৪০ ভাগ নেওয়া মেধা কোটায়। ৬ষ্ঠ থেকে ১০ম শ্রেণী পর্যয়ন্ত প্রতি ক্লাসে ১২৯ জন করে শিক্ষার্থী। প্রতি ক্লাসে তিনটি সেকশন। বর্তমানে ৬৮৭ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। এদের কারো কোনো বেতন বা ফি দিতে হয় না। বই-খাতা, স্কুলড্রেস, ডায়েরি, দুপুরের খাবার সব স্কুল থেকে দেওয়া হয়। প্লে থেকে ৫ম শ্রেণী পর্যরন্ত ইংরেজি মাধ্যম। এই মাধ্যমেও ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থী বাছাই করা হয়। তবে প্লে, নার্সারী ও ক্লাস ওয়ানের শিক্ষার্থী বাছাইয়ে তাদের বাবা-মায়ের সাক্ষাৎকার নিয়ে। অন্যদের ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থী বাছাই করা হয়। প্রতি ক্লাসে ৩০ জন করে শিক্ষার্থী। তবে এ বছর ৬ষ্ঠ শ্রেণীতেও শিক্ষার্থী নেওয়া হবে। ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষার্থীদের শিক্ষাব্যয় তাদের বাবা-মায়ের বহন করতে হয়।//এআর   

হোটেল মালিক থেকে ফুটপাতে লোকমান

লোকমান হোসেন। বয়স ৫৫ পেরিয়েছে। বাড়ি পিরোজপুরের দূর্গাপুর। নাম দস্তখত লখিতে পারনে। ঢাকায় এসেছিলেন ২০ বছর আগে। সামান্য জীবিকার সন্ধানে। কিন্তু শুধু জীবিকা নয়, ভাগ্যে তার চেয়ে মিলেছিল বেশি কিছু। কারওয়ান বাজারে মাছ ওঠা-নামানোর শ্রমিক থেকে হয়ে উঠেছিলেন বড় এক হোটেলের মালিক। কিন্তু বিধিবাম; সেই মালিকত্ব তার কপালে আর সইল না। ব্যবসায়ে প্রয়োজনীয় শিক্ষা না থাকায় প্রতিষ্ঠানে জ¦লে উঠলো লাল বাতি। যা তাকে হোটেল মালিক থেকে নামিয়ে দিল ফুটপাতে।   লোকমান ১৯৯৭ সালে গ্রামের বাড়ি থেকে ঢাকার কারওয়ান বাজারে আসেন। জীবিকার তাগিদে শুরু করেন মাছ ওঠা-নামানোর কাজ। মাত্র ৬ মাস পর এ কাজ ছেড়ে দেন। শুরু করেন হোটেল ব্যবসা। প্রথমে ভাত আর এক ভাগে তরকারি দিয়েই শুরু। ছোট দুটি পাতিলে অল্প পরিসরে চলতে থাকে তার ব্যবসা। কারওয়ান বাজারের ডিআইটি মার্কেটের ছোট একটি গলিতে বসতেন তিনি। মাছ বাজারের মুটে-মজুররা-ই ছিল তার কাস্টমার। ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে তার ব্যবসার পরিধি। কাস্টমারের তালিকায় দিন মজুরের পাশাপাশি যোগ হন স্বল্প আয়ের চাকরিজীবীরাও। পেটপুরে খাওয়ানোর বিনিময়ে তিনি নিতেন মাত্র ১০টাকা।   এভাবে চলতে থাকে ২০০০ সাল পর্যন্ত। গত ৩ বছরের ব্যবসায় তার হাতে জমে গেল কয়েক লাখ টাকা। যে টাকায় তিনি স্বপ্ন দেখেন বড় একটি হোটেল দিবেন। ইচ্ছা অনুযায়ী তার দরজায় সুযোগও কড়া নাড়ল। কারওয়ান বাজারের ডিআইটি মার্কেটের দ্বিতীয় তলায় একটি জায়গাও পেয়ে গেলেন। দেরি না করে জায়গার তত্ত¡াবধায়ককে অ্যাডভ্যান্স হিসেবে দিলেন ৩ লাখ টাকা। আর আনুসঙ্গিক খরচ হিসেবে ২ লাখ টাকা হাতে রাখলেন। ২০০১ সালে শুরু হওয়া এ হোটেলের নাম দিলেন ‘খাঁজা হোটেল’। হোটেলে সাদা ভাত, বিরিয়ানি, কয়েক প্রকার মাছ ও মাংস, রুটি,পরাটা, মুংলাই ইত্যাদির ব্যবস্থা থাকত। এক বছরের মধ্যে হোটেলের পরিধি এতোটাই বেড়ে গেল যে, তার একার পক্ষে সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়লো। তাই কর্মচারী নিয়োগ দিলেন ২৬ জন। ম্যানেজার নিয়োগ দিলেন ২ জন। এ সময়ে রোজ তার বেচা-কেনা হতো ২৫ হাজার থেকে ২৮ হাজার টাকা। যা থেকে রোজ ৩ হাজার টাকা দিতেন ভিট ভাড়া। কিন্তু এ বর্ধিত ব্যবসা-ই হলো তার কাল। প্রয়োজনীয় শিক্ষা না থাকায় তা তিনি ধরে রাখতে পারলেন না। হিসাব সামলাতে না পেরে নিয়োগ করা দুই ম্যানেজারকে বুঝে দিলেন হোটেলের দায়িত্ব। হিসেবের দায়িত্ব অন্যের হাতে দেওয়ার কারণে পুরো হোটেলটা-ই চলে গেল অন্যের হাতে। হোটেলের দুই ম্যানেজার ফারুক ও মোস্তফা যুক্তি করে টাকা আত্মসাৎ করতে থাকে। তারা দু’জন বিএ (¯œাতক) পাশ হওয়ায় টাকার হিসেব লোকমানকে গোজামিল দিয়ে বুঝিয়ে দিত। তারা একদিকে শ্রমিকের বেতন ও পণ্যের দাম বেড়েছে বলে। অন্যদিকে বেচা-কেনা কম হচ্ছে বলে জানাতো। এ টানা পড়েনের মধ্যে লোকমানের হোটেল ব্যবসা চলে ২০০৪ সাল পর্যন্ত। ব্যবসায় মাস শেষে যা থাকতো তা লোকমানের লোকসানেই ফেলতো। ফলে লোকমান ঋণ হতে শুরু করেন। ব্যবসায় লোকসান গেলেও তার শ্রমিক ও জায়গা ভাড়া হিসেবে ২ লাখ টাকা মাসে দিতে-ই হতো। এভাবে প্রতিমাসে লোকসান গুণতে হলেও লোকমান নিজের হাতে গড়া ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ছাড়তে পারতেন না। কিন্তু ঋণের বোঝা বইতে গিয়ে তিনি আর শেষ রক্ষা করতে পারলেন না। সব মায়া ত্যাগ করে হোটেল পজিশন বিক্রি করলেন ইউসুফ নামে এক ব্যক্তির কাছে। নিজের জীবনের এ বিষাদময় কথাগুলো বলে একটি দীর্ঘ নি:শ্বাস নিলেন লোকমান। এরপর শুরু করলেন কীভাবে তার ব্যবসায় লাল বাতি জ¦লেছে। তিনি বলেন, হোটেল ছেড়ে দেওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পর ম্যানেজার যেদিন বাড়ি যাবে, সেদিন হোটেল ক্যাশের নিচে ম্যানেজারের কাপড়ের ব্যাগে বড় অঙ্কের টাকা পাওয়া যায়। যা তার দুই মাসের বেতনের সমান। বিষয়টি সন্দেহ জনক হওয়ায় খোঁজ খবর নিয়ে জানতে পারি তারা গত ৩ বছরে বাড়িতে প্রতি সপ্তাহে অনেক টাকা পাঠাতো। কাকরাইলে তাদের একজন দু:সম্পর্কের ভাই ছিল তার মাধ্যম। তারা অনেক টাকা আত্মসাৎ করেছে। কিন্তু তাদের আমি কিছু বলিনি। কারণ তাদেরকে আমার এলাকা থেকে পাঠিয়েছিল আমার-ই মেজ ভাই। তাদের সম্মান নিয়ে চলে যেতে দিয়েছি। আর আল্লাহর কাছে বিচার দিয়ে বলেছি, আল্লাহ তুমি যদি আমার কপালে সুখ রাখ এ ফুটপাতেই রাখতে পার। তবে আমি আগের মতো গরিব-অসহায় ও স্বল্প মানুষের মাঝেই আমার জীবিকা খুঁজে পেতে চাই। সব হারিয়ে আমার এখন আফসোস নেই। কারণ আমার দুটি সন্তান ও ছোট ভাইকে লেখা পড়া করাচ্ছি। ছোট ভাই অনার্স পড়ছে। বড় ছেলে এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষে পড়ছে। ছোট মেয়ে নবম শ্রেণী পড়ছে। ওরা শিক্ষিত হলে-ই আবার এমন বড় প্রতিষ্ঠান চালাতে পারবো। তখন ওদের পর্যাপ্ত শিক্ষার অভাবে দুই তলার বড় হোটেল ব্যবসায়ী থেকে ফুটপাতে নামতে হবে না। যা আমার জীবনে হয়েছে। সরেজমিনে দেখা যায়, লোকমান বর্তমানে কারওরান বাজারের বিজিএমইএ ভবন সংলগ্ন ফুটপাতের ওপর আগের মতোই দুটি পাতিল নিয়ে খাবার বিক্রি করছেন। নিজ হাতে বেড়ে দিচ্ছেন ভাত। তার দোকানে আগের মতো-ই মুটে-মজুর, গরিব, অসহায় ও স্বল্প আয়ের মানুষ খেতে আসছেন। তবে এখন আর আগের মতো ১০ টাকায় পেট পুরে খাবার দিতে পারেন না তিনি। এখন ডিম ও ভাত ৩০ টাকা, ঈলিশ মাছ ও ভাত ৭০ টাকা এবং মহিশের মাংস ও ভাত ৯০টাকায় পেট পুরে খাওয়াচ্ছেন। লোকমান জানান, ফুটপাতের এ ব্যবসা পরিচালনায়ও তাকে নিতে হয়েছে ৩ জন শ্রমিক। যাদের মাসিক ৩ থেকে ৫ হাজার টাকা বেতন দিতে হচ্ছে। তবে তিনি তার জীবনে আর ব্যবসা বাড়াতে চান না, কারণ চুন খেয়ে গাল পুড়েছে দই দেখলে ভয় হয়। প্রয়োজনীয় শিক্ষা না থাকলে তিনি ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে পারবেন না।হোটেল মালিক থেকে ফুটপাতে নেমে আসার জন্য আফসোস হয় কী না জানতে চাইলে লোকমান বলেন, আফসোস তো হয়-ই, কিন্তু আফসোস করে কী করবো। আফসোস করলে আরও বুকের যন্ত্রণা বেড়ে যাবে। তাই দুঃখ না করে সন্তানদের লেখা-পড়া করানোর চেষ্টায় আছি। মগবাজরে বাসা নিয়েছি। যেখানে ছেলে-মেয়ে, ছোট ভাই ও সহধর্মিনী আছে। সুখের অতীতকে ভুলে ফুটপাতের ব্যবসায়ী হলেও এক প্রকার সুখে-ই আছি। //এআর

ব্যস্ততা বেড়েছে কামারশালায়

আগামী ২ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হতে পারে মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহা। ঈদকে সামনে রেখে তাই ব্যস্ততা বেড়েছে কোরবানি সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পেশার মানুষের। একদিকে সরগরম গরু-মহিষ-ছাগল-ভেড়া কেনা বেচার বাজার অন্যদিকে কামারশালায় দিনরাত ঠুং-ঠাং আওয়াজ। কোরবানির উপযোগী দা-ছুরি বানানো এবং শান দিতে ব্যস্ত কামাররা। এক রকম পাল্লা দিয়ে কাজে নেমেছেন তারা। আগামী ২ সেপ্টেম্বর কোরবানির ঈদের তারিখ নির্ধারণ হওয়ায় দা-ছুরি সংস্কারের জন্য রাজধানীবাসী ইতোমধ্যে ভিড় করছেন কামারের কাছে। কেউ দাম-দর করছেন বাজার বোঝার জন্য কেউবা কিনে নিচ্ছেন পছন্দের দা-ছুরি। আজ বুধবার রাজধানীর কারওয়ান বাজার এলাকার কামারশালা ঘুরে এসব চিত্র দেখা যায়। দা-ছুরি কেমন বিক্রি হচ্ছে জানতে চাইলে সাহাবুদ্দিন নামের এক ব্যবসায়ী ইটিভি অনলাইনকে বলেন, আমাদের এখানে বিক্রি সব সময়ই ভালো হয়। তবে সামনে কোরবানি উপলক্ষে বিক্রি বেশি হয়। কেমন দাম জানতে চাইলে তিনি বলেন, সাধারণত এক কেজি ওজনের দা ৫শ’ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সোয়া কেজিগুলো বিক্রি হচ্ছে ৬শ’ থেকে ৭শ’ টাকা পর্যন্ত। আর ছুরি ৬০ টাকা থেকে ৩শ’ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। মুস্তাফিজুর রহমান নামের এক ক্রেতা বলেন, বছরের অন্যান্য দিনে এগুলোর ব্যবহার নেই। কসাই দিয়েই পশু জবাই করিয়ে নিই। তারপরও ছুরিটা লাগে তাই কিনতে আসা। হাফিজ নামের একজন বলেন, প্রতি বছরের ন্যায় এবার ঈদেও কন্ট্রাক্টে পশু জবাই করব আমরা কয়েকজন। এসময় ভালো মানের দা-ছুরির প্রয়োজন হয়। এখানে ভালো মানের দা-ছুরি পাওয়া যায়। তাই কিনতে এসেছি। তবে তিনি এ প্রতিবেদকের কাছে অভিযোগ করেন, বছরের অন্য সময়ের চেয়ে ঈদের আগে কামাররা দা-ছুরির দাম অনেক বেশি ধরছে। আর/ডব্লিউএন  

ভাসমান বীজতলায় ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন বানভাসীদের

বন্যাকবলিত এলাকায় কলা গাছের ভেলায় ভাসমান বীজতলা তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। অতিবৃষ্টি ও বন্যায় বীজতলা ডুবে যাওয়ার কারণে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের মাধ্যমে দেশের ১৪ জেলার ৫৬টি উপজেলায় ৭২০টি ভাসমান আমনের বীজতলা তৈরি করা হচ্ছে। এসব বীজতলায় উৎপাদিত আমন চারা কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বিতরণ করা হবে। এছাড়া ব্যক্তিগত উদ্যোগেও কলার ভেলা বা পচা কচুরিপানার ওপর ভাসমান বীজ তলা তৈরিতেও কৃষকদের উৎসাহিত করা হচ্ছে। মৌলভীবাজার, কিশোরগঞ্জ, সুনামগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলার কৃষকরা এখন ভাসমান বীজতলা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। ভাসমান বীজতলায় নতুন আশা দেখছেন হাওর ও বন্যা দুর্গত এলাকার কৃষকরা। নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছেন তারা। মৌলভীবাজার বন্যার পানি এখনো নামেনি। এদিকে রোপা আমন ধানের বীজতলা তৈরির সময়ও শুরু হয়ে গেছে। এই অবস্থায় কৃষি বিভাগের সহযোগিতায় মৌলভীবাজারের বন্যাপ্লাবিত উপজেলায় কৃষকেরা কলাগাছের ভেলায় রোপা আমনের ‘ভাসমান’ বীজতলা করেছেন। কলগাছের ওপর কচুরিপানা দিয়ে ভাসমান বীজতলা তৈরি করছেন কৃষক। ছবি সংগৃহিত কুলাউড়া, জুড়ী ও বড়লেখা উপজেলায় এই ভাসমান বীজতলা তৈরি করা হচ্ছে। তিন উপজেলার কয়েকটি এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নিচু এলাকা থেকে বন্যার পানি না নামায় বীজতলার জন্য কলাগাছ দিয়ে ১০ মিটারের ভেলা বানানো হয়েছে। এর প্রস্থ দেড় মিটার। কচুরিপানা বিছিয়ে ভেলার ওপর কাদামাটি ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এরপর বীজ ফেলা হবে। জুড়ীর কৃষি কর্মকর্তা দেবল সরকার বলেন, একেকটি ভাসমান বীজতলায় এক কেজি অঙ্কুরিত বীজ ছিটানো যায়। তাতে যে চারা জন্মাবে, তা এক বিঘা জমিতে রোপণ করা সম্ভব। জুলাই মাসের মাঝামাঝি থেকে বীজতলা তৈরির মৌসুম শুরু হয়ে গেছে। আর আগস্টের প্রথম সপ্তাহ থেকে রোপা আমনের চারা রোপণ করা হয়। কিন্তু নিচু এলাকার জন্য এবার বিআর-২২ জাতের রোপা আমনের বীজতলা তৈরি করা হচ্ছে। এটি বিলম্ব জাতের। আগস্ট মাসের শেষ দিকে এই জাতের ধানের চারা রোপণ করা যাবে। সংশ্লিষ্ট কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এবার কুলাউড়ায় ১৯ হাজার হেক্টর, জুড়ীতে ৮ হাজার ৪৬০ হেক্টর এবং বড়লেখায় ৮ হাজার ১৫০ হেক্টর জমিতে রোপা আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। মার্চ মাসের শেষ দিকে অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে তিন উপজেলায় হাকালুকি হাওরের বোরো ধান তলিয়ে নষ্ট হয়ে যায়। পরে আরও দুই দফা টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে এসব এলাকায় বন্যা হয়। এতে কিছু আউশ ধানও নষ্ট হয়ে যায়। কিশোরগঞ্জপ্রতিবছরই কিশোরগঞ্জে আমনের বীজতলা তৈরি নিয়ে দেখা দেয় নানা বিড়ম্বনা। সাধারণত অপেক্ষাকৃত উচু জমিতে বীজতলা তৈরি করা হয়। কিন্তু অতিবৃষ্টি কিংবা বন্যায় জমির পানি না সরলে কিংবা বীজতলা পানিতে তলিয়ে গেলে বিড়ম্বনায় পড়তে হয় কৃষকদের। দেখা দেয় আমন চারার সংকট। তবে কৃষকদের এ বিড়ম্বনা যেনো শেষ হতে চলেছে। কিশোরগঞ্জে প্রথমবারের মতো শুরু হয়েছে আমন ধানের ভাসমান বীজতলা তৈরি। এতে করে আশার আলো দেখছেন ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকরা। কৃষি বিভাগের সহযোগিতায় স্থানীয় কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করে জেলার ১০টি উপজেলায় ১৪৬টি ভাসমান বীজতলা তৈরি করা হয়েছে। ভাসমান বীজতলায় মৌসুমী শাক-সবজিও চাষ করা যায়। ছবি সংগৃহিত জেলার ১৩টি উপজেলার মধ্যে অর্ধেকের বেশি হাওর অধ্যুষিত। কৃষি বিভাগ জানায়, বাড়ির পাশের বদ্ধ ডোবা কিংবা হাওরের পানিতে কচুরিপানা দিয়ে মাচা তৈরি করা হয়। এসব মাচায় তৈরি করা হয় বীজতলা। এতে বাড়তি কোনো খরচ নেই। বীজতলা শেষ হয়ে যাওয়ার পর ওই মাচায় সবজি চাষ করা যায়। কয়েকবার সবজি চাষ করার পর মাচার পঁচা কচুরিপানা দিয়ে জমিতে জৈব সার তৈরি করা যায়। ফলে ভাসমান বীজতলা তৈরি করে লাভবান হচ্ছেন কৃষকরা। ১৫ মিটার দৈর্ঘ্য ও সোয়া এক মিটার প্রস্তের একেকটি ভাসমান মাচায় ধানের চারা দিয়ে এক বিঘা জমিতে আমন ধান রোপন করা যাবে। বিনা-৭ ও বিআর-২২ জাতের এসব চারা রোপন করা যাবে চলতি মাসের শেষ পর্যন্ত। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কটিয়াদী, কুলিয়ারচর, বাজিতপুর ও কিশোরগঞ্জ সদরের কয়েকটি এলাকায় এ বীজতলা তৈরি করা হয়েছে। //এআর

© ২০১৭ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি