ঢাকা, বুধবার, ২০ জুন, ২০১৮ ৭:৫৮:২৬

গান আমার আশ্রয়, ইভা অনুপ্রেরণা : মাহফুজুর রহমান

গান আমার আশ্রয়, ইভা অনুপ্রেরণা : মাহফুজুর রহমান

ড. মাহফুজুর রহমান। দেশের শীর্ষস্থানীয় দুটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এটিএন বাংলা ও এটিএন নিউজের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক। দেশে বেসরকারি টেলিভিশনকে জনপ্রিয় করতে যারা কাজ করেছেন তাদের মধ্যে অন্যতম তিনি। একজন সফল ব্যবসায়ী, গণমাধ্যমের কর্ণধার- এসব পরিচয়কে ছাপিয়ে যে পরিচয়টি তাকে তরুণদের মধ্যে বিশেষভাবে পরিচিত করে তুলেছে তা হলো- সঙ্গীত। স্ত্রী ইভা রহমান নামকরা গায়িকা। স্ত্রীর পাশাপাশি নিজেও গান গাওয়া শুরু করেছেন। যদিও তার গান গাওয়া নিয়ে কম কথা শুনতে হয় নি। ঈদের তৃতীয় দিন এটিএন বাংলায় রাত সাড়ে দশটায় প্রচারিত হবে ড. মাহফুজুর রহমানের বিশেষ সঙ্গীতানুষ্ঠান `মনে পড়ে তোমায়`। মাহফুজুর রহমানের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সঙ্গীতের প্রতি তাঁর রয়েছে অসম্ভব ভালোবাসা। এ ভালোবাসা থেকেই তিনি অনেক শিল্পীর জীবনে পৃষ্টপোষক হিসেবে কাজ করেছেন। অনেক শিল্পীর চলার পথকে করে করে দিয়েছেন সহজ। আবার সেই ভালবাসায় নিজেই নেমে পড়েছেন গানে। মাহফুজুর রহমান তাঁর গাওয়া গান নিয়ে প্রথম টিভি পর্দায় আসেন ২০১৬ সালে। ঈদুল আযহায় ঈদে প্রচার হয় তাঁর ‘হৃদয় ছুঁয়ে যায়’ শিরোনামের অনুষ্ঠানটি। এরপর গত বছর রোজার ঈদে প্রচার হয়েছে সঙ্গীতানুষ্ঠান ‘প্রিয়ারে’ এবং কোরবানির ঈদে প্রচার হয় একক সঙ্গীতানুষ্ঠান ‘স্মৃতির আল্পনা আঁকি’। এবার ঈদেও তাঁর গাওয়া গান নিয়ে প্রচার হবে একক সঙ্গীতানুষ্ঠান ‘মনে পড়ে তোমায়’। এবারের অনুষ্ঠানটি কীভাবে সাজানো হয়েছে জানতে চাইলে মাহফুজুর রহমান বলেন, `মনে পড়ে তোমায়` অনুষ্ঠানে রয়েছে মোট ১০টি গান। দেশে এবং দেশের বাইরের মনোরম লোকেশনে চিত্রায়িত হয়েছে গানগুলো। এর মধ্যে ভারতের প্রখ্যাত শিল্পী, সুরকার ও সঙ্গীত পরিচালক বাপ্পি লাহিড়ীর সুর করা গান রয়েছে দুটি। মোহাম্মদ ইকবাল হোসেনের লেখা গান দুটি হলো ‘তুমি ছুঁয়ে দিলে’ এবং ‘এক মুঠো প্রেম’। রাজেশ ঘোষের কথা, সুর ও সঙ্গীতে রয়েছে ‘হৃদয় জুড়ে আছো’ এবং ‘কি যে ব্যথা’ শিরোনামের দুটি গান। এছাড়া বাকি ছয়টি গানের সুর ও সঙ্গীত পরিচালনা করেছেন মান্নান মোহাম্মদ। গানগুলো হলো তুমি বিনা আমার জীবন, বিশ্বাস করো, ইচ্ছে করে, সেই কবে থেকে, মনে কি পড়ে তোমায় এবং বন্ধু জানো কি। গানগুলো লিখেছেন শেখ রেজা শানু, নাজমা মোহাম্মদ, দেলোয়ার আরজুদা শরফ এবং শহীদুল্লাহ ফরায়জী। এতো ব্যস্ততার মধ্যেও গানকে কীভাবে ভালোবাসলেন- এমন প্রশ্নের জবাবে মাহফুজুর রহমান বলেন, গান আমার আশ্রয়। আর কঠিন কর্মব্যস্ত জীবনে গানের মাঝেই আমি সুখ খুঁজে পাই। আর যে মানুষ সুরকে ভালোবাসে সে কখনো `অসুর` হতে পারে না। গান শুনে যার হৃদয় আলোড়িত হয় না, সে কখনো ভাল মানুষ হতে পারে না। মাহফুজুর রহমানের স্ত্রী জনপ্রিয় সংগীত শিল্পী ইভা রহমান। কাকে বেশি ভালোবাসেন, গানকে নাকি ইভাকে এমন প্রশ্নের জবাবে ড. মাহফুজুর রহমান হেসে বলেন, গান আমার আশ্রয় আর ইভা আমার অনুপ্রেরণা। চলার পথে আমার দুটোকেই দরকার। ইভা রহমানকে মূল্যায়ন করতে বলা হলে ড. মাহফুজুর রহমান বলেন, একজন পুরুষের চলার পথে নারীর অনুপ্রেরণা খুবই দরকার। ইভা প্রতিনিয়ত আমার সেই জায়গাটি পূরণ করে রেখেছে। ইভা সুন্দরী, ইভা ভালো গান গায়, ইভা ভালো ব্যবসায়ী। এটিএন গ্রুপের পরিচালক হিসেবেও ইভা দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে। এই সফল ব্যবসায়ী, সংগীত শিল্পী ও টিভি ব্যাক্তিত্বের ঈদ ভাবনা নিয়ে কথা শুরু করলে উঠে আসে তাঁর (মাহফুজুর রহমান) ছোটবেলার স্মৃতিকথা। তিনি বলেন, আমার ছোট বেলায় ঈদ প্রস্তুতি শুরু হতো একমাস আগে থেকেই। পুরো রমজান মাসেই আমি ঈদ প্রস্তুতি নিতাম। মা মেশিনে হাতে কাটা সেমাই তৈরি করতেন। আমরা ভাই বোনেরা পালাক্রমে ঘর সাজাতাম। কার্টুনের বাক্স কেটে ঘরে বড় করে লিখতাম `ঈদ মোবারক`। রঙিন কাগজ কেটে ঘরে লাগাতাম। নতুন জামা কাপড় কেনার আনন্দে রাতে ঘুম হতো না। ঈদের দিন দল বেঁধে ঘুরতাম। সবার বাড়ি যেতাম। মাহফুজুর রহমান এ সময় শিশু সুলভ হাসি দিয়ে বলেন ছোট বেলার ঈদ আমাদের কাছে যতোটা আনন্দের ছিল, এখন বড় বেলার ঈদ আমাদের কাছে ততোটা আতঙ্কের। প্রথম রোজা বা তার আগে থেকেই নিতে হয় টিভি অনুষ্ঠান নিয়ে প্রস্তুতি। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সময় ছাড়া কোনো ফুসরত নেই। কোন কোন অনুষ্ঠান বানানো হচ্ছে, সেগুলো মার্কেটিং- এর কী প্রস্তুতি নেওয়া হলো, নির্মাতারা কী বলছে, বিজ্ঞাপন বিভাগে কোনো সমস্যা আছে কি না এসব তদারকি করতে করতেই শেষ। তাঁর উপর আছে বেতন- বোনাস ঠিক মতো পরিশোধ করা। ব্যবসা দেখা। কর্মকর্তা কর্মচারীদের নানা ধরনের দাবি- আবদার। পুরো রোজার মাসটা এভাবেই যায়। ঈদের জন্য কী শপিং করেছেন এবার জানতে চাইলে মাহফুযুর রহমান হাসি মুখে বলেন, অনেক দিন আমি শপিংয়ে যাওয়ার সুযোগ পাই না। নিজে নিজের জন্য ঈদ শপিং কবে করেছি, তা ভুলেই গেছি। আমার এসব বিষয় আমার স্ত্রী দেখেন। কীভাবে কাটাবেন ঈদের দিন- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ঈদের দিন নামায পড়ে সারাদিন বিশ্রাম নেব। এই একটা দিন বিশ্রাম নেওয়ার সুযোগ। এই সুযোগ হাতছাড়া করতে চাইনা। হাসি খুশি বিনয়ী অথচ সফল ব্যবসায়ী ড. মাহফুজুর রহমান উঠে এসেছেন মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে। জানতে চাইলাম, আপনার এই সফলতার রহস্য কী? উত্তরে তিনি বললেন, মায়ের দোয়া। আমার মা সব সময় দোয়া করতেন, আমি যেন আমার লক্ষে পৌঁছতে পারি। মায়ের দোয়া কখনো বৃথা যায় না। তিনি এসময় বলেন, তবে আমার দু:খ আমার আজকের এ অবস্থান আমার মা দেখে যেতে পারেননি। আমি যখন ব্যাবসা শুরু করছি সেই ১৯৭৪ সালে। তার আগেই মা মারা যান। সাত ভাইয়ের মধ্যে আমার অবস্থান ছয়। ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশ থেকে নীট পোশাক ইউরোপে রপ্তানীর শুরু করি। দেশে প্রথম বেসরকারী টিভি চ্যানেল চালু করার কৃতিত্ব ড. মাহফুজুর রহমানের। একজন কঠিন পোশাক শিল্প ব্যাবসায়ীর মাথায় কীভাবে গণমাধ্যম চিন্তা তার মাথায় এল এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ১৯৯৫ সালে এই ব্যবসার খাতিরেই ভারতের মুম্বাই শহরে গিয়েছিলাম। সেখানে জি-টিভির কার্যক্রম দেখি। তখন আমার ইচ্ছা জাগে একই আদলে বাংলাদেশে একটি স্যাটেলাইট টেলিভিশন চালু করার । সেই ইচ্ছা থেকেই সেসময়ে মুম্বাই এর একটি চ্যানেল এটিএন-এর এক ঘন্টা সময় ভাড়া নিয়ে অনুষ্ঠান বানানো শুরু হয় করি। একসময় মুম্বাইয়ে এই চ্যানেলটি বন্ধ হয়ে গেলে চেষ্টা শুরু করেন পূর্ণাঙ্গভাবে একটি ২৪ ঘন্টার চ্যানেল শুরু করতে। থাইল্যান্ডের একটি স্যাটেলাইট ভাড়া নিয়ে, প্রতিদিন কুরিয়ার সার্ভিসে অনুষ্ঠানের টেপ পাঠিয়ে এসময় কার্যক্রম চালাতাম। তবে সে সময় এটিএন এর অনুষ্ঠান এবং বিজ্ঞাপনের মান নিয়ে যথেষ্ট সমালোচনা ছিল; এর উত্তরে মাহফুজুর রহমান বলেন, অভাবে স্বভাব নষ্ট হয়। অর্থাৎ সেসময় কোনো বিজ্ঞাপন পাওয়া যেত না বলে বিটিভি যে সিগারেটের বিজ্ঞাপন নিত না তাই তারা লুফে নিতেন। আবার বাজেট কম থাকার কারণে তাদের অনুষ্ঠানের মানও ভাল ছিল না। তবে সংবাদ প্রচার করার অনুমতি পাওয়ার পরপরই তার চ্যানেলের জনপ্রিয়তা বেড়ে যায় বলে মাহফুজুর রহমান।   / এআর /
আল মাহমুদের মহাকাব্য লেখার স্বপ্ন কাঁদে বিছানায়

মগবাজারের অন্য দশটা বাড়ির মতো সাধারণ একটি বাড়ির দোতলার একটি ফ্ল্যাটে থাকেন তিনি। সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবার। পাঁচ ছেলে তিন মেয়ে দেখভাল করেন। দেখভাল বললে ভুল হবে, অনেকটা আগলে রেখেছেন বাবাকে। বাবা এখন কথা বলতে পারেন না। ক্ষিধা, বাথরুমে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তা কিছুই অনুভব করেন না। দিনের বেশির ভাগ সময় ঘুমিয়ে কাটান। পরিবারের সদস্যরা কোনো কারণে ডাকলে বা কথা জিজ্ঞেশ করলে ইশারায় জবাব দেন। এতকিছুর মাঝেও তাঁকে যখন কানের কাছে বলা হলো একুশে টিভি অনলাইন থেকে সাংবাদিক এসেছেন, তখন তিনি চোখ খুলে তাকালেন। বলছি বাংলা সমকালীন সাহিত্যের অন্যতম দিকপাল কবি আল মাহমুদের কথা। যিনি নতুন চেতনায়, আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গিতে বাংলা কবিতাকে একটি নতুন কাঠামো দিয়েছেন। কবিতায় গদ্যশৈলী প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে বুদ্ধদেব বসু, জীবনানন্দ দাসের পাশাপাশি আরেকটি শক্তিশালী নাম যদি বলতে বলা হয় তিনি কবি আল মাহমুদ। মুক্তিযুদ্ধপূর্ব ও পরবর্তী স্বাধীন বাংলাদেশে তিনি কবিতায়, গল্পে, উপন্যাসে বাংলা সাহিত্যকে একদিকে যেমন সমৃদ্ধ করেছেন তেমনি ছিলেন দাপুটে সাংবাদিক-সম্পাদক। তাঁর হাত দিয়ে সম্পাদিত হয়েছে সত্তরের দশকের অন্যতম জনপ্রিয় দৈনিক গণকন্ঠ। একে একে লিখেছেন কালের কলস, মায়াবী পর্দা দুলে উঠো, সোনালি কাবিন, লোক লোকান্তরের মতো কাব্যগ্রন্থ। বাংলা সাহিত্যের বিরল সৃষ্টি সোনালি কাবিন তাঁকে এনে দেয় তুমুল জনপ্রিয়তা। সেই কবি এখন অসহায় শিশুর মতো ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে পার করছেন জীবনের শেষ সময়গুলো। নিজ হাতে খেতে পারেন না। উঠে বসতে পারেন না। চলাফেরা তো নয়ই। কবির শেষ ইচ্ছা কি পূরণ হবে পৃথিবীতে উল্লেখযোগ্য মহাকাব্যের সংখ্যা চারটি। তার মধ্যে দুটি বাংলা ভাষায় লিখিত রামায়ন ও মহাভারত। মহাকাব্যের গুণবিচারে পাশ্চাত্যে `ইলিয়ড’ ও ‘ওডিসি` বেশ জনপ্রিয়। মাইকেল মধুসূদন দত্তের মেঘনাদ বধ মহাকাব্য হিসেবে কতোটুকু সফল সে নিয়ে সাহিত্য সমালোচকরা এখনো বিতর্কে মাতেন। তবে বিংশ শতাব্দীর শেষার্ধে এসে একজন কবি মহাকাব্য লিখার কাজে হাত দেন। তিনি শক্তিমান কবি আল মাহমুদ। সুস্থ থাকা অবস্থায় সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন মহাকাব্য লেখার কাজ অনেকটা এগিয়েছে। কিন্তু এখনো শেষ হয়নি। এরমধ্যেই কবি মাইল্ড স্ট্রোক করলেন। ধকল কাটিয়ে উঠলেও ডাক্তার কড়া নিষেধ করে বললেন মস্তিকে কোনো চাপ না নেওয়ার জন্য। কবিকে আগে সুস্থ হতে হবে। তারপর লেখালেখি। কিন্তু কবির স্বাস্থ্যের ধীরে ধীরে অবনতি হচ্ছে। কবি এখন অনেক ইচ্ছার বাইরে। প্রশ্ন দেখা দিয়েছে কবির শেষ ইচ্ছা কী তাহলে পূরণ হবে না? বাংলা সাহিত্য কি পাবে না আধুনিক বাংলায় রচিত একটি মহাকাব্য? এক দুপুরে কবির বাসভবনে কবি আল মাহমুদ- এর বড় সন্তান মীর শরীফ মাহমুদ। দুপুরে বাসায় গেলে তিনিই এ প্রতিবেদককে নিয়ে বসালেন সরাসরি কবির রুমে। কবি তখন গভীর নিদ্রায়। কবিপুত্র তাকে কয়েকবার ডাকার পর কানের কাছে মুখ নিয়ে বললেন, ‘আব্বা, একুশে টেলিভিশন অনলাইন থেকে আপনাকে দেখতে এসেছেন।’ কবি উঠে বসার চেষ্টা করলে তাঁকে নিবৃত্ত করলেন ছেলে। কাছে গিয়ে এ প্রতিবেদক বসলে কবি ইশারায় হাত নাড়লেন। তারপর আবার গভীর ঘুম। এই ফাঁকে কথা হলো কবিপুত্রের সঙ্গে। কবিপুত্র জানালেন, তাদের মা নাবিলা মাহমুদ ২০০৯ সালে সংসার ও স্বজনদের মায়া ত্যাগ করে পাড়ি জমান পরপারে। স্ত্রীর বিদায় মেনে নিতে কষ্ট হয়েছে বিশুদ্ধ প্রেমিক হৃদয়ের কবি আল মাহমুদের। তারপর থেকেই তিনি চুপচাপ স্বভাবের হয়ে যান। এমনিতেও কবি চাপা স্বভাবের। কিন্তু স্ত্রীর মৃত্যু কবির চারপাশে যে একটা অদৃশ্য শুন্যতা তৈরি করে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। তারপর ধীরে ধীরে বাইরের সঙ্গে যোগাযোগ কমিয়ে দেন। গত দু`তিন বছর নিজ হাতে লিখতে পারতেন না। শ্রুতি লিখনেই কাজ চলতো। কবিপুত্র মীর শরীফ মাহমুদ আরও জানালেন, গত কয়েক বছর কবি শারিরীক কারণে ঈদের জামাতে যেতে পারেন নি। অন্য দশটা সাধারণ বাঙালি পরিবারে যেভাবে ঈদ আসে সেভাবেই ঈদ নামে কবি পরিবারে। মানুষজন আসেন। কবিকে সালাম করেন। কবির দোয়া চান। কবি চুপচাপ খাটে বসে থাকেন। শিশু সুলভ সরলতায় কথা বলেন। কবির সর্বশেষ বই বের হয়েছে এবছরের বই মেলায়। আত্মজৈবনিক উপন্যাস `জীবন যখন বাঁক ঘোরে`। এ বইটিও শ্রুতি লিখন। অবশ্য বই ছাপার কাজ শেষ হওয়ার আগেই মাইল্ড স্ট্রোক করেন কবি। নিউরোলজিস্ট অধ্যাপক আবদুল হাই কবির নিয়মিত চিকিৎসক। এখনো প্রতিনিয়ত রুটিন ওয়ার্ক করেন তিনি। চিকিৎসকরা কবিকে সব ধরনের খাবারই খেতে বলেছেন। তবে কবি খুব অল্প পরিমানে খান। খাদ্যতালিকায় সাধারণত যা থাকে তা হলো দুধ, সেদ্ধ ডিম, নুডলস, রুটি, কলা, ভাত, মুরগী, সবজি ইত্যাদি। দেশী মুরগী কবির খুব পছন্দ। ডাক্তারের পরামর্শ মতো কবিকে তিন বেলা ওষুধ খাওয়ানো হয়। কবিপুত্র মীর শরীফ মাহমুদ জানালেন, আল মাহমুদের ডায়াবেটিস নেই। প্রেসারের কোনো সমস্যাও নেই। মাইল্ড স্ট্রোক করলেও সেই সমস্যা কাটিয়ে উঠেছেন। শরীরে অন্য কোনো রোগ নেই। তাহলে? কবির সব রোগ বার্ধক্যজনিত। বার্ধক্য কবির বাকশক্তি, শ্রবন শক্তি কেড়ে নিয়েছে। আর দৃষ্টি শক্তি? সেটা কবি অনেক আগে বই পড়ে পড়ে নিজেই শেষ করেছেন। কবির পরিবার কবি আল মাহমুদ ব্যাক্তি জীবনে আট সন্তানের জনক। পাঁচ ছেলে ও তিন মেয়ে সবাই বিবাহিত। বড় ছেলে মীর শরীফ মাহমুদ আগে সাংবাদিকতা করতেন। এখন কিছুই করেন না। দ্বিতীয় সন্তান মীর মোহাম্মদ আরিফ, পেশায় ব্যবসায়ী। তৃতীয় সন্তান মীর মোহাম্মদ তারেক। পেশায় বীমা কর্মকর্তা। আতিয়া মীর কবি আল মাহমুদের চতুর্থ সন্তান। তিনি গৃহিনী। তার স্বামী ব্যবসায়ী। কবির পঞ্চম সন্তান তানিয়া মীর। তার স্বামীও একজন ব্যবসায়ী। জিনিয়া মীর কবির ষষ্ঠ সন্তান। তার স্বামীও একজন ব্যবসায়ী। কবির সপ্তম সন্তান মীর মোহাম্মদ মনির একটি বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিষ্ট্রার হিসেবে কর্মরত। কবির কনিষ্ট সন্তান মীর মোহাম্মদ আনিস। একটি বেসরকারি ব্যাংকে তিনি ইভিপি হিসেবে কাজ করছেন। কবির বড় সন্তান মীর শরীফ মাহমুদ এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, আমরা মায়ের শাসনে মানুষ হয়েছি। বাবাও শাসন করতেন। তবে বাবা ছিলেন নরম প্রকৃতির মানুষ। তিনি কখনো কঠোর ছিলেন না। মীর শরীফ মাহমুদ এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে আরও জানান, বাবা কখনোই হিসেবি সাংসারিক ছিলেন না। তিনি পড়াশুনা, সাহিত্য চর্চা এসবকে প্রাধান্য দিতেন। সংসারের জটিল মারপ্যাঁচ কখনোই তাকে স্পর্ষ করে নি। কবি বর্তমানে যে ফ্ল্যাটে বাস করেন সেটি কবি পরিবারের নিজদের সম্পত্তি। ২০০৪ সালে কবি পরিবার সেটি ক্রয় করেন। আধুনিক বাংলা কবিতার প্রবাদ পুরুষ কবি আল মাহমুদ সুস্থ হয়ে উঠুক, আবার সক্রিয় হোক তার কলম সেটাই প্রত্যাশা। / এআর /  

ঢাকা শিশু হাসপাতাল : অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বাড়ছে দুর্ভোগ

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে শ্যামলী এলাকায় ঢাকা শিশু হাসপাতাল অবস্থিত। শুধু শিশুদের চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হাসপাতালটিতে সাম্প্রতিক নানা সমস্যায় ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসাসেবা।  ১৯৬৮ সালে প্রতিষ্ঠিত ঢাকা শিশু হাসপাতালের কর্মকাণ্ড প্রথমে পরিচালিত হতো ধানমন্ডির ৩২ নম্বর সড়ক থেকে। পরে ১৯৭৬ সালে বর্তমানে যেখানে অাছে ( শ্যামলী বাসস্ট্যান্ডের পূর্বে) সেখানে কার্যক্রম শুরু করে ঢাকা শিশু হাসপাতাল। বিশ্বমানের হাসপাতালটি সাম্প্রতিক সময়ে নানা ধরনের সমস্যায় জর্জরিত। একদিকে যেমন এখানে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা নিয়ে কর্তৃপক্ষের কোনো তাগিদ নেই, অন্যদিকে রয়েছে রোগীর সঙ্গে দর্শনার্থীদের জন্য পর্যাপ্ত জায়গার অভাব। বাড়তি ফি অাদায়ের অভিযোগ রয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে।হাসপাতালে রোগীর স্বাস্থ্যের কথা বিবেচণায় রেখে সব সময় পরিষ্কার রাখার নিয়ম থাকলেও ঢাকা শিশু হাসপাতালে তার বালাই নেই। হাসপাতালের প্রবেশপথে দাঁড়ালেই দেখবেন চার দিকে ছড়িয়ে অাছে নানা ধরনের ময়লা আবর্জনা। হাসপাতালের পাশের ড্রেনে পচা ময়লা আবর্জনা জমে দুর্গন্ধ সৃষ্টি হওয়ায় নাকে রুমাল চেপে হাসপাতালে প্রবেশ করতে হয়। এর ভেতরেও নোংরা পরিবেশ বিরাজ করছে। এ হাসপাতালটির টয়লেট ও ওয়াশরুম দেখে মনে হয়েছে সর্বশেষ কবে পরিষ্কার করা হয়েছে তা পরিচ্ছন্নতাকর্মীরাও সঠিকভাবে বলতে পারবেন না। প্রায় প্রতিটি বাথরুম ব্যবহারের অনুপযোগী। তবুও অন্য কোনো উপায় না থাকায় রোগী ও তাদের স্বজন বাধ্য হয়ে সেগুলো ব্যবহার করছেন। এ প্রতিবেদকের সঙ্গে অালাপকালে রোগীর স্বজনরা অভিযোগ করে বলেন, এমন পরিবেশে যে কোনো সুস্থ শিশুও অসুস্থ হয়ে পড়ছে। অথচ দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে আসা রোগীর স্বজনদের দাবি, ভালো চিকিৎসার অাশায় স্থানীয় ডাক্তাররা তাদের এখানে আসার পরামর্শ দিয়েছেন। পটুয়াখালীর গলাচিপা থেকে চার বছর বয়সী শিশুকে নিয়ে ঢাকা শিশু হাসপাতালে এসেছেন জোবেদা ইয়াসমিন। একুশে টেলিভিশন অনলাইনের সঙ্গে অালাপকালে তিনি বলেন, হাসপাতালের বাথরুমের অবস্থা এতো খারাপ গত তিনদিন তিনি হাসপাতালের বাথরুম ব্যবহার করেননি । তিনি অারও বলেন, অাগে জানলে এখানে তিনি তার শিশুকে ভর্তি করাতেন না। একই অভিযোগের পুনরাবৃত্তি করলেন কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থেকে অাসা ফখরুল ইসলাম। তিনি বলেন, রোগীদের এসব সমস্যা নিয়ে কর্তৃপক্ষের কোনো মাথা ব্যাথা নেই। তার দাবি হাসপাতালের পরিবেশের সমস্যা যেন অতিদ্রুত সমাধান করা হয়। এদিকে, ৬৫০ শয্যার ঢাকা শিশু হাসপাতালে দূর থেকে আসা রোগীর স্বজনদের জন্য নেই পর্যাপ্ত থাকার ব্যবস্থা। গরিব রোগীরা অর্থ সংকটে সিট না পেয়ে নিরুপায় হয়ে হাসপাতালের বাইরে পলিথিন বিছিয়ে রাত পার করে। গত কয়েক রাত ধরে সেভাবে রাত পার করছেন গফরগাঁওয়ের যুবক অামিন উল্লাহ। তিনি ও তার স্ত্রী সন্তানের চিকিৎসার অাশায় ঢাকা শিশু হাসপাতালে অাছেন গত কয়েকদিন ধরে। ঢাকা শিশু হাসপাতালে বাড়তি ফি আদায়ের উদ্দেশ্যে রোগীর অপারেশন কার্যে বিলম্ব হচ্ছে, এমন অভিযোগ করেন কয়েকজন রোগীর স্বজন। সুস্থ রোগীকে নানা অজুহাতে হাসপাতালে দিনের পর দিন ভর্তি করিয়ে রাখার অভিযোগ করেছে একাধিক রোগীর স্বজন। রোগীর স্বজনরা এসব অভিযোগ নিয়ে ক্ষোভে ফুঁসলেও নির্বিকার প্রশাসন। ঢাকা শিশু হাসপাতালে দীর্ঘদিন ধরে অভাব দেখা দিয়েছে আধুনিক যন্ত্রপাতির। হাসপাতালের নিজস্ব কোনো সিটি স্ক্যান মেশিন নেই। যদিও একটি এক্সরে মেশিন অাছে তবে তা পর্যাপ্ত নয়। যাবতীয় পরীক্ষা বাইরে করতে হয় বাইরে গিয়ে। পর্যাপ্ত আসন সংকট, আধুনিক যন্ত্রপাতির অভাব, জনবল কাঠামোয় সমস্যা, পরিচ্ছন্নতা কর্মী সংকট, পর্যাপ্ত নার্স সংকট, ইমার্জেন্সি ডাক্তারদের আবাসিক হোস্টেল সংকটসহ নানাবিধ কারণে ঢাকা শিশু হাসপাতালের চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হচ্ছে। চিকিৎসা সেবায় প্রতিনিয়ত সৃষ্টি হচ্ছে নানা সমস্যা। এ কারণে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল জেলা ও উপজেলা থেকে ছুটে আসা রোগী ও তাদের স্বজনরা একদিকে যেমন চরম বিড়ম্বনায় পড়ছেন অন্যদিকে তেমনি রাষ্ট্রীয় অর্থে পরিচালিত হাসপাতালটির সুনাম নিয়েও উঠছে প্রশ্ন। ঢাকা শিশু হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. অাবদুল অাজিজ একুশে টেলিভিশন অনলাইকে বলেন, এটি শিশুদের জন্য দেশের বৃহৎ একটি হাসপাতাল। সারা দেশ থেকে যে পরিমাণ রোগী আসে সে তুলনায় আসন সংকট রয়েছে। ২০০ থেকে বর্তমানে ৬৫০ বেডের হাসাপাতালে উন্নতি হয়েছে এটি। কিন্তু শয্যা আরও বাড়ানো দরকার। হাসপাতালের পরিবেশ নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টি আমরাও লক্ষ্য করেছি। কিন্তু আমাদের পরিচ্ছন্নতা কর্মী সংকট থাকায় এ সমস্যা হচ্ছে। হাসপাতালে আধুনিক যন্ত্রপাতির সংকট থাকায় রোগীদের সমস্যা হচ্ছে। এ ছাড়া হোস্টেল সমস্যা, নার্স ও ডাক্তার সংকট নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলাপ চলছে। অাশা করছি খুব শিগগিরই অামরা এসব সমস্যা কাটিয়ে উঠতে পারবো। অধ্যাপক ডা. মো. অাবদুল অাজিজ অারও বলেন, তবে আমি সবর্দা চেষ্টা করেছি হাসপাতালের সার্বিক উন্নয়ন ঘটাতে। কতটুকু পেরেছি বর্তমানে হাসপাতালের পরিস্থিতিই তার প্রমাণ। উল্লেখ্য, ঢাকা শিশু হাসপাতালে দাপ্তরিক বর্তমানে ৬৫০ আসনবিশিষ্ট এ হাসপাতালটিতে ২৫ জন অধ্যাপক, ১৭ জন সহযোগী অধ্যাপক, দুজন সিনিয়র কনসালট্যান্ট এবং ৩০ জন সহকারী অধ্যাপক, ২৯৬ জন নার্স এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ ৮৩৭ জন কর্মরত অাছেন। এসএইচ/

দালালের খপ্পরে পঙ্গু হাসপাতাল

মানুষের পাঁচটি মৌলিক অধিকারের মধ্যে অন্যতম চিকিৎসা বা স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার অধিকার। সেই অধিকারের কথা বিবেচনায় রেখেই রাষ্ট্র ধনী-গরিব সব রোগীর চিকিৎসার্থে প্রতিষ্ঠা করে সরকারি হাসপাতাল। রাজধানী ঢাকায় তেমনি অন্যান্য সরকারি হাসপাতালগুলোর মধ্যে একটি হলো জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পূনর্বাসন প্রতিষ্ঠান। তবে অনেকের কাছে এটি পঙ্গু হাসপাতাল নামে পরিচিত। রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে হাসপাতালটি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৭২ সালে। মূলত হাড়ভাঙ্গা, হাড়জোড়া দেওয়া, হাতে টিউমার, দুর্ঘটনায় অাঘাতপ্রাপ্ত, পঙ্গু-বিকলাঙ্গ রোগীদের চিকিৎসা দেওয়ার কথা মাথায় রেখেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল। তবে অন্য অনেক সরকারি হাসপাতালের মতো জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতালের বিরুদ্ধেও রয়েছে নানা অনিয়মের অভিযোগ। বিশেষ করে দালালদের দৌরাত্মে সাধারণ রোগীরা একদিকে যেমন প্রতারিত হয় অন্যদিকে বঞ্চিত হয় চিকিৎসা সেবা থেকে। হাসপাতালটির বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে ও রোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতালে নিয়মিত সক্রিয় থাকে কয়েকটি দালাল চক্র। এছাড়া চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীরাও অনেক সময় সক্রিয় থাকে দালালীতে। বর্হিবিভাগের কাজ মূল ভবন থেকে দক্ষিণ-পূর্ব দিকের ভবনে স্থানান্তরের পর সেই দালাল চক্রটি অারও সক্রিয় হয়ে উঠে। প্যাথলজি ও এক্সরে বিভাগেও রোগীদেরকে সব সময় দালালদের কাছে জিম্মি থাকতে হয়। এ ব্যাপারে কথা হয় বর্হিবিভাগে চিকিৎসা নিতে অাসা ফারজানা অাক্তারের সঙ্গে। ফারজানা অাক্তারের বাড়ি ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলায়। তার ছেলে বশির অাহমদ সড়ক দুর্ঘটনায় হাত ভেঙ্গে ফেলেন। তাই এখানে চিকিৎসা নিচ্ছেন। ফারজানা অাক্তার এই প্রতিবেদকের কাছে অভিযোগ করে বলেন, সরকারি হাসপাতালে নিয়ম অনুযায়ী এক্সরে ফি ৫৫ টাকা। কিন্তু সিরিয়াল এগিয়ে দিতে রোগীপ্রতি খরচ হয় ২০০ থেকে ৩০০ টাকা। একই অভিযোগ করলেন কুমিল্লার চান্দিনা থেকে অাসা যুবক ও মোহাম্মদপুর মাদ্রাসার ছাত্র অাবুল কাশেম। এ প্রতিবেদকের কাছে তিনি অভিযোগ করে বলেন, ড্রেসিং, এমঅারআই, সিটিস্ক্যান, অালট্রাসনোগ্রাফী সবকিছু পরীক্ষার সিরিয়াল নেওয়ার জন্য অতিরিক্ত টাকা গুনতে হয় রোগীদের।  টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে সিরিয়াল পিছিয়ে দেওয়া হয়। অার তাতে রোগীর অবস্থা সংকট থেতে সংকটাপন্ন হয়। হাসপাতালটির কেবিন ব্লকে ১১৫ নং কেবিনে অালাপ হলো সুলতানা করিম নামে একজন রোগীর সঙ্গে। তিনি জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ে উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগে পড়ছেন। বাথরুমে পা পিছলে পড়ে পায়ের হাড় ভেঙে যায় সুলতানা করিমের। এ প্রতিবেদকের সঙ্গে অালাপকালে তিনি অভিযোগ করে বলেন, কেবিন খালী থাকলেও কেবিন পাওয়া যায় না। উচ্চপদস্থ কোন কর্মকর্তা বা বড় কোন রাজনীতিবিদের ফোন ছাড়া সহজে কেবিন দেওয়া হয় না। একই অভিযোগ করলেন গোপালগঞ্জ থেকে বোনকে নিয়ে হাসপাতালে অাসা যুবক অাবুল কালাম অাজাদ। এ প্রতিবেদককে তিনি বলেন, এখানে ডাক্তারদের অাচরণ সহনশীল। তবে অায়া বুয়াদের অাচরণ জঘন্য। পাশাপাশি দালালদের কাছে সব সময় জিম্মি থাকতে হয়। কেমন জিম্মি জানতে চাইলে তিনি বলেন, ড্রেসিং, এমঅারঅাই, সিটিস্ক্যান, অালট্রাসনোগ্রাফী সবজায়গাতে দালালদের শরনাপন্ন না হলে সেবা পাওয়া যায় না। প্যাথলজি বিভাগে রোগীদের ওষুদের রশীদ দেওয়া হয় না। মিথ্যা কথা বলে অাদায় করা হয় বেশি অর্থ। জরুরি বিভাগ, অপারেশন থিয়েটার, এক্সরে বিভাগ, রক্ত পরিসঞ্চালন বিভাগেও চলে দালালদের দৌরাত্ম্য। তবে এসব দালালরা বেশির ভাগই হাসপাতালের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী।  জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে অারেকটি দালাল চক্র সক্রিয়। তবে তারা হাসাপাতালে ওয়ার্ডে বা কেবিনে কাজ করে না। তাদের ডিউটি মূল ফটক ও অাশে পাশের এলাকায়। এরা মূলত গ্রাম থেকে অাসা সহজ সরল রোগীদের বিভ্রান্ত করে হাসপাতালে ভর্তি হতে না দিয়ে শ্যামলী ও মোহাম্মদপুর এলাকার বিভিন্ন ক্লিনিকে নিয়ে যায়। এক দালালের সঙ্গে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে কথা বললে নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানায়, সরকারি হাসপাতালের রোগী কোন ক্লিনিকে নিয়ে গেলেই রোগী প্রতি পাওয়া যায় দুই হাজার টাকা কমিশন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এই দালাল স্বীকার করেন জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে রোগী ভাগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য ১৫ থেকে ২০ জন দালাল উঁৎ পেতে থাকে। অাগে এই সংখ্যা অারও বেশি ছিল। গত বছর পুলিশ ও র‌্যাবের চালানো কয়েকটি অভিযানের পর দালালদের তৎপরতা বন্ধ হয়ে গেলেও সম্প্রতি অাবার তাদের দৌরাত্ম শুরু হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অন্য এক দালাল স্বীকার করলেন তিনি শ্যামলীর একটি কৃত্রিম পায়ের দোকানের সঙ্গে চুক্তি ভিত্তিতে কাজ করেন। সরকারি হাসপাতালে বেশি টাকা খরচ হবে- এমন অভিযোগে ফুঁসলিয়ে রোগীদের ওই দোকানে নিয়ে কৃত্রিম পা বিক্রি করতে পারলেই জোটে মোটা অংকের কমিশন। অথচ জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পূনর্বাসন কেন্দ্রে সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে রয়েছে পা লাগানোর সুযোগ।  এব্যাপারে হাসাপাতালের কোন কর্মকর্তা কথা বলতে রাজী হননি। বরং তেমনি একজন কর্মকর্তা পরামর্শ দেন এ ব্যাপারে হাসপাতালের পরিচালক ইকবাল কাভীর সঙ্গে কথা বলার জন্য। কিন্তু পরিচালক ইকবাল কাভীর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।   এসএইচ/

চিকিৎসক ও জনবল সঙ্কটে ধুঁকছে কুর্মিটোলা হাসপাতাল

রাজধানীর কুর্মিটোলায় ঢাকা সেনানিবাসের আর্মড ফোর্সেস মেডিকেল কলেজের পাশে এবং হোটেল র‍্যাডিসন ব্লু-এর বিপরিতে চমৎকার দৃষ্টিনন্দন কাচঘেরা দুটি ভবন। পাশাপাশি দাঁড়ানো ১২ তলার ভবন দুটি দেখে বাইরে অপরিচিত কারো বোঝার জো নেই যে, এগুলো হাসপাতাল ভবন। সবুজ কাচে ঘেরা এই হাসপাতালের নাম কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল। ২০১২ সালের ১৩ মে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালটি উদ্বোধন করেন। অন্যান্য সরকারি হাসপাতালগুলোর চেয়ে এর বিশেষত্ব হচ্ছে- হাসপাতালের পরিবেশ নির্মল। অন্যান্য হাসপাতালগুলোর মতো ঘিনঝি নয়, খোলামেলা বিশাল জায়গা নিয়ে গড়ে উঠেছে। রোগীর চাপও মাত্রাতিরিক্ত না হওয়ায় রোগী ও তার অ্যাটেনডেন্টদের দুর্ভোগ পোহাতে হয় না। মাত্র ১০ টাকার টিকিট কেটে লাইনে দাঁড়িয়ে সুশৃংখলভাবে বিশেষজ্ঞ ডাক্তার দেখানোর সুযোগ মেলে রোগীদের। আর ভর্তি হতে লাগে মাত্র ১৫ টাকা। পরীক্ষা নিরীক্ষার ব্যায়ও কম। অত্যাধুনিক সব প্রযুক্তি ও চিকিৎসা সরঞ্জামে সুসজ্জিত এই হাসপাতালে কম খরচেই চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে এবং সেটা সবার জন্য। এ নিয়ে রোগীরা বেশ সন্তুষ্ট। তবে হাসপাতালটির তিনটি বড় সমস্যা এখনও রয়ে গেছে। প্রথমত : জনবল, দ্বিতীয়ত: অবস্থান বা যোগাযোগ। তৃতীয়ত : সরকারি হাসপাতাল হওয়া সত্ত্বেও ফ্রি ওষুধের সীমাবদ্ধতা। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ভালো সেবা দেওয়ার জন্য যে পরিমাণ চিকিৎসক, টেকনিশিয়ান ও অন্যান্য জনবল থাকা প্রয়োজন, তা না থাকায় ধুঁকছে হাসপাতালটি। মাত্র ৪০ শতাংশ জনবল দিয়ে এখানে সেবা কার্যক্রম চলছে। কষ্ট করে হলেও চিকিৎসকরা তাদের দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া বনানী, কাকলী পেরিয়ে জিয়া কলোনি বা এমইএস বাসস্ট্যান্ড এবং বিশ্বরোডের মাঝামাঝি কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের অবস্থান। এ দুটি বাসস্টপ ছাড়া কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের সামনে বাসস্টপেজ তৈরি করা হলেও সেখানে বাস থামছে না । সে কারণে হাসপাতালে আসা যাত্রীদের এই দুটি বাস স্ট্যান্ডে নামতে হয়। হেটে হাসপাতালে আসতে হয়। দূরত্ব হিসাব করে দেখা যায়, জিয়া কলোনি থেকে কুর্মিটোলা হাসপাতালের দূরত্ব প্রায় পৌনে ১ কিলোমিটার। আবার জোয়ার সাহারা থেকে দূরত্ব ১ কিলোমিটারের বেশি। এখন কোনো রোগীকে হাসপাতালে আসতে হলে হেঁটেই আসতে হয়। এই পথটুকু পাড়ি দিয়ে হাসপাতালে আসতে চাইলে বিকল্প যানবাহনের কোনো ব্যবস্থা নেই। আবার, হাসপাতালটির বিপরীত দিক অর্থাৎ গাজীপুর, টঙ্গী, এয়ারপোর্ট উত্তরা, কুড়িল হতে হাসপাতালটিতে আসতে চাইলে অনুরূপভাবে হাসপাতালের অবস্থানের উল্টোদিকের জোয়ার সাহারা অথবা জিয়া কলোনির বাসস্টপে রোগীদের নামতে হয়। জোয়ার সাহারা বাসস্টপে ফুটওভার ব্রিজ থাকলেও জিয়া কলোনি তথা হাসপাতালের সামনে কোনো ফুটওভারব্রিজ নেই। ফলে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রোগীদের রাস্তা পার হতে হয়। রোগীরা যা বললেন ক্যান্টনমেন্ট সংলগ্ন হওয়ায় কুর্মিটোলা হাসপাতালটি সেনাবাহিনীর সদস্যদের জন্য তৈরি হাসপাতাল মনে করে সাধারণ মানুষ এটি এড়িয়ে যেত। তবে, এ চিত্র বদলে যেতে খুব একটা সময় লাগেনি। লোকমুখে শুনে এখন অনেকেই সেবা নিতে হাসপাতালটিতে আসছেন। হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা আবুল মনছুরের সঙ্গে কথা হয় এই প্রতিবেদকের। তিনি এসেছেন ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা উপজেলা থেকে। এ বছরের ২৬ মে তিনি তার স্ত্রীকে এ হাসপাতালে ভর্তি করিয়েছেন। এত দূর থেকে কেন এখানে আসা- এমন প্রশ্নের জবাবে আবুল মনছুর জানান, তার স্ত্রীর মেয়েলি একটা সমস্যা আছে। জেলা সদরসহ বিভিন্ন জায়গায় ডাক্তার দেখিয়েছেন। তারা সবাই ঢাকায় নিয়ে আসার পরামর্শ দেন। তার আত্মীয়স্বজন টঙ্গীতে থাকে। তাদের কাছ থেকে এই হাসপাতালটির নাম শুনে এসেছেন। এখানকার ডাক্তাররা পরীক্ষা করে রোগী ভর্তি করেছেন। সিট পেতে কোন সমস্যা হয়নি। ডাক্তার অপারেশনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ২-৩ দিনের মধ্যে অপারেশন করবেন। আবুল মনছুর হাসপাতালের সেবা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। চর্ম ও যৌনরোগ বিভাগের সামনে টিকিট নিয়ে দাঁড়ানো মাত্র মোক্তাদির বিল্লাহ ভেতরে যাওয়ার সুযোগ পেয়ে গেলেন। ডাক্তার দেখিয়ে বেরিয়ে এসে বলেন, ‘লাইন ধরতে হয়নি। লোকের চাপ কম বিধায় খুব সহজেই ডাক্তার দেখাতে পেরেছি।’ হাসপাতালটির নিচতলায় ওষুধ বিতরণের কাউন্টার থেকে ওষুধ নিয়ে ফেরার মুহূর্তে কথা  হয় মনোয়ারা বেগমের সঙ্গে। তিনি এসেছেন রামপুরা থেকে। মনোয়ারা বেগম বলেন, ‘কয়েক দিন ধরে আমার শ্বাসকষ্ট হচ্ছিল। এখানে আসার পর পরীক্ষা নিরীক্ষা করে ডাক্তার কিছু ওষুধ দিয়েছেন। আমাকে ২ সপ্তাহ ওষুধ খাওয়ার জন্য বলেছেন। হাসপাতাল থেকে বিনামূল্যে তিন দিনের ওষুধ দিয়েছে। বলেছেন, তিন দিন পর এসে ফের ওষুধ নিতে। মনোয়ারা বেগমের মতো আরও কয়েকজন রোগি এ প্রতিবেদকে জানান, সরকারি যে ওষুধ বিনামূল্যে দেওয়া হয় তা মাত্র তিন দিনের জন্য। এই ওষুধ পেতে হলে আবার এখানে আসা লাগবে এটি একটি বড় সমস্যা। এছাড়া পর্যাপ্ত ফ্রি ওষুধও নেই। দিন দিন বাড়ছে রোগীর চাপ সাধারণ মানুষের সেবা দেওয়ার উদ্দেশ্যে ২০১২ সালের ১৩ মে যাত্রা শুরু করে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল। শুরুর অল্প দিনের মধ্যে ধীরে ধীরে রোগীর চাপ বাড়তে থাকে। তবে এখন চাপ যেন বেড়েই চলছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ২৫ মে বহির্বিভাগে ১৮২৬ জন রোগী চিকিৎসা নিতে এসেছিলেন। আর ইনডোরে ১২ জুন সর্বোচ্চ ২৭৪ জন রোগী ভর্তি হয়েছিল। গত বছরের প্রথম ৫ মাসে জটিল অপারেশন হয়েছে ৫৪০ জনের। আর সাধারণ অস্ত্রোপচার হয়েছে ৩১৮ জনের। সেই হিসাবে রোজ ৬টি জটিল অস্ত্রোপচার আর চক্ষুসহ ৮টি সাধারণ অপারেশন হয় হাসপাতালটিতে। বিশেষ করে সার্জারি বিভাগে গত জুন মাসে জটিল ৭টি, সাধারণ ৪২টি আবার একই মাসে গাইনি ও প্রসূতি বিভাগে জটিল ১২টিসহ নাক-কান-গলা বিভাগে জটিল ৭টি ও আর্থো-সার্জারি বিভাগে জটিল ১০টি, সাধারণ ১টি, এমনকি মে মাসে চক্ষু বিভাগে জটিল ৪৬টি অস্ত্রোপচার হয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত বছরের জুন মাসে হাসপাতালটির আয় হয় ১৭ লাখ ২০ হাজার ৪৫০ টাকা আয় হয়। এই টাকা প্যাথলজি, এক্সরে, আলট্রাসনো, ওপিজি, সিটি স্ক্যান, এন্ডোস্কপি, ইসিজি, ওপিডি, অ্যাম্বুলেন্স ও জরুরি সেবা থেকে এসেছে। বর্তমানে রোজ গড়ে প্রায় তিন হাজারের মতো রোগী হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসছেন। তাদের মধ্যে ভর্তি হচ্ছেন প্রায় সাড়ে ৩০০ রোগী। নানা সঙ্কটে ধুঁকছে দেশের অন্য অনেক হাসপাতালের মতোই সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠতে পারেনি সরকারি এ হাসপাতাল। এখনও অনেক বিভাগ চালু করা সম্ভব হয়নি। চিকিৎসক থেকে শুরু করে সব বিভাগেই লোকবল সংকট রয়েছে। হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাইদুর রহমান নিজেও বিষয়টি স্বীকার করেছেন। একুশে টেলিভিশন অনলাইনকে তিনি বলেন, লোকবল ও বাজেট সংকটের কারণে হাসপাতালটি পরিপূ্র্ণভাবে সেবা দিতে পারছে না। মেডিকেল কলেজ অধিভুক্ত না থাকায় হাসপাতালটিতে অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক ও সহকারী অধ্যাপকের কোনো পোস্ট নেই। ফলে অনেক রোগের চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না এখানে। জানা গেছে, কর্মকর্তা-কর্মচারী মিলিয়ে ৩৯৬ জন কর্মরত রয়েছেন হাসপাতালটিতে। চিকিৎসক হিসেবে নিয়োজিত আছেন ১০২ জন। সার্বিক তদারকি ও রক্ষণাবেক্ষণে দায়িত্ব পালন করছেন ৭৭ জন নার্স। শিক্ষানবিশ বা ইন্টার্নি চিকিৎসক ও জুনিয়র নার্সরা সেবার কাজে ভূমিকা রাখছেন। ৫০০ বেডবিশিষ্ট এ হাসপাতালে বিশেষ রোগীদের জন্যও রয়েছে ১২টি কেবিনের ব্যবস্থা। প্রতিষ্ঠানটির যাত্রাপরবর্তী সময়ে রোগীর ভিড় খুব বেশি না থাকলেও এখন তা কয়েক গুণ বেড়েছে। কর্তৃপক্ষের দাবি মাত্র ৪০ শতাংশ জনবল দিয়ে এখানে সেবা কার্যক্রম চলছে। আরও ৫৭০ জন জনবল চাওয়া হয়েছে সরকারের কাছে। এই চাহিদা পূরণ হলে চিকিৎসা সেবার মান বাড়বে। যেসব সেবা পাওয়া যায় জরুরি বিভাগ থেকে শুরু করে হাসপাতালটিতে মেডিসিন, অর্থোপেডিক্স, গাইনি অ্যান্ড অবস, চর্ম ও যৌন, নাক-কান-গলা, চক্ষু ও ডেন্টাল বিভাগ চালু আছে। পাশাপাশি বার্ন ইউনিট, সোয়াইন ফ্লু ও ইবোলা ইউনিটও খোলা হয়েছে। এছাড়া নিউরো সার্জারি, কার্ডিয়াক সার্জারি, ইউরোলজি, নিউরোলজি, নেফ্রোলজি, মনোরোগ, ফিজিক্যাল মেডিসিন, এনআইসিইউ, ডায়ালাইসিস আর ব্লাড ব্যাংক। রয়েছে টিবি ডটস কর্নার, টিকাদান কেন্দ্র ও পরিবার পরিকল্পনা বিভাগও। গরীব-মুক্তিযোদ্ধাদের ফ্রি পরীক্ষা-নিরীক্ষা সিটি স্ক্যান, আলট্রাসনোগ্রাম, এন্ডোসকপি, এমআরআই, এক্সরে, রক্তের বিভিন্ন ধরনের পরীক্ষা করার সুবিধা রয়েছে হাসপাতালটিতে। হাসপাতালটির নিচতলার বেজমেন্টে রেডিওলজি অ্যান্ড ইমেজিং বিভাগে উন্নত মেশিন দ্বারা পরীক্ষা নিরীক্ষার সুবিধা আছে। ঢাকা শহরের সরকারি বিশেষায়িত হাসপাতালে পরীক্ষা করার জন্য যে চার্জ নেওয়া হয়, এখানেও একই চার্জ প্রযোজ্য। তবে গরিব ও মুক্তিযোদ্ধাদের বিনামূল্যে পরীক্ষা করা হয়। এখানকার চিকিৎসা সরঞ্জামাদিও ভালো মানের। নির্মল পরিবেশ ১২ তলার এই হাসপাতালটি ৫০০ বেডের। এটির সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট হচ্ছে নির্মল পরিবেশ। ফাঁকা জায়গায় হওয়ায় প্রচুর আলো বাতাস পাওয়া যায়। অপারেশন থিয়েটার (ওটি) সুবিধা বিদ্যমান এবং আইসিইউ এবং সিসিইউ ব্যবস্থাও রয়েছে। বেজমেন্টে ২ তলা। হাসপাতালটিতে লিফট রয়েছে ৭টি। ৫৬টি কেবিন, ২টি ভিআইপি কেবিন আছে। শিশু ওয়ার্ডের পাশে শিশুদের অত্যাধুনিক খেলার রুম, রোগী এবং চিকিৎসকদের জন্য দুটি বিশাল ক্যাফেটেরিয়া, বসার জায়গাসহ অনেক সুযোগ সুবিধা রয়েছে। রোগী বহনের জন্য ২টি এম্বুলেন্স আছে। হাসপাতালে লাশ রাখার ফ্রিজের ব্যবস্থাও রয়েছে। পুরো হাসপাতালটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত। মুখোমুখি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার সাইদুর রহমান একুশে টেলিভিশন অনলাইনকে বলেন, সব ধরণের রোগী আমাদের এখানে আসছেন। হাসপাতালে আসা-যাওয়া অনেকটাই নির্ভর করে হাসপাতালটির অবস্থান, রোগীদের আসা-যাওয়ার সুযোগ সুবিধার ওপর। আমি স্বীকার করে নিচ্ছি এই হাসপাতালে রোগী আসা-যাওয়ায় কিছুটা অসুবিধা হয়। বিশেষ করে কুড়িল, বাড্ডা থেকে যারা আসেন, তাদের রাস্তার ওপারে অর্থাৎ আমাদের হাসপাতালের বিপরীত দিকে নামতে হয়। হাসপাতালটির সামনে ফুটওভার ব্রিজ না থাকার কারণে রোগীদের আসায় অসুবিধা হচ্ছে। আর মহাখালী থেকে যারা আসেন, তাদের জিয়া কলোনিতে নামতে হয়। তারপর হেঁটে আসতে হয়। সেনাবাহিনীর এলাকা বলে কিছু বিধিনিষেধও রয়েছে। ফলে অনেকটা পথ তাদের হেঁটে আসতে হচ্ছে। শীতের সময়টায় অসুবিধা কম হলেও গরমের সময়টায় রোঁদে ঘেমে একাকার আবার কখনো বৃষ্টিতে ভিজে আসতে হয়। এসব বাধা সত্ত্বেও হাসপাতালের সেবা এবং পরিবেশ ভালো থাকায় রোজ প্রায় ৩ হাজার রোগী আসছে। তিনি আরও বলেন, বেশি রোগী এলেও আমাদের সেবা দিতে হিমশিম খেতে হবে। ঠিকমতো সেবা দিতে পারব না। কারণটা হলো, সেবা দিতে আমার চিকিৎসক ও নার্সসহ যে লোকবল প্রয়োজন তা আমাদের নেই। লোকবল সংকট নিরসনের উদ্যোগ কতটুকু-এমন প্রশ্নের জবাবে এই সেনা কর্মকর্তা বলেন, আমরা সরকারের সংশ্লিষ্ট সবাইকেই জানিয়েছি। ইতোমধ্যে হাসপাতালটিতে মাননীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী কয়েকবার এসেছেন। মন্ত্রী হাসপাতালটির জন্য অত্যন্ত আন্তরিক। লোকবল সংকটের বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছি। যা বর্তমানে অর্থ মন্ত্রণালয়ে আছে। কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে কী কী অপারেশন হয় জানতে চাইলে এই পরিচালক বলেন, আমাদের এখানে জটিল সার্জারি সপ্তাহে ৬ দিনই হচ্ছে। এরমধ্যে আবার জটিল রুটিন অপারেশনগুলো হচ্ছে। ট্রেনিং পোস্ট এবং ইন্টার্নি চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ চালু না করতে পারায় হাসপাতালটি পূর্ণোদ্যমে ২৪ ঘণ্টা কার্যক্রম করা যাচ্ছে না। এসময় তিনি বলেন, আমার এখানে সর্বোচ্চ ডাক্তার হলো জুনিয়র কনসালটেন্ট। তারপরও আমি বলব তারা সপ্তাহের ৬ দিনই মেজর অপারেশনগুলোই করছে। সপ্তাহের ৬ দিনে ৬টি করে ৬টি বিষয়ে সপ্তাহে ৩৬টি অপারেশন চলছে। এই ৩৬টি অপারেশনে সহায়তা করছেন মাত্র ২ জন এনেসথেসিস্ট। এর মধ্যে যদি ১ জন এনেসথেসিস্ট নৈমিত্তিক ছুটিতে যায় অথবা একজন অসুস্থ হয়ে পড়লে আর একজন থাকেন। এই একজনকেই চাপ নিতে হচ্ছে। সুতরাং তারা প্রকৃতই অনেক চাপ নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাইদুর রহমান জানান, হাসপাতালটিতে বার্ন ইউনিটও রয়েছে। বার্ন ইউনিটের জন্য দরকার এনেসথেসিস্টের। শিশুরোগের জন্য এনআইসিইউর সব যন্ত্রপাতি আছে কিন্তু এনেসথেসিস্টের অভাবে সেগুলো কাজে লাগানো যাচ্ছে না। জনবল ও বাজেট ঘাটতি পূরণ হলে কুর্মিটোলা হাসপাতাল মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে পারবে বলে মনে করেন পরিচালক। / এআর /    

ভাগ্য বদলেছে দেড় কোটি সুবিধাবঞ্চিত মানুষের

দেশে দারিদ্র্য বিমোচন ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প হাতে নেয় সরকার। আগামী ২০২১ সালে এই প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হবে। ইতোমধ্যে এ প্রকল্পেন উন্নয়নের ছোঁয়ায় বদলে গেছে ৩৪ লাখ সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের দেড় কোটি মানুষের জীবন। সারা দেশে ৪৯০ উপজেলার ৪ হাজার ৫০৩টি ইউনিয়নে এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন হচ্ছে। গঠন করা হয়েছে ৬২ হাজার ৪০০ গ্রাম উন্নয়ন সমিতি। যার মাধ্যমে সারাদেশে প্রায় ১ কোটি ৬৫ লাখ দরিদ্র ও অতিদরিদ্র মানুষ উপকৃত হচ্ছে। তাদের বার্ষিক আয় বেড়ে হয়েছে গড়ে ১১ হাজার টাকা। প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধি হলে দেশের বিশাল জনগোষ্ঠীর জীবনমানে ব্যাপক পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

রাজধানীতে সুন্দরী তরুণীদের বিয়ের ফাঁদ

রাজধানীর বনানীর বাসিন্দা নাইমা (ছদ্মনাম)। ২২ বছর বয়সী এই রূপসীর প্রেমের ফাঁদে পড়েন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকরিজীবী আসিফ (ছদ্মনাম)। ২০০৫ সালে নারায়ণগঞ্জে একটি কাজী অফিসে তাদের বিয়ে হয়। বিয়ের দুই বছর অতিবাহিত হওয়ার পর আসিফ জানতে পারে নাইমার এর আগেও ১ বার বিয়ে হয়েছিল। সেই পক্ষের একটা মেয়েও আছে। এখনও আগের স্বামীর কাছ থেকে প্রতিমাসেই মোটা অংকের  টাকা নেয় নাইমা। এই তথ্য জানার পর শুরু হয় স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে মনোমালিন্যে। এক একপর্যায়ে নাইমা আসিফের সঙ্গে সম্পর্ক ছেদ করার কথা জানিয়ে দেন। আসিফের কাছে কাবিনের পাঁচ লাখ টাকা দাবি করে। টাকা আদায় করতে না পেরে আসিফ ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে মামলা ঠুকে দেন। শুধু তাই নয়, তার এই চক্রের অন্য সদস্যদের দিয়ে আসিফকে প্রাণনাশের হুমকি দেন। আসিফ উপায়ন্তর হয়ে পাঁচ লাখ টাকা দেন। আসিফের সঙ্গে বিয়ের সময় নিজেকে কুমারী দাবি করেন নাইমা। আসিফের থেকে টাকা নেওয়ার কিছু দিন যেতে না যেতেই তাঁর বিরুদ্ধে নারী নির্যাতন ও যৌতুকের মামলা করেন। অতঃপর কাবিনের অর্থ নিয়ে হয় রফাদফা। খোদ রাজধানীতেই নাইমার মতো কয়েক শতাধিক সুন্দরী তরুণী এভাবে বিয়ে বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে। আবার কখনও যৌন সম্পর্ক করার প্রলোভন দেখিয়ে বিত্তবানদের ব্লাকমেইল, কখনো প্রেমের ফাঁদে ফেলে অপহরণের পর মুক্তিপণ আদায়ের মতো ভয়ঙ্কর অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। তাদের উদ্দেশ্য একটাই, প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া। এদের সঙ্গে আইন শৃংখলা বাহিনীর সক্রিয় সদস্য জড়িত রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। যে কারণে ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে সুন্দরী এ ললনারা। এমনই এক সুন্দরী প্রতারকের বিষয়ে তদন্ত করতে গিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে। যা নিয়ে পুলিশ হতবাক। পরিকল্পিতভাবে একের পর এক ভুয়া বিয়ে করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া এক সুন্দরী নারী প্রতারক চক্রের সন্ধান পেয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। অহিদা বেগম কবিতা নামের ওই নারী গড়ে তুলেছে বিশাল এক প্রতারক চক্র। চক্রে ভুয়া শ্বশুর-শাশুড়ি, শ্যালক, শ্যালিকা, আত্মীয়স্বজন, খালা-খালু ও বিয়ে পড়ানো কাজী থেকে শুরু করে সব ধরনের আত্মীয়স্বজন রয়েছে। বিয়ে করার পর কারও বোঝার উপায় নেই যে, তার স্ত্রীর পক্ষের সব আত্মীয়স্বজনই ভুয়া। কবিতা বিয়ের পর ছয় থেকে সাত মাস পর্যন্ত সংসার করে। ওই সময়ের মধ্যেই টার্গেটকৃত ব্যক্তির মন জয় করে নগদ টাকা, দামি দামি আসবাব, স্বর্ণালঙ্কার, জমি, ফ্ল্যাট হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। চক্রটির হাতে সাতজনের প্রতারিত হওয়ার তথ্য মিলেছে। যদিও প্রকৃতপক্ষে কতজন প্রতারিত হয়েছেন তার সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য মেলেনি। পাঁচ বছরে চক্রটি হাতিয়ে নিয়েছে অন্তত পাঁচ কোটি টাকার অর্থ সম্পদ। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চক্রটির টার্গেট চল্লিশোর্ধ্ব পুরুষ। একটি প্রতারণার মামলার তদন্ত করতে গিয়ে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। পিবিআইয়ের ঢাকা মেট্রোর বিশেষ পুলিশ সুপার আবুল কালাম আজাদ গনমাধ্যমকে জানান, অনেক প্রতারণার মামলা তারা তদন্ত করেছেন, কিন্তু এ ধরনের অভিনব প্রতারণার ঘটনা সত্যিই অবাক করার মতো। এমন অভিনব প্রতারণার তথ্য পাওয়ার পর প্রতারণার মামলা আরও গভীরভাবে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে জানা গেছে, অহিদা বেগম কবিতা (৩২) নামের ওই নারী সুন্দরী মূলত প্রতারক। তার পিতা মৃত সাবদার আলী। মায়ের নাম জাহেদা বেগম। বাড়ি কুমিল্লা জেলার বরুড়া থানাধীন আমড়াতলী গ্রামে। ভাগ্য ফেরানোর সন্ধানে ঢাকায় আসে। ভাগ্যের পরিবর্তনও করেছে। তবে অসৎ পথে। পিবিআই সূত্র জানায়, কবিতা ঢাকায় বিশাল একটি চক্র গড়ে তোলেছে। সেই চক্রে রয়েছে কবিতার কথিত পিতা-মাতা, ভাই-বোন, খালা-খালুসহ একজন মানুষের যত ধরনের আত্মীয় থাকতে পারে, তা সবই রয়েছে। তবে সবাই ভুয়া। তারা নিজস্ব লোকজনের মাধ্যমে বিয়ের পর সন্তান ও স্বামী রেখে স্ত্রী চলে গেছেন বা স্ত্রীর ডিভোর্স হয়ে গেছে, এমন চল্লিশোর্ধ্ব পুরুষদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করে। তারপর সেই পুরুষকে বিয়ে করে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার কৌশল হিসেবে প্রথমে ওই পুরুষের পাশের বাসায় ভাড়া নিয়ে বসবাস শুরু করে। তারপর ধীরে ধীরে সম্পর্ক করে বিয়ের পর প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নেয় লাখ লাখ টাকা। এমন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে কবিতা মুগদার বাসিন্দা মো. আকরাম হোসেন চৌধুরী ওরফে লিটনকে (৬৪) টার্গেট করে। লিটনের আয়শা (২০), আছিয়া (১৮) ও মাহবুবা (১৩) নামে তিনটি কন্যাসন্তান আছে। ২০০৮ সালে লিটনের সঙ্গে স্ত্রীর বনিবনা না হওয়ায় তাদের মধ্যে ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। লিটনকে টার্গেট করে প্রতারক চক্রের সদস্য বেলায়েত হোসেন কাজল ওরফে মোহাম্মদ কাজল ওরফে মো. কাজল মিঝি (৪৫) ও তার কথিত স্ত্রী শিলা বেগম ওরফে ফাহিমা বেগম (৩৩) লিটনের পাশাপাশি বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস শুরু করে। চক্রেরই এই দম্পতি সদস্যের বাড়ি ভোলা জেলার বোরহানউদ্দিন থানাধীন বড় মানিয়া গ্রামে। তারা লিটনের ওপর নজর রাখতে থাকে। তার সঙ্গে সম্পর্ক গড়ার চেষ্টা অব্যাহত রাখে। এদিকে মূল প্রতারক কবিতাও লিটনের বাসার পাশে ১/২১ নম্বর দক্ষিণ মুগদা কমিউনিটি সেন্টারের হুমায়ুন নামে এক ব্যক্তির বাসা ভাড়া নিয়ে কথিত স্বামী নিয়ে বসবাস করতে থাকে। কবিতাও মাঝেমধ্যে লিটনের সঙ্গে অনেকটা নাটকীয়তা করে পাশাপাশি বসবাসের সুবাদে যাতে মুখ চেনা থাকে এমন ভাব করে। কবিতা পরিকল্পিত কাকতালীয়ভাবে লিটনের সামনে পড়ে যায় বলে লিটনকে বুঝানোর চেষ্টা করে। এতে দুজনের মধ্যে পাশাপাশি বসবাসের সুবাদে সামান্য চেনা পরিচয় ঘটে। এর কিছু দিন পরই কবিতার চলতি পথে লিটনের সঙ্গে দেখা হয়ে গেছে, এমনটা ভাব করে। লিটনকে কেমন আছেন জিজ্ঞাসা করে। লিটনও মুখচেনা পরিচয়ের সূত্র ধরে কবিতাকে কেমন আছেন জিজ্ঞাসা করেন। কবিতা কষ্ট ভরা মন নিয়ে বলেন, আর কেমন থাকি ভাই! ভালো নেই। কারণ জানতে চাইতেই কবিতা জানায়, তার স্বামী তাকে তালাক দিয়েছে। সে মানবেতর জীবনযাপন করছে। লিটনের সঙ্গে মাঝেমধ্যে প্রয়োজন হলে দেখা করবেন, এমন কথার ফাঁকে তার মোবাইল নম্বর চেয়ে নেয়। সেই সঙ্গে নিজের মোবাইল নম্বরও দেয়। কয়েক দিন দুজনের মধ্যে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ হয়। এমন পরিস্থিতিতে প্রতারক চক্রের সদস্য শিলা বেগম লিটনের সঙ্গে দেখা করেন। শিলা লিটনের সঙ্গে আলাপ প্রসঙ্গে জানায়, কবিতা নতুন করে বিয়ে করতে চায়। সে ক্ষেত্রে লিটনকে তার ভালো লেগেছে বলে জানায়। লিটন রাজি থাকলে কবিতা তাকে বিয়ে করতে রাজি আছে। পরবর্তীতে যথারীতি বিয়ে হয়ে যায়। কবিতা লিটনের সংসার করতে থাকে। মেয়েদের খুবই আদর যত্ন করতে থাকে। এতে লিটন খুবই সন্তুষ্ট হন কবিতার ওপর। কবিতা খুশি করে লিটনের কাছ থেকে বাড়ির জন্য দামি ফ্রিজ, টেলিভিশন, আসবাবপত্র, ভাইকে বিদেশ পাঠানোর কথা বলে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা ছাড়াও নানা উছিলায় টাকা হাতিয়ে নিতে থাকে। এভাবে ছয় মাস টাকা হাতিয়ে নেয়। এরপর লিটন সন্দেহ করতে থাকলে কবিতা আর তার সঙ্গে সংসার করবে না বলে জানায়। সর্বশেষ কবিতা স্বামীর কাছ থেকে ঈদের বাজার করার কথা বলে নগদ প্রায় সোয়া লাখ টাকা নেয়। সর্বশেষ লিটন তার অসুস্থ মাকে দেখতে গ্রামের বাড়িতে গেলে কবিতা তার চক্রের সদস্যদের নিয়ে বাড়িতে থাকা সব স্বর্ণালঙ্কার, নগদ টাকা নিয়ে পালিয়ে যায়। সব মিলিয়ে কবিতা শুধু নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার হাতিয়ে নেয় প্রায় ১৬ লাখ টাকা। লিটন গ্রাম থেকে বাড়িতে এসে দেখে ঘরে কোনো টাকা-পয়সা ও স্বর্ণালঙ্কার নেই। ঘরে স্ত্রীও নেই। এরপর স্ত্রীর দেওয়া ঠিকানা মোতাবেক খোঁজ করতে গিয়ে তার চক্ষু চড়কগাছ। সব ঠিকানা ভুয়া। এমনকি এতদিন কবিতার পিতামাতাসহ যত আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে বেড়াতে গেছেন, তাদের কারও কোনো খোঁজখবর নেই। কারও কোনো হদিস নেই। এমনকি বিয়ে করানো কাজী অফিসে গিয়ে দেখেন, সে নামে কোনো কাজীই নেই। এসব বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট সহকারী অধ্যাপক এবং সমাজ ও অপরাধ বিশ্লেষক তৌহিদুল হক বলেন, ধর্মীয় মূল্যবোধ এবং পারিবারিক অনুশাসন না থাকায় উচ্চাভিলাষী কিছু নারী প্রতারণায় নেমেছে। তবে এ ধরনের প্রতারণা করা একার পক্ষে সম্ভব নয়। এর পেছনে রয়েছে শক্তিশালী সিন্ডিকেট। ওইসব তরুণীর অবৈধ আয়ের ভাগ পায় সবাই। এটি প্রশাসনের অজানা থাকার কথা নয়। এ ধরনের অপরাধ বিষবাষ্পের মতো ছড়িয়ে পড়ার আগেই রোধ করা না গেলে দেশ এবং নতুন প্রজন্মের জন্য হতে পারে অশনি সংকেত। টিআর/ এআর

মাদকাসক্তির কারণে জন্ম হচ্ছে অস্বাভাবিক শিশুর   

একটি শিশু যখন পৃথিবীতে আসে তখন পুরো পরিবারে আনন্দের বন্যা বয়ে যায়। খুশির আভা চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু একজন মাদকাসক্তের পরিবারে যখন কোনো সন্তান আসে তখন খুশি রূপ নেয় বিষাদে। দু’চোখে দেখা দেয় জমাট বাধা অশ্রু।  একজন মাদকসেবীর মাদক নেওয়ার কারণে তার শরীরের কোষগুলোর পরিবর্তন ঘটে যায়। হরমোনের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়। সর্বোপরি মাদকের নীল বিষ ছড়িয়ে পড়ে তার সন্তানের ওপরেও। ফলে মাদকসেবীদের সন্তান অ্যাবনরমাল বা অস্বাভাবিক হয়ে জন্ম নিচ্ছে। একুশে টিভি অনলাইনের অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে এমন সব তথ্য।     রুখসানা বেগম (ছদ্দ নাম) থাকেন রাজধানীর বেগুনবাড়িতে। পারিবারিকভাবেই তার বিয়ে হয়। স্বামীর অর্থনৈতিক অবস্থাও ভালো। বিয়ের কিছুদিন পর তিনি জানতে পারেন তার স্বামী মাদকাসক্ত। সে নিয়মিত ইয়াবা সেবন করে। তার দাবি, স্বামীকে মাদক থেকে ফেরাতে অনেক চেষ্টা করেছেন কিন্তু ফেরানো সম্ভব হয়নি। দেড় বছরের মাথায় বিয়ে ভেঙ্গে যাওয়ার মতো অবস্থা তৈরি হয়। তিনি বাবার বাড়ি চলে আসেন। এরপর সে প্রতিশ্রুতি দেয় মাদক ছেড়ে দেবে। কয়েক দিন ঠিক থেকে আবার শুরু করে। এ নিয়ে পরিবারে সুখ বলতে আর কিছুই থাকে না। এর মধ্যে সংসারে একটি পুত্র সন্তান আসে। রুখসানার মতে, তার কপাল এত খারাপ যে সন্তানটি কিছুটা অস্বাভাবিক বা অ্যাবনরমাল হয়ে জন্ম নেয়। রুখসানা বলেন, ‘‘সন্তান জন্ম নেওয়ার পর ভেবে ছিলাম অন্তত একটা অবলম্বন পেলাম। কিন্তু আমার দুঃখ আরও বেড়ে গেল। সন্তানটি স্বাভাবিক নয়। ডাক্তার বলেন মাদকের প্রভাব সন্তানের ওপর প্রভাবিত হয়ে এমনটি হতে পারে।’’    বিয়ের আগে রোখসানা জানতেন না তার স্বামী মাদকাসক্ত। যখনই জানতে পারেন তার স্বপ্নময় জীবনটি একেবারে ভেঙ্গে তছনছ হয়ে যায়। মাঝে মাঝে তার গায়েও হাত তুলে মাদকাসক্ত স্বামী। অন্ধকার রাতে তার অব্যক্ত কষ্টের হাহাকার কেউ দেখতে পায় না। এভাবে অসংখ্যা মাদকাসক্তের পরিবারে জন্ম নিচ্ছে অ্যাবনরমাল বা অস্বাভাবিক শিশু।   পারভিন সুলতানা (ছদ্দ নাম) থাকেন বাড্ডা। বিয়ের পরই তিনি জানতে পারেন স্বামী মাদকাসক্ত। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হতো। স্বামীকে মাদক মুক্ত করতে বিভিন্ন মাদকাসক্ত কেন্দ্রে চিকিৎসাও করিয়েছেন। কিন্তু এরপরও সে মাদক ছাড়তে পারেনি। এর মাঝে তাদের কোল জুড়ে একটি ছেলে সন্তান আসে। কিন্তু ছেলেটি কিছুটা অস্বাভাবিক।     পারভিনের ভাষায়, ‘‘আমি জানিনা কেন এমন হলো। আমার বাচ্চাটা কিছুটা অ্যাবনরমাল মনে হচ্ছে। তার চিকিৎসা করাচ্ছি। ডক্তার বলছেন সমস্যা সেরে যাবে।’’  বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাঁজা, হেরোইন, কোকেন, আফিম, ফেনসিডিল ও ইয়াবার মতো মাদকে যারা আসক্ত হচ্ছে তাদের শরীরে এক ধরনের  পরিবর্তন ঘটে। যা তার সন্তানের ওপর প্রভাবিত হয়। মাদকে শরীরে হরমোনের স্বাভাবিক কার্যক্রমকে ব্যাহত করে। প্রজননক্ষমতার বিকাশকে ভীষণভাবে বাধাগ্রস্ত করে। মাদকের প্রভাবে সন্তান বুদ্ধিপ্রতিবন্ধি বা অস্বাভাবিক হয়ে জন্ম নেওয়ার সম্ভাবনা থাকে খুব বেশি।             স্বামী বা স্ত্রী মাদকাসক্ত হলে সন্তান কেন অ্যাবনরমাল হবে? এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশিষ্ট মনোবিজ্ঞানী ডা. তাজুল ইসলাম একুশে টেলিভিশন অনলাইনকে বলেন, ‘‘গর্ভাবস্থায় কোনো মা যদি মাদক সেবন করে তখন সেটা ভয়াবহ অবস্থা তৈরি করে। এর প্রভাব সরাসরি সন্তানের ওপর পড়ে। আর বাবা যদি মাদকসেবী হয় এ ক্ষেত্রে বিকলাঙ্গ বা অ্যাবনরমাল শিশু জন্ম হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। মাদক সেবনের কারণে মা বা বাবার শরীরের কোষগুলো পরিবর্তন হয়ে যায়। এটা সন্তানের ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এছাড়া পরিবারে ঝগড়া, মারামারি, অশান্তি এসব সন্তানের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। পরবর্তীতে সন্তানও অনেক ক্ষেত্রে এ কারণে মাদকাসক্ত হয়ে যায়।’’    বর্তমানে সারাদেশে ছেয়ে গেছে মাদক। মাদকের এই ভয়াল গ্রাসে শেষ হয়ে যাচ্ছে যুব সমাজ। যারা আজকে মাদকে আসক্ত তারাই জন্ম দিবে আগামী প্রজন্ম। সেই প্রজন্ম যদি সুস্থভাবে গড়ে না ওঠে তাহলে পুরো জাতিই অন্ধকারের দিকে এগিয়ে যাবে।   বিভিন্ন রিহ্যাবিলিটি সেন্টার ও মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্র ঘুরে জানা যায়, মাদকসেবীদের সন্তান বুদ্ধিপ্রতিবন্ধি বা অস্বাভাবিক হয়ে জন্ম নিচ্ছে। তাদের কাছে এ রকম অনেক রোগী আসেন যাদের সন্তান অ্যাবনরমাল। তারা জানান, আমাদের কাছে অনেক মাদকসেবী আসেন যাদের সন্তান অস্বাভাবিক। এ ধরনের ঘটনা দিনকে দিন বাড়ছে। অস্বাভাবিক সন্তান জন্মের হার বাড়ছে। আগে আমরা এসব বিষয়ে জানতে না পারলেও এখন অনেকে আমাদের সঙ্গে শেয়ার করছেন। এ রকম একটি মাদক সেবাকেন্দ্র হলি লাইফ। এর ব্যবস্থাপক রিয়াজ উদ্দিন একুশে টেলিভিশন অনলাইনকে বলেন, আমাদের এখানে অসংখ্যা রোগী রয়েছে। আমরা তাদের চিকিৎসা দিচ্ছি। তবে এদের মধ্যে যারা বিবাহিত তাদের কারো কারো সন্তান অস্বাভাবিক এমন তথ্য আমাদের কাছে আছে। প্রায়ই এ ধরনের রোগী আমাদের কাছে আসছে। বাবার মাদক সেবনের কারণে এর প্রভাব সন্তানের ওপর পড়েছে বলে আমি মনে করি।      একই ধরনের কথা বলেন ‘অর্জন’ মাদকাশক্তি চিকিৎসা ও পূণর্বাসন কেন্দ্রের কেইস ম্যানেজার রিয়াদ রহমান। তিনি বলেন, ‘‘বর্তমানে যারা মাদকাসক্ত তাদের সন্তান প্রতিবন্ধি বা অস্বাভাবিকভাবে জন্ম নিচ্ছে এটা সঠিক। আমাদের কাছে এ ধরনের অনেক রোগী আছে। তারা চিকিৎসা নিচ্ছে। অনেকে গোপনে এসে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে। এক সময় মানুষ এসব বিষয়ে পরার্মশ করতে লজ্জা পেত। এখন অনেকে সচেতন তারা যে কোনো সমস্যা আমাদের সঙ্গে শেয়ার করছেন। সন্তানের অস্বাভাবিকতা নিয়েও কিভাবে সুস্থ করা যায় এ নিয়ে পরামর্শ করছেন।’’ মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র ‘প্রশান্তি’র এডমিন ফারুক রহমান মিন্টু বলেন, আমার এখানে ৪/৫ জন রোগী আছেন যাদের সন্তান অ্যাবনরমাল। এ ধরনের সমস্যা এখন দিনকে দিন বাড়ছে। মাদক তৈরির কেমিক্যাল পরিবর্তনের কারণে বর্তমানে এটা বেশি ক্ষতি করছে। এক সময় মাদক শরীরের ওপর প্রভাব ফেলতো আর এখন এটা ব্রেনের ওপর বেশি প্রভাব বিস্তার করছে।’’         মাদক নেওয়ার ফলে এর প্রভাব সন্তানের ‍ওপর পড়ছে। সন্তান অস্বাভাবিক হচ্ছে   বাংলাদেশে এর কোনো পরিসংখ্যান আছে কি না জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাহমুদুর রহমান বলেন, ‘‘বর্তমানে বিভিন্ন জরিপ ও গবেষণার মাধ্যমে আমরা দেখি মাদকাসক্তদের মধ্যে মহিলাদের সংখ্যা অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। পুরুষের পাশাপাশি মহিলারাও মাদকের দিকে ঝুঁকে পড়েছে। মা-বাবা যদি মাদক সেবন করে, তাদের কারণে সন্তানের মধ্যে জার্ম বা ক্ষতিকর একটা প্রভাব প্রবেশ করে। যার কারণে সন্তানের মধ্যে কিছুটা অ্যাবনরমালিটি বা অস্বাভাবিকতা তৈরি হয়। এবং এটা খুবই স্বাভাবিক একটা ব্যাপার। মাদক নেওয়ার কারনে অস্বাভাবিক সন্তান হতে পারে। তবে আমাদের দেশে এ নিয়ে তেমন কোনো গবেষণা নেই। উন্নত দেশগুলোতে এ নিয়ে বিস্তর গবেষণা হয়।’’    বিষয়টির আরও গভীর অনুসন্ধানের জন্য যাওয়া হয় তেজগাঁও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরে। সেখানকার নিরাময় কেন্দ্রের রেসিডেন্ট সাইকিয়াট্রিস্ট, ডাক্তার মো. রাহেনুল ইসলাম ইটিভি অনলাইনকে বলেন, ‘‘মা যদি মাদকে আসক্ত হয় তাহলে এটা সরাসরি প্রভাব ফেলে। এর কারনে সন্তান খর্বকায় হয়ে যায়, সন্তানের খিচুঁনি হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়, বুদ্ধিপ্রতিবন্ধি হতে পারে, সন্তানের মধ্যে অস্থিরতা বেশি থাকে, অস্বাভাবিক সন্তান হয়। এছাড়া পরিণত বয়সে মা যদি অ্যালকোহল নেয় তাহলে সন্তান ৪০-৬০ ভাগ থাকে যারা মাদকাসক্ত হবে। আর বাবার মাদক নেওয়ার কারনেও একই ধরনের প্রভাব তৈরি হয়। পিতা মাতা মাদক নিলে পরিণত বয়সে সন্তানের মাদক নেওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। মা বা বাবার মাদক নেওয়ার ফলে স্পার্ম এর পরিবর্তন ঘটে। যা পরবর্তীতে সন্তানকে আক্রান্ত করে।’’   ‘‘আর একটা বিষয় মা-বাবা যদি সব সময় একে অপরকে গালাগাল করে, সেটা সন্তানের ওপর পড়ে। এই আচরণগুলো পরবর্তীতে জেনেটিক্যালি তার মধ্যে প্রভাবিত  হয়।’’ বললেন ডাক্তার মো. রাহেনুল ইসলাম।    বর্তমানে আমাদের সমাজে মাদকের বিস্তার ভয়াবহ অবস্থার মধ্যে রয়েছে। কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী মুখগুলো মাদকের বিষে নীল। এ অবস্থা চলতে থাকলে জাতি একদিন মেধা শুন্য হয়ে যাবে। তাদের মাধ্যমে যে সন্তানগুলো জন্ম হবে তারা কোনো না কোনো ত্রুটি নিয়ে পৃথিবীতে আসবে। যারা সমাজের কান্ডারি হওয়ার কথা তারা হয়ে ওঠবে বোঝা হিসেবে।   এ বিষয়ে কথা বলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান নাসরিন ওয়াদুদ। তিনি ইটিভি অনলাইনকে বলেন, আমাদের সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে মাদক ঢুকে গেছে। এর জন্য কে দায়ী? দায়ী হলো এই সমাজের কিছু প্রভাবশালী মানুষ। যারা মাদক ব্যবসা করে নিজেরা কোটি কোটি টাকা বানিয়েছে। তারা সব সময় ধরা ছোঁয়ার বাইরে থেকে যায়। আইন তাদের কিছুই করতে পারে না। আমি মনে করি এদের এখন থামানো উচিৎ। যত বড় ক্ষমতাধরই হোক জাতিকে, যুব সমাজকে রক্ষা করতে হলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। সীমান্ত দিয়ে যাতে মাদক আসতে না পারে সে ব্যাপারে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।’’     /এসি/

© ২০১৮ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি