ঢাকা, রবিবার, ১৭ ডিসেম্বর, ২০১৭ ১৬:০৯:৩৭

ভালো নেই শীতল পাটির কারিগররা

ভালো নেই শীতল পাটির কারিগররা

বাংলাদেশের আবহমান সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অনন্য নিদর্শন শীতলপাটি। সূক্ষ্ম বুনন আর দৃষ্টিনন্দন নকশার কারণে মানুষের কাছে এর আলাদা কদর রয়েছে। গরমে আরাম দিতে শীতল পাটির জুড়ি নেই।এ পাটি এরইমধ্যে ইউনেস্কোর সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য-২০১৭ (দ্য ইনটেনজিবল কালচারাল হেরিটেজ অব হিউমানিটি) হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। তবে শীতলপাটি বিশ্ব স্বীকৃতি পেলেও কাচাঁমাল, বাজারজাতকরণ, ন্যায্য দামের অভাবে অনেক কষ্টে জীবন অতিবাহিত করছেন এ পেশার সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা। কারিগরদের অনেকেই মানবেতর জীবন যাপন করছেন। অনেকেই জীবিকার তাগিদে এ পেশা ছেড়ে অন্য কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন। সিলেট অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী শীতলপাটি নিয়ে রাজধানীর শাহবাগের জাতীয় জাদুঘরে দুই সপ্তাহব্যাপী প্রদর্শনী চলছে। জাতিসংঘের শিক্ষা বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি সংস্থা-ইউনেস্কোর স্বীকৃতি পাওয়ার পর এ পেশার কয়েকজন কারিগরের সঙ্গে কথা হয় ইটিভি অনলাইনের এ প্রতিবেদকের।
খাঁটি স্বর্ণ চেনার উপায়

জুয়েলারি দোকান থেকে বিয়ে-শাদি বা অন্য কোনো প্রয়োজনে স্বর্ণের অলংকার কিনলেন। বিক্রেতাও আপনাকে বুঝিয়ে দিলেন, তারা ২২ ক্যারেট স্বর্ণের অলংকার দিয়েছে। আপনিও মনের আনন্দে অলংকার কিনে ঘরে ফিরলেন। কিন্তু কখনো পরখ করে দেখেছেন কী, আপনার কেনা অলংকার কতটা খাঁটি? হয়তো সেটি পরখ করেননি। আর এ সুযোগে ২২ ক্যারেট বলে জুয়েলারি মালিক হয়তো আপনাকে ১৮ ক্যারেট বা সনাতনী স্বর্ণের গয়না গচিয়ে দিয়েছে। যার দামের ব্যবধান আকাশ-পাতাল। সুতরাং বাজার থেকে স্বর্ণের গয়না কেনার আগে অবশ্যই যাচাই করে নিন, সেটি খাঁটি সোনার কিনা। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, কীভাবে বুঝবেন আপনার কেনা গয়না খাঁটি সোনার? এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু উপায়ে আপনি যাচাই করে নিতে পারেন। কিন্তু তার আগে দেখে নেওয়া যাক, বাজারে কত প্রকারের স্বর্ণ পাওয়া যায়। আর কোন ধরণের স্বর্ণ কতটা খাঁটি? সাধারণত ২৪ ক্যারেট স্বর্ণই হলো খাঁটি। ২৪ ক্যারেট স্বর্ণ মানে ৯৯.৯ শতাংশ খাঁটি স্বর্ণ। কিন্তু দোকানে সাধারণত ২২ ক্যারেট স্বর্ণ দিয়েই অলংকার তৈরি হয়। আপনি সেদিকটা খতিয়ে দেখে নেবেন, যাতে ২২ ক্যারেটের স্বর্ণ দেওয়া হয়। ২২ ক্যারেট স্বর্ণ মানে ৯১.৬ শতাংশ খাঁটি স্বর্ণ। ২১ ক্যারেটে থাকে ৮৭ শতাংশ, ১৮ ক্যারেটে থাকে ৭৫ শতাংশ এবং সনাতনী স্বর্ণ পুরাতন গয়না ভেঙে বানানো হয়। তবে আমাদের দেশে ২২ এবং ২১ ক্যারেট স্বর্ণ দিয়েই বেশি গয়না তৈরি করা হয়। এবার দেখা যাক, কীভাবে খাঁটি সোনা আপনি চিনতে পারবেন। এখন বড় বড় স্বর্ণালংকারের জুয়েলারি দোকানে খাদ মাপার মেশিন চলে এসেছে। স্পেকট্রোমিটার নামের ওই মেশিনে মাপার পর স্বর্ণে খাদ থাকলে সহজেই ধরা পড়ে যাবে। মেশিনই বলে দেবে কত ক্যারেটের স্বর্ণ আপনাকে দেওয়া হয়েছে। সুতরাং স্পেকট্রোমিটার মেশিনে মেপে স্বর্ণ কত ক্যারেটের এবং কতটুকু খাদ রয়েছে, তা নিশ্চিত হয়ে তবেই কিনুন। সাধারণত খাঁটি সোনা নরম। এই নরম সোনা দিয়ে গয়না করা যায় না। এতে মেশাতে হয় সিলভার, তামা, দস্তার মতো ধাতু। তাই খাঁটি স্বর্ণ কিনতে হলে স্বর্ণের নমনীয়তা খেয়াল করুন। তাছাড়া স্বর্ণের গায়ে ভারতীয় স্ট্যান্ডার্ডস ব্যুরো, যা সংক্ষেপে `BIS’ লেখা চিহ্ন দেখে স্বর্ণ কিনুন। সাধারণত, স্বর্ণ কেনার আগে হলমার্ক দেখেই মানুষ কেনে। খাঁটি স্বর্ণ চেনার এটাই নিয়ম। এছাড়াও `BIS’ চিহ্ন দেখে স্বর্ণ কিনুন। তাতে আপনি নিশ্চিত থাকবেন যে আপনার স্বর্ণ সত্যিই খাঁটি। তাছাড়া ফ্লুরোসেন্স মেশিনে এক্সরে করিয়ে নিতে পারেন। যদিও এই পদ্ধতিতে সোনা যাচাই করাটা একটু কঠিন। কারণ সব জায়গাতে সচরাচর এমন সুযোগ আপনি নাও পেতে পারেন। তবুও চেষ্টা করে দেখতে পারেন। তবে আপনি যদি এমন কোনো মার্কেট থেকে সোনা কিনেন, যেখানে উপরের কোনো পরীক্ষাই করা সম্ভব হচ্ছে না, সেক্ষেত্রে নিম্নের কয়েকটি সহজ উপায় অবলম্বন করতে পারেন। যেমন- আগুন পদ্ধতি। সাধারণ একটি লাইটারের আগুন বেশ কিছুক্ষণের জন্য অলংকারটির উপর ধরুণ। যদি আলংকারটির উপর কালো আস্তরণ পড়ে সেক্ষেত্রে বোঝা যাবে অলংকারটি সোনার নয়। আর যদি কোনোরকম কালো দাগ না পড়ে তাহলে বুঝবেন অলংকারটি সোনার। আর এভাবে নিশ্চিত হয়ে তবেই কিনুন খাঁটি স্বর্ণের গয়না।   /ডিডি/

স্বর্ণের বাজারে ঠকছেন ক্রেতারা

স্বর্ণের বাজারে দাম নিয়ে চলছে রীতিমতো স্বেচ্ছাচারিতা। বাজারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যত কোনো নজরদারি না থাকায় জুয়েলারি মালিকরা ইচ্ছেমতো দাম নির্ধারণ করছেন। বিশ্ব বাজারের সঙ্গে দামের নেই সামঞ্জস্য। যে কারণে বিভিন্ন দেশের চেয়ে ৪৩ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বেশি দাম দিয়ে সাধারণ ক্রেতাদের স্বর্ণালংকার কিনতে হচ্ছে। এবাবেই প্রতিনিয়ত ঠকতে হচ্ছে ক্রেতা সাধারণের। এছাড়া ওজনে কম দিয়ে প্রতিনিয়ত ক্রেতাকে ঠকান এ খাতের ব্যবসায়ীরা। সাধারণ ক্রেতা স্বর্ণের ওজনের প্যাচ-কৌশল ঠিকমতো বুঝতে পারেন না। আর এ সুযোগটি নেয় জুয়েলারি মালিকরা। স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা অলংকারে খাদের পরিমাণ বেশি দিয়েও ঠকান ক্রেতাকে। শুধু তাই নয়, গয়না বিক্রি করার সময় জানানো হয় যে, ২৪ বা ২২ ক্যারেট স্বর্ণ দেওয়া হচ্ছে, বাস্তবে দেওয়া হচ্ছে ১৮ ক্যারেট বা তারও কম মানের। এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিশ্ব বাজারের দাম, দেশের বাজারের দাম এবং স্বর্ণের ক্যারেট সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা নিয়ে তবেই অলংকার কেনা ভালো।

পাঁচ বছরে আড়াই টন স্বর্ণ জব্দ

দেশের স্বর্ণের বাজার মানেই ধোঁয়াশা। সবখানেই কেমন যেন লুকোচুরি ভাব। যারা স্বর্ণের ব্যবসায়ী তারা যেমন জানাতে চান না স্বর্ণ কেনা-বেচার সঠিত তথ্য, তেমনি ক্রেতার কাছে অলংকার বিক্রির সময়ও ওজন ও দাম নিয়ে চলে ছলচাতুরি। হয়তো দামি খনিজ ধাতু বলেই ব্যবসায়ীরা স্বর্ণ নিয়ে এমনটি করেন। এই দামি ধাতুটি সম্পূর্ণ আমদানি নির্ভর। দেশের চাহিদা মেটাতে বছরে প্রায় ৪০ টন স্বর্ণ লাগে। কিন্তু এ চাহিদা পূরণ হচ্ছে কিভাবে? দেশে তো কোনো স্বর্ণের খনি নেই। আবার বৈধভাবে স্বর্ণ আমদানিরও কোনো সুযোগ নেই। তবে মোট চাহিদার ১০ শতাংশ পুরানো স্বর্ণ (তেজাবি) থেকে পূরণ হয়। তাছাড়া বিদেশ থেকে দেশে আসার সময় কোনো যাত্রী সর্বোচ্চ ১০০ গ্রাম স্বর্ণ সঙ্গে আনতে পারেন। এভাবে আসা কিছু স্বর্ণও পরে বাজারে চলে আসে। কিন্তু তা মোট চাহিদার তুলনায় খুবই কম। তাহলে এই বিশাল চাহিদা কীভাবে পূরণ হচ্ছে? প্রকৃতপক্ষে এ চাহিদা পূরণ হচ্ছে চোরাচালানের মাধ্যমে। প্রতি বছর নতুন স্বর্ণের চাহিদার সিংহভাগ, অর্থাৎ প্রায় ৩৫ থেকে ৩৬ টন স্বর্ণ দেশে আসছে চোরাচালানির মাধ্যমে। ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিমানবন্দর দিয়ে প্রায় প্রতিদিনই অবৈধভাবে স্বর্ণ আসছে। মজার বিষয় হচ্ছে, বিমানবন্দরে চোরাচালানির যতো স্বর্ণ ধরা পড়ছে, তার কয়েকগুণ বেশি সীমান্ত পার হয়ে পাচার হচ্ছে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে। কাস্টমস ও আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, স্বর্ণ চোরাচালানির সঙ্গে জড়িত রয়েছে ২৬টি চক্র। এরা সকলেই বাংলাদেশি। তবে এই চক্রের সঙ্গে রয়েছে ভারত ও দুবাইয়ের স্বর্ণ ব্যবসায়ীরাও। আর চোরাচালানকৃত স্বর্ণের বেশিরভাগই আসে দুবাই, সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়া থেকে। স্বর্ণ চোরাচালান বিষয়ে অর্থনীতিবিদরা বলেন, এ বাজারে কোনো শৃংখলা না থাকায় চোরাচালান কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। এ বিষয়ে বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি রিসার্স ইন্সটিটিউটের নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর একুশে টেলিভিশন অনলাইনকে বলেন, স্বর্ণখাতের জন্য সবার আগে দরকার একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা। সেই নীতিমালায় বলা থাকবে দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণের জন্য স্বর্ণ কীভাবে আনা হবে বিশ্ব বাজার থেকে। নীতিমালা তৈরির বিষয়ে তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে আমি মনে করি স্বর্ণ আমদানির সুযোগ দেওয়া যেতে পারে। এর পক্ষে যুক্তি দেখিয়ে তিনি বলেন, দেশে দৈনিক ২৫ কোটি টাকার স্বর্ণ লেনদেন হয়, যা বছরের হিসাবে ৯ হাজার ১২৫ কোটি টাকা। এই বিশাল চাহিদা পূরণে বৈধভাবে স্বর্ণ আমদানির সুযোগ দিলে সরকার এ খাত থেকে মোটা অংকের রাজস্ব পাবে। আরেক অর্থনীতিবিদ ও সিপিডির গবেষণা পরিচালক ড. খোন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, একটি সুষ্ঠু স্বর্ণ আমদানি-নীতির অনুপস্থিতিতে এবং সার্বিকভাবে দেশের স্বর্ণখাতের ওপর সরকারের কার্যকর নিয়ন্ত্রণের অভাবে স্বর্ণ ও স্বর্ণালংকারের মান এবং স্বর্ণবাজার ব্যবসায়ীদের দ্বারা একচেটিয়াভাবে নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে। অবৈধভাবে দেশের বাইরে থেকে আসা স্বর্ণালংকার বাংলাদেশের স্বর্ণবাজার ক্রমশ দখল করে ফেলেছে। স্বর্ণ ও স্বর্ণালংকারের মান যাচাই, ক্রেতা ও বিক্রেতার স্বার্থ সংরক্ষণ ও স্বর্ণ শিল্পী বা শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিতকরণে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিতামূলক ব্যবস্থার ঘাটতি রয়েছে। সম্ভাবনাময় খাত হওয়া সত্ত্বেও উৎসাহমূলক পদক্ষেপ গৃহীত না হওয়ায় বাংলাদেশে রপ্তানি শিল্প হিসেবে স্বর্ণখাতের বিকাশ হয়নি। শুল্ক গোয়েন্দা আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্য মতে, গত পাঁচ বছরে প্রায় আড়াই টন স্বর্ণ জব্দ করা হয়েছে। এর বাজার মূল্য প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা। বৈধ পথে আমদানি না হওয়ায় বছরে সরকারের রাজস্ব ক্ষতি হচ্ছে ৪৮৭-৯৭৪ কোটি টাকা। আর গত ৫ বছরে স্বর্ণ চোরাচালানে জড়িত থাকার অভিযোগে ২০০ জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের মধ্যে বেশ কয়েকজন বিদেশি রয়েছেন। তাছাড়া এই সময়ের মধ্যে বিমান ও সিভিল এভিয়েশনের কর্মকর্তাসহ ৩৫ জনকে গ্রেফতার করে আইনশৃংখলা বাহিনী। শুল্ক গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, বিমানবন্দরে কর্মরত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের যোগসাজশে সোনার বড় চালান নির্বিঘ্নে বিমানবন্দর থেকে বেরিয়ে যায়। এ কাজে সহায়তা করেন শুল্ক, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও বিমানের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। ১০ তোলা ওজনের একেকটি সোনার বার বিমানবন্দর থেকে বাইরে এনে দিলে চোরাচালানীদের কাছ থেকে এক হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা পান তারা। দুবাই, সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়া থেকে বাংলাদেশে আসার সময় বিমানের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী সোনা পরিবহনে সহায়তা করেন। বাহকদের হাতে সোনা ধরিয়ে দেন দুবাইয়ে অবস্থানরত চক্রের প্রধানরা। বাহক সেই সোনা বিমানের আসনের নিচে, শৌচাগারে বা অন্য কোনো গোপন স্থানে লুকিয়ে রেখে বিমানবন্দর ত্যাগ করেন। পরে বিমানবন্দরে কর্মরত লোকজন নিজ দায়িত্বে সেই সোনা বের করে বাইরে নিয়ে আসেন। এরপর এর একটা অংশ যায়, দেশের স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের হাতে, আর একটি অংশ পাচার হয়ে চলে যায় ভারতে। বাংলাদেশ হয়ে ভারতে সোনা পাচার হওয়ার কারণ জানতে এ খাতের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাংলাদেশের স্বর্ণের বাজার এখনও বেশ ছোট। সে তুলনায় প্রতিবেশী দেশ ভারতের বাজার অনেক বড়। ওয়ার্ন্ড গোল্ড কাউন্সিলের তথ্য মতে, ভারতের বার্ষিক সোনার চাহিদা প্রায় দেড়শ’ টন। দেশটির এ চাহিদারও একটি বড় অংশ পূরণ হয় চোরাচালানি স্বর্ণের মাধ্যমে। ভারতে প্রতি ভরি (১ ভরি সমান ১১.৬৬ গ্রাম) স্বর্ণের আমদানি শুল্ক চার হাজার রুপি। বাংলাদেশি টাকায় যা ৪ হাজার ৮০০ টাকা। আর বাংলাদেশে স্বর্ণ আমদানিতে শুল্ক দিতে হয় ভরিতে ৩ হাজার টাকা। এই শুল্ক কর ফাঁকি দিতেই বাংলাদেশকে স্বর্ণ চোরাচালানের রুট হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বাংলাদেশের স্বর্ণখাতের বেশকিছু চ্যালেঞ্জ চিহ্নিত করেছেন। তিনি বলেন, দেশের স্বর্ণবাজারে সরকারি কোনো নিয়ন্ত্রক সংস্থার তত্ত্বাবধান না থাকা বড় একটি সমস্যা। তাছাড়া পরিবীক্ষণ তথা জবাবদিহিতার ব্যবস্থা না থাকা, জেলা প্রশাসন থেকে ব্যবসায়ী কর্তৃক প্রয়োজনীয় লাইসেন্স গ্রহণ ও নিয়মিত নবায়ন না করায় সরকারের রাজস্ব ক্ষতি, খুচরা বাজারে স্বর্ণ বা স্বর্ণালঙ্কারের ক্রয়-বিক্রয়ে সর্বক্ষেত্রে ইসিআর বা মূসক চালানের ব্যবহার না হওয়ায় ভ্যাট ফাঁকির ঝুঁকি এবং স্বর্ণ বা স্বর্ণালঙ্কার ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রে বৃহৎ লেনদেন ব্যাংকিং ব্যবস্থা বা ইলেক্ট্রনিক ট্রান্সফারের মাধ্যমে লেনদেন বাধ্যতামূলক না হওয়ায় অর্থপাচারসহ অবৈধ লেনদেনের ঝুঁকি থেকে যাচ্ছে। এ খাতের জন্য তিনি বেশকিছু সুপারিশ করেন। তিনি বলেন, স্বর্ণখাত সংশ্লিষ্ট সকল পর্যায়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে একটি পূর্ণাঙ্গ আইন প্রণয়ন ও ব্যাগেজ রুলের মাধ্যমে আনা স্বর্ণালংকারের বাণিজ্যিক ব্যবহার নিষিদ্ধ ও শাস্তি নিশ্চিত করা দরকার। বাংলাদেশ ব্যাংক ও এনবিআর এর সার্বিক তত্ত্ববধানে নির্ধারিত সরকারি ব্যাংকের মাধ্যমে স্বর্ণ আমদানির ব্যবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো বিবেচনা করে স্বর্ণ আমদানির শুল্কহার পর্যায়ক্রমে কমিয়ে আনা দরকার।   /ডিডি/টিকে

স্বর্ণের বাজারে অস্থিরতা-পর্ব-১

দেশের স্বর্ণের বাজারে নয়ছয় অবস্থা চলছে। এখনও পর্যন্ত স্বর্ণ আমদানির কোনো সুনির্দিষ্ট নীতিমালা তৈরি হয়নি। এ খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতারও অভাব রয়েছে। সেই সঙ্গে স্বর্ণের বাজার পুরোপুরি চোরাচালান নির্ভর হওয়ায় এ শিল্পকে ঘিরে বিশাল এক সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। জুয়েলারি মালিকরা যে যার মতো করে চালাচ্ছেন স্বর্ণের ব্যবসা। এ কারণে স্বর্ণের বাজারে প্রতিনিয়ত ক্রেতাদের ঠকতে হচ্ছে। অথচ এ অনিয়ম দেখার কেউ নেই। জানা গেছে, দেশে লক্ষাধিক স্বর্ণ ব্যবসার প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তবে সক্রিয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ২০ হাজারের মতো। এ শিল্পের সঙ্গে প্রায় ২০ লাখ লোক জড়িত। দেশে বছরে প্রায় ৩৬ টন স্বর্ণের দরকার হয়। এর সিংহভাগ চোরাচালানের মাধ্যমে পূরণ হচ্ছে। দেশে দৈনিক ২৫ কোটি টাকার স্বর্ণ লেনদেন হয়। সেই হিসাবে বছরে লেনদেন হয় ছয় হাজার কোটি টাকা। এত বড় খাতে সরকারের কার্যত নিয়ন্ত্রণ নেই। যেসব আইন আছে, তা প্রয়োগে ব্যাপক দুর্বলতা রয়েছে। এ বিষয়ে বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক ড. খোন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম হোসেন একুশে টেলিভিশন অনলাইনকে বলেন, স্বর্ণের বাজারে শৃংখলা ফেরাতে হলে সবার আগে একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা করা দরকার। এ জন্য আইন করতে হবে। আইন করার পাশাপাশি কর প্রদানের মাধ্যমে ব্যবসায়ীদের মজুদ স্বর্ণের নিবন্ধনের সুযোগ দিতে হবে। ব্যাংকের মাধ্যমে স্বর্ণ আমদানি করতে হবে। ব্যাগেজ রুল পরিবর্তন করে বিনা শুল্কে বছরে দুই বার সর্বোচ্চ ১০০ গ্রাম করে স্বর্ণ আনার সুযোগ রাখা যেতে পারে। শুল্ক কমিয়ে স্বর্ণ আমদানির ব্যবস্থা করতে হবে, যাতে চোরাচালান বন্ধ হয়। এ বিষয়ে বাংলাদেশ জুয়েলারি সমিতির (বাজুস) সাবেক সভাপতি ডা. দিলিপ কুমার ইটিভি অনলাইনকে বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে স্বর্ণ নীতিমালা করার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানিয়ে আসছি। কিন্তু আজ পর্যন্ত স্বর্ণ নীতিমালা পেলাম না। অনেক দেনদরবারের পর সরকার একটি খসড়া নীতিমালা করেছে, কিন্তু সেটি কবে চূড়ান্ত রূপ পাবে সেটি জানি না। আমি বিশ্বাস করি, স্বর্ণ নীতিমালা করা হলে এ বাজারে শৃংখলা ফিরে আসবে। স্বর্ণের বাজারে নয়ছয়ের মূলে রয়েছে চোরাচালান। শুল্ক ও গোয়েন্দা সূত্র জানায়, দেশে ব্যাংকের মাধ্যমে ঋণপত্র খুলে বৈধভাবে কোনো স্বর্ণ আমদানী হয় না। তারপরেও এত হাজার-হাজার দোকানে স্বর্ণের ব্যবসা চলছে কীভাবে? স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের দাবি, দেশের ভেতরে মানুষ যেসব পুরনো স্বর্ণালংকার বিক্রি করে সেগুলো ক্রয়-বিক্রয়ের মাধ্যমে একটা জোগান আসে। এ ছাড়া বিদেশ থেকে আসার সময় একজন যাত্রী শুল্ক ছাড়াই ১০০ গ্রাম পর্যন্ত স্বর্ণ আনতে পারেন। এগুলোই হাত বদল হয়ে জুয়েলারি দোকানে আসে। তবে প্রায় প্রতিদিনই দেশের বিমানবন্দর ও স্থলবন্দর কিংবা বিভিন্ন চোরাই পথে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ আসছে। এর মধ্যে কিছু স্বর্ণ ধরা পড়ে শুল্ক কর্মকর্তাদের হাতে। ধরা পড়ার ফাঁকে পাচার হয়ে যায় বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ। সূত্র জানায়, ধরা পড়া স্বর্ণের পরিমাণের চেয়ে পাচার হয়ে যাওয়া স্বর্ণের পরিমাণ কয়েকগুণ বেশি। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, গোল্ডেন ক্রিসেন্ট ও গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গলের মধ্যবর্তী হওয়ায় বাংলাদেশ চোরাচালান রুট হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে। তাই ঝুঁকি অনেক। শুল্ক গোয়েন্দারা যা আটক করছে তা মূল চোরাচালানের মাত্র ১৫ থেকে ২০ শতাংশ। আর বাকি ৮০ শতাংশ ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে যাচ্ছে। শুল্ক ও গোয়েন্দা বিভাগের এক হিসাবে দেখা যায়, তিন বছরে তাদের অভিযানে প্রায় ৩ হাজার ৯০০ কেজি স্বর্ণ আটক হয়েছে। যার মূল্য প্রায় এক হাজার ৮৫০ কোটি টাকা। এ হিসাবে যে পরিমাণ স্বর্ণ পাচার হয়ে গেছে, তার অঙ্ক কয়েক হাজার কোটি টাকা। সূত্র জানায়, চোরাই পথে আনা এবং ডাকাতি- চুরি হওয়ার স্বর্ণগুলো জুয়েলারির মালিকরা কম দামে কিনে তাদের নিজস্ব কারখানায় উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে নিত্যনতুন ডিজাইনের অলংকর তৈরী করে বিক্রি করে। গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, রাজধানীতে প্রতিদিন কোটি কোটি টাকার চোরাই স্বর্ণের বেচাকেনা হয়। এসব চোরাই স্বর্ণের সঙ্গে নামীদামী জুয়েলারির মালিক জড়িত। তবে উপর মহলে যোগাযোগ রক্ষা করে চলায় তারা যুগ যুগ ধরে ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে গেছে। তাঁতীবাজারে স্বর্ণের কারখানায় কাজ করেন (কারিগর) এমন কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চোরাই পথে আনা স্বর্ণ দিয়েই অধিকাংশ কারখানা চলে। চোরাই পথে স্বর্ণের বারগুলো হাত ঘুরে চলে আসে ঢাকার নামীদামী জুয়েলারিতে। জুয়েলারি মালিকরা এসব স্বর্ণ তাদের কারখানায় কারিগর দিয়ে অলংকার তৈরি করে বিভিন্ন শো-রুম সাজিয়ে রেখে বিক্রি করেন। তারা জানান, পুরান ঢাকায় একটি সংঘবদ্ধ চক্র রয়েছে, যারা লুণ্ঠিত স্বর্ণালংকার অল্প দামে কিনে সঙ্গে সঙ্গে তা গলিয়ে ফেলে। এতে করে এগুলোর মালিকানা শনাক্ত করা সম্ভব হয় না। চোরাই স্বর্ণের ব্যবসা করে পুরান ঢাকার অনেক স্বর্ণ ব্যবসায়ী এখন কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। ডাকাত দল, চোর ও ছিনতাইদের সঙ্গে এসব ব্যবসায়ীর নিবিড় সর্ম্পক রয়েছে । এদের মধ্যে কয়েকজন ভারতীয় নাগরিকও আছেন। যারা প্রতিনিয়ত ভারত আসা-যাওয়া করেন বলে তারা জানান। অভিযোগ রয়েছে, স্বর্ণ চোরাইকারবারি এবং জুয়েলারি মালিকদের সঙ্গে একশ্রেণির অসাধু শুল্ক কর্মকর্তারও যোগাযোগ রয়েছে। অসাধু শুল্ক কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করেই তারা স্বর্ণ পাচার থেকে শুরু করে সেগুলো দিয়ে অলংকার তৈরী করে চুটিয়ে ব্যবসা করে আসছে। বাংলাদেশের স্বর্ণের বাজার পুরোটাই অস্বচ্ছ। আর এ অস্বচ্ছতার জন্য শুল্ক ও গোয়েন্দা কর্তৃপক্ষই দায়ী। এ প্রসঙ্গে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল মজিদ বলেন, স্বর্ণের বাজারে কাগজে-কলমে অস্বচ্ছতা ও অস্পষ্টতা বেশি। যারা এগুলো দেখার দায়িত্বে আছেন তারাও বেশ স্পর্শকাতর। এই অস্বচ্ছতা, অষ্পষ্টতা দূর করার জন্য সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত শুল্ক ও গোয়েন্দাদের অভিযান চালানো উচিত। শুল্ক গোয়েন্দা সূত্র জানায়, দেশের স্বর্ণের চাহিদা মিটিয়ে প্রতিবেশি দেশ ভারতের স্বর্ণালংকারের চাহিদা মেটাতেও দুবাই, মালয়েশিয়া, ওমান, সৌদি আরব ও সিঙ্গাপুর থেকে বাংলাদেশে সোনার বার আনা হয়। এসব বার পরে বেনাপোল স্থলবন্দর ও ভোমরা স্থলসীমান্ত দিয়েও পাচার করা হয়। চোরাচালান চক্রগুলোর মধ্যে দেশে অবস্থান করা চক্রগুলো সরাসরি জড়িত থেকে মানি এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে, মানি চেঞ্জারের ব্যবসার আড়ালেও স্বর্ণ চোরাচালান করছে। তাছাড়া প্রশ্ন রয়েছে উদ্ধার করা স্বর্ণের বিষয়েও। প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর বিভিন্ন বিমানবন্দর থেকে যে স্বর্ণ আটক করে সেগুলো ঢাকা কাস্টমস হাউজের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে একটি জিরো নম্বরের মাধ্যমে জমা দেওয়া হয়। ঢাকা কাস্টমস হাউজ উদ্ধার করা ওই স্বর্ণের নিষ্পত্তি করে বাংলাদেশ ব্যাংকে। উদ্ধার করা স্বর্ণের মালিকানা দাবি করে, কেউ যদি ওই স্বর্ণ নির্ধারিত শুল্ক পরিশোধ করে তাহলে তারা তা নিয়ে যেতে পারে। তবে কেউ যদি দাবি না করে, তখন বাংলাদেশ ব্যাংক ওই স্বর্ণ নিলাম করে। এরপর বাংলাদেশে জুয়েলারি ব্যবসায়ী সমিতির সদস্যরা ওই স্বর্ণ নিলামে কিনে বিক্রি করেন। আর নিলামে বিক্রি করা ওই টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেয়া হয়। তবে কি পরিমাণ স্বর্ণ নিলাম হয়, তার কোনো হিসাব নেই তাদের কাছে।   /ডিডি/

রাজধানীতে ভাড়ায় মিলছে পাঠ্যবই

বইয়ের মার্কেটের জন্য বিখ্যাত রাজধানীর নীলক্ষেত। গল্প, উপন্যাস, কবিতা, ছড়া, ইতিহাস, পাঠ্য বইয়ের পাশাপাশি এখানে চিকিৎসা বিজ্ঞানসহ আন্তর্জাতিক মানের বই পাওয়া যায়। হাতের কাছে সুবিধামতো দামে বই পাওয়ায় রাজধানীর অধিকাংশ শিক্ষার্থীরা নীলক্ষেতে ভিড় জমায়। এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েট, ইডেন কলেজ ও ঢাকা কলেজ নীলক্ষেতের পাশে হওয়ায় শিক্ষার্থীরা নিজেদের সুবিধামতো সময় বই কিনতে পারে। সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো, এই মাকের্টের কয়েকটি দোকান থেকে পাঠ্যবই ভাড়া হিসেবে নেওয়া যায়। অনেকেই পরীক্ষার আগের দিন এসে চুক্তিভিত্তিক দামে ভাড়া করে বই সংগ্রহ করে। পরীক্ষা শেষ হলে কিছু টাকা যোগ করে আবার বই দিয়ে যায়। পাঠ্য বইয়ের পাশাপাশি গল্প, উপন্যাসও ভাড়ায় পাওয়া যায়। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে নীলক্ষেতের বই বিক্রেতা আরিফ হোসেন জানান, অনেক শিক্ষার্থী নতুন বইয়ের দাম বেশি হওয়ায় পুরানো বই কিনতে আসে। অনেকে আবার পরীক্ষার আগে এসে বই নিয়ে যায়। পরীক্ষা শেষ হল কিছু টাকা যোগ করে বই ফিরিয়ে দিয়ে যায় । পুরনো বই বিক্রেতা আহাসান আলী জানান, ১৯ বছর হইয়া গেছে পুরান বই বেচতাছি। আমরা সব ধরনের বই-ই বেচি। এখানে পাওয়া যাইবো না, এমন কোনো বই নাই। যেসব বই আর নতুন পাওয়া যাইবো না, সেগুলার পুরান সংস্করণও এখানে আছে। ছাত্ররা নিজেদের পছন্দমতো বই কিনে নিয়ে যায়। তবে আগের মতো আর ব্যবসা হয় না। একদিকে যেমন ব্যবসায়ীর সংখ্যা বেড়েছে, অন্যদিকে পুরান বইয়ের প্রতি শিক্ষার্থীদের আগ্রহ কমেছে। বই কিনতে আসা ইডেন কলেজের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী সানজেদা আক্তার বলেন, ৮০ টাকা দিয়ে ইসলামী ইতিহাসের একটা বই নিয়েছি। আগামী সপ্তাহে পরীক্ষা আছে। পরীক্ষা শেষ করে আবার বই দিয়ে যাবো। দোকানদার ভাই ৬০ টাকা ফিরিয়ে দেবে। এছাড়া মাঝে মাঝে পুরানো বই এখান থেকে কিনে নিয়ে যাই। ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী আল ইমরান বলেন, ছাত্র রাজনীতি করার কারণে বই পড়ার তেমন সময় পাই না। পরীক্ষার সময় এলেই কেবল বই খোঁজ করি। বেশির ভাগ সময় নীলক্ষেত থেকে পুরানো বই নিয়ে যাই। পরীক্ষা শেষ করে তাদের কাছে আবার বিক্রি করে দেই। অনেক সময় চুক্তির মাধ্যমে এখান থেকে বই নিয়ে যাই। আসাদ নামের এক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, নীলক্ষেতের বই ব্যবসায়ীদের কাছে আমারা এক প্রকার জিম্মি। আমরা তাদের কাছ থেকে নতুন বই ২০০ টাকা দিয়ে কিনি। একই বই যখন পরীক্ষার পর বিক্রি করতে যাই, তখন ৩০ থেকে ৪০ টাকার বেশি দিতে চায় না। কিন্তু একই বই পুরনো হিসেবে কিনতে গেলে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা গুণতে হয়। এটা এক ধরনের স্বেচ্ছাচারিতা। ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী কে এম আবু ইউসুফ জানান, নীলক্ষেত থেকে প্রতিনিয়ত আমাদের কিছু বন্ধু পরীক্ষার আগের রাতে বই ভাড়া করে নেয়। পরীক্ষার পর সেই বই দিয়ে আসে। এভাবে অনেকেই অনার্স শেষ করেছেন। আজিজ নামের এক অভিভাবক বলেন, আমার ছেলে ৭ম শ্রেণিতে পড়ে। তার জন্য গল্পের বই কিনতে এখানে এসেছি। মাঝে মাঝে সাধারণ জ্ঞানসহ বিভিন্ন ধরনের বই কিনতেও এখানে আসি। অন্য মার্কেটের চেয়ে এখানকার বইয়ের দাম কিছুটা কম।   ডিডি/টিকে

‘দুদক এখনও কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারেনি’

২০০৪ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি দুর্নীতি দমন কমিশন আইন-২০০৪ রাষ্ট্রপতির সম্মতি পায়। এ আইনের মাধ্যমে দেশের দুর্নীতি দমন, নিয়ন্ত্রণ, প্রতিরোধ, সমাজে সততা ও নিষ্ঠাবোধ সৃষ্টির দায়িত্ব দুর্নীতি দমন কমিশনের ওপর বর্তায়। দুদক গঠিত হওয়ার পর প্রথম আড়াই বছর অনেকটা নিষ্ক্রিয় ছিল। মামলার তদন্তে দীর্ঘসূত্রিতা, বিত্তশালী-ক্ষমতাবানদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সময়ক্ষেপনসহ নানা কারণে দুদককে নিয়ে অনাস্থা তৈরি হচ্ছিল জনমনে। তবে সময়ের পরিক্রমায় বাস্তবতা উপলব্ধি করে ঘুরে দাঁড়িয়েছে দুদক। সাম্প্রতিক সময়ে দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে দুদক কর্মকর্তাদের কিছু সাহসী পদক্ষেপ মানুষের নজর কেড়েছে।মঙ্গলবার দুদক-এর ত্রয়োদশ বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানে এক যুগেরও বেশি সময় ধরে স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানটির পথচলা, সাফল্য ও ব্যর্থতা এবং সামনের দিনগুলোতে পরিকল্পনা নিয়ে একুশে টিভি (ইটিভি) অনলাইনের সঙ্গে কথা হয় প্রতিষ্ঠানটির সচিব ড. মো. শামসুল আরেফিনের। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন ইটিভি অনলাইনের প্রতিবেদক আলী আদনান।

ব্লু -ইকোনমি ঘিরে নতুন আশা দেখছে বাংলাদেশ

ব্লু-ইকোনমি হচ্ছে সমুদ্র সম্পদনির্ভর অর্থনীতি। সাগরের অজস্র জলরাশি ও এর তলদেশের বিশাল সম্পদকে কাজে লাগিয়ে উন্নয়নের স্বপ্ন পূরণে এক অর্থনৈতিক বিপ্লব। বিশাল সমুদ্র জয়ের পর এবার সে বিপ্লব বাস্তবায়নের রোডম্যাপে দুর্বার গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। সমুদ্র অর্থনীতি ঘিরে নতুন স্বপ্ন দেখছে দেশ। সাগরের সম্পদ আহরণে একদিকে নেওয়া হয়েছে অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন কর্মপন্থা। অন্যদিকে উপকূলীয় দেশগুলোর প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পেতে আগে থেকেই নেওয়া হয়েছে কার্যকরী পরিকল্পনা। এরইমধ্যে সমুদ্র সম্পদ অনুসন্ধানে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের কার্যক্রম পরিচালনায় স্থায়ী একটি ব্লু-ইকোনমি সেল গঠনেরও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সমুদ্রে অনুসন্ধান চালাতে খুব শিগগিরই একটি জাহাজও কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

গণপরিবহনে নারী হয়রানি বাড়ছে

ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির ছাত্রী মিষ্টি বড়ুয়া। পড়াশোনার পাশাপাশি একটি বহুজাতিক কোম্পানিতে চাকরি করছেন। তাই রোজ তাকে পাবলিক বাসে চড়তে হচ্ছে। এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে তিনি স্বীকার করেন, নিতান্ত বাধ্য হয়েই তারা বাসে উঠে যাতায়াত করেন। তার ভাষায়, যদিও এখন পুরুষ ও নারী যাত্রীর সংখ্যা সব জায়গায় সমান, তবুও মেয়েদের জন্য বাসে সিট থাকে গুটিকয়েক। তার ওপর সেই সিটগুলো সব সময় পুরুষের দখলে থাকে। অনেক সময় বাসের হেল্পার-চালক বলার পরও সেসব পুরুষ যাত্রীরা সিট ছাড়ে না। পুরুষ যাত্রীদের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি করে দাঁড়ানোর মতো পরিবেশ আমাদের দেশে এখনো সৃষ্টি হয়নি। কারণ অনেক পুরুষ যাত্রী ইচ্ছাকৃতভাবেই গায়ে পড়ে অশোভন আচরণ করার সুযোগ খুঁজে। কিছুদিন ধরে মেয়েদের জামার পিছন দিকে ব্লেড দিয়ে কেটে দেওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে। এ বিষয়টিও সম্প্রতি মিষ্টির মত অনেক তরুণীর ভয়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ফৌজিয়া হাসনাত জানালেন, ভিড়ের মধ্যে বাসে ওঠতে বেগ পেতে হয়। কারণ একই দরজা দিয়ে ধাক্কাধাক্কি করে ওঠা কষ্টকর। ছাড়া এক্ষেত্রে কিছু পুরুষ যাত্রী পেশীর জোর দেখায়, নয়তো গায়ে হাত দিয়ে অশোভন আচরণ করে। তাছাড়া সাধারণত সিটে বসলে দাঁড়িয়ে থাকা পুরুষ যাত্রী ইচ্ছা করেই মেয়েদের গা ঘেষে কুরুচিপূর্ণ ইঙ্গিত দেওয়ার চেষ্টা করে। উপরের অভিযোগগুলোর পুনরাবৃত্তি করেই নতুন সমস্যার কথা জানালেন স্কুল শিক্ষিকা নুসরাত হেনা। তিনি বলেন, বাসে ওঠার সময় দরজায় দাঁড়িয়ে থাকা হেল্পার গায়ে হাত দিবেই। বিনা প্রয়োজনে পিঠে হাত দেওয়া হেল্পারদের বদ অভ্যাস হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি আরো জানালেন, টেম্পুতে জায়গা সঙ্কটের সুযোগ নিয়ে অনেক পুরুষ যাত্রী হাঁটুর সঙ্গে হাঁটু লাগিয়ে অশোভন আচরণ করে বা কুরুচিপূর্ণ ইঙ্গিত দেয়। হেনা, ফৌজিয়া বা মিষ্টিদের এসব অভিযোগ নতুন নয়। মানুষ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নারী যাত্রীর সংখ্যাও বাড়ছে। কিন্তু বাসে নারীদের জন্য সিট সংখ্যা বাড়ছে না। নারী যাত্রীর জন্য বিআরটিসি কিছুদিন আগেও আটটি বাস চালু রেখেছিল। কিন্তু পর্যাপ্ত নারী যাত্রী নেই, তাই লস দিতে হচ্ছে- এমন অজুহাতে বাসগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। যদিও ওই আটটি বাসও নারীদের জন্য রাজধানীতে অপর্যাপ্ত ছিল। রাজধানীর ৭৩টি মোড়ে প্রতিদিন সকাল ও সন্ধ্যায় ভিড় থাকে। এ ভিড়ের মধ্যে নারী যাত্রীদের পোহাতে হয়- এসব সমস্যা। অপরাধী অপরিচিত হওয়ায়ও আমাদের সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি না পাওয়ায় অধিকাংশ ক্ষেত্রে নারীদের এসব ভোগান্তি মুখ বুজে সহ্য করা ছাড়া উপায় থাকে না। শুধু পুরুষ যাত্রী নয়; বাসের চালক ও হেল্পারদের আচরণও নারীদের জন্য বিব্রতকর। এমনটাই মনে করেন, ফিমেল এডুকেশন ফাউন্ডেশন-এর চেয়ারম্যান জিনাত রেহানা ইলোরা। তিনি বলেন, নারীদের অসম্মান বা বিব্রত করার সস্তা একটা ধরন হল, নারীদের উদ্দেশ্য করে বা তাদের সামনে অশ্লীল শব্দ, বাক্য ও অঙ্গভঙ্গি করা। এ বিষয়ে লোকাল বাসের ড্রাইভার ও হেল্পাররা বেশ পারদর্শী। তবে এ ব্যাপারে শিক্ষা ও সামাজিক-সচেতনতার বিকল্প নেই, এমনটাই বোঝা যায়, কবি ঋতুপর্ণা আজাদ অর্চির কথায়। তিনি বলেন, গণপরিবহনে বেশি সমস্যা তৈরি করে মধ্যবয়স্ক লোকজন। তারা গায়ে পড়ে বিভিন্ন ব্যক্তিগত বিষয়ে প্রশ্ন শুরু করে, যা কোনোভাবেই অপরিচিত লোকের কাছে কাম্য নয়। এখনকার শিক্ষিত সচেতেন তরুণরা এ ব্যাপারে বেশ ভদ্র। তবে শ্রমিকশ্রেণির লোকেরা গায়েপড়ে নোংরামী করে। এটাকে যৌন হয়রানি ছাড়া অন্য কোনোভাবেই অভিযুক্ত করা যায় না। প্রতিনিয়ত নারী যাত্রীরা এভাবে হয়রানির শিকার হলেও নীরব প্রশাসন। নেই বিকল্প কোনো উদ্যোগ। কেন? এ ব্যাপারে আইন কী বলে? হ্যা, আইন জানতেই যোগাযোগ করেছিলাম ব্যারিস্টার মিতি সানজানার সঙ্গে। তিনি বলেন, এ জাতীয় অপরাধের ক্ষেত্রে অপরাধীকে শনাক্ত করা কঠিন। এ ক্ষেত্রে মানবিক সচেতনতা গড়ে তোলার বিকল্প নেই। পেনালকোড, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ আইন- এ ধরনের হয়রানিমূলক আচরণের জন্য শাস্তির বিধান রেখেছে। কিন্তু খুন ও ধর্ষণের মতো অপরাধের ক্ষেত্রে অপরাধীকে যেভাবে চিহ্নিত করা যায়, গণপরিবহনে নারীকে হয়রানির ক্ষেত্রে সেভাবে শনাক্ত করা যায় না। পুরো ব্যাপারটিতে নারীদের ঝামেলা পোহাতে হয়। ফলে অনেক ক্ষেত্রে নারী মুখ খোলার বা বিচার চাওয়ার ঝামেলায় যান না। এ ব্যাপারে মহামান্য হাইকোর্টে ২০০৮ সালের দিক নির্দেশনা আছে। যতক্ষণ কোনো আইন নেই, ততোক্ষণ এ দিক নির্দেশনা আইন হিসেবে গণ্য হবে। তবে সামাজিক প্রতিরোধ ও সচেতনতা গড়ে তোলার মাধ্যমে এগিয়ে যাওয়ার বিকল্প নেই। সামাজিকভাবে আমরা এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে সক্ষম হবো, জনসচেতনতা গড়ে উঠবে- এটাই প্রত্যাশা।   /ডিডি/

আমৃত্যু মানুষের জন্য কাজ করে যেতে চাই : দিদারুল আলম এমপি

পৃথিবীতে কিছু মানুষের জন্ম নিজের তরে নয়, মানুষের উপকারের জন্য। তারা মানুষের জন্য নিজেকে বিলিয়ে দিতে চান। এমন মানুষ আগে পাওয়া যেত ঢের। কিন্তু এখন এমন মানুষ দিন দিন কেন জানি কমে যাচ্ছে। মানুষ যার যার চিন্তা নিয়েই ব্যস্ত হয়ে পড়ছে। তবে নানা রঙে-রূপে ও উপাদানে সাজানো বৈচিত্রময় এ সমাজে ব্যতিক্রম কিছু মানুষ আছে বলেই হয়তো সামাজিক কাঠামো টিকে আছে। পাঠক, আজ ব্যাতিক্রম এমন একজন মানুষের কথা তুলে ধরব, যিনি নিজে এবং তার পরিবার বংশ পরম্পরায় সাধারণ মানুষের কল্যাণে কাজ করে আসছেন। নিজেদের কষ্টার্জিত অর্থ-সম্পদ বিলাসিতায় ব্যয় না করে দু:খী-অসহায়-দরিদ্র মানুষের কল্যাণে অকাতরে ব্যয় করে আসছেন। চট্টগ্রামের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে তার ও তাদের অবদান এককথায় অতুলনীয়। তিনি আলহাজ্ব দিদারুল আলম এমপি।

নারীর ভাগ্য উন্নয়নের স্বপ্ন দেখেন দোহারের আরিফা

কিছু মানুষ নিজের পাশাপাশি অন্যের জন্যও চিন্তা করে থাকেন। এজন্য হয়ে উঠেন উদ্যোক্তা। স্বপ্ন দেখেন এবং অন্যকেও স্বপ্ন দেখাতে পছন্দ করেন। তেমনি একজন হলেন দোহারের শতাধিক বেকার নারীর কর্মসংস্থান করে দেওয়া আরিফা আক্তার বেপারী। তিনি স্বপ্ন দেখেন তার এলাকায় বেকার থাকবে না। সবাই কাজ করে ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটাবেন। এলাকায় তিনি কারো কাছে আরিফা আপা আবার কারো কাছে আরিফা ভাবি হিসেবে বেশ জনপ্রিয়। ব্যক্তিগত জীবনে তার দুই সন্তান ও স্বামীকে নিয়ে সংসার। বড় ছেলে রিজুয়ান বেপারী উপজেলার মইতপাড়ায় ড্যাফোডিলস্ হাই স্কুলের ৭ম শ্রেণির ও ছোট ছেলে রায়য়ান বেপারী সাতভিটা ফাস্টগ্লোরি স্কুলে ২য় শ্রেণির শিক্ষার্থী। স্বামী রজ্জব আলী বেপরী প্রবাসী। সব মিলে আরিফা আক্তার বেপারীর পরিবার সুখী পরিবার হিসেবে পরিচিত।  তবে সুখী এ জীবনের পেছনে রয়েছে দীর্ঘ সংগ্রামের এক ইতিহাস। এই সংগ্রামের কাহিনী জানতে শনিবার একুশে টেলিভিশন অনলাইনের এ প্রতিবেদক গিয়েছিল আরিফা আক্তার বেপারীর বাড়িতে। তিনি জানান, ছোটবেলা থেকেই নিজে কিছু করার জন্য এগিয়ে চলেছেন। কখনো পেরেছেন আবার কখনো পারেননি। তাতে কখনো দুঃখ হয়নি। চেষ্টা করেছি অনবরত। একসময়ে তার ভাবনার আকাশে দোলা দিতে থাকে কীভাবে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের প্রসার ও সম্প্রসাণের মাধ্যমে দারিদ্র্যমুক্ত নারীসমাজ গঠন করা যায়। আর এ ইচ্ছাকে মনে প্রাণে ধারন করে বিরামহীনভাবে তার মেধাশক্তিকে কাজে লাগাতে থাকেন। এরমধ্যে পরিবারের সম্মতিতে আরিফা আক্তারের স্বপ্নের পথে বাঁধা হয়ে দাঁড়ায় বিয়ে। কিন্তু তীল তীল করে গড়ে ওঠা আরিফার লালিত স্বপ্নের মৃত্যুঘটেনি বিয়ের কারণে। উল্টো বিয়ের পরেই তার স্বপ্ন বাস্তবায়নে এক ধাপ এগিয়ে আসে। শুরু হয় আরিফার নতুন করে পথচলা। আর এ কাজে অনুপ্রেরণা ও সহায়তা  দিয়েছেন তার স্বামী রজ্জব আলী বেপারী। ২০১৩ সালে প্রথমবারের মতো ডাইভারসিফিকেশন প্রমোশন সেন্টার (জেডিপিসি) থেকে পাটের বহুমুখী ব্যবহারের উপর কসটিং, স্কিল ডেভেলপমেন্ট, হায়ার স্কিল ডেভেলপমেন্ট, কোয়ালিটি ইনপ্রুপমেন্ট, ডাইং, প্রিন্টিংও ফিনিমিয়ের ওপর ২১ দিনের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে নতুন করে উদ্যোগী হন তিনি। সেখান থেকে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। নিজ বাড়িতে সাতটা সেলাইমেশিন দিয়ে প্রথমে নারীদেরকে হাতে কলমে কাজ শেখান আরিফা আক্তার। এক সময়ে তা ব্যাপক আকার ধারন করে। তার হাতে অন্তত শতাধিক নারী প্রশিক্ষণ নিয়ে সমাজে মাথা উচু করে বাঁচার চেষ্টা করছেন। তাদের একজন নারিশা এলাকার ফরিদা ইয়াসমিন। গত তিন বছর যাবৎ শিখছেন এ কাজ। এখন তিনি থ্রি-পিচ সেলাই, ব্লক, বাটিকের কাজ করেন। তাতে মাসে বেশ টাকা পান ঘরে কাজ করে। এতো গেল ফরিদার কথা। আরিফার কাছ থেকে থ্রি-পিচ, ব্লক বাটিক, ফ্লোর ম্যাট ও চুমকির কাজ শিখে দোহারের চরাঞ্চল নারিশা জোয়ার এলাকার রাসেদা এখন বাড়িতে বসে কাজ করে মাসে অন্তত ১৫-২০ হাজার টাকা আয় করেন। এছাড়া নারিশা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী সালমা আক্তার, সাদিয়া আক্তারসহ আরও অনেক নারী আরিফার বাতিঘরে এসে নিজের বাতিঘর তৈরি করছেন। তবে আরিফা আক্তার বেপারী একুশে টেলিভিশনের অনলাইনের এ প্রতিবেদককে আরও জানান, আমার স্বামী ব্যতীত আমার এ কাজের পিছনে যেই মানুষগুলোর সব চাইতে বেশি অনুপ্রেরণা পেয়েছি তারা হলেন- সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীমুল হক পাভেল, নুরুল করিম ভূঁইয়া, সাবেক সহকারী কমিশনার (ভূমি) শামীম আরা নিপা ও বর্তমান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কেএম আল-আমীন, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা সাদিয়া আফরিন ও সাবেক মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা রহিমা বেগম। তিনি বলেন, তাদের অনুপ্রেরণা ও সার্বিক সহযোগিতা ছাড়া কখনো আমি এতদূর আসতে পারতাম না। বর্তমান ইউএনও কেএম আল-আমীন স্যার আমার এ কাজটাকে সাধুবাদ জানিয়ে তিনি নিজ উদ্যোগে আমাদের এই কর্মমুখী নারীদের জন্য একটি দোকানের ব্যবস্থা করেছেন। যাতে করে আমরা দোহারের প্রাণকেন্দ্র জয়পাড়ায় বসে আমাদের এ শিল্পটাকে এগিয়ে নিতে পারি। চলতি সপ্তাহে জেএসসি পরীক্ষা শেষ হলে উপজেলা জয়পাড়া মুক্তিযোদ্ধা মার্কেটের দ্বিতীয় তলায় চালু হতে যাচ্ছে নারীদের কর্মমুখী শিক্ষার কার্যক্রম। যেখানে নারীরা শিখবে ও তৈরি করবে, থ্রি-পিচ, ব্লকবাটিক এর কাজ, পুথি দিয়ে বিভিন্ন হস্তশিল্প, যেমন পার্স ব্যাগ, ফুলদানি ও ঘর সাজানোর জন্য দৃষ্টিনন্দন শো-পিচসহ আরও কত কি। এছাড়া পাট দিয়ে দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহৃত নানা ধরনের ব্যাগ, ফ্লোর ম্যাড, জায়নামাজের পাটিসহ আরও অনেক কিছু। পাটের ব্যবহৃত জিনিসপত্র সহজেই বাজারজাত করা যায়, সে লক্ষে তিনি প্রতিদিন কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি একুশে টেলিভিশনের অনলাইনের এই প্রতিবেদককে আরও বলেন, আমার ব্যক্তিগত কোনো চাওয়া পাওয়া নেই। আমার স্বপ্ন ছিল আমি সমাজের অবহেলিত নারীদের জন্য কাজ করবো। সেই স্বপ্ন আমার অনেকটা পূরণ হয়েছে। বাকি জীবনটাও নারীদের জন্য কাজ করতে চাই। এদিকে আরিফার মেধা ও প্রতিভামূল্যায়ন ঝুলিতে ইতোমধ্যেই আছে ২০১৩ সালে দোহার উপজেলা সেরা জয়িতা পুরস্কার, ২০১৪ সালে ঢাকা জেলা সেরা জয়িতা এবং ২০১৬ সালে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে তিনি একাধারে উপজেলা, জেলা ও ঢাকা বিভাগীয়ভাবে সেরা জয়িতা হওয়ার গৌরব অর্জন করেন। একাধারে তিনি দোহার উপজেলা মহিলা অধিদপ্তর পরিচালিত উপজেলা মহিলা উন্নয়ন সংস্থার সভানেত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।  আরিফার ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে প্রায় ৩০ জন নারী কাজ করেন। তিনি বলেন, ক্ষুদ্র শিল্পের মাধ্যমে আমাদের নারীরা ঘরে বসেই কাজ করে স্বাবলম্বী হতে পারেন। কেবল প্রয়োজন ইচ্ছা শক্তি। এজন্য সরকারের কাছে তার আবেদন নারী উদ্যোক্তা ও ক্ষুদ্র কুটির শিল্পের সঙ্গে জড়িতদের সরকারিভাবে সহায়তা করা। যাতে এ শিল্প দক্ষ শিল্পে পরিণত হবে। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কেএম আল আমীন বলেন, আরিফা আক্তার বেপারীর কথা আমি শুনেছি। তার সুদক্ষ নেত্রীত্বে একঝাক নারী তার বাড়িতে হাতে কলমে শিক্ষা নিয়ে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করছে। আমি তার ওখানে সরেজমিনে গিয়েছিলাম। তিনি বলেন, ইতমধ্যে আমি এই শিল্পটাকে এগিয়ে নিতে জয়পাড়া মুক্তিযোদ্ধা মার্কেটে নিজ দায়িত্বে একটি দোকান নিয়ে দিয়েছি। যাতে করে তিনি তার স্বপ্নটাকে আরও এগিয়ে নিতে পারেন। এক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় যা যা করার প্রয়োজন সরকারের পক্ষ থেকে আমরা যথাসম্ভব চেষ্টা চালিয়ে যাব। উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা সাদিয়া আফরিন বলেন, নারীর ক্ষমতায়নে আরিফা আক্তার দোহার উপজেলায় গুরুত্বপূর্ণ ও সাহসী ভূমিকা পালন করেছে। এছাড়া সে উপজেলার আটটি বাল্যবিবাহ বন্ধে তার সাহসী ভূমিকা প্রশাসনে অত্যন্ত প্রসংশিত হয়েছে। এজন্য আমাদের দোহার উপজেলা মহিলা অধিদপ্তর তাকে সব সময় সার্বিক সহযোগিতা করে আসছি। এমএ/এসএইচ/ডব্লিউএন

খান কিচেন : সাধ্যের মধ্যে স্বাস্থ্যসম্মত খাবারের ফেরিওয়ালা

‘‘আমার স্বামী চাকরিজীবী। আমিও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করি। সকাল হলেই দু’জনের তাড়া থাকে অফিসের। ইচ্ছা হয় সকালে একটু স্বাস্থ্যসম্মত খাবার তৈরি করি নিজেদের জন্য। কিন্তু অফিস সময় মেনে চলার জন্য তা আর সম্ভব হয়ে ওঠে না। তাই হাতের কাছের কোনো রেষ্টুরেন্টে পরাটা কিংবা রুটি দিয়েই সকালের নাস্তাটা সারি। দুপুরেও বাইরের খাবার খেতে হয়। জানি বাহিরের খাবার স্বাস্থসম্মত নয়, তারপরও কোনো উপায় নেই।’’— কথাগুলো বলছিলেন বেসরকারি চাকরিজীবী নুপুর আক্তার (ছদ্ম নাম)। আশ্চর্য হলেও সত্য নুপুর আক্তারের এ কথাগুলো দারুণ এক ধারণা এনে দেয় আফরোজা খান-এর মাথায়। যে ধারণা থেকে আফরোজা খান এখন ‘খান কিচেন’-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক। প্রতিদিন যেখানে রান্না হচ্ছে লাখো মানুষের খাবার। যেখানে কর্মসংস্থান হচ্ছে চার হাজার মানুষের। রাজধানীর নতুন বাজারের পূর্ব পাশে বেরাইদ এলাকায় ১৫ বিঘা জমির উপর নিজ উদ্যোগে রান্নাঘরটি প্রতিষ্ঠা করছেন তিনি। এটি দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বড় রান্নাঘর বলে দাবি করেন তিনি।

প্লাস্টিক বর্জ্য থেকে বৈদেশিক মুদ্রা আয়

পরিচ্ছন্নতাকর্মী, পথশিশু আর ছিন্নমূল মানুষ রাস্তা বা উদ্যান থেকে ব্যবহৃত প্লাস্টিকের বোতল সংগ্রহ করছেন— দেশের সর্বত্র এমন চিত্র কমবেশি সবার চোখে পড়ে। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের অনেক অঞ্চলে কিছু মানুষের পেশায় পরিণত হয়েছে প্লাস্টিকের বর্জ্য সংগ্রহ। আর ধীরে ধীরে এর ব্যাপ্তি অকেদূর এগিয়েছে। প্লাস্টিকের বর্জ্য থেকে আসছে বৈদেশিক মুদ্রা। সম্ভাবনাময় এ শিল্পকে কেন্দ্র করে দেশে প্রায় ১৫০টি কারখানা গড়ে উঠেছে। কর্মসংস্থান হচ্ছে হাজার হাজার মানুষের। গত বছর বর্জ্য প্লাস্টিক বর্জ্য রপ্তানি করে প্রায় ৩৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বৈদেশিক মুদ্রা আয় করে দেশ। নতুন করে অনেক দেশ প্লাস্টিকের বর্জ্য আমদানি করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। রপ্তানিকারক সংগঠন বাংলাদেশ পেট ফ্লেকস ম্যানুফ্যাকচারাস এন্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিএফএমইএ) মতে, সরকারি সরকারি সহযোগিতা পেলে অর্থনীতিতে বড় ধরনের অবদান রাখবে এ খাত।

© ২০১৭ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি