ঢাকা, শনিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ২২:৩১:২৭

সৌন্দর্য চর্চায় চা ও কফি

সৌন্দর্য চর্চায় চা ও কফি

দিন চনমনে ও কর্মচঞ্চল করতে এক কাপ চা কিংবা কফির জুড়ি নেই। কিন্তু চা ও কফির মধ্যে এমন কিছু উপাদান রয়েছে যা ত্বকের সৌন্দর্য্ বৃদ্ধিতে সহায়ক। চা ও কফি ত্বকের স্তরে জমে থাকা ধুলোবালি পরিষ্কার করে। তাছাড়া কফি দিয়ে ত্বকের জন্য চমৎকার স্ক্রাব ও মাস্ক তৈরি করা যায়। স্কিন টোনার হিসেবেও চা ব্যবহার করা যায়। ফেস মাক্স হিসেবেও চা এবং কফি ব্যবহার করতে পারেন। পাশাপাশি চুল উজ্জ্বল করতে এবং চুলের রং ভালো রাখতে কফি সাহায্য করে। এবার জেনে নিন আরও কি কি উপকারে আসতে পারে চা ও কফি- ত্বকের যত্নে কফি ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রেখে রোদের ক্ষতিকর রশ্মি থেকে সুরক্ষিত রাখে কফি। চোখের নিচের কালো দাগ দূর করতে কফি দারুণ উপকারী। তা ছাড়া চোখের নিচে রক্ত জমাট বাঁধার সমস্যাও দূর করে কফি। এমনকি স্ক্রাব হিসেবেও কফির গুঁড়া ব্যবহার করা যায়। ব্রণের দাগ দূর করে গ্রিন টি ব্রণের দাগ দূর করতে বেশ উপকারী গ্রিন টি। গরম পানিতে গ্রিন টির ব্যাগ ভিজিয়ে রাখতে হবে। পানি আলাদা করে নিয়ে ঠাণ্ডা করে মুখ ধোয়ার সময় ওই পানি ব্যবহার করুন। তবে ধোয়ার পর মুছে ফেলবেন না। পানি মুখে শুকাতে দিন, এতে ত্বক গ্রিন টি-এর নির্যাস শুষে নেবে। নিয়মিত ব্যবহারে ত্বকের দাগ হালকা হয়ে আসবে। হাতের যত্নে কফি পেঁয়াজ বা রসুন কাটার পর হাতে বাজে গন্ধ হয়ে যায়। যা বেশ অস্বস্তিকর। আর এ পরিস্থিতি থেকে রক্ষা পেতে কফি বেশ কার্যকার। এক্ষেত্রে আগে ব্যবহার করেছেন এমন কফি হাতে ভালোভাবে ঘষে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেললেই হাত হবে দুর্গন্ধ মুক্ত। চোখের যত্নে গ্রিন টি ও কফি ব্যবহৃত গ্রিন টির ব্যাগ ফেলে না দিয়ে তা ঠাণ্ডা করে চোখের ওপর দিয়ে ২০ মিনিট চোখ বুজে বিশ্রাম করুন। এটি চোখ পরিষ্কার করবে। পাশাপাশি চোখের শিরায় আরাম দেবে। এছাড়া পান করার পর কফির দানাগুলো ফেলে না দিয়ে ঠাণ্ডা করে চোখের চারপাশে লাগিয়ে রাখুন। ২০ মিনিট পর ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে নিন। ভালো ফল পাবেন। মাথার ত্বকের স্ক্রাব কফির গুঁড়া মাথার ত্বক উদ্দীপ্ত করে চুল নরম ও উজ্জ্বল করতে সাহায্য করে। এক্ষেত্রে কন্ডিশনারের সঙ্গে সিকিভাগ কফি মিশিয়ে নিতে হবে। তারপর মিশ্রণটি মাথার ত্বকে লাগিয়ে কয়েক মিনিট হালকাভাবে ম্যাসাজ করে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে। ঝলমলে চুলের জন্য চা ও কফি এক কাপ গরম পানিতে দুটি টি-ব্যাগ দিয়ে তার সঙ্গে ২ টেবিল চামচ নারিকেল তেল ও ১ টেবিল চামচ মধু ভালোভাবে মিশিয়ে নিতে হবে। এই মিশ্রণ চুলে লাগিয়ে ২৫ থেকে ৩০ মিনিট অপেক্ষা করুন। এবার কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। চুল ঝলমলে হবে। এ ছাড়া চুলের ঔজ্জ্বল্য বাড়াতে কফির পেস্ট লাগাতে পারেন। এবার চুলে শ্যাম্পু করার পর পানি ও কফি দিয়ে পেস্ট করে চুলে লাগিয়ে নিন। ১৫ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন। চুলকে উজ্জ্বল করার পাশাপাশি এটি চুলের রঙে গভীরতা নিয়ে আসবে। সূত্র: জিনিউজ ডব্লিউএন
বয়স বাড়লেও ফিট থাকবেন যেভাবে

বয়স যতই বাড়ুক শরীর ফিট রাখার কোনো বিকল্প নেই। শরীর ফিট তো আপনি হিট। কিন্তু কীভাবে আপনি শরীর ফিট রাখবেন। আসুন জেনে নিই সেই টোটকা- *পর্যাপ্ত পানি পান: সকাল থেকে সারাদিনের কাজ কর্মের মাঝে এবং রাতে ঘুমানোর আগ পর্যন্ত ৬-৮ গ্লাস পানি পান করুন। এতে দেহের কোষ থাকবে উজ্জীবিত ও সতেজ। চেহারায় আসবে উজ্জ্বলতা। *পরিশ্রম: শরীরর ফিট রাখতে পরিশ্রম করুন নিয়মিত। লিফট এর পরিবর্তে সিঁড়ি ব্যবহার করার অভ্যাস করুন। পাশাপাশি বেশি বেশি হাঁটার অভ্যাস গড়ে তুলুন। *ঘুম থেকে উঠুন সকালে: ঘুম থেকে সকাল সকাল উঠার অভ্যাস করুন। সকালের হাওয়া এবং স্নিগ্ধ আলোতে ব্যায়াম বা হাঁটাহাঁটি অথবা যোগব্যায়াম করুন। *মেদ কমান: শরীরের মেদ কমানোর চেষ্টা করুন। যাদের শরীরে মেদ বেশি তাদের অল্প বয়সেই বার্ধক্য চলে আসে। এজন্য সাদা চালের পরিবর্তে আটা ময়দার তৈরি খাবার কাওয়ার অভ্যাস করুন। *তাজা খাবার: যতটা সম্ভব হয় তাজা খাবার খান। টিনজাত এবং বাসি খাবার এড়িয়ে যাওয়ায় ভাল। খাবারে প্রচুর সবুজ শাকসবজি,  মাছ, মাংস এবং তাজা মৌসুমি ফল রাখুন। এতে দেহ সুস্থ থাকবে। *ক্যালসিয়াম: রোজ ১০০০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার খাদ্য তালিকায় রাখুন। এতে দেহ ভাল থাকবে। সূত্র : বোল্ডস্কাই। /আর//এআর

বসে থাকলে বাড়ে মৃত্যুঝুঁকি!

ডিজিটাল যুগে জীবন ব্যস্ত হলেও, দিনের বেশিরভাগ সময় কাটে অফিসে চেয়ার-টেবিলে বসে। আবার কাজ শেষে ঘরে ফিরলেও বসেই সময় কাটছে কম্পিউটার বা টেলিভিশন আড্ডায়। আর হাতে স্মার্ট ফোন থাকলে গেইমস নিয়ে কিংবা ফেসবুক নিয়ে বসে চলে যায় ঘন্টার পর ঘন্টা। এর ফলে মস্তিষ্ক ব্যস্ত থাকলেও শরীর থাকছে কচ্ছপের মতো মন্থর। আর আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানে বলা হচ্ছে বেশিক্ষণ বসে থাকা ধূমপানের মতোই ক্ষতিকর। এর ফলে অকাল মৃত্যুও হতে পারে। এই পরিস্থিতির ওপর করা অসংখ্য গবেষণায় দেখা গেছে, দীর্ঘসময় বসে থাকার কারণে অকাল মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রের মেয়ো ক্লিনিক-অ্যারিজোনা স্টেট ইউনিভার্সিটি ওবেসিটি সলিউশনস ইনিশিয়েটিভ’য়ের পরিচালক ডা. জেমস লিভিন অলস জীবনযাত্রার ক্ষতিকর দিক নিয়ে গবেষণা করছেন। তিনি বলেন, বসে থাকা ধূমপানের চেয়েও ক্ষতিকর। এটি এইচআইভি ভাইরাসে চেয়েও বেশি মৃত্যুর জন্য দায়ি, যা প্যারাশুটের চাইতেও বড় বিশ্বাসঘাতক। গবেষণায় দেখা গেছে দীর্ঘক্ষণ বসে থাকার কারণে শরীরে বিভিন্ন ধরনের ক্যান্সার, হৃদরোগ এবং ডায়বেটিস হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটি মেডিকেল সেন্টারের এক গবেষণার ফলাফলে দেখা গেছে, যারা দিনে ১৩ ঘণ্টা বা এর বেশি কিংবা কিছুক্ষণের বিরতির পর এক থেকে দেড় ঘণ্টা একটানা বসে থাকেন তাদের অকাল মৃত্যুর ঝুঁকি বেড়ে যায় দ্বিগুণ। অপরদিকে যারা একটানা সর্বোচ্চ আধা ঘণ্টা বসে কাটান তাদের অকাল মৃত্যুর ঝুঁকি কম। আমেরিকান জার্নাল অফ এপিডেমিওলজি’তে প্রকাশিত একটি গবেষণায় জানানো হয়, যারা দিনে ছয় ঘণ্টার বেশি সময় বসে থাকেন তাদের অকাল মৃত্যুর সম্ভাবনা দিনে যারা তিন ঘণ্টা বা তার কম সময় বসে থাকেন তাদের চাইতে বেশি। এই গবেষণার জন্য ৫৩ হাজার ৪৪০ জন পুরুষ এবং ৬৯ হাজার ৭৭৬ জন নারীকে ১৪ বছর ধরে পর্যবেক্ষণ করা হয়। তাই সুস্থ থাকতে বসে খাবার খান, আর দীর্ঘক্ষণ না বসে কাজের ফাঁকে চেয়ার থেকে দেহটা তুলে নড়াচড়া করুন। আর/ডব্লিউএন

মাছ খাওয়ার পর দুধ খাওয়া কতটা স্বাস্থ্যকর…

মাছ খাওয়ার পর দুধ খাওয়া কতটা স্বাস্থ্যসম্মত, এটি নিয়ে এতোদিন বহু বিতর্ক হয়েছে। আমাদের দাদী ও মায়ে রা দুধ খাওয়ার আগে ও পরে মশলাদার খাবার খেতে সবসময় নিষেধ করতেন। আমরা তাদের এই উপদেশকে আগের দিনের পুরাতন তত্ত্ব হিসেবে মনে করতাম। আসুন জেনে নিই আয়ূর্বেদ, বিজ্ঞান কী বলে এ বিষয়ে। আয়ূর্বেদ বিদ্যা অনুসারে মাছ হচ্ছে মাংসাশি আর দুধ হচ্ছে নিরামিষ খাবার । আয়ূর্বেদ গবেষনায় বলা হয়েছে যে, উভয় খাবার একসঙ্গে খেলে হজমের ক্ষেত্রে রাসায়নিক প্রক্রিয়া ঘটতে পারে, যা চামড়ায় লিউডার্মা রোগ হতে পারে। এছাড়া শরীরের ওপর দুধের রয়েছে ঠান্ডা আর মাছের রয়েছে তাপ প্রভাব । যদি একসঙ্গে মাছ ও দুধ খেলে শক্তি হ্রাস পাবে, যা স্বাস্থ্যের জন্য খুবই ক্ষতিকর। মাছ ও দুধ একত্রে খাবার স্বাস্থের জন্য যে ক্ষতিকর বিজ্ঞান ভিত্তিক গবেষনায় তার স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে আপনি যদি মাছ খাওয়ার পর দুধ খান তাহলে আপনি খাদ্যের দুটি উপাদান গ্রহণ করলেন । এ দুই ধরনের খাবার হজম করার জন্য পাকস্থলী দু ধরণের রস সরবরাহ করে থাকে। আর এ জন্যই দুপ্রকারের খাবার হজম এবং শরীরের সঙ্গে মানিয়ে নিতে সমস্যা সৃষ্টি করে। সূত্র:টাইমস অব ইন্ডিয়া  এম//এআর      

উচ্চ রক্তচাপ, পারকিনসন্স দূর করে সঙ্গীত!

মনের মানুষের সঙ্গে দূরত্ব মনোমালিন্য? যোগাযোগ হচ্ছে না! খুব মন খারাপ। চেপে ধরেছে অবসাদ। রোগাক্রান্ত হয়ে পড়েছেন? ওষুধ একটাই। সঙ্গীত। সঙ্গীতেই নাকি উধাও হবে রোগ। স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞদের দাবি, সঙ্গীতে জাদু আছে। শরীরের জন্মগত রোগ সারাতে সঙ্গীত বা মিউজিক থেরাপির কোনো বিকল্প নেই।ডেনমার্কের আরহাস বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, মেজাজ ও আবেগ নিয়ন্ত্রণ করে সংগীত। মস্তিষ্কের ডোপামিনের প্রভাবেই এমনটা হয়। এই ডোপামিনকে নিয়ন্ত্রণ করে মিউজিক। উচ্চ রক্তচাপ, ডিপ্রেশন, ঘুমে জড়তা বা  স্মৃতি লোপের মতো অসুখ সারাতে মিউজিকের বিকল্প নেই। মস্তিষ্কের পেশি স্বাভাবিক রাখে। ফলে, স্ট্রোকের কারণে লোপ পাওয়া বাকশক্তি ফিরে পেতে এবং পারকিনসন্স রোগ থেকে ধীরে ধীরে আরোগ্য লাভ করা যায়।এছাড়া সিজোফ্রেনিয়া, অ্যামনেসিয়া, ডিমেনসিয়া, অ্যালঝাইমার্স রোগের দুর্দান্ত ওষুধ মিউজিক। গর্ভবতী মায়েরা নিয়মিত গান শুনলে শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশ সুন্দর হয়।গবেষকরা বলছেন, সঙ্গীতে মস্তিষ্কের অকেজো কোষগুলি ক্ষণিকের জন্য হলেও স্বাভাবিক হয়ে ওঠে। শরীরকে চনমনে ও মনকে সুন্দর রাখতেও গান অপরিহার্য। নিয়মিত ২৫ মিনিট গান শুনলে ব্যাক পেইন অন্যত্র পাড়ি জমায়। পাওয়া যায় প্রশান্তির ঘুম।গবেষকদের দাবি, গান শোনার পর ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে পড়ার আগ্রহ বাড়ে; মনোযোগ এবং দক্ষতাও বাড়ে। অটিজম আক্রান্ত শিশুর চিকিত্সায় মিউজিক থেরাপির জুড়ি নেই। সূত্র: জিনিউজ

ওজন কমাতে চান, কলা খান

দেশী ফল কলা সুস্বাধু ও হাতের নাগালে পাওয়া গেলেও অনেকে খেতে চান না। মুটিয়ে যাওয়ার ভয়ে কলাকে দূরে রাখেন। কিন্তু গবেষণা বলছে এমন ধারণা ভুল। গবেষকরা বলছে, কলাতেই রয়েছে সুগার আর ওজন নিয়ন্ত্রণের যাদুমন্ত্র। এখানেই শেষ নয়, কোলন ক্যানসার, হার্টের রোগের আশঙ্কাও কমায় কলা।কলায় থাকা ফাইবার হজমে সাহায্য করে।সেই সঙ্গে  সুন্দর ত্বক পেতেও এটি খেতে পারেন নির্দ্বিধায়। গবেষকরা বলছেন, কলার প্রতিটা কামড়ে রয়েছে ম্যাজিক। খাদ্যগুণে যে কোনও দামী ফলকে কয়েকশ` মাইল পিছনে ফেলবে কলা। ফাইবার, অ্যান্টি অক্সিড্যান্টে ভরপুর এই ফলে ফ্যাট নেই বললেই হয়। কাঁচা কলা সম্বৃদ্ধ পেকটিন আর রেজিস্ট্যান্ট স্টার্চে।বিশেষজ্ঞদের মতে, খাওয়ার পরে কলা খেলে নিয়ন্ত্রণে থাকে ব্লাড সুগার লেভেল। কলায় থাকা রেজিস্ট্যান্ট স্টার্চ ইনসুলিন সেনসিটিভিটি বাড়াতে সাহায্য করে। গবেষকরা জানান, দিনে ১৫-৩০ গ্রাম রেজিস্ট্যান্ট স্টার্চ ইনসুলিন সেনসিটিভিটি ৩৩-৫৫% পর্যন্ত বাড়ায়। পেকটিন কোলন ক্যানসারের আশঙ্কা কমায়। ফাইবার সম্বৃদ্ধ কলা ওজন কমাতে সহায়ক হয় বলেই দাবি। কলা ভরপুর পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়ামে।গবেষণায় প্রমাণিত, পটাশিয়াম সম্বৃদ্ধ ডায়েট হার্টের অসুখের আশঙ্কা ২৭% পর্যন্ত কমায়। যে নারীরা সপ্তাহে ২-৩বার কলা খান, তাদের কিডনির অসুখ হওয়ার আশঙ্কা ৩৩% কম। ব্যায়ামের পর পেশি ক্লান্তি এক ঝটকায় কমিয়ে দেয় কলায়। সুন্দর ত্বক পেতেও কলার জুড়ি মেলা ভার। সূত্র: জি নিউজ//এআর

শিশুদের টিফিন বক্সে কী খাবার দিবেন

শিশুদের খাবার নিয়ে মায়েদের ভাবনার শেষ নেই। মায়েদের কাছে দুনিয়ার সবচেয়ে বিরক্তিকর কাজ এটি। তাই বলে কী তাদের খাওয়াতে হবে না! শিশুদের স্বাস্থ্যসম্মত দুপুরের খাবার কী হতে পারে। এটি নিয়ে বিবিসিতে একটি ফিচার প্রকাশ করা হয়েছে। আসুন জেনে নিই একবার।   শিশুরা দুপুরে খাবার স্কুলে নিয়ে যায়। অভিভাবকরা চিন্তায় থাকেন খাবার থেকে শিশুরা সঠিক পুষ্টি পাচ্ছে কিনা। প্রয়োজনমত পুষ্টিকর খাবার সরবরাহ করা খুবই কষ্টকর। কারণ এখানে বাচ্চাদের খাবার নির্বাচনের একটি বিষয় রয়েছে। এক্ষেত্রে আপনি আপনার শিশুর খাবার তালিকায় বিভিন্ন ধরনের খাবার পুষ্টিগুণ প্রোটিন,ফাইবার, চর্বি, লবণ ও তাজা ফলমুল এবং শাকজবজি রাখতে পারেন। এ ক্ষেত্রে আপনি কিছু উপায় অবলম্বন করতে পারেন-১.    দুপুরের টিফিন তৈরি করার সময় আপনি আপনার শিশুর সঙ্গে পরিকল্পনা করতে পারেন। ২.আপনার শিশুর পছন্দ করা কিছু খাবার টিফিন বক্সে দিতে পারেন । এর মধ্যমে খাবারের প্রতি তার আগ্রহ বাড়বে। ৩.ধীরে ধীরে তাদেরকে বিভিন্ন খাবারের সঙ্গে পরিচিত করাতে পারেন তবে পুষ্টির বিষয়টি মাথায় রাখতেই হবে। ৪.শিশুদেরকে ফাইবার জাতীয় খাবার এবং সালাদ,স্যান্ডউইচ,পাস্তা ও রুটি দিতে পারেন। ৫.অন্য পিতামাতার সঙ্গে কথা বলে তাদের সন্তানদের স্বাস্থ্যকর খাদ্য তালিকা অনুসরণ করতে পারেন। ৫ থেকে ১০ বছরের শিশুদের জন্য প্রতিদিনের খাদ্য তালিকার যেসব বিষয় নিশ্চিত করতে হবে-শক্তি -১৮০০কেসিএএলপ্রোটিন-২৪গ্রাম কার্বোহাইড্রেড-২২০গ্রাম চিনি-৮৫গ্রাম ফ্যাট-৭০ গ্রাম ফাইবার-১৫গ্রাম লবণ-৪গ্রামসূত্র : বিবিসি।এম//এআর

নাক ডাকা থেকে মুক্তির উপায়

বিছানায় শুধু শোয়ার অপেক্ষা। তারপর কান পাততে হয় না, কিছুক্ষণ পরেই  কর্ণকুহরে আছড়ে পড়ে নাক ডাকার শব্দ ‘খড়ড়ড়ড়, খড়ড়ড়ড়’। হাজার হাঁকাহাঁকি-ডাকাডাকি করেও  তাকে জাগানোর সাধ্য কার! অথচ এই মানুষটাই সারারাত ‘সশব্দ নিদ্রা’ শেষে সকালে উঠে ভীষণ বিস্ময়ের সঙ্গে বলবে, ‘কে নাক ডাকে, আমি!’ আসলে ঘুমের মধ্যে যিনি নাক ডাকেন, তিনি টের পান না। এমন কারও সঙ্গে এক বিছানায় ঘুমোতে গেলে কিন্তু রাতের ঘুমের দফারফা! বিরক্তির একশেষ। হাসির খোরাক। এই অভ্যাস অনেকের কাছে বিরক্তির কারণ হয়ে উঠে। অনেকে ভেবে নেন, নাক ডাকা মানেই ভীষণ গভীর ও নিশ্চিত ঘুম। আসলে তা নয়। বহু ক্ষেত্রেই নাক ডাকা মানে দৈহিক সমস্যার ‘সতর্কসংকেত’। শ্বাসযন্ত্র ও অন্য কিছু শারীরিক সমস্যার কারণে মানুষ নাক ডাকতে পারে। চিকিৎসকেরা বলেন, নাক ডাকা নানা রকম স্বাস্থ্য সমস্যার পাশাপাশি স্ট্রোক ও উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকিরও আলামত। নাক ডাকার মধ্য দিয়ে শরীর জানিয়ে দেয়, ঘুম একেবারেই ভালো হচ্ছে না। ঘুমন্ত ব্যক্তির শ্বাসনালিতে বাতাসের যাতায়াত কোথাও বাধা পাচ্ছে। পরিণামে শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা কমে গিয়ে ঘুমের মধ্যে মৃত্যুও আশ্চর্য নয়! জেনে রাখা ভালো, নাক ডাকার আওয়াজটা আসলে নাক থেকে বের হয় না। এর উৎস গলা থেকে নাকের মধ্যবর্তী অংশে। নানা কারণে এ জায়গায় বাতাস যাতায়াতে বাধা পায় বলেই মানুষ নাক ডাকে। নাক ডাকার কারণে অনেক পরিবারে অশান্তিও দেখা দেয় যা পরে সংসার  ভাঙ্গনের দিকে নিয়ে যায়। আসুন জেনে নিই নাক ডাকা থেকে মুক্তির কয়েকটি উপায়— শোয়ার ভঙ্গি পাল্টান আপনি কি চিত হয়ে ঘুমান? এভাবে ঘুমালে জিব কিছুটা পেছনে চলে গিয়ে শ্বাসনালি বন্ধ করে দেয়। এতে শ্বাস-প্রশ্বাস বাধাগ্রস্ত হয়ে শ্বাসযন্ত্রে কম্পনের সৃষ্টি হয়। ফলে মানুষ নাক ডাকে। কাত হয়ে শোয়ার মাধ্যমে এ সমস্যা দূর করা যায়। কাত হয়ে শুতে সমস্যা হলে মাথার নিচে অতিরিক্ত বালিশ দিয়েও কাজ হয়। যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির জেএফকে মেডিকেল সেন্টারের নিউরোফিজিওলজি ও স্লিপ মেডিসিন বিশেষজ্ঞ সুধাংশু চক্রবর্তীর পরামর্শ, চিত হয়ে শোয়ার অভ্যাস ত্যাগ করতে পায়জামায় কোমরের কাছে টেনিস বল রাখতে পারেন। এতে ঘুমের মধ্যে আপনা-আপনি চিত হয়ে যাওয়া থেকে রেহাই পাবেন। ওজন কমান শরীরের অতিরিক্ত ওজন নাক ডাকার সাধারণ কারণগুলোর একটি। তবে শুকনো মানুষও কিন্তু নাক ডাকেন। যদিও চিকিৎসাবিজ্ঞানে এটা প্রমাণিত যে শরীরের ওজন যত বেশি হবে, নাক ডাকার শঙ্কাও ততই বাড়বে। ঘাড়ের চারপাশের মেদ নাক ডাকার অন্যতম একটি কারণ। গলার ভেতরে অতিরিক্ত চর্বি জমলেও এটা হতে পারে। তবে এই অবস্থাটা মারাত্মক। কেননা, গলার মধ্যে চর্বি জমা মানে শ্বাসনালিতে বাতাস কম ঢুকবে। এতে শরীরে অক্সিজেনও কমবে। ৬০ শতাংশের নিচে অক্সিজেনের মাত্রা নামলেই ঘুমের মধ্যে হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। অ্যালকোহল ও ধূমপান পরিহার করুন অ্যালকোহল কিংবা মদজাতীয় পানীয় জিভের পেশিগুলো শিথিল করে দেয়। এতে শ্বাস-প্রশ্বাসের নালি সংকুচিত হয়ে পড়ে, ফলে মানুষ নাক ডাকতে পারে। ঘুমোতে যাওয়ার আগে যারা অ্যালকোহল পান করেন, তাদের নাক ডাকার সম্ভাবনা খুব বেশি থাকে। রাতে ঘুমোনোর আগে অ্যালকোহল পান থেকে বিরত থাকার মাধ্যমে এ সমস্যা দূর করা যায়। অবশ্য শুধু অ্যালকোহল নয়, ধূমপায়ীদের মধ্যেও নাক ডাকার প্রবণতা সাধারণের চেয়ে বেশি। প্রতিনিয়ত ধোঁয়া গেলার কারণে বায়ুপ্রবাহের স্থান সরু হয়ে আসতে পারে। এছাড়া ধূমপানের কারণে নাকের টারবাইনেটস নামে বিশেষ ধরনের টিস্যু স্ফীত হয়ে যায়। এতে শ্বাস-প্রশ্বাসের জটিলতার কারণে নাক ডাকার আশঙ্কাও বৃদ্ধি পায়। ভালো ঘুমের চেষ্টা করুন নিশ্চিন্ত ও গভীর ঘুমের মূল্য শুধু অনিদ্রায় ভোগা রোগীরাই বুঝতে পারবেন। মানুষের সুস্থ-সবল দেহের নেপথ্যে রয়েছে ভালো ঘুম। অনিদ্রার অনেকগুলো কুফলের মধ্যে একটি নাক ডাকা। একটু ভেবে দেখুন তো, আপনার ভালো ঘুম হচ্ছে কি না? প্রতিদিন একটি নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমোতে যাওয়া এবং নির্দিষ্ট সময়ে ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস করুন। এতে ঘুমের সঙ্গে শরীরের একধরনের সামঞ্জস্য তৈরি হবে। ফলে নাক ডাকার অভ্যাস থাকলে সেটারও পরিবর্তন ঘটবে। বিছানা পরিষ্কার রাখুন। বিছানায় ধুলাবালু থাকলে, ঘর বেশি ময়লা থাকলে শ্বাস-প্রশ্বাসের সমস্যা হতে পারে। এতে নাকের নালিতে ময়লা সংক্রমিত হয়ে নাকের পেশি ফুলে উঠতে পারে। এতে নাক ডাকার আশঙ্কা বেড়ে যায়। জিভ ও গলার ব্যায়াম নাক ডাকা বন্ধে শরীরের এ দুটি অঙ্গের পেশি শক্তিশালী করতে হবে। বয়সের কারণে টিস্যুর স্থিতিস্থাপকতা ও শক্তি কমে আসে। এতে গলায় বাতাস প্রবাহে সমস্যা হয়। এ সমস্যা কাটাতে দরকার ব্যায়াম। যেমন চোয়ালের নিচের অংশ ওপরের অংশ থেকে সামনে প্রসারিত করুন। আবার আগের অবস্থানে নিয়ে যান। টানা ১০ বার কাজটি করুন। এভাবে দিনে ৭ থেকে ১০ বার ব্যায়ামটি করতে পারেন। জিভের ব্যায়াম করতে পারেন কথা বলে। কোনো একটা বাক্য ধীরে ধীরে বলে যান। এভাবে দিনে ৭ থেকে ১০ বার এ ব্যায়াম করুন। শেষ কথা যাদের ঠান্ডা লেগেই থাকে এবং এ কারণে নাক বন্ধ থাকে, তাদের নাক পরিষ্কার করে ঘুমোতে যাওয়া উচিত। ঘুমোনোর এক-দুই ঘণ্টা আগে চা-কফি পান করবেন না। এ সময় মসলাযুক্ত খাবারও পরিহার করুন। প্রচুর পানি পান করলে নাসারন্ধ্রে লেগে থাকা আঠার মতো পদার্থগুলো দূর হবে। এতে নাক ডাকার আশঙ্কাও কমে আসবে। এছাড়া প্রতিদিন রাতে ঘুমানোর আগে এক গ্লাস দুধে দুই চা-চামচ হলুদের গুঁড়ো মিশিয়ে খেয়ে ফেলুন। এটা নাক ডাকা বন্ধের কার্যকর টোটকা। ঘুমানোর আগে দুধের সঙ্গে এলাচির গুঁড়ো মিশিয়েও খেতে পারেন। তবে এসব চেষ্টা করেও যদি নাক ডাকার সঙ্গে পেরে না ওঠেন, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই ভালো। কেআই/ডব্লিউএন

উৎসবের পরও ত্বকের সুরক্ষায় চাই যত্ন

বিয়ে থেকে শুরু করে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যেতে আমাদের সাজগোজের কমতি থাকে না। উৎসবের মুহূর্তগুলো রঙিন করে তুলতে হাজারো চেষ্টা থাকে। কিন্তু বিশেষ দিনটি শেষ হলেও ত্বকের যত্ন নেওয়ার বিষয়টি থেমে থাকলে হবে না। দিনগুলোতে যাদের রান্নাবান্নায় সময় দিতে হয় বেশি, বিভিন্ন কাজে থাকতে হয় ব্যস্ত। তাদেরও  আলাদা করে নিতে হবে ত্বকের যত্ন। আলু টমোটো শশার রসঈদের সময়টিতে আগুনের আঁচে মুখের ত্বকেও প্রভাব পড়ে। আবার কাজের চাপ ও যত্নের অভাব এবং পানি কম পানের কারণেও ত্বক শুষ্ক হয়ে যায় কিংবা অতিরিক্ত তৈলাক্ত হয়ে পড়ে। এ ক্ষেত্রে শুষ্ক ত্বকের যত্নে টকদই, চন্দন, অ্যালোভেরা একসঙ্গে ভালো করে মিশিয়ে ত্বকে লাগান। ত্বক মসৃণ ও নরম থাকবে। তৈলাক্ত ত্বকের জন্য টমেটো, মধু, নিমপাতা, মসুর ডাল একসঙ্গে মিশিয়ে ব্লেন্ড করে লাগান। এতে ত্বকের অতিরিক্ত তেল কমে যাবে এবং ব্রণ দূর হবে। অনেকের মিশ্র ত্বক চুলার আঁচের সংস্পর্শে তৈলাক্ত হয়ে ওঠে এবং মুখের চামড়া উঠতে থাকে। এ ক্ষেত্রে কচি ডাবের শাঁস, কমলার রস, বেসন ও কালো জিরার তেল একত্রে মিশিয়ে প্যাক বানিয়ে ত্বকে ব্যবহার করলে ত্বক নরম ও উজ্জ্বল হবে। এছাড়া বাড়িতে বিভিন্ন ধরনের ফল ও সবজি থাকেই। আপেল, কলা, বেদানা, পাকা পেঁপে একসঙ্গে মিশিয়ে নিন। সংরক্ষণ করতে চাইলে কাচের কৌটায় করে ফ্রিজে রাখুন। মুখে লাগানোর আগে মিশিয়ে নিন বেসন অথবা চালের গুঁড়া। শুষ্ক ত্বকের জন্য শসার পরিবর্তে গাজর দিন। এই ফেসপ্যাক ত্বকে ব্যবহারে লোমকূপ পরিষ্কার হবে। ত্বক ভালো ও উজ্জ্বল হবে। ক্লান্তিতেও অনেক সময় চোখের নিচে কালচে দাগ পড়ে। তাই মাঝেমধ্যেই আলু, টমেটো ও শসার রস লাগিয়ে রাখুন। ক্লান্তি কমবে। ঠোঁটের সৌন্দর্যে ঠোঁট ফাটা, চামড়া উঠে যাওয়ার সমস্যা এড়াতে পেট্রোলিয়াম জেলি অথবা লিপবাম ব্যবহার করুন। নিয়মিত বাইরে যাওয়ার সময়ও এগুলো সঙ্গে রাখতে পারেন। গোলাপের পাপড়ি মধু দিয়ে ব্লেন্ড করে মিশ্রণটি ঠোঁটে লাগানোর পর বেশ কিছুক্ষণ ঠোঁটের সংস্পর্শে রেখে দিতে হবে। মিশ্রণটি ঠোঁট শুষ্ক মনে হলে আবার লাগান। তবে মিশ্রণের কিছু অংশ যদি আপনার মুখের ভেতরে চলে যায়, তাতেও ক্ষতি নেই। লিপস্টিকটি অবশ্যই ভালো ব্রান্ডের হওয়া চাই। পায়ের সুরক্ষানখ সৌন্দর্যের অনেকখানি ফুটিয়ে তোলে। কিন্তু সতর্ক না থাকলে উল্টে বা ভেঙে গিয়ে বিড়ম্বনায় ফেলতে পারে। কারণ মাংস কাটা-ধোয়া, প্যাকেটজাত ও রান্না করতে গিয়ে অনেকের নখ ভেঙে যায়। তাই ঈদ পরবর্তী সময়গুলোতে নখ ছোট রাখাই ভালো। আবার মাংস কাটা ও বাছার কারণে হাতজুড়ে আঁশটে গন্ধ থেকে যায়। সেক্ষেত্রে হাতে সামান্য হলুদের গুঁড়া মেখে সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে নিলে গন্ধ চলে যাবে। তবে অবশ্যই একবার ম্যানিকিউর করে নেওয়া ভালো। পায়ের যত্নে চাইলে বাড়িতেও সেরে নিতে পারেন। সে ক্ষেত্রে গোসলের আগে কুসুম গরম পানিতে এক টেবিল চামচ লবণ, কয়েক ফোঁটা শ্যাম্পু দিয়ে পা ভিজিয়ে রেখে পামস্টোন দিয়ে ঘষে পায়ের ময়লা ও মরা কোষ তুলে ফেলে দিতে হবে। এরপর কিউটিক্যাল কাটার দিয়ে নখের পাশের কিউটিক্যাল ফেলে দিয়ে ব্রাশে অল্প শ্যাম্পু লাগিয়ে হাত-পায়ের নখ পরিষ্কার করে পানি দিয়ে হাত-পা ধুয়ে যেকোনো প্যাক লাগান। গোসল শেষে হাত-পায়ে ময়েশ্চারাইজার লাগিয়ে নিন। রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে হাতে লোশন লাগান। আর ভালো ব্র্যান্ডের নেইলপলিশ ব্যবহার করতে হবে। পরিমিত বিশ্রামঈদের দিনগুলোজুড়েই নানা ধকল সইতে হয়েছে। তাই এবার সময় নিজেকে পুরোপুরি বিশ্রাম দেওয়ার। যতটা সময় পারেন গান শুনে, নিজেকে সময় দিয়ে কাটান। খাবারদাবারত্বক ভালো রাখতে হলে খাবারদাবারের ব্যাপারেও থাকতে হবে সচেতন। উৎসবের আমেজে খাওয়া-দাওয়া তো চলবেই। তবে যে খাবারে অ্যালার্জি আছে, তা পরিহার করতে হবে। বিরিয়ানি- পোলাও থেকে এবার নিজেকে একটু দূরে সরিয়ে রাখুন। গুরুপাক খাবার ভরপেট খাবেন না। পেটের খানিকটা অংশ খালি রেখেই পানি ও খাবার খাওয়া শেষ করুন। শাক-সবজির দিকে মনোযোগ বাড়াতে হবে। সহজে হজম হবে এমন সব খাবার খান। পর্যাপ্ত পানিঘুরে বেড়ানো কিংবা কাজের চাপে পানিশূন্যতা দেখা দেয়। সারা দিন দুই থেকে আড়াই লিটার পানি পান করুন। পরিশ্রম বেশি হলে পানির পরিমাণও বাড়িয়ে দিতে হবে।সূত্র : বোল্ডস্কাই।আরকে//এআর

জেনে নিন কীভাবে বাঁচাবেন বিয়ের খরচ

বিয়ে নিয়ে অনেকেই অনেক কিছু ভাবেন।কীভাবে  সাজবেন, কী পরবেন, কারা আসবেন, কী মেনু হবে এ সব কিছু নিয়েই অনেক পরিকল্পনা থাকে। আর এই স্বপ্নপূরণ করতে গিয়ে বেশিরভাগ সময়ই  বিয়ের খরচ  চলে যায় সামর্থ্যের বাইরে। জেনে নিন কীভাবে বিয়ের খরচে মিতব্যয়ী হওয়ার উপায়। বিয়ের কার্ড: ইনভাইটেশন কার্ডের ব্যবহার শুধুই অতিথিদের নিমন্ত্রণ জানানোর জন্য। অধিকাংশ বাড়িতেই সেই কার্ড পুরনো কাগজপত্রের জঞ্জালে ঠাঁই পায়। তাই কার্ডের পিছনে অযথা খরচ না করেই অথচ রুচিসম্মত বিয়ের কার্ড করুন। ডিজাইনার কার্ড শপে গেলে দাম বেশি পড়বে তাই নিজে ডিজাইন করে কাস্টমাইজড কার্ডও বানাতে পারেন। এতে কার্ড সুন্দর হবে, দামও থাকবে আয়ত্তে। গেস্ট লিস্ট: বিয়ে জীবনের খুবই গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। তাই এই বিশেষ দিনে পরিবার, আত্মীয়-বন্ধুদের পাশে থাকা খুবই জরুরি। অনেকের সঙ্গেই হয়তো যোগাযোগ না থাকলেও চক্ষু লজ্জার খাতিরে বিয়েতে নিমন্ত্রণ করতে হয়। তাই চাইলেই গেস্ট লিস্টের তালিকা সংক্ষিপ্ত করতে পারেন। খাবার তালিকা: বিয়ে বাড়িতে অতিথিদের খুশি করার প্রধান উপায় ভাল খাবার পরিবেশন করা। এখন ট্রেন্ড মেনে অনেকেই নানা রকম প্ল্যাটার, কন্টিনেন্টাল রাখতে চান মেনুতে। কোনও মানুষই এত খাবার খেতে পারেন না। তাই অল্প আইটেমের মধ্যেই সুস্বাদু খাবার পরিবেশনের চেষ্টা করুন। এতে অতিথিরা তৃপ্তি করে খেতে পারবেন, আবার খরচও নিয়ন্ত্রণে থাকবে।  আলোকসজ্জা: বিগ ফ্যাট ওয়েডিং-এর লুক দিতে অনেকেই ডেকরেশনে জোর দেন। অযথা অতিরিক্ত আলোকসজ্জা বা আলোর কি সত্যিই প্রয়োজন? অতিথি আপ্যায়ন ও সুন্দর ছবি ওঠার জন্য যতটা প্রয়োজন সিম্পল অ্যান্ড এলিগ্যান্ট ভাবেই ডেকরেশন করুন। ফটোগ্রাফি: ওয়েডিং ফোটোগ্রাফি এখন বিয়ের খুবই গুরুত্বপূর্ণ অংশ। নামকরা সংস্থা বা ফোটোগ্রাফারকে দিয়ে ফোটোগ্রাফি করালে স্বাভাবিক ভাবেই বেশি খরচ হবে। তাই ফ্রেশারদের দিয়ে ফোটোগ্রাফি করান। এতে অনেক কম খরচে করাতে পারবেন। পোষাক ও গয়না: নিজের বিয়েতে সুন্দর করে সাজতে সকলেই চান। অনেকেই ডিজাইনারদের থেকে বিশেষ পছন্দের পোষাক, শাড়ি কিনতে গিয়ে বেশি খরচ করে ফেলেন। ডিজাইনার পোষাক না কিনে ব্র্যান্ডেড দোকান থেকে কিনলে অনেকটাই কম দামে ভাল মানের পোষাক পাবেন। গয়নার ক্ষেত্রে যদিও ব্যাপারটা উল্টো। ব্র্যান্ডেড দোকানে গয়নার দাম বেশি।   সূত্র : আনন্দবাজার। আর/এআর

এ প্রজন্মের তরুণেরা প্রেম করছেন কম!

কৈশোর বয়স এলেই ছেলেমেয়েদের ব্যাপারে মা-বাবা`রা  চিন্তায় পড়ে যান। এবার সঙ্গী এসে এফোঁড়-ওফোঁড় করে দেবে তাঁদের সন্তানের কোমল হৃদয়! ভুল সঙ্গ কিংবা ভুল কাউকে মন সঁপে দিয়ে আজীবন না সে ক্ষত বয়ে বেড়াতে  হয় তরুণ-তরুণীদের। অভিভাবকদের সে দুঃশ্চিন্তার দিন বোধ হয় ফুরিয়ে এল। এ যুগের তরুণেরা যে এখন আর প্রেমে আগ্রহী নন! এ প্রজন্মের ছেলেমেয়েদের  মন-দেওয়া নেওয়ার এমন আপত্তির কারণ শুনলে অবশ্য মা-বাবার চিন্তা আরও বেড়ে যাবে। ছেলেমেয়েরা যে এখন মোবাইলে সময় কাটাতেই ব্যস্ত, প্রেম করবে কখন?সে সময় কই? এটি মনগড়া কোনো কথা নয়, যুক্তরাষ্ট্রের সান ডিয়েগো বিশ্ববিদ্যালয়ের এক জরিপে এ তথ্য প্রকাশ পেয়েছে। প্রফেসর জিন তুয়েঙ্গো এ গবেষণা থেকে একটি বই লিখেছেন। বইতে বলা হয়- এ তথ্য, `` ১৯৯৫ সালের পর জন্ম নেওয়া প্রজন্ম প্রেম করতে আগ্রহী নন।`` হাতের মুঠোয় থাকা স্মার্টফোনই তাঁদের একমাত্র সঙ্গী। এমন কি আবেগ অনুরাগের মাত্রা ও এদের খানিকটা কম। তাছাড়া বিজ্ঞান প্রযুক্তির উৎকর্ষতার কারণে এদের আবেগের জায়গাটা দখলে নিয়েছে যন্ত্র । এ প্রজন্ম এখন বেড়ে উঠছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের মধ্য দিয়ে। এখন তাদের ভালোলাগা, মন্দ লাগা, পছন্দ, অপছন্দ, ভালোবাসা জানায় অনলাইনের মাধ্যমে। অর্থাৎ ঘরের বাইরে বের হয়ে দেখা করায় বড্ড আপত্তি তাঁদের। ফলে সত্যিকারের অভিসারে যাওয়া কিংবা কোনো সম্পর্ক গড়ে তোলায় এ প্রজন্ম অনেক পিছিয়ে রয়েছে। প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ তরুণ-তরুণীর সঙ্গে কথা বলে এ সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন তুয়েঙ্গো। গবেষণায় দেখা গেছে, ২০০৯ সালেও বিদ্যালয়ের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থীদের মাঝে প্রেম করার প্রবণতা ছিল উচ্চপর্যায়ের। কিন্তু সেটাও এখন কমে এসেছে। ২০১৫ সালে ১৪ থেকে ১৮ বছরের কিশোর-কিশোরীদের ৫৬ শতাংশ প্রেম করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। যেটা এর আগের প্রজন্মেই ছিল ৮৫ শতাংশের কাছাকাছি। তুয়েঙ্গো এর পেছনে কারণ হিসেবে বলছেন, ‘কিশোর-কিশোরীরা এখন বন্ধুদের সঙ্গে সরাসরি দেখা করা কিংবা আড্ডা দেওয়ায় বিশ্বাসী নয়। তারচেয়ে ভার্চ্যুয়াল সম্পর্কে তারা বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে।’ তবে অভিভাবকদের জন্য স্বস্তির একটি তথ্যও দিয়েছেন তুয়েঙ্গো। এই অতিমাত্রায় স্মার্টফোন-প্রীতিতে টিনএজারদের মধ্যে এখন যৌন সম্পর্কের হারও কমেছে। ১৯৯১ সালের তুলনায় বর্তমানে টিনএজারদের মধ্যে যৌন সম্পর্কে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা কমে গেছে ৪০ শতাংশ। সূত্র: গ্যাজেট নাও। কেআই/ডব্লিউএন  

আপনি কি সবসময় ক্লান্ত…

শারীরিক ক্লান্তি অনেকের জীবনের নিত্যসঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। কাজের চাপ থেকে সৃষ্টি হওয়া স্ট্রেস ও টেনশন– শরীরের এনার্জিকে নিংড়ে নিচ্ছে। কিন্তু, এর কারণ কী শুধুই কাজ? বিশেষজ্ঞরা অবশ্য অন্য কথা বলছেন- কান্তির কারণ এসির হাওয়াঅফিসে এসির হাওয়ায় বসে একটানা কাজের পর বাইরে বেরিয়ে আসলে ক্লান্তি লাগে। অনেকের হালকা মাথা ব্যথাও করে। বিজ্ঞানের ভাষায়,‘সিক বিল্ডিং সিনড্রোম’। তাই কাজের মাঝেমধ্যে এসির ঘরের বাইরে গিয়ে খোলা আকাশের নীচে হেঁটে আসুন। বাড়িতে থাকলেও নির্দিষ্ট সময় ছাড়া এসি ব্যবহার করবেন না। কোল্ড ড্রিঙ্কে তেষ্টা মেটে, এনার্জিও হারায়অনেকের স্বভাব আছে, মাঝেমধ্যেই কোল্ড ড্রিঙ্ক পান করা। এতে কিন্তু ক্লান্তি আরও বেড়ে যায়। কোল্ড ড্রিঙ্কের অতিরিক্ত চিনিতে শরীরে কোষ-প্রতি জলের ভারসাম্য কমিয়ে দেয়। ফলে রক্ত চলাচলও কমতে থাকে। এর ফলেও ঝিমুনি বা ক্লান্তি দেখা দেয়। তাই কোল্ড ড্রিঙ্কের পরিবর্তে লেবু, টমেটো বা ডাবের পানি পান করা স্বাস্থ্যকর। গাড়ির হর্ন ও ইয়ারফোনগাড়ির হর্ন অত্যন্ত ক্ষতিকর হয়। একইভাবে কানে ইয়ারফোন লাগিয়ে জোরে গান শোনাও। দু’ক্ষেত্রেই পরবর্তীতে ক্লান্তির লক্ষণ দেখা যায়।ফলের রস বা চা আর পানি একই নয়অনেকেই পানির পরিবর্তে চা বা ফলের রস পান করেন। কিন্তু, জেনে রাখা ভালো এতে পানির প্রয়োজনীয়তা কমে না। দিনে নির্দিষ্ট পরিমাণ পানি পান না করলে শারীরিক ক্লান্তি দেখা দেবেই। মদ্যপানের মজা নয় সাজাবন্ধুদের সঙ্গে পার্টি করলেন। মদ খেলেন। নিশ্চিন্ত থাকুন, ক্লান্তি হবেই। ‘ফ্রেশ’ মোটেও হবেন না। তাই মদ্যপানের অভ্যাস ধীরে ধীরে ত্যাগ করাই আপনার শরীরের জন্য শ্রেয়। বিছানায় ঘুম...ফোন নয়অনেকেই ঘুমোনোর আগে শুয়ে শুয়ে ফোন ঘাঁটতে ভালোবাসেন। কিন্তু, এতে শরীরের নির্দিষ্ট নিয়মে পরিবর্তন হয়। রাতে ঘুম আসা স্বাভাবিক নিয়ম। সে সময়ে ঘুমের পরিবর্তে এক ঘণ্টা মোবাইল বা ল্যাপটপে ব্যস্ত থাকলে, তা ঘুমের ঘাটতিতে পরিণত হবে। সরল মন...সহজ জীবনসবকথা মনে নিতে নেই। মনের উপর অতিরিক্ত চাপ ভবিষ্যতে শারীরিক সমস্যার সৃষ্টি করে। তাই কোন বিষয়ে কী গুরুত্ব দেবেন। তা বোঝা জরুরি।

কোন জুতা কীভাবে পরিষ্কার করবেন

পায়ের সুরক্ষার  জন্য জুতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। জুতা থেকে দাগ উঠতে চাইছে না? দুঃশ্চিন্তার কারণ নেই। একটু সময় নিয়ে সঠিক উপায়ে পরিষ্কার করলে আবার আগের মতোই ঝকঝকে তকতকে হয়ে উঠবে জুতা। আসুন জেনে নিন, কোন জুতা কীভাবে পরিষ্কার করবেন।   ১. স্নিকার বা স্পোর্টস সু থেকে দাগ ওঠানোর জন্য পুরোনো টুথব্রাশে পেস্ট নিয়ে ঘষুন। পুরো জুতা পরিষ্কার করতে চাইলে ভিনেগার ও বেকিং সোডার পেস্ট তৈরি করুন। টুথব্রাশে পেস্টটি লাগিয়ে ঘষে পরিষ্কার করে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। রোদে শুকিয়ে নিন। ২.  হিল পরিষ্কার করার জন্য দাগের উপর চক পাউডার লাগিয়ে রাখুন। কিছুক্ষণ পর ভেজা কাপড় দিয়ে মুছে নিন। ৩.  চামড়ার জুতার দাগ দূর করতে লেবুর রস ও বেকিং সোডার পেস্ট ব্যবহার করুন। সমপরিমাণ পানি ও ভিনেগারের দ্রবণে তোয়ালে ডুবিয়ে মুছে নিন। পরিষ্কার হবে পুরো জুতা। ৪.  রবারের স্যান্ডেল পরিষ্কার করার জন্য লিকুইড সোপ ও পানির মিশ্রণে ডুবিয়ে রাখুন। কঠিন দাগ উঠতে না চাইলে বেকিং সোডার পেস্ট মিশিয়ে ঘষে নিন।  ৫.  সাবান-পানির সঙ্গে লেবুর রস মিশিয়ে পরিষ্কার করুন কাপড়ের জুতা। দাগ উঠতে না চাইলে টুথব্রাশে বেকিং সোডা ও ভিনেগারের পেস্ট মিশিয়ে ঘষে নিন। ৬.  জুতার দুর্গন্ধ দূর করতে একটি কাপড়ে বেকিং সোডা নিয়ে জুতার ভেতরে রেখে নিন সারারাত। টি ব্যাগ শুকিয়ে রেখে দিলেও উপকার পাবেন। পরদিন ব্যবহারের আগে সামান্য ট্যালকম পাউডার ছিটিয়ে নিন।  তথ্য: টাইমস অব ইন্ডিয়া  কেআই/ডব্লিউএন   

© ২০১৭ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি