ঢাকা, শনিবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০:২১:০৫

ডায়েটে কম কার্বোহাইড্রেট ও ফ্যাটযুক্ত খাবারের প্রভাব একই

নতুন গবেষণা

ডায়েটে কম কার্বোহাইড্রেট ও ফ্যাটযুক্ত খাবারের প্রভাব একই

ওজন হ্রাসের ওপর কম পরিমাণের কার্বোহাইড্রেট আর কম পরিমাণের ফ্যাটযুক্ত খাবারের একই ধরণের প্রভাব লক্ষ্য করা গেছে। এর ফলে ওজন হ্রাসে কম পরিমাণের ফ্যাটযুক্ত খাবার খাওয়ার প্রভাবের প্রচলিত ধারণাকে পাল্টে দিচ্ছে নতুন এই গবেষণা। এ গবেষণায় দেখা যায়, কম কার্বোহাইড্রেট খাবার খাওয়া ব্যক্তি আর কম ফ্যাটযুক্ত খাবার খাওয়া ব্যক্তিদের দৈহিক ওজন গড়ে ১৩ পাউন্ড করে কমে যায়। অর্থ্যাৎ ফল প্রায় কাছাকাছি। দুই ভাগে বিভক্ত নারী ও পুরুষের দুইটি দলের ওপর এক বছর ধরে চালানো হয় এ গবেষণা। এক দলকে দেওয়া হয় স্বাস্থ্যকর কম কার্বোহাইড্রেট যুক্ত খাবার। আরেক দলকে দেওয়া হয় কম ফ্যাট সমৃদ্ধ খাবার। প্রথম ৮ সপ্তাহে কার্বো-হাইড্রেট আর ফ্যাটের পরিমাণ বাড়ানো হয় ২০ গ্রাম। দুই মাস পর এর পরিমাণ আরও বাড়তে থাকে। গবেষণা শেষে দেখা যায় যে, দুই দলের সদস্যদেরই গড়ে ১৩ পাউন্ড করে ওজন কমে। তবে এদের মধ্যে কিছু ব্যতিক্রমও ছিল। গবেষণায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের কেউ কেউ ৬০ পাউন্ড পর্যন্ত ওজন কমিয়েছেন। অন্যদিকে ২০ পাউন্ড পর্যন্ত ওজন বেড়েছে কয়েক জনের। সম্প্রতি গবেষণাটি জার্নাল অব ডি আমেরিকান মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনে প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়াও একই ধরণের ডায়েট প্ল্যান দিয়ে সবার ওজন হ্রাস যে সম্ভব নয় সে বিষয়টিও উঠে আসে এ গবেষণায়। গবেষকদের প্রধান স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন স্কুলের অধ্যাপক ড. ক্রিস্টোফার গার্ডেনার জানান, “আমরা প্রায়ই একটা গল্প শুনি যে আমাদের এক বন্ধু একধনের খাদ্য তালিকা অনুসরণ করে ওজন কমিয়েছে। একই খাদ্য তালিকা অনুসরণ করেও আরেক বন্ধু ওজন কমাতে পারেনি”। “এর কারণ হল এই যে, আমরা সবাই আলাদা। আমাদের আসলে এটা জিজ্ঞেস করা উচিত নয় যে, আমাদের জন্য সেরা ডায়েট প্ল্যান কোনটা? বরং এটা জিজ্ঞেস করা উচিত যে কার জন্যে কোন ডায়েট প্ল্যানটা ভাল?” সূত্রঃ দ্য ইন্ডেপেন্ডেন্ট //এস এইচ এস// এআর   
ত্বক ও চুলের সতেজতায় ঘি

গরম ভাতে এক চামচ ঘি। ব্যাস, আর কিছু দরকার নেই। থালা একদম পরিষ্কার। তবে, ঘির যে কত উপকারিতা আছে, সেটা কে না জানে। ঘি যতটা খাবারের স্বাদ বাড়িয়ে দেয়, ঠিক ততটাই উপকারী ত্বক এবং চুলের জন্যও। ভাবছেন চুল কিংবা ত্বকের উপকারিতার জন্য ঘি কীভাবে কাজ করে?  তাহলে আসুন জেনে নিই ঘি কতটা উপকারী-  ১) শীতকালে সকলেরই কমবেশি ঠোঁট ফাটে। আর ঠোঁট ফাটলে আমরা বিভিন্ন কোম্পানির লিপজেল ব্যবহার করি। কিন্তু জানেন কি, ঠোঁটকে আরও নরম এবং গোলাপি রাখতে ঘিয়ের জুড়ি মেলা ভার। অল্প একটু ঘি নিয়ে ঠোঁটে লাগিয়ে হালকা হাতে ঘষুন। তারপর ম্যাজিক দেখুন।  ২) ঠোঁটের মতো চুলের সৌন্দর্য বাড়াতেও ঘি অত্যন্ত উপকারী। চুলকে আরও চকচকে এবং নরম রাখে ঘি। এক চামচ নারকেল তেলের সঙ্গে ২ চামচ ঘি নিয়ে চুল এবং স্কাল্পে ভালো করে লাগান। ৩০ মিনিট রেখে জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।  ৩) চোখের নিচের কালি দূর করতে কী না করেছেন। তাহলে এবার এক ফোঁটা ঘি নিয়ে চোখের চারপাশে ম্যাসেজ করুন। সারারাত রেখে সকালে জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।  ৪) প্রত্যেকদিন স্কাল্পে ঘি ম্যাসেজ করলে মাথায় রক্ত চলাচল ভালো হয় এবং চুল বাড়তে সাহায্য করে।  ৫) ত্বকের জন্যও দারুণ উপযোগী ঘি। দু`চামচ ঘি হালকা গরম করে ভালো করে তাতে অল্প জল মেশান। তারপর সেই মিশ্রণ সারা গায়ে এবং মুখে মাখুন। ১৫ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন। কেআই/ এমজে

আচরণে ইতিবাচক পরিবর্তন আনে মেডিটেশন : গবেষণা

কিশোর-তরুণসহ প্রাপ্তবয়স্কদের আচরণে ইতিবাচক পরিবর্তন আনে মেডিটেশন। এক গবেষণায় এটি প্রমাণিত হয়েছে। মেডিটেশন মস্তিষ্কের কর্মকাঠামোতে পরিবর্তন ঘটায়। ২০১০ সালে ইউনিভার্সিটি অব ওরিগনের ৪৫ জন শিক্ষার্থীর ওপর একটি গবেষণা চালানো হয়। এদের মধ্যে ২২ জনকে বাছাই করা হয় মেডিটেশনের ওপর একটা পরিপূর্ণ প্রশিক্ষণ কোর্সে অংশ নেওয়ার জন্যে। বাকিদেরকে শুধু রিলাক্সেশনের মতো হালকা কিছু প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। পরে ব্রেন ইমেজিং পরীক্ষা করে দেখা যায়, যারা মেডিটেশনের কোর্সে অংশ নিয়েছে তাদের ব্রেনে কিছু দৃশ্যমান পরিবর্তন ঘটেছে। বিশেষ করে ব্রেনের যে অংশ আবেগ এবং আচরণকে প্রভাবিত করে, সে অংশে কিছু কাঠামোগত পরিবর্তন হয়েছে। যার মানে হলো নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করা, বিরোধপূর্ণ আচরণে না জড়ানো এবং মানসিক চাপ সামলানো তাদের পক্ষে এখন বেশ সহজ। মজার ব্যাপার হলো, মাত্র ১১ ঘণ্টা মেডিটেশন অনুশীলন করেই তাদের মধ্যে এ পরিবর্তন দেখা গেছে। অন্যদিকে যারা কন্ট্রোল গ্রুপে ছিল, তাদের মধ্যে এ ধরনের কোনো পরিবর্তন দেখা যায় নি। / এআর /

মাত্রাতিরিক্ত চুল পড়লে যা করবেন

নানা কারণেই আপনার চুল পড়তে পারে। যেমন- পরিবেশ দূষণ, বয়স, স্ট্রেস, স্মোকিং, পুষ্টির অভাব, হরমোনাল ইমব্যালেন্স, জেনেটিক কারণ, স্কাল্প ইনফেকশন, হেয়ার প্রডাক্টের মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার, বেশ কিছু ওষধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কারণে, থাইরয়েড, অটোইমিউন ডিজজ, পলিসিস্টিক ওভারিয়ান সিনড্রম, অ্যানিমিয়া প্রভৃতি। আমাদের মাথায় প্রায় এক লাখ চুল রয়েছে। যার মধ্যে প্রতিদিন ৫০ থেকে ১০০ টা চুল পড়ে যাওয়াটা স্বাভাবিক ব্যাপার। কিন্তু এর থেকে বেশি মাত্রায় চুল পড়তে শুরু করলেই সেটা চিন্তার বিষয়। এক্ষেত্রে যত শীঘ্রই সম্ভব প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে, না হলে মাথা ফাঁকা হয়ে যেতে সময় লাগবে না। জেনে নিন চুল পড়া কমানোর কিছু ঘরোয়া পদ্ধতি-দইদুই চামচ দইয়ের সাথে এক চামচ মধু এবং এক চামচ লেবুর রস নিয়ে ভাল করে মিশিয়ে নিন। যখন দেখবেন প্রতিটি উপাদান ঠিক মতো মিশে গেছে, তখন মিশ্রনটা ভাল করে চুলে লাগিয়ে ৩০ মিনিট রেখে দিন। এরপর ঠান্ডা পানি দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন। এভাবে প্রতি সপ্তাহে একবার করলেই চুল পড়া বন্ধ হবে। নারকেল দুধএক কাপ নারকেল দুধ নিয়ে ধীরে ধীরে স্কাল্পে লাগান। তারপর একটা টাওয়াল দিয়ে ২০ মিনিট রেখে ভাল করে চুলটা ধুয়ে ফেলুন। এমনটা সপ্তাহে কয়েকবার করলেই চুল পড়া কমতে শুরু করবে। এর কারণ নারকেল দুধে উপস্থিত ভিটামিন ই, চুলের গভীরে ময়েসশ্চারাইজারের ঘাটতি দূর করে। এরফলে চুল পড়ার হার কমে যায়। পেঁয়াজে রস পেঁয়াজের রসে উপস্থিত সালফার হেয়ার ফলিকেলসে রক্ত চলাচল বাড়িয়ে দিয়ে নিমেষে চুল পড়া কমিয়ে দেয়। তাছাড়া পেঁয়াজের রসে রয়েছে বিপুল পরিমাণে অ্যান্টি-বায়োটেরিয়াল প্রপাটিজ, যা স্কাল্পে ঘর বেঁধে থাকা জীবাণুদের মেরে ফেলে। ফলে স্কাল্প ইনফেকশনের সাথে সাথে চুল পড়ার অশঙ্কাও হ্রাস পায়। যেভাবে চুলে লাগাবেন পেঁয়াজের রস: একটা পেঁয়াজ থেকে রস সংগ্রহ করে নিন। তারপর সেই রস সরাসরি মাথায় লাগিয়ে ম্যাসেজ করুন। ৩০ মিনিট পরে শ্যাম্পু করে নিন। সপ্তাহে দুই বা তিন বার এই পদ্ধতিতে চুলের পরিচর্যা করলে ভাল ফল পাওয়া যাবে। বিটরুটবিটরুটে রয়েছে প্রচুর পটাশিয়াম, প্রোটিন, ভিটামিন বি এবং সি যা চুল পড়া কমাতে সাহায্য করে। এক্ষেত্রে পরিমাণ মতো বিটরুট পাতা নিয়ে পানিতে সিদ্ধ করে নিতে হবে। তারপর পাতাগুলো গুঁড়ো করে নিয়ে মেথির সাথে মিশিয়ে স্কাল্পে লাগিয়ে ২০ মিনিট রেখে দিন। সপ্তাহে তিনবার এমনভাবে চুলের পরিচর্যা করতে হবে। মেথিচুল পড়া বন্ধ করতে মেথি দারুন কাজে আসে। মেথিতে উপস্থিত বেশ কিছু উপাদান চুলের বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। তাই যখনই দেখবেন চুল পড়ার হার খুব বেড়ে গেছে, তখনই অল্প করে মেথি বীজ নিয়ে এক গ্লাস পানিতে এক রাত ভিজিয়ে রাখবেন। পরদিন বীজগুলি বেটে নিয়ে একটা পেস্ট বানাবেন। সেই পেস্টটা ভাল করে মাথায় লাগিয়ে ৪০ মিনিট রেখে দিয়ে ধুয়ে নেবেন। টানা একমাস, প্রতিদিন এই মিশ্রনটি মাথায় লাগালে চুল পড়া কমার সাথে সাথে মাথা ভর্তি চুলের স্বপ্নও পূরণ হবে। নিম পাতাএই প্রকৃতিক উপাদনটিতে উপস্থিত অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল প্রপার্টিজ চুলের গোড়ায় কোনও ধরনের সংক্রমণ হওয়ার আশঙ্কা কমিয়ে দেয়। এটা ব্যবহার করলে মাথার খুশকির প্রকোপও কমে। এমন ধরনের রোগের হাত থেকে যখন মুক্তি মেলে, তখন স্বাভাবিকভাবেই চুল পড়া কমে যায়। আর/এসি 

অবসাদ দূর করে যেসব খাবার

দিনের পর দিন মন খারাপ থাকতে থাকতে তা ক্রমিক আকার ধারণ করাই মানসিক অবসাদ। আর এমনটা হওয়া মাত্র জাগতিক সব কিছু থেকে কেমন যেন মন উঠতে শুরু করে। কোনো কিছুই যেন ভাল লাগে না। মনে হয় জীবনটা যেন বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমন পরিস্থিতিকেই চিকিৎসা পরিভাষায় ডিপ্রেশন বল হয়ে থাকে। সম্প্রতি জার্নাল বায়োলজিকাল সাইকিয়াট্রি: কগনিটিভনিউরোসায়েন্স অ্যান্ড নিউরোইমেজিং-এ প্রকাশিত এক গবেষণা পত্রে উল্লেখ রয়েছে যে, ব্রেনের বিভিন্ন অংশের অ্যাকটিভিটিতে কেমন পরিবর্তন আসছে তার উপর নির্ভর করে মনের অবস্থা। যেমন ধরুন ব্রেনের যে অংশে স্মৃতিশক্তি মজুত থাকে সেই অংশটি মাত্রাতিরিক্ত অ্যাকটিভ হওয়ার সময় যদি ব্রেনে স্ট্রেস হরমোনের রিলিজ বেড়ে যায়, তাহলে পুরনো কথা ভেবে মন খারাপ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা বৃদ্ধি পায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, মন খারাপকে নিয়ন্ত্রণে আনতে আমাদের চারপাশে বেশ কিছু প্রকৃতিক উপাদান রয়েছে, যা মানসিক অবসাদকে নিমেষে নিয়ন্ত্রণে আনতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে। যেমন- ১. জাম: সুস্বাদু এই ফলটির ভেতরে রয়েছে প্রচুর মাত্রায় অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা মানসিক অবসাদ কমাতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। জার্নাল অব নিউট্রিশনাল অ্যান্ড এনভারোমেন্টাল মেডিসিন পত্রিকায় প্রকাশিত একটি গবেষণা অনুসারে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হল এমন একটি উপাদান, যা ব্রেন হেল্থের উন্নতিতে নানাভাবে সাহায্য় করে থাকে। ২. সবুজ শাক-সবজি: একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিদিনের ডায়েটে সবুজ-শাক-সবজিকে জয়গা করে দিলে ব্রেনের ভেতরে ফিল গুড হরমোনের ক্ষরণ বেড়ে যায়। ফলে স্বাভাবিকভাবেই মানসিক অবসাদ এবং স্ট্রেস ধারে কাছে ঘেঁষতে পারে না। সবজিতে উপস্থিত অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ক্যান্সারের মতো মারণ রোগের প্রতিরোধেও বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। ৩. শতমূলী: মানসিক অবসাদের কারণে যদি জীবন দুর্বিসহ হয়ে উঠে তাহলে আজ থেকেই নিয়মিত অল্প করে শতমূলী গাছের মূল থেকে বানানো পাউডার খাওয়া শুরু করুন। দেখবেন এমনটা করলে দারুন উপকার মিলবে। আসলে সেন্ট্রাল নার্ভাস সিস্টমকে শান্ত করার মধ্যে দিয়ে মনকে চাঙ্গা করে তুলতে এই প্রকৃতিক উপাদনটি বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। ৪. ব্রাহ্মি শাখ: বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, এই শাকটি খাওয়া মাত্র মস্তিষ্কের ভেতরে সেরাটোনিন লেভেল বাড়তে শুরু করে। ফলে মন এতটাই চনমনে হয়ে ওঠে যে মানসিক অবসাদ দূরে পালাতে সময় লাগে না। ৫. আখরোট: অল্প করে আখরোট খাওয়া শুরু করলে মন চাঙ্গা হয়ে উঠতে সময়ই লাগবে না। আসলে এই বাদামটির ভেতরে উপস্থিত ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড একদিকে যেমন ব্রেন ফাংশন বাড়াতে সাহায্য করে, তেমনি ডিপ্রেশনের মতো রোগকে দূরে রাখতেও বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। ৬. গ্রিন টি: শরীরকে রোগ মুক্ত রাখার পাশাপাশি ব্রেন পাওয়ার বাড়াতে এবং মানসিক অবসাদকে বাগে আনতে গ্রিন টি-এর কোনও বিকল্প নেই বললেই চলে। আসলে এই পানীয়টিতে উপস্থিত অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং অন্যান্য উপাকারি উপাদান শরীর থেকে সব টক্সিক উপাদানদের বের করে ব্রেনকে এতটাই চাঙ্গা করে তোলে যে মানসিক অবসাদ কমতে সময় লাগে না। ৭. অশ্বগন্ধা: বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে অশ্বগন্ধায় উপস্থিত স্টেরোয়ডাল ল্যাকটোনস, অ্যালকালয়েড এবং অন্যান্য অ্যান্টি-ডিপ্রেসেন্ট, অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি এবং অ্যান্টি-অংজাইটি প্রপাটিজ শরীরের ভেতরে প্রবেশ করার পর মানসিক অবসাদের প্রকোপ কমতে সময় লাগে না। তাই এবার থেকে মন খারাপ ঘারে চেপে বসলেই অল্প করে অশ্বগন্ধা পাউডার জলে গুলে খেয়ে নেবেন। ৮. পুদিনা পাতা: পুরানো দিনের আয়ুর্বেদিক পুঁথি ঘাঁটলেই জানতে পারবেন নার্ভাস সিস্টেম সম্পর্কিত নানা রোগের চিকিৎসায় কিভাবে ব্যবহার করা হত পুদিনা পাতাকে। আসলে এই পাতাটির ভেতরে থাকা মেন্থল নার্ভাস সিস্টেমকে শান্ত করতে বিশেষ ভূমিকা নেয়। সেই সঙ্গে এর মধ্যে থাকা ভিটামিন এ, সি, ম্যাগনেসিয়াম, ক্যালসিয়াম, আয়রন, কপার এবং পটাশিয়াম মানসিক অবসাদ কমানোর পাশাপাশি ইনসমনিয়ার মতো রোগ সারাতেও বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। ইউনাইটেড নেশানের একটি রিপোর্টে বলা হয়েছে, মানসিক অবসাদে আক্রান্তের মধ্যে বেশিরভাগেরই বয়স ২৫-৪০ এর মধ্যে। এমন একটা পরিস্থিতিতে নিজেদের ভবিষ্যতকে চাপ মুক্ত করতে দয়া করে আলোচিক প্রকৃতিক উপাদনগুলি খাওয়া শুরু করুন। দেখবেন উপকার মিলবে। সূত্র: বোল্ডস্কাই একে// এআর

আঁচিল দূর করার ঘরোয়া উপায়

আঁচিল এক প্রকার ভাইরাসজনিত সংক্রামণ। এটি মানুষের শরীরের বিভিন্ন অংশে উঠতে দেখা যায়। আঁচিল কিছুটা ফোস্কার মত। মুখের ত্বকে উঠলে এটি খুব বিব্রতকর দেখায়। আঁচিল সাধারণত দীর্ঘস্থায়ী হয়। উঠলে যেন আর যেতেই চায় না। তাই আঁচিল দূর করার জন্য বিভিন্ন প্রকার ওষুধ খাওয়া হয়। এই ওষুধের পরিবর্তে আপনি প্রাকৃতিক উপায়ে আঁচিল দূর করতে পারেন। আঁচিল দূর করার প্রাকৃতিক উপায় একুশে টেলিভিশন অনলাইনে তুলে ধরা হলো- ১) কলার খোসা : কলার খোসার মাধ্যমে আঁচিল দূর করা সম্ভব। খোসার ভিতরের অংশটি বের করে পেস্ট তৈরি করে নিতে হবে। এখন আঁচিলের উপর লাগিয়ে রাতে ঘুমিয়ে পড়ুন। পরদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। কলার খোসায় অ্যান্টি অক্সিডেন্ট আছে যা আঁচিল দূর করতে সাহায্য করে। ২) টি ট্রি অয়েল : টি ট্রি অয়েলে অ্যান্টিসেপটিক উপাদান রয়েছে যা ত্বকের যে কোন ইনফেকশন দ্রুত দূর করতে সাহায্য করে। প্রথমে কিছু তুলো পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। এবার টি ট্রি অয়েলে ভিজিয়ে নিয়ে আঁচিলের উপর লাগান। কয়েক ঘন্টা এভাবে রেখে দিন। তারপর পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এটি দিনে তিনবার ব্যবহার করলে বেশি উপকার পাওয়া যাবে। ৩) রসুন : রসুনের মাধ্যমেও আঁচিল সহজে দূর করা যায়। কয়েকটি রসুনের কোয়া কুচি করে পেস্ট তৈরি করে নিন। এই পেস্টটি ত্বকের আঁচিলের উপর লাগিয়ে নিন। কিছুক্ষণ রেখে কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। তবে বেশিক্ষণ রাখবেন না, ক্ষতি হতে পারে। ৪) পেঁয়াজের রস : আঁচিল দূর করতে পেঁয়াজেরও প্রয়োজন রয়েছে। পেঁয়াজ কুচি করে কেটে নিন। পেঁয়াজ কুচি ও আধা চামচ লবণ মিশিয়ে সারাদিন ঢাকনা দিযে রেখে দিন। রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে এটি আঁচিলের উপর ব্যবহার করুন। পরদিন সকালে কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। প্রতিরাতে এটি ব্যবহার করুন দেখবেন আঁচিল দ্রুত সেরে গেছে। ৫) অ্যালোভেরা জেল : অ্যালোভেরা ত্বকের জন্য বেশ উপকারী। আঁচিলের উপর কিছু পরিমাণ অ্যালোভেরা জেল লাগিয়ে ম্যাসেজ করুন। ত্বকে জেল শুকিয়ে না যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। এরপর ধুয়ে ফেলুন। এটি দিনে তিনবার ব্যবহার করলেই হবে। সূত্র : রূপচর্চা /কেএনইউ/ এআর

শিক্ষার্থীদের মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বাড়ে মেডিটেশনে : গবেষণা

মানসিক অবসাদ ও অস্থিরতা দূর করে মেডিটেশন। সেই সঙ্গে এটি শিক্ষার্থীদের মস্তিস্কের কার্যক্ষমতা বাড়িয়ে তোলে কয়েকগুণ। এ সংক্রান্ত গবেষণা সম্প্রতি জার্নাল অফ সাইকোলজিতে ছাপা হয়েছে। গবেষকরা বলছেন, এটেনশন ডেফিসিট হাইপার-এক্টিভিটি ডিস-অর্ডার হচ্ছে এক ধরনের মানসিক সমস্যা, যা শিক্ষার্থীদের মধ্যে বেশ দেখা যায়। এক্ষেত্রে তাদের মধ্যে এত বেশি মাত্রায় সিরিয়াসনেস কাজ করে যে, কোনো একটা বিশেষ কাজে তারা মন দিতে পারে না। ফলাফল হলো শুধুই অস্থিরতা। যাদের এ ধরনের সমস্যা আছে, তাদের জন্য মস্তিস্কের কর্মক্ষমতা এবং মনোযোগ বাড়াতে মেডিটেশন খুবই ভালো একটি প্রক্রিয়া। জার্নাল অফ সাইকোলজিতে এ নিয়ে গত বছরে দারুন একটা লেখা ছাপা হয়েছে। মাধ্যমিক স্কুলের কিছু শিক্ষার্থীর ওপর গবেষণাটি পরিচালনা করা হয়। সেখানে তাদের তিন মাস প্রতিদিন দুই বেলা মেডিটেশন করতে বলা হয়েছে। তিন মাস পরে দেখা গেল, মানসিক চাপ, দুশ্চিন্তা এবং এই মানসিক রোগের উপসর্গ প্রায় ৫০ শতাংশ কমে গেছে। গবেষকরা আরও দেখেছেন, মেডিটেশন মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা এবং দক্ষতা বহুগুণে বাড়িয়েছে। / এআর /

শরীরে রক্ত বাড়ায় যেসব খাবার

প্রায় সব বয়সী মানুষ রক্তস্বল্পতায় ভোগেন। রক্তে লোহিত কণিকা বা হিমোগ্লোবিনের সংখ্যা কমে গেলে রক্তস্বল্পতা দেখা যায়। এ সময় শরীরে রক্ত বৃদ্ধির জন্য প্রচুর পরিমাণে পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে। আসুন জেনে নিই শরীরে রক্ত বৃদ্ধিতে যেসব খাবার ভূমিকা রাখে সেই সম্পর্কে- ১) আয়রন সমৃদ্ধ খাবার : শরীরে হিমোগ্লোবিন তৈরির জন্য আয়রন সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া প্রয়োজন। হিমোগ্লোবিন তৈরিতে লাল মাংস, ডিম, কচু, কলিজা, আলু সিদ্ধ ইত্যাদি খাদ্য তালিকায় রাখতে পারেন। এসব খাবারে আপনার শরীরে রক্ত বৃদ্ধিতে সাহায্য করবে। ২) ফলিক এসিড বা ভিটামিন বি৯ : ভিটামিন বি৯ বা ফলিক এসিড লোহিত রক্ত কণিকা উৎপন্ন করে এবং রক্তসল্পতা প্রতিরোধ করে। শরীরে এগুলোর চাহিদা পূরণে পালং শাক, বাদাম, ডাল, তিলের বীজ সিরিয়াল এগুলো খেতে পারেন। ৩) ভিটামিন বি১২ : ভিটামিন ১২ সমৃদ্ধ খাবার-দাবার লোহিত রক্ত কণিকা উৎপন্ন করতে সাহায্য করে। মাছ, ডিম, গরুর মাংসের লিভার, দুগ্ধ জাতীয় খাবার এই চাহিদা পূরণ করবে। ৪) সবুজ শাক : সবুজ শাকে রয়েছে আয়রণ, প্রোটিন, ভিটামিন বি এবং ভিটামিন সি। এগুলো রক্তের জন্য খুব ভালো। তাই রক্ত ভালো রাখতে সবুজ শাকসবজি প্রত্যেকদিনের খাবারের তালিকায় রাখেন। ৫. ফল : লোহিত রক্ত কণিকা বাড়াতে সবচেয়ে বেশি সাহায্য করে কমলা। এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। তাই এসব উপকার পেতে নিয়মিত কমলা খান। এছাড়া কলা, আঙ্গুর, গাজর ইত্যাদি আপনার শরীরে রক্ত বৃদ্ধিতে বিশেষ ভূমিকা রাখে। ৬) ভিটামিন ‘সি’ : লেবু, স্ট্রবেরি বা বিভিন্ন টক জাতীয় ফলে ভিটামিন ‘সি’ থাকে। এছাড়া টমেটোতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ‘সি’ রয়েছে। বিশেষজ্ঞ স্বাস্থ্যবিদরা প্রতিদিন একটি করে টমেটো খাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। ভিটামিন ‘সি’ শরীরে আয়রন শোষণের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। তথ্যসূত্র : হেলথবার্তা। কেএনইউ/ এআর

মাদকাসক্তি থেকে মুক্তি মিলে মেডিটেশনে

ড্রাগ বা মাদকে আসক্ত হওয়ার প্রবণতা তরুণদের মধ্যেই বেশি। এদের একটা উল্লেখযোগ্য অংশ আবার শিক্ষার্থী। দেখা গেছে, যারা নিয়মিত মেডিটেশন করে তারা সাধারণত মাদকাসক্ত হয় না। এলকোহলিজম ট্রিটমেন্ট কোয়ার্টারলি-তে প্রকাশিত এক গবেষণা রিপোর্টে দেখা গেছে, শিক্ষার্থী হোক বা প্রাপ্তবয়স্ক—মেডিটেশন করলে তাদের সবার মধ্যেই মাদকাসক্তির প্রবণতা কমেছে, কমেছে অসামাজিক আচরণের প্রবণতা। এটা সিগারেট থেকে শুরু করে মদ, গাঁজা, হেরোইন ইত্যাদি যে-কোনো মাদকের ক্ষেত্রেই সমানভাবে কার্যকরী বলে দেখা গেছে। এমনকি প্রচলিত কাউন্সেলিং বা সচেতনতামূলক প্রোগ্রাম যা করতে পারে নি, শুধু মেডিটেশন করেই তার চেয়ে তিনগুণ বেশি ফল পাওয়া গেছে। / এআর /

অসুখী মানুষের ১০ অভ্যাস

অসুখী বা দুঃখী মানুষের সঙ্গ আমরা কেউই পছন্দ করি না। এরা নিজেরা যেমন ভাল থাকতে জানে না, তেমনি অন্যদের জীবনও নেতিবাচক করে তোলে। নিজেদেরই কিছু অভ্যাসের কারণে তারা অসুখী থেকে যায় সারা জীবন। এরকমই কিছু আভ্যাস এখানে তুলে ধরা হলো। এ অভ্যাসগুলো বেশির ভাগ হতাশাগ্রস্থ ব্যক্তিদের মধ্যে দেখা যায়। কিন্তু অনেক সময় সুখি মানুষের মধ্যেও এর দু’একটি অভ্যাস দেখা দিতে পারে।  ১)জীবনে কোনো কিছু নিয়েই এরা সন্তুষ্ট নন। সব কিছু নিয়েই এরা ক্রমাগত অভিযোগ করে যান। ২)তারা আত্ম সমালোচনায় ভোগেন। অন্যদের প্রতিও সব সময়ই নেতিবাচক থাকেন। কারও মধ্যেই ভাল কিছু দেখতে পান না। ৩) জীবনে সাম্য বজায় রাখতে পারেন না। উচ্চাকাঙ্ক্ষায় আয়-ব্যয়ের হিসাব রাখতে পারেন না। ফলে জীবনে অতিরিক্ত খরচ করেন। এক সময় নিজেকে ঋণের সাথে জড়িয়ে ফেলেন। ৪)জীবনে দুঃখের সঙ্গে নেশাগ্রস্ত হয়ে পড়েন। তারপর নেশাগ্রস্ততাসহ অসুখী জীবন নিয়েই সারা জীবন কাটিয়ে দেন। ৫)অতীতের ভুল নিয়েই পড়ে থাকেন। ভুল শুধরে সামনে এগিয়ে যেতে পারেন না তারা। ৬)অধিকাংশ সময়ই এরা ভবিষ্যতের চিন্তায় সব সময় মশগুল থাকেন। কখনও আকাশ-পাতাল ভাবনা, কখনও ভয়। ফলে বর্তমান সময়ে মনোনিবেশ করতে পারেন না। ৭) জীবনে সদিচ্ছা এবং আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে কাজ করতে পারেন না। ভয়ের তাড়নায় কাজ করেন বা ঝুঁকি নিতে ভয় পান। তাই জীবনে কখনই সাফল্য আসে না। ৮)জীবনে প্রয়োজনীয় কাজের বাইরে অপ্রয়োজনীয় গুজব, পরনিন্দা-পরচর্চা নিয়েই মেতে থাকেন। ৯) কাউকে ক্ষমা করতে পারেন না। মনের মধ্যে রাগ, বিদ্বেষ পুষে রাখেন।  ১০) সমস্যার সমাধান খোঁজার বদলে সমস্যা আরও বড় করে দেখেন। অন্যের জীবনেও এরা সমস্যা নিয়ে হাজির হন। সূত্র: আনন্দবাজার  এমএইচ/এসি   

খাবারের ভালোবাসা

বারো মাসে তোরো পার্বনের দেশ বাংলাদেশ। জাঁকজমক আয়োজনে উৎসবে মেতে ওঠে সবাই। এসব উৎসবের সাথে আষ্টেপৃষ্ঠে লেগে আছে খাবারের নানা আয়োজন। তবে একসময় ঘরের খাবার প্রধান্য পেলেও এখন হোটেল-রেষ্টুরেন্টের খাবারে আগ্রহ বেড়েছে সবার। এসব জায়গায় উৎসবে চলে আড্ডা আর নানা পদের খাবার গলাধকরণ। বলা যায়, উৎসব বিনোদনের এখন আরেক নাম খাদ্য গ্রহণ! তবে সবকিছুর পাশাপাশি খাওয়া-দাওয়ার প্রতি খেয়াল রাখাটাও ভালোবাসার অংশ। বাইরে খাওয়া-দাওয়ার সময়ও থাকুন স্বাস্থ্য সচেতন। স্বাস্থ্যহানি বা অসুস্থতা যেন জীবন উপভোগের একটা দিনেও বাধা না হয়ে দাঁড়ায়। স্বাস্থ্যবিশেষজ্ঞদের মতে, বাইরে খাওয়া-দাওয়ার ব্যাপারে যে বিষয়গুলো মাথায় রাখা জরুরী-তা হচ্ছে     অতিরিক্ত ক্যালোরিযুক্ত খাবার সকালের কোনো আয়োজনে খেতে পারেন। দুপুরে কিছুটা হালকা আর রাতে খেতে হবে কম ক্যালরী যুক্ত খাবার। সকালে বেশি ক্যালোরির খাবার আপনাকে সারাদিন শক্তি যোগাবে, ক্যালরী খরচের কারনে বাড়বে না ওজন। তবে রাতে বেশি খাওয়ার ধারাবাহিকতায় পোলাও, বিরিয়ানী কিম্বা টিনএজদের পছন্দের বার্গার-পিৎজ্জা আপনাকে ভোগাতে পারে বেশ। যদি আইটেমে এসব-ই থাকে তবে প্রাধান্য দিন সালাদ আর স্যুপকে।     যথা সম্ভব এড়িয়ে চলতে হবে চিনিযুক্ত খাবার। কোমল পানীয়র পরিবর্তে যেকোনো আয়োজনে পান করতে পারেন ফ্রেশ জুস, কিম্বা মিনারেল ওয়াটার।     হুজুগে কিম্বা বন্ধুদের পাল­ায় পড়ে কিম্বা আড্ডাতে রাস্তার খোলা খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকুন। এসব খাবারে প্রচুর জীবাণু থাকে যা আপনার অসুস্থতার কারণ হতে পারে। প্রিয় মানুষকে নিয়ে বাইরে ঘোরাঘুরি, কিছুটা সময় কাটানো আর বাইরে খাওয়া-দাওয়ার পূর্ণতা আসুক সচেতনতার মধ্য দিয়ে। যত্ন আর সুস্থতার ছোঁয়া থাকুক প্রতিটি দিন। লেখক: সাংবাদিক, একুশে টেলিভিশন

বিয়ের পরেও রূপচর্চা

সৌন্দর্যকে ধরে রাখতে হলে রূপচর্চা আবশ্যক। ঘরে ও বাহিরের কাজ সেরে নারীরা রূপচর্চায় বসে। যতই ব্যস্ততা থাকুক না কেন ভালো স্কিন পাওয়ার জন্য অন্তত সপ্তাহে দুদিন স্কিনের যত্ন নিতে হয়। আর যদি বিয়ে হয় তাহলে তো কোন কথাই নয়। বিয়ের দিনে যাতে সুন্দর দেখায় সেই জন্য প্রতিদিনই রূপচর্চা নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটায় নারীরা। তবে বিয়ের পর্ব শেষ হলেই যেন রূপচর্চাটাও শেষ হয়ে যায়। এটা ঠিক নয়। কারণ বিয়ের আনুষ্ঠানিকতায় ডাবল মেকাপ করা হয় এবং বিভিন্নভাবে হেয়ার স্টাইল করা হয়। এতে ত্বক ও চুল দুটোই প্রাণ খুলে শ্বাস নিতে পারে না। তাই ত্বক ও চুল দুটোই রুক্ষ হয়ে যায়। তাই বিয়ের পর্ব শেষ হলেও রূপচর্চাটা ধরে রাখতে হবে। এছাড়া বিয়ের আগের সৌন্দর্যকে ধরে রাখতে বিয়ের পরেও রূপচর্চা করা প্রয়োজন। বিয়ের সময় গায়ে হলুদের দিনে কনেকে হলুদের ছোঁয়া দিতে হয়। এ সময় স্কিন হলদে ভাব দেখায়। এই হলদে ভাব বেশ কিছুদিন স্কিনে থেকে যায়। আর হলদে ভাব থাকলে স্কিনে মেকআপ করলে তেমন দেখতে ভালো লাগে না। তখন মুখের সৌন্দর্যটাই নষ্ট হয়ে যায়। তাই বিয়ের অনুষ্ঠান শেষ হলে একটা প্যাক ত্বকে ব্যবহার করলে এই হলদে ভাব দূর হয়ে যাবে। প্যাকটি নিচে দেওয়া হলো- ১) কিছু চালের গুঁড়া। ২) এক চামচ লেবুর রস। ৩) এক চামচ টক দই। ৪) এক চামচ মধু। এই কয়টি উপকরণ একত্রে মিশিয়ে মুখে লাগালে হলদে ভাব দূর হয়ে যাবে। শুধু মুখে নয় এটি পুরো শরীরে লাগাতে পারবেন। প্যাকটি লাগিয়ে কিছুক্ষণ ম্যাসেজ করে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এভাবে কয়েকদিন লাগান। এছাড়া বিয়ের দিনে ত্বকে প্রচুর মেকাপ করা হয়। এতে ত্বকে ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে। তাই বিয়ের পর রূপচর্চা বাদ দিলে ত্বক নষ্ট হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এবার চুলের প্রসঙ্গে আসা যাক, বিয়ের দিনে বিভিন্ন ডিজাইনে চুল বাধা হয়। যার কারণে চুলের ওপর এক প্রকার চাপ পরে যায়। এতে চুল ভঙ্গুর হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই বিয়ের পর চুলের যত্ন নেওয়ায় প্রয়োজন। বাসাতেই চুলের জন্য একটি প্যাক বানাতে পারেন- ১) একটি ডিম। ২) একটি কলা। ৩) এক চামচ মধু। এই তিনটি উপকরণ মিশিয়ে চুলে লাগিয়ে দশ মিনিট রাখুন। বেশি শুকাবেন না। কারণ বেশি শুকালে ধোয়ার সময় কলা উঠতে চাইবে না। এরপর শ্যাম্পু দিয়ে সুন্দরভাবে চুল ধুয়ে ফেলুন। এভাবে কয়েকদিন করলে চুলের সমস্যা দূর হয়ে যাবে। বিয়ের পর অন্তত সপ্তাহে তিন দিন রূপচর্চা করুন। তাহলে বিয়ের আগের সৌন্দর্য ধরে রাখতে পারবেন। তথ্যসূত্র : বোল্ডস্কাই।   /কেএনইউ/ এসএইচ/        

ভালোবাসা দিবসে প্রিয়জনকে চমকে দেওয়া উপহার

আজ ভ্যালেন্টাইনস ডে। পৃথিবীময় ভালোবাসাবাসির দিন। পশ্চিমা দেশগুলোয় ভ্যালেন্টাইনস ডে শুধু প্রেমিক-প্রেমিকার মাঝে সীমাবদ্ধ থাকলেও বাংলাদেশে এই দিনটি সর্বজনীন একটি উৎসব হিসেবেই পরিচিতি পেয়েছে। ভালোবাসার দেবতা কিউপিড উড়ে উড়ে যাকে তাকে তীর ছুঁড়ে মারবেন, আর সঙ্গে সঙ্গে তারা প্রেমের বাঁধনে জড়িয়ে পড়বে; এই তত্ত্ব বাংলাদেশে কিছুটা হলেও অচল। বিশেষ এই দিনটি ইউরোপের প্রেমিক-প্রেমিকার মাঝে সীমাবদ্ধ হলেও। দিনটি বাংলাদেশে এসে বাবা-মা-ছেলে-মেয়ে, আত্মীয়-স্বজন, স্বামী-স্ত্রী, বন্ধু-বান্ধব এমন কী ছাত্র-শিক্ষক পর্যন্ত গড়িয়েছে! প্রেমিক-প্রেমিকার কথা তো বলাই বাহুল্য। তাই ভ্যালেন্টাইন্স ডে’তে শুধু মনের মানুষের কথা ভাবলেই হবে না, ভাবতে হবে সব প্রিয়জনের কথাই। ভালোবাসা দিবসের মত একটি সর্বজনীন উৎসবে গিফট একটি মহামূল্যবান অনুসর্গ। প্রিয়জনের আনন্দকে আজ কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিতে পারে আপনার দেওয়া একটি ছোট্ট গিফট। তবে সেই গিফট বাছাইয়েও আপনাকে বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিতে হবে। যাকে গিফট দিবেন তার পছন্দ অপছন্দের দিকে খেয়াল রেকে উপহার কিনতে হবে। আর সেটির উপস্থাপনও যেন হয় নান্দনিক-আকর্ষণীয়।  মাকে দিতে পারেন শাড়ি, প্রিয় লেখকের বই অবসরে যদি মায়ের সঙ্গী বই হয়ে থাকে তাহলে তার এই প্রিয় বইকেই উপহার হিসেবে বেছে নিন। দেখবেন, মা ভীষণ খুশি হবেন। মায়ের পছন্দের শাড়িও হতে পারে ভালোবাসা দিবসের দারুণ একটা উপহার। যে রংটা মায়ের ভালো লাগে সেই রঙের একটা শাড়ি কিনে দিন মাকে। মায়ের প্রিয় মুহূর্তের পুরনো কোনো ছবি ফ্রেমে বাঁধাই করে দিতে পারেন। এতে তিনি অনেক খুশি হবেন। ভালো শিল্পী পেলে স্কেচ আঁকিয়ে নিতে পারেন, একটু আলাদা হবে ব্যাপারটা। মায়ের পুরনো চশমার ফ্রেমটি বদলে নতুন একটি ফ্রেম কিনে দিন। এটাও মায়ের জন্য ভালো চমক হতে পারে। নিজের কিছু মনের কথা যা মাকে কখনোই বলা হয়নি সেই কথা কার্ডে লিখে দিতে পারেন। মায়ের কোনো প্রিয় জায়গা থেকে তাকে নিয়ে বেরিয়ে আসুন, অনেক দিন যেখানে তার যাওয়া হয় না। কোনো রেস্তোরাঁ থেকে মায়ের পছন্দের খাবার কিনে এনে খাওয়াতে পারেন।স্ত্রীকে ফুল, ঘড়ি কিংবা নেকলেসভালোবাসা দিবসে প্রিয়তমা স্ত্রীকে দিতে পারেন অ্যাক্সক্লুসিভ ডিজাইনের দৃষ্টিনন্দন ঘড়ি। অথবা দিতে পারেন তার পছন্দের মডেলের মোবাইল ফোন। কোনো দিন শপিংয়ে গিয়ে স্ত্রী একটি নেকনেস পছন্দ করেছিল কিন্তু তখন টাকা না থাকায় কিনে দিতে পারেননি। এই দিনটিতে সেটি কিনে এনে স্ত্রীকে চমকে দিতে পারেন। অথবা দিতে পারেন লেটেস্ট ডিজাইনের থ্রিপিস কিংবা ফতোয়া। দিতে পারেন গিফট হ্যামপারও। অফিস শেষে বাসায় ফিরে স্ত্রীকে নিয়ে কোনো রেস্তোরাঁয় গিয়ে তার পছন্দের খাবারও খেতে যেতে পারেন।প্রেমিকাকে ব্রেসলেট কিংবা সানগ্লাস সঙ্গে ফুলকবির মতো প্রেমিক মনের অধিকারীরা তার প্রিয়ার জন্য অনেক কিছু করতে প্রস্তুত। ভালোবাসার মানুষকে চমকে দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে নিজের ভালোবাসাকে নতুন রূপে প্রকাশের জন্য উপহারের কোনো বিকল্প নেই। নারী দিবসে প্রেয়সীকে দিতে পারেন উপহার। ফুল সবারই পছন্দ। আর প্রেমিকারা তো ফুল পেলে অনেক খুশি হন। এই দিনে প্রেমিকার জন্য বেছে নিন একগুচ্ছ লাল গোলাপ। তাকে খুশি করতে দিতে পারেন সুদৃশ্য ব্রেসলেট। দিতে পারেন কসমেটিকস হ্যামপারও। কিংবা নারী দিবসের স্মারক হিসেবে এই দিবস লেখা মগ কিংবা অন্য কোনো সুভিনিরও দিতে পারেন। প্রেমিকা পছন্দ করে এমন কিছুও তাকে দিতে পারেন। অথবা প্রথম পরিচয়ের দিনে তোলা কোনো ছবিও বাঁধাই করে দিতে পারেন প্রেয়সীকে। এতে সে দারুণ খুশি হবে। অথবা দিতে পারেন কোনো ড্রেস, মেকআপ কিট, পছন্দের ব্যান্ডের লিপস্টিক, পার্স, সানগ্লাস, হেয়ার স্ট্রেইটনার, আংটি, লকেট বা কানের দুল।বান্ধবীর জন্য সুদৃশ্য কার্ড কিংবা শোপিসপ্রিয় বান্ধবীর জন্য নিজের ডিজাইন করা স্পেশাল কোনো কার্ড দিতে পারেন। যেখানে তার প্রশংসা করে সুন্দর ভাষায় কিছু লেখা থাকবে। কিংবা আপনাকে বন্ধু হিসেবে বেছে নেয়ার কৃতজ্ঞতা স্বরূপ কিছু একটা লিখে হাতে বানানো কার্ডও তাকে দিতে পারেন। দিতে পারেন পছন্দের কোনো শোপিস। ঘরে রেখে দেয়ার বা সাজানোর কোনো কিছুও উপহার হিসেবে দিতে পারেন। এতে সে দারুণ খুশি হবে। প্রিয় লেখকের বই, প্রিয় গায়কের গানের সিডিও দিতে পারেন বন্ধুকে। তাছাড়াও বন্ধুর জন্য ভালো উপহার হিসেবে দিতে পারেন কলম, চাবির রিং, ডায়রি, ফটোফ্রেম।সহকর্মীকে মগ কিংবা টেবিল ক্যালেন্ডারযেহেতু আপনার সহকর্মী কর্মসূত্রে পরিচিত সুতরাং সেক্ষেত্রে তাকে খুব বেশি ব্যক্তিগত উপহার না দেওয়াই ভালো। দিতে পারেন ভালোবাসা বিশেষ টেবিল ক্যালেন্ডার কিংবা ডায়রি অথবা কলমদানি। আপনার সহকর্মী যদি চা বা কফি খেতে বেশি ভালোবেসে তাহলে তাকে ভিন্ন একা উপহার হিসেবে দিতে পারেন বন্ধু তার পছন্দের ব্র্যান্ডের কফির জার ও কফির মগ। কিংবা নারী দিবসের বিভিন্ন মগ কিনতে পাওয়া যায়। সেখান থেকে সহকর্মীর জন্য মগ কিনতে পারেন। আবার ভালো ব্র্যান্ডের কলমও উপহার হিসেবে দিতে পারেন। এই উপহারের মধ্য দিয়ে সহকর্মীর সঙ্গে আপনার সম্পর্কের উন্নয়ন হবে। সহকর্মী আপনার এ উপহার মনে রাখবে।আপুকে দিন হ্যান্ডব্যাগ কিংবা ওয়ালেটবড় বোনটি যদি কর্মজীবী হয়ে থাকেন তবে নারী দিবসে তার জন্য সেরা উপহার হতে পারে হ্যান্ডব্যাগ। কর্মস্থলে নারীদের উপস্থিতি আপনি পছন্দ করেন এমনটিই জানান দিতে কর্মস্থলে কাজে লাগে এমন কোনো উপহারও তাকে দিতে পারেন। আপু যদি শিক্ষার্থী হন তবে তাকে দিতে পারেন ওয়ালেট কিংবা মোবাইল এক্সেসরিজ। উপহার যাই হোক, এর উপস্থাপন হতে হয় আকর্ষণীয়। উপহার বক্সের গায়ে কবিতার পঙ্তিমালাও লিখে দিতে পারেন। লিখে দিতে পারেন ‘টোকেন অব লাভ’ শব্দটি।ভাবীকে দিন পারফিউম কিংবা চুড়িআপনার পছন্দের মানুষের কথা যার সঙ্গে সহজে শেয়ার করা যায় তিনি হচ্ছেন ভাবী। তাই নারী দিবসে তাকে একটি উপহার দিয়ে তাকে খুশি করতে পারেন। সেক্ষেত্রে তার পছন্দের ব্র্যান্ডের পারফিউম কিংবা বডি স্প্রে হবে উত্তম উপহার। ঢাকা ও দেশের বড় বড় শহরে নানা দামি ব্র্যান্ডের সুগন্ধি পাওয়া যায় এখন। সেখান থেকে সংগ্রহ করতে পারেন। কিংবা চুড়িও কিনে দিতে পারেন তাকে। দিতে পারেন সুদৃশ্য ফুলদানিও।ছোট বোনকে দিন চকোলেট কিংবা খেলার সামগ্রীফুলের পর ভালো উপহার হল চকোলেট। নানা ধরনের চকোলেট থেকে পছন্দের চকোলেটটি বেছে নিন আপনার ছোট্ট বোনটির জন্য। সুন্দর মোড়কে সাজিয়ে তার হাতে সেটি তুলে দিন। দিতে পারেন খেলার সামগ্রীও। এতে সে খুবই খুশি হবে।

© ২০১৮ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি