ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৬ আগস্ট, ২০১৮ ৫:১৩:১৭

পৃথিবীর আলোচিত তিন রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড

পৃথিবীর আলোচিত তিন রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড

পৃথিবীর বহুল আলোচিত রাজনীতিক রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। তাদের কেউ কেউ আবার জাতির জনকও ছিলেন। কেউ ছিলেন স্ট্যাটসম্যান। আবার কারো পরিচিতি দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে ছড়িয়ে পড়েছিল বিশ্বব্যাপী। তাঁদের বাঁচতে দেওয়া হয়নি। বিশ্বের আলোচিত এমন তিন রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড নিয়ে আজকের ফিচার। * বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ড বাঙালির ইতিহাসে এক নির্মম ট্র্যাজেডি। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ভোরের সূর্য আলো ছড়িয়ে পড়ার আগে এক নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হন বঙ্গবন্ধুসহ পরিবারের প্রায় সব সদস্য। পৃথিবীতে বহু নেতা রাজনৈতিক হত্যাকণ্ডের শিকার হয়েছেন। কিন্তু বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করা হয়, যা বিশ্ব রাজনীতির ইতিহাসে বিরল। কারণ সেদিন বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে প্রাণ দিতে হয়েছিল কোলের শিশু রাসেল, অন্ত:স্বত্ত্বা নারীকেও। সেনাবাহিনীর কিছু উচ্চাভিলাষী সদস্য বর্বর এ হত্যাকাণ্ড ঘটায়। দীর্ঘ ৩৪ বছর পর ২০১০ সালে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার সম্পন্ন হয়। যদিও তার কয়েকজন খুনি এখনও ধরা পড়েনি। শেখ মুজিব ছিলেন সাধারণ মানুষের হৃদয়ের সম্রাট। অবিসংবাদিত এ নেতা বিশ্বের শোষিত, বঞ্চিত ও নিপীড়িত-নির্যাতিত জনতার মুক্তির ইতিহাসে কিংবদন্তি। ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ এক ভাষণের মাধ্যমে জাতিকে স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন তিনি। ২০১৭ সালের ৩০ অক্টোবর ইউনেস্কো এ ভাষণকে ঐতিহাসিক দলিল হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। * আব্রাহাম লিংকন ১৮৬৫ সালের ১৪ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে নৃশংস যে হত্যাকাণ্ড ঘটে তার শিকার হন দেশটির সবচেয়ে জনপ্রিয় প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকন। তিনি সেদিন ওয়াশিংটনের ফোর্ডস থিয়েটারে ‘আওয়ার আমেরিকান কাজিন’ নাটকের অভিনয় দেখছিলেন। রাত ১০টা ১৫ মিনিটে নাট্যাভিনেতা জন উইলকেস বোথ প্রেসিডেন্ট বক্সে ঢুকে পিস্তল দিয়ে লিংকনের মাথার পেছনে গুলি করেন। প্রেসিডেন্টকে বাঁচাতে সেনা কর্মকর্তা রাথবন এগিয়ে এলে তাকেও বোথ ছুরিকাঘাত করে লাফ দিয়ে মঞ্চে উঠে যান এবং পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। তার সঙ্গে আরও তিন আততায়ী ছিল। এর মধ্যে লিউইস পাওয়াল ও ডেভিড হেরোল্ডের দায়িত্ব ছিল পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইলিয়াম সিউয়ার্ডকে হত্যা করা। জর্জ এডজার্ডের দায়িত্ব ছিল ভাইস প্রেসিডেন্ট অ্যান্ড্রু জনসনকে হত্যা করার। তবে তাদের হত্যাচেষ্টা ব্যর্থ হয়। এ হত্যাকাণ্ডের পেছনে কনফেডারেট রাষ্ট্র তৎকালীন অস্বীকৃত উত্তর আমেরিকার সমর্থকদের ভূমিকা ছিল। * মার্টিন লুথার কিং বর্ণবাদ বিরোধী আন্দোলনের মহানায়ক ছিলেন মার্টিন লুথার কিং। তার ভাষণ ‘আই হ্যাভ অ্যা ড্রিম’ আজও মানুষের কন্ঠে ভাসে। লুথার কিং যুক্তরাষ্ট্রে কৃষ্ণাঙ্গদের সমান অধিকার প্রতিষ্ঠায় জীবন উৎসর্গ করেছেন। ১৯৫০ মধ্যবর্তী সময় থেকে আমৃত্যু তিনি ছিলেন আমেরিকান সিভিল রাইট মুভমেন্টের নেতা। সর্বকনিষ্ঠ কৃষ্ণাঙ্গ নোবেলজয়ী হিসেবে ইতিহাসে তার নাম সবার আগে। ১৯৬৮ সালের ৪ এপ্রিল। মেমফিসে অবস্থিত লরাইন মোটেলে অবস্থান করছিলেন মার্টিন। মোটেলের ৩০৬ নম্বর কামরার বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় জেমস আর্ল রে নামের শ্বেতাঙ্গ উগ্রবাদী যুবকের গুলিতে নিহত হন তিনি। বুলেটটি তার ডান গাল ভেদ করে স্পাইনাল কর্ড হয়ে ঘাড়ের শিরা ছিঁড়ে ফেলে। রাত ৭টা ৫ মিনিটে সেন্ট জোসেফ হাসপাতালে তিনি মারা যান। হত্যাকাণ্ডের প্রায় দুই মাস পর লন্ডন হিথরো এয়ারপোর্টে জেমস ধরা পড়ে। হত্যার দায়ে তার ৯৯ বছরের কারাদণ্ড হয়। কারাগারে থাকা অবস্থায় মৃত্যু হয় ১৯৯৮ সালে। সূত্র : উইকিপিডিয়া। / এআর /
স্মৃতি বহন করে বাহাদুর শাহ পার্ক

পুরান ঢাকার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে অবস্থিত বাহাদুর শাহ পার্কটি সিপাহী বিপ্লবের স্মৃতিচিহ্ন ধারণ করে আছে। ইংরেজ শাসন-শোষণের ইতিহাস ও বর্বরতা এবং স্বাধীনচেতা সেনাদের আত্মত্যাগের সাক্ষী এ বাহাদুর শাহ পার্ক। পার্কটি ঢাকার সদরঘাট এলাকার প্রবেশমুখে লক্ষ্মীবাজারের মাথায় অবস্থিত। পার্কটিকে ঘিরে ৭টি রাস্তা একত্রিত হয়েছে। ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন পলাশীর যুদ্ধের মাধ্যমে ভারতবর্ষের শাসন ক্ষমতা গ্রহণ করে ইংরেজরা। ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই ইংরেজদের শোসন নিপিড়ণ বন্ধের প্রশ্নে অসংখ্যবার বিদ্রোহ করে বাংলার স্বাধীনতাকামি বাংলার জনগণ। তেমনি একটি বিদ্রোহ হলো ১৮৫৭ সালের সিপাহি বিপ্লব। ১৮৫৭ সালে সম্রাট বাহাদুর শাহকে ক্ষমতায় প্রতিষ্ঠিত করতে ঢাকায় সিপাহী বিদ্রোহ হয়। ইংরেজ মেরিন সেনারা বাংলার সেনাদের নিরস্ত্র করার জন্য ১৮৫৭ সালের ২২ নভেম্বরে ঢাকার লালবাগ কেল্লায় আক্রমণ চালায়। স্বাধীনতার চেতনায় বিশ্বাসী সৈন্যরা তাতে বাধা দিলে যুদ্ধ বেধে যায়। আহত ও পলাতক সেনাদের গ্রেফতার করা হয়। পরে এক প্রহসনমূলক বিচারে ইংরেজ সামরিক আদালতে ১১ বিপ্লবীকে ফাঁসির আদেশ দেওয়া হয়। প্রকাশ্যে বাহাদুর শাহ পার্কে তাদের ফাঁসি কার্যকর করা হয়। পরে জনগণকে বিদ্রোহ না করার জন্য ভীতি প্রদর্শন করাতে লাশগুলো গাছে টাঙ্গিয়ে প্রদর্শন করা হয়। ইংরেজদের এই নিষ্ঠুর কার্যকলাপ ও সেনাদের আত্মত্যাগের সাক্ষ্য বয়ে নিয়ে চলেছে পুরান ঢাকার বাহাদুর শাহ পার্ক। আঠার শতকের শেষের দিকে পুরান ঢাকায় আর্মেনীয়রা বিলিয়ার্ড ক্লাব তৈরি করে। যেটি স্থানীয়দের কাছে আন্টাঘর নামে পরিচিত ছিল। ক্লাব ঘরের সঙ্গেই ছিল একটি মাঠ যেটিকে বলা হতো আন্টাঘর ময়দান। ১৮৫৮ সালে রানী ভিক্টোরিয়া ভারতবর্ষের শাসনভার নেওয়ার পর মাঠ সংক্রান্ত একটি ঘোষণাপত্র পাঠ করার মাধ্যমে এই স্থানের নামকরণ হয় ‘ভিক্টোরিয়া পার্ক’। পরবর্তীতে এ স্থানের নাম ভিক্টেরিয়া পার্ক পরিবর্তন করে রাখা হয় বাহাদুর শাহ পার্ক। ঊনিশ শতকে এ পার্কের উন্নয়নে নওয়াব আব্দুল গণির ব্যক্তিগত অবদান ছিল অনেক। তার নাতি খাজা হাফিজুাল্লহর মৃত্যুর পর তার ইংরেজ বন্ধুরা হাফিজুল্লাহর স্মৃতি রক্ষার্থে চাঁদা তুলে ১৮৮৪ সালে এখানে একটি স্মৃতিফলক স্থাপন করে। শহীদদের আত্মত্যাগের স্মৃতিরক্ষার্থে উত্তর দিকে একটি সুউচ্চ স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করা হয়। উঁচু বেদির ওপর নির্মিত চার স্তম্ভের গোলাকার আচ্ছাদনে ঘেরা সৌধটি। পার্কটি ডিম্বাকৃতির এবং লোহার রেলিং দিয়ে ঘেরা। পূর্ব এবং পশ্চিম পাশে দুটো প্রধান গেট রয়েছে। পার্কটির ভেতরে রেলিংয়ের পাশ দিয়ে পাকা রাস্তা আছে। পার্কটি ঢাকার অন্যতম প্রধান নৌবন্দর সদরঘাট এলাকায় ঢুকতেই লক্ষ্মীবাজারের ঠিক মাথায় অবস্থিত। পার্কটিকে ঘিরে চারপাশে সরকারি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাসহ বেশ কিছু স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় থাকার কারণে এটি পুরান ঢাকার একটি অন্যতম  এলাকা হিসেবে পরিচিত। পার্কের দক্ষিণ-পশ্চিম কোণে রয়েছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, উত্তরপাশে রয়েছে সেন্ট থমাস চার্চ, একই পাশেই অবস্থিত ঢাকার প্রথম পানি সরবরাহ করার জন্য তৈরি পানির ট্যাংক। উত্তর-পূর্ব কোণে আছে ঢাকার কবি নজরুল সরকারি কলেজ এবং ইসলামিয়া হাইস্কুল, পূর্ব পাশে রয়েছে ঢাকার অন্যতম প্রাচীন বিদ্যালয় সরকারি মুসলিম হাইস্কুল। ঠিক উত্তর-পশ্চিম পাশেই রয়েছে ঢাকার জজকোর্ট। এছাড়া, বাংলা বাজার, ইসলামপুর, শাঁখারী বাজার থেকে বর্তমান ঢাকার নতুন এলাকায় আসতে এ পার্ক এলাকার রাস্তাটি প্রধান সড়ক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ঢাকা মহানগর ইমারত (নির্মাণ, উন্নয়ন, সংরক্ষণ ও অপসারণ) বিধিমালা, ২০০৮-এর বিধি ৬১ অনুযায়ী রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের মহাপরিকল্পনাভুক্ত স্থাপনা হিসেবে ঐতিহাসিক গুরুত্বের বিবেচনায় বাহাদুর শাহ পার্ককে সংরক্ষণের জন্য তালিকাভুক্ত করা হয়। কিন্তু পার্কের উত্তরের রাস্তায় ডাস্টবিন, ময়লার ছড়াছড়ি। উত্তর-দক্ষিণের ফুটপাতে দোকান এবং রিকশার জট। নষ্ট হচ্ছে পার্কের সৌন্দর্য। পশ্চিম দিকের প্রবেশদ্বার বন্ধ রাখা হয়। পূর্ব দিকেরটা দিন-রাত ২৪ ঘণ্টাই খোলা থাকে। এখানে স্থানীয়ভাবে প্রাতঃভ্রমণকারী সংঘ গড়ে তোলা হয়েছে। এ সংঘের সদস্যরা সকাল, বিকেল এবং সন্ধ্যায় শারীরিক ব্যায়াম করেন। এছাড়া, নানা পেশা ও চাকরিজীবী, পথচারী, ছাত্র-ছাত্রী ও সাধারণ জনগণের নিত্যপদচারণা রয়েছে কালের সাক্ষী এ পার্কে। পার্কে প্রবেশের জন্য কোন টিকিট কাটতে হয় না। এখনে সব জনসাধারণ প্রবেশ করতে পারে। ঢাকার যে কোন স্থান হতে সদরঘাটগামী বাস, সিএনজি, মোটরবাইক ও রিকশাযোগে আসা যায়।   এসএইচ/

জ্বীর্ণদশায় শত বছরের পুরনো কাঠের মসজিদ    

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার নিভৃত পল্লীর উদয়তারা বুড়িরচর গ্রামে দেশের একমাত্র কাঠের তৈরি ঐতিহ্যবাহী মমিন জামে-মসজিদটি এখন জ্বীর্ণদশা। মসজিদটি বাংলাদেশের একমাত্র কাঠের মসজিদ হিসেবে স্বীকৃত। তবে মসজিদটি যথাযথ সুরক্ষা ও সংস্কারের অভাবে এটি এখন জ্বীর্ণদশা।   সম্পূর্ণ কাঠের তৈরি শত বছরের পুরানো এই মসজিদটি ২০০৩ সালে বাংলাদেশ সরকারের প্রত্নতত্ব বিভাগ সংরক্ষিত পুরাকীর্তি ঘোষণা দিয়ে এর রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব নিলেও মসজিদটির জন্য কার্যকর কোন পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ফরায়জী আন্দোলনের অন্যতম নেতা মঠবাড়িয়ার প্রয়াত মৌলভী মমিন উদ্দিন আকনের একান্ত প্রচেষ্টায় ১৯১৩ সালে মঠবাড়িয়ার উদয়তারা বুড়িরচর গ্রামের আকনবাড়ির সামনে মসজিদটি নির্মিত হয়। তৎকালীন দিল্লীর ২২ জন কাঠ মিস্ত্রি মিলে কোন লোহার পেরেক ব্যবহার ছাড়াই সম্পূর্ণ কাঠ দিয়ে মসজিদটি নির্মাণ করেন। মসজিদটি নির্মাণের উদ্যেক্তা মৌলভী মমিন উদ্দিন আকনের নামের সাথে মিল রেখে পরে মমিন মসজিদ নামে পরিচিতি লাভ করে। বর্তমানে ঐতিহ্যবাহী মসজিদটির জন্য উদয়তারা বুড়িরচর গ্রামের মূল সড়কটিও মমিন মসজিদ সড়ক নামে নামকরণ করা হয়েছে। কাঠের মসজিদটি বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম মসজিদের ২৩ তম স্থান দখল করে আছে। ইউনিসেফ প্রকাশিত বিশ্বের অন্যতম মসজিদ নিয়ে প্রকাশিত ৪০০ পৃষ্ঠার একটি বইয়ে কাঠের এই মসজিদটির সচিত্র বর্ণনা স্থান পেয়েছে। এটি দক্ষিণ এশিয়ার একমাত্র কাঠের তৈরি শিল্পসমৃদ্ধ দৃষ্টিনন্দন মুসলিম স্থাপত্যকলার একটি নিদর্শন। সম্পূর্ণ কাঠের নির্মিত কারুকার্য ও ক্যালিগ্রাফি খচিত এই মসজিদটিতে কোনো ধরনের লোহা বা তারকাঁটা ব্যবহার করা হয়নি। বাংলাদেশের সংরক্ষিত পুরাকীর্তি হিসেবে তালিকাভুক্ত মসজিদের মধ্যে যেগুলো বেশি গুরুত্ববহন করে সেসব মসজিদের ছবি জাতীয় জাদুঘরে প্রদর্শিত হচ্ছে। মঠবাড়িয়ার মমিন মসজিদের কয়েকটি আলোকচিত্র (বর্ণনাসহ) জাতীয় জাদুঘরে সংরক্ষিত রয়েছে। স্থানীয় মুসল্লিদের সূত্রে জানা গেছে, সামান্য বৃষ্টি হলেই মসজিদটির মেঝেতে পানি পড়ে। ফলে মেঝেতে লবনাক্ততা দেখা দিয়াছে। এ কারনে ফ্লোরম্যাট, কার্পেট, পাটি ও জায় নামাজ বিছানো যাচ্ছে না। মসজিদের টিনের ছাউনিতে মরিচা ধরে নাজুক অবস্থা। টিনের কার্নিশ ছোট, যে কারনে মসজিদের মূলভবনে রোদ বৃষ্টিতে সৌন্দর্য্য নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। পরিবেশগত কারণে ফ্লোরের উচ্চতা কমে গেছে। বর্তমানে মাটি থেকে মসজিদের ভিত্তি মাত্র দেড় ফুট উঁচু। মুসল্লীরা আরও জানান, মসজিদটি নানা সমস্যায় জর্জরিত। তারপরেও এলাকাবাসির সহযোগিতায় মসজিদের বারান্দা বাড়ানো হয়েছে। সেখানে প্রতিদিন দুই পর্বে এলাকার শিশুদের কুরআন শিক্ষা দেওয়া হয়। দুই পর্বে  শতাধিক ছাত্র-ছাত্রী নিয়মিতভাবে কুরআন শিক্ষাগ্রহণ করে। তবে সম্প্রসারিত বারান্দা দেওয়ার কারণে মসজিদের নান্দনিক শোভা নষ্ট হয়ে গেছে। উদয়তারা বুড়িরচরের সম্ভ্রান্ত আকন বংশের উত্তারাধিকার সূত্রে মসজিদটি নির্মাণের উদ্যেক্তা মৌলভী মমিন উদ্দিন আকনের নাতি আবুল কালাম আজাদ বর্তমানে মসজিদটি দেখভাল করে আসছেন। তিনি জানান, সিডর পরবর্তী ক্ষতিগ্রস্ত মসজিদটি ৭ জন কাঠমিস্ত্রী সংস্কার করেন। এ সময় মসজিদে নিন্মমানের কাঠ ব্যবহার করা হয়েছে। যা পুরাতন মসজিদের কারুকার্যের সাথে কোন মিল নেই। সংস্কারের কাঠ ঘুণে ধরেছে। মসজিদটি সম্পূর্ণ কাঠের তৈরী সেখানে সংস্কারের নামে লোহার পেরেক ব্যবহার করা হয়েছে।এমনকি চালার টিনের ওপর খোদাই করা ‘আল্লাহু’ লেখা কাঠের ফলকটিও নষ্ট করে ফেলা হয়েছে। এ ব্যাপারে ধানিসাফা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. হারুণ তালুকদার  ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, মমিন মসজিদটি আমাদের জাতীয় সম্পদ। এটি সুরক্ষার জন্য সরকারের জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন। সেই সাথে এটি সুরক্ষায় দায়িত্বশীল লোকের প্রয়োজন।   কেআই/এসি    

বারবার রক্তাক্ত হয়েছে যে গীর্জা

এবারের বিশ্বকাপে রাশিয়ার বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থাপনার পাশেই তৈরি করা হয়েছে ফিফা ফ্যানজোন। সেন্ট পিটার্সবার্গের অন্যতম বড় ট্যুরিস্ট স্পট `চার্চ অন দা স্যাভিওর অফ স্পিল্ড ব্লাড`। আর এর পাশে ফিফা ফ্যান জোন। আর এই গির্জা ঘুরতে এসে এক ব্রাজিলীয় দর্শনার্থীর মন্তব্য হলো `ইতিহাস, ঐতিহ্য ও শোক, এখানে তিন ধরণের অনুভব হচ্ছে`। কারণ এই গীর্জা বারবার রক্তাক্ত হয়েছে। সেন্ট পিটার্সবার্গের ফিফা ফ্যান জোনের ঠিক সামনেই দেখা যায় সুরম্য এই গীর্জা। লম্বা লাইন ধরে ঢুকছেন বিভিন্ন দেশ থেকে আগত দর্শনার্থীরা। জনপ্রতি ২৫০ রুবলের প্রবেশমূল্য এই গীর্জায়। যে অর্থের বড় অংশ এর সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণে খরচ হয়ে আসছে। মূলত গীর্জা হলেও, এটি এখন ইতিহাসের সাক্ষী হিসেবে ঠায় দাঁড়িয়ে। রাশিয়ান সম্রাট দ্বিতীয় আলেকজান্ডার ১৮৫৫ সালে ক্ষমতা পান। তার ঠিক ২৬ বছর পর তাকে মেরে ফেলা হয়। এই সম্রাটের সমাধিস্থলই এখানকার মূল। মৃতদেহ যেখানে সমাহিত সেখানে পাথর দিয়ে ঢেকে দেওয়া। এই পাথর কোলিভান গ্রাইন্ডিং ফ্যাক্টরি ও একাটেরিনবার্গ ও পেটারহফ ল্যাপিডারিতে তৈরি। ইউরাল, আল্টাইরোডোনাইট, জ্যাসপার ও সেরপেন্টাইব পাথর থেকে নেয়া হয়েছে এগুলো। এই সমাধিসৌধ তার স্মরণে তৈরি করেছেন উত্তরাধিকারী তৃতীয় আলেকজান্ডার। ১৮১৮ সালে মস্কোর ক্রেমলিনে জন্ম নেয়া দ্বিতীয় আলেকজান্ডার, ১৮৮১ সালে মারা যান আততায়ীর হাতে, সেন্ট পিটার্সবার্গের উইন্টার প্যালেসে। দ্বিতীয় আলেকজান্ডার পোল্যান্ডেরও রাজা ছিলেন। রাশিয়ার সম্রাট দ্বিতীয় আলেকজান্ডারের সমাধিস্থলের দুটি ভাগ, গীর্জার মূল প্রান্ত আলাদা হয়েছে ইতালিয়ান মার্বেল পাথরে, যা ইতালির জেনোয়া থেকে তৈরি হয়ে এসেছে। দেয়ালজুড়ে জিশু ও মেরীর চিত্র, যা মোজাইকে তৈরি। সূত্র-বিবিসি আরকে//

বিয়ের স্মৃতিচারণ: ১০ লাখ টাকা ডিপোজিটের শর্ত শ্বশুরবাড়ির

হবু শ্বশুর বড় কর্মকর্তা, বড় বাড়ি তাঁদের। মেয়ে বিয়ে দেওয়ার জন্য শ্বশুর বাড়ির লোকজন শর্ত দিলেন, বিয়ের আগে মেয়ের অ্যাকাউন্টে ১০ লাখ টাকা ডিপোজিট করতে হবে। অথচ বরের পকেটে ছিল মাত্র ৭০০ টাকা। অকপটে নিজের দৈন্যদশা প্রকাশ করলেন, বললেন থাকার ঘরটাও যে কোনো সময় ভেঙ্গে পড়তে পারে। শ্বশুর মশাই শেষ পর্যন্ত বরের সততার কাছে হেরে গিয়ে সগর্বে নিজের মেয়েকে তুলে দিলেন সেই বেকার ছেলের কাছে। সেই থেকে আজ পর্যন্ত ২৪টি বছর একই ছাদের নিচে পরম সুখে সংসার করছেন তারা। পকেটে ৭০০ টাকা নিয়ে শ্বশুর বাড়ি যাওয়া লোকটা আর কেউ নয়। তিনি বসুধা বিল্ডার্স লিমিটেডের কর্ণধার আব্দুল জব্বার খান (কুসুম)। সেই দিনের স্মৃতিচারণ করেছেন একুশে টেলিভিশন অনলাইনের কাছে। নিচে হুবহু তুলে ধরা হলো- সাজানো গোছানো একটা ড্রইংরুমে বসে আছি।একটু টেনশন হচ্ছে। হবু শ্বশুর আমার ইন্টারভিউ নেবেন। ভদ্রলোক দুবাই থাকেন পঁচিশ বছর ধরে।ইন্টারন্যাশনাল এয়ার লাইনস এ‍্যামিরেটস এর বড়কর্তা।সুমি হঠাৎ করেই গতকাল ফোনে বললো,: কাল দুপুরে বাসায় আসতে পারবে? বাবা আসতেছে। ভোরের ফ্লাইটে। দশটার মধ‍্যেই বাসায় চলে আসবে।আমি বললাম,: জী... ম্যাডাম। কখন আসবো?: বারোটায়। মনে থাকে যেন। বলেই লাইন কেটে দিল।আমি চিন্তায় পড়ে গেলাম। হঠাৎ করে আবার কি হলো! নতুন কোন ঝামেলা নাতো! মাত্র গতকালই ওদের বাসায় অনেক নাটক করে এসেছি। একদিন গ্যাপেই আবার!সুমি`র ফ্যামিলি কিছুতেই রাজি হচ্ছিলোনা দেখে ও চাচ্ছিলো বিয়ের কাজটা কোর্টেই সেরে ফেলতে।আমি রাজি না। বললাম,: আমাকে একবার চেষ্টা করতে দাও। আমি তোমার ফ্যামিলির সাথে কথা বলতে চাই। কোর্টে বিয়ে করলে, তোমার ফ্যামিলি সামাজিক ভাবে অপমানিত হবে। আমার ফ্যামিলি থেকেও সারাজীবন খোঁটা শুনতে হবে। কথায় কথায় বলবে, এই মেয়েতো ভেগে এসেছে! তোমারও সন্মান নষ্ট হবে।সুমি ভীত গলায় বললো,: ওরা তোমাকে অপমান করবে! তোমার আর্থিক ব্যাপার নিয়ে যাচ্ছেতাই কথা বলবে!এগুলো আমি সহ্য করতে পারবো না!আমি বললাম,: করুক! যত খুশি অপমান করুক! আমি ফেস করতে চাই। অন্ততঃ নিজেদেরকে বোঝাতে পারবো যে আমাদের চেষ্টায় ঘাটতি ছিল না। গেলাম তাদের বাসায়। নিজেদের বিরাট বাড়ি!দোতলায় থাকে। বাকি সব ফ্ল্যাট ভাড়া দেয়া।আমার সঙ্গী হয়েছে ছোট বোন মিতা, তার বর জামিল এবং আমার বন্ধু শাম্মু। ওদের বাসায় ঢোকার সময় জামিল ভাই আমার হাতে চাপ দিয়ে সাহস দেয়ার চেষ্টা করলেন। বললেন,: একদম নার্ভাস হবেন না! সব ঠিক হয়ে যাবে!আমরা কথা বলবো। আপনি পাত্র। নিজে থেকে কিছু বলতে যাবেন না! বলার সময় তার চেহারা দেখে বুঝলাম, নিজেই নার্ভাস হয়ে গেছেন।বোন মিতা এমনিতে মাতব্বরি করে অনেক।কিন্তু আজকে কেন যেন খুবই চুপচাপ। বরের কথায় সায় দিয়ে বললো,: হুম। সেটাই ভালো। তোমার ওই জিহ্বাটা আজকে ব্লক করে রেখো! যা বলার আমরাই বলবো।কি বলেন, শাম্মু ভাই? বলে আমার বন্ধুর দিকে তাকালো। বন্ধু শাম্মু আরো বেশি নার্ভাস ভঙ্গিতে বললো,: তাইতো করতে হবে। বলার সময় দেখলাম, বরাবরের মতই শাম্মু বেচারার চেহারায় খুবই দুর্বল ভাব।আমি জানি, পাত্র হিসেবে আমার দুর্বল অবস্থাই ওদেরকে নার্ভাস করে দিয়েছে। তার উপর আবার অপমানিত হবার হুমকি ছিল।সবাই মিলে ওদের ড্রইং রুমে বসে গেলাম। সুমির বাবার দুজন বন্ধু এবং এক কাকা ওই পক্ষে নেতৃত্ব দিচ্ছেন।বড় মানুষের বড় বন্ধু। সবার আগে টাকা পয়সা নিয়ে কথা বলেন। ভাবখানা এই যে অঢেল টাকা থাকলে, বাকি সব মাফ। যাই হোক, এক পর্যায়ে ঝগড়াটা বেধেই গেল। এক বন্ধু আভিজাত্যের আগুনে কাঁপতে কাঁপতে বললেন,: আগে মেয়ের নামে দশ লাখ টাকা ব্যাংকে ডিপোজিট করতে হবে। তারপর আমরা বিয়ের আলোচনায় বসতে পারি। আমার পকেটের মানিব্যাগে তখন বড়জোর ছয় সাতশো টাকার মত হবে। আর ওইটাই ছিল আমার ব্যাংক, বাজেট, সঞ্চয় সব। ন্যাচারালি মাথাটা গরম হয়ে গেল।সবার সাবধান বাণী ভুলে গেলাম। বললাম,: ফাজলামো করেন? এটা কি বিজনেস ডিল হচ্ছে?মেয়ে পক্ষের সবাই ক্ষেপে গেলেন। বললেন,: ছেলেতো মহাবেয়াদব! আমরা এই বিয়ে দেবো না!আমার পক্ষের সবাই তখন আমার হাত টেনে ধরেছে। কথা না বলার জন্য অনুনয় করছে।তবুও আমি বললাম, : নেগেটিভ কিছু বলার আগে মেয়ের মতামত জেনে আসুন!: ওকে! তাহলে তাই করি! বলে ওনারা সবাই দল বেঁধে ভেতরে চলে গেল।মিতা প্রচন্ড নার্ভাস হয়ে আমার হাত চেপে ধরে বললো,: ভাইয়া। সুমি ঠিক আছেতো? উল্টাপাল্টা হলে আর মানসম্মান বলে কিছু থাকবে না।আমি বললাম,: ঠিক থাকারইতো কথা। দেখা যাক! ওয়েট করি!কাকারা সেই যে গেল ভেতরে, আর আসেনা।সুমি আর তার বোন হঠাৎ করেই পর্দা সরিয়ে ড্রইংরুমে ঢুকলো। সুমির চোখ ভেজা। এসেই আমার পাশে বসে হাত ধরে বললো,: স্যরি! কাকারা কাজটা ঠিক করেনি।আমাকে হুমকি দিয়েছে বারবার। এই বিয়ে হবে না! হতে দেবে না! আমিও বলে দিয়েছি, তোমরা বাধা দিলে আমি কোর্টে বিয়ে করবো এবং একেই করবো! শুনে রাগ করে সবাই অন্য দরোজা দিয়ে চলে গেছে। তুমি প্লিজ, কষ্ট নিওনা!সবার চোখে মুখে স্বস্তির ছাপ দেখলাম।আমি সুমিকে বললাম,: আমিতো তোমার জন‍্যেই এসেছি। অন্যেরা কি বললো, তাতে কিছুই আসে যায় না। পর্দা সরিয়ে মেয়েকে নিয়ে হবু শ্বশুর মশাই ঘরে ঢুকে একটা সোফায় বসলেন। আমি সালাম দিলাম। সুমি বললো,: তুমি বাবার সাথে কথা বলো। আমি চা নিয়ে আসছি। আমি মাথা ঝাঁকিয়ে সায় দিলাম।ভদ্রলোক হেসে বললেন,: একটু প্যাচ লেগে গেছে। অন্যদের দায়িত্ব দিলে যা হয় আর কি! ফোনে আমি সব শুনেছি। আই এম স্যরি ফর এভরিথিং! বাবার কাজ বাবাকেই করতে হয়। অন্যরা নিজেদের ইগো নিয়ে ভাবে। অথচ, এখানে আমার মেয়ের জীবন জড়িত। আমি সব শুনে দুবাইয়ে আমার অফিসে খুব মন খারাপ করে বসেছিলাম। আমার বস, শেখ, সব জেনে বললেন, নিজেই দেশে চলে যাও! ছেলে পছন্দ হলে একেবারে বিয়ে দিয়ে চলে আসো! এখন কথা হচ্ছে, পছন্দের ব্যাপারটাতো আমাদের হাতে আর নাই।একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে তিনি আবার বললেন,: তুমি কি করো? আই মিন, হোয়াট`স ইয়োর প্রফেশন?আমি জবাব দিলাম,: একটা ব্যবসার চেষ্টা করছি। জানি না, এটা দাঁড়াবে কিনা!: ওহ্..! বলে তিনি আবার বললেন,: তুমি কোথায় থাকো? বললাম,: পুরোনো ঢাকার বনগ্ৰামে ছোট্ট একটা বাসায় থাকি।আবারও প্রশ্ন।: কয় বেডের ফ্ল্যাট? আমি মৃদু হেসে বললাম,: বেড ফেডের হিসাব করার মতো কিছু নাই।দুইশ বছরের পুরোনো বাড়ি। লিজিং প্রোপার্টি। ঘর আছে মোট তিনটা। ছোট ছোট। যেকোনো সময় ভেঙ্গে পড়তে পারে। দিনে ভাঙলে রিস্ক নাই।রাতে ভাঙলে রিস্ক আছে। কারন, সারাদিন আমি বাসায় থাকি না। রাতে এই বাসাটাতেই ঘুমাই। হবু শ্বশুর এতোটা চমক আশা করেননি।তবুও হেসে ফেললেন। হাসতে হাসতেই বললেন,: তোমাকে আমার পছন্দ হয়েছে। এবার আমিও চমকে গেলাম। ওনার কথা বিশ্বাস হচ্ছিল না।উনি সেটা বুঝেই বোধহয় বললেন,: আমি সারাজীবন অনেস্ট লাইফ লিড করেছি।তাই অনেস্ট মানুষ পছন্দ করি। তুমি ইচ্ছে করলে একটা ভিজিটিং কার্ড আমার হাতে ধরিয়ে দিতে পারতে। যাতে হয়তো লেখা থাকতে পারতো ম্যানেজিং ডিরেক্টর বা চেয়ারম্যান।তাছাড়া, তোমার বাসার ব্যাপারেও যা বললে, আমার চৌদ্দ গুষ্টির কেউ এরকম শুনেছে কিনা সন্দেহ আছে। আশা করি, সারাজীবন তুমি এরকমই থাকবে!গলা চড়িয়ে সুমির মা`কে সহ সবাইকে ডাকলেন।বললেন,ছেলে আমার পছন্দ হয়েছে!তার অকপট কন্ঠে ছিল গভীর আনন্দের ছোঁয়া।মেয়েকে আশ্বস্ত করার ভঙ্গিতে বললেন,চিন্তা করিস না! কুসুম একদিন অনেক বড় হবে!এই ছেলে বড় না হয়ে যায় না!জিরো ক্যারিয়ারের একটা ছেলের প্রতি সুমি এবং তার ফ্যামিলির আস্থা দেখে আমার চোখ ভিজে গেল। কয়েক দিন পরেই বিয়ের কাজ শেষ। ক্যারিয়ারের চড়াই উতরাই থাকবেই। আমারো ছিল, আছে। সুমিকে কখনোই দেখিনি হতোদ্যম হতে। একটা অন্ধ বিশ্বাসের সাথে বলে,: তোমার কিছুই হবে না। তুমি হারার মতো মানুষ নও। আমার ওপর আস্থা রেখে গভীর নিশ্চিন্তে ঘুমোতে যায় সে। আমি বসে বসে ভাবি, ওর এই বিশ্বাস আমি সারাজীবন ধরে রাখতে পারবো তো? আজ আমাদের বিয়ের চব্বিশ বছর পুরো হলো।দুই মেয়ে, এক ছেলে নিয়ে ভালো আছি। ওহ্, বড় মেয়ের বিয়ে দিয়েছি। জামাইকে না দেখে থাকতে পারিনা এখন। আলহামদুলিল্লাহ!সবার কাছেই প্রার্থনা,: আমাদের জন্য দোয়া করবেন! যতদিন বাঁচি, এভাবে একসাথেই যেন থাকতে পারি! বিঃদ্রঃ আমার ছোট বোন মিতা আর বেঁচে নেই।আমেরিকার মাটিতে শুয়ে আছে সে। ওর দুই ছেলে এবং হাজবেন্ড ওখানেই এস্টাবলিস্ট।" আল্লাহ্ আমার বোন মিতাকে জান্নাতবাসী করুন!" অনুলিখন: মোহাম্মদ জুয়েল এমজে/

যে গ্রামে ৩০ বছর ধরে কোনো চুরি হয় না

এমন কোনো জনবসতির কথা কি শুনেছেন যেখানে চুরি-ছিনতাই-রাহাজানি নেই! এমনকি গ্রামের প্রতিটি বাড়ির প্রাচীরে ছোট ছোট টাকার ব্যাগ ঝোলানো থাকে। ওই ব্যাগ চুরি হওয়া তো দূরের কথা কেউ ছুঁয়েও দেখেন না। নেই কোনো থানা পুলিশও। ত্রিশ বছর ধরেই এভাবে চলছে গ্রামটি। ভাবছেন কল্পকাহিনী বলছি। সত্যিই পশ্চিম রোমানিয়ায় এমন একটি জনবসতি আছে। দেশটির মেহেন্দিতি কাউন্টির পাহাড়ি ওই গ্রামটির নাম এবেনথাল। চেক নৃগোষ্ঠী অধ্যুষিত এ পাহাড়ি জনপদ আর পাঁচটি পাহাড়ি গ্রামের মতোই নয়নাভিরাম। তবে অন্যান্য গ্রামের সঙ্গে এর পার্থক্য হল- গত ত্রিশ বছরে কোনোদিন এ গ্রাম থেকে কোনো কিছু চুরি হয় নি। চুরি করবেই বা কে? চোরই যে নেই গ্রামে। ফলে সেখানে নেই কোনো থানা বা পুলিশ। এই গ্রামের কোনো লোক অনুমতি ছাড়া অন্য কারও বাড়ির আঙিনায়ও প্রবেশ করে না। তবে এ গ্রামের মানুষের এ রকম সৎ হয়ে ওঠার পেছনে একটি গল্প আছে। গল্পটি বেশ মজার। ১৯৮৯ সালের শেষের দিকে হঠাৎ করেই বন্ধ হয়ে যায় এবেনথালের একমাত্র রুটির দোকানটি। গ্রামের মানুষ পড়ল চরম বিপাকে। কারণ সপ্তাহে মাত্র দুদিন রুটির গাড়ি আসে। ফলে কখন রুটির গাড়ি আসে এ প্রতীক্ষায় দিনের অধিকাংশ সময় ব্যয় হতে থাকে গ্রামের মানুষের। এ যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতে কেউ একদিন তার বাড়ির গেটে একটি ব্যাগে করে টাকা রেখে দেয়। রুটির গাড়ি এসে সে ব্যাগ থেকে টাকা নিয়ে রুটি রেখে যায়। এরপর থেকে গ্রামের সবাই ওই পদ্ধতি অবলম্বন শুরু করে। কেউ লাইটপোস্টে কেউ বা বাড়ির গেটে ব্যাগে রুটির দাম রেখে দেয়া শুরু করল। গাড়ি এসে যার যার ব্যাগ থেকে টাকা নিয়ে নির্দিষ্ট পরিমাণ রুটি রেখে দিয়ে চলে যায়। যেহেতু রুটি সবার প্রয়োজন সেহেতু কেউ কোনোদিন অন্যের ব্যাগ থেকে টাকা বা রুটি চুরি করে না। ফলে চালু হয়ে গেল চমৎকার একটি প্রথা। এতে গ্রাম থেকে চুরিসহ সব অপরাধ বন্ধ হয়ে যায়। বন্ধ হয়ে যায় পুলিশ স্টেশন। সূত্র : ডেইলি মেইল। / এআর /

চীনের ভয়ংকর সাত ট্যুরিস্ট স্পট

বিশ্বের দ্বিতীয় শীর্ষ অর্থনীতির দেশ চীন। শুধু অর্থনৈতিক শক্তিই না বরং দেশটি এখন জানান দিচ্ছে পর্যটকবান্ধব দেশ হিসেবেও। এমনিতেই ব্যবসার কাজে প্রতিবছর বহু বিদেশী চীন ভ্রমণ করেন। এসব পর্যটকদের জন্য বেশ কিছু দর্শনীয় স্থান তৈরি করেছে চীন যা খুবই ভয়ংকর; আপনার বুকের পানি শুকিয়ে দিতে যথেষ্ট। এমনই ৭টি ট্যুরিস্ট স্পটের খবর থাকছে এই প্রতিবেদনে। ১) পৃথিবীর সবচেয়ে দীর্ঘ ইউ-শেপ কাঁচের ব্রীজ গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস অনুযায়ী, চীনের হেনান প্রদেশের ফুজি পাহাড়ের ওপর নির্মিত কাঁচের ব্রীজটি পৃথিবীর সবচেয়ে দীর্ঘ ইউ-শেপ কাঁচের ব্রীজ। তিন হাজার টনের এই ব্রীজটি নির্মাণ করতে সময় লেগেছে আট মাস। গত ১৬ জুন ব্রীজটি সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। ব্রীজটিতে হাটার সাহস যাদের হবে তারা সেখান থেকে ৩৬০ মিটার নিচের গভীর খাঁদ দেখতে পাবেন। যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যের গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন ওপর যে ইউ-শেপ ব্রীজটি আছে তার থেকেও চীনের এই ব্রীজটি ৩০ মিটার দীর্ঘ। ২) হুনানের তিয়ানমেন পর্বত দক্ষিণ চীনের হুনান প্রদেশের একটি পাহাড়ের নাম তিয়ানমেন। এই পাহাড়ে ওঠার পথ স্বাভাবিক কোন পথ না। পাহাড়ের দেয়াল ঘেঁষে নির্মাণ করা সরু পথে হেটে উঠতে হবে এই পাহাড়ে। এখানে বলে রাখা ভালো যে, সরু পথ বলতে পাহাড়ের সঙ্গে নাট-বল্টু দিয়ে যুক্ত করা কয়েক ফুট প্রশস্ত কাঁচের পথের কথা বলা হচ্ছে। আঁকানো বাঁকানো এই পথকে যদি সরলরেখায় মাপা হয় তাহলে তা হতে পারে বিশ্বের দীর্ঘতম কাঁচের সড়ক বা ব্রীজ। এতে আছে আড়াই ইঞ্চি পুরু কাচ যার দৈর্ঘ্য পাক্কা দেড় কিলোমিটার। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে সাড়ে চার হাজার ফুট উচ্চতায় এই পথে আছে ৯৯টি সরু ও বিপজ্জনক বাঁক। এসব বাঁধা বিপত্তি অতিক্রম করার সাহস যার হবে তার সুযোগ হবে টংটিয়ান অ্যাভিনিউ থেকে মনোমুগ্ধকর এক দৃশ্য দেখার। এই পথের নাম দেওয়া হয়েছে ‘কুলিং ড্রাগন ক্লিফ ওয়াক’। স্থানীয়ভাবে এটিকে ডাকা হয় ‘বেন্ডিং রোড’ নামে। ৩) দীর্ঘতম সরলরৈখিক কাঁচের ব্রীজ চীনের হেবেই প্রদেশের হোংইয়াগু পর্যটন স্পটে যে ব্রীজটি আছে তা পৃথিবীর দীর্ঘতন সরলরৈখিক কাঁচের ব্রীজ। প্রায় আধা কিলোমিটার (৪৮৮ মিটার) দীর্ঘ এই ব্রীজটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২১৮ মিটার উঁচুতে অবস্থিত। ১.৬ ইঞ্চির পুরু কাঁচের মোট এক হাজার ৭৭টি কাঁচের প্যানেল ব্যবহার করা হয়েছে এতে। পাশাপাশি দুইটি পাহাড়ের চূড়ার সংযোগ করেছে এই ব্রীজটি। ব্রীজটি একসঙ্গে দুই হাজার ব্যক্তির ওজন ধারণ করতে সক্ষম হলেও প্রতিবার মাত্র ৬০০ জন পর্যটককে এতে ওঠার সুযোগ দেওয়া হয়। আর সুযোগ পাওয়া ব্যক্তিদের বিশেষ একধরনের জুতা পরতে হয় কাঁচের নিরাপত্তার জন্য।  ৪) পৃথিবীর সবচেয়ে বড় গ্লাস ভিউইং প্ল্যাটফর্ম বেইজিং এর শিলিনজিয়া এলাকায় জুটিং নামের একটি গ্লাস ভিউইং প্ল্যাটফর্ম আছে। শূণ্যের ওপর ভেসে থাকা এই প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে অবলোকন করা যাবে নৈসর্গিক সৌন্দর্য্যের। উপত্যকার ৩৯৬ মিটার উঁচুতে পাহাড় থেকে ৩২.৮ মিটার বাইরে শূণ্যের ওপর এই প্ল্যাটফর্মটি অবস্থিত। এই প্ল্যাটফর্মটি যুক্তরাষ্ট্রের গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন স্কাইওয়াক থেকে ১১ মিটার আর চীনের ফুজি পর্বতের স্কাইওয়াক থেকে অন্তত তিন মিটার দীর্ঘ এই প্ল্যাটফর্ম। বৃত্তাকার এই প্ল্যাটফর্মটিকে ডাকা হয় ‘স্কাই সসার’ নামে। বিমান ও মহাকাশ যানে ব্যবহৃত হওয়া টাইটেনিয়াম অ্যালয় কাঁচ থেকে নির্মাণ করা হয়েছে এই স্কাই সসার। একসাথে দুই হাজার মানুষের ওজন নিতে সক্ষম এই প্ল্যাটফর্ম। ৫) শানজির ভয়ানক পর্বত হুয়াসান পাহাড় চড়া বা হাইকিং অনেকের কাছেই প্রিয়। কিন্তু চীনের হুয়াসান পর্বতে যদি হাইকিং করতে বলা হয় তাহলে জিভের জল শুকিয়ে যেতে অনেক দক্ষ হাইকারেরও। এই পাহাড়ে ওঠার যে পথ বা ট্রেইল সেটিকে বিশ্বের সবথেকে বিপজ্জনক ট্রেইলগুলোর মধ্যে একটা হিসেবে বিবেচিত হয়। শানজি প্রদেশের কেন্দ্রীয় শহর হুয়ানে অবস্থিত এই পর্বতে আছে পাঁচটি চূড়া। এসব চূড়ার সংযোগ করেই ট্রেইলটি তৈরি করা হয়েছে। দুই হাজার ৯০ মিটার উঁচু পাহাড়ের পাথর কেটে কেটে তৈরি করা হয় এই ট্রেইল। পর্বতের দেয়ালের সাথে লোহার প্লেট নাট বল্টু দিয়ে আটকানো হয়েছে এটিতে। আর এই ট্রেইলের প্রশস্ততা মাত্র ১ ফুট! ৬) ক্রাকিং গ্লাস ওয়াকওয়ে হেবেই প্রদেশে আরেকটি গ্লাস ওয়াকওয়ে আছে চীনে। পূর্ব তাইহাং শহরের এই ক্রাকিং গ্লাস ওয়াকওয়ে ভয় পাইয়ে দিতে পারে অনেক সাহসী ব্যক্তিদেরও। গত বছর এই ওয়াকওয়ের একটি কাঁচ ভেঙ্গে এক ট্যুরিস্ট পরে গেলে বিশ্বব্যাপী ‘ক্রাকিং গ্লাস ওয়াকওয়ে’ হিসেবে কুখ্যাতি অর্জন করেন এটি। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে এক হাজার ১৯০ মিটার উঁচুতে অবস্থিত এই ওয়াকওয়ে। ৭) দ্য রিকেটি স্কাই ল্যাডার এটা আসলে এক ধরণের মই। তবে অবশ্যই যেনো তেনো কোন মই না। বরং খবরের আসার জন্য বেশ উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য আছে এটির। এর মধ্যে সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ হলো এই মইটির উচ্চতা তিন হাজার ৭৯০ মিটার অর্থ্যাত প্রায় পৌনে চার কিলোমিটার! চীনের ইউনান প্রদেশের টাইগার লিপিং জর্জ পাহাড়ের চূড়ায় উঠতে হলে বাইতে হবে এই মই। এর নাম দেওয়া হয়েছে ‘স্কাই ল্যাডার’। কোন ধরণের নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় ঠান্ডা মাথা আর একাগ্রতাই বাঁচিয়ে রাখতে পারে যিনি মই বেয়ে উঠবেন। আর হ্যাঁ, সাথে দরকার হবে মানানসই এক জুতা। সূত্র : সিএনএন। / এসএইচএস / এআর  

যে গ্রামে একজনের অপরাধের দায় গোটা সম্প্রদায়ের

পৃথিবীর বুকে এমন একটি জনপদ আছে যেখানে ব্যক্তির অপরাধের দায় নিতে হয় গোটা সম্প্রদায়কে। একশ’ বছরের বেশি সময় ধরে এখানে এই ‘আইন’ চলছে। ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক আমলের ওই আইনানুযায়ী, সীমান্তে কোনো অপরাধ হলেই তার বিচারের দায়ভার নেবে সেই জাতিগোষ্ঠীর নিজস্ব আইনি পরিষদ। এই নৃগোষ্ঠীর আইনি সংস্থাকে বলা হয় জিরগা। যার সদস্যরা হলেন গ্রামের অভিজ্ঞ প্রবীণরা। তারা মূলত অপরাধের তদন্ত করেন এবং কেউ দোষী সাব্যস্ত হলে তার বিচারের রায় কেন্দ্রীয়ভাবে নিযুক্ত রাজনৈতিক এজেন্টের মাধ্যমে ঘোষণা করেন।ব্রিটিশ শাসকদের এমন আইন প্রণয়নের উদ্দেশ্য ছিল যেন, প্রতিটি এলাকায় তাদের প্রভাব বজায় থাকে। তবে এই ব্রিটিশ আইনের সবচেয়ে বিতর্কিত দিকটি হল, কেউ যদি অপরাধ করে পালিয়ে যায় তবে তার আত্মীয় স্বজন বা কমিউনিটির সদস্যদের আটক করা হতো।ধারণা ছিল, এতে জড়িত ব্যক্তি চাপে পড়ে ধরা দেবে। এমন বিধানের কারণে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কোন দোষ না করেই একজনের জন্য শাস্তি পেতো এক দল মানুষ।পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্ত সংলগ্ন এই ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী এখনও শত বছরের পুরানো আইনের আওতায় নিপীড়নের শিকার। এখনও ওই গ্রামে কেউ অপরাধ করে পালিয়ে গেলে তার দায় নিতে হয় গোটা কমিউনিটিকে।পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়ার মাইল দূরেই প্রতিবেশী দেশ আফগানিস্তান। কয়েক বছর আগেও সন্ত্রাসী ও জঙ্গিবাহিনীর সদস্যরা গুরুত্বপূর্ণ এই সীমান্ত অঞ্চলটিকে তাদের যোগাযোগ ও চোরাচালানের প্রধান রুট হিসেবে ব্যবহার করতো।গত কয়েক দশক ধরে দুর্গম এই পাহাড়ি এলাকায় বাস করে আসছে একটি উপজাতি গোষ্ঠী। যাদের সঙ্গে পাকিস্তানের মূল ভূখণ্ডের বলতে গেলে কোন যোগাযোগই নেই।তবে সম্প্রতি তাদেরকে মূলধারার সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা করছে সরকার।আর এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে পাশের শহর জামরুদের সাধারণ মানুষ। তারা জানান এতোদিন একজনের অপরাধের জন্য পুরো এলাকার মানুষকে জেলে যেতে হতো। এখন আর তা হবেনা।জামরুদ শহরের বাইরে একটি ছোট গ্রামের বাসিন্দা নিরাম গুল। তিনি বিবিসিকে দেখাচ্ছিলেন যে ৪ বছর আগে সেনাবাহিনীর লোকেরা তার বাড়ির একটা অংশ ধ্বংস করে দিয়েছিল।তিনি বলেন, এক রাতে তালেবান জঙ্গিরা, সেনাবাহিনীর ওপর হামলা চালালে ৮ জন মারা যান। পরদিন সকালে সেনাবাহিনীর লোকেরা আমাদের গ্রামে আসে আর কোন কারণ ছাড়াই আমার বাড়িটা ভেঙ্গে দিয়ে যায়। তারা বলে যে ওইদিনের ঘটনার জন্য নাকি আমরা সবাই দায়ী। এই এলাকায় যা কিছুই হোক তার দায় নাকি আমাদেরই নিতে হবে- বলেন নিরাম গুল।নিরাম গুলের মতো এই উপজাতির অন্য সদস্যরা এই ব্রিটিশ সীমান্ত অপরাধ আইনকে কালো আইন বলে আখ্যা দিয়েছে।গ্রামের প্রবীণ সদস্য মালিক ইস্রাউল আফ্রিদি জামরুদ শহরের স্থানীয় বিচার পরিষদ বা জিরগার প্রতিষ্ঠাতা।তিনিও এই ব্রিটিশ আইনের নিন্দা জানান। তবে সেটা পুরোপুরি উঠিয়ে দেয়ার ব্যাপারেও আপত্তি আছে তার।তিনি মনে করেন ব্রিটিশরা এই ধরণের আইন করার আগে স্থানীয়দের সাথে কোন আলোচনা না করে ভুল করেছিল।তবে তিনি বলেন, আমি এটা মানি যে, সীমান্ত অপরাধ আইনে কিছু সংস্কার হওয়া প্রয়োজন। তবে সেটা পুরোপুরি তুলে দিয়ে পাকিস্তানের বিচারব্যবস্থার সঙ্গে মিলিয়ে ফেলা হবে সেটাও চাইনা।আইনের সংস্কারের মাধ্যমে হয়তো পরিবর্তন আনা সম্ভব। না হলে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার ভাষ্যমতে ছবির মতো সুন্দর এই গ্রামটির গায়ে "পৃথিবীর সবচেয়ে বিপদজনক স্থানের" দাগ পড়ে যাবে।সূত্র : বিবিসি।/ এআর /

প্রকৃতির বিস্ময়ভরা গ্রাম

যতদূর চোখ যায় শুধু সবুজ আর সবুজ। ঘরবাড়ি, দালান, উঠোন থেকে রাস্তাঘাট সবই ঢেকে গিয়েছে ঘন লতাপাতায়। রাস্তার দু’ধারে মাথা উঁচিয়ে রয়েছে আঙুরলতা। চিনের শেঙশান দ্বীপে অবস্থিত জনমানব শূন্য ওই গ্রামটিকে বলা হয় ‘ভূত গ্রাম’। কেমন দেখতে সেই গ্রাম? কেন ডাকা হয় এই নামে? দেখে নিন গ্যালারির পাতায়। সাংহাইয়ের উপকূল থেকে প্রায় ৯০ কিলোমিটার দূরত্বে শেঙশান দ্বীপের ছোট্ট গ্রাম হাওটাওওয়ান। সাংহাই থেকে জলপথে গ্রামটিতে যেতে সময় লাগে ঘণ্টা পাঁচেক। পুরোপুরি সবুজে ছাওয়া গ্রামটি দীর্ঘদিনই ছিল লোকচক্ষুর আড়ালে।     গ্রামটির ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট সবই সবুজ গাছপালায় ঢেকে গিয়েছে। বিশ্ব উষ্ণায়ণ ও মাত্রা ছাড়া দূষণ যখন সবুজ প্রকৃতিকে ধীরে ধীরে গ্রাস করে নিচ্ছে, এই রকম একটা গ্রামের ছবি দেখে বিস্ময় হতবাক গোটা বিশ্ব। চারদিকে পাহাড়ে ঘেরা গ্রামটি এক সময় পাহাড় কেটেই তৈরি করা হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়। ছোট ছোট মাটির বাড়িগুলিও পাহাড়ের ঢাল বেয়ে সাজানো। গ্রামটির আয়তন প্রায় ৫০০ বর্গ কিলোমিটার। এক সময় প্রায় তিন হাজার মানুষের বাস ছিল এই গ্রামে। তাঁদের মধ্যে বেশিরভাগই ছিলেন পেশায় জেলে। কমপক্ষে ৬০০ পরিবারের বাস ছিল এই গ্রামে। ১৯৫০ সালে পাহাড় কেটে গ্রামটি তৈরি করা হয়। শহরাঞ্চল থেকে অনেকটাই দূরে প্রান্তিক এই গ্রামটিতে যোগাযোগ ব্যবস্থা ছিল একেবারেই অনুন্নত। সেই সঙ্গে খাবার ও পানীয় জলের জন্যও গ্রামবাসীদের অনেক দূরে পাড়ি দিতে হত। একদিকে পাহাড়ে ঘেরা রুক্ষ পরিবেশ, অন্যদিকে জীবনধারণের নানা অসুবিধার মুখোমুখি হয়ে একে একে গ্রামবাসীরা তাঁদের ভিটেমাটি ছাড়তে শুরু করেন। শোনা গিয়েছে, কাজের সূত্রেও জেলে পরিবারের অনেকে তাঁদের ভিটে ছেড়ে শহরে পাড়ি দেন।   ১৯৯০ সাল নাগাদ হাতেগোনা কয়েকটি পরিবার ছাড়া গোটা গ্রাম প্রায় জনশূন্য হয়ে পড়ে। বেশিরভাগ বাড়িই পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে থাকে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, পরিত্যক্ত বাড়িগুলিতে ধীরে ধীরে ডালপালা বিস্তার করতে শুরু করে গাছগাছালি। সমস্ত বাড়িগুলির গা বেয়ে উঠতে থাকে আঙুর গাছ। এক সময় দেখা যায় গোটা গ্রামটিই সবুজে আবৃত হয়ে গিয়েছে। ঘরবাড়ি, দালান, উঠোন কোনও কিছুই বাকি নেই। গ্রামের আদি বাসিন্দাদের দাবি, উপযুক্ত খাদ্য, পানীয়, যোগাযোগ ব্যবস্থার অভাবেই তাঁরা শহরে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে ছিল গ্রামটি। যাঁরা থেকে গিয়েছিলেন তাঁরাও অনেকটা দূরে পাহাড়ের উপর আশ্রয় নিয়েছিলেন। লোকজনের বাস থাকায় গ্রামটির নাম হয়ে যায় ‘ভূত গ্রাম’।  প্রকৃতির কোলে হারিয়ে গিয়ে গ্রামটিও এক সময় চলে যায় লোকচক্ষুর আড়ালে। ২০১৫ প্রথম এই গ্রামের খোঁজ পান চিনের এক তরুণ ফোটোগ্রাফার কুইং জিয়ান। তিনিই প্রথম এই গ্রামের বেশ কিছু ছবি তুলে সোশ্যাল মিডিয়ায় আপলোড করেন। সবুজে ছাওয়া এমন গ্রাম দেখে হতবাক হয়ে যায় গোটা বিশ্ব। পরবর্তীকালে গবেষণার কাজে হোক বা নিছক পর্যটনের জন্য, বহু মানুষের পা পড়ে এই গ্রামে। খোঁজ শুরু হয় এক সময় গ্রামে বসবাস করা পরিবারদের। ছবি এবং সোশ্যাল মিডিয়ার সূত্র ধরে রাতারাতি বিখ্যাত হয়ে যায় হাওটাওওয়ান।  গ্রামটি নিয়ে প্রথম মুখ খোলেন ওয়াং পরিবার। বছর সাতাশের ওয়াং জানিয়েছেন, তিনি ও তাঁর পরিবার যখন গ্রাম ছাড়েন তখন তাঁর বয়স ছিল পাঁচ বছর। কাজের সন্ধানেই গ্রাম ছেড়ে চলে যায় তাঁর পরিবার। এখন তাঁদের ছোট্ট বাড়িটি নাকি আঙুরলতায় ছেয়ে গিয়েছে। একই অভিজ্ঞতা ঝু মান্ডিরও। তিনি জানিয়েছেন, পাহাড়ের ঢালে তাঁদের তিন তলা বাড়িটা সবুজ লতাপাতায় ভরে গিয়েছে। কাঠের দরজা ভেঙে ডালপালা মেলেছে আঙুর গাছের সারি। তবে, গ্রামটিতে এখনও জনা পাঁচ লোক বাস করেন। তাঁরা পাহাড়ের উপর নিজেদের জন্য আলাদা ঘর বানিয়ে নিয়েছেন। এমনই একজন গ্রামবাসী বছর বাষট্টির প্রৌঢ় জানিয়েছেন, গ্রামটিতে এক সময় বহু মানুষের বাস ছিল। এখন কান পাতলে গাছপালার শিরশিরানি শব্দ ছাড়া আর কিছুই শোনা যায় না। তবে, ইদানীং গ্রামটিতে পর্যটকদের আনাগোনা বেড়েছে। এমনই একজন বছর বাইশের কলেজ ছাত্রী হুয়াং ডান বলেছেন, চারদিকে যখন গাছপালা সাফ করে ঘরবাড়ি গড়ে তুলছে মানুষ, সেই সময় এমন একটা জায়গার খোঁজ পাওয়াটা সত্যিই বিস্ময়কর। তাঁর কথায়, “এখানে এসে মনে হচ্ছে শুরু থেকেই জায়গাটা প্রকৃতিরই ছিল। মানুষ চলে গিয়েছে, প্রকৃতি আবার তার ঠাঁই ফিরে পেয়েছে।’’ গোটা গ্রামটিরই রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব এখন সরকারের হাতে। পর্যটন স্থল হিসেবেই হাওটাওওয়ানের পরিচিতি বেড়েছে। আগে বিনামূল্যে গ্রামে ঘোরার সুযোগ করে দেওয়া হলেও বর্তমানে মাথা পিছু ৫২৬ টাকা (ভারতীয় টাকায়) টিকিটের দাম ধার্য করেছেন কর্তৃপক্ষ। সূত্র: আনন্দবাজার এসি    

কলম্বাসের হারিয়ে যাওয়া সেই চিঠি

ইতালির পর্যটক ক্রিস্টোফার কলম্বাস আমেরিকা আবিস্কার করেছিলেন বহুকাল আগে। ওই সময়ে রাজা ফার্দিনান্দ ও রানি ইসাবেলাকে যে চিঠিটি লিখেছিলেন কলম্বাস কিছুকাল আগে হারিয়ে গিয়েছিল সেটি। উদ্ধারের পর পাঁচশ’বছর আগের সেই চিঠিটি গত বৃহস্পতিবার স্পেনকে ফেরত দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।গতকাল বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটনে স্পেনের রাষ্ট্রদূত পেদ্রো মোরেনেসের কাছে চিঠিটি হস্তান্তর করা হয়। কলম্বাস ১৪৯৩ সালে চিঠিটি লিখেছিলেন স্পেনের রাজা ও রানিকে। ইতালির এই অভিযাত্রীর আমেরিকা আবিস্কারের (তখন ধারণা ছিল ভারত আষ্কিার) পৃষ্ঠপোষকতা করেছিলেন তারাই। তবে শেষ জীবনে দুর্ভোগই ছিল কলম্বাসের সঙ্গী।চিঠিতে কলম্বাস ক্যারিবীয় পাহাড়, উর্বর ভূমি, সোনা ও আদিবাসীদের কথা লিখেছিলেন। স্প্যানিশ ভাষায় লেখা চিঠিটি রাজা ফার্দিন্যান্দ ও ইসাবেলা রোমে পাঠিয়ে লাতিন ভাষায় রূপান্তর করিয়ে নিয়েছিলেন। এরপর হাতে লিখে এর অসংখ্য কপি করা হয়। কলম্বাসের নতুন মহাদেশ আবিস্কারের খবর ছড়িয়ে দিতে এই কপিগুলো বিলি করা হয় ইউরোপের রাজা ও রানিদের মধ্যে।লাতিন ভাষার এই চিঠিরই একটি কপি সংরক্ষিত ছিল স্পেনের বার্সেলোনার ন্যাশনাল লাইব্রেরি অব কাতালোনিয়ায়। কিন্তু এক দশক আগে জানা যায়, সেখানে আসল চিঠিটি নেই, রয়েছে জাল একটি চিঠি।তখন স্পেন ও যুক্তরাষ্ট্র বিষয়টির তদন্তে নামে। ২০১২ সালে তদন্তকারী নিশ্চিত হয় যে আসল চিঠিটি খোয়া গেছে বার্সেলোনা থেকে।চুরির পর আসল চিঠিটি বিক্রি করে দেওয়া হয়েছিল ২০০৫ সালের নভেম্বরে। ছয় লাখ ইউরোর বিনিময়ে দুজন ইতালীয় বই বিক্রেতা চিঠিটি বিক্রি করেছিলেন।২০১৩ সালের মার্চে যখন চিঠিটি পুনরায় হাতবদল হয় নয় লাখ ইউরোতে, ওই সময় ঘটনাটি নজরে আসে তদন্তকারীদের। এরপর চিঠির ক্রেতার সঙ্গে যোগাযোগ করেন তারা। ওই ব্যক্তি জানতেন না যে এই চিঠিটি বার্সেলোনা থেকে চুরি হয়েছিল।এটি যে কলম্বাসের সেই ঐতিহাসিক চিঠিই, তা নিশ্চিত হওয়ার পর তা উদ্ধার করে স্পেনের কাছে ফিরিয়ে দেল যুক্তরাষ্ট্র।/ এআর /

মানুষের উচ্চতার চেয়ে বড় মুদ্রা

প্রশান্ত মহাসাগরের পশ্চিমে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ছয়শরও বেশি দ্বীপ নিয়ে গঠিত মাইক্রোনেশিয়া অঞ্চল। এর পশ্চিমে ফিলিপাইন, দক্ষিণ-পশ্চিমে ইন্দোনেশিয়া, দক্ষিণে পাপুয়া নিউগিনি ও মেলানেশিয়া এবং দক্ষিণ-পূর্বে পলিনেশিয়া। মাইক্রোনেশিয়ার অন্যতম একটি দ্বীপ ইয়াপ। প্রতি বছর কয়েক লাখ পর্যটক ইয়াপে বেড়াতে যান। অন্য যে কোনো জায়গার চেয়ে ইয়াপে ভিন্ন এক অভিজ্ঞতা লাভ করেন পর্যটকরা। স্বতন্ত্র সেই অভিজ্ঞতা হল, বিশাল আকৃতির ‘পাথুরে শিলা মুদ্রা। প্রাচীনকাল থেকে ভারী ও বড় পাথুরে মুদ্রা দিয়ে এখানে বিনিময় প্রথা চালু রয়েছে। কয়েক সেন্টিমিটার থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৭ মিটার ব্যাসের মুদ্রাও রয়েছে। কোনো কোনো শিলা মুদ্রার উচ্চতা মানুষের সমান। মূলত এখানকার গ্রামবাসীর সম্মান ও আভিজাত্যের প্রতীক এ দৈত্যাকার মুদ্রা। পাথুরে মুদ্রাগুলো ইয়াপ দ্বীপের বিভিন্ন গ্রামের মানুষের দখলে রয়েছে। যার বাড়িতে বা যে গ্রামে বেশি পাথুরে মুদ্রা রয়েছে, ধরে নেয়া হয়- কৃষ্টি-কালচার, আভিজাত্যে তারাই উৎকৃষ্ট। এই মুদ্রার বিনিময় প্রথা চালু রাখতে প্রতিটা গ্রামেই রয়েছে নিজস্ব পাথুরে শিলার মানি ব্যাংক। জানা যায়, কয়েকশ’ বছর আগে ইয়াপের জেলেরা মাছ ধরতে গিয়ে পথ হারিয়ে ফেলেন। দুর্ঘটনাবশত তারা গিয়ে ওঠেন ৪০০ কিলোমিটার দূরের দেশ পালাউতে। সেখানে তারা গোলাকৃতির চুনাপাথর দেখতে পান। তারা একটি চুনাপাথর ঘষেমেজে ইয়াপে নিয়ে আসেন। পাথরটি দেখতে গরুর গাড়ির চাকার মতো। ইয়াপবাসীর কাছে এর নাম ‘রাই’। জেলেরা যখন চুনাপাথর নিয়ে এলেন, তখন গ্রামবাসী এটাকে ‘টাকা’ বলতে শুরু করলেন। ফলে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে উত্তাল সমুদ্র পাড়ি দিয়ে পালাউ থেকে গোলাকৃতির চুনাপাথর আনা শুরু করেন। আনা-নেয়ার সুবিধার জন্য এর মাঝখানে একটি গোলাকৃতির ছিদ্র করা হয়। পাথুরে মুদ্রার দখলে নিতে কম লড়াই হয়নি এখানে। এমনকি চুনাপাথর আনতে গিয়ে বহু জনকে প্রাণ দিতে হয়েছে। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে কখনো কখনো একটি নৌকার কেউ ফিরে আসতে পারতেন না। ইয়াপের প্রধানদের পৃষ্ঠপোষকতায় এগুলো আনা হতো। তখন ইয়াপের প্রধানদের মধ্যে বেশ দ্বন্দ্ব ছিল। কার থেকে কে বেশি ধনী হবেন সেই প্রতিযোগিতা ছিল। ফলে তারা প্রচুর লোক নিয়োগ করে এসব পাথর নিয়ে আসতেন। অনেক সময় এক প্রধানের পাঠানো লোকদের গুম করে ফেলতেন অন্য প্রধানের লোকেরা। ফলে পাথুরে মুদ্রা আনতে গিয়ে অনেক প্রাণহানি ঘটত। সচরাচর কেনাকাটার জন্য তারা এই মুদ্রা ব্যবহার করতেন না। মূলত বড় কোনো লেনদেন, বিয়ের উপহার, ক্ষতিপূরণ দিতে এ মুদ্রা ব্যবহার করা হতো। আর কেনাকাটার জন্য ব্যবহার করতেন মুক্তার মুদ্রা। ১৮৯৮ সালের পর থেকে পাথুরে মুদ্রার ব্যবহার কমতে থাকে। সেসময় স্পেন-আমেরিকা যুদ্ধের পর ইয়াপে ডেভিড ডিন ও’কেফ নামে এক শাসক আসেন। তিনি পাথরের মুদ্রা তৈরির আধুনিক সরঞ্জামাদি এনে দেন। আর পালাউ থেকে প্রচুর চুনাপাথর আনতে বড় একটি জাহাজ নিয়ে আসেন। এরপর ইয়াপের লোকজন প্রচুর পাথুরে মুদ্রা তৈরি করে। ফলে মুদ্রাস্ফীতি দেখা দেয় ও মূল্য কমতে থাকে। একসময় পালাউ থেকে চুনাপাথর আনা বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে এই এলাকায় মুদ্রার জায়গা দখল করে নিয়েছে মার্কিন ডলার। সূত্র : ডয়েচে ভেলে। আরকে// এআর

বিশ্বের সবচেয়ে বড় গ্রিনহাউস

শীতপ্রধান দেশগুলোর জলবায়ু গ্রীষ্মমণ্ডলীয় গাছপালা বিশেষ করে শাকসবজি, ফুল ও ফলের জন্য উপযোগী নয়। ধীরে ধীরে এ বিষয়টি নিশ্চিত করার জন্য গ্রিনহাউস প্রক্রিয়া চালু করা হয়। আর এই লক্ষ্যে লন্ডনের কিউ গার্ডেন পৃথিবীর সবচেয়ে বড় নাতিশীতোষ্ণ ঘর তৈরি করেছে যাতে বর্তমানে ১০ হাজারেরও বেশি গাছ রয়েছে। এটি ৫ বছর ধরে সংস্কারের পর সম্প্রতি আবারও সবার জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। প্রায় ১ হাজার ৫০০ প্রজাতির ১০ হাজারেরও বেশি গাছ নিয়ে এটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় কাচের তৈরি বাগান বলে পরিচিতি লাভ করেছে। ৪১ মিলিয়ন পাউন্ড ব্যয় করা হয় এ কাচঘরটি সংস্কারে।পৃথিবীর বিরল প্রজাতি ও বিলুপ্তির পথে থাকা গাছগুলো এ আবদ্ধ ঘরের সৌন্দর্য বাড়িয়ে তুলেছে। বিশাল আকৃতির এই কাচঘরটি প্রথম খোলা হয় ১৮৬৩ সালে। পরে ২০১৩ সাল থেকে সংস্কারের জন্য বন্ধ রাখা হয়।বন্ধু-পরিবার নিয়ে বেড়ানোর জন্য শিশু থেকে বুড়ো সব বয়সী মানুষের জন্য উদ্যানটি খুবই মনোমুগ্ধকর। পাশাপাশি গবেষণার এক অনবদ্য স্থানও এই ভিক্টোরিয়ান কাচঘর।বিচিত্র উদ্যানটিতে ৫ হাজার ২৭০ লিটার রং ব্যবহার করা হয় সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য যা দিয়ে প্রায় চারটি ফুটবল খেলার মাঠ রং করা যায় অনায়াসে।এটির সংস্কারের কাজে ব্যবহৃত কাঠের ভারা বা তক্তা যদি খুলে খুলে সাজিয়ে রাখা হয় তবে তার দৈর্ঘ্য হবে ১৮০ কিলোমিটার। কাচের বাগানটিতে ৪০০ নিজস্ব ও ভাড়া নির্মাণকর্মী প্রকল্পটির কাজ শেষ করে ১ হাজার ৭৩১ দিনে।লন্ডন ভ্রমণে গেলে অনলাইনে টিকিট বুকিং নিয়ে ঘুরতে পারেন অপার সৌন্দর্যের কিউ গার্ডেন।এখানে এশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, আমেরিকাসহ দক্ষিণ আফ্রিকার গভীর বনের বিশেষ বিশেষ জাতের উদ্ভিদ রয়েছে। এগুলো দর্শনার্থীদের বেশ নজর কাড়ে। এই কিউ গার্ডেনে এটি পৃথিবীর বিস্ময়কর সবচেয়ে বড় কাচঘর। এখানে বিরল প্রজাতির গাছপালা সবাইকে বিস্মিত করবে।উদ্যান, বিজ্ঞান ও নকশাসহ সব কিছু মিলিয়ে এটি পৃথিবীতে একেবারে আলাদা একটি বৈশিষ্ট্যের বলে মনে করেন লন্ডনের কিউ গার্ডেনের উদ্যানবিষয়ক পরিচালক রিচার্ড বার্লি।সূত্র : এনডিটিভি।/ এআর /

© ২০১৮ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি