ঢাকা, শনিবার, ১৬ ডিসেম্বর, ২০১৭ ১৩:১৩:৫৬

পাখি বিহীন বিলে মাছ নেই

পাখি বিহীন বিলে মাছ নেই

বাংলাদেশের যে বিলগুলোতে পাখি দেখা যায় না, সেই বিলগুলিতে কোন মাছ নেই বলে জানিয়েছেন পাখি গবেষক ইনাম-আল হক। “মানুষের একটি সাধারণ ধারণা আছে যে, বিলের পাখিগুলো সব মাছ খেয়ে ফেলে, কিন্তু এটা সত্য নয়। বিলের পাখি কোন মাছ খায় না, খায় মাইক্রোস্কপিক জুপ্লাংকটন ও ফাইটোপ্লাংকটন। আর এসব উদ্ভিদ খেয়ে তারা যে মলত্যাগ করে, তা খেয়েই মাছ বেঁচে থাকে” বলে দাবি করেন তিনি। বাংলাদেশে পাখি ও প্রকৃতি বিষয়ক গবেষক ও বাংলাদেশ বার্ড ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা ইনাম আল হক গত ৪ ডিসেম্বর কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন আয়োজিত ‘পাখি ও প্রকৃতি’ শীর্ষক মুক্ত আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। এতে সভাপতিত্ব করেন শিক্ষাবিদ প্রফেসর ড. এম শমশের আলী। বাংলাদেশের বিলগুলিতে পাখির অবদান তুলে ধরে ইনাম-আল হক বলেন, পাখির মল হচ্ছে নাইট্রোজেন সমৃদ্ধ সার। টাঙ্গুয়ার হাওরে প্রায় এক লক্ষ পাখি আছে। এই পাখিগুলো যদি প্রতিদিন ১০০ গ্রাম জলজ উদ্ভিদ খায়, তাহলে প্রতিদিন প্রায় ৫০ গ্রাম করে তারা মলত্যাগ করে। এতে টাঙ্গুয়ার হাওরে প্রতিদিন পাঁচ টন সার পড়ছে বলে দাবি করেন তিনি। আর শুধু এ কারণেই টাঙ্গুয়ার হাওর মৎস্য সমৃদ্ধ বলে জানিয়েছেন তিনি। দেশে ১১ হাজার বিল আছে জানিয়ে তিনি বলেন, ১১ হাজার বিলে আমাদের কি সার দেওয়া সম্ভব ছিল? ছিল না । তবে এই সার দেওয়ার কাজ করে যাচ্ছে পাখিরা । মূলত,পাখিরা নীরবে নিঃস্বার্থ সেবা দিয়ে যাচ্ছে মানবজাতিকে, যা আমরা টেরও পাচ্ছি না। এসময় তিনি বলেন, দেশে প্রতি বছর বিলগুলিতে ২৫ প্রজাতির হাঁস আসে। অনেকেই মনে করেন, এগুলি বিলের মাছ খেয়ে ফেলে, কিন্তু এটা সত্য নয়। আসলে এ হাঁসগুলোর ঠোঁট এত চ্যাপ্টা যে মাছ ধরে খাওয়া তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। তারা মূলত খায় মাইক্রোস্কপিক জুপ্লাংকটন ও ফাইটোপ্লাংকটন। ডিমওয়ালা মাছ খেয়ে আমরা নিজেরাই আসলে বিলের মাছ শেষ করেছি। এদিকে অরণ্যের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, আমরা বেঁচে আছি পৃথিবীর সব অরণ্যের ওপর নির্ভর করে। গাছের পাতা থেকে পাওয়া অক্সিজেন গ্রহণ করে আমরা বেঁচে থাকি। তবে এই পাতা পোকামাড় নষ্ট করে ফেলে। তবে ফুটকি নামের এক জাতের পাখি আছে যারা এ পোকা-মাকড়গুলো খেয়ে ফেলে পাতাকে আক্রান্ত হওয়া থেকে বাঁচিয়ে রাখে। আর এই ফুটকি পাখি আসে সাইবেরিয়া থেকে। প্রতি বছর শীতকালে প্রায় পাঁচ কোটি ফুটকি পাখি সাইবেরিয়া থেকে উড়ে আসে বাংলাদেশে। পৃথিবীর ৭০ শতাংশ পাখি পোকামাকড় খায়। বাকিরা মাংসাশী আর মাত্র ৫ শতাংশ শস্য ও ফল খায়। প্রকৃতির ভারসাম্য বলতে বোঝায়- এখানে গাছ থাকতে হবে, পাখি থাকতে হবে, পোকাও থাকতে হবে। কিন্তু কোনোটির পরিমাণই বেশি হওয়া যাবে না। তবেই আমরা মানুষেরা টিকে থাকব। প্রকৃতির এই ভারসাম্য বজায় রাখছে পাখি। তাই আমরা আসলে সরাসরি পাখির ওপর নির্ভরশীল। পাখি বাঁচিয়ে রেখেছে পৃথিবীর অরণ্যগুলোকে। এদিকে সমাপনী বক্তব্যে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা প্রফেসর ড. এম শমশের আলী বলেন, আমাদের জীবন ও পরিবেশের সাথে পাখি ওতপ্রোতভাবে জড়িত। পবিত্র ধর্মগ্রন্থেও বার বার এসেছে পাখির প্রসঙ্গ। হযরত সোলায়মানের সাথে হুদহুদ পাখির ঘটনায় আমরা দেখি, রাজার সভাসদও হতে পারে পাখি। কারণ হুদহুদ পাখি ছিল সোলায়মানের সভায় বার্তাবাহক। আবার হযরত দাউদের সাথে পাখিরাও আল্লাহর গুণগান গাইত। ছোট ছোট আবাবিল পাখিরা মিলে যুদ্ধ করেছিল পবিত্র কাবাঘর রক্ষায়। এই আবাবিল পাখি আমি দেখেছি বান্দরবানের লামার কোয়ান্টামমে গিয়ে। পাখিদের কাছ থেকে শৃঙ্খলা শিখতে হবে জানিয়ে ড. শমসের আলী বলেন, আমরা যখন বাসে-ট্রেনে যাতায়াত করি তখন প্রায়ই ভিড় লেগে যায়, ধাক্কাধাক্কি হয়। কিন্ত লক্ষ লক্ষ পাখি একসাথে উড়ে গেলেও সেখানে একটা অনবদ্য শৃঙ্খলা বজায় থাকে।   এমজে/        
দাম্পত্যজীবনে সুখী হতে যা প্রয়োজন

প্রেম-ভালোবাসা মানুষের জীবনে অমূল্য সম্পদ। প্রত্যেক মানবিক সম্পর্কেই প্রেম, ভালোবাসা, ঝগড়া ও দুঃখের সংমিশ্রণ থাকে। একটি সম্পর্কের ভিত্তি শুধুমাত্র ভালোবাসাই নয়। তার সঙ্গে আরও থাকে বিশ্বাস, সততা, বোঝাপড়া এবং আত্মত্যাগ। ভালোবাসার সম্পর্ক কোনো রুপকথার গল্প নয়। দাম্পত্যজীবনে সুখী হতে যা করতে হবে।দম্পতিরা এক সঙ্গে থাকুন-আপনি যদি মনে করে থাকেন যে সুখী দম্পতিরা কখনো একে অপরের থেকে আলাদা হন না তবে আপনি খানিকটা ভ্রান্তির মধ্যে আছেন। প্রত্যেক মানুষই কিছুটা সময় নিজের সান্নিধ্যে কাটাতে চায়। আপনিও যদি এমন হয়ে থাকেন তবে নিজেকে দোষারোপ করার কোন দরকার নেই। পরিবার ও প্রিয় মানুষের দায়িত্ব থেকে কিছুটা সময় অব্যাহতি দেওয়া দোষের কিছু নয়। এক সঙ্গে থাকলে তাতে ভালোবাসা আরও গভীর হয়।একে অপরের বন্ধু ও আত্মীয়স্বজনকে আপন মনে করা-আপনার সঙ্গী যে আপনার পরিবার ও বন্ধুদের পরিপূর্ণভাবে ভালোবাসবে, এমনটি আশা করার কোন প্রয়োজন নেই। আপনার সঙ্গীর পরিবারের সঙ্গেও যে আপনি একদম একাত্ম হয়ে যাবেন, সেটিও আশা করা বৃথা। আপনারা দুজন দুজনকে পছন্দ করেন বলেই একটি সম্পর্ক স্থাপন করেছেন। এর পর সবার সঙ্গে খানিকটা তাল মিলিয়ে চলতে হবে যেন কোনভাবেই কেউ অপমানিত বোধ না করে। নিজস্ব আশা এবং সীমাবদ্ধতা একে অপরের সঙ্গে ভাগাভাগি করুন। এতে করে যোগাযোগের মাত্রা বৃদ্ধি পাবে।ঝগড়া এড়িয়ে চুলন-ভালোবাসাপূর্ণ সম্পর্কে যারা কখনো ঝগড়া করেন না, তারা আসলে একজন আরেকজনের প্রতি কোন মায়াই প্রদর্শন করেন না। ঝামেলাবিহীন জুটিগণ সাধারণত সম্পর্ক শেষ করার তালেই থাকেন। তার মানে এই নয় যে বড়সড় যেকোন ঝগড়া সম্পর্কের জন্য উত্তম, সেগুলো মারাত্মক হতে পারে কিন্তু ছোটখাট যেকোন কলহ-বিবাদ সম্পর্কের জন্য ভালো। এটি যেকোন সম্পর্ককে গাড় করে। কেননা, একটি ঝগড়ার পর যখন নিজেরা নিজেদের মধ্যে সেটি মিটমাট করে ফেলেন তাতে করে সম্পর্ক আরো গভীর ও আন্তরিক হয়।বাস্তববাদী হোনআপনি কি বিয়ের পরও আশা করেন আপনার স্ত্রী/স্বামী সেই আচরণ করবে যা সে করতো বিয়ের আগে প্রেমিক/প্রেমিকা হিসেবে?দাম্পত্যজীবনে অশান্তির একটা বড় কারণ এই অবাস্তব, অলীক প্রত্যাশা। কারণ বাস্তবজীবনে অলীক প্রত্যাশাগুলো যখন বাস্তবায়িত না হয় তখন তা আশাভঙ্গ ও মর্মপীড়ার কারণ হয়। আবার বৈজ্ঞানিকভাবেই এটা এখন প্রমাণিত যে, প্রেমের প্রাথমিক উন্মাদনা ক্ষণস্থায়ী। আপনি যাকেই বিয়ে করেন না কেন, সে কখনোই ১০০% নিখুঁত হবে না। সারাক্ষণ শুধু আপনার চিন্তা করবে না। সুখী হতে হলে আপনাকে তাই বাস্তববাদী হতে হবে। আপনার সঙ্গী বোঝার চেষ্টা করুন-দাম্পত্যজীবনে সমস্যার একটা অন্যতম কারণ হলো আমরা নিজেরাই যে সমস্যার জন্যে দায়ী – এটা আমরা মেনে নিতে পারি না। আমরা সবসময় মনে করি: আমি ঠিক, আমার স্বামী/স্ত্রী ভুল। অথবা মনে করি ও আমার প্রতি অন্যায় করছে কিংবা মনে করি যে ও আমাকে বোঝে না। কিন্তু আমরা এটা বুঝি না যে, আরেকজনকে বোঝার জন্যে আমিই আগে উদ্যোগ নিতে পারি।দাম্পত্যজীবনে ভুল বোঝাবুঝি দূর করার অন্যতম উপায় হলো, নিজের ভুলগুলো নিজেই খুঁজে বের করা এবং অপরপক্ষের অবস্থান থেকে দেখার চেষ্টা করা। আমরা এটা কখনোই আশা করতে পারি না যে, আমি যা করি না, আমার স্বামী/স্ত্রী সেটা করবে। আমরা যখন ধরে নিই যে, সমস্ত ভুল আরেকজনের, তখন ভুল বোঝাবুঝি দূর করার দায়ও আমরা তার ওপরই চাপিয়ে দিই। যদি আমরা শুধু এটা মনে করতাম যে, বোঝাবুঝির অভাব হলেই ভুল বোঝাবুঝি হয়, তখন আমরাই উদ্যোগ নিতাম। কোন সমস্যাই আর সমস্যা থাকতো না। পরিবারে সময় দিন, সম্পর্ক লালন করুনজীবনের অন্যান্য ক্ষেত্রের মতো পরিবারিক জীবনেও আপনি যদি সাফল্য চান, আপনাকে পরিবারের প্রতি মনোযোগী হতে হবে। বন্ধুদের সাথে আড্ডা কিংবা ক্লাবে তাস বা পুল খেলে সময় কাটানোর চাইতে পরিবারে সময় দিলে সেটা আপনার ভবিষ্যৎ জীবনের জন্যে ভালো হবে। মনে রাখবেন, বাসায় থাকা আর পরিবারের সাথে সময় কাটানো – দুটি সম্পূর্ণ আলাদা ব্যাপার। বাসায় থাকলে টিভি না দেখে পরস্পরের সাথে কথা বলুন, অনুভূতি-মতামত-পরামর্শ বিনিময় করুন। অফিসের চাপ, ঝামেলা বা টেনশনকে অফিসে রেখে শুধুমাত্র পরিবারকেই সময় দিন। সুযোগ থাকলে ঘরের কাজে স্ত্রীর সাথে অংশ নিন। এসএইচ/

চাঁপাইনবাবগঞ্জের ইসলামী স্থাপত্যকলার প্রাচীন স্থাপনা

আম, কাঁসা, পিতল, নকশী কাঁথা, রেশমসহ গম্ভীরা, মেয়েলীগীতের মতো লোক উপাদানে সমৃদ্ধ চাঁপাইনবাবগঞ্জ। এ জেলার অতীত ইতিহাস অত্যন্ত গৌরবময়। ইসলামী স্থাপত্যকলার অজস্র নিদর্শন বুকে ধারন করে আছে। যা এক সময় ছিল প্রাচীন বাংলার রাজধানী গৌড়ের এক উল্লেখযোগ্য জনপদ। শুধু ঐতিহাসিক নিদর্শনেই সমৃদ্ধ নয়, অন্যায়-অত্যাচারের বিরুদ্ধে এখানকার মানুষের সংগ্রামের ইতিহাসও অত্যন্ত গৌরবময়। গৌড়-প্রাচীন বাংলার রাজধানী। চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহর থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দূরে শিবগঞ্জ উপজেলার শাহবাজপুর ইউনিয়নে এ প্রাচীন নগরী। পাঁচ বর্গ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে প্রাচীন আমলে নির্মিত অসংখ্য স্থাপনা। এখানে রয়েছে সোনামসজিদ, তোহাখানা, তোহাখানা তিনগম্বুজ মসজিদ, দারসবাড়ি মসজিদ, খঞ্জন দীঘির মসজিদ, ধনাইচক মসজিদ, কোতোয়ালী গেট (নগর দ্বার), হযরত শাহ নেয়ামতুল্লাহর মাজারসহ বেশ কয়েকটি দিঘি। যা ইতিহাস ঐতিহ্যের অনন্য নির্দশন ও আভিজাত্যের সাক্ষি। সোনা মসজিদ-প্রথমেই চোখে পড়বে ছোট সোনা মসজিদ। চাঁপাইনবাবগঞ্জ-সোনা মসজিদ স্থলবন্দর মহাসড়কের পাশেই দাঁড়িয়ে আছে এই ঐতিহাসিক মসজিদটি। ১৪৯৩-১৫১৯ খ্রিস্টাব্দে সুলতান হোসেন শাহের আমলে এ মসজিদটি নির্মিত হয়েছিল। সুলতানী আমলের স্থাপনাগুলোর শিল্প ভাস্কর্যের মধ্যে অন্যতম নিদর্শন। এই মসজিদে চৌচালার মত তিনটি এবং দুই পাশে ১২টি গোলাকৃতির গম্বুজ রয়েছে। গম্বুজগুলোর তলদেশে বিভিন্ন ফল-ফুলের গুচ্ছ, লতাপাতার নকশা করা আছে। এই মসজিদ চত্বরেই রয়েছে মুক্তিযুদ্ধে শহীদ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দীন জাহাঙ্গীর ও মেজর নাজমুল হকের সমাধি। তিন গম্বুজ মসজিদ- ছোট সোনা মসজিদ থেকে কয়েকশ’ গজ দূরেই রয়েছে তিন গম্বুজ মসজিদ। এই মসজিদটি শাহ নেয়ামতুল্লাহ (রহ) ১৬৩৯-৫৮ খ্রিস্টাব্দে নির্মাণ করেন। এর দৈর্ঘ্য উত্তর-দক্ষিণে ১১৬ ফুট ও প্রস্থ ৩৮ ফুট। শাহ নেয়ামতুল্লাহর মাজার-তিন গম্বুজ মসজিদের পাশেই রয়েছে শাহ নেয়ামতুল্লাহর মাজার। ১২ দরজা বিশিষ্ট চতুষ্কোনায়তন সমাধিটির পাশেই রয়েছে আরও কয়েকজন সাধক পুরুষের সমাধি।পহেলা মহররম হযরত শাহ নেয়মাতুল্লাহর জন্ম ও মৃত্যুর দিন বলে এই দিনে প্রতিবছরই এখানে ওরস পালন করা হয়। এছাড়া ভাদ্র মাসের শেষ শুক্রবারও এখানে ওরস পালন করা হয়। বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত থেকে অনেক ভক্ত সেদিন ওরসে উপস্থিত হয়। দারসবাড়ি মসজিদ-ছোট সোনা মসজিদ ও কোতয়ালী দরজার মধ্যবর্তী স্থানে ওমরপুরে দারসবাড়ি মসজিদ অবস্থিত। স্থানীয় জনসাধারণ এই স্থানকে দারসবাড়ি বলে থাকেন। দারস শব্দের অর্থ শিক্ষা। বর্তমানে এই স্থানটি জনশূন্য। ১৪৭৯ খ্রিস্টাব্দে সুলতান শামস উদ্দীন ইউসুফ শাহের আমলে এই মসজিদটি নির্মিত হয়। এই মসজিদের অভ্যন্তরে দুই অংশে বিভক্ত। এর আয়তন ৯৯ ফুট ৫ ইঞ্চি ও ৩৪ ফুট ৯ ইঞ্চি। উপরে ৯টি গম্বুজের চিহ্ন রয়েছে। এখন শুধু মসজিদটির ধ্বংসাবশেষ দাঁড়িয়ে রয়েছে। দারসবাড়ি মসজিদের বাহির এবং অভ্যন্তর দেয়ালে টেরাকোটা খচিত। আশপাশের যে ক’টি মসজিদ আছে সে সব চেয়ে এ মসজিদটি অধিকতর সুন্দর। একসময় মসজিদ সংলগ্ন একটি মাদ্রাসা ছিল এখানে। মাদ্রাসার ধ্বংসাবশেষ এখনও কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে। খঞ্জনদিঘির মসজিদ-দারসবাড়ি মসজিদের দক্ষিণ দিকে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে বল্লাল সেন খননকৃত বালিয়া দিঘির দক্ষিণ পাড় ঘেঁষে পূর্বদিকে কিছুদূর গিয়ে চোখে পড়ে খঞ্জন দিঘির মসজিদ। এক জলাশয়ের পাশেই অবস্থিত খঞ্জনদিঘির মসজিদটি অনেকের নিকট খনিয়াদিঘির মসজিদ নামে পরিচিতি। আবার অনেকে একে রাজবিবি মসজিদও বলে থাকেন। এই মসজিদের আয়তন ৬২ ও ৪২ ফুট। মূল গম্বুজটির নিচের ইমারত বর্গের আকারে তৈরি। এই বর্গের প্রত্যেক বাহু ২৮ ফুট লম্বা। ইটের তৈরি এ মসজিদের বাইরে সুন্দর কারুকাজ করা রয়েছে। খঞ্জনদিঘির মসজিদ কখন নির্মিত হয়েছিল এবং কে নির্মাণ করেছিলেন সে সম্পর্কে কিছুই জানা যায়নি। তবে মসজিদ তৈরির নমুনা দেখে পন্ডিতেরা অনুমান করেন যে এটি ১৪ শতকে নির্মিত হয়েছিল। ধনাইচকের মসজিদ-খঞ্জনদিঘি মসজিদের অদূরেই রয়েছে আরও একটি প্রাচীন মসজিদ। এই মসজিদটির নাম ধনাইচকের মসজিদ। এটিও ১৪ শতকে নির্মিত হয়েছে। এর দেয়ালে রয়েছে বিভিন্ন কারুকার্য। এছাড়াও এ উপজেলায় রয়েছে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সোনামসজিদ স্থলবন্দর। যেভাবে যাবেন-রাজধানী ঢাকা থেকে বাসযোগে সরাসরি চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরে অথবা শিবগঞ্জে যেতে পারেন। যেখানে থাকবেন-চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহর ও শিবগঞ্জ বাজারে এসি, নন এসি আবাসিক হোটেল, সোনামসজিদের সামনে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের ডাকবাংলো ও সোনামসজিদ স্থলবন্দরেও জেলা পরিষদের ডাকবাংলো রয়েছে। এসএইচ/

স্টিল নির্মিত ভবনের জনপ্রিয়তা বাড়ছে

দেশে স্টিল নির্মিত ভবনের জনপ্রিয়তা ক্রমেই বাড়ছে। বিশ্বের উন্নত দেশের মতো বাংলাদেশেও মেঘা প্রকল্পগুলোতে স্টিলের ব্যবহার শুরু হয়েছে। এতে দেশীয় উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো অবদান রাখতে শুরু করেছে। ভূমিকম্প সহনীয় স্থিতিস্থাপক ক্ষমতা অনেক বেশি হওয়ায় পশ্চিমা বিশ্বের বড় বড় প্রকল্পসহ বর্তমানে দুবাইয়ের বুর্জ  খলিফাও স্টিল দ্বারা নির্মিত হয়েছে বলে জানা গেছে। এছাড়া পরিবেশের সুরক্ষায়  আরসি বিল্ডিং ( ইট-সিমেন্ট নির্মিত ভবন) এর তুলনায় স্টিল বিল্ডিং সহনীয় হওয়ায় বর্তমানে সচেতন মহলে স্টিল বিল্ডিং এর জনপ্রিয়তা বেড়েছে। দেশে ২০০২ সালে স্টিল নির্মিত ভবনের যাত্রা শুরু হলেও বর্তমানে প্রায় পাঁচ শতাংশ ভবন স্টিল দ্বারা নির্মিত হচ্ছে । আগামী ১০ বছরে তা ৫০ শতাংশ ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ স্টিল বিল্ডিং ম্যানোফেকচারিং অ্যাসোসিয়েশানের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী আবু নোমান হাওলাদার। স্টিল বিল্ডিং এর ডাক্টাইল অনেক বেশি হওয়ায় তা ভূমিকম্প সহনীয়। ভূমিকম্পের কারণে এটি দুলবে, তবে কখনো ভেঙ্গে পড়বে না। অন্যদিকে আরসি বিল্ডিং এর ‘রাইজিডিটি’ বেশি হওয়ায় ভূমিকম্প সহনীয় মাত্রার চেয়ে বড় মাত্রার ভূমিকম্প হলে তা ভেঙ্গে পড়বে। তাই স্টিল বিল্ডিং এর জনপ্রিয়তা বাড়ছে বলে মনে করেন অনেকে। স্টিল বিল্ডিং এর জনপ্রিয়তা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হিসেবে উদ্যোক্তারা মনে করছেন, স্টিল বিল্ডিং যেভাবে ইচ্ছে, ঠিক সেভাবে ডিজাইন করা যায়। শুধু তাই নয়, ‘ইনটেরিয়র ডিজাইনের’ সুবিধার্থে ভবনের যে কোন তলা থেকে দেয়াল সরিয়ে নেওয়া যায়। পিলার সরানোর প্রয়োজন হলে সেটিও সরিয়ে নেওয়া যায়। এদিকে স্টিল বিল্ডিং নির্মাণের  কয়েক বছর পর কেউ চাইলে তার পুরো ভবনটি সরিয়ে নিতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে ভবন নির্মানে ব্যবহৃত কাঁচামালের ১০ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। বিপরীতে আরসি বিল্ডিং সরাতে হলে সমস্ত ভবনটিই ভেঙ্গে ফেলতে হয়। তাই ভবন ভবিষ্যতে সরাতে হতে পারে, এমন আশঙ্কা যারা করছেন তাদের মধ্যে স্টিল বিল্ডিং এর জনপ্রিয়তা ক্রমেই বাড়ছে। এদিকে স্টিলখাতে জনবলও বাড়ছে। বর্তমানে এই খাতটিতে কমপক্ষে এক লাখ শ্রমিক কাজ করছে বলে জানান প্রকৌশলী আবু নোমান হাওলাদার। শুধু তাই নয়, বর্তমানে এই খাতটিতে দক্ষ জনবল তৈরি হচ্ছে, যাদের অনেকে বিদেশে গিয়ে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছে।  এসএইচ/            

আলীর ঘাটে সংগ্রামী আলীর জীবন

এক সময়ে একটি স্বপ্নকে পুজি করে শরিয়তপুরের জাজিড়া থানার কাইজারচর গ্রাম থেকে ঢাকায় এসেছিলেন গ্রামের সহজ সরল যুবক মোহাম্মদ আলী মিয়া। স্বপ্ন দেখেছিলেন রাজধানীতে তার কষ্টে অর্জিত টাকা দিয়ে হবে এক টুকরো জমি, হবে বাসস্থানের ব্যবস্থা। সেই লক্ষেই প্রথমে ১৯৬৫ সালে ঢাকার ইসলামবাগে ছোট একটি কক্ষ ভাড়া বসবাস শুরু করেন। বেঁচে থাকার জন্য প্রথমেই ছোটকাটরা এলাকার একটি প্লাস্টিক কারখানায় সপ্তাহে তিন টাকা বেতনে কাজ করেন। এতে করে কোনো রকম চলে যেত আলী মিয়ার জীবন। এভাবে একবছর যেতে না যেতেই চাকরিটি ছেড়ে দেন  তিনি। ভাবেন এ করে নিজের কোন স্বাধীনতা বলতে কিছু থাকে না। বছরখানেক পরে তিনি চিন্তা করেন ঢাকার বুড়িগঙ্গা নদীতে নৌকা চালিয়ে কর্মসংস্থানের নতুন যাত্রা শুরু করবেন। যেই কথা সেই কাজ। একটা নৌকা তৈরি করে নেমে পরলেন মাঝি হিসেবে। কেরানীগঞ্জের জিনজিড়া পোলের ঘাট থেকে নদীর ওপার ইসলামবাগের চুনারঘাটের পাশেই যাত্রী নিয়ে নৌকা ভিড়াতেন। শুরু হল- নতুন করে একটি ঘাট। টগবগে যুবক মাঝি দেখে অনেকে ভাবতেন এই ছেলেটা কেন নৌকার মাঝি হল। যে ওই ঘাট পার হত সে-ই কিনা কথাটা বলতো। এক সময়ে সবাই তার নামটা জেনে গেল আলী মাঝি। দেখতে সুদর্শন চেহারার অধিকারী  প্রথম প্রথম অনেক সমস্যা হত। তবে এক সময়ে সব ঠিক হয়ে গেল। এভাবে কয়েকবছরের মধ্যে আলীর ঘাট হিসেবে ঘাটটি তার পরিচিতি লাভ করে। তখন পারাপার ছিল জন প্রতি তিন পয়সা করে। এভাবে কেটে যায় কয়েকটি বছর। ১৯৭৩ সালে একাকিত্ব জীবনের অবশান ঘটিয়ে সংসার জীবনের অধ্যায় শুরু করেন আলী। বিয়ে করেন আছিয়া আক্তার নামে এক মেয়েকে। কয়েকবছর পর আছিয়ার কোল জুরে আসে মেয়ে নাছিমা আক্তার ও তার কয়েকবছর পর আরেক মেয়ে নাজমা আক্তার। দুই মেয়েকে নিয়ে মাঝি আলী ও আছিয়া দম্পতির পরিবারের আনন্দটাই অন্যরকম। এভাবে কেটে যাচ্ছিলো আলীর সংসার জীবন। তার পরে আবারও পর্যায়ক্রমে দুই পুত্র সন্তানের বাবা হন আলী মাঝি। সব মিলে আলী আছিয়া দম্পতির চার সন্তান যার মধ্যে বড় দুজন মেয়ে ছোট দুজন ছেলে। সময়ের পরিক্রমায় সেই আলী ১৯৯৮ সালে কামরাঙ্গীর চরে একটি জায়গা কিনেন এবং সেখানে গড়ে তোলেন ছোট একটি বাড়ি। ভালই চলছিল সংসার জীবন। ঠিক তখন ভাগ্যবিধাতার নিয়তির খেলায় আলীর সাজানো সংসারটা কামরাঙ্গি চরের বেরিবাধ নামের সিডরে তুরুপের তাসের মত ভেঙ্গে যায়। জানা যায় ২০০৪ সালে কামরাঙ্গিচরের বেরিবাধ হওয়ার সময় তার জমিসহ ঘরটি ভেঙ্গে ফেলতে হয়। যদিও তৎকালিন সরকার বলেছিল যারা আছে তারা কমবেশি ক্ষতিপূরণ পাবে। তবে কে পেয়েছে কে পায়নি তা জানা নেই আলীর। আলী পাইনি এতটুকু জানালেন অকপটে। এতে একদম নিশ্ব হয়ে যায় আলী মিয়া। তাতেও হাল ছাড়েনি আলী। সে জানতেন জীবন জীবীকার একমাত্র হাতিয়ার নৌকার বেয়ে তাকে বাকি জীবনটা কাটাতে হবে। তাতেও আলী ভেঙ্গে পরেননি। স্বরেজমিনে গত সোমবার একুশে টেলিভিশনের এই প্রতিবেদক গিয়েছিল বুড়িগঙ্গা নদীর মাঝিদের জীবন সংগ্রামের গল্প জানতে। কিন্তু সেখানে যেয়ে আলী নামের এক মাঝির জীবন সংগ্রামের এমন গল্প পাবে তা জানা ছিল না এই প্রতিবেদকের। গেীধূলীর শেষ লগ্নে আলীর নৌকায় চেপে বুড়িগঙ্গার পানিতে ভেসে ভেসে জানা গেল আলীর সংগ্রামী জীবনের পেছনে লুকিয়ে থাকা আরেক গল্প। অশ্রুসিক্ত কন্ঠে আলী বললেন, বাবা জীবনের কতটা বছর এই নৌকা করে মানুষ পারাপার করছি কেউ কখনো আমার কিংবা আমাদের মাঝিদের নিয়ে কিছু লেখে নাই। শোনে নাই সুখ দুঃখের গল্প। আপনি এই প্রথম আসলেন। তিনি আক্ষেপ করে আরও বলেন, আমার নামের ওপরে এই ঘাট আজও আছে অথচ আমি নিজেই প্রতিদিন এই ঘাটে সবার মতো ৭০ টাকা ও পোলের ঘাটে  ৩০ টাকা খাজনা দেই। তখন দুচোখে পানি ধরে রাখতে পারি না। তিনি আরও বলেন, এই ইসলামবাগে অনেকে আছে যারা আমার নৌকায় পার হয়ে কাজ করতে যাইতো এখন সাহেব। কি কমু বাবা আল্লায় যারে দেয় কে তারে ফিরায়। এই প্রতিবেদক বলেন, আপনার নামে এখনো ঘাট এই ভাবতে কেমন লাগে বিষয়টা। প্রথমে বলবো ভাল। তবে এই ঘাটটা কয়েকবার নাম বদলাইতে চাইছে কয়েকজন। কিন্তু কেউ আলীর ঘাট ছাড়া চেনে না। তাই মনে মনে বলি তোরা ইচ্ছা করলেই আমার নামটা বদলাতে পারবি না। তিনি তার পরিহিত সাদা গেঞ্জিটা ধরে ঝাকি দিয়ে বলে “আমি রাজা মহা রাজা”লোখে দেখলে দূর থাইকা কয় কি, কেমন আছ আলী ভাই? এতেই আমার শান্তি রে বাবা। এখন আলী স্ত্রী আছিয়া বেগম ও দুই ছেলেকে নিয়ে কামরাঙ্গীচরের একটি ভাড়া বাসায় থাকে। বড় ছেলে নূর ইসলাম কামরাঙ্গীচরের একটি মোবাইলের দোকানে চাকরি করে। এতে মাসে ১০ হাজার ও ছোট ছেলে জহিরুল ইসলাম সোয়ারীঘাট এলাকার ছোট কাটরায় একটি রং ছাপা কারখানায় মাসে আট হাজার টাকা বেতনে কাজ করে। আর আমি সব মিলে ১০-১২ হাজার টাকা পাই। এতে আমাদের ঘড় ভাড়া ও বিদ্যুৎ বিল বাবদ চলে যায় ১৩ হাজার টাকা। এর মধ্যে খাওয়া দাওয়া অন্যান্য খরচ নিয়ে কোন রকম সংসারটা চলছে। মন চাইলে কাজ করি মন না চাইলে কাজ করি না। এই হল আমি আলী মিয়ার বর্তমান অবস্থা। এভাবেই সোজা সাপটাভাবে আলী মাঝি জানালেন তার বর্তমান জীবনব্যবস্থার কথা। এর আগে কথা হয় এই ঘাটের মাঝি মো. আলাউদ্দিনের সঙ্গে। তিনি সাংবাদিক পরিচয় জেনে বলে বাবা আমরা না হয় ঘাটের খাজনা দেই ঠিক আছে তবে আলী ভাইর খাজনা দিতে হয় এটা আমাগো অনেক খারাপ লাগে। তাই আলীর ঘাটের মাঝিদের জোর দাবি ঘাট সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ যাতে আলী ভাইর ঘাটের খাজনা মওকুফ করেন এবং তাদের খাজনাগুলো কমিয়ে নেন। তারা আরো জানান আগে এই ঘাটে অনেকরে কিছু দিতে হইত এখন আর হয় না। তার কথার সঙ্গে সুর ধরে মাঝি বাদশা মিয়া, মো. বাবুল,শফিকুলসহ আরও অনেক মাঝি একই কথা বলেন। এছাড়া বুড়িগঙ্গা নদীর মঝিদের অনেক বোবা কষ্টের কথাই আছে যা চুনারঘাট, চেয়ারম্যান ঘাট, সুয়ারীঘাট, ইমামগঞ্জ ঘাট, বাবুবাজারঘাট, পোলের ঘাট ঘুরে জানা গেছে। তাই আলী মাঝির সরকারের প্রতি আকুল আবেদন সরকার যাতে তার নামের ওপরে ঘাটটিকে সরকারিভাবে স্বীকৃতি দিয়ে সারা জীবনের জন্য খাতা কলমে রাখেন। তাতে শেষ নিশ্বাস নিলেও লোকে যাতে নৌকা পার হলে বলে এই হল সেই আলীর ঘাট। এতেই আমার বড় শান্তি।   এসএইচ/

অতিথি পাখির কলরবে মুখর জাবি ক্যাম্পাস

ঋতুর পালাক্রমে হেমন্তের বিদায় নেওয়ার পরপরই সিগ্ধ সকালের কুয়াশা তার শীতের বার্তা নিয়ে হাজির হয়েছে। ইতোমধ্যে হালকা কুয়াশা পড়তে শুরু করেছে। শুরু হয়েছে শীতের মৌসুম। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি-খ্যাত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) সবুজ ক্যাম্পাসে লেগেছে শুষ্কতার ছোঁয়া। ক্যাম্পাসের লেকগুলো এখন লাল পদ্ম ফুলে ভরে উঠেছে। প্রকৃতির এমন উপযুক্ত পরিবেশ আর নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সবুজ আঙ্গিনার লেকগুলোতে আসতে শুরু করেছে অতিথি পাখি। প্রতি বছরের মতো এবারও অতিথি পাখিরা রক্তকমল শোভিত এই লেকগুলোতে জড়ো হতে শুরু করেছে। পাখিদের কলরবে ইতোমধ্যে মুখর হয়ে উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের লেকগুলো। এসব পাখি লাল শাপলার জলে কিচিরমিচির ডাকছে, আবার ডুব দিয়ে হারিয়ে যাচ্ছে শাপলার মাঝে। অতিথি পাখিদের এমন খুনসুঁটি আর ছোটাছুটি যে কারো মনকে মোহনীয় করে তুলেছে। ষড়ঋতুর এই দেশে শীত উৎসবটা অন্য যেকোনো জায়গার চেয়ে জাবি ক্যাম্পাসে একটু ভিন্ন রকম। কারণ, শীতের সময়ে অতিথি পাখির কিচিরমিচির আওয়াজের সাথে বসবাসের বিরল সুযোগ মেলে ক্যাম্পাসবাসীর। লাল শাপলার মাঝে দূর থেকে আসা বিভিন্ন প্রজাতির অতিথি পাখির বাহারি খেলায় মেতে ওঠার দৃশ্যে লেকগুলো এখন সেজেছে নতুন সাজে। এমন নতুন সাজে সজ্জিত ক্যাম্পাস আর হাজারো অতিথি পাখির কলকাকলি, জলকেলী, খুনসুঁটি দেখতে দর্শনার্থীরাও আসা শুরু করেছেন। নিজ চোখে অবলোকন না করলে উপলব্ধিতেও আসবেনা এর মোহনীয় সৌন্দর্য। লাল শাপলার মাঝে ধূসর রঙের হরেক প্রজাতির পাখি মেলে ধরেছে জাবি ক্যাম্পাসের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে। প্রতি বছর উত্তরের শীতপ্রধান সাইবেরিয়া, চীন, মঙ্গোলিয়া, নেপাল, জিনজিয়াং ও ভারতে প্রচুর তুষারপাত হওয়ায় টিকতে না পেরে অতিথি পাখিরা দক্ষিণ এশিয়ার নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চল হিসেবে বাংলাদেশে আসে। মূলত এরা অক্টোবরের শেষ ও নভেম্বরের প্রথম দিকে আসে। তবে ডিসেম্বরের মাঝামাঝি থেকে জানুয়ারির মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত সর্বোচ্চ সংখ্যক অতিথি পাখি  আসে এ ক্যাম্পাসে। এরা অতি শীতপ্রবণ উত্তর মেরু থেকে নিজেদের বাঁচাতে শুধু ডানায় ভর করে হাজার হাজার মাইল পথ পাড়ি দিয়ে এখানে আসে। আবার মার্চের শেষ দিকে এরা তাদের আপন ঠিকানায় ফিরে যায়। বাংলাদেশে যে কয়টি অভয়াশ্রমে অতিথি পাখি আসে তার মধ্যে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় অন্যতম। বিশ্ববিদ্যালয়ে ছোট-বড় ১০ থেকে ১২টি লেক থাকলেও পাখি আসে মূলত চারটি লেকে। এ লেকগুলোকে অভয়াশ্রম হিসেবে ঘোষণা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের গবেষণা তথ্যমতে, জাবির লেকগুলোতে ১৯৮৬ সালে সর্বপ্রথম অতিথি পাখি আসে। তখন ক্যাম্পাসে ৯৮ প্রজাতির পাখির দেখা মিলেছে। সাধারণ দুই ধরনের পাখির আগমন ঘটে এ ক্যাম্পাসে। এক ধরনের পাখি ডাঙ্গায় বা শুকনো স্থানে বা ডালে বসে বিশ্রাম নেয়। আরেক ধরনের পাখি পানিতে থাকে ও বিশ্রাম  নেয়। এদের বেশির ভাগই হাঁস জাতীয়। বর্তমানে জাবির এই আঙিনায় সরাল, পিচার্ড, গার্গেনি, মুরগ্যাধি, মানিকজোড়, কলাই, নাকতা, জলপিপি, ফ্লাইপেচার, কোম্বডাক, পাতারি, চিতাটুপি, লাল গুড়গুটিসহ সর্বমোট ১৯৫ প্রজাতির পাখির দেখা মেলে। এর মধ্যে ১২৬টি দেশীয় প্রজাতির এবং ৬৯টি বিদেশি। প্রতি বারের মত এবারও পাখি সংরক্ষণে গণসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে  জানুয়ারী মাসের প্রথম অথবা ২য় সপ্তাহে পাখি মেলার আয়োজন করা হবে বলে জানান তিনি। এদিকে পাখির বসবাসের উপযোগীর জন্য ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের কাছে অনুরোধ করেছেন শিক্ষার্থীরা। অতিথি পাখি আসা শুরু করলেও এদের নিরাপত্তার বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেয়নি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ক্যাম্পাস ঘুরে দেখা যায়, যে লেকগুলো কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘেরা ছিল সেসবের বেশিরভাগই ছিড়ে গেছে। এখনও পর্যন্ত মেরামত হয়নি। এ কারণে অনেক দর্শনার্থী লেকের কাছে গিয়ে পাখিকে বিরক্ত করেন, ভয় দেখান। পাখি যেনো বিরক্ত না হয় বা উড়ে চলে না যায় সে জন্য লেকগুলোর পাশে হর্ন বাজানো, কোনো ধরনের বাঁশি বাজানো, উচ্চ শব্দ করা, মিছিল করাসহ ইত্যাদি বিষয়ে সতর্কীকরণ করতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে নির্দেশনা দিতে দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।   / এমআর / এআর

ভস্ম থেকে যেভাবে গড়ে ওঠলো নান্দনিক হিরোশিমা নগরী

চারদিকে কৃষ্ণচূড়া পেকম মেলে পুরো এলাকা রঞ্জিত করে রেখেছে। সবুজে সবুজে মাঠ ছেঁয়ে গেছে। রাস্তার দু-ধারে ম্যাপল ট্রি শির উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে। পুকুরে-পুকুরে পদ্মফুল ফুটেছে । এ যেন এক নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি। বলছিলাম দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ক্ষত-বিক্ষত জাপানের হিরোশিমা শহরের কথা। বিশ্বযুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞানীরা বলেছিলেন, পরবর্তী ৭০ বছরেও হিরোশিমা শহরে কোনো ব্যক্তি বসবাস করতে পারবে না। এমনকি সেখানে কোনো বীজও অঙ্কুরিত হবে না। বিজ্ঞানীদের ভবিষ্যদ্বাণীকে চ্যালেঞ্জ করে, কিভাবে গড়ে উঠেছে আজকের নান্দনিক হিরোশিমা? আর সেখানকার বর্তমান অবস্থা-ই বা কেমন? এসব নিয়ে এই ফিচার। বিবিসি অবলম্বনে লিখেছেন মোহাম্মদ জুয়েল। ছেলেমেয়েরা আনন্দে হৈ-হুল্লোর করছে। মন্দিরে পূজো দিচ্ছে একদল পুরোহিত, একটু পর পর ঢঙ্কা বাজছে। একদল আসছে তো আরেকদল মন্দির ত্যাগ করছে। এ যেন এক আনন্দের শহর।এমনই চিত্র সেই বিধ্বস্ত হিরোশিমার। শহরের পুণর্জাগরণ কিভাবে সম্ভব হলো- ১৯৪৫-এর ৬ আগস্টের পর হিরোশিমা শহরের কোথাও কোনো স্থাপনা অবশিষ্ট ছিল না। কোন পার্ক, গাছপালা, উদ্ভিদের লেশমাত্রও পাওয়া যেত না । তখন গবেষকরা বলেন, আমেরিকার ফেলা পারমাণবিক বোমা ‘লিটল বয়’ এর আঘাতে সব ধ্বংস হয়ে গেছে। শুধু তাই নয়, আর কখনো এখানে নগরী গড়ে উঠবে না। তবে এক বছর না পেরোতেই হিরোশিমার নাগরিকরা দেখতে পান, হিরোশিমার মৃত্তিকা ভেদ করে ছোট ছোট উদ্ভিদ জন্ম নিচ্ছে। গ্রীষ্মকালে দেখা যায়, ধ্বংস হয়ে যাওয়া শত বছরের পুরানো গাছগুলো নতুন কুঁড়ি দিচ্ছে।আর এই চিত্র স্থানীয়দের হৃদয়ে উচ্ছ্বাসের ঢেউ তোলে। মূলত এ দুটি দৃশ্যই জাপানিদের জাতীয় গাছপালা রোপণে উৎসাহিত করে। এর পর থেকেই তারা সিদ্ধান্ত নেন, গবেষকদের ধারণাকে ভুল প্রমাণ করে হিরোশিমাকে নবজাগরণ দিতে হবে। এদিকে, দেশীয় ও আন্তর্জাতিক সহায়তাও হিরোশিমা পুনর্গঠনে ব্যপক ভূমিকা রাখে। হারিয়ে যাওয়া সবুজ ফিরিয়ে আনতে এরপর রাস্তার ধারে-ধারে গাছ লাগানো শুরু করেন স্থানীয়রা। ষোড়শ শতাব্দীতে ওয়াইকামাতে নির্মিত মিথাকাই মন্দিরকে এখন পর্য্টন কেন্দ্র হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। মন্দিরটি গড়ে উঠেছে ম্যাপল গাছের সঙ্গে । মনে হবে যেন, ম্যাপল গাছের উপর বেড়ে উঠছে মন্দিরটি। আবার কোথাও কোথাও ম্যাপল গাছ যেন মন্দিরটিকে লাল শাড়িতে সাজিয়েছে। এগুলো একদিনে হয়নি । ১৯৪৯ সালের ৬ আগস্ট সরকারিভাবে শহরটিকে সাজানোর জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। ঐ দিন ‘হিরোশিমা পিস মেমোরিয়্যাল সিটি কন্সট্রাকশন ল’ নামের একটি আইন কার্য্করের মধ্য দিয়ে শুরু হয় হিরোশিমার নবযাত্রা। এই আইনটি ছিল মেয়র শিনজো হামাই ও স্থানীয়দের স্বপ্নের একটি প্রতিফলন। ১৯৪৭ সালে যখন হিরোশিমা প্রথম শান্তি মেলা (পিস ফেস্টিভাল)অনুষ্ঠিত হয়, তখন শিনজো হামাই বলেন, ‘যুদ্ধের ভয়াবহতা থেকে বাঁচতে চলো আমরা একসঙ্গে হয়, এবং শান্তি প্রতিষ্ঠিত করি’ । কেবল এই আইন-ই হিরোশিমা পুণর্গঠনে একমাত্র ভূমিকা রাখেনি। এত সহজেই হিরাশিমার পুণর্জাগরণ হয়নি।শান্তি স্থাপনে প্রথমবারের মতো বিশ্বের কোন এক শহরের সব নাগরিক একত্রে কাজ শুরু করার নজির এটাই প্রথম।এটাও সত্য যে, তারা এখনো একত্রে কাজ করে যাচ্ছে। এবং তারা এটাই করে যেতে চায়। তাদের চেষ্টার অন্যতম ফসল পিস মেমোরিয়্যাল পার্ক । জাপানের মটইসাও নদীর তীরে গড়ে উঠেছে পার্কটি । এর আয়তন ১ লাখ ২০ হাজার বর্গ মিটার।৪৫’ এর পূর্বে এলাকাটি ব্যবসা বাণিজ্য ও আবাসিক এলাকা হিসেবে ব্যবহার হয়ে আসছে। নদীর অপর তীরে ইন্ড্রাস্ট্রিয়াল এলাকায় নির্মিত স্কেলিটাল ফর্ম অস্ত্র ও মরণবিধ্বংসী প্রচারণার অংশ হিসেবে সংরক্ষণ করা হয়েছে। এটি ৪৫’র পূর্বে স্থাপন করা হলেও এর ধ্বংসাবশেষ সংরক্ষণ করা হয়েছে।এটা হিরোশিমা পিস মেমোরিয়াল নামে পরিচিত। তবে স্থানীয়রা এটাকে জানে গেনবাকু ডমু।বছরে ১০ লাখেরও বেশি ট্যুরিস্ট এখানে আসে বলে বিবিসিকে জানায় এক কর্মকর্তা। জাপানে বর্তমানে পিস শব্দটি সবচে’ বেশি ব্যবহৃত হয়ে আসছে। বিভিন্ন রাস্তা, মোড়, পার্কের নামের সাথে পিস শব্দটি জুড়ে দিতে পছন্দ করছে জাপানিরা। জাপানের স্থানীয় ৪৯টি ভাষায় পিস শব্দটি লেখা হয়েছে। স্থানীয় মোটরচালিত বাইসাইকেলকে পিস বলে ডাকে। হিরোশিমার গভর্নর এবং পিস আর্ক চেয়ারম্যান হিদেহিকো উজাকি বলেন, আমরা শান্তির বাণী পুরো বিশ্বে পৌছে দিতে চাই, যাতে পুরো বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে এগিয়ে আসে। শান্তি স্থাপন সংক্রান্ত বিষয়টি শুধু নামকরণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিলনা হিরোশিমার প্রশাসকগণ। ১৯৮০ সালে তারা প্রতিষ্ঠা করে ‘মেয়রস ফর পিস প্রজেক্ট’ (শান্তি প্রকল্পের জন্য নগরপিতা) নামের একটি সংগঠন।তৎকালীন হিরোশিমার মেয়র তাকেশি আরাকি এ উদ্যোগ গ্রহণ করেন।বর্তমানে সংগঠনটিতে ১৬২টি দেশের ৭ হাজার ৪৬৯টি শহর সংযুক্ত রয়েছে। ২০১৭ সালে ১৬টি শহর এই উদ্যোগের সঙ্গে নতুন করে যুক্ত হয়েছে। শুরু থেকেই শান্তি স্থাপন বিষয়টি প্রাথমিকে পৌছে দেন নগরীর কর্তাব্যক্তিরা। সেখানে হিরোশিমার অতীত ও বর্তমান এবং শান্তি স্থাপনের গুরুত্ব নিয়ে পড়ানো হয়ে থাকে। শুধু তাই নয়, গ্রীষ্মকালীন ছুটিতে সেখানকার শিক্ষার্থীরা পিস মেমোরিয়ার পার্কে ট্যুরিস্ট গাইড হিসেবে কাজ করে থাকেন। হিরোশিমা শুধু নিজেদের মধ্যেই শান্তি স্থাপন করতে চায় না, হিরোশিমা চায় বিশ্বের সবার মধ্যে শান্তি স্থাপন। ‘যেখানে দেখিবে ছাঁই, কুঁড়াইয়্যা দেখো তাই, পাইলেও পাইতে পার, অমূল্য রতন” এই প্রবাদটির যথাযথ উদাহরণ আজকের হিরোশিমা। তাই আসুন শান্তি স্থাপনে, বিশ্বজনমত তৈরি করি, পরমাণু অস্ত্রসহ সব ধরণের সংঘাতকে না বলি।’       / এআর /      

ভালো নেই ব্যক্তিগত গাড়ি চালকরা

দেশে ব্যক্তিগত গাড়ির সংখ্যা বর্তমানে ৫ লাখের বেশি। এর অধিকাংশই রয়েছে রাজধানী ঢাকায়। এসব গাড়ির মালিকানা প্রধানত দু’ধরণের। ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক। গাড়ি অনুযায়ী চালকের সংখ্যাও প্রায় সমান সংখ্যক। কেমন আছেন এসব গাড়ির চালকরা? যার হাতে গাড়ির স্টিয়ারিং তু্লে দিয়ে আমি- আমরা নিশ্চিন্তে ফেসবুকিং করতে করতে, কখনো বা লতা মুঙ্গেশকরের গান শুনতে শুনতে ঝিমিয়ে ঝিমিয়ে নিরাপদে বাড়ি কিংবা কর্মক্ষেত্রে পৌঁছাই। দামী গাড়ির কাচের মত তাদের জীবন ঝকঝকে নয়, গাড়ির সিটের মত নরম বা শীতল নয়। বরং রাস্তার উত্তপ্ত রোদ বা ইট কংক্রিটের রাস্তার মত খটখটে। কথা বলছিলাম কাওরান বাজারে গাড়ি রেখে মালিকের অপেক্ষায় থাকা মো. রাসেলের সাথে। রাসেলের বয়স বাইশ। বাড়ি মাদারীপুর। বাবা ছিলেন রিক্সাচালক। সড়ক র্দূঘটনায় আহত হয়ে এখন বিছানায় পড়ে আছেন। ডাক্তাররা বলেছেন চিকিৎসা করলে সুস্থ হবেন। তবে সেই চিকিৎসা করানোর সামর্থ নেই। রাসেল ভাইদের মধ্যে বড়। 

এক কাদিতেই ৭২০ কলা

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রায়-ই একজন মানুষের পাশে বিশাল আকৃতির কলার কাদি দেখে অনেকেই বিস্ময় প্রকাশ করেন। কেউ আবার তা অবিশ্বাস্য বলেও মন্তব্য করেন। কিন্তু সে বিস্ময় ও অবিশ্বাস ভেঙ্গে দিল রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত পল্লী কর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) ‘উন্নয়ন মেলা-২০১৭’। সদ্য সমাপ্ত এ মেলায় অংশ নেওয়া মেহেরপুরের দারিদ্র বিমোচন সংস্থা (ডিবিএস) প্রদর্শন করে এমনই একটি কলার কাদি। নাম যার ‘২২ ছড়ি’। অবাক হলেও সত্য, প্রদর্শিত ওই একটিমাত্র কাদিতে কলা ধরেছে ৭২০টি। কলার কাদিটি লম্বায় প্রায় ৬ ফুট। কলার নাম ‘২২ ছড়ি’ হলেও প্রদর্শিত এ কলার কাদিতে ছড়ি ধরেছে ২৬টি। প্রতিটি ছড়িতে ২২ থেকে ৩০টি কলা ধরেছে। মেলায় সরেজমিনে দেখা যায়, মেলায় প্রদর্শিত এ বিশাল কলার কাদি সবাইকে হতবাক করেছে। ঠিক যেমন- ফেসবুকে বিশাল আকৃতির কলার ছবি সবাইকে অবাক করে। মেলায় অংশ নেওয়া অন্য স্টলগুলোর তুলনায় ডিবিএসের স্টলটিতে জটলাটা ঢের বেশি। কলার কাদি দেখতে  এই দর্শনার্থীরা বিস্ময় প্রকাশে হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন। সংস্থাটির কৃষিবিদ সাজিদুর রহমান একুশে টিভি (ইটিভি) অনলাইনকে বলেন, অত্যন্ত সুস্বাদু এই কলা একেবারেই দেশি জাতের। তবে এটি কিন্তু দেশের সব জায়গায় পাওয়া যায় না।আমরা মেহেরপুরে  এ জাতের কলার চাষ এখনও ধরে রেখেছি। তিনি বলেন, আমরা বাড়িতে বাড়িতে চাষের জন্য এই কলার চারা দিয়ে থাকি। একইসঙ্গে চাষ পদ্ধতির প্রশিক্ষণও দিই। অত্যন্ত পুষ্টিকর এই কলার ফলন বেশ ভাল। খেতেও খুব সুস্বাদু। কোনো বিচি নেই। তবে দেশের লোকেরা এর কদর বোঝে না বলে প্রায় হারিয়েই গেছে। তাই আমরা এটি আবার সহজলভ্য করার উদ্যোগ নিয়েছি। তবে বাণিজ্যিক চাষের জন্য এই কলা নয়।     সাধারণ অন্যান্য কলাচাষে ১০ মাসেই ফল পাওয়া যায়। তবে এই ২২ ছড়ি’র চারা থেকে ১২ মাসে ফল আসে। যে কারণে বাণিজ্যিক চাষে এই কলায় লাভ তুলনামূলক কম হয়। তবে বাড়িতে চাষের জন্য এই কলা বেশ লাভজনক। কেননা, উৎপাদন খরচ তেমন নেই। আবার ফলন বেশি। তবে ২২ ছড়ি বলে ২২ কাদি কলাই পাওয়া যায় এমন নয়। কখনো কখনো কম-বেশি হয়। সর্বোচ্চ ৩০ ছড়ি পর্যন্তও হতে দেখা যায়।     খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২২ ছড়ি জাতের কলা চাষ করে এলাকায় সাড়া জাগিয়েছেন মেহেরপুর জেলা শহরের হাসমত আলী।এলাকার অনেকেই এই জাতের কলা চাষে ঝুঁকছেন। তাই চারার মূল্যও বেড়ে গেছে। হাসমত আলীর বাড়ি শহরের বামনপাড়ায়।হাসমত আলীর কলা বাগানে আছে- সবরি ও মেহের সাগর কলা। এ দুই জাতের কলার সঙ্গে বাগানের এক কোণে ২২ ছড়ি জাতের বেশ কয়েকটি কলাগাছ আছে। দুটি গাছ কলার ভারে ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। তাই বাঁশের খুঁটি দিয়ে কাঁদির ভার থেকে গাছ দুটি রক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ২২ ছড়ি জাতের কলা দেখতে এলাকার অনেকেই কলাবাগানে এসে ভিড় করেন। এই কলাগাছগুলো সবরি কিংবা মেহের সাগর জাতের কলাগাছের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ লম্বা। হাসমত আলী জানান, তিনি চার-পাঁচ মাস আগে ভারতে এক আত্মীয়ের বাড়ি বেড়াতে গিয়ে এই জাতের কলার খোঁজ পান। ফেরার পথে নিয়ে আসেন বেশকিছু চারা। নিজের কলার বাগানের একপাশে সেই চারা রোপণ করেন। এখন একটি গাছে কম করে হলেও ৫০০ কলা ধরেছে। এক টাকা করে বিক্রি করলেও প্রতি গাছ থেকে ৫০০ টাকা আসবে।যা অন্য কলাগাছ থেকে পাওয়া সম্ভব নয়। আগামীতে তিনি ২২ ছড়ি জাতের কলার আবাদে জোর দেবেন বলেও জানান। মেহেরপুর সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জাহিদুল আমিন এই কলার চাষাবাদ প্রসঙ্গে বলেন, `মেহেরপুর অঞ্চলে এ জাতের কলা বাণিজ্যিক ভিত্তিতে চাষ হয় না, কেউ কেউ শখের বশে করেন। তবে বাণিজ্যিকভাবেও ২২ ছড়ি জাতের কলাচাষ খুবই লাভজনক। এই ধরনের কলার চাষ রাঙামাটি অঞ্চলে বেশি দেখা যায়। এ কলার প্রাপ্তি ও চাষ সম্পর্কে ডিবিএসের কৃষিবিদ সাজিদুর রহমান একুশে টেলিভিশন অনলাইনকে বলেন, মেহেরপুর ডিবিএস কার্যালয়ে এ কলার চারা পাওয়া যায়।চারা রোপনের ২০দিন আগে গর্ত খুড়ে রাখতে হবে।গর্তটি ৩ হাত বর্গের হতে হবে।গর্তের গভীরতা ২ হাত হতে হবে।গর্তের মধ্যে জৈব সারসহ অল্প রাসায়নিক সার (টিএসপি ও পটাশ) দিতে হবে। চারা লাগানোর ২০ দিন আগেই এ সার গর্তে প্রয়োগ করতে হবে।এরপর অন্যান্য গাছের মতো গরু-ছাগলে যাতে না খায়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।সর্বোশেষ ৮ থেকে ৯ মাসের মধ্যে ফলন পাওয়া যাবে।অর্থাৎ কলা পাকিয়ে ঘরে তুলতে প্রাই ১২ মাস লেগে যায়। সাজিদুর রহমান একুশে টেলিভিশন অনলাইনকে জানান, অল্পখরচে এ কলার চাষ সম্ভব বলে দিনদিন মেহেরপুরে এ কলার চাষ বাড়ছে। বর্তমানে মেহেরপুরে একশ’র বেশি বাড়িতে এ কলার চাষ হচ্ছে। আমাদের ভবিষৎ পরিকল্পনা বাংলাদেশ এগ্রিকালসার রিসার্স ইনস্টিটিউটের সহায়তায় সারা বিশ্বে এ কলার চাষ ছড়িয়ে দিব। আমরা এ কলার চাষে আগ্রহী অনেককেই পরামর্শ দেয়। চারা পেতেও সহায়তা করি। / এআর /

৯৪ বছর ধরে বিপ্লবের সাক্ষ্য হয়ে আছে লেনিনের মমি

রুশ বিপ্লবী, কমিউনিস্ট রাজনীতির পুরোধা ও সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রথম রাষ্ট্রপ্রধান ভ্লাদিমির লেনিন এখন থেকে প্রায় ৯৪ বছর আগে মারা যান। সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর প্রায় ২৫ বছর কেটে গেছে। মস্কোর রেড স্কয়ারের একটি মুসোলিয়ামে লেনিনের মমি করা মরদেহ আজও প্রদর্শন করা হচ্ছে দর্শনার্থীদের উদ্দেশ্যে। কমিউনিজমে বিশ্বাসী লাখো মানুষ প্রতিবছর লেনিনের মমিতে শ্রদ্ধা জানায়। তিনি তাদের কাছে সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের আইকন। লেনিনের মমি করা মরদেহ সমাধিস্থ করা হবে কিনা সে বিষয়ে রাশিয়ার রাজনীতিকরা আজও একমত হতে পারেননি। প্রদর্শনী থেকে তার মরদেহ সরানোর প্রশ্নে রুশ কর্তৃপক্ষ বরাবর-ই উদাসীনতা দেখিয়ে আসছে। প্রায় ৯৪ বছর ধরে লেনিনের লাশের সংরক্ষণ ছিল রাশিয়ার জন্য একটি বৈজ্ঞানিক চ্যালেঞ্জ। এ ক্ষেত্রে দেশটির কয়েক প্রজন্মের গবেষক ও বিজ্ঞানীরা নিয়োজিত রয়েছেন। লাশের সংরক্ষণ প্রক্রিয়ায় রয়েছে মস্কোর ইন্সটিটিউট অব মেডিসিনাল অ্যান্ড অ্যারোমেটিক প্লান্টসের বিজ্ঞানীদের একটি দল।মমি করার প্রক্রিয়ার বর্ণনা দিতে গিয়ে বিজ্ঞানীরা বলেন, মমি করার জন্য প্রথমে আমরা লাশের অভ্যন্তরীণ অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ফেলে দিই। এরপর এক ধরনের দ্রবণ দিয়ে শিরা-উপশিরাগুলো পূর্ণ করি এবং মাংস থেকে সব রক্ত বের করে ফেলি। তারপর লাশটি সাদা কাপড়ের ফাল দিয়ে জড়িয়ে মলমের মতো দ্রবণপূর্ণ একটি গ্লাসের বাথটাবে রাখা হয়। কক্ষের মধ্যে একটি নির্দিষ্ট তাপমাত্রা ও আদ্রতা রক্ষা করা হয়। এরপর শরীরের ভেতরে থাকা পানির জায়গায় ওই দ্রবণ পূর্ণ হয়। এ প্রক্রিয়া চলে ছয় মাস ধরে।বলশেভিক বিপ্লবের নায়ক ভ্লাদিমির লেনিন ১৯২৪ সালে মৃত্যুবরণ করেন। মারা যাওয়ার পর সোভিয়েত কর্তৃপক্ষ চাইল তার জন্য একটি স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করবে। স্মৃতিসৌধ নির্মাণের লক্ষ্যে শিল্পী নিয়োগের জন্য ওপেন টেন্ডার করা হয়। এতে বিজয়ী হন তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের খ্যাতনামা স্থপতি আলেক্সেই শ্যুসেভ। দীর্ঘ ছয় বছরের চেষ্টায় ১৯৩০ সালে স্মৃতিসৌধ নির্মাণের কাজ শেষ করেন শ্যুসেভ। ঠিক ক্রেমলিন ওয়ালের পাশেই অবস্থিত এই স্মৃতিসৌধটির একটি অংশ ১৯৪৫ সালে পুনরায় নির্মাণ করা হয়। যাতে রেড স্কয়ারের প্যারেডের সময় সোভিয়েত নেতারা সেখানে দাঁড়াতে পারেন। শ্যুসেভের পরিকল্পনা অনুযায়ী লেনিনের স্মৃতিসৌধ বড় ধরনের মেরামত ছাড়াই গত ৯৪ বছর ধরে টিকে আছে। এটি ইউনেস্কোর তালিকাভুক্ত অন্যতম স্মৃতিসৌধ হিসেবে স্বীকৃত। রেড স্কয়ারের এ সমাধিতে গত শতকের বিশের দশকের মাঝামাঝি থেকে শায়িত অবস্থায় রয়েছে লেনিনের মমি করা মরদেহ।প্রথমদিকে তার লাশ আসলে অস্থায়ীভাবে প্রদর্শনের কথা ছিল। কারণ মৃত্যুর আগে লেনিন নিজের মরদেহ সমাধিস্থ করার জন্য বলেছিলেন। কিন্তু সোভিয়েত নেতারা তার মরদেহ সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত নিলেন এবং তার স্মৃতিসৌধকে একটি বৃহৎ সোভিয়েত প্রতীকে পরিণত করেন।এই রুশ বিশেষজ্ঞরা বহু দেশের নেতার লাশ মমি করার বিষয়ে সহায়তা করেছেন। যেমন উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম ইল সাংয়ের লাশ, ১৯৬৯ সালে ভিয়েতনামের কমিউনিস্ট পার্টির নেতা হো চি মিনের লাশ, ১৯৭৯ সালে অ্যাঙ্গোলার রাষ্ট্রপতি আগোস্তিনো নেটোর লাশ ও আরও অনেকের।প্রত্যেক সপ্তাহেই বিজ্ঞানীরা লেনিনের মমি পরীক্ষা করে দেখেন। স্মৃতিসৌধের ভেতর একটি নির্দিষ্ট তাপমাত্রা ও আদ্রতায় এটা সংরক্ষণ করা আছে। মমিটি বিশেষ একটি কাচের ঘরে রাখা হয়েছে, যেটা লাশটিকে ব্যাকটেরিয়া ও পচে যাওয়া ও শুকিয়ে যাওয়া থেকে রক্ষা করে।লেনিনের মরদেহ মমি করার প্রযুক্তিটি রাশিয়ার একটি রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তার বিষয়। কোনো বিজ্ঞানীই এ গোপনীয়তা নিয়ে মুখ খোলেন না। তবে ওই বিজ্ঞানী দলের একজন পাভেল ফোমেঙ্কো ২০১১ সালে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম ইল সাংয়ের মৃত্যুর পর মমি করার প্রক্রিয়া ফাঁস করে দেন।এদিকে গত শতকের নব্বইয়ের দশকের শুরু থেকেই লেনিনের মরদেহ সমাধিস্থ করা নিয়ে বিতর্ক চলতে থাকে। অনেকেই মনে করেন, সোভিয়েত রাষ্ট্রের পতনের পর বলশেভিক নেতার লাশ সংরক্ষণ করা বা শেষকৃত্য না করে জনসমক্ষে প্রদর্শন কোনো কাজের কথা নয়। আবার যারা মুসোলিয়ামের পক্ষে, তারা বলেন, মুসোলিয়ামের যে জায়গায় দেহ রাখা হয়েছে, সেই জায়গাটি মাটির নিচেই। সুতরাং কবরের নিয়ম অনুযায়ী কোনো রকমের নিয়মভঙ্গ করা হয়নি। সমাজের একাংশের মতে, যারা কমিউনিজমের আদর্শে বিশ্বাসী, তাদের কাছে লেনিনকে কবর দেওয়ার প্রশ্ন খুবই বেদনাদায়ক।সূত্র : এএফপি।/ এআর /

নিওম : মরুর বুকে স্বপ্নের শহর

২৫ হাজার বর্গকিলোমিটারের একটি শহর, গোটা বিশ্বের প্রযুক্তি গবেষণার রাজধানী, সামাজিক বিধিনিষেধ থেকে মুক্ত, ট্রাফিক মুক্ত, পুরোপুরি অপ্রচলিত শক্তিচালিত। এর নাম হবে নিওম। অবস্থান মরুময় সৌদিতে। নিওম হবে ভবিষ্যৎ পৃথিবীর `স্বপ্নদ্রষ্টা`দের শহর।  `নিওম` নামের শহরটি কীভাবে গড়ে উঠবে, গোটা বিশ্বকে সে সম্পর্কে একটা ধারণা দিতে কিছু প্রমোশনাল ভিডিও প্রকাশ করেছে সৌদি আরব। আর ইউটিউবে ঝড় তুলে দিয়েছে নিওমের সেসব ভিডিও। নিওম শহরে উত্তর-আধুনিক পৃথিবীর স্বপ্ন দেখাচ্ছেন মুহাম্মদ বিন সালমান। প্রমোশনাল ভিডিওতে সৌদি আরবের প্রতিশ্রুতি, `নো রেস্ট্রিকশন, নো ডিভিশন, নো এক্সকিউজেস; এন্ডলেস পটেনশিয়ালস।`অর্থাৎ, কোনো বিধিনিষেধ নয়, কোনো বিভাজন নয়, কোনো অজুহাতও নয়; শুধু নিযুত সম্ভাবনার শহর হতে চলেছে নিওম। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, হিজাবহীন নারীদের ছোট পোশাক পরে শরীরচর্চা করতে। পুরুষের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে দেখা যাচ্ছে তাদের।আজকের পৃথিবী সৌদি আরবকে চূড়ান্ত রক্ষণশীল দেশ হিসেবেই চেনে। তেমন এক দেশে নিওমের মতো উত্তর-আধুনিক শহর গড়তে চান যুবরাজ সালমান। যেখানে কোনো বিধিনিষেধ বা বিভাজন থাকবে না বলে রিয়াদ আশ্বাস দিচ্ছে।সম্প্রতি সারা বিশ্বের শিল্পপতিদের ডেকে যুবরাজ সালমান জানিয়েছেন, তেলনির্ভরতা থেকে ক্রমশ অপ্রচলিত শক্তির দিকে সরতে চাইছে সৌদি আরব। সৌদি অর্থনীতি পেট্রোলিয়াম নির্ভরশীলতাও কিছুটা কমাতে চায়। সব মিলিয়েই নিওম সুপারসিটির ভাবনা। গোটা বিশ্বের প্রযুক্তি গবেষণার রাজধানী হিসেবে নিওমকে গড়ে তুলতে চাইছে দেশটি। ৫০ হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগ ধরা হয়েছে। সরকারি বিনিয়োগ থাকবে। বেসরকারি তথা আন্তর্জাতিক বিনিয়োগও চাওয়া হচ্ছে। সেই কারণেই বিধিনিষেধ মুক্ত উত্তর আধুনিক এক সমাজের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হচ্ছে। সালমানের ভাষ্য, এই শহরটা প্রথাগত মানুষ বা প্রথাগত সংস্থাগুলির জন্য নয়। মানবসভ্যতাকে পরবর্তী ধাপে পৌঁছে দেওয়ার স্বপ্ন দেখেন যাঁরা, তাঁদের জন্যই নিওম-কে গড়ে তুলতে চলেছে সৌদি আরব, জানিয়েছেন যুবরাজ।সূত্র : আল জাজিরা। নিযুত সম্ভাবনার শহরটি কেমন হবে সেটি দেখতে ভিডিওতে ক্লিক করুণ- / এআর /

এক টুকরো ‘ভূস্বর্গ’

মাঝেমাঝে স্বর্গটাকে খুব কাছাকাছি মনে হয়। বিশেষ করে মিশরের মতো পুরাতত্ত্ব নিদর্শনে ভরপুর একটি দেশে গেলে মনে হবে স্বর্গে চলে এসেছি। বিশেষ করে এর উপকূলের কাছে এলাকাগুলো দেখলে যেকোনো পর্যটকরা থমকে যান। অঞ্চলটা যেন একটি রিসোর্ট শহর। সারাবছর অসংখ্য পর্যটক ভীড় জমান মিশরে। পর্যটকদের কথা বিবেচনা করে অধিকাংশ ক্ষেত্রে রিসোর্টগুলো সৈকতের আশপাশে গড়ে তোলা হয়েছে এখানে। যাতে স্বল্প খরচে থাকার সুবিধা পান পর্যটকরা। হারাগাদা, শার্ম এল শেখ শহরের কথাই বলা যাক। এসব স্থানে কম খরচে থাকা যাবে। অন্যদিকে, এল গোনা, আইন এল সোখনা এবং নর্থ কোস্টে বিলাসী পর্যটনের ব্যবস্থাও আছে। গুস্টোর সৈকতও অসাধারণ এক স্থান। এখানে দাঁড়ালে চোখের সামনে অপরূপ সব দৃশ্য ঘোরাফেরা করতে থাকবে। এমনকি সৈকতের সাদা ছাতাগুলোও অসম্ভব সুন্দর লাগে দেখতে। অসম্ভব ভালো কাটবে দুপুরটা । ব্যাপক আয়োজন চলে এসব সৈকতে। একবার গেলে বুঝতে পারবেন মিশরীয়রা কতটা আনন্দ করতে পারে।  এরপর আসা যাক সাল হাশিশের কথায়। অসম্ভব সুন্দর এক জায়গা সাল হাশিশ। সাল হাশিশে গেলে দুই চোখ জুড়িয়ে যাবে। সাগরে বিশাল একটা অংশ চোখের সামনে ভেসে থাকবে। বিনোদনের অনেক ব্যবস্থা রয়েছে এখানে। এখানে দেখতে পারবেন রাস্টিক হর্স ক্লাবের ঘোড়া, বানর এবং উঁটের আস্তাবল। সাল হাশিশে কয়েকটা দিন থাকার পর এই স্মৃতি বাকি জীবন বয়ে বেড়াতে পারবেন। অনাবিল প্রশান্তি নিয়ে বাড়ি ফেরেন এখানে  ঘুরতে আসা পর্যটকরা। সূত্র : ঈজিপশিয়ান স্ট্রিটএমআর/এআর

বিশ্বের ডুবে যাওয়া কয়েকটি দর্শনীয় স্থান

বিশ্বে এমন অনেক এলাকা রয়েছে যেগুলোতে বাঁধ দেওয়ার ফলে পুরো গ্রাম বা আংশিক ডুবে গেছে। সেসব এলাকা ডুবলেও এখনও তার স্মৃতি বহন করছে কিছু স্থাপনা। স্থাপনাগুলো এখন পরিণত হয়েছে দর্শনীয় স্থানে। যেখানে হাজারে পর্যটকের আনাগোনা হয় এখন। এমনই কিছু দর্শনীয় গ্রাম তুলে ধরা হলো, যেগুলো বাঁধের পানিতে ডুবে যায় এক সময়- এডার হ্রদের সেতু: ১৯১৪ সালে এডারজে বা এডার হ্রদে বাঁধ দেওয়ার সময় তিনটি গ্রাম পুরোপুরি ডুবে যায়৷ গ্রামগুলো জার্মানির হেসে রাজ্যে অবস্থিত। সাম্প্রতিক সময়ের এক গ্রীষ্মে পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হওয়ায় হ্রদের পানি নেমে ডুবে যাওয়া আজেল গ্রামের পুরনো সেতুটি বেরিয়ে আসে। রেশেন হ্রদের গির্জা: ইটালির দক্ষিণ টিরোল এলাকার রেশেনজে বা রেশেন হ্রদটি হলো চতুর্দশ শতাব্দীর সেন্ট ক্যাথারিন গির্জার ঘণ্টাঘর ৷ ১৯৫০ সালে গ্রাউন গ্রামটি বাঁধের পানিতে ডুবে যায়। বাঁধের পানি ছাড়ার আগেই গ্রামবাসীদের অন্যত্র যাওয়ার জন্য তিন বছর সময় দেওয়া হয়েছিল ৷ সম্পতি পানির মধ্য থেকে গির্জার চুড়াটি বেরিয়ে আসে। কেচুলার গির্জা: মেক্সিকোর চিয়াপাস অঞ্চলে মালপাসোর বাঁধটির সঙ্গে যুক্ত রয়েছে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম জলাধার ৷ এখানে ষাটের দশক থেকে জলবিদ্যুৎ উৎপন্ন হচ্ছে। কিন্তু চরম খরার ফলে ২০১৫ সালে ‘সান্তিয়াগোর মন্দির’ নামে পরিচিত ৪০০ বছরের পুরানো গির্জাটি আবার ভেসে ওঠে। গেয়ামানা গ্রাম: রোমানিয়ার পরিত্যক্ত আপুসেনি পর্বতাঞ্চলের গেয়ামানা গ্রামে এককালে হাজার মানুষের বাস ছিল৷ সত্তরের দশকে গ্রামটির কাছেই একটি তামার খনি চালু হয়। পরে উপত্যকাটি খনির রাসায়নিক ও অন্যান্য বর্জ্য ফেলায় গ্রামটিও সেই বিষাক্ত কাদায় ঢেকে যায় ৷ রুংহল্ট গ্রাম: রুংহল্ট গ্রামটিকে উত্তর সাগরের ‘অ্যাটলান্টিস’ বা হারানো মহাদেশ বলা হয়। চতুর্দশ শতাব্দীতে সাগরের বন্যা এসে প্রায় ৩০টি গ্রামকে ডুবিয়ে দিয়েছিল। এর মধ্যে সমৃদ্ধ রুংহল্ট গ্রামটিও ছিল৷ একক প্রহরী: স্পেনের এব্রো নদীর বাঁধের জলে স্মৃতিসৌধের মতো এখনও জেগে রয়েছে গির্জার চুড়াটি। যাটের দশকে বার্সেলোনা শহরে বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য তিনটি জলাধার সৃষ্টি করা হয়৷ এতে ডুবে যায় গির্জাটি। এখন সৌখিন মৎস্যশিকারিরা সেই হারানো গ্রামের গির্জার ঘণ্টাঘরের কাছে ছিপ ফেলেন ৷ খনি থেকে বিপর্যয়: জার্মানির স্যাক্সনি-আনহাল্ট রাজ্যে কয়লাখনির পরিধি বাড়ানোর প্রয়োজনে নাখেটয়ারস্টেট গ্রামটিকে ধীরে ধীরে প্রায় দেড় কিলোমিটার দূরে সরে যেতে হয় ৷ পরে খনি বন্ধ হলে খনির খোলা খাদে পানি দিয়ে একটি মনোরম হ্রদ সৃষ্টি করা হয় ৷ ২০০৯ সালে নাখেটয়ারস্টেট গ্রামের একাংশ ধসে পড়ে প্রাণ হারাণ তিনজন মানুষ৷ কালিয়াশিন গ্রামের গির্জা: ১৯৪০ সালে মস্কোর ১৫০ কিলোমিটার উত্তরে ভলগা নদীর উপর বাঁধ দিয়ে জলাধারটি সৃষ্টি করা হয়। জলধারাটির দৈর্ঘ্য ছিল ১৪০ কিলোমিটার লম্বা ৷ পাঁচ কিলোমিটার প্রস্থের এই হ্রদের পানির গভীরতা ক্ষেত্রবিশেষে প্রায় ১০০ মিটার৷ বাঁধ তৈরির সময় কালিয়াশিন গ্রামটি ডুবে যায়। গ্রামটি ডুবে গেলেও ১৮০১ সালে নির্মিত নিকোলাই গির্জার ঘণ্টাঘরটি আজও মাথা তুলে রয়েছে৷  সূত্র : ডয়েচে ভেলে। আর/এআর

© ২০১৭ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি