ঢাকা, বুধবার, ২৫ এপ্রিল, ২০১৮ ১৪:৫০:৪৬

যে কারণে নারী কথায় কথায় কাঁদে!

যে কারণে নারী কথায় কথায় কাঁদে!

নারীকে মনে করা হয় সৌন্দর্য্যের প্রতীক। কোমলতা আর নরম মনের অধিকারী তারা। তাই তাদের সারাজীবন শুনতে হয়, ‘মেয়েরা নাকি কথায় কথায় কাঁদে’। নেদারল্যান্ডসের টিনবুর্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবং ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট অ্যাড ভিঙ্গারহোয়েটস-এর এক গবেষণাতেও একই তথ্য দিচ্ছেন। গবেষণায় তিনি সাত দেশের ৫ হাজার মেয়ের সঙ্গে কথা বলেছেন। তিনি জানান, মেয়েরা বছরে ৩০ থেকে ৬৪ বার অশ্রুপাত করেন। আর ছেলেদের ক্ষেত্রে এর পরিমাণ ৬ থেকে ১৭ বার। গবেষণায় দেখা গেছে, মেয়েদের কান্নার সময়কালও বেশি। তাদের কান্না গড়ে ছয় মিনিট ধরে স্থায়ী হয়। অপরদিকে পুরুষের কান্না দুই থেকে তিন মিনিট। কান্নার উপর অধ্যাপক অ্যাড ভিঙ্গারহোয়েটস ‘হোয়াই অনলি হিউম্যানস উইপ: আনর‌্যাভেলিং দ্যা মিস্ট্রিজ অফ টিয়ারস’ নামের একটি বইও রয়েছে।   আর
হোটেলের খাবার প্লেট থেকে কমোড যখন স্বর্ণ!

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের হোটেলগুলো সেবাগ্রহীতাদের নানা ধরনের সুযোগ-সুবিধা দিয়ে থাকে। তবে ভিয়েতনামের দানাং গোল্ডেন বে ফাইভ স্টার হোটেলটি এদিক দিয়ে অন্যদের থেকে ব্যতিক্রম। হোটেলটি তার গোল্ড প্লেটেড রুম এবং অ্যাপার্টমেন্টের জন্য ইতিমধ্যে জনপ্রিয়তার শীর্ষে। হোটেল কর্তৃপক্ষের দাবি, দানাং এলাকার প্রথম গোল্ড প্লেটেড হোটেল এটি। তাদের খাবার খাওয়ার প্লেট, বাটি, চামচ ও কাপ সবই গোল্ড প্লেটেড। হোটেলের ২৮তম তলায় অবস্থিত প্রেসিডেন্ট স্যুটটিতে রয়েছে আরো বেশি স্বর্ণ। এর বাথরুমে রয়েছে গোল্ড প্লেটেড কমোড, স্বর্ণের বাথটাব এবং বেসিন। দানাং গোল্ডেন বে’র মতোই আরো একটি হোটেল হলো দুবাইয়ের বুর্জ আল আরব জুমেইরাহ। কৃত্রিম দ্বীপে অবস্থিত বুর্জ আল আরব জুমেইরাহ’র রয়াল স্যুটের বেশিরভাগটাই তৈরি স্বর্ণ এবং মার্বেল দিয়ে। হোটেলে থাকা প্রতি অতিথি পান ২৪ ক্যারেট স্বর্ণের একটি আইপড।  ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস   আর

কংকাল থেকে সিপাহি বিদ্রোহের অজানা অধ্যায়

২০১৪ সালে লন্ডনের মাইল এন্ডে নিজের অফিস কক্ষে বসে কাজ করার সময় একটি ইমেইল পান ইতিহাসবিদ কিম ওয়াগনার, যেখানে এক দম্পতি লিখেছেন যে তাদের কাছে কংকালের মাথার খুলি আছে। কিন্তু সেটি তারা বাড়িতে রাখতে চান না আর বুঝতেও পারছেন না তাদের কী করা উচিত। কংকালের বাকি অংশ নেই। কয়েকটি দাঁতও ছুটে গেছে। কিন্তু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তার সঙ্গে থাকা কাগজটি। সেখানে একটি নোটে এই খুলির পরিচয় লেখা রয়েছে। এই খুলিটি হাবিলদার আলম বেগের। তিনি ৪৬ বেঙ্গল নর্থ ইনফ্যান্ট্রি রেজিমেন্টের একজন ছিলেন, যে তার রেজিমেন্টের আরও কয়েকজনের সঙ্গে বন্দুকের গুলিতে নিহত হন। তিনি ছিলেন ১৮৫৭ সালের সিপাহী বিদ্রোহের অন্যতম প্রধান নেতা। হাবিলদার আলম বেগ একটি ছোট দল নিয়ে কেল্লার দিকে যাওয়ার রাস্তা দখল করেন, যেখান থেকে ইউরোপিয়ানরা নিরাপদে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। তিনি ঘোড়ার গাড়িতে অতর্কিত হামলা করে কন্যার সামনেই ড. গ্রাহামকে হত্যা করেন। তার পরবর্তী শিকার ছিল রেভারেন্ড হান্টার, একজন মিশনারি, যিনি তার স্ত্রী আর কন্যার সঙ্গে পালাচ্ছিলেন। ড. হান্টারকে হত্যার পর তিনি তার স্ত্রী আর কন্যাকেও চরম নির্যাতন করে জবাই করে হত্যা করেন। আলম বেগের বয়স ছিল ৩২ বছর, ৫ ফিট সাড়ে ৭ ইঞ্চি লম্বা আর কোন ভাবেই স্থানীয়দের মতো ছিল না। এই খুলি ক্যাপ্টেন (এআর) কোস্টেলো দেশে নিয়ে আসেন, যিনি আলম বেগের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় উপস্থিত ছিলেন। এই নোট থেকে যেটি পরিষ্কার যে, এই খুলিটি আলম বেগ নামের একজন ভারতীয় বিদ্রোহী সেনার, যিনি বেঙ্গল রেজিমেন্টে কাজ করতেন আর ১৮৫৮ সালে পাঞ্জাবের কামানের মুখে বেধে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। যিনি নোটটি লিখেছেন, তিনিই খুলিটি ইংল্যান্ডে নিয়ে আসেন। কিন্তু কেন আলম বেগ অভিযোগ করা হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছিলেন, সে বিষয়ে নোটে কিছু বলা নেই। কার্তুজে মাখানো পশুর চর্বি ব্যবহার করলে তা ধর্মবিরোধী হবে, এই কারণে ১৯৫৭ সালে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে স্থানীয় হিন্দু আর মুসলিম সেনারা। এর আগে পরে মিলিয়ে ব্রিটিশরা প্রায় দুইশ বছর ভারত শাসন করেছে। ওই দম্পতি এই কংকাল খুলির বিষয়ে, আলম বেগের ইন্টারনেটে যথেষ্ট খোঁজাখুঁজি করেন। কিন্তু সেখানে কিছু না পেয়ে এই অধ্যাপকের শরণাপন্ন হন। এরপর নভেম্বর মাসের একদিনে এই দম্পতির সঙ্গে দেখা হয় অধ্যাপক ওয়াগনারের। তারা জানান, পারিবারিক উত্তরাধিকার সূত্রে তারা এই কংকাল খুলির মালিক হয়েছেন। তাদের একজন আত্মীয় কেন্টে একটি ছোট পাব কিনেছিলেন এবং তখন সেখানে একটি রুমে পুরনো বাক্স পেটরার মধ্যে এই খুলিটি পান। কেউ জানতো না পাবে কিভাবে খুলিটি এসেছে। কিছুদিন সেটা পাবের মানুষজনকে দেখার জন্য সাজিয়ে রাখা হয়। ওই দোকানের মালিক মারা যাওয়ার পর নানা হাত ঘুরে খুলিটি এই দম্পতির হাতে আসে। এরপর ওই খুলির অতীত খুঁজে বের করার কাজে নামেন ড. ওয়াগনার। প্রথমে তাকে নিশ্চিত হতে হবে যে, খুলিটির সঙ্গে ইতিহাসের সত্যিই কোন যোগাযোগ আছে। এজন্য তিনি লন্ডনের ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়ামের শরণাপন্ন হন। একজন বিশেষজ্ঞ পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে মতামত দেন যে, এটা মধ্য উনিশ শতকের এশিয়ান কোন যুবকের মাথার খুলি। যার বয়স হতে পারে ত্রিশের কোঠায়। কংকাল খুলি দেখে অবশ্য কিভাবে তিনি মারা গেছেন সেটা বোঝার উপায় নেই। কামানের গোলায় মারা গেলে সেটা অস্বাভাবিকও নয়। ড. ওয়াগনার আশা করেননি যিনি তিনি এই ব্যক্তির সম্পর্কে খুব তাড়াতাড়ি কিছু জানতে পারবেন। কারণ সাধারণত ছোট সেনাদের বিষয়ে খুব একটা নথিপত্র থাকে না। ব্রিটেন বা ভারতের আর্কাইভে বহু খুঁজেও বেগের নাম কোন কাগজপত্র, প্রতিবেদন, চিঠি বা স্মরণিকায় পাওয়া গেলো না। তবে এখানে কিছু সূত্রের দেখা পেলেন ড. ওয়াগনার। আলম বেগ যাদের হত্যা করেছিলেন বলে বলা হয়েছে, তাদের পরিবারের কিছু চিঠি পত্র পেলেন ড. ওয়াগনার। সেখানে অ্যান্ড্রু গর্ডন নামের একজনের কথা জানা গেলো, যিনি নিহত ডা. গ্রাহাম আর হান্টারকে জানতেন আর বেগের মৃত্যুদণ্ডের সময় উপস্থিত ছিলেন। এসব তথ্যকে সূত্র ধরে অনুসন্ধান শুরু করেন ড. ওয়াগনার। লন্ডন আর দিল্লির আর্কাইভ ঘাটতে শুরু করেন। এখনকার পাকিস্তানের শিয়ালকোট থেকে চারদিনের দূরত্বে, দেড়শ বছর আগের সেই যুদ্ধক্ষেত্রও তিনি খুঁজে বের করেন, যেখানে আলম বেগ ব্রিটিশদের সঙ্গে লড়াইয়ে হেরে যান। সেই বিদ্রোহের বইপত্র, চিঠি, পিটিশন, বিবৃতি ঘাটাঘাটি শেষ করে অবশেষ আল বেগের বিষয়ে এই উপসংহারে পৌছাতে পারেন ড. ওয়াগনার। সেই বর্ণনা নিয়ে তিনি আলম বেগের খুলি নামের একটি বইও লিখছেন। আসলে তার সত্যিকার নাম আলিম বেগ, যিনি ছিলেন উত্তর ভারতের একজন সুন্নি মুসলমান। বর্তমান উত্তর প্রদেশের কানপুরে বেঙ্গল রেজিমেন্টটি গঠিত হয়েছিল। আলিম বেগও সেই এলাকা থেকে এসেছেন বলে ধারণা করা হয়। তিনি ছোট একটি সেনা বাহিনীর দায়িত্বে ছিলেন। যাদের কাজ ছিল ক্যাম্প পাহারা দেওয়া, চিঠিপত্র বহন করা, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের চাপরাশি হিসাবে কাজ করা। যিনি ওই খুলিটি ব্রিটেনে এনেছিলেন, তার পরিচয় পাওয়া গেছে ক্যাপ্টেন রবার্ট জর্জ কোস্টেলো। আয়ারল্যান্ডের জন্ম এবং ১৯৫৭ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিতে চাকরি নিয়ে ভারতে যান। এর দশ মাস পরে তিনি অবসর গ্রহণ করেন। ড. ওয়াগনার বলছেন, আমার গবেষণার চূড়ান্ত লক্ষ্য হচ্ছে, আলিম বেগকে আবার ভারতে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া, যদি সম্ভব হয়। এখনও এই কংকাল খুলির জন্য কোন দাবি আসেনি। তবে ভারতের নানা প্রতিষ্ঠান আর ভারতে ব্রিটিশ হাই কমিশনের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছেন ড. ওয়াগনার। তিনি বলেন, আমি চাই না, আলিম বেগের এই মাথার খুলি কোন রাজনৈতিক ইস্যু হোক বা কোন মিউজিয়ামের কাচের বক্সে শোভা পাক, অথবা কোন বাক্সে পড়ে থাকুক। আমি চাই, আলিম বেগ তার দেশে ফেরত যাক আর সম্মানের সঙ্গে তার দেশের মাটিতেই শুয়ে থাকুক। তিনি মনে করেন, আলিম বেগের কবর হওয়া উচিত রাভী নদীর মাঝের ছোট দ্বীপে, যেখানে তিনি আর সঙ্গের সেনারা ব্রিটিশদের সঙ্গে যুদ্ধে হেরে যাওয়ার পর আশ্রয় নিয়েছিলেন। এখন সেই দ্বীপটি ভারত আর পাকিস্তানের সীমান্ত। সুতরাং, আলিম বেগের চূড়ান্ত অধ্যায় লেখার এখনও কিছু বাকি রয়ে গেছে। সূত্র: বিবিসি একে//

আজও অজানা যেসব সত্য

অতীতের এমন উল্লেখযোগ্য ঘটনা রয়েছে যা ইতিহাসের পাতায় ঠাঁই নেয়। যা পরবর্তী প্রজন্মের জন্য জ্ঞানের খোরাক যোগায়। কিন্তু কোনো কোনো ইতিহাস বিকৃতি হয়, কিছু অংশ ঢাকাও পড়ে। তবে ভবিষ্যতে কোনো না কোনোভাবে সেই সত্যের কিছুটা সামনেও আসে। এ ঘটনা মানুষকে অবাক করে দেয়। ঢাকা পড়ে যাওয়া এমনই কিছু ইতিহাসের অজানা দিক জেনেনিন- সবচেয়ে বড় ও জীবন্ত ছত্রাক বিশ্বের সবচেয়ে বড় এবং জীবন্ত ছত্রাক রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ওরেগন রাজ্যের ম্যালহর ন্যাশনাল ফরেস্টে। বড় বড় উদ্ভিদের জন্য বিখ্যাত এই উদ্যানটি। চিকিৎসায় হিরোইন ভয়ঙ্কর মাদক নেশা হিসেবে হিরোইন’ পরিচিত থাকলেও একসময় এটি রুগীদের ওষুধ হিসেবে ব্যবহার হত। বিশেষ করে কাশি এবং মাথা ব্যথার জন্য চিকিৎসকরা একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ হেরোইন ব্যবহারের পরামর্শ দিতেন। আলবার্ট আইনস্টাইন বিজ্ঞানী আলবার্ট আইনস্টাইন ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট হতে পারতেন। কিন্তু স্বাধীন ফিলিস্তিন ভূখণ্ড দখল করার পর ইসরায়েল যখন রাষ্ট্র গঠন করে ঠিক তার কিছু পরই ইহলোকে বর্তমান এই বিখ্যাত পদার্থ বিজ্ঞানী। ইহুদি রাষ্ট্রের প্রথম প্রেসিডেন্ট উইজমানের মৃত্যুর পর নেতা কে হবেন এমন প্রশ্ন যখন সামনে চলে আসে তখন অনেকেই আলবার্ট আইনস্টাইনকে ওই পদে বহাল করার পক্ষে মত দেন। সেই মোতাবেক ইসরায়েলের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ডেভিড বেন প্রস্তাব হিসেবে আইনস্টাইনকে একটি চিঠি লেখে পাঠান। চিঠিতে অনুরোধ করেন ইহুদি রাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হওয়ার জন্য। কিন্তু ইহুদি পরিবারে বেড়ে ওঠা বিজ্ঞানী আইনস্টাইন অত্যন্ত বিনয়ের সাথে সেই প্রস্তাব ফিরিয়ে দেন। বিশ্বের চোখে মহান এই বিজ্ঞানী বিতর্কিতেএকটি রাষ্ট্রের সাথে নিজেকে জড়াতে চাননি। ডেভিড বেনের চিঠির উত্তরে নিজেকে অযোগ্য প্রার্থী উল্লেখ করে ইঙ্গিতেই বিষয়টি বুঝিয়ে দেন তিনি। দাঁত থাকতে যারা তার মর্যাদা দেন না যারা দাঁত থাকতে তার মর্যাদা দেন না তাদের জানা দরকার এই চিকিৎসা যখন শুরু হয় তখন কিন্তু এত সুযোগ সুবিধা ছিল না। আসল দাঁতের বদলে কৃত্রিম দাঁত লাগানো তখনও আবিষ্কার হয়নি। সেই অভাব পূরণ করতে তাই ব্যবহার করা হতো আসল দাঁত। এখন মানুষ যেমন চোখ, কিডনি দান কিংবা বিক্রি করেন, ওই সময়ও দাঁত বিক্রি বা দান করার প্রচলন ছিল। তাছাড়া দাঁতের চাহিদা মেটানোর জন্য আরো একটি পথ খোলা ছিল। সেটি হলো মৃত সৈনিক। যুদ্ধক্ষেত্রে পক্ষের বা বিপক্ষের কোনো সেনা মৃত্যুবরণ করলে তাদের দাঁত খুলে রাখা হতো।   জোসেফ স্টালিন এক সময়ের রুশ শাসক জোসেফ স্টালিন ছবির ব্যাপারে অদ্ভুত মনোভাবের পরিচয় দিতেন। তার কার্যালয়ে  তিনি কর্মীদের সাথে ছবি তুলতেন। কিন্তু যখন তাদের মধ্যে কেউ মারা যেতেন কিংবা পদচ্যুত হতেন, তখন সেই ছবি থেকে তাকে মুছে ফেলতে আদেশ দিতেন তিনি। এর ফলে দেখা যেত ছবিতে থাকা তার সঙ্গীরা একে একে মিলিয়ে গেছেন, বাকি রয়েছেন একমাত্র তিনিই। কালের আবর্তনে তিনিও একদিন হারিয়ে গেছেন! চীনের নারীরা পা সুন্দর রাখতে যা করতেন অতীতে চীনের নারীরা তাদের পা’কে সুন্দর রাখতে অদ্ভুত কাণ্ড করতেন। ছোটবেলা থেকেই কন্যা শিশুদের ছোট মাপের লোহার জুতো পরিয়ে দিতেন। যার কারণে শারীরিক বৃদ্ধি ঘটলেও তাদের পায়ের পাতা বৃদ্ধি পেত না। এজন্যে নারীদের প্রচণ্ড যন্ত্রণা সহ্য করতে হতো। কিন্তু সৌন্দর্যের কথা ভেবে সেই বেদনা সহ্য করে নিত চীনের মেয়েরা।   আর

কিভাবে বুজবেন আপনি সফল?

সাফল্য শুধু অর্থ ক্ষমতা শক্তি বা খ্যাতির নাম নয়। আসলে সাফল্যের মাপকাটি করা দূরহ ব্যাপার। এটা বিভিন্ন জনের কাছে বিভিন্ন রকম হয়ে থাকে। সাফল্য হচ্ছে জীবনের এমন এক অবস্থান যেখানে পৌঁছে আপনার মনে হবে, আপনার বেঁচে থাকাটা সার্থক হয়েছে এমনটা অনেকেই মনে করে থাকেন। মনে হবে, নিজের মেধার কিছুটা হলেও প্রকাশ ঘটাতে পেরেছেন। নিজের এবং মানুষের কিছু হলেও কল্যাণ করতে পেরেছেন। যখন আপনি তৃপ্তির সঙ্গে চোখ বন্ধ করে বলতে পারবেন-আমার যা কিছু করার ছিল করেছি, যা কিছু দেখার ছিল দেখেছি, যা কিছু বলার ছিল বলেছি। আর তখনই বলা যাবে, আপনি একজন সফল মানুষ। একই সঙ্গে সাফল্যকে আমরা বলতে পারি এমন একটা অনুভূতি, মেধা-ক্ষমতা এবং দক্ষতার এমন এক পাওয়ায় রূপান্তরিত হওয়ার প্রক্রিয়ায় প্রবেশ করে। আপনি যা চাচ্ছেন, এই মুহূর্তে আপনি সেটা না-ও পেতে পারেন, কিন্তু পাওয়ার প্রক্রিয়ায় তা প্রবেশ করেছে এবং আজ হোক, কাল হোক তা আপনি পাবেনই। আর নিজের চাওয়াকে পাওয়ায় রূপান্তরিত করার পাশাপাশি আরও বহু মানুষের চাওয়াকে পাওয়ায় রূপান্তরিত করতে সাহায্য করতে পারবেন তখন। আসলে সাফল্যের ধরন অনেক। মানসিক সাফল্য হলো প্রশান্তি, শারীরিক সাফল্য সুস্বাস্থ্য আর আর্থিক সাফল্য হচ্ছে সচ্ছলতা। আত্মিক সাফল্য হচ্ছে আত্ম উপলব্ধি। অর্থবিত্ত, খ্যাতি-সম্মান, প্রভাব-প্রতিপত্তি সাফল্যের একেকটি উপকরণ হলেও এককভাবে এগুলো কোনোটাই সাফল্য নয়। সাফল্য মানে অভাববোধের অনুপস্থিতি। সাফল্য এক বিরামহীন প্রক্রিয়া। সফল তিনিই যিনি আপাত ব্যর্থতার ছাই থেকে গড়ে নিতে পারেন নতুন প্রাসাদ। প্রতিটি অর্জনকেই মনে করেন নতুন শুরুর ভিত্তি। প্রতিটি অর্জন শেষে শুরু করেন আরও বড় অর্জনের অভিযাত্রা।   এমএইচ/এসএইচ/

সবুজ পানির নিচে রেস্তোরাঁ!

পানির নিচে রেস্তোরাঁ। ভাবতেই না কেমন লাগে। চারদিকে সবুজ নির্মল পরিবেশ। শীতল পানির ঢেউ। যেন সবুজরাজ্য। এমন পরিবেশে প্রিয়জনকে সঙ্গে নিয়ে গরম কফিতে চুমুক দিয়ে চোখে চোখ রেখে দীর্ঘক্ষণ তাকিয়ে থাকা। কিছুটা খুঁনসুটি। প্রেমের সাগরে হাবুডুবু খেলা। ভাবতে ভালো লাগছে না!  তবে এগুলো এবার শুধু আর ভাবনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। ভাবনার রাজ্যে উকি দিচ্ছে বাস্তবতা। আর বাস্তবে রূপ দিতে চলেছে ইউরোপের দেশ নরওয়ে। পানির নিচে `আন্ডার` নামে এই রেস্তোরাঁ দক্ষিণ নরওয়ের লিনডেসনেসে আগামী বছরের শুরুতে যাত্রা শুরু করবে। এটিকে বলা হচ্ছে ইউরোপের প্রথম আন্ডার ওয়াটার রেস্টুরেন্ট বা পানির নিচের প্রথম রেস্তোরাঁ। সামুদ্রিক পরিবেশে এর কাঠামোটি বানানো হবে কংক্রিট দিয়ে। রেস্তোরাঁর ৩৬ ফুট জানালা নানা দৃশ্য দিয়ে সাজানো থাকবে, দেয়াল থাকবে পুরু। আর এখানে অন্য খাবারের চেয়ে সামুদ্রিক খাবারগুলো একটু বেশিই প্রাধান্য পাবে।ব্যতিক্রমী এ চিন্তার বাস্তবায়ন করছে নরওয়ের স্থাপত্যবিষয়ক প্রতিষ্ঠান স্নোহেট্টা। প্রতিষ্ঠানটি দেশের পাশাপাশি বিদেশে চোখ ধাঁধানো কাজ করে এরই মধ্যে সুনাম কুড়িয়েছে। রেস্তোরাঁর এই ভবন এমনভাবে গড়ে তোলা হয়েছে, যাকে বলাই যায় `একের ভেতর দুই`। কেননা, পানির ওপরের একটি কাঠামোর মধ্য দিয়ে হেঁটে পানির নিচে কাঠামোতে চলে যাওয়া যাবে। নিখুঁত কারুকার্যের মাধ্যমে এ দুই অংশের মেলবন্ধন ঘটিয়েছে নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি। এটি এখানে আসা মানুষের জীবনে একটি ভিন্নমাত্রার অভিজ্ঞতা যোগ করবে বলে জানিয়েছেন স্নোহেট্টার এই প্রকল্পের প্রধান স্থপতি রুনে গ্র্যাসদাল।রেস্তোরাঁর প্রধান রাঁধুনি নিকোলাই এলিটসগার্ড জানিয়েছেন, তারা মৌসুম অনুযায়ী খাবার সরবরাহের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছেন। এর মধ্যে গরমকালে স্থানীয় সবজি, শীতে মাশরুম আর বাদাম এবং বছরব্যাপী সরবরাহ করা হবে মাছ।সূত্র : ডয়েচে ভেলে।/ এআর /

আমাজনের গোলাকার কাঁচঘর

আমাজানের কর্মীরা যখন কাজের চাপে হাঁপিয়ে উঠবেন,  তখন তাদের প্রশান্তি দিতে চালু করা হয়েছে খুদে রেইনফরেস্ট ‘দ্য স্ফিয়ারস’। এটি এক ধরনের গোলাকার ভবন। চারদিকে স্বচ্ছ কাঁচ। কাঁচঘরের চারপাশে নির্মল প্রকৃতির ব্যবস্থা করা হয়েছে ৪০ হাজার উদ্ভিদের সাহায্যে। ঘরের ভেতর থেকেই বাইরের অনিন্দ সুন্দর পৃথিবী দেখা যায়। সাত বছরের কর্ম পরিকল্পনা ও নির্মাণযজ্ঞ শেষে ই-কমার্স ওয়েবসাইটির কর্মীদের জন্য এটি চালু করা হয়েছে জানুয়ারির শেষদিকে। সেখানে গিয়ে খানিকটা সময় একদম প্রকৃতির মধ্যে কাটিয়ে আসতে পারবেন। এতে ৩০টি দেশ থেকে ৪০ হাজার উদ্ভিদ এনে লাগানো হয়েছে। দেয়ালগুলোও বেশ জীবন্ত। ভার্টিক্যাল গার্ডেনিং পদ্ধতিতে ৪ হাজার বর্গফুটের দেয়ালে ২৫ হাজার উদ্ভিদ লাগানো হয়েছে। আসুন জেনে নিই রেইনফরেস্ট ‘দ্য স্ফিয়ারস’ সম্পর্কে এটি নির্মাণে ব্যবহার করা হয়েছে ৬২০ টনের বেশি ইস্পাত, যা দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটলে অবস্থিত ১৮৪ মিটার উঁচু পর্যবেক্ষণ টাওয়ার ‘স্পেস নিডল’ তিনবার তৈরি করা যেত। এর নির্মাণকাজে ১ কোটি ২০ লাখ পাউন্ড কংক্রিটের মিশ্রণ ব্যবহার করা হয়েছে, যা দিয়ে ৭৫২ মাইল দীর্ঘ সড়ক নির্মাণ করা সম্ভব। সম্পূর্ণ কাঠামোটি ২ হাজার ৬৪৩টি অত্যন্ত স্বচ্ছ ও শক্ত কাচের টুকরো দিয়ে মোড়া। এর প্রতিটিতে ফিল্মের একধরনের পরত আছে, যা ক্ষতিকারক রশ্মি এবং অতিরিক্ত তাপ আটকাতে সাহায্য করে। সম্পূর্ণ কাঠামো যাতে মাধ্যাকর্ষণ বল, বাতাস বা ভূমিকম্পের সঙ্গে মোকাবিলা করতে পারে, সে জন্য নিচের দিকে ৪ লাখ পাউন্ড ওজনের বিম দেওয়া হয়েছে। তিনটি গোলকের সমন্বয়ে এটি তৈরি করা হয়েছে। সবচেয়ে বড়, অর্থাৎ মাঝের গোলকটি উচ্চতায় ৯০ ফুট এবং ব্যাস ১৩০ ফুট। ৪০০ প্রজাতির বেশি প্রায় ৪০ হাজার উদ্ভিদ রয়েছে স্ফিয়ারসের ভেতরে, যা সম্পূর্ণ প্রকৃতির আমেজ দেবে। বৈচিত্র্যপূর্ণ কিছু উদ্ভিদসহ মানুষের জন্য সহনীয় পরিবেশ রাখতে দিনের বেলা গড়ে ৭২ ডিগ্রি ফারেনহাইট তাপমাত্রা এবং ৬০ শতাংশ আর্দ্রতা রাখা হয়। আর রাতে তাপমাত্রা থাকে ৫৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট এবং আর্দ্রতা থাকে ৮৫ শতাংশ। স্ফিয়ারসের সবচেয়ে বড় বাসিন্দা হলো রুবি নামের একটি উদ্ভিদ। যেটি ক্যালিফোর্নিয়ায় ১৯৬৯ সালে একটি ফার্মে লাগানো হয়েছিল। বর্তমানে রুবি উচ্চতায় ৫৫ ফুট এবং প্রস্থে ২২ ফুট। কেআই/ এআর

যে গ্রামের ছবি তুললে জরিমানা

প্রকৃতির কোলে বেড়ে উঠা গ্রাম। সবুজ-শ্যামল প্রকৃতি। গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে আলেবুলা নদী। আছে বিস্তীর্ণ পাহাড়ের সারি। ঝর্ণার ছিপছিপ শব্দ ভ্রমণ পিপাসুদের মুগ্ধ না করে পারে না। দেখলে যে কারো চোখ ধাঁধিয়ে যায়। মন চায় ফ্রেমবন্দি করে রাখতে। কিন্তু গ্রামটিকে ছবি তোলায় মানা। শুধু নিষেধই নয়, জরিমানাও করা হয়ে থাকে। এটি সুইজারল্যান্ডের একটি ছোট্ট গ্রাম। নাম ব্র্যাভুয়াঁ। ৫৬ বর্গমাইল এলাকাজুড়ে বিস্তৃত গ্রামটিতে প্রতি বছর বিপুল সংখ্যক পর্যটকের সমাগম ঘটে। ২০১৭ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত গ্রামটির মোট জনসংখ্যা মাত্র ৫৩০ জন। সৌন্দর্যের পসরা নিয়ে সাজানো গ্রামটিতে রয়েছে প্রাচীন রোমান সভ্যতার নিদর্শন একটি চার্চ। এখানকার ঘোড়দৌড়ের মাঠটি সুইজারল্যান্ডের ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে প্রসিদ্ধ। বোটিং ও রিভার রাফটিংয়ের জন্য আলেবুলা নদী তো রয়েছেই। যারা পাহাড়ে হাইকিং করতে চান, তাদের জন্য আলেবুলা উপত্যকা অপার নৈসর্গিক দৃশ্য নিয়ে অপেক্ষা করছে। ১৯৪৫ সালে নির্মিত ‘কুরহাস বারগুন’হল এই গ্রামের একমাত্র হোটেল, যা গ্রাম থেকে বেশ খানিকটা দূরে অবস্থিত। তবে বর্তমানে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় গ্রামবাসীরা টাকার বিনিময়ে পর্যটকদের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা রেখেছেন।২০০৮ সালে আলেবুলা রেলওয়ে ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের স্বীকৃতি পায়। এই রেলওয়ের সঙ্গেই রয়েছে একটি প্রাচীন জাদুঘর। এ জাদুঘরে গ্রামটির ঐতিহ্যের নানা ইতিহাস সংরক্ষিত রয়েছে।সুইজারল্যান্ডের এই ছোট্ট গ্রামটির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য থেকে চোখ ফেরানো যায় না। যারা ওখানে গেছেন, গ্রামটির সৌন্দর্যে প্রত্যেকেই অবাক হয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সেসব ছবি শেয়ার করে জুটেছে বন্ধুদের আক্ষেপ। কিন্তু তাই বলে সেই স্মৃতিগুলো ছবির ফ্রেমে আটকে রাখবেন, আর অন্যদের সেসব দৃশ্য দেখিয়ে দুঃখ দেবেন, তা কখনই হবে না।সেজন্য গ্রামের পর্যটন দফতর গ্রামটিতে ছবি তোলা সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ করেছে। যদি এই নির্দেশ কোনো পর্যটক অমান্য করেন এবং ছবি তোলার সময় হাতেনাতে ধরা পড়েন, তাহলে তাকে ৫ ফ্রাঙ্ক জরিমানা গুনতে হবে।ব্র্যাভুয়াঁ পর্যটন অফিসের ওয়েবসাইটে এক বিবৃতিতে জানানো হয়, অন্যকে দুঃখ দেওয়ার অধিকার কারও নেই। যেসব ব্যক্তির ওই গ্রামে যাওয়ার আর্থিক ক্ষমতা নেই বা কোনো কারণে যেতে পারছেন না, সেসব ব্যক্তি মানসিকভাবে ব্যথিত হবেন- সেটা কখনই ব্র্যাভুয়াঁবাসীর কাম্য নয়।ব্র্যাভুয়াঁর লোকজন বিশ্বের মানুষের সুখের বিষয়টাও ভাবেন। তারা চান না, তাদের কারণে পৃথিবীর মানুষ কোনোরকম দুঃখ পান, হৃদয়ে কষ্ট অনুভব করেন। এমনকি ব্র্যাভুয়াঁর পর্যটন ওয়েবসাইট এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে তাদের আপলোড করা সব ছবি সরিয়ে ফেলা হয়েছে।সূত্র : লাক্সজ ম্যাগাজিন।/এআর/

সিএনজির ছাদ যেন এক টুকরো বাগান (ভিডিও)

রাজধানীতে দ্রুত ও সহজে নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য একটা সময় নগরবাসীর কাছে সিএনজি চালিত অটো রিকশার কদর ছিল আকাশচুম্বী। আধুনিক যুগে পাঠাও-উবার সহজলভ্য হওয়ায় সিএনজির অটোরিকশার চাহিদা পড়তির দিকে। তাই যাত্রীদের আকর্ষণ করতে একটু ভিন্ন উদ্যোগ। সিএনজি অটোরিকশার ছাদে সবুজ বাগানের ব্যবস্থা। এর উদ্দেশ্যে প্রকৃতিপ্রেমিদের দৃষ্টি কাড়ার পাশাপাশি আয়ের পথটা সুগম রাখা। এমনটিই জানালেন অটোরিকশাটির চালক শ্রী তপন চন্দ্র। শনিবার দুপুরে রাজধানীর মালিবাগে এমনই এক সিএনজিচালিত অটো রিকশার দেখা মিলল। তপন নিজের না হলেও ভাড়ায় চালিত সিএনজিটাকে সাজিয়েছেন মনের মতো করে। ফুলের বাগানের সঙ্গে রয়েছে নানা সরঞ্জাম। এলইডি টিভি, অক্সিজেন জার থেকে শুরু করে আয়না চিরুনী কি নেই এতে। বলা চলে জরুরি জিনিসপত্র থেকে শুরু করে সুস্থ বিনোদনের পুরো ব্যবস্থই রয়েছে অটোরিকশাটিতে। কথা হলো সিএনজিটির চালক শ্রী তপন চন্দ্রের সঙ্গে। গণমাধ্যমকর্মীর পরিচয় পেয়ে আন্তরিকতার সঙ্গে কথা বললেন তিনি। জানালেন তার এই শখের কথা। তার গ্রামের বাড়ি ব্রাম্মণবাড়িয়া। অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ালেখা করেছেন তিনি। বর্তমানে পরিবার নিয়ে ঢাকার খিলগাঁওয়ে থাকেন। খিলগাঁয়ের একটি গ্যারেজের সিএনজি ভাড়ায় চালিয়ে সংসার চালান তিনি। এ সিএনজিটি তিনি গত ছয় বছর ধরে চালাচ্ছেন। সিএনজির মূল মালিক তিনি না হলেও সাজসজ্জা করেছেন নিজেই। এ জন্য তাকে গুনতে হয়েছে ৪০ হাজার টাকা। প্রায় ৪০টি ফুল গাছ নিয়ে ছাদের ওপর গড়ে তুলেছেন বাগান। সিএনজির ভেতরেও রয়েছে ডেকোরেশন ব্যবস্থা। এখানে ফুল গাছ, ফুলের মালা, আয়না-চিরুনী, লিপজেলসহ কসমেটিকস সামগ্রি। রয়েছে বাগানে পানি দেওয়ার জন্য ফিল্টারের পানি, টিপকল। কোনো ধরণের অগ্নিকাণ্ড থেকে রক্ষায় রয়েছে অক্সিজেনের ব্যবস্থা। এগুলো শখের বসে নাকি বিনোদনের জন্য করেছেন জানতে চাইলে তপন চন্দ্র বলেন, মানুষকে বিনোদন দেওয়ার পাশাপাশি বাগান গড়তে উৎসাহ দিতেই এটা করা। তিনি বলেন, বর্তমানে উবার, পাঠাওয়ের মাধ্যমে মোটর সাইকেল ভাড়া পাওয়া যায়। এ কারণে সিএনজির প্রতি মানুষ অনেকটাই মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। তাই ক্রেতা টানার সঙ্গে সঙ্গে তাদের একটু বিনোদনের ব্যবস্থা করতেই পুরো সিএনজি অটোরিকশা ফুলের গাছ দিয়ে সাজানো হয়েছে। প্রসাধনির ব্যবস্থা করার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অনেক যাত্রীই আছে যারা রাস্তায় বের হলেই তাদের চুলগুলো এলোমেলো হয়ে যায়, ঠোট শুকিয়ে যায়। তাই তাদের চাহিদার কথা ভেবে সিএনজির ভেতরে আয়না চিরনি, লিপজেল রাখা হয়েছে। যাতে ওই যাত্রী সিএনজির ভেতর থেকেই নিজেকে সুন্দর রাখতে পারেন। গত ছয় বছর ধরে রাজধানীতে সিএনজি চালালেও চার মাস আগে তিনি সিএনজির পুরো ছাদজুড়ে বিশেষভাবে লাগিয়েছেন নানা প্রকার ফুলের গাছ। ভেতরে বিশেষভাবে তৈরি করা টবে রেখেছেন ঝাউ গাছ, ফুলের মালা। সিএনজির সামনে অংশের উপরের দিকে টাঙানো আছে ছোট একটি স্কিন। সেখানে নাটক, ছবিসহ গান শোনার ব্যবস্থা আছে। প্রতিদিন মালিককে এক হাজার টাকা পরিশোধ করার পর যে টাকা থাকে তা দিয়ে চার সদস্যের সংসার চালান তিনি। তাদের সংসারে রয়েছে এক ছেলে ও এক মেয়ে। ছেলেটি আগামীতে এসএসসি পরীক্ষা দেবে, মেয়েটি এখনও ছোট রয়েছে।  ভিডিও লিংক-  https://www.facebook.com/Ekushey24online/videos/2005984556183619/?t=1  / আর / এআর

খড়কুটোর প্রতিবাদী স্টেডিয়াম

২০১৮ সালে ফিফা বিশ্বকাপ বসছে রাশিয়ায়। ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে দিন গণনা। বিশ্বের সবচেয়ে জমজমাট এ আসর কেন্দ্র করে নিজেদের গুছিয়ে নিচ্ছে দেশটি। জাকজমক এ আসরে বিশ্বকে চমকে দিতে চায় মস্কো। তাই জৌলুসের কমতি থাকবে না। দু’হাত ভরে খরচ করছে দেশটির ফুটবল ফেডারেশন। একটি ভেন্যুর জন্যই বাজেট ৭২ কোটি ডলার।বিশ্বকাপ আয়োজনে বিপুল ব্যয়ের প্রতিবাদে উত্তাল রুশ নাগরিকদের একটি অংশ। প্রতিবাদের অভিনব এক পন্থা বেছে নিয়েছেন রাশিয়ার এক কৃষক।প্রতিবাদ হিসেবে তিনি বানিয়ে ফেলেছেন আস্ত এক স্টেডিয়াম। সেটি ইট-বালি-সিমেন্টের তৈরি নয়। খড়কুটো দিয়ে নির্মিত ওই স্টেডিয়াম। এটি বানিয়ে কৃষকের কষ্ট বোঝাতে চেয়েছেন তিনি।বিশ্বকাপের পর্দা ওঠার আগেই খড়ের তৈরি ফুটবল স্টেডিয়ামের রেপ্লিকা বানিয়ে সবার নজর কেড়েছেন তিনি। রাশিয়ার ওই কৃষকের নাম রোমান পুনোমারোভ। সেন্ট পিটার্সবুর্গ স্টেডিয়ামের রেপ্লিকা খড় দিয়ে বানিয়েছেন তিনি।বালু ও খড়কুটো দিয়ে এই স্টেডিয়াম তৈরি করা হয়েছে। স্টেডিয়ামের মাঠ থেকে শুরু করে দর্শকদের আসনও খড়ের তৈরি। এখানে দর্শকদের খেলা উপভোগ করার জন্য রয়েছে ৩০০টি আসনের ব্যবস্থা। ইতোমধ্যে স্থানীয় কয়েকটি দল খড়ের তৈরি স্টেডিয়ামে একটি টুর্নামেন্টে অংশ নিয়েছে। স্টেডিয়ামটি বানানো হয়েছে প্রায় পাঁচ হাজার খড়ের আঁটি দিয়ে। পাঁচ-ছয়টি ধাপে বিন্যস্ত করা হয়েছে দর্শক গ্যালারি।নিজে একটা আস্ত স্টেডিয়াম বানিয়ে ফেলেছেন বলেই হয়তো সেন্ট পিটার্সবুর্গের স্টেডিয়াম নির্মাণে দফায় দফায় সময়সীমা ও ব্যয় বাড়ানোর কোনো যৌক্তিকতা খুঁজে পাচ্ছেন না পুনোমারোভ। হোক না সেটা খড়ের তৈরি! পুনোমারোভ বলেন, ‘এটা খুবই অবাক করার মতো ব্যাপার, কিভাবে একটা স্টেডিয়ামের খরচ ও সময়সীমা এভাবে বেড়ে যেতে পারে!’ স্টেডিয়ামের রেপ্লিকা তৈরি করা নিয়ে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘বিশ্বকাপের আগে মানুষের উত্তেজনা এবং খেলাধুলার পরিবেশ বিরাজ করতে দেখাটা আমার কাছে দারুণ।’পুনোমারোভের তৈরি রেপ্লিকা বিশ্বকাপ ভেন্যু নির্মাণে খরচ, দুর্নীতি, বিলম্ব এবং শ্রমিকদের মৃত্যুকে তুলে ধরবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।বিশ্বকাপের জন্য উপযোগী করে তুলতে এই ভেন্যুর জন্য ৭২ কোটি ডলার খরচ করেছে রাশিয়া। আগামী বছরের বিশ্বকাপে এই ভেন্যুটিতে সেমিফাইনালসহ মোট সাতটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। অনেকেই মনে করছেন, এই স্টেডিয়ামের জন্য এত বিপুল পরিমাণ অর্থের খরচ করাটা একেবারেই অন্যায্য। বিশাল এ খরচকে সবার সামনে তুলে ধরতেই পুনোমারোভের এমন প্রচেষ্টা।পুনোমারোভের এই কীর্তির ব্যাপারে শুনেছেন পিটার্সবুর্গে স্টেডিয়াম নির্মাণের সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তারাও। নিজেদের সমালোচনা শুনেও অবশ্য ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখাননি তারা। বরং প্রশংসাই করেছেন এই কৃষকের রসবোধের। পুনোমারোভকে পিটার্সবুর্গের গ্যালারিতে বসে খেলা দেখার আমন্ত্রণও জানানো হবে।সূত্র : ডয়েচে ভেলে।/ এআর /

চীনে শুরু হয়েছে নিরমিষ বিপ্লব

সারা পৃথিবীতে গরু, শুকুর আর মুরগির মাংসের সব থেকে বড় ক্রেতা চীন। সেদেশের লোকজনই এবার নিরামিষ খাবার দাবারের দিকে মন দিয়েছে। গত কয়েক বছর ধরেই চীনের বিভিন্ন রেস্তোরাঁয় নিরামিষের জনপ্রিয়তা বাড়ছে।স্বাস্থ্যমনস্ক বর্তমান প্রজন্মের মাংসসহ হাই ক্যালোরি ডায়েট পছন্দ না। অর্গানিক, নিরামিষ ও মাংসহীন ডায়েটেই ঝোঁক বেশি তাদের। একটু বয়স্ক যারা তারা রক্তচাপ, বেশি ওজন বা হৃদরোগের মতো সমস্যা থেকে বাঁচতেও নিরামিষ খাবার পছন্দ করছেন। শুধু বেইজিং বা হংকং নয় এই স্বাদবদলের হাওয়া দেশের সব শহরেই।চীনের সব থেকে বড় শহর সাংহাইয়ে ২০১২ সালে মাত্র ৪৯টি নিরামিষ রেস্তোরাঁ ছিল। এখন সেই শহরে নিরামিষ রেস্তোরাঁর সংখ্যা শতাধিক। কয়েক বছর আগ পর্যন্ত সিচুয়ান প্রদেশের চেংড়ু শহরের কোনো রেস্তোরাঁয় নিরামিষ খাবার মিলতো না। কিন্তু সাম্প্রতিক সমীক্ষা বলছে, শহরের অন্তত অর্ধেক রেস্তোরাঁর মেন্যুতে এখন ঢুকে পড়েছে একাধিক নিরামিষ পদ।মাংস বিক্রিতে চীন এখনও বিশ্বে প্রথম। কিন্তু বিক্রির পরিমাণ কমছে। ২০১৪ সালে ৪ কোটি ২৪৯ লাখ টন শূকরের মাংস বিক্রি হয়েছিল চীনে। ২০১৬ সালে সেই পরিমাণ কমে দাঁড়ায় ৪ কোটি ৮৫ লাখ টন। অথচ এই দু’বছরে চীনের জনসংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে ১ কোটি ১৫ লাখ। মাংস বিক্রি কমার সঙ্গে সঙ্গেই ফল ও শাকসবজির ফলন, আমদানি ও বিক্রি বেড়েছে। ২০১০ সালে মাত্র ১ দশমিক ৯ টন অ্যাভোকাডো আমদানি করত চীন। ২০১৬ সালে সেই সংখ্যা ১৩ হাজার গুণ বেড়ে হয়েছে ২৫ হাজার টন। সাংহাইয়ের জিয়াও টং বিশ্ববিদ্যালয় শহরের বিভিন্ন রেস্তোরাঁতে একটি সমীক্ষা চালিয়ে দেখেছে, নিরামিষ পদ অর্ডার দেন যারা তাদের অধিকাংশের বয়স ২০ থেকে ২৯ এর মধ্যে। এদের মধ্যে বেশির ভাগই শিক্ষার্থী। তবে ৬৫ বছরের বেশি যাদের বয়স তাদেরও অনেকেই নিরামিষ খেতে শুরু করেছেন বলে জানিয়েছেন কর্মীরা। এই পরিবর্তনের সুফল মিলছে পরিবেশেও। গবেষণায় দেখা গেছে, চীনের মাংস-প্রক্রিয়াকরণ কারখানাগুলো থেকে বছরে ১৫ কোটি টন কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গমন হতো। তাই প্রকৃতি রক্ষায় তারা এখন নিরামিষ বিপ্লবে মন দিয়েছেন। সবজি চাষাবাদে উৎসাহ যোগাচ্ছে।সূত্র : পিপলস ডেইলি/ এআর /

আত্মপ্রত্যয়ী শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা  

শিক্ষা জীবনসহ মানুষের পুরো জীবনে উন্নতি সাধনের জন্য শরীরের পাশাপাশি মনকেও সুস্থ রাখা প্রয়োজন। আর এ  কাজটা আমরা খুব সহজেই মেডিটেশনের মাধ্যমে করতে পারি। মন ঠিক থাকলে আমাদের কাজগুলো সুন্দর হবে। আর  এ সব কিছুর মাধ্যমে নিজেদের জীবনকে সুন্দর করে গড়ে তোলাসহ বাসযোগ্য সুন্দর এক পৃথিবী গড়ে তোলতে পারব। এ কথাগুলো বলছিলেন, বরিশাল জেলার বানারীপাড়া উপজেলার সৈয়দ বজলুল হক বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের অধ্যক্ষ কাজী মিজানুল ইসলাম। কাজী মিজানুল ইসলামসহ অন্যান্য  শিক্ষক ও কর্মকর্তা কর্মচারী মিলে কলেজের উদ্যোগে মিডিটেশনের কোর্স করেন। মেডিটেশন কোর্স করার পর এর থেকে সুফল পাওয়ায় শিক্ষকরা কলেজে শিক্ষার্থীদের জন্যও মেডিটেশনের ব্যবস্থা করেন। বর্তমানে এ কলেজটি মেডিটেশন কলেজ নামেও পরিচিত। বর্তমানে শিক্ষকসহ শিক্ষার্থীরাও এর সুফল ভোগ করছেন। মেডিটেশন কিভাবে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের জীবনে সুফল বয়ে এনেছে এ  বিষয় নিয়ে কথা  হয় বজলুল হক বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের অধ্যক্ষ কাজী মিজানুল ইসলামের সঙ্গে।    তিনি বলেন, আমরা প্রথমে কলেজের উদ্যোগে  ৭১ জন শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারী ২০১৬ সালের মার্চ মাসে কোয়ান্টাম থেকে  মেডিটেশন কোর্স করি। কোর্স করার পর আমরা শিক্ষকরা মিলে শিক্ষার্থীদের জন্য মেডিটেশনের ব্যবস্থা করেছি। এর অংশ হিসেবে সকাল ৯টা থেকে  ৯টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য এবং  ১০টা ৩০ মিনিট থেকে ১১টা পর্যন্ত শিক্ষকদের জন্য মেডিটেশনের ব্যবস্থা রেখেছি। তিনি বলেন, মেডিটেশনের কারণে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনোযোগ বৃদ্ধি পেয়েছে। পরীক্ষার হলে শান্তভাবে অবস্থান করাসহ তাদের মধ্যে আত্মবিশ্বাসও বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি আরও বলেন, পূর্বে শিক্ষার্থীরা লক্ষ নির্ধারণে সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগত। কিন্তু মেডিটেশন করার মাধ্যমে তারা তাদের লক্ষ্য নির্ধারণ করতে সক্ষম হয়েছে। পরিবারের প্রতি তাদের মনোযোগ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং দায়িত্ব-কর্তব্য সম্পর্কেও তারা সচেতন হয়েছেন। তিনি বলেন, আগের চেয়ে ক্লাসের প্রতি এবং পাঠ তৈরির ব্যাপারে  শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বৃদ্ধি পেয়েছে। তাদের  পরস্পরের মধ্যে রাগ, ক্ষোভ, হিংসা-বিদ্ধেষ ও ঘৃণা  দূর  হয়েছে। ২০১৭ সালে বরিশাল জেলার মধ্যে সৈয়দ বজলুল হক বিশ্ববিদ্যালয়  কলেজটি শ্রেষ্ঠ কলেজ হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে। এছাড়াও অধ্যক্ষদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ অধ্যক্ষ নির্বাচিত হয়েছেন কাজী মিজানুল ইসলাম। কলেজের এই সফলতা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি মনে করি আমাদের এই সফলতার পেছনে শিক্ষক ও কর্মকর্তা কর্মচারীদের পরিশ্রমের পাশাপাশি মেডিটেশন গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। শিক্ষকদের ‍ওপর কি ধরণের প্রভাব ফেলেছে এ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন,  মেডিটেশন কোর্স করার পর শিক্ষকদের পড়ানোর মান বৃদ্ধি পেয়েছে। স্কুল নিয়ে তাদের মধ্যে সচেতনতান বৃদ্ধি পেয়েছে। আগের চেয়ে শিক্ষকদের মধ্যে পরস্পর সম্পর্ক বৃদ্ধি পেয়েছে। পারিবারিক জীবনেও শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তিনি মনে করেন, যে কোন বয়সেই একজন মানুষ মেডিটেশন থেকে উপকৃত হতে পারেন। কিন্তু কেউ যদি তরুণ বয়সে মেডিটেশনের চর্চা শুরু করতে পারেন বা মেডিটেশন যদি হয় তার দৈনন্দিন জীবনের অংশ তাহলে সত্যিকার অর্থেই তিনি হয়ে উঠবেন দেশের একজন অমূল্য সম্পদ। আমরা ঠিক এ কাজটিই করছি সৈয়দ বজলুল হক বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের মাধ্যমে। মেডিটেশন সম্পর্কে ওই কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী আফরিনা রওশন মীম বলেন, মেডিটেশন করার ফলে দেখা যায় শেষ ক্লাস পর্যন্ত আমি সমানভাবে মনোযোগী হতে পারি। আগে দীর্ঘ সময় ধরে পড়াশোনা করলে মাথা ব্যাথা করত। কিন্তু এখন মাথা ব্যাথা অনেকটা কমে গেছে। মেডিটেশন করার মাধ্যমে আমি আমার লক্ষ নির্ধারণ করতে সক্ষম হয়েছি। ওই কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষার্থী নাফিজ ইমতিয়াজ হৃদয় বলেন, মেডিটেশন করার মাধ্যমে মন ও ব্রেণ দুটই শান্ত থাকে। আর ফলে  খুব সহজেই যে কোন ভালো কাজ করা যায়। ক্লাসের শুরুতে কলেজে মেডিটেশন করানোর কারণে আমরা সহজেই যে কোন বিষয় বুঝতে পারি। কলেজের সমাজকর্ম বিভাগের প্রভাষক মো. নজরুল ইসলাম বলেন, কলেজ ক্যাম্পাসে প্রবেশ করার পর মেডিটেশনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা শান্ত মনে ক্লাস করতে পারেন। এতে শিক্ষার্থীদের মনোযোগ আরও বেশি বৃদ্ধি পায়। কলেজের হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক মো. আবদুল লতিফ বলেন, আমরা যখন ১টা ১০ বা ২টা ১০ মিনিটে ক্লাস নেওয়ার জন্য যখন যেতাম, তখন ছাত্র-ছাত্রীরা বিরক্তবোধ করত এবং কেউ কেউ বলত স্যার ক্ষুদা লেগে গেছে আমাদের ছেড়ে দেন। কিন্তু মেডিটেশন করার পর থেকে শিক্ষার্থীরা এরকম অযুহাত দেখায় না এবং শান্তভাবে ক্লাস করে। কলেজের ইতহাস বিভাগের প্রভাষক ফাতেমা বেগম বলেন, ছেলেমেয়েদের আগে যে রকম দেখতাম তারা কথা শুনত না,  ঠিকমতো কলেজে আসত না।  কিন্তু মেডিটেশন করার পর এখন শিক্ষার্থীরা ঠিক মতো ক্লাসে আসে, আমাদের কথা শুনে। মেডিটেশনের মাধ্যমে শিক্ষকদের  পারিবারিক জীবনেও শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তারা এখন পারিবারিকভাবে মেডিটেশনের চর্চা করে থাকেন। এ সম্পর্কে  কলেজের  ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রভাষক খাঁন মো. আল আমীন বলেন, আমার মা, আমার স্ত্রী এবং পরিবারের অন্য সদস্যরা মিলে বাসায় মেডিটেশন করি। আমাদের পরিবারে সুখ-শান্তি বৃদ্ধি পেয়েছে। আমি মনে করি প্রত্যেক পরিবারে মেডিটেশন চালু করা উচিৎ। মেডিটেশনের মাধ্যমে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা সুফল পাওয়ায় কলেজের উপাধ্যক্ষ মো. মাহজান আলী মনে করেন, সব কলেজেই মেডিটেশনের ব্যবস্থা চালু করা উচিৎ। এর মাধ্যমে লেখাপড়ার মান বৃদ্ধিসহ শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে এক বন্ধন সৃষ্টি হবে। কেননা এই মেডিটেশনের মাধ্যমে  শরীর-মন সতেজ হয়, প্রফুল্ল হয়, মেধাবিকাশের পথ খুলে যায়, আকাঙ্খা বৃদ্ধি পায়, মানুষ সাহসী হয়, মানুষের মধ্যে হিংসা বিদ্ধেষ দূর হয়, মানুষে মানুষে প্রেম ও ভালোবাসা এবং কল্যাণ করার স্পৃহা জাগ্রত হয়।    এমএইচ/এসএইচ/    

ঢাবিতে বৈদেশিক স্মৃতিস্তম্ভ ও স্থাপনা

আধুনিক বাংলাদেশের প্রাচীনতম বিশ্ববিদ্যালয় হলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি)। ১৯২১ সালে ইংরেজ শাসনামলে স্হাপিত এ বিশ্ববিদ্যালয়টি বঙ্গভঙ্গের সময় থেকে পূর্ববঙ্গে মুসলিম সমাজে শুরু হওয়া নবজাগরণের ফল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। ব্রিটিশদের বিদায়সহ ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশ এই তিন দেশ সৃষ্টির ইতিহাসের স্বাক্ষী হয়ে আছে এই বিশ্ববিদ্যালয়। ৬০০ একর জমিতে গড়ে ওঠা সবুজে ঘেরা বিশ্ববিদ্যালয়টির বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে বিভিন্ন ভাস্কর্য, সমাধিসৌধ আর নানা রকম ঐতিহাসিক নিদর্শন। টিএসসি-এর গ্রীক সমাধি! টিএসসি ভিতরে সবুজ মাঠের দক্ষিণ কোণায় অবস্থিত এ সমাধিটি। হলুদ রঙের এ সমাধি সৌধটি দেখতে চতুষ্কোণ আকৃতির কুটিরের মতো। ভিতরে প্রবেশের পথ রয়েছে পূর্ব দিকে। চারদিকে লোহার গ্রিল দিয়ে আটকানো এটি। ভিতরে প্রবেশের দরজার ওপর গ্রিক ভাষায় লেখা রয়েছে যার বাংলা অনুবাদ- `তারাই আশীর্বাদপ্রাপ্ত যারা সৃষ্টিকর্তা কর্তৃক নির্বাচিত হয়েছে মৃত্যুর জন্য।` ভিতরের দেওয়ালে রয়েছে কালো রঙের ৯টি পাথর বা শিলালিপি। এর পাঁচটি গ্রিক এবং চারটিতে ইংরেজি ভাষায় লেখা। অযত্ন-অবহেলায় অনেকটা বিবর্ণ আকার ধারণ করেছে এ সৌধটি। দেওয়ালের কোথাও কোথাও প্লাস্টার খসে পড়েছে। সর্বশেষ ১৯৯৭ সালে গ্রিক হাইকমিশনের অর্থায়নে সংস্কার করা হয়েছিল এটি। টিএসসি চত্বরে অবস্থিত এই গ্রীক স্মৃতিসৌধটি সেইন্ট টমাস গির্জার যাজক জে এম ম্যাকডোনাল্ডের উদ্যোগে নির্মিত হয়েছিল। এই সমাধিসৌধকে ইতিহাসবিদরা বাংলাদেশে গ্রিকদের শেষ স্মৃতিচিহ্ন বলে মনে করেন। সমাধিসৌধের সামনে কোন লিখিত বিবরণী না থাকায় এর ব্যাপারে স্পষ্ট ধারণা নেই তেমন কারোর। কারো মতে এটি গ্রিকদের তৈরি মন্দির, কারো মতে এটি কারো কবর কেউবা মনে করে এটি কোন পুরাতন উপাসনালয়। ঢাকায় ইউরোপীয়দের আগমন ঘটে সতেরো শতকের প্রথমভাগে। ব্যবসার উদ্দেশ্যে পর্তুগিজ, ওলন্দাজ, ফরাসি, ইংরেজদের সঙ্গে গ্রিকরাও ঢাকায় আসেন। ভারতে গ্রিকদের আগমন ঘটে ষোড়শ শতকের শুরুর দিকে। উপমহাদেশে যে সব গ্রিক এসেছিলেন তাদের বেশির ভাগই ছিলেন ব্যবসায়ী। অধিকাংশ গ্রিকের ঠাঁই হয়েছিল ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জে। ১৭৭০ থেকে ১৮০০ সালের মধ্যে ঢাকায় দুই শতাধিক গ্রিক বসবাস করতেন। তারা বিশেষত কাপড়, পাট, লবণ ও চুনের ব্যবসা করতেন। এখান থেকে পাট ও কাপড় ইউরোপ-আমেরিকার বিভিন্ন দেশে রফতানি করতেন। ব্যবসা-বাণিজ্যের পাশাপাশি তারা এদেশে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। বংশ পরম্পরায় থেকে যান দীর্ঘ দিন। তাদের অনেকেই এদেশে মৃত্যুবরণ করেন এবং এখানেই সমাহিত করা হয়। বহু সময় ধরে গ্রিকরা এখানে বসবাস করলেও বর্তমানে দেশে তাদের কোনো স্থাপত্যনেই বললেই চলে। ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে গ্রিক কবরস্থানসহ বিভিন্ন জায়গায় যেসব গ্রিক স্মৃতিচিহ্ন ছিল তা সব বিলীন হয়ে গেছে। তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক টিএসসিতে রয়েছে এদেশে গ্রিকদের সর্বশেষ সমাধি সৌধটি। গুরুদুয়ারা নানক শাহী- গুরুদুয়ারা নানক শাহী বাংলাদেশের প্রাচীনতম ও প্রধান শিখ ধর্মীয় উপাসনালয়। এটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে, টিএসসির অদূরে আধুনিক ভাষা শিক্ষা ইন্সটিটিউট এরপাশে অবস্থিত। এটির তুষার শুভ্র বর্ণ, একই সঙ্গে ইয়োরোপীয় এবং শিখ স্থাপত্যশৈলীর মিশ্রণ ও নিসর্গীক অবস্থান একে করে তুলেছে উল্লেখযোগ্য। বাংলাদেশে আরও আট থেকে ৯টি শিখ গুরু দুয়ারা থাকার ঐতিহাসিক প্রমাণ থাকলেও বর্তমানে এই একটি ছাড়া বাকিগুলোর অস্তিত্ব সম্পর্কে জানা যায় না। বিশ্ববিদ্যালয়ের শুরু থেকে অদ্যাবধি অনেক ঘটনার সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে এই উপাসনালয়টি। এটি কবে নির্মাণ করা হয়েছে তা সঠিকভাবে জানা না গেলেও ইতিহাসবিদদের ধারণা, ১৬০৬-১৬২৮ খ্রিস্টাব্দে নির্মাণ করা হয়েছে। এ সময় উপমহাদেশের শাসনভারের দায়িত্বে ছিলেন সম্রাট জাহাঙ্গীর। তিনি তখন পূর্ব বাংলা শাসনভারের দায়িত্ব দেন ষষ্ঠ শিখ গুরু হরগোবিন্দ সিংকে। তার প্রচেষ্টায় বর্তমান `গুরুদুয়ারা নানক শাহী` নামের শিখ সম্প্রদায়ের উপাসনালয়টি গড়ে ওঠে। দীর্ঘ দিন গুরুদুয়ারা পরিত্যক্ত থাকার পর ১৮৩৩ সালের দিকে সংস্কার করা হয়। বেশ মনোরম স্থাপনা এটি। পূর্বমুখী করে বর্গাকার ড্রামের ওপর স্থাপিত গম্বুজ বিশিষ্ট। উত্তর, পশ্চিম ও পূর্ব দিকের দেওয়ালে পাঁচটি করে প্রবেশ পথ রয়েছে। রয়েছে কেন্দ্রীয় কক্ষের চারদিকে পাঁচ ফুট প্রশস্ত বারান্দাও। বারান্দার প্রতিটি কোনায় রয়েছে একটি করে মোট চারটি কক্ষ। উল্লেখ্য গুরু দুয়ারার প্রতিটি বাহুর দৈর্ঘ্য বাইরের দিকে ৩০ ফুট। শিখ সম্প্রদায়ের লোকজন প্রতি শুক্রবার এখানে জমায়েত হয়ে বিশেষ প্রার্থনায় রত হন। এ ছাড়া প্রতিদিন তারা পবিত্র গ্রন্থ পাঠের মাধ্যমে পূজা-অর্চনাও করে থাকেন। তাদের পূজা-অর্চনার মূল কেন্দ্রবিন্দু হচ্ছে ওই গ্রন্থখানি। এই পবিত্র গ্রন্থখানির নাম `গ্রন্থসাহেব`। অপরদিকে গুরু দুয়ারার প্রার্থনার কক্ষকে বলা হয় `দরবার সাহেব`। এখানে বসে নারী-পুরুষ উভয়ে প্রার্থনাদি সেরে নেন। প্রার্থনার পাশাপাশি তারা নানা ধরনের বাদ্য-বাজনাও বাজিয়ে থাকেন। তার পর `গুরুকা লঙ্গর` নামের ভোজনালয়ে পূজারিরা সবাই মিলে পেটপুরে খেয়ে নেন। সবাই মিলে একত্রে খেলে সৌহার্দ্য বৃদ্ধি পায়বলে তারা মনে করেন। উল্লেখ্য, দেশ-বিদেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিরাও এখানে এসে প্রার্থনায় সমবেত হন। শিখ ধর্মের প্রবর্তক গুরু নানক ঢাকা সফরকালে এখানে একটি শিখ গুরুদুয়ারার প্রতিষ্ঠা করেন বলে জনশ্রুতি আছে। পরবর্তীতে ষষ্ঠ শিখ গুরু হরগোবিন্দ সিং প্রতিনিধি পাঠিয়ে এখানে স্থায়ী একটি গুরুদুয়ারার প্রতিষ্ঠা করেন। নারী পুরুষ ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সবাই গুরু দুয়ারায় প্রবেশ করতে পারেন। বিভিন্ন সময়ে দেশ বিদেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব গুরুদুয়ারাটি পরিদর্শন করেছেন। দর্শনার্থীদের জন্যে শুক্রবার দুপুর ১২টার পর গুরুদুয়ারাটি পরিদর্শনের জন্যে উন্মুক্ত থাকে। আঁদ্রে মারলো (মালরো বাগান)- মুক্তিযুদ্ধের সময় ইউরোপে বাংলাদেশের বড় শুভাকাঙ্খি ফরাসি দার্শনিক আঁদ্রে মালরো ১৯৭৩ সালের ২০ এপ্রিল বাংলাদেশে আসেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শিক্ষক কেন্দ্রে তাকে উষ্ণ সংবর্ধনা জানানো হয়। শিল্প হচ্ছে ভাগ্যের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ- অত্যন্ত গভীর তাৎপর্যপূর্ণ এই কথাটি বলেছিলেন ফরাসি লেখক Andre Malraux ( ১৯০১ -১৯৭৬) এবং আন্দ্রেমারলোর সঙ্গে আমাদের অর্থাৎ বাঙালিদের নিবিড় একটা সম্পর্ক রয়েছে। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে আন্দ্রে মারলো গণহত্যার বিরুদ্ধে বিশ্ব বিবেককে জাগিয়ে তুলতে ভূমিকা রাখেন। এমনকি তিনি মুক্তিবাহিনীর সঙ্গে লড়াইয়ে শরিক হতে ১৫০ জনের একটি স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী গঠন করেন। তবে ’৭১-এ তার বাংলাদেশে আসা হয়নি। পরে ১৯৭৩ সালে তাকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বীরোচিত সংবর্ধনা দেওয়া হয়। এই মহান ব্যক্তির স্মরণে ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদ চত্বরে মালরো বাগান নামে একটি বাগানের নামকরণ করা হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তিনি সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়ে বাংলাদেশের পাশে এসে দাঁড়িয়েছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের প্রতি অকুণ্ঠ সমর্থন জানিয়ে প্রত্যক্ষভাবে যুদ্ধে অংশ গ্রহণের ব্যক্তিগত ইচ্ছা ব্যক্ত করে এবং পাকিস্তানি হানাদারবাহিনীর জঘন্য গণহত্যার প্রতিবাদে বিভিন্ন প্রবন্ধ লিখে বিশ্ববাসীর দৃষ্টি বাংলাদেশের পক্ষে আনতে সহায়তা করেছিলেন। মুক্তিবাহিনীর সমর্থনে যুদ্ধে যোগ দিতে তিনি প্রস্তুতির ঘোষণা দেন। যদিও শেষ পর্যন্ত এদেশে তার আসা হয়নি, কারণ এর মধ্যেই ভারতীয় মিত্রবাহিনীর সঙ্গে যৌথভাবে মুক্তিযোদ্ধারা সামরিক অভিযান শুরু করে এবং দেশ স্বাধীন হয়। এর পর ১৯৭৩ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আমন্ত্রণে বাংলাদেশ সফরে আসলে তাকে বীরোচিত সংবর্ধনা দেওয়া হয়। বাংলাদেশের সেই পরমবন্ধু ফরাসী লেখক-দার্শনিক এবং দ্য গল সরকারের মন্ত্রী ‘আঁদ্রে মারলো’র স্মৃতির প্রতিশ্রদ্ধা ও সম্মান জানিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বাগানের নামকরণ করা হয়েছে ‘মারলো বাগান।’ “ আন্দ্রে মালরো সারা জীবন সাম্য ও মুক্তির পক্ষে ছিলেন তা নয়, সরাসরি যুদ্ধও করেছিলেন মুক্তির পক্ষে। ৭১-এ মুক্তিযুদ্ধের সময় মালরো একাই সারা ফ্রান্সে সাংস্কৃতি আন্দোলন গড়ে বিশ্বে বাংলাদেশের পক্ষে জনমত গড়ে তুলেছিলেন। তিনি বাংলাদেশের যোদ্ধাদের গেরিলা পদ্ধতিতে যুদ্ধ করার উপদেশ দিয়েছিলেন।" রুশ কবি পুশকিনের আবক্ষ মূর্তি- পুশকিন রাশিয়ার জাতীয় কবি। তিনি ১৭৯৯ সালে মস্কোয় জন্মগ্রহণ করেন, ১৮৩৭ সালে মারা যান। আধুনিক রুশ সাহিত্যের স্থপতি কবি আলেকজান্ডার পুশকিন। পুরো নাম আলেক্সজান্ডার সের্গেয়েভিচ পুশকিন। যিনি রাশিয়ার শেক্সপিয়ার নামেখ্যাত। ভাষার ওপর আশ্চর্য দক্ষতা, প্রাঞ্জলতা ও গভীরতা ছিল তার সাহিত্যের মূল বৈশিষ্ট্য। পুশকিন রাশিয়ান রোমান্টিজম এর প্রদর্শক হিসাবে স্বীকৃত এবং প্রেমবিষয়ক কবি হিসেবে জগদ্বিখ্যাত। সমসাময়িক কালে তিনি শুধু রাশিয়ান হিসেবেই নয়, বরং সমগ্র পৃথিবীতে অত্যন্ত শক্তিমান কবি হিসেবে স্বীকৃত।  মূলত. কবি হলেও তিনি নাটক, গল্প, মহাকাব্য, উপন্যাসও লিখেছেন। তার বিখ্যাত উপন্যাসের নাম ‘ইয়েভেজেনি ওনেজিন`। পুশকিনের ‘ম্যাসেজ অব ইউরোপ’,‘রুসলাম অ্যান্ড লুদমান’ উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ। আলেকজান্ডার পুশকিনের বড় বৈশিষ্ট্য ছিল বিশ্ব সাহিত্যের ওপর ছিল তার দখল। ১৮৩৭ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি মৃত্যুবরন করেন কবি আলেকজান্ডার পুশকিন। মাত্র ৩৮ বছর বয়সে পুশকিনের মৃত্যুকে রুশ সাহিত্যের বিপর্যয় হিসেবে দেখা হয়। তিনি অকালে মারা গেলেও আজো আধুনিক রুশ পুশকিন এর সময়কে রাশিয়ান কবিতার স্বর্ণসময় বলা হয়। ১৮২৯ থেকে ১৮৩৬ সালের মধ্যে রুশ সাহিত্যে তার অনেকগুলো রচনার কারণে নব দিগন্তের উন্মেষ ঘটে। রাশিয়ার তখন ছিল রাজতন্ত্র। পুশকিন ছিলেন রাজতন্ত্র বিরোধী। রাজতন্ত্রের বিরুদ্ধে লেখালেখির কারণে পুশকিনকে সেন্টপিটার্সবুর্গ থেকে বন্দী করে নির্বাসনে পাঠানো হয় দক্ষিণ রাশিয়ার একটি দুর্গম অঞ্চলে তবু তার লেখনী থেমে থামেনি। তিনি রাশিয়ান কবিতা বিশ্ব দরবারে যথার্থ রূপে হাজির করেছেন। তিনি সাংবাদিকতাও করেছেন এবং তার সাংবাদিকতার বিষয় ছিল সাহিত্য। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রুশ কবি ও সাহিত্যিক আলেক্সান্দর পুশকিনের একটি আবক্ষমূর্তি স্থাপন করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘রাশিয়ার নাগরিকদের উপহার’ হিসেবে নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে এই মূর্তিস্থাপন করা হয়। মূর্তিটি নির্মাণ করেছেন কুজনিৎসোভ মুরোমস্কি। ঢাকা গেট- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অবস্থিত ঐতিহাসিক মোগল স্থাপনাগুলোর মধ্যে অন্যতম ঢাকা গেট। ব্রিটিশ শাসনামলে ঢাকার ম্যাজিস্ট্রেট চার্লস ডয়’স মূল শহরের সঙ্গে তৎকালীন রেসকোর্সকে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) সংযুক্ত করতে ময়দানের উত্তর-পূর্ব দিকে একটি সড়কের প্রবেশপথে দুটি স্তম্ভ নির্মাণ করেন। আর এটিই ঢাকা গেট নামে পরিচিত। রাজধানীর দোয়েল চত্বর হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতেই চোখে পড়ে হলদে রঙের বিশালাকার কয়েকটি স্তম্ভ। এ গেটের তিনটি অংশের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নবায়নযোগ্য শক্তিগবেষণা কেন্দ্রের দিকে, মাঝখানের অংশ পড়েছে সড়ক বিভাজকের দিকে এবং অপর অংশটি রয়েছে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের তিন নেতার মাজারের পাশে। ঢাকা গেট নামকরণে বিভিন্ন তথ্যভেদ রয়েছে। মোগল আমলে বুড়িগঙ্গা নদী হয়ে ঢাকায় প্রবেশ করতে ব্যবহার করা হতো এ তোরণ। সে সময় এর নাম ছিল ‘মীর জুমলারগেট’। পরে কখনও ‘ময়মনসিংহ গেট’, কখনও ‘ঢাকা গেট’ এবং অনেক পরে নামকরণ করা হয় ‘রমনা গেট’। এ গেট রমনায় প্রবেশ করতে ব্যবহার করা হতো বলে পরে সাধারণ মানুষের কাছে এটি রমনা গেট নামেই পরিচিতি পায়। তবে বাংলাদেশ সরকারের গেজেট অনুসারে এ তোরণ এবং আশপাশের জায়গার নাম দেওয়া হয়েছে ‘মীর জুমলারগেট’   দীর্ঘদিন ধরে কোনো ধরনের সংস্কার বা যত্ন ছাড়াই অবহেলিত ঢাকা গেট। যত্নের অভাবে খসে পড়েছে এর দেয়ালের ইট-চুন-সুরকি। স্থাপনার সৌন্দর্যও ইতোমধ্যে ধ্বংসের পথে। ঢাকা গেটের বর্তমান স্থাপনা দেখে কেউ বুঝতেই পারবে না এটি একটি ঐতিহ্যবাহী গেট। চোখের আড়ালে, গাছও লতাপাতায় মোড়ানো এ গেট এখন আর কারো নজর কাড়ে না। অনেকে আবার নাম শুনেছেন অথচ কখনো খুঁজে পাননি ঐতিহাসিক এ স্থাপনা। ২০০ বছরের ফুলাররোড- বঙ্গভঙ্গের প্রবক্তা লর্ড কার্জন নতুন প্রদেশে পূর্ব বঙ্গের গভর্নর হিসেবে নিয়োগ দেন স্যার জোসেফ বি ফুলারকে। এদিকে লর্ড কার্জনের সঙ্গে প্রধান সেনাপতি লর্ড কিচেনারের মতোবিরোধের কারণে কার্জন পদত্যাগ করে স্বদেশ প্রত্যাবর্তন করেন। তখন বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলন চরমে পৌঁছেছিল। প্রথমত আন্দোলনটি অহিংস থাকলেও পরবর্তীতে তা সহিংস আন্দোলনে পরিণত হয়। আন্দোলনের মাঝ পথে শতাধিক হিন্দু জমিদার ইংরেজদের আনুগত্য অর্থাৎ বঙ্গভঙ্গের বিপক্ষে আন্দোলন থেকে সরে দাড়ায় এক স্মারকলিপি প্রদানের মাধ্যমে। বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলনে যেসব ছাত্র জড়িত ছিল তাদের বহিস্কার করা হয় এবং জড়িতরা কোন সরকারি চাকরি করতে পারবে না এলান জারি করা হয়। বেশ কয়েকজন চরমপন্থি কংগ্রেস নেতাকেও এই বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলনে জড়িত থাকার কারণে বাংলা থেকে বহিস্কার হয়। লর্ড কার্জন পদত্যাগ করার পর নতুন বড়লাট নির্বাচিত হন লর্ড মিন্টো। ইংরেজরা যে মুহুর্তে বঙ্গভঙ্গ বিরোধীআন্দোলনে কঠোরতা প্রদর্শন করছে তখনই বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলনে তত্‍কালীন সিরাজগঞ্জের ভিক্টোরিয়া এবং বানোয়ারীলাল নামক দুটি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা জড়িত মর্মে পূর্ববঙ্গ ও আসামের সব প্রতিষ্ঠানের কেন্দ্রীয় কার্যালয় কোলকাতায় লর্ড মিন্টোকে এক চিঠি মারফত উক্ত বিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ স্বরুপ সব অনুদান বন্ধের অনুরোধ জানান লর্ড স্যার জোসেফ বি ফুলার। কিন্তু বড় লাট মিন্টো এ সুপারিশ অগ্রাহ্য করলে ফুলার পূর্ববঙ্গ প্রদেশের গভর্নর পদ থেকে পদত্যাগ করেন। পরবর্তীতে তার এই অবদানের কারণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি সড়কের নামকরণ তার নামে করা হয় ফুলার রোড।   এসএইচ/    

© ২০১৮ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি