ঢাকা, শনিবার, ১৬ ডিসেম্বর, ২০১৭ ১৮:৫৩:২৭

চিরনিদ্রায় শায়িত মহিউদ্দিন চৌধুরী

চিরনিদ্রায় শায়িত মহিউদ্দিন চৌধুরী

চশমা হিলের পারিবারিক কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী। শুক্রবার সন্ধ্যা সোয়া ৬টায় তাকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়। এর আগে শুক্রবার বাদ আসর লালদীঘি ময়দানে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।জানাজায় লাখো মানুষের অংশগ্রহণে তিল ধরার ঠাই ছিল না। জানাজার আগে মুক্তিযুদ্ধের এ সংগঠককে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। এর আগে সর্বস্তরের জনগণের শ্রদ্ধা জানানোর জন্য চট্টগ্রামবাসীর প্রিয় এ নেতার মরদেহ চট্টগ্রামে দলীয় কার্যালয়ের সামনে রাখা হয়।
নেত্রী মহিউদ্দিন চৌধুরীকে মন্ত্রী হতে বলেছিলেন : কাদের

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মহিউদ্দিন চৌধুরীকে মন্ত্রী হতে বললেও তিনি রাজি হননি বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, নেত্রী তাকে প্রেসিডিয়াম সদস্য হতে বলেছিলেন, তিনি রাজি হননি। শুক্রবার দুপুরে মহিউদ্দিন চৌধুরীর চশমা হিলের বাসায় আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে শেষ শ্রদ্ধা জানানোর পর উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীদের এসব কথা বলেন তিনি। মহিউদ্দিন চৌধুরীকে স্মরণ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, তিনি বলতেন, আমার স্বপ্ন, আমার ধ্যান, আমার প্রাণ, আমার সবকিছুই চট্টগ্রাম। চট্টগ্রামের বাইরের নেতা হওয়ার কোনো স্বপ্ন আমার নেই। বারবার নেত্রী তাকে মন্ত্রী হতে বলেছেন, সেই অনুরোধ তিনি ফিরিয়ে দিয়েছেন।

চট্টলার অভিভাবক ছিলেন মহিউদ্দিন চৌধুরী

মহিউদ্দিন চৌধুরী শুধু একজন আওয়ামী লীগ নেতাই ছিলেন না, তিনি ছিলেন পুরো চট্টগ্রামের অভিভাবক। বিভিন্ন সময়ে তিনি চট্টগ্রাম বন্দরসহ বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে একাধিকবার আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন, চট্টগ্রামের আপামর মানুষের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করেছেন। শরীরের নানা রোগ-ব্যাধিকে উপেক্ষা করে অসীম সাহস, তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত আর জনগণের সুখ-দুঃখে পাশে দাড়িয়ে মহিউদ্দিন চৌধুরী চট্টগ্রামের অভিভাবকের আসনে অধিষ্ঠিত হয়েছিলেন। ১৯৪৪ সালের পহেলা ডিসেম্বর চট্টগ্রাম জেলার রাউজান উপজেলার গহিরা গ্রামে এই মহান নেতা জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবার নাম মরহুম হোসেন আহমদ চৌধুরী, আর মাতা মরহুম বেদৌরা বেগম। আট ভাইবোনের মাঝে মহিউদ্দিন মেঝ। বাবা চাকরি করতেন আসাম বেঙ্গল রেলওয়েতে। মহিউদ্দিন চৌধুরী স্কুল জীবনেই জড়িয়ে পড়েন ছাত্রলীগের রাজনীতিতে। মাধ্যমিক পড়াশুনা শেষেই ভর্তি হন ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের কোর্সে। তবে ইঞ্জিনিয়ারিং পাঠ না চুকিয়ে ভর্তি হন চট্টগ্রামের অন্যতম বিদ্যাপিঠ চট্টগ্রাম কলেজে। বছর না ঘুরতেই ভর্তি হন কমার্স কলেজ, পরে সিটি কলেজে। সিটি কলেজে থাকাকালেই বিপ্লবী রাজনীতির হাতেখড়ি হয় তাঁর। সিটি কলেজের পর ভর্তি হন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে। সেখান থেকে লাভ করেন স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর ডিগ্রি। রাজনৈতিক জীবনের শুরুতেই জননেতা জহুর আহমদ চৌধুরীর সান্নিধ্য পান। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের খুবই কাছের আর আদরের ছাত্রনেতা ছিলেন মহিউদ্দিন চৌধুরী। জাতিরজনকের ডাকে আন্দোলন-সংগ্রামে অংশ নিয়েছেন তিনি। এজন্য পাক বাহিনীর কাছে গ্রেফতার হয়েছেন অসংখ্যবার। মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিতে গিয়ে পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ের চট্টগ্রাম নেভাল একাডেমি সদর দফতরের কাছে গ্রেফতার হয়ে দীর্ঘ চারমাস অমানুষিক নির্যাতনের শিকার হন এই নেতা। তার গ্রেফতারের খবরের কিছুদিন পর ধরেই নেওয়া হয় যে মহিউদ্দিন আর বেঁছে নেই। এজন্য ভারতের একটি মুক্তিযোদ্ধা শিবিরে ‘শহীদ মহিউদ্দীন’ ক্যাম্প নামে একটি ক্যাম্প খোলা হয়েছিলো। হঠাৎ একদিন মানসিক রোগীর নাটক করে চট্টগ্রাম কারাগার থেকে পালিয়ে বের হন মহিউদ্দিন। কারাগার থেকে বের হয়ে পাড়ি জমান ভারতে। সেখানে সশস্ত্র প্রশিক্ষণ নেন। প্রশিক্ষণ শেষে সক্রিয়ভাবে সম্মুখসমরে অংশ নেন তিনি। মুক্তিযুদ্ধে তিনি ছিলেন ভারত-বাংলা যৌথবাহিনীর মাউন্টেন ডিভিশনের অধীনে। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর স্বাধীন হয় বাংলাদেশ। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে জহুর আহমদ চৌধুরীর নেতৃত্বে ঝাপিয়ে পড়েন নতুন সংগ্রামে। কিন্তু ১৯৭৫ সালে ১৫ আগস্ট ষড়যন্ত্রকারীদের হাতে নিহত হন বঙ্গবন্ধু। অল্পের জন্য মহিউদ্দিন ধরা পড়া থেকে বেঁচে যান, মৃত্যুবরণ করেন সাথী মৌলভি সৈয়দ। সক্রিয় হন প্রকাশ্য রাজনীতিতে। ৯০ দশকের দিকে স্বৈরাচারী জান্তা এরশাদের শাসনামলে চট্টগ্রামে স্বয়ং জান্তা প্রধানকে অবান্চিত ঘোষণা করে সরকারের চক্ষুশূল হন মহিউদ্দিন চৌধুরী। ফলে আবারও কারাবন্দি হন তিনি। ১৯৯০-এর গণআন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা রেখে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। চট্টগ্রামবাসীর আস্থা ও ভরসার প্রতীক হয়ে উঠেন মহিউদ্দিন চৌধুরী। ১৯৯৪ সালে প্রথমবার চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে প্রার্থী হয়েই বিজয়ী হন। ২০০০ সালে দ্বিতীয় দফায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় মেয়র হন তিনি । এরপর ২০০৫ সালে তৃতীয় দফায় মেয়র নির্বাচিত হন মহিউদ্দিন। ২০০৬ সালের ২৭ জুন চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি হন মহিউদ্দিন চৌধুরী। এর আগে প্রায় দুই যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। বর্ণাঢ্য এক জীবন ছিলো চট্টলবীর খ্যাত এই নেতার। মহান এই নেতার মৃত্যু চট্টগ্রামবাসীর জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।   //এমআর

চট্টলবীর মহিউদ্দিন চৌধুরী আর নেই

চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী আর নেই (ইন্নালিল্লাহি...রাজিউন)। গতকাল বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে চট্টগ্রামের ম্যাক্স হাসপাতালে শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিলো ৭৪ বছর। তিনি কিডনিজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন। হাসপাতালে মহিউদ্দিন চৌধুরীর ছেলে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল গণমাধ্যমকে জানান, আজ শুক্রবার (১৫ ডিসেম্বর) বাদ আসর লালদীঘি ময়দানে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।   গত ১১ নভেম্বর রাতে কিডনিজনিত সমস্যায় মহিউদ্দিন চৌধুরীকে ম্যাক্স হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ সময় অবস্থার অবনতি ঘটলে পরদিন তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকায় নেওয়া হয়। সেখানে স্কয়ার হাসাপাতলে তিন দিন চিকিৎসার পর ১৬ নভেম্বর সিঙ্গাপুর নিয়ে যাওয়া হয় বর্ষীয়ান এ নেতাকে। সিঙ্গাপুরে ১১ দিন চিকিৎসা শেষে ২৬ নভেম্বর তাকে আবার ঢাকায় স্কয়ার হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। শারিরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলে মঙ্গলবার (১২ ডিসেম্বর) তাকে চট্টগ্রামে নিয়ে আসা হয়। এরপর আবারও অসুস্থবোধ করলে মহিউদ্দিন চৌধুরীকে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর আড়াইটার দিকে ম্যাক্স হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি ঘটলে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। পরে রাত সাড়ে তিনটার দিকে মারা যান তিনি। তার মৃত্যুর খবর শুনে রাতেই হাসপাতালের সামনে ভিড় জমান বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ। এ সময় অনেকেই কান্নায় ভেঙে পড়েন।   //এমআর

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আনিসুল হককে নিয়ে স্মৃতিচারণ

বিশ্বায়নের এ যুগে মানুষ তার সুখ-দুঃখ বা আবেগের কথাগুলো সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে প্রকাশ করতে বেশি পছন্দ করেন। অনেকেই রাগ-ক্ষোভেরও প্রকাশ ঘটান ফেসবুক বা টুইটারের মাধ্যমে। ব্যক্তিগত কোনো সাফল্য, অর্জন বা প্রিয়জন বিয়োগের কথাও ফেসবুক স্ট্যাটাসের মাধ্যমে প্রকাশ করেন। তেমনি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আনিসুল হকের মৃত্যু নিয়ে দেশের সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বিশিষ্ট ব্যক্তিরাও তাদের বেদনা বিধুর অভিব্যক্তি প্রকাশ করেছেন। ‘তার দু`চোখ ভরা স্বপ্ন’ শিরোনামে আনিসুল হককে নিয়ে ফেসবুক স্ট্যাটাসে নিজের আবেগ অনুভূতির কথা প্রকাশ করলেন দৈনিক সমকালের সম্পাদক গোলাম সারওয়ার। তিনি তার ফেসবুক ওয়াল পেইজে লিখেন, “মৃত্যু অমোঘ, অনিবার্য। `আকাশের লক্ষ তারা` জীবনকে প্রতিনিয়ত ডাকছে। এই ডাক অগ্রাহ্য করার ক্ষমতা কারও নেই। এই নিষ্ঠুর বাস্তবতার মধ্যেই সুখ-দুঃখের ভেলায় জীবননৌকা কখনও শান্ত, কখনও বা ঊর্মিমুখর সাগরে এগিয়ে চলে। নৌকাটি কখন হঠাৎ থেমে যাবে, তা শুধু একজনই জানেন- যিনি অলক্ষ্যে বসে বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করছেন। এই নিষ্ঠুর বিধাতা বেশ কয়েক মাস আমাদের আশা-নিরাশার দোলাচলে দুলিয়ে প্রিয় আনিসুল হককে কেড়ে নিলেন। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের সদা হাস্যমুখ মেয়র আনিসুল হক। `ডিএনসিসির মেয়র`, এ পরিচয় মোটেই মুখ্য নয়- তার বড় পরিচয় তিনি আমাদের লোক। আমাদের অতি প্রিয়জন।” মেয়রের দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই তিনি রাজধানীকে যানজটমুক্ত করার জন্য বেশ কিছু সাহসী পদক্ষেপ নিয়েছিলেন সদ্য প্রয়াত এই নগর পিতা। তেজগাঁও ট্রাকস্ট্যান্ড উচ্ছেদের জন্য মেয়রের নেতৃত্বে অভিযানকালে ট্রাকচালক-শ্রমিকদের মুহুর্মুহু ইটপাটকেল বর্ষণে আনিসুল হকের জীবন বিপন্ন হয়েছিল। যথাসময়ে পুলিশ না এলে একটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারত। সাতরাস্তা থেকে তেজগাঁও রেলগেট পর্যন্ত সড়কটির নাম ‘আনিসুল হক সড়ক’ করার দাবিও জানান তিনি। ব্যারিস্টার তানজিম আল ইসলাম তার স্ট্যাটাসে বলেন, ‘২০০৭ সাল মাত্র এলএলএম শেষ করে ঢাকায় আসি টুকটাক লেখালিখি করে পকেট খরচটা জোগার করতাম। থাকতাম নিকুঞ্জে। একটা চাকুরী পাওয়ার খুব চেষ্টা করছিলাম। এক বড় ভাইয়ের রেফারেন্সে নিকুঞ্জ মোহাম্মদী গ্রুপে আনিসুল হকের সাথে দেখা করি। আমার সাথে কথা বলে আনিসুল হক আমাকে বললেন “তোমার মাথায় এখন চাকুরী পাওয়ার চাপ তাই ভাল মন্দ বুঝতে পারবেনা। তুমি চাইলে এখানে জয়েন করতে পার কিন্তু তোমার সামনে আরও সুন্দর পথ রয়েছে। উকালতি কর ভাল করতে পারবে। চিন্তা কর। চিন্তা করে তোমার মন যেটা ভালো মনে করবে তাই কর।” বাসায় এসে চিন্তা করে আর যাইনি চাকুরীতে যোগ দিতে। এই হলেন আনিসুল হক। আমার কোন আত্মীয় নন, আমার কেউ হননা তিনি; কিন্তু টিভিতে আজ তার শেষযাত্রা দেখে নিজের চোখ বার বার ভিজে যাচ্ছে। প্রিয় আনিসুল হক অনেক ভাল থাকবেন।” এটিএন নিউজের হেড অব নিউজ মুন্নি সাহা তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেন, “রয়েছো নয়নে নয়নে/ আনিসুল হককে শ্রদ্ধায় স্মরণ।” রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের প্রভাষক মানুম আবদুল কাইয়ূম তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে লেখেন, “এমন খবর শোনার জন্য প্রস্তুত ছিলাম না মোটেই। আপনার সেই মোটিভেশনাল স্পিচের কথা মনে পড়ছে। যেটি শুনে চোখ ভিজে আসে। আপনি শান্তিতে ঘুমান। আপনার শোক সন্তপ্ত পরিবার (ব্যক্তিগত ও সিটি কর্পোরেশন) এর প্রতি সমবেদনা রইল ” এরকম অসংখ্য পোস্ট ফেসবুকে ভাসছে। সবাই প্রিয় আনিসুল হককে হারিয়ে শোকাহত। সবাই তার বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করছেন।   এসএইচ/টিকে

‘আনিসুল হকের কাছ থেকে কেউ খালি হাতে ফিরেননি’

সদ্য প্রয়াত ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আনিসুল হক একজন দানশীল ব্যক্তি ছিলেন। সব সময় এলাকার গরিব মানুষের কাছে ছুটে যেতেন। তার কাছ থেকে কেউ খালি হাতে ফিরেননি। আনিসুল হকের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে এসব কথা বলেন তার চাচাতো ভাই সাইফুল গণি চৌধুরী। তিনি জানান, আনিসুল হক নিজ এলাকায় ‘শরীফ রৌশন কল্যাণ ট্রাস্ট’ গঠন করে কবিরহাট সরকারি কলেজ, কবিরহাট মডেল স্কুল, কবিরহাট সিনিয়র আলিম মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তির ব্যবস্থা করেন। দীর্ঘদিন ধরে এলাকার গরিব নারীদের এই ট্রাস্টের মাধ্যমে অর্থ দিচ্ছিলেন। অবস্থা অনুযায়ী পাঁচ হাজার, দশ হাজার, পনের হাজার টাকা করে অর্থ প্রদান করতেন। তাছাড়া নারীদের স্বাবলম্বী করতে সেলাই মেশিনও দান করতেন। কৃষকদের দিতেন সেচ মেশিন। এভাবেই সুখ-দুঃখে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়াতেন তিনি। এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতি শীত মৌসুমে তিনি কমপক্ষে দুই ট্রাক সোয়েটার-কম্বল বিতরণ করতেন। এলাকাবাসীর দুঃখ-দুর্দশার কথা মনোযোগ সহকারে শুনতেন। এলাকার কোনো সমস্যা নিয়ে তার কাছে গেলে উভয় পক্ষকে খুশি রেখেই চমৎকার উপায়ে তা সমাধান করে দিতেন। উল্লেখ, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের সদ্য প্রয়াত মেয়র আনিসুল হককে আজ শনিবার বিকালে বনানী কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। /ডিডি/ টিকে

প্রধানমন্ত্রী চাইলে যে কোনো কাজে সহযোগিতা করবো: নাভিদুল হক

সস্য প্রয়াত ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আনিসুল হকের ছেলে নাভিদুল হক বলেছেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী চাইলে আমাদের পরিবার যে কোনো কাজের ক্ষেত্রে সহযোগিতার জন্য প্রস্তুত। আমরা যেকোনো অবস্থায় যেখানেই থাকি না কেন, সব সময় সহযোগিতা করে যাবো। শনিবার সন্ধ্যায় মেয়র আনিসুল হককে বনানী কবরস্থানে দাফন শেষে ছেলে নাভিদুল হক এসব কথা বলেন। এসময় তিনি আরও বলেন, বাবা যখন খুবই অসুস্থ তখনও তিনি শুধু ঢাকা সিটির কথা বলতেন। শেষবার যখন তার সঙ্গে কথা বলি তখন তিনি সিটির কথা বলতে গেলে আমি তাকে বলি, তুমি শুধু এসব কথাই কি বলবে? এর বাইরে কি আর কোনো কথা নেই? তখন তিনি বলেন, ঠিক আছে তোমার সঙ্গে আর কথা বলবো না। নাভিদ বলেন, বাবা সব সময় আমাকে বলতেন নাভিদ এই শহরের মানুষদের জন্য এমন কিছু কাজ করতে চাই যাতে করে আগামী পঞ্চাশ বা একশ’ বছর তারা এর সুফল ভোগ করবে। আমি তাকে সব সময় তার কাজের ক্ষেত্রে সহযোগিতা করেছি। তিনি যে কোনো কাজের আগে আমার সঙ্গে পরামর্শ করতেন। আমি তাকে প্রত্যেকটি বিষয়ে আলাদা আলাদা পরামর্শ দিতাম। নাভিদ হক বলেন, বাবা আমাকে আমার জীবন চলার উপযোগী এমন কিছু পরামর্শ দিয়েছেন, যা সারা জীবন আমি মেনে চলবো। বাবা সব সময় ঢাকা সিটির কথা ভাবতেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাবা বলতেন আমি যদি এর পরে আর মেয়র না থাকি তাহলে মানুষ আমাকে মনে রাখবে? নাভিদ, এমন কিছু করতে হবে যে কারণে মানুষ যুগ যুগ ধরে স্মরণ করবে। আমার বাবা চেষ্টা করেছেন তার পরিকল্পনার আলোকে কাজগুলো শেষ করতে। কিন্তু তিনি সবগুলো কাজ সমাপ্ত করতে পারেননি। তিনি বলতেন, রাস্তা ঘাট, ড্রেনেজ সমস্যা এসব কাজতো বেশি দিন থাকবেনা। শেষ হয়ে যাবে। তাই নতুন পরিকল্পনাগুলো আগামী প্রজন্মের জন্য দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। তিনি বলেন, বাবা খুবই একজন হাসি খুশি মানুষ ছিলেন। তিনি কখনো কাউকে কষ্ট দিতেন না। আমি বলতে পারি তিনি একজন ভালো মানুষ ছিলেন। নিজের স্বার্থের জন্য কখনো তিনি কিছু করেননি। বাবা সিটি করপোরেশন থেকে কোনো বেতন নিতেন না। তিনি করপোরেশনের তেল-গাড়ি কিছুই ব্যবহার করেননি। শুধু এই দেশের মানুষের জন্য কিছু করতে চেয়েছেন। এই সিটিকে স্বপ্নময় নগরে পরিণত করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তিনি কাজ শেষ করতে পারেননি। তার এই কাজগুলো শেষ করতে হয়ত অন্য কারো চার-পাঁচ বছর লাগতে পারে। বা কেউ এসে তার অসমাপ্ত কাজগুলো শেষ করবে।     এসি/টিকে

‘শ্রমিকরাও ছিলেন আনিসুলের বন্ধু’

শ্রমিকরা ছিলেন সদ্য প্রয়াত মেয়র আনিসুল হকের বন্ধু। তিনি খুবই মিশুক প্রকৃতির ছিলেন। সবার নিয়মিত খোঁজ-খবর রাখতেন। জেবল হক নামে মধ্যবয়সী এক শ্রমিক আনিসুল হকের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে এসব কথা বলেন। ২০০০ সালে আনিসুল হকের সোয়েটার ফ্যাক্টরিতে চাকরি নেন নোয়াখালীর অধিবাসী জেবল হক। ওই সময়ের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, ‘আমি চাকরির জন্য তার ঢাকার বাসায় যাই। দুই দিন তার বাসায় মেহমান হিসেবে থাকি। পরের দিন তিনি গাড়িতে করে আমাকে তার খিলক্ষেত ফ্যাক্টরিতে নিয়ে যান। দাঁড়িয়ে থেকে অফিসের নিয়ম অনুযায়ী আমাকে নিয়োগের ব্যবস্থা করেন।’ জেবল হক আরও জানান, একটি গ্রুপের চেয়ারম্যান নিজের গাড়িতে করে সাধারণ একজন শ্রমিককে নিয়ে দাঁড়িয়ে থেকে নিয়োগের ব্যবস্থা করা দুর্লভ ঘটনাই বটে। আনিসুল হককে একজন শ্রমিকবান্ধব মালিক আখ্যা দিয়ে জেবল হক আরও বলেন, তিনি খুবই মিশুক ছিলেন। শ্রমিকরা ছিলেন তার বন্ধুর মতো। ফ্যাক্টরিতে এসে শ্রমিকদের পিঠে হাত বুলিয়ে জিজ্ঞেস করতেন, ‘বাবা, ভালো আছো তো?’ স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে জেবল হক কেঁদে বলেন, আমাদের আর কেউ এই কথা জিজ্ঞেস করবেন না। উল্লেখ, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের সদ্য প্রয়াত মেয়র আনিসুল হককে আজ শনিবার বিকালে বনানী কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।   /ডিডি/ এআর

চিরনিদ্রায় গ্রীন ঢাকার স্বপ্নদ্রষ্টা

মা রওশন আরা হকের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন মেয়র আনিসুল হক। মেয়রের শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী বনানীর কবরস্থানে শনিবার বিকেলে তাকে শায়িত করা হলো। এর আগে বিকেল ৩টা ১২ মিনিটে প্রয়াত মেয়রের মরদেহ আনা হয় আর্মি স্টেডিয়ামে।  এরপর  সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য বিকেল ৩টা ২২ মিনিটে মঞ্চে উঠানো হয় তার লাশবাহী কফিন। সেখানে সর্বপ্রথম রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের পক্ষে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব মেজর জেনারেল সরওয়ার হোসেন। এরপর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান তার সামরিক সচিব মেজর জেনারেল মিয়া মোহাম্মদ জয়নুল আবেদীন। ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে ওবায়দুল কাদের, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন, বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন,

আমি একা হয়ে গেলাম : দক্ষিণ মেয়র

সদ্য প্রয়াত ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আনিসুল হককে স্মরণ করে দক্ষিণ সিটি মেয়র সাঈদ খোকন বলেছেন, তিনি (আনিসুল হক) আমাকে প্রতিটি কাজে পরামর্শ দিতেন। এখন আর কেউ আমাকে বড় ভাইয়ের মতো পরামর্শ দেবে না। আমাদের জুটি ভেঙে গেল। আমি এখন একা হয়ে গেলাম। শনিবার দুপুরে বনানীর ৩২ নম্বর রোডের ৮০ নম্বর বাসায় ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আনিসুল হকের মরদেহ দেখতে এসে এভাবেই কথাগুলো বললেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন। দক্ষিণ সিটি মেয়র বলেন, আমরা দু’জন মিলে আধুনিক ঢাকা গড়ার স্বপ্ন দেখেছিলাম। রাজধানীবাসিকে একটি সবুজ নগর দিতে চেয়েছিলাম। ভবিষ্যতে সে স্বপ্নের কী হবে জানিনা। আমি এখন একা হয়ে গেছি। তিনি বলেন, বড় ভাইয়ের মতো সবসময় আমার পাশে ছিলেন মেয়র আনিসুল হক। এখন আমার কাছে সবকিছু সবকিছু যেন অন্ধকার লাগছে।   আর  

রত্নাগর্ভা মায়ের সন্তান আনিসুল হক

প্রয়াত মেয়র আনিসুল হক বাবা মায়ের প্রথম সন্তান। বাবা শরীফুল হক বাংলাদেশ আনসারে চাকরি করতেন। মা রৌশন আরা ছিলেন সন্তানদের ব্যাপারে সব সময় সচেষ্ট। বাবা মায়ের সেই পরিশ্রম বৃথা যায়নি। প্রথম সন্তান আনিসুল হক- এর কথা আমরা জানি। দ্বিতীয় সন্তান ড. ইকবাল একজন ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ। তিনি আমেরিকার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন।তৃতীয় সন্তান এম হেলাল যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী। তিনি পেশায় একটি বিদেশি জাহাজের ক্যাপ্টেন। ছোট সন্তান বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান। একমাত্র মেয়ে জেসমিন হক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেছেন। তার স্বামী একটি বেসরকারি ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। পারিবারিকভাবে খুব বেশি বিত্ত না থাকলেও সন্তানদের মানুষ করার ব্যাপারে সফল ছিলেন এই বাবা মা। যা অনেকের জন্য অনুকরণীয় হতে পারে। আনিসুল হকের মা একজন রত্নগর্ভা মা হিসেবে দেশে প্রতিষ্ঠিত।   এসএইচ/

আনিসুল হককে বিনম্র শ্রদ্ধা ক্রিকেটারদের

পিনপতন নিরবতায় সদ্যপ্রয়াত ঢাকা উত্তরের মেয়র আনিসুল হককে বিনম্র শ্রদ্ধা জানিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড-বিসিবি। শনিবার দুপুরে বিপিএলে রংপুর রাইডার্স ও কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের ম্যাচের আগে নিরবতা পালনের মাধ্যমে তাঁকে শ্রদ্ধা জানানো হয়। এসময় মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়াম পুরো এক মিনিটের জন্য স্তব্ধ হয়ে যায়। পুরো গ্যালারিসহ শ্রদ্ধাভরে মাথা নত করে দাড়িঁয়ে যায় সকল ক্রিকেটাররা। এমনকি প্রেসবক্সের সকল সাংবাদিকও শামিল হন এই নীরবতায়। সাইট স্ক্রিনে ভেসে ওঠে "মেয়র আনিসুল হক (১৯৫২-২০১৭)। বিসিবি জানিয়েছে, দিনের দ্বিতীয় ম্যাচেও কালো আর্মব্যান্ড (বাহুবন্ধনী) পরে মাঠে নামবেন খেলোয়াড়রা। উল্লেখ্য, গত ২৯ জুলাই ব্যক্তিগত সফরে সপরিবারে যুক্তরাজ্যে গিয়েছেলেন মেয়র আনিসুল হক। অসুস্থ হয়ে পড়লে গত ১৩ আগস্ট তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাঁর শরীরে মস্তিষ্কের প্রদাহজনিত রোগ ‘সেরিব্রাল ভাস্কুলাইটিস’ শনাক্ত করেন চিকিৎসকরা। পরে তাঁকে দীর্ঘদিন আইসিইউতে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল। গত বৃহস্পতিবার রাত ১০টা ২৩ মিনিটে মারা যান তিনি।  

© ২০১৭ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি