ঢাকা, রবিবার, ২৪ জুন, ২০১৮ ৯:১৮:০৮

অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর জন্মদিন আজ

অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর জন্মদিন আজ

প্রখ্যাত প্রাবন্ধিক, শিক্ষাবিদ, গবেষক ও ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর ৮৩তম জন্মদিন আজ শনিবার। ১৯৩৬ সালের ২৩ জুন বিক্রমপুরের বাড়ৈখালীতে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তার শিক্ষা জীবন কেটেছে রাজশাহী, কলকাতা, ঢাকা ও যুক্তরাজ্যে। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ছিলেন। অধ্যাপকের পদ থেকে অবসর গ্রহণের পর সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী সাহিত্য ও সংস্কৃতিবিষয়ক ত্রৈমাসিক পত্রিকা ‘নতুন দিগন্ত’ সম্পাদনা করছেন। প্রবন্ধ, অনুবাদ ও কথাসাহিত্য মিলিয়ে তার রচিত বইয়ের সংখ্যা প্রায় ১১০টি। তার লেখা কয়েকটি বই ‘বঙ্কিমচন্দ্রের জমিদার ও কৃষক’, ‘বাঙালীর জাতীয়তাবাদ’, ‘জাতীয়তাবাদ, সাম্প্রদায়িকতা ও জনগণের মুক্তি :১৯০৫-৪৭’, ‘দুই যাত্রায় এক যাত্রী’ উল্লেখযোগ্য। সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী সাম্যবাদী রাজনৈতিক দর্শনে অবিচল। তার বিভিন্ন লেখায় সমাজ বিপ্লবের প্রয়োজনীয়তার কথা উঠে এসেছে। তার প্রাঞ্জল ও সুখপাঠ্য রচনাগুলোতে আরও উঠে এসেছে গভীর দার্শনিকতা ও ইতিহাস চেতনা। শিক্ষক হিসেবেও বেশ জনপ্রিয় ছিলেন সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী। তিনি কলাম লেখক হিসেবেও জনপ্রিয়। সত্তরের দশক থেকে বিভিন্ন দৈনিক ও সাপ্তাহিক পত্রিকায় নিয়মিত কলাম লিখে আসছেন তিনি। সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর জন্মদিন উপলক্ষে ‘সমাজ পরিবর্তনে আমরা কী করতে পারি’ শীর্ষক এক মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়েছে। আজ বিকেল ৫টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির পাশে উচ্চতর গবেষণা কেন্দ্রে সভাটি অনুষ্ঠিত হবে। এসএ/
শিল্পগুরু সফিউদ্দীন আহমেদের ৯৭তম জন্মদিন আজ

বহুমাত্রিক শিল্পী ও চারুকলা ইনস্টিটিউটের অন্যতম স্বপ্নদ্রষ্টা প্রয়াত শিল্পগুরু সফিউদ্দীন আহমেদের ৯৭তম জন্মদিন আজ। ১৯২২ সালের এই দিনে কলকাতার ভবানীপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তার সৃজনশীল শক্তি ও শিল্পমনীষা এ দেশের চিত্রকলা অঙ্গনকে সমৃদ্ধ করেছে। আজীবন শিল্পকলায় নিবেদিত সফিউদ্দীন আহমেদ ১৯৪২ সালে কলকাতা সরকারি আর্ট কলেজ থেকে চারুকলায় স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। পরে ওই কলেজে লিথোগ্রাফির শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন তিনি। ১৯৪৬ সালে আন্তর্জাতিক সমকালীন চারুকলা প্রদর্শনীতে তার উড ইনগ্রেভিং মাধ্যমে আঁকা ‘সাঁওতাল মেয়ে’ চিত্রকর্মের জন্য পাশ্চাত্যধারার সাদাকালো বিভাগে প্রথম পুরস্কার অর্জন করেন সফিউদ্দীন আহমেদ। পরের বছর নয়াদিল্লিতে আয়োজিত আন্তঃদেশীয় চারুকলা প্রদর্শনীতে অ্যাকুয়াটিন্ট মাধ্যমে আঁকা ‘পারাবত’ চিত্রকর্মের জন্যও সাদাকালো বিভাগে প্রথম পুরস্কার পান তিনি। ১৯৪৮ সালে জয়নুল আবেদিন, কামরুল হাসান, আনোয়ারুল হকের সঙ্গে যুক্ত হয়ে ঢাকা আর্ট স্কুল (বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চারুকলা ইনস্টিটিউট) প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন সফিউদ্দীন আহমেদ। ১৯৭৯ সাল পর্যন্ত তিনি সেখানে ছাপচিত্র বিভাগের প্রধান ছিলেন। চিত্রশিল্পে অবদানের জন্য সফিউদ্দীন আহমেদ ১৯৭৮ সালে একুশে পদক এবং ১৯৯৬ সালে স্বাধীনতা পদক লাভ করেন। ২০১২ সালের ১৯ মে এই কীর্তিমান শিল্পী মৃত্যুবরণ করেন। এসএ/

সেলিনা হোসেনের ৭২তম জন্মদিন আজ

কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেনের ৭২তম জন্মদিন আজ ১৪ জুন।  ১৯৪৭ সালের আজকের দিনে রাজশাহী জেলায় তার জন্ম। তার পৈতৃক নিবাস লক্ষ্মীপুর জেলার হাজিরপাড়া গ্রামে। সেলিনা হোসেনের বাংলা একাডেমির পরিচালক পদ থেকে ২০০৪ সালে অবসর নেন। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ শিশু একাডেমির চেয়ারম্যান। ব্র্যাক-সমকাল সাহিত্য পুরস্কারের বিচারকমণ্ডলীর সদস্য এ কথাসাহিত্যিক। তিনি একাধারে উপন্যাস, ছোটগল্প ও প্রবন্ধ রচনা করেছেন। শিশু সাহিত্য এবং গবেষণায়ও রেখেছেন অনন্য স্বাক্ষর। সেলিনা হোসেন একুশে পদক, বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার, আলাওল সাহিত্য পুরস্কার, ড. মুহম্মদ এনামুল হক স্বর্ণপদক, ফিলিপস সাহিত্য পুরস্কার, রবীন্দ্রস্মৃতি পুরস্কার, খালেকদাদ চৌধুরী সাহিত্য পুরস্কার ২০১৪ এবং শিশু সাহিত্যে অবদানের জন্য আনন সাহিত্য পুরস্কার ২০১৫ লাভ করেন। ২০১০ সালে কলকাতার রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদ্যালয় তাকে ডি-লিট উপাধিতে ভূষিত করে। ষাটের দশকের মধ্যভাগে রাজশাহী মহিলা কলেজে পড়ার সময়ে তার লেখালেখির সূচনা। সে সময়ের লেখা নিয়ে প্রথম গল্পগ্রন্থ `উৎস থেকে নিরন্তর` প্রকাশিত হয় ১৯৬৯ সালে। তার দুটি গ্রন্থ `পোকামাকড়ের ঘরবসতি` এবং `হাঙর নদী গ্রেনেড` দিয়ে চলচ্চিত্র এবং কয়েকটি গল্প নিয়ে নাটক নির্মাণ করা হয়েছে। সেলিনা হোসেনের প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা প্রায় একশ`। ইংরেজি, হিন্দি, মারাঠি, কানাড়ি, রুশ, মালে, মালয়ালম, ফরাসি, জাপানি, ফিনিশ, কোরিয়ান প্রভৃতি ভাষায় সেলিনা হোসেনের বেশ কয়েকটি গল্প অনূদিত হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে তার `যাপিত জীবন` ও যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে তার `নিরন্তর ঘণ্টাধ্বনি` উপন্যাসটি পাঠ্যসূচিভুক্ত। শিলচরে আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঁচটি উপন্যাস এমফিল গবেষণাভুক্ত। ২০০৫ সাল থেকে শিকাগোর ওকটন কলেজের সাহিত্য বিভাগে দক্ষিণ এশিয়ার সাহিত্য কোর্সে তার `হাঙর নদী গ্রেনেড` উপন্যাসটি পাঠ্যসূচিভুক্ত হয়। একে//

শিল্পপতি শামসুদ্দোহা চৌধুরী আর নেই

বিশিষ্ট শিল্পপতি ইঞ্জিনিয়ার এ কিউ এম শামসুদ্দোহা চৌধুরী আর নেই। তিনি বিকল্পধারা বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট ও সাবকে রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর বড় ভাই। বুধবার রাত সোয়া ৯টায় রাজধানীর গুলশানের নিজ বাসভবনে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তিনি ইন্তেকাল করেন। এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর প্রেস সচিব জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।এ কিউ এম শামসুদ্দোহা দীর্ঘদিন থেকে হৃদরোগে ভুগছিলেন। ৮৯ বছর বয়সী ইঞ্জিনিয়ার শামসুদ্দোহা স্ত্রী, তিন মেয়ে, এক ছেলে ও নাতি-নাতনিসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন রেখে গেছেন।বর্ণাঢ্য জীবনের অধিকারী শামসুদ্দোহা চৌধুরী আমেরিকার ইলিনয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে এম এস করে বুয়েটে অধ্যাপনা শুরু করেন। পরে ব্যবসা শুরু করে শিল্পপতি হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করেন।বড় ভাইয়ের মৃত্যুতে অধ্যাপক এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী গভীর শোক প্রকাশ করে মরহুমের রুহের মাগফেরাত কামনা করেছেন।এসএ/  

শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের ৪২তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

আজ ২৮ মে সোমবার। আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন চিত্রশিল্পী শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের ৪২তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ১৯৭৬ সালের এই দিনে ঢাকায় পৃথিবীর মৃত্যুবরণ করেন বরেণ্য এই শিল্পী। তার মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের উদ্যোগে আজ সকাল ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে তার সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। জয়নুল আবেদিন বিংশ শতাব্দীর একজন বিখ্যাত বাঙালি চিত্রশিল্পী। পূর্ববঙ্গে তথা বাংলাদেশে চিত্রশিল্প বিষয়ক শিক্ষার প্রসারে আমৃত্যু প্রচেষ্টার জন্য তিনি শিল্পাচার্য অভিধা লাভ করেন। ১৯১৪ খ্রিস্টাব্দের ২৯ ডিসেম্বর তৎকালীন ময়মনসিংহ জেলার কিশোরগঞ্জ মহুকুমার কেন্দুয়ায় জন্মগ্রহণ করেন। বাবা তমিজউদ্দিন আহমেদ ছিলেন পুলিশের দারোগা (সাব-ইন্সপেক্টর), মা জয়নাবুন্নেছা গৃহিনী। নয় ভাইবোনের মধ্যে জয়নুল আবেদিন ছিলেন সবার বড়। গ্রামবাংলার সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা, মানুষের দুর্দশা, কষ্ট ও সংগ্রামই ছিল জয়নুল আবেদিনের চিত্রকর্মের প্রধান উপজীব্য। ১৯৪৩ সালে দুর্ভিক্ষ চিত্রকর্মের জন্য সারা বিশ্বের কাছে খ্যাতিমান চিত্রশিল্পী হিসেবে নিজেকে প্রকাশ করতে সক্ষম হন তিনি। জয়নুল আবেদিন আরও এঁকেছেন ১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে ‘নবান্ন’, ১৯৭০ সালের প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড়ে লাখো উপকূলবাসীর মৃত্যুতে ‘মনপুরা’র মতো হৃদয়স্পর্শী চিত্র। শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীনের হাত ধরেই বাংলাদেশের অন্যসব বিখ্যাত চিত্রশিল্পীদের যাত্রা। তিনি আমাদের সেই বাতিঘর যেখার থেকে আমরা দেখি গণমানুষের হাজার বছরের আর্তিকে। একে//

নেহরু সম্পর্কে জানা-অজানা ৫ তথ্য

ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী পণ্ডিত জওহরলাল নেহরুর ৫৪তম প্রয়াণবার্ষিকীতে তাকে শ্রদ্ধা জানালেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং, প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়সহ আরও অনেকে৷ ১৯৬৪ সালে ২৭ মে প্রয়াত হয়েছিলেন পণ্ডিত জওহরলাল নেহরু৷ রোববার সকালে প্রয়াত প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীকে শ্রদ্ধা জানাতে ট্যুইট করেন মোদী৷ অন্যদিকে কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধীও শ্রদ্ধা নিবেদনে হাজির হন শান্তিবনে৷ নেহরু সম্পর্কে জানা-অজানা ৫ তথ্য- ১) শান্তির জন্য নোবেল পুরস্কারে ১১ বার তিনি মনোনীত হন ২) তার উঁচু কলার দেওয়া জ্যাকেট নেহরু জ্যাকেট হিসেবে ফ্যাশন হয়ে ওঠে ৩) তিনি ইন্দিরা গান্ধীকে ১৪৬ টি চিঠি লিখেছিলেন, যা তার বই গ্লিমপসেস অব ওয়ার্ল্ড হিস্ট্রিতে তুলে ধরা হয়েছে৷ ৪) দিল্লিতে লালকেল্লায় ভারতের পতাকা প্রথমে তিনিই উত্তোলন করেছিলেন৷ ৫) শাম বেনেগালের টেলিভিশন সিরিজ ভারত এক খোঁজ, নেহরুর দ্য ডিসকভারি অব ইন্ডিয়াকে ভিত্তি করেই তৈরি সূত্র: কলকাতা ২৪x৭ একে//

তরুণদের মাঝে অমর হয়ে থাকবেন নজরুল

কবি কাজী নজরুল ইসলামের পুত্রবধূ উমা কাজী বলেছেন, দেশ-ভাষার মতো জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামও অমর হয়ে থাকবেন । তিনি বলেন, নজরুল তরুণদের মধ্যে বেঁচে আছেন, বেঁচে থাকবেন। এ দেশ-ভাষা যতদিন থাকবে কবিও ততদিন অমর হয়ে থাকবেন। আজ শুক্রবার (২৫ মে) কবির ১১৯তম জন্মবার্ষিকীতে কবির সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো শেষে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় উমা কাজী ছাড়াও জাতীয় কবির পরিবারের অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। উমা কাজী বলেন, কবি নজরুল কবিতা-গানে দেশের কথা বলেছেন, সাম্যের কথা বলেছেন। কবিকে জানতে হলে কবির কবিতাকে জানতে হবে, কবির লেখা পড়তে হবে। বিভিন্ন ভাষায় কবির লেখাকে ছড়িয়ে দিতে হবে। দিবসটি উদযাপনের লক্ষ্যে জাতীয় পর্যায়ে বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এ ছাড়া রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, সংস্থা, সংগঠন নানা অনুষ্ঠানের আয়োজনের মধ্যদিয়ে দিনটি পালন করবে। টিআর/ এমজে

একজন ইউছুপ আলী হয়ে উঠার গল্প

ছেলেবেলায় বাবার সঙ্গে করতেন আলুর ব্যবসা। শিশুকালে অন্য ছেলেরা যখন ব্যাট-বল আর হরেক রকমের খেলনা নিয়ে খেলা করতো, ইউছুপ আলী তখন আলুর স্তুপের বসে আলু গুনতো। সময়ের বিবর্তনে নিজ মেধা আর যোগ্যতায় সেই ইউছুপ আলী-ই আজ হয়ে উঠেছেন বাংলাদেশের অন্যতম ধনাঢ্য ব্যবসায়ী। সমাজে এমন কিছু মানুষ আছেন, যারা কোনো প্রচারণার ধার ধারেন না, জনহিতকর বিভিন্ন কাজ করেই আত্মপ্রসাদ লাভ করেন, হতদরিদ্র ও অসহায় মানুষের পাশে যারা ছায়ার মতো কাজ করেন মোহাম্মদ ইউছুপ আলী তাদেরই একজন। নিজের প্রচেষ্টায়, পরিশ্রম, সাধনা ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে ইউছুপ আলী এখন দেশের অন্যতম ধনকুবের। দেশের সীমানা ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে একজন সফল ব্যবসায়ী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন তিনি। ইউছুপ আলী এশা গ্রুপ অব কোম্পানির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি বর্তমানে বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি হংকং এর সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। এ ছাড়া তিনি হংকংয়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে সাংগঠনিকভাবে শক্তভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে বিশেষ ভূমিকা রাখেন। ইউছুপ আলী একজন সজ্জন মানুষ হিসেবে পরিচিত। এলাকার সাধারণ মানুষের প্রতি রয়েছে তার অপরিসীম মমত্ববোধ ও ভালোবাসা। ইউছুপ আলী’র স্থায়ী নিবাস চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার পূর্বমুরাদপুর গ্রামের দোয়াজীপাড়ায়। মা’র নাম মরহুমা মনজুরা বেগম ও বাবা মরহুম রেজওয়ান উল্লাহ। ১৯৮৬ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একাউন্টিং ডিপার্টমেন্ট থেকে অনার্স এবং ফিন্যান্স ডিপার্টমেন্ট থেকে মাস্টার্স ডিগ্রি লাভ করেন। শিক্ষাজীবন শেষ করে তিনি ১৯৯১ সালের মে মাসে জুনিয়র এক্সিকিউটিভ অফিসার হিসেবে চট্টগ্রামের কেডিএস গ্রুপে চাকরিতে যোগদান করেন। ছাত্রজীবনে তিনি বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের সাথে জড়িত ছিলেন। নিজএলাকার সাবলীল নামক ক্লাবের তিনি প্রতিষ্ঠাতা সেক্রেটারি ও পরে সভাপতি ছিলেন। ১৯৯৩ সালে কেডিএস গ্রুপের হংকং অফিসে যোগদানের মাধ্যমে তিনি হংকং এ বসবাস শুরু করেন। তার দু’কন্যা ও একপুত্র রয়েছে। ১৯৯৯ সাল থেকে তিনি হংকং এ সফলতার সাথে ব্যবসা করে আসছেন। ব্যবসার পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন সামাজিক ও ব্যবসায়িক সংগঠনের সাথেও সম্পৃক্ত আছেন। এমজে/

এনামুল হক মোস্তফা শহীদ

১৯৩৮ সালের ২৮ মার্চ সিলেট জেলার তরফ পরগনার বর্তমান চুনারুঘাট উপজেলার উবাহাটা ইউনিয়নের কুটিরগাঁও নামক গ্রামে মরহুম ডা. আব্দুল হকের ঔরসে ও মরহুমা খোদেজা খাতুনের গর্ভে জন্মগ্রহণ করেন। পরবর্তী সময়ে আমরা মরহুম এনামুল হক মোস্তফা শহীদকে তুখোড় রাজনীতিবিদ, বিশিষ্ট আইনজীবী, অদম্য শিক্ষক, মেধাবী সাংবাদিক, সাবলীল সাংস্কৃতিক কর্মী, নাট্যশিল্পী, ভাষাসৈনিক ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক হিসেবে দেখতে পাই। কুদরতীয়া মাদ্রাসায় বাল্যশিক্ষা সম্পন্ন করে শায়েস্তাগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণিতে অধ্যয়ন করে তিনি ১৯৫২ সালে হবিগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে কৃতিত্বের সঙ্গে ম্যাট্রিক পাস করেন। তিনি বৃন্দাবন কলেজ থেকে ১৯৫৬ সালে বিএ পাস করেন। ১৯৭২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে এলএলবি ডিগ্রি অর্জন করে ১৯৭৬ সালে হাইকোর্টের একজন আইনজীবী হিসেবে সনদপ্রাপ্ত হয়ে আইন পেশায় মনোনিবেশ করেন। ১৯৫২ সালে হবিগঞ্জ ভাষা সংগ্রাম কমিটির অন্যতম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এই লড়াকু ভাষাসৈনিক ভাষা আন্দোলনসহ মুসলিম লীগ সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে গিয়ে বারবার কারাবরণ করেন। ১৯৬০ থেকে ১৯৬৮ সাল পর্যন্ত শিক্ষা সেবার মহান পেশাকে ব্রত মনে করে তিনি হবিগঞ্জ জে. কে. অ্যান্ড এইচ. কে. হাই স্কুলে আট বছর শিক্ষকতা করেন। তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে ১৯৬৬-এর ছয়দফা আন্দোলন ও ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানের আন্দোলনে সরাসরি অংশগ্রহণ করেন। ১৯৭০-এর নির্বাচনে আওয়ামী লীগের একজন তরুণ প্রার্থী হিসেবে প্রথমবারের মতো তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে হবিগঞ্জ মহকুমা সংগ্রাম কমিটির একজন নির্বাহী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক হিসেবে সর্বদলীয় সংগ্রাম পরিষদের অন্যতম সদস্য হিসেবে কাজ করেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারত থেকে সিএমসি’র স্পেশাল ট্রেনিং গ্রহণ করেন এবং ইয়ুথ ক্যাম্পের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া মুক্তিযুদ্ধের সিভিল এয়ারফোর্সের অ্যাডভাইজার হিসেবে কাজ করেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধে বিশেষ অবদানের জন্য ২০১৩ সালে একুশে পদকে ভূষিত হন। ১৯৭০-এর নির্বাচনে প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য হিসেবে তিনি নির্বাচিত হন। পরে ১৯৭৩, ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১ ও ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়লাভ করেন। ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত হয়ে সমাজকল্যাণমন্ত্রী হিসেবে ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি শপথবাক্য পাঠ করেন। তিনি হবিগঞ্জ-৪ আসন থেকে মোট ছয়বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি পূর্ব পাকিস্তানের আর্ট কাউন্সিল হবিগঞ্জ মহকুমা শাখার শিল্পকলা একাডেমির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। বহুবিধ নাটকে প্রাণবন্ত ও সাবলীল অভিনয়ের জন্যে সাধারণের কাছে একজন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হন। লেখক হিসেবে তাঁর লেখা ‘খোয়াই নদীর বাঁকে’ এক অনবদ্য সৃষ্টি। তিনি হবিগঞ্জের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের একমাত্র মুখপত্র মাসিক ‘অভিযাত্রী’র সম্পাদক ছিলেন। ১৯৭৪ সালের ৪ মার্চ এনামুল হক মোস্তফা শহীদ সিলেট জেলার জালালপুর রাইখাইল গ্রামের সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারের মরহুম সৈয়দ মমতাজ আলী ও মরহুমা সৈয়দা কামরুন্নেছা খাতুনের কন্যা সৈয়দা মিনু মমতাজের সঙ্গে বিয়েবন্ধনে আবদ্ধ হন। ২০১৬ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি ৭৮ বছর বয়সে দুই ছেলেসন্তান ও স্ত্রীসহ বহু ভক্ত, শুভাকাক্ষীকে কাঁদিয়ে ঢাকায় একটি হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন।    টিকে

পরমাণু বিজ্ঞানী এম এ ওয়াজেদ মিয়ার ৯ম মৃত্যুবার্ষিক আজ

আজ ৯ মে দেশবরেণ্য পরমাণু বিজ্ঞানী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বামী ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়ার ৯ম মৃত্যুবার্ষিক। এ উপলক্ষে পীরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগ, এম এ ওয়াজেদ ফাউন্ডেশন, মহাজোটের শরীক দলসমুহ এবং আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন বিজ্ঞানীর কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধাঞ্জলি, ফাতেহা পাঠ ও জিয়ারত, স্মৃতিচারণ, মিলাদ মাহফিল ও গরিবদের মাঝে খাবার বিতরণসহ নানা কর্মসুচি গ্রহণ করেছে। প্রয়াত বিজ্ঞানীর ভাতিজা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং পৌর মেয়র তাজিমুল ইসলাম শামীম জানান, সকালে বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে লালদীঘির ফতেহপুরে জয়সদনে প্রয়াত বিজ্ঞানীর কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধাঞ্জলিসহ দিবসের কর্মসুচি শুরু করা হবে। সকালে ফতেপুরের জয়সদন প্রাঙ্গনে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের পর গরীবদের মাঝে খাবার বিতরণ করা হবে। বিকেলে উপজেলা সদরে দলীয় কার্যালয়ে আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী সংগঠন এবং মহাজোটের উদ্যোগে বিজ্ঞানীর স্মৃতিচারণে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। বর্ণাঢ্য কর্মময় জীবনের অধিকারী ওই বিজ্ঞানী ১৯৪২ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি লালদিঘীর ফতেহপুরে একটি সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর জামাতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বামী ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়া বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের চেয়ারম্যান ছিলেন। বিশিষ্ট পরমাণু বিজ্ঞানী ড. ওয়াজেদ মিয়া ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নৃশংস হত্যাকান্ডের পর দীর্ঘ ৭ বছর নির্বাসিত জীবন কাটান। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক স্তরের পদার্থ বিজ্ঞান, ফলিত পদার্থ বিজ্ঞান ও প্রকৌশলের ছাত্রদের জন্য দু’টি গ্রন্থ রচনা করেছেন। এছাড়া তার লেখা ৪৬৪ পৃষ্ঠার ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে ঘিরে কিছু ঘটনা ও বাংলাদেশ’ শিরোনামের গ্রন্থটি ১৯৯৩ সালের জানুয়ারিতে এবং ৩২০ পৃষ্ঠার ‘বাংলাদেশের রাজনীতি ও সরকারের চালচিত্র’ শিরোনামের গ্রন্থটি ১৯৯৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড কর্তৃক প্রকাশিত হয়। বহুল রাজনৈতিক ঘটনা সংবলিত এই দুটি গ্রন্থ সুধী পাঠকদের কাছে বিশেষভাবে সমাদৃত হয়। বাসস টিকে

যথাযথ মর্যাদায় কবি গুরুর জন্মজয়ন্তী পালিত

রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে যথাযথ মযার্দায় বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৫৭তম জন্মবার্ষিকী পালিত হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল থেকেই বিভিন্ন সংগঠন, প্রতিষ্ঠান ও সংস্থা কবিগুরুর ওপর আলোচনা, নাচ, গান, আবৃত্তি ও মেলার মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যের এই দিকপালকে স্মরণ করা হয়। দিবসটি উপলক্ষে সরকারিভাবে কবিগুরুর স্মৃতিবিজড়িত নওগাঁর পতিসর, কুষ্টিয়ার শিলাইদহে, শাহজাদপুরে বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হয়েছে।  উপলক্ষে বাংলা একাডেমিতে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা ও সংগীতানুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে রবীন্দ্র পুরস্কার প্রদান করা হয় গবেষক আবুল মোমেন ও শিল্পী ফাহিম হোসেন চৌধুরীকে। দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। বাণীতে তারা কবিগুরুর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন এবং কবির সামগ্রিক অবদানকে স্মরণ করেন। দুপুরে রাজধানীতে বেসরকারি টিভি চ্যানেল-আই চত্বরে শুরু হয়েছে ‘রবীন্দ্র মেলা ২০১৮’। তেজগাঁয় চ্যানেল আইয়ের প্রাঙ্গণে রবীন্দ্রনাথের এক নৃত্যনাট্যের মধ্য দিয়ে এ মেলার উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে রবীন্দ্র গবেষক-অর্থনীতিবিদ ড. আতিয়ার রহমানকে ‘রবীন্দ্র সন্মাননা’  প্রদান করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, চ্যানেল আই-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগর, পরিচালক (বার্তা প্রধান) শাইখ সিরাজ, অভিনেতা আতাউর রহমান, সংস্কৃতি ব্যাক্তিত্ব গোলাম কুদ্দুস, অভিনয় শিল্পী আফসানা মিমি প্রমুখ।  এছাড়া বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি রবীন্দ্র জন্মবার্ষিকীতে আয়োজন করে আলোচনা সভা। কবির কবিতা থেকে আবৃত্তি, রবীন্দ্র সংগীতের আসর। একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকীর সভাপতিত্বে বিভিন্ন শিল্পীরা এতে অংশ নেন। ছায়ানট দিবসটি উপলক্ষে ৯ ও ১০ মে দু’দিনের কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। আগামীকাল বিকেলে অনুষ্ঠান শুরু হবে। এতে রয়েছে আলোচনা সভা, আবৃত্তি , নৃত্যনাট্য ও বিভিন্ন শিল্পীর গাওয়া রবীন্দ্র সংগীত।   কবি গুরুর জন্ম বার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশ টেলিভিশনসহ বেসরকারি টিভি চ্যানলগুলো দিনব্যাপী রবীন্দ্রনাথের নাটক,  চলচ্চিত্র,  কবির লেখা গান,  নৃত্যনাট্য ইত্যাদি অনুষ্ঠানামালা সম্প্রচার করছে। এছাড়া জাতীয় জাদুঘর, বাংলাদেশ শিশু একাডেমি,  রবীন্দ্র সংগীত শিল্পী সংস্থার পক্ষ থেকেও বিভিন্ন কর্মসূচি পালনের মধ্য দিয়ে দিবসটি পালন করেছে। কেআই/

সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর ৮৩তম জন্মদিন আজ 

ভাষা সৈনিক, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী, বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, এবং মহান জাতীয় সংসদের সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী এমপির ৮৩তম জন্মদিন আজ ৮ মে (মঙ্গলবার)। জন্মদিন উপলক্ষে ধানমণ্ডির নিজ বাসায় দলীয় নেতাকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।  ১৯৩৫ সালে মাগুরা জেলায় মাতুতালয়ে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী। তার পিতা সৈয়দ শাহ হামিদ উল্লাহ এবং মাতা সৈয়দা আছিয়া খাতুন।   ১৯৫৬ সালে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হন তিনি। পরে ১৯৬৯-১৯৭৫ পর্যন্ত তিনি মহিলা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদিকা, মুক্তিযুদ্ধকালীন কলকাতা গোবরা নার্সিং ক্যাম্পের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ছিলেন। ১৯৭৬ সালে ক্রান্তিকালে আওয়ামী লীগকে সুসংগঠিত করতে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং বর্তমানে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করছেন।    সাজেদা চৌধুরী ১৯৮৩-১৯৮৬ সময়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক, ১৯৮৬-১৯৯২ সময়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, ১৯৯২ সাল থেকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বর্তমানে তিনি প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক প্রদত্ত পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী রাজনীতির পাশাপাশি সমাজ উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে সম্পৃক্ত। শিক্ষা, সংস্কৃতি, ক্রীড়া ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে তিনি অবদান রেখে চলেছেন। সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী ১৯৭৪ সালে গ্রামীণ উন্নয়ন ও শিক্ষায় বিশেষ অবদানের জন্য ইউনেস্কো ফেলোশিপপ্রাপ্ত হন। একই সালে তিনি বাংলাদেশ গার্ল-গাইড অ্যাসোসিয়েশনের ন্যাশনাল কমিশনার হিসেবে সর্বোচ্চ সম্মানসূচক সনদ ‘সিলভার এলিফ্যান্ট পদক’ লাভ করেন। তিনি ২০০০ সালে আমেরিকান বায়োগ্রাফিক্যাল ইনস্টিটিউট কর্তৃক ‘উইমেন অব দ্য ইয়ার’ নির্বাচিত হন। এছাড়াও তিনি ২০১০ সালে স্বাধীনতা পদকে ভূষিত হন। বর্ষীয়ান এই রাজনীতিকের জন্মদিনে তার প্রতি রইলো অনেক অনেক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। একে//এসি    

© ২০১৮ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি