ঢাকা, বুধবার, ২৫ এপ্রিল, ২০১৮ ১৪:৫২:২৪

জানা অজানার শেক্সপিয়ার

সর্বশ্রেষ্ঠ নাট্যকারের জন্ম-মৃত্যু বার্ষিকী আজ

জানা অজানার শেক্সপিয়ার

রানি প্রথম এলিজাবেথ ও জ্যাকোবিনের যুগে ইংল্যান্ডে একজন ব্যাক্তির আবির্ভাব হয়েছিলো। বিশ্ব সাহিত্যের পাতায় আজও তিনি সোনার ন্যায় চকচক করছেন। যদিও তিনি বলেছিলেন, ‘চকচক করলেই সোনা হয় না।’ তিনি হলেন সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ সাহিত্যিক ও অগ্রণী নাট্যকার ‘উইলিয়াম শেক্সপিয়ার’। তাকে আরও বলা হয় ‘বার্ড অব এভন’। আজ ২৩ এপ্রিল, এই মহান ব্যাক্তির ৪৫৫তম জন্মদিন ও ৪০২তম মৃত্যুবার্ষিকী। ১৫৬৪ সালের ২৬ এপ্রিল, এভন নদীর তীরে অবস্থিত স্টার্ডফোর্টের এক গির্জায় তার ব্যপ্তিস্ম হয়েছিলেন বলে জানা যায়। এর থেকে বলা যায়, তিনি ১৫৬৪ সালের ২৩ এপ্রিল স্টার্ডফোর্ট-এভনে জন্ম গ্রহন করেন। কারণ জন্মের তিনদিন পর ব্যপ্তিস্ম হয়। ১৬১৬ সালের ২৩ এপ্রিল মৃত্যুবরণ করেন ইংল্যান্ডর এই জাতীয় কবি। তার বাবা ছিলেন জন শেক্সপিয়ার। মাত্র ১৮ বছর বয়সেই অ্যানি হাথাওয়ের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। যদিও তিনি একজন  বিখ্যাত সাহিত্যিক, কিন্তু তার জীবনি সম্পর্কে খুব কমই জানা যায়। ধারণা করা হয় ১৫৮৯-১৬১৩ সালের মধ্যে তার অধিকাংশ রচনা রচিত হয়েছিলো। তিনি তার অধিকাংশ লেখাই লন্ডনে লিখেছিলেন। তার রচনার মধ্যে পাওয়া গেছে ৩৮ টি নাটক, ১৫৪টি সনেট, ২টি দীর্ঘ আখ্যানকবিতা এবং আরও অনেক কবিতা। তার প্রথম ও প্রথম হিস্টরি নাটক ‘হেনরি vi পার্ট ২’। এটি ১৫৯০-১৫৯১ সালের মধ্যে রচিত হয়েছিলো। তার রচিত নাটক গুলোর মধ্যে ট্র্যাজেডি ও কমেডি উভয় ধরনের নাটকই রয়েছে। তার প্রথম ট্র্যাজেডি ‘রিচার্ড iii’ ও প্রথম কমেডি ‘দ্য কমেডি অব ইরোর্স’। এগুলো ১৫৯২-১৫৯৩ সালে রচিত হয়েছিলো। তার সৃষ্ট কয়েকটি ট্র্যাজেডি হ্যামলেট, ম্যাকবেথ, ওথেলো, কিং লেয়ার, জুলিয়াস সিজার, রোমিও এন্ড জুলিয়েট, রিচার্ড iii, কেরিওলেনাস, এন্টোনি এন্ড ক্লিওপেট্রো, টিটাস এন্ড এনড্রোনিকাস ইত্যাদি। তার রচিত কয়েকটি কমেডি দ্য টেমপেস্ট, দ্য কমেডি অব ইরোর্স, এজ ইউ লাইক ইট, মার্চেন্ট অব ভেনিস ইত্যাদি। তন্মধ্যে তার প্রথম চারটি ট্র্যাজেডিকে বলা হয় তার শ্রেষ্ঠ ট্র্যাজেডি। হ্যামলেট হলো তার সর্বশ্রেষ্ঠ। শেক্সপিয়ার কবিও ছিলেন। তিনি ইংল্যান্ডের জাতীয় কবি।  তিনি অনেক সনেট লিখেছেন। ‘হয়েন আই কনসিডার এভরি থিং দ্যাট গ্রৌজ, হৌল্ডস ইন পারফ্যাকশন বাট এ লিটল মোমেন্ট’- ‘সনেট ১৫’ এর দুটি লাইন। ভেনাস ও এডোনিস তার একটি অনন্য কবিতা। এডোনিস একজন সাহসী ও সুদর্শন যুবক, যার রূপে মুগ্ধ হয়ে দেবী ভেনাস মর্ত্যে এসেছিলেন। কিন্তু এডোনিস তাকে রেখে শিকারে যেতে চায়। প্রিয়তমের প্রানের আশংকায় ভেনাস হায়হায় করে ওঠে। ‘বন্য বরাহ যখন সে ক্রুদ্ধ  হয়,... উৎপাটিত বৃক্ষের মতই...’। কিন্তু তবুও সে শিকারে যায়। আর বরাহের থাবায় তার রক্তে মাটি লাল হয়ে যায়। এমনই ছিলো এই কবিতার কাহিনী। মূলত কবি হওয়ার কারণেই তার রচনা গুলো জীবন্ত মনে হয়। কবি ও নাট্যকারের মিলনটা তার মধ্যে বিশেষভাবে ঘটেছে। তার মনের কাব্যরস ও নাট্যরস মিলে এক অন্যরকম সোন্দর্য্য সৃষ্টি করেছে। তার নাটকের চরিত্রগুলো হয়ে ওঠেছে জীবন্ত। হ্যামলেট নাটকে কি দেখা যায়? পরকীয়া করে হ্যামলেটের মা আর চাচা তার বাবাকে হত্যা করে। অতঃপর তার বাবা আত্মা রূপে প্রকট হয় হ্যামলেটের সামনে। সবশেষে হ্যামলেট তার বাবার হত্যাকারীর বদলা নেয়। কিন্তু হ্যামলেটের করুণ মৃত্যু পাঠক হৃদয়কে কাদিয়ে তুলে। শেক্সপিয়ারের রচনায় জীবনের সত্য দিক গুলো ফুটে ওঠেছে। জীবনের সত্যকে নিয়ে তিনি সাহিত্যে এসেছেন। তার অনেক উদ্ধৃতি রয়েছে। সেসবে তা ফুটে ওঠেছে। যেমন-‘হেল ইজ এমটি এন্ড অল ডেভিলস্ আর হিয়ার।’ অর্থাৎ নরক নয় বরং পৃথিবীই শয়তানে পরিপূর্ণ।‘লুক লাইক দ্য ইনোসেন্ট ফ্লাওয়ার, বাট বি দ্য সারপেইন্ট আান্ডার`ট।’ অর্থাৎ দেখতে নিষ্পাপ ফুলের মত হলেও, অন্তরে বৈরীতা। তার রচিত নাটক, কবিতাগুলো সবচেয়ে বেশি ভাষায় অনূদিত হয়েছে। প্রায় শতাধিক ভাষায় অনূদিত হয়েছে। প্রায় অর্ধেক বিশ্বের শিক্ষার্থীদের দ্বারা তার রচনা সমূহ আজও পঠিত হচ্ছে। ‘শেক্সপিয়ার শুধু একটি সমকালের নয়, বরং তিনি সর্বকালের।’ এমনটিই বলেছিলেন তার সমসাময়িক নাট্যকার ‘বিন জনসন’। হ্যাঁ, সত্যিই।  শুধু বিন জনসনই নয়, ব্রিটিশ কাউন্সিলের পাকিস্তানের কান্ট্রি ডিরেক্টর, রোসেমারি হিলহস্ট, শেক্সপিয়ারের ৪০০তম মৃ্ত্যুবার্ষিকীতে এক বিবৃতিতে বলেন, তার মৃত্যুর চারশত বছর পরও, শেক্সপিয়ারের সৃষ্টিকর্ম গুলো শিক্ষা ও আনন্দ বিনোদনে গুরুত্বপূর্ণ  অবদান রাখছে।, ১৬১৬ সালে শেক্সপিয়ারের মৃত্যু ঘটেছিলো ঠিকই, কিন্তু তিনি আজও বেচেঁ আছেন তার কর্মের মধ্য দিয়ে। তিনি ছিলেন, আছেন এবং থাকবেন। সূত্র: রয়টার্স, এন ইন্টুডাকশন টু পোয়েট্রি এন্ড পোয়েটিক্স (জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদয্যালয়ের কোর্স বই) লেখক: জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ১ম বর্ষের শিক্ষার্থী। / এআর /
কাল এবিএম মূসার চতুর্থ মৃত্যুবার্ষিকী

৯ এপ্রিল বাংলাদেশের সাংবাদিকতা জগতের দীপ্তিময় আকাশ থেকে খসে পড়ে এক উজ্জল নক্ষত্র। ২০১৪ সালের এই দিনে সাংবাদিকতা থেকে তথা পৃথিবী থেকে বিদায় নেন প্রয়াত সাংবাদিক এবিএম মূসা। বাংলাদেশের সাংবাদিকদের মধ্যে যার এক পরিচয়, ‘মূসা ভাই’। আগামীকাল সোমবার মহান এই সাংবাদিকের চতুর্থ মৃত্যুবার্ষিক। এ উপলক্ষে আগামীকাল মরহুমের পৈত্রিক বাড়ি ফেনী জেলার ফুলগাজী থানার কুতুবপুর গ্রামে দোয়া মোহাফিলের আয়োজন করা হচ্ছে। এ ছাড়া আগামী ১৩ এপ্রিল শুক্রবার বাদ আসর এবিএম মূসার ৫/২ ইকবাল রোডের মোহম্মদপুরের বাসায় (সুবাস্তু রিমঝিম) বাদ আসর এক দোয়া মহফিলের আয়োজন করা হচ্ছে। মরহুমের সকল আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব ও শুভাকাঙক্ষীদের দোয়া মহফিলে যোগ দেয়ার জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের ৯ এপ্রিল এবিএম মূসা চিকিৎসাধিন অবস্থায় ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন। দীর্ঘ ৬৪ বছর ধরে সাংবাদিকতার বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখা গুণী এই ব্যক্তি শেষ বয়সে দর্শকপ্রিয় আলোচক ও সংবাদ বিশ্লেষক হিসেবে বিভিন্ন টিভি চ্যানেলের অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন। এ ছাড়া তিনি পাকিস্থান অবজারভারে রিপোর্টার ও বার্তা সম্পাদক ছিলেন দীর্ঘদিন। মুক্তিযুদ্ধের সময় রণাঙ্গন থেকে বিভিন্ন আন্তজাতিক মিডিয়ায় খবর পাঠাতেন। স্বাধীনতার পর তিনি বিটিভির মহাব্যাবস্থাপক, পি আইবির মহাপরিচালক ও বাসসের মহাব্যাস্থাপক ও প্রধান সম্পাদক ছিলেন। শুধু তাই নয়, তিনি বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় সংসদের সদস্য ছিলেন গুণী এই ব্যক্তি। নেতৃত্ব দিয়েছেন জাতীয় প্রেসক্লাবসহ ঢাকার সাংবাদিক সংগঠনগুলোকেও। তিনি জাতীয় প্রেসক্লাবের চারবারের নির্বাচিত সভাপতি ও তিনবারের সাধারন সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। প্রেসবিজ্ঞপ্তি এমজে/

শিল্পী সনজীদা খাতুনের ৮৫তম জন্মবার্ষিকী আজ

ছায়ানটের সভাপতি, বিশিষ্ট সংগীত শিল্পী, ভাষা সৈনিক ও সংস্কৃতি ব্যক্তিত্ব অধ্যাপক সনজীদা খাতুনের ৮৫তম জন্মবার্ষিকী আজ বুধবার। গবেষক ও লেখক সনজীদা খাতুনের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বিভিন্ন সংগঠন নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। দিবসটি উপলক্ষে বাংলা একাডেমি শিল্পীকে সংবর্ধনা জানাতে বিভিন্ন কমসূচি গ্রহণ করেছে। অন্যদিকে ছায়ানট আজ শ্যামলীতে ছায়ানট ভবনে তার জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করেছে। অধ্যাপক সনজীদা খাতুন ১৯৩২ সালে ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা সাহিত্যিক ,শিক্ষাবিদ ও সংস্কৃতি ব্যক্তিত্ব কাজী মোতাহার হোসেন। মাতার নাম সাজেদা বেগম। তিনি সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে কাজ করেন এবং অনুবাদক ছিলেন। ছোটবেলা থেকেই সনজীদা খাতুন সংগীত ও সংস্কৃতি কর্মে জড়িয়ে পড়েন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনে যোগ দেন। তিনি ১৯৫৫ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে স্নাতকোত্তর করেন। ১৯৬১ সালে স্বামী বিশিষ্ট রবীন্দ্র সংগীত শিল্পী ও সাংবাদিক ওয়াহিদুল হকের সঙ্গে ছায়ানট প্রতিষ্ঠা করেন। এ সংগঠনের মধ্যদিয়ে ষাট দশক থেকে সংগীত ও বাঙালি সংস্কৃতি জাগরণের আন্দোলনে কাজ করে যাচ্ছেন। দেশ স্বাধীনের পর ছায়ানটের মাধ্যমে সারাদেশে সংগীত ও সংস্কৃতি কর্ম ছড়িয়ে দেন। রবীন্দ্র সংগীত সম্মিলন পরিষদ গঠন করেন। তিনি এই সংগঠনের সভাপতি। সংগীত, সংস্কৃতি, শিক্ষাসহ বিভিন্ন বিষয়ে সনজীদা খাতুনের বেশ কিছু গ্রন্থ প্রকাশ পেয়েছে। বিশিষ্ট গবেষক, লেখক ও মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি মফিদুল হক তার সম্পর্কে জানান, সনজিদা খাতুন ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে তার জীবনের পুরো সময়ই কাটিয়েছেন রবীন্দ্র সংগীত, নজরুল গীতি, লোক সংগীত প্রসারের জন্য। ১৯৬২ সালে রবীন্দ্র সংগীতের বিরুদ্ধে পাকিস্তানী সরকারের নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে যে আন্দোলন হয়, তাতে তিনি নেতৃত্ব দেন। ছায়ানট প্রতিষ্ঠা করে সংগীত ও সংস্কৃতির উন্নয়নেই তিনি বেশি সময় কাটান। সূত্র : বাসস এসএ/

মেয়র হানিফের ৭৪তম জন্মবার্ষিকী আজ

ঢাকা সিটি করপোরেশনের প্রথম মেয়র ও ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ হানিফের ৭৪তম জন্মবার্ষিকী আজ। ১৯৪৪ সালের আজকের দিনে তিনি পুরান ঢাকার সম্ভ্রান্ত এক মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি আবদুল আজিজ এবং মুন্নি বেগমের কনিষ্ঠ সন্তান। তার স্ত্রী ফাতেমা খাতুন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ১ পুত্র ও ২ কন্যার জনক। মোহাম্মদ হানিফ ছাত্র জীবন থেকে ছাত্রলীগের কর্মী হিসেবে রাজনীতি শুরু করেন। ১৯৬৫ সালে বঙ্গবন্ধুর একান্ত সচিবের দায়িত্ব পান করেন। এসময় ৬ দফা মুক্তি সনদ প্রণয়ন ও প্রচারে বিশেষ ভূমিকা রাখেন। ’৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বাধীনতা পরবর্তীতে সকল আন্দোলন-সংগ্রামে রাজপথে নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। ১৯৭৩ সালে ঢাকা-১২ আসন থেকে তিনি জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে জাতীয় সংসদে হুইপেরও দায়িত্ব পালন করেন। ’৭৬ সালে মোহাম্মদ হানিফ ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন এবং মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি এ দায়িত্ব পালন করে গেছেন। এছাড়া ১৯৯৪ সালে ঢাকার প্রথম মেয়র নির্বাচিত হন। ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ের আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসবিরোধী সমাবেশে শেখ হাসিনার ওপর নারকীয় গ্রেনেড হামলার সময় নিজের জীবন তুচ্ছ করে মানবঢাল রচনা করে শেখ হাসিনাকে রক্ষা করেন মোহাম্মদ হানিফ। ছোড়া গ্রেনেডে শেখ হাসিনা প্রাণে রক্ষা পেলেও মারাত্মক আহত হন তিনি। তার মস্তিষ্ক সহ দেহের বিভিন্ন অংশে অসংখ্য স্প্লিন্টার প্রবেশ করে। ২০০৬ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি মুক্তাঙ্গনে এক সমাবেশে সভাপতির বক্তৃতা দেয়ার সময় তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হন। দীর্ঘদিন চিকিৎসা শেষে ২০০৬ সালের ২৮ নভেম্বর রাতে ঢাকার এ্যাপোলো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬২ বছর। এদিকে মোহাম্মদ হানিফের ৭৪তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগ, মেয়র মোহাম্মদ হানিফ মেমোরিয়াল ফাউন্ডেশন, মেয়র হানিফ স্মৃতি সংসদসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে কবর জিয়ারত, দোয়া ও মিলাদ মাহফিল এবং দুস্থদের মাঝে খাবার বিতরণ। তার একমাত্র পুত্র ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন। তিনি পিতার জন্মবার্ষিকীতে দেশবাসীর প্রতি দোয়া কামনা করেছেন। এসএ/

মোহাম্মদ হানিফের ৭৪ তম জন্মবার্ষিক কাল

স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ ও স্নেহভাজন, জনতার মঞ্চের রুপকার, ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের প্রথম নির্বাচিত সফল মেয়র মোহাম্মদ হানিফের ৭৪তম জন্মবার্ষিকী আগামীকাল। ১৯৪৪ সালের এই দিনে তিনি পুরান ঢাকার সম্ভ্রান্ত এক মুসলিম পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। তিনি পুরনা ঢাকার আবদুল আজিজ এবং মুন্নি বেগমের কনিষ্ঠ সন্তান। শুরু থেকে জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত মোহাম্মদ হানিফ ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শের প্রতি অবিচল। মোহাম্মদ হানিফের সবচেয়ে বড় অর্জন ছিল তিনি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর খুব কাছে থেকেছেন। উদার চিন্ত চেতনা, প্রখর ব্যক্তিত্ব ও সংবেদনশীলতা এবং তাঁর চারিত্রিক বৈশিষ্ঠের কারণে তিনি সকলের প্রিয় নেতায় পরিণত হন। মোহাম্মদ হানিফ ছাত্রাবস্থায় ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী হিসেবে রাজনীতি শুরু করেন। ১৯৬৫ সালে বঙ্গবন্ধুর একান্ত সচিবের দায়িত্ব পান। এসময় ছয়দফা মুক্তি সনদ প্রণয়ন ও প্রচারে বিশেষ ভূমিকা রাখেন। ’৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বাধীনতা পরবর্তীকালে সকল আন্দোলন-সংগ্রামে রাজপথে প্রথম কাতারে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন মোহাম্মদ হানিফ। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মোহাম্মদ হানিফকে অত্যন্ত স্নেহ করতেন ও ভালোবাসতেন। ১৯৭৩ সালে মোহাম্মদ হানিফ জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে জাতীয় সংসদে হুইপেরও দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ’৭৬ সালে মোহাম্মদ হানিফ ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন এবং মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি এ দায়িত্ব পালন করে গেছেন। ১৯৯৪ সালে লক্ষাধিক ভোটের ব্যাবধানে ঢাকার প্রথম মেয়র নির্বাচিত হন তিনি। তারই নেতৃত্বে ’৯৬-এর মার্চের শেষ সপ্তাহে ”জনতার মঞ্চ” গঠন করেন। যা ছিল আওয়ামী লীগের রাজনীতির জন্য একটি টানির্ং পয়েন্ট। ’৯৬-এর নির্বাচনে আওয়ামী লীগের পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি করে আওয়ামী লীগের বিজয়ে ব্যাপক ভূমিকা রাখেন মোহাম্মদ হানিফ। ২০০৪ সালের ২১শে আগষ্টে বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ের আওয়ামী লীগের সন্ত্রাস বিরোধী সমাবেশে গ্রেনেডে হামলায় মারাত্মক ভাবে আহত হন তিনি। তার মস্তিকসহ দেহের বিভিন্ন অংশে অসংখ্য স্পিøন্টার ঢুকে পড়ে। দুঃসহ যন্ত্রনা সহ্য করেই মোহাম্মদ হানিফ জাতীয় রাজনীতিতে সক্রিয় থেকেছেন। ২০০৬ এর ৮ ফেব্রæয়ারি মুক্তাঙ্গণে এক সমাবেশে সভাপতির বক্তৃতা দেওয়ার সময় তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হন। পরে ব্যাংককে তীব্র যন্ত্রনা ভোগ করে র্দীঘদিন চিকিৎসা শেষে ঢাকায় ফিরে ২০০৬ সালের ২৮ নভেম্বর রাতে ৬২ বছর বয়সে ঢাকার এ্যাপোলো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃৃত্যু করেন। মোহাম্মদ হানিফের ৭৪তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগ, মেয়র মোহাম্মদ হানিফ মেমোরিয়াল ফাউন্ডেশন, মেয়র হানিফ স্মৃতি সংসদসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন নানাবিধ কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে কবর জিয়ারত, দোয়া ও মিলাদ মাহফিল, দুস্থঃদের মাঝে খাবার বিতরণ। নন্দিত এই নেতার একমাত্র পুত্র ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচিত মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন পিতার জন্মবার্ষিকীতে দেশবাসীর দোয়া কামনা করেছেন। টিকে

কাকন বিবির লাশ বাড়িতে, জানাযা বিকালে

বীর প্রতিক কাকন বিবির মরদেহ তার গ্রামের বাড়ি সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারের জিরারগাঁও গ্রামে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার বেলা সোয়া ১১টায় তাকে বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স বাড়িতে গিয়ে পৌঁছায়। সেখানে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা, আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ ও এলাকাবাসী কাকন বিবির মরদেহে শ্রদ্ধা জানান। একমাত্র মেয়ে সকিনা বিবি বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার রাত ১১টা ৫ মিনিটে কাকন বিবি মারা যান। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ১০৩। আজ বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টায় জানাযা শেষে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাকে স্থানীয় কবরস্থানে দাফন করা হবে জানিয়েছেন কাকন বিবির মেয়ে সখিনা বিবি। জানা গেছে, নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্ট, ফুসফুস সমস্যাসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে গত সোমবার সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন কাকন বিবি। এর আগে গত বছর জুলাইয়ে হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার পর কয়েকদিন হাসপাতালে ছিলেন তিনি। কাকন বিবির জন্ম মেঘালয়ের নেত্রাই হাসিয়া পল্লীতে তিনি জন্মেছিলেন। কাকন বিবির স্বামী সাঈদ আলীও প্রয়াত। কাঁকন বিবি ১৯৭১ সালে তিন মাস বয়সী মেয়ে সখিনাকে রেখে মুক্তিযুদ্ধে যান। প্রথমে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে গুপ্তচরের কাজ করলেও পরবর্তী সময়ে সম্মুখযুদ্ধে অংশ নেন তিনি। পাক বাহিনীর হাতে আটক হয়ে নির্যাতনের শিকারও হয়েছেন বীর এই যোদ্ধা। মুক্তিযোদ্ধা রহমত আলী তার সঙ্গে সেক্টর কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মীর শওকতের সঙ্গে দেখা করিয়ে দেন। তার ওপর দায়িত্ব পড়ে গুপ্তচর হিসেবে বিভিন্ন তথ্য জোগাড়ের। ১৯৭১ সালের নভেম্বর মাসে টেংরাটিলার সম্মুখ যুদ্ধে কয়েকটি গুলি তার শরীরে বিদ্ধ হয়। ১৯৯৬ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে বীরপ্রতীক খেতাবে ভূষিত করেন। তিনি একমাত্র কন্যা সখিনা বিবিসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। একে// এআর

আমাদের গ্রহ এখন দুঃসময় পার করছে

বিশ্বের শ্রেষ্ঠ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কেন্দ্রস্থল কেমব্রিজ শহরে ২০ বছর বয়স থেকেই বিজ্ঞানী সম্প্রদায়ের মধ্যে আমি জীবন কাটাচ্ছি। এই বৈজ্ঞানিক সম্প্রদায়ের মধ্যে থাকা আন্তর্জাতিক তত্ত্বীয় পদার্থবিজ্ঞানীদের একটি ছোট গ্রুপ আছে, যে গ্রুপের অনেকে নিজেদের সাফল্যের চূড়ায় পৌঁছানো মানুষ ভাবতে পছন্দ করেন। সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে থাকা এসব মানুষের সঙ্গে কেটেছে আমার কর্মজীবন। এর বাইরে কিছু বই লেখায় অর্জিত হয়েছে তারকাখ্যাতি। সেইসঙ্গে শারীরিক অসুস্থতার কারণে জনবিচ্ছিন্ন আমি। আর এটি ভাবতে প্রলুব্ধ করেছে যে আমার সাফল্যের চূড়া অন্যদের চেয়ে উঁচু। আমেরিকা এবং ব্রিটেনে সম্ভ্রান্ত শ্রেণিকে প্রত্যাখ্যানের যে ঘটনা দৃশ্যমান হলো, সেখানে নিশ্চিতভাবেই অন্য এলিটদের মতো নিজেকে আমজনতার লক্ষ্যবস্তু হিসেবে মনে করেছি। ব্রিটিশ ভোটারদের ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে যাওয়া (ব্রেক্সিট) এবং আমেরিকান জনগণের প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পকে নির্বাচিত করার সিদ্ধান্তকে আমরা যে চোখেই দেখি, এখন বিশ্লেষকরাও মনে করে, এ দুটি ঘটনা সেই সব মানুষের ক্রোধের ফল, যারা মনে করে তাদের নেতারা তাদের স্বার্থ দেখে না। এমন এক মুহূর্তে ঘটনা দুটি ঘটেছে, যখন সবখানেই বিশেষজ্ঞ ও এলিট শ্রেণির উপদেশ-পরামর্শ জনগণ প্রত্যাখ্যান করা শুরু করেছে। আমি কিন্তু এই এলিটদের বাইরের কেউ নই। ব্রেক্সিট ভোটের আগে আমিও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলাম, ইইউ থেকে ব্রিটেনের বেরিয়ে যাওয়া দেশটির বিজ্ঞান গবেষণাকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। এটি ব্রিটেনকে পশ্চাদগামী করে ফেলবে। কিন্তু ভোটাররা রাজনৈতিক নেতা, ট্রেড ইউনিয়ন নেতা, শিল্পী, বিজ্ঞানী, ব্যবসায়ী ও চিত্রতারকা-কারও কথাই আমলে নেননি। বিশ্বায়নের অর্থনৈতিক পরিণতি এবং প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের ক্রমবৃদ্ধির ক্ষেত্রে এই ভোট কী প্রভাব ফেলবে, তা নিশ্চিতভাবে বোধগম্য। কারখানাগুলোর স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রপাতি ইতিমধ্যেই গতানুগতিক উৎপাদন ব্যবস্থায় পরিবর্তন এনেছে। সেইসঙ্গে কমিয়ে দিয়েছে কর্মসংস্থান। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কর্মসংস্থানে ধস নামিয়ে মধ্যবিত্ত শ্রেণিকে সংকটে ফেলেছে। ইতিমধ্যেই বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক বৈষম্য বেড়ে উঠেছে। এসব প্রযুক্তি সেই বৈষম্যকে আরও বাড়িয়ে দেবে। ইন্টারনেট এবং আরও কিছু ক্ষেত্র খুব ছোট ছোট গ্রুপে থাকা লোকজনকে বিপুল পরিমাণ মুনাফা অর্জন করার সুযোগ করে দিচ্ছে। কিন্তু চাকরির সুযোগ পাচ্ছে খুবই কমসংখ্যক মানুষ। এটি অবশ্যম্ভাবী যে এতে দৃশ্যমান অগ্রগতি হলেও এটি সামাজিকভাবে ধ্বংসাত্মক পরিণতি আনছে। অর্থনৈতিক ভাঙনের ধারাবাহিকতায় এমন অবস্থার সৃষ্টি হচ্ছে, যেখানে আর্থিক খাত থেকে খুব কমসংখ্যক মানুষ বিপুল পরিমাণ পারিতোষিক নিয়ে যাচ্ছে এবং তাঁদের লোভের ঘুঁটি হিসেবে আমরা তাঁদের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছি। আরেকটি বিষয় হলো, বিশ্বজুড়ে ইন্টারনেট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যাপ্তির কারণে আর্থিক বৈষম্যের চেহারা অতীতের চেয়ে ফুটে উঠছে অনেক বেশি। বিশ্বের সবচেয়ে সমৃদ্ধ এলাকার ধনিক শ্রেণির জীবনযাপন কেমন, তা পৃথিবীর যেকোনো প্রান্ত থেকে মোবাইল ফোন ব্যবহারের সামর্থ্য থাকা একজন গরিব মানুষ অত্যন্ত পীড়াদায়ক অনুভূতি নিয়ে দেখছে। সাব-সাহারান এলাকায় এখন যত মানুষ বিশুদ্ধ পানি পায় না, সেখানে এখন তার চেয়ে বেশিসংখ্যক লোকের হাতে মোবাইল ফোন। তার মানে উত্তরোত্তর জনাকীর্ণ হতে থাকা আমাদের এই গ্রহে কিছুদিনের মধ্যেই এমন অবস্থা তৈরি হবে, যেখানে প্রায় কারও পক্ষে বৈষম্য থেকে নিষ্কৃতি পাওয়া সম্ভব হবে না। এখন সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, মানব ইতিহাসের যেকোনো সময়ের চেয়ে বর্তমানে আমাদের এই গ্রহে সম্মিলিতভাবে কাজ করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। আমাদের সামনে কয়েকটি ত্রাসোদ্দীপক চ্যালেঞ্জ এসে দাঁড়িয়েছে। সেগুলো হলো জলবায়ু পরিবর্তন, খাদ্য উৎপাদন, জনসংখ্যার আধিক্য, নানা প্রজাতির প্রাণীর বিলুপ্তি, মহামারি রোগ, মহাসাগর দূষিত হয়ে ওঠা ইত্যাদি। এগুলো আমাদের মনে করিয়ে দিচ্ছে, আমরা মানবসভ্যতার অগ্রগতির পথে ভয়াবহতম সময়ে রয়েছি। আমরা বাস করা গ্রহটিকে ধ্বংস করার প্রযুক্তি আমরা আবিষ্কার করে ফেলেছি। কিন্তু এই গ্রহ থেকে পালিয়ে যাওয়ার প্রযুক্তি এখনও আমরা বের করতে পারিনি। হয়তো কয়েক শ বছরের মধ্যে আমরা অন্য গ্রহে পাড়ি জমাতে পারবো। কিন্তু এই মুহূর্তে আমাদের হাতে একটাই গ্রহ আছে। তাই এই গ্রহ রক্ষার স্বার্থেই আমাদের মিলেমিশে কাজ করা দরকার। এটা করতে হলে দেশের মধ্যে কিংবা এক দেশের সঙ্গে আরেক দেশের বিভাজনরেখার দেয়াল ভেঙে ফেলতে হবে। (সদ্য প্রয়াত স্টিফেন হকিংয়ের এই প্রবন্ধটি ২০১৬ সালের ১ ডিসেম্বর দ্য ইনডিপেনডেন্ট পত্রিকায় ছাপা হয়। লেখাটি ইংরেজি থেকে অনুদিত ) একে//

প্রিয়ভাষিণীকে শ্রদ্ধা বৃহস্পতিবার, দাফন বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে

সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধা ও ভাস্কর ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণীর লাশ বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে রাখা হবে। এরপর বাদ জোহর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদে জানাজা শেষে তাকে দাফন করা হবে মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে। তার পরিবারের সঙ্গে আলাপ করে সাংবাদিকদের এ কথা জানিয়েছেন জাতীয় কবিতা পরিষদের সভাপতি কবি আবদুস সামাদ।এদিকে, তার পরিবারের সঙ্গে আলাপ করে গণজাগরণ মঞ্চের একাংশের আহ্বায়ক ডা. ইমরান এইচ সরকার জানিয়েছেন, প্রিয়ভাষিণীর লাশ ল্যাবএইড হাসপাতাল থেকে পিংকসিটির বাসভবনে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সেখান থেকে লাশ সংরক্ষণের জন্য ফের ল্যাবএইড হাসপাতাল অথবা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের হিমঘরে রাখা হবে।আবদুস সামাদ জানান, সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা জানানোর জন্য বৃহস্পতিবার (৮ মার্চ) বেলা ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণীর মৃতদেহ জাতীয় শহীদ মিনারে রাখা হবে। পরে বাদ জোহর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে জানাজা হবে। এরপর তাকে মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফন করা হবে।মঙ্গলবার দুপুর ১টার দিকে ল্যাবএইড হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন ফেরদৌসী। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭১ বছর। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি নানা রোগে ভুগছিলেন। আজ দুপুরে ১২টায় তার একটি কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হয়।সর্বশেষ ২৩ ফেব্রুয়ারি তাকে ল্যাবএইড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এর আগে তিনি দুবার এই হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।পরিবারের পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেছেন জাতীয় কবিতা পরিষদের সভাপতি কবি আবদুস সামাদ। তিনি বলেন, আজ ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণীর মৃতদেহ তার পিংকসিটির বাসায় নিয়ে যাওয়া হবে। আত্মীয়স্বজনের দেখার জন্য লাশ সেখানে কিছু সময় রাখা হবে। এরপর মরদেহ ফের ল্যাবএইডে নিয়ে আসা হবে। কানাডা ও অস্ট্রেলিয়া থেকে দুই ছেলে দেশে ফিরলে দাফন করা হবে।/ এআর /

আর্সেনিক বিশেষজ্ঞ ড. দীপঙ্কর আর নেই

ঢাকা কমিউনিটি হাসপাতালের গবেষণা সহগামী ও যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব এনভায়রনমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের প্রধান এবং বিশিষ্ট আর্সেনিক বিশেষজ্ঞ ড. দীপঙ্কর চক্রবর্তী আর নেই। গত বুধবার রাতে কলকাতায় ৭৬ বছর বয়সে মারা যান তিনি। ড. দীপঙ্কর চক্রবর্তী উপমহাদেশ তথা দক্ষিণ এশিয়ায় ভূগর্ভস্থ পানিতে আর্সেনিক দূষণ সনাক্তকরণ, বিস্তার ও প্রতিকারবিষয়ক গবেষণা কাজে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। বাংলাদেশে আর্সেনিকবিষয়ক গবেষণায় ঢাকা কমিউনিটি হাসপাতাল তার সহগামী ছিল। আর্সেনিক অনুসন্ধান ও গবেষণায় কমিউনিটি হাসপাতালের কর্মীদের সঙ্গে তিনি বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ঘুরে বেরিয়েছেন। কমিউনিটি হাসপাতাল আয়োজিত আর্সেনিকবিষয়ক প্রায় সব আন্তর্জাতিক সেমিনার ও সম্মেলনে তার সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল। ঢাকা কমিউনিটি হাসপাতাল ও তার তৎপরতার ফলেই বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা আর্সেনিক বিষে সংক্রমণকে বাংলাদেশের একটি ভয়াবহ জীবননাশক ব্যাধী হিসেবে ঘোষণা করে। ড. দীপঙ্করের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন ঢাকা কমিউনিটি হাসপাতাল ট্রাস্টের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. কাজী কামরুজ্জামানসহ প্রতিষ্ঠানের সব কর্মী। আগামীকাল শনিবার হাসপাতালের পক্ষ থেকে এক শোকসভারও আয়োজন করা হয়েছে।-বিজ্ঞপ্তি একে/এসএইচ/

© ২০১৮ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি