ঢাকা, শুক্রবার, ২০ এপ্রিল, ২০১৮ ১৬:১৪:২৯

কণ্ঠের বিভিন্ন সমস্যা ও প্রতিকার

দি ডক্টরস্ (ভিডিও)

কণ্ঠের বিভিন্ন সমস্যা ও প্রতিকার

আমাদের পারস্পারিক যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম হচ্ছে কণ্ঠ বা কথা বলা। আমরা কণ্ঠস্বর নিয়ে খুব বেশী সচেতন নই। মারাত্মক কণ্ঠনালীর রোগ বা ক্যান্সারে আক্রান্ত না হওয়া পর্যন্ত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হই না। প্রতি বছর ১৬ এপ্রিল বিশ্ব কণ্ঠ দিবস পালন করা হয়। কণ্ঠ ও কণ্ঠনালির সমস্যা এবং কণ্ঠকে সুস্থ রাখার উপায় সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরিই দিবসটির মূল উদ্দেশ্য। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য ‘মেক দ্য ভয়েস, টু চেরিশ ইউর ভয়েস’। বিশ্বের অন্য দেশের ন্যায় বাংলাদেশেও আজ পালিত হচ্ছে এই দিবস। ২০০৮ সাল থেকে বাংলাদেশে বিশ্ব কণ্ঠ দিবস উদযাপন করে আসছে। সমগ্র বিশ্বে ২০০২ সাল হতে বিশ্ব কণ্ঠ দিবস পালিত হচ্ছে। ব্রাজিলে ১৯৯৯ সালের এপ্রিল মাসে প্রথম মানুষের কণ্ঠ ও কণ্ঠনালীর সমস্যা এবং নাক কান গলা রোগ বিষয়ে জনগণকে সচেতন করার জন্য জাতীয় কণ্ঠ সপ্তাহ পালিত হয়। একুশে টেলিভিশনের (ইটিভি) ‘দি ডক্টরস্’ অনুষ্ঠানে আজকের আলোচনার বিষয়- ‘কণ্ঠের বিভিন্ন সমস্যা ও প্রতিকার’। বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন- অধ্যাপক ডা. মনিলাল আইচ লিটু (বিভাগীয় প্রধান, নাক, কান, গলা বিভাগ, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল)। ‘দি ডক্টরস্’ অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনায় ছিলেন- অধ্যাপক ডা. ইকবাল হাসান মাহমুদ। শ্রুতিলিখন করেছেন- সোহাগ আশরাফ প্রশ্ন : আজ পালিত হচ্ছে বিশ্ব কণ্ঠ দিবস। কণ্ঠ নিয়ে এতো আলোচনা কেনো? উত্তর : আমরা আমাদের ঘুম নিয়ে চিন্তা করি। আমরা আমাদের কান নিয়ে চিন্তা করি। আমরা আমাদের চোখ নিয়ে চিন্তা করি। আমরা আমাদের হার্ট নিয়ে চিন্তা করি। কিন্তু আমরা কি কখনও আমাদের কণ্ঠ নিয়ে চিন্তা করি? কণ্ঠও যে আমাদের একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তা হয়তো ভাবি না। আপনি জানেন যে- কণ্ঠের মাধ্যমে মানুষ একজন আরেক জনের সঙ্গে কথা বলে। কণ্ঠ শুধু কণ্ঠ না। এটি কিন্তু মানুষের ব্যাক্তিত্বেরও পরিচায়ক। যারা কণ্ঠকে ব্যবহার করেন, যেমন শিক্ষক, অ্যাডভোকেট, রাজনীতিবিদ, সঙ্গীতশিল্পী, আবৃত্তিকার, অভিনয় শিল্পী, উপস্থাপক, এমনকি আমরাও যারা কণ্ঠ ব্যবহার করছি তাদের কিন্তু কণ্ঠের যদি কোন সামান্য ত্রুটিও হয় তখনই বোঝা যায় কণ্ঠের গুরুত্ব কি! এই কণ্ঠ কিন্তু প্রতিটি মানুষের জন্য ইউনিক। এটি কিন্তু বংশগত একটা প্রাপ্তি। আমরা অনুশিলনের মাধ্যমে কিছুটা পরিমার্জিত করতে পারি। প্রশ্ন : এবারের কণ্ঠ দিবসে একটা বিষয় গুরুত্ব পেয়েছে, তা হচ্ছে- শিক্ষকদের কণ্ঠ। অনেক সময় দেখা যায় শিক্ষকদের কণ্ঠ খুবই দুর্বল। অর্থাৎ তাদের কথা শিক্ষার্থীরা শুনতে পারেন না যারা ক্লাসে থাকেন। এতে তো শিক্ষার্থীদের অনেক ক্ষতিও হচ্ছে। আপনি কি মনে করেন? উত্তর : কণ্ঠস্বর কিন্তু তার ব্যক্তিত্ব ও তার কমান্ডকে এনশিওর করে। যারা কণ্ঠ কেন্দ্রীক কাজের সঙ্গে যুক্ত তাদের কিন্তু অবশ্যই ভালো কণ্ঠের অধিকারি হতে হয়। তার কণ্ঠ যারা শুনছেন তাদের কাছে স্পষ্ট পৌঁছাতে হবে। শুধু শিক্ষক নয়, সবার কণ্ঠেরই যত্ন নেওয়া জরুরী। কণ্ঠের যত্ন না নেওয়া ছাড়া আপনি কখনও সমাজে নিজেকে বিকশিত করতে পারবেন না। প্রশ্ন : একজন বয়স্ক লোকের খুব ভালো কণ্ঠস্বর ছিল। হঠাৎ করে কণ্ঠস্বরে পরিবর্তন আসলো। কি করাণে হতে পারে? উত্তর : আসলে এটি আমি একটু ভিন্ন ভাবে বলতে চাই। সেটা হলো বাচ্চাদের হতে পারে। বয়স্কদের হতে পারে। বিভিন্ন বয়সে আমরা বিভিন্ন ভাবে চিন্তা করি। সাধারণ বিষয় হচ্ছে সকল বয়সের মানুষের কেনো কণ্ঠস্বর পরিবর্তন হয়? ভোকাল কর্ড বা ল্যারিংসের নার্ভের দুর্বলতা বা কোন সমস্যার জন্য কণ্ঠনালীর পরিবর্তন হতে পারে। ভাইরাস জনিত প্রদাহের জন্য নার্ভের দুর্বলতা হয়। সাধারণত এক দিকের নার্ভ-ই প্যারালাইসিস হয়, দুই দিকের নার্ভ একই সঙ্গে আক্রান্ত হওয়া খুবই বিরল। এক দিকের নার্ভ প্যারালাইসিসের কারণ হচ্ছে ভাইরাল ইনফেকশন, টিউমার, ক্যান্সার ও থাইরয়েড অপারেশন। কণ্ঠনালীর প্যারালাইসিসের জন্য ফেঁসফেঁসে আওয়াজ হয় এবং এটি নিঃশ্বাসের সঙ্গে জড়িত। প্রশ্ন : কণ্ঠনালীর ক্যান্সার বিষয়টি কি? উত্তর : আমাদের দেশে গলার ক্যান্সার বা কণ্ঠনালীর ক্যান্সারের প্রকোপ অনেক বেশি। গলার স্বর পরিবর্তনের পনের দিনের মধ্যে ভালো না হলে, চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া দরকার। রোগীর ইতিহাস, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরিক্ষা করে প্রাথমিকপর্যায়ে ক্যান্সার নির্ণয় করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। গলার ক্যান্সার বা কণ্ঠনালীর ক্যান্সারকে মোটেও অবহেলা করা উচিত নয়। কারণ কণ্ঠনালীর ক্যান্সার প্রাথমিক পর্যায়ে নির্ণয় করে চিকিৎসা করলে সম্পূর্ণ ভালো হয়ে যায় এবং এ রোগের সব ধরণের চিকিৎসা যেমন- সার্জারী, কেমোথেরাপী ও রেডিওথেরাপী আমাদের দেশে বিদ্যমান। বিষয়টি নিয়ে আরও বিস্তারিত জানতে নিচের ভিডিওটি দেখুন : এসএ/  
ব্যাথানাশকের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ: বাড়ায় মৃত্যুঝুঁকি

ব্যথানাশক ওষুধের সঙ্গে ঘুমের ওষুধের ব্যবহার রোগীর স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়িয়ে চলছে। বিশেষ করে এ দুটি ওষুধ একসঙ্গে খেলে মাত্রাতিরিক্ত ওষুধ সেবনের ফলে মানুষের মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি দেখা দেয় বলে জানিয়েছেন গবেষকরা। এমনকি এক পর্যায়ে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে বলেও জানায়। গবেষকরা বলছেন, ব্যথানাশক opioids রোগীদের ‘প্রেসকাইব’ করার পূর্বে চিকিৎসকদের সচেতন হওয়ার তাগিদ দিয়েছেন গবেষকরা। তাদের দাবি যারা ঘুমের ওষুধ হিসেবে benzodiazepines সেবন করেন, তাদেরকে কোনোভাবেই দুটি ওষুধ একসঙ্গে সেবন করতে দেওয়া যাবে না। সারাবিশ্বজুড়ে opioids ও benzodiazepines জাতীয় ওষুধ একসঙ্গে সেবনের ফলে অনেকের মধ্যে benzodiazepines জাতীয় ওষুধ গ্রহণের আসক্তি দেখা দেয়। গবেষকরা আরও দাবি করেন, অতিমাত্রায় benzodiazepines জাতীয় ওষুধ সেবনের ফলে opioids পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির একদল গবেষক এ দাবি করেন। সূত্র: ডেইলি মেইল অনলাইনএমজে/

রাত জাগলে বাড়ে অকাল মৃত্যুর ঝুঁকি

বেশি রাত জাগলে বাড়ে অকাল মৃত্যুর ঝুঁকি। সম্প্রতি আমেরিকার এক গবেষণা প্রতিবেদনে এমন তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, যারা রাতে সময়মতো ঘুমাতে যান এবং ভোরে ঘুম থেকে উঠেন এমন মানুষদের চেয়ে যারা রাতে দেরি করে ঘুমাতে যান এবং সকালে দেরি করে ঘুম থেকে ওঠেন তাদের কম বয়সে মৃত্যুবরণের সম্ভাবনা ১০ শতাংশ বেশি। এছাড়া ওই গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, রাত জাগা মানুষদের বিভিন্ন রোগের বেশি ঝুঁকি থাকে। গত বৃহস্পতিবার বিজ্ঞানবিষয়ক ওয়েবসাইট সায়েন্স ডেইলির এক প্রতিবেদনে যুক্তরাজ্যের নর্থওয়েস্টার্ন মেডিসিন এবং ইউনিভার্সিটি অফ সারে’র এই গবেষণাটির তথ্য প্রকাশিত হয়। ইউকে বায়োব্যাঙ্ক নামের একটি দীর্ঘমেয়াদি জরিপের প্রায় ৫ লাখ অংশগ্রহণকারীর তথ্য নিয়ে এই গবেষণা করা হয়। গবেষণায় দেখা গেছে সকাল সকাল ঘুম থেকে ওঠা মানুষ বা ‘ভোরের পাখিদের’ তুলনায় রাতজাগা বা ‘প্যাঁচা ধরনের মানুষের মৃত্যু হয় আগে। ওই গবেষণার রাতজাগা মানুষদের মাঝে প্রায় ৫০ হাজার মানুষের আগামী সাড়ে ছয় বছরের মাঝে মৃত্যুর সম্ভাবনা আছে বলে জানানো হয়। গবেষণার সহ-লেখক ক্রিস্টেন নাটসন জানিয়েছেন, পৃথিবীতে ভোরে ঘুম থেকে ওঠে এমন মানুষের সংখ্যাই বেশি। এমন একটা পৃথিবীতে রাতজাগা মানুষের জীবনযাপনে স্বাস্থ্য ঝুঁকি রয়েছে। রাতজাগা মানুষ এবং ভোরে ঘুম থেকে ওঠা মানুষের মাঝে তুলনা করে ডায়াবেটিস এবং হৃদরোগের ঝুঁকি নিয়ে গবেষণা হয়েছে। তবে মৃত্যুর সম্ভাবনা নিয়ে গবেষণা এই প্রথম হলো। ইউনিভার্সিটি অফ সারের ক্রনোবায়োলজি বিষয়ের অধ্যাপক ম্যালকম ভন শান্টজ জানিয়েছেন, যারা রাত জাগেন তাদের কর্মক্ষেত্রেও এ ব্যাপারটি মাথায় রেখে কাজের সময় নির্ধারণ করে দেওয়া উচিত। তারা দেরি করে কাজ শুরু এবং দেরিতে শেষ করার সুযোগ পেলে তা উপকারী হবে বলে মনে করেন তিনি। রাত জাগার এমন প্রবণতার পেছনে বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে বলে মনে করেন নাটসন। তিনি জানান, এর পেছনে থাকতে পারে মানসিক চাপ, ভুল সময়ে খাদ্য গ্রহণ, যথেষ্ট ব্যায়াম না করা, ঘুম কম হওয়া, জোর করে রাত জাগা, মাদক গ্রহণ বা মদ্যপান। নতুন এই গবেষণায় দেখা গেছে, রাতজাগা মানুষের ডায়াবেটিস, মানসিক সমস্যা এবং স্নায়বিক রোগের ঝুঁকি বেশি। / এআর /  

নিয়মিত কাজু বাদাম খাওয়ার উপকারিতা

পুষ্টিগুণ এবং শরীরিক উপকারিতার দিক থেকে দেখতে গেলে কাজু বাদামের কোনও বিকল্প হয় না বললেই চলে। এতে উপস্থিত প্রোটিন, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, খনিজ এবং ভিটামিন নানাভাবে শরীরের উপকারে লেগে থাকে। শুধু তাই নয়, কাজু বাদামে ভিটামিনের মাত্রা এতো বেশি থাকে যে চিকিৎসকেরা একে প্রকৃতিক ভিটামিন ট্যাবলেট নামেও ডেকে থাকেন। তবে একথাও ঠিক যে মাত্রাতিরিক্ত পরিমাণে এই বাদামটি খেলে কিন্তু শরীরের উপকারের থেকে অপকার হয় বেশি। কারণ উপকারি উপাদান বেশি মাত্রায় শরীরে প্রবেশ করলে উল্টো ফল হতে শুরু করে। তাই পরিমিত পরিমাণে খেতে হবে কাজু বাদাম, তাহলেই সুফল পাওয়া যাবে। একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে নিয়মিত যদি এক মুঠো করে কাজু বাদাম খাওয়া যায়, তাহলে শরীরে পুষ্টিকর উপাদানের ঘাটতি দূর হয়, সেই সঙ্গে মেলে আরও অনেক উপাকার। যেমন ধরেন- ১. অ্যানিমিয়ার প্রকোপ কমে-কাজুতে রয়েছে প্রচুর মাত্রায় আয়রন, যা শরীরে প্রবেশ করে লোহিত রক্ত কণিকার উৎপাদন এতো মাত্রায় বাড়িয়ে দেয় যে রক্তাল্পতার মতো সমস্যা কমতে সময় লাগে না। প্রসঙ্গত, শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতেও এই প্রকৃতিক উপাদানটি বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। তাই সুস্থভাবে যদি বাঁচতে চান, তাহলে রোজের ডেয়েটে কাজু বাদামের অন্তর্ভুক্তি ঘটাতে ভুলবেন না যেন! ২. শরীরে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমে-কাজুতে রয়েছে ওলিসিক নামে এক ধরনের মোনোআনস্যাচুরেটেড ফ্যাটি অ্যাসিড, যা দেহে বাজে কোলেস্টরলের মাত্রা কমাতে দারুন কাজে আসে। তাই তো নিয়মিত এই বাদমটি খেলে কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। ফলে হার্টের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা হ্রাস পায়। ৩. ক্যান্সারের মতো রোগকে দূরে থাকে-এই মারণ রোগটি যদি সাপ হয়,তাহলে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হলো বেজি। তাই তো যেখানে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে, সেখানে ক্যান্সার সেলের খোঁজ পাওয়া কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। তাই তো প্রতিদিন এক মুঠো করে কাজু বাদাম খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন চিকিৎসকেরা। আসলে এই বাদমটির শরীরে রয়েছে প্রচুর মাত্রায় অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা ক্যান্সার সেলের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলার পাশাপাশি টিউমার যাতে দেখা না দেয় সেদিকেও খেয়াল রাখে। প্রসঙ্গত, কাজু বাদামে থাকা প্রম্যান্থোসায়ানিডিন নামে একটি উপাদান এক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। ৪. হাড়ের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটেকাজু বাদামে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম, ফসফরাস এবং ম্যাগনেসিয়াম থাকার কারণে এই বাদামটি নিয়মিত খেলে হাড়ের শক্তি বাড়তে শুরু করে। সেই সঙ্গে বুড়ো বয়সে গিয়ে অস্টিওআর্থারাইটিসের মতো হাড়ের রোগ হওয়ার আশঙ্কাও হ্রাস পায়। ৫. ডায়াবেটিসের মতো রোগকে দূরে থাকে-একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে নিয়মিত এক মুঠো করে কাজু বাদাম খাওয়া শুরু করলে দেহের অন্দরে এমন কিছু পরিবর্তন হতে শুরু করে যে ইনসুলিনের কর্মক্ষমতা বেড়ে যায়। ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়ার আশঙ্কা কমে। তাই তো যাদের পরিবারে এই মরণ রোগের ইতিহাস রয়েছে, তাদের নিয়মিত কাজু বাদাম খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়ে থাকে। ৬. সংক্রমণের আশঙ্কা কমায়-এই প্রকৃতিক উপাদানটিতে থাকা জিঙ্ক, ভাইরাসের আক্রমণের হাত থেকে শরীরকে রক্ষা করে। তাই আপনি যদি এই ধরনের ইনফেকশনের শিকার প্রায়শই হয়ে থাকেন, তাহলে রোজের ডায়েটে কাজু বাদামের অন্তর্ভুক্তি ঘটাতেই পারেন। ৭. হার্টের ক্ষমতা বাড়ে-কাজু বাদামে উপস্থিত অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট একদিকে যেমন ক্যান্সার রোগকে দূরে রাখে, তেমনি নানাবিধ হার্টের রোগ থেকে বাঁচাতেও বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। তাই যাদের পরিবারে হার্ট ডিজিজের ইতিহাস রয়েছে, তারা প্রয়োজন মনে করলে এই প্রকৃতিক উপাদানটির সঙ্গে বন্ধুত্ব পাতাতেই পারেন। ৮. চুলের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায়-কপার হল সেই খনিজ, যা চুলের ঔজ্জ্বল্য বাড়ানোর পাশাপাশি চুলের গোড়াকে শক্তপোক্ত করতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। আর এই উপাদানটি প্রচুর পরিমাণে রয়েছে কাজুতে। এবার নিশ্চয় বুঝতে পেরেছেন কিভাবে কাজু চুলের সৌন্দর্য বাড়িয়ে থাকে। তবে এখানেই শেষ নয়, কাজু বাদামে থাকা কপার শরীরের অন্দরে এমন কিছু এনজাইমের ক্ষরণ বাড়িয়ে দেয়, যা চুলের কালো রংকে ধরে রাখতে বিশেষ ভূমিকা নেয়। ৯. ব্লাড প্রেসার নিয়ন্ত্রণে থাকে-মাঝে মধ্যেই কি রক্তচাপ গ্রাফের কাঁটার মতো ওঠা-নামা করে? তাহলে তো চটজলদি কাজু খাওয়া শুরু করতে হবে। কারণ এই বাদামে রয়েছে ম্যাগনেসিয়াম, যা ব্লাড প্রেসারকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। ১০. নার্ভের ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়-বাদামে শরীরের থারা ম্যাগনেসিয়াম নার্ভের ক্ষমতা বাড়িয়ে সার্বিকভাবে মস্তিষ্কের শক্তি বাড়াতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। আর একবার ব্রেন পাওয়ার বাড়তে থাকলে ধীরে ধীরে ব্রেনের কগনিটিভ ফাংশনেরও উন্নতি ঘটে। ফলে বুদ্ধি, স্মৃতিশক্তি এবং মনোযোগও বাড়তে শুরু করে। তথ্যসূত্র: বোল্ড স্কাই। এসএইচ/

অতিরিক্ত ঝাল খাবারেও রয়েছে উপকার   

সম্প্রতি এক গবেষণায় উঠে এসেছে যে, অতিরিক্ত ঝাল খাবার খেলে শরীরের কোন ক্ষতি হয় না বরং বিভিন্ন উপকার পাওয়া যায়। মরণব্যাধির মতো রোগের প্রকোপ কমাতে ভালই সাহায্য করে। তাছাড়া বাঙালিদের মুখরোচক খাবার হচ্ছে ঝাল। যতই কষ্ট হোক না কেন ঝালের প্রতি এক ধরনের প্রেমের টান রয়েছে। তবে জেনে নেই অতিরিক্ত ঝালে কি কি উপকার পাওয়া যাচ্ছে-          হার্টের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটে : একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে যেসব দেশের নাগরিকেরা বেশি মাত্রায় ঝাল খেয়ে থাকেন, তাদের হার্টের রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা কম থাকে। কারণ ঝাল মরিচ দিয়ে বানানো খাবার খেলে শরীরে এমন কিছু উপাদানের মাত্রা বৃদ্ধি পেতে শুরু করে যে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমে যায়। সেই সঙ্গে হার্টের ভিতরে হওয়া ইনফ্লেমেশনও কমে। মানসিক অবসাদের মাত্রা কমে : বেশ কয়েকদিন ধরেই মনটা কেমন খারাপ। সেই সঙ্গে হাসিও যেন দূর চলে গেছে। ঠিক এ সময় পছন্দের ঝাল খাবার খাওয়া শুরু করুন। দেখবেন নিমেষে মন ভাল হয়ে যাবে। কারণ এমন ধরনের খাবার খাওয়া মাত্র আমাদের মস্তিষ্কে সেরাটোনিন নামক ‘ফিল গুড’ হরমোনের ক্ষরণ বেড়ে যায়। ফলে মন খারাপের কালো মেঘ কাটতে সময় লাগে না।   ওজন কমে : নিয়মিত যদি ঝাল খাবার খাওয়া যায় তাহলে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। কারণ ঝাল মরিচে উপস্থিত ক্যাপসিসিন নামক উপাদানটি শরীরে প্রবেশ করার পর মেটাবলিজেম রেট এতটা বাড়িয়ে দেয় যে ফ্যাট জমার আশঙ্কা একেবারে কমিয়ে দেয়। সেই সঙ্গে ফ্যাট বার্ন করার প্রক্রিয়াকেও ত্বরান্বিত করে। ফলে ওজন বাড়ার কোনও আশঙ্কা থাকে না।   আয়ু বৃদ্ধি পায় : সম্প্রতি এক গবেষকদের করা একটি রিসার্চ অনুসারে যারা অতিরিক্ত ঝাল খাবার খান, তাদের অসময়ে মারা যাওয়ার আশঙ্কা প্রায় ১৪ শতাংশ কমে যায়। তাই দীর্ঘদিন বাঁচতে সপ্তাহে তিন-চার দিন ঝাল-মশলা দেওয়া খাবার খাওয়া প্রয়োজন।   ব্লাড প্রেসারকে নিয়ন্ত্রণে রাখে : ঝাল খাবার খাওয়া মাত্র সারা শরীর গরম হয়ে যায়। ফলে রক্তের প্রবাহ বেড়ে গিয়ে রক্তচাপ স্বাভাবিক মাত্রায় নেমে আসতে সময় নেয় না। তাই ঝাল খাবারে ব্লাড প্রেসারকে নিয়ন্ত্রণ রাখা সম্ভব। রাগের প্রকোপ কমে : যারা রাগী তারা বেশি মাত্রায় ঝাল-মশলা দেওয়া খাবার খাওয়া শুরু করুন। দেখবেন উপকার পাবেন। আসলে বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, ঝাল খাবার খাওয়া মাত্র সেরোটোনিনের মতো হরমোনের ক্ষরণ বাড়তে শুরু করে। ফলে রাগের প্রকোপ কমতে সময় লাগে না। সূত্র : বোল্ডস্কাই। কেএনইউ/এসি   

ক্যালোরিকে ফাঁকি দিতে ডায়েটে যা রাখবেন   

অফিসে কাজের চাপ। শরীরচর্চা করার সময় নেই। এক্ষেত্রে কী করবেন? চিন্তার কোনও কারণ নেই। এক্ষেত্রে প্রতিদিনের এই ব্যস্ত রুটিনে বেছে নিন এমন খাবার যাতে ক্যালোরির পরিমাণ খুব কম, বা ক্যালোরি প্রায় শূন্য। সুস্থ থাকার পাশাপাশি ওজনকেও বশে রাখতে প্রতিদিনের ডায়েটে রাখুন এই খাবারগুলি। বাঁধাকপি বিশেষজ্ঞদের মতে, বাঁধাকপিতে প্রতি ১০০ গ্রামে ক্যালোরির পরিমাণ ২৫। সহজপাচ্য এই সবজির দামও এমন কিছু বেশি নয়। স্যালাড বানিয়ে বা হাল্কা তেলে রান্না করে আপনার ডায়েট তালিকায় বাঁধাকপি রাখতেই পারেন।  তরমুজ জাঁকিয়ে গরম পড়ছে। এই সময় ডিহাইড্রেশন, পেটের নানা সমস্যা দেখা দেয়। বিশেষজ্ঞেরা জানাচ্ছেন, এই সময় তরমুজ খান। প্রতি ১০০ গ্রাম তরমুজে ক্যালোরি কাউন্ট ৩০। তা ছাড়া এতে ৯২ শতাংশ জলীয় উপাদান থাকে। নিয়মিত তরমুজ খেলে ডিহাইড্রেশনের সমস্যা থেকে মুক্ত থাকা যায়। সেলারি স্যালাড হোক বা স্যুপ, হেলদি ডায়েটে সেলারির খুব চাহিদা রয়েছে। ১০০ গ্রাম সেলারির ক্যালোরি কাউন্ট মাত্র ১৬। যে কোনও মৌসুমি সবজির সঙ্গেও রান্না করে খেতে পারেন। সেলারির মধ্যে রয়েছে ভিটামিন বি ওয়ান, বি টু এবং বি থ্রি যা কিডনির যে কোনও রোগ প্রতিরোধ করে। ওজন কমাতে এবং রক্তের পরিমাণ বাড়াতে সেলারির ভূমিকা রয়েছে। টোম্যাটো টোম্যাটোতে রয়েছে ভরপুর ভিটামিন। প্রতি ১০০ গ্রাম টোম্যাটোতে ক্যালোরির পরিমাণ ১৮। তা ছাড়া এতে রয়েছে লাইকোপিন যা ক্যানসার প্রতিরোধ করে এবং হার্ট ভাল রাখে। টোম্যাটোর মধ্যে প্রচুর পরিমাণ সলিউবল ও ইনসলিউবল ফাইবার থাকে। যা ওজন কমানোর জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। ফুটি তরমুজের মতোই উপকারী এই ফলে প্রতি ১০০ গ্রামে ক্যালোরির পরিমাণ ৩৪। প্রচুর পরিমাণ জলীয় উপাদান থাকায় ডিহাইড্রেশনের হাত থেকে বাঁচায়। তা ছাড়া এতে রয়েছে ভিটামিন সি, পটাসিয়াম এবং ফোলেট যা দেহে রোগ প্রতিরোধ শক্তি গড়ে তোলে। শশা ওজন কমাতে লো ক্যালোরি ডায়েটের তালিকায় প্রথম সারিতেই রয়েছে শশা। ওবেসিটি হোক বা ডায়বিটিস, যে কোনও রোগে চিকিৎসকেরা শশা খাওয়ারই নিদান দেন। এতে ক্যালোরির পরিমাণ খুব কম, প্রতি ১০০ গ্রামে মাত্র ১৬। পেঁপে স্বাস্থ্য সচেতন মানুষের ডায়েট তালিকায় বহুদিন ধরেই জায়গা করে নিয়েছে পেঁপে। ভিটামিন এবং মিনারেল সমৃদ্ধ পেঁপেতে ক্যালোরির পরিমাণ ৩৭। তা ছাড়া এতে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং ফাইবার। তা ছাড়া পেঁপে বীজেরও রয়েছে ভরপুর পুষ্টিগুণ। পেঁপে বীজে রয়েছে প্রোটিওলাইটিক উৎসেচক, যা দেহে বাসা বাধা নানা ক্ষতিকর জীবাণু নাশ করে। দেহে প্রোটিন বিপাকে সাহায্য করে, পাশাপাশি, ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণ থেকে রক্ষা করে। সূত্র: আনন্দবাজার একে//এসি  

ক্যালসিয়াম পূরণ করবে যেসব খাবার   

সুস্থ থাকার জন্য প্রয়োজন ভিটামিন ও মিনারেল। আর মিনারেলের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে ক্যালসিয়াম। এটি হাড়ের গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এছাড়াও হৃদস্পন্দন ও পেশীর কাজ পরিচালনার জন্যও ক্যালসিয়াম আবশ্যক। রক্ত জমাট বাঁধতেও সাহায্য করে ক্যালসিয়ম। কিন্তু মাঝে মাঝে শরীরে ক্যালসিয়ামের ঘাটতি দেখা যায়। আর এই ঘাটতি পূরণে ক্যালসিয়ামযুক্ত খাবার খাওয়া প্রয়োজন।   যেসব খাবারে ক্যালসিয়ামের ঘাটতি পূরণ করবে সেগুলো উল্লেখ করা হলো-    দুধ : ক্যালসিয়ামের উৎস বলতে সবার আগে দুধের নামই আসে। গরুর দুধ এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে প্রচলিত। এক কাপ দুধে রয়েছে ২৮০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম। দেহের ক্যালসিয়ামের চাহিদা পূরণ করতে দুধ যথেষ্ট কার্যকর। খুব ছোট শিশুদের মায়ের দুধ থেকেই এ চাহিদা পূরণ করে।  ডুমুর : এই ফলে যেমন আয়রন থাকে প্রচুর তেমনি থাকে ক্যালসিয়াম। এক কাপ ডুমুরে প্রায় ২৪২ গ্রাম ক্যালসিয়াম মেলে। একই সঙ্গে ফাইবার, পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম থাকায় এটি হৃদস্পন্দন স্বাভাবিক রাখে। পেশী মজবুত করে। কমলালেবু : ভিটামিন সি আর ক্যালসিয়াম পূরণে ভালো কাজ করে কমলালেবু। একটি কমলালেবু মানেই শরীরে ৬০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম। এতেও ভিটামিন ডি প্রচুর পাবেন। সয়া দুধ : যারা অ্যালার্জিসহ নানা কারণে গরুর দুধ খেতে পারেন না তাদের জন্য সয়া দুধ অত্যন্ত কর্যকরী। এতে ক্যালসিয়াম ছাড়াও রয়েছে ভিটামিন ‘ডি’। কাজুবাদাম : কাজুবাদামে প্রচুর ক্যালসিয়াম রয়েছে। মাত্র এক কাপ কাজুবাদামেই মিলবে প্রায় ৪৫৭ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম। এ ছাড়া এতে উচ্চমাত্রার প্রোটিনসহ নানা পুষ্টিকর উপাদান রয়েছে। সবুজ শাকসবজি : পালং শাক, বাঁধাকপি, শালগম, লেটুস পাতা, মাশরুমসহ বিভিন্ন ধরনের শাকসবজিতে প্রচুর ক্যালসিয়াম রয়েছে। তাই শাকসবজি কোনো অবস্থাতেই খাবারের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া যাবে না।  মাছ : প্রধানত স্যামন ও সার্ডিন জাতীয় মাছে অর্থাৎ সামুদ্রিক মাছে প্রচুর ক্যালসিয়াম থাকে। বিশেষ করে একটুকরো সার্ডিন মাছে প্রায় ৫৬৯ মিগ্রা ক্যালসিয়াম থাকে। এছাড়া, কাঁটা সমেত যে কোনও মাছেই এই মিনারেলস মিলবে। দই : দইয়ে রয়েছে উচ্চ পরিমাণ ক্যালসিয়াম। এক কাপ দই খাওয়া প্রতিদিনকার ক্যালসিয়ামের চাহিদা অনেকটাই পূরণ করে। এক কাপ দইয়ে ২৫০ থেকে ৩০০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম থাকে। আমলকী : আমলকীতে আছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এতে রয়েছে ভালো পরিমাণ ক্যালসিয়ামও। এটি এমনিও খাওয়া যায়। আবার পানিতে ফুটিয়েও খাওয়া যায়।  আদা : এক গ্লাস পানির মধ্যে আদার দুই টুকরো পানিতে ফুটিয়ে নিন। এরপর একে স্বাদ অনুযায়ী মধু মেশান। আদার এই পানীয়টি ক্যালসিয়ামের চাহিদা পূরণ করতে ভালো কাজ করবে। সূত্র : ওয়ান ইন্ডিয়া। কেএনইউ/এসি   

হার্ট অ্যাটাকের পূর্বাভাস জানা যাবে ৫ বছর আগেই...

ভূমিকম্পেরও পূর্বাভাস দেওয়া সম্ভব হয় কখনও-সখনও। কিন্তু হার্ট অ্যাটাক কতদিনের মধ্যে হতে পারে, তা আঁচ করাটা আমাদের আয়ত্তের বাইরেই আছে আপাতত। কিন্তু এবার হার্ট অ্যাটাকেরও পূর্বাভাস দেওয়া সম্ভব হবে ৫ বছর আগেই! বলা যাবে, হার্ট অ্যাটাক হবে কি-না, হার্টের ভাল্বে কোনও ফুটো আছে কি-না বা আগামী দিনে তেমন কিছু হওয়ার সম্ভাবনা কতটা! তা কতটা ‘ম্যাসিভ’ হতে পারে, সেটাও আঁচ করা যাবে অনেক আগেই! তার জন্য কোনও এক্সরে করতে হবে না। ডপলার সাউন্ড এফেক্টের মাধ্যমেও তা বোঝার চেষ্টা করতে হবে না। শুধু চোখ দেখে, রেটিনার চেহারা, চরিত্র, আচার-আচরণ দেখেই এবার অনেক আগেভাগে হার্ট অ্যাটাকেরও পূর্বাভাস দেওয়া সম্ভব হবে। এই অভিনব পদ্ধতি আবিষ্কার করেছে গুগলের ৮ সদস্যের একটি গবেষক দল। ক্যালিফোর্নিয়ার মাউন্টেন ভিউয়ে গুগলের সদর দফতরে এ গবেষণা করা হয়। গবেষণাপত্রটি প্রকাশিত হয়েছে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান-জার্নাল ‘নেচার-বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং’-এ। গবেষণাপত্রটির শিরোনাম- ‘প্রেডিকশন অব কার্ডিওভাসকুলার রিস্ক ফ্যাক্টর্স ফ্রম রেটিনাল ফান্ডাস ফটোগ্রাফস ভায়া ডিপ লার্নিং।’ ওই পূর্বাভাস দেওয়া সম্ভব হবে গুগলের গবেষক দলের বানানো একটি আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স সফটওয়্যারের মাধ্যমে। মূল গবেষকদের অন্যতম লি পেঙ ইমেল জানিয়েছেন, তাঁরা ২ লক্ষ ৮৪ হাজার ৩৩৫ জন রোগীর স্বাস্থ্য সম্পর্কিত বিভিন্ন তথ্যের ভিত্তিতে একটি নির্দিষ্ট গাণিতিক ফর্মূলা বা ‘অ্যালগরিদম’বানিয়েছেন। তাঁদের রেটিনার ছবি বিশ্লেষণ করেছেন। সেই সব তথ্য দিয়েই ওই আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স সফ্‌টওয়্যারটি বানানো হয়েছে। রেটিনা দেখে শরীরে কোনও রোগ হয়েছে কি-না, তা বোঝার পদ্ধতি বহুদিন ধরেই চালু চিকিৎসক মহলে। ডায়াবেটিস, উচ্চরক্তচাপ ও কোলেস্টেরলের উচ্চমাত্রা বোঝার প্রাথমিক উপায় হিসেবে চিকিৎসকরা বহুদিন ধরেই রেটিনা পরীক্ষা করে আসছেন। এমনকি কয়েক ধরনের ক্যান্সারের ক্ষেত্রেও প্রাথমিকভাবে রেটিনা পরীক্ষার চল রয়েছে। সূত্র: আনন্দবাজার /এআর /

হৃদযন্ত্রকে সুস্থ রাখার খাবার

হৃদযন্ত্র ভালো ও সুস্থ রাখতে বাদাম ও বীজ দুটোই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। যেসব খাবারে চর্বি, ট্রান্সফ্যাট এবং কোলোস্টেরলের পরিমাণ বেশি সেগুলো হৃদযন্ত্রের জন্য খুবই ক্ষতিকর, সুতরাং খাবারের তালিকা থেকে এইগুলো বাদ দিতে হবে। আর বাদাম ও বীজের মত প্রোটিন জাতীয় খাবার যেগুলো হৃদযন্ত্রকে ভালো রাখে সেগুলো প্রতিদিনের মেনুতে রাখতে হবে। তবে সব প্রোটিনই হৃদযন্ত্রকে ভালো রাখতে সাহায্য করে না। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার এক ইউনিভার্সিটি’র গবেষণায় প্রমানিত হয়েছে যে, বাদাম ও বীজ হৃদযন্ত্রকে সুস্থ রাখতে ব্যাপক উপকার করে। তাদের গবেষণায় ৮০ হাজার অংশগ্রহণকারীর উপর পর্যবেক্ষণ চালানো হয়। এতে দেখা যায়, যে সকল মানুষ মাংসজাত প্রোটিন বেশি গ্রহণ করে তাদের ‘কার্ডিওভাসকুলার ডিজিজ’ অর্থাৎ হৃদসংক্রান্ত রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি ৬০ শতাংশ বেশি। আর যারা বাদাম এবং বীজজাতীয় খাবার দিয়ে নিজেদের প্রোটিনের যোগান দেন তাদের এই ঝুঁকি ৪০ শতাংশ কমে যায়। পুষ্টিবিদদের মতে, প্রচলিতভাবে মাংসে থাকা চর্বিকে ‘খারাপ চর্বি’এবং বাদাম কিংবা বীজজাতীয় খাবারের চর্বিকে ‘ভালো চর্বি’হিসেবে দেখা হয়েছে। বাদাম ও বীজজাতীয় খাবারে বেশি পরিমাণে ‘আনস্যাচারেইটেড ফ্যাট’ থাকার কারণে স্বাভাবিকভাবেই এগুলোকে ‘গুড ফ্যাট’বিভাগে ফেলা হয়। যদিও এটা সত্যি যে, এগুলোর ‘ভালো প্রোটি’ শরীরে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। তাই স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসে মাংসজাত প্রোটিনের পরিবর্তে উদ্ভিজ্জ প্রোটিনের মাত্রা বেশি করে রাখা উচিত। কেএনইউ/ এআর

ওজন কমাতে ৬ খাবার

ওজন নিয়ন্ত্রনের জন্য শরীরচর্চা প্রয়োজন৷ প্রয়োজন সঠিক ডায়েটেরও৷ খাদ্য তালিকায় এমন কিছু উপাদান রাখুন যা ওজনকে নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি শক্তি যুগিয়ে আপনাকে রাখবে দিনভর তরতাজা৷ এমনই ৬টি খাদ্য উপাদান আপনাদের জন্য তুলে ধরা হলো যাতে ক্যালোরির পরিমান থাকবে সামান্য অথচ পুষ্টি যোগাবে সম্পূর্ণরুপে। ১) বাঁধাকপিবাঁধাকপি একটি অতি সাধারণ সবজি।এটিতে ১০০ গ্রামে আছে ২৫ ক্যালরি।কিন্তু শক্তি ও পুষ্টি যোগাতে খুবই কর্যকরী।এটি অত্যন্ত সহজ লভ্য একটি সবজি।দুপুরের খাবারে সালাদ, ডিনারে স্যুপ, ভাজি অথবা আপনি যেভাবে খুশি এটিকে খেতে পারেন।২)তরমুজগ্রীষ্মকালীন ফলের মধ্যে তরমুজ বেশ জনপ্রিয়৷ এর প্রতি ১০০ গ্রামে থাকছে ৩০ ক্যালোরি৷ যা নুন্যতম হিসেবেই ধরা হয়৷ ফলটিতে রয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি যা আপনার ত্বককে গরমে হাইড্রেট রাখতে সাহায্য করে।৩) টমেটোটমেটো একটি বহুল পরিচিত সবজি । সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এটি কাঁচা অবস্থায়তেও খাওয়া যায়। খাওয়া যায় সালাদ হিসেবেও। টমেটোর প্রতি ১০০ গ্রামে থাকে ১৮ ক্যালোরি৷ ওজন নিয়ন্ত্রনে রাখাতে টমেটো অত্যন্ত উপকারী। লাইকোপিন সমৃদ্ধ এই সবজি আপনাকে ক্যান্সার এবং হার্টের রোগ থেকেও দূরে রাখবে৷৪) ফুটিতরমুজের ছোট ভার্সান হিসেবে ফুটি কিন্তু এই গরমে বেশ জনপ্রিয়৷ অনেকে এই ফলটিকে খরমুজ হিসেবে জানেন৷ যার প্রতি ১০০ গ্রামে আছে ৩৪ ক্যালোরি৷ পটাসিয়াম, ভিটামিন সি সমৃদ্ধ এই ফলটি আপনার শরীরে পানির ঘারতি পূরণ করবে৷৫)শশাওজন নিয়ন্ত্রন করতে যে উপাদান বিশেষ ভূমিকা পালন করে সেটি হচ্ছে শশা। শসা একটি সহজলভ্য ফল৷ যার প্রতি ১০০ গ্রামে থাকছে ১৬ ক্যালোরি৷৬) পেঁপেরোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে যে ফলটি বিশেষ অবদান রাখে তা হচ্ছে পেঁপে। এর প্রতি ১০০ গ্রামে থাকছে ৩৭ ক্যালোরি৷ যা দ্রুত ওজনকে নিয়ন্ত্রন করতে সাহায্য করবে৷ সারা বছরই এই ফলটি পাওয়া যায়৷ ফাইভার, ভিটামিন ডি এবং অ্যান্টি-অক্সিডেন্টের গুণে সমৃদ্ধ ফলটি আপনি আপনার খাবার তালিকায় রাখতে পারেন। এমএইচ/ এমজে        

গর্ভাবস্থায় যেসব ফলের রস খাবেন    

গর্ভাবস্থায় মায়েদের স্বাস্থ্যকর ফল এবং জুস খুবই উপকারী। কারণ এসময় মায়ের শরীরের সাথে সন্তানের শরীরের সংযোগ থাকে। মায়ের স্বাস্থ্যকর খাবার শিশুর স্বাস্থ্যের উপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।  গর্ভাবস্থায় ফল এবং ফলের রস মা ও শিশুর জন্য উপকারী। এসময় দিনে এক গ্লাস ফলের রস খেলে তা বেশ কিছুক্ষনের জন্য পেট ভরাট রাখতেও সাহায্য করে। একইসাথে মায়ের চেহারাতেও চমক আসে। জেনেনিন কি কি ফলের রস মা ও শিশুর জন্য খুবই পুষ্টিকর-     ১. আপেল: গর্ভাবস্থায় নিয়মিত আপেলের রস খেলে শরীর সুস্থ থাকবে। আপেলের রসে শিশু পুষ্টি পাবে। ২. পেয়ারা: গর্ভাবস্থায় কোষ্টকাঠিন্যের সমস্যা সারাতে ভূমিকা রাখে পেয়ারা। চিকিৎসকরা বলছেন, যারা এ সময় কোষ্টকাঠিন্যের সমস্যায় পড়েন তাদের নিয়মিত পেয়ারার রস খাওয়া উচিত। ৩. কমলা: কমলার রস যেকোন ধরনের ফ্লু প্রতিরোধ করে। কমলার রস রোগ প্রতিরোধেরও ভালো উৎস। এ কারণে সুস্থ থাকতে গর্ভাবস্থায় কমলার রস খাওয়া উচিত বলে মনে করেন চিকিৎসকরা। ৪. গর্ভাবস্থায় সবচেয়ে কার্যকরী হলো কলা, দই আর মধু দিয়ে তৈরি জুস। এই জুস তৈরি করতে মধু, কলা আর দই একসঙ্গে নিয়ে ব্লেন্ডারে ব্লেন্ড করুন। এরপর এতে পরিমান মতো পানি মেশান। হয়ে গেলো জুস। ভালো ফল পেতে প্রতিদিন বিকেলে একবার করে এই জুসটি খেতে পারেন। সূত্র : স্টাইলক্রেজ আর/এসি   

ফলাহার- কখন খাবেন, কখন খাবেন না?

সুস্বাস্থ্যের জন্য ফলমূল খাওয়ার কোন বিকল্প নেই। ফলমূলের মধ্যে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন, মিনারেলস, আঁশ ও অ্যান্টি অক্সিডেন্ট থাকে। তবে ফলমূল কখন খাবেন, কখন খাবেন না, সেটা খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, খাবারের সময় অন্তত অর্ধেক প্লেট ফলমূল ধারা পূর্ণ রাখা উচিত। তবে সবজি যে কোন সময় খাওয়া যায় বলেও জানান তারা। তাদের গবেষণা মতে, ফলমূল নির্দিষ্ট সময়ে খেতে হবে। বিশেষ করে ফলে চিনির পরিমাণ বিবেচনা রেখে নির্দিষ্ট সময়ে তা খেতে হবে। ফলমূলকে সুপারফুড বলা হয়, কারণ এতে প্রয়োজনীয় পুষ্ঠি উপাদানের সবকিছুই পাওয়া যায়। তবে আপনাকে অবশ্যই মাথায় রাখতে হবে যে, দিনের যে কোন সময় আপনি ফলাহার করতে পারবেন না। মনে রাখতে হবে, খাবারের পরপরই কোনো ধরণের ফল খাওয়া যাবে না। এর কারণ হিসেবে গবেষকরা বলেন, সুগার, কার্বোহাইড্রেড ও ব্যাকটেরিয়া খাবারকে পচিয়ে ফেলে, যা হজমক্রিয়ায় প্রভাব ফেলে। ভারতের বিখ্যাত পুষ্ঠিবিদ শিল্পা আরোরা ওই গবেষণার সঙ্গে একমত পোষণ করে বলেন, ফলমূল নিজেও একটা খাবার। তাঁদেরকে অবশ্যই মূল খাবারের সঙ্গে খাওয়া যাবে না। ফলের মধ্যে থাকা সুগার ভারী প্রোটিন খাবারের পর খেলে, তা হজম ক্রিয়ায় সমস্যার সৃষ্টি করে। এই গবেষণার সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন ভারতের মুম্বাই গ্লোবাল হাসপাতাল মুম্বাইয়ের চিকিৎসক ডা. জামরুদ প্যাটেল। তিনি বলেন, খাবারের সঙ্গে ফলাহার করলে, ফলের মধ্যে থাকা পুষ্ঠি কোষগুলো শোষণ করতে পারে না। তাই মূল খাবার খাওয়ার অন্তত ৩০ মিনিট পর ফলাহার করতে হবে। ডা. প্যাটেল আরও বলেন, ফল খাওয়ার উপযুক্ত সময় হলো সকাল বেলা। বিশেষ করে একগ্লাস পানি পান করার পর ফলাহার করাটাই উত্তম। বিশেষ করে যারা ওজন কমাতে চান, তারা সকাল বেলা ফলাহার করা উচিত। এতে প্রচুর শক্তি পাওয়া যায়, পাশাপাশি ওজনও কমে। এ ছাড়া সকালের নাস্তা ও দুপুরের খাবারের মাঝখানে ও সন্ধ্যার নাস্তা হিসেবে ফলাহার করা যায়। এদিকে খাবারের ৩০ মিনিট আগে ফলাহার করলে অতি ভোজনের অভ্যাস থেকেও মুক্তি পাওয়া যায়। বিশেষ করে ফাইবারযুক্ত (আঁশযুক্ত) খাবার মূল খাবারের আগে ৩০ মিনিট আগে গ্রহণ করলে হজমক্রিয়া বাড়ে। এদিকে রাতে কোনোভাবেই ফলাহার করা উচিত নয় বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। এতে রাত্রে তন্দ্রা ও নিদ্রা দুই-ই দূর হয়ে যায়। তাই রাতে কোনোভাবেই রাতে ফলাহার করা যাবে না। যেহেতু ফলমূল সুস্বাস্থ্যের জন্য সবচেয়ে বড় দরকারি খাবার, তাই যথাসময়ে নিয়ম মেনে তা খেতে হবে। সূত্র: এনডিটিভিএমজে/

থাইরয়েড ক্যান্সার পুরোপুরি নিরাময় সম্ভব : ডা. দেলোয়ার

থাইরয়েড এক ধরনের গ্রন্থি। এটি মানুষের গলার সামনের ভাগে অবস্থান করে। থাইরয়েড শরীরের সব রেচন প্রক্রিয়ার সাহায্য করে। থাইরয়েডে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। আমাদের দেশে বর্তমানে থাইরয়েডজনিত রোগ অনেক মানুষ আক্রান্ত। কিন্তু সঠিক সময় যথাযথ চিকিৎসা না দিতে পারলে, ক্যান্সার আক্রান্ত হতে পারে। থাইরয়েডিজমের চিকিৎসা হচ্ছে অ্যান্টিথাইরয়েড ওষুধ। যেটি থাইরয়েড গ্রন্থির কার্যকারিতাকে কমিয়ে দেয়। ওষুধের পাশাপাশি সার্জারি করাই ভালো। ক্যান্সার গ্রন্থিটিতে যে পরিমাণ আক্রান্ত করছে, সেই পরিমাণ গ্রন্থি কেটে কার্যকারিতা কমিয়ে দেওয়া যেতে পারে এবং রেডিও আয়োডিন থেরাপি, নিউক্লিয়ার মেডিসিনে ব্যবহার করা যেতে পারে। এর ভূমিকা ক্যান্সার নিমূর্লে ভূমিকা রাখে। যখন অ্যান্টি থাইরয়েড ওষুধ ব্যবহার করা হয়, এটি বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দেড় থেকে দুই বছর ব্যবহার করা হয়। তারপর এই ওষুধ তাকে বন্ধ করে দিতে হবে। রোগী যদি স্বাভাবিক থাকে, খুব ভালো কথা, তবে যদি আবারও আক্রান্ত হয় এই ওষুধ দিয়ে তাকে চিকিৎসা করার কোনো সুযোগ নেই। অস্ত্রোপচার করতে হবে। আর অস্ত্রোপচার এর মাধ্যমে থাইরয়েড ক্যান্সার সম্পূর্ণ নিরাময় সম্ভব। এমনটিই জানালেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের এন্ডোক্রিনিউলোজি-হেড এন্ড নেক সার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. দেলোয়ার হোসেন। সম্প্রতি একুশে টিভি অনলাইনকে এক বিশেষ সাক্ষাতকারে এসব কথা বলেন। সাক্ষাতকার নিয়েছেন একুশে টিভি অনলাইন প্রতিবেদক তবিবুর রহমান। একুশে টিভি অনলাইন : থাইরয়েড ক্যান্সার অস্ত্রোপচারে কতটুকু সফলতা আসে? ডা. দেলোয়ার হোসেন: থাইরয়েড ক্যান্সার আস্ত্রোপচার করে শতভাগ সফলতা আসে। কিন্তু আক্রান্ত হওয়ার উপরে নির্ভর করে অস্ত্রোপচার। আমাদের দেশে থাইরয়েড ক্যান্সার সর্ম্পকে সাধারণ মানুষ এখনও তেমন সর্তক নয়। ফলে যখন পরীক্ষা নিরীক্ষা করে জানতে পারি থাইরয়েড ক্যান্সার আক্রান্ত হয়েছে। তখন অস্ত্রোপচার ছাড়া চিকিংসা করা সম্ভব হয় না। আর অস্ত্রোপচার সম্ভব নয়। একুশে টিভি অনলাইন: থাইরয়েড ক্যান্সার আস্ত্রোপচারে খরচ কেমন? গরীব রোগীদের কোন বিশেষ ব্যবস্থা আছে কি না। ডা.দেলোয়ার হোসেন: থাইরয়েড ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীকে আগে পরীক্ষা নিরীক্ষা কররে দেখতে হবে। থাইরয়েড ক্যান্সারে আক্রান্ত কি না। যদি আক্রান্ত হয় তাহলে তার পরিমাণ কতকুটু। যদি আক্রান্ত পরিমাণ বেশি হয় তাহলে আস্ত্রোপচার ছাড়া মুক্তি সম্ভব নয়। অস্ত্রোপচারে হাসপাতাল ভেদে খরচের ভিন্নতা রয়েছে। যেমন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় এর আস্ত্রোপচারে খরচ হয় ২০ হাজার টাকা। রাজধানীর অন্যান্য হাসপাতালে অস্ত্রোপচার করলে খরচ হয় ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা। গরীব রোগীদের জন্য ঢাকা মেডিকেল সমাজ সেবা অধিদফতরে যোগাযোগ করলে কম খরচে অস্ত্রোপচার করা যায়। একুশে টিভি অনলাইন : থাইরয়েড গ্রন্থির ক্যান্সার ছাড়া আর কি কি ধরনের সমস্যা হতে পারে? ডা. দেলোয়ার হোসেন: থাইরয়েডে শুধু ক্যান্সার না অনেক ধরনের সমস্যা তৈরি হতে পারে। শিশুর ক্ষেত্রে থাইরয়েড সমস্যা তৈরি হয় পারে। যেমন জন্মগতভাবেই যদি শিশুর থাইরয়েড গ্রন্থি তৈরি না হয় অথবা ভুলভাবে তৈরি হয়, ঠিকমত বৃদ্ধি না পায়, অথবা তৈরি হলেও ঠিকমতো কাজ না করে, তাহলে থাইরয়েড হরমন তৈরি হবে না। সেক্ষেত্রে বাচ্চার শারীরিক ও মানসিক বিকাশ ব্যহত হয়। আর বড়দের ক্ষেত্রে থাইরয়েড গ্রন্থির বিভিন্ন রকম রোগ হতে পারে। থাইরয়েড যে হরমন তৈরি করছে এটি একটি স্বাভাবিক মাত্রার মধ্যে থাকবে। তবে যদি স্বাভাবিক মাত্রার চেয়ে কম তৈরি হয়, একে বলা হয় হাইপোথাইরয়েডিজম। এতে বিভিন্ন রকম অসুবিধা হয়। আবার যদি বেশি তৈরি হয়, বলা হয় হাইপার থাইরয়েডিজম। সেখানে আবার নানা রকম সমস্যা হবে। এটি হচ্ছে কাজঘটিত সমস্যা। এ ছাড়া যে সমস্যা হতে পারে, থাইরয়েড গ্রন্থি নিজেই বড় হয়ে যেতে পারে। যাকে আমরা বলি গলগণ্ড। এখানে থাইরয়েড গ্রন্থি বড় হয়ে যায়। এটি বিভিন্নভাবে বড় হতে পারে, বিভিন্ন কারণে বড় হতে পারে। আয়োডিনের অভাব আছে এমন এলাকায় যারা বাস করে তাদের হতে পারে বা যারা কম খায় তাদের হতে পারে। সে ক্ষেত্রে আয়োডিন ডেফিসিয়েন্সি গয়েটার বা এনডিমিক গয়েটার হয়। গ্রন্থিটি সমানভাবে বড় হয়ে যেতে পারে। আয়োডিন যেহেতু হরমোন তৈরির বিশেষ একটি উপাদান। আয়োডিন যদি কম থাকে গ্রন্থি চেষ্টা করবে শরীরের হরমোনকে স্বাভাবিক রাখতে। সেই ক্ষেত্রে সে আস্তে আস্তে বড় হয়ে যাবে। যাকে হাইপারট্রোফি বলা হয়। গ্রন্থি বড় হয়ে যাবে। তবে হরমোন স্বাভাবিকভাবে বের করার চেষ্টা করবে। করতে করতে এক সময় আর স্বাভাবিকভাবে তৈরি করতে পারবে না। সেক্ষেত্রে হাইপোথাইরয়েডিজম হয়ে যাবে। যদিও লবণের মাধ্যমে আয়োডিন থাকার কারণে আমাদের দেশে এই রোগ অনেকটা কমে গেছে। একুশে টিভি অনলাইন : এই রোগ নির্ণয়ের জন্য নিউক্লিয়ার মেডিসিনের কাজ কী? ডা. দেলোয়ার হোসেন: নিউক্লিয়ার মেডিসিনে থাইরয়েডের যেসব পরীক্ষা করে থাকি, তার মধ্যে প্রথম হলো থাইরয়েডের হরমোন। টিথ্রি, টি ফোর, ফ্রি টিথ্রি, থ্রি টিফোর এবং থাইরয়েড হরমোন নিয়ন্ত্রণ করে টিএসএইচ- এই হরমোনগুলোর আমরা করে থাকি। এছাড়া নির্দিষ্ট পরিমাণ তেজস্ক্রিয় আয়োডিন রোগীকে খাওয়ানোর পরে, নির্দিষ্ট সময় পরে কত শতাংশ আপটেক হচ্ছে থাইরয়েড গ্রন্থিতে এটি দেখি। দেখে আমরা বলতে পারি এর কার্যকারিতা কম, না কি বেশি। যেমন :  হাইপার থাইরয়েডিজমে আপটেকটা বেড়ে যাবে। হাইপো থাইরয়েডিজমে কমে যাবে। একুশে টিভি অনলাইন : আপনার মূল্যবান সময় দেওয়া জন্য ধন্যবাদ। ডা. দেলোয়ার হোসেন: একুশে টিভি পরিবারকেও ধন্যবাদ। /এআর /  

© ২০১৮ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি