ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৭ জুলাই, ২০১৮ ৭:৩৭:৫৮

শ্বেতী রোগের কারণ ও প্রতিকার

শ্বেতী রোগের কারণ ও প্রতিকার

ত্বকের একটি অদ্ভুত রোগ হল শ্বেতী। তবে এটি মোটেই ভয়াবহ রোগ নয়! এটির সম্পর্কে অজ্ঞতার কারণে শ্বেতীতে আক্রান্ত রোগীকে দেখলে আঁতকে ওঠেন অনেকে। শ্বেতীতে আক্রান্ত রোগীরা বেশির ভাগই মানসিক অবসাদে ভোগেন। প্রথমেই আমাদের জানতে হবে যে শ্বেতী কী? ত্বকের মধ্যের মেলানোসাইট কোষে থাকে মেলানিন, যা ত্বকের স্বাভাবিক রঙের ভারসাম্য রক্ষা করে। মেলানিনের ক্রিয়াকলাপে বাধা সৃষ্টি হলে বা ভারসাম্য নষ্ট হলেই দেখা দেয় শ্বেতী। শ্বেতী বংশগতভাবেও হয়। প্রতি ১০০ জন শ্বেতী রোগীর মধ্যে ৩০ জনের ক্ষেত্রেই শ্বেতী হয় বংশগত ধারায়, মাতৃকুল বা পিতৃকুলের কারও না কারও থেকে জিনের প্রভাবে। বাকি ৭০ শতাংশের ক্ষেত্রে শ্বেতী সাদা দাগ ছড়াতে থাকে নিজস্ব কারণে, যার মূলে রয়েছে মেলানিনের কারসাজি! বর্তমানে সারা বিশ্বে প্রায় ১০ কোটি মানুষ শ্বেতীতে আক্রান্ত। প্রয়াত শিল্পী মাইকেল জ্যাকসনও এই রোগে আক্রান্ত ছিলেন। ২৬ জুন তার প্রয়ান দিবসে বিশ্বজুড়ে পালিত হয় `বিশ্ব ভিটিলিগো দিবস` বা বিশ্ব শ্বেতী দিবস হিসেবে। সাধারণত মুখমণ্ডল, কনুই, বুকেই প্রথমে শ্বেতী হতে শুরু করে। কখনও কখনও শ্বেতী চোখের পাশ দিয়ে, নাকের দুপাশে বা ঠোঁটের কোণ বা উপর দিয়েও শুরু হয়। কিছু ক্ষেত্রে শ্বেতী খুব একটা ছড়ায় না, একটা বিশেষ জায়গাতেই থাকে। আবার কখনও এমনভাবে মুখে, বুকে, হাতে, পায়ে ছড়িয়ে পড়ে যে বোঝাই না এক সময় গায়ের রং আসলে কী ছিল! দ্বিতীয় ধরনের শ্বেতীর দাগই মানুষকে শ্রীহীন করে তোলে। ৫০ শতাংশ শ্বেতী ধরা পড়ে বয়স বছর দশেক হওয়ার পর। শ্বেতীর চিকিত্‍সা ছোট আকৃতির শ্বেতী মলম বা ওষুধে সেরে যেতে পারে। চিকিত্‍সকের পরামর্শ অনুযায়ী মলম লাগানো বা ওষুধ সেবনের পাশাপাশি সকালবেলার রোদ লাগাতে হবে শ্বেতী-আক্রান্ত স্থানে। বড় আকারের শ্বেতী হলে মলম আর ওষুধে কাজ হতে প্রায় দু’বছরও লাগতে পারে। ওষুধে কাজ না হলে, অস্ত্রপচার পর্ব। শ্বেতী চিকিত্‍সায় অস্ত্রপচারের নাম পাঞ্চ গ্রাফটিং। যে ধরনের শ্বেতী বছর দুয়েক মোটামুটি একই জায়গায় অবস্থান করে সেই শ্বেতী সারিয়ে তুলতে পারে এই পাঞ্চ গ্রাফটিং। যত অল্প বয়সে শ্বেতীর চিকিত্‍সা করা যায় তত ভাল। শরীরের যে কোনও জায়গায় সাদা দাগ দেখা দিলে দ্রুত চিকিত্‍সকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। ডায়াবেটিস, হাইপার থাইরয়েড যাদের রয়েছে, তাদের শ্বেতী হওয়ার প্রবণতা বেশি থাকে। সূত্র: জিনিউজ একে//
আসছে এইচআইভির টিকা

এইচআইভি এইডস হলে কোনো রক্ষা নেই। নেই কোনো টিকা, নেই চিকিৎসা। সারাটি জীবন দুর্ভোগ সঙ্গী করে বয়ে বেড়াতে হয়। গোটা পরিবারের জন্য কান্নার কারণ হন ওই ব্যাক্তি। তবে এইআইভি এইডস রোগী ও তার স্বজনদের জন্য কিছুটা হলেও সুসংবাদ। এইচআইভি-১ ভাইরাসের এই সংক্রমণ থেকে মানুষকে রক্ষায় এখন কিছুটা আশার আলো দেখা যাচ্ছে। বিজ্ঞানীরা এই ভাইরাসের একটি নিরাপদ টিকা আবিষ্কার করেছেন বলে দাবি উঠেছে সম্প্রতি। ৬ জুলাই যুক্তরাজ্যের বিখ্যাত ল্যানসেট সাময়িকীতে প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে জানানো হয়, এইচআইভি-১-এর টিকা আবিষ্কার করা হয়েছে। এই টিকা শরীরের রোগ প্রতিরোধব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে ভূমিকা রাখে। ইতোমধ্যে এই টিকা পরীক্ষামূলকভাবে রেসাস প্রজাতির বানরের শরীরে প্রয়োগ করা হয়েছে। এতে টিকাটি নিরাপদ ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে কার্যকর বলে প্রমাণিত হয়েছে। সীমিত পরিসরে মানুষের শরীরেও টিকাটির পরীক্ষা করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রেও ইতিবাচক ফল মিলেছে। বিজ্ঞানীরা জানান, প্রাথমিক ফলাফল ইতিবাচক হওয়ায় এখন এই টিকার পরীক্ষা আরও বৃহৎ পরিসরে করা যাবে। নিরাপদ হওয়ায় আরও বেশিসংখ্যক মানুষকে এই পরীক্ষার সঙ্গে যুক্ত করা যাবে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এইচআইভি ভাইরাস সারা বিশ্বে ভয়াবহভাবে ছড়িয়ে পড়ার ৩৫ বছর পর এটি একটি বড় অগ্রগতি। এখন পর্যন্ত এই মাত্রার ফল দিতে পেরেছে মাত্র পাঁচটি টিকা। এর আগে মাত্র চারটি টিকা মানুষের শরীরে প্রয়োগ করার মতো পর্যায়ে পৌঁছেছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত এইচআইভির সত্যিকারের কোনো টিকা আবিষ্কৃত হয়নি। জাতিসংঘের তথ্যমতে, প্রতিবছর সারা বিশ্বে এইচআইভি ভাইরাসের সংক্রমণের কারণে এইডস রোগে আক্রান্ত হচ্ছে ১৮ লাখ নতুন মানুষ। বিশ্বে বর্তমানে ৩ কোটি ৭০ লাখ মানুষ এই রোগ নিয়ে বেঁচে আছে। এই রোগের সবচেয়ে ভয়াবহ দিক হলো এর ফলে শরীরের রোগ প্রতিরোধব্যবস্থা একেবারে ভেঙে পড়ে। ফলে যেকোনো সাধারণ রোগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। প্রায় চার দশক ধরে এই রোগের প্রতিষেধক আবিষ্কারের চেষ্টা করছেন বিজ্ঞানীরা। চেষ্টা করা হচ্ছে, অন্তত রোগ প্রতিরোধব্যবস্থাকে শক্তিশালী করে এই রোগ থেকে সুরক্ষা দেওয়ার। কিন্তু এখন পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য তেমন কোনো প্রতিষেধক বা টিকা মানুষের হাতে আসেনি। এই অবস্থায় নতুন এই টিকা কিছুটা হলেও আশার সঞ্চার করেছে। সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দক্ষিণ আফ্রিকা, পূর্ব আফ্রিকা, থাইল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এইডস রোগীদের মধ্য থেকে ৩৯৩ জনের ওপর নতুন এই টিকার প্রয়োগ করেছেন বিজ্ঞানীরা। মূলত মানুষের শরীরে এই টিকার প্রয়োগ কতটা নিরাপদ এবং এর প্রয়োগমাত্রা কী হবে, তা নির্ধারণের লক্ষ্যেই এই পরীক্ষা চালানো হয়। মানুষের পাশাপাশি রেসাস প্রজাতির ৭২টি বানরের শরীরেও এই টিকা প্রয়োগ করা হয়েছে। এতে দেখা গেছে, এই টিকা প্রয়োগের কারণে রেসাস প্রজাতির বানরের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেড়েছে। বিশেষত, সিমিয়ান-হিউম্যান ইমিউন ডেফিশিয়েন্সি ভাইরাসের কারণে সৃষ্ট ক্ষতের বিপরীতে ৬৭ শতাংশ সুরক্ষা দিতে সক্ষম এই টিকা। তবে এটি মানুষের শরীরেও একই মাত্রায় কার্যকর হবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। প্রাথমিক পর্যায়ে ইতিবাচক ফলাফলের কারণে বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই টিকা এখন আরও বেশিসংখ্যক এইডস রোগীর শরীরে প্রয়োগের ঝুঁকি নেওয়া যেতে পারে। বিশেষত, যাঁদের শারীরিক অবস্থা খুবই খারাপ, তাঁদের ওপরই দ্বিতীয় পর্যায়ের পরীক্ষাটি চালানো হবে বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। এই পরীক্ষায় অংশ নেবেন সাব-সাহারা অঞ্চলের ২ হাজার ৬০০ নারী, যা শুরু হবে আগামী শীতে। গবেষণা কার্যক্রমটিতে অন্যতম গবেষক হিসেবে ছিলেন হার্ভার্ড মেডিসিন স্কুলের অধ্যাপক ও সেন্টার ফর ভাইরোলজি অ্যান্ড ভ্যাকসিনের পরিচালক ড. ড্যান এইচ বারুচ। গবেষণা সম্পর্কে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত পাওয়া ফলে আমরা সন্তুষ্ট। তবে আমাদের এই ফল বিশ্লেষণের বিষয়ে সাবধান হতে হবে। এটা স্বীকার করতেই হবে যে এইচআইভির পূর্ণাঙ্গ টিকা আবিষ্কার এক ভয়াবহ চ্যালেঞ্জের বিষয়। একইসঙ্গে এও স্বীকার করতে হবে যে আমরা এখনো জানি না, এই টিকা মানুষকে আদৌ সুরক্ষা দেবে কি না, দিলে কতটা। এখন পর্যন্ত বানরের শরীরে এর ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে। তবে এই টিকা বিভিন্ন ক্ষতের বিপরীতে একইভাবে কাজ করবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। সূত্র : সিএনএন। / এআর /

সন্তান ঘুমের মধ্যে নাক ডাকলে সাবধান হোন!

আপনার সন্তান কি ঘুমের মধ্যে নাক ডাকে?  ঘুম থেকে আচমকা উঠে বসে?  ঘুম থেকে উঠে খিটখিটে মেজাজ দেখায়?  যদি এসব প্রশ্নের উত্তর হ্যাঁ হয় তাহলে এখনই সতর্ক হতে বলছেন বিশেষজ্ঞরা। এ সমস্ত লক্ষণ যদি শিশুর মধ্যে দেখা যায় তাহলে ওই শিশুটি হয়তো  ‘অবস্ট্রাক্টিভ স্লিপ অ্যাপনিয়া’ আক্রান্ত হতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে এই রোগটি শিশুদের মধ্যে অধিক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে এর প্রবণতা বেশি শহরাঞ্চলে। সেক্ষেত্রে সন্তানের বয়স বাড়লেও শারীরিক ও মানসিক বিকাশ আটকে থাকতে পারে। শুধু বাংলাদেশ আর ভারতেই  নয়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেও এর উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে।  ফুসফুস বিশেষজ্ঞরা এ নিয়ে শতর্ক থাকতে পরামর্শ দিয়েছেন।   মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় শহরের মাউন্ট ভেরননের এসএসএম  হাসপাতালের আইসিইউ প্রধান নাগা সিরোকোন্ডা এ নিয়ে দীর্ঘদিন কাজ করছেন। তিনি বলেন, “এখানেও এই সমস্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। একদিকে মাত্রাতিরিক্ত কার্টুন আর মোবাইল গেম নির্ভরশীলতা। শিশুদের স্থুলকায় করে তুলছে।অন্যদিকে জাঙ্ক ফুড। তা থেকেই শিশুদের মধ্যে এই স্লিপ অ্যাপনিয়ার সমস্যার দানা বাঁধছে।” নাগা আরোও বলেন, এখানেই শেষ নয় এই রোগে আক্রান্ত শিশুদের একটা বড় অংশের ঠিকমতো বৃদ্ধি হয় না। স্লিপ অ্যাপনিয়ার কারণে গ্রোথ হরমোন রিলিজ হওয়া ব্যহত হয়। স্বাভাবিক শিশুদের থেকে পিছিয়ে পড়ে। এ নিয়ে ইতোমধ্যে আমাদের পাশের দেশ ভারতের কলকাতায় গবেষণা শুরু করে দিয়েছেন কলকাতার ইনস্টিউট অফ চাইল্ড হেলথ-এর ক্রিটিক্যাল কেয়ার বিশেষজ্ঞ প্রভাস প্রসূণ গিরি। তিনি বলেন, আমার চেম্বারে নিয়মিত এই ধরনের শিশু রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে।এই রোগ চিহ্নিত করতে পলিসোমনোগ্রাফি টেস্ট দরকার বলে জানান তিনি।   প্রভাস বলেন, আপনার সন্তান যদি রাতে নিয়মিত নাক ডাকে, ঘুমে ছটফট করে, স্কুলে অমনোযোগী হয়ে ক্রমশ ফলাফল খারাপ করছে তাহলে আপনাকে সাবধান হতে হবে। তিনি আরো জানান, এই রোগে আক্রান্ত শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের ক্ষেত্রে বাধাঁগ্রস্থ হয়। তিনি এ সমস্ত শিশুদের পিতা-মাতাকে দ্রুত ডাক্তারের কাছে যাওয়ার জন্য পরামর্শ দিয়েছেন। এমএইচ/এসি     

আজ ভিটামিন ‘এ’ খাবে ২ কোটি শিশু

আজ শনিবার থেকে শুরু হয়েছে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন। দেশব্যাপী ২ কোটি ১৯ লাখ শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। শনিবার সকাল ৮টা থেকে শুরু হয়ে বিকাল ৪টা পর্যন্ত চলবে এই ক্যাম্পেইন। শুক্রবার দুপুরে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক  বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে একথা  জানান। তিনি জানান, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সার্বিক সহযোগিতায় জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠান এই কর্মসূচি পালন করবে। দেশব্যাপী ১ লাখ ২০ হাজার স্থায়ী কেন্দ্রসহ অতিরিক্ত আরো ২০ হাজার ভ্রাম্যমাণ কেন্দ্রের মাধ্যমে এ কার্যক্রম পরিচালিত হবে। জাহিদ মালেক আরো জানান, তবে দুর্গম এলাকা হিসাবে ক্যাম্পেইন পরবর্তী ৪ দিন (১৫-১৯ জুলাই) ১২ টি জেলার ৪২টি উপজেলার ২৪০টি ইউনিয়নে বাড়ি বাড়ি যেয়ে শিশুদের সার্চিং কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। প্রতিমন্ত্রী জানান, ভিটামিন ‘এ’ খাওয়ানোর ফলে শিশু যে শুধু রাতকানা রোগ থেকে রক্ষা পায় তা নয়, শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে, দৃষ্টি শক্তি ভাল রাখে, শিশুর মৃত্যুর হার কমায়, শিশুর স্বাভাবিকভাবে বেড়ে উঠা নিশ্চিত করে এবং ডায়রিয়ার ব্যাপ্তিকাল এবং হামের জটিলতা কমায়। এতে  ৬-১১ মাস বয়সী সব শিশুকে ১টি করে নীল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল এবং ১২-৫৯ মাস বয়সী সকল শিশুকে ১টি করে লাল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।   এমএইচ/ এসএইচ/

স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাবে যে খাবার

স্তন ক্যান্সর বর্তমানে মহামারি আকার ধারণ করেছে। এই রোগ দেখা দিচ্ছে অপেক্ষাকৃত অল্পবয়সীদের মধ্যে, যাঁদের বয়স ২৫-৫০। ইদানীং ক্যানসারের প্রচলিত ওষুধে কাজ হচ্ছে না। প্রথম অবস্থায় ধরা পড়লেও কয়েক মাসের মধ্যে রোগ হুড়হুড় করে বেড়ে স্টেজ-ফোর এ পৌঁছে যাচ্ছে। প্রচলিত বেশির ভাগ কেমোথেরাপিও এই রোগ নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না। সবচেয়ে বড় ভয়ের কারণ হল, এক বার রোগ সেরে যাওয়ার এক থেকে দু’ বছরের মধ্যে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই রোগ আবার ফিরে আসছে রোগীর দেহে! এমন কিছু খাবার যা খুব বেশি দামি নয় আর পাওয়াও যায় হাতের কাছেই এবং যা রুখে দিতে পারে স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি। বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্য সমস্যা প্রতিরোধে সুষম ও পুষ্টিকর খাবার আপনাকে প্রতিনিয়ত সাহায্য করে। আসুন জেনে নেওয়া যাক এমন ৭টি খাবার সম্পর্কে, যা স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি অনেকটাই কমিয়ে দিতে পারে। বাঁধাকপি: বাঁধাকপিতে থাকে প্ল্যান্ট কম্পাউন্ড যা স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধে সাহায্য করে। কাঁচা খেতে ভালো না লাগলে হালকা ভাপিয়ে নিতে পারেন সামান্য লবন দিয়ে। বাঁধাকপি কখনোই বেশি সময় ধরে রান্না করবেন না। এতে এর পুষ্টিগুণ অনেকটাই নষ্ট হয়ে যেতে পারে। উজ্জ্বল রঙের ফল ও সব্জি: উজ্জ্বল রঙের বিশেষত লাল, হলুদ ও কমলা রঙের সবজি ও ফলে উচ্চমাত্রায় অ্যান্টি অক্সিডেন্ট ছাড়াও থাকে ক্যারোটিনয়েড নামক পদার্থ। যা স্তন ক্যান্সার প্রতিহত করতে সহায়ক। তরমুজ, কমলা লেবু, লাল লঙ্কা, মিষ্টি আলু, টমেটো, গাজর ইত্যাদি বেশি করে খাদ্য তালিকায় রাখুন। আখরোট: আখরোটে যদিও প্রচুর ক্যালোরি থাকে তবু বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গিয়েছে এটি স্তনের টিউমারের বৃদ্ধির গতি কমিয়ে আনে। কম করে হলেও আখরোট খান যা স্তনকে রাখবে ক্যান্সার থেকে সুরক্ষিত। অলিভ অয়েল: অলিভ অয়েলে আছে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট। এটি স্তনে টিউমারের বৃদ্ধি রোধ করে ও স্তন ক্যান্সার ঠেকাতে সাহায্য করে। মাংস ম্যারিনেট করে রাখার সময় আপনি সহজেই ব্যবহার করতে পারেন খানিকটা অলিভ অয়েল আর সেই সঙ্গে সবজি রান্নার ক্ষেত্রেও খানিকটা অলিভ অয়েল দিতে পারেন। সবচেয়ে ভাল হয় যদি সালাদের সঙ্গে ব্যবহার করতে পারেন। কম ফ্যাটযুক্ত দুগ্ধজাত খাবার: কম ফ্যাটযুক্ত দুগ্ধজাত খাবারে থাকে ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি যা স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। টকদই ও পনির খেতে পারেন। সামুদ্রিক মাছ: সামুদ্রিক মাছে আছে ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড যা প্রদাহ প্রতিরোধ করে একে ক্যান্সারে রূপ নিতে বাধা দেয়। সপ্তাহে অন্তত ২ দিন সামুদ্রিক মাছ খেতে পারলে স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি অনেকটাই কমিয়ে দিতে পারে। বর্তমানে ডাক্তাররা পুষ্টিকর খাদ্যের মাধ্যমেই বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধের কথা বলছেন। এগুলির মধ্যে স্তন ক্যান্সার অন্যতম। পুষ্টিকর খাবার খান আর প্রতিরোধ করুন স্তন ক্যান্সার। এমজে/

শিশুকাল থেকে ইনসুলিন নিলে মিলবে ডায়াবেটিস থেকে মুক্তি

ডায়াবেটিসের ঝুঁকি থেকে শিশুদের বাঁচাতে একটি নতুন পদ্ধতি আবিষ্কৃত হতে যাচ্ছে বলে দাবি করেছেন একদল গবেষক। শিশুকাল থেকে দীর্ঘদিন ব্যাপী ইনসুলিন নিলে মিলবে ডায়াবেটিস থেকে মুক্তি, এমনটা বলছেন অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা।  ইনসুলিন হলো এক ধরণের হরমোন, যা শরীরের ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণ রাখে। ব্লাড সুগার বেড়ে গেলে শরীপে ডায়াবেটিস আক্রমণ করে। এই ধরণের থেরাপিকে টাইপ-ওয়ান ডায়াবেটিস থেরাপি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এদিকে সম্প্রতি বেশ কয়েকজন নবজাতকের মা-বাবাকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। ছয়মাস থেকে ৩ বছরের শিশুদের ইনসুলিন পাওডার দেওয়ার কথা বলেছেন তারা। শিশুদের স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণে তারা গবেষক দলের সঙ্গে যেতে পারবেন বলেও জানানো হয়েছে। গবেষণায় হাজির অর্ধেক শিশুকে কোনো ধরণের ওষুধ ছাড়াই কেবল পাওডার দেওয়া হবে। আর বাকি অর্ধেককে দেওয়া হবে ইনসুলিনযুক্ত পাওডার। এর মাধ্যমেই ডায়াবেটিসরোধে বড় ধরণের সফলতা পাওয়ার কথা বলছেন তারা। টাইপ ওয়ান ডায়াবেটিস: বলা হয়ে থাকে, প্রতি ১০০ শিশুর একজনের মধ্যে ইনসুলিনজনিত সমস্যার কারণে ডায়াবেটিস হয়ে থাকে। এই ধরণের জিনগুলোকে শিশু জন্মের পরই রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে সনাক্ত করা সম্ভব। এরই লক্ষ্যে ৩০ হাজার শিশুর উপর গবেষণা চালানোর কথা বলছেন গবেষকরা। আশা করা হচ্ছে, শিশুদের ইনসুলিন পাওডার খাওয়ালে শিশুদের হজমক্রিয়া দেহের ইনসুলিনকে সহ্য করতে পারবে। পাশাপাশি টাইপ ওয়ান ডায়াবেটিস থেকেও দেহকে মুক্তি দিবে। বর্তমানে টাইপ ওয়ান ডায়াবেটিস থেকে মুক্তি পাওয়ার কোনো উপায় নেই। টাইপ ওয়ান ডায়াবেটিস হলো সারাজীবন ব্যাপী একটি অবস্থা। এতে আক্রান্ত হলে শরীরে ইনসুলিন উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায় এবং রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ অত্যধিক হারে বাড়তে থাকে। এর ফলে অন্ধত্বসহ হৃদরোগ ও স্ট্রোকে আক্রান্ত হতে পারেন কোনো ব্যক্তি। যুক্তরাজ্যের ডায়াবেটিস রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. এলিজাবেথ রবার্টসন বলেন, এই পদ্ধতিটি আবিষ্কার হলে টাইপ ওয়ান ডায়াবেটিস থেকে মুক্তি মিলবে।’ সূত্র: বিবিসি এমজে/

যৌনরোগ ‘এমজি’ -ই হবে মরণব্যাধি: গবেষণা

সতর্ক না হলে এখনকার স্বল্প পরিচিত যৌনবাহিত একটি রোগই সামনের দিনগুলোতে মরণব্যাধি হয়ে উঠতে পারে। মাইকোপ্লাজমা জেনিটালিয়াম বা সংক্ষেপে এমজি নামক এই রোগটার প্রায়শই কোন লক্ষণ ধরা পড়েনা। কিন্তু শ্রোণী প্রদাহজনিত রোগের জন্ম দিতে পারে যা একজন নারীকে সন্তান জন্মদানে অক্ষম করে দিতে পারে । মহিলাদের শ্রোণী অঞ্চলে যে অঙ্গগুলো থাকে তা হল- অন্ত্র, মুত্রাশয়, জরায়ু ও ডিম্বাশয়। সঠিক চিকিৎসা না করালে এমজি জীবানু শরীরে থেকে যেতে পারে যা শরীরে অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী হয়ে উঠতে পারে। আর সে কারণেই ব্রিটিশি এসোসিয়েশন অফ সেক্সুয়াল হেল্থ অ্যান্ড এইচআইভি এ বিষয়ে নতুন পরামর্শ দিয়েছে। এমজি আসলে কি? এটি একটি ব্যাকটেরিয়া যা পুরুষের মুত্রনালীতে প্রদাহ তৈরির কারণ হতে পারে যা পুরুষাঙ্গে আক্রান্ত হওয়ার ফলে মুত্রত্যাগের সময় ব্যথা অনুভূত হবে। আর নারীদের ক্ষেত্রে ডিম্বাশয়সহ প্রজনন অঙ্গগুলোতে প্রদাহ হতে পারে যার মধ্যে প্রচণ্ড ব্যথা এবং জ্বর হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে রক্তক্ষরণেরও সম্ভাবনা আছে। ইতোমধ্যেই এই ব্যাকটেরিয়ায় আক্রান্ত কারও সাথে যৌন সম্পর্ক হলে এ রোগ আরেকজনের মধ্যেও ছড়াতে পারে। আর সে কারণেই যৌন সম্পর্কের ক্ষেত্রে কনডমের ব্যবহার রোগটি থেকে মুক্ত থাকার সহজ উপায় বলে বলা হচ্ছে। যুক্তরাজ্যে ১৯৮০ সালে প্রথম রোগটি সনাক্ত হয়েছিলো। এখন এ রোগটিকে উদ্বেগজনক বলে একটি গাইডলাইন তৈরি করেছে ব্রিটিশি এসোসিয়েশন অফ সেক্সুয়াল হেল্থ অ্যান্ড এইচআইভি। অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে এ রোগের চিকিৎসা হতে পারে কিন্তু সংক্রমক ব্যাকটেরিয়া এখন ক্রমশ অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী হয়ে উঠছে। `আমি এমজি পরীক্ষা করিয়েছি। বিবিসির কাছে এমজিতে সংক্রমিত হওয়ার নিজের অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিয়েছেন জন (ছদ্মনাম)। নতুন পার্টনারের সাথে সম্পর্ক তৈরির পর আমার এমজি ধরা পড়ে। সম্পর্কের শুরুতে দুজনেই কিছু পরীক্ষা করিয়েছিলাম এবং তখন কোন সমস্যা ধরা পড়েনি। তবে লক্ষণ না থাকায় এমজির টেস্ট করায়নি ক্লিনিক"। এরপর নতুন সঙ্গীর সাথে সম্পর্ক শুরুর একমাসের মাথায় সমস্যা বোধ করতে শুরু করেন জন। মুত্রত্যাগের সময় অনেক ব্যাথা হচ্ছিলো। কিন্তু সমস্যাটি কোনোভাবেই বুঝতে পারছিলামনা। কয়েক সপ্তার মধ্যেই পরীক্ষা করে এমজির অস্তিত্ব পাই। তবে আমার সঙ্গীর তখনো ধরা পড়েনি। পরে আবার পরীক্ষার পর তার শরীরেও এমজির অস্তিত্ব পাওয়া যায়।" এরপর দু সপ্তাহ অ্যান্টিবায়োটিক সেবন করেন ও অন্তত পাঁচ সপ্তাহ যৌন সম্পর্ক থেকে বিরত থাকেন যাতে করে রোগটি থেকে পুরোপুরি মুক্ত হতে পারেন জন। কিন্তু পরে আবারও এটি ফিরে এসেছে বলে মনে হচ্ছে এবং সেজন্য বেশকিছু পরীক্ষা করা হচ্ছে আবার। কনডম ব্যবহার ব্রিস্টলের যৌন বিষয়ক পরামর্শক ড: পিটার গ্রীনহাউস লোকজনকে আগেই সতর্ক হয়ে ব্যবস্থা নিতে পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি বলছেন রোগটি সম্পর্কে জানতে এটাই সময়।"গ্রীষ্মকালীণ ছুটির আগে কনডমের প্যাকেট নেয়ারও এটি একটি ভালো কারণ হতে পারে"।   নিয়ন্ত্রণের বাইরে?` ব্রিটিশি এসোসিয়েশন অফ সেক্সুয়াল হেল্থ অ্যান্ড এইচআইভির নীতিমালায় বলা হয়েছে লক্ষণ দেখা গেলে রোগীরা যাতে পরীক্ষা করে সঠিকভাবে এবং চিকিৎসা নেয়। "নারীদের মধ্যে যারা বন্ধ্যাত্বের ঝুঁকিতে আছে তাদের ডায়াগনস্টিক ও অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী সরঞ্জাম প্রয়োজন"। জনস্বাস্থ্য নিয়ে সম্ভাব্য জরুরি অবস্থা মোকাবেলায় সরকারকে অর্থ বরাদ্দের জন্যও আহবান জানিয়েছে ব্রিটিশি এসোসিয়েশন অফ সেক্সুয়াল হেল্থ অ্যান্ড এইচআইভি। তবে জনস্বাস্থ্য বিভাগ বলছে এমজি পরীক্ষা বা ঔষধ প্রতিরোধী হয়েছে কি-না তা পরীক্ষার সুযোগ সহজলভ্য আছে। জনস্বাস্থ্য বিভাগের মাইক্রোবায়োলজিস্ট ড: হেলেন ফিপার বলেন, "লক্ষণ দেখা গেলে স্থানীয় সেক্সুয়াল হেলথ ক্লিনিকে গিয়ে পরীক্ষার পরামর্শ দিচ্ছি"। তিনি বলেন, "নতুন বা পুরনো সঙ্গীর সাথে সম্পর্কের ক্ষেত্রে সঠিকভাবে কনডম ব্যবহার করেই এর প্রতিরোধ সম্ভব"। এমজে/

ইউরিন ইনফেকশন প্রতিকারে ঘরোয়া চার টোটকা

আমরা যখন পানি খাই তখন তা বৃক্ক বা কিডনির মাধ্যমে ছেঁকে মূত্রনালি দিয়ে মূত্র হিসেবে বেরিয়ে যায়। মানুষের শরীরের দুটি কিডনি, দুটি ইউরেটার, একটি ইউরিনারি ব্লাডার (মূত্রথলি) এবং ইউরেথ্রা (মূত্রনালি) নিয়ে মূত্রতন্ত্র গঠিত। আর এই রেচনন্ত্রের যে কোনও অংশে যদি জীবাণুর সংক্রমণ হয় তাহলে সেটাকে ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন বলা হয়। কিডনি, মূত্রনালি, মূত্রথলি বা একাধিক অংশে একসঙ্গে এই ধরণের ইনফেকশন হতে পারে। এই সংক্রমণকেই সংক্ষেপে ইউরিন ইনফেকশন বলা হয়। সাধারণত এই সমস্যাটি মহিলা ও পুরুষ উভয়ের মধ্যে হলেও মহিলাদের মধ্যে ইউরিন ইনফেকশনে আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা বেশি। ইউরিন ইনফেকশন হলে যে লক্ষণ গুলো দেখা যায় সেগুলো হলো... প্রস্রাব গাঢ় হলুদ বা লালচে হওয়া। প্রস্রাবে দুর্গন্ধ। একটু পর পর প্রস্রাবের বেগ অনুভব করলেও ঠিক মতো প্রস্রাব না হওয়া। প্রস্রাব করার সময় জ্বালা বা ব্যথা করা। তলপেটে বা পিঠের নিচের দিকে তীব্র ব্যথা করা। সারাক্ষণ জ্বর জ্বর ভাব বা কাঁপুনি দিয়ে ঘন ঘন জ্বর আসা। বমি ভাব বা বমি হওয়া। ইউরিন ইনফেকশনের কিছু ঘরোয়া প্রতিকার আছে যে গুলো মেনে চললে এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। আসুন জেনে নেওয়া যাক ইউরিন ইনফেকশনের প্রতিকারে কিছু কার্যকরী ঘরোয়া টোটকা। ১) ইউরিন ইনফেকশন হলে কিংবা ঘন ঘন ইউরিন ইনফেকশন হওয়ার প্রবণতা থাকলে প্রতিদিন অন্তত আড়াই লিটার পানি খাওয়া উচিত। বিশেষ করে প্রসাবে হলুদ ভাব দেখা গেলেই দেরি না করে প্রচুর পরিমাণে পানি খাওয়া শুরু করা উচিত। আর যাদের প্রায়ই এই সমস্যা হয় তারা সব সময়েই একটু বেশি পানি খাওয়ার অভ্যাস করবেন। সাধারণত প্রতি ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা পর পর প্রস্রাব হওয়া উচিত। প্রস্রাব হতে এর চাইতে বেশি দেরি হলে বার বার পানি খেতে থাকুন। ২) ইউরিন ইনফেকশন হলে অনেক চিকিৎসকই রোগীদেরকে দৈনিক পাঁচ হাজার মিলিগ্রাম ভিটামিন সি খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। ভিটামিন সি মুত্রথলীকে ভাল রাখে এবং প্রস্রাবের সময় জ্বালা ভাব কমাতে সহায্য করে। এছাড়াও ভিটামিন সি ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করতে সহায়তা করে। তাই ইউরিন ইনফেকশন হলে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি যুক্ত খাবার খাওয়া উচিত। ৩) আনারসে আছে ব্রোমেলাইন নামক একটি উপকারী এঞ্জাইম। গবেষণায় দেখা গছে, ইউরিন ইনফেকশনে আক্রান্ত রোগীদেরকে সাধারণত ব্রোমেলাইন সমৃদ্ধ অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হয়। তাই ইউরিন ইনফেকশন হলে প্রতিদিন এক কাপ আনারসের রস খান।  ৪) ইউরিন ইনফেকশন অন্তত দু’দিনের বেশি সময় থাকে। আর এই সময়ের মধ্যে সংক্রমণ কিডনিতে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি থেকেই যায়। তাই যত দ্রুত সম্ভব এর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। বেকিং সোড়া দ্রুত ইউরিন ইনফেকশন সারিয়ে তুলতে সাহায্য করে। আধা চামচ বেকিং পাউডার এক গ্লাস জলেতে ভাল করে মিশিয়ে দিনে একবার করে খেলেই প্রস্রাবের সময় জ্বালা বা ব্যথা ভাব কমে যাবে। সূত্র: জিনিউজ একে//

সাইনোসাইটিসের কষ্ট থেকে মুক্তি পেতে ঘরোয়া ৮ টোটকা

সাইনোসাইটিসের (সাইনাসের সমস্যা) সমস্যা অনেকেরই আছে। সারাক্ষণ মাথায় অস্বস্তি, নাকের মাঝে ভারী লাগা, কপালে অস্বস্তিসহ নানা ধরনের শারীরিক সমস্যা সৃষ্টি করে সাইনোসাইটিস। মুখের হাড়ের ভিতরে চার জোড়া ফাঁপা বায়ুপূর্ন জায়গা আছে যেগুলোকে সাইনাস বলা হয়। কোনও কারণে যদি সাইনাসের ভেতরের ঝিল্লির মধ্যে প্রদাহ (জ্বালা) হয় তখন তাকে সাইনোসাইটিস বলে। এবার জেনে নেওয়া যাক সাইনোসাইটিসের কষ্ট থেকে মুক্তি পাওয়ার কয়েকটি ঘরোয়া উপায়... ২) সাইনোসাইটিসের সমস্যা হলে প্রচুর পানি পান করুন। প্রচুর পরিমাণে পানি খেলে শ্লেষ্মা পাতলা হয়ে আসে। শ্লেষ্মা পাতলা হয়ে গেলে সেটা ধীরে ধীরে বের হয়ে যায় নিজে থেকেই। তাই সাইনোসাইটিসের সমস্যা দেখা গেলে সারাদিন প্রচুর পানি পান করতে থাকুন। ৩) একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে, রসুনের মধ্যে রয়েছে একাধিক রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা। এক কথায় এটি একটি শক্তিশালী অ্যান্টিবায়োটিক। তাই প্রতিদিন অন্তত এক কোয়া রসুন খেলে ভাইরাল ও ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণজনিত সমস্যা বা সাইনোসাইটিস অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে থাকবে। এছাড়াও প্রতিদিন দুই কোয়া রসুন দুই চা চামচ মধুর সঙ্গে দিনে দু বার খেলে সাইনোসাইটিস সমস্যায় উপকার পাওয়া যায়। প্রতিদিন এক চামচ পেঁয়াজের রস এক চা চামচ মধুর সঙ্গে মিলিয়ে খেলেও সাইনোসাইটিসের সমস্যা কিছুটা কমে যাবে। এছাড়াও এক চামচ আদা কুচির সঙ্গে এক চামচ মধু খেলে সাইনোসাইটিসের কারণে হওয়া মাথাব্যথা থেকে কিছুটা রেহাই মিলবে। ৪) কম জলীয়বাষ্পযুক্ত স্থানে সাইনোসাইটিসের সমস্যা বেড়ে যায় এবং বেশি কষ্ট হয়। আবার বেশি জলীয় বাষ্প যুক্ত যায়গাতেও শ্লেষ্মার প্রকোপ বাড়ে। তাই চেষ্টা করুন এমন যায়গায় থাকতে যেখানে জলীয় বাষ্প বা বাতাসে আদ্রতার পরিমাণ স্বাভাবিক। স্যাঁতসেঁতে কিংবা অতিরিক্ত শুষ্ক আবহাওয়া এড়িয়ে চলুন। পর্যাপ্ত আলো বাতাস আছে এমন জায়গায় থাকার চেষ্টা করুন। ৫) সাইনোসাইটিস সমস্যায় গরম পানির ভাপ বা সেঁক নেওয়া একটি অত্যন্ত কার্যকর পদ্ধতি। গরম পানির ভাপ নিলে নাসিকা পথ ভেজা থাকবে এবং সহজেই শ্লেষ্মা বের হয়ে আসবে। তাই গরম পানিতে লবণ মিশিয়ে নিয়ে দিনে দু’ বার করে ভাপ নিন। ৬) সাইনোসাইটিসের কারণে যখন নাকে, মাথায় অথবা কপালে অস্বস্তি লাগবে তখন গরম পানিতে একটি তোয়ালে ভিজিয়ে ভাল করে নিংড়ে নিন। এরপর এই তোয়ালেটা মুখের উপর দিয়ে শুয়ে থাকুন কিছুক্ষণ। এই পদ্ধতিতে তাৎক্ষনিকভাবে বেশ আরাম পাওয়া যায়। ৭) যখন বাইরে বের হবেন তখন তো আর গরম পানির ভাপ বা সেঁক নেওয়া সম্ভব না। তাই বাড়ির বাইরে যতক্ষণ থাকবেন, চেষ্টা করবেন কিছুক্ষণ পর পর চিনি ছাড়া গরম চা, কফি বা স্যুপ খাওয়ার। গরম তরল খাবারগুলো খেলে শ্লেষ্মা পাতলা হয়ে আসে এবং সহজে পরিষ্কার হয়ে যায়। ৮) সিগারেটের ধোয়া, ধুলোবালি, হেয়ার স্প্রে, বডি স্প্রে ইত্যাদি জিনিসগুলো থেকে দূরে থাকুন। এ ধরণের জিনিসগুলো নাসিকা পথে ঢুকে যায় এবং সাইনোসাইটিস সমস্যা বাড়ায়। রাস্তায় বের হলে নাকে কাপড় দিয়ে রাখুন বা মাস্ক পড়ে নিন। তাহলে ধুলোর সমস্যা থেকে মুক্তি মিলবে এবং সাইনোসাইটিসের সমস্যার আরামও পাওয়া যাবে। সূত্র: জিনিউজ একে//

কখন অন্ত:স্বত্ত্বার সিজার করা জরুরি

ডেলিভারি বা সন্তান প্রসবের বিষয়টি নিয়ে জনমনে কিছু প্রশ্ন আছে, রয়েছে কিছু মিথও। বলা হয়ে থাকে প্রসবের সময় হলে অন্ত:স্বত্ত্বাকে হাসপাতালে ভর্তি করালেই চিকিৎসকরা সিজারের (অস্ত্রোপচার) কথা বলে থাকেন। স্বাভাবিক প্রসবের দিকে কেউই আগ্রহ দেখান না। কেন এমন হচ্ছে? সিজারের প্রয়োজনীয়তা আসলেই কতটুকু? কোন কোন ক্ষেত্রে সিজার আবশ্যক? সিজারের বিভিন্ন দিক নিয়ে কথা বলেছেন প্রসূতি, স্ত্রীরোগ ও বন্ধ্যাত্ব বিশেষজ্ঞ এবং সার্জন ডা. উম্মুল খায়ের মাহমুদা। প্রশ্ন : নরমাল ডেলিভারি বলতে আমরা কী বুঝি? ডা. মাহমুদা : নরমাল ডেলিভারি মানে হচ্ছে স্বাভাবিকভাবে সন্তান প্রসব। অর্থাৎ মায়ের গর্ভে সন্তান থাকবে শিশুটি পূর্ণাঙ্গ হওয়া পর্যন্ত। স্বাভাবিকভাবে শিশুর মাথা নিচের দিকে থাকবে। স্বাভাবিক নিয়মে গর্ভবতী মায়ের প্রসব বেদনা উঠবে। শেষ পর্যন্ত একটি সুস্থ সন্তানের জন্ম হবে। মা সুস্থ থাকবেন। এই পুরো প্রক্রিয়অটিকে আমরা বলি স্বাভাবিকভাবে সন্তান প্রসব। তবে এই স্বাভাবিক ঘটনা অনেক সময় স্বাভাবিকভাবে হয় না। প্রশ্ন : দেশে সিজার প্রবণতা বাড়ছে, এর কারণ কী? ডা. মাহমুদা: প্রসবকালীন সময়ে আমরা সিজারিয়ানের দিকে বেশি গুরুত্ব যাচ্ছি এমনটি বলা হচ্ছে। প্রশ্ন আসতে পারে এর যথার্থতা কতখানি? এর যথার্থতার অনেকগুলো দিক আছে। একটি হলো রোগীর দিক। এমনিতে কিছু কারণ রয়েছে যেগুলোর জন্য স্বাভাবিক ডেলিভারির বদলে অস্ত্রোপচার করে বাচ্চা প্রসব করাতে হয়। তো সেই জিনিসগুলো কী? বেশ কিছু কারণে অস্ত্রোপাচার করতে হয়। যেমন- অন্ত:স্বত্ত্বার যদি কোনো জটিলতা থাকে। যেমন- অন্ত:স্বত্বার যদি উচ্চ রক্তচাপ থাকে কিংবা অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস থাকে। অথবা মা যদি একটি দীর্ঘমেয়াদি রোগে ভুগে যেমন হার্টের রোগ। কিংবা মায়ের বয়স বেশি বা বয়স অনেক কম হলেও অস্ত্রোপাচার দরকার হয় অনেক সময়। অর্থাৎ অন্ত:স্বত্ত্বার বয়স ১৬ বছরের নিচে কিংবা ৩৫ বছরের বেশি হলে অনেক সময় সিজার জরুরি হয়ে পড়ে। অন্ত:স্বত্ত্বার উচ্চতা যদি কম হয় বিশেষ করে চার ফুট ১০ ইঞ্চির নিচে হলে অস্ত্রোপাচার দরকার হয়ে পড়ে। এগুলো হলো মায়ের দিক। বাচ্চার অবস্থান বা নানা ত্রুটির কারণেও অনেক সময় অস্ত্রোপাচার আবশ্যক হয়। গর্ভফুলটা হয়তো জরায়ুমুখের দিকে থাকে, নিচের দিকে থাকে। কিংবা বাচ্চার অবস্থান হয়তো ঠিক নেই। বাচ্চার মাথা হয়তো নিচের দিকে নেই। অন্ত:স্বত্ত্বার জরায়ুতে টিউমার থাকলেও স্বাভাবিক প্রসব ব্যাহত হতে পারে। বাচ্চার ওজন যে রকম, বাচ্চার আকার আকৃতি যে রকম বড়, মায়ের যে তলপেটের হাড়ের খাঁচা আছে, সেটি হয়তো দেখা গেল ছোট। সেক্ষেত্রে আমরা মনে করি এখান দিয়ে হয়তো স্বাভাবিক প্রসব হবে না। এই রকম কিছু বিষয় থাকে। কিংবা কোনো মায়ের হয়তো এ রকম থাকে আগে একবার কিংবা দুবার অস্ত্রোপচার হয়ে বাচ্চা প্রসব হয়েছে, সে কারণে তখন আমরা হয়তো স্বাভাবিক প্রসবের কথা চিন্তা না করে তাকে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে প্রসবই সমর্থন করি। এটা হলো বৈজ্ঞানিক তথ্য। আরেকটা ব্যাপার হলো, কোনো কোনো সময় রোগীর পরিবারের দিক থেকে আমাদের ওপর চাপ থাকে, সেটা হচ্ছে অনেক দিন পরে বাচ্চা হচ্ছে, পরিবার ঝুঁকি নিতে চাচ্ছে না ইত্যাদি। কিংবা তারা চিন্তা করছে আমরা বেশি বাচ্চা নেব না তাহলে কেন অস্ত্রোপচার করাব না। তাছাড়া ব্যথার যে বিষয়টি রয়েছে সেই ব্যথা অন্ত:স্বত্ত্বা সহ্য করতে পারবে না। আরো অনেক ভুল ধারণা মানুষের মাথার মধ্যে ঢুকে গেছে। তারা মনে করছেন, সিজার-ই ভালো। এভাবে বাচ্চা ভালোভাবে জন্ম হয়। স্বাভাবিক প্রসবে অনেক ঝুঁকি আছে। এই ভুল কিছু তথ্য অন্ত:স্বত্ত্বা ও তাদের পরিবারের মধ্যে ঢুকে গেছে। চিকিৎসকের দিক থেকে যে বিষয়টি ঘটে, চিকিৎসক প্রসবকালীন সম্পূর্ণভাবে তাকে পর্যবেক্ষণ রাখবেন, সে সময়টুকু দেবেন এবং চাহিবা মাত্র ওই চিকিৎসককে পাওয়া যাবে। অফিস সময়ের বাইরে হোক কিংবা অফিস সময়ে ভেতরে হোক- এই চিকিৎসককে পাওয়া যাবে সময়মতো এটাও আসলে সম্ভব নয়। তাই চিকিৎসকের চিন্তা থাকে, আমি অস্ত্রোপচার করেই হয়তো ঠিকঠাকমতো একটি বাচ্চা প্রসব করব। এতে আমি চিন্তামুক্ত থাকলাম। এসব বিভিন্ন কারণে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে বাচ্চার প্রসব বাড়ছে। তবে এটাও সত্য, পৃথিবীতে অস্ত্রোপাচারের মাধ্যমে প্রসব বাড়লেও অনেক দেশে সেটাকে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা চলছে। তবে আমাদের দেশে এর পরিমাণ দ্রুতগতিতে বাড়ছে। যেটা আসলে হওয়া উচিত নয়। প্রশ্ন : ব্যাথার ভয়েও অনেক সময় সিজারের কথা বলা হয় পরিবার থেকে। ব্যথা কমানোর কী কোনো উপায় নেই? ডা. মাহমুদা: অনেক রোগীর অভিভাবক রোগী প্রসবকালীন সময়ে ব্যাথা সহ্য করতে পারবে না, এমন যুক্তিতে সিজারের জন্য বলে থাকেন। মনে রাখতে হবে বর্তমান চিকিৎসা বিজ্ঞানের যুগে ব্যাথা কমানো খুব কঠিন বিষয় নয়। এটা সত্য প্রসব বেদনার সঙ্গে পৃথিবীর কোনো ব্যথার আসলে তুলনা করে বলা যায় না। ব্যথামুক্ত প্রসব করানো খুব সহজ ব্যাপার। কিন্তু চালু নেই বলে, কেউ করছে না দেখে একটি ভীতিকর অবস্থায় দাঁড়িয়ে গেছে। তবে উন্নত বিশ্বে কিংবা আমাদের দেশেও কোথাও কোথাও ব্যথামুক্ত প্রসব হয়ে থাকে। প্রশ্ন : ব্যাথামুক্ত প্রসব কিভাবে সম্ভব, একটু খুলে বলবেন কী… ডা. মাহমুদা : ব্যথামুক্ত প্রসব দুটো ভাবে হতে পারে। প্রসব বেদনা যখন চলবে তখন ব্যথার ওষুধ দিয়ে তার ব্যথা কমানো যেতে পারে। এভাবে শতকরা ৯০ ভাগ পর্যন্ত ব্যথা কমানো যেতে পারে। আরেকটি হচ্ছে আমরা সাধারণত কোমরের দিকে একটি ইনজেকশন দিয়ে, যেভাবে ঠিক সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার করা হয়, ব্যথামুক্তভাবে ঠিক একইভাবে প্রসব চলাকালীন মাকে ব্যথামুক্ত রাখা যায়। তখন অন্ত:স্বত্ত্বা কথা বলতে পারেন। তিনি হালকা খাবার খেতে পারেন। মা গল্প করতে পারেন। আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে কথা বলতে পারেন। প্রসবকালীন সম্পূর্ণ ব্যথামুক্ত থাকতে পারেন। সুস্থ সন্তানের জন্ম দিতে পারেন সহজেই। আমরা মনে করি, ব্যথামুক্ত প্রসব যদি চালু করা যায় তাহলে সিজারের হার অনেকখানিকমে যাবে। দেখুন একটি মায়ের স্বাভাবিক প্রসব হয়তো হতো। কিন্তু সেই মাকে যদি অস্ত্রোপচারের একটি পদ্ধতির ভেতর যেতে হয় তবে তা সত্যিই বেদনাদায়ক। অস্ত্রোপচার মানেই তো একটি ঝুঁকি। অস্ত্রোপচারের একটি নিজস্ব ঝুঁকি রয়েছে। একটি হচ্ছে অজ্ঞানের ওষুধজনিত ঝুঁকি। আরেকটি হচ্ছে রক্তক্ষরণের ঝুঁকি। কিংবা ইনফেকশনের ঝুঁকি। কাজেই মা সেখানে (সিজারে) ঝুঁকিমুক্ত থাকছে, এ কথা বলা যাচ্ছে না। অর্থাৎ যে মায়ের স্বাভাবিক প্রসব হতো, অস্ত্রোপচার করে প্রসব করানোর কারণে দীর্ঘমেয়াদি জটিলতায় হয়তো সে ভুগতে পারে। সে ক্ষেত্রেও ভোগান্তি বাড়ছে। আর্থিক খরচও বাড়ছে। প্রশ্ন : প্রথম সন্তানে সিজারে হলে পরের সন্তান প্রসবের ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচার করা অনিবার‌্য হয়ে পড়ে কিনা? ডা. মাহমুদা: প্রথম সন্তানটি যদি সিজারে হয়, তাহলে কেন তা সিজার হয়েছিল তার ওপর নির্ভর করে দ্বিতীয় সন্তানটি সিজার হবে কিনা। যদি এমন হয়ে থাকে যে, আগে এমন কোনো কারণ ছিল যে কারণে মায়ের অস্ত্রোপচার করতে চিকিৎসক বাধ্য হয়েছিলেন, সেই ঘটনা আবারও ঘটতে পারে তখন আমরা সেই অন্ত:স্বত্ত্বাকে স্বাভাবিকভাবে প্রসবের জন্য আর বলি না। আর যদি এমন হয় যে, তখন প্রসব বেদনা ছিল, কিন্তু শেষ মুহূর্তে গিয়ে প্রসবটি আটকে যাওয়ার কারণে হয়তো স্বাভাবিক প্রসব সম্ভব হয়নি। সে ক্ষেত্রে আবার স্বাভাবিক প্রসব হতেও পারে। তবে সেটি ঝুঁকিপূর্ণ হবে, যদি সঙ্গে চিকিৎসক উপস্থিত না থাকেন কিংবা যদি সেটি হাসপাতাল না হয়। আর কোনো মায়ের যদি দু’বার অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে বাচ্চা প্রসব হয়ে থাকে, তাহলে পরের বার অবশ্যই সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার করতে হবে। লেখক পরিচিতি: ডা. মাহমুদা একজন প্রসূতি, স্ত্রীরোগ ও বন্ধ্যাত্ব বিশেষজ্ঞ এবং সার্জন। তিনি শিশু ও মাতৃস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট এবং শমরিতা হাসপাতালে কর্মরত। অনু লেখক: আলী আদনান।   / এআর /

© ২০১৮ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি