ঢাকা, রবিবার, ২২ অক্টোবর, ২০১৭ ৪:৪৮:৩১

যুক্তরাষ্ট্রে হেপাটাইটিস-এ ভাইরাসে ১৯ জনের মৃত্যু

যুক্তরাষ্ট্রে হেপাটাইটিস-এ ভাইরাসে ১৯ জনের মৃত্যু

মৌলিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও পয়ঃনিষ্কাশনের সুযোগ না পাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যে গৃহহীনদের মধ্যে হেপাটাইটিস-এ ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ছড়িয়ে পড়েছে। এরই মধ্যে ভাইরাসটিতে আক্রান্ত অন্তত ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। গত বছর নভেম্বর থেকে চলতি বছর অক্টোবর পর্যন্ত ক্যালিফোর্নিয়ায় ভাইরাল এই রোগটিতে আক্রান্তের সংখ্যা পাঁচশ ছাড়িয়েছে। এদের মধ্যে বেশিরভাগই গৃহহীনরা। গত সপ্তাহে অঙ্গরাজ্যটির গভর্নর প্রাণঘাতি এই ভাইরাসের ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে স্বাস্থ্য বিষয়ক জরুরি অবস্থা জারি করেন। যুক্তরাষ্ট্রে এ নিয়ে দ্বিতীয়বার হেপাটাইটিস-এ এর প্রাদুর্ভাব ছড়াল। মানবদেহের যকৃতে আক্রমণকারী এ ভাইরাস সাধারণত মলজাতীয় জিনিসের মাধ্যমে ছড়ায়। আবার যৌন সংসর্গ কিংবা জীবাণুবাহী খাবার ও বস্তু স্পর্শের মাধ্যমেও এটি এক দেঞ থেকে অন্য দেহে বিস্তৃত হতে পারে। ক্যালিফোর্নিয়ার সান ডিয়োগে শহরেই ভাইরাসটিতে আক্রান্তের সংখ্যা বেশি। শহরটির কর্মকর্তারা ব্লিচিন ছিটিয়ে বিভিন্ন রাস্তাকে জীবাণুমুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছেন। রাস্তার পাশে বসানো হচ্ছে হাত ধোয়ার স্থানও। বিশেষজ্ঞরা জানান, স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও পয়ঃনিষ্কাশনের সুযোগ না পাওয়ায় শহরের গৃহহীনদের মধ্যে হেপাটাইটিস-এ ছড়িয়ে পড়ছে। এ কারণে বাড়ছে মৃতের সংখ্যাও। তাদের মতে, সান ডিয়েগোতে পাঁচ হাজারেরও বেশি আশ্রয়হীন ব্যক্তি রাস্তায় ঘুমায়। শহরটিতে গৃহহীনদের সংখ্যা আগের বছরের তুলনায় ১০ শতাংশ বেড়েছে। অঙ্গরাজ্যটির অন্যান্য শহরেরও হেপাটাইটিস-এ ছড়িয়ে পড়ছে। সান্তা ক্রুজ, লস এঞ্জেলসের পাশাপাশি উত্তর ক্যালেফোর্নিয়ার সান ফ্রান্সিসকোতেও হাজারো গৃহহীনকে এই ভাইরাসের টিকা দেওয়া হয়েছে। আক্রান্ত প্রতি ১০০ জনের মধ্যে ১ জনের মৃত্যু সাধারণ ব্যাপার হলেও গৃহহীনদের মধ্যে রোগটি ছড়িয়ে পড়ায় মৃত্যুর হার অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। ভাইরাসটির উপসর্গ হলো- জ্বর, ক্লান্তি, পেট ব্যাথা, গা গুলানো ও বমি। আবার আক্রান্তের শরীরে জন্ডিস হতে পারে, চামড়া ও চোখ হলুদ হয়ে যেতে পারে। ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর জেরি ব্রাউন, অঙ্গরাজ্যজুড়ে জরুরি অবস্থা জারি করে গৃহহীনদের চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয় এমন ক্লিনিকগুলোতে পর্যাপ্ত টিকা ও প্রতিষেধক পাঠাতে নির্দেশ দিয়েছেন। স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলছেন, ভাইরাসটির তীব্রতা কমতে কয়েক মাস এমনকি বছরও লেগে যেতে পারে।  সূত্র: বিবিসি।     আর / এআর
গর্ভাবস্থায় আল্ট্রাসনোগ্রাফি কেন করবেন

আল্ট্রাসনোগ্রামের কথা শুনলেই আমাদের চোখের সামনে মনিটরের পর্দায় ভেসে ওঠে গর্ভবতী মায়ের অনাগত বাচ্চার ছবি। আল্ট্রাসনোগ্রাফির মাধ্যমে চিকিৎসক স্ক্রিনের ছবি বিশ্লেষণ করে রোগ নির্ণয় করে থাকেন। আল্ট্রাসনোগ্রাফি মূলত গর্ভকালীন সময়ের গুরুত্বপূর্ণ ডাক্তারি পরীক্ষা। স্বাভাবিক গর্ভাবস্থায় ন্যূনতম দুবার আল্ট্রাসনো করা উচিত। গর্ভাবস্থায় আল্ট্রাসনো পরীক্ষার প্রয়োজনীয়তা আছে কি না তা নিয়ে অনেকের মধ্যে সংশয় আছে। আবার কখন করতে  হবে এটা নিয়েও নানা কথা আছে। কিন্তু চিকিৎসকরা বলছেন, ক্লিনিক্যালি স্বাভাবিক গর্ভাবস্থার জন্য এই পরীক্ষা জরুরি নয়। তবে এমন কিছু জটিলতা আছে, যা সঠিকভাবে নিরূপণ করতে সনোগ্রাফি জরুরি। যা শুধু শারীরিক পরীক্ষার মাধ্যমে সেটি নির্ণয় করা সম্ভব নয়। তাদের মতে, স্বাভাবিক গর্ভাবস্থায় ন্যূনতম দুবার সনোগ্রাফী করা উচিত। কিন্তু তা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে করা যেমন ভাল, আবার অসময়ে বার বার না করাও শ্রেয়। নির্ধারিত দুটি সময়সীমায় এই পরীক্ষাটি করাই ভালো। সময় দুটি হলো- গর্ভাবস্থার ১৮-২২ সপ্তাহের মধ্যে (শেষ মাসিকের দিন থেকে) ও গর্ভাবস্থার ৩২-৩৬ সপ্তাহের মধ্যে। এ ছাড়া বিশেষ ক্ষেত্রে ১৮ সপ্তাহের আগে করা গুরুত্বপূর্ণ। ১৮-২২ সপ্তাহ: গর্ভাবস্থার ১৮-২২ সপ্তাহের মধ্যে আল্ট্রসনোগ্রাফি করলে যে বিষয়গুলো জানা যায়। এর মাধ্যমে ভ্রূণের সঠিক বয়স নির্ণয় করা যায়। জরায়ুতে একটপিক ভ্রূণের অবস্থান আছে কিনা জানা যায়। এসময় সনোগ্রাফির মাধ্যমে শিশুর শারীরিক জটিলতা বা বিকলাঙ্গতা নির্ণয় করা যায়। এসময়টিতে জরায়ুতে ফুলের অবস্থান এবং তা মায়ের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ কিনা জানা যায়। পাশাপাশি জরায়ুতে টিউমার বা অন্য কোনো জটিলতা আছে কিনা বা থাকলে প্রসবে জটিলতা সৃষ্টি করবে কিনা তা জানা যায়। ৩২-৩৬ সপ্তাহ: আর গর্ভাবস্থার ৩২ থেকে ৩৬ সপ্তাহের মধ্যে যদি আল্ট্রসনোগ্রাফি করা যায় তাহলে অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আপনি জানতে পারবেন। এর মধ্যে জানতে পারবেন শিশুর বৃদ্ধি জটিলতা আছে কিনা, শিশুর বিকলাঙ্গতা নিরূপণ করা যায়, যা প্রথম আল্ট্রাসনোগ্রাফিতে নির্ণয় হয় না। এসময় সনোগ্রাফি করলে গর্ভের শিশুর প্রকৃত অবস্থান নির্ণয় করা যায়। জরায়ুর সঠিক অবস্থান, জরায়ুর পানির পরিমাপ করা যায়। তাছাড়া অন্যান্য জটিলতা, যেমন ফাইব্রয়েড, ওভারিয়ান টিউমার ইত্যাদি নিরূপণ করা যায়। ১৮ সপ্তাহ: গর্ভাবস্থার ১৮ সপ্তাহের আগে যদি আল্ট্রসনোগ্রাফি করা হয় তাহলে যে বিষয়গুলো আপনি জানতে পারবেন সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। এক্ষেত্রে গর্ভের সঠিক বয়স নির্ণয় করা যায়, ভ্রূণের সঠিক অবস্থান নির্ণয় হয়। যেমন জরায়ুর ভেতরে না বাইরে (এক্টোপিক প্রেগনেন্সি)। আবার এই সময়টাতে আল্ট্রসনোগ্রাফি করলে ভ্রূণের সংখ্যা নির্ণয় হয় (এক বা একাধিক), মোলার প্রেগন্যান্সি যাচাই করা যায়। তলপেটে গর্ভধারণের মতো উপসর্গ প্রকাশ করে তা চিহ্নিত হয়। শিশুর সঠিক বৃদ্ধি বা স্বাভাবিক প্রসবের অন্তরাল ইত্যাদি চিহ্নিত করা হয়। আল্ট্রাসনোগ্রাফি এমন একটি পরীক্ষা, যা উৎকৃষ্ট পদ্ধতি অবলম্বনের মাধ্যমে সুস্থ শিশু জন্ম দেয়া যায়। এই পরীক্ষাটি সঠিক সময়ে, সঠিক পদ্ধতিতে করার মাধ্যমে শিশুমৃত্যু ও মাতৃমৃত্যুর হার কমানো যায়। আর/ডব্লিউএন

অ্যাসিডিটি থেকে মুক্তির ১০টি সহজ উপায়

অ্যাসিডিটির সমস্যায় কম বেশি আমাদের সবাইকেই ভুগতে হয়। আমাদের পাকস্থলিতে অতিরিক্ত বা ভারসাম্যহীন অ্যাসিড উৎপন্ন হওয়ার ফলে পেট ব্যথা, গ্যাস, বমিবমি ভাব, মুখে দুর্গন্ধ বা অন্য সমস্যা দেখা দিতে পারে। সাধারণত বেশি ঝাল খাবার খাওয়া, অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস, দুঃচিন্তা, ব্যায়াম না করা বা অতিরিক্ত মদ্য পানের ফলে অ্যাসিডিটি হতে পারে। এই অ্যাসিডিটি থেকে মুক্তির জন্য অনেকেই অনেক ওষুধ খান। কিন্তু ওষুধ ছাড়া ঘরোয়া পদ্ধটিতেও এর থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। আসুন জেনে নেই অ্যাসিডিটি নিরাময়ের কিছু অসাধারণ কৌশল। গরম পানি সাধারণত কুসুম গরম পানি রাতে ঘুমানোর আগে এবং সকালে ঘুম থেকে উঠে খেলে অ্যাসিডিটির সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। দারুচিনি হজমের জন্য দারুচিনি খুবই ভালো, এটি প্রাকৃতিক অ্যান্টাসিড যা পেটের গ্যাস দূর করে। এক কাপ জলে আধা চা চামচ দারুচিনি গুঁড়া দিয়ে ফুটিয়ে নিয়ে দিনে ২/৩ বার এটা খেতে পারেন। এছাড়া চাইলে সুপ/সালাদে দিয়েও খেতে পারেন। পুদিনা পাতা এর বায়ুনিরোধক ও প্রশান্তিদায়ক গুণ নিমিষেই বুক ও পেট জ্বালাপোড়া করা, পেট ফাঁপা ও বমি ভাব উপশম করে। তাই অ্যাসিডিটির লক্ষণ দেখা দিলেই কয়েকটি পুদিনা পাতা মুখে নিয়ে চিবিয়ে খেয়ে ফেলতে হবে বা খেতে পারেন চা বানিয়ে। এক কাপ জলে ৪/৫টি পুদিনা পাতা দিয়ে ফুটিয়ে খেতে পারেন বা চাইলে তাতে একটু মধুও যোগ করতে পারেন। মাঠা সারাদিনে কয়েকবার শুধু মাঠা খেলে বা সাথে সামান্য গোলমরিচ গুঁড়ো অথবা এক চা চামচ ধনেপাতার রস মিশিয়ে খেলে ভালো উপকার পাওয়া যায় অথবা আধা থেকে এক চা চামচ মেথি সামান্য জলে পেস্ট করে এক গ্লাস মাঠার সাথে মিশিয়ে খেলে অ্যাসিডিটির পেট ব্যথা দূর হয়। লবঙ্গ লবঙ্গ পাকস্থলীর অ্যাসিডিটি ও গ্যাস দূর করতে পারে এর বায়ু নিরোধক ক্ষমতার জন্য। ২/৩ টি লবঙ্গ মুখে নিয়ে চুষলে বা সমপরিমান এলাচ ও লবঙ্গ গুঁড়ো খেলে অ্যাসিডিটির জ্বালা এবং মুখের দুর্গন্ধ দূর হয়। জিরা এটি হজমক্রিয়ায়  চমৎকার কাজ করে। দেড়কাপ জলে এক চা চামচ করে জিরে, ধনে ও মৌরী গুঁড়া এবং সামান্য চিনি মিশিয়ে খালি পেটে খেতে পারেন অথবা এক গ্লাস জলে সামান্য জিরার গুঁড়া মিশিয়ে বা ফুটিয়ে ছেঁকে নিয়ে প্রতিবেলা খাবার পর খেতে পারেন। আদা আদার রস পাকস্থলীর অ্যাসিডিটির প্রশমিত করতে সাহায্য করে। অ্যাসিডিটির সময় এক টুকরো আদা মুখে নিয়ে চুষলে বা এক কাপ জলে কয়েক টুকরো আদা দিয়ে কিছুক্ষণ ফুটিয়ে রেখে খেতে পারেন কিংবা শুধু এক চা চামচ করে আদার রস দিনে ২/৩ বার খেলে অ্যাসিডিটির থেকে মুক্তি পেটে পারেন। তালের গুড় তালের গুড় খাবারকে হজমে সাহায্য করে এবং হজমক্রিয়াকে ক্ষারধর্মী করে অ্যাসিডিটি কমায়। প্রতিবেলা খাবার পর ছোট এক টুকরো গুড় মুখে নিয়ে চুষতে থাকবেন যতক্ষণ না অ্যাসিডিটির জ্বালা কমে। তবে যাদের ডায়াবেটিস আছে তাদের জন্য এটা প্রযোজ্য নয়। মৌরী পুদিনা পাতার মতো মৌরীরও রয়েছে বায়ু নিরোধক ক্ষমতা যার ফলে খাবার হজম করতে এবং পেটের গ্যাস দূর করতে এটা বেশ কার্যকরী। ভারী ও ঝাল খাবারের পর কিছু মৌরী মুখে দিয়ে চুষতে পারেন। আবার এক বা দুই চা চামচ মৌরী এক কাপ গরম পানিতে দিয়ে কিছুক্ষণ রেখে ছেঁকে নিয়ে দিনে কয়েকবার খেতে পারেন। সাবধানতা যখনই আপনি অ্যাসিডিটির সমস্যায় পড়বেন তখন এই পদ্ধতিগুলোর সাহায্য নিয়ে দেখতে পারেন। যদি দেখেন ২/৩ দিন পরও আপনার সমস্যা থেকেই যাচ্ছে তাহলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিন। সূত্র:কলকাতা টুয়েন্টিফোর এম/ডব্লিউএন

জন্ডিসের যম পাথরকুচি পাতা

পাতা থেকে গাছ হয়, এমন একটি বিরল প্রজাতির উদ্ভিদের নাম পাথরকুচি। এই আশ্চর্য গাছের গুণাবলীও অবার করার মতো। পাথরকুচি পাতা যে কতভাবে আমাদের শরীরের উপকার করে থাকে তার ইয়ত্তা নেই। আসুন জেনে নেই পাথরকুচি পাতার গুনাগুণ। কিডনির পাথর অপসারণে পাথরকুচি পাতা পাথরকুচি পাতা কিডনি এবং গলব্লাডারের পাথর অপসারণ করতে সাহায্য করে। দিনে দুই বার ২ থেকে ৩ টি পাতা চিবিয়ে অথবা রস করে খান। জন্ডিস নিরাময়ে লিভারের যেকোনো সমস্যা থেকে রক্ষা করতে তাজা পাথরকুচি পাতা ও এর জুস অনেক উপকারী। সর্দি সারাতে অনেক দিন ধরে যারা সর্দির সমস্যায় ভুগছেন তাদের জন্য পাথরকুচি পাতা অমৃতস্বরূপ। পাথরকুচি পাতার রস একটু গরম করে খেলে সর্দির হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। ক্ষত স্থান সারাতে পাথরকুচি পাতা পানিতে ফুটিয়ে সেই পানি দিয়ে ক্ষতস্থান পরিষ্কার করলে ক্ষত তাড়াতাড়ি সেরে যায়। পাথরকুচি পাতা বেটেও কাটাস্থানে লাগাতে পারেন। এছাড়া উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে এবং মুত্রথলির সমস্যা থেকে পাথরকুচি পাতা মুক্তি দেয়। শরীরের জ্বালা-পোড়া বা আর্থ্রাইটিস থেকে রক্ষা করে। পাথরকুচি পাতা বেটে কয়েক ফোঁটা রস কানের ভেতর দিলে কানের যন্ত্রণা কমে যায়। কলেরা, ডাইরিয়া বা রক্ত আমাশয় রোগ সারাতে পাথরকুচি পাতার জুড়ি নেই। ৩ মি.লি. পাথরকুচি পাতার জুসের সাথে ৩ গ্রাম জিরা এবং ৬ গ্রাম ঘি মিশিয়ে কয়েক দিন পর্যন্ত খেলে এসব রোগ থেকে উপকার পাওয়া যায়। পাথরকুচি পাতার রসের সাথে গোল মরিচ মিশিয়ে পান করলে পাইলস্‌ ও অর্শ রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। ত্বকের যত্নে পাথরকুচি পাতা পাথরকুচি পাতায় প্রচুর পরিমাণে পানি থাকে যা ত্বকের জন্য খুবই উপকারী। সাথে সাথেই এর মধ্যে জ্বালা-পোড়া কমানোর ক্ষমতা থাকে। যারা ত্বক সম্বন্ধে অনেক সচেতন তারা পাথরকুচি পাতা বেটে ত্বকে লাগাতে পারেন। ব্রণ ও ফুস্কুড়ি জাতীয় সমস্যা দূর হয়ে যাবে। সূত্র : দ্য হেলথসাইট। ডব্লিউএন

নিয়মিত রাত জাগায় ঝুঁকি বাড়ে ক্যান্সারের

আমাদের শরীরের ভিতরে একটি দেহ ঘড়ি আছে, যেটি  বায়োলজিক্যাল ক্লক নামে পরিচিত । একজন  মানুষের ঘুম থেকে ওঠা থেকে শুরু করে রাতে শুতে যাওয়া পর্যন্ত  সব কিছু এর মধ্যে  নথিভুক্ত রয়েছে। অর্থাৎ শরীরকে কখন কোন কাজটা করতে হবে, তা মূলত এই বায়োলজিকাল ক্লকই নির্দেশ দিয়ে থাকে। এখন কথা হলো, কেউ যদি রাতে ঘুমনোর সময়ে না ঘুমিয়ে অন্য কাজ করে, তাহলে বায়োলিজক্যাল ক্লক বুঝে উঠতে পারে না ।ফলে  শরীরের উপর বিরূপ প্রভাব পড়ে। এমনটা হওয়ার কারণেই  প্রথমেই অনিদ্রা রোগ  এবং সেইসঙ্গে ধীরে ধীরে আরও সব জটিল রোগ শরীরে এসে বাসা বাঁধে। ফলে স্বাভাবিক ভাবেই হঠাৎ মৃত্যুর  আশঙ্কা বাড়ে। তাই তো বছর বছর বাড়ছে অকাল মৃত্যুহার। সম্প্রতি বায়োলিজক্যাল ক্লকের উপর গবেষণা চালিয়ে তিন মার্কিন গবেষক নোবেল প্রাইজে ভূষিত হয়েছেন। তাদের গবেষণায় দেখা গেছে বায়োলজিকাল ক্লককে মন মতো চালালে মারাত্মক বিপদ হয়! এক্ষেত্রে যে যে ঘটনাগুলি ঘটার আশঙ্কা বৃদ্ধি পায়, সেগুলি হল... ১. ক্যান্সারে  আশঙ্কা বৃদ্ধি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রকাশিত রিপোর্টেই একথা প্রমাণিত হয়, দিনের পর দিন রাত জাগলে শরীরের অন্দরে ক্ষয় এত বেড়ে যায় যে সেই ফাঁক গলে ক্যান্সার সেল দেহের অন্দরে বাসা বাঁধার সুযোগ পেয়ে যায়। ফলে স্বাভাবিকভাবেই এই মরণ রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বৃদ্ধি পায়। তাই এখন  থেকে বেশি রাত জাগার  আগে ভাবা উচিত । ২. রোগ প্রতিরোধ  ক্ষমতা  হ্রাস পায় গবেষণায় দেখা গেছে রাত জেগে কাজ করলে কর্টিজল হরমোনের মতো স্ট্রেস হরমোনের ক্ষরণ মারাত্মক বেড়ে যায়। ফলে  রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা একেবারে কমে যায়। যার কারণে অল্প সময়ে নানাবিধ রোগ ঘাড়ে চেপে বসে। প্রসঙ্গত, স্ট্রেস হরমোনের ক্ষরণ বৃদ্ধি পেলে মানসিক চাপও বাড়তে শুরু করে, যা শরীরের পক্ষে মারাত্মক ক্ষতিকারক। ৩. ওজন বাড়তে থাকে দিনের পর দিন রাতে জেগে থাকলে খাবার ঠিক মতো হজম হতে পারে না। ফলে একদিকে যেমন গ্যাস-অম্বলের প্রকোপ বৃদ্ধি পায়, তেমনি ওজনও বাড়তে থাকে । আর ওজন বাড়লে ধীরে ধীরে সুগার, প্রেসার এবং কোলেস্টেরলের মতো মরণ রোগ  শরীরে এসে বাসা বাঁধে। ফলে আয়ু কমে যায়। ৪ প্রিটার্ম ডেলিভারির আশঙ্কা বৃদ্ধি শরীরের নিজস্ব ছন্দ হারালে দেহের ভিতরে এমন কিছু নেতিবাচক পরিবর্তন হতে থাকে, যা সরাসরি প্রভাব পড়ে মা হওয়ার ক্ষেত্রে। একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে যে সব মেয়েরা নিয়মিত নাইট শিফট করেন তাদের মিসক্যারেজ এবং প্রিটার্ম ডেলিভারি হওয়ার আশঙ্কা বৃদ্ধি পায়। সেই সঙ্গে কম ওজনের বাচ্চা জন্ম নেওয়ার সম্ভাবনাও থাকে। তাই মা হওয়ার পরিকল্পনা করলে  রাত জেগে কাজ করা উচিত না । ৫. মনোযোগ ও শরীরের সচলতা কমতে থাকে সারাদিন যতই ঘুমোনো হোক না কেন, রাতে ঘুম আসতে বাধ্য। এমন পরিস্থিতিতে মনোযোগ যেমন হ্রাস পায়, তেমনি শরীরের সচলতাও কমতে শুরু করে। ফলে অফিসে চোট-আঘাত লাগার প্রবণতা বৃদ্ধি পায়। ৬. ব্রেন পাওয়ার কমে যায় রাতের বেলা মস্তিষ্কের আরাম নেওয়ার সময়। তাই তো দিনের পর দিন রাত জেগে  কাজ করলে ধীরে ধীরে ব্রেন পাওয়ার কমতে শুরু করে। সেই সঙ্গে ডিপ্রেশন, হাইপোলার ডিজঅর্ডার, স্লো কগনিটিভ ফাংশন, স্মৃতিশক্তি লোপ পাওয়া সহ আরও সব সমস্যা মাথা চাড়া দিয়ে ওঠে।  সূত্র : বোল্ডস্কাই। //এআর

হৃদরোগ প্রতিরোধে সচেতনতা সৃষ্টিতে পদযাত্রা

হৃদরোগ প্রতিরোধে সচেতনতা সৃষ্টির জন্য রাজধানীতে বর্ণাঢ্য পদযাত্রার আয়োজন করা হয়। বুধবার জয়নুল হক শিকদার ওমেন্স মেডিক্যাল কলেজ এন্ড হসপিটাল এবং জয়নুল হক শিকদার কার্ডিয়াক কেয়ার এন্ড রিসার্চ সেন্টার এ পদযাত্রার আয়োজন করে। পদযাত্রাটি সকাল ৮টায় গুলশানের ১০৪ নং সড়কের শিকদার কার্ডিয়াক কেয়ারের সামনে থেকে শুরু করে। পদযাত্রায় শিকদার ওমেন্স মেডিক্যাল কলেজের ছাত্রী, ডাক্তার ও কর্মী এবং সাধারণ মানুষ অংশ নেন। তারা বিভিন্ন সড়ক ও গুলশান এভিনিউ প্রদক্ষিণ করে। পদযাত্রার শুরুতে কার্ডিয়াক সার্জন ডা. লোকেশ বিএম বলেন, প্রতিবছর হৃদরোগে বিশ্বের এক কোটি ৭৩ লাখ মানুষ মারা যান। মানুষকে সচেতন করে ধূমপান ও ‘জাঙ্ক ফুড’ পরিহার এবং ব্যায়াম, বিশেষ করে নিয়মিত হাটার মাধ্যমে ৮০ শতাংশ হৃদরোগের মৃত্যুরোধ করা সম্ভব। ‘ওয়ার্ল্ড হার্ট ফাউন্ডেশন’ মানুষকে হৃদরোগের বিষয়ে সচেতন করতে প্রতিবছর ২৯ সেপ্টেম্বর ‘ওয়ার্ল্ড হার্ট ডে’ পালন করে থাকে। এ বছরের প্রতিপাদ্য ছিল: ‘পাওয়ার দ্যা হার্ট’ বা হার্টের শক্তি বাড়াও। জয়নুল হক শিকদার ওমেন্স মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. মোহাম্মদ সাইজুদ্দিন করিম বলেন, হার্ট হচ্ছে শরীরের সব চেয়ে গুরুত্বপূর্ন অঙ্গ। ফলে সুস্থ হার্ট স্বাস্থ্যবান মানুষ তৈরি করতে পারে। এজন্য ধূমপান ও মদ্যপান ত্যাগ এবং শাক-সব্জি খেতে হবে ও ‘জাঙ্ক ফুড’ পরিহার করতে হবে। ‘ওয়ার্ল্ড হার্ট ডে’ পালনের অংশ হিসেবে অক্টোবর মাসে গুলশানের জয়নুল হক শিকদার কার্ডিয়াক কেয়ার এন্ড রিসার্চ সেন্টারে কার্ডিয়াক সার্জন ডা. লোকেশ বিএম হৃদরোগীদেরকে বিনামূল্যে পরামর্শ দেবেন। এছাড়া হৃদরোগীদেরকে আকর্ষনীয় হ্রাসকৃতমূল্যে চিকিৎসা সেবাও দেয়া হচ্ছে। আরকে/টিকে

এনজিওপ্লাস্টি ও বাইপাস হৃদরোগ নিরাময়ে স্থায়ী সমাধান নয়

একজন হৃদরোগ-চিকিৎসক হিসেবে আমাকে প্রতিদিন কিছু রুটিন কাজের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। যেমন, রোগী দেখা, প্রয়োজনে তাদের কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানো, কখনো-বা এনজিওগ্রাম করা এবং রোগীর ব্লকেজের পরিমাণ অনুসারে স্টেন্ট বা রিং লাগানো। আর ব্লকেজের পরিমাণ অনেক বেশি হলে তাকে বাইপাস অপারেশনের পরামর্শ দেয়া। একটা গান আছে,‘বলতে হলে নতুন কথা, চেনা পথের বাইরে চল’। আজ আমি আমার প্রতিদিনকার এই চেনা পথের বাইরের কিছু কথাই আপনাদের বলবো। তার আগে আমার চেনা পথের দুটি বাস্তব অভিজ্ঞতার কথা শোনাই। ২০০৮ সালের কথা সেটা। জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটে ভর্তি হয়েছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন অধ্যাপক। আনুষঙ্গিক কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার পর তাকে বললাম, মনে হচ্ছে আপনার হার্টে ব্লকেজ থাকতে পারে। এনজিওগ্রাম করে নিলে ব্যাপারটা নিশ্চিত করে বলা যাবে। তিনি একজন মুক্তিযোদ্ধা। এমনিতে বেশ হাসিখুশি মানুষ। এবং খুব সাহসী। বললেন,কুচ পরোয়া নেহি। এনজিওগ্রাম করে ফেলুন। আমরা এনজিওগ্রাম করলাম। দেখা গেল, ব্লকেজের পরিমাণ এমন যে, তাতে স্টেন্ট লাগিয়ে কাজ হবে না। বাইপাস অপারেশন করাতে হবে। বিষয়টা শুনে তিনি প্রথমে কিছুটা দমে গেলেও, পরে বাইপাস করাতে রাজি হলেন। বাইপাস করা হলো। এক মাসের মাথায় মোটামুটি সুস্থ হয়ে তিনি তার ব্যস্ত জীবনে ফিরে গেলেন। ছয় মাস পর একদিন সন্ধ্যায় হঠাৎ আবার তার ফোন। বললেন, খুব শ্বাসকষ্ট হচ্ছে, এখন কী করণীয়? একটা এম্বুলেন্স নিয়ে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চলে আসতে বললাম। স্যার এলেন। ভর্তি করা হলো তাকে। প্রথমবার অসুস্থ হয়ে যখন এসেছিলেন, তখন বাইপাস করানোসহ সবমিলিয়ে হাসপাতালে ছিলেন একমাস। এবার তাকে থাকতে হলো বেশ অনেকদিন। অস্বাভাবিক রকমের একটা লম্বা সময় তিনি হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে কাটালেন। প্রায় চার মাস লাগলো তার সেরে উঠতে। এ ঘটনার প্রায় বছর তিনেক পর এই কিছুদিন আগে একটা ব্যক্তিগত কাজে তাকে ফোন করলাম। জানতে চাইলাম, স্যার কেমন আছেন? তার খুব সহজ স্বীকারোক্তি –‘আমি ভালো নেই্’। কেন স্যার, কী হলো? তিনি বললেন, ‘আবার সমস্যা দেখা দিয়েছে, মাত্র গতকালই হাসপাতাল থেকে ফিরেছি। এবার একমাস হাসপাতালে ছিলাম। আবার এনজিওগ্রাম করা হয়েছে। বাইপাস আর্টারিতে নতুন ব্লক। এখন যে কী করবে বুঝে উঠতে পারছি না।’ আমার দ্বিতীয় অভিজ্ঞতাটা যাকে নিয়ে, তিনি আমার এক ডাক্তার বড় ভাই। বহুদিন দেশের বাইরে ছিলেন। দেশে ফিরলেন ১৯৯০ সালে। রাজশাহীতে প্র্যাকটিস শুরু করলেন। ছাত্রজীবনে রাজনীতি করতেন, খুব ভালো বক্তা ছিলেন। দেশে ফিরেও প্র্যাকটিসের পাশাপাশি রাজনীতিতে সক্রিয় হলেন আবার। হঠাৎ একদিন তার ফোন। তিনি ঢাকায় আসবেন, ডাক্তার দেখাতে হবে। দিন কয়েক আগে তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জ গিয়েছিলেন একটি রাজনৈতিক অনুষ্ঠানের অতিথি হয়ে। বক্তৃতা শুরুর আগে হঠৎ তার ভীষণ বুকব্যথা। সাথে দরদর করে ঘাম। বক্তৃতা আর দেয়া হয়নি। তিনি ঢাকায় এলেন। এনজিওগ্রাম করা হলো। হার্টের বামদিকের রক্তনালী পুরোপুরি বন্ধ। হান্ড্রেড পার্সেন্ট ব্লক। রিং পরানো হলো। তিনি সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেলেন। আবার শুরু করলেন রাজনীতি। সাথে নিয়মিত প্র্যাকটিস। দু’বছরের মাথায় হঠাৎ একদিন তার ফোন। আবার সমস্যা দেখা দিয়েছে। ঢাকায় এলেন। এবার করা হলো সিটি এনজিওগ্রাম। তাতে দেখা গেল, আগে যেখানটায় রিং পরানো হয়েছিল তার পাশে আরেকটি ব্লকেজ। সব শুনে তার মন খুব খারাপ। বললেন, দেশে আর নয়। চলে গেলেন দিল্লি। ওখানে আবার এজিওগ্রাম করা হলো। তাতেও একই রিপোর্ট। অগত্যা আরেকটি রিং পরিয়ে তিনি দেশে ফিরে এলেন। এখানেই শেষ নয়, এক বছরের মাথায় আবার বুকব্যাথা। আবার দিল্লি। আবার এনজিওগ্রাম। এবার আরো দু:সংবাদ। দ্বিতীয়বার যে রিংটি লাগানো হয়েছিল সেটি বন্ধ হয়ে গেছে। সাথে অন্যান্য রক্তনালীতেও নতুন ব্লকেজ। ফুসফুসেও কিছু সমস্যা দেখা গেছে। তাকে বলা হলো, বিশেষ ধরনের একটা বাইপাস অপারেশন আছে, আপনি সেটা করাতে পারেন। সেটি হলো, রোবটিক সার্জারি। রোবটিক সার্জারি করেন যিনি, সেই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে যাওয়া হলো। ১৫ লাখ টাকা প্রয়োজন। যা-ই হোক সেবার কিছু না করে তিনি দেশে চলে এলেন। কিছুদিন আগেও যে মানুষটি নিয়মিত প্র্যাকটিস করতেন, রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন, এবার তিনি হয়ে গেলেন পুরোপুরি গৃহবন্দী। প্র্যাকটিস, রাজনীতি বন্ধ। এখন সারাদিন ইন্টারনেটের সামনে বসে সার্চ করতে থাকেন রোবটিক সার্জারি কোথায় হয়, কেমন করে হয়, কত টাকা খরচ ইত্যাদি। এই যে দু’টি অভিজ্ঞতা আমার, এমন ঘটনার সংখ্যা কিন্তু খুব একটা কম নয়। এ দু’জন হৃদরোগী আধুনিকতম চিকিৎসা গ্রহণ করেছিলেন। অথচ দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য যে, সেটা কোনো স্থায়ী সমাধান ছিলো না। তাদের দু’জনেরই অর্থ আছে, সামর্থ্য আছে, কিন্তু এখন কোনো উপায় নেই। হৃদরোগীদের অনেকেই আছেন, যাদের কাছে এসব অভিজ্ঞতা নতুন নয়। করোনারি আর্টারিতে হৃদরোগ সম্পর্কে এখন আমরা কমবেশি জানি। হার্টের করোনারি আর্টারিতে কোলেস্টেরল জমে জমে রক্ত চলাচলে ব্যাঘত ঘটে। ফলে হার্ট বঞ্চিত হয় তার প্রয়োজনীয় অক্সিজেন এবং পুষ্টি থেকে। এরই প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখা দেয় বুকে ব্যথা ও চাপ, শ্বাসকষ্টসহ আরো নানা উপসর্গ। আমরা যদি দেখি, এ রোগ কেন হয়? ধূমপান, অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস, বিজ্ঞাপন-নির্ভর ভুল খাদ্যাভ্যাস, ব্যায়াম না করা, মানসিক চাপ এবং টেনশন করোনারি হৃদরোগের প্রধান কারণ। কেউ একজন যখন আমাদের কাছে এসে বলেন, একটু হাঁটলে বা পরিশ্রম করলে কিংবা সিঁড়ি বেয়ে উঠলে তার বুক ব্যথা হচ্ছে, তিনি বুকে চাপ অনুভব করছেন, এই ব্যথা আবার ছড়িয়ে যাচ্ছে দাঁতের গোড়া অবধি বা পিঠে, বাম হাতে যাচ্ছে, তখন প্রাথমিকভাবে আমরা এগুলোকে করোনারি হৃদরোগের উপসর্গ বলেই ধরে নিই। করোনারি হৃদরোগের ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়ার জন্য রোগীকে আমরা কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরামর্শ দিয়ে থাকি। এর মধ্যে প্রথমেই আসে ইসিজি’র কথা। অনেকেরই ধারণা, ইসিজি রিপোর্ট স্বাভাবিক তো সবই ঠিক, হৃদরোগ নেই। আমিও একসময় তা-ই মনে করতাম। কিন্তু ব্যাপারটা আসলে তা নয়। আমার নিজের এই ভুল ভাঙলো একজন রোগীর এটেনডেন্ট। আমরা ডাক্তাররা বই পড়ে যা শিখি, কখনো কখনো তারচেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় শিখি রোগী এবং রোগীর এটেনডেন্টের কথা শুনে।   ২০০০ সালের প্রথম দিকের ঘটনা। আমি তখন জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে কার্ডিওলজিতে এমডি করছি। একদিন সিসিইউতে ডিউটি করছি। এক রোগীর এটেনডেন্ট এসে বললেন, ডাক্তার সাহেব, আমার রোগীটা জরুরি বিভাগে আছে, এই তার ইসিজি, একটু দেখে নিন। দেখলাম। বললাম, আপনার রোগীর ইসিজি তো নরমাল, রোগী ভালো আছে। তখন তিনি বললেন, এটাই তো আমার রোগীর সমস্যা। রোগীর ইসিজি সবসময় স্বাভাবিকই থাকে, কিন্তু বুকের ব্যথা কমছে না এবং ডাক্তাররা বলেছেন, এটা হার্টের অসুখ, হার্টে ব্লক আছে। সেদিন খুব অবাক হয়েছিলাম; পরে অবশ্য আমার শিক্ষকদের কাছে জেনেছি, ভালো কার্ডিওলজিস্ট হতে হলে ইসিজিকে অবিশ্বাস করতে হবে। কারণ, শুধুমাত্র ৪৮ ভাগ হার্ট অ্যাটাক বোঝা যায় ইসিজি দেখে, বাকি ৫২ ভাগ বুঝতে হয় রোগীর কথা মনোযোগ দিয়ে এবং মমতা দিয়ে শুনে। তাই চিকিৎসকের কাছে গেলে আগে আপনার শারীরিক অসুবিধাগুলো তাকে বলুন, রোগের উপসর্গগুলো বিস্তারিত বলুন। কেউ বলতে পারেন যে, ডাক্তার সাহেব কথা শোনেন না, শুনতে চান না। অভিযোগটা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সত্যি। কিন্তু রোগীদের আমি বলি, এর সমাধান খুব সহজ। আপনার কথা যিনি শুনবেন সেই ডাক্তারের কছে যান। খুঁজে বের করুন। উপসর্গ বিবেচনার পাশাপাশি ইসিজি ছাড়াও করোনারি হৃদরোগ নির্ণয়ের জন্য আছে আরো কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা। যেমন- ইটিটি, ইকোকার্ডিওগ্রাম এবং করোনারি এনজিওগ্রাম। এগুলোর ফলাফল অনুসারে কার্ডিওলজিস্টরা ‍রোগীকে এনজিওপ্লাস্টি কিংবা বাইপাস অপারেশনের পরামর্শ দিয়ে থাকেন। সাথে সারাজীবন ওষুধ সেবনের নির্দেশনা তো আছেই। বাইপাস অপারেশন নিয়েও আমার একটা অভিজ্ঞতা আছে। সেটিও আমি যখন হৃদরোগ ইনস্টিটিউট হাসপাতালে কাজ করছিলাম, সেই সময়কার ঘটনা। একজন রোগী এলেন। তার সব কাগজপত্র আর রিপোর্ট দেখে জানলাম, এনজিওগ্রাম করা হয়েছে এবং হার্টের তিনটা আর্টারিতে হান্ড্রেড পার্সেন্ট ব্লক। তিনটা রক্তনালী পুরোপুরি বন্ধ। লোকটা তাহলে  বেঁচে আছে কীভাবে? রোগীর এটেনডেন্ট বললেন, ডাক্তার তাদের বলেছেন যে, রোগীর তিনটা আর্টারিতে হান্ড্রেড পার্সেন্ট ব্লক আছে সত্যি কিন্তু রিং লাগানো বা বাইপাস কিছুই প্রয়োজন নেই; আল্লাহর রহমতে তার আটো-বাইপাস হয়ে গেছে (চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায়, ন্যাচারাল বাইপাস)। আমার সত্যিকারের শেখা শুরু হলো। পরে জেনেছি, এই ন্যাচারাল বাইপাস ঘটে মূলত কোলেটারাল সারকুলেশনের মাধম্যে। আমাদের হার্টের চারাপাশে বেশকিছু সংখ্যক ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র রক্তনালী রয়েছে। নিয়মিত হাঁটা এবং ব্যায়ামের মধ্য দিয়ে এই পরিপূরক রক্তনালীগুলো তখন প্রয়োজনীয় কাজটুকু চালিয়ে নেয়। মূলত এটাই ন্যাচারাল বাইপাস। আসলে হৃদরোগ থেকে নিরাময় ও সুস্থ জীবযাপনের জন্যে নিয়মিত হাঁটা, ব্যায়াম, স্বাস্থকর খাদ্যাভ্যাস, ধূমপান বর্জন আর টেনশনমুক্ত থাকাটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, করোনারি হৃদরোগের প্রচলিত চিকিৎসাগুলো রোগীদের জীবনে কোনো স্থায়ী সমাধান দিতে পারছে না। রোগী যে চিকিৎসাই নিচ্ছেন, কিছুদিন পরই ঘুরে-ফিরে আবার সেই একই সমস্যা। আমার পরিচিত এরকম দু’জন রোগীর কথা আমি প্রথমেই বলেছি। আবার অন্যদিকে যারা জীবনের ভুল অভ্যাসগুলো পাল্টে ফেলেছেন তারা সত্যিই ভালো আছেন, তিনি এনজিওপ্লাস্টি বা বাইপাস করুন আর না-ই করুন। সারা বিশ্বের প্রেক্ষাপটেই এ কথাটি সত্যি। সন্দেহ নেই, আমেরিকার চিকিৎসা ব্যবস্থা বিশ্বের অন্যান্য স্থানের তুলনায় অনেক উন্নত ও সমৃদ্ধ। বাইপাস অপারেশনের শুরুও ওখানেই। ১৯৬৭ সালে আমেরিকার ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিকে প্রথম সফল বাইপাস সার্জারি করা হয়। সেই থেকে এখন পর্যন্ত ৪৫ বছর পেরিয়ে গেছে। বাইপাস তো হরদম হচ্ছে দেশে বিদেশে, কিন্তু তারপর কী অবস্থা? সবাই কি ভালো আছেন? আমেরিকার একজন রোগীর কথাই বলি। রোগী আর কেউ নন, খোদ আমেরিকার সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন। বুকে ব্যথা হলো। হাসপাতালে ভর্তি হলেন। এনজিওগ্রাম করা হলো। আমেরিকার সেরা সেরা কার্ডিওলজিস্টদের নিয়ে মেডিকেল বোর্ড করা হলো। সিদ্ধান্ত হলো বাইপাস করতে হবে। করা হলো বাইপাস। ক্লিনটন সুস্থ হয়ে আবার কাজকর্ম শুরু করলেন। কিছুদিন পর ব্যক্তিগত জীবনে কিছু ঝামেলায় জড়িয়ে পড়লেন। প্রেসিডেন্টশিপ চলে যাওয়ার মতো গুরুতর অবস্থা তৈরি হলো। সবমিলিয়ে ভীষণ এক স্ট্রেসের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছিলেন। ঝামেলা একসময় মিটলো ঠিকই, কিন্তু শেষরক্ষা হলো না। বাইপাসের ছয় বছরের মাথায় আবার বুকে ব্যথা। যথারীতি আবার এনজিওগ্রাম, আবার মেডিকেল বোর্ড। সিদ্ধান্ত হলো রিং পরানোর। রিং পরালেন। এবার জীবনযাপন পদ্ধতিতে পরিবর্তন করার ব্যাপারে তিনি সচেতন হয়ে উঠলেন। তার চুরুট খাওয়ার অভ্যাস ছিলো, ত্যাগ করলেন দীর্ঘদিনের সে অভ্যাস। চর্বিযুক্ত খাবার আর ফাস্টফুড ছেড়ে দিলেন পুরোপুরি। শুরু করলেন শাক-সব্জি আর ফলমূল খাওয়া। এখন তিনি ভালো আছেন। শুধু তা-ই নয়, বিল ক্লিনটন দ্বিতীয় মেয়াদে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট থাকাকালে হোয়াইট হাউজে তার ব্যক্তিগত চিকিৎকসকদের একজন ছিলেন ডা.ডিন অরনিশ। ক্যালিফোর্নিয়ার এই চিকিৎসাবিজ্ঞানী মেডিটেশন এবং সুস্থ জীবনযাপনের মাধ্যমে করোনারি হৃদরোগ নিরাময়ের পথিকৃৎ। এ থেকেই বোঝা যায়, হৃদরোগ নিরাময়ে সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও সুস্থ জীবনাচার অনুশীলনের ব্যাপারে ক্লিনটন নিজে কতটা সচেতন উঠেছিলেন। সুস্থতার জন্য আসলে এই জীবনযাপন পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনাটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, যতক্ষণ পর্যন্ত না আপনি এদিকে দৃষ্টি দেবেন, পৃথিবীর যে দেশেই যত উন্নততর চিকিৎসা আপনি নেন, সমস্যা সমস্যার জায়গাতেই থেকে যাবে। তাই হৃদরোগ থেকে নিরাময় ও সুস্থ জীবনের জন্যে স্থায়ী সমাধান যদি কিছু থেকে থাকে, তবে তার চাবিকাঠি একমাত্র আপনার হাতেই, ডাক্তার আর ওষুধ আপনার সহযোগী মাত্র। বিশিষ্ট হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ও জিয়া হার্ট ফাউন্ডেশন এন্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউট-এর চীফ কনসালটেন্ট ডা.হাসনাইন নান্না। কোয়ান্টাম হার্ট ক্লাব আয়োজিত হৃদরোগ ও নিরাময় বিষয়ক বৈজ্ঞানিক সেমিনারে তার দেওয়া বক্তব্য থেকে এ তথ্য নেওয়া।   ডব্লিউএন

হৃদরোগ নিরাময় করে প্রশান্তি ও সুস্থ জীবনাচার

হৃৎপিণ্ডের যত ধরনের অসুখ রয়েছে, তার মধ্যে করোনারি হৃদরোগ অন্যতম। ধূমপান, চর্বিযুক্ত খাবার, শাররিক পরিশ্রমের অভাব ইত্যাদি এ রোগের অন্যতম কারণ। প্রচলিত চিকিৎসাব্যবস্থায় শুধু ও ওষুধ, এনজিওপ্লাস্টি ও বাইপাস অপারেশনের মাধ্যমে রোগীর ব্লকেজের চিকিৎসা করা হয়। কিন্তু চিকিৎসক-জীবনের দীর্ঘ অভিজ্ঞতায় আমি দেখেছি , অত্যধিক মানসিক চাপ ও ‍দুশ্চিন্তা হৃদরোগের একটি অন্যতম প্রধান অনুঘটক,যার কোনো সমাধান প্রচলিত চিকিৎসাব্যবস্থায় নেই। এছাড়া অপারেশনের পর রোগী যখন আবার ধূমপান ,ভাজাপোড়া ও তৈলাক্ত খাবারসহ পুরনো জীবনযাত্রায় ফিরে যায়, সে আবারও আক্রান্ত হয় হৃদযন্ত্রের নানা জাটিলতায়। তাই হৃদরোগ থেকে পরিপূর্ণ নিরাময়ের জন্যে প্রয়োজন ধূমপান বর্জন, জীবনধারায় পরিবর্তন এবং টেনশনমুক্ত জীবন। আমিও আমার রোগীদেরকে এসব ব্যাপারে সচেতন হওয়ার পরামর্শ ‍দিই । টেনশনমুক্ত প্রশান্ত জীবনের জন্যে মেডিটেশনের ভূমিকা এখন বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত । মেডিটেশন ও জীবনাচার পরিবর্তনের মাধ্যমে যারা হৃদরোগ মুক্ত হয়েছেন,আমি তাদের অভিনন্দন জানাই । এদের মধ্যে অনেকেই অপারেশন-পরবর্তী জটিলতায় আক্রান্ত হতে পারতেন । কিন্তু তা হন নি;বরং সঠিক সময়ে সঠিক চিকিৎসাটি তারা নিতে পেরেছেন  অপারেশনকে ভয় করেন না এমন মানুষ নেই,তাই অপারেশনের চেয়ে ঝঁকিহীন এমন একটি পদ্ধতির মাধ্যমে সুস্থ হওয়া সত্যিই ভাগ্যের ব্যাপার । হৃদরোগ থেকে মুক্ত হওয়ার অভিজ্ঞতা তাদের নিজেদের বক্তব্যেই আমি শুনেছি। সৎ সাহস না থাকলে এ কথাগুলো তারা এত সহজে বলতে পাতেন না । সত্য বলেই সৎ সাহস ও সৎ উদ্দেশ্য নিয়ে তারা এ কথাগুলো আমাদের সামনে তুলে ধরতে পেরেছেন। আর সত্য বলতে কোনো ভয় থাকা উচিত নয়। কারণ সত্য-মিথ্যার দ্বন্দ্বে শেষপযর্ন্ত সত্যই প্রতিষ্ঠিত হয়। মানসিক প্রশান্তি ও সুস্থ জীবনধারা হৃদরোগ নিরাময় করে-এটি এখন প্রতিষ্ঠিত সত্য। নানা গবেষণা আর চিকিৎসাবিজ্ঞানীদের মতামতের ভিত্তিতে সত্য প্রমাণিত হয়েছে বলেই মেডিকেল সায়েন্সের প্রধান প্রধান বই ও জার্নালগুলোতে এ কথাগুলো ছাপা হয়েছে । এ পদ্ধতি অনুসরণ করে আপনি যদি ভালো থাকতে পারেন তবে কেন অনর্থক কাটাছেঁড়ে করবেন ? প্রযুক্তির ক্রমউৎকর্ষের ফলে শহরে কিংবা গ্রামে কোথাও আমরা এখন আর হাঁটি না,সবত্রই গাড়িতে চলাচল করি। অর্থাৎ আমাদের জীবনযাত্রা হয়ে পড়েছে শারীরিক পরিশ্রমহীন। আমাদের খাদ্যাভ্যাসেও এসেছে ব্যাপক পরিবর্তন। শাক-সব্জির বদলে এখন আমরা ফাস্টফুড,ভাজাপোড়া ও অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত খাবারে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছি। এসব খাবার যতই সুস্বাদু হোক,এগুলো কিন্তু শরীরের জন্যে বিপজ্জনক। আর ধূমপানের কথা তো বলাই বাহুল্য। সিগারেটের নিকোটিন হৃৎপিন্ডের ধমনীকে সংকুচিত করে । ফলে রক্ত চলাচল বাধাগ্রস্থ হয়,যা করোনারি হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়। এছাড়াও যুক্ত হয়েছে আধুনিক জীবনের নানা দুশ্চিন্তা ও টেনশন। তাই আপনার হৃৎপিন্ডের সুস্থতার জন্যে ধূমপান বর্জন করুন, জীবন-অভ্যাসে পরিবর্তন আনুন এবং মনে প্রশান্তি সৃষ্টি করুন। আপনি ভালো থাকবেন। এ পদ্ধতি প্রয়োগ করে আমেরিকায় ডা.ডিন অরনিশ শত শত হৃদরোগীকে এনজিওপ্লাস্টি ও বাইপাস ছাড়াই সুস্থ করে তুলেছেন। হৃদরোগের এ অন্যতম শ্রেষ্ঠ চিকিৎসাপদ্ধিতি আবিস্কারের জন্যে তাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত করা উচিত বলে আমি মনে করি। সমস্ত মেডিকের জার্নাল, গবেষক ও বিশেষজ্ঞরা একবাক্যে স্বীকার করেছেন যে, এর ভিত্তি আছে,এত মিথ্যা কিছু নেই। চিকিৎসক-জীবনে আমি নিজেও এর বহু প্রমাণ পেয়েছি। নজরুলের একটি কবিতায় আছে,‘বিশ্বাস আর আশা যার নাই, যেও না তাহার কাছে’। তাই জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই বিশ্বাস এবং আশাকে সঙ্গী করে রাখবেন। এই আশা এবং বিশ্বাসই আপনাকে সুস্থ করে তুলবে,সাফল্য এনে দেবে। এর পাশাপাশি সৃষ্টিকর্তা যা দিয়েছেন তার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হোন অর্থাৎ সবসময় কৃতজ্ঞচিত্ত থাকুন। মেডিটেশন ও সুস্থ জীবনাচার চর্চা করে যারা সুস্থ হয়েছেন তাদের সুস্থতার মূলেও রয়েছে এই বিশ্বাস। বিশ্বাস করে এগিয়ে গেছেন বলেই তারা আজ সুস্থ,হৃদরোগমুক্ত। নি:সন্দেহে তারা ভাগ্যবান। তাদেরকে বলি-আপনারা এ অভিজ্ঞতা সবাইকে জানান,পত্রিকায় ছাপানোর ব্যবস্থা করুন। আপনাদের জন্যে কিংবা পত্রিকার জেন্যে নয়,মানুষের জন্যে। যারা হৃদরোগ থেকে মুক্তি চান,পরিত্রাণ চান, অপারেশনের ঝুঁকি থেকে দূরে থাকতে চান, বাঁচতে চান তাদের জন্যে প্রচার করুন। সমাজের জন্যে, জাতির জন্যে সর্বোপরি মানুষের কল্যাণার্থে এ সুসংবাদ সবার কাছে পৌঁছে দেয়া একটি নৈতিক কর্তব্য বলে আমি মনে করি । আমি বিশ্বাসের সাথে যে কথাগুলো বললাম, তাতে আমরা পেশার কোনো ক্ষতি হবে না। আমার পেশা তার যোগ্য সম্মান নিয়েই বেঁচে থাকবে। প্রায় ২০ বছর আগে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের শিথিলায়ন ক্যাসেটের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে আমি ছিলাম। সেদিনও ‘প্রশান্তিতে মুক্তি’ শীর্ষক ভাষণে একজন চিকিৎসক হিসেবেই আমি বলেছিলাম-‘শুধু ট্যাবলেট,মিকশ্চার বা প্রেসক্রিপশন দিয়ে সব রোগমিক্তি সম্ভব নয়। কারণ প্রত্যেক চিকিৎসককেই তার পেশাগত জীবনে এমন কিছু রোগীর সংস্পর্শে আসতে হয়,যাদের রোগের সাথে কোন না কোনভাবে টেনশন জড়িত। দেখা গেছে,হাসপাতালের বহির্বিবাগে যে রোগীরা যান, তাদের মধ্যে শতকারা ৪০ ভাগেরই কোনো ওষুধের প্রয়োজন হয় না। কাউন্সিলিং বা সৎ পরামর্শ, আত্মবিশ্বাস এবং প্রশান্তিতে এ সমস্ত রোগের মুক্তি হয়। আর অস্থির-অশান্ত আধুনিক মানুষের জীবনে প্রশান্তির সুবাতাস আনতে পারে মেডিটেশন। কোয়ান্টাম মেডিটেশন মানুষের মনে প্রশান্তি ও আত্মবিশ্বাস সৃষ্টি করে রোগ নিরাময়কে ফলপ্রসূ করে, যা এখন পাশ্চাতে বিজ্ঞিান হিসেবে স্বীকৃত। তাই আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের পরিপূরক হিসেবে কোয়ান্টাম মেথড চমৎকার কাজ করতে পারে। যেসব রোগ ওষুধের প্রয়োজন নেই,তার নিরাময়ে কোয়ান্টামই হতে পারে সার্থক বিকল্প। আসল শরীরের চেয়ে মন অনেক বেশি শক্তিশালী। মনের গতি, শক্তি, পরিধি সবই ব্যাপক। মনের এই দুর্দমনীয় শক্তির প্রভাবে শরীরে এমন কিছু রাসায়নিক পরিবর্তন ঘটে, যাতে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে,এমনকি রোগ নির্মূলেও সাহায্য করে। যুগে যুগে মহামানবরা,নবী-রাসুলরা বিভিন্ন রোগ নিরাময় ক্ষেত্রে ধ্যানের এ শক্তিকে  কাজে লাগিয়েছেন। এটি তাই নতুন কিছু নয়। এটি হাজার বছরের শাশ্বত চেতনারই একটি আধুনিক ও সমন্বিত রূপ,যার উৎস এই প্রাচ্য। বর্তমানে হৃদরোগ নিরাময় ও প্রতিরোধের এ প্রক্রিয়া সারা বিশ্বে ব্যাপকভাবে গ্রহণযোগ্য ও সর্বজনস্বীকৃত। তাই আমি আশা করবো, হৃদরোগ নিরাময়ের এ প্রক্রিয়া বাংলাদেশে আরো জনপ্রিয় হয়ে উঠবে। পরিশেষে এটাই বলি, আপনার সুস্থতা ও নিরাময়ের দায়িত্ব আপনাকেই নিতে হবে। তাই সুস্থ হৃদযন্ত্র সর্বোপরি সুস্থ জীবনের জন্যে সঠিক দৃষ্ঠিভঙ্গি অনুসরণ করুন। অর্থাৎ ইতিবাচক ও কৃতজ্ঞচিত্ত হোন। প্রাকৃতিক খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলুন। নিয়মিত হাঁটুন, ব্যায়াম করুন এবং টেনশনমুক্ত জীবনযাপনে করুন। সবচেয়ে বড় কথা, বিশ্বাস এবং আশা নাই যার, তার কছে থেকে দূরে থাকুন। সবসময় আশাবাদী, বিশ্বাসী ও ভালো মানুষদের সংস্পর্শে থাকুন। আপনি ভালো থাকবেন। **অধ্যাপক ডা. ‍নুরুল ইসলাম প্রখ্যাত চিকিৎসাবিজ্ঞানী ও বাংলাদেশে ধূমপানবিরোধী আন্দোলনের পথিকৃৎ। জাতীয় এ অধ্যাপক কোয়ান্টাম হার্ট ক্লাব প্রকাশিত হৃদরোগ নিরাময়ে বিশেষ মেডিটেশন সিডির মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে এ বক্তব্য দেন ।    

জীবনযাপনে সচেতন হোন, হৃৎপিণ্ড সুস্থ থাকবে

আমরা সবাই সুস্থ থাকতে চাই । সুস্থভাবে জীবনযাপন করতে চাই। আর সুস্থতার জন্যে যেটি সবচেয়ে বেশি দরকার, সেটি হলো নিজের উদ্যোগ। অর্থাৎ আমকে চাইতে হবে যে, আমি সুস্থ থাকবো এবং সুস্থতার জন্যে প্রয়োজনীয় অভ্যাসগুলো আমি মেনে চলবো, যথাযথভাবে অনুসরণ করবো। সেইসঙ্গে যা যা বর্জন করা উচিত তা-ও আমি অবশ্যই বর্জন করবো । একটি আনন্দময় সুস্থ জীবন উপভোগের জন্যেই আমাকে তা পারতে হবে। অনেকে বলেন, ধূমপান ছাড়বো কীভাবে? আমি বলি, ধূমপান যদি ছাড়তে চান তবে আপনার নিজের ইচ্ছাটাই যথেষ্ট যে,আমি আর কখনো ধূমপান করবো না। এভাবে সব ক্ষেত্রেই শুধু নিজের ইচ্ছাশক্তির জোরে মানুষ নিরাময় ও সুস্থতার পথে অনেকখানি এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অগ্রগতির সাথে সাথে আমরা অধিকাংশ মানুষ আজ ভুল খাদ্যাভ্যাসের দিকে ঝঁকে পড়ছি। স্বাস্থ্যঘাতি নানারকম খাবার এখন একটু একটু করে আমাদের দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাসে ঠাঁই করে নিয়েছে। ছোট ছোট ছেলে-মেয়েরা এখন বিভিন্ন ধরনের বোতলজাত জুস,সফট ড্রিংকস, এনার্জি ড্রিংকস-এর প্রতি মাত্রারিক্তভাবে আসক্ত। অথচ আপনার শরীরের জন্যে, বিশেষ করে কিডনির সুস্থতার জন্যে দরকার হলো পানি । অন্যদিকে এসব ড্রিংকস ও জুস শিশুসহ যেকোনো বয়সের মানুষের কিডনির ক্ষতির কারণ । সুস্থ থাকতে সবারই এ বিষয়গুলোর প্রতি দৃষ্টি দিতে হবে । মানুষ হিসেবে আমাদের প্রত্যেকের মধ্যেই রয়েছে নিরাময় ও সুস্থতার এক সহজাত শক্তি । ডা. হার্বার্ট বেনসন বলেছেন, ‘একজন মানুষ রিলাক্সেশন,মেডিটেশন,ব্যায়াম ও সঠিক খাদ্যাভ্যাস অনুসরণ করে সুস্থ জীবনযাপন করতে পারেন।’ এর প্রত্যক্ষ দৃষ্টান্তই আমরা দেখছি কোয়ান্টাম হার্ট ক্লাবের কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে। আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের আলোকে এখানে সুস্থতার জন্যে সঠিক জীবনাচারে মানুষকে ভালোভাবে সচেতন করে তোলা হচ্ছে । নিয়মিত কাউন্সেলিং করা হচ্ছে । নিজেদের জীবনে যারা এসব আন্তরিকভাবে অনুসরণ করছেন তারা উপকৃত হচ্ছেন,সুস্থ আছেন,ভালো আছেন। অনেক হৃদরোগী আছেন,যাদের হয়তো একবার এনজিওপ্লাস্টি কিংবা বাইপাস অপারেশন করা হয়েছে; কিন্তু কিছুদিন পর দেখা গেল,আবার বুকে ব্যথা,নতুন ব্লকেজ ইত্যাদি । তিনি আবারও অসুস্থ হতে শুরু করলেন । অর্থাৎ চিকিৎসা নেওয়া হচ্ছে ঠিকই,কিন্তু বারবার একই ঘটনা ঘটে চলছে। এ দুর্ভোগ তেকে মুক্তি পাওয়ার পথ একটাই-আপনার জীবনযাপনের প্রতি মনোযোগী হন । স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলুন । ব্যায়াম করুন । এবং অবশ্যই মানসিক চাপ ও দুশ্চিন্তা থেকে যতটা সম্ভব দূর থাকুন । করোনরি হৃদরোগের একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কারণ হচ্ছে এই টেনশন । টেনশন যে শুধু হৃৎপিন্ডেরই ক্ষতি করে তা নয়;বরং আমাদের সার্বিক সুস্থতার পথেও এটি একটি প্রধান বাধা । তাই সুস্থ থাকতে হলে প্রথম কথা হলো, আপনাকে টেনশনমুক্ত হতে হবে। মানসিক চাপ কমাতে হবে। টেনশনমুক্ত থাকার কথা উঠলেই কেউ কেউ বলেন,শিশু এবং পাগল ছাড়া বাকি সবাই নাকি টেনশনে ভোগে । আমি তখন তাদেরকে রাসুলুল্লাহর (স.) জীবনের কথা বলি। তাঁর জীবনের বিভিন্ন ঘটনা এবং এর প্রেক্ষিতে তাঁর প্রশান্তচিত্ততা,স্রষ্টায় বিশ্বাস ও ধৈর্যের দিকে তাকাতে বলি। টেনশনের মতো আপনার হৃৎপিন্ডের আরেক শত্রু হলো আপনার রাগ। রাগ-ক্রোধ আপনাকে নানাভাবে অশান্ত করে তোলে, আপনার মধ্যে স্ট্রেস তৈরি করে,আপনাকে কুরে কুরে খায় । তাই এ ব্যাপারে সচেতন হওয়া অর্থাৎ রাগ বর্জন খুব জরুরি। ‘রেগে গেলেন তো হেরে গেলেন’-কোয়ান্টামের এই কথাটি ব্যক্তিগতভাবে আমি খুব পছন্দ করি এবং সবাইকে বলি । একেকজন একেকভাবে নিজের রাগ নিয়ন্ত্রণের কৌশল খুঁজে নিতে পারেন । যেমন,রাশিয়ার সাবেক রাষ্ট্রনায়ক স্ট্যালিন । ভীষণ কঠিন প্রকৃতির লোক ছিলেন তিনি ।লৌহমানব বলা হতো তাকে । কিন্তু রেগে গেলে তিনি চুপ করে যেতেন,কোন কথা বলতেন না । আমরাও এ বিষয়গুলো নিজেদের মতো করে অনুসরণ করতে পরি । এক্ষেত্রে আমি নিজে কিছু টেকনিক অবলম্বন করি । যেমন,রাগ আসতে শুরু করলে ভাষা বদলে ফেলি,হিন্দিতে কথা বলতে শুরু করি । যে মানুষটির কথায় বা আচরণে আমার রাগ হতে চাচ্ছিল,তিনি তখন একটিু বিস্মিত হন এবং সে বিষয়ে আর কথা বাড়ান না,থেমে যান । আমিও তখন নিজেকে সহজেই সামলে নিতে পারি । কেউ কেউ বলেন,এডমিনিস্ট্রেশন পরিচালনা করতে গেলে এক-আধটু রেগে যেতে হয় । কিন্তু সত্য হলো, এডমিনিস্ট্রেশন পরিচালনার জন্যে দরকার ঠান্ডা মাথয় সুচিন্তিতভাবে সিদ্ধান্ত নেয়া ও কাজ করা । কিন্তু রেগে গেলে তো আপনি সেটি কখনোই করবেন না । কারণ রেগে গেলে সে মুহূর্তে মানুষের বোধ আর হিতাহিত জ্ঞান কাজ করে না । তখন ভুল হওয়ার আশঙ্কা থাকে আরো বেশি । জীবনে চলার পথে আরো এক;টি বিষয় আমাদের অসুস্থ করে তোলে; সেটি হলো নেতিবাচকতা-নেতিবাচক কথা,চিন্তা ও কাজ । কাজ শুরু করার আগে শুধু নেতিবাচক চিন্তা করে আর অকারণ দ্বিধা-দ্বন্দ্বে ভুগে আমরা অনেক সময় ব্যয় করে ফেলি-এটা করলে কী হবে, কে কী বরবে ইত্যাদি । কিন্তু আসল কথা হলো ম আপনি যদি মনে করেন কাজটা ভালো ও সৎ নিয়তে কাজ করুন,আল্লাহ সাহয্য করবেন। আর কাজ করতে গিয়ে আমরা যেন নাম যশ খ্যাতি প্রশংসার আসক্তিতে আক্রান্ত না হই । কারণ এ আসক্তিও আমাদের অনেক অশান্তি আর অসুস্থতার জন্যে দায়ী । প্রচলিত চিকিৎসাব্যবস্থায় নিত্যনতুন অনেক ওষুধ আবিষ্কিৃত হচ্ছে সত্যি,কিন্তু জীবনের এ দিকগুলেঅর প্রতি কোনোরকম মনোযোগ দেয়ার সুযোগ সেখানে নেই । আমার খুব ভালো লাগে যে,কোয়ান্টাম এ বিষয়গুলো মানুষের সমনে তুলে ধরছে। কোয়ান্টাম মেথধ কোর্সে অংশ নিয়ে আমি দেখেছি,অসংখ্য মানুষ এখানে এসে নিজেদের চিন্তা-ভাবনা,দৃষ্টিভঙ্গি ও জীবনযাপনের প্রতি সচেতন হয়ে উঠেছেন । সমস্ত নেতিবাচকতার বৃত্ত ভেঙে তারা ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি ও আত্মশক্তিতে উজ্জীবিত হয়ে উঠছেন ।যিনি এসেছিলেন রোগ শোক জরা ব্যাধি অস্থিরতা দু:খ নিয়ে-মনের ও বিশ্বাসের শক্তিতে উজ্জীবিত হয়ে তিনি সুস্থতার পথে এগিয়ে যেতে পারছেন । কারণ যেকোনো রোগমুক্তি এবং সর্বোপরি পরিপূর্ণ সুস্থতার জন্যে মানসিক চাপমুক্তি ও প্রশান্তিটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অনুষঙ্গ । সে অর্থে,কোয়ান্টাম সত্যিই মানুষকে সুস্থ দেহ প্রশান্ত মন ও কর্মব্যস্ত সুখী জীবনের আলোকিত পথে পরিচালিত করছে । ** অধ্যাপক ডা. এম আর খান বাংলাদেশে শিশু চিকিৎসার পথিকৃৎ ও জাতীয় অধ্যাপক ছিলেন। তিনি কোয়ান্টাম হার্ট ক্লাব আয়োজিত হৃদরোগ প্রতিরোধ ও নিরাময় বিষয়ক বৈজ্ঞানিক সেমিনারে এ বক্তব্য দেন। //এআর

হৃদরোগ নিরাময়ের আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গি

চলতি বছর বিশ্ব হার্ট দিবস পালিত হয় গত ২৯ সেপ্টেম্বর । দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য ‘পাওয়ার ইওর হার্ট, শেয়ার ইওর হার্ট’। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার মতে, প্রতিবছর বিশ্বে সবচেয়ে বেশি মানুষ মারা যায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে। অর্থাৎ বিশ্বে প্রতিবছর ১ কোটি ৭৭ লাখ বা মোট মৃত্যুর ৩১ শতাংশ ঘটে হৃদরোগের কারণে। হৃদরোগের  কারণ: উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা, আবেগের আগ্রাসন, কাজের বাড়তি চাপ প্রভৃতি হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়। জীবনে ক্রমাগত আশঙ্কা বেড়ে যাওয়া, কাজ-কর্মে তাড়াহুড়ো, আধুনিক জীবনযাত্রায় নিত্য দিনের দুর্ভাবনা এককথায় স্ট্রেস সরাসরি আমাদের শরীরের রক্ত সঞ্চালন প্রক্রিয়া ও হৃৎপিণ্ডের উপর প্রভাব ফেলে। হৃদযন্ত্রের নানারকম প্রাণঘাতী অসুখের মধ্যে করোনারি হৃদরোগ অন্যতম। এতে হৃৎপিণ্ডের ধমনীতে কোলেস্টেরল বা চর্বি জমে স্বাভাবিক রক্ত চলাচল ব্যাহত হয়। ফলে হৃৎপিণ্ডে অক্সিজেন সরবরাহ কমে যায় এবং বুকে ব্যথাসহ নানা উপসর্গ দেখা দেয়। অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত খাবার গ্রহণ, ধূমপান, মেদস্থুলতা এবং টেনশন বা স্ট্রেস ইত্যাদিকে হৃদরোগের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য কারণ মনে করা হয়। হৃদরোগের প্রচলিত চিকিৎসা : প্রচলিত চিকিৎসাব্যবস্থায় ধমনীতে জমে থাকা এ চর্বির স্তর পরিষ্কার করে রক্ত চলাচল স্বাভাবিক করার জন্যে ব্লকেজের পরিমাণ অনুসারে ওষুধ, এনজিওপ্লাস্টি কিংবা বাইপাস সার্জারির পরামর্শ দেয়া হয়। কিন্তু এর কোনোটি দিয়েই পুনঃব্লকেজ প্রতিরোধ করা যায় না। কারণ মূল সমস্যার সমাধান না করে সমস্যাকে ধামাচাপা দিতে গেলে যা হয়, এখানেও তা-ই ঘটে। গবেষণায় দেখা গেছে, ব্লকেজ-এর চিকিৎসা করা হলেও ব্লকেজ -এর কারণ ও পুনঃব্লকেজ প্রতিরোধের ব্যাপারে রোগীকে খুব ভালোভাবে সচেতন করা হয় না। ফলে চিকিৎসা গ্রহণের পরও অনেক রোগী পুনরায় নতুন ব্লক নিয়ে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন। এছাড়া ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, রক্তের উচ্চ কোলেস্টেরল, হৃদরোগের পারিবারিক ইতিহাস ও ধূমপানের পাশাপাশি হৃদরোগের ক্ষেত্রে অত্যধিক মানসিক চাপ ও দুশ্চিন্তা একটি অন্যতম প্রধান অনুঘটক, যার কোনো চিকিৎসা হৃদরোগের প্রচলিত চিকিৎসা ব্যবস্থায় অনুপস্থিত। অপারেশনের পর রোগী যখন পুরনো জীবন অভ্যাসে ফিরে যায়,  সে আবারও আক্রান্ত হয় ব্লকেজসহ হৃদযন্ত্রের নানা জটিলতায়। নতুন আশা নতুন বিশ্বাস : খাদ্যাভ্যাস এবং জীবনযাপন পদ্ধতিতে পরিবর্তন এনে এর চেয়ে অনেক ভালো ফল পাওয়া গেছে বিশেষজ্ঞদের অভিজ্ঞতায়। এতদিন চিকিৎসকরা বিশ্বাস করতেন, ধমনী একবার ব্লক হওয়া শুরু করলে বাইপাস সার্জারি কিংবা এনজিওপ্লাস্টি ছাড়া আর কোনো সমাধান নেই। চিকিৎসকদের এই রক্ষণশীল চিন্তার মর্মমূলে প্রথম আঘাত হানেন ক্যালিফোর্নিয়ার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. ডিন অরনিশ। হাসপাতালে বিশেষজ্ঞ হিসেবে কাজ করার সময় তিনি বিস্ময়ের সাথে লক্ষ্য করেন, এনজিওপ্লাস্টি বা বাইপাস করার ৪ থেকে ৬ মাসের মধ্যে ৩০ থেকে ৫০ শতাংশেরও বেশি রোগী পুনরায় ধমনীর ব্লকেজ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। পরবর্তীতে হৃদরোগ নিরাময়ের ক্ষেত্রে যোগ ব্যায়াম, কম কোলেস্টেরলযুক্ত খাবার ও মেডিটেশনের ভূমিকা নিয়ে গবেষণার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। ১৯৯০ সালে আমেরিকার মেডিকেল জার্নাল ল্যানসেট-এ প্রকাশিত হয় তার একটি গবেষণা রিপোর্ট। ১৯৮৭ সালে ৪৮ জন হৃদরোগীকে ২ ভাগে ভাগ করে ডা. অরনিশ এ গবেষণাটি পরিচালনা করেন। এক গ্রুপের ২৮ জনকে এক বছর ধরে কম চর্বিযুক্ত খাবার দেয়ার পাশাপাশি মেডিটেশন ও যোগ ব্যায়ামের অনুশীলন করানো হয়। সেইসাথে ধূমপান বর্জন এবং রোগীদেরকে মমতা ও সহানুভূতিপূর্ণ মানসিক অবস্থায় রাখার চেষ্টা করা হয়। অন্যদিকে বাকি ২০ জনকে আমেরিকান হার্ট এ্যাসোসিয়েশন নির্দেশিত হৃদরোগের প্রচলিত চিকিৎসা এবং পথ্যবিধির অধীনে রাখা হয়। এক বছর পর দেখা যায়, ১ম গ্রুপের রোগীদের ধমনীতে ব্লকেজের পরিমাণ তো বাড়েইনি, বরং কমেছে এবং হার্টে রক্ত চলাচলের পরিমাণ সন্তোষজনকভাবে বেড়েছে। অন্যদিকে প্রচলিত চিকিৎসা চালিয়ে গেলেও দ্বিতীয় গ্রুপের প্রায় সবারই ব্লকেজের পরিমাণ বেড়েছে। ১৯৯৮ সালে জার্নাল অফ আমেরিকান মেডিকেল এ্যাসোসিয়েশন-এ গবেষণাটি সম্পর্কে বিস্তারিত রিপোর্ট প্রকাশিত হয়। শুধু আমেরিকা বা পাশ্চাত্যেই নয়, আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতেও দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে হৃদরোগ নিরাময় ও প্রতিরোধের এ আধুনিকতম পদ্ধতি। ডা. ডিন অরনিশ ভারতে এসেছিলেন এবং অল ইন্ডিয়া ইন্সটিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্স-এ  চিকিৎসকদের সম্মেলনে তিনি তাঁর গবেষণার ফলাফল তুলে ধরেন। ভারতে এ নিয়ে ব্যাপক গবেষণা হয়েছে এবং চমৎকার ফলাফল পাওয়া গেছে। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশে হৃদরোগ চিকিৎসার পথিকৃৎ ও ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশÑ এর প্রতিষ্ঠাতা মহাসচিব জাতীয় অধ্যাপক ব্রিগেডিয়ার (অব.) ডা. আব্দুল মালিক ২০০৮ সালের নভেম্বরে কোয়ান্টাম মুক্ত আলোচনায় দেয়া তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘মনের প্রভাব শরীরের উপর অপরিসীম। তাই দেহের পাশাপাশি মনের যতœ নেয়াও খুব গুরুত্বপূর্ণ। কারণ মন বা আত্মা ভালো না থাকলে শরীরও ভালো থাকে না। কাজেই আমাদের দুশ্চিন্তামুক্ত জীবনযাপনের অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। এজন্যে নিয়মিত নামাজ, প্রার্থনা ও মেডিটেশন করা উচিত। চাপমুক্ত জীবনযাপন, মানসিক সুস্বাস্থ্য ও সুস্থ হৃদযন্ত্রের জন্যে রিলাক্সেশন বা শিথিলায়নের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সারা বিশ্বে তাই এটি দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে’। নিজের দায়িত্ব নিতে হবে নিজেকেই : ইংরেজিতে একটি কথা আছে- patient cure themselves, doctors show the way.  নব্য চিকিৎসা ধারার প্রবর্তক ডা. ডিন অরনিশ, ডা. দীপক চোপড়া, ডা. কার্ল সিমনটন, ডা. বার্নি সীজেল, ডা. হার্বার্ট বেনসন প্রমুখ ‘বডি, মাইন্ড, স্পিরিট’সাময়িকীর ১৯৯৭ সালের বিশেষ সংখ্যায়  ‘একবিংশ শতকের স্বাস্থ্য’ প্রচ্ছদ কাহিনীতে দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে মত প্রকাশ করেছেন যে, সুস্থ থাকতে হলে নিজের স্বাস্থ্যের দায়িত্ব নিজেকেই গ্রহণ করতে হবে। নিজেকে নিরাময় করার ক্ষমতা প্রতিটি মানুষের সহজাত ক্ষমতার অন্তর্ভুক্ত। কারণ বাইপাস সার্জারি, এনজিওপ্লাস্টি বা সারাজীবন কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রক ওষুধ সেবনের চাইতে সঠিক জীবনদৃষ্টি গ্রহণ করে জীবনধারা পরিবর্তনের খরচ অনেক কম। ডা. হার্বার্ট বেনসন বলেন, একজন মানুষ নিজেই রিলাক্সেশন বা  শিথিলায়ন, মেডিটেশন, ব্যায়াম ও পুষ্টি সংক্রান্ত জ্ঞান লাভ করে তা অনুসরণ এবং নিজের জীবনে প্রয়োগ করতে পারে। লেখক : কোঅর্ডিনেটর, কোয়ান্টাম হার্ট ক্লাব।                                                                                             

ক্রনিক ব্যথা দূর করুন সহজেই

যারা ক্রনিক ব্যথায় ভোগেন, ডাক্তারদের পক্ষে তাদের সমস্যা বোঝা খুবই কঠিন৷ শরীরের এই ব্যথা জীবনকে দুর্বিষহ করে তোলে৷ কিন্তু এই ব্যথার উৎস অনেক সময়ে অজানাই থেকে যায়। বিশেষ করে ক্রনিক বা দীর্ঘস্থায়ী ব্যথার ক্ষেত্রে এমনটিই হয়৷ এমন অবস্থায় বেশিরভাগ মানুষ এক ডাক্তার ছেড়ে অন্য ডাক্তারের কাছে যান। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই হতাশ হন তারা। মনে রাখবেন ব্যথা শরীরকে সুরক্ষা দেয় না, বরং ক্ষতি করে৷ তবে গবেষকরা এমন ব্যথা চিহ্নিত করে তার চিকিৎসা খোঁজার চেষ্টা করছেন। জেনে নিন কিভাবে এই দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা দূর করবেন- প্রথম লক্ষণ :  কোনো পরিশ্রম বা ব্যায়াম না করলে বয়স বাড়ার সাথে সাথে শরীরে তার প্রভাব পড়ে। এর ফলে শরীরের বিভিন্ন স্থানে ব্যথা হয়৷ আবার অনেকের ক্ষেত্রে কম বয়সেও এ ব্যথা হয়ে থাকে৷ হাঁটা-চলা করার সময় শরীরে সবচেয়ে বেশি চাপ পড়ে কোমর এবং হাঁটুর ওপর। এই দুই অঙ্গে যখন ব্যথা অনুভব হয় তখন হাঁটা-চলার আগ্রহ কমে যায়৷ আর এটাই হচ্ছে ব্যথা শুরুর প্রথম লক্ষণ৷ ব্যায়াম : মনে রাখবেন হাঁটা চলা করলেই ব্যথা কমবে, বন্ধ করলেই কমবে না। আপনি চাইলে নিয়মিত হাঁটা-হাঁটি এবং বিশেষ কিছু ব্যায়াম করে ব্যথা কমাতে পারেন। ব্যায়ামের সময় জোরে হাটুন। জোরে হাঁটার সময় পেশিতে চাপ পড়ে, যা পেশির জন্য খুবই ভালো৷ তবে এতে দুর্ঘটনা এড়াতে হাতে লাঠি বা ‘স্টিক’ রাখতে পারেন। নাচ ব্যথা কমায় : গান মনের দুঃখ ভুলে দেয়। পাশাপাশি মনের চাপ কমিয়ে দিয়ে মেজাজ ভালো করে৷ আর গানের সাথে ইচ্ছেমতো নাচলে কমবে শরীরের ব্যথা৷ তবে নাচ শুরুর পর পরই হাঁটু বা নিতম্বে ব্যথা হতে পারে৷ কিন্তু তখন নাচ না থামিয়ে নিয়মিত নাচ চালিয়ে যান৷ একসময় দেখবেন ব্যথা উধাও! সাইকেল চালান : আপনার বাতের ব্যথা? তাহলে নিয়মিত সাইকেল চালান। সাইকেল চালালে বাতের ব্যথা অথবা ‘রিউম্যাটিক পেইন’ ভালো হয়। রাস্তায় সাইকেল চালানো সম্ভব না হলে বাড়িতে চালান। লক্ষ্য রাখবেন যেন পা দু’টোকে বেশি ফাঁক করতে না হয়৷ আর/ডব্লিউএন

খালি পেটে যেসব খাবার খেতে মানা

সকালে ঘুম থেকে উঠেই অফিসে যাওয়ার তাড়া। তাই এ সময় অনেকে না খেয়ে দৌড় দেন। আর নিতান্তই যদি কিছু খেতে হয়, তাহলে ফ্রিজের মধ্যে যা পড়ে থাকে, তার থেকেই কিছু একটা মুখে পুড়ে নেওয়া। খুব বেশি হলে রাস্তার দোকানে দাঁড়িয়ে গরম কচুরি, সিঙ্গারা আর জিলিপি। ব্যস, পেট ভরে গেল। কিন্তু এমন অভ্যাসই যে আমাদের শরীরের সর্বনাশ করছে, তা কি আমরা বুঝতে পারছি? খাওয়া মানেই কিন্তু পেট ভরে যা খুশি তাই খাওয়া নয়, বরং ভালো খাবার খাওয়াটাকেই সঠিক খাদ্যগ্রহণ বলা হয়ে থাকে। আসুন জেনে নিই কোন কোন খাবার খালি পেটে খেতে মানা। মশলাদার খাবার ঘুম থেকে উঠেই মশলাযুক্ত খাবার খাচ্ছেন নাতো। মাসে একবার দুবার আমরা এগুলো খেতেই পারি। তাই বলে, প্রতিদিন ঘুম থেকে উঠেই মশলাদার খাবার না খাওয়াই ভালো। আর যদি এমনটা না করি, তাহলে সারাদিন গ্যাস, অম্বলের জ্বালায় ভুগতে হতে পারে কিন্তু! নরম পানীয় রাতে ভালো ঘুম হয়নি, তাই সকালটা বিছানা ছেড়ে উঠতে ইচ্ছা করছে না। শুয়েই থাকতেই ইচ্ছে করছে অথবা কিছুতেই কাজ করার এনার্জি পাওয়া যাচ্ছে না। এমন মুহূর্তে কি ফ্রিজ খুলেই ঠাণ্ডা এনার্জি বুস্টার পান করেন? অথবা খুব গরমে নাজেহাল হয়ে ঠাণ্ডা পানীয়? এই অভ্যাস থাকলে এখনই তা বন্ধ করুন। না হলে গ্যাস, বমিবমি ভাবের মধ্যে দিয়ে দিনটা অতিষ্ঠ হয়ে উঠবে। টকজাতীয় ফল অনেকেই আছেন যারা ব্রেকফাস্টের সঙ্গে ফল খেয়ে থাকেন। কিন্তু জানেন কি এই সময় কেমন ধরনের ফল খাওয়া উচিত? যেমন ধরুন কমলালেবু, পাতিলেবু, বাতাবিলেবু, আনারস, পেয়ারা এই ধরণের ফলগুলি ব্রেকফাস্টের সঙ্গে একদমই খাওয়া উচিত নয়। কারণ খালি পেটে এই ফলগুলি খেলে হজমের সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা থাকে। কফি সকালবেলা উঠেই বেশ কড়া করে এক কাপ কফি খেতে দারুণ লাগে তাই না? কিন্তু জানেন কি এমনটা করলে আমাদের শরীরের একেবারেই ভালো হয় না। কারণ খালিপেটে কফি বা খুব গরম খাবার খেলে শরীরের অন্দরে নানা সমস্যার সৃষ্টি হয়। সেই কারণেই তো খালি পেটে কফি খাওয়ার আগে পেট ভরে পানি পান করার পরামর্শ দেন চিকিৎসকেরা। নাশপাতি খালি পেটে কখনোই নাশপাতি খাবেন না। কারণ আমাদের পেটে নানা ধরণের সমস্যা, যেমন- গ্যাস, হজমে সমস্যা ছাড়াও আরও বহু সমস্যা দেখা দিতে পারে। কলা খালি পেটে কলা খেতে মানা করেন চিকিৎসকেরা। কারণ কলার মধ্যে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম থাকে, যে কারণে খালি পেটে এই ফলটি খেলে হার্টের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। টমাটো খালি পেটে এই সবজিটি খেলেই কিন্তু মহাবিপদ! কারণ টমাটোর মধ্যে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ট্যানিক অ্যাসিড, যা গ্যাস এবং অম্বলের সৃষ্টি করে। সেই সঙ্গে সারা শরীরে ছড়িয়ে থাকা টিস্যুদের ক্ষতি হয়। সূত্র : বোল্ডস্কাই।

হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমাতে প্রয়োজন কায়িক পরিশ্রম

এবারের বিশ্ব হার্ট দিবসের প্রতিপাদ্য ‘পাওয়ার ইওর হার্ট, শেয়ার ইওর হার্ট’। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার মতে, প্রতিবছর বিশ্বে সবচেয়ে বেশি মানুষ মারা যায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে। অর্থাৎ বিশ্বে প্রতিবছর ১ কোটি ৭৭ লাখ বা মোট মৃত্যুর ৩১ শতাংশ ঘটে হৃদরোগের কারণে। এ প্রেক্ষাপটে হার্ট সুস্থ রাখতে কায়িক পরিশ্রমকে বেশি জরুরি।   হার্ট সুস্থ রাখার ব্যাপারে তিনি একুশে টেলিভিশনের স্টাফ রিপোর্টার আহম্মদ বাবুকে বলেন, হার্ট সুস্থ রাখার জন্য প্রয়োজন প্রতিদিন কায়িক পরিশ্রম করা। এরমধ্যে হাঁটা একটি ব্যায়াম, যা হার্ট সুস্থ রাখে। একজন মানুষ যদি প্রতিদিন ৩০ মিনিট করে হাঁটেন তাহলে তার হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি ১৭ শতাংশ কমে যায়। তিনি যদি সপ্তাহে ৩ ঘন্টা হাঁটেন তাহলে ৩৫ শতাংশ হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমে যায়। এতে রক্তে যে খারাপ চর্বি, যেটাকে আমরা এলডিএল বলি সেটা কমে যায় এবং যেটাকে ভালো চর্বি বলি এসডিএল সেটা বেড়ে যায়। এতে হার্ট এর্টাকের ঝুঁকি কমে যায়। এছাড়া হাঁটার আরো অনেক উপকারিতা আছে। যেমন-অক্সিজেন বেড়ে যায়, লাংসের ক্যাপাসিটি বেড়ে যায়। যদি ডায়াবেটিস থাকে সেটা কনট্রোল হয়। উচ্চ রক্তচাপ থাকলে সেটা কন্ট্রোল হয়। দুঃচিন্তা থাকলে সেটাও কমে যায়। এছাড়াও যদি কারো ডায়াবেটিস থাকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। উচ্চ রক্তচাপ থাকলে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। তামাক জাতীয় পণ্য পরিহার করতে হবে এবং সর্বোপরী খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন করতে হবে। সুষম খাদ্য যেমন- প্রোটিন, ফ্যাট, কার্বোহাইড্রেট প্রয়োজন মতো যেন থাকে সেভাবে গ্রহণ করতে হবে। চর্বি জাতীয় খাবার পরিহার করতে হবে। তাহলে হার্ট এটাকের ঝুঁকি কমে আসবে। হ্রদরোগ আমাদের দেশে দিনদিন বেড়েই চলছে। হ্রদরোগের ভিতরে করোনারি হার্টের ডিজিজ আমরা যেটাকে বলি হার্ট অ্যাটাক। হার্ট অ্যাটাকের ইনসিডেন্স দিনদিন বেড়েই যাচ্ছে। আমরা প্রচুর হার্ট অ্যাটাকের রোগী পাই। তাদের চিকিৎসা করতে হয়। অর্থাৎ হার্ট অ্যাটাকের দিন দিন বেড়েই চলেছে। হার্ট অ্যাটাকের চিকিৎসা ব্যয় বহুল। আমরা জেনেই গেলাম হার্ট অ্যাটাক কীভাবে প্রতিরোধ করা যায়। তারপরও হার্টের অসুখ হয়েই যায়, হার্ট অ্যাটাক হয়েই যায়। আমাদের সরকারি হাসপাতালগুলোতে ভালো এবং উন্নত মানের চিকিৎসা হচ্ছে। প্রথমত: যদি করো  হার্ট অ্যাটাক হয়, বুকে তীব্র ব্যাথা হয়, অস্থির লাগে তাহলে তার ব্যাগে থাকুক নিকটস্থ ফার্মেসি থেকে কেনা ৪টি এসপিরিন ট্যাবলেট। যার দাম ৪০ থেকে ৫০ টাকা। সাথে সাথে খেয়ে নিয়ে যদি নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে ইমেডিয়েটলি চিকিৎসা শুরু করা যায় তবে ভালো হয়। সরকারি এ ব্যাপারে সহযোগিতা করছে। হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি যাতে কমানো যায়। হার্ট অ্যাটাকের চিকিৎসা যাতে ভালো হয় উন্নত মানের হয়, প্রাইভেট চিকিৎসা যাতে আরো ভালো হয় সেদিকে সরকার নজর রাখছে। লেখক : জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউটের পরিচালক। ডব্লিউএন  

© ২০১৭ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি