ঢাকা, রবিবার, ১৭ ডিসেম্বর, ২০১৭ ১৬:০৯:১৯

অনন্তমূল গাছে বাড়ে হজমশক্তি

অনন্তমূল গাছে বাড়ে হজমশক্তি

অনন্তমূল একটি ওষুধী গাছ। এর রয়েছে অনেক গুন। এই গাছ ব্যবহার করে নানাবিধ অসুখ থেকে আরোগ্য লাভ করার সুয়োগ রয়েছে। এই গাছের গুনাবলি তুলে ধরেছেন ড. তপন কুমার দে তার ‘বাংলাদেশের প্রয়োজনীয় গাছ-গাছড়ার’ বইয়ে। একুশে টেলিভিশন অনলাইনের পাঠকদের জন্য তা তুলে ধরা হলো- পরিচিতি- সরু এবং লতা জাতীয় উদ্ভিদ। পাতা লোমযুক্ত এবং কাণ্ডের দুদিকে জন্মায়। কিছুটা ডিম্বাকৃতির লম্বা এবং আগার দিকটা মোটা থাকে। ফলের বাইরের দিকের রং সবুজ আর বেগুনী। বীজ ছোট এবং চ্যাপ্টা, রং কালো। গাছের পাতার মাঝখানে সাদা দাগ থাকে। বাংলাদেশের সর্বত্রই বিশেষ করে উঁচু ভূমিতে জন্মে। বর্ষায় ফুল ফুটে। আশ্বিন মাসে ফল পাকে। এ সময় চাষাবাদ করা যায়। এর ক্রমশ সরু হয়ে মাটির অনেক নীচে চলে যায়। কোথাও কোথাও শেষ পাওয়া যায় না। পিত্ত বাড়লে, মায়েদের বুকের দুধ বৃদ্ধিতে, অগ্নিমান্দ্য ও অজীর্ণ, মূত্ররোধ, জিহবাক্ষত, পাথুরীর যন্ত্রণা, অর্শ সবগুলো ওষুধ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। অনন্তমূলের ব্যবহার- অর্শ- তিন গ্রাম অনন্তমূল বেটে, গরুর দুধের সঙ্গে জ্বাল দিয়ে দই পাততে হবে। সন্ধ্যার সময় এটা করা দরকার। পরের দিন সেই দই খেলে অর্শ  রোগ অবশ্যই উপকার হবে। সঙ্গে সঙ্গে খাবারে রুচি এবং ক্ষিদে বাড়বে। পাথুরীর যন্ত্রণা- গরুর দুধ দিয়ে ২/৩ গ্রাম অনন্তমূল বেটে খাওয়ালে খুবই তাড়াতাড়ি রোগী অসহ্য যন্ত্রণার হাত থেকে মুক্তি পায়। জিহবাক্ষত- ২০ মিলিলিটার ভেড়ার দুধে শুকনো অনন্তমূল ঘষে মাঝে মাঝে ক্ষতস্থানে লাগালে জিভ ও মুখে ঘা সারে। মূত্ররোধ- ৬০/৭০ গ্রাম অনন্তমূল ছোট ছোট করে কেটে ২০ মিলিলিটার পানিতে সারারাত ভিজিয়ে সে পানি পরিস্কার পাতলা কাজড়ে ছেঁকে পান করলে ৩/৪ গুন বেশি প্রসাব হয়। এ ছাড়া মূত্র রোগে খুবই হজমশক্তি বাড়ে- ২/৩ গ্রাম শুকনো অনন্তমূল গুঁড়ো, সকালে খালিপেটে একগ্লাস ঠাণ্ডা পানিতে দিয়ে খেলে ক্ষুধা ও হজমশক্তি বাড়ে নিয়মিত ১০ /১৫ দিন খাওয়া প্রয়োজন। পিত্ত বাড়লে- শরীরে পিত্ত বাড়লে বিশেষ করে ভাদ্র ও আশ্বিন মাসে হাত-পায়ের তালু জ্বালা করে। ২-৩ গ্রাম অনন্তমূল শিলে বেটে দু’চামচ চিনি মিশিয়ে ঠাণ্ডা পানিতে শরবত বানিয়ে খেলে পিত্ত কমে এবং হাত পায়ের তলুর জ্বালাপোড়া দূর হয়। মায়েদের বুকের দুধ বৃদ্ধিতে- ১২৫ গ্রাম অনন্তমূল  এবং দেড় লিটার পানি একটি মাটিতে হাড়িতে রেখে সেদ্ধ করতে হবে। হাড়ির মুখে মাটির সারা দিয়ে অবশ্য চাপা দেওয়া প্রয়োজন। ৪০ মিনিটের মত সেদ্ধ হবার পর হাড়ি আগুন থেকে নামিয়ে ঠাণ্ডা হলে ছেকে নিতে হবে। দিনে একবার করে চায়ের কাপের এককাপ পরিমাণ খেলে বুকের দুধ বাড়বেই।   এসএইচ/        
স্বাস্থ্যসম্মত তেল কতটুকু সত্য! 

আমরা প্রায় বিজ্ঞাপনে দেখি এই তেলে কোলস্টেরল নেই, আবার বলা হয় সেই তেল শতভাগ কোলেস্টেরলমুক্ত বা হৃদয়বান্ধব তেল। আসলে কতটুকু সত্য এসব বিজ্ঞাপন। তেল হচ্ছে ১০০ শতাংশ ফ্যাট। সব ধরনের তেলে সম্পৃক্ত বা অসম্পৃক্ত চর্বি দুটোই থাকে। আর আমরা আগেই জেনেছি, সম্পৃক্ত চর্বি বা স্যাচুরেটেড ফ্যাট শরীরে প্রবেশের পর কোলেস্টেরলে রূপান্তরিত হয়। সয়াবিন, সানফ্লাওয়ার ও স্যাফ্লাওয়ার তেল অন্য তেলগুলোর তুলনায় স্যাচুরেটেড ফ্যাট-এর পরিমাণ তুলনামূলক কম। তাই এগুলো অপেক্ষাকৃত কম ক্ষতিকর। কিন্তু সব ধরনের তেলেই যেহেতু ক্ষতিকর স্যাচুরেটেড ফ্যাট রয়েছে তাই সব ধরনের তেলই আপনার ক্ষতির কারণ হতে পারে, যদি পরিমাণটা অতিরিক্ত হয়। এছাড়াও তেলের পলি-আনস্যাচুরেটেড ফ্যাটে থাকা ওমেগা-৬ ফ্যাটি এসিড, যা শরীরের রোগ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে দুর্বল করে দিতে পারে। তাই আপনার দৈনন্দিন খাবারে তেলের পরিমাণ যত কম থাকে তত ভালো। আর আপনার করোনারি ধমনীতে যদি ব্লকেজ থাকে, তবে আপনার জন্যে সবচেয়ে ভালো হলো বিনা তেলে রান্না করা খাবার খাওয়া। প্রথম দিনেই বিনা তেলে রান্না খাবার খেতে যাবেন না, কারণ সেটি আপনার কাছে ভালো লাগবে না। আপনার খাবারে তেলের পরিমাণ ধীরে ধীরে কমিয়ে আনুন। তাতে আপনি একসময় তেল ছাড়া রান্না করা খাবারেই অভ্যস্ত হয়ে উঠবেন। সূত্র: কোয়ান্টাম হার্টক্লাব এর হৃদরোগ নিরাময় ও প্রতিরোধ গ্রন্থ থেকে সংকলিত (সংক্ষেপিত)।   এম/এসএইচ  

ক্যানসারের ওষুধ আবিষ্কারের দাবি বিজ্ঞানীদের

ভয়ঙ্কর রোগ ক্যানসারের ওষুধ আবিষ্কার করার জন্য বছরের পর বছর ধরে বিশেষ়জ্ঞরা গবেষণা করে যাচ্ছেন। কষ্টকর কেমোথেরাপি ছাড়া এখন পর্যন্ত আর কোনো সুরাহা মেলেনি। কিন্তু এবার ক্যানসারের ওষুধ আবিষ্কারে যুগান্তকারী সাফল্য পেলেন ব্রিটিশ বিজ্ঞানীরা। ব্রিটিশ বিজ্ঞানীরা দাবি করেছেন, তাঁরা এক ধরনের ‘ইমিউন থেরাপি’ আবিষ্কার করেছেন, যা দিয়ে সারিয়ে ফেলা যাবে ক্যানসার। এতে ক্যানসার পুরোপুরি সেরে যাবে বলে তাঁদের দাবি। তবে এখনই নয়, ২০১৮ সালে পাকাপাকি ভাবে এই পদ্ধতিতে ক্যানসারের চিকিৎসা করা যাবে বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। প্রথম স্টেজে ক্যানসার আক্রান্ত হয়ে সুস্থ হওয়া ব্যক্তিদের রক্ত কোষ দিয়েই তৈরি হবে এই চিকিৎসা পদ্ধতি। বিজ্ঞানীরা ক্যানসার মেরে ফেলার জন্য এ কোষগুলোকে প্রতিরোধক হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। বিশেষ চিকিৎসার মাধ্যমে এই রক্ত কোষগুলির পরিমাণ ১০ লক্ষ গুণ বাড়িয়ে তোলাই তাঁদের লক্ষ্য। এই কোষগুলিই ক্যানসার নিরাময় করবে। এই পদ্ধতির মাধ্যমে ওই রক্তকোষ অর্থাৎ নিউট্রোফিল সেল কেমিক্যাল এবং অ্যান্টিবডির দ্বারা ক্যানসারের কোষ ধ্বংস করে দেওয়া যাবে। এ বিষয়ে কলকাতার বিশিষ্ট ক্যানসার বিশেষজ্ঞ সুবীর গঙ্গোপাধ্যায় জানিয়েছেন, ‘এই নতুন পদ্ধতি আমাদের আশার আলো দেখাচ্ছে। সফলভাবে যদি এই পদ্ধতি রোগীর ওপর প্রয়োগ করা যায় তাহলে চিকিৎবিজ্ঞানে নতুন দিগন্ত তৈরি হবে।’ তবে তিনি বলেছেন, এর আগেও বিজ্ঞানীরা এরকম অনেক পদ্ধতি আবিষ্কার করেছেন, পরীক্ষামূলকভাবে তা সফলও হয়েছে। কিন্তু কোনও মানুষের ওপর তা প্রয়োগ করার পর সফলতা ততটা মেলেনি, কিংবা মিললেও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থেকে গেছে। সূত্র: জিনিউজ একে//এআর

সুস্থতার জন্য নারীদের করণীয়

সম্প্রতি একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে, ১৯৯০ সালের পর থেকে সারা বিশ্বে নারীদের শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি ঘটেছে। সেই সঙ্গে বেড়েছে মৃত্যুহার। এমন পরিস্থিতি তেকে বাঁচতে হলে আপনাকে বেশ কিছু বিষয় ভালোভাবে অনুসরণ করতে হবে।   ইমিয়া ইউনিভার্সিটির গবেষকদের করা এ গবেষণায় দেখা গেছে ৯০-এর দশকের পর থেকে যেখানে কম বয়সি পুরুষদের শারীরিক অবস্থার উন্নতি ঘটেছে, সেখানে নারীদের শারীরিক অবনতি ঘটেছে চোখে পরার মতো। ফলে ২৫-৩৪ বছর বয়সি নারীদের মধ্যে বেড়েছে মৃত্যুহার। ১৯৯০ সালে যেখানে নারীদের  অসুস্থতার হার ছিল মাত্র ৮.৫ শতাংশ, সেখানে ২০১৪ সালে এটি বৃদ্ধি   প্রায় ২০ শতাংশের মতো হয়েছে। এদিকে, কেস স্টাডিতে দেখা গেছে ছেলেরা নিজেদের স্বাস্থ্যের বিষয়ে যতটা সচেতন, নারীরা এই বিষয়ে বড়ই উদাসীন। ফলে স্বাভাবিকভাবেই নারীদের মধ্যে ওবেসিটি, ডায়াবেটিস, অ্যাংজাইটি এবং স্ট্রেসের মতো মরণব্যাধিতে  আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বৃদ্ধি পায়। এমন পরিস্থিতিতে নারীদের  সুস্থভাবে বাঁচতে হলে আপনাকে বেশ কিছু বিষয়ে শতর্ক থাকতে হবে। ১) ডায়াটের দিকে নজর দিন নারীদের শরীর ছেলেদের তুলানায় অনেক বেশি জটিল। তাই নারীদেরকে তাদের শরীরের প্রতি বিশেষভাবে মনোযোগ দিতে হবে। নারীদের  প্রথমে যে কাজটি করতে হবে তা হলো ডায়েটের প্রতি নজর দেওয়া। এক্ষেত্রে প্রতিদিনের ডায়েটে ফল, সবুজ শাকসবজি ছাড়াও ডিম, মাছ এবং মাংসের মতো প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে। ভিটামিন, মিনারেল এবং ফাইবার সমৃদ্ধ খাবারও  খেতে হবে।  অন্যদিকে ৪০-এর পর থেকে নারীদের শরীরে ক্যালসিয়ামের ঘাটতি দেখা দিতে শুরু করে। ফলে নানাবিধ রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বৃদ্ধি পায়। তাই এই সময় প্রতিদিন নিয়ম করে দুধ বা দুগ্ধজাত খাবার খেতে  হবে। ২)  শরীরচর্চা একাধিক কেস স্টাডিতে দেখা গেছে শরীরচর্চার অভাবে নারীদের মধ্যে হার্টের রোগে আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এছাড়াও শরীরচর্চার অভাবে ওবেসিটি, ডায়াবেটিস এবং উচ্চ রক্তচাপ ইত্যাদি রোগও বৃদ্ধি পায়। তাই নিয়ম করে শরীরচর্চা করার অভ্যাস গড়ে তোলতে হবে। ৩) মদ্যপান এবং ধূমপান বর্তমান সমাজে কিছু অতি আধুনিক নারী মদ্যপান ও ধূমপান করাকে ফ্যাশন হিসেবে মনে করে থাকে। কিন্তু এ মদ্যপান  এবং ধূমপান নারীদের  শরীরের পক্ষে খুবই ক্ষতিকর। তাই তাদের উচিত  মদ্যপান ও ধূমপান থেকে নিজেদের বিরত রাখা। ৪) স্ট্রেসকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে মানসিক চাপকে একেবারে ঘাড়ে উঠানো চলবে না। কারণ স্ট্রেস হলো ডায়াবেটিসের মতো এক ধরনের সাইলেন্ট কিলার। তাই তো একবার যদি এ রোগ শরীরে প্রবেশ করে যায়, তাহলে ধীরে ধীরে সব শেষ করে দেয়। তাই যখনই ক্লান্ত লাগবে, মনে হবে আর স্ট্রেস নিতে পারছেন না, তখনই সব কিছু ছেড়ে কিছুদিন কোথাও থেকে একটু ঘুরে আসবেন। প্রয়োজনে বন্ধু-বান্ধবদের সঙ্গে সময় কাটাবেন। দেখবেন মানসিক চাপ আর আর বেশি ক্ষতি করতে পারবে না। ৫) ব্রেস্ট ক্যান্সার থেকে সাবধান নারীদের জন্য বর্তমানে সবচেয়ে মারাত্মক হুমকির নাম হচ্ছে ব্রেস্ট ক্যান্সার । আর এটি জীবনযাত্রার কারণে হোক বা পরিবেশ গত কারণে হোক এর প্রতি নারীদের অবশ্যই সজাগ থাকতে হবে। তাই নির্দিষ্ট সময় অন্তর অন্তর এই বিষয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে ভুলা যাবে না। কারণ এই মারণ রোগকে যদি আটকাতে চান তা হলে আপনাকে সচেতন হতেই হবে।  তথ্যসূত্র: বোল্ডস্কাই। এম/এসএইচ  

নারীদের হার্ট অ্যাটাকের ৭টি লক্ষণ

সাধারণত নারীদের হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণগুলো পুরুষদের সঙ্গে সব সময় মেলে না। গর্ভধারণ, মাসিকজনিত সমস্যা, মানসিক চাপ, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, উচ্চ রক্তচাপসহ নানা কারণে নারীদের হার্ট অ্যাটাক হতে পারে। জেনে নিন নারীদের হার্ট অ্যাটাকের ৭টি লক্ষণ ১. বিষন্নতা : বিশেষজ্ঞরা বলেন, হার্ট অ্যাটাকের পর অন্তত ৭০ শতাংশ নারী অভিযোগ করেন, যে মাসে হার্ট অ্যাটাক হয়েছিল, সে মাসে একটু বেশিই বিষন্নতায় ভুগেছিলেন। গর্ভধারণ ও মাসিকজনিত কারণে বিষন্নতাজনিত সমস্যায় পড়েছিলেন। তাই এ বিষয়ে আগে থেকেই সচেতন থাকতে হবে। ২. ঘুমের অসুবিধা : হার্ট অ্যাটাকের মাসখানেক আগে থেকেই কম ঘুমের সমস্যা হতে থাকে। তাই ঘুমের সমস্যা হলে সঙ্গে সঙ্গেই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। ৩. উদ্বেগ ও মানসিক চাপ : উদ্বেগ ও মানসিক চাপ হার্ট অ্যাটাকের জন্য একটি ঝুঁকির কারণ। গবেষণায় বলা হয়, অনেক নারীই হার্ট অ্যাটাকের আগে ভীষণভাবে মানসিক চাপের ভেতর সময় পার করেন। তাই উদ্বেগ থাকলে একে সামলানোর চেষ্টা করুন। ৪. হজমে সমস্যা এবং বমি বমি ভাব : হার্ট অ্যাটাকের আগের সময়টায় সাধারণত পাকস্থলীতে ব্যথা, ইনটেসটাইনাল ক্রাম্প, বমি বমি ভাব এবং হজমে সমস্যা হতে দেখা যায়। তাই এ ধরনের বিষয় এড়িয়ে না গিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। ৫. শ্বাস-প্রশ্বাস দীর্ঘ হয়ে আসা : ফুসফুসে রক্ত সঞ্চালন ঠিকমতো না হলে এটি পর্যাপ্ত পরিমাণ বাতাস গ্রহণ করতে পারে না। এতে শ্বাস নিতে কষ্ট হয়। কাজকর্ম করার সময় বা সিঁড়ি দিয়ে উঠতে গেলে ভালোভাবে শ্বাস নিতে সমস্যা হয়। হার্ট অ্যাটাকের একটি অন্যতম কারণ এটি। এ রকম হলে আগে থেকেই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। ৬. ঠান্ডা ও ফ্লু হওয়া : অনেকেরই হার্ট অ্যাটাকের আগে ঠান্ডা ও ফ্লু হয়ে থাকে। এ ছাড়া ঘর্মাক্ত ত্বক বা মাথা ঘোরানোর সমস্যা হতে পারে। এসব সমস্যা সহজে সারতে চায় না। হার্ট অ্যাটাকের আগে এ রকম লক্ষণ দেখা যায়। ৭. চোয়াল, কান, ঘাড় ও কাঁধে ব্যথা ছড়ানো : অনেক নারীই বলেন, হার্ট অ্যাটাক হলে বুকের বাঁ পাশ ব্যথা শুরু হয়ে চোয়াল, কান, ঘাড় ও কাঁধের দিকে ছড়িয়ে পড়তে থাকে। এ সময় পেশিতে টানটান ভাব অনুভূত হয়। এসব সমস্যায় চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। টাইমস অব ইন্ডিয়া।   /ডিডি/

শীতে নাক, কান, গলার সমস্যা ও তার প্রতিকার

বাংলাদেশ ছয় ঋতুর দেশ। প্রতি বছর ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে মানুষের শরীরে নানা ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। প্রকৃতিতে শীতের হাওয়া বইছে। আবহাওয়ার বিপর্যয়, পরিবেশ দূষণের কারণে শীতকালেও অনেক রোগ ব্যাধি দেখা দেয়। অনেক সময় শীতকালে নাক, কান, গলায় বিভিন্ন সমস্যা হয়ে থাকে। যেমন : সর্দি, কাশি, অ্যালার্জি, টনসিলে প্রদাহ, গলা ব্যথা ইত্যাদি। একুশে টেলিভিশনের (ইটিভি) ‘দি ডক্টরস্’ অনুষ্ঠানে এ বিষয়ে কথা বলেছেন অধ্যাপক ডা. মনিলাল আইচ লিটু। প্রশ্ন : শীত আসার সঙ্গে সঙ্গে তার প্রকোপ বা মাত্রা বেড়ে যায়। এর মধ্যে নাক-কান-গলার সম্পর্কিত অনেক রোগের সংক্রমণ বাড়ে। আপনি বলবেন কি নাক কান গলার রোগগুলো শীতের সঙ্গে সম্পর্কিত এবং এ সময় বেশি দেখা দেয়? উত্তর : শীতে সাধারণত সাইনোসাইটিস, অ্যালার্জিক রাইনাইটিস (নাক দিয়ে পানি পড়া), অ্যালার্জির সমস্যা, টনসিলাইটিস, গলা বসে যাওয়া, নাক দিয়ে রক্ত পড়া, কানের প্রদাহ বেড়ে যায়। তবে একটা কথা বলতে চাই- আসলে তাপমাত্রা কোনো সমস্যা না। সাইবেরিয়াতেও কিন্তু মানুষ থাকে। সেখানে তাপমাত্রা মাইনাসে থাকে। আবার সৌদি আরবেও মানুষ থাকে। সেখানে কিন্তু ফোরটি প্লাস তাপমাত্রা থাকে। যখনই ঋতু পরিবর্তন হয় অর্থাৎ গরম থেকে শীত আসতে শুরু করে এটা ক্ষতিকর একটা সময়।      প্রশ্ন : এ সময়টাতে অনেকেই বলেন আমার টনসিল ফুলে যাচ্ছে। এটি কেনো হয়? উত্তর : আমাদের শরীরের ভেতরে অর্থাৎ টনসিল, নাসিকা, গলা এই বিভিন্ন জায়গাতে অসংখ্য ভাইরাস এবং ব্যাকটেরিয়া থাকে। যখনই তাপমাত্রা কমে যায় তখন এগুলো বিকশিত হয়। এরপর ইনফেকশন তৈরি করে। সে কারণেই টনসিলাইটিসসহ নাক, কান, গলার এই সমস্যাগুলো হয়। প্রশ্ন : টনসিলাইটিসের লক্ষণগুলো কি কি? উত্তর : গলা ব্যাথা করে। রোগীর কাছে মনে হয় মাছের কাটা আটকে আছে। গলায় খোঁচা লাগে। এছাড়া বাইরে গ্রন্থি ফুলে যায়। হঠাৎ করে হলে শরীরের তাপমাত্রা বাড়ে। ব্যাথাও বৃদ্ধি পায়। জ্বরও হতে পারে। প্রশ্ন : টনসিলের ক্ষেত্রে চিকিৎসা কি? উত্তর : আমরা এসময় এন্টিবায়টিক দিই। রোগী ও পাঠকদের জন্য বলবো- যদি এমন লক্ষণ দেখা দেয় তাহলে সরাসরি এক চামচ লবন, এক গ্লাস কুসুম গরম পানিতে দিয়ে গলাটা ভালো করে রিংঝিং করতে হবে। সকালে, দুপুরে এবং রাতে ১৫ মিনিট ধরে করতে হবে। যদি ৩ থেকে ৫ দিনের মধ্যে না কমে তখন চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। এছাড়া এন্টিবায়টিক খেলে এগুলো কমে যায়। তবে এটি যদি বারবার হয় অর্থাৎ বছরে তিন বারের বেশি হয় তবে চিন্তার বিষয়। আসলে এর একটি মাপকাঠি আছে। অর্থাৎ দুই বছরে যদি তিন তিন ছয় বার হয় তাহলে আমরা অপারেশনে যাই। কিন্তু বাচ্চাদের ক্ষেত্রে অনেক সময় আমরা একটা সিঙ্গেল অ্যাটাকেও অপরেশন অ্যাডভাইজ করতে পারি। যদি আমরা দেখি এটা এতো বড় যে বাচ্চার খাওয়ার সমস্যা হচ্ছে, নিশ্বাসে সমস্যা হচ্ছে এবং এটা থেকে কানের বিভিন্ন  সমস্যা হচ্ছে তখন এই সিদ্ধান্ত নিই। প্রশ্ন : শীতের এই সময়টাতে আবহাওয়া শুষ্ক হয়ে যায়।  অনেকেই বলে থাকেন এ সময় নাক দিয়ে রক্ত পড়ে। এটি কেন হয়ে থাকে? উত্তর : আমরা যদি বিশ বছর বয়স পর্যন্ত হিসাব করি সারা দুনিয়ার প্রত্যেকটি ব্যাক্তিরই নাক দিয়ে একবার হলেও রক্ত যাবে। নাক দিয়ে রক্ত যাওয়ার মূল কারণ হচ্ছে ইডিওপ্যাথিক। ৯০% ক্ষেত্রে এটির কোনো কারণ নেই। তবে শীতকালে যে কারণে এটি বাড়ে তা হচ্ছে আমাদের নাকের মাঝখানে যে পর্দাটি থাকে, এটি হয় ডান দিকে অথবা বাম দিকে একটু বাকা থাকে। যদি বাম দিকে বাকা থাকে তাহলে সেদিক থেকে বাতাস জোরে যাবে। সম পরিমান যদি দুই দিক থেকে যায় তখন যেদিকের ছিদ্রটি ছোট সেই দিকে চাপ বেশি পায়। শীতকালে শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে নাকের ঝিল্লিও শুকিয়ে যায়। এ কারণে রক্তপাত হয়।     প্রশ্ন : শীতের অন্য একটি সমস্যা হচ্ছে অনেকেই বলেন গলা বসে গেছে। এটি অনেকের ক্ষেত্রে স্থায়ী হয়। এটি কেনো হয়? উত্তর : এটি সাধারণত ভাইরাসের কারণে হয়। যখনই ঠাণ্ডা লাগে, যখন আবহাওয়ার তারতম্য হয়, ঠাণ্ডা বাতাস যখন গলার মধ্যে ঢোকে তখন ভাইরাসগুলো ছড়িয়ে পড়ে। যেখান থেকে আমরা কথা বলি সেখানে ভোকাল কড আক্রান্ত হয়। অনেক সময় অ্যালার্জি বেড়ে যায়। সে কারণেও ভোকাল কড আক্রান্ত হতে পারে। নাকের নাসারন্ধ্র থেকে শুরু করে একেবারে লাঞ্চ পর্যন্ত একই ঝিল্লি। এর যেকোন জায়গায় অ্যালার্জির প্রকোপ হলে এটি সবজায়গায় ছড়িয়ে পড়ে। সেখান থেকেও হতে পারে। প্রশ্ন : যাদের সাইনোসাইটিসের সমস্যা আছে তাদের ক্ষেত্রে দেখা যায় এ সময়টাতে বেশি বেড়ে যায়। তাদের ক্ষেত্রে আপনি কি বলবেন? উত্তর : যাদের টনিক সাইনোসাইটিস আছে তাদের ক্ষেত্রে ঠাণ্ডা, ধুলাবালি এবং অ্যালার্জি প্রকোপ বেড়ে গেলে ইডিমা হয়। নাকের যে ঝিল্লি, সাইনোসাইটিসেরও একই ঝিল্লি। এটি আলাদা কিছু না। তাই আগে থেকে যদি প্রস্তুতি নেওয়া হয়, এন্টাজল জাতীয় ড্রপ নেয় তাহলে রোগী ভালো থাকতে পারবেন। আর যদি সাইনোসাইটিস হয়েই যায় সে ক্ষেত্রে বাষ্প টানতে হবে। ক্ষেত্র বিশেষে এন্টিবায়টিক খাবে। আর প্যারাসিট্যামল জাতীয় ওষধ দিনে তিনবার খেলে ব্যাথাটা একটু কম থাকবে।   প্রশ্ন : শীতে অ্যালার্জির প্রকোপ, অ্যাজমার প্রকোপ বৃদ্ধি পায়। এক্ষেত্রে আপনার কি পরমর্শ? উত্তর : শীতে দুটি কারণে অ্যালার্জি এবং অ্যাজমার প্রকোপ বেড়ে যায়। একটি হচ্ছে ঠাণ্ডা। অনেকের কোল্ড অ্যালার্জি থাকে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে ঠান্ডা অ্যালার্জিটাকে জাগিয়ে দেয়। আর একটি হচ্ছে- শীত কালে ধুলাবলির পরিমাণ অনেক বেড়ে যায়। গরমের সময় থেকে দশগুণ বৃদ্ধি পায়। এই অ্যালার্জি কিন্তু নির্মূল হয় না। এটি নিয়ন্ত্রেণে রাখা যায়। যারা অ্যালার্জিতে ভোগেন তাদেরকে আমাদের প্রথমেই বলা উচিৎ আপনার অসুখ টা কি ধরণের এবং আপনি কি করতে পারেন! আসলে অ্যালার্জির কোনো প্রতিকার নেই। অ্যালার্জি কন্ট্রোল করা যাবে। এটাকে নিয়ন্ত্রণরে মধ্যে রাখা যাবে। প্রথম কথা হচ্ছে তাকে চিহ্নিত করতে হবে যে- কি কারণে তার অ্যালার্জিটা হচ্ছে। কোন খাবার থেকে হচ্ছে, নাকি ধূলাবালি থেকে হচ্ছে, নাকি ঠাণ্ডা থেকে হচ্ছে। এটি খুঁজে পাওয়ার পর সেই হিসেবে পদক্ষেপ নিতে হবে। যদি ধুলাবলি দিয়ে হয় তবে ধুলাবলি পরিহার করতে হবে। যদি ঠান্ডা থেকে হয় তবে ঠান্ডা যাতে না লাগে সে দিকে লক্ষ রাখতে হবে। ঠাণ্ডা যাতে না লাগে সেই বিষয়টিতে মানুষ আসলে পরিষ্কার না। যেমন বাতাস থেকে ঠাণ্ডা লাগে, সেরকম কিন্তু আমাদের খাবার থেকেও ঠাণ্ডা লাগে। আর একটা হচ্ছে আমরা যখন বাইরে থেকে ঘরে আসি আর সঙ্গে সঙ্গে এসি চালিয়ে দিই। এই যে তারতম্য ঘটে এ কারণেও ঠাণ্ডা লাগতে পারে। বাইরে থেকে যদি সরাসরি গোসলে চলে যাই তাহলেও ঠাণ্ডা লাগতে হবে। এ জন্য আমার পরমর্শ হচ্ছে সব সময় আপনাকে গরম থাকতে হবে। গরম খাবার, পানি, গরম থাকতে হবে গোসলের ক্ষেত্রে, ঘরে পরিবেশ যাতে ডাম্প না হয় সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে। আরও একটা বিষয় হচ্ছে যদি অ্যালার্জিটা কাপড় থেকে হয় তবে সুতি জাতিয় কাপড় পড়তে হবে।   অধ্যাপক ডা. মনিলাল আইচ লিটু বিভাগীয় প্রধান নাক, কান, গলা বিভাগ স্যার সলিমুল্লাহ্ মেডিকেল কলেজ ও মিটফোর্ড হাসপাতাল শ্রুতিলেখন : সোহাগ আশরাফ। / এআর /      

দিনে তিন কাপ কফি লিভারের রোগের ঝুঁকি কমায়

এক কাপ গরম কফি হলে শীতের সকালটাই ফুরফুরে হয়ে ওঠে। দুপুরটাতেও ক্লান্তি আসে না। আবার সন্ধ্যেটাও জমে ওঠে। তবে অনেকেই স্বাস্থ্যের কথা চিন্তা করে, কফির কাপে চুমুক দেন না। শীতের সকালটাও জমে ওঠে না। তবে গবেষকরা বলছেন উল্টো কথা। দিনে পরিমিত কফি খেলে রোগ-বালাইতো হয়-ই না বরং বেশ কয়েটি জটিল রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। গবেষণায় দেখা গেছে,  দিনে ৩-৪ কাপ কফি খেলে লিভারের রোগসহ বেশ কয়েকটি জটিল রোগ থেকে মুক্তি পেতে পারেন একজন কফি পানকারী। যুক্তরাষ্ট্রের সাউদাম্পটন বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক ২০০’র বেশি গবেষণা প্রতিবেদনের উপর জরিপ চালিয়ে এমনই তথ্য দিয়েছেন। গবেষণায় দেখা গেছে, কফি পানে লিভার রোগের আশঙ্কা কমে । শুধু তাই নয়, এটি লিভার ক্যান্সার প্রতিরোধ করতে পারে। এছাড়া পরিমিত কফি পান হৃদযন্ত্রের নানা রোগ থেকে মুক্তি দিতে পারে বলেও মত দিয়েছেন তারা। তবে কফিই যে কেবল এ রোগ প্রতিরোধে একমাত্র ভূমিকা পালন করে, এ বিষয়ে কোন প্রমাণ হাজির করতে পারেনি তারা। তবে অতিরিক্ত কফি পান গর্ভবতী নারীদের উপর ক্ষতিকর প্রভাব রাখে বলেও মত দেন তারা। এছাড়া রোগ প্রতিরোধ আর স্বাস্থ্য সচেতনতায় কফি পান শুরু না করারও পরামর্শ দেন তারা। গবেষণা প্রতিবেদনের ২০০টিই ছিল পর্যবেক্ষণমূলক গবেষণা। এতে দেখা যায়, যারা কফি পান করেন তাদের হৃদযন্ত্র যারা কফি পান করে না তাদের হৃদযন্ত্রের চেয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ।  তবে কফি পান সবচেয়ে বেশি ঝুঁকি কমায় লিভার রোগের। কোনো গর্ভবতী নারী দিনে ২০০ মিলিগ্রাম এর বেশি ক্যাফেইন পান করলে, গর্ভপাত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই গর্ভবতী মহিলাদের কফি পান না করার পরামর্শ দেন তারা। সূত্র: বিবিসি / এমজে /  এআর          

মানসিক রোগাক্রান্ত হওয়ার ৯ লক্ষণ

অনেকেই ‘মানসিক চাপ’কে রোগ-বালাই মনে করে থাকেন। যখন বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হন, তখনই তাঁরা মনে করেন যে, তাঁরা মানসিক রোগে আক্রান্ত। এই ধারণাকে এবার মিথ্যা প্রমাণ করেছেন বিজ্ঞানীরা। মানসিক রোগে আক্রান্ত হওয়ার লক্ষণগুলো প্রাথমিকভাবে ধরা পড়লে সহজেই আমরা মুক্তি পেতে পারি এ ভয়াবহ রোগ থেকে। আসুন মানসিক রোগে আক্রান্ত হওয়ার প্রাথমিক ৯টি লক্ষণ জেনে নিই-১.    ভুলে যাওয়ার প্রবণতা: স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের মতে, মানসিক রোগ মস্তিস্কের উপর মারাত্মক প্রভাব ফেলে। এটি মস্তিস্কে গ্লুকোরটিকইডসের জন্ম দেয়। এতে ভুলে যাওয়ার প্রবণতা বেড়ে যায়। গ্লুকোরটিকইডস কেবল নতুন স্মৃতি ধরে রাখে। জমা থাকা তথ্য ক্রমান্বয়ে ভুলিয়ে দেয়। যদি কারও ভুলে যাওয়ার প্রবণতা বেড়ে যায়, দেরি না করে আজই চিকিৎসকের পরার্মশ নিন।২.    ওজনের হ্রাস-বৃদ্ধি: মানসিক রোগে আক্রান্ত হতে যাচ্ছেন এমন ব্যক্তিদের অস্বাভাবিকভাবে ওজনের হ্রাস-বৃদ্ধি ঘটতে পারে । তবে সাধারণত মানসিক চাপে আক্রান্ত হলে, ওজন ক্রমাগত কমতে থাকে। মানসিক চাপ হরমোনের উপর মারাত্মক প্রভাব ফেলে। এটি হরমোনে রাসায়নিক উপাদান এডারনেলাইন ও কর্টিসলের পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়। যা হরমোনকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করে।৩.    খাবার গ্রহণে অস্বাভাবিকতা:  মানষিক রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির খাবারের প্রতি অনীহা তৈরি হতে পারে। আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি খাবার গ্রহণ করতে পারেন। এতে স্থূল হয়ে পড়েন।৪.    পরিপাকতন্ত্রে গোলযোগ: ভারতের বিখ্যাত ডাক্তার কেনেথ কোচ বলেন, অতিরিক্ত মানসিক চাপ আমাদের পরিপাকতন্ত্রের উপর মারাত্মক প্রভাব ফেলে। এটি লিভারকে সংক্রমিত করতে পারে। শুধু তাই নয়, এটি পাকস্থলিতে এসিডের পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়। ফলে বদহজম দেখা দেয়। এতে ডায়রিয়া ও আমাশয়ে আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা বেড়ে যায়।৫. চুল পড়া: মানষিক রোগে আক্রান্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চুল পড়া শুরু হয়ে যায়। এসময় চুলের বৃদ্ধি কমে যায়। চুলের রং ফ্যাকাশে হতে থাকে। এর কারণ হিসেবে গবেষকরা বলছে, দেহে হরমোনের উপর প্রভাব পড়ার কারণে এ সমস্যা দেখা দেয়।৬.    চামড়ার সমস্যা: মানষিক রোগে আক্রান্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চামড়ায় বিভিন্ন ধরণের সমস্যা দেখা দিতে পারে। ত্বকের লাবণ্য কমে যাবে, ত্বক শুষ্ক হয়ে যাবে। এছাড়া ত্বকে দাদ, খুজলি ও পাঁচড়া দেখা দিতে পারে।  অন্যদিকে চেজমা নামক একটি রোগে আক্রান্ত হওয়ারও আশঙ্কা থাকে। এর কারণ হিসেবে গবেষকরা বলছে মানসিক চাপ দেহে রাসায়নিক উপাদানের চলাচলের উপর বাধা আরোপ করে।৭.     মাথা ব্যথা: প্রাপ্ত বয়স্কদের মাথা-ব্যথার অন্যতম কারণ মানষিক রোগ। তবে এটাকে অনেকেই টেনশান, স্ট্রেস ও মাথা ব্যথা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। এ রোগে আক্রান্ত হলে মানুষের মাথার খুলি ও ঘাড়ের পেশিগুলো সংকুচিত হতে থাকে, তখন মাথা ব্যথা অনুভূত হয়। তবে মাথা ব্যথার অন্যতম কারণ ঘুম না হওয়া, আলোর সংবেদনশীলতাও দায়ী।৮.    ঘন ঘন অসুস্থতা: অমানসিক রোগে আক্রান্ত ব্যাক্তি ঘন ঘন অসুস্থ হয়ে পড়েন। এর কারণ হিসেবে গবেষকরা বলছে, এটি মানুষের ইম্যুনো সিস্টেমে প্রভাব ফেলে। এটি দেহের প্রোটিনের সঙ্গে ইম্যোনো কোষের সংযোগে বাধা দেয়। এতে মানুষের রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা বেড়ে যায় । বিশেষ করে ঠান্ডা ও ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে দেহকে রক্ষা করতে পারে না।৯.    হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বেড়ে যাওয়া: মানষিক রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বেড়ে যায়। এতে খুব দ্রুত শ্বসন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয় আক্রান্ত ব্যক্তিকে। রোগীর পেশিগুলো সংকুচিত হয়ে যায়। একইসঙ্গে রক্তচাপও বেড়ে যায়।তাই মানসিক রোগ থেকে মুক্তি পেতে উপরের লক্ষণগুলো দেখামাত্রই ডাক্তারের পরামর্শ নিন। সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়াএমজে/ এআর

ভিটামিন ডি এর অভার দূর করবেন যেভাবে

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং শারীরিক অবস্থার উন্নতি ঘটাতে ভিটামিন ডি খুবই উপকারি। বর্তমানে দেশের মোট জনসংখ্যার একটা বড় অংশই ভিটামিন ডি-এর ঘটতিতে ভুগছে। সম্প্রতি হওয়া বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে শরীরে ভিটামিন ডি-এর মাত্রা কমে গেলে বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা দেখা দেয় এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতf কমে যায়। কেননা ভিটামিন ডি-এর সঙ্গে হাড়ের সরাসরি যোগ রয়েছে। তাই ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি হওয়া মানে ধীরে ধীরে হাড় দুর্বল হয়ে পরা। আর এমনটা হওয়া মানেই আর্থারাইটিসের মতো রোগ মাথা চাড়া দিয়ে ওঠা। আরেকটি বিষয়ও মাথায় রাখা জরুরি যে ভিটামিন ডি হাড়কে শক্তোপোক্ত করার পশাপাশি হার্ট, ব্রেন এবং শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমাতাও বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। এখন প্রশ্ন হল শরীরে ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি কিভাবে পূরন করব? এক্ষেত্রে কতগুলি সহজ পদ্ধিতি অবলম্বন করার মাধ্যমে এ সমস্যা সহজেই দূর করতে পারেন।  গায়ে রোদ লাগান: আজকাল আমাদের জীবনযাত্রা এত মাত্রায় এয়ার কন্ডিশান কেন্দ্রিক হয়ে উঠেছে যে শরীরে রোদ লাগে না বললেই চলে। ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি হওয়ার পিছনে মূল কারণ হলো সূর্যের আলোর অভাব। আসলে সূর্যালোক হল এই ভিটামিন ডি-এর সবথেকে বড় উৎস। তাই শরীরের  ভেতরে ভিটামিন ডি-এর চাহিদা পূরণ করতে সপ্তাহে দুবার, সকাল বেলা কমপক্ষে ৩০ মিনিট গায়ে রোদ লাগাতে হবে।   কর্ডলিভার অয়েল: কর্ড মাছের লিভার থেকে সংগ্রহ করা এই তেল সারা গায়ে লাগিয়ে যদি মাসাজ করতে পারেন, তাহলে ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি অনেকাংশ কমে যায়। কারণ এই তেলটির ভেতরে প্রচুর মাত্রায় ভিটামিন ডি মজুত থাকে। হাড়ের স্বাস্থ্যের উন্নতি এবং জযেন্ট পেন কমাতেও এই তেল বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। মাশরুম: ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি মেটাতে এই প্রকৃতিক উপাদানটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। তাই হাড়ের পাশপাশি হার্ট এবং ব্রেনকে যদি চাঙ্গা রাখতে চান, তাহলে সপ্তাহে ২-৩ দিন মাশরুম খেতে হবে। প্রসঙ্গত, ভিটামিন বি-এর চাহিদা পূরণেও মাশরুমের কোনও বিকল্প হয় না বললেই চলে।   সামদ্রিক মাছ: সামদ্রিক মাছে যে পরিমাণে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড থাকে, সেই পরিমাণে ভিটামিন ডি-ও থাকে। তাই সামুদ্রিক মাছ খাওয়ার মাধ্যমে ভিটামিন ডি এর ঘাটতি পূরণ করতে পারেন।    সূর্যমুখী ফুলের বীজ: এই প্রাকৃতিক উপাদানটিতি প্রচুর মাত্রায় মজুত রয়েছে ভিটামিন ডি এবং উপকারি প্রোটিন। তাই তো নিয়মিত যদি সূর্যমুখী ফুলের বীজ একটু ভেজে নিয়ে খেতে পারেন, তাহলে ভিটামিন ডি-এর যোগান নিয়ে আর কোনও চিন্তাই থাকবে না। দুধ খাওয়া জরুরি: মাশরুমের মত দুধেও প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ডি রয়েছে। তাই শরীরের ভিটামিন ডি-এর যোগান বৃদ্ধির করার জন্য দুধ বা দুগ্ধজাত খাবার খাওয়া খুবই জরুরি।  ডিম: শরীরে ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি মেটাতে চাইলে রোজের ডায়েটে একটা করে ডিম থাকা খুবই জরুরি। নিউট্রিশনিস্টদের মতে ডিমের ভেতরে প্রোটিন এবং উপকারি কোলেস্টেরল পাশাপাশি ভিটামিন ডি-ও রয়েছে। তাই শরীরকে কর্মক্ষম রাখতে এবং হাড়ের নানাবিধ রোগ দূরে করতে রোজ একটা বা দুটো ডিম খাওয়া উচিত। সূত্র: বোল্ড স্কাই   এম/এসএইচ

কুকুরের সান্নিধ্য দূরে রাখে হৃদরোগ

মানুষ সামাজিক জীব হিসেবে চায় সঙ্গী বা ভালোবাসা। আর এ ভালোবাসা বদলে দিতে পারে মানুষের জীবন। রোগমুক্ত করতে পারে তার শরীর। সঙ্গীর ভালবাসাই জীবন বদলে দেওয়ার সেই প্রমাণে এবার যোগ হলো সারমেয় (স্ত্রী কুকুর)। বিজ্ঞানীরা বলছেন, সঙ্গী একটা কুকুরও বদলে দিতে পারে মানুষের জীবন। শুধু তাই নয়, বিপদে আপদে তার থেকে বড় বন্ধুই বা কে আছে? সম্প্রতি গবেষণায় দেখা গেছে, স্ত্রী কুকুররা শুধুমাত্র ভালো বন্ধুই  নয়, সঙ্গী সারমেয় বাড়িয়ে দেয় মানুষের আয়ু। কুকুরের সান্নিধ্যে দূরে থাকে হৃদরোগের মতো বহু জটিল রোগ। ‘সায়েন্টিফিক’ নামক জার্নালে প্রকাশিত ওই গবেষণাপত্রে বলা হয়েছে, কুকুরকে সঙ্গী করলে কার্ডিওভ্যাসকুলার সমস্যা আমাদের শরীর থেকে একশ’হাত দূরে থাকে। কুকুরের সান্নিধ্য বিশেষ করে উপকৃত করে অবিবাহিত ব্যক্তিদের। একাকিত্বে খুব ভালো সঙ্গী হয়ে উঠতে পারে এরা। হৃদরোগের ঝুকি কমিয়ে মৃত্যুর ঝুকি অনেকটাই কমাতে সাহায্য করে তারা। সুইডেনের ৪০ থেকে ৮০ বছর বয়সী বেশ কিছু মানুষের উপর একটি সমীক্ষা করেন গবেষকরা। সমীক্ষায় উঠে এসেছে, যারা কুকুরকে সঙ্গী করেছিলেন তাদের তুলনায় যাঁদের সঙ্গে কুকুর ছিল না হৃদরোগে তাদের মৃত্যুর হার ৩৩ শতাংশ বেড়ে গিয়েছে। সারমেয় সঙ্গে হৃদরোগের প্রভাব কমেছে ১১ শতাংশ। তবে, সারমেয়রা ঠিক কীভাবে হৃদরোগ প্রতিরোধ করে তা পরিষ্কার করে বলা হয়নি রিপোর্টে। কিন্তু বিষয়টি সমীক্ষায় প্রমাণিত। তাই সুস্থ শরীরে দীর্ঘদিন বাঁচতে অবশ্যই সারমেয়দের সঙ্গী করুন। সূত্র-জি নিউজ। আরকে//এআর

ক্যান্সার নিরাময়ে টিকা আবিষ্কার

মারণ ব্যাধি ক্যান্সার নির্মূলে কষ্টকর কেমোথেরাপি কিংবা রেডিয়েশন পদ্ধতির ওপর নির্ভরশীলতা আর নয়। এবার ঘাতক এ ব্যাধি নির্মূল করবে একটিমাত্র টিকা। আর এ টিকা আবিস্কারে যুগান্তকারী সাফল্য দেখিয়েছে কিউবার একদল বিজ্ঞানী। দেশটির বিজ্ঞানীরা ক্যান্সারের মতো মারণ ব্যাধির ওষুধ আবিষ্কার করতে দীর্ঘদিন ধরে নানা পরীক্ষা করছেন। কিন্তু এই রোগের হাত থেকে মুক্তি মেলার কোনো সহজ পদ্ধতি  আবিষ্কার করতে রীতিমত হিমশিম খেতে হয়েছে তাদের। দেরিতে হলেও সেই কাজটিই এবার করে দেখাল কিউবার কয়েকজন বিজ্ঞানীর একটি দল। এরইমধ্যে তাদের আবিষ্কৃত ওই টিকা চার হাজার মানুষের ওপর প্রয়োগ করা হয়েছে এবং ক্যান্সারের টিকা নেওয়া সে মানুষগুলো ক্যান্সারকে হার মানিয়ে আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এসেছেন, এমনই দাবি বিজ্ঞানীদের। মূলত ব্রেস্ট ক্যান্সার, ইউটেরাস ক্যান্সার, প্রস্টেট ক্যান্সার এই টিকার প্রয়োগে দ্রুত সেরে উঠবে। ক্যান্সারের একেবারে প্রথম ধাপে এই টিকা বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। তবে অনেকের মনেই একটা প্রশ্ন উঠছে তা হল এই টিকার দাম কত হবে? কিন্তু বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই টিকা মধ্যবিত্তদের সাধ্যের মধ্যেই। জানা গেছে, কিউবার আবিষ্কৃত হওয়ায় এই টিকা সেদেশের মানুষদের বিনামূল্যে দেওয়া হচ্ছে। কিউবার মেডিক্যাল সার্ভিসেস-এ আপনি নিজেও যোগাযোগ করতে পারবেন এর জন্য। প্যারাগুয়ে, কলোম্বিয়াতেও এই টিকা পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া, ন্যাশানাল সেন্টার ফর হেলথ থেকেও এই ভ্যাকসিন পাওয়া যাবে। সেক্ষেত্রে www.inor.sld.cu  ওয়েবসাইটে যোগাযোগ করা যেতে পারে।  ফোন নম্বর +৫৩ ৭৩৩-৭৪৭৩/৭৪ সূত্র-জিনিউজ আরকে// এআর  

শরীরে ক্যানসার ছড়িয়ে পড়া রুখবে যে প্রোটিন

সাম্প্রতিক এক গবেষণায় এক ধরনের প্রোটিন আবিষ্কৃত হয়েছে যা সারা শরীরে ক্যানসার ছড়িয়ে পড়া প্রতিরোধ করতে সক্ষম। ওন্টারিওর গুয়েলফ ইউনিভার্সিটির গবেষকরা এ গবেষণাটি করেছেন। গবেষকগণ জানান, ক্যাধেরিন-২২ নামের ওই প্রোটিন শরীরে ক্যানসার ছড়িয়ে পড়া প্রতিরোধ করে। বিশেষত স্তন ও মস্তিষ্কের ক্যানসার সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ার হার কমাতে সাহায্য করে এটি। গবেষণার সঙ্গে জড়িত অধ্যাপক জিম উনাইক এ বিষয়ে বলেন, ক্যাধেরিন-২২ খুবই শক্তিশালী প্রোটিন। এ প্রোটিন রোগীর দেহে প্রথম ধাপে থাকা ক্যানসার গোটা শরীরে ছড়িয়ে পড়া প্রতিহত করে। ফলে রোগী তাড়াতাড়ি ক্যানসার থেকে মুক্তি পান ও সুস্থ হতে পারেন। গবেষকরা আরও জানান, খুব কম অক্সিজেন রয়েছে এমন পরিবেশে ক্যানসার কোষের ওপর পরীক্ষা-নীরিক্ষা চালিয়েছেন তারা। এতে দেখা গেছে, টিউমারের মধ্যে থেকে অক্সিজেনের পরিমান কমিয়ে দিলেই তাদের শক্তি ক্রমশ কমতে থাকে। ক্যানসার কোষ থেকে প্রোটিন বের করে দেওয়া সম্ভব বলেও মত দিয়েছেন তারা।   সূত্র: জিনিউজ / এমআর / এআর

অন্তঃসত্ত্বাদের ডায়াবেটিসের বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে

আজ ‘বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস ২০১৭’। দিবসটি উপলক্ষ্যে একুশে টেলিভিশন অনলাইন মুখোমুখী হয় সংশ্লিষ্ট তিনজন বিশেষজ্ঞের। বিশেষজ্ঞের মধ্যে ছিলেন বারডেম জেনারের হাসপাতালের এন্ডোক্রিনলজি বিভাগের প্রধান প্রফেসর মো. ফারুক পাঠান, ন্যাশনাল কাউন্সিল বাংলাদেশ ডায়াবেটিস অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য অধ্যাপক এমিরেটস হাজিরা মাহতাব ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের এন্ডোক্রিনলজি বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. ফরিদ উদ্দিন। কথা হয় তাদের সঙ্গে ডায়াবেটিসে আক্রান্তের কারণ, লক্ষণ, দেশ ও দেশের বাইরে এ রোগের ব্যপকতা, নিরাময়ের উপয় ও সতর্ক থাকার বিভিন্ন দিক নিয়ে। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন একুশে টেলিভিশন অনলাইন প্রতিবেদক রিজাউল করিম । একুশে টেলিভিশন অনলাইন: এবার ‘বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস ২০১৭’ র প্রতিপাদ্য ‘নারী এবং ডায়াবেটিস’। প্রতিপাদ্যে নারীদেরকে কেন এমন বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হলো? হাজিরা মাহতাব: নারীরা সাধারণত উন্নত-অনুন্নত দেশে অবহেলিত। তারা কিন্তু কোনো অংশে পুরুষের তুলনায় কম ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হয় না। অনেক ক্ষেত্রে একটু বেশিই হয়। অনেক ক্ষেত্রে সামাজিকভাবে অবহেলিত হয়। বিয়ে হয় না, হলে আবার স্বামী নিতে চায় না। সন্তান হলে অনেকের গর্ভপাত হয়। এমনকি বিকলঙ্গ বাঁচ্চাও হতে পারে।সেক্ষেত্রে সব মহিলার অধিকার যে, তারা সুচিকিৎসা পাবে এবং তাদের চিকিৎসাও আয়ত্বে থাকবে, এমনকি এ ব্যাপারে ধারণা পাওয়াও সহজতর হবে। অনেক নারী-ই এখনও জানেনই না, ডায়াবেটিস কী? এ ক্ষেত্রে এ্যাকসেস টু কেয়ার বিষয়টা নিশ্চিত করতে হবে। নারীরা ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হচ্ছে অথচ তাদের অনেকেই ডায়াবেটিস সম্পর্কে অজ্ঞ। বিষয়টি মাথায় রেখেই ‘নারী এবং ডায়াবেটিস’প্রতিপাদ্য রাখা হয়েছে। একুশে টেলিভিশন অনলাইন: বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবসের শুরুর ইতিহাসটা যদি জানতে চাই, এটা কত আগে থেকে পালন হয়ে আসছে এবং এটার পেছনের বাংলাদেশের অবদান কতটুকু? ফরিদ উদ্দিন: ওয়ার্ল্ড ডায়াবেটিস ফেডারেশন প্রথম প্রস্তাব করে যে, ডায়াবেটিস সচেতনতায় একটা দিবস পালন করা যায়। তাদের প্রস্তাবে ডব্লিউএইচও যোগ দেয়। তারপর ১৯৯১ সালের ১৪ নভেম্বর বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস হিসেবে সারা দুনিয়ায় (যেখানে এসোসিয়েশন আছে) পালন হয়ে আসছে। যেখানে এসোসিয়েশন নাই, সেখানে ব্যক্তিগত বা সামাজিকভাবে পালন হয়ে আসছে। পালনের বিষয়ে গুরুত্ব দিয়েই জাতিসংঘ্ এটাকে বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে। একমাত্র নন কমিউনিকেশন ডিজিস হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে এই ডায়াবেটিসকে। আর এ স্বীকৃতি পেতে যত ধরণের প্রস্তাব দেওয়া, প্রস্তাব পাশ করা, সব ধরণের প্রচেষ্টা-ই বাংলাদেশের। এটাই আমাদের গর্ব। ২০০৬ সালে রেজুলেশনের মাধ্যমে এটা পাশ হয় এবং ২০০৭ থেকে এটা পালন হয়ে আসছে। আজকে সারা বিশ্বে এটা পালন হচ্ছে। বিশেষ করে জাতিসংঘের সদস্য দেশগুলোতে এটা পালন বাধ্যতামূলক হয়েছে। একুশে টেলিভিশন অনলাইন: ডায়াবেটিসের প্রতিরোধটা কীভাবে হতে পারে? হাজিরা মাহতাব: এটার প্রথম প্রতিরোধ সচেতনতা। এটা কঠিন কিছু না। আমাদের বিশেষজ্ঞসহ সবাইকে এর সচেতনতায় এগিয়ে আসতে হবে।প্রত্যেকটা মহিলা যখন প্রেগনেন্ট হয় তখন তাদের ব্লাড সুগার করতে হবে। বিশেষ করে যাদের বংশে ডায়াবেটিস থাকে তাদের এ ব্যাপারে গুরুত্ব দিতে হবে। নারীদের গর্ভবতী হলে প্রথম চেকাপটাই ডায়াবেটিসটা করা উচিত। তবে বিশ থেকে চব্বিশ সপ্তাহের মধ্যে করা অতি জরুরি। একুশে টেলিভিশন অনলাইন: কোনো নারী গর্ভবতী অবস্থায় ডায়াবেটিস ধরা পড়লে তার পরবর্তী করণীয় কী হতে পারে? হাজিরা মাহতাব: খাদ্যে কিছু নিয়ম মানতে হবে। নিয়মিত মুভমেন্টের কিছু বিষয় আছে। এরপরও যদি নিয়ন্ত্রণে না থাকে তো গর্ভবতী হওয়ার পর যতবারই টেস্ট করে ততবারই ডায়াবেটিস টেস্ট করা যেতে পারে। একুশে টেলিভিশন অনলাইন: ডায়াবেটিস থেকে বাঁচতে খাদ্য তালিকায় কী থাকা উচিত? ফারুক পাঠান: ডায়াবেটিস সতর্কতায় খাদ্য তালিকায় ভারসাম্য রাখতে হবে। আমার উচ্চতা কত? ওজন কত? কী কাজ করি? বয়স কত? তার ভীত্তিতে ভারসাম্য খাদ্য খেতে হবে। আমাদের দেশের মানুষের খাদ্যাভ্যাসের ভিতরে ৯০ শতাংশ কার্বোহাড্রেড। আর ভারসাম্য খাবারের ৫০ শতাংশ-ই কার্বোহাইড্রেড। এটা কমাতে পারলেই আমার খাবার প্রকৃত ভারসাম্য আসলো। ডায়াবেটিস এর চিন্তায় ডায়েট করতে হবে, এমন কোনো শব্দ নাই। প্রতিদিন তিন ঘন্টা অন্তর খাবার খান। নিয়মিত ও পরীমিত খান সেটাই ব্যালেন্স বা ভারসাম্য। প্রতিদিন খাওয়ার ১০ মিনিট পর হাটতে হবে। একুশে টেলিভিশন অনলাইন: যাদের ডায়াবেটিস হয়নি, তবে ভয়-ডায়াবেটিস হলো কী না, তাদের বিষয়ে কী বলবেন? ফরিদ উদ্দিন: প্রথমতো তাদের সুগার টেস্ট করাতে হবে। টেস্ট অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নিতে হবে। তবে যারা অপেক্ষাকৃত ধনী পরিবারের। যাদের পিতা-মাতার ডায়াবেটিস আছে।তাদের অনেকেই আমাদের কাছে আসে। তাদের দেখা যায় ডায়াবেটিস হয়নি, কিন্তু ডায়াবেটিক হওয়ার প্রারম্ভিক পর্যায়ে। তাদের অনেকেই হয়তো ৫ বছর পর ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হবে। তো আমাদের পরামর্শ হলো এ হাইরিক্স গ্রুপ যারা আছে, তাদের ব্লাড সুগার টেস্ট করা উচিত। ডায়াবেটিস হলে তার চিকিৎসা নিবে। না হলে বা প্রি ডায়াবেটিসে থাকলে বিনা পয়সার ওষুধ নিতে হবে। আর তা হলো ডায়েট ঠিক করা আর হেল্দি লাইফ চালিয়ে যাওয়া। একুশে টেলিভিশন অনলাইন: বলা হয়ে থাকে ডায়াবেটিসে নারী মৃত্যুর হার বেশি। কেন তাদের মৃত্যুর ঝুঁকি বেশি? হাজিরা মাহতাব: প্রথম কারণ হচ্ছে ডিজিস।অর্থাৎ সচেতন থাকে না। গর্ভবতী অবস্থায় অসচেতনতার কারণে ডায়াবেটিসটা মারাত্মক পর্যায়ে যায়। তখন তা মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়। একুশে টেলিভিশন অনলাইন: বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস উপলক্ষ্যে এবার বাংলাদেশে কর্মসূচি কী? ফারুক পাঠান: বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ ডায়াবেটিস সমিতি এ বিষয়কে মাথায় রেখে আমরা প্রি কনসেপশন কেয়ার কর্মসূচী হাতে নিয়েছি। যেটার মাধ্যমে আমরা ধর্মীয় নেতা-ঈমাম ও কাজীদের মাধ্যমে সেবা দিব। কাজীদের কাছে লিফলেট থাকবে। যেখানে লেখা গর্ভবতী হওয়ার আগেই ডায়াবেটিস পরীক্ষা ও সে অনুযায়ী চিকিৎসা নেওয়াসহ যাবতীয় পরামর্শ থাকবে। এছাড়া সংশ্লিষ্ট সরকারি চিকিৎসা কেন্দ্রেও এ ব্যাপারে বিনামূল্যে পরামর্শ দেওয়ারও পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। একুশে টেলিভিশন অনলাইন: ধন্যবাদ আপনাদেরকে। আাপনাদের মূল্যবান সময় দেওয়ার জন্য। ফরিদ উদ্দিন: অনলাইনসহ একুশে টেলিভিশন পরিবারের সবাইকে ধন্যবাদ। একুশে টেলিভিশনে তিন চিকিৎসকের আলোচনাটি শুনতে পারেন নিচের লিংকে গিয়ে... / এআর /                                        

© ২০১৭ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি