ঢাকা, শনিবার   ১৯ অক্টোবর ২০১৯, || কার্তিক ৪ ১৪২৬

Ekushey Television Ltd.

আজও খুঁজি তাঁকে মানুষের ভিড়ে 

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ২৩:০১ ১৪ আগস্ট ২০১৯

 

বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় ফাঁসির দণ্ড নিয়ে বিদেশে পালিয়ে থাকা ছয় আসামির একজনকেও এখনো ফিরিয়ে আনা যায়নি। ২০১০ সালে বঙ্গবন্ধুর পাঁচ খুনির ফাঁসি কার্যকর হওয়ার পর বিদেশে পালিয়ে থাকা ছয় খুনিকে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেয় সরকার। খুনিরা যেসব দেশে থাকতে পারে বলে ধারণা পাওয়া যায়, সেসব দেশের সঙ্গে আলোচনা এবং ফেরত পাঠানোর অনুরোধ জানায়। কিন্তু বাস্তবতা হলো, খুনিদের একজনকেও এখনো দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি। সবার সেই তথ্য এখনও জোগাড় করতে পারেনি সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো।
এই ছয়জন হল,খন্দকার আবদুর রশিদ, এ এম রাশেদ চৌধুরী, শরিফুল হক ডালিম, এসএইচএমবি নূর চৌধুরী,আবদুল মাজেদ ও রিসালদার মোসলেম উদ্দিন খান।

যদিও ২০১০ সালে বঙ্গবন্ধুর পাঁচ খুনি ফারুক রহমান, সুলতান শাহরিয়ার রশিদ খান, বজলুল হুদা, মহিউদ্দিন আহমেদ ও এ কে এম মহিউদ্দিনের ফাঁসির রায় কার্যকর করা হয়। 

ফাঁসি এড়াতে ছয় খুনি দেশে না ফেরার পথ বেছে নেন বলে সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন।পলাতক এই ছয়জনের বিষয়ে ইন্টারপোল থেকে রেড নোটিস জারি করা আছে। ২০০৯ সালে এই নোটিস জারির পর প্রতি পাঁচ বছর পরপর নবায়ন করা হচ্ছে।

পলাতক খুনিদের মধ্যে নূর চৌধুরী কানাডায় এবং এ এম রাশেদ চৌধুরী যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন বলে সরকারের কাছে তথ্য রয়েছে। সরকারের কাছে থাকা তথ্য অনুযায়ী, খুনি আজিজ পাশা জিম্বাবুয়েতে মারা গেছেন ২০০২ সালে।

রাশেদ চৌধুরী ও নূর চৌধুরীর অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার কথা জানিয়েছেন ইন্টারপোলের বাংলাদেশ শাখা ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি)’র সহকারী মহাপুলিশ পরিদর্শকের দায়িত্বে থাকা মহিউল আলম।

নূর চৌধুরী কানাডায় থাকলেও ফাঁসির আসামি বলে তাকে ফেরত দিতে অনীহা দেখিয়ে আসছে দেশটির সরকার, যদিও তাকে ফেরত পেতে বারবার দাবি জানিয়ে আসছে বাংলাদেশ।

রাশেদ চৌধুরীর ক্ষেত্রেও কোনো অগ্রগতি নেই। বাংলাদেশ তাকে ফেরত চাইলেও যুক্তরাষ্ট্র বিষয়টি এড়িয়ে যাচ্ছে বারবার।

সম্প্রতি থাইল্যান্ডে এক সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেনকে বলেন রাশেদ চৌধুরীর বিষয়ে কোনো প্রশ্ন না করতে।

মোমেনের ভাষ্য অনুযায়ী, তখন পম্পেও উল্টো জানতে চেয়েছিলেন,বাংলাদেশ কাকে চায় রাশেদ চৌধুরী না কি ডেভিড ওয়াটসনকে। অর্থাৎ রাশেদ চৌধুরী নাম পাল্টেও যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করে থাকতে পারেন।

মাজেদ ও মোসলেম উদ্দিনের ব্যাপারে এনসিবি’র কর্মকর্তা মহিউল জানান, সর্বশেষ এই দুজনের অবস্থান ভারত ও পাকিস্তানে বলে শোনা যাচ্ছিল। তখন দুই দেশকে চিঠিও দেওয়া হয়।

“ভারত জবাবে বলেছে, তাদের দেশে নেই। পাকিস্তান কোনো জবাব না দেওয়ায় রিমাইন্ডার দেওয়ার পরও কোনো উত্তর মেলেনি। ফলে তাদের অবস্থান এখনও নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না।”

পলাতক অন্য চার খুনি শরিফুল হক ডালিম, খন্দকার আবদুর রশিদ, আবদুল মাজেদ ও রিসালদার মোসলেহ উদ্দিনের অবস্থান সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা নেই কারোর।


 

© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি