থার্টি ফার্স্ট নাইটে রাজবাড়ীতে সংঘর্ষ, গুলিবিদ্ধ শিশু
প্রকাশিত : ০৯:৫৩, ১ জানুয়ারি ২০২৬
থার্টিফার্স্ট নাইটে রাজবাড়ীতে দুই পক্ষের সংঘর্ষের সময় ছোড়া গুলিতে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারাত্মকভাবে আহত হয়েছে এক শিশু।
বুধবার (৩১ ডিসেম্বর দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার সময় জেলার সদরের বিনোদপুরের কলেজপাড়ায় (পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ডে) এ ঘটনা ঘটে।
গুলিবিদ্ধ সিফাত (১২ বছর) ওই এলাকার মোঃ শফিকুল ইসলামের জমজ ছেলেদের একজন।
গুলিটি শিশু সিফাতের পেটের উপরের অংশে অর্থাৎ বক্ষপিঞ্জরের ঠিক নিচে একটি গভীর ক্ষত সৃষ্টি করে ও প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়। এ সময় সিফাত মাটিতে লুটিয়ে পরে।
পরে সিফাতের মা আশেপাশের মানুষের সহায়তায় তাকে রাজবাড়ী জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়।
জেলা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডাঃ মোঃ নুরুল আজম শিশুটিকে তাৎক্ষণিকভাবে পরীক্ষা করেন এবং দ্রুত সার্জারী বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডাঃ রাজীব দে সরকারকে ডেকে নিয়ে আসেন। সৌভাগ্যক্রমে, সিনিয়র চিকিৎসক ডাঃ রাজীব এ সময় হাসপাতালেই অবস্থান করছিলেন।
ডাঃ রাজীব এসেই গান-শট ইঞ্জুরড অ্যাবডোমেন পরীক্ষা করে বুঝতে পারেন, গুলির কারণে শিশুটির খাদ্যনালীর একটি অংশ পারফোরেশন হয়ে থাকতে পারে এবং শিশুটি বর্তমানে হাইপোভলিউমিক শকে রয়েছে। এই অবস্থা আর কিছুক্ষণ চললে শিশুটির মৃত্যু ঘটতে পারে৷ তাই তিনি দ্রুতই শিশুটির চিকিৎসা শুরু করেন।
পরবর্তীতে এই ২ জন চিকিৎসকের দীর্ঘক্ষণের আপ্রাণ চেষ্টা ও দক্ষতায় শিশুটির জ্ঞান ফেরে।
চিকিৎসকরা রিসাসিটেশনের মাধ্যমে শিশুটিকে বিপদমুক্ত করেন এবং ভাইটাল সাইনস সুনিশ্চিত করেন।
শিশুটির শারীরিক অবস্থা কিছুটা ভালোর দিকে যাওয়ায় চিকিৎসকদের পরামর্শে পরবর্তী স্তরের চিকিৎসার জন্য শিশুটিকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
শিশুর মা জানান, “বালু মহল নিয়ে সংঘর্ষের জের ধরে বাসার আশপাশে ভাঙচুর ও গুলি বিনিময়ের এক পর্যায়ে আমার বাচ্চার পেটে গুলি লাগে। সদর হাসপাতালের ডাক্তাররা সঠিক সময়ে চিকিৎসা শুরু না করলে আমার বাচ্চাকে আমি ফিরে পেতাম না।”
শিশুর বাবা জানান, আমার শিশুর চিকিৎসা সম্পন্ন হবার পরে চিকিৎসকদের মেডিকেল সার্টিফিকেটের ভিত্তিতে আমরা আইনী সহায়তা গ্রহণ করবো।
এএইচ
আরও পড়ুন










