ঢাকা, সোমবার   ১৯ আগস্ট ২০১৯, || ভাদ্র ৪ ১৪২৬

Ekushey Television Ltd.

ওসি মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিলেন ব্যারিস্টার সুমন

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ১৭:৩৮ ৩১ জুলাই ২০১৯

ফেনীর সোনাগাজী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন ব্যারিস্টার সাইদুল হক সুমন। যৌন নিপিড়নের শিকার নুসরাত জাহান রাফির বক্তব্যের ভিডিও বিনা অনুমতিতে এবং উদ্দেশ্যমূলকভাবে ধারণ করা এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তা ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে এ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন সুমন।

আজ বুধবার বাংলাদেশ সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহাম্মদ আসসামছ জগলুল হোসেন ছুটিতে থাকায় ভারপ্রাপ্ত বিচারক শেখ নাজমুল হাসান এ সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। এরপর মামলার একমাত্র আসামি মোয়াজ্জেম হোসেনের উপস্থিতিতে আসামিপক্ষের আইনজীবী ফারুক আহমেদ জেরা করেন। জেরা শেষ না হওয়ায় আদালত আগামী ২০ আগস্ট পরবর্তী তারিখ ধার্য করেন।

এর আগে ১৭ জুলাই বাংলাদেশ সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহাম্মদ আসসামছ জগলুল হোসেন অভিযোগ গঠন করে সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য ৩১ জুলাই দিন ধার্য করেন।

জানা যায়, গত ১৬ জুন দুপুরে রাজধানীর শাহবাগ এলাকা থেকে মোয়াজ্জেমকে গ্রেফতার করে শাহবাগ থানা পুলিশ। এ দিন রাতেই ফেনী পুলিশের কাছে মোয়াজ্জেমকে হস্তান্তর করা হয়। পরদিন ১৭ জুন বাংলাদেশ সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহাম্মদ আসসামছ জগলুল হোসেন তার জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

উল্লেখ্য, গত ২৭ মার্চ নুসরাত জাহান রাফিকে মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলা শ্রেণিকক্ষে নিয়ে যৌন নিপীড়ন করেন। এমন অভিযোগ উঠলে দু'জনকে থানায় নিয়ে যান ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন। ওসি নিয়ম ভেঙে জেরা করার সময় নুসরাতের বক্তব্য ভিডিও ধারণ করেন। মৌখিক অভিযোগ নেওয়ার সময় দুই পুরুষের কণ্ঠ শোনা গেলেও সেখানে নুসরাত ছাড়া অন্য কোনো নারী বা তার আইনজীবী ছিলেন না। ভিডিওটি প্রকাশ হলে অধ্যক্ষ ও তার সহযোগীদের সঙ্গে ওসির সখ্যতার বিষয়টি স্পষ্ট হয়।

১৫ এপ্রিল ফেনীর সোনাগাজী মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (প্রত্যাহার হওয়া) মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলার আবেদন করেন ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন। আদালত তার জবানবন্দি নিয়ে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮ এর ২৬, ২৯ ও ৩১ ধারায় করা অভিযোগটি পিটিশন মামলা হিসেবে গ্রহণ করেন। পরে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পিবিআইকে নির্দেশ দেন আদালত।

মামলায় অভিযোগ করা হয়, ওসি মোয়াজ্জেম অনুমতি ছাড়া নিয়মবহির্ভূতভাবে নুসরাতকে জেরা এবং তা ভিডিও করেন। পরবর্তীতে ওই ভিডিও ফেসবুক ও ইউটিউবসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দেখা যায়, ওসি মোয়াজ্জেম অত্যন্ত অপমানজনক ও আপত্তিকর ভাষায় নুসরাতকে একের পর এক প্রশ্ন করে যাচ্ছেন। নুসরাতের বুকে হাত দিয়ে শ্লীলতাহানি করা হয়েছে কি না- এমন প্রশ্নও করতে শোনা যায় ওসি মোয়াজ্জেমকে।

ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফি নিজ অধ্যক্ষ সিরাজ উদ্দৌলার কর্তৃক যৌন নিপীড়নের শিকার হন। এ অভিযোগে গত ২৭ মার্চ সোনাগাজী থানায় মামলা দায়েল করেন নুসরাতের মা শিরিন আক্তার। পরে অধ্যক্ষকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ৬ এপ্রিল আলিমের চূড়ান্ত পরীক্ষা দিতে গেলে নুসরাতকে কৌশলে একটি ভবনের ছাদে ডেকে নিয়ে তার গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন দেওয়া হয়। চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় ১০ এপ্রিল ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান নুসরাত। 

এমএস/এসি

 

© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি