ঢাকা, রবিবার   ১৭ নভেম্বর ২০১৯, || অগ্রাহায়ণ ৩ ১৪২৬

Ekushey Television Ltd.

‘কর্মক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ বাড়লে দেশের জন্য মঙ্গল’

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ১৭:০২ ৮ মার্চ ২০১৮ | আপডেট: ০৯:৫৩ ১০ মার্চ ২০১৮

অধ্যাপক ড. মাহবুবা নাসরীন

অধ্যাপক ড. মাহবুবা নাসরীন

আজ ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস। দেশের বিস্ময়কর সাফল্যের পেছনে নারীর বিরাট ভূমিকা রয়েছে। সামাজিক, সাংস্কৃতিক-মনস্তাত্ত্বিক বৈষম্য ও নিরাপত্তাহীনতা সত্ত্বেও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নারীর অংশগ্রহণ দিন দিন বাড়ছে। সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপন করা হচ্ছে। দিবসটি যখন পালন করা হচ্ছে ঠিক সেই সময় আমাদের সমাজ বা পরিবারে নারীরা এখনও বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন।

গণ-পরিবহনসহ চলাফেরার সময় তাদেরকে নানাভাবে হেনস্ত করা হয়। এসব বিষয় নিয়ে একুশে টেলিভিশন অনলাইনের মুখোমুখি হয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ভালনারেবিলিটি স্টাডিজ ইনস্টিউটের পরিচালক অধ্যাপক ড. মাহবুবা নাসরীন। স্বাক্ষাৎকার নিয়েছেন ইয়াসির আরাফাত রিপন

একুশে টেলিভিশন অনলাইন: আমাদের সমাজে চলা-ফেরাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারীদের হেনস্তার শিকার হয়ে হয়। পাশাপাশি এখনও নারীরা বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন, এ বিষয়ে আপনার মতামত কি?

ড. মাহবুবা নাসরীন: নারীকে হেনস্তা করার কালচারটা একদিনে তৈরি হয়নি। আমাদের সমাজে যে নারী পুরুষের ব্যবধান এটা যুগ যুগ ধরে চলে আসছে। আমি এটা বলব না যে, আমাদের মানষিকতার পরিবর্তন হয়নি, কোথাও হয়েছে আবার কোথাও হয়নি। সেক্ষেত্রে পরিবর্তনটা সমানতালে হওয়া দরকার। সব জায়গায় নারী-পুরুষ সমান এ কথা বলি আমরা, উন্নয়নের কথা বলি কিন্তু সত্যিকার অর্থে যদি আমরা দেখি, অবশ্যই তাদের অবদান আছে বলেই উন্নয়ন হচ্ছে। তবে এই উন্নয়নটাকে একইভাবে সবাই উপভোগ করতে পারছেন না। অথবা একইভাবে বিষয়টাকে মেনে নিতে পারছেন না। সমাজে সচেতনতা তৈরি না হওয়ায় নারী-পুরুষের ব্যবধানটাকে আমরা আগের মতোই দেখতে থাকি। এজন্যই এই অবস্থার তৈরি হয়েছে।

একুশে টেলিভিশন অনলাইন: নারীর প্রতি সহিংসতার জন্য জন্য কী শুধু সমাজ ব্যবস্থাটাই দায়ী?

ড. মাহবুবা নাসরীন: আমাদের দেশ শ্রেণীভিত্তিক সমাজ। দেখা যায়, সেখানে ধনীদের মধ্যে সহিংসতাটা আছে কিন্তু এর পরিমাণ খুব বেশি না। তারা ওই জায়গা থেকে বেরিয়ে আসতে চায়। তবে মধ্যবিত্ত সমাজের কথা চিন্তা করলে দেখা যায়, সেখানে এটা খুব বেশি। মধ্যবিত্ত পরিবারের নারীরা সমাজের দিকে তাকিয়ে সেখানে সহিংসতার কোনো প্রতিবাদ করতে পারবে না।

আর যদি কোনো নিম্নবিত্ত পরিবার হয়, যাদের খেটে খাওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় নেই, পুরুষের টাকায় সংসার চলে সেখানে তো প্রতিবাদের কোনো ভাষাই থাকে না নারীদের। আবার তারা প্রতিবাদ করলেও সেটা শোনা যায় না। আমাদের দেশে নীতিগতভাবে নীতিমালার পরিবর্তন হয়েছে। আন্তর্জাতিক দলিলগুলোকে আমরা স্বীকৃতি দেই, স্বীকার করি, স্বাক্ষর করে সেগুলো নিজেদের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করেছি। কিন্তু সহিংসতার অবসান ঘটাতে পারিনি। এ জন্য সমাজ দায় এড়াতে পারে না।

একুশে টেলিভিশন অনলাইন: পুরুষ শাসিত সমাজে নারীকে নিয়ে খুব বেশি ভাবা হয় না, এটা কিভাবে দেখছেন?

ড. মাহবুবা নাসরীন: আমরা অর্জনের কথা বলি। শিক্ষাক্ষেত্রে, অর্থনীতিতে, পরিবার গঠনে নারীর যে অবদান রয়েছে সেটা আমাদের দেখতে হবে। একইসঙ্গে নিরাপত্তাহীনতার কথা, সামাজিকিকরণের বিষয়টা সমাজকে দেখতে হবে। যেটা এখনও তৈরি হয়নি।

তবে এক্ষেত্রে শুধু পুরুষের দোষ দিলে হবে না। নারীরাও দায় এড়াতে পারে না। তারা কিন্তু অন্য নারীর সাফল্য ভালভাবে দেখতে পারে না। অথবা আমরা যেটা বলি যে, পিতৃতান্ত্রিক মানসিকতা। সেক্ষেত্রে নারীরা পিতৃতান্ত্রিক মানষিকতা বহন করে অনেক সময়।

আমাদের সমাজে যেনো কোথাও একটা বাঁধ দেওয়া আছে। আমরা যখন সমাজে জেন্ডারের কথা, সরকারি-বেসরকারিভাবে তখন সাধারণ সাধারণ উদাহরণ দেওয়া হয়। আমাদের এখানে লিঙ্গবিভাজন আছে। রান্না থেকে শুরু করে সব কাজই নারী-পুরুষ ভাগাভাগ করা যায়। তখন একজন হয়তো বলে উঠবে আপনি চা বানালে যতটা মজা হবে সেটা স্যার বানালে অতটা মজা হবে না। এই যে ছোট ছোট কথা, এর মধ্য দিয়েও কিন্তু অনেক কিছু বোঝাতে চাওয়া হয়।

একুশে টেলিভিশন অনলাইন: নারী এখনও গণপরিবহনে নিরাপদ নয়, একটু সুযোগ পেলেই তারা সহিংসতার (ইভটিজিং) পথ বেছে নেয়। এ বিষয়ে আপনার কাছে জানতে চাইব।

ড. মাহবুবা নাসরীন: নারীকে যখন রাস্তা-ঘাটে উত্যক্ত বা হয়রানি করা হয় সেটা কিন্তু কোনো নারী করছে না, এটা পুরুষরাই করছে। গায়ে হাত দেওয়া, ধাক্কা দেওয়া, পিছন থেকে জামা কেটে দেওয়া হয় ট্রান্সপোর্টে পিছনের সিট থেকে। মনে রাখতে হবে, নারীরা তাদের প্রয়োজনের তাগিদেই কিন্তু যানবাহনে উঠে। সেখানে উঠেই বিভিন্নভাবে হেনস্তার শিকার হতে হয়।

এজন্য আমাদের অনেক বেশি গণপরিবহণ করা দরকার। নারীর জন্য আলাদা ব্যবস্থা না করে আরো বেশি গণপরিবহনের ব্যবস্থা করা হলে এই প্রবণতা কমতে পারে।

আবার রিকশাসহ সব জায়গাতেই নারীদের হয়রানি করা হয়। পরিবেশ সচেতন না হওয়ায় নারীরা হেঁটে অফিসে যেতে পারেন না। সেক্ষেত্রে অনেক বেশি গণপরিবহন দরকার। যেখানে নারী উঠছে না পুরুষ উঠছে সেটা কেউ দেখবে না।

আমাদের মনে রাখতে হবে, নারী যত বেশি কর্মক্ষেত্রে দৃশ্যমান হবে তত দেশের জন্য, অর্থনীতির জন্য ভালো। তাছাড়া মূল বিষয়টা হলো আমাদের সামাজিক সচেতনতা বেশি জরুরি। সামাজিক সম্পর্ক জালকে আরো শক্ত হতে হবে।

একুশে টেলিভিশন অনলাইন: নারীর স্বাধীন চলাফেরার স্বাধীনতায় সামাজিক কি উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে?

ড. মাহবুবা নাসরীন: আগে বয়স্করা সমাজ শাসন করতেন। তরুণরা তাদের এলাকার কোনো নারীকে কিছু বলতেন না। এ নিয়ে অনেক গল্প আছে। তারা নিজের এলাকার মেয়েদের উত্যক্ত করত না। এখন নিজের মহল্লার মেয়েদেরও উত্যক্ত করে তরুণরা।

তাই দেখতে হবে শহর বা গ্রামে কে কোথা থেকে আসছে এটা বিষয় না, মূল বিষয় একটা বলয় তৈরি করতে হবে আমাদের। যে বলয়ে তরুণরা সমাজকে প্রোটেকশন দিবে। এজন্য তাদের নানাভাবে উদ্বুদ্ধ করার কর্মসূচি নিতে হবে। সেটা সমাজে কম আছে। তরুণদের উদ্বুদ্ধ করতে এই ভাবে যে, আমরা নারী-পুরুষ সবাই বন্ধু। এটা তরুণদের ভাল করে তাদের বোঝাতে হবে।

সহিংসতার মূল কারণ হলো, আমরা সমাজে নারী-পুরুষের ব্যবধানটাকে বোধগম্য করতে পারিনি। নারী যে অর্থনীতিতে অবদান রাখছে, সমাজে অবদান রাখছে সেটা দেখা হচ্ছে না। নারীকে দেখা হচ্ছে নারী হিসেবে। আমাদের এই মানসিকতার পরিবর্তন করতে হবে।

একুশে টেলিভিশন অনলাইন: নারীকে অফিসে এখনও সহকর্মীর পরিবর্তে নারী হিসেবে গণ্য করা হয়। কিভাবে দেখছেন বিষয়টিকে?

ড. মাহবুবা নাসরীন: নারী-পুরুষকে অফিস-আদালতে আলাদাভাবে দেখা হলে এটা সত্যি দু:খজনক। এটা ভাষাগতভাবে পরিবর্তন করতে হবে। অফিসে আমরা নারীর ক্ষেত্রে যে শব্দ চয়ন করি সেক্ষেত্রে পরিবর্তন হয়নি। ভাষাগত দিকগুলো আমাদের ভালোভাবে দেখতে হবে।

অনেক সময় একজন নারীকে নারী সাংবাদিক বলা হয় এটা প্রয়োজনের ক্ষেত্রে বলা হয়। তবে অনেক সময় যখন কেউ প্রশ্ন করে আপনাদের অফিসে কতজন স্টাফ আছে, উত্তরে আমরা বলি এখানে তিনজন আছেন। তাদের মধ্যে দুইজন পুরুষ কর্মী ও একজন নারী। এখানে নারী কর্মী বলা হয় না। তাহলে দেখা যায় সেখানে, নারীর ক্ষেত্রে অন্য অর্থ দাঁড়ায়, আমরা এখনও নারীকে সহকর্মী হিসেবে নিতে পারিনি। আমাদের মনে রাখতে হবে, করপোরেট সেক্টরে আমরা সবাই সহকর্মী। আমাদের দেশের মডেল শেখ হাসিনা নারী প্রধানমন্ত্রী, স্পীকার আছেন নারী।

আবার অফিস আদালতে যখন নারীরা প্রধান হয়ে আসবে তখন তাদেরকে বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দিতে হবে। এখানে আবার পুরুষকে দূরে ঠেলে দিলে হবে না। এখন আমাদের দেশে একটা সম্বোধন হয়েছে নারীদের স্যার বলা হয়। আমি মনে করিনা ওই সম্বোধনের মধ্যে কোনো কিছু আছে। এটা গুরুত্বপূর্ণ কোনো বিষয় না। আমরা যদি সম্মানই না করতে পারি তাহলে সম্বোধনের কোনো মানে হয় না।

একুশে টেলিভিশন অনলাইন: নারীর ক্ষেত্রে এখনও নেতিবাচক কথা বলা হয়, এটাকে কিভাবে দেখছে?

ড. মাহবুবা নাসরীন: হ্যা অনেক সময় অফিসে নারীদের নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করা হয় যে, নারী দেখে উন্নতি হয়েছে। আমরাতো দেখি নারীরা অনেক পরিশ্রম করে দেখেই তাদের উন্নতি হয়। পরিশ্রম করলে অবশ্যই যে কেউ উন্নতি করতে পারবে। নারীর যে বিপত্তির জায়গা আছে সেগুলো বুঝতে হবে আবার নারী-পুরুষের বন্ধুত্বের জায়গাগুলোও বুঝতে হবে। এভাবেই আসলে সমাজ থেকে বৈষম্য কমতে পারে, নেতিবাচক কথা চলে যাবে।

একুশে টেলিভিশন অনলাইন: নারী ইভটিজিংয়ের শিকার হলে, আমরা দর্শক হয়ে দেখি আবার ইভটিজিং-এ শিকার নারী প্রতিবাদ করতে চায় না, এর কারণ কি?

ড. মাহবুবা নাসরীন: আগে নারীর প্রতি নেতিবাচক আচরণকে ইভটিজিং বললেও এখন আমরা সহিংসতা বলি। নারীর প্রতি সহিংসতারোধে এখন ম্যাজিস্টেটের হাতে ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। যেকোনো সহিংসতার তাৎক্ষণিক জবাব দেওয়া হয় প্রশাসনিকভাবে। নারীর ক্ষেত্রেও একই কথা, তাদের প্রতিবাদ করতে হবে। রাস্তা-ঘাটে বা দশজনের মধ্যে চলাচল করার সময় কেউ সহিংসতার চেষ্টা করলে তার প্রতিবাদ করতে হবে। প্রতিবাদ করলে দশজনের মধ্য থেকে চারজন এগিয়ে আসবে। বসে থাকলে আসবে না। তবে এক্ষেত্রে তার নিজেরও আত্নরক্ষামূলক কিছু জানতে হবে, প্রতিবাদের ভাষা জানতে হবে। এটা এখনও ব্যাপকভাবে তৈরি হয়নি।

একুশে টেলিভিশন অনলাইন: সামজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিনিয়তই ঘটছে। এটাকে কিভাবে দেখছেন আপনি?

ড. মাহবুবা নাসরীন: সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম কঠিনভাবে সরকারের নিয়ন্ত্রণ নাই। সরকারিভাবে আরো কঠোর হতে হবে। সরকারিভাবে ভার্চুয়াল জগতের নিয়ন্ত্রণ রেখে যারা নেতিবাচক পোস্ট দেয় তাদেরকে চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। তাদের শাস্তি দিয়ে সেটি আবার ভার্চুয়াল জগতেই প্রকাশ করতে হবে।  

একজন নারীকে অত্যাচার করে সেটার ভিডিও করে ছেড়ে দিল, আমরা সেটা দেখছি। কিন্তু এটা রক্ষা করার দায়িত্বটা কি আমার ছিল না। যারা এই ধরনের ভিডিও পোস্ট দেয় তাদের ধরা খুব বেশি কঠিন না। তাদের ধরে শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। আবার বেশি বেশি প্রজ্ঞাপন জারি করতে হবে যে এই ধরনের ছবি পোস্ট দেওয়া যাবে না। এটা সবাইকে মানতে হবে, সবাইকে জানাতে হবে।

একুশে টেলিভিশন অনলাইন: পরিবারে নারীর অসামান্য অবদান থাকলে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে নারীর মূল্যায়ন নেই। এ বিষয়ে আপনার মতামত জানতে চাই।

ড. মাহবুবা নাসরীন: আমরা যদি নারীর ক্ষমতায়নের কথা বলি তাহলে তার মধ্যে একটা হলো নারীর সীদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা। কিন্তু এটা মানা হয় না। তবে কর্মজীবী নারী যারা আছেন তাদের ক্ষেত্রে কিছুটা সিদ্ধান্ত গ্রহণ ক্ষমতা আছে। যারা প্রান্তিক পর্যায়ে রয়েছেন তাদের ক্ষেত্রে পরিবর্তন এখনও আসেনি।

পরিবারে দুজন মিলে মতামত নিতে হবে, শুধু যে নারীর মতামত বা পুরুষের মতামত নিতে হবে এটা কিন্তু না। মতামতের ক্ষেত্রে দুজনের মধ্যে ভাগাভাগি করতে। আপনি যদি চিন্তা করেন বিভিন্ন জায়গাতে নারী প্রধান থাকা সত্ত্বেও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে পুরুষের প্রাধান্য দেখা যায়।

তবে ধীরে ধীরে এটা থেকে বেরিয়ে আসতে পারছি, কারণ নারীর ক্ষমতায়নের সূচক নিয়ে এখন দেশে অনেক কাজ হচ্ছে। তবে ব্যাপকভাবে পরিবর্তন এখনও হয়নি। জমি কেনা বা বিক্রি করা, সন্তানের ভবিষৎ, তার লেখা পড়া ইত্যাদির বিষয়ে আলোচনা করে হয় না। এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে এখনও বাধা আছে। এটা নিয়ে কাজ হলেও বড় পরিবর্তন আসেনি।

একুশে টেলিভিশন অনলাইন: পরিবারে কন্যা সন্তান জন্ম নিলে আমরা প্রথমে চিন্তা করি তার বিয়ে দিতে হবে। তার জন্য পজেটিভ চিন্তা করা হয় না। এ বিষয়ে আপনার কাছে জানতে চাইব।

ড. মাহবুবা নাসরীন: এখন আমাদের মেয়ে জন্ম হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিবার থেকে তার জন্য চিন্তা করা হয়, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট করা হয়। কারণ তাকে মেয়ের বিয়েতে যৌতুক দিতে হবে।

এখন নারীর প্রতি সহিংসতা, যৌতুক এবং বাল্য বিয়ে নিয়ে সমাজকল্যাণ মন্ত্রনালয় কাজ করছে। কিন্তু কোনো পরিবর্তন আসছে না। মন্ত্রনালয়েরও প্রশ্ন আছে কেনো কাজ হচ্ছে না। হয়ত যারা কাজ করছে তারা ওইভাবে দায়িত্ব পালন করছেন না। তবে অনেক মনিটরিং হচ্ছে যে, স্থানীয় পর্যায়ে কোনো বাল্য বিয়ে হলে প্রশাসন যেয়ে সেই বিয়ে ভেঙ্গে দিচ্ছে।

একুশে টেলিভিশন অনলাইন: অর্থনীতিতে নারীর অবদান এখনও জিডিপির বাইরে। অফিস শেষে এখনও নারীকে গৃহের কাজ করতে হচ্ছে, এ বিষয়ে আপনার মতামত।

ড. মাহবুবা নাসরীন: জিডিপিতে নারীর গৃহভিত্তিক কাজগুলো ধরা হয় না। তবে টেকসই উন্নয়নে এই কাজগুলো ধরা হবে। কিন্তু মনে রাখতে হবে, নারী যে কাজগুলো গৃহে করে সেই কাজ অন্য কেউ করলে তাকে কত টাকা দিতে হতো। এই কাজগুলো জিডিপিতে অন্তভূক্ত করা দরকার।

একুশে টেলিভিশন অনলাইন: মূল্যবান সময় আমাদের দেওয়ায় আপনাকে অনেক ধন্যবাদ এবং নারী দিবসের শুভেচ্ছা।

ড. মাহবুবা নাসরীন: একুশে পরিবারকেও অনেক ধন্যবাদ।

আর / এআর

© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি