ঢাকা, মঙ্গলবার   ১৪ জুলাই ২০২০, || আষাঢ় ৩০ ১৪২৭

Ekushey Television Ltd.

ক্ষমা মানুষের মান-মর্যাদা বাড়ায়

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ১২:৩৩ ২৬ মে ২০২০

ভুল-ত্রুটি ও ভালো-মন্দের মিশেলে মানুষের জীবন। কেউ ভুল-ত্রুটির ঊর্ধ্বে নয়। কিন্তু কারো ভুলে তার প্রতি ক্রোধ দেখানো, রাগ ঝাড়া, জেদ-উত্তেজনা কিংবা উগ্র-কাতর হওয়া ভীষণ নিন্দনীয়। এসব মানুষকে ছোট করে। আমলনামা থেকে সওয়াব মুছে দেয়।

বিপরীতে ক্ষমা মানুষের মান-মর্যাদা বাড়ায়। কাউকে ক্ষমা করে একজন সাধারণ মানুষও হয়ে ওঠতে পারেন অসাধারণ মানুষ। ক্ষমাশীল মানুষ সর্বোত্তম ব্যবহারকারী ও ধৈর্যশীল। যিনি উদারপ্রকৃতির, তিনিই ক্ষমাশীল। যাদের এ ধরনের গুণাগুণ রয়েছে, তারা আল্লাহ তাআলার বিশেষ নেয়ামতপ্রাপ্ত। ক্ষমাকারী ধৈর্যবান ও সৎকর্মশীলদের অন্তর্ভুক্ত। 

গাফুর আরবি শব্দ। এর আভিধানিক অর্থ ক্ষমা। ইসলামী পরিভাষায় অন্যায় অত্যাচার ও উৎপীড়নের প্রতিশোধ নেয়ার ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও করুণা দেখিয়ে অপরাধীকে ক্ষমা করে দেয়া ও তার প্রতি সহনশীলতা ও উদারতা প্রদর্শন করাকে আ’ফউ বা ক্ষমা বলা হয়। ক্ষমা মহত্ত্বের লক্ষণ। মানুষ আল্লাহর খলিফা বা প্রতিনিধি। খেলাফতের দায়িত্ব পালনে যেসব সিফাত বা গুণ অর্জন করা প্রয়োজন তার মধ্যে আ’ফউ তথা ক্ষমা অন্যতম। আল্লাহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল। তিনি সর্বদা তার বান্দাদের অপরাধ ক্ষমা করে থাকেন। তার পরিপ্রেক্ষিতে গফুর ও গাফফার নামে তাকে অভিহিত করা হয়েছে। যদি আল্লাহ তার বান্দাদের ক্ষমা না করতেন তাহলে দুনিয়াতে কোনো মানুষই রেহাই পেত না। এজন্য যে ব্যক্তি আল্লাহর ক্ষমা গুণ অবলম্বন করে অপর মানুষের অপরাধ ক্ষমা করে, আল্লাহ তাকে ভালোবাসেন। 

যারা সচ্ছলতায় ও অভাবের সময় (আল্লাহর রাস্তায়) খরচ করে যারা নিজেদের রাগকে সংবরণ করে আর মানুষকে ক্ষমা করে, প্রকৃতপক্ষে আল্লাহ তায়ালা মুহসিন লোকদেরকে ভালোবাসেন। (সূরা আলে-ইমরান : ১৩৪) 

তোমরা যদি কল্যাণ করো প্রকাশ্যভাবে কিংবা গোপনে অথবা যদি তোমরা অপরাধ ক্ষমা করে দাও, তবে জেনে রেখো আল্লাহ নিজেও ক্ষমাকারী, মহাশক্তিমান। (সূরা আন্ নিসা: ১৩৪)

ক্ষমা করার অভ্যাস গড়ে তোলো, ভালো কাজের আদেশ দাও এবং মূর্খ জাহেলদের (কথাবার্তা) থেকে দূরে থাকো। (সূরা আ’রাফ : ১৩৪) 

আয়েশা রা: থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখনই রাসূলুল্লাহ সা:কে দু’টি কাজের মধ্যে একটি গ্রহণ করার এখতিয়ার দেয়া হতো, তখন তিনি তা থেকে সহজটি গ্রহণ করতেন। যদি তাতে গুনাহের কিছু না থাকত। আর যদি তা গুনাহের কোনো কাজ হতো, তবে তিনি তা থেকে বহু দূরে থাকতেন। আর রাসূলুল্লাহ সা: নিজের জন্য কোনো প্রতিশোধ গ্রহণ করতেন না। তবে যদি কেউ আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত কোনো হারাম কাজে লিপ্ত হতো, তখন তিনি আল্লাহর হুকুম পালনের জন্য তাকে সে গুনাহের জন্য শাস্তি দিতেন। (যেমন জিনার জন্য রজম এবং চুরির জন্য হাত কাটার শাস্তি ইত্যাদি।) (আবু দাউদ হাদিস-৪৭৮৫ হাদিসটি সহিহ)

আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সা: বলেছেন : সাদকা করাতে সম্পদের ঘাটতি হয় না। যে ব্যক্তি ক্ষমা করে আল্লাহ তার মর্যাদা বৃদ্ধি করে দেন। আর কেউ আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য বিনীত হলে তিনি তার মর্যাদা বাড়িয়ে দেন। (মুসলিম ৭ম খণ্ড অ: সদ্ব্যবহার, আত্মিয়তার সম্পর্ক রক্ষা ও শিষ্টাচার, পৃ: ১১৪)

উদারতা ও সহিষ্ণুতা মুমিনের বৈশিষ্ট্য। কোমলতা ও হৃদয়ার্দ্রতা মুমিনদের বিশেষ একটি গুণ। আল্লাহর রাসুল (সা.) যখন সাহাবি মুয়াজ  (রা.) ও মুসা (রা.) কে ইয়ামেনে প্রেরণ করেন ও আদেশ দেন, ‘লোকদের প্রতি কোমলতা করবে, কঠোরতা করবে না, তাদের সুখবর দেবে, ঘৃণা সৃষ্টি করবে না। পরস্পর একমত হবে, মতভেদ করবে না।’ (বুখারি, হাদিস: ৩০৩৮)
এসএ/
 


New Bangla Dubbing TV Series Mu
New Bangla Dubbing TV Series Mu

© ২০২০ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি