ঢাকা, শনিবার   ২৪ অক্টোবর ২০২০, || কার্তিক ১০ ১৪২৭

Ekushey Television Ltd.

খারাপ আচরণ থেকে বাঁচার উপায়

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ১৫:৫৮ ১৪ আগস্ট ২০২০

মানুষের মধ্যে সৃষ্টিগতভাবে ভালো কাজের প্রবণতা যেমন আছে, তেমনটি আছে মন্দ কাজের প্রবণতা। সে যখন বিবেক দিয়ে ভালো-মন্দের পার্থক্য করতে সক্ষম হয় এবং হৃদয় দিয়ে সত্য-মিথ্যাকে উপলব্ধি করতে পারে তখন সে হয় সম্মানিত ও শ্রেষ্ঠ জীব। পক্ষান্তরে যখন তার মধ্য থেকে এ বৈশিষ্ট্য লোপ পায় তখন সে বনের হিংস্র জন্তু-জানোয়ার ও গৃহপালিত পশুর থেকেও নিকৃষ্ট জীবে পরিণত হয়।

ইসলামে সুন্দর আচরণের ব্যাপারে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। এ সম্পর্কে পবিত্র কোরআন ও হাদিসের দৃষ্টিভঙ্গি অত্যন্ত পরিষ্কার। আল্লাহতায়ালা কোরআনে কারিমের মাধ্যমে প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সুন্দর আচরণ শিক্ষা দিয়েছেন। নবী সুন্দর আচরণের মাধ্যমে পথহারা, দিশাহারা মানুষকে অন্ধকার থেকে আলোর পথে ফিরিয়ে এনেছেন। তাদেরও শিক্ষা দিয়েছেন উত্তম আচরণ।

সুন্দর আচরণের মাধ্যমে একজন ব্যক্তি কাঙ্খিত লক্ষ্য অর্জন করতে সক্ষম হয়। যারা সবসময় মানুষের সঙ্গে ভালো কথা বলে, সুন্দর আচরণ করে তাদের সমাজের, দেশের সবাই অত্যন্ত পছন্দ করে, ভালোবাসে, সম্মান ও শ্রদ্ধা করে। আল্লাহতায়ালাও তাদের অত্যন্ত পছন্দ করেন। একটি ভালো কথা, সুন্দর আচরণ একটি ভালো গাছের মতো। সুন্দর আচরণকারীর সামনে-পেছনে মানুষ তার প্রশংসা করে। তার জন্য মন খুলে দোয়া করে। ফলে আল্লাহ এবং আসমান-জমিনের ফেরেশতারাও তাকে অত্যন্ত পছন্দ করে।

অপরদিকে খারাপ ব্যবহারে সম্পর্ক বিনষ্ট হয়। অপ্রীতিকর অবস্থার সৃষ্টি হয়। সমাজের মানুষ তাকে অবহেলা, অবজ্ঞা ও ঘৃণার চোখে দেখে। তার কথার কোনো দাম দেয় না।

আল্লাহ তা’আলা বলেন :
‘আর আমি সৃষ্টি করেছি জাহান্নামের জন্য বহু জিন ও মানুষ। তাদের অন্তর রয়েছে কিন্তু তার দ্বারা বিবেচনা করে না, তাদের চোখ রয়েছে, কিন্তু তা দ্বারা দেখে না, আর তাদের কান রয়েছে কিন্তু তার দ্বারা শোনে না। তারা চতুষ্পদ জন্তুর ন্যায় বরং তাদের চেয়েও নিকৃষ্ট। তারাই হল গাফেল (শৈথিল্য পরায়ণ)।’ (সূরা আ’রাফ: ১৭৯)

আল্লাহ ফেরেশতাদেরকে বিবেক দিয়েছেন; কু-প্রবৃত্তি দেননি। পশুদেরকে কু-প্রবৃত্তি দিয়েছেন; বিবেক দেননি। আর মানুষকে কু-প্রবৃত্তি ও বিবেক উভয়টি দিয়েছেন। সুতরাং মানুষের বিবেক যখন তার কু-প্রবৃত্তির উপর প্রাধান্য পায়, তখন সে ফেরেশতাদের ঊর্ধ্বে চলে যায়। আর যখন তার কু-প্রবৃত্তি বিবেকের উপর প্রাধান্য পায়, তখন সে জন্তু-জানোয়ারের নিম্ন স্তরে নেমে যায়।

যা হোক, মানুষের মধ্যে নানা ধরণের পশুত্বের স্বভাব বিদ্যমান রয়েছে। যেমন: হিংস্রতা, নির্মমতা, বদ মেজাজি, অন্যের অধিকার হরণ, হালাল-হারামের তওয়াক্কা না করা, যৌন চাহিদা পূরণে নীতি-নৈতিকতার পরোয়া না করা, নির্লজ্জতা, অত্যাচার-নিপীড়ন করা ইত্যাদি। এগুলো হল পশুত্বের স্বভাব। 

নিম্নে খারাপ আচরণ থেকে বাঁচার ১২ উপায় তুলে ধরা হল :
১. অন্তরে তাকওয়া বা আল্লাহ ভীতি জাগ্রত করা এবং বিবেক দিয়ে ন্যায়-অন্যায় ও সঠিক-বেঠিক পার্থক্য করা। সত্যিকার অর্থে যার মধ্যে বিবেক ও মানবিক মূল্যবোধ আছে সে একটু চিন্তা করলেই ন্যায়-অন্যায় বুঝতে পারে। এটা আল্লাহ প্রদত্ত বৈশিষ্ট্য যা তিনি মানুষের মধ্যে দান করেছেন।

২. ইসলামের জ্ঞানার্জনের পাশাপাশি একনিষ্ঠ ভাবে আল্লাহর ইবাদত করা। দু’আ, তাসবিহ ও আজকারসমূহ পাঠে অভ্যস্ত হওয়া। বিশেষ করে জামাআতে সলাত আদায়ে যত্নশীল হওয়া। আল্লাহর ইবাদত গুজার বান্দার মধ্যে মানবিক গুণাবলি বিকশিত হয়, সে অন্যের অধিকারের ব্যাপারে সচেতন থাকে এবং কখনো কারোও প্রতি অবিচার করতে পারে না।

৩. ইসলামের দৃষ্টিতে উন্নত স্বভাব-চরিত্র সম্পর্কে জ্ঞানার্জন করা এবং সে গুলো বাস্তব জীবনে প্রয়োগ ঘটানো।

৪. শয়তানের পক্ষ থেকে মনের মধ্যে সৃষ্ট কুমন্ত্রণা বশত: পশুত্বের মনোভাব, পাপাচার ও অন্যায় অপকর্ম করার কু-বাসনা জাগ্রত হলে সাথে সাথে ‘আউযুবিল্লাহি মিনাশ শয়তানির রাজীম’ (বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি) পাঠ করা এবং খারাপ চিন্তাভাবনা থেকে মনকে ফিরিয়ে আনা।

৫. নিয়মিত তরজমা-তাফসির সহ কুরআন পড়া ও হাদিস স্টাডি করা এবং অথেনটিক সোর্স থেকে ইসলাম সম্পর্কে পর্যাপ্ত জ্ঞানার্জন করা। কারণ জ্ঞান হল আলো। যার কাছে জ্ঞানের আলো থাকে সে নিজের মধ্যে ত্রুটি-বিচ্যুতিগুলো দেখতে পায়, খারাপ বৈশিষ্ট্যগুলো সম্পর্কে সচেতন হতে পারে এবং উন্নত চরিত্র এবং মানবিক গুণাবলী বিকশিত করতে সক্ষম হয়।

৬. আল্লাহওয়ালা, তাকওয়াবান ও আমলদার আলেমদের উপদেশমূলক বক্তব্য শোনা। কেননা উপদেশ দ্বারা মু’মিন উপকৃত হয়।

৭. ভালো লোকদের সংস্রবে থাকা এবং খারাপ ও পশু সুলভ আচরণে অভ্যস্ত লোকদের সাথে বন্ধুত্ব না করা। কেননা কথায় আছে, ‘সৎ সঙ্গে স্বর্গবাস, অসৎ সঙ্গে সর্বনাশ।’

৮. আত্ম সমালোচনার মাধ্যমে নিজের মধ্যে পশুসুলভ আচরণ, খারাপ স্বভাব ও দোষ-ত্রুটিগুলো চিহ্নিত করা।

৯. মহান আল্লাহর কাছে খারাপ চরিত্র, পশু সুলভ আচরণ ইত্যাদি থেকে বাঁচার জন্য এবং উন্নত ও সুন্দর চরিত্রে চরিত্রবান হওয়ার জন্য দু’আ করা।

১০. ইয়াতিমদের মাথায় হাত বুলানো এবং তাদের প্রতিপালনের দায়িত্ব নেয়া। ইয়াতিমদের মাথায় হাত বুলালে বা তাদের প্রতি যত্ন নিলে অন্তরে নম্রতা সৃষ্টি হয় এবং নিজের মধ্যে দয়া, মমতা, পরোপকার ইত্যাদি মানবিক গুণাবলী জাগ্রত হয়।

১১. বিপদগ্রস্ত ও কঠিন রোগাক্রান্ত ব্যক্তিদেরকে দেখতে যাওয়া। এটি মানুষের মধ্যে নিজের ব্যাপারে নতুন উপলব্ধি সৃষ্টিতে সহায়তা করে।

১২. যানাজায় অংশগ্রহণ ও কবর জিয়ারত করা। এতে নিজের মৃত্যু, শেষ পরিণতি, কবরের শাস্তি, আখিরাতের ভয়াবহতা, জাহান্নামের আগুন ইত্যাদি স্মরণ হয় এবং হৃদয়ে নিজেকে সংশোধনের আত্মোপলব্ধি সৃষ্টি হয়।

নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উত্তম চরিত্র ও আচার-আচরণ অর্জনের জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করতেও শিখিয়ে গেছেন। দোয়া করতে উৎসাহিত করে যাওয়াই প্রমাণ করে চরিত্র ও আচার-ব্যবহারকে ক্রমাগতভাবে উন্নত করার সুযোগ রয়েছে। তিনি যে দোয়া করেছেন তার মর্মার্থ হচ্ছে, ‘হে আমার প্রভু! আমাকে উত্তম চরিত্রের পথে ধাবিত করুন। আপনি ছাড়া আর কেউ সেদিকে ধাবিত করার নেই। আর আমাকে অসৎ চরিত্র ও আচরণ থেকে দূরে সরিয়ে রাখুন। আপনি ছাড়া তা থেকে দূরে সরানোর আর কেউ নেই।’


New Bangla Dubbing TV Series Mu
New Bangla Dubbing TV Series Mu

© ২০২০ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি