ঢাকা, শনিবার   ২৪ আগস্ট ২০১৯, || ভাদ্র ৯ ১৪২৬

Ekushey Television Ltd.

‘তৈরি বাইক আমদানিতে ১২০% শুল্ক চায় এসিআই মটরস’

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ১৮:৪০ ৩ জুন ২০১৮ | আপডেট: ১১:২১ ১৩ জুন ২০১৮

চলছে বাজেটের মাস। এই মাসেই নির্ধারিত হবে আগামী ২০১৮-১৯ অর্থ বছরের বাজেট। এই সময়টাতে আসলে নতুন মোটর বাইক কিনতে আগ্রহীরা বেশ উৎকণ্ঠায় থাকেন। বাজেটে বাইকের দাম বাড়বে নাকি কমবে সেই সূত্রের হিসেবে মিলাতে ব্যস্ত থাকেন তারা। বাজেটের প্রাক্কালে এই খাতের বিভিন্ন দিক এবং নিজেদের নানান কার্যক্রম নিয়ে ইটিভি অনলাইনের সঙ্গে কথা বলেছেন এসিআই মটরসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. এফ এইচ আনসারী। সাক্ষাৎকার নিয়েছে ইটিভি অনলাইনের সহ-সম্পাদক শাওন সোলায়মান

ইটিভি অনলাইনঃ যেহেতু সামনে বাজেট তাই শুরুতেই বাজেট নিয়ে আপনার কাছে জানতে চাইব এবারের বাজেট বাইকের দামের ওপর কেমন প্রভাব রাখবে?

ড. এফ এইচ আনসারীঃ বাংলাদেশে বিগত কয়েক বছর যাবত বাজেটে বাইকের ওপর আমদানি শুল্ক প্রায় অপরিবর্তিত আছে। ধারণা করা হচ্ছে, এবারের বাজেটেও সবকিছু অপরিবর্তিত থাকবে। অপরিবর্তিত না থাকলেও দাম বাড়ার সম্ভাবনা খুবই কম। আর দাম বাড়ার যেটুকু সম্ভাবনা আছে সেটুকু আবার একেবারেও অগ্রাহ্য নয়। কারণ সরকার এখন দেশেই মোটর বাইক প্রস্তুতকারীদের উৎসাহ দিচ্ছে। তাদের জন্য সুবিধা করতে আমদানির ওপর শুল্ক বৃদ্ধি করতে পারে। আর এমনটা হলে আমদানি নির্ভর বাইকের বাজারে কিছুটা নেতিবাচক প্রভাব তো পরবেই।

ইটিভি অনলাইনঃ বাংলাদেশে আমদানি করা বাইকের ওপর শুল্ক হার বেশি। গ্রাহকেরা অনেকদিন থেকেই এই হার কমানোর দাবি জানিয়ে আসছে। আপনারা আমদানিকারক হিসেবে কী উদ্যোগ নিচ্ছেন?

ড. এফ এইচ আনসারীঃ আমরাও চাই আমদানি শুল্ক কমানো হোক। বাংলাদেশে সাধারণ নাগরিকদের জন্য ১৫৫ সিসি ক্ষমতা সম্পন্ন বাইক আমদানি করার অনুমতি আছে। বাইরে থেকে এমন একটি বাইক আনতে হলে প্রায় ১৫২ শতাংশ (১৫১.৭৫%) পর্যন্ত আমদানি শুল্ক দিতে হয়। আমরা সরকারের বিভিন্ন স্তরে কথা বলেছি। এই শুল্কের পরিমাণ ১২০ শতাংশে নামিয়ে আনার দাবি জানিয়েছি আমরা। আমরা আশাবাদি যে, সরকার এবারে বাজেটে বিষয়টি বিবেচনা করবেন।

ইটিভি অনলাইনঃ স্কুটি ধরনের মোটর বাইক বাংলাদেশে বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। কিন্তু এগুলোর জন্যও উচ্চ হারে আমদানি শুল্ক দিতে হয়। প্বার্শবর্তী দেশ ভারত থেকে আসলেও সেখানকার দামের থেকে আমাদের বাজারে সেগুলোর দাম অনেক বেশি। এর কারণও কী আমদানি শুল্ক?

ইটিভি অনলাইনঃ জ্বী আসলেই তাই। উচ্চ হারের আমদানি শুল্কের জন্যই এই দামের তারতম্যটা হয়। আমাদের দেশে সিকেডি বাইকের ক্যাটাগরিতেই স্কুটি আমদানি করা হয়। এরজন্য স্কুটির জন্যও উচ্চ হারে আমদানি শুল্ক দিতে হয়। আপনি যদি ভারতের দিকেই নজর দেন তাহলে দেখবেন যে, সেখানে স্কুটিকে এক ধরনের সাইকেল মনে করা হয়। ভারতে স্কুটি চালাতে কিন্তু ড্রাইভিং লাইসেন্স এর প্রয়োজন হয় না। কিন্তু আমাদের দেশে তা প্রয়োজন হয়।

আমরা সরকারের কাছে আরজি জানিয়েছি যে, স্কুটিকে যেন অন্য সিকেডি বাইকের ক্যাটাগরি থেকে আলাদা বিবেচনা করা হয়। এই স্কুটি এমনিতেও হালকা ধরনের বাহন। এগুলোর ওপর আমদানি শুল্ক কমিয়ে আনা হলে এগুলো আরও বেশি বাজার দখল করতে সক্ষম হবে।

ইটিভি অনলাইনঃ বাজেটের বাইরে ভিন্ন প্রসঙ্গে একটু আসি। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে মোটর বাইকের বাজার এখন কেমন?

ড. এফ এইচ আনসারীঃ প্রকৃত অর্থে মোটর সাইকেল বাজারের উন্নতি হয়েছে। এখন প্রতি বছর সাড়ে তিন লক্ষের ওপর ইউনিট পর্যন্ত বাইক বিক্রি হয়েছে। যা তিন বছর আগে ছিল মাত্র দুই লাখের ঘরে। শুধু গত ১ বছরেই এই ইন্ডাস্ট্রি ৬০ ভাগের বেশি বড় হয়েছে। এই ইন্ডাস্ট্রি আরও দ্রুত গতিতে বৃদ্ধি পাবে।

আর এর কারণটা হচ্ছে যে, আমাদের দেশের রাস্তাঘাট যেভাবে বৃদ্ধি ও সংস্কার হচ্ছে, অর্থনৈতিক উন্নয়ন হচ্ছে আর এদেশের যুব সমাজ যে স্বপ্ন দেখে সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে মোটরসাইকেল সাহায্য করবে। আর যুবসমাজ সেই সাহায্য পেতেও মোটর সাইকেল ব্যবহার করবে। আমরা অনুমান করছি যে, ২০২০ সাল নাগাদ বাংলাদেশে মোটর সাইকেলের বাজার প্রতি বছর ১০ লক্ষ ইউনিটে পরিণত হবে।

ইটিভি অনলাইনঃ কিন্তু যেখানে দেশে সংযোজনকৃত বাইকের থেকে আমদানি করা বাইকের ওপর আরোপিত শুল্কের হার বেশি সেখানে বাজার আপনাদের জন্য কতটা চ্যালেঞ্জিং?

ড. এফ এইচ আনসারীঃ বাজার অবশ্যই চ্যালেঞ্জিং। তবে যেহেতু সার্বিক খাতেরই উন্নয়ন হচ্ছে সেহেতু আমাদের জন্যও একটি বড় বাজার আছে। এই উন্নতি করতে সরকারও বেশ ইতিবাচক পদক্ষেপ নিচ্ছে। দেশের মোটর বাইক ইন্ডাস্ট্রির সম্প্রসারণে দেশীয় প্রস্তুতকারকদের জন্য কর এর ক্ষেত্রে বেশ সুবিধা দেওয়া আছে কথা ঠিক। এতে দেশে মোটর সাইকেলের সংখ্যাটা বেড়ে যাবে। তবে আমি মনে করি যে, ম্যানুফ্যাকচারিং (প্রস্তুত করা) তো আসলে সহজ কথা না। এখন যেসব কারখানা আছে তা তো সংযোজন করে। মূল ম্যানুফ্যাকচারিং বলতে যা বোঝায় অর্থ্যাত যন্ত্রপাতি বিশেষ করে ইঞ্জিন তৈরি করা, তা তো এখানে হয় না। শুধু সংযোজন হয়। সংযোজন কারখানা তৈরি করা তো খুব কঠিন কিছু না। ২০ থেকে ২৫ কোটি টাকা হলেই এই সংযোজন কারখানা চালু করা যায়। তাই আমি বলব যে, শুধু ম্যানুফ্যাকচারিং এর প্রতি গুরুত্ব না দিয়ে পুরো ইন্ডাস্ট্রিটাকে আগে বড় হতে দেওয়া উচিত। স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে যে ছাড় দেওয়া হচ্ছে তা যদি সবার ক্ষেত্রে দেওয়া হয় তাহলে কিন্তু পুরো ইন্ডাস্ট্রিটাই বড় হতো। এতে করে কিন্তু স্থানীয় প্রতিষ্ঠান বা প্রস্তুতকারকদের কোন ক্ষতি হতো না। বরং ইন্ডাস্ট্রি বড় হলে এখন যারা আমদানি করছেন তারাও একসময় ম্যানুফ্যাকচারিং-এ চলে আসবে।

ইটিভি অনলাইনঃ বিদেশী কিছু বাইকের ব্র্যান্ড দেশেই এখন বাইকের যন্ত্রাংশ সংযোজন করে। এছাড়াও দেশীয় কয়েকটি ব্র্যান্ড-ও দেশে কারখানা স্থাপন করেছে। তাদের সাথে প্রতিযোগিতা কীভাবে মোকাবেলা করবে ইয়ামাহা?

ড. এফ এইচ আনসারীঃ এখানে একটা বিষয় আছে যে প্রতিটা বাজারেরই সেগমেন্ট (স্তর) আছে। ইনিশিয়াল স্টেজ আছে (প্রাথমিক স্তর), আপার সেগমেন্ট (মাধ্যমিক স্তর) এবং প্রিমিয়াম সেগমেন্ট আছে। আমাদের ইয়ামাহা বাইক এই প্রিমিয়াম কোয়ালিটির। আমাদের বাইকগুলো হাইটেক। অর্থ্যাত এতে উন্নত প্রযুক্তির সন্নিবেশ করা হয়েছে। আমরা বাজার যাচাই করে দেখেছি যে, আমাদের বাইকের প্রতি যুব সমাজের একটি আলাদা আগ্রহ আছে। তারা অন্যদের থেকে একটু আলাদা থাকতে চায়। বাইকের দাম যেমনই হোক তারা সেটা কিনবে। সেই দিক থেকে আমাদের জন্য বড় একটি বাজার রয়েছে।

ইটিভি অনলাইনঃ তাহলে কী ইয়ামাহা মধ্যবিত্ত বাজেটের গ্রাহকদের উপেক্ষা করছেন না?

ড. এফ এইচ আনসারীঃ আপনি অনেক সঠিক একটা কথা বলেছেন। বিষয়টার সাথে আপনার প্রশ্ন অনেক কাছাকাছি যায়। তবে বাস্তবতা হচ্ছে যে, বাংলাদেশের বাজারে আমাদের অভিজ্ঞতা মাত্র এক বছর। এই মুহুর্তেই আমাদের মিড বাজেটের দিকে যাওয়ার পরিকল্পনা নেই। তবে ভবিষ্যতে আছে। সামনে স্কুটার নিয়ে আমাদের কাজ করার পরিকল্পনা আছে। তবে সেটা এখনই নয়।

বাংলাদেশে ইয়ামাহার বিগত কয়েক দশকের ফলাফল খুব একটা ভালো না। আমরা বাজারে আসলাম। প্রিমিয়াম সেগমেন্টে এখন আমাদের দখল সাত থেকে নয় শতাংশ। এই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে আমরা প্রিমিয়াম সেক্টরে আরও ভালো কিছু করতে চাই। তারপর মিড বাজেট নিয়ে আমরা ভাববো।

আমরা আসলে মোটর সাইকেলের ব্যবসা করি না। মানুষের জীবন যাত্রার মান উন্নয়নে আমরা কাজ করি। আর মোটর সাইকেল সেই মান উন্নয়নের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান ও অংশ। আমরা চাই পুরো সমাজে এটা ছড়িয়ে এক্ষেত্রে আপনারা গণমাধ্যম আমাদের কাজ সহজ করছেন। এর জন্য আপনাদের প্রতি আমাদের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা।

ইটিভি অনলাইনঃ এসিআই এর কী বাংলাদেশে মোটর বাইক প্রস্তুত করার কারখানা স্থাপনের কোন পরিকল্পনা আছে কী না? এসিআই এর মাধ্যমেই কী বাংলাদেশে ইয়ামাহার বাইক প্রস্তুত হতে পারে?

ড. এফ এইচ আনসারীঃ এই বিষয়টি নিয়ে আমরা ইয়ামাহার সাথে কথা বলেছি। তবে আমাদের বা ইয়ামাহার কারোরই তেমন কোন পরিকল্পনা এখনই নেই। এখানে একটা জিনিস বুঝতে হবে যে, ইয়ামাহা কিন্তু অনেক বড় একটা সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট (সরবরাহ ব্যবস্থাপনা) পদ্ধতি অনুসরণ করে। ইয়ামাহার অনেক যন্ত্রাংশ আছে যা অন্য প্রতিষ্ঠান তৈরি করে। সেগুলো সাথে নিয়ে এই বিশাল সাপ্লাই চেইন বাংলাদেশে এনে বাইক প্রস্তুত করা এখনই সম্ভব না। তবুও আমরা তাদের সাথে কথা বলেছিলাম এই বিষয়ে। আমরা এখনও কোন অনুমোদন পাইনি। অনুমোদন পেলে পরবর্তী ধাপে কাজ হবে।

ইটিভি অনলাইনঃ  ইয়ামাহার প্রতি অনেক বাইকারের চাওয়া যে, ইয়ামাহার বাইকগুলোর মাইলেজ কম। আপনারা কী ইয়ামাহার প্রস্তুতকারকদের সাথে এই বিষয়টি নিয়ে কোন আলোচনা করবেন? ইয়ামাহার কী তাদের মাইলেজ বাড়ানোর দিকে আগ্রহ আছে?

ড. এফ এইচ আনসারীঃ আমাদের বাইকগুলো যারা চালান তাদেরকে নিয়ে ‘রাইডার্স ক্লাব’ আছে। তাদের মতামত আমরা নেই। সম্প্রতি হাইওয়েতে রাঙ্গামাটি পর্যন্ত বাইক চালিয়ে তারা একটি প্রতিবেদন দিয়েছে যে, ইয়ামাহার বাইকের মাইলেজ ঠিক আছে। তবে এখানে আরও কতগুলো বিষয় আছে। যিনি বাইক চালাচ্ছেন তাঁর বাইক চালানোর ধরণ, তেলের গুণগত মান এসব কিছুর ওপর মাইলেজ বাড়তে বা কমতে পারে। আমরা চালকদের বাইক চালানোর ধরণ আরও উন্নত করতে প্রশিক্ষণের আয়োজন করে থাকি। নিয়মিতভাবে এই প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

ইটিভি অনলাইনঃ বাংলাদেশে রাইড শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম এখন বেশ জনপ্রিয়। এর কারণে বাইক বিক্রির সংখ্যাও বেশ বেড়েছে। আপনি বিষয়টিকে কীভাবে মূল্যায়ন করেন?

ড. এফ এইচ আনসারীঃ আমি মনে করি বাংলাদেশের মতো দেশে রাইড শেয়ারিং প্ল্যাটফর্মগুলো খুবই দরকার। দেশের উন্নয়নের জন্যই দরকার। দেখেন আমরা যে স্বপ্ন দেখি তা বাস্তবায়নের জন্য চাই গতি ও যোগাযোগ। এই গতি আর যোগাযোগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে এই খাত। আমরা বাঙ্গালিরা জাতি হিসেবে অনেকটা অন্তর্মুখী। সে দিক থেকে আমরা যে এই সংকোচ থেকে বের হয়ে এই প্ল্যাটফর্ম তৈরি করতে পেরেছি এটা বেশ ইতিবাচক দিক। এই প্ল্যাটফর্মগুলো আসলে আমাদের দেখাচ্ছে যে, জীবন কী! আমরা কত দূর যেতে পারি সেটি তারা দেখিয়েছে। সফলতা আসলে সেটাকে কীভাবে মূল্যায়ন করা যায় তাও বুঝিয়েছে। এটা কিন্তু জীবনের অংশ। আর আমাদের ইন্ডাস্ট্রির জন্যও এই খাত বেশ গুরুত্বপূর্ণ। আমার মনে হয় তারা পশ্চিমাদের সাথে টক্কর দিচ্ছে। তাই আমি এই বার্তা দেব যে, আমরা সবাই যেন এটিকে সমর্থন দেই। এটিকে আরও পৃষ্ঠপোষকতা করি।

ইটিভি অনলাইনঃ অনুমোদনবিহীন ইয়ামাহা মোটর সাইকেল বাজারে বিক্রি হওয়ার অভিযোগ আছে। বিশেষ করে সীমান্তের ওপার থেকে অবৈধ পথে বাইক আসে যার মূল্য বাজার মূল্য থেকে অনেক কম। তাই অনেকেই এগুলো কিনে থাকেন। এগুলো আপনাদের ব্যবসার প্রতি কেমন প্রভাব ফেলছে। আর এই পরিস্থিতি মোকাবেলায় আপনারা কী ব্যবস্থা নিচ্ছেন?

ড. এফ এইচ আনসারীঃ এর প্রভাব বেশ ভয়াবহ। কারণ ইয়ামাহা খুবই হাইটেক ধরণের বাইক যা আমি আগেও বলেছি। এখন ধরেন কেউ একজন বাইরে থেকে নিম্ন মানের পার্টস সংযোজন করে বাংলাদেশে এনে বিক্রি করলেন। এখন বাইকে যখন কয়দিন পর সমস্যা দেখা দিবে তখন এর দায়ভার কে নিবে? সবাই তো বলবে যে, ইয়ামাহা মোটর বাইক খারাপ। কারণ এর গায়ে ইয়ামাহার নাম লেখা আছে। এতে করে কিন্তু যিনি বাইকটি কিনছেন আর আমরা যারা এর অনুমোদিত আমদানিকারক; আমরা দুই পক্ষই ক্ষতিগ্রস্ত হলাম। ঐ গ্রাহক প্রতারিত হলেন আর আমাদের সুনাম ক্ষুণ্ণ হলো।

এছাড়াও এতে করে কিন্তু প্রযুক্তিও অনুৎসাহিত হলো। একটি জাতি হিসেবে আমাদের উচিত প্রযুক্তির প্রতি ক্ষুধা থাকা। আর যে প্রযুক্তিটা সঠিক তার মূল্য দেওয়া। আমি মনে করি এসব অবৈধ, অনুমোদনহীন বাইকের বাজার পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া উচিত। কারণ আমরা কেউই চাই না প্রতারিত হতে। আর যারা এসব বাইক আনছেন তারা এগুলো এনে বাজারে থাকতে পারবে না। কারণ মাঝখানের চার বছর এদেশে ইয়ামাহার অনুমোদিত আমদানিকারক ছিল না। তাই কিছু কিছু এসেছে। কিন্তু এখন তো আমরা আছি। তাই তারা এগুলো এনেও টিকতে পারবে না।

আর এসব অবৈধ বাইক বিক্রির জন্য আমরা উচ্চ আদালতে ইতোমধ্যে রিট করেছি। সেখান থেকে ইতিবাচক ফলাফল পাচ্ছি আমরা। মাঝখানে রাজধানীর বেশ কয়েকটি জায়গায় আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী এসব অবৈধ মোটর বাইকের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছে। তো আইনী প্রক্রিয়া নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি গ্রাহক যদি একটু সচেতন হন তাহলে এই অবৈধ মোটর সাইকেলের বাণিজ্য একেবারে কমে আসবে। গ্রাহককে বুঝতে হবে যে, তিনি অল্প দামে যে বাইক কিনছেন তা অবৈধ। এটি যদি আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে পরে তাহলে কিন্তু সে তার বাইকটি হারাবে। পাশাপাশি বাইকের যদি কোন ধরনের যান্ত্রিক সমস্যা দেখা দেয় তার জন্য কোন ধরনের সেবা কিন্তু তারা আমাদের থেকে পাবেন না। গ্রাহক সচেতন হলে এটি একে বারেই কমে যাবে।  

/ এআর /      

© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি