ঢাকা, সোমবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০:৩২:১৫

কৃষিতে বিনিয়োগ-কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা ব্যাপক: ইলিয়াস মৃধা

কৃষিতে বিনিয়োগ-কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা ব্যাপক: ইলিয়াস মৃধা

বাংলাদেশ বিশ্বের সর্বাধিক জনবহুল দেশ। এটি কৃষিনির্ভর দেশ হিবেসেও বিশ্বখ্যাত। এদেশের মোট জনসংখ্যার শতকরা ৮০ ভাগ এবং শ্রমশক্তি ৬০ ভাগ কৃষি কাজে নিয়োজিত। দেশের সার্বিক উন্নয়নের জন্য কৃষি উন্নয়ন, কৃষিভিত্তিক শিল্প ও বাণিজ্যের উন্নয়ন করা দরকার। দেশে কৃষি খাতে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে। সরকারি-বেসরকারি ভাবে বহুমুখী উদ্যোগ নিলে সমৃদ্ধ হবে বাংলাদেশ-এমনটাই মনে করেন প্রাণের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইলিয়াস মৃধা। সম্প্রতি একুশে টিভি অনলাইনকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা জানান। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন একুশে টিভি অনলাইন প্রতিবেদক তবিবুর রহমান। একুশে  টিভি অনলাইন: কৃষি খাতকে এগিয়ে নিতে করনীয় কি? ইলিয়াস মৃধা: কৃষি খাতে উন্নতির জন্য আমাদের দু’টি দিকে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। এক অর্থকরী ফসল উৎপাদনের দিকে মন দিতে হবে। দুই বিজ্ঞানভিক্তিক কৃষিকে প্রাধান্য দিতে হবে। সঙ্গে সঙ্গে কৃষকদের শ্রমের মানসস্মত মুজরি নির্ধারণ করতে হবে। না হলে এ পেশায় আগামীতে লোক খোঁজে পাওয়া যাবে না। লোক সংকট নিয়ে কৃষি খাতকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে না। আগের থেকে কিছুটা হলেও কৃষি খাত উন্নতি লাভ করছে। আগে আমার গরু দিয়ে জমি চাষ করতাম। এখন আমরা যন্ত্রের মাধ্যমে জমি চাষ করি। কৃষিকে বিকেন্দ্রীকরণ করতে পারলে এবং উৎপাদিত ফসলকে যদি প্রক্রিয়াজাতকরণ করতে পারি। তাহলে কৃষি খাতের প্রসারতা বাড়বে। সৃষ্টি হবে নতুন নতুন কর্মসংস্থান। তবে খাদ্যশস্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা, মোট জাতীয় উৎপাদনে বিপুল অবদান এবং সর্বাধিকসংখ্যক কর্মসংস্থানের উৎস হওয়া সত্ত্বেও দেশের সার্বিক চাহিদা ও কৃষির বর্তমান উৎপাদনের মধ্যে এখনও বিপুল পার্থক্য রয়েছে। বিষয়টি দেশের প্রধান প্রধান আমদানি দ্রব্যের তালিকায় নজর দিলে বিষয়টি আরো সুস্পষ্টভাবে বোঝা যায়। দেশের কৃষি খাতে প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে, তবে কিছুটা প্রতিবন্ধকতাও রয়েছে। এসব প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে উঠতে পারলে আমরা কৃষির প্রকৃত স্বাদ পেতে পারি। কৃষির সম্ভাবনা বলতে, মোট জাতীয় উৎপাদনে একক বৃহত্তম খাত হিসেবে কৃষিই সর্বাধিক অবদান রাখছে, শস্য উৎপাদন পদ্ধতি ব্যাপকভাবে শ্রমঘন এবং কৃষি খাতে বিদ্যমান উদ্বৃত্ত শ্রমশক্তি, দক্ষ ও অদক্ষ জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান কৃষি খাতই বৃহত্তম উৎস, বছরব্যাপী বিদ্যমান অনুকূল প্রাকৃতিক পরিবেশ, জৈব বৈচিত্র্যের ব্যাপক সমাহার, বিভিন্ন প্রজাতির শস্য এবং কৃষিজ উৎপন্ন হলো আমিষ, খনিজ ও ভিটামিনের প্রধান উৎস এবং সর্বোপরি কৃষিজাত উৎপন্নের ক্ষেত্রে অন্যান্য উৎপাদনের চেয়ে অধিকতর মূল্য সংযোজনের সুযোগ রয়েছে। আবার প্রতিবন্ধকতার মধ্যে রয়েছে, কৃষি ব্যবস্থা প্রকৃতির খেয়াল খুশির ওপর নির্ভরশীল এবং ঝুঁকিপূর্ণ, আবাদযোগ্য ভূমির লভ্যতা ক্রমাগতভাবে কমে যাচ্ছে, কৃষিতে নিয়োজিত জনগোষ্ঠীর মধ্যে বিদ্যমান ব্যাপক দারিদ্র্য, কৃষি কাজের অন্য প্রয়োজনীয় মূলধনের অভাব, কৃষকদের আর্থ-সামাজিক অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে উপযুক্ত আধুনিক প্রযুক্তির স্বল্পতা, অনুন্নত ও দুর্বল বাজার ব্যবস্থার কারণে কৃষিপণ্যের উপযুক্ত মূল্যপ্রাপ্তির ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা, কৃষিজ উৎপন্নসমূহ দ্রুত পচনশীল এবং ফসল-পরবর্তী ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা অত্যধিক এবং ফল এবং শাক-সবজিসহ বিভিন্ন কৃষিজ উৎপন্নের পুষ্টিমান সমন্ধে সাধারণ মানুষের সীমাবদ্ধ জ্ঞান। এসব প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে উঠতে সরকারি বা বেসরকারি পর্যায়ে দায়িত্ব নিয়ে কাজ করতে হবে। কৃষিকে প্রাধান্য দিয়ে পরিকল্পনা করতে হবে। শুধুমাত্র ব্যক্তি পর্যায়ের বা কৃষক পর্যায়ের খাত বললে একে, ভুল বলা হবে। কৃষির উন্নয়নে এখন প্রাতিষ্ঠানিক জ্ঞান ব্যবহার করা করতে হবে। বৈচিত্র্য আনতে হবে কৃষিতে। প্রযুক্তি প্রসারতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে মানুষের রুচির পরির্বতন আসছে। এসব বিষয় মাথায় রেখেই কৃষি প্রক্রিয়াজাত করতে হবে। তাহলে আমরা সারা বছর মৌসুমী ফল খেতে পারবো। যেমন আমের মৌসুমে আম খেতে পারি। পরে আমের তৈরি আচার খেতে পারবো। সারা বছর আমের জুস খেতে পারবো। এমন অবস্থা সৃষ্টি করতে পারলে আমরা দুই দিন থেকে সুবিধা লাভ করতে পারবো। একদিকে সারাবছর  মৌসুমী ফলের স্বাদ নিতে পাচ্ছি। অন্যদিকে দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রপ্তানি করতে পারবো। বৈদেশিক আয়ের অর্থ দিয়ে আমরা কৃষিকে আরও সমৃদ্ধ করতে পারবো। একুশে টিভি অনলাইন : দুধে দেশকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করার লক্ষ্যে করণীয় কি? ইলিয়াস মৃধা: বাংলাদেশে দুধের ব্যাপক ঘাটতি রয়েছে। এখনও গুড়া দুধ প্রচুর পরিমাণে আমদানি করতে হচ্ছে। আমাদের দেশের মানুষের পুষ্টি চাহিদা মেটাতে যে পরিমান দুধ প্রয়োজন সে পরিমাণ দুধ আমরা যোগান দিতে পারি না। বাধ্য হয়েই বিদেশ থেকে গুড়া দুই নিয়ে আসতে হয়। আমরা বিদেশ থেকে গাভী নিয়ে আসতে পারি বা আমাদের দেশে আবহাওয়ার সঙ্গে বসবাস করতে পারবে এমন গাভী পালন করতে পারি। তাহলে একদিন দুধের  চাহিদা মেটাতে সক্ষম হবে বাংলাদেশ। ইতোমধ্যে আমরা দেশি গরু দিয়ে কোরবানির পশুর চাহিদা মেটাতে সক্ষম হয়েছি। আশা করি আমরা যদি এমন পদক্ষেপ নিতে পারি বিদেশ থেকে আর দুধ আমদানি করতে হবে না। একুশে টিভি অনলাইন: কৃষি খাতে রফতানি বাড়াতে কি কি পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে? ইলিয়াস মৃধা: কৃষি খাতে রফতানি বাড়তে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। ভারতের সঙ্গে যে অশুল্ক বাজার রয়েছে সেটা যদি সমধান করা যায় তাহলে রফতানি আরও বাড়বে। এছাড়া জিরো ডিগ্রী শর্তে যেসব দেশগুলো রফতানি সুযোগ দিয়ে থাকে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা যেতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র আমাদের পোষাক শিল্পে জিএসপি দিচ্ছে না। তবে আমার যদি কৃষি পণ্যে জিএসপি সুবিধা নিতে পারি। কৃষিকে আমরা আরও এগিয়ে নিতে পারবো। সরকার যে ১০০টিরও বেশি শিল্প অঞ্চল করার উদ্যোগ নিয়েছেন।  এর সঙ্গে যদি কৃষিকে প্রধান্য দিয়ে শিল্প অঞ্চল তাহলে আরও বেশি উন্নতি ভালো করতে সক্ষম হবো। এবং স্বল্প সুদে ঋণ দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। একুশে টিভি অনলাইন: আপনার মূল্যবান সময় দেওয়া জন্য ধন্যবাদ। ইলিয়াস মৃধা: একুশে পরিবারকেও ধন্যবাদ। টিআর / এআর          
বিশ্ববাজারে প্রাণের চাহিদা বাড়ছে (ভিডিও)

বৈচিত্র্যময় পণ্যসম্ভার নিয়ে দেশের বাজারে নিজের অবস্থান পাকাপোক্ত করেছে প্রাণ গ্রুপ। একই সঙ্গে তাদের দৃষ্টি ছিল আন্তর্জাতিক বাজারের দিকেও। বাংলাদেশি বহুজাতিক কোম্পানি হিসেবে প্রতিযোগিতামুখর বৈশ্বিক বাজারে ঠাঁই করে নেওয়ার লক্ষ্যে যাত্রা শুরু প্রাণ গ্রুপের। সেই লক্ষ্যে উদ্ভাবন ও মানোন্নয়নে মনোযোগী হয় তারা। ইতোমধ্যে তাদের লক্ষ্য পূরণ করতে সক্ষম হয়েছে। আগামী দিনগুলোতে বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে তাদের অবস্থা জানান দিতে চায়। অনেক বেকার যুবকের কর্মসংস্থান তৈরি করতে চায় গ্রুপটি। বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করে দাড়াতে চায়। ১৯৯৬ সালে রফতানি কার্যক্রম শুরুর পর বর্তমানে ১৪১টি দেশে নিয়মিত রফতানি হচ্ছে প্রাণের পণ্য। আগামী কয়েক বছরের মধ্যে প্রাণ বিশ্বের সব দেশে পণ্যসামগ্রী পৌঁছাবে বলে আশাবাদ প্রকাশ করেছে প্রাণের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইলিয়াস মৃধা। সম্প্রতি একুশে টিভি অনলাইনকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে প্রাণের ব্যবস্থাপনার পরিচালক এই আশা ব্যক্ত করেন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন একুশে টিভি অনলাইন প্রতিবেদক তবিবুর রহমান। একুশে টিভি অনলাইন: প্রতি বছর কত তরুণের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে প্রাণ? ইলিয়াস মৃধা: বাংলাদেশের অন্যতম বড় প্রতিষ্ঠান প্রাণ-আরএফএলের পণ্য দেশের সীমা ছাড়িয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রফতানি হচ্ছে। ফলে তরুণ চাকরি প্রত্যাশীদের কাছে প্রাণ-আরএফএল গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রতিষ্ঠান। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির কর্মীসংখ্যা প্রায় এক লক্ষ। প্রতি বছর এখানে অনেক লোক নিয়োগ পান। বছরে ১২ হাজার তরুণ প্রাণ কোম্পানিতে চাকরি নেন। আর এই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি সংবাদপত্রে ও চাকরির বিভিন্ন ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়। একুশে টিভি অনলাইন: নতুন উদ্যোক্তা তৈরিতে আপনার পরামর্শ কি? ইলিয়াস মৃধা: পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের নতুন উদ্যোক্তা তৈরিতে সরকারি-বেসরকারিভাবে অনেক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করানো হয়। নতুন কোন শিল্প তৈরি করার ক্ষেত্রে কি কি সমস্যা পড়তে হয়। কিভাবে টাকা যোগান দিবেন। কত পরিমাণ টাকা ব্যাংক থেকে পাবেন। নিজে কিভাবে সামনের দিকে এগিয়ে যাবেন। এ বিষয় নতুন উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়। আমাদের দেশেও এমন করা যেতে পারে। নতুন উদ্যোক্তার যারা তৈরি হবে তাদেরকে যদি বিভিন্ন শিল্প-কারখান পরিদর্শন করার সুযোগ দেওয়া যায়। তাহলে দেশে নতুন উদ্যোক্তা তৈরি হবে বলে আমার মনে হয়। এছাড়া প্রতিষ্ঠানিকভাবে নতুন উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা যায়। দেশের ব্যাংকগুলো থেকে সহজ শর্তে ঋণ সুবিধা দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। একুশে টিভি অনলাইন: নতুন উদ্যোক্তা তৈরি করার জন্য প্রতিষ্ঠানিক বাজারমুখী বা কর্মমূখী শিক্ষার প্রয়োজন আছে কি? ইলিয়াস মৃধা: আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা আগের থেকে অনেকটা উন্নতি লাভ করেছে। তবে আমার মনে হয় শিল্পকে এগিয়ে নিতে হলে অবশ্যই শিক্ষার্থীদের বাস্তবমূখী শিক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে। শিক্ষক হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকের পাশাপাশি যারা শিল্প পরিচালনা করে তাদেকেও শিক্ষক হিসেবে রাখা যেতে পারে। তাহলে শিক্ষার্থীরা বাস্তবমূখী শিক্ষা অর্জন করতে পারবে। বর্তমানে যারা সিলেবাস তৈরি করছেন তারা শিল্পের বর্তমান অবস্থান জানেন না। তার যদি শিল্প-কারখানে পরিদর্শন করে। শিল্পপতিদের সঙ্গে আলোচনা করে যদি সিলেবাস তৈরি করেন। তাহলে মনে হয় অনেক ভালো হবে। এছাড়া শিল্প-কারখানা তৈরি করার জন্য কি কি দরকার তা যদি পাঠ্যবইয়ে যুক্ত করা যায়। তাহলে সুবিধা লাভ করা যায়। আমরা যারা শিল্প-কারখান পরিচালনা করি তাদের জন্য সুবিধা হবে। বর্তমানে যে শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয় পাশ করে বের হয়ে তিন থেকে চার বছর তাকে আমাদের প্রশিক্ষণ দিয়ে হয়। যদি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে এসব বিষয় পড়ালেখা করে আসতো তাহলে আবার নতুন করে পড়াশোনা করতে হতো না। একুশে টিভি অনলাইন: আমাদের দেশের কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যেসব শিক্ষার্থীরা পাশ করে বের হয়ে চাকরির বাজারে আসছেন, তারা কেমন প্রভাব ফেলছে ? ইলিয়াস মৃধা: তার অনেক ভালো করছে। তার বিভিন্ন সময় আমাদের কারখানাগুলো পরিদর্শন করছে। কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আমাদের সঙ্গে বসে তাদের সিলেবাস তৈরি করছে। তবে বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থায় কৃষিকে তেমনভাবে যুক্ত করা হয়নি। যে সব শিক্ষার্থীরা এম বিএ শেষ করে এসে তাদের যে ব্যাংক ও বিমা পড়ানো হচ্ছে। কিন্তু  কৃষির ওপর কেন হচ্ছে না আমার বুঝে আসে না। একুশে টিভি অনলাইন: আপনার মূল্যবান সময় দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ। ইলিয়াস মৃধা: একুশে টিভি পরিবারকেও ধন্যবাদ।     এসএইচ/

ইয়াবার চেয়েও ভয়ানক মাদক ‘খাত’: ডা. অরূপ রতন চৌধুরী

সর্বগ্রাসী মাদক শেষ করে ফেলছে এদেশের তরুণ প্রজন্মকে। স্কুল-কলেজ, শহর-নগর, গ্রাম-গঞ্জ, সর্বত্রই এখন মাদকের ছড়াছড়ি। এ অবস্থায় দেশকে মাদক মুক্ত করতে শুরু হয়েছিল মাদক বিরোধী অভিযান। এখনো দেশের বিভিন্ন এলাকায় চলছে এ অভিযান। এর মাঝেই দেশে ‘খাত’ নামে নতুন এক মাদকের আবির্ভাব ঘটে। যা নিয়ে শঙ্কিত এদেশের মানুষ। এ বিষয়ে একুশে টেলিভিশন অনলাইনের সঙ্গে কথা বলেছেন ডা. অরূপ রতন চৌধুরী। যিনি দীর্ঘ ত্রিশ বছর ধরে ধুমপান ও মাদক নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন, নিজের পেশার বাহিরে এসে সমাজকে বদলে দেওয়ার চিন্তায়, এ দেশের যুব সমাজকে রক্ষায় নিরলসভাবে এখনো কাজ করে যাচ্ছেন।    একুশে টিভি অনলাইনের সঙ্গে আলাপ-চারিতায় নতুন মাদক ‘খাত’এর ভয়াবহতা ও মাদক নির্মূলে করণীয় সম্পর্কে বিস্তারিত কথা বলেছেন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আউয়াল চৌধুরী। ইটিভি অনলাইন: দেশে মাদক বিরোধী অভিযান চলছে এর মাঝেই ‘খাত’ নামে নতুন একটি মাদকের নাম ওঠে এসেছে। এই মাদকটি সম্পর্কে জানতে চাই? ডা. অরূপ রতন চৌধুরী: বাংলাদেশে মাদকের যে সমস্যা তা ইতোমধ্যে সরকার নির্ধারণ করেছে। মাদক বিরোধী যেসব সংগঠন কাজ করে তারাও এই সমস্যা চিহ্নিত করেছে। ফলে সরকার এখন জিরো টলারেন্সে আছে এবং মাদক বিরোধী অভিযান চলছে। কিন্তু সাম্প্রতিক কালে যে নতুন মাদকটি ধরা পড়েছে যেটিকে আমরা `খাত` বলছি, সেটা সম্পূর্ণ নতুন ধরনের মাদক। কয়েকদিন আগে যে চালানটি ধরা পড়ল তাতে আমরা জানতে পারলাম এমন একটি মাদক দেশে এসেছে। ইটিভি অনলাইন: এ মাদকের উৎপত্তি কোথায়? ডা. অরূপ রতন চৌধুরী: মাদকটি ইথিওপিয়া, সোমালিয়া এসব আফ্রিকান দেশে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। ওই সব দেশের আশি-নব্বই ভাগ লোক মাদকটি সেবন করে থাকে। মাদকটি সাম্প্রতিক সময়ে আমাদের দেশে এসেছে এমনটি বললে ভুল হবে। গবেষণায় দেখা গেছে, গত কয়েক বছর যাবৎ মাদকটি এদেশে আসছে। আমাদের অনুসন্ধান টিম বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কিন্তু এখনো পর্যন্ত এটা আবিষ্কার করতে পারেনি। মাত্র গত সপ্তাহে আবিষ্কার হল যে মাদকটি আসছে। ইটিভি অনলাইন: ‘খাত’ মাদকে কী ধরনের ক্ষতি হতে পারে? ডা. অরূপ রতন চৌধুরী: নতুন এই মাদকটি দেখতে চায়ের মতো। এর নাম দেওয়া হয়েছিল ‘টি’ সেহেতু এটাকে মাদক হিসেবে চিহ্নিত করা যায়নি। মাদক সাধারণত পাউডার জাতীয় হয়। ইয়াবা যে একটা ট্যাবলেট, সেটা চিহ্নিত করা গেছে। কিন্তু নতুন এই মাদকটি চিহ্নিত করা যায়নি। এটিকে ‘নিউ সাইকোট্রফিক সাবস্ট্যানসেস’, সংক্ষপে এনপিএস বলা হয়। মাদকাসক্তদের কাছে এর নাম হচ্ছে ‘খাত’ বা ‘খাট’।   মাদকটি কিন্তু ইয়াবার চেয়ে ভয়ংকর। বৈজ্ঞানিকভাবে দেখা যায় ইয়াবার যেসব গুণাগুণ রয়েছে যেমন যৌন উত্তেজনা সৃষ্টি, তিন চারদিন ঘুম না হওয়া, খিদে না লাগা বা শুকিয়ে যাওয়া- এসব উপসর্গ কিন্তু নতুন `খাত` মাদকটিতে রয়েছে। দেখা যাচ্ছে মাদকটি ইয়াবার সমসাময়িক। `খাত` মাদকটিও জনপ্রিয় হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে। আন্তর্জাতিক মাদক পাচারকারীদের যে চক্র, ড্রাগস ডিলার্স রয়েছে তারা কিন্তু বুঝতে পারছে বাংলাদেশ সরকারের মাদক নির্মূলের পরিকল্পনা রয়েছে। ইতোমধ্যে মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের যৌথ কমিটি হয়েছে। দীর্ঘদিন যাবৎ বৈঠক চলছে। এমন সিদ্ধান্ত হচ্ছে যেন দুই দেশে এমন মাদক আর না আসে। এটা বুঝতে পেরেই কিন্তু মাদক চক্র এখানে মাদক প্রবেশ করাচ্ছে।   ইটিভি অনলাইন: কিভাবে আমরা এই মাদক থেকে বের হয়ে আসতে পারি। ডা. অরূপ রতন চৌধুরী: নতুন যে মাদকটি আসছে সেটি স্থল বা নৌ পথে আসছে না। এটি আসছে বিমান পথে। তাই এখনই যদি বিমান বন্দরগুলোতে অনুসন্ধানী তৎপরতা আরও জোরদার করা যায় তাহলে সহজে এই মাদকের ছোবল থেকে বের হয়ে আসা যাবে। এই মাদক চায়ের ব্যাগে, মাস্কের ভেতর, নানা ধরনের বাক্সে, যে কোনো ধরনের ঢাকনা দেওয়া বস্তুর মধ্যে নিয়ে আসা সম্ভব। এখন আমাদের এখানে কিছু গলদ রয়েছে যার ফলে এটা শনাক্ত করা খুব সমস্যা। মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অর্থাৎ যারা মাদক নির্মূলে কাজ করছেন তাদের আরও বেশী সক্রিয় হতে হবে। তাদেরকে এ সংক্রান্ত বিষয়ে ট্রেনিং দেওয়া যেতে পারে যাতে প্রাথমিক অবস্থায় মাদকটি বন্ধ করা যায়। অন্যথায় এটার ফলাফল ইয়াবার চেয়েও ভয়াবহ হবে। ইটিভি অনলাইন: সরকার মাদক বিরোধী অভিযান যেভাবে শুরু করেছিল এখন সেভাবে আর হচ্ছে না বা বন্ধ হয়ে গেছে। এক্ষেত্রে মাদক নিয়ন্ত্রণ কিভাবে হবে বলে করেন? ডা. অরূপ রতন চৌধুরী: সরকার মাদক বিরোধী যে উদ্যোগটা নিয়েছিল সেটা কিন্তু এখনো বন্ধ হয়নি। ছোট খাট অভিযান কিন্তু চলছে। খবরের কাগজে নিয়মিত আসছে বিভিন্ন জেলায় মাদক ব্যবসায়ীরা গ্রেফতার হচ্ছে, প্রত্যেক জেলায় মাদকের চোরাচালান আটক হচ্ছে। তবে এর মাধ্যমে প্রমাণ হয় এখনো মাদক আসা বন্ধ হয়নি। মাদককারবারীদের আইনের আওতায় যেমন আনা হচ্ছে আবার অনেকে বন্দুক যুদ্ধে নিহত হচ্ছে। সুতরাং মাদক বিরোধী অভিযান বন্ধ হয়নি বা কমে যায়নি। যে খবরগুলো আমরা টপ নিউজ হিসেবে দেখতাম বা প্রচার হতো সেগুলো এখন আমরা দেখতে পাচ্ছিনা। ইটিভি অনলাইন: মাদক আসাতো বন্ধ হচ্ছে না। তাহলে আমাদের করণীয় কী? ডা. অরূপ রতন চৌধুরী: আমি মনে করি সরকার জিরো টলারেন্স হিসেবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে মাদক নির্মূলের যে নির্দেশ দিয়েছে তা যেন অব্যাহত রাখে। পাশাপাশি মিডিয়ারও উচিত এ ধরনের নিউজগুলোকে হাইলাইটসে নিয়ে আসা। এই যে নতুন মাদক `খাত` আসলো, এটা আমরা ছোট ছোট নিউজ হিসেবে দেখছি। এক্ষেত্রে আরও বেশি প্রচার দরকার। এটা কিন্তু ভয়ংকর একটা মাদক, যুব সমাজের জন্য হুমকী। এই বিষয়ে আমাদের আরও সতর্ক হতে হবে। ইটিভি অনলাইন: তরুণ প্রজন্ম এই মাদক থেকে কিভাবে বের হয়ে আসতে পারে? ডা. অরূপ রতন চৌধুরী: মাদক থেকে বের হয়ে আসার জন্য আমাদেরকেই ভুমিকা রাখতে হবে। আমরা যদি আমাদের সন্তানদের ঘর থেকে বের হওয়ার সময় সতর্ক করতে না পারি তাহলে তাদের বিপদের সম্মুখীন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ দেশের বৃহৎ অংশ তরুণ। এই তরুণরাই কিন্তু মাদকাসক্ত হয়। তাদের এখন মাদকাসক্ত হওয়ার বয়স। এই সময় যদি তাদেরকে সতর্ক করা না যায় তাহলে শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর হলেও কোনো লাভ হবে না। আমাদের ঘর থেকেই সেই আন্দোলন শুরু করতে হবে। সুতরাং আমাদের সন্তানদের সতর্ক করতে হবে। নতুন মাদক সম্পর্কে মানুষকে অবহিত করতে হবে। স্কুল, কলেজেসহ সব জায়গায় মাদক বিরোধী অভিযান যেন অব্যাহত থাকে তা খেয়াল রাখতে হবে। সরকার যেমন মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে তেমনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো যেন সতর্ক থাকে সেই প্রচেষ্টা চালাতে হবে। স্কুলের আশপাশের এলাকাগুলো এখন মাদকের আখড়া। শিক্ষকরা যেন ছাত্রছাত্রীদের দিকে খেয়াল রাখে সেই ব্যাপারে শিক্ষকদের সচেতন করতে হবে। বিশেষ করে প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি, ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল কর্তৃপক্ষকে বেশী সতর্ক থাকতে হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আশ-পাশে মাদক বিক্রীর দোকান, ঘাঁটি, দালাল- যারা আছে তাদের সমূলে উৎপাটন করতে হবে। ইটিভি অনলাইন: আপনি দীর্ঘদিন থেকে ধূমপান ও মাদকবিরোধী আন্দোলন করছেন। পেশার বাহিরের এসব কাজে নিজেকে কতটুকু সফল মনে করছেন?      ডা. অরূপ রতন চৌধুরী: দেখুন আমি দীর্ঘ উনত্রিশ বছর ধরে এসব আন্দোলন সংগ্রামে জড়িত। আমি একজন দন্ত চিকিৎসক হলেও ১৯৮৯ সালে মাদক ও ধূমপানবিরোধী সংগঠন ‘মানস’ প্রতিষ্ঠা করি এবং এ সংগঠনের মাধ্যমে দেশের যুব সম্প্রদায়কে ধূমপান ও মাদকদ্রব্যের কুফল সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কাজ করছি। প্রথমে আমার আন্দোলন শুরু হয়েছিল ধূমপান দিয়ে। আজকে দেখেন একটা সফলতা এসেছে। বাংলাদেশ সরকার তামাক নিয়ে আইন জারি করেছে। এখন পাবলিক প্লেসে কেউ ধূমপান করতে পারবে না। করলে তার জরিমানা হবে। পাবলিক প্লেস বলতে আমরা বুঝি স্কুল- কলেজ, বাজার, স্টেশন, লঞ্চ, ঘাট ইত্যাদি। সব জায়গায় এখন ধূমপান নিষিদ্ধ। এখন টেলিভিশনে কোন ধরনের বিজ্ঞাপন প্রচার হয় না। কোন ধরনের স্পন্সর হয়না সিগারেটের। এখন কোন বিলবোর্ডে সিগারেটের বিজ্ঞাপন দেখা যায়না। এটাই আমাদের আন্দোলনের স্বার্থকতা। একই ভাবে মাদকটাও সারা বাংলাদেশে ছড়িয়ে গেছে। এ নিয়েও আমরা কাজ করছি। দেশের অলি গলি, আনাচে কানাচে এখন ইয়াবা পাওয়া যায়। সুতরাং মাদকের বিরুদ্ধে সচেতন করার সময় এসেছে। আমি নিজেও এখন মাদক নিয়ন্ত্রণ বোর্ড ও মাদক নিয়ন্ত্রণ টাস্কফোর্সের সদস্য। একটা সংগঠনের সাথে কাজ করতে গেলে সরকারের সহায়তা লাগে। সরকারের সহায়তা নিয়ে বিভিন্ন কাজের পাশাপাশি আমরা মিডিয়াতে বিভিন্ন তথ্যচিত্র নির্মাণ করে দিচ্ছি। সাম্প্রতিক কালে ‘স্বর্গ থেকে নরক’ নামে একটা পূর্ণ দৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছি। যেটা তথ্য অধিদপ্তরের মাধ্যমে সব জেলায় প্রদর্শন করা হচ্ছে। সচেতন করাটাই আমাদের উদ্দেশ্য। তেমনি ভাবে প্রতি বছর বই মেলায় আমরা স্টল দিই। একমাস ব্যাপী সচেতনতামূলক প্রচার কাজ চালাই। তরুণদের সচেতন করার জন্য লিফলেট, পোষ্টার তাদের হাতে তুলে দিই। তাছাড়া আমরা প্রতিটি স্কুল, কলেজ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছেলেদের হাতে লিফলেট, পোষ্টার তুলে দিচ্ছি। সুতরাং নিজের পেশার পাশাপাশি সামাজিক কাজগুলো করে যাচ্ছি। এর মাঝে নিজের একটা তৃপ্তি রয়েছে। শ্রুতিলিখন: আলি আদনান    এসি     

‘গ্রাহককে ব্যাংকে না গিয়ে লেনদেনের সুবিধা দিতেই সিআরএম’

ব্যাংকে গিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে টাকা জমা দেওয়া বা উত্তোলন করার ভোগান্তি দূর করতে দেশে চালু হয়েছিল অটোমেটেড টেলার মেশিন (এটিএম) বুথ। যেখানে এতোদিন শুধু টাকা উত্তোলন করা যেত। কিন্তু জমা দেওয়ার সুযোগ ছিল না। তাই টাকা উত্তোলনের পাশাপাশি এবার জমা দেওয়ার ভোগান্তিও কমাতে গ্রাহকপ্রিয় হয়ে উঠছে ক্যাশ রিসাইক্লার মেশিন (সিআরএম)। এরই মধ্যে দেশের তিনটি ব্যাংকে অর্ধশতাধিক সিআরএম মেশিন বসানো হয়েছে। যেখানে গ্রাহকরা লাইনে দাঁড়ানোর ভোগান্তি ছাড়াই নগদ টাকা জমা ও উত্তোলন করতে পারছেন। জানা গেছে, এটিএম মেশিনের স্থলে সিআরএম ম্যাশিন প্রতিস্থাপন খুব দ্রুত দেশে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। এই মেশিন নোট গুণতে পারবে, সেগুলো জ্বাল কি না, ছেড়া বা ফাটা কি না তাও যাচাই করতে পারবে। টাকাগুলো একই সময়েই হিসাবে জমা করতে পারবে। এতে করে ব্যাংক সেবায় কায়িক শ্রমের পরিমাণ কমে যাবে। দেশে এ পর্যন্ত তিনটি ব্যাংকে এ পদ্ধতির সিআরএম মেশিন বসানো হয়েছে। ব্যাংকগুলো হলো-সাউথইস্ট, সিটি এবং ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক। এ তিনটি ব্যাংক  এ পর্যন্ত ৫৬টি সিআরএম স্থাপন করেছে। আগামী এক বছরে আরো ১৬৬টি সিআরএম স্থাপনের ব্যবস্থা নিচ্ছে ব্যাংকগুলো। সাউথইস্ট ব্যাংক ঢাকা নগরীতে ১২টি সিআরএম স্থাপন করেছে। আগামী বছর মার্চের শেষ নাগাদ তারা আরো ৫০টি মেশিন স্থাপন করবে। সিআরএম ম্যাশিনের ব্যবহারসহ বিভিন্ন খুঁটিনাটি বিষয় সম্পর্কে জানতে সম্প্রতি একুশে টেলিভিশন অনলাইন মুখোমুখি হয় সাউথইস্ট ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস এম মাইনুদ্দিন চৌধুরীর। তিনি বলেন, গ্রাহককে ব্যাংকে না গিয়েও ব্যাংকিং লেনদেনের সুযোগ দিতে আমরা সিআরএম ম্যাশিন চালু করেছি।গ্রাহকরা এখান থেকে ২৪ ঘণ্টা সেবা নিতে পারবেন। যার জন্য গ্রাহককে কোনো অতিরিক্ত সেবামূল্য দিতে হবে না। আমরা আগামীতে এ সেবা দেশের সবচেয়ে বড় বড় বিপনি-বিতানে চালু করবো। একুশে টেলিভিশন অনলাইন: দেশের ব্যাংকিং লেনদেনে নতুন দিগন্তের সূচনা করেছিল এটিএম বুথ। এখন বুথের স্থলে নতুন করে সিআরএম ম্যাশিন স্থলাবিষিক্ত হচ্ছে।দেশের তিনটি ব্যাংক এ ম্যাশিন স্থাপন করেছে। সাউথইস্ট সে ব্যাংকগুলোর একটি।কোন ধারণা থেকে আপনারা এ সিআরএম ম্যাশিন স্থাপনকে গুরুত্ব দিচ্ছেন? এস এম মাইনুদ্দিন: আমাদের ব্যাংকিং ব্যবস্থায় আগামীতে এমন একটা পরিস্থিতি তৈরি হবে যে পুরো লেনদেনটাই ক্যাশ ছাড়াই হচ্ছে।তবে সেই জায়গা যেতে আমাদের একটু সময় লাগবে।এরই মধ্যে ক্যাশলেস লেনদেন কিন্তু শুরু হয়ে গেছে। যেমন বিকাশ ব্যাংক বিমুখ জনগণকে ক্যাশলেস লেনদেনে নিয়ে আসছে। তবে ক্যাশলেস লেনদেন শুরু হলেও আমাদের ক্যাশ নির্ভরতা কিন্তু রয়েই গেছে। তাই আমরা ভেবেছি যে ক্যাশ নির্ভরতা রেখেই লেনদেনে যতরকম আধুনিকতা করা যায়, আমরা তা করবো। আমরা  দেখেছি যে এটিএমের সঙ্গে আমরা যদি রিসাইকেলার যোগ করি, তবে মানুষ টাকা উত্তোলন এবং টাকা জমা দেওয়া দুটিই করতে পারবে। ব্যাংকের সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে ৮০ শতাংশের কাজ হলো টাকা উঠানো ও জমা দেওয়া।এর বাইরে তারা বেশি কিছু করে না।লোন নেওয়া, লোন দেওয়া ও বিল পরিশোধ করার সংখ্যা কম।তাই আমরা সিদ্ধান্ত নিলাম যে ব্যাংক গ্রাহকদের এই বড় অংশের জন্য যদি আমরা সিআরএম ম্যাশিন বসাতে পারি, তবে ব্যাংককিং লেনদেনের ক্ষেত্রে যে জট লেগে যায় তা থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে। ভবিষ্যতে আমাদের লক্ষ্য হলো-আমরা শুধু ক্যাশ উঠানোর পদ্ধতি রাখবো না, আমরা ক্যাশ উঠানো ও জমা উভয় পদ্ধতি এক সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যাব।এ বছরই আমরা একটা সাইজেবল এমাউন্ট সিআরএম আমরা স্থাপন করবো। উন্নত বিশ্বে যারা ব্যাংকে এটিএম চালু করছে, তারা কিন্তু এটিএম ম্যাশিনে শুধু টাকা উত্তোলন নয়, উত্তোলনের সঙ্গে আরো অনেক কিছু যোগ করছে।ওইদিকেই আমারা যেতে চাই।কেননা উন্নত বিশ্বের প্রায় সব জায়গাতে এ সিআরএম ম্যাশিন আছে।আমরা বাংলাদেশীরা বেশির ভাগে ক্যাশে লেনদেন করতে পছন্দ করি।তাই আমাদের দেশে এটার প্রচলনের সম্ভাবনাও বেশি। একুশে টেলিভিশন অনলাইন: আপনাদের শুরুটা কিভাবে হলো? এস এম মাইনুদ্দিন: আমরা ২০১৬ সালে প্রথম ধারণা নেয় যে ব্যাংকে আমরা সিআরএম ব্যবহার করবো। আমরা প্রথমে মতিঝিল কর্পোরেট অফিসে এটা স্থাপন করি। পরে বিভিন্ন প্রকৃয়ার মাধ্যমে সর্বশেষ ২০১৭ তে আমরা এটা স্থাপন করতে সমর্থ হয়েছি। একুশে টেলিভিশন অনলাইন: ধারণা পাওয়ার পরও  স্থাপনে এতো দেরি হওয়ার কারণটা আসলে কি?  এস এম মাইনুদ্দিন: ধারণাটা পেলেই সাথে সাথে এটা স্থাপন করা যায় না। কারণ এটার ব্যবহার উপযোগী করতে একটা দীর্ঘ প্রকৃয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। যেমন আমাদের টাকা।টাকাটাকে ম্যাশিনের চেনার উপযোগী হতে হবে। সেজন্য টাকার সাইজ, টাকার শেফ, টাকার সিকিউরিটি ভ্যালুকে চিনাতে হবে।আমরা ১ হাজার টাকা এবং ৫০০ টাকা চেনাতে পেরেছি।এটার মধ্যে আবার ফেক নোট, সইল নোট আছে। সেগুলো ম্যাশিন কিভাবে চিনবে তাও নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়া একুরেসিরও একটি বিষয় আছে।কারণ কেউ ৫০ টাকা দিয়ে বল্ল ১০০ টাকা দিয়েছি। তবে তো হলো না।টাকা যদি ম্যাশিন না চিনতে পারে তবে ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা রাখতে হবে।এরকম অনেক ছোট ছোট বিষয় ভেবেচিন্তে আমরা এটা চালু করেছি। একুশে টেলিভিশন অনলাইন: একটি সিআরএম ম্যাশিন স্থাপনে ব্যাংকের কত টাকা খরচ করতে হচ্ছে? এস এম মাইনুদ্দিন: দেখুন বাংলাদেশে প্রথম এটিএম ম্যাশিন নিয়ে আসে স্ট্যান্ডার্ড চাটার্ড ব্যাংক।ওরা যখন এক একটা ম্যাশিন নিয়ে আসে, তখন ম্যাশিনের দাম পড়তো ৩০ লাখ থেকে ৩৫ লাখ টাকা। সেটা আজ থেকে ১৫-১৬ বছর আগে। কিন্তু এখন এটার দাম সহনীয় পর্যাযে আসছে।এখন শুধু ক্যাশ আউটের জন্য একটি এটিএম ৩ থেকে ৪ লাখ টাকায় পাওয়া যাবে। সিআরএম ম্যাশিনও তাই। এখন এটির দাম উচ্চ হারে আছে। এটাও এক সময় কমে আসবে। ব্যবহার বেশি হলে একসঙ্গে অনেকগুলো কিনলে দাম কমে আসবে। একুশে টেলিভিশন অনলাইন: একজন গ্রাহক কিভাবে সিআরএমের মাধ্যমে ব্যাংকে টাকা জমা রাখবেন? এস এম মাইনুদ্দিন: একজন একাউন্ট হোল্ডারের একটি কার্ড থাকবে। সে কার্ডের নির্দিষ্ট পাসওয়ার্ড চেপে এটিএম বুথের মতোই এ সিআরএম বুথে প্রবেশ করবে। পরে নির্দিষ্ট একটি বাটন চাপলে দুটি অপশন আসবে। দুটি অপশনের একটিতে লেখা থাকবে আপনি কি টাকা উত্তোলন করতে চান? নাকি টাকা জমা দিতে চান? যদি কেউ উত্তোলন করতে চান তবে উত্তোলনের বাটনে চাপ দিবেন। আর যদি জমা দিতে চান তবে জমার বাটনে চাপ দিবেন। জমার বাটনে চাপ দিলে তার সামনে টাকা রাখার একটি জায়গা খুলে যাবে। সেখানে একদিনে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত জমা দেওয়ার সুযোগ থাকবে। নির্দিষ্ট ওই জায়গাতে টাকা জমা দেওয়ার পর সিআরএম ম্যাশিনে তা গণনা হবে। আবার টাকা ছেড়া-কাটা বা জ্বাল কিনা তাও যাচাই হবে মেশিনে। ‍মুহুর্তে এ কাজটি সম্পন্ন হবে এবং টাকা সঠিক থাকলে জমাকারি গ্রাহককে একটি কনফরমেশন রশিদ দেওয়া হবে। যেখানে জমা দেওয়া টাকার সিরিয়াল নম্বর, পরিমান, যে একাউন্টে জমা হচ্ছে তার নম্বরসহ প্রয়োজনীয় তথ্য লেখা থাকবে।টাকা জমাকারি গ্রাহককে রশিদ দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তার টাকা তার নিজের হিসেবেই জমা হয়ে যাবে। একুশে টেলিভিশন অনলাইন: আগামীতে এটিএম বুথ উঠিয়ে নিবেন কি না? এস এম মাইনুদ্দিন: আগামীতে গ্রাহকের পরিস্থিতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত হবে। তবে এ মুহুর্তে এটিএম উঠানোর কথা ভাবছি না। বরং এটিএমের পাশাপাশি সিআরএম স্থাপন করা হচ্ছে। গ্রহকের চাহিদা অনুযায়ী সিআরএম আরো বসানো হবে। খুব শিগগিরই আমরা আমাদের বড় ব্র্যাঞ্চগুলোতে এ ম্যাশিন সরবরাহ করবো। ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী বড় বড় বিভাগগুলোতে এ ম্যাশিন সরবরাহ করা হবে।এছাড়া চাহিদা সম্পন্ন সুপার মার্কেটগুলোতেও আমরা এসব নিয়ে আসবো। একুশে টেলিভিশন অনলাইন: দেশে নতুন প্রচলিত এ ম্যাশিনগুলোর ব্যবহারে কোন প্রতিবন্ধকতা বা সমস্যা দেখছেন কি না? এস এম মাইনুদ্দিন: যেকোন ম্যাশিনে কিছু না কিছু সমস্যা তো থাকেই। ম্যাশিনে টাকা আটকে যাবে। ম্যাশিনের রোলারগুলো কাজ করবে না। অন্যান্য ম্যাশিনগুলোর যেমন সমস্যা আছে এটাও তেমন আছে। তবে এটা ব্যবহার করতে আমরা প্রস্তুত। যত সমস্যাই থাক মেরামত করেই তা ব্যবহার করা হয়। ফলাফল: আমরা সিআরএম বসানোতে বেশ ইতিবাচক ফলাফল পেয়েছি।গ্রাহকরা খুব সহজেই এটা গ্রহণ করেছে। একুশে টেলিভিশন অনলাইন: নতুন সিআরএম সম্পর্কে গ্রাহকদের উদ্দেশ্যে যদি কিছু বলতে চান? এস এম মাইনুদ্দিন: আমাদের বক্তব্য হচ্ছে-গ্রাহকরা একটা সময় এটা ব্যবহার করতে অভ্যস্ত হয়ে যাবে। তাদেরকে আর টাকা জমা দিতে দৌড়া-দৌড়ি হুড়োহুড়ি করা লাগবে না।এটার মাধ্যমে ২৪ ঘণ্টা সেবা নেওয়ার সুযোগ পাবেন। ব্যাংকিং আওয়ারে টাকা জমা দেওয়ার তাড়া থাকবে না। গ্রাহকরা যাতে ব্যাংকে না এসে ব্যাংকের কাজ করতে পারে, নিরাপদভাবে লেনদেন করতে পারে সে নিশ্চয়তা আমরা দিচ্ছি। / এআর /  

‘ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিচ্ছে আইসিটি খাত’

বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত থেকে উন্নয়নশীলের কাতারে পর্যবেক্ষণের তালিকায় উঠেছে। গত কয়েক বছরে তথ্যপ্রযুক্তিসহ সার্বিক খাতে হয়েছে ব্যাপক উন্নয়ন। যা ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্নকে ত্বরান্নিত করেছে। এমনটিই মনে করেন সামিটি কমিউনিকেশন্স লিমিটেডের এমডি ও সিইও মো. আরিফ আল ইসলাম। একুশে টেলিভিশনের একুশে বিজনেস অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। একুশে টেলিভিশন: প্রথমে জানতে চাইবো দেশের তথ্য প্রযুক্তিখাতের অগ্রগতিটা কিভাবে মূল্যায়ন করছেন? আরিফ আল ইসলাম: টেলিকম খাতে ব্যাপক উন্নতি সাধিত হয়েছে এটা আমরা সবাই জানি। আইএসপির সংখ্যা অনেক বেড়েছে। আইএসপি সেবাটাও সারা বাংলাদেশে অনেক বেশি সহজলভ্য হয়েছে। তিন বছর আগেও সিস্ক ব্রডব্যান্ড বাসায় বাসায় দিত। সেটা দুই-তিন শতাংশের কাছে ছিল। যেটা এখন ১০ শতাংশের কাছাকাছি। আশপাশের উন্নত দেশগুলোতেও দশের কাছাকাছি আছে। এছাড়া সফটওয়ার সেক্টরেও বেসিস ও অন্যান্ন প্রতিষ্ঠানে বিপুল পরিমানে প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে। বিভিন্ন অ্যাসোসিয়েশন এটা নিয়ে কাজ করছে। হাইটেক পার্ক হচ্ছে। হার্ডওয়ার ক্ষেত্রেও অভ্যন্তরীন উৎপাদন পরিকল্পনা চলছে। আগে যেখানে চায়না থেকে বিশেষ ডিজাইনে বানিয়ে আনা হতো। এখন সেখানে দেশেই তা তৈরি হচ্ছে।দুই তিনটা প্লান্ট হয়েছে। আরো বেশি করার সম্ভাবনা আছে। সার্বিক বিবেচনায় আমরা এ খাতের প্রসারতায় উন্নয়নশীল দেশের কাছাকাছি চলে যাচ্ছি।আমাদের আইটি ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সূচকে আগের তুলনায় অনেক এগিয়েছি। আর দুই-তিন বছর পর আমরা একটা জাম্প দিতে পারবো। আমাদের ডিজিটালাইজড বাংলাদেশের একটি রিফলেকশন পাওয়া যাচ্ছে।ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্নকে ত্বরান্নিত করছে তথ্যপ্রযুক্তি খাত। একুশে টেলিভিশন: সামিট কমিউনিকেশন্স এখন কোন কোন দিকে বেশি কাজ করছে? আরিফ আল ইসলাম: আমরা সারা বাংলাদেশে ফাইবার অপটিক নেটওয়ার্ক করছি।যেটার মাধ্যমে আইএসপি ও টেলিকম অপারেটররা ট্যান্সমিশন ব্যাকবোনের সুবিধা পাবে।সারা বাংলাদেশে আমাদের ৪০ হাজার কিলোমিটার ফাইবার অপটিক নেটওয়ার্ক আছে।এর মধ্যে সাড়ে ৪ হাজার মোবাইল অপারেটর বেস কানেকশন অপারেট করছি।যেমন থ্রিজি ও ফোরজিতে যে পরিমান বেসস্টেশন ভলিয়ুম তৈরি হয়, সেটা ওয়ারলেসলি ক্যারি করা সম্ভব হয় না। একুশে টেলিভিশন: গ্রাহকদের মাঝে ইন্টারনেট সুবিধা সহজে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে কি করছেন? আরিফ আল ইসলাম: পাঁচ-ছয় বছরের আগের তুলনায় ইন্টারনেট কস্ট এখন অনেক কমেছে।এটার ভলিয়ুম যত বাড়বে কস্ট ততো কমবে। একুশে টেলিভিশন:  ইন্টারনেট সেবা নিয়ে আপনার মতামত কি? আরিফ আল ইসলাম: সেবার ক্ষেত্রে কয়েকটা পার্টি ইনভলপ।কিছু হ্যান্ড ওভার টেক ওভার ইস্যু আছে।বিশেষভাবে আমরা আইএসপি বা মোবাইল অপারেটরদেরকে যে সেবাটা দিচ্ছি সেটা হচ্ছে- আমরা ওনাদের ৯৯.৯৯৯ কনসিন্সটেন্টলি গত দুই বছর ধরে সরবরাহ করে যাচ্ছি। একুশে টেলিভিশন: দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ডিজিটালের ছোঁয়া লাগাতে আপনাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কি? আরিফ আল ইসলাম: ৮ বছর আগে আমাদের যখন লাইসেন্স দেয়, কথা ছিল ১০ বছরের মধ্যে দেশের সব উপজেলায় এ সেবা পৌঁছে দেওয়ার। আমরা হয়তো আগামী ১ বছরের মধ্যে অর্থাৎ ৯ বছরের মধ্যেই সব উপজেলা কাভার করে ফেলবো। ভিডিও দেখুন     

বিদ্যুৎ খাতে এসেছে অকল্পনীয় সাফল্য: ড. সেলিম মাহমুদ

২০০৯ সালের আগে বিদ্যুতের অভাবে দেশের অর্থনীতি ছিল ভঙ্গুর, শিল্প, বাণিজ্য ছিল স্থবির এবং জনজীবনে লোডশেডিং ছিল অসহনীয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার এসব সমস্যার সমাধান দিয়েছে। দেশে অবোকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সক্ষমতা অর্জন দূরদর্শী, সাহসী ও সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নের ফলে বিদ্যুৎ খাতে অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন জ্বালানি আইন ও পলিসি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড.সেলিম মাহমুদ। আজ রোববার একুশে বিজনেসে অংশ নিয়ে বিদুৎ ও জ্বালানিতে সরকারের সাফল্যের কথা তুলে ধরতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। একুশে টেলিভিশন: এলএনজি, কয়লা, পরমাণু বিষয় সরকারের সাফল্য সম্পর্কে বলবেন কি ? অধ্যাপক ড. সেলিম মাহমুদ : বিদুৎ ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারলে দেশের ভবিষ্যত জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি), তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) এবং জ্বালানির ঘাটতি মোকাবেলায় দেশের বাইরে এই তহবিলের অর্থ বিনিয়োগের সুযোগ থাকবে। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর দেশে সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছিল ২০০৯ সালের ৬ জুন।এরপর প্রতিবছরই দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন বেড়েছে।সর্বশেষ ২০১৮ সালের ২৪ এপ্রিল সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ উৎপাদন হলো ১০ হাজার ১৩৭ মেগাওয়াট।এছাড়া সরকারের সময়ে এর আগে ২০১৬ সালে ৩০ জুন বিদ্যুৎ উৎপাদন হয় ৯ হাজার ৩৬ মেগাওয়াট।এর আগে ২০১৬ সালের ৯ জুন দেশে সর্বোচ্চ ৮ হাজার ৭৭৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয়।২০১৫ সালের ১৩ আগস্ট সর্বোচ্চ ৮ হাজার ১৭৭ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয়েছিল। বিগত নয় বছরে বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়নের জন্য সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে নতুন ৮৮টি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছে।আর এ সময়ে অবসরে গেছে মাত্র তিনটি কেন্দ্র। ২০০৯ সালে দেশে বিদ্যুৎকেন্দ্রের সংখ্যা ছিল মাত্র ২৭টি আর এখন বিদ্যুৎকেন্দ্রের সংখ্যা ১১২টি। সরকারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দেশের প্রতিটি ঘরে পর্যায়ক্রমে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়ার কাজ শেষ করা হবে ২০২১ সাল নাগাদ। এজন্য বিদ্যুতের উৎপাদন যা-ই হোক না কেন, প্রতিমাসেই নতুন তিন থেকে সাড়ে তিন লাখ সংযোগ দেওয়া হচ্ছে। এভাবে প্রতিমাসে নতুন গ্রাহক যুক্ত হওয়ায় সংকট সৃষ্টি হলেও তা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব বলে মনে করা হবে। একুশে টিভি অনলাইন: সম্প্রতি বিদ্যুৎ ও  জ্বালানি সপ্তাহ ২০১৮ শেষ হয়েছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সরকারের অগগ্রতি আপনি কিভাবে মূল্যায়ন করছেন। অধ্যাপক ড. সেলিম মাহমুদ : আমি মনে করি বিদ্যুৎ ও জ্বালানিতে সরকারের অতুলনীয় অভূতপূর্ব সাফল্য। বাংলাদেশে অন্য খাতে এমন উন্নয়ন হয়েছে কি না আমার জানা নেই। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতা গ্রহণ করে তখন বিদ্যুৎ ৩২ শত মেগাওয়াট। বর্তমানে ২ হাজার মেগা ওয়াট ছাড়িয়ে গেছে। এটা আমাদের জন্য অনেক বড় সাফাল্যের। আমার মনে হয় বিদ্যুৎ ও জ্বালানিতে আমরা শতভাগ সফলতা অর্জন করেছি। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী ব্যক্তব্যে অনেক গুরুত্বদিক তুলে ধরেছে। তিনি জ্বালানি নিরাপত্তা বিষয়ে আলোচনা করেছেন। বিদ্যুৎ খাতে আমাদের বড় অর্জন। আমরা ভারত থেকে সহজে বিদ্যুৎ নিয়ে আসতে পারছি। ইতোমধ্যে আমার ভারত থেকে বিদ্যুৎ আসতে সম্ভম হয়েছি। শুধু তাই না ভারত আমাদের দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানিতে এই অর্জনকে  প্রশংসা করছেন। শুধু তাই নয়। ভারত থেকে যে বিদুৎ আমদানি করছি এতে করে বাংলাদেশ প্রতি বছর ৫ মিলিয়ন ইউ এস ডলার সেফ করছে। এছাড়া দক্ষিণ এশিয়া  প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) প্রবৃদ্ধি সবচেয়ে  বেশি বাংলাদেশে। এখানে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের অনেক অবদান রয়েছে। আমাদের প্রতিবেশি মিয়ানমার সীমান্ত একটা গ্যাস ফিন্ড আবিস্কার করা হয়েছিলো। এটা চুক্তি হয়েছিলো বাংলাদেশ, ভারত ও মিয়ানমার প্রতিবেশ রাষ্ট্র মধ্যে। এই চুক্তি বাস্তবায় হলে ভারত ও বাংলাদেশ গ্যস পেতে। কিন্তু বিএনপির সরকার সেই চুক্তি বাতিল করে দেয়। এর ফলে আমাদের দেশ দুই দিকে ক্ষতির মুখে পড়ি। একদিকে জ্বালানি নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হয়। অন্যকে দিকে ভারতের সাথে সেই সর্ম্পক খারাপ হয়ে যায়।   বিস্তারিত দেখুন ভিডিওতে টিআর/ আর          

যাদের সঙ্গে জনগণ নেই, তাদের আবার কিসের জোট

দেশের রাজনীতিতে সম্প্রতি যোগ হয়েছে নতুন মাত্রা। সেই মাত্রার নাম বৃহত্তর রাজনৈতিক ঐক্য। ১৪ দলীয় জোট ও ২০ দলীয় জোটের বাইরে এই জোট নিয়ে ইতোমধ্যে রাজনৈতিক পাড়া বেশ সরগরম হয়ে উঠেছে। মূলত নির্বাচনকে সামনে রেখে সাবেক রাষ্ট্রপতি বিকল্পধারা প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ডা. এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী ও গণফোরাম সভাপতি বিশিষ্ট আইনজীবী ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে এই ঐক্য প্রক্রিয়া এগিয়ে চলেছে। এই প্রক্রিয়াকে নতুন মেরুকরণ হিসেবেই দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। এর আগে বদরুদ্দোজা চৌধুরী, জাসদ সভাপতি আসম আব্দুর রব ও নাগরিক ঐক্যের আহবায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না যুক্তফ্রন্ট গঠন করেছিলেন। ডাকঢোল পিটিয়ে ওই ফ্রন্ট গঠিত হলেও রাজনীতির ময়দায়ে সেটি কোনো উত্তাপ ছড়াতে পারে নি। হঠাৎ করেই বৃহত্তর জাতীয় ঐক্যের আওয়াজ উঠে বিরোধী রাজনৈতিক অঙ্গনে। এই জোট গঠনে পেছন থেকে কলকাঠি নাড়ে মাঠের বিরোধী দল বিএনপি। বিএনপি ঘরানার কয়েকজন বুদ্ধিজীবী এই ঐক্য গড়ে তোলার আলোচনাকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন। দফায় দফায় রুদ্ধদ্বার বৈঠক হলেও আনুষ্ঠানিক ঐক্যের ঘোষণা এখনও আসে নি। এছাড়া এই জোটে বিএনপির অন্তর্ভূক্তি নিয়ে রয়েছে মত দ্বিমত। বিএনপি নির্বাচন সামনে রেখে বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য চাইলেও যুক্তফ্রন্ট নেতারা এবং ড. কামাল চাচ্ছেন জামায়াতকে বাইরে রেখে বিএনপি এই ঐক্যে আসুক। কিন্তু বিএনপি দীর্ঘদিনের মিত্র জামায়াতকে বাদ দিতে চাইছে না। এ নিয়ে এক ধরণের দরকষাকষি চলছে। ইতোপূর্বে বিভিন্ন সময়ে তারা বিভিন্ন জোট উপজোট ও সংলাপের প্রস্তাব করলেও এবারের জোটকে রাজনীতি বিশ্লেষকরা দেখছেন ভিন্নভাবে। কেন নির্বাচনের আগে হঠাৎ করে রাজনীতিতে তাদের এই সক্রিয় মনোভাব তা অনেককেই ভাবিয়ে তুলেছে। রাজনৈতিক পর‌্যবেক্ষদের কেউ কেউ মনে করছেন এটা নিছক যুক্তফ্রন্ট নেতাদের নিজেদের আলোচনায় রাখার কৌশল। আবার কেউ কেউ মনে করছেন অন্য কোন শক্তির ইন্ধনে তারা নিজেদের রাজনৈতিক `ফ্যাক্টর` হিসেবে দাঁড় করাতে চাচ্ছেন। এমতাবস্থায় বি-চৌধুরী-ড. কামালদের ঐক্য প্রক্রিয়াকে কিভাবে দেখছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। এ বিষয়ে দলটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনি একুশে টিভিকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে বলেন, যে কোনো রাজনৈতিক জোটকে স্বাগত জানাই। তবে দেখার বিষয় তারা কারা বা আদৌ তাদের কোনো ভিত্তি আছে কি-না? যাদের সঙ্গে জনগণ নেই, নির্বাচনে যারা জামানত হারান তাদের আবার কিসের জোট, তাদের আবার কিসের দাবি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন একুশে টেলিভিশন অনলাইন প্রতিবেদক আলী আদনান। একুশে টেলিভিশন অনলাইন: ড. কামাল হোসেন- বি চৌধুরীদের নেতৃত্বে জোট গঠিত হচ্ছে। বিএনপি এই জোটে যোগ দেওয়ার ব্যাপারে আলাপ আলোচনা চলছে। বিষয়টিকে আওয়ামী লীগ কিভাবে দেখছে? ডা. দীপু মনি: গণতান্ত্রিক কাঠামোয় যে কারো রাজনৈতিক উদ্যোগকে স্বাগত জানানো উচিত। সেই জায়গা থেকে আমিও তাদের এই জোট গঠন প্রক্রিয়াকে স্বাগত জানাই। কিন্তু দেখার বিষয় এই জোট যারা গঠন করলো তারা কারা? আদৌ তাদের কোনো রাজনৈতিক ভিত্তি আছে কি-না? খেয়াল করলে দেখবেন, এই জোটের সঙ্গে যারা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত তারা প্রত্যেকেই অতীতে নানাভাবে জনগণ দ্বারা প্রত্যাখ্যাত হয়েছেন। এরা অতীতে নানা ধরনের ষড়যন্ত্রের সঙ্গে জড়িত। নির্বাচন করে বিজয় লাভ তো দূরের কথা জামানত রক্ষার জন্য হিমশিম খেতে হয়। অর্থাৎ জনগণ তাদের সঙ্গে নেই বা তারা জনগণের আস্থায় নেই। সেই জায়গা থেকে তারা যাই করুক না কেন তা জনগণের জন্য কল্যাণজনক হবে না তা নিশ্চিত করে বলা যায়। একুশে টেলিভিশন অনলাইন: তারা নির্বাচনকে সামনে রেখে সাত দফা দাবি দিয়েছে। সে ব্যাপারে কিছু বলবেন? ডা. দীপু মনি: যাদের সঙ্গে জনগণ নেই তারা দাবি উথাপন করার কে? জনগণ তো তাদের সেই অধিকার দেয়নি। হ্যাঁ, তারা হয়তো নিজ নিজ পেশায় সফল। তাই বলে তাদের পেছনে জনগণের ম্যান্ডেট কতটুকু আছে সেটাও ভেবে দেখা দরকার। একুশে টেলিভিশন অনলাইন: নির্বাচনের আগ মুহুর্তে এসে এই জোটকে সরকার কী চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিচ্ছে? ডা. দীপু মনি: দেখুন, জিরো প্লাস জিরো সমান জিরো। সুতরাং সরকার তাদের চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিবে কেন? আওয়ামীলীগ গণনির্ভর সংগঠন। জনগণের রায় এ সংগঠনের ভিত্তি। একুশে টেলিভিশন অনলাইন: কিন্তু বিএনপি যদি এই জোটে যায় তাহলে ভোটের রাজনীতিতে প্রভাব পড়তে পারে বলে অনেকেই মনে করছে। আপনি কী মনে করেন? ডা. দীপু মনি: না, আমি তেমনটা মনে করি না। কারণ যারা অতীতে মানুষ পুড়িয়েছে, ভাংচুর করেছে, লুটপাট করেছে তাদেরকে মানুষ কীভাবে মেনে নেবে? আপনি বিএনপি`র কথা বলছেন। এটাতো সেই বিএনপি যাদের মদদে গ্রেনেড হামলা হয়েছে, আহসানউল্লাহ মাষ্টার খুন হয়েছেন, সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়া খুন হয়েছেন, চৌষট্টি জেলায় সিরিজ বোমা হামলা হয়েছে, বাংলা ভাইদের উত্থান হয়েছে, দশ ট্রাক অস্ত্র পাচার করতে গিয়ে ধরা খেয়েছে। পেট্রোল বোমার রাজনীতি করতে গিয়ে নির্বিচারে মানুষ খুন পুড়িয়েছে। তারা তো সব সময় অপশক্তি। এখন জনগণ অনেক সচেতন। তাই এসব অপশক্তি কোথাও প্রভাব ফেলবে তা হতে পারেনা। একুশে টেলিভিশন অনলাইন: আওয়ামী লীগ কৌশল নির্ভর রাজনৈতিক দল। তৃতীয় জোটের বিরুদ্ধে সরকার কোন ধরনের কৌশল অবলম্বন করবে? ডা. দীপু মনি: রাজনীতিতে কৌশল অবলম্বন করা স্বাভাবিক ব্যপার। সেটা অন্যায় কিছু না। তবে সব মিলিয়ে এক্ষেত্রে তৃতীয় জোট বলুন বা বিএনপি বলুন কাউকে নিয়ে আওয়ামী লীগ মাথা ঘামাচ্ছে না। আওয়ামী লীগ জনগণের ভালোবাসায় টিকে থাকা গণনির্ভর সংগঠন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উন্নয়নের রাজনীতিতে বিশ্বাস করেন। কোনো প্রতিহিংসাকে অতীতেও প্রশ্রয় দেননি এখনো দেন না। একুশে টেলিভিশন অনলাইন: আপা, আপনাকে ধন্যবাদ। ডা. দীপু মনি: আপনাকেও ধন্যবাদ। একুশে পরিবারের প্রতি শুভ কামনা। / আআ / এআর

বাবাও চান নি আমি আর্টিস্টের দূরূহ জীবন বেছে নিই:  মুর্তজা বশীর

আজ শুক্রবার ১৭ আগস্ট  শিল্পী মর্তুজা বশিরের ৮৭ তম জন্মদিন। বাবা ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ আর মা মরগুবা খাতুনের ৯ ছেলে- মেয়ের মধ্যে সবার ছোট মুর্তজা বশীর জন্ম ১৯৩২ সালে। তিনি একজন মুক্তিযোদ্ধা। মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়ার কারণে তাকে দেশ ত্যাগ করতে হয়। তার জন্মদিন উপলক্ষে এ ভাষা সংগ্রামী জীবনের নানা দিক একুশে টিভি অনলাইন পাঠকের জন্য তুলে ধরা হল। কেমন আছেন? মুর্তজা বশীর : ভালো আছি। তেমন কোনো শারীরিক অসুস্থতা নেই। হৃদয়ে তো পেসমেকার বসানো। ফুসফুসটা দুর্বল হয়ে পড়েছে। কেবল অক্সিজেনের ঘাটতি পড়ে যায়। কথা বললে, কাজ করলে বা ছবি আঁকলে ফুসফুসের ওপর চাপ পড়ে। তখন অক্সিজেন কমে যায়। ডাক্তার আমাকে বলেছেন, ২৪ ঘণ্টায় ৭-৮ ঘণ্টা আমাকে অক্সিজেন নিতে হবে। আমি সবসময়ই আর্লি রাইজার। সকাল ৬টার মধ্যে ঘুম থেকে উঠে যাই। এখনো এরকম ৬টার দিকে ঘুম ভেঙে যায় কিন্তু শুয়ে থাকি। প্রথমেই অক্সিমিটার দিয়ে শরীরের অক্সিজেনের মাত্রা দেখে নিই। কম থাকলে সোয়া আটটা পর্যন্ত আমি বিছানায় শুয়ে অক্সিজেন নিতে থাকি। মাঝে মাঝে নেবুলাইজারও দিতে হয়। সোয়া আটটায় বিছানা থেকে নামি। ফ্রেশ হয়ে নয়টায় নাশতা খাই। নাশতায় কখনো হাতেবেলা রুটি কখনো পাউরুটি। সঙ্গে ডিম পোচ বা অমলেট। ভাজি তেমন পছন্দ নয় আমার। তারপর চা। গ্রিন টি। গত ত্রিশ বছর ধরে গ্রিন টি খাই। একসময় প্রচুর সিগারেট খেতাম। ছেড়ে দিয়েছি। ২০১৩ সাল থেকে খাই না। ডাক্তারের বারণ। অ্যালকোহলও তেমন খাই না। যদিও এটাতে ডাক্তারের বারণ নেই। কেমন করে সময় কাটে এখন ? মুর্তজা বশীর : বাসায়ই থাকি। বন্ধুবান্ধব তো একে একে চলে গেছে প্রায় সবাই। শামসুর রাহমান, কামরুল হাসান, সাঈদ আহমেদ, আমিনুল ইসলাম এরাই আমার বন্ধু ছিলেন। আমার দুই মেয়ে এক ছেলে। ছেলেমেয়েরাও যার যার সংসারে ব্যস্ত। শুধু বড় মেয়েটাই কাছাকাছি থাকে। ছোট মেয়ে থাকে চট্টগ্রামে, ব্যাংকার। ছেলেটা ব্যাংকে চাকরি করে। কিন্তু দেশ নিয়ে সে হতাশ। আমেরিকা চলে যেতে চায়। আমরা দুজনেই, আমি আর আমার স্ত্রীই থাকি বাসায়। আমার স্ত্রী অসুস্থ। সে-ই তো এতকাল সামলেছে সব। ছেলে মেয়ে সংসার সব। এখন তাকেই দেখতে হয়। ছেলেমেয়েরা কেউ বাবার মতো চিত্রশিল্পী হলো না বলে কষ্ট পান? মুর্তজা বশীর : না। ছেলেমেয়েরা কেউ আঁকাআঁকি করে না। ছোট মেয়েটা চেয়েছিল। আমি উৎসাহ দিইনি। চিত্রশিল্পীর জীবন বড় কষ্টের। আমি চাইনি আমার ছেলেমেয়েরা এই কষ্ট করুক। আপনার বাবাও চাননি আপনি আর্টিস্টের দূরূহ জীবন বেছে নেন। মুর্তজা বশীর : ছোটবেলায় আমি আসলে ভাবিনি আর্টিস্ট হব। কমিউনিস্ট পার্টি চেয়েছিল বলে আর্ট কলেজে ভর্তি হয়েছিলাম। আমার বাবাও বলেছিলেন, প্যারিসে আমি দেখেছি আর্টিস্টের জীবন খুব কষ্টের। আমি চাই না আমার ছেলে সেই কষ্টের ভেতর দিয়ে যাক। পরে অবশ্য রাজি হন তিনি। বাবার টাকায় ইতালিতে পড়তে যাই। ১৯৫৬ সাল থেকে ৫৮ সাল পর্যন্ত ইতালির ফ্লোরেন্সে ছিলাম। আমার বাবা অবশ্য চেয়েছিলেন আমি ইউরোপ যাই। মানে রঙের ওপর শিল্পীর দখল থাকবে, শিল্পীর ওপর রঙের না? মুর্তজা বশীর : হ্যাঁ। আমার স্ত্রী একটা কথা বলে, আমি নাকি অনেকটা উটের মতো। মানে যখন কাজ করি না, একেবারেই করি না। আবার যখন কাজ করি, একেবারে খাওয়া-দাওয়া ভুলে। হয়ত একমাস-দুমাস টানা কাজ করলাম। সাধারণত আমি কখনো রাতে ছবি আঁকি না। আমি মদ্যপ অবস্থায়ও ছবি আঁকি না। আমি বিদেশে দেখেছি, আমাদের দেশেও দেখেছি অনেক শিল্পী মদ খেয়ে ছবি আঁকেন। হুইস্কি, ভদকা, জিন খেতে খেতে ছবি আঁকেন। কিন্তু কখনো অ্যালকোহলের ইনফ্লুয়েন্সে ছবি আঁকি না। ছবি আঁকা আমার কাছে প্রার্থনার মতো। সকালে ঘুম থেকে উঠে স্নান করি, দাড়ি কাটি, আফটার সেভ লোশন লাগাই, গায়ে পারফিউম লাগাই। একেবারে পবিত্র হয়ে আমি ছবি আঁকতে বসি। একেবারে টানা নয়টা পর্যন্ত। তারপর ব্রেকফাস্ট করতে যাই। যখন ছবি আঁকেন না তখন কী কোনো অস্থিরতা কাজ করে? মুর্তজা বশীর : না। তখন তো ভাবতে থাকি কী আঁকব। একটা গল্প আছে, লিওনার্দো ভিঞ্চিকে যখন দ্য লাস্ট সাপার আঁকার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়, তখন উনি আঁকবেন বলে জানান, কিন্তু আঁকেন না। ঘোরেন ফেরেন, কিন্তু আঁকেন না। তখন অন্য আগ্রহী শিল্পীরা ডিউকের কাছে অভিযোগ করলেন, কী এক শিল্পী নিয়ে এলেন, সে তো ঘোরে-ফেরে কাজ করে না। ডিউক ভিঞ্চিকে ডেকে বললেন, কী ব্যাপার আপনি আঁকা শুরু করছেন না কেন? তখন ভিঞ্চি বললেন, যখন একজন শিল্পী কাজ করে না, মানে সে কাজ করে না, তা নয়। তখন তার মস্তিষ্ক কাজ করে। আমারও তা-ই। মানে যখন ছবি আঁকি না, তখন ভাবি। সাধারণত রাতে ছবি আঁকি না, তবে সামনে এক্সিবিশনের ডেট থাকলে রাতেও আঁকি। এক্সিবিশনের ডেট সামনে থাকলে ছবি আঁকা হয় বেশি। একটা প্রেসার কাজ করে।   ছোটবেলায় আর্টিস্ট হতে চেয়েছিলেন? মুর্তজা বশীর : না। ছোটবেলা থেকে আমি কিন্তু কখনো আর্টিস্ট হওয়ার স্বপ্ন দেখিনি। কল্পনায়ও ছিল না। এটা ঘটনাচক্রে ঘটে গেছে। তবে আঁকা ছবি দেখতে আমার খুব ভালো লাগত। দশের আগের কথা মনে নাই। তবে দশ বছর বয়সের পরের কথা মনে আছে। আমার বাবার লাইব্রেরিতে প্রচুর পত্রিকা আসত। কলকাতা থেকে। নানা জায়গা থেকে। সেসব পত্রিকায় আঁকা ছবি ছাপা হতো। ভারতের বিখ্যাত শিল্পীদের আঁকা ছবি ছাপা হতো। এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকায় ইউরোপের শিল্পীদের ছবি ছিল। ওগুলো দেখতে খুব ভালো লাগত। ১২ বছর বয়সে স্কুলের বইয়ে আঁকা রেখাচিত্রে বাবার খাতা দেখার লাল-নীল কলম দিয়ে রং করতাম। কিশোর বয়সের কোন বিষয়টা সবচেয়ে বেশি মনে পড়ে? মুর্তজা বশীর : রবিবারে আমাদের বাড়িতে ইংলিশ ফুড হতো। সেদিন আমরা বাবার সঙ্গে টেবিল চেয়ারে বসে খেতাম। চামচ-কাঁটাচামচ, ছুরি দিয়ে। মা গ্লাসের মধ্যে ন্যাপকিন সাজিয়ে রাখতেন খুব সুন্দর করে, যেন ফুল ফুটে আছে। একটা গল্প বলি শোনো, আমি তো অনেক খাটো। তখন আমি ঠিক কিশোর না, আরো বড় হয়েছি, একদিন একটা মেয়ে খুব বাজেভাবে আমাকে দেখিয়ে বলেছিল, এহ্ কী বিশ্রী খাটো! সেদিন মনে খুব জেদ চেপেছিল, বিশেষ কেউ হব। যেন মেয়েরা পেছনে ঘোরে আর আমি চেয়ে না দেখি। আপনার লেখালেখি বিষয় যদি কিছু বলতেন ? মুর্তজা বশীর: আমার একমাত্র উপন্যাস আত্মজৈবনিক, গল্পগুলা সমাজের ব্যবচ্ছেদ। আর কবিতা ব্যক্তিগত। জীবনের সবচেয়ে বড় সুখ কোনটা? মুর্তজা বশীর : আমি একুশের সঙ্গে ছিলাম। ভাষা আন্দোলনে যোগ দেওয়া আমার জীবনের সেরা অর্জন। আপনাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা। মুর্তজা বশীর : ধন্যবাদ। টিআর/

বাংলাদেশি নার্সরাও আন্তর্জাতিক মানের: তন্দ্রা শিকদার

বাংলাদেশের মানুষের বেড়েছে গড় আয়। কমেছে শিশু ও মাতৃ মৃত্যুর হার। মুত্যু হার আরও কমিয়ে নাগরিকদের গড় আয়ু বাড়াতে নিরন্তর কাজ করে যাচ্ছে বাংলাদেশ নার্সিং ও মিডওয়াইফারি (সেবিকা ও ধাত্রী) অধিদপ্তর। অধিদপ্তরের এ কার্যক্রমে পূর্ণ হচ্ছে বাংলাদেশ সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এমডিজি) অর্জনে শিশু ও মাতৃমৃত্যু হ্রাসের তাগিদ ও জাতিসংঘ ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে শিশু ও নবজাতক মৃত্যুহার হার কমানোর মাইলফলক। মা ও শিশুর সেবা ত্বরান্বিত করতে বিদ্যমান সমস্যা ও সম্ভাবনাসহ নানাবিধ বিষয় নিয়ে একুশে টেলিভিশন অনলাইন মুখোমুখি হয় নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) তন্দ্রা শিকদারের। যার কথায় উঠে এসেছে উন্নত দেশের সঙ্গে বাংলাদেশে নার্সিং পেশার তুলনা, কর্মসংস্থান, সমস্যা ও সম্ভাবনাসহ নানাবিধ দিক। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন একুশে টেলিভিশন অনলাইন প্রতিবেদক রিজাউল করিম। একুশে টেলিভিশন অনলাইন: আমাদের দেশে চিকিৎসার ক্ষেত্রে অনেকেই বিদেশের প্রতি আস্থাশীল বেশি। নার্সদের সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রেও কি তাই? দক্ষতার বিচারে আমাদের নার্সরা আন্তর্জাতিক মানের কি না? তন্দ্রা শিকদার: এটা একটা সার্ভের বিষয়। বিষয়টি দেখার জন্য আমি আগে বার্সেলোনা গিয়েছিলাম, কানাডায় গিয়েছিলাম। দেশগুলোর সম্মেলনে আমি দেখেছি যে তাদের যে নার্স ও মিডওয়াইফস আছে, তাদের দক্ষতার তুলনায় আমাদের দেশের নার্স ও মিডওয়াইফসরা কোন অংশেই কম নয়। সেসব দেশের সম্মেলনে নার্সদের হাতে কলমে প্রশিক্ষণ আমি দেখেছি। আমাদের দেশের নার্সদেরও আমি হাতে কলমে প্রশিক্ষণ দেখেছি। উভয় প্রশিক্ষণ তুলনা করলে আমরা বলতে পারি যে আমাদের নার্সরা আন্তর্জাতিক মানের সেবা দিতে সক্ষম। আপনি জেনে খুশি হবেন, আমাদের নার্সদের মধ্যে ইতিমধ্যে প্রায় ১৭ জন পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেছে। থাইল্যান্ড সরকারের সহায়তায় এটা অর্জন সম্ভব হয়েছে। এতে বাংলাদেশ সরকারের সমর্থন ও সহায়তাও ছিল। চলতি বছর থেকে সুইডিশ সরকারও আমাদের দুইজন করে নার্স পিএইচডি ডিগ্রি অর্জনের সুযোগ করে দিচ্ছে। এছাড়া সুইডেনের ওয়েববেস মাস্টার্স কোর্সে এরই মধ্যে আমাদের ৬০ জন নার্স সক্ষমতা দেখিয়েছে। সুইডিশ সরকারের দক্ষ প্রতিনিধীরাই বাংলাদেশে এসে এ প্রশিক্ষণ দিচ্ছে।   আমরা যখন ইউনিয়ন পর্যায়ে মিডওয়াইফসের নিয়োগ দিতে পারবো। তখন এ সেবাটা একটা কোয়ালিটি পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারবো। তবে এখনই বিদেশ থেকে আমাদের অফার আসে যে আমরা নার্স পাঠাতে পারবো কি না। একুশে টেলিভিশন অনলাইন: আমাদের দেশে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা ২৮ লাখ। বিপুল সংখ্যক এ বেকারদের কর্মসংস্থানে নার্সিং ও মিডওয়াইফস অধিদপ্তরের কতটুকু অবদান রেখেছে? তন্দ্রা শিকদার: আমাদের দেশে যেখানে লাখ লাখ শিক্ষিত বেকার, সেখানে এই সেক্টরে লেখা-পড়া শেষ না হতেই চাকরির নিশ্চয়তা আছে। বিশ্ববিদ্যায়লয়ের সর্বোচ্চ ডিগ্রি নিয়ে যেখানে বেকার, সেখানে লেখা-পড়া শেষ না হতেই সরকারি চাকরি! এটা বড় একটি সুযোগ। আমাদের সিনিয়র স্টাফ নার্সরা ছাত্রত্ব ঘোচানোর সঙ্গে সঙ্গেই চাকরি পেয়ে যাচ্ছে পিএসসির অধীনে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে। একুশে টেলিভিশন অনলাইন: সেবামূলক কাজে নারীরাই বেশি দক্ষতা দেখাতে পারে। তাই সেবা খাতগুলোতে নারীর প্রধান্য থাকা উচিৎ বলে অনেকে মনে করেন। সে বিবেচনায় নার্সিং সেবাই নারীর ক্ষমতায়নটা কতটুকু নিশ্চিত হয়েছে? তন্দ্রা শিকদার: আমাদের নার্সিং সেবাটা নারীদেরই জায়গা। এখানে মাত্র ১০ শতাংশ পুরুষ। আর বাকি সব নারী। নারীর ক্ষমতায়ন যদি বলতে হয়, পুরো ক্ষমতায়ন আমাদের এ নার্সিং সেবাতে আছে। আমাদের এ উপমহাদেশে জিডিপিতে যদিও নিটুটভাবে ফূটে উঠে না যে নারী কতটুকু কাজ করছে। কিন্তু আমাদের নার্সিং পেশাতে শতভাগ দৃর্শমান যে নারী তার সংসারের পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রেও সমানভাবে কাজ করে যাচ্ছে। একুশে টেলিভিশন অনলাইন: দেশের মা ও নবজাতক শিশুর সেবা কার্যক্রম এগিয়ে নিতে কোন প্রতিবন্ধকতা দেখছেন কি না? তন্দ্রা শিকদার: আমি গত এক বছর ধরে এখানে দায়িত্ব পালন করছি। তাতে আমার মনে হয়েছে। আমাদের নার্সরা যে উচ্চ শিক্ষা নিচ্ছেন। এ উচ্চ শিক্ষার পাশাপাশি তাদের প্রশিক্ষণের দরকার আছে। কারণ প্রশিক্ষণ ছাড়া দক্ষ নার্স পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। তাদের বুনিয়াদী প্রশিক্ষণ থেকে বিশেষ বিশেষ প্রশিক্ষণগুলো নিশ্চিত করা দরকার। আমরা এরই মধ্যে ১৩শ’ নার্সকে বুনিয়াদী প্রশিক্ষণ দিতে পেরেছি। এটা আরও বাড়ানো দরকার। যদি আমাদের অর্থ বরাদ্দ বাড়ানো হয় তবে আমরাও এ প্রশিক্ষণগুলো বাড়াতে পারবো। এছাড়া আমাদের এ নার্সিং সেবার সম্প্রসারণ করতে যে জনবল দরকার তাও আমাদের অধিদপ্তরে ঘাটতি আছে। এটাও বাড়ানো দরকার। একুশে টেলিভিশন অনলাইন: দেশে অনেক পেশায় তো আছে, একটি মেয়ে কেন এ পেশা বেঁছে নিবে? তন্দ্রা শিকদার: এটি এমন একটি পেশা, যেখানে সেবা, সম্মান ও কর্মসংস্থান একসঙ্গে গাথা। একজন শিশু যখন পৃথিবীতে আসে সে প্রথমে মিডওয়াইফসের হাত ধরেই আসে। মা তার সন্তানকে দেখার আগে মিডওয়াইফসকে দেখেন। এটা একজন মিডওয়াইফসের জন্য বড় পাওয়া। একটি মেয়ে লেখা-পড়া শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই এ পেশায় আসতে পারছে। সে নিজের অর্থনৈতিক মুক্তি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশের সেবাইও কাজ করার সুযোগ পাচ্ছে। আমি মনে করি আগামী প্রজন্মের জন্য এ পেশায় বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা আছে। দেশ ছাড়া দেশের বাইরেও চাকরির জন্য আমাদের নার্সদের চাহিদা আছে। দক্ষ নার্স গড়ে তোলার মাধ্যমে ভবিষ্যতে আমরা সে বৈদেশিক চাহিদা কাজে লাগাতে পারবো। বিদেশে নার্স পাঠাতে পারবো। তাতে আমাদের অর্থনৈতিক ভীতও শক্তিশালী হবে। একুশে টেলিভিশন অনলাইন: নার্স ও মিডওয়াইফসদের উদ্দেশ্যে আপনার পরার্শ কি? তন্দ্রা শিকদার: নতুন প্রজন্মের কাছে আমরা বলতে পারি নার্স এবং মিডওয়াইফারিদের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একসঙ্গে তিন হাজার পদ সৃষ্টি করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী মন্ত্রণালয় থেকেও সেটা পাশ হয়ে আসছে। সেখানে উপজেলা পর্যায় থেকে ইউনিয়ন পর্যন্ত আমাদের মিডওয়াইফসদের পদায়নের পরিকল্পনা আছে। এরই মধ্যে আমরা এক হাজার ৬০০ স্ট্যাফ নার্সদের ছয় মাসের একটা স্পেশাল কোর্স করিয়ে ইউনিয়ন পর্যন্ত পদায়ন করতে পেরেছি। তাদের সাময়িকভাবে পদায়ন করা হয়েছে। স্পেশালাইস্ট নার্স হিসেবে। কেননা আমাদের মিডওয়াইফ সংকট আছে। তবে এরই মধ্যে আমাদের প্রায় ৬০০ মিডওয়াইফস কোর্স শেষ করে, পিএসসি পরীক্ষা দেওয়ার পর পদায়নের অপেক্ষায় আছে। তাদের লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা এমনকি পুলিশ ভেরিফিকেশনও শেষ পর্যায়ে আছে। সর্ব শেষ প্রতিবেদন হচ্ছে মাত্র আটজন প্রার্থীর পুলিশ ভেরিফিকেশন বাকী আছে। এই আটজনের পুলিশ ভেরিফিকেশন হলেই আমরা তাদের সবাইকে পদায়ন করতে পারবো। সেটি মন্ত্রণালয় থেকে এরই মাধ্যে কাদের কোথায় পদায়ন করবে সে ব্যাপারে কার্যক্রম শুরু হয়ে গেছে। এ মিডওয়াইফসদের যদি আমরা কাজে লাগাতে পারি তবে আমাদের মাতৃ মৃত্যুর হার আরও কমে যাবে। নবজাতক মৃত্যুর হারও কমে যাবে।   এসএইচ/      

© ২০১৮ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি