ঢাকা, ২০১৯-০৪-২৪ ১২:২৬:২৬, বুধবার

ছোট স্বপ্ন থেকে সাহসী উদ্যোক্তা সাবরিনা জামান

ছোট স্বপ্ন থেকে সাহসী উদ্যোক্তা সাবরিনা জামান

সাধারণ মানুষের অসাধারণ হয়ে ওঠার পথের বাঁকে থাকে ছোট ছোট অনেক গল্প। যে গল্প বিশ্বাসের, যে গল্প পরিশ্রমের, যে গল্প ধৈর্য্য ধারনের, যে গল্প সাহসীকতার। ঘুরে দাড়ানোর স্বপ্ন নিয়ে শুরু হয় পথচলা। নানা বাধা আসে চলার পথে। ঝুঁকি সামলে নিতে না নিতে আবার ঝুঁকি আসে। নতুন নতুন অভিজ্ঞতা, নিজের পেশা নিয়ে সংশয়, সফল হওয়ার দৃঢ় প্রত্যয়; একজন উদ্যোক্তার এসবগুলো অভিজ্ঞতাই অর্জিত হয়ে যায়। ঠিক তেমনি এতসব বাঁধা পেরিয়ে সফল ও সাহসী উদ্যোক্তা হিসাবে সমাজে প্রতিষ্ঠা লাভ করছেন ইমপ্যাক্ট পিআর-এর প্রধান নির্বাহী সাবরিনা জামান। দীর্ঘ ১২ বছর এই প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী হিসাবে কাজ করছেন। অর্জন করেছেন সুখ্যাতি। প্রথম দু’জনের হাত ধরে প্রতিষ্ঠান শুরু করলেও বর্তমানে এই প্রতিষ্ঠানে অর্ধ-শতাধিক লোক কাজ করছে। রসুইঘরের বদলে এখন তাকে ব্যস্ত থাকতে হয় প্রতিষ্ঠানটি সামলানোর কাজে। তবে এই সাফল্যের পথটা মসৃণ ছিল না। নিজের সাহসী উদ্যোক্তা হয়ে উঠার সার্বিক বিষয় নিয়ে সাক্ষাতকার দিয়েছেন একুশে টেলিভিশন অনলাইনকে। সাক্ষাতকারটি নিয়েছেন একুশে টিভি অনলাইন প্রতিবেদক তবিবুর রহমান। একুশে টিভি অনলাইন: ইমপ্যাক্ট পিআর বাংলাদেশে প্রথম পিআর এজেন্সি এটা সবাই জানে। প্রশ্ন হলো- কিভাবে এর পথচলা শুরু হয়- সাবরিনা জামান: প্রকৃত অর্থে পিআর যে আলাদা একটি সার্ভিস সেক্টর হতে পারে সেটা নিয়ে সর্বপ্রথম কাজ করে ইমপ্যাক্ট পিআর। শুরুতে আমাদের মাথায় চিন্তা আসে যে বাংলাদেশে এ ধরনের কাজের ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। তবে অর্থ সংকটের কারণে আমরা নিজ থেকে কাজটা শুরু করতে পারেনি। কারণ আমি একটা ছোট চাকরি করি। যা দিয়ে এমন কর্মসংস্থান তৈরি করা সম্ভব ছিলো না। যে কারণে আমরা উদ্যোক্তা খোঁজা শুরু করলাম। এই আইডিয়া নিয়ে দেশের বড় বড় কয়েকটি বিজ্ঞপনী সংস্থার মালিকের সঙ্গে আলোচনা করে এবং বোঝানোর চেষ্টা করলাম, দেশে পিআর নিয়ে আলাদাভাবে কাজ করার ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। কিন্তু তাদের কারো পক্ষেই দেশে পিআরের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে উপলব্ধি করা সম্ভব হয়নি এবং পিআর এজেন্সি শুরুর বিষয়ে অনাগ্রহ প্রকাশ করেন। তারা বললেন- এর মাকের্ট তৈরি করা বাংলাদেশে কোন দিন সম্ভব নয়। এমন আচরণের কারণে শুরুতেই আমরা কিছুটা পিছিয়ে গেলাম। একুশে টিভি অনলাইন: পিছিয়ে গিয়ে আবার কিভাবে সামনের দিকে এগুলেন? সাবরিনা জামান: তবে নিজের উপর বেশ আত্মবিশ্বাস ছিল।  মনে হয়েছে-এখানে সম্ভাবনাময় কিছু করার বেশ সুযোগ রয়েছে। বাংলাদেশে এই মাকের্টটা এমনিতেই পড়ে রয়েছে। কেউ এটা নিয়ে কাজ করছে না। পরিশেষে  আমি নিজে এবং বর্তমানে ইন্ডিপেন্ডেন্ট টিভির প্রধান নির্বাহী এবং ইংরেজি দৈনিক ইন্ডিপেন্ডেন্টের সম্পাদক মো. শামসুর রহমান, নামকরা ব্যবসায়ী ইন্টারন্যাশনাল অফিস ইকুইপমেন্ট (আইওই) এর সিইও এবং আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স, বাংলাদেশ (অ্যামচেম) এর তৎকালীন প্রেসিডেন্ট আফতাব উল ইসলাম এর সঙ্গে আলাপ করি। তিনি আইডিয়াটা স্বাদরে গ্রহণ করেন এবং পিআর এজেন্সি চালু করার জন্য সার্বিক সহায়তা করেন। এভাবে ২০০৫ সালে দু’জনের হাত ধরে দেশের প্রথম পিআর এজেন্সি হিসেবে ইমপ্যাক্ট পিআরের যাত্রা শুরু। তবে প্রথম ৫-৬ বছরের পথ চলা খুবই কঠিন ছিলো। মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরে, ব্যবসায়ীদের কাছে বার বার গিয়ে বুঝাতে হয়েছে পিআর কি। তবুও তারা বুঝতে চেষ্টা করেনি। বড় বড় কোম্পানির কাছে গিয়ে পিআর সম্পর্কে ব্রিফ করতে হতো। কারণ বিষয়টি সবার কাছেই একেবারে নতুন ছিল। সেসময় এশিয়া এনার্জি নামে একটি বহুজাতিক জ্বালানী কোম্পানি এবং দেশের শীর্ষ স্থানীয় ব্যবসায়িক গ্রুপ বেক্সিমকো তাদের সবগুলো কোম্পানির পিআর এর জন্য ইমপ্যাক্ট পিআরকে দায়িত্ব দেয়। শুরুতে এই দুইটি কোম্পানি নিয়ে আমাদের পথচলা শুরু হয়। একুশে টিভি অনলাইন: বর্তমানে এই সেক্টরের অবস্থা কেমন? সাবরিনা জামান: বর্তমানেও আমরা অনেকগুলো বিষয়ে প্রতিবন্ধকতা সম্মুখীন হচ্ছি। এখনও মার্কেট বুঝে না পিআর কি। আপনি যদি ৫ বছর আগে প্রশ্ন করতেন পিআর কি, আমি বলতাম ভালো প্রেস রিলিজ লেখা পিআর এজেন্সির কাজ। একটা ভাল সংবাদ সম্মেলনের ব্যবস্থা করে দেওয়া পিআর এজেন্সির কাজ। গণমাধ্যমে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত দায়িত্ব পিআর। কিন্তু এই ধারণার পরিবর্তন এসেছে। এই জায়াগ থেকে আমরা অনেকটা বের হয়ে এসেছি। প্রথম কয়েকবছর ইমপ্যাক্ট পিআর একচেটিয়া ব্যবসা করে। তারপর ধীরে ধীরে অন্যান্য পিআর এজেন্সি বাজারে আসলে শুরু হয় প্রতিযোগিতা। এতএব আমরা কিছুটা হলেও এর গুরুত্ব বুঝাতে সক্ষম হয়েছি। একুশে টিভি অনলাইন: দেশে এখন অনেকগুলো পিআর এজেন্সি। মূলত পিআর এর কাজ কি? সাবরিনা জামান: বর্তমানে আমরা পিআর এজেন্সির গুরুত্ব মাকের্টে তৈরি করেছি। একটা উদাহরণ দিলে বুঝতে পারবেন। ধরুন একুশে টিভি অনলাইনকে বাংলাদেশে ১ নম্বর অনলাইন নিউজ পোর্টাল হিসাবে দেখতে চায়। এজন্য পিআর এজেন্সি যা করা দরকার তাই করবে। পিআর এজেন্সি এক বছরের একটা কেলেন্ডার তৈরি করে দিবে। যেখানে এবছরে কিভাবে ১ নম্বর নিউজ পোর্টাল হবে তার বিস্তারিত বিবরণ দেওয়া থাকবে। আর পিআর এজেন্সির কাজ হলো এই এক বছরে সঠিক সেবা নিশ্চিত করে ইটিভি অনলাইনকে বাংলাদেশের ১ নম্বর নিউজ পোর্টাল হিসাবে প্রতিষ্ঠা লাভ করানো। তবে এমন সার্ভিসটা সব পিআর এজেন্সির মধ্যে নেই। সেক্টরটা এখনও নতুন এবং এর কোন প্ল্যাটফর্ম বা গাইডলাইন নেই। এ কারণে প্রতিটি পিআর অ্যাক্টিভিটির জন্য কোন স্টান্ডার্ড মূল্য নির্ধারিত হয়নি। একই কাজের জন্য একেক এজেন্সি একেক ধরণের অসম বাজেট দেয়। এতে ক্লায়েন্ট বা কোম্পানিগুলো দ্বিধায় পড়ে যায়। এ কারণে পিআর এজেন্সিগুলোর একটি আলাদা প্লাটফর্ম থাকা জরুরি। একুশে টিভি অনলাইন: এই প্লাটফর্ম নিয়ে আপনাদের স্বপ্ন বা ভবিষৎ পরিকল্পনা কি? সাবরিনা জামান: আমাদের একটা ছোট স্বপ্ন আছে। সেটা হচ্ছে আমাদের এই ইন্ডাস্ট্রিটা ভালোভাবে প্রতিষ্ঠা করাবো। বাংলাদেশে পিআর এজেন্সি হবে। যখন এই ইন্ডাস্ট্রিটার গুরুত্ব মানুষ ভালভাবে বুঝতে পারবে। তখন ইমপ্যাক্ট পিআর সকল পিআর এজেন্সি নিয়ে একটি গঠনতন্ত্র তৈরি করবে। যার মাধ্যমে সকল পিআর এজেন্সি পরিচালিত হবে। আমি অনেক বার এ ইন্ডাস্ট্রিটা ছেড়ে অন্য পেশায় চলে যেতে চেয়েছি। কিন্তু আমার স্বপ্ন আমার নেশার কারণে বার বার ফিরে এসেছি। বর্তমানে আমাদের প্রতিষ্ঠানে ৩০জন লোক কাজ করে। আশা করি আমার স্বপ্ন একদিন পূরণ হবে। একুশে টিভি অনলাইন: পড়ালেখার জন্য দেশের বাহিরে চলে গিয়েছিলেন। বিদেশে স্থায়ী না হয়ে দেশে কেন ফিরলেন? সাবরিনা জামান: এর মূল কারণ ছিল আমার বাবা-মা। দ্বিতীয় কারণ ছিল দেশপ্রেম, তৃতীয় আমার স্বপ্ন। যে স্বপ্ন আমাকে ঘুমাতে দেয় না। আমি বিদেশ থেকেও ইমপ্যাক্ট পিআরে কাজ করতাম। আমি জন্মগতভাবে  ব্রিটেনের নাগরিক ছিলাম। চাইলে ওই দেশে অনেক ভালকিছু করতে পারতাম। শুধু আমার বাবা-মা, আমার দেশপ্রেম এবং আমার স্বপ্ন আমাকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে এনেছে। একুশে টিভি অনলাইন: এমন পেশায় কেন আসলেন? সাবরিনা জামান: সত্যি কথা বলতে আমি নতুন মানুষের সঙ্গে কাজ করতে ভালবাসি। একইসঙ্গে আমি কথা বলতে খুব পছন্দ করি। এবং মানুষ আমার কথা শুনতেও পছন্দ করে। কাজেই মার্কেটিং, সেলস এসব জায়গাতেই আমার চলে যাওয়া উচিত। তবে পর্যটন, হসপিটালিটি বা সেলস-মার্কেটিং জগতে এসে ছোট-খাটো একটি চাকরি করেছি কিছুদিন। আমি যখন মাস্টার্স পরীক্ষা দেই তখন পত্রিকায় একটি বিজ্ঞাপন দেখি, ডাচ এয়ারলাইন্স কেএলএম তাদের সেলস টিমে লোক নেবে। সেখানে আমি ইন্টারভিউ দেই এবং চাকরিটা পাই। বাংলাদেশে কেএলএম-এর অপারেশন বেশ ছোট ছিল এবং তাদের সেলস আর মার্কেটিং একই টিম করতো। সেখানেও তাদের কথা সহজেই মানুষকে পৌঁছে দিতে পেরেছিলাম, এবং বুঝলাম গণসংযোগের পেশাটাই আমার জন্য উত্তম হবে। একুশে টিভি অনলাইন: এই সেক্টর সম্পর্কে বিশেষ কিছু বলতে চান? সাবরিনা জামান: কাজ করতে গিয়ে অনেক অভিজ্ঞাতার মুখোমুখি হতে হয়েছে, এই পেশা সম্পর্কে অনেকে নেতিবাচক ধারণা পোষণ করেন। কিছু এজেন্সির নেতিবাচক চর্চার কারণে এমনটি হয়েছে। অনেকে ভাবেন টাকা দিয়ে কাজ করায় পিআর এজেন্সি। তবে যারা এমনটি করে তারা বেশিদিন মার্কেটে টিকতে পারে না। কাজের মূল্যায়ন সবখানে আছে। আমি দেখেছি, অনেক ক্লায়েন্ট আমাদের কাছ থেকে চলে গিয়ে বাজেটের দিক বিবেচনা করে, আবার ফিরে এসেছে শুধুমাত্র কাজে মুগ্ধ হয়ে। অবাস্তব আশা দিয়ে কাজ নিয়ে ক্লায়েন্ট অসন্তুষ্ট করা কোন ভাবেই ঠিক নয়। এজন্যই প্রতিযোগিতামূলক এই বাজারে টিকে আছি। তবে এই সেক্টরে প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে সেক্টরটি ধীরে ধীরে বড় হচ্ছে। সে সঙ্গে বিদেশি বহুজাতিক পিআর এবং কমিউনিকেশন এজেন্সিগুলোর সঙ্গে দেশিও অনেক এজেন্সি সরাসরি কাজ করার সুযোগ পাচ্ছে বলে আন্তর্জাতিক মানের পিআর চর্চা হচ্ছে এবং অদূর ভবিষ্যতে এটি বড় একটি সার্ভিস সেক্টর হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে। একুশে টিভি অনলাইন: একজন উদ্যোক্তা অর্থনৈতিক সংকট কিভাবে কাটিয়ে উঠতে পারে? সাবরিনা জামান: আমার মনে হয় উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য টাকার প্রয়োজন হয় না। স্বপ্ন বাস্তাবায়নে সংগ্রামের প্রয়োজন হয়। কোন ব্যক্তি যদি স্বপ্ন দেখে যে উদ্যোক্ত হতে চায়। তাহলে অবশ্যই তার অর্থ দিয়ে সহযোগিতা করতে পারে এমন কাউকে খুঁজে বের করতে হবে। পরিকল্পনার কথা বলতে হবে, যদি সে ব্যক্তি অর্থ দিতে রাজি হয় তাহলে পথে নামতে হবে। এই পথ আপনাকে গন্তব্যে পৌঁছে দেবে। টিআর/এসি
সবারই বিদায় হজের ভাষণ পড়া উচিত: আরমা দত্ত

সবারই বিদায় হজের ভাষণ ও মদীনা সনদ পড়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন সংসদ সদস্য আরমা দত্ত। তিনি বলেন, বিদায় হজে মোহাম্মদ ( সা) বলেছেন, "তোমরা কোন নারীর প্রতি অবিচার করোনা।" একুশে টেলিভিশন অনলাইনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন। আরমা দত্ত বলেন, এদেশের অধিকাংশ মানুষ ধার্মিক। ধর্ম শান্তির জায়গা। কিন্তু মোহাম্মদ ( সা) এর বিদায় হজের ভাষন ও মদীনা সনদ না পড়লে ধর্মের প্রকৃত মর্মার্থ বুঝা যাবেনা। সোনাগাজী মাদ্রাসার ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি`র নিহত হওয়ার বিষয় নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। আরমা দত্ত বলেন, বিদায় হজে তিনটা প্রধান বিষয় মুহাম্মদ ( সা) বলে গেছেন। একটা হলো, তুমি কোন নারীর প্রতি অবিচার করবে না। দ্বিতীয়টি হলো, ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি করবে না। সব ধর্মকে সমান মর্যাদা দিবে। তৃতীয়টি হলো, সুদের ব্যাবসা করবে না। কিন্তু সমীক্ষা চালালে দেখা যাবে অধিকাংশ লোক এই তিনটি বিষয় সম্পর্কে জানেন না। যদি কেউ এ তিনটি বিষয় জানে এবং মানে তাহলে কোনো সমস্যা হওয়ার কথা না। আরমা দত্ত বলেন, নারীকে শোষণ করতে গিয়ে অনেকে ধর্মকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে। তারা ধর্মের অপব্যবহার করছে। আমি বহু লোককে জিজ্ঞেস করেছি এবং বলেছি, আপনারা বায়বীয় কথা না বলে মুহাম্মদ ( সা) এর ভাষনকে দলিল হিসেবে তুলে আনুন। আর কোনো ধর্মে এত শক্তিশালী দর্শন আছে বলে মনে হয় না। আরমা দত্ত বলেন, মুহাম্মদ ( সা) স্পষ্ট বলে গেছেন, কোন নারীকে অমর্যাদা করবে না। আজকে যারা খুব ধর্মের কথা বলে তারা ধর্মের অপব্যবহার করছে, তাদের অনেকে ধর্মের মূল জায়গাটা জানে না। ধর্মের মূল দর্শনটাই তারা চর্চা করে না। আমরা যদি প্রতিজ্ঞা করি, বিদায় হজ্বের এ তিনটা বিষয় মেনে চলব, তাহলে পরিবর্তন আমার ঘরে, সমাজে, দেশে আসবে। সাম্প্রতিক সময়ে নারীকে ধর্ষনের জন্য বা যৌন হয়রানীর জন্য কোন কোন মহল পোশাককে দায়ী করে থাকে এমন প্রসঙ্গে আরমা দত্ত বলেন, বাংলাদেশের মেয়েরা খুব সুন্দর ও শালীন পোশাক পড়ে থাকে। আমাদের দেশের মেয়েরা যথেষ্ট শালীন। সমস্যা হলো আমাদের বিকৃত রুচি। তবে আশার কথা হলো একটা পরিবর্তন আসছে। আরমা দত্তের মতে, শুধুমাত্র শাস্তি নয়, পুরো ব্যাপারটাকে আন্দোলন হিসেবে নিতে হবে। একেবারে ছোট বয়স থেকেই বাচ্চাদের শেখাতে হবে নারী শ্রদ্ধার পাত্র। নারী মায়ের জাতি। নারীর জঠর থেকে তুমি এসেছ। একটা মেয়েকে অপমান করা মানে মাকে অপমান করা। নারীকে যদি মায়ের চোখে দেখা হয়, তাহলে সে যে পোশাকই পড়ুক না কেন সমস্যা কোথায়? আশাবাদ ব্যক্ত করে আরমা দত্ত বলেন, নারীদেরকে অবদমিত করা, যৌন হেনস্থা করার যে সংস্কৃতি চলছে তা বদলাবে। শীঘ্রই এমন পরিস্থিতির উন্নতি ঘটবেই। প্রসঙ্গত, গত বুধবার রাত সাড়ে ন`টায় ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসারত অবস্থায় মারা যান সোনাগাজী মাদ্রাসার ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি। এর আগে নিজ মাদ্রাসার ছাদে দুর্বৃত্তরা তার গায়ে আগুন দিলে শরীরের আশি ভাগ পুড়ে যায়। ঘটনার দায়ে অভিযুক্ত একই মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এসি  

‘পাকিস্তানকে উচিৎ শিক্ষা দেওয়া দরকার’  

ভারত ও বাংলাদেশ দু’দেশের জন্যই পাকিস্তান ক্ষতিকর। তারা পুলওয়ামাতে জঙ্গি হামলা করার পর আবার চারজনকে হত্যা করেছে। তাদের এখন উচিৎ শিক্ষা দেওয়া দরকার বলে মনে করেন সংগীত শিল্পী কমলিকা চক্রবর্তী। তিনি বলেন, পাকিস্তান বার বার একই কাজ করে যাচ্ছে। এবার তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।     কমলিকা গানের ভুবনের মানুষ। তিনি একজন রবীন্দ্র সংগীত শিল্পী। দুই বাংলাতেই রয়েছে তার সমান বিচরণ। বিয়ে করেছেন বাংলাদেশে। তার বাড়ি পশ্চিম বঙ্গের নদীয়ায়। ছোট বেলা থেকেই তিনি নাচ গানের সঙ্গে যুক্ত। মা-বাবার হাতেই তার গানের হাতে খড়ি। তার প্রথম গানের অ্যালবাম ‘রবি কথা’। তারপর তিনি রবীন্দ্র সংগীতের পাশাপাশি অনেকগুলো মিউজিক ভিডিওতে কাজ করেন।   সম্প্রতি ভারতের কাশ্মীরে জঙ্গি হামলার ঘটনায় এ সংগীত শিল্পী একুশে টেলিভিশন অনলাইনকে বলেন, আমার শ্বশুর বাড়ি বাংলাদেশে। আমি দেখি এখানে পাকিস্তানের শিল্পীরা এলাও হয় না কিন্তু ভারতে তারা কাজ করতে পারে। এখন সময় হয়েছে পাকিস্তানের সঙ্গে ব্যবসা বাণিজ্য থেকে সব কিছু বন্ধ করে দেওয়ার। তবে বাংলাদেশে এসে মনে হয়েছে এ দেশের মানুষ জঙ্গিবাদকে পছন্দ করে না। তারা অনেকেই কাশ্মীরে হামলার ঘটনায় সোচ্চার। আগামীর ভাবনা সম্পর্কে জানতে চাইলে কমলিকা চক্রবর্তী বলেন, ভবিষ্যতে রাজনীতি করার ইচ্ছা আছে। আমার বাবা রাজনীতি করতেন অন্যদিকে আমার শ্বশুর পরিবারও রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। আমি তৃণমূল কংগ্রেস এর মিছিল মিটিং বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে থাকি। নির্বাচনের সময় তৃণমূলের জন্য আমি একটি নির্বাচনি গানও করি। যা ব্যাপক জনপ্রিয় হয়। মানুষের জন্য কিছু করতে চাই। আগামী প্রজন্মের জন্য কিছু কাজ করে যেতে চাই।  গান নিয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী? জানতে চাইলে তিনি বলেন, দুই বাংলাতেই কাজ করতে চাই। কলকাতায় ইতোমধ্যে দুটি মিউজিক ভিডিও’র কাজ শেষ করেছি। সামনে মুক্তি পাবে। এছাড়া সিনেমার গান নিয়েও কাজ করছি। এর আগে বাংলাদেশের একটি সিনেমায় গান করেছি। আরও কিছু কাজ আছে সেগুলো নিয়ে ব্যস্ত আছি। দুই বাংলার মধ্যে কোনটিকে এগিয়ে রাখবেন? তুলনা করতে বললে, একটু হেসে...বললেন, অবশ্যই আমার জন্মভূমি বেশি প্রিয়। তবে এ দেশকে আমি খুব ভালোবাসি। আমার শ্বশুর বাড়ি এখানে। প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের সঙ্গেও আমাদের সম্পর্ক রয়েছে। তার পরিবারকে যেভাবে হত্যা করা হলো- তিনি দাঁতে দাঁত কামড়ে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। এটা একটা বিরল ঘটনা। আমি হলেও এটা পারতাম না। তিনি যতদিন থাকবেন ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক ততটাই মজবুত থাকবে। গানে বিশেষ অবদান রাখায় কমলিকা চক্রবর্তীকে গেল বছর দুবাইতে ‘গ্লোবাল মিউজিক অ্যাওয়ার্ড’ এ ভূষিত করা হয়। এছাড়া তিনি ব্যাপক সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। গানের মধ্যে দিয়েই তিনি আজীবন মানুষের মনে স্থান করে নিতে চান। পাশাপাশি সমাজকে, প্রজন্মকে এগিয়ে নিতে যুক্ত হতে চান রাজনীতিতে। এসি     

প্রধানমন্ত্রীর বিশ্বাসের মর্যাদা রাখতে চাই: ফরিদা খানম সাকি

ফরিদা খানম সাকি। একাদশ জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনীত সংসদ সদস্য। সবকিছু ঠিক থাকলে কয়েকদিন পর আনুষ্ঠানিক ভাবে নারী সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিতে যাচ্ছেন তিনি।   ফরিদা খানম সাকি একজন মুক্তিযোদ্ধা। শুধু তিনি নন; তার এক ভাই এবং এক বোনও মুক্তিযোদ্ধা। তার আপন সেজ মামা সাহাবুদ্দিন এসকান্দর ভুলু মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হয়েছেন। সারাজীবন রাজনীতি করা মানুষটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে ছিলেন শেখ হাসিনা`র ( বর্তমান প্রধানমন্ত্রী) সহপাঠী। তার স্বামী মাহমুদুর রহমান বেলায়েত দু`বার সংসদ সদস্য হিসাবে নির্বাচিত হয়েছেন। অথচ তার সাধাসিধে জীবন অন্য অনেকের চেয়ে ব্যতিক্রম করে তুলেছে তাকে। বঙ্গবন্ধুর স্নেহ পাওয়া ফরিদা খানম সাকি`র ছাত্ররাজনীতির স্মৃতি মানেই ছয়দফা, গণঅভ্যুথান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে সহপাঠী হিসেবে পেয়েছেন শেখ হাসিনাকে (আজকের প্রধানমন্ত্রী)। স্মৃতিচারন করতে গিয়ে একুশে টেলিভিশন অনলাইনকে বলেন, আমি যখন রোকেয়া হলে থাকি তখন তিনি (শেখ হাসিনা) রোকেয়া হলে খুব জনপ্রিয়। শুধু ছাত্রীরা নয়, হলে কর্মচারীরাও তাকে ভালবাসত। বঙ্গবন্ধু`র ইশারায় তখন দেশ চলে। অথচ তার মেয়ে হয়েও তিনি ছিলেন খুব সাধারণ। সবার সঙ্গে মিশতেন। অনেকে আশ্চর্য্য হয়ে যেত। এত বড় নেতার মেয়ে। অথচ কোন অহংকার নেই।   ফরিদা খানম সাকি বলেন, শুধু প্রধানমন্ত্রী নয়, বঙ্গবন্ধু`র পরিবারের সবাই ছিল নিরহংকার ও সাধাসিধে ধরনের। ৩২ নাম্বারে গিয়ে আমরা কখনো না খেয়ে ফিরেছি এমন নজির নেই। রাজনৈতিক পরিবারে জন্ম নেওয়া ফরিদা খানম সাকি ছোটবেলা থেকে স্বপ্ন দেখতেন রাজনীতি করার। বঙ্গবন্ধু`র ছয় দফা যখন দেশের মানুষকে নতুন প্রেরণায় উজ্জ্বীবীত করে তখন থেকেই নোয়াখালীর মিটিং, মিছিলে বিচরণ শুরু করেন ফরিদা খানম সাকি। পরবর্তীতে ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। থাকতেন রোকেয়া হলে। ১৯৭০ সালের নির্বাচনী প্রচারে তিনি ছিলেন তখনকার ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী। কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সদস্য হিসেবে নোয়াখালীর এমন কোন বাড়ী নেই যেখানে তিনি নৌকা`র পক্ষে গণসংযোগ চালাননি। ২৫ মার্চের কালো রাতে তিনি সহ সাতজন মেয়ে অনেকটা অলৌকিক ভাবে হানাদারদের বুলেট থেকে বেঁচে যান। কিন্তু নোয়াখালীতে তার পরিবার মনে করেছিল, সাকি আর বেঁচে নেই। তিনি জীবিত আছেন এখবরটি নিশ্চিত হতে তাদের সময় লেগেছিল এক সপ্তাহ। সে সময়ের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে ফরিদা খানম সাকি বলেন, ২৫ মার্চের রাতে রোকেয়া হলের হাউস টিউটর সায়রা বেগম আমাদের সাতজন মেয়েকে স্টোররুমে লুকিয়ে রেখেছিলেন। নয়তো সেদিন আমাদের অবস্থা অন্যান্য হলের ছাত্রদের মতো হতো। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ফরিদা খানম সাকি ঢাকা শহরে বিভিন্ন আত্মীয়ের বাসায় লুকিয়ে ছিলেন। পরে নিজ এলাকা নোয়াখালীর মাইজদীতে চলে যান। সেখানে শহর থেকে যেসব মানুষ প্রাণ বাঁচাতে গ্রামে ফিরে যাচ্ছিল তাদের সেবায় লেগে যান। তাদের খাওয়ানো, তাদের জন্য পোশাক সংগ্রহ সহ নানা কাজে নিজেকে ব্যস্ত করে ফেলেন। এরমধ্যে একদিন স্থানীয় রাজাকারদের প্ররোচনায় তার মামা সাহাবুদ্দিন এসকান্দর ভুলুকে পাকবাহিনী ধরে নিয়ে যায় ও হত্যা করে। ফরিদা খানম সাকি তার এক বোন ও ভাই সহ ভারতে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। খুব অল্প সময়ে তিনি স্টেনগান চালানো আয়ত্ব করেন নিখুঁত ভাবে। পরবর্তীতে সেনবাগ গেরিলা যুদ্ধে তা ভাল কাজ দেয়। সেই সম্মুখ যুদ্ধে পাকিস্তানী বাহিনীর বেশ ক্ষতি হয়। নিজ বাসায় বসে একুশে টেলিভিশন অনলাইনের সঙ্গে আলাপকালে ফরিদা খানম সাকি বলেন, আমি মুক্তিযোদ্ধা, সেটাই আমার বড় পরিচয়। সংসদ সদস্য অনেকে আসবে যাবে। কিন্তু মুক্তিযোদ্ধা আর আসবে না। ফরিদা খানম সাকি`র বিয়ে হয়েছিল রাজনৈতিক পরিবারে। তার স্বামী মাহমুদুর রহমান বেলায়েত দু`বার সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। প্রথমবার ১৯৭৩ সালে দ্বিতীয়বার ১৯৮৬ সালে। বঙ্গবন্ধু`র সরাসরি স্নেহ পাওয়া মাহমুদুর রহমান বেলায়েত নোয়াখালী জেলায় মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক হিসেকে ভূমিকা রাখেন। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে তিনি ছিলেন নোয়াখালী জেলা মুজিব বাহিনীর প্রধান। চৌমুহনী এসএ কলেজের সাবেক ভিপি ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহ সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করা মাহমুদুর রহমান বেলায়েত নোয়াখালী জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৭৫ পরবর্তী প্রেক্ষাপট স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে একুশে টেলিভিশন অনলাইনকে ফরিদা খানম সাকি বলেন, সে সময় জিয়াউর রহমান আমার স্বামীকে তার দলে যোগ দেওয়ার জন্য ও তার সমর্থিত শ্রমিক সংগঠনের দায়িত্ব নেওয়ার জন্য বলেছিল। কিন্তু আমার স্বামী তাতে রাজী না হওয়ায় বারবার তাকে মিথ্যা মামলা দিয়ে ফাঁসানো হয়েছে। কারাগারে নির্যাতন চালানো হয়েছে। কিন্তু আমার স্বামী পণ করেছিলেন, মৃত্যু হলেও তিনি আদর্শ ত্যাগ করবেন না।  দীর্ঘ চুয়ান্ন বছর রাজনীতির মাঠে থেকে এবার সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন। কীভাবে প্রথম জানলেন এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, দলের সাধারন সম্পাদক ওবায়দুল কাদের প্রথম আমার স্বামীকে ফোন করে বলেন, আমাকে প্রধানমন্ত্রী ফরম নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। মনোনয়ন পেয়েছি এ খবরটাও তিনি প্রথম আমার স্বামীকে ফোনে জানান। রাজনীতি করতে গিয়ে জীবনে নানা চড়াই উৎরাই পার হয়েছেন। মাঠ ঘাট চষে বেড়িয়েছেন। চুয়ান্ন বছরের রাজনীতিতে এই প্রথম স্বীকৃতি হিসেবে সংসদ সদস্য হলেন। এমন অবস্থায় কী ভাবছেন জানতে চাইলে ফরিদা খানম সাকি একুশে টেলিভিশন অনলাইনকে বলেন, আগেও মানুষের জন্য কাজ করেছি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাকে বিশ্বাস করে দায়িত্ব দিয়েছেন। আমি যে কোন কিছুর বিনিময়ে সেই বিশ্বাসের মর্যাদা রাখতে চাই। এসি     

আন্তর্জাতিক মানের ব্র্যান্ড হবে ওয়েল ফুড  

দেশের গণ্ডি পেরিয়ে ব্যবসাকে বিশ্বময় ছড়িয়ে দিচ্ছেন ওয়েল গ্রুপ। চট্টগ্রাম ভিত্তিক ওয়েল গ্রুপের মূল ব্যবসা টেক্মটাইল। তবে ‘খাদ্য ব্যবসায়’ এসে সুনাম কুড়িয়েছে তাদের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ‘ওয়েল ফুড’। মানসম্মত খাদ্যপণ্য উৎপাদন করে জানান দিচ্ছে বিশ্বকে।   ওয়েল ফুডের পণ্য রপ্তানি হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের অনেক দেশে। ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটে এরই মধ্যে ৫৭টি আউটলেট চালু করেছে ওয়েল ফুড। ওয়েল গ্রুপের বর্তমান অবস্থা ও সার্বিক বিষয় নিয়ে সম্প্রতি একুশে টিভি অনলাইনকে সাক্ষাতকার দিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান ও সিইও সৈয়দ নুরুল ইসলাম।       সাক্ষাতকারটি নিয়েছেন একুশে টিভি অনলাইন প্রতিবেদক তবিবুর রহমান।      একুশে টিভি অনলাইন: ওয়েল ফুডের বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী ?   সৈয়দ নুরুল ইসলাম: ওয়েল গ্রুপের একটি অঙ্গ প্রতিষ্ঠান হচ্ছে ওয়েল ফুড। আমাদের মোট টার্নওভারের মাত্র ১০ শতাংশ ওয়েল ফুডের ব্যবসা। এখন দেশের বেশির ভাগ মানুষ আমাদের ওয়েল ফুডের ব্যবসায়ী হিসাবে বেশি চেনে। যে কারণে বর্তমানে আমরা অধিকাংশ সময় ওয়েল ফুডে দিচ্ছি। আমি মনে করি, আমাদের এই ফুড ব্যবসা অনেক দূর যাবে। বর্তমানে আমরা ব্র্যান্ড ও মান বৃদ্ধিতে কাজ করছি। আমরা আগামী প্রজন্মের জন্য হাজার কোটি টাকা রেখে যেতে পারবো না হয়তো। তবে আমি হাজার কোটি টাকা দামের একটা ব্র্যান্ড রেখে যাবো। সেই মানের ব্র্যান্ড তৈরিতেই কাজ করছি। আমার স্বপ্ন হচ্ছে ওয়েল ফুড বাংলাদেশের এক নম্বর ব্র্যান্ড হবে। শুধু তাই নয় আন্তর্জাতিক মানের ব্র্যান্ড হিসাবে দেখতে চায় ওয়েল ফুড। আপনি আমাদের আউটলেটে যান মানসম্মত খাদ্যপণ্য পাবেন। আমরা সবসময় মানসম্মত পণ্য নিশ্চিতে কাজ করছি। আমরা ভাল পণ্য বিক্রি করবো ভাল দাম নিয়ে। আজকে আমেরিকার কেএফসি’কে যেমন বাংলাদেশে দেখছেন, বেকারি শিল্পে ওয়েল ফুডকে এমন ভাবে আন্তর্জাতিক বাজারের এক নম্বর ব্র্যান্ড হিসাবে চিনবে।   একুশে টিভি অনলাইন: শুরুটা কেমন ছিলো?      সৈয়দ নুরুল ইসলাম: মালয়েশিয়া ভ্রমণে ২০০৬ সালে দেখলাম এক নতুন কনসেপ্ট; অর্ডার দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই রুটি-বিস্কুট-কেক ক্রেতার সামনে বানিয়ে তাৎক্ষণিক (লাইভ) বিক্রি হচ্ছে। সেই ধারণা আমাকে বেশ আকৃষ্ট করল। স্বপ্ন বুনতে লাগলাম এই ধরনের একটি ফাস্ট ফুড-বেকারি শপ বানানোর। দেশে এসে চট্টগ্রামের জিইসি মোড়ের ছোট্ট পরিসরে ২০০৬ সালেই যাত্রা শুরু করলাম আমার স্বপ্নের ফাস্ট ফুড শপ; নাম দিলাম ‘ওয়েল ফুড’। ব্রেড থেকে শুরু করে কেক-বিস্কুট প্রায় সব আইটেমই ছিল সেই ওয়েল ফুডে। সঙ্গে যুক্ত করলাম মালয়েশিয়ার বিখ্যাত ফাস্ট ফুড শপ ‘সুগার বান’কে।  একুশে টিভি অনলাইন: ব্যবসার শুরুতে কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হয়েছিলেন কি না?      সৈয়দ নুরুল ইসলাম: ব্যবসার শুরুর দিকে তেমন প্রতিবন্ধকতার শিকার হতে হয়নি। কারণ ভাইয়ের কাছ থেকে বিভিন্ন ধরনের সহযোগিতা পেয়েছি। শুরুতেই বেশ ভালো সাড়া পেয়ে শখের শপ আর এই ছোট্ট পরিসরে সীমাবদ্ধ রইল না; চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় পণ্য বানিয়ে ক্রেতার সামনে বিক্রি করা আর সম্ভব হলো না। পরিধি বাড়িয়ে এরপর চট্টগ্রামের মুরাদপুরে প্রথম কিচেন বা কারখানা করলাম। সেখান থেকেই চট্টগ্রামের শাখা খোলা এবং পণ্য সরবরাহ শুরু হলো। একের পর এক বেড়ে চট্টগ্রামে ওয়েল ফুডের শাখা বেড়ে দাঁড়াল ২৬টিতে। নগরীর সব গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় এখন ওয়েল ফুডের শাখা রয়েছে। চট্টগ্রাম মহানগর ছাড়িয়ে এখন আমাদের ব্যবসা উত্তরে হাটহাজারী; দক্ষিণে পটিয়া ছাড়িয়েছে। চট্টগ্রামের সুনাম কাজে লাগিয়ে আমরা রাজধানীর উদ্দেশে যাত্রার পরিকল্পনা করলাম। ২০১৩ সালে আমরা প্রথম ঢাকায় গিয়ে ওয়েল ফুডের ব্যবসা শুরু করলাম। পাঁচ বছরের ব্যবধানেই রাজধানী ঢাকায় ওয়েল ফুডের শাখা বেড়ে এখন ২৬টিতে দাঁড়িয়েছে। এরপর আমরা গেলাম সিলেটে। সেখানে আমাদের শাখা রয়েছে পাঁচটি। অর্থাৎ এই মুহূর্তে তিনটি বড় শহরে আমাদের শাখার সংখ্যা এখন ৫৭টি। দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে মধ্যপ্রাচ্যসহ অনেক গন্তব্যে ওয়েল ফুড পণ্য রপ্তানি হচ্ছে। শখের ব্যবসা দিয়ে শুরু হলেও ওয়েল ফুড দিয়েই লোকজন এখন আমাদের (ওয়েল গ্রুপকে) চেনে। আগে হাজার কোটি টাকার টেক্সটাইল ব্যবসা করলেও কেউ আমাদের চিনত না। ওয়েল ফুডের সেই চেনার জায়গাটাতেই আমরা কাজ করছি। উদ্দেশ্য আরো বেশিসংখ্যক মানুষের কাছে পৌঁছানো। একুশে টিভি অনলাইন: বর্তমানে এই ব্যবসার পরিসর কেমন?     সৈয়দ নুরুল ইসলাম: বর্তমানে ওয়েল ফুডের ব্যবসা মাসে গড়ে আড়াই কোটি টাকা। ওয়েল ফুডের আউটলেটভিত্তিক ব্যবসাকে আমরা ধীরে ধীরে বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়েছি। কয়েক বছরেই দ্রুত কয়েক শ কোটি টাকার ব্যবসা করব এমনটা চিন্তা করি না। কারণ ওয়েল ফুডের ক্রেতা হচ্ছেন উচ্চ ও উচ্চ মধ্যবিত্ত শ্রেণির। এই ক্রেতার রুচি-ধরনও আলাদা। তাদের টার্গেট করেই আমরা মান-স্বাদ বজায় রেখেই সামনে এগুচ্ছি। তাই সঠিক মান ও ব্র্যান্ড ইমেজ ধরে রেখে ব্যবসা করাটাই বড় চ্যালেঞ্জ।  একুশে টিভি অনলাইন: আপনার মূল্যবান সময় দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ। সৈয়দ নুরুল ইসলাম: একুশে টিভি পরিবারকেও ধন্যবাদ। এসি        

একুশে পদক পেলেন জেলে পরিবারের হরিশংকর জলদাস

মানুষ পারে না এমন কিছু নেই। চেষ্টা থাকলে নিজের ভেতরের সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো শুধু মানুষের পক্ষেই সম্ভব। তার উদাহরণ হরিশংকর জলদাস। চট্টগ্রাম সরকারী সিটি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ হরিশংকর জলদাস এবার (২০১৯) দেশের সর্বোচ্চ ও জাতীয় বেসামরিক সম্মান একুশে পদক পাচ্ছেন।   অন্য দশজন লেখকের মতো সুন্দর স্বাভাবিক জীবন পাননি হরিশংকর জলদাস। জেলে পিতা মাতার ঘরে জন্ম নেওয়া হরিশংকর সমুদ্রের স্রোতের সঙ্গে লড়াই করতে করতে বড় হয়েছেন। তবে শুধুমাত্র জেদ ও আত্মসম্মানকে কাজে লাগিয়ে বাঁচতে শিখেছেন, অর্জন করেছেন নিজের প্রাপ্যটুকু। হরিশংকর জলদাসদের বসত চট্টগ্রামের পতেঙ্গা এলাকায়। তার বাবা ছিলেন জেলে। দাদা কখনো জেলে, কখনো সুইপার। ছিল টানাপড়েনের সংসার। তার ঠাকুরদা চন্দ্রমণি পাতরের মৃত্যু হয়েছে সমুদ্রে। তার বাবা যুধিষ্ঠির জলদাস তখন পণ করেছিলেন, যেভাবেই হোক ছেলেকে লেখাপড়া শেখাবেন। যেই কথা সেই কাজ। হরিশংকর জলদাস যখন বিসিএস (শিক্ষা) করলেন তখনো তার পরিবারের অভাব কাটেনি। তার ভাষায়, ‘রাতভর মাছ ধরে দিনে কলেজে যেতাম পরিপাটি হয়ে। জীবন সংগ্রামে টিকে থাকতে ৩০ বছর বয়স পর্যন্ত সমুদ্রে মাছ ধরতে হয়েছে আমাকে। তবে এত লড়াই-সংগ্রামের পরও পিছু ছাড়েনি জাওলার পোলার (জেলের ছেলে) অপবাদ।’ ৫৫ বছর বয়সে প্রথম উপন্যাস লিখে হৈচৈ ফেলে দেন হরিশংকর। তাঁর পরের ইতিহাস বাংলাদেশের কথাসাহিত্যের ইতিহাসে যোগ করে এক নতুন মাত্রা। হরিশংকর জলদাস বলেন, ‘আমার জন্ম যে পাড়ায়, সেখানে কেউ স্কুলে গেছে- সেটা ছিল অবাক করার মতো। তার উপর স্কুল, কলেজ কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণ্ডি পার হওয়া ছিল স্বপ্নাতীত। বাবা বলতেন, তোকে পশ্চিম ছেড়ে পূর্বদিকে আলোর পথে যেতে হবে। অর্থাৎ আমাদের পাড়ার পশ্চিমে সমুদ্র, পূর্বে স্কুল।’ বাবা সম্পর্কে স্মৃতি চারণ করতে গিয়ে হরিশংকর জলদাস বলেন, ‘কঠিন বাস্তবতায় তিনি পঞ্চম শ্রেণির বেশি পড়তে পারেননি। পরিবারের সবার মুখে ভাত তুলে দিতেই হিমশিম খেতেন তিনি। পিতার মৃত্যু এবং সমুদ্রের সাথে নিজের নিরন্তর লড়াইয়ের কারণেই হয়তো সমুদ্রের বিরুদ্ধে তার (বাবার) অলিখিত একটা যুদ্ধ ছিল। বাবা প্রতিজ্ঞা করেছিলেন, তার জীবন সমুদ্র সংগ্রামে কাটাবেন কিন্তু ছেলেকে তিনি সমুদ্রে পাঠাবেন না। কিন্তু বেঁচে থাকার জন্য আমাকে বারবার সমুদ্রে যেতে হয়েছে। আমার নিরক্ষর দিদিমা পরাণেশ্বরী দেবীর অনুপ্রেরণা এবং বাবা যুধিষ্ঠিরের সমুদ্রের সঙ্গে যুদ্ধটাই আমাকে পড়া চালিয়ে যাওয়ার শক্তি জুগিয়েছে।’ নিজের জীবনের তিক্ত স্মৃতি আওড়াতে গিয়ে হরিশংকর জলদাস বলেন, ‘কলেজে শিক্ষকতা শুরু করার পর চট্টগ্রাম শহরে বাসা ভাড়া চাইতে গিয়ে আমি বিপাকে পড়ি। অনেকে আমাকে বাসা ভাড়া দিতে চাইতো না। পরে বুঝলাম, আমার পদবী ‘জলদাস’। এজন্য কেউ বাসা ভাড়া দিতে চায় না। তখন অনেক শুভাকাংখী আমাকে পরামর্শ দিলেন পদবী পরিবর্তন করার জন্য। কেউ কেউ বললেন, জলদাস এর পরিবর্তে শুধু ‘দাস’ লিখলেও কোন সমস্যা হয়তো হবে না। কিন্তু আমি রাজি হইনি। এটা আমার পূর্বপুরুষের পদবী। আমি কেন আমার শেকড় ছিঁড়ে ফেলব? হরিশংকর জলদাস অপমান ও লাঞ্ছনাকে শক্তি হিসেবে নিজের ভেতর কাজে লাগিয়েছেন। তার ভাষায়, ‘মানুষতো ভালোবাসায় অনুপ্রাণিত হয়ে লেখে। বাংলাদেশে বোধকরি আমিই একমাত্র, যে অপমানিত হয়ে লিখতে বসেছি। চাকরি করতে গিয়ে আমি চরম সাম্প্রদায়িকতার শিকার হলাম। পিএইচডি হোল্ডার হিসেবে আমাদের বিভাগীয় প্রধানের বেশ অহঙ্কার ছিল। একই সঙ্গে তাঁর ভেতর প্রবল সাম্প্রদায়িকতা কাজ করতো। তিনি আমাকে জাত-পাত তুলে অপমান করতেন। বলতেন, জাওলার ছাওয়ালটা কই? তার তো ক্লাস ছিল। জেলে সম্প্রদায়ে জন্মগ্রহণ করেছি বলেই কী গালিটা সারাজীবন বয়ে যেতে হবে? তখনই ভাবলাম, আমার শেকড়ের সন্ধান করা প্রয়োজন। তখন থেকেই আমার ভেতর একটা অভিমান চাপলো। সিদ্ধান্ত নিলাম আমি জানবো জেলেরা আসলেই নিন্দিত কিনা।’ আবেগরুদ্ধ কণ্ঠে হরিশংকর জলদাস বলেন, ‘এরপর আমি প্রফেসর ড. ময়ুখ চৌধুরীর কাছে আমার পিএইচডি করতে যাই। গবেষণা করতে গিয়ে দেখলাম, আমাদের আদি কবি ব্যাসদেব হলেন জেলেনীর সন্তান। মানে ব্যাসদেব আমাদেরই পূর্বপুরুষ। অদ্বৈত মল্লবর্মণ, একুশে পদকপ্রাপ্ত বিনয়বাঁশি জলদাসদের কথা জানলাম। তারপর বসে গেলাম লেখার টেবিলে।’ হরিশংকর জলদাস অল্প সময়ে প্রচুর লিখেছেন। বুকের ভেতর জমিয়ে রাখা দীর্ঘদিনের ঘা গুলো যেমন তার কলমে ধরা দিয়েছে তেমনি তিক্ত অভিজ্ঞতাগুলো ফুটে উঠেছে পাতায় পাতায়। তার উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলো হলো, (উপন্যাস) দহনকাল, কসবি, জলপুত্র, মহীথর, রাসগোলাম, মোহনা, হৃদয়নদী, আমি মৃণালিনী নই, হরকিশোরবাবু, প্রতিদ্বন্দ্বী, এখন তুমি কেমন আছ, কোন এক চন্দ্রাবতী। (গল্প) মাকাল লতা, জলদাসীর গল্প, লুচ্চা। (প্রবন্ধ) লোকবাদক বিনয়বাঁশি, ধীবরজীবনকথা, কবি অদ্বৈত মল্লবর্মণ এবং ছোটগল্পে নিম্নবর্গ ও অন্যান্য প্রসঙ্গ, জীবনানন্দ ও তাঁর কাল, বাংলা সাহিত্যের নানা অনুষঙ্গ। তার বিখ্যাত আত্মজৈবনিক গ্রন্থ কৈবর্তকথা, নিজের সঙ্গে দেখা। বাংলা সাহিত্যের এ জলপুত্র ইতোপূর্বে পেয়েছেন আলাওল সাহিত্য পুরস্কার, প্রথম আলো বর্ষসেরা বই পুরস্কার, ব্র্যাক ব্যাংক-সমকাল সাহিত্য পুরষ্কার ইত্যাদি। ২০১২ সালে তিনি অর্জন করেন বাংলা একাডেমি পুরস্কার। এবার (২০১৯) পেলেন একুশে পদক। এসি      

‘পারিবারিক ব্যবসা প্রসারে দক্ষ জনশক্তি প্রয়োজন’ 

বাংলাদেশের পারিবারিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো গত এক বছরে বৈশ্বিক গড়ের তুলনায় অনেক বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। আগামীতেও প্রবৃদ্ধির এ ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে বলে প্রত্যাশা করছেন রহিম আফরোজ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়াজ রহিম। সম্প্রতি একুশে টিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাতকারে তিনি এই প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।     সাক্ষাতকার নিয়েছেন একুশে টিভি অনলাইন প্রতিবেদক তবিবুর রহমান।    একুশে টিভি অনলাইন: পারিবারিক ব্যবসা প্রসার ও প্রবৃদ্ধি লক্ষ্য অর্জনে বেশকিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। এরমধ্যে আপনার প্রতিষ্ঠান কিভাবে এতো ভালো করছে ? নিয়াজ রহিম: আসলে পাবিবারিক ব্যবসা প্রসারে পরিবারের সবার প্রচেষ্টা প্রয়োজন হয়। সবাইকে অনেক আন্তরিক থাকতে হয়। আমরা মুনাফা অর্জনের কথা চিন্তা করি না। পণ্যের মানের কথা চিন্তা করি। ব্যবসা প্রসারে পারিবারিক মূল্যবোধ প্রয়োজন হয়। দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা করতে গিয়ে সবার মধ্যে এক বন্ধন তৈরি হয়। একই রকম মন মসকিতার সৃষ্টি হয়। তবে যখন পরিবারের একজন সদস্যের এই মূল্যবোধের পরিবর্তন হয় তখন ব্যবসা বাধাগ্রস্ত হয়। পারিবারিক ব্যবসা প্রসারে দক্ষশক্তি নিশ্চিত করতে হবে। পারিবারিক ব্যবসা ভালো করতে হলে নৈতিক মূল্যবোধে ওপর জোর দিতে হবে। এছাড়া পারিবারিক জীবনের ব্যাপারে অত্যন্ত যত্নশীল হওয়া জরুরি। পরিবারের সদস্য ও কোম্পানির কর্মীরা যেন কাজে যত্নবান ও দক্ষ হন এবং পরিবারের সঙ্গে ভালো সময় কাটাতে পারেন, তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করতে হবে। একুশে টিভি অনলাইন: আমাদের দেশে দক্ষ জনশক্তির খুব অভাব রয়েছে। এটি বৃদ্ধিতে সরকার কি কি পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারে। নিয়াজ রহিম: আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা সনদ নির্ভর না হওয়া উচিত। কারণ বিশ্ববিদ্যালয়ের সনদ শিক্ষার্থীকে দক্ষতা দেয় না। ব্যবসা করার জন্য কী প্রয়োজন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোই বা কতটুকু জানে। আমাদের বর্তমান ব্যবসার সঙ্গে শিক্ষাব্যবস্থার অনেক দূরত্ব রয়েছে। আমাদের চাহিদা এক রকম আর বিশ্ববিদ্যালয়গুলো পড়াশুনা করায় আরেক রকম। তাই শিক্ষাব্যবস্থা কর্মমূখী ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে শিল্প প্রতিষ্ঠানের মালিকদের সমন্বয় করতে হবে।   একুশে টিভি অনলাইন: দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে আমাদের করণীয় কি? নিয়াজ রহিম: আমরা যখন ব্যবসা শুরু করি তখন এমন তথ্য-প্রযুক্তি ছিলো না। এখন প্রযুক্তির প্রসার বাড়ছে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবসার পরিবেশও তৈরি হচ্ছে। তাই আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষাব্যবস্থা সেই ভাবে তৈরি করতে হবে। ব্যবসামুখী শিক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। সবার সঙ্গে সমন্বয় করতে হবে। প্রসঙ্গত নিয়াজ রহিমের জন্ম ১৯৫৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর। তার বাবা আব্দুর রহিম এ বছরই ব্যবসা শুরু করেছিলেন। ১৯৫৮ সালে তাঁর কোম্পানি রহিম আফরোজ এক ব্রিটিশ বিনিয়োগকারীকে নিয়ে ব্যাটারির পরিবেশক হিসেবে এই খাতে প্রবেশ করে। পরবর্তীতে ১৯৮২ সালে বাবার মৃত্যুর পর কানাডা থেকে শিক্ষা জীবন শেষ করে তিনি ব্যবসার হাল ধরেন। আর ১৯৯০ সালের মধ্যে তাঁরা ব্যাটারির উৎপাদন ব্যবসা নিজের হাতে নিয়ে আসেন। ধীরে ধীরে এই খাতের নেতৃত্বের আসনে বসেন তাঁরা। তারা তিন ভাই আফরোজ রহিম, ফিরোজ রহিম ও নিয়াজ রহিম।     রহিম আফরোজ আজ বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ প্রতিষ্ঠান। একবিংশ শতকের প্রথম ভাগে রহিম আফরোজ গ্রুপ বাংলাদেশের প্রথম সুপার মার্কেট চেইন শুরু করে। এখানেই শেষ নয়, রহিম আফরোজ আরও কিছু নতুন ব্যবসা শুরু করে; যেমন গাড়ির যন্ত্রাংশ উৎপাদন, গাড়ি বিক্রয়, জ্বালানি ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি।  টিআর/এসি    

‘আমরা ভারত ও চীনের বাজারে ব্যবসা সম্প্রসারণে গুরুত্ব দিচ্ছি’

ভারতের বাজারে ব্যবসা সম্প্রসারণ করা গেলে দেশের রফতানি বাড়বে বেশ কয়েকগুণ। তাই সেদিকে এখন নজর দেওয়া উচিৎ বলে মনে করেন প্রাণ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইলিয়াস মৃধা। তিনি মনে করেন, ভারতের পরেই চীনের বাজার নিয়ে বাংলাদেশের মনোযোগী হওয়া উচিৎ। সম্প্রতি একুশে টেলিভিশন ব্যবসা বাণিজ্য কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ ও শিল্পখাতবিষয়ক অনুষ্ঠান একুশে বিজনেস- এ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি বলেন, কৃষিজাত দ্রব্য থেকে উৎপাদিত পণ্য বিদেশে রফতানির ব্যাপারে মনোযোগী হওয়া উচিৎ। একুশে টেলিভিশন: নতুন বছর, নতুন সরকার। এ অবস্থায় ভোগ্য পণ্যের বাজারে নতুন সরকারের কাছে প্রত্যাশা কী? ইলিয়াস মৃধা: ভোগ্য পণ্যের বাজার খুব চ্যালেঞ্জিং। এ বাজারটা উঠানামা করে। নতুন বছর। বাচ্চারা স্কুলে যাচ্ছে। যেহেতু স্কুল খুলে গেছে, নতুন বছর, সব মিলিয়ে অর্থনীতি এ সময়টাতে চাঙ্গা হয়ে উঠছে। আরেকটা ব্যাপার হলো এখন শীতকাল। শীতকালে কনজ্যুমার বাজারটা গরম থাকে। শীতকালে পিকনিকে যাচ্ছে মানুষ। এতেও বাজারে একটা প্রভাব পড়ছে। পাশাপাশি যোগ হয়েছে বাণিজ্য মেলা। বাণিজ্য মেলা ভোগ্যপণ্য বাজারে একটা প্রভাব বিস্তার করে। কারণ, ব্যবসায়ীরা তার উৎপাদিত পণ্য ভোক্তার সামনে তুলে ধরার জন্য এটা একটা বড় সুযোগ। পাশাপাশি ব্যবসায়ী তার উৎপাদিত পণ্য নিয়ে গ্রাহকের মতামত জানতে পারছে। ফলে তার পণ্যের দাম নির্ধারণ, মান নিয়ন্ত্রণ- সবকিছুতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। বছরের শুরুতে এসব মিলিয়ে আমরা আশাবাদী যে নতুন বছরে ভোগ্যপণ্যের বাজারটা ভালোই যাবে। একুশে টেলিভিশন: এগ্রো নিয়ে ভাবনা কি? ইলিয়াস মৃধা: এবার আসি এগ্রো প্রসেসিংয়ের ক্ষেত্রে। এবছর উত্তরবঙ্গে টমেটোর অধিক ফলন হয়েছে। কারণ, অসময়ে বৃষ্টি হয়নি। আমরা চেষ্টা করছি, মধ্যসত্ত্বভোগীকে বাদ দিয়ে সরাসরি কৃষককে লাভবান করানোর জন্য। আমরা এখন টমেটো কেচাপের দিকে মনোযোগ দিচ্ছি। ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি পর্যন্ত এটা চলবে। সব মিলিয়ে আমরা আশাবাদী, বছরটা ভালো যাবে। একুশে টেলিভিশন: সরকার কৃষিজাত পণ্যকে প্রোডাক্ট অব দ্যা ইয়ার বলছে। আপনার অভিমত কী? ইলিয়াস মৃধা: সরকার প্রোডাক্ট অব দ্যা ইয়ার ঘোষণা করেছে। সেজন্য সরকারকে ধন্যবাদ। আমাদের সব সময় চাওয়া এগ্রো প্রসেসিং ও এগ্রো প্রোডাক্টের বাজার সম্প্রসারণ করা। যাতে করে সরাসরি কৃষকরা লাভবান হতে পারে। এই সরকারও কৃষিকে গুরুত্বের দিক থেকে থার্ড সেক্টরে রেখেছে। কৃষিজাত পণ্য যদি আপনি রফতানি করেন তার শতভাগ কাঁচামাল কিন্তু বাংলাদেশের। কিন্তু অন্যান্য সেক্টরে বেশীরভাগ কাঁচামাল আসে বিদেশ থেকে। ফলে মোট লাভের একটা বড় অংশ কিন্তু দেশের বাইরে চলে যাচ্ছে।ফলে কৃষি সেক্টরটা খুব গুরুত্বপূর্ণ বলে আমি মনে করি। সরকারও ব্যাপারটাতে গুরুত্ব দিচ্ছে। আমরা যারা শুধু কৃষি প্রক্রিয়া নয়, বরং কৃষিপণ্য থেকে খাদ্য দ্রব্য উৎপাদনে জড়িত, আমরা কিন্তু আর মান্ধাতার আমলের কৃষিতে নেই। বরং আমরা অনেক ম্যাকানাইজড। ফলে ভবিষ্যতে আমাদের উৎপাদন বাড়বে কিন্তু উৎপাদন খরচ কমবে। যেহেতু আমরা খাদ্যে স্বয়ং সম্পূর্ণ তাই আমরা যদি কৃষিজাত পণ্য থেকে উৎপাদিত খাদ্যদ্রব্য বিদেশে রফতানি করি তাহলে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা আয় করা সম্ভব। একুশে টেলিভিশন: গ্লোবাল বিজনেসে আপনারা কতোটুকু যেতে পেরেছেন বা নতুন ব্যবসার সম্প্রসারণে আপনাদের পরিকল্পনা কী? ইলিয়াস মৃধা: কিছুদিন আগে যখন ব্যবসায়ীদের সম্মেলন হয়েছিল তখন প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, আপনাদের রফতানির জন্য বাজার খুঁজুন। সরকার সহযোগিতা করবে। আপনারা জেনে খুশী হবেন যে, আন্তার্জাতিক বাজারে যেসকল বড় বড় বাণিজ্যমেলাগুলো হয়ে থাকে আমরা প্রাণ- এর পক্ষ থেকে সেখানে অংশগ্রহণ করে থাকি। ইউরোপ - আমেরিকায় আমাদের রফতানি বাজার বৃদ্ধির জন্য চেষ্টা করে যাচ্ছি। সর্বোপরি রফতানির জন্য আমাদের বড় বাজার হচ্ছে ভারত। ভারতের বাজারে আমাদের ব্যবসা সম্প্রসারণের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। ভবিষ্যতে আমাদের লক্ষ্য থাকবে চীনের বাজারে যাওয়ার জন্য। তবে ইন্ডিয়ার বাজারটি এতো বড় এটি কয়েকটি বাংলাদেশ। আমারা যদি ভারতের বাজারে ঠিক মতো ব্যবসা সম্প্রসারণ করতে পারি তাহলে আমাদের রফতানি কয়েকগুণ বৃদ্ধি পাওয়া সম্ভব। একুশে টেলিভিশন: কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণের অর্থনৈতিক গুরুত্ব সম্পর্কে বলেছেন। কীভাবে এখাত কে বাড়ানো যায় সে সম্পর্কে জানতে চাচ্ছিলাম। ইলিয়াস মৃধা: এই সেক্টরকে সম্প্রসারিত করতে হলে শুধু ফলমূল বা সবজি নয়, বরং ডেইরি শিল্পের দিকে মনোযোগ দিতে হবে। আমরা এ সেক্টর নিয়ে কাজ করছি। এর ফলে দেশের দুগ্ধশিল্পের সম্প্রসারণ ঘটবে। দেশের উত্তরাঞ্চলে দুগ্ধশিল্পের সম্প্রসারণের জন্য কৃষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। প্রাণ ডেইরি এক্ষেত্রে ভূমিকা রাখছে। একুশে টেলিভিশন: আপনাকে ধন্যবাদ।ইলিয়াস মৃধা: আপনাকেও ধন্যবাদ। আআ/এসএইচ/

‘অরিত্রির আত্মহত্যার জন্য সমগ্র শিক্ষাব্যবস্থা দায়ী’  

ভিকারুননেসা নূন স্কুলের ছাত্রী অরিত্রি`র আত্মহত্যার জন্য সমগ্র শিক্ষাব্যবস্থাকে দায়ী করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যাতিরিক্ত অধ্যাপক আবুল কাশেম ফজলুল হক। তার মতে, অরিত্রির আত্মহত্যা দৃশ্যমান। কিন্তু প্রতিদিন অসংখ্য অরিত্রি অদৃশ্য হত্যার শিকার হচ্ছে।    রাষ্ট্রব্যবস্থা, সমাজব্যবস্থা, শিক্ষাব্যবস্থা কোন ভাবে এর দায় এড়াতে পারে না। একুশে টেলিভিশন অনলাইনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, অরিত্রির আত্মহত্যা পুরো শিক্ষক সমাজকে যেমন দোষীর কাঠগড়ায় দাঁড় করায় তেমনি অভিভাবকরাও দায় এড়াতে পারেন না।      সাক্ষাৎকার নিয়েছেন একুশে টেলিভিশন অনলাইনের প্রতিবেদক আলী আদনান। একুশে টেলিভিশন অনলাইন: ভিকারুননেসা স্কুলের ছাত্রী অরিত্রির আত্মহত্যাকে আপনি কীভাবে দেখছেন? আবুল কাশেম ফজলুল হক: খুবই হৃদয়বিদারক ও মর্মান্তিক ঘটনা। পত্রিকায় পড়ে আমি চোখের পানি ধরে রাখতে পারিনি। অরিত্রির মতো এ বয়সের ছেলে-মেয়েদের মধ্যে নানা রকম অস্থিরতা থাকে। অরিত্রি মোবাইল ফোন নিয়ে স্কুলে এসেছিল। স্কুলে মোবাইল ফোন নিয়ে আসা নিষেধ। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্কুলে অরিত্রির শাস্তির ব্যবস্থা করা হয়। শুধু অরিত্রি নয়, স্কুলে অরিত্রির বাবা মাও ক্ষমা চেয়েছেন। কিন্তু তাতেও শিক্ষকদের মন গলেনি। তারা তাকে বলেছে ‘টিসি নিয়ে যেও’।     একুশে টেলিভিশন অনলাইন: টিসি দিয়ে দিলে কী সমস্যা সমাধা হয়ে যাবে?  আবুল কাশেম ফজলুল হক: এই ‘টিসি নিয়ে যেও’ কথাটা স্কুলের একটা বিরাট শক্তি। তারা বুঝাতে চায়, তোমার সন্তানের ভবিষ্যৎ আমাদের হাতে জিম্মি। শিক্ষকরা যখন অরিত্রির বাবা মাকে অপমান করে তখন অরিত্রির কাছে আর কোন সান্ত্বনা থাকে না। অরিত্রি বা যে কোন সন্ত্বানের কাছে সবচেয়ে বড় অবলম্বন তাদের বাবা মা। তার জন্যই যদি সেই বাবা মা কোথাও অপমানিত হয় বা কষ্ট পায় তাহলে নিজেকে সান্ত্বনা দেওয়ার মতো কোন যুক্তি তখন থাকে না। মূলত এমন জায়গা থেকে অরিত্রি অসহায় বোধ করেছে ও আত্মহত্যা করেছে। অরিত্রি আত্মহত্যার ঘটনায় তার সহপাঠীরা ক্ষুব্ধ হয়ে রাস্তায় নেমেছে। আমরা দেখছি পুলিশ এ ঘটনায় খুব তৎপর। একজনকে গ্রেফতার করেছে। সবাই বলছে ঘটনার জন্য স্কুল কর্তৃপক্ষ বা শিক্ষকরা দায়ী। বিশেষ করে যে তিনজন টিসি দিয়েছে তারা সবচেয়ে বেশী দায়ী। কিন্তু আমার বক্তব্য ভিন্ন। একুশে টেলিভাশ অনলাইন: আপনার বক্তব্য তাহলে কী?   আবুল কাশেম ফজলুল হক: আমাদের বর্তমান যে শিক্ষা ব্যবস্থা তা আমাদের ছেলে-মেয়েদেরকে কৌতুহল বিমুখ, শিক্ষাবিমুখ, জ্ঞানবিমুখ করছে। এখনকার স্কুল ও পাঠ্যপুস্তকগুলো ছেলেমেয়েদের জীবনের স্বাভাবিকতা রক্ষা করতে দিচ্ছে না। সৃজনশীল পরীক্ষার নামে এক অদ্ভৃৎ ব্যাপার ছেলেমেয়েদের উপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। সারাবিশ্বে শিক্ষার সঙ্গে আনন্দ যোগ করলেও আমাদের দেশে শিক্ষার সঙ্গে জুলুম চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। পঞ্চম শ্রেণী, অষ্টম শ্রেণীতে পাবলিক পরীক্ষা কোমলমতি শিক্ষার্থীদের জন্য বোঝা। সেই পরীক্ষা ভালভাবে অনুষ্ঠিত হতে পারেনা। প্রশ্ন ফাঁসের মতো ঘটনা অস্থিরতার জন্ম দেয় যা অবুঝ শিক্ষার্থীদের নেতিবাচক কাজে উৎসাহী করে তোলে। মোবাইল ও ফেসবুকের অপব্যবহার সর্বত্র বাড়ছে। সবচেয়ে বেশী ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে শিক্ষার্থীরা। মোবাইল ও ফেসবুক আমাদের শিক্ষার্থীদের প্রচুর সময় অপচয় ঘটাচ্ছে। তাদের জীবনের স্বাভাবিক গতি ব্যাহত হচ্ছে। একুশে টেলিভিশন অনলাইন: অরিত্রির আত্মহত্যার সঙ্গে সামাজিক বিশৃঙ্খলা কী জড়িত?  আবুল কাশেম ফজলুল হক: অবশ্যই। পুরো সমাজব্যবস্থা অস্থিরতার ভেতর দিয়ে যাচ্ছে। আমাদের পুরো সংস্কৃতি নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গী হারিয়ে বসে আছে। এ অবস্থায় কোন শিক্ষার্থী যদি অপরাধ করে থাকে তাকে সংশোধনের সুযোগ দেওয়া শিক্ষকের দায়িত্ব। শিক্ষার্থী বারবার ভুল করবে। তাকে ধীরে ধীরে কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে শিক্ষককেই গড়ে নিতে হবে। কেউ সম্পূর্ণ ভাল ছাত্র হয়ে বা ভাল মানুষ হয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আসেনা। ভাল মন্দ মিলিয়েই আসে। তাকে গড়ে নেওয়ার দায়িত্ব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের। একুশে টেলিভিশন অনলাইন: আপনি সামগ্রীক শিক্ষাব্যবস্থাকে দায়ী করছেন। তাহলে কেমন শিক্ষাব্যবস্থা হওয়া উচিত?    আবুল কাশেম ফজলুল হক: সংবিধানে একমুখী প্রাথমিক শিক্ষার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু দেশের প্রাথমিক শিক্ষা এখন চৌদ্দ ভাগে বিভক্ত। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে এখন শিক্ষা নেই। পরীক্ষাসর্বস্ব শিক্ষা ব্যবস্থায় ছাত্র, শিক্ষক, অভিভাবক কারও আনন্দ নেই। পরীক্ষায় ভাল ফল করার বাধ্য বাধকতা থেকে কোচিং সেন্টার ও গাইড বুকের প্রসার ঘটছে। আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা তরুণদের আত্মবিশ্বাসী করে গড়ে তুলছে না। ফলে যারা উদ্যোগী ও পরিশ্রমী তারা বাংলাদেশকে ভবিষ্যতহীন ভেবে ইউরোপ, আমেরিকা ও অস্ট্রেলিয়া সহ বিভিন্ন রাষ্ট্রে নাগরিকত্ব নিচ্ছে। আমাদের সিলেবাসে দেশপ্রেম, স্বাজাত্যবোধ ও সুনাগরিকের গুণাবলী অর্জিত হওয়া সম্ভব নয়। শিক্ষক এখন গাইড বই থেকে প্রশ্ন নিয়ে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র তৈরী করছে। এরচেয়ে বড় লজ্জা কী হতে পারে। এর ভেতর দিয়ে ছাত্র- শিক্ষকের নীতি নৈতিকতার সম্পর্ক নষ্ট হচ্ছে। শ্রদ্ধাবোধ বা স্নেহবোধ কোনটাই এখন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নেই। একুশে টেলিভিশন অনলাইন: দোষী শিক্ষকদের ইতোমধ্যে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। এটা তো ভাল লক্ষণ।  আবুল কাশেম ফজলুল হক: যতোকিছুই করা হোক না কেন যে প্রাণ দিয়েছে সে আর ফেরত আসবে না। তার আত্মত্যাগ তখনই স্বীকৃতি পাবে যদি পুরো শিক্ষাব্যবস্থাকে ঢালাওভাবে সাজানো হয়। শিক্ষাব্যবস্থায় যেসব ত্রুটি আছে তা যদি সারানো হয়। ছেলে মেয়েদের আনন্দদায়ক পরিবেশ দিতে না পারলে ছাত্র শিক্ষকের সম্পর্ক স্বাভাবিক হবেনা, এমন আত্মহত্যাও রোধ করা যাবে না। গাছের গোড়ায় পানি দিতে হবে। আমার মনে হচ্ছে ভিকারুননিসার ঘটনায় আমরা আসল সমস্যা চিহ্নিত করতে পারছি না। একুশে টেলিভিশন অনলাইন: ছাত্র শিক্ষকের সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক নষ্ট হওয়ার জন্য মূলত কী দায়ী?   আবুল কাশেম ফজলুল হক: আগে ছাত্র শিক্ষকের সৌহার্দ্য গড়ে উঠত পাঠ্যপুস্তককে কেন্দ্র করে। কিন্তু এখন সেই জায়গাটি দখল করেছে গাইড ও কোচিং।   দ্বিতীয়ত, সময়ের ব্যবধানে আনুপাতিক হারে বা প্রয়োজন অনুসারে শিক্ষকদের বেতন বাড়েনি। সমাজে মানসম্মত আর্থিক অবস্থান তারা সৃষ্টি করতে পারেনি। ফলে তারা প্রাইভেট টিউশনির উপর নির্ভর করছে। প্রশ্ন ফাঁশ হওয়ার ঘটনাগুলো পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, শিক্ষক ছাত্রকে প্রশ্ন ফাঁস করতে সহায়তা করছে। তার মানে তার স্কুলে কতজন ছাত্র পাশ করল তার উপর স্কুলের সুবিধা বা তাদের সুবিধা নির্ভর করছে। এর ফলে ছাত্র শিক্ষকের পারষ্পরিক নীতি নৈতিকতার অবস্থান নষ্ট হয়ে সেখানে বাণিজ্য ও স্বার্থ জায়গা দখল করে নিয়েছে। একুশে টেলিভিশন অনলাইন: কেউ কেউ শিক্ষকদের পাশাপাশি অভিভাবকদেরও দায়ী করছেন। আপনি কী বলেন?    আবুল কাশেম ফজলুল হক: অভিভাবকরা দায় এড়াতে পারেন না। মোবাইল ও ফেসবুকের পেছনে শিক্ষার্থীরা এত বেশী সময় কেন ব্যায় করছে তা নজরদারীতে রাখা দরকার। আর সপ্তম-অষ্টম শ্রেণী থেকে দশম শ্রেণী পর্যন্ত বয়সটা এমন, শিক্ষার্থীরা অনেককিছু বুঝে। কিন্তু অভিজ্ঞতার অভাবে অনেক কিছুর ব্যালেন্স রেখে উঠতে পারেনা। এই সময় ছেলে মেয়েরা ভুল পথে যাওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশী থাকে। তাই অভিভাবকদের উচিত তার সন্তানকে সংযত রাখা ও পরিচালনা করা। একুশে টেলিভিশন অনলাইন: আপনাকে ধন্যবাদ, আমাদের সময় দেওয়ার জন্য। আবুল কাশেম ফজলুল হক: আপনাকেও অনেক ধন্যবাদ।    এসি    

শেখ হাসিনার সরকারকে আরেকবার ক্ষমতায় আনতে হবে: চবি উপাচার্য

একমাত্র শেখ হাসিনার নেতৃত্বেই বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষার আমূল অগ্রগতি সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) ভাইস চ্যান্সেলর (ভিসি) প্রফেসর ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী। তই বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থ, শান্তি, উন্নয়ন ও নিরাপত্তা অক্ষুণ্ন রাখতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারকে আরেক বার ক্ষমতায় আনতে হবে বলে মনে করেন তিনি। সম্প্রতি একুশে টেলিভিশন অনলাইনকে দেওয়া এক সাক্ষাতকারে ভিসি এসব কথা বলেন। প্রফেসর ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় চবিতে শিক্ষা ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন পূর্ণ গতিতে এগিয়ে চলেছে। সীমানা প্রাচীর, ডিজিটালাইজেশন, নতুন বিভাগ প্রতিষ্ঠাসহ শান্তিপূর্ণ ক্যাম্পাস নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী  শেখ হাসিনার সফল ও সুযোগ্য নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকারকে আরেকবার ক্ষমতায় এনে আমরা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিপূর্ণ উন্নয়ন ও বিকাশ অর্জন করতে চাই। তিনি বলেন, ভিসি চেয়ারকে আমি জায়নামাজ ঘোষণা করেছি। কোনও অন্যায়ের কাছে আমি মাথা নত করবো না। ক্যাম্পাসকে স্থিতিশীল, শান্তিপূর্ণ ও উন্নয়নমুখী রাখতে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে কাজ করে যাবো। সন্ত্রাসী, দুর্নীতিবাজ অপশক্তিকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না। সফলভাবে ভর্তি পরীক্ষা সম্পন্ন প্রসঙ্গে ভিসি বলেন, বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো ‘এন্টি প্রক্সি অ্যাপস’ ব্যবহার করে আমরা প্রশ্নপত্র ফাঁস ও অসুদপায় অবলম্বনের সব পন্থা বন্ধ করেছি। আমরা যোগ্য ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের বঞ্চিত করে অযোগ্যদের চলে আসার কোনও রাস্তা রাখি নি। কারণ প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে একবিংশ শতাব্দীর জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনে যোগ্য মানবসম্পদ গড়ে তুলতে আমরা বদ্ধপরিকর। ভর্তি পরীক্ষায় সফলতার জন্য অভিভাবক মহল ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা ভিসি প্রফেসর ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরীকে অভিনন্দন জানাতে এলে তিনি বলেন, আল্লাহ রহমতে ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের পূর্ণ সমর্থন ও শিক্ষক সমাজের আন্তরিক সহযোগিতায় আমরা পরিবহন ধর্মঘট ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যেও সফলভাবে ভর্তি পরীক্ষা সম্পন্ন করতে পেরেছি। ভর্তিচ্ছুদের উপস্থিতির হারও ছিল অতীতের চেয়ে বেশি। পরীক্ষায় সামান্যতম ত্রুটিবিচ্যুতিও হয়নি। এই অভাবনীয় সাফল্যের কৃতিত্ব শেখ হাসিনার সরকার ও শিক্ষক সমাজের প্রাপ্য। তিনি আরও বলেন, চবির প্রতি প্রধানমন্ত্রীর সুনজর রয়েছে। তার নির্দেশনায় আমরা বিশ্ববিদ্যালয়কে উন্নততর পর্যায়ে নিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছি। সামনের দিনগুলো আমরা বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান চবিকে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম ক্যাম্পাসে পরিণত করবো ইনশাআল্লাহ একে//

ইংলিশ জানলে আউটসোর্সিংয়ে রয়েছে চাকরির সুযোগ

তথ্যপ্রযুক্তি ও আউটসোর্সিংয়ে কাজের বিশাল বাজারে অপার সম্ভাবনা রয়েছে বাংলাদেশের জন্য। তথ্যপ্রযুক্তি ছাড়াও সেবা ও অর্থনৈতিক খাতে ইউরোপ এবং আমেরিকার মতো দেশগুলোতে বিপুল পরিমাণে জনশক্তি দরকার। খুব দক্ষ না হয়েও শুধু স্নাতক পাস এবং ইংরেজিতে লেখা, পড়া ও বলায় সাবলীল হলেই আউটসোর্সিং খাত থেকে একজন কর্মী আয় করতে পারেন মাসে প্রায় ৫০ থেকে ৭০ হাজার টাকা। দেশের আউটসোর্সিং ও তথ্যপ্রযুক্তি খাত নিয়েই এমনই আশাবাদ বাংলাদেশের আউটসোর্সিং ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান কাজী আইটি সেন্টার লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাইক কাজীর। আজ মঙ্গলবার ইটিভি অনলাইনের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে এসব কথা জানান মাইক কাজী। ইটিভি অনলাইন: তৈরি পোষাক খাতের পর দেশের দ্বিতীয় সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে মনে করা হয় আইটি খাতকে। আপনি কী মনে করেন? মাইক কাজী: আইটি সেক্টরে আমাদের জন্য খুবই ভালো একটা সময় যাচ্ছে। আমি এটাকে ‘গোল্ডেন টাইম’ বলব। আমাদের জন্য খুবই সম্ভাবনাময় খাত। আমাদের দেশে প্রায় ৩০ লাখ স্নাতক পাশ বেকার আছেন। তাই আমাদের জন্য কাজের অনেক সুযোগ আছে। আইটি বা আউটসোর্সিংয়ে তারা কাজ করতে পারেন। এতে করে বিদেশ থেকে প্রচুর পরিমাণে বৈদেশিক মুদ্রা আনতে পারি আমরা। এর জন্য দরকার দক্ষ জনশক্তি। দক্ষ মানবশক্তি পেলে আমরা বিদেশ থেকে চাকরি এনে দিতে পারি এখানকার তরুণদের। ইটিভি অনলাইন: আপনার দৃষ্টিতে দক্ষ কর্মীর মূল্যায়ন কেমন? মাইক কাজী: এখানে দক্ষ কর্মীর সংজ্ঞা নিয়ে আমরা পিছিয়ে আছি। অনেকে বলে যে, আমরা চাকরি পাই না। আমরা বলি যে, আমরা চাকরি দিতে গেলে দক্ষ কর্মী পাই না। এটা কেন বলছি যে, আইটি এবং আউটসোর্সিংয়ে আমাদের গ্রাহক বিদেশি। কেউ আমেরিকার অথবা কেউ চীনের। তাই তাদের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য ইংরেজি বা চীনা ভাষা লোক দরকার। অন্তত ইংরেজিতে সাবলিল এমন কর্মী তো দরকার। আমাদের গ্রাহক যেমন চায় তেমনই তো আমাদেরকে দিতে হবে। কিন্তু সেই অনুযায়ী আমাদের লোকবল প্রশিক্ষিত নয় কিন্তু। এখানে বলে রাখি আমাদের দেশের জনবল কিন্তু খুবই মেধাবী। একটা উদাহরণ দেই। কোনো একটা পরীক্ষা যদি বাংলায় নেওয়া হয় তাহলে দেখা যায় সবকিছুতে ১০০ –তে ১০০ পেয়েছেন এমন কর্মীও আছে। কিন্তু সেই পরীক্ষা যদি ইংরেজিতে নেওয়া হয় তাহলে কিন্তু ৫ শতাংশও পাস করে না। এ জায়গাটা ঠিক করতে পারলে আমাদের প্রতিবন্ধকতা অনেকখানি কেটে যাবে। ইটিভি অনলাইন: তাহলে তরুণরা যে এই খাতে আসবেন; সম্ভাবনা কেমন? মাইক কাজী: এই খাতে চাকরির অভাব নেই। অন্তত শুধু কাজী আইটিতে তো নেই। আমাদের কথাই যদি বলি আমাদের তিনটি সেন্টারে ৮০০ কর্মী কাজ করেন। আমাদের এখনই আরও অন্তত ৫০০ কর্মী দরকার। আমরা দেশের ২৫টি বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘চাকরি মেলা’ নামের একটি ক্যারিয়ার বুথ ক্যাম্প করছি। আগামী এক বছরে এসব ক্যাম্পাস থেকে আমরা ৫০০ জনকে চাকরি দেবো। ইটিভি অনলাইন: আইটি এবং আউটসোর্সিং এর সমগ্র খাত নিয়ে যদি জানতে চাই তাহলে এই খাতের সম্ভাবনা এবং প্রতিবন্ধকতা সম্পর্কে আপনার মতামত কী? মাইক কাজী: এই খাতের সম্ভাবনা এক কথায় বিশাল। পাশের দেশ ভারতের কথাই যদি বলি তারা প্রতিবছর ২০০ বিলিয়ন ডলার আয় করতেছে। ফিলিপাইন ৩০ বিলিয়ন ডলার আয় করছে। এটা ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন ডলারের বাজার। দেশের তৈরি পোষাক খাতের চেয়েও এখানে ভালো করা সম্ভব। ইটিভি অনলাইন: বাংলাদেশের আউটসোর্সিংয়ে কাজী আইটি কেমন কাজ করছে? বিশেষ করে আপনাদের কার্যক্রম সম্পর্কে যদি আমাদের বলেন। মাইক কাজী: কাজী আইটিতে আমরা যে কাজ করি তা হচ্ছে আমেরিকাতে যেসব ব্যাংক আছে তাদের আর্থিক খাতের যেসব কাজ আছে যেমন ফিনান্সিয়াল বিশ্লেষণ, ব্যবসা বিশ্লেষণ বা একাউন্টিং এর কাজ সেসব আমরা বাংলাদেশ থেকেই করে দেই। আমি ৯ বছর বয়সে যুক্তরাষ্ট্রে যাই। সেখানে এসব বিষয়ে কাজ করি। কিন্তু সবসময় আমার মনে হতো দেশের জন্য কাজ করবো। বিশেষ করে আমার মা এ বিষয়ে আমাকে অনেক তাগিদ দিতেন। সেই তারণা থেকে ২০০৯ এ দেশে আসার পর এই কাজী আইটি সেন্টারের যাত্রা করি আমি। ইটিভি অনলাইন: আপনাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কেমন? মাইক কাজী: আমি বলবো আমাদের পরের লক্ষ্য হচ্ছে দেশের জন্য আরও কর্মসংস্থান নিয়ে আসা। আমাদের এখন যে লক্ষ্যমাত্রা অর্থাৎ ৫০০ জন কর্মীকে নিয়োগ দেওয়ার পর আমরা যুক্তরাষ্ট্র গিয়ে আরও কাজ আনবো। শুধু তাই না, যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক, ডালাস এবং লস এঞ্জেলসে আমাদের অফিস আছে। আমাদের দেশের ছেলে মেয়েরা সেখানে গিয়ে কাজ করতে পারে। তবে এর জন্য ইংরেজিতে দক্ষ হতে হবে। এখানে আরেকটা কথা বলি। এই খাতে কিন্তু আমাদের কাজের অভাব নেই। সেখানে প্রচুর কাজ। আর সেসব কাজে সেখান থেকে লোক নিয়োগ দিতে হলে চার থেকে পাঁচ হাজার ডলার বেতন দিতে হবে। কিন্তু আমাদের এখানে এক হাজার ডলারেই কাজ পাওয়া যায়। তাই প্রতিষ্ঠানগুলো আউটসোর্সিং করে। তাদেরও সঞ্চয় আমাদেরও কাজ হয়। অনেকে মনে করে যে, আমাদের বুঝি কাজ নাই। আসল সত্যটা হচ্ছে আমরা জনবল তৈরি করতে পারলে অনেক কাজ আছে আমাদের জন্য। ইটিভি অনলাইন: দক্ষ জনবল তৈরিতে আপনাদের কোন উদ্যোগ আছে কী না? মাইক কাজী: এখানে আমাদের আসলেই একটা উদ্যোগ আছে। প্রথমত, আমার জানা মতে, আমাদের অফিসে আমরা নতুনদেরক দেখেশুনে চাকরির সুযোগ দেই। অর্থাৎ এখানে এসে কেউ কিছুদিন কাজ করতে পারে। তাদেরকে কী কাজ করতে হবে তা হাতে কলমে দেখতে পারে। তারপর কারও যদি কাজ পছন্দ হয় তাহলে করতে পারে। এমনটা আর কোন স্বদেশি প্রতিষ্ঠানে আছে বলে আমাদের জানা নেই। আরেকটা বিষয় হচ্ছে, আমরা কর্মীদের দক্ষ করে গড়ে তুলতে ৫টি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৪ মাসের একটা কোর্স করাতে আমরা আগ্রহী। কোর্স শেষে পরীক্ষা নেওয়া হবে। ৮০ শতাংশ নম্বর যারা পাবেন তারাই চাকরি পাবেন। আমরা হয়তো এখন চাহিদার ১০ শতাংশ কর্মী সরবরাহ করতে পারি। আরও ৯০ শতাংশ চাকরির বাজার আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে”। //এসএইচএস// এসএইচ/  

‘ভোক্তাই শক্তি প্রাণের’

১৯৮১ সালে আমজাদ খান চৌধুরীর হাত ধরে যাত্রা শুরু করে রংপুর ফাউন্ড্রি লিমিটেড। শুরুতে কৃষিজাত পণ্য নিয়ে কাজ করা এই প্রতিষ্ঠানটিই এখন পরিচিত প্রাণ-আরএফএল নামে। প্রতিষ্ঠার ৫ বছর পর অর্থ্যাত ১৯৮৬ সাল থেকে খাদ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে কার্যক্রম শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি। ১৯৯২ সালে নরসিংদীর ঘোড়াশালে নিজেদের প্রথম ফুড প্রসেসিং প্ল্যান্ট স্থাপন করে প্রাণ। এর পরের গল্পটা শুধুই এগিয়ে যাওয়ার। বিশ্বের প্রায় ১১০টি দেশে ১০টি ক্যাটাগরিতে ২০০টিরও বেশি পণ্য রফতানি করছে প্রাণ। এতদিনের যাত্রাপথে বিভিন্ন চড়াই উতরাইয়ের মধ্যে দিয়ে গেলেও সবসময় গ্রাহকদেরকেই নিজেদের শক্তি মনে করেছে প্রতিষ্ঠানটি। একুশে টিভি অনলাইনকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে এমনটাই জানান প্রাণ এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইলিয়াস মৃধা। সাক্ষাৎকার নেন সহ সম্পাদক শাওন সোলায়মান। ইটিভি অনলাইন: প্রাণ দেশ ও বিদেশের বাজারে পরিচিত একটি ব্র্যান্ড। আমরা বিভিন্ন সময় খবরে দেখি যে, প্রাণ বা অন্যান্য ব্র্যান্ডের নামে নকল ও ভেজাল পণ্য বাজারে পাওয়া যায়। এ বিষয়ে আপনাদের বক্তব্য কি? ইলিয়াস মৃধা: প্রথমত বলি যে, এটা আমাদের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য খুবই স্পর্শকাতর একটা বিষয়। বাংলাদেশে যে যে পণ্য বা ব্র্যান্ডগুলো সফল সেগুলোকেই কিছু সুবিধাবাদি মহল নকল করে অত্যন্ত নিম্নমানে বাজারজাত করে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো অন্যের সুনামকে কাজ লাগিয়ে নিম্নমানের পণ্য দিয়ে অতিরিক্ত মুনাফা অর্জন করা। ইটিভি অনলাইন: এ ধরণের পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রাণ এর পক্ষ থেকে কী ধরণের পদক্ষেপ নেওয়া হয়? ইলিয়াস মৃধা: আমরা যা করি তা হলো আমাদের মাঠ পর্যায়ের কর্মী এবং প্রশাসনকে সচেতন রাখি। তারা যদি এ ধরণের কিছু জানতে পারে তখন আমাদেরকে তথ্য দেয়। তখন সেটিকে আমরা আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী, ফুড সেফটিসহ যথাযথ কর্তৃপক্ষকে অবহিত করি। এর পাশাপাশি আমরা অনেক ক্ষেত্রেই অন্যান্য সংস্থা যেমন- র‍্যাব, ভ্রাম্যমাণ আদালত যেন বিভিন্ন জায়গায় অভিযান পরিচালনা করতে পারে তার জন্য তথ্য দিই। বিএসটিআই, ফুড সেফটি অথরিটি, ফ্যাক্টরি ইন্সপেক্টর, মিউনিসিপাল কর্পোরেশন বিভিন্ন সময় এ ধরণের নকল পণ্য কিন্তু জব্দ করেছে। তারপরেও মানুষ সবসময়ই একটু সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করে। এগুলো বন্ধ হওয়া উচিত। ইটিভি অনলাইনঃ এ ধরণের অপরাধ বন্ধে আপনার পরামর্শ কী? ইলিয়াস মৃধাঃ দেখেন একটা মহল তো এই বিষয়কে কাজে লাগিয়ে স্বার্থ হাসিল করবে। আমরা যখন তথ্য পাই তখন যথাযথ কর্তৃপক্ষকে অবহিত করি। সেই অনুযায়ী অভিযানও হয়। কিন্তু এসব অভিযান করে এসব বন্ধ করা যাবে না। আমি মনে করি এর জন্য সরকারকে আরও আন্তরিক হতে হবে। সরকার আন্তরিক, আরও আন্তরিক হতে হবে। আইনকে কঠোর করতে হবে। কিছুদিন আগে মাদক বিরোধী যেমন কঠোর অভিযান হলো তেমন কিছু একটা করতে হবে। এতে করে আমরা যেমন নকলবাজদের হাত থেকে মুক্ত হবো তেমনি করে ভোক্তারা যেকোনো পণ্য আস্থার সঙ্গে গ্রহণ করতে পারবে। ইটিভি অনলাইন: এতে তো ব্র্যান্ড প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষতি হচ্ছে... ইলিয়াস মৃধা: অবশ্যই। আমরা তো ক্ষতিগ্রস্থ হই। ব্যবসায়িক দিক থেকে বলেন আর ব্যবসার সুনামের দিক থেকে বলেন; আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হই। যুগপৎভাবে গ্রাহক ও ভোক্তারাও ক্ষতিগ্রস্ত হন। একটা উদাহরণ দিয়ে বলি। একজন গ্রাহক একটি দোকান থেকে একটি পণ্য আমাদের পণ্য মনে করে কিনলেন। কিন্তু পণ্যটি আসলে নকল ও ভেজালযুক্ত। এখন সেই পণ্য ভোগ করে ভোক্তা প্রতারিত হলেন। তিনি ক্ষতিগ্রস্থ হলেন। আবার উনি হয়তো ভাবলেন আমাদের পণ্যেই সমস্যা। উনি হয়তো জানলেনও না যে, পণ্যটি নকল কিন্তু আমাদের ব্যাপারে তার একটি নেতিবাচক ধারণা তৈরি হলো। ইটিভি অনলাইন: প্রাণের কোনো পণ্য নকল কি-না তা গ্রাহকরা কিভাবে বুঝবেন? ইলিয়াস মৃধা: প্রথমত বলি যে, কোনো খাদ্যপণ্য যখন কোনো ভোক্তা কিনবেন তখন তিনি এটা আগে দেখবেন যে, পণ্যের মোড়ক সিলগালা অর্থ্যাৎ মোড়ক পুরোপুরি বন্ধ করা কি-না? মোড়কে কোনো লিকেজ বা ব্রোকেজ থাকলে সেটি গ্রাহকদের না খেতে বলি আমরা। এরকম বিষয়সহ কোনো পণ্য নিয়ে যদি কোনো গ্রাহকের সন্দেহ হয় তাহলে আমরা গ্রাহকদের বলি আমাদের সঙ্গে যেন যোগাযোগ করেন। আমাদের প্রতিটি পণ্যের মোড়কে গ্রাহক সেবা কেন্দ্রের একটি নম্বর দেওয়া থাকে। সেটিতে কল করে আমাদের কাছ থেকে পণ্যের বিষয়ে জানতে পারবেন গ্রাহকেরা। কোনো পণ্য নিয়ে যদি কোনো গ্রাহকের বিন্দুমাত্র সন্দেহ হয় তাহলে তারা যদি আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন আমাদের টিম সেটি তদন্ত করতে ঝাপিয়ে পড়বে। এভাবে গ্রাহকেরা চাইলে পণ্যের বিষয়ে জানতে পারেন। ইটিভি অনলাইন: একটু ভিন্ন প্রসঙ্গে আপনার কাছে জানতে চাই। সাম্প্রতিক সময়ে প্রাণের বিভিন্ন পণ্যের বিপক্ষেই সংবাদ প্রকাশিত হচ্ছে। গণমাধ্যমে আমরা এমন কিছু সংবাদ দেখছি। এ বিষয়ে আপনাদের বক্তব্য কি? ইলিয়াস মৃধা: আমাদের ব্র্যান্ড নিয়ে বলব না, একটা বিশেষ মহল সেটার নামও আমি বলব না; তাদের সম্পর্কে মিডিয়া জগতের সবাই কম-বেশি জানে। তারা তাদের স্বীয় স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য আমাদের বিপক্ষে কিছু প্রতিবেদন করেছে। এসব প্রতিবেদন নিতান্তই ফটোশপ করে করা, ভিডিও পাইরেসি এবং অন্যান্য বিভিন্ন মাধ্যমে এগুলা করা। মিডিয়া জগতের সবাই এগুলো বুঝে। আমি আপনাদের মাধ্যমে এটূকু শুধু বলব যে, আমাদের কোনো লাইসেন্স বাতিল হয় নাই। আমাদের রফতানি, উন্নতি সব কিছু ঠিক আছে। প্রাণ প্রোডাক্ট বাংলাদেশে জনপ্রিয়, ভারতেও জনপ্রিয়। আমাদের পণ্যের ওপর ভোক্তা ও গ্রাহকের আস্থা আছে। তারা সামনেও আস্থা রাখবে। আমরা আমাদের যত ভালো কাজ সেগুলো অব্যাহত রাখব। এতে করে ঈর্ষান্বিত হয়ে কেউ যদি কিছু করে তাদেরকে আমরা অনুরোধ করবো যে, এতে করে দেশের ক্ষতি হচ্ছে, কৃষকের ক্ষতি হচ্ছে। অতএব বাংলাদেশ সম্পর্কে ভ্রান্ত ধারণা তৈরি হচ্ছে। তাই দেশের ক্ষতি করবেন না, কৃষকের ক্ষতি করবেন না। একইসঙ্গে দেশের নেতিবাচক ব্র্যান্ডিং করবেন না। আমাদের এটিই আবেদন তাদের কাছে। একইসঙ্গে অন্যান্য গণমাধ্যমগুলোর কাছে আমাদের অনুরোধ আপনারা ‘সঠিক সত্য’ তুলে ধরবেন। ইটিভি অনলাইন: আসল বা সঠিক সত্য কি তাহলে? ইলিয়াস মৃধা: আসল সত্য হচ্ছে, আমাদের কোন পণ্যে কোনো কিছুই হয়নি। বিশেষ মহল বিশেষ উদ্দেশ্যে এসব করা হচ্ছে। ইটিভি অনলাইন: তারপরেও এমন প্রতিবেদনে প্রাণ নিয়ে গ্রাহকেরা বেশ চিন্তিত। প্রাণের একটি বড় ‘লয়্যাল কনজিউমার’ শ্রেণী আছে। তাদের উদ্দেশ্যে আপনারা কি বার্তা দেবেন? ইলিয়াস মৃধা: তাদের উদ্দেশ্যে আমরা বলব যে, আপনারা আগে থেকে যেভাবে আমাদের ওপর আস্থা রেখে আসছেন এখনও সেভাবে আস্থা রাখুন। কোনো কিছুই হয়নি। আশা করি আকাশ থেকে মেঘ কেটে যাবে; কিছু সময়ের ব্যাপার মাত্র। আমরা আমাদের ভালো কাজ অব্যাহত রাখব। ভোক্তাদের ওপরই আমাদের আস্থা। তারাই আমাদের সম্পদ, তারাই আমাদের শক্তি। কাজেই তাদের স্বার্থ রক্ষায় আমৃত্যু আমরা কাজ করে যাব।     / এআর /

© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি