ঢাকা, সোমবার   ১৮ নভেম্বর ২০১৯, || অগ্রাহায়ণ ৫ ১৪২৬

Ekushey Television Ltd.

থাইরয়েডে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই (ভিডিও)

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ১৫:২৯ ২৪ আগস্ট ২০১৯ | আপডেট: ১৬:২৪ ২৪ আগস্ট ২০১৯

ইমপালস হাসপাতালের নাক, কান, গলা ও হেড নেক সার্জারী বিভাগের সিনিয়র কনসালট্যান্ট অধ্যাপক ডা. জাহীর আল-আমিন বলেছেন, থাইরয়েডে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।

শনিবার সকালে একুশে টেলিভিশনের স্বাস্থ্য বিষয়ক সরাসরি সম্প্রচারকৃত অনুষ্ঠান ‘ডি ডক্টরস’র তিনি এ কথা বলেন। 

‘নাক, কান, গলা ও থাইরয়েড সমস্যা এবং তার প্রতিকার’ শিরোনামে অনুষ্ঠানটি উপস্থাপন করেন অধ্যাপক ড. ইকবাল হাসান মাহমুদ।

অনুষ্ঠানে ডা. জাহীর বলেন, ‘থাইরয়েড হল আমাদের একটি গ্রন্থি যা আমাদের গলার সামনের দিকে অবস্থিত। এই গ্রন্থি থেকে কিছু প্রয়োজনীয় হরমোন নিঃসৃত হয়। এই হরমোন আমাদের বিপাকসহ আরো বিভিন্ন কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই হরমোন তৈরির জন্য এই গ্রন্থিটির প্রয়োজনীয় পরমাণে আয়োডিনের দরকার হয়। উক্ত হরমোন আমাদের বিপাক ক্রিয়াসহ বিভিন্ন শারীরিক এবং মানসিক বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। 

যেহেতু থাইরয়েড গলার মধ্যে এবং এটা সাধারণত বাহির থেকে দেখা যায়। এবং ঢোক গিললে দেখা যায় এটা ফুলে উঠছে। অনেক সময় এটা ধরাও যায়। এটা বিভিন্ন সময়ে হয়। এতে অনেক সময় রোগী ভয়ে থাকেন যে, এটা আসলে কি হচ্ছে। এটা সাধারণত হরমোনের সমস্যায় হয় তা নয় এটা আমাদের কাছে অন্য সমস্যায়ও নিয়ে আসতে পারে। কিছু কিছু রোগী আসে যাদের গলার ভিতরে ফুলে গেছে এ জন্য খেতে কষ্ট হয়। গলার ভিতরে খুসখুসে অনুভূত হয় অথবা গলার ভিতরে কিছু আটকে আছে। অনেক সময় এ রোগীরা শ্বাসকষ্টও নিয়ে আসেন। অনেক সময় প্রেসার নিয়ে আসেন। হরমোন ঠিক থাকলেও বা কম থাকলেও সয়েলিং হতে পারে। এটা একটা হরমোন তৈরি করছে এটার একটা প্রভাব রয়েছে। আয়োডিনের সমস্যার কারণে এ সমস্যা হয় এমনটি এখন আর তেমন দেখা যায় না। ভেজালের কারণেও এমনটি হতে পারে। 

কিডনি রোগীর নাক কান গলার সমস্যা হতে পারে। গর্ভকালীন সময়েও এমন সমস্যা হতে পারে। কিডনি রোগী কিছু ঔষুধ খাচ্ছে তাতেও এ সমস্যা হতে পারে। নাক কান গলার সমস্যা নিয়ে অনেক বাচ্চা জন্মগ্রহণ করতে পারে। এটা কিডনির রোগের সঙ্গে এতটা সম্পর্কযুক্ত নয়। 
কোন গর্ভবতী মায়ের এলার্জির সমস্যা থাকলে তার সন্তানের এ সমস্যা হতে পারে। কেননা এ্যলার্জি বংশগত সমস্যা। এটা বংশ পরম্পরায় বহমান। মাঝে মধ্যে দেখা যায় যে বংশের মধ্যে বাবার নেই তবে সন্তানের হয়। দেখা যায় ঐ বাবার মা বা বাবা এল্যার্জির সমস্যায় ছিলেন। বাচ্চাদের ক্ষেত্রে জন্মের সময় থাইরয়েডের গ্রন্থি ঠিকভাবে তৈরি না হলে কিংবা প্রয়োজনমত হরমোন তৈরি করতে না পারলে বাচ্চাদের শারীরিক এবং মানসিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয়।

আমাদের শরীরে যতটুকু হরমোন প্রয়োজন তার চেয়ে কম কিংবা বেশি পরিমাণে এই হরমোন তৈরি হলে তখন নানা রকম সমস্যা দেখা দেয়। প্রয়োজনের তুলনায় কম পরিমাণে এই হরমোন তৈরি হলে হাইপোথাইরয়ডিজম হতে পারে। আবার প্রয়োজনের তুলনায় বেশি পরিমাণে এই হরমোন উৎপন্ন হলে হাইপারথাইরয়ডিজম হতে পারে। উভয়ই আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। থাইরয়েড গ্রন্থি যদি প্রয়োজনের তুলনায় কম হরমোন উৎপাদন করে তখন হাইপোথাইরয়ডিজম হবার সম্ভাবনা আছে। যদিও অনেক সময় এর চোখে পড়ার মত লক্ষণ দেখা যায় না, যার ফলে অনেকে বুঝতেই পারেন না তারা হাইপোথাইরয়ডিজম এ আক্রান্ত।

থাইরয়েডের সমস্যার অপারেশনে কথা বললে রোগী আতঙ্কিত হয়ে যান। তবে অপারেশনের সফলতা একশত ভাগ। এতে ক্যান্সার হলে তাও একশত ভাগ চিকিৎসায় সফলতা পাওয়া যায়। একটা মাত্র স্টেজ আছে যেটা বৃদ্ধ বয়সে হয় তাও হঠাৎ করে। তা তেমন একটা হয় না। তা হলে তাকে বাঁচানো সম্ভব হয় না। বাংলাদেশে প্রায় ৫০ লাখ মানুষ আছে যাদের থাইরয়েডের হরমোন দরকার। 

ডায়াবেটিস যেমন দিনে তিনবার চারবার পরীক্ষা করতে হয়। সপ্তাহে কয়েকবার পরীক্ষা করতে হয়। অন্য দিকে থাইরয়েযে হরমন স্থায়ীত্ম হলে তা বছরে দু তিন বার পরীক্ষা করলেই হয়। 

অপারেশনে থাইরয়েড ফেলে দিলে হরমোনের রিপ্লেস করতে হবে। তবে অনেক সময় আমরা হরমোনের একটা অংশ ফেলে দেই। তখন বাকিটা রিকভারি হয়। তবে ৭০ ভাগ ক্ষেত্রে এই গ্রন্থির অর্ধেক কেটে ফেললেও রোগী তার বাকি অর্ধেক দিয়ে স্বাভাবিকভাবে বেঁচে থাকতে পারে। তবে যাদের পুরো গ্রন্থিটিই কেটে ফেলেতে হয় তাদের বাকি জীবন আলাদাভাবে বাহির থেকে প্রয়োজনীয় হরমোন গ্রহণ করতে হয়। থাইরয়েডের চিকিৎসা সুষ্ঠু হাতে হলে কোন সমস্যাই হবে না। এখন ডেঙ্গুর কারণে নাক কান ও গলার সমস্যা রোগী দেখা যায় না। তারপরও নাক দিয়ে, মুখ দিয়ে রক্ত আসলে তার মানে কিছু সমস্যা হচ্ছে। নাক কান গলার সমস্যা যে কোন সময় হতে পারে। এতদিন বিশেষায়িত হাসপাতাল না থাকলেও এখন আছে। 

এছাড়া বিভিন্ন নিউক্লিয়ার মেডিসিন, তেজস্ক্রিয় আয়োডিন ব্যবহার করে আক্রান্ত হবার মাত্রা নির্ধারণ করে চিকিৎসকেরা পরবর্তী পরামর্শ দিয়ে থাকেন। সুতরাং কোনো লক্ষণ দেখলে সেটাকে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। আর সুস্থ থাকতে বছরে অন্তত একবার রক্ত পরীক্ষা করে থাইরয়েড গ্রন্থির অবস্থা চেক করতে পারেন।

© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি