ঢাকা, মঙ্গলবার   ০২ জুন ২০২০, || জ্যৈষ্ঠ ১৯ ১৪২৭

Ekushey Television Ltd.

প্রত্যয়ী হলেই লক্ষ্যে পৌঁছা সম্ভব: পনির হোসেন

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ২০:১০ ৩ মে ২০১৮ | আপডেট: ১৪:২৩ ১৭ মে ২০১৮

সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে তিনি। চাচার একটি ফিল্ম ক্যামেরা হাতে শখ করে ছবি তুলতেন বন্ধুদের সাথে। এরপর একটু বড় হলে পারিবারিক অনুষ্ঠানের ছবি তুলতেন। ছেলেটি যখন ছবি তুলতেন পরিবারের কেউ তেমন পছন্দ করতো না। ছবি তুলে কিছু হয় নাকি! অনিশ্চিত ভবিষ্যত। কী দরকার `অকাজে` সময় নষ্ট করার! সেই ছেলেটিই এবার জয় করেছেন `পুলিৎজার`। `পুলিৎজার` কে বলা হয় সাংবাদিকতার `নোবেল`। না বললেই নয়, স্বাধীন বাংলাদেশে তিনিই একমাত্র পুলিৎজার জয়ী। ছেলেটির নাম মো. পনির হোসেন। পড়াশুনা করেছেন ঢাকা সিটি কলেজে ও নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে। ফটো সাংবাদিক হিসেবে কাজ করেন সংবাদ সংস্থা রয়টার্সে। সম্প্রতি বিশ্ব আলোচিত রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে তোলা ছবির জন্য পুলিৎজার পেলেন মো. পনির হোসেন। একুশে টেলিভিশন অনলাইনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পনির জানালেন, কোন কাজে পরিশ্রম যেমন অপরিহার্য তেমনি লক্ষ্য অটুট রেখে লেগে থাকাও আবশ্যক। তিনি আরো বিশ্বাস করেন `করবো` ও `করবোই` এক কথা নয়। কোনো লক্ষ্য নির্ধারণ করলে সেখানে যদি `ই` প্রত্যয় যোগ হয় তাহলে লক্ষ্যে পৌঁছা সম্ভব। পনির এসময় আরো বলেন, জার্নালিজম বা ফটো জার্নালিজম যাই হোক, যে ইস্যু নিয়ে কাজ করা হবে সে বিষয়ে ভালো পড়াশোনা ও প্রস্তুতি দরকার। কাজটা কঠিন না। ভালো পড়াশোনা থাকলে কাজটার মাধ্যমে কী বলা দরকার বা কী বলতে চাই তা তুলে আনা সম্ভব। তবে এটা ডকুমেন্টারি বা স্টোরির জন্য প্রযোজ্য। স্পট নিউজের জন্য না। তার সাক্ষাৎকার নিয়েছেন একুশে টেলিভিশন অনলাইনের প্রতিবেদক আলী আদনান।

একুশে টেলিভিশন অনলাইন: একটা বয়সে শিশুরা ছবি আঁকে, ছড়া লিখে, ক্রিকেট বা ফুটবল খেলায় উৎসাহী হয়। আপনার হাতে ক্যামেরাও কী সেভাবে এলো?

মো. পনির হোসেন: না। আমি তখন ক্লাস সেভেনে পড়ি। বাসায় পত্রিকা এলো ছবিগুলো খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখতাম। ধীরে ধীরে জানতে পারলাম বা বুঝতে পারলাম এই ছবি তোলার কৃতিত্ব ফটোগ্রাফারদের। তারা ক্যামেরা নিয়ে ঘুরে। ন`টা পাঁচটা অফিস করতে হয়না। বেড়াতে পারে। খুব মজার পেশা। তখন থেকে আস্তে আস্তে আমার মাথায় ফটোগ্রাফি গেঁথে যেতে থাকে।

একুশে টেলিভিশন অনলাইন: তখন কী পত্রিকায় ছবি পাঠানোর চেষ্টা করেছেন?

মো. পনির হোসেন:  না, না। আমার দৌঁড় ছিল তখন পরিবারের বিভিন্ন অনুষ্ঠান। সেখানে ছবি তোলার সুযোগ পেতাম। তখন আমার কোনো ক্যামেরা ছিলনা। চট্টগ্রামের আগ্রাবাদে চাচার বাসায় থাকতাম। তার একটা ক্যামেরা ছিল। ফিল্ম ক্যামেরা। বন্ধুরা বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতে গেলে ছবি তুলতাম। আমি প্রথম ডিএসএলআর হাতে পাই ২০১০ সালে। নিজের কেনা নয়। এক আঙ্কেল এটা গিফট করেছিলেন।

একুশে টেলিভিশন অনলাইন: প্রফেসনাল ফটোগ্রাফি করছেন কবে থেকে?

মো. পনির হোসেন:  প্রফেসনাল ফটোগ্রাফি বলতো যা বুঝায় তা করছি ইটালির ফটো এজেন্সি নূর ফটো এজেন্সি ও ইউএসএ- এর জুমা পেসে কাজের মধ্য দিয়ে। ২০১৫ সাল থেকে। তবে সেটা হচ্ছে ফ্রিল্যান্স। আনুষ্ঠানিকভাবে আমি প্রফেসনাল হই রয়টার্সে কাজ শুরু করার মধ্য দিয়ে। সেটা ২০১৬ সাল।

একুশে টেলিভিশন অনলাইন: যদি আপনাকে প্রশ্ন করা হয়, পৃথিবীতে এতো কাজ থাকতে ফটোগ্রাফি করছেন কেন?

মো. পনির হোসেন:  আমি সমাজ পরিবর্তন করবো বা আমার ছবি দিয়ে বড় কোন হৈ চৈ হবে, এমন চিন্তা আমার কখনোই ছিলনা। ফটোগ্রাফি করছি এক ধরণের ভালো লাগা থেকে। কর্পোরেট জবে ন`টা পাঁচ`টার অফিস করতে হয়। বন্দী জীবন। ফটোগ্রাফিতে আমি স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছি। পাশাপাশি চ্যালেঞ্জ আছে। নিজেকে বিকাশ করার সুযোগ আছে। নিজের মতো করে কাজ করার সুযোগ আছে। আমার পড়াশুনা নর্থ সাউথে। খুব ভাল রেজাল্ট আমার ছিলনা। ভাবলাম, এই রেজাল্টে জব করতে গেলে খুব ভালো করতে পারবো না। তাই নিজের মতো করে কিছু করা দরকার।

একুশে টেলিভিশন অনলাইন:  যাত্রাটা শুরু হলো কীভাবে?

মো. পনির হোসেন: ২০১৪ সালে আমি কাউন্টার ফটোতে একটা প্রোগ্রাম করি। ২০১৫ সালে আমি সিদ্ধান্ত নিই, আমি ফটোগ্রাফী নিয়ে কাজ করবো। নিজের সাথে নিজের যোগ বিয়োগে আমি বুঝতে পারি আমাকে দিয়ে ফটোগ্রাফি হবে। তখন আমি ইটালির নূর ফটো এজেন্সি ও ইউএসএ-এর জুমা প্রেসে আমি কন্ট্রিবিউটর হিসেবে কাজ শুরু করি। এটা কোনো চাকরী না। কন্ট্রিবিউটর। ওরা মূলত ফটো এজেন্সি। ছবি তুলে পাঠানোর পর বিক্রি হলে কমিশন পাওয়া যায়। এটা দিয়ে খুব বেশি আয় হয়না। নিজের খরচ চালানো যায়। তবে আস্তে আস্তে বাড়তে থাকে।

একুশে টেলিভিশন অনলাইন:  ছবির বিষয় কীভাবে নির্ধারণ করতেন?

মো. পনির হোসেন: আমার প্রথম ছবি বিক্রি হয় তিন মাস পর। তিন মাস আমার কোনো ছবি বিক্রি হয়নি। ছ`সাত লাগে কোনো ধরণের ছবি বেশি বিক্রি হবে সেটা বুঝতে। আমি বুঝতাম না ক্রেতারা কোন ধরনের ছবি চায়। আসলে আমি কিছুই বুঝতাম না। কাজ করতে করতে বুঝতে হয়েছে। ধাক্কা খেয়ে খেয়ে শিখতে হয়েছে। এটা সত্যি আমি আমার মতো করে শিখেছি। অন্যরা হয়তো তাদের মতো করে শিখবে। সব ধরণের ছবি স্টকে রাখা ভালো। যার স্টক যতো বেশি, তার কদর ততো বেশি। কাগজে আমি নোট করতাম। ধরুন ফেস্টিভ্যাল। বাংলাদেশে যতোগুলো ফেস্টিভ্যাল হয় সব ফেস্টিভ্যালের ছবি স্টকে রাখতাম। বা প্রাণী। সবপ্রাণীর ছবি স্টকে রাখা। যেনো চাইলেই পাওয়া যায়।

একুশে টেলিভিশন অনলাইন: রয়টার্সে যোগ দেওয়ার আগে কী আপনার ছবি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে?

মো. পনির হোসেন:  হ্যাঁ, অনেক। গার্ডিয়ান, ওয়ার্ল্ড স্ট্রীট জার্নাল, নিউইয়র্ক টাইমস, টাইম ম্যাগাজিনে আমার ছবি রোজই ছাপা হতে থাকে।

একুশে টেলিভিশন অনলাইন: রয়টার্সে নিয়োগ পেলেন কীভাবে?

মো. পনির হোসেন: এটা কাকতালীয় ব্যাপার। রয়টার্সে আমি যার অধীনে কাজ করি তিনি আহমেদ মাসুদ। একজন আফগান নাগরিক। তখন তিনি ইন্ডিয়ার চিফ ফটোগ্রাফার ছিলেন। এখন তিনি এডিটর ইন চার্জ। রয়টার্সের এশিয়া পিকচার্স বিভাগ। উনি আমাকে প্রথমে ফেসবুকে নক করেন। প্রথমে আমি বুঝিনি যে তিনি রয়টার্সে কাজ করেন। পরে আলাপ আলোচনার পর তিনি আমাকে কাজ করার জন্য প্রস্তাব দেন। আমি জানাই, যদি রয়টার্স হয় তাহলে আমি এটা সুযোগ হিসেবে নেব। এরপর ইন্টারভিউর পর আমার জয়েনিং হয়। ২০১৬ সালের জুলাই মাস।

একুশে টেলিভিশন অনলাইন: রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে কাজের অভিজ্ঞতা বলুন।

মো. পনির হোসেন: ২০১৬ সালে যখন প্রথম ৮০ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আসে তখন আমি সেখানে প্রথম যাই। ২০১৭ সালে আমাদেরকে এ্যাসাইনমেন্ট দেওয়া হয়। তখন আমরা গুন্দম এলাকায় যাই। ওখানে প্রথমে বর্ডার গার্ডের টহল, বাঙ্কার, বিজেবি এসব ছবি আমরা তুলি। ক্যাম্পে যাওয়ার পর আমরা গোলাগুলির শব্দ শুনি। এরপর গাড়ি নিয়ে আবার সেখানে যাই। তখন দেখি কাঁটাতারের বেড়ার ওদিক থেকে কয়েক`শ রোহিঙ্গা আসছে। বর্ডার গার্ড আমাদের ওখানে যেতে দেয় না। ফলে ওখান থেকে আমার টেলিলেন্স দিয়ে যতোটুকু কাভার করা যায় সেভাবেই ছবি তুলি।

একুশে টেলিভিশন অনলাইন: পুলিৎজারের জন্য ছবিটা কী আপনি জমা দিয়েছিলেন?

মো. পনির হোসেন: না, পুলিৎজারের প্রথম শর্ত হলো, ছবিগুলো অবশ্যই আমেরিকার কোনো প্রিন্ট অথবা অনলাইন মিডিয়াতে প্রকাশিত হয়েছে এমন হতে হবে। আমার ছবিগুলো আমার অফিস জমা দিয়েছিল।

একুশে টেলিভিশন অনলাইন: আপনার ছবি জমা দেওয়া হয়েছে বা আপনি পুলিৎজার পেতে পারেন এমন কোনো ধারণা কী আপনার ছিল?

মো. পনির হোসেন: জমা দেওয়া হয়েছে জানতাম। জমা দেওয়ার আগে আমার মতামত নেওয়া হয়েছিল। পুলিৎজার পাবো কী পাবো না তা নিয়ে কনফার্ম ছিলাম না। রাত একটার দিকে ইউটিউবে ঢুকি। সেখানে পুলিৎজারের একটা চ্যানেল আছে। সেখানে ফার্স্টে এনাউন্স করা হয়, " রয়টার্স টিম হেন ওউন..."। তবে আমি দ্বিধাগ্রস্থ ছিলাম। সেখানে আমার নাম আদৌ আছে কিনা। তখন আমি বারবার পুলিৎজার ওয়েবসাইট বারবার রিফ্রেশ দিচ্ছিলাম। রাত দেড়টার দিকে আমার বস আমাকে ফোন দেন। সাধারণত তিনি কখনো এতো রাতে আমাকে ফোন দেননা। গুরুত্বপূর্ণ এ্যাসাইনমেন্ট হলে ভিন্ন কথা। তার ফোন দেখে আমি আশান্বিত হই।

একুশে টেলিভিশন অনলাইন:  অনুভূতি কী?

মো. পনির হোসেন: (অশ্রুসজল চোখে) কিছু কিছু অনুভূতি সবসময় ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। শুধু এটুকু বলি, আমি সারারাত ঘুমাতে পারিনি।

একুশে টেলিভিশন অনলাইন: আপনার আজ পর্যন্ত এই যে যাত্রা, কেমন সমস্যার মুখোমুখি হয়েছেন?

মো.পনির হোসেন: গত পাঁচ সাত বছরে এই পেশাটা ধীরে ধীরে তরুণদের মাঝে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। কিন্তু তার আগে যদিও বা ফটো সাংবাদিকতা ছিল বা ওয়েডিং ফটোগ্রাফিসহ নানা ধরণের ইভেন্ট ছিল তথাপি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ফটোগ্রাফি এখন যেমন জনপ্রিয় হচ্ছে সেটা আগে ছিলনা। আমার পরিবারও এ সম্পর্কে খুব ভালো ধারণা রাখেন না। ফলে তারা আমার কাজ নিয়ে কখনো উৎসাহী ছিলেন না। তারা চাইতেন ছেলে পড়াশুনা শিখেছে। চাকরি করবে। মাস শেষে বেতন পাবে। যেখানে একটা নিশ্চয়তা আছে। সব বাবা মা সেটা চায়। আমার বাবা মাও চাইতো।

একুশে টেলিভিশন অনলাইন:  চলার পথে অনুপ্রেরণা পেয়েছেন কেমন?

মো. পনির হোসেন: আমি এখনো আমার নিজের টাকা দিয়ে ক্যামেরা কিনি নাই। দু`জন আমাকে দু`টো ক্যামেরা গিফট করেছেন। রাকিবুল হাসান নামে একজন ফটোগ্রাফার আছেন। তিনি আমাকে খুঁটি নাটি নানা বিষয়ে পরামর্শ দেন। বলা হয়নি, আমি ফটোগ্রাফির উপর ফিলিপাইন থেকে একটি অনলাইন কোর্স করি। সে ব্যাপারে তিনি পরামর্শ দিয়েছিলেন।

একুশে টেলিভিশন অনলাইন:  ছবি তোলার জন্য কেমন প্রস্তুতি দরকার?

মো. পনির হোসেন: জার্নালিজম বা ফটো জার্নালিজম যাই হোক, যে ইস্যু নিয়ে কাজ করা হবে সে বিষয়ে ভালো পড়াশোনা ও প্রস্তুতি দরকার। কাজটা কঠিন না। ভালো পড়াশোনা থাকলে কাজটার মাধ্যমে কী বলা দরকার বা কী বলতে চাই তা তুলে আনা সম্ভব। এটা ডকুমেন্টারি বা স্টোরির জন্য প্রযোজ্য। স্পট নিউজের জন্য না। কারণ, স্পট নিউজ কী হবে তা নিজেই জানিনা বা জানা সম্ভব না।

একুশে টেলিভিশন অনলাইন: এই মুহুর্তে কোন ইস্যু নিয়ে কাজ করছেন?

মো. পনির হোসেন: রোহিঙ্গা ইস্যু এখনো শেষ হয়নি। প্রতি মাসে দু`একবার যেতে হয়। আরো কিছু আইডিয়া আছে। সেগুলো নিয়ে ভাবছি। প্রতি বছর আমাদের দু`একটা স্টোরি করতে হয়। আইডিয়া থাকলেই হয়না। সেটা বাজেটসহ অফিসকে জানাতে হয়। অফিস অনুমুতি দিলে কাজ শুরু করা যায়।

একুশে টেলিভিশন অনলাইন:  নতুন যারা কাজ করছে তাদের জন্য বলুন।

মো. পনির হোসেন:  আমি বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে অনেককে পেয়েছি যারা ছবি তুলছে বা ছবি তুলতে আগ্রহী। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় জীবন শেষ হওয়ার পর যখন চাকরী জীবনে প্রবেশ করেন তখন আর কাজের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারেননি। এটা দুঃখের ব্যাপার। যে কোন কাজে লেগে থাকতে হয়। আপনি পুলিৎজার পেতে হবে এমন কোনো কথা নেই। কিন্তু কাজে লেগে থাকলে একটা ভালো ফলাফল অবশ্যই আসবে। এটা শুধু ফটোগ্রাফি নয়, যে কোনো কাজের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। যে কোনো কাজে পরিশ্রম করতে হয় ও লক্ষে অটুট থাকতে হয়। লক্ষে ছাড় দিলে চলবে না। আরেকটা কথা না বললেই নয়। অনেক সময় আমরা বলি, আমি এটা `করবো`। আমি এটা `করবো` আর `করবোই` এক কথা নয়। আপনি যখন আপনার প্রতিজ্ঞায় `ই` প্রত্যয় যোগ করবেন তখন লক্ষ নিকটে চলে আসবে। লক্ষে পৌঁছা সহজ হয়ে যায়।

একুশে টেলিভিশন অনলাইন: স্বাধীন বাংলাদেশে আপনিই একমাত্র `পুলিৎজার` জয়ী। খুব অল্প বয়সে এমন অর্জন। বিষয়টা ভাবতে কেমন লাগে?

মো. পনির হোসেন: দায়িত্বটা অনেক বেড়ে গেলো। আগে যেভাবে ইচ্ছা সেভাবে ছবি তুলতে পারতাম। পোস্ট করতে পারতাম। এখন সেটা পারছি না। যেহেতু গায়ে একটা `সীল` লেগে গেল, এখন মানুষের প্রত্যাশা বেড়ে গেল। স্বাভাবিকভাবেই তারা ভালো কিছু প্রত্যাশা করবে। হ্যাঁ, যারা ভালো বা বড় ফটোগ্রাফার তারা কী খারাপ ছবি তোলেনা? অবশ্যই তোলে। তবে যেসব ছবি মানসম্মত হয় না সেসব ছবি তারা পোস্ট দেয় না। তারা সেসব ছবিই পোস্ট বা প্রচার করে যা তাদের সেরা সৃষ্টি। আমার কাজটা কেমন হলো সেটা আমাকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। কাজটা যদি আমার কাছে ভালো লাগে তাহলে বুঝতে হবে মানুষের কাছেও ভালো লাগবে। আমার কাছে ভালো না লাগলে কারো কাছে ভালো লাগবে না।

একুশে টেলিভিশন অনলাইন:  আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ। এতো ব্যস্ততার মাঝেও আমাদের অনেক্ষণ সময় দিলেন।

মো. পনির হোসেন: আপনাকেও ধন্যবাদ। ইটিভি অনলাইনের জন্য শুভকামনা।

 টিকে


New Bangla Dubbing TV Series Mu
New Bangla Dubbing TV Series Mu

© ২০২০ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি