ঢাকা, শনিবার   ২৩ নভেম্বর ২০১৯, || অগ্রাহায়ণ ৯ ১৪২৬

Ekushey Television Ltd.

বৃহস্পতিকে হারিয়ে সৌরমণ্ডলে চ্যাম্পিয়ন শনি!

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ১৩:৪৭ ১৫ অক্টোবর ২০১৯

নয়ের দশক থেকেই সৌরমণ্ডলে ‘চাঁদের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি’টা ছিল বৃহস্পতির। এবার শিরোপা জিতে নিল বলয় গ্রহ শনি।

‘রিং প্ল্যানেট’ নামে খ্যাত গ্রহটির চারপাশে নতুন করে আরও ২০টি উপগ্রহের সন্ধান পেয়েছেন মার্কিন জ্যোতির্বিদরা। এর ফলে শনির চাঁদের সংখ্যা বেড়ে হল ৮২। তবে সবচেয়ে বড় চাঁদটি এখনও সর্ববৃহৎ গ্রহ জুপিটারের দখলে। গেনেমেডে আকারে প্রায় পৃথিবীর অর্ধেক। অপরদিকে শনির নতুন ২০টি গ্রহ খুব বড় নয়। মাত্র ৫ কিলোমিটার ব্যাসের।

ওই চাঁদগুলো হাউইয়ের মওনা কিয়ায় বসানো ‘সুবারু’ টেলিস্কোপের চোখেই প্রথম ধরা দিল। ‘ইন্টারন্যাশনাল অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল ইউনিয়নে’র মিরর প্ল্যানেট সেন্টার ওই আবিষ্কারের খবর দিয়েছে।

কার কয়টা চাঁদ, সেই ‘যুদ্ধে’ অনেক দিন ধরেই টক্কর চলছে বৃহস্পতি ও শনি গ্রহের মধ্যে। চাঁদের সংখ্যার দৌড়ে নয়ের দশক থেকেই ‘সেরা’র শিরোপাটি চলে যায় বৃহস্পতির মাথায়। বছরদেড়েক আগে আরও ১২টি চাঁদের হদিস মেলায় সেই দৌড়ে অনেকটাই এগিয়ে গিয়েছিল বৃহস্পতি। তার চাঁদের সংখ্যা বেড়ে হয়েছিল ৭৯টি। সেই রেকর্ড কেউ ছুঁতে পারবে বলে নিশ্চিত ছিলেন না জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা।

কিন্তু টপকাতে খুব সময় নিল না শনি! ৬২টি চাঁদ নিয়ে সেই পিছিয়ে পড়ার ‘প্রতিশোধ’ নিল গ্রহটি। তার মুলুকে গিয়ে ‘স্বেচ্ছামৃত্যু’র আগে ‘ক্যাসিনি’ মহাকাশযানের পাঠানো তথ্যাদি ও ছবি শনির আরও ২০টি চাঁদের অস্তিত্বের কথা জানাল। ফলে, চাঁদের সংখ্যার নিরিখে অনেকটা পিছিয়ে থেকেও অল্প সময়ের মধ্যেই বৃহস্পতিকে টপকে গেল বলয় গ্রহ।

বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, নতুন ২০টি চাঁদের প্রত্যেকটির ব্যাস ৩ মাইল। তাদের মধ্যে ১৭টি চাঁদ পিছনের ১৭টি কক্ষপথ থেকে প্রদক্ষিণ করছে শনি গ্রহকে। আরও সহজভাবে বলতে হলে, নিজের কক্ষপথে শনি ঘুরছে যে দিকে, ঠিক তার উল্টো দিকের কক্ষপথগুলো থেকে বলয় গ্রহকে প্রদক্ষিণ করছে তার সদ্য হদিস মেলা ১৭টি চাঁদ। যাকে বিজ্ঞানের পরিভাষায় বলা হয়, ‘রেট্রোগ্রেড ডিরেকশন’। বাকি ৩টি চাঁদ বলয় গ্রহকে প্রদক্ষিণ করছে সেই দিকেই, যে দিক দিয়ে নিজের কক্ষপথে ঘোরে শনি। বিজ্ঞানের পরিভাষায় যাকে বলা হয়, ‘প্রোগ্রেড ডিরেকশন’।

© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি