ঢাকা, বুধবার   ১৯ জুন ২০২৪

ভালো থাকুক পৃথিবীর সকল বাবা

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ১০:১৫, ২৪ মে ২০২৪

একমাত্র ছেলে তার বাবাকে প্রথম বারের মতো বৃদ্ধাশ্রমে রেখে ফিরছিল। রাস্তার মাঝে ফোন এলো। তার বউ ফোন করে বলছে:- তুমি আর একবার বৃদ্ধাশ্রমে ফিরে যাও একটা কথা বলতে ভুল হয়ে গেছে।

বৃদ্ধাশ্রমে গিয়ে তুমি তোমার বাবাকে ভালোভাবে বুঝিয়ে এসো, পূজো-পার্বন এমনকি তোমার জন্মদিনেও তোমার বাবা যেন কষ্ট করে ওই বৃদ্ধাশ্রমে থেকে যায়। আমাদের বাড়িতে যেন না আসে। 

বাধ্য হয়ে বউয়ের কথা মতো আবার ওই বৃদ্ধাশ্রমে ফিরে গেল। সেখানে গিয়ে সে একটা অদ্ভুত দৃশ্য দেখতে পেল। তার বৃদ্ধ বাবা ওই বৃদ্ধাশ্রমের বৃদ্ধ মালিকের সাথে খুব হেসে হেসে কথা বলছেন। এটা দেখে ছেলের মনে সন্দেহ হল। সে মনে মনে ভাবল বাবা কি তাহলে আগে থেকেই এই বৃদ্ধাশ্রমের মালিককে চিনত? কে জানে হয়ত বা! তারপর অপেক্ষা করতে লাগল। কিছুক্ষন পর বাবা উনার নির্দিষ্ট কামরায় চলে যাবার পর ছেলে ওই বৃদ্ধাশ্রমের মালিকের কাছে গিয়ে জিজ্ঞাসা করল, স্যার একটা কথা জিজ্ঞাসা করছি কিছু মনে করবেন না!

বলছি যে একটু আগে আপনি বাবার সাথে যেভাবে কথা বলছিলেন তাতে আমার কেন জানি মনে হচ্ছে আপনারা পূর্ব পরিচিত, সত্যিই কি তাই? অনাথ আশ্রমের মালিক বললেন হ্যাঁ। উনাকে আমি প্রায় ৪০ বছর আগে থেকেই ভালো করে চিনি এবং জানি। আমি জানি না কোন পরিস্থিতিতে উনি আজ এই বৃদ্ধাশ্রমে এসেছেন। তবে মনের দিক থেকে আপনার বাবা একজন বড় মনের মানুষ। ছেলে বলল, আমি তো সেটাই জানতে চাইছি। বাবাকে কিভাবে চিনলেন?

বৃদ্ধ মালিক বললেন, ৪০ বছর আগে আমার আন্ডারে থাকা একটা অনাথ আশ্রম থেকে উনি একটি অনাথ শিশুকে দত্তক নিয়ে বাড়িতে গিয়েছিলেন এবং আমার অনুমান যদি ভুল না হয় তাহলে ৪০ বছর আগে দত্তক নেওয়া সেই অনাথ শিশুটি এখন আমার সামনে দাঁড়িয়ে আছে।

এই কথা শোনার পর ছেলেটির আর বুঝতে বাকি রইল না। ৪০ বছর আগের সেই অনাথ শিশুটিই যে উনি। ছেলেটির চোখ দিয়ে অঝোর ধারায় অশ্রু ঝরতে লাগল। সে হাউমাউ করে কাঁদতে লাগল। আর দেরি না করে দৌড়ে তার বাবার কক্ষে গিয়ে ওনার পা ধরে কান্না করতে লাগল। বৃদ্ধ বাবার পা ধরে বলতে লাগলো আমাকে মাফ করে দাও। আমি অনেক বড় ভুল করে ফেলেছি।

২দিনের ভালোবাসার জন্য ৪০ বছরের ভালোবাসাকে আমি ভুলে গেছি। ছেলের এই করুন দৃশ্য দেখে বাবাও কেঁদে ফেললেন। তিনি ছেলেকে পা থেকে তুলে বুকে জড়িয়ে ধরে বলতে লাগলেন ধুর বোকা ছেলে, এর জন্য কান্না করতে হয়। আমি তো তোকে মাফ করেই দিয়েছি। এবার ছেলেটি কান্না থামিয়ে বাবাকে বৃদ্ধাশ্রম থেকে বাড়ি নিয়ে গেল। 

পৃথিবীর সকল বাবার প্রতি রইলো গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা।

লেখাটি ফেসবুক থেকে সংগৃহীত

এমএম//


Ekushey Television Ltd.


Nagad Limted


© ২০২৪ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি