ঢাকা, রবিবার   ১৮ আগস্ট ২০১৯, || ভাদ্র ৩ ১৪২৬

Ekushey Television Ltd.

মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ অব্যাহত থাকবে: বেনজীর

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ২২:৩৯ ২২ মে ২০১৮ | আপডেট: ০৯:৫৫ ২৪ মে ২০১৮

মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশ ও র‍্যাবের বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে সারাদেশে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্দেশনার পর মাদকের বিরুদ্ধে রীতিমত ‘যুদ্ধ’ ঘোষণা করে আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী। ইতোমধ্যে পুলিশ ও র‍্যাবের কথিত ‘ক্রসফায়ার’ নিহত হয়েছেন প্রায় ১৫ জন মাদক ব্যবসায়ী। মাদক বিরোধী অভিযান সম্পর্কে ইটিভি অনলাইনকে দেওয়া বিশেষ সাক্ষাৎকারের র‌্যাপিড অ্যাকশ ব্যাটালিয়ান (র‍্যাব)-এর মহাপরিচালক বেনজির আহমেদ বলেন, মাদকের অবস্থা অন্তত সহনীয় পর্যায়ে না আসা পর্যন্ত এ যুদ্ধ অব্যাহত থাকবে। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন আউয়াল চৌধুরী এবং শাওন সোলায়মান

ইটিভি অনলাইন: প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের পর মাদক বিরোধী অভিযানে আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আগের যেকোন সময় থেকে অনেক বেশি তৎপর দেখা যাচ্ছে। এই তৎপরতার ব্যাপকতা কেমন?

বেনজীর আহমেদ: মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের বাহিনীগুলোর কার্যক্রম সবসময়ই অব্যাহত থাকে। তবে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পর তা নতুন মাত্রা অর্জন করেছে। আমি ইতোমধ্যে বিষয়টিকে মাদকের বিরুদ্ধে ‘যুদ্ধ’ হিসেবে ঘোষণা করেছি। আমার কাছে এটি একটা যুদ্ধের মতোই। যে যুদ্ধে আমরা জিততে চাই।

 

ইটিভি অনলাইন: এই যুদ্ধকে আপনারা কোন পর্যায়ে নিয়ে যেতে চান? কোন পর্যন্ত চলবে মাদকের বিরুদ্ধে পরিচালিত এই বিশেষ অভিযান?

বেনজির আহমেদ: কোন পর্যায়ে পর্যন্ত গেলে খুশি হন আপনারা?  অর্ধেক পর্যন্ত গেলে খুশি হবেন-নাকি ২৫ শতাংশ পর্যন্ত গেলে খুশি হবেন আপনারা? তবে এমনটাতে আমি খুশি হব না। এটা নিয়ন্ত্রণের মধ্যে থাকলে আমি খুশি হবো।

একটা সমাজ থেকে একদম তো মাদক উঠিয়ে নেওয়া যাবে না। উইথ আউট মাদক (মাদক ছাড়া) হয় না। কিছু না কিছু থাকবে। তবে তা একটি সহনীয় সীমার মধ্যে থাকতে হবে। দুইশ বছর আগের মানুষও মাদক দ্রব্য সেবন করেছে। অনেকে তো ধর্মীয় আচারের মধ্যেই মাদক সেবন করেন। পৃথিবীর কোন দেশই একেবারে মাদকবিহীন নয়। তবে তা অবশ্যই সহনীয় পর্যায়ের মধ্যে থাকতে হবে। সহনীয় পর্যায়ে না আসা পর্যন্ত মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চলতে থাকবে।

ইটিভি অনলাইন: একটা অভিযোগ সবসময়ই আসে যে, যতই অভিযান হোক মাদক ‘সম্রাটেরা’ ধরা ছুঁয়ার বাইরে থেকে যায়। এবারের অভিযানে কী মাদক সম্রাটদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে?

বেনজির আহমেদ: আমি তো কোন ‘মাদক সম্রাট’ দেখি না। সম্রাটের মুকুট কোথায়? তার চেয়ারটা কোন জায়গায়? ক্রিমিনাল ইজ এ ক্রিমিনাল (অপরাধী অপরাধীই)। এসব আসলে আমরাই বানাই। আমরাই বানাই ‘মক্ষীরানী’; আমরাই বানাই ‘মাদক সম্রাট’। আমাদের চোখে তারা অপরাধী। সম্রাট কীসের আবার? একটা অপরাধীকে বড় বড় বিশেষণে ভূষিত করা ঠিক না।

আমাদের কথা এই যে, আমরা যাকে পাব তাকেই দমন করব। আমদের নীতি হচ্ছে “যেই হোক, যাই হোক আর যেখানেই হোক”। তার বিরুদ্ধেই এই যুদ্ধ।

ইটিভি অনলাইন: বিরোধী দল একটি অভিযোগ করেছে মাদক বিরোধী অভিযানের নামে তাদেরকে দমন করা হচ্ছে। এ বিষয়ে আপনি কী বলবেন?

বেনজির আহমেদ: তারা রাজনীতি করে। তারা অনেক কিছুই বলবে। তারা কি বলেছে না বলেছে আমি জানি না। আমি রাজনীতি করি না। তাই এ বিষয়ে আমি কিছু বলব না। আমি শুধু আমরা দায়িত্ব পালন করবো।  

ইটিভি অনলাইন: দেশের ভিতর না হয় মাদক যুদ্ধ চলল। কিন্তু দেশের বাইরে থেকে যে মাদক আসছে তা নিয়ন্ত্রণ করার বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে?

বেনজির আহমেদ: বর্ডার (সীমান্ত) দিয়ে মাদক আসা তো বন্ধ করতেই হবে। সমস্ত শক্তি দিয়ে বন্ধ করতে হবে। আমাদের যত ক্ষমতা আছে সব প্রয়োগ করতে হবে। অনেক দেশই তার প্বার্শবর্তী দেশের মাদক ব্যবসা দ্বারা আক্রান্ত। তারা সবাই কী বন্ধ করতে পেরেছে? তবুও আমাদেরকে কাজ করতে হবে। আমরা সে বিষয় নিয়েও ভাবছি।

ইটিভি অনলাইন: মাদক ব্যবসার সাথে পুলিশ সদস্যদের জড়িত থাকার বিষয়ে এখন জানা যাচ্ছে। এমন পুলিশ সদস্যদের বিষয়েও ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বহাল থাকবে?

বেনজির আহমেদ: মাদক নির্মূলে পলিসি (নীতি) কী হবে তা তো মাননীয় প্রধানমন্ত্রীই বলে দিয়েছেন। সেটাই পলিসি। আমরা শুধু সেগুলো ইমপ্লিমেন্ট (বাস্তবায়ন) করব মাত্র। আর মাদকের সাথে জড়িত সবাই ঐ পলিসির মধ্যেই আসবে। সে যেই হোক।

এসএইচএস/টিকে

© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি