ঢাকা, শনিবার   ২৪ আগস্ট ২০১৯, || ভাদ্র ৯ ১৪২৬

Ekushey Television Ltd.

‘মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ, জয়ের বিকল্প নেই’   

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ২২:৪৩ ২৫ মে ২০১৮ | আপডেট: ১১:৩০ ২৮ মে ২০১৮

সারাদেশে চলছে মাদক বিরোধী বিশেষ অভিযান। মাদক নিরব ঘাতক হিসেবে পুরো জাতিকে শেষ করে দিচ্ছে। মেধাবী তরুণ প্রজন্ম আজ মাদকের ছোবলে দিশেহারা। আগামী প্রজন্ম ও জাতিকে রক্ষার জন্যই শুরু হয়েছে মাদক বিরোধী এই অভিযান। একুশে টেলিভিশনের জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ‘একুশে রাত’এ এসে এমনটাই বললেন র্যা বের মহাপরিচালক (ডিজি) বেনজীর আহমেদ।  

অনুষ্ঠানে তিনি সম্প্রতিক সময়ে মাদকবিরোধী অভিযান এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করেন। এ আলোচনার চূম্বক অংশ তুলে ধরা হলো-

একুশে টেলিভিশন: সারা বছরই মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে থাকেন। এ সময় হঠাৎ করে বিশেষ অভিযান কেন?

বেনজীর আহমেদ: এ অভিযান হঠাৎ করে নয়। আমাদের র্যা ব ফোর্সের তার ম্যান্ডেটরির অংশ হিসেবে শুরু থেকে মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে আসছে। এর প্রতিষ্ঠাকাল থেকে বিগত ১৪ বছর এ অদ্যাবধি র্যাব প্রায় ৭০ হাজার জন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে এবং এ পর্যন্ত র্যা ব ১ হাজার ৭শ কোটি টাকার উপরে মাদক দ্রব্য উদ্ধার করেছে এবং প্রায় পৌনে দুই হাজার কোটি টাকার মাদক দ্রব্য উদ্ধার করেছে।

অন্যদিকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী একাধিক স্থানে মাদকের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছে। বিশেষ করে গত ৩ মে র্যা ব ফোর্সেস এর প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী দিবস উপলক্ষ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী র্যা ব ফোর্সকে মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। সম্প্রতি খুলনার নবনির্বাচিত মেয়র গণভবনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে দেখা করতে আসেন। সেখানেও কিন্তু তিনি মাদকের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন। তাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে আমরা মাদকের বিরুদ্ধে এ পদক্ষেপ নিয়েছি।

সরকার প্রধান ও রাষ্ট্র যখন একটা বিষয় বাস্তবায়ন করতে চান তখন আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য ওই কাজটি বাস্তবায় করা জরুরি হয়ে পরে। এটি একটি জাতীয় সমস্যা। আমরা সে কারণে সমগ্র দেশবাসীর সমর্থন প্রত্যাশা করি, আমরা সকল শিক্ষকের সমর্থন ও সহযোগীতা চাই, আমরা ছাত্রদের সমর্থন চাই, আমরা সকল অভিবাবকবৃন্দের সমর্থন চাই, আমরা সকল পলিটিকেল পার্টির সমর্থন চাই, আমরা কমিউনিটি লিডারদের সার্পোট চাই, আমরা ধর্মীয় নেতা ,ইমামদের সমর্থন চাই, আমরা সহযোগিতা চাই সিভিল সোসাইটি, রাইটার, আর্টিস্ট সকল শ্রেণী পেশার মানুষদের। আমরা সমর্থন চাই যাতে করে এটির শিকড়, নিগড় উদ্ঘাটন করতে পারি।

একুশে টেলিভিশন: লোকদের মধ্যে মাদক সেবনের প্রবণতা রয়েছে। আর এ প্রবণতা যদি থাকে তাহলে এ অভিযান কতটুকু সফল হবে ?

বেনজীর আহমেদ: দেখুন আমরা সবাই যদি এর বিরুদ্ধে সোচ্চার হই তাহলে এটির অপসারণ করা সম্ভব। এর মধ্যে যারা ইতোমধ্যে ড্রাগ নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাদেরকে পূর্নবাসনের ব্যবস্থা করা। এর ক্ষতিকর দিকটি সবার কাছে তোলে ধরা। মাদক বিরোধী ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে সচেতনতা সৃষ্টি করা। এ ক্ষেত্রে যে সকল ব্যক্তি ও এনজিও মাদক দ্রব্যের বিরুদ্ধে কাজ করেন এবং পুনর্বাসনে লক্ষ্যে কাজ করনে আমরা তাদের সাথে কাজ করতে চাই। সর্বপরি সবাই যদি এর বিরুদ্ধে সোচ্চার হই তাহলে এর বিস্তার রোধ করা সম্ভব।

একুশে টেলিভিশন: আপনারা যে এত মানুষকে গ্রেফতার করেছেন। সেখানে অনেক মাদক ব্যবসায়ী জামিনে ছাড়া পেয়ে যাচ্ছে। আবার কেউ কেউ কারাগারের ভেতর থেকেও মাদক ব্যবসা পরিচালনা করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ক্ষেত্রে আপনি কি বলবেন? 

বেনজীর আহমেদ: দেখুন মামলা যেমন আছে মামলার জন্য জামিনও রয়েছে। আবার লাখ লাখ আইনজীবী রয়েছেন মামলার পক্ষে বিপক্ষে যুক্তি দেওয়ার জন্য। তারপরও এ প্রতিবন্ধকতা থাকা শর্তেও কিভাবে এটাকে দমন করা যায় সেই পরিকল্পনা আমাদের রয়েছে। এজন্য আমরা বলেছি চল যাই যুদ্ধে, মাদকের বিরুদ্ধে। এ ক্ষেত্রে রাষ্ট্র ও জনগণ আমরা যদি একত্রিতভাবে সামনে এগিয়ে যাই তাহলে মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের এ উদ্যোগ সফল হবেই।

একুশে টেলিভিশন: মানবাধিকার বিভিন্ন সংগঠন ক্রসফায়ারে ক্ষুদ্র মাদক বিক্রেতাদের হত্যার বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছে। এ ব্যাপারে আপনার মতামত কি?  

বেনজীর আহমেদ: যারা প্রশ্ন তুলেছে তারাই এর উত্তর দেবে। এগুলো নিয়ে কথা বলার আমাদের সময় নেই। এটা তাদের ব্যাথা। তারা বিদেশ থেকে টাকা নিয়ে আসেন এ কাজের জন্য, এ বিষয়ে কথা না বললে তারা টাকা পাবেনা। অপরদিকে আমরা প্রত্যাশা করছি যারা ড্রাগ গ্রহণ করে, তারা ড্রাগ গ্রহণ করা ছেড়ে দিবেন; যারা খুচরা বিক্রি করে, তারা বিক্রি বন্ধ করে দিবেন; যে সমস্ত লোকজন এই ড্রাগের হোল্ডার, ডিলার হিসেবে কাজ করেন এবং খুচরা বিক্রেতাদের মধ্যে ডিস্ট্রিবিউট করেন তারাও সেটি ছেড়ে দিবেন। আর এর মাধ্যমে তারা তাদের রক্ষা করতে পারবে।

একুশে টেলিভিশন: এই যুদ্ধকে আপনারা কোন পর্যায়ে নিয়ে যেতে চান? কোন পর্যন্ত চলবে মাদকের বিরুদ্ধে পরিচালিত এই বিশেষ অভিযান?   

বেনজীর আহমেদ: কোন পর্যায় পর্যন্ত গেলে খুশি হন আপনারা? অর্ধেক পর্যন্ত গেলে খুশি হবেন-নাকি ২৫ শতাংশ পর্যন্ত গেলে খুশি হবেন ? তবে এমনটাতে আমি খুশি হব না। এটা নিয়ন্ত্রণের মধ্যে থাকলে আমি খুশি হবো।
একটা সমাজ থেকে মাদক একদম তো উঠিয়ে নেওয়া যাবে না। উইথ আউট মাদক (মাদক ছাড়া) হয় না। কিছু না কিছু থাকবে। তবে তা একটি সহনীয় সীমার মধ্যে থাকতে হবে। দুইশ বছর আগের মানুষও মাদক দ্রব্য সেবন করেছে। অনেকে তো ধর্মীয় আচারের মধ্যেই মাদক সেবন করেন। পৃথিবীর কোন দেশই একেবারে মাদকবিহীন নয়। তবে তা অবশ্যই সহনীয় পর্যায়ের মধ্যে থাকতে হবে। সহনীয় পর্যায়ে না আসা পর্যন্ত মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চলতে থাকবে।

একুশে টেলিভিশন: একটা অভিযোগ সবসময়ই আসে যে, যতই অভিযান হোক মাদক ‘সম্রাটেরা’ ধরা ছোঁয়ার বাইরে থেকে যায়। এ ব্যাপারে আপনার মতামত কি?    

বেনজীর আহমেদ: আমি তো কোন ‘মাদক সম্রাট’ দেখি না। সম্রাটের মুকুট কোথায়? তার চেয়ারটা কোন জায়গায়? ক্রিমিনাল ইজ এ ক্রিমিনাল (অপরাধী অপরাধীই)। এসব আসলে আমরাই বানাই। আমরাই বানাই ‘মক্ষীরানী’; আমরাই বানাই ‘মাদক সম্রাট’। আমাদের চোখে তারা অপরাধী। সম্রাট কীসের আবার? একটা অপরাধীকে বড় বড় বিশেষণে ভূষিত করা ঠিক না। আমাদের কথা এই যে, আমরা যাকে পাব তাকেই দমন করব। আমদের নীতি হচ্ছে “যেই হোক, যাই হোক আর যেখানেই হোক”। তার বিরুদ্ধেই এই যুদ্ধ।

সর্বপরি আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি করতে পারলে এবং সবার সমর্থন নিয়ে আমরা মাদক নির্মুল করতে পারব। কেননা এর আগে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আমরা অনেক বড় বড় অর্জন করেছি । জঙ্গ দমন করেছি।

একুশে টেলিভিশন: অনেক ব্যস্ততার মধ্যে আপনি আমাদের সময় দিয়েছেন সে জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।
বেনজীর আহমেদ: আপনাদেরকেও ধন্যবাদ। 

এমএইচ/এসি      

 

© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি