ঢাকা, রবিবার   ১৭ নভেম্বর ২০১৯, || অগ্রাহায়ণ ৩ ১৪২৬

Ekushey Television Ltd.

শহীদ বুদ্ধিজীবীদের জন্য মতিউরের অন্যরকম লড়াই

প্রকাশিত : ১৪:১৫ ১৪ ডিসেম্বর ২০১৭ | আপডেট: ১৪:১৮ ১৪ ডিসেম্বর ২০১৭

পেশায় মাছ ব্যবসায়ী কিশোরগঞ্জের শেখ মতিউর রহমান। অভাবের তাড়নায় অষ্টম শ্রেণীর পর আর স্কুলে যেতে পারেন নি। মাছের ডালা মাথায় নিয়ে ফেরি করে বেড়ান জীবিকার তাগিদে। বর্তমানে থাকেন মিরপুরের লালকুঠিতে।

মতিউর গত তিন বছর ধরে নিয়মিত স্বেচ্ছায় মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ পরিষ্কার করেন নিজ হাতে। তারও আগে থেকে নিয়মিত আসতেন ও বিভিন্ন আগাছা, ঝোপঝাড় পরিষ্কার করতেন। কিন্তু গত তিনবছর তিনি নিজ হাতে নিয়মিত বিভিন্ন কবরের উপর পড়ে থাকা গাছের পাতা পরিষ্কার করেন। বিভিন্ন ফুলের চারায় পানি দেন। ঝোঁপ ঝাড় পরিষ্কার করেন। অনেক শহীদ বীরশ্রেষ্ঠ ও বুদ্ধিজীবীদের সম্পর্কে তার জ্ঞানও বেশ ভালো।

এই কাজ করার মধ্যে মতিউর একটা তৃপ্তি খোঁজে পান। মতিউরের মুক্তিযুদ্ধ চোখে দেখতে না পেরে বা অংশ নিতে না পেরে যে অতৃপ্তি তা কিছুটা হলেও দূর হয় এই কাজ করে। যারা দেশের জন্য জীবন দিয়ে গেছেন সেসব ‍বুদ্ধিজীবী ও মুক্তিযোদ্ধাদের কবর পরিস্কার করতে পেরে ধন্য মতিউর।

তবে তার এসব স্বেচ্ছাশ্রমে অখুশি সিটি কর্পোরেশনের কয়েকজন কর্মী। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নিয়মিত দর্শনার্থী জানালেন, সিটি কর্পোরেশনের কর্মীরা মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবারদের কাছ থেকে স্মৃতিসৌধ পরিষ্কারের দোহাই দিয়ে টাকা পয়সা আয় করে। কিন্তু মতিউর স্বেচ্ছায় পরিষ্কার করে দেওয়ায় সিটি কর্পোরেশন কর্মীদের সেই আয়ের পথ বন্ধ।

কথা হয় এখানে নিয়মিত আসা শরীফ চৌহানের সঙ্গে। তিনি বলেন, আমি প্রায়ই দেখি ছেলেটা এখানে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার জন্য নিজে উদ্যোগ নিয়ে কাজ করছে। প্রথমে ভেবেছিলাম, হয়তো সিটি কর্পোরেশনের কর্মী। পরে জানলাম, সে এখানে স্বেচ্ছায় কাজ করে। মতিউর এখন একা নন, তার দুই মেয়েকেও এ কাজে অভ্যস্ত করার চেষ্টা করছেন তিনি।

কেন তার এই প্রচেষ্টা জানতে চাইলে মতিউর বলেন, আমি দেশের জন্য কিছু করতে চাই। মুক্তিযোদ্ধারা রক্ত দিয়ে দেশ স্বাধীন করল। আমরা তো সেই সুযোগ পাইনি। এটা অন্তত করি। মতিউরের এমন কাজকে অনেকে পাগলামী বলে হাসাহাসি করলেও, তাতেও দমে যান না মতিউর। তার ভাষায় কে কী বলল, তাতে কী আসে যায়। এ প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা বলার সময় মতিউর জানান, তার মন খারাপ। এতদিন বিজয় দিবস উপলক্ষে এখানে অনেক লোকের সমাগম ছিল। কিন্তু ১৬ ডিসেম্বরের পর এখানে কেউ আসবে না। কে কী বলল তাতে কিছু যায় আসেনা। মতিউরের এই দেশপ্রেমের প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা।

 

/ এআর /

© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি