ঢাকা, সোমবার   ২৬ আগস্ট ২০১৯, || ভাদ্র ১১ ১৪২৬

Ekushey Television Ltd.

শান্তির পথে বাংলাদেশ

প্রকাশিত : ২১:১৫ ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

কোথাও যেন শান্তি নেই। এশিয়া থেকে মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা এবং দক্ষিণ আমেরিকা, যে দিকে তাকাই শুধুই সংঘাত, সংঘর্ষ, যুদ্ধ এবং অসহায় মানুষের আর্তনাদ। জীবনের মায়ায় চৌদ্দ পুরুষের ভিটামাটি ছেড়ে রাষ্ট্র পরিচয়হীনভাবে অনিশ্চিত জীবন-যাপন করছে বিশ্বব্যাপী প্রায় ছয় কোটি মানুষ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ছয় কোটিরও ঊর্ধ্বে মানুষের প্রাণহানি এবং পারমাণবিক বোমার ধ্বংসযজ্ঞের অভিজ্ঞতায় বিশ্ব নেতৃবৃন্দ প্রতিজ্ঞা করলেন আর যুদ্ধ নয়। যুদ্ধ এড়াতে এবং শান্তি রক্ষায় গঠন করলেন বিশ্ব তদারকি সংস্থা জাতিসংঘ। কিন্তু যাত্রার শুরুতে পাঁচটি বিশ্ব শক্তিকে নিরাপত্তা পরিষদে ভেটো ক্ষমতা দিয়ে জাতিসংঘকে অনেকটাই বিকলাঙ্গ করে ফেলা হলো। ফলে এ পর্যন্ত আরেকটি বিশ্বযুদ্ধ এড়াতে পারলেও বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে স্থানীয় যুদ্ধ, গৃহযুদ্ধ এবং জঙ্গি সন্ত্রাসবাদের উত্থানের কারণে কত কোটি মানুষের প্রাণ গেছে এবং কত কোটি ঘর-বাড়ি ছেড়ে অমানবিক জীবন-যাপন করছে তার কোনো সঠিক হিসেব কোথাও নেই।


বিশ্ব শান্তির সবচেয়ে বড় বিষফোঁড়া ইসরাইল প্যালেস্টাইন সংকট। পরাশক্তি আমেরিকার প্রত্যক্ষ সহায়তায় গত ৭১ বছর ধরে ইসরাইলের আগ্রাসনের শিকার প্যালেস্টাইন। যুগের পর যুগ লক্ষ লক্ষ মানুষ নিজ ভূমি থেকে উচ্ছেদ হয়ে পার্শ্ববর্তী দেশসমূহে মানবেতর জীবন-যাপন করছে। অনবরত জাতিসংঘের সকল বাধা-নিষেধ উপেক্ষা করে দখলদারিত্ব সম্প্রসারণ করে চলেছে ইসরাইল। ইসরাইলের অন্যায্যতা, বর্বরতা ও জাতিসংঘের অসহায়ত্বের পরিণতিতে বিশ্বব্যাপী ইসলামিস্ট উগ্রবাদি জঙ্গি সন্ত্রাসের উত্থান ঘটেছে যার করালগ্রাসে ক্ষত-বিক্ষত বিশ্বের সকল প্রান্তর। রক্ষা পাচ্ছে না আমেরিকা ও ইউরোপ। সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধের নামে সারা বিশ্বে ছায়ার পিছনে ছুটছে আমেরিকার সেনাবাহিনী। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ক্ষত না শুকাতেই শুরু হয় ভিয়েতনাম যুদ্ধ। ভেটো ক্ষমতার অধিকারী আমেরিকা এই যুদ্ধের পক্ষ হওয়ায় জাতিসংঘের কিছুই করার থাকে না। ১১ বছর ধরে ক্ষত-বিক্ষত হয় ভিয়েতনাম। তারপর গত শতকের শেষের দিকে তত্কালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন কর্তৃক আফগানিস্তান দখল এবং তার সূত্র ধরে আফ্রিকা, মধ্য এশিয়া থেকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া পর্যন্ত জঙ্গি সন্ত্রাসবাদের উত্থানের পরিণতিতে যে রক্তক্ষরণ চলছে তা কিছুতেই থামানো যাচ্ছে না। এশিয়া, আফ্রিকা তো আছেই, তার সঙ্গে ইউরোপ এবং আমেরিকারও ঘুম হারাম হয়ে গেছে। বিশ্বের বড় শক্তিগুলোর মধ্যে ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থের যে দ্বন্দ্ব তার কাছে বরাবরই শান্তির পাহারাদার জাতিসংঘ অসহায়। গত শতকের নব্বই দশকের মাঝামাঝিতে আফ্রিকার সিয়েরালিয়ন ও রুয়ান্ডায় সংঘটিত গণহত্যা জাতিসংঘ ঠেকাতে পারেনি। একাত্তর সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনী বাংলাদেশে গণহত্যা চালিয়ে ৩০ লাখ মানুষকে হত্যা করলেও এর জন্য পাকিস্তানকে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর ব্যাপারে জাতিসংঘের কোনো উদ্যোগ নেই।

এই সাম্প্রতিক সময়ে মিয়ানমার সেনাবাহিনী তার নিজ দেশের মানুষ রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে যে হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে সেটি বিশ্বের সব দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থা স্বীকার এবং তার বিরুদ্ধে যথেষ্ট হই চই করলেও পরাশক্তি চীনের কারণে কিছুই হচ্ছে না। লেখার এ পর্যায়ে বিশ্বব্যাপী এই সময়ে চলমান অশান্তির দিকে একটু নজর বোলাই। শুরু করি দক্ষিণ আমেরিকা থেকে। গত কয়েক সপ্তাহ যাবত্ বিশ্বের তাবত্ মিডিয়া এবং ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দৃষ্টি পড়ে আছে দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনিজুয়েলার ওপর। ১৮২৯ সালে কলম্বিয়া থেকে পৃথক হয়ে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর ১৯৯৯ সালে বামপন্থি নেতা হুগো শ্যাভেজ প্রেসিডেন্ট হওয়ার আগ পর্যন্ত ভেনিজুয়েলার অভ্যন্তরে কখনোই স্থায়ীভাবে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়নি এবং অর্থনৈতিকভাবেও সমৃদ্ধশালী হতে পারেনি, যদিও গত শতকের সত্তর দশক থেকে ভেনিজুয়েলা বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম তেল রপ্তানিকারক দেশ। ১৯৯৯ সালে হুগো শ্যাভেজ ক্ষমতায় এসে তেল শিল্প জাতীয়করণ এবং অর্থনীতিতে ব্যাপক সংস্কার আনেন। তাতে সাধারণ মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন হতে শুরু করে। কিন্তু হুগো শ্যাভেজের বামপন্থি নীতি এবং কিউবার নেতা ফিদেল ক্যাস্ট্রোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণে আমেরিকা ক্ষুব্ধ হয়। ২০০২ সালে সেনাবাহিনীর ক্ষুদ্র একটি অংশের আকস্মিক অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হলেও বিশাল জনসমর্থন ও সেনাবাহিনীর বৃহত্তর অংশের সহযোগিতায় শ্যাভেজ স্বল্প সময়ের ভেতরে আবার ক্ষমতায় ফিরে আসেন। শ্যাভেজ এবার সব ঘাট বেঁধে শক্তভাবে নবযাত্রা শুরু করেন। আমেরিকার রক্ত চক্ষু উপেক্ষা করে শ্যাভেজ এগিয়ে যাচ্ছিলেন। কিন্তু ২০১৩ সালে ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে শ্যাভেজের মৃত্যু হলে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয় তারই একান্ত শিষ্য নিকোলা মাদুরে। কিন্তু শ্যাভেজের মতো ক্যারিশমা মাদুরের মধ্যে নেই। সেই সুযোগটিই নিয়ে বসে আমেরিকা। ২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগে দেশের অভ্যন্তরে শুরু হয় ব্যাপক সহিংসতা। একের পর এক আমেরিকার নিষেধাজ্ঞায় ভেনিজুয়েলার অর্থনীতি ভেঙে পড়ে। চরম মূল্যস্ফীতি ও দ্রব্য মূল্যের সীমাহীন বৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষ দিশাহারা হয়ে পড়ে। ভেনিজুয়েলা থেকে প্রায় অর্ধ কোটি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়ে পাশের দেশে আশ্রয় নিয়েছে। এর মধ্যে বিরোধী পক্ষের এক অচ্ছুত অজানা স্বল্প বয়সী নেতা জুয়ান গোয়াইদুর নেতৃত্বে শুরু হয় ব্যাপক দাঙ্গা হাঙ্গামা ও সহিংসতা। এ সবের সূত্র ধরে আমেরিকা, ইউরোপ ও আফ্রিকার কয়েকটি দেশ নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরকে অবৈধ ঘোষণা করে বিরোধী নেতা জুয়ান গোয়াইদুকে বৈধ সরকার হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। আমেরিকা হুমকি দিয়েছে প্রয়োজন হলে সেনা অভিযান চালিয়ে মাদুরকে ক্ষমতাচ্যুত করা হবে। দেখা যাক অশান্তির দাবানল কত দূর উঠে।

ভেনিজুয়েলা থেকে আটলান্টিক পাড়ি দিয়ে উত্তর আফ্রিকার দিকে নজর দিলে দেখা যাবে মালি, নাইজার, নাইজেরিয়া, শাদ, লিবিয়া, মিসর এবং সুদান থেকে শুরু করে পূর্ব আফ্রিকার দেশ কেনিয়া, ইথোপিয়া ও সোমালিয়া, তানজেনিয়া কোথাও শান্তি নেই। নাইজেরিয়ার জঙ্গি গোষ্ঠী বোকো হারাম এবং সোমালিয়ার আল শাবাবের প্রত্যক্ষ আক্রমণ ও আত্মঘাতী বোমা হামলায় প্রতিনিয়তই রক্তাক্ত হচ্ছে উত্তর-পূর্ব আফ্রিকার প্রতিটি জনপদ। এই কয়েক দিন আগে কেনিয়ার এক হোটেলে আল শাবাবের আক্রমণে প্রাণ হারিয়েছে প্রায় দুই ডজন নিরীহ মানুষ। এক সময়ের সমৃদ্ধশালী লিবিয়া আজ ধ্বংসস্তূপ। গৃহযুদ্ধে জর্জরিত দেশটির প্রতাপশালী একনায়ক কর্নেল মুয়ামার গাদ্দাফী এখন ইতিহাসের পাতায়। প্রাচীন ইতিহাসে সমৃদ্ধ মিসরের সেনা শাসক আবদেল ফাতাহ আল সিসি কঠোর হস্তে সব কিছু নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করলেও ২০১৩ সালে ক্ষমতাচ্যুত হওয়া জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টির শেকড় ব্রাদারহুডের সশস্ত্র-জঙ্গিদের চোরাগোপ্তা হামলায় প্রতিনিয়তই রক্তক্ষরণ ঘটেছে মিসরীয় সেনাবাহিনীর। মিসর থেকে লোহিত সাগর পাড়ি দিয়ে আরব বিশ্বে ঢুকলেই প্রতিটি দেশের প্রতিটি জনপদে অশান্তি, অস্থিরতা, যুদ্ধের ধ্বংসযজ্ঞ, রক্তক্ষরণ এবং লক্ষ-কোটি ঘরছাড়া বাস্তুচ্যুত মানুষের আহাজারি আর আর্তনাদ শোনা যাবে। ২০১৫ সাল থেকে শুরু গৃহযুদ্ধের কবলে পড়ে ইয়ামেন আজ মহামারি আর দুর্ভিক্ষের দ্বারপ্রান্তে। সেখানে কবে শান্তি আসবে তা কেউ জানে না। ইয়ামেনের গৃহযুদ্ধে জড়িয়ে পড়া সৌদি আরবের বিমান হামলায় ইয়েমেনের বেসামরিক নর-নারীর প্রাণপাতের খবর এখন নিত্য-নৈমিত্তিক ব্যাপার। সিরিয়ার কথা যত কম বলা যায় ততই ভালো। ২০১১ সালে শুরু হওয়া গৃহযুদ্ধে কয়েক লক্ষ-মানুষের প্রাণহানিসহ আরো প্রায় ৬০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়ে আশ্রয় নিয়েছে তুরস্ক, জর্ডানসহ পার্শ্ববর্তী দেশে। সিরিয়ার সার্বভৌমত্ব বলতে আজ আর কিছু নেই। সিরিয়ার অভ্যন্তরে এখন আমেরিকা, রাশিয়া, ইরানসহ প্রায় অর্ধডজন দেশের সেনাবাহিনী অবস্থান করছে। সিরিয়ার খবর জানতে চাইলে আপনি শুধুই শিশু ও নর-নারীর আর্তচিত্কার শুনতে এবং ভয়ার্ত মুখচ্ছবি দেখতে পাবেন। সিরিয়াসহ মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশসমূহ থেকে মানুষ শান্তির খোঁজে ইউরোপে পাড়ি দেওয়ার চেষ্টায় পথিমধ্যে ভূমধ্যসাগরে ডুবে মরার খবর কয়েক দিন পরপরই বিশ্ববাসীকে দেখতে হয়।

এক সময়ের সমৃদ্ধশালী ও উদারপন্থি একমাত্র মুসলিম রাষ্ট্র ইরাকের মানুষ সদা সন্ত্রস্ত থাকে কখন কোথায় আত্মঘাতী বোমা হামলা হয়। অথচ ২০০৩ সালের পূর্বে সাদ্দাম হোসেনের ইরাকে জনগণের জীবন-যাপন ছিল অত্যন্ত সচ্ছল ও সমৃদ্ধ। কিন্তু সাম্রাজ্যবাদী শক্তির পাতা ফাঁদে পা দিয়ে সাদ্দাম হোসেনের ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে লিপ্ত হওয়া এবং কুয়েত দখল করে নেওয়ার চরম ভুলের খেসারত হিসেবে সাদ্দাম হোসেনকে নিজের জীবন দিতে হয়েছে এবং তার ভয়াবহ পরিণতিতে আজও জ্বলছে ইরাক। শিয়া-সুন্নি দ্বন্দ্বে ইরান ও সৌদি আরবের মুখোমুখি অবস্থানে পশ্চিমা বিশ্বের অস্ত্র ব্যবসায়ীরা মহা খুশি। তারা চুটিয়ে ব্যবসা করছে। বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রি করছে সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর কাছে। ২০১৫ সালে ইরানের সঙ্গে স্বাক্ষরিত পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তি থেকে আমেরিকার সরে যাওয়া এবং পুনরায় ইরানের ওপর কড়া অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপ করার মধ্য দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি আবার উত্তপ্ত।

খ্যাতিমান বিশ্লেষকদের ধারণা, নিজেদের আত্মরক্ষার জন্য ইরান যে কোনো মূল্যে মিসাইল সক্ষমতা বৃদ্ধি করবে এবং পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে চাইবে। ইরান পারমাণবিক অস্ত্রের পথে গেলে আমেরিকা ইসরাইল ও সৌদি আরব যে কোনো মূল্যে সেটি ঠেকাবার চেষ্টা করবে সেটাই স্বাভাবিক। তেমনটি হলে কী হতে পারে তা সহজেই অনুমান করা যায়। ইরান ছেড়ে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের দিকে এলে আরো খারাপ চিত্র দেখতে পাবেন। আফগানিস্তান আজ চরম একটা ব্যর্থ রাষ্ট্র। বহুপক্ষীয় গৃহযুদ্ধে জর্জরিত। এমন দিন নেই যেদিন আফগানিস্তানে সহিংস ঘটনায় মানুষের মৃত্যু হচ্ছে না। অন্যদিকে পাকিস্তান এখন সন্ত্রাসী রাষ্ট্র হিসেবে চিহ্নিত।

আফগানিস্তানের অভ্যন্তরে পাকিস্তানের পক্ষে যুদ্ধে লিপ্ত রয়েছে তালেবান বাহিনী। অন্যদিকে পাকিস্তান ভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মুহম্মদ ও লস্কর-ই-তেয়বা পাকিস্তানের পৃষ্ঠপোষকতায় ভারতের অভ্যন্তরে বিশেষ করে কাশ্মীর সীমান্তে অহরহ জঙ্গি হামলা চালাচ্ছে। কাশ্মীরের পুলওয়ামা জেলায় গত ১৪ ফেব্রুয়ারি জইশ-ই-মুহম্মদের জঙ্গি বাহিনী কর্তৃক বোমা হামলায় নিহত হয়েছে ভারতের আধা সামরিক বাহিনীর ৪৪ জন সদস্য। দুই দিন পর আরেকটি ঘটনায় ভারতের একজন মেজর পদবীর সেনা কর্মকর্তাসহ নিহত হয়েছে আরো পাঁচজন। ভারত-পাকিস্তান সীমান্তে দু’দেশের সেনাবাহিনীই সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। এ রকম একটা অশান্ত বিশ্ব পরিস্থিতিতে গত ৩০ ডিসেম্বর বাংলাদেশে অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সকল দলের অংশ গ্রহণে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। বিপুল জনম্যান্ডেট নিয়ে টানা তৃতীয়বারের মতো যাত্রা শুরু করেছে আওয়ামী লীগ সরকার, যার নেতৃত্বে রয়েছেন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার উদাহরণ এখন বাংলাদেশ। মিয়ানমার থেকে বিতাড়িত প্রায় ১১ লাখ রোহিঙ্গা ইস্যুকে কেন্দ্র করে বহুমুখী উস্কানি ও চ্যালেঞ্জের মুখে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শান্তিপূর্ণ উপায়ে সমস্যাটির সমাধান করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। বাংলাদেশ আজ বিশ্ব অঙ্গনে উন্নয়নের রোল মডেল এবং জঙ্গি সন্ত্রাস দমনের উদাহরণ। অনেক চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতির সমীকরণে একটা ভারসাম্যমূলক শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে বাংলাদেশ। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, রোহিঙ্গা সংকটসহ সকল আন্তঃরাষ্ট্রীয় সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশ শান্তিপূর্ণ পথে থাকবে।

লেখক : রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক।

© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি