ঢাকা, শনিবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ৫:৩৬:৪০

মিলিটারি ল্যাবসহ ১৩ সংস্থা স্বীকৃতি সনদ পাচ্ছে

পদ্মা সেতুর মান পরীক্ষা

মিলিটারি ল্যাবসহ ১৩ সংস্থা স্বীকৃতি সনদ পাচ্ছে

শরীয়তপুরের জাজিরা প্রান্তের ৩৬ ও ৩৭ নম্বর পিলারের ওপর ধূসর রঙের ষষ্ঠ স্প্যানটি বসানো হয়েছে সম্প্রতি। আর তাতে দৃশ্যমান হয়েছে সেতুর ৯০০ মিটার। সেতুটির নির্মাণসামগ্রীর মান পরীক্ষার দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ মিলিটারি ল্যাবসহ মোট ১৩ সংস্থা আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি সনদ পাচ্ছে। এই স্বীকৃতি সনদ দিচ্ছে বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন বোর্ড (বিএবি)। বিএবির সনদ আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য। মিলিটারি ল্যাবের ৫টি পরীক্ষার জন্য দেওয়া হচ্ছে এ সনদ। মিলিটারি ল্যাবসহ স্বীকৃতি সনদ পাচ্ছে প্রাণ, ওয়ালটন, ইউনাইটেড ও ল্যাবএইডের মেডিকেল টেস্টিং ল্যাব, এসজিএস, হাহা-জিম, ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন, রেনেটা, ব্যুরো ভেরিতাস, আইটিএস, বিআরটিএল ও বিএমটিএল। আজ বৃহস্পতিবার বিএবির আয়োজনে এক অনুষ্ঠানে এই সনদ দেওয়া হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে বিএবির ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মাহবুবুর রহমান জানান, দেশের বিভিন্ন ল্যাব আন্তর্জাতিক পরীক্ষা পদ্ধতি অনুসরণ করেই মান যাচাই করে আসছে। আন্তর্জাতিক মান পরীক্ষা পদ্ধতি যথাযথভাবে অনুসরণ হচ্ছে কি-না তা যাচাই করে বিএবি। পাশাপাশি মান ব্যবস্থাপনা পদ্ধতির সক্ষমতা পরিমাপ করছে। ল্যাবের মান নিয়ন্ত্রণ ও নিশ্চিতকরণের বিষয়টি পর্যবেক্ষণ সাপেক্ষে স্বীকৃতি সনদ দেওয়া হয়। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক ল্যাব অ্যাক্রেডিটেশন কো-অপারেশন সমঝোতা স্মারক সই করা হয়েছে। এই সমঝোতা স্মারকে সই করা সব প্রতিষ্ঠানের পরীক্ষার ফল প্রায় সমমানের। এ কারণে এটি আন্তর্জাতিকভাবে সব দেশে গ্রহণযোগ্য। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বিএবি স্বীকৃত ল্যাবের পরীক্ষার মান সনদ ইতিমধ্যে বিভিন্ন দেশ গ্রহণ করেছে। এ কারণে নতুন নতুন নানা পণ্য রফতানি সহজ হয়েছে। আগে বিদেশি অ্যাক্রেডিটেশন সংস্থার কাছ থেকে স্বীকৃতি আনা অনেক ব্যয় ও সময়সাপেক্ষ ছিল। এ কারণে বিভিন্ন দেশের বাজার চাহিদাভিত্তিক ও পণ্যভিত্তিক বিভিন্ন ল্যাবকে আন্তর্জাতিক মানে নিয়ে আসতে অ্যাক্রেডিটেশন স্কিম চালু করবে বিএবি। উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর বসানো হয় পদ্মা সেতুর প্রথম স্প্যান। এর প্রায় ৪ মাস পর ২০১৮ সালের ২৮ জানুয়ারি দ্বিতীয় স্প্যানটি বসে। এর দেড় মাস পর ১১ মার্চ জাজিরা প্রান্তে ধূসর রঙের তৃতীয় স্প্যান বসানো হয়। এর ২ মাস পর ১৩ মে বসে চতুর্থ স্প্যান। এর এক মাস ১৬ দিনের মাথায় পঞ্চম স্প্যানটি বসে ২৯ জুন। আর চলতি জানুয়ারির ২৩ তারিখে ৬ মাস ২৫ দিনের মাথায় বসলো ষষ্ঠ স্প্যানটি। প্রসঙ্গত, ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এ সেতুতে ৪২টি পিলারের ওপর বসবে ৪১টি স্প্যান। পদ্মা বহুমুখী সেতুর মূল আকৃতি হবে দোতলা। কংক্রিট ও স্টিল দিয়ে নির্মিত হচ্ছে এ সেতুর কাঠামো। একে//
সুস্থ জাতি, সুন্দর ভবিষ্যৎ

স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা   গড় আয়ু ৭২.৮ বছর। নারীর ৭৩ এবং পুরুষের ৭০। নবজাতক মৃত্যু হার হাজারে ১৯ জন। ১৬২৬৩ নম্বর ব্যবহারের মাধ্যমে মোবাইল ফোনে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা সম্পর্কিত তথ্য প্রদান চালু হয়েছে। এই সেবার মাধ্যমে দেশের যেকোন প্রান্তে অ্যাম্বুলেন্স সেবাও পাওয়া যাচ্ছে। যেকোন ব্যক্তি এই নম্বরে ফোন করে তার প্রয়োজনীয় তথ্য আদান প্রদান করতে পারে। সারা দেশে ১৩,৪৪২টি কমিউনিটি ক্লিনিক চালু হয়েছে।  যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের ১৪৫টি দেশে বাংলাদেশের ঔষধ রপ্তানী হচ্ছে। সরকার ২০০৯-২০১৮ মেয়াদে মোট ১৮,৬৬৫ জন চিকিৎসক নিয়োগ দিয়েছে। ২০১৮ সালে ৫ হাজার নিয়োগ।       ২০১৬ সালে পিএসসি’র মাধ্যমে ৯ হাজার ৪৭৮ জন নার্স নিয়োগ হয়েছে। ২০১৮ সালে ৫ হাজার নার্স নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সিনিয়র স্টাফ নার্সদের প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ২য় শ্রেণির মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। গত নয় বছরে চিকিৎসক, নার্স, ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণির শূণ্য পদে মোট ৪১ হাজার ৩২৪ জনবল নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণির শুন্যপদে আরও ৪০ হাজার জনবল নিয়োগের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। মাতৃমৃত্যু হার হ্রাস কার্যক্রম ৪২৫ টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স-এ বেসিক জরুরী প্রসূতিসেবা কার্যক্রম চালু আছে। ১৩২টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ ৫৯টি জেলা হাসপাতাল ও ২৭টি সরকারী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সমন্বিত জরুরী প্রসূতি সেবা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। তৃণমূল পর্যায়ে গর্ভবতী মায়েদের প্রসবপূর্ব, প্রসবকালীন ও প্রসব-পরবর্তী সেবা নিশ্চিত করার জন্য ১২,৪৮০ জন নারীকে কমিউনিটি স্কিলড বার্থ অ্যাটেনডেন্ট (সিএসবিএ) প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। শিশু মৃত্যু হার হ্রাস এবং টিকাদান কর্মসূচি ১৯৯০ সালের তুলনায় ২০১৫ সালের মধ্যে অনুর্ধ্ব ৫ শিশু মৃত্যুর হার শতকরা ৭৪ ভাগ কমেছে। এমডিজি ২০১৫ লক্ষ্যমাত্রা ছিল শতকরা ৬৬ ভাগ কমানো । সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই)-তে এখন ১১টি টিকা অন্তর্ভুক্ত আছে। ২০১৪ সালে বাংলাদেশ বিশ্বের সর্ববৃহৎ হাম-রুবেলা টিকা কার্যক্রম সম্পন্ন করে। ৯ কোটি ৩০ লক্ষ শিশুকে এসময় টিকা দেওয়া হয়। জাতীয় নবজাতক কৌশলপত্রের আলোকে ৫টি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও ৩৫টি জেলা হাসপাতালে মারাত্মক অসুস্থ নবজাতক ও ছোট শিশুদের চিকিৎসার জন্য স্পেশাল কেয়ার নিউবর্ন ইউনিট ও ৬১টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিউবর্ন স্ট্যাবলাইজিং ইউনিট রয়েছে। কমিউনিটি ক্লিনিক কমিউনিটি ক্লিনিকে গড়ে প্রতিদিন ৩৮ জন রোগী ক্লিনিকে যাচ্ছেন। আজ পর্যন্ত গত ৯ বছরে ৬৩ কোটি ৪০ লক্ষ ৫০ হাজার বার বিভিন্ন জন স্বাস্থ্যসেবা নিয়েছেন। যাদের ৮০ শতাংশ নারী ও শিশু। এই ক্লিনিক থেকে ২৭ রকমের ঔষধ দেওয়া হয়। প্রতিটি কমিউনিটি ক্লিনিকে ল্যাপটপ কম্পিউটার ও ইন্টারনেট সংযোগ আছে। এর মাধ্যমে তারা ডিএইচআইএস ২ সফটওয়ারের মাধ্যমে অনলাইনে হালনাগাদ স্বাস্থ্য তথ্য প্রদান করে।   কমিউনিটি ক্লিনিক নারীর ক্ষমতায়নের চমৎকার উদাহরণ। সেবাদানকারী কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডারদের শতকরা ৫৪ ভাগই নারী। সেবাগ্রহীতাদের শতকরা ৮০ ভাগই নারী ও শিশু। কমিউনিটি গ্রুপ ও কমিউনিটি সাপোর্ট গ্রুপের সদস্যদের এক-তৃতীয়াংশই নারী যাদের মধ্যে কিশোরীও রয়েছে। নতুন হাসপাতাল নির্মাণ ও স্বাস্থ্য সেবা সম্প্রসারণ প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ঢাকায় আন্তর্জাতিক মানের একটি ক্যান্সার হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকার ইতোমধ্যে দেশের ৩৪টি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বিশেষায়িত হাসপাতাল ও জেলা হাসপাতালে ইন্টেনসিভ কেয়ার ইউনিট চালু করেছে এবং আরও ৮টি এরকম হাসপাতাল সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।  লিভার সংক্রান্ত রোগের চিকিৎসা সেবা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ঢাকার মহাখালীতে ‘ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ডাইজেস্টিভ ডিজিজেস রিসার্চ অ্যান্ড হসপিটাল’ এর নির্মান কাজ সমাপ্ত।  বাংলাদেশ সরকার এবং কোরিয়া সরকারের যৌথ উদ্যোগে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ১০০০ বেডের সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল নির্মান প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন। চিকিৎসা শিক্ষা ২০১০ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ১৪টি সরকারি ও ৫টি সামরিক বাহিনীর অধীনে মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০১৮ সালে পাঁচটি নতুন সরকারি মেডিকেল কলেজ চালু। ২০১৮ সালে সব সরকারি কলেজে ১০ বছর পর ৭৫০ আসন বাড়ানো হয়েছে। চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও সিলেট তিনটি মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় অনুমতি দেওয়া হয়। চট্টগ্রাম ও রাজশাহীর কার্যক্রম শুরু হয়েছে। অটিজম সচেতনতা ও মানসিক স্বাস্থ্য উন্নয়ন বিশ্বব্যাপী মানুষের স্বাস্থ্যমান উন্নয়নে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গৃহীত কর্মসূচিতে মানসিক স্বাস্থ্য ও অটিজমকে যেন পৃথক গুরুত্ব দেওয়া হয় সেলক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কন্যা সায়মা হোসেন ওয়াজেদ জাতিসংঘে প্রস্তাব উত্থাপন করলে তা গৃহীত হয়। ঔষধ শিল্পের উন্নয়ন নতুন ঔষধ নীতি-২০১৭ প্রণয়ন। বাংলাদেশ বর্তমানে দেশের চাহিদার প্রায় ৯৮ শতাংশ স্থানীয় উৎপাদনের মাধ্যমে মিটাতে সক্ষম। বর্তমানে শুধুমাত্র কিছু হাইটেক প্রোডাক্ট (বাড প্রোডাক্ট, বায়োসিমিলার প্রোডাক্ট, এন্টিক্যান্সার ড্রাগ, ভ্যাকসিন ইত্যাদি) আমদানি করা হয়।  বাংলাদেশ ইতোমধ্যে ঔষধ আমদানিকারী দেশ হতে রপ্তানিকারী দেশে পরিণত হয়েছে এবং সারাবিশ্বে বাংলাদেশের ঔষধ ইতোমধ্যে সুনাম অর্জন করেছে। স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা গড় আয়ু ৭২.৮ বছর। নারীর ৭৩ এবং পুরুষের ৭০। নবজাতক মৃত্যু হার হাজারে ১৯ জন।  ১৬২৬৩ নম্বর ব্যবহারের মাধ্যমে মোবাইল ফোনে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা সম্পর্কিত তথ্য প্রদান চালু হয়েছে। এই সেবার মাধ্যমে দেশের যেকোন প্রান্তে অ্যাম্বুলেন্স সেবাও পাওয়া যাচ্ছে। যেকোন ব্যক্তি এই নম্বরে ফোন করে তার প্রয়োজনীয় তথ্য আদান প্রদান করতে পারে। সারা দেশে ১৩,৪৪২টি কমিউনিটি ক্লিনিক চালু হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের ১৪৫টি দেশে বাংলাদেশের ঔষধ রপ্তানী হচ্ছে। সরকার ২০০৯-২০১৮ মেয়াদেমোট ১৮,৬৬৫ জন চিকিৎসক নিয়োগ দিয়েছে। ২০১৮ সালে ৫ হাজার নিয়োগ। ২০১৬ সালে পিএসসি’র মাধ্যমে ৯ হাজার ৪৭৮ জন নার্স নিয়োগ হয়েছে। ২০১৮ সালে ৫ হাজার নার্স নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সিনিয়র স্টাফ নার্সদের প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ২য় শ্রেণির মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। গত নয় বছরে চিকিৎসক, নার্স, ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণির শূণ্য পদে মোট ৪১ হাজার ৩২৪ জনবল নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণির শুন্যপদে আরও ৪০ হাজার জনবল নিয়োগের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। মাতৃমৃত্যু হার হ্রাস কার্যক্রম ৪২৫ টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স-এ বেসিক জরুরী প্রস‚তি সেবাকার্যক্রম চালু আছে। ১৩২টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ ৫৯টি জেলা হাসপাতাল ও ২৭টি সরকারী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সমন্বিত জরুরী প্রসূতি সেবা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। তৃণমূল পর্যায়ে গর্ভবতী মায়েদের প্রসবপূর্ব, প্রসবকালীণ ও প্রসব-পরবর্তী সেবা নিশ্চিত করার জন্য ১২,৪৮০ জন নারীকে কমিউনিটি স্কিলড বার্থ অ্যাটেনডেন্ট (সিএসবিএ) প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। শিশু মৃত্যু হার হ্রাস এবং টিকাদান কর্মসূচি ১৯৯০ সালের তুলনায় ২০১৫ সালের মধ্যে অনুর্ধ্ব ৫ শিশু মৃত্যুর হার শতকরা ৭৪ ভাগ কমেছে। এমডিজি ২০১৫ লক্ষ্যমাত্রা ছিল শতকরা ৬৬ ভাগ কমানো । সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই)-তে এখন ১১টি টিকা অন্তর্ভুক্ত আছে। ২০১৪ সালে বাংলাদেশ বিশ্বের সর্ববৃহৎ হাম-রুবেলা টিকা কার্যক্রম সম্পন্ন করে। ৯ কোটি ৩০ লক্ষ শিশুকে এসময় টিকা দেওয়া হয়। জাতীয় নবজাতক কৌশলপত্রের আলোকে ৫টি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও ৩৫টি জেলা হাসপাতালে মারাত্মক অসুস্থ নবজাতক ও ছোট শিশুদের চিকিৎসার জন্য স্পেশাল কেয়ার নিউবর্ন ইউনিট ও ৬১টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিউবর্ন স্ট্যাবলাইজিং ইউনিট রয়েছে। কমিউনিটি ক্লিনিক কমিউনিটি ক্লিনিকে গড়ে প্রতিদিন ৩৮ জন রোগী ক্লিনিকে যাচ্ছেন। আজ পর্যন্ত গত ৯ বছরে ৬৩ কোটি ৪০ লক্ষ ৫০ হাজার বার বিভিন্ন জন স্বাস্থ্যসেবা নিয়েছেন। যাদের ৮০ শতাংশ নারী ও শিশু। এই ক্লিনিকি থেকে ২৭ রকমের ঔষধ দেওয়া হয়। প্রতিটি কমিউনিটি ক্লিনিকে ল্যাপটপ কম্পিউটার ও ইন্টারনেট সংযোগ আছে। এর মাধ্যমে তারা ডিএইচআইএস ২ সফটওয়ারের মাধ্যমে অনলাইনে হালনাগাদ স্বাস্থ্য তথ্য প্রদান করে। কমিউনিটি ক্লিনিক নারীর ক্ষমতায়নের চমৎকার উদাহরণ। সেবাদানকারী কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডারদের শতকরা ৫৪ ভাগই নারী। সেবাগ্রহীতাদের শতকরা ৮০ ভাগই নারী ও শিশু। কমিউনিটি গ্রæপ ও কমিউনিটি সাপোর্ট গ্রুপর সদস্যদের এক-তৃতীয়াংশই নারী যাদের মধ্যে কিশোরীও রয়েছে। নতুন হাসপাতাল নির্মাণ ও স্বাস্থ্য সেবা সম্প্রসারণ প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ঢাকায় আন্তর্জাতিক মানের একটি ক্যান্সার হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকার ইতোমধ্যে দেশের ৩৪টি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বিশেষায়িত হাসপাতাল ও জেলা হাসপাতালে ইন্টেনসিভ কেয়ার ইউনিট চালু করেছে এবং আরও ৮টি এরকম হাসপাতাল সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।  লিভার সংক্রান্ত রোগের চিকিৎসা সেবা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ঢাকার মহাখালীতে ‘ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ডাইজেস্টিভ ডিজিজেস রিসার্চ অ্যান্ড হসপিটাল’ এর নির্মান কাজ সমাপ্ত। বাংলাদেশ সরকার এবং কোরিয়া সরকারের যৌথ উদ্যোগে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ^বিদ্যালয়ের অধীনে ১০০০ বেডের সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল নির্মান প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন। চিকিৎসা শিক্ষা ২০১০ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ১৪টি সরকারি ও ৫টি সামরিক বাহিনীর অধীনে মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০১৮ সালে পাঁচটি নতুন সরকারি মেডিকেল কলেজ চালু। ২০১৮ সালে সব সরকারি কলেজে ১০ বছর পর ৭৫০ আসন বাড়ানো হয়েছে। চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও সিলেট তিনটি মেডিকেল বিশ^বিদ্যালয় অনুমতি দেওয়া হয়। চট্টগ্রাম ও রাজশাহীর কার্যক্রম শুরু হয়েছে।  অটিজম সচেতনতা ও মানসিক স্বাস্থ্য উন্নয়ন বিশ্বব্যাপী মানুষের স্বাস্থ্যমান উন্নয়নে  বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার গৃহীত কর্মসূচিতে মানসিক স্বাস্থ্য ও অটিজমকে যেন পৃথক গুরুত্ব দেওয়া হয় সেলক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কন্যা সায়মা হোসেন ওয়াজেদ জাতিসংঘে প্রস্তাব উত্থাপন করলে তা গৃহীত হয়। ঔষধ শিল্পের উন্নয়ন নতুন ঔষধ নীতি-২০১৭ প্রণয়ন। বাংলাদেশ বর্তমানে দেশের চাহিদার প্রায় ৯৮ শতাংশ স্থানীয় উৎপাদনের মাধ্যমে মিটাতে সক্ষম। বর্তমানে শুধুমাত্র কিছু হাইটেক প্রোডাক্ট (বাড প্রোডাক্ট, বায়োসিমিলার প্রোডাক্ট, এন্টিক্যান্সার ড্রাগ, ভ্যাকসিন ইত্যাদি) আমদানি করা হয়।  বাংলাদেশ ইতোমধ্যে ঔষধ আমদানিকারী দেশ হতে রপ্তানিকারী দেশে পরিণত হয়েছে এবং সারাবিশ্বে বাংলাদেশের ঔষধ ইতোমধ্যে সুনাম অর্জন করেছে।   এসি      

কর্ম ও বাসস্থান

ভুমি ও আবাসন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ‘সবার জন্য বাসস্থান’ যোগানোর প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বর্তমান সরকারের গুচ্ছগ্রাম প্রকল্পের মাধ্যমে ৫০ হাজার গৃহহীন ভূমিহীন পরিবারকে পুনর্বাসন করার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। গুচ্ছগ্রাম (ক্লাইমেট ভিক্টিমস রিহ্যাবিলিটেশন) প্রকল্পের আওতায় বর্তমান সরকার ১৬ হাজার ১০৩টি গৃহহীন ভূমিহীন পরিবারের প্রতিটি পরিবারকে ৪-৮ শতক খাসজমির কবুলিয়াত দলিল, ৩০০ বর্গফুটের দুই কক্ষবিশিষ্ট ঘর, নলকূপ, মাল্টিপারপাস হল, আর্থসামাজিক উন্নয়নের জন্য আয়বর্ধক প্রশিক্ষণ ও ১৫ হাজার টাকা ক্ষুদ্রঋণ প্রদানসহ পুনর্বাসন করা হয়েছে। চলতি ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে ২৬ হাজার ভূমিহীন পরিবারকে পুনর্বাসনের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।  কৃষি খাস জমি বন্দোবস্ত নীতিমালা ১৯৯৭ এর আওতায় মাত্র ১ টাকা প্রতীকী মূল্যে ভূমিহীনদের সর্বোচ্চ ১ একর কৃষি খাস জমি বন্দোবস্ত প্রদান করা হয়। বর্তমান সরকারের সারাদেশে ২ লক্ষ ৩৮ হাজার ৩৮টি ভূমিহীন পরিবারকে ১ লক্ষ ১৬ হাজার ৩০৩ দশমিক ৪৩৪৮ একর কৃষি খাসজমি বন্দোবস্ত প্রদান। ভাষাণটেক পুনর্বাসন প্রকল্পের আওতায় সরকারি জমিতে ছিন্নমূল বস্তিবাসী ও নিম্নবিত্তদের জন্য নির্মিত বহুতল বিশিষ্ট ভবনে ২০১৬টি ফ্লাট নির্মিত। এর মধ্যে ৫৯৬ জন বস্তিবাসীসহ ১৭৯৪টি ফ্লাটে সুবিধাভোগীগণ বসবাস করছেন। ২৮ হাজার ৮৪৮ দশমিক ৯১ একর জমিসহ সর্বমোট ৩৫ হাজার ৫৩৫ দশমিক ৩০৬৬ একর অকৃষি খাসজমি ইতোমধ্যে বন্দোবস্ত প্রদান করা হয়েছে।  প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় বর্তমান সরকারের ঐকান্তিক ও সফল শ্রম কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় বিগত ১০ বছরে প্রায় ৫৭ লক্ষ ৫৪ হাজার কর্মী কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে বিদেশ গমন করেছে। অভিবাসনে পিছিয়ে থাকা ৪২ টি জেলা চিহ্নিতকরণ পূর্বক এসকল জেলাকে অগ্রাধিকার দিয়ে বৈদেশিক কর্মসংস্থান বৃদ্ধির উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। বর্তমানে বিদেশে গমনকারী নারী কর্মীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিগত ১০ বছরে জানুয়ারি ২০০৯ ডিসেম্বর, ২০১৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিদেশে নারী কর্মী গমনের সংখ্যা ৫ লক্ষ ৭৩ হাজার ৬৩ জন। বিদেশে কর্মরত নারী কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য বিএমইটিতে একটি সেল গঠন করা হয়েছে। মন্ত্রণালয় ও দপ্তর/সংস্থায় অনলাইনে অভিযোগ ব্যবস্থাপনা চালু করা হয়েছে। তাছাড়া, প্রবাসবন্ধু কল সেন্টার (+৮৮ ০১৭৮৪ ৩৩৩ ৩৩৩, +৮৮ ০১৭৯৪ ৩৩৩ ৩৩৩, +৮৮ ০২-৯৩৩৪৮৮৮) স্থাপনের মাধ্যমে বিদেশগামী ও প্রবাসী কর্মীদের অভিযোগ/সহযোগিতার বার্তা জানাতে পারছেন। বিগত জোট সরকারের আমলে যেখানে বিশ্বের মাত্র ৯৭টি দেশে কর্মী প্রেরণ করা হতো, সেখানে নতুন আরও ৬৮টি দেশে কর্মী প্রেরণসহ বর্তমানে এই সংখ্যা ১৬৫টি দেশে উন্নীত করতে সক্ষম হয়েছে। মালয়েশিয়া সরকারের সাথে বাংলাদেশের অব্যাহত শ্রম কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ফলে মালয়েশিয়ার সরকার সেপ্টেম্বর ২০১৬ মাসে নির্মাণ শিল্প, কৃষি সেক্টরসহ পোলট্রি, মাইনিং, কার্গো হ্যান্ডেলিং এবং পর্যটন সেক্টরে কর্মী গ্রহণে বাংলাদেশকে সোর্স কান্ট্রি হিসেবে ঘোষণা করেছে। ফলশ্রুতিতে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য মালয়েশিয়ায় অভিবাসনের দ্বার উন্মোচিত হয়েছে।   মালয়েশিয়া সরকার জি-টু-জি প্লাস পদ্ধতিতে কর্মী নেওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশের সাথে ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ তারিখে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে। ২০০৯ হতে ২০১৭ পর্যন্ত প্রবাসে মৃত ২১,৬৯২ জন কর্মীর পরিবারকে মৃতদেহ পরিবহন ও দাফন ব্যয় বাবদ ৭২ কোটি ৮১ লক্ষ ৬৩ হাজার টাকা আর্থিক সাহায্য দেয়া হয়েছে। ২০১০ হতে ২০১৫ সাল পর্যন্ত ৬৬ জন প্রবাসী বাংলাদেশীকে সিআইপি সম্মাননা প্রদান করা হয়। ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড হতে প্রবাসী কর্মীর মেধাবী সন্তানদের লেখাপড়ায় উৎসাহ যোগাতে ২০১২ সাল থেকে সম্পূর্ণ ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করা হচ্ছে। প্রবাসী কর্মীদের কল্যাণার্থে ২০১০ সালে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক প্রতিষ্ঠা বর্তমান সরকারের অন্যতম সাফল্য। শ্রম ও কর্মসংস্থান শিশু শ্রম নিরসন নীতিমালা-২০১০, বাংলাদেশ শ্রমনীতিমালা-২০১২, বাংলাদেশ শ্রম আইন সংশোধন-২০১৩, জাতীয় পেশাগত স্বাস্থ্য ও সেইফটি (ওএসএইচ) নীতিমালা-২০১৩ গৃহকর্মী সুরক্ষা ও কল্যাণ নীতি-২০১৫ প্রণয়ন করা হয়েছে। এছাড়া বর্তমানে ইউপিজেড আইন এবং শ্রম আইন সংশোধনের কাজও শেষ পর্যায়ে। ২০১৩ সালের রানা প্লাজা’র মর্মান্তিক ট্রাজেডির পরে তৈরী পোশাক খাতে নতুন যুগের সুচনা হয়েছে। শ্রমিকের পেশাগত অসুখের চিকিৎসার জন্য পিপিপি’র মাধ্যমে প্রায় তিন’শ তিন কোটি টাকা ব্যয়ে নারায়ণগঞ্জে দেশের প্রথম তিন’শ শয্যার পেশাগত বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণের কাজ শিখগিরই শুরু হবে। গত ২২ জুলাই শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং এএফসি হেলথকেয়ার ও ভারতের ফোর্টিজ হেলথ লিঃ এর মধ্যে হাসপাতাল নির্মানের বিষয়ে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। জাতীয় পেশাগত স্বাস্থ্য ও সেইফটি (ওএসএইচ) নীতিমালা-২০১৩ প্রণয়ন করা হয়েছে। ২০১৬ থেকে ওএসএইচ ডে পালন করা হচ্ছে। রাজশাহীতে পাঁচ একর জমির ওপর নিজস্ব জায়গায় পেশাগত স্বাস্থ্য ও সেইফটি- ওএসএইচ একাডেমি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসি        

উন্নত যোগাযোগ: বাঁচছে সময়, বাড়ছে বাণিজ্য

সড়ক পরিবহন সারাদেশে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের আওতাধীন ২১ হাজার ৩০২ কিলোমিটার জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়ক এবং জেলা সড়ক, ৪ হাজার ৪০৪টি সেতু এবং ১৪ হাজার ৮৯৪টি কালভার্ট রয়েছে। ২০০৯ থেকে জুন ২০১৮ পর্যন্ত সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর কর্তৃক উন্নয়ন খাতের আওতায় ৪ হাজার ৩৩১ কিলোমিটার মহাসড়ক মজবুতিকরণসহ ৫ হাজার ১৭১ কিলোমিটার মহাসড়ক প্রশস্তকরণ করা হয়েছে।   ৪১৭ কিলোমিটার জাতীয় মহাসড়ক চারলেন বা তদূর্ধ্ব লেনে উন্নীত করা হয়েছে। দেশের অর্থনীতির লাইফ-লাইন খ্যাত ঢাকা-চট্টগ্রাম জাতীয় মহাসড়কের ১৯০ কিলোমিটার চারলেনে উন্নীত করা হয়েছে; ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক চারলেনে উন্নীত করা হয়েছে। নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়ক চারলেনে উন্নীত করা হয়েছে। রংপুর মহানগরীর বিভিন্ন সড়ক চারলেনে উন্নীত করা হয়েছে। চট্টগ্রাম- হাটহাজারী সড়ক ডিভাইডারসহ চারলেনে উন্নীত করা হয়েছে। কক্সবাজার থেকে টেকনাফ পর্যন্ত ৮০ কিলোমিটার দীর্ঘ দৃষ্টিনন্দন মেরিন ড্রাইভ নির্মাণ। স্থানীয় সরকার ২০০৯ থেকে ২০১৭-১৮ অর্থবছর পর্যন্ত ৫২,২৮০ কিলোমিটার সড়ক উন্নয়ন। ৭৫,৭৭৩ কিলোমিটার পাকা সড়ক ও ৩১,৬৩৭ মি. ব্রীজ/কালভার্ট রক্ষণাবেক্ষণ/ পুনর্বাসন। ৩,০১,৩৪১ মিঃ ব্রিজ/কালভার্ট নির্মাণ/পুনঃনির্মাণ। ১৬২ টি উপজেলা কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণ/সম্প্রসারণ করা হয়েছে। ১৪৯১টি ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স ভবন সম্প্রসারণ। ১,৯৮৬টি গ্রোথ সেন্টার/হাটবাজার উন্নয়ন। ৭৬০টি সাইক্লোন সেন্টার নির্মাণ/পুনঃনির্মাণ। ১০৫০.৫০ কিলোমিটার বাঁধ পুনঃনির্মাণ/উন্নয়ন। ১,২৫৩টি পানি সম্পদ অবকাঠামো/রেগুলেটর নির্মাণ। শহরাঞ্চলে ৫,৫৩৮ কি.মি. সড়ক/ফুটপাথ নির্মাণ; ২,৮৮০ কিলোমিটার ড্রেন নির্মাণ; শহরাঞ্চলে সড়কে ৬,৯৯৯ মি. ব্রিজ/কালভার্ট নির্মাণ; ঢাকা মহানগরীতে ১টি ফ্লাইওভার নির্মাণ করা হয়েছে। স্যানিটেশনের জাতীয় কভারেজ ৯৯%। ঢাকা ওয়াসার ২৩০ কোটি লিটার পানির চাহিদার বিপরীতে ২৪৫ কোটি লিটার পানি উৎপাদনের সক্ষমতা অর্জন। চলমান প্রকল্পসমূহ ২০১৮-১৯ অর্থ-বছরে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের অধীন ১৩৯টি প্রকল্প চলমান রয়েছে। ঢাকা মহানগরীর গণপরিবহনের সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে উত্তরা ৩য় পর্ব হতে বাংলাদেশ ব্যাংক পর্যন্ত মেট্রোরেল নির্মাণের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে। মেট্রোরেল নির্মিত হলে উভয়দিকে ঘন্টায় ষাট হাজার যাত্রী চলাচল করতে পারবে। এছাড়া মেট্রোরেল রুট-১ ও রুট-৫ এর সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ শেষ হয়েছে।  ধীরগতির যানবাহনের জন্য পৃথক লেনসহ ঢাকা-মাওয়া-পাচ্চর-ভাঙ্গা মহাসড়ক বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় চারলেনে উন্নীতকরণ কাজ এগিয়ে চলেছে। এটি হবে দেশের প্রথম এক্সপ্রেসওয়ে। এডিবি’র অর্থায়নে জয়দেবপুর-টাঙ্গাইল-এলেঙ্গা মহাসড়ক চারলেনে উন্নীতকরণ কাজ এগিয়ে চলেছে। ইতোমধ্যে তেইশটি সেতু নির্মাণ এবং প্রায় চল্লিশ কিলোমিটার সড়ক চারলেনে উন্নীতকরণ কাজ শেষে যানবাহন চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া এলেঙ্গা হতে রংপুর পর্যন্ত মহাসড়ক সার্ভিসলেনসহ চারলেনে উন্নীতকরণ কাজও শুরু হয়েছে। গাজীপুর চৌরাস্তা হতে এয়ারপোর্ট পর্যন্ত দ্রুত গতির বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট বা বিআরটি রুট নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে।   সেতু বিভাগ বাংলাদেশ সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে ৩০,১৯৩.৩৮ কোটি টাকা ব্যয়ে পদ্মা সেতু প্রকল্পের বাস্তবায়ন কাজ এগিয়ে চলছে। জুলাই ২০১৮ পর্যন্ত প্রকল্পের কাজ শেষ হয়েছে ৫৭ শতাংশ। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুতুবখালি পর্যন্ত ৮৭০৩.১১ কোটি টাকা ব্যয়ে র‌্যাম্পসহ প্রায় ৪৬.৭৩ কিলোমিটার দীর্ঘ ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে পিপিপি প্রকল্পের নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরকালে ২০১৪ সালে জুন মাসে কর্ণফুলী নদীর তলদেশে টানেল নির্মাণে চীন সরকারের সাথে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। বরিশাল-পটুয়াখালী জাতীয় মহাসড়কাংশে পায়রা নদীর ওপর চারলেন বিশিষ্ট পায়রা সেতু, তৃতীয় শীতলক্ষ্যা সেতুসহ বেশকিছু সেতুর নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে। জাইকা’র ঢাকা-চট্টগ্রাম জাতীয় মহাসড়কে চারলেন বিশিষ্ট দ্বিতীয় কাঁচপুর, দ্বিতীয় মেঘনা ও দ্বিতীয় গোমতী সেতুর নির্মাণকাজ শেষপ্রান্তে।   রেলপথ প্রায় ১০ বছরে ৩৩০.১৫ কি.মি. নতুন রেললাইন নির্মাণ। ৯১টি স্টেশন বিল্ডিং নতুন নির্মাণ ও ২৪৮.৫০ কি.মি. মিটারগেজ থেকে ডুয়েলগেজে রূপান্তর। নতুন ৭৯টি রেল স্টেশন নির্মাণ। ২৯৫টি নতুন রেলসেতু নির্মাণ। রেলওয়ের পরিকল্পিত উন্নয়নের জন্য ৩০ বছর মেয়াদী (২০১৬-২০৪৫) একটি মাস্টার প্ল্যান অনুমোদিত।   রেলপথ পুনর্বাসনের লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন। রেলের উন্নয়ন ও আধুনিকায়নে ৬১টি প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়েছে। সর্বমোট ১১৩৫.২৩ কি.মি. রেললাইন উন্নয়ন/পুনর্বাসন/পুনঃনির্মাণ। ১৭৭টি রেলস্টেশন উন্নয়ন/পুনর্বাসন/পুনঃনির্মাণ। যাত্রীদের তথ্য প্রদানের জন্য কল সেন্টার ‘১৩১’ চালু। ই-টিকেটিং কার্যক্রমের আওতায় মোবাইল ফোন এবং ইন্টারনেটের মাধ্যমে টিকেট প্রাপ্তি এবং ট্রেনের তথ্য জানার সুবিধা চালু করা হয়েছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম করিডোর ৩২১ কিলোমিটারের মধ্যে ২৪৩ কিলোমিটার ডাবল লাইনে ট্রেন চলাচল করছে। আখাউড়া-লাকসাম সেকশনে ৭২ কিলোমিটার ডাবল লাইন নির্মাণ কাজ চলমান। খুলনা হতে মোংলা পোর্ট পর্যন্ত ৬৪.৭৫ কিলোমিটার নতুন ব্রডগেজ রেললাইন নির্মাণ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।   কাশিয়ানি-গোপালগঞ্জ-টুঙ্গিপাড়া পর্যন্ত ৪১ কিলোমিটার নতুন রেলপথ নির্মাণের কাজ চলছে। চীন সরকারের অর্থায়নে ঢাকা থেকে পদ্মা সেতু হয়ে যশোর পর্যন্ত নতুন ব্রডগেজ রেললাইন নির্মাণ কাজ চলমান। পায়রা বন্দরের সাথে রেল সংযোগের লক্ষ্যে ভাঙ্গা হতে বরিশাল পর্যন্ত রেললাইন নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় মোংলা-ঘাসিয়াখালি নৌ-পথ খনন করে চালু করা হয়েছে। নৌ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ২৫০ মেট্রিক টন উত্তোলন ক্ষমতাসম্পন্ন ‘নির্ভিক’ ও ‘প্রত্যয়’ নামে দু’টি উদ্ধারকারী জাহাজ সংগ্রহ করা হয়েছে। ঢাকার চারদিকে নদী তীরের ভূমি দখলমুক্ত রাখতে বুড়িগঙ্গা, তুরাগ ও শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে ব্যাংক প্রটেকশনসহ ২০ কিলোমিটার ‘ওয়াকওয়ে’ নির্মাণ করা হয়েছে। আরও ৫০ কিলোমিটার ওয়াকওয়ে নির্মাণ করা হবে। ঢাকা, বরিশাল ও পটুয়াখালী নদী বন্দর আধুনিকায়ন করা হয়েছে। ভোলা নদীবন্দর ও টার্মিনাল ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। বরগুনা, ভৈরব ও যশোরের নওয়াপাড়া নদী বন্দরের উন্নয়ন এবং সীতাকুণ্ড কাঁচপুর ও টঙ্গীতে ল্যান্ডিং স্টেশন স্থাপন করা হয়েছে।   ৫৫ বছর পর ২০১৩ সালে বিআইডবিøউটিএ’র জন্য ৩টা লংবুম এক্সাভেটর ক্রয় করা হয়েছে। এটি দিয়ে নদীর তলদেশ থেকে বর্জ্য উত্তোলন করা সম্ভব হবে। পাটুরিয়া-বাঘাবাড়ী নৌরুটে রাতে নৌযান চলচলের জন্য ‘নাইট নেভিগেশন’ চালু করা হয়েছে। বুড়িগঙ্গা, বালু, শীতলক্ষ্যা ও তুরাগ নদীর দূষণমুক্তির জন্য দূষণের উৎসমুখ বন্ধের ব্যবস্থা করা হয়েছে; কাজ চলমান রয়েছে। শিমুলিয়া ও কাঠালবাড়ি ফেরী ঘাট স্থানান্তরের মাধ্যমে ফেরী চলাচল যোগ্য নৌ পথের দূরত্ব হ্রাস করা হয়েছে। কক্সবাজার-সেন্টমার্টিন, মহেশখালী-বাশখালী, খুলনা-নোয়াপাড়া নৌপথ খনন করা হযেছে। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় আমদানি ও রপ্তানি কার্গো এলাকায় ধারণক্ষমতা বৃদ্ধি এবং কার্গো গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং কাজ দ্রুততার সাথে সম্পন্ন করার উদ্দেশ্যে কার্গো হ্যান্ডলিং সেমি-অটোমেশন করা হয়েছে।   বাংলাদেশের বিমানবন্দরসমূহের সেফটি এবং সিকিউরিটি ব্যবস্থার উন্নয়নে হোল্ড ব্যাগেজ এক্সরে স্ক্যানিং মেশিন, ফায়ার ভেহ্যিকেল, হোল্ড ব্যাগেজ এক্সপ্লোসিভ ট্রেস ডিটেক্টশন সিস্টেম (ইটিডি), এন্ট্রি এক্সপ্লোসিভ কনটেইনার, কেবিন লাগেজ স্ক্যানিং মেশিন, এক্সসেস কন্ট্রোল সিস্টেমসহ অন্যান্য যন্ত্রপাতি স্থাপন করে অপারেশন কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রাইমারি ও সেকেন্ডারি রাডার এবং যশোর ও সৈয়দপুর বিমানবন্দরে ডিভিওআর এবং ডিএমই স্থাপন। কার্গো স্ক্যানিং সম্পন্ন করার জন্য হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রপ্তানি কার্গো ভিলেজে দুটি অত্যাধুনিক গ্যান্ট্রি টাইপ কার্গো স্ক্যানিং মেশিন ও একটি হেভি লাগেজ এক্সরে মেশিন স্থাপন করা হয়। বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (সিএএবি) এর নিজস্ব অর্থায়নে এপ্রোন-এ চারটি সুপরিসর প্যাসেঞ্জার এয়ারক্রাফট ও দুইটি সুপরিসর কার্গো এয়ারক্রাফট এর পার্কিং সুবিধা চালু করা হয়েছে। বিমানবন্দরে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে।   কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উন্নীতকরণের কাজ চলছে। বিমানবন্দরে প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল ভবন নির্মাণের কাজ ডিসেম্বর ২০১৮ সালে সমাপ্ত হবে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণের ব্যবস্থা গ্রহণ। বিদেশী প্রতিষ্ঠানের সাথে চুক্তি করে সে অনুযায়ী কাজ চলছে। বর্তমানে ৫২টি দেশের সাথে বাংলাদেশের চুক্তি রয়েছে। ৭টি নতুন এয়ারলাইন্সসহ মোট ৩১টি বিদেশী এয়ারলাইন্স বাংলাদেশে ফ্লাইট পরিচালনা করছে।   নতুন ২টি যাত্রীবাহী এয়ারলাইন্স, ৩টি হেলিকপ্টর সার্ভিস, ১টি কার্গো এয়ারলাইন্স, ২টি ফ্লাইং ট্রেনিং স্কুল এবং ১টি এরোনটিক্যাল ট্রেনিং কলেজের কার্যক্রম শুরু। মোট ১৯টি দেশীয় বিমান সংস্থা অপারেশন পরিচালনা করছে।   ৩০টিরও অধিক বিদেশী এয়ারলাইন্স বাংলাদেশ হতে বহির্বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ৩৭টি গন্তব্যে যাত্রী ও কার্গো সেবা পরিচালনা করছে। প্রতিবছর ৬ মিলিয়নেরও অধিক যাত্রী বিমান পরিবহন সেবা গ্রহণ করছে। বিমান বহর আধুনিকায়নের লক্ষ্যে ২০০৮ সালে বোয়িং কোম্পানির সাথে সম্পাদিত ক্রয় চুক্তি অনুযায়ী ০২টি নতুন বোয়িং ৭৭৭-৩০০ইআর উড়োজাহাজ সংগ্রহ করা হয়েছে। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে বিমান ২৭২.২৩ কোটি টাকা এবং ২০১৬-১৭ অর্থবছরে (নিরীক্ষা ব্যতীত) বিমান ১২০ কোটি টাকা লাভ করেছে। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বোয়িং ৭৩৭-৮০০ (মেঘদূত ও ময়ূরপঙ্খী) উদ্বোধন। কক্সবাজার বিমানবন্দরে সুপরিসর বোয়িং ৭৩৭-৮০০ বিমান চলাচল উদ্বোধন। বিমান বহরে চারটি অত্যাধুনিক বোয়িং ৭৮৭-৮ (আকাশবীণা, হংসবলাকা, রাজহংস ও গাংচিল) ড্রীম লাইনার এয়ারক্রাফট যোগ হচ্ছে।    বিআইডব্লিউটিসি বিআইডব্লিউটিসি’র ফেরি ছিল ২০টি, বর্তমান সরকারের সময়ে ১৭টি ফেরি নির্মাণ করা হয়েছে। স্টিমার সার্ভিসে ২টি বৃহৎ জাহাজ যুক্ত করা হয়েছে। আরও ২টি বৃহৎ যাত্রীবাহী নৌযান নির্মাণাধীন রয়েছে। বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ এবং শরীয়তপুর, চাঁদপুরের মতলব ও নারায়ণগঞ্জ এবং গজারিয়া ও মুন্সিগঞ্জ সদরের মধ্যে ফেরি চলাচলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার বদনাতলী-চরশিবার নৌরুটে বদনাতলী ফেরিঘাট চালু করা হয়েছে। জামালপুর (বাহাদুরাবাদ) ও গাইবান্ধার (বালাশীঘাট) এবং আরিচাঘাট এবং পাবনার নরদাহের মধ্যে ফেরি চলাচলের ব্যবস্থা করা হবে। জামালপুর (বাহাদুরাবাদ) ও গাইবান্ধার (বালাশীঘাট) আনুষঙ্গিক নির্মাণ কাজ চলমান। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ চট্টগ্রাম বন্দর কন্টেইনার হ্যান্ডলিংয়ে ২৮ ধাপ এগিয়েছে। লন্ডনভিত্তিক শিপিং বিষয়ক বিশ্বের সবচেয়ে পুরানো সংবাদমাধ্যম ‘লয়েডস লিস্ট’ এর ২০১৭ সালের জরিপে (২০১৮ সালে প্রকাশিত) বিশ্বের শীর্ষ ১০০টি কন্টেইনার পোর্টের মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ পাঁচ ধাপ এগিয়ে ৭০তম অবস্থানে উন্নীত হয়েছে।  বিভিন্ন ধরণের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের ফলে কন্টেইনারের ডুয়েল টাইম গড়ে পূর্বের ২৫-২৬ দিন থেকে ১১-১২ দিনে নেমে এসেছে এবং জাহাজের গড় অবস্থানকাল পূর্বের ১১-১২ দিনের স্থলে ৩ দিনে নেমে এসেছে।  চট্টগ্রাম বন্দরে কন্টেইনার লোডিং-আনলোডিং দ্রত ও সহজতর করার লক্ষ্যে দেশের প্রথম ‘রেল মাউন্টেড গ্যান্ট্রি ক্রেন’ চট্টগ্রাম বন্দরে সংযোজন করা হয়েছে। নিউমুরিং টার্মিনালের ৪টি জেটিতে কন্টেইনার ওঠানো নামানোর কাজ শুরু হয়েছে। বন্দরকে আরও যুগোপযোগী করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে কর্ণফুলি কন্টেইনার টার্মিনাল, লালদিয়ায় মাল্টিপারপাস টার্মিনাল এবং পতেঙ্গায় বে-টার্মিনাল নির্মাণ প্রক্রিয়াধীন। চট্টগ্রাম বন্দরের শ্রমিকদের মজুরি, ভাতা, চিকিৎসা সেবা, বেতন ভাতা বৃদ্ধি করা হয়েছে। শ্রমিকদের সমস্যাসমূহ নিয়মিত সমাধান করার জন্য চট্টগ্রাম বন্দরে ‘শ্রম শাখা’ চালু করা হয়েছে। মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ ৬২ বছর পর মোংলা বন্দরের নাব্যতা সংরক্ষণের জন্য নিয়মিত ড্রেজিং-এর লক্ষ্যে ৪৫ কোটি ১৯ লাখ টাকা ব্যয়ে দু’টি কাটার সাকশান ড্রেজার সংগ্রহ করা হয়েছে। পশুর নদীর নাব্যতা সৃষ্টির লক্ষ্যে হারবার এলাকায় ১১২ কোটি টাকা ব্যয়ে ক্যাপিটাল ড্রেজিং সম্পন্ন হয়েছে। মংলা বন্দরে মালামাল দ্রæত ও দক্ষতার সঙ্গে হ্যান্ডলিং এর জন্য ১৭ কোটি ২৬ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ২টি স্ট্রাডেল ক্যারিয়ার, ৬টি ফর্কলিফট ট্রাক, ২টি টার্মিনাল ট্রাক্টর ও ২টি কন্টেইনার ট্রেইলার সংগ্রহ করা হয়েছে। পায়রা সমুদ্র বন্দর বৈদেশিক বাণিজ্যের সম্প্রসারণ এবং শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারে গত মেয়াদে (২০১৩ সালের ১৯ নভেম্বর) পটুয়াখালীতে পায়রা সমুদ্র বন্দর স্থাপন করা হয়েছে। পায়রা বন্দরের কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে ১১২৮ কোটি ৪৩ লাখ টাকা ব্যয়সম্বলিত প্রকল্প চলমান। বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন (বিএসসি) বর্তমানে দু’টি জাহাজের বহর নিয়ে আন্তর্জাতিক নৌ বাণিজ্যে নিয়োজিত থেকে সরকারের খাদ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। সরকার ছয়টি জাহাজ এবং দু’টি মাদার ট্যাঙ্কার সংযুক্তির উদ্যোগ নিয়েছে। শীঘ্রই চীন থেকে ছয়টি জাহাজ দেশে এসে পৌঁছবে। বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ ২০০১ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১২টি স্থলবন্দরের গেজেট করেন। এর মধ্যে ২টি সচল ছিল। ২০০৯ সালে শেখ হাসিনার সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর আরও ১৩টি স্থলবন্দর প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। বর্তমান সরকারের সময়ে ৮টি নতুন স্থলবন্দর প্রতিষ্ঠা এবং ৯টি অচল বন্দর সচল করা হয়েছে। বেনাপোল বন্দরে ভারত-বাংলাদেশ যাতায়াতকারী যাত্রীদের জন্য দু’টি অত্যাধুনিক বাস টার্মিনাল নির্মাণ করা হয়েছে। ১৬৮ কোটি টাকা ব্যয়ে বেনাপোল ও বুড়িমারী স্থলবন্দরের অবকাঠামোসমূহ আধুনিকীকরণ শীর্ষক প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন; বুড়িমারী স্থলবন্দরে ইমিগ্রেশন ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। মেরিন একাডেমি সমুদ্রগামী জাহাজের নাবিক প্রশিক্ষণের জন্য ১৯৭২ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান চট্টগ্রামে বাংলাদেশ মেরিন একাডেমি প্রতিষ্ঠা করেন।    ৪২ বছর পর শেখ হাসিনার সরকারের সময়ে সিলেট, রংপুর, বরিশাল ও পাবনায় ৪টি মেরিন একাডেমির স্থাপনের কাজ চলমান। ২০১১ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেরিটাইম ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। বাংলাদেশ মেরিন একাডেমি অস্ট্রেলিয়ান মেরিটাইম কলেজের যৌথ উদ্যোগে মেরিটাইম এডুকেশন উন্নয়ন শীর্ষক প্রকল্পের অধীন একাডেমির প্রশিক্ষণ মান আন্তর্জাতিক মর্যাদা লাভ করেছে। নারী শিক্ষার উন্নয়ন, ক্ষমতায়ন ও নারী সমাজের সম-অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে মানননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা মোতাবেক ২০১২ সাল থেকে প্রথমবারের মত প্রতি ব্যাচে ২০ জন করে নারী ক্যাডেট ভর্তি ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম গৃহীত হয়েছে। পর্যটন দেশের ২৮টি স্থানে পর্যটন সুবিধাদি নির্মাণ/উন্নয়নসহ সাইনেজ স্থাপন করা হচ্ছে। পর্যটনকে নিরাপদ ও নির্বিঘœ করতে ট্যুরিস্ট পুলিশ গঠন। ১০টি পাঁচ তারকা, ৩টি চার তারকা ও ১০টি তিন তারকা মানের হোটেলের লাইসেন্স প্রদান। আগের রূপসী বাংলা হোটেলের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি ও আধুনিকায়নের জন্য সংস্কার কাজ শেষ হয়েছে। ঢাকা ইন্টারকন্টিন্টোল নামে গত ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ খ্রি. মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে এর উদ্বোধন করেন। সোনারগাঁও হোটেলের কক্ষসমূহের আধুনিকায়নের কাজ সম্পন্ন এবং হোটেলটি লাভজনকভাবে পরিচালিত হচ্ছে। পর্যটন শিল্পের উন্নয়ন ও বিকাশে বাংলাদেশ পর্যটন সংরক্ষিত এলাকা ও বিশেষ পর্যটন অঞ্চল আইন, ২০১০ প্রণয়ন; পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় প্রশাসনিক সংস্কার কার্যক্রম বাংলাদেশ হাওর ও জলাভ‚মি উন্নয়ন বোর্ডকে বাংলাদেশ হাওর ও জলাভ‚মি উন্নয়ন অধিদপ্তরে রূপান্তর করে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের একটি সংযুক্ত দপ্তর করা হয়েছে। হাওর ও জলাভূমি উন্নয়নের লক্ষ্যে হাওর মাস্টার প্ল্যান (২০১২-২০৩২) প্রণয়ন করা হয়েছে। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (বাপাউবো) পূর্বের সাংগঠনিক কাঠামো পরিবর্তন করে ৫,৪৯৯টি পদ সৃজন করে অনুমোদিত জনবল কাঠামো ১৩,২২৯তে উন্নীত করা হয়েছে বিগত ১০ বছরে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় ১৪০টি (নদীতীর সংরক্ষণধর্মী ৬৬টি, সেচধর্মী ২১টি, বন্যা নিয়ন্ত্রণ/নিস্কাশনধর্মী ২৩টি, ড্রেজিংধর্মী ৬টি, সমীক্ষাধর্মী ১৫ টি, ভ‚মি পুনরূদ্ধারধর্মী ২টি ও বাপাউবো ব্যতীত অন্যান্য সংস্থাসমূহের ৭টি) প্রকল্পের বাস্তবায়ন সম্পন্ন করেছে। বর্তমানে ৯৩টি প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। তন্মধ্যে, জুন, ২০১৯ নাগাদ ৩১টি প্রকল্পের বাস্তবায়ন সমাপ্ত করার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ডের আওতায় ১৩১টি প্রকল্প গ্রহণ করে ৭৯টির বাস্তবায়ন সম্পন্ন করা হয়েছে এবং ৫২টি প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে।    বিগত ১০ বছরে বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় ৫৮৯.০০ কিমি নদীতীর সংরক্ষণ, বিভিন্ন নদীর প্রায় ১০৮৮ কিমি নদী খনন, ৬৭৮.০০ কিমি সেচ ও নিষ্কাশন খাল খনন এবং ২৭৭৩.০০ কিমি খাল পুনঃখনন, ১০৪৭.০০ কিমি বাঁধ (বন্যা নিয়ন্ত্রণ, উপক‚লীয় ও ডুবন্ত) নির্মাণ এবং ৩৬৬০.৮১ কিমি বাঁধ পুনঃনির্মাণ/মেরামত করা হয়েছে। এছাড়া ১৭.২১ বর্গকিমি ভ‚মি পুনরূদ্ধার করা হয়েছে।  এসি       

স্বাবলম্বী, উদ্যমী যুবসমাজ গঠন

বাংলাদেশের যুবসমাজের সার্বিক উন্নয়নের স্বার্থে প্রণয়ন করা হয়েছে যুগোপযুগী জাতীয় যুবনীতি ২০১৭। ১১টি জেলায় নতুন যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। ২৪ লক্ষ তরুণ তরুণীদের প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে গত দশ বছরে। যুবসমাজের আত্মকর্মসংস্থানের জন্য প্রায় ২ লক্ষ তরুণদের মধ্যে ৮৮৬,৩১ লক্ষ টাকা ঋণ প্রদান করা হয়েছে। সরকারি উদ্যোগে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ও ঋণ গ্রহীতাদের মধ্যে ৬ লক্ষ ২১ হাজার ৯১২ তরুণ তরুণী আত্মকর্মী হয়েছে।    উত্তরবঙ্গের ৭টি জেলায় (রংপুর, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, পঞ্চগড় ও নাটোর) বেকার যুবদের কর্মসংস্থান ও আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে পৃথক প্রকল্প।  যুব সংগঠনগুলোর কাজ অনুপ্রাণিত করতে ১,২১৯ লক্ষ টাকা অনুদান প্রদান করা হয়েছে। ২০০৯-১০ অর্থ বছর থেকে ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচির ৭ পর্বে মোট ৩৭টি জেলার ১২৮টি উপজেলায় ১ লক্ষ ৯৩ হাজার ৯ শত ৮৫ জন যুবদের প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে । এদের মধ্যে ১ লক্ষ ৯১ হাজার ৬ শত ৫০ জন সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থায় ২ বছরের অস্থায়ী কর্মে নিযুক্ত হয়েছে। অস্থায়ী কর্মশেষে তাদের মধ্যে মোট ৮৩ হাজার ১৪ জন আত্মকর্মী হয়েছে। প্রথম পর্ব থেকে চতুর্থ পর্ব পর্যন্ত ২৮টি জেলার ৬৪টি উপজেলা ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। বর্তমানে পঞ্চম, ষষ্ঠ ও সপ্তম পর্বে আরও ৬৪টি উপজেলায় ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচি বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে। সহজ শর্তে ঋণ প্রদান করা হচ্ছে। দেশের ৬৪টি জেলা ও ৪৮৩টি উপজেলায় আবাসিক ও অনাবাসিকভাবে ৭৪টি ট্রেডে প্রশিক্ষণ কর্মসূচি বাস্তবায়িত হচ্ছে।   সাভারস্থ শেখ হাসিনা জাতীয় যুব কেন্দ্রকে ইনন্সিটিউটে রূপান্তর করার লক্ষ্যে শেখ হাসিনা জাতীয় যুব উন্নয়ন ইনন্সিটিউট করা হয়েছে। ক্রীড়া উন্নয়ন ও সাফল্য বঙ্গবন্ধু সাফ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশীপ ২০০৯, সাউথ এশিয়ান গেমস ২০১০, আইসিসি ক্রিকেট বিশ্বকাপ-২০১১, আইসিসি মহিলা বিশ্বকাপ ক্রিকেট বাছাই পর্ব-২০১১, এশিয়া কাপ ক্রিকেট ২০১২, এশিয়া কাপ ক্রিকেট ২০১৪, ওয়ার্ল্ড টি টুয়েন্টি বাংলাদেশ ২০১৪, ৪র্থ রোলবল বিশ^কাপ ২০১৭ ইসলামিক সলিডারিটি আর্চারী চ্যাম্পিয়নশীপ ২০১৭, ১০ম পুরূষ এশিয়া কাপ হকি টুনার্মেন্ট ২০১৭ ও সাফ অনুর্ধ্ব ১৫ মহিলা চ্যাম্পিয়নশীপ ২০১৭ সফলভাবে আয়োজন করে বাংলাদেশ। প্রতিটি উপজেলায় একটি করে মোট ৪৯০টি মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণ করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ১৩১টি মিনি স্টেডিয়ামের অবকাঠামো নির্মাণের প্রাথমিক পর্যায়ের কাজ শুরু হয়েছে। ঢাকার অদূরে পূর্বাচলে ৭০ হাজার দর্শক ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন ক্রিকেট স্টেডিয়াম ও ক্রীড়া কমপ্লেক্স নির্মাণ এবং কক্সবাজার ও মানিকগঞ্জে আধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন স্টেডিয়াম নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশ্বকাপ ক্রিকেট উপলক্ষে প্রায় ৩০৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ঢাকা বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়াম, শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম, চট্টগ্রাম জহুর আহম্মেদ স্টেডিয়াম, খুলনা শেখ আবু নাসের স্টেডিয়াম ও নারায়ণগঞ্জের খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়ামকে আন্তর্জাতিকমানের স্টেডিয়ামে উন্নীত করা হয়েছে। সাউথ এশিয়ান গেমসের সময় প্রায় ১২৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ক্রীড়াক্ষেত্রে নতুন নতুন স্থাপনা তৈরি করা হয়েছে। প্রায় সাড়ে ৮৭ কোটি টাকা ব্যয়ে সিলেট বিভাগীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামকে আন্তর্জাতিকমানের স্টেডিয়ামে উন্নীত করা হয়েছে। ৬ এপ্রিলকে জাতীয় ক্রীড়া দিবস হিসেবে ঘোষণা করেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এসি      

খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ন বাংলাদেশ

খাদ্যশস্য উৎপাদনে বিশ্বে বাংলাদেশের স্থান এখন দশম। এক ও দুই ফসলি জমি অঞ্চল বিশেষে প্রায় চার ফসলি জমিতে পরিণত করা হয়েছে এবং দেশে বর্তমানে ফসলের নিবিড়তা ১৯৪%।    দক্ষিণ অঞ্চলে ভাসমান বেডে চাষাবাদ প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে সবজি উৎপাদন করা হচ্ছে। সরকার সার, ডিজেল, বিদ্যুৎ ইত্যাদি খাতে আর্থিক সহযোগিতার পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করেছে। ২০১৮ সালে সার খাতে ৫৮ হাজার ৯ শত ৪৫ কোটি টাকা আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করা হয়েছে।     ২০০৮-০৯ অর্থবছর হতে কৃষি প্রণোদনা/পুনর্বাসন কর্মসূচির মাধ্যমে ৮২৭ কোটি ১৭ লাখ টাকা প্রদান করা হয়েছে, যার মাধ্যমে ৭৪ লাখ ৫৪ হাজার ৩১৩ জন কৃষক উপকৃত হয়েছে।    প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি পুষিয়ে নেয়া এবং বিভিন্ন ফসল উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে ১০০ কোটি টাকা ব্যয়ে বিনামূল্যে কৃষি উপকরণ ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। ২ কোটি ৮ লাখ ১৩ হাজার ৪৭৭ জন কৃষককে কৃষি উপকরণ সহায়তা কার্ড প্রদান করেছে। ১০ টাকায় ব্যাংক হিসাব খোলার সুযোগ করে দেওয়ায় ১ কোটি ১ লাখ ১৯ হাজার ৫৪৮টি ব্যাংক হিসাব খোলা সম্ভব হয়েছে, যেখানে বর্তমান স্থিতি প্রায় ২ শত ৮২ কোটি টাকা।   ধান উৎপাদনে বাংলাদেশ বিশ্বে চতুর্থ। লবণাক্ততা, খরা, জলমগ্নতা সহনশীল ও জিংকসমৃদ্ধ, ধানসহ এ পর্যন্ত ধানের ১০৮টি উচ্চফলনশীল জাত উদ্ভাবন করা হয়েছে।   নিবিড় সবজি চাষের মাধ্যমে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৫৪ হাজার মেট্রিক টন সবজি উৎপাদন করে বাংলাদেশ বিশ্বে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে। আম উৎপাদনে বাংলাদেশ বিশ্বে সপ্তম। দেশে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ১২.৮৮ লাখ মেট্রিক টন আম উৎপাদিত হয়েছে। কৃষি পণ্য রফতানি থেকে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে বাংলাদেশ ৬ শত ৭৩ দশমিক ৭০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করেছে। ২০০৮-০৯ অর্থবছরে ধান, গম, পাট, ভূট্টা, আলু, সবজি, তৈল ও মসলাসহ বিভিন্ন ফসলের গুণগত মানসম্মত বীজ সরবরাহের পরিমাণ ছিল ১ লক্ষ ৯৯ হাজার ৮ শত ৭৪ মে.টন। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে তা দাঁড়িয়েছে ৩ লক্ষ ২৯ হাজার ৯ শত ২২ মে.টনে। ২৮ হাজার মেট্রিক টন ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন ১২টি আলুবীজ হিমাগার নির্মাণ এবং ৪টি টিস্যু কালচার ল্যাবরেটরি স্থাপন করা হয়েছে। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে মোট ১৪ হাজার ৫ শত ২০ দশমিক ৪২ কোটি টাকার কৃষি ও পল্লী ঋণ বিতরণ করা হয়েছে।  মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ:   বিগত ৯ বছরে মাছের উৎপাদন ২৭.০১ লাখ মেঃ টন থেকে বেড়ে ৪১.৩৪ লাখ মেঃ টন উন্নীত হয়েছে।   মাংসের উৎপাদন ১০.৮০ লাখ মেঃ টন থেকে বেড়ে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৭১.৬০ লাখ মেঃ টনে উন্নীত হয়েছে। দুধের উৎপাদন ২২.৯ লাখ মেঃ টন থেকে বেড়ে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ৯৪.০৬ লাখ মেঃ টনে উন্নীত। ডিমের উৎপাদন ৪৬৯.৬১ কোটি থেকে বেড়ে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ১৫৫২ কোটিতে উন্নীত। মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপি’র ৩.৬১ শতাংশ এবং মোট কৃষিজ আয়ের প্রায় এক-চতুর্থাংশ আসে মৎস্য খাত হতে। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে উন্নয়ন বরাদ্দ ১৬৪.০১ কোটি টাকা থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ৭১২.০১ কোটি টাকায় উন্নীত।   ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৬৮,৩০৫.৬৮ মে.টন মৎস্য ও মৎস্যপণ্য রপ্তানি করে ৪২৮৭.৬৪ কোটি টাকা বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হয়েছে, যা ২০০৮-০৯ অর্থবছরে ছিল ৩২৪৩.৪১ কোটি টাকা।   ঐতিহাসিক সমুদ্রবিজয়ের মাধ্যমে বঙ্গোপসাগরে ১ লক্ষ ১৮ হাজার ৮১৩ বর্গ কিলোমিটার জলসীমায় আইনগত একচ্ছত্র অধিকার প্রতিষ্ঠা হয়েছে।  ইলিশের উৎপাদন ২.৯৮ লক্ষ মে.টন থেকে বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় ৫.০০ লক্ষ মে. টনে উন্নীত। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে সামজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় জাটকা সমৃদ্ধ ১৭ জেলার জাতীয় ৮৫টি উপজেলায় জাটকা আহরণে বিরত থাকতে ২ লাখ ৩৮ হাজার ৬৭৩জন জেলে পরিবারকে মাসিক ৪০ কেজি হারে ৪ মাসের জন্য মানবিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় মোট ৩৮,১৮৭.৬৮ মে. টন চাল প্রদান করা হয়েছে। বিভিন্ন নদ-নদী ও অভ্যন্তরীণ মুক্ত জলাশয়ে ৫৩৪টি মৎস্য অভয়াশ্রম স্থাপন। কুচিয়ামাছ অত্যন্ত পুষ্টি সমৃদ্ধ ও ঔষধি গুণসম্পন্ন। কুচিয়া রপ্তানি করে ১৪ মিলিয়ন ডলার মূল্যের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত। ৬৩টি উপজেলায় প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। প্রাণিসম্পদ লালনপালন, চিকিৎসা সেবাসহ যেকোন ধরনের সমস্যার জন্য যেকোন মোবাইল হতে ১৬৩৫৮ নম্বরে বিনামূল্যে এস.এম.এস এর মাধ্যমে পরামর্শ পাওয়া যাচ্ছে। খাদ্য উৎপাদন: দেশের মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকারি পর্যায়ে খাদ্যশস্য ধারণক্ষমতা ২০২১ সালের মধ্যে ৩০ লক্ষ মেট্রিক টনে উন্নীত করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। বর্তমানে ৬.৪০ লক্ষ মেট্রিক টন ধারণক্ষমতার আধুনিক খাদ্য গুদাম/সাইলো নির্মাণের লক্ষ্যে কয়েকটি প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। দেশের উত্তরাঞ্চলে ১.১০ লক্ষ মেট্রিক টন ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন খাদ্যগুদাম নির্মাণ প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের উত্তরাঞ্চলে মোট ১৪০টি গুদামসহ অন্যান্য আনুষাঙ্গিক স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। সারাদেশে ১০০০ মেট্রিক টন ধারণক্ষম ৭০ টি গুদাম এবং ৫০০ মেট্রিক টন ধারণক্ষম ১৩০টি গুদাম নির্মাণ। মংলা বন্দরে ৫০ হাজার মেট্রিক টন ধারণক্ষমতা সম্পন্ন কনক্রিট গ্রেইন সাইলো, আনলোডার, সাইলো জেটি নির্মাণ, সাইলো ভবনসহ বিভিন্ন ধরনের কনভেয়িং সিস্টেম ও ওজন যন্ত্র স্থাপন। বগুড়া জেলার সান্তাহার সাইলো ক্যাম্পাসে বহুতল গুদাম নির্মাণ করা হয়েছে। সোলার প্লান্টসহ ২৫,০০০ মেট্রিক টন ধারণক্ষমতার মাল্টিস্টোরিড ওয়্যারহাউজ নির্মাণ কাজ সমাপ্ত। ভিজিডি, ভিজিএফ, জিআর ইত্যাদি খাতে ২০১৬-১৭ অর্থ-বছরে ৮.৩৭ মেট্রিক টন পরিমাণ খাদ্যশস্য সরবরাহ। ভিজিডি খাতে পুষ্টি চাল বিতরণ; হাওর এলাকায় ১০০ দিন কর্মসূচিতে ১০ টাকা মূল্যে চাল বিতরণ ও ওএমএস কার্যক্রম গ্রহণ। ২০১৫ সালে শ্রীলংকায় ২৫ হাজার মেট্রিক টন চাল রপ্তানি। ২০১৬ সালে নেপালে ২০ হাজার মেট্রিক টন চাল সাহায্য হিসেবে প্রেরণ। ২০১৬ সাল হতে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ৫০ লক্ষ হতদরিদ্র পরিবারের মাঝে প্রতি মাসে পরিবার প্রতি ৩০ কেজি করে প্রতি বছর ৫ মাস (সেপ্টেম্বর, নভেম্বর ও মার্চ-এপ্রিল) চাল ১০ টাকা কেজিতে বিতরণের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি চলমান রয়েছে। এসি      

পাহাড়ে উন্নয়নের ছোঁয়া

পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকায় সমন্বিত সমাজ উন্নয়নে বাংলাদেশ সরকার ও ইউনিসেফ এর আর্থিক সহায়তায় প্রকল্পের ৩য় পর্যায়ে ৩২০ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে বাস্তবায়িত হয়েছে। ৪০০০ পাড়াকেন্দ্র স্থাপনের মাধ্যমে প্রত্যন্ত পার্বত্য এলাকার ১,৬৫,৩৪৩ পরিবারকে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পুষ্টি, পানি, পয়ঃব্যবস্থা ইত্যাদি মৌলিক সেবা প্রদান করা হচ্ছে। শিক্ষা : প্রকল্পভুক্ত ৩-৫ বছর বয়সী ১,৭৩,১৬৫ জন শিশুদের প্রাথমিক শিক্ষার জন্য প্রস্তুতকরণের লক্ষ্যে পাড়াকেন্দ্রে শিশু বিকাশ ও প্রাক-শিক্ষা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। বর্তমানে ৪০০০ পাড়া কেন্দ্রে ৫৪,০০০ শিশু প্রি-স্কুলে অধ্যয়নরত। পাড়াকেন্দ্র থেকে ২ লক্ষের বেশি শিশু প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা সম্পন্ন করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছে। এছাড়া পার্বত্য চট্রগ্রাম এলাকায় ক্ষুদ্র ও পশ্চাদপদ নৃগোষ্ঠির মধ্যে প্রতি বছর ১০০০ জন শিক্ষার্থীর খাদ্য, আবাসন, পোশাক, পরিচ্ছদ, শিক্ষা উপকরণ বিনামূল্যে প্রাপ্তিসহ মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত শিক্ষা লাভ করছে। ৯৪,৭২৪ জন শিশুদের জন্য ভিটামিন-মিনারেল পাউডার, কিশোরী ও গর্ভবর্তীদের আয়রন ট্যাবলেট, ১,২২,৪৩৫ জন প্রসুতি মায়েদের জন্য ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল বিতরণ, ৮১,৭১০ জন কিশোরীদের জন্য কৃমিনাশক বড়ি বিতরণ, ৫৩৪ জনকে উঘও প্রশিক্ষণ ও ২০৪৫ জনকে গঘঐও প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। ১২০টি নলকূপ স্থাপন ও সংস্কার, ৫,৪২৩টি স্বল্পব্যয়ী স্বাস্থ্যসম্মত পায়খানা সরবরাহ, ১,৩৫০ জন কেয়ার টেকার প্রশিক্ষণ ও টুলবক্স বিতরণ এবং ১,২০৫টি হ্যান্ড ওয়াসিং ডিভাইস স্থাপন করা হয়েছে। ২০১৫-১৬ অর্থ বছরে ২০০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে বান্দরবান জেলায় ২৩৬টি, রাঙামাটি জেলায় ১২০টি ও খাগড়াছড়ি জেলায় ১২০টি ৬৫ওয়াট পিক ক্ষমতার সোলার হোম সিস্টেম সরবরাহ ও স্থাপন করা হয়। ৪৪০ জন উপকারভোগীকে সোলার সিস্টেমের রক্ষণাবেক্ষণ ও ব্যবহারবিধি সম্পর্কে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়।  ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে ২৪৪৪ লক্ষ টাকা ব্যয়ে বান্দরবান জেলায় ২১২৪টি, রাঙামাটি জেলায় ১৭৫৩টি ও খাগড়াছড়ি জেলায় ১৫৩৭টি ৬৫ ওয়াট পিক ক্ষমতার সোলার হোম সিস্টেম সরবরাহ ও স্থাপন করা হয়। প্রকেল্পের আরডিপিপি‘তে আরও ৫০০০টি সোলার হোম সিস্টেম ৫৮৯০টি মোবাইল চার্জার এবং ১২ ওয়াট পিকের পরিবর্তে ৩২ ওয়াট পিকের ২৩১৫টি সোলার কমিউনিটি সিস্টেম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ঢাকার বেইলি রোডে পার্বত্য চট্টগ্রাম কমপ্লেক্স উদ্বোধন। পার্বত্য চট্টগ্রাম পল্লী উন্নয়ন প্রকল্প– ২য় শীর্ষক পর্যায় প্রকল্প   জুলাই ২০১১ হতে জুন ২০১৯ মেয়াদে ৫১৫.১৮৪৭ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম পল্লী উন্নয়ন প্রকল্প-২য় পর্যায় শীর্ষক প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলায় ৪১টি বিদ্যালয় সংস্কার, ৪০টি নতুন বিদ্যালয় স্থাপন, ৬১টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া সমপন্ন ও ১০৫টি বিদ্যালয়ে বিভিন্ন উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হয়েছে। ৬,২৮০ জন কৃষককে প্রশিক্ষণ প্রদান, কৃষক-মাঠ-স্কুল নির্বাচন, কৃষক-মাঠ-স্কুলের প্রদর্শনী প্লটের জন্য আর্থিক অনুদান প্রদান করা হয়েছে। খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার ৪টি উপজেলায় সরকারি স্বাস্থ্য সেবার পাশাপাশি প্রত্যন্ত এলাকায় ২৭০ জন প্রশিক্ষিত মহিলা স্বাস্থ্যকর্মী ও মোবাইল মেডিকেল টিমের মাধ্যমে ৯৪,০০০ জনকে স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করা হয়েছে।   ৮টি উপজেলায় দুর্গম এলাকায় যেখানে বিদ্যুৎ নাই সেখানে প্রাণী সম্পদের ভ্যাকসিন রাখার জন্য ১১টি সোলার ফ্রিজ স্থাপন করা হয়েছে। রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলায় ৩০টি এবং বান্দরবান পার্বত্য জেলায় ২৮টি সরকারি অফিস/ সংস্থা জেলা পরিষদের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে। ২০২১ সালের মধ্যে পার্বত্য এলাকার প্রতিটি বাড়িতে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থাকরণ। পার্বত্য এলাকায় পানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার জন্য কাপ্তাই লেক ও বড় নদীগুলো খননকরণ। পার্বত্য এলাকায় উৎপাদিত পচনশীল খাবার সংরক্ষণের জন্য তিন পার্বত্য জেলায় কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণ। জেলার সাথে প্রতিটি ইউনিয়নের সংযোগ সড়ক অবকাঠামো নির্মাণ। দেশি বিদেশি পর্যটক আকৃষ্ট করার জন্য পর্যটন অবকাঠামো নির্মাণ।     এসি  

নিরাপদ ও শান্তির দেশ

উন্নত জীবনের সুরক্ষার জন্য প্রয়োজন একটি নিরাপদ, শান্তিপুর্ণ দেশ। পাশাপাশি উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষার জন্য প্রয়োজন দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন। সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ নির্মুলে গত দশ বছরে আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছে। এই ইশতেহারেও দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান ধরে রাখবে বলে আওয়ামী লীগ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।      জনবান্ধব আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী গড়ে তোলা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়ে পূর্বে জনমনে এক ধরনের ভীতি বিরাজ করত। সেটা দূর করে একটি জনবান্ধব আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করছে আওয়ামী লীগ সরকার। একটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও জনগণের জীবন-জীবিকা সুরক্ষার পূর্বশর্ত হলো স্থিতিশীল আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি। এরই ধারাবাহিকতায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীতে ব্যাপক উন্নয়নমূলক কার্যক্রম সম্পাদিত হয়েছে। লক্ষ্য ও পরিকল্পনা আগামী ৫ বছরে প্রয়োজনীয় সংখ্যক জনবল পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীতে নিয়োগ করা হবে। সাংগঠনিক কাঠামো সংস্কারের কাজ আগামীতে অব্যাহত থাকবে। পুলিশসহ অন্যান্য শৃঙ্খলা বাহিনীকে আধুনিক ও যুগোপযোগী করার কাজ চলমান থাকবে। সেবা প্রদানের জন্য দ্রুত সাড়া দানের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় যানবাহন-সরঞ্জামাদি সরবরাহ, সন্ত্রাস ও সাইবার অপরাধ দমনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন, প্রয়োজনীয় ভূমি ও অবকাঠামোর সংস্থান, প্রশিক্ষণ সক্ষমতা বৃদ্ধিসহ সদস্যদের কল্যাণমূলক কার্যের পরিধি বিস্তারে কৌশলগত পরিকল্পনার আলোকে বহুমুখী কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে।   দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ দুর্নীতি একটি বহুমাত্রিক ব্যাধি। পেশিশক্তির ব্যবহার ও অপরাধের শিকড় হচ্ছে দুর্নীতি। যার ফলে রাষ্ট্র ও সমাজজীবনে অবক্ষয় বা পঁচন শুরু হয় এবং অর্থনীতি, রাজনীতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, প্রশাসন প্রভৃতি কোনো ক্ষেত্রেই ইস্পিত লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হয় না। দুর্নীতি দমনে রাজনৈতিক অঙ্গীকার ও আইনের প্রয়োগ মুখ্য হলেও তা শুধু সরকারের দায় নয়, জনগণেরও দায় রয়েছে। আমরা মনেকরি দুর্নীতি দমনে প্রয়োজন সরকার ও জনগণের সমন্বিত পদক্ষেপ। লক্ষ্য ও পরিকল্পনা দুর্নীতি দমন কমিশনকে কর্ম পরিবেশ ও দক্ষতার দিক থেকে যুগোপযোগী করে আধুনিকায়ন করা হবে। সেক্ষেত্রে দুর্নীতি দমনের ক্ষেত্রে আধুনিক তথ্য ও প্রযুক্তির সহজলভ্যতায় এবং প্রায়োগিক ব্যবহারে সহযোগিতা করবে সরকার। বিভিন্ন মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিগুলো সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে পর্যালোচনা, পর্যবেক্ষণ ও তদারকি ভবিষ্যতে আরো জোরদার করা হবে। দুর্নীতি প্রতিরোধে আইনী ব্যবস্থার পাশাপাশি রাজনৈতিক, সামাজিক এবং প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ জোরদার করা হবে। ঘুষ, অনোপার্জিত আয়, কালো টাকা, চাঁদাবাজি, ঋণখেলাপি, টেন্ডারবাজি ও পেশীশক্তি প্রতিরোধ এবং দুর্নীতি-দুর্বৃত্তায়ন নির্মূলে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।   সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, সাম্প্রদায়িকতা ও মাদক নির্মূল সাম্প্রদায়িকতা, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও মাদক মানবতা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং শান্তি, গণতন্ত্র, উন্নয়ন ও প্রগতির পথে অন্তরায়। স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি পূর্বাপর পরাজয়ের প্রতিশোধ ও ক্ষমতা দখল করতে সন্ত্রাস-সহিংসতা, সাম্প্রদায়িকতা ও জঙ্গিবাদকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করে আসছে। বিএনপি-জামাত জোট আমলে ‘সন্ত্রাসী রাষ্ট্র’ হিসাবে আমরা নিন্দিত হয়েছিলাম। কিন্তু দেশ এখন জঙ্গিবাদ দমনে বিশ্ব সমাজে প্রশংসিত।  লক্ষ্য ও পরিকল্পনা আগামীতে জঙ্গিবাদ, সাম্প্রদায়িকতা, সন্ত্রাস ও মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতির প্রতি সরকারের দৃঢ় অবস্থান থাকবে। সন্ত্রাসী-গডফাদারদের এবং তাদের আশ্রয়-প্রশ্রয়দাতাদের চিহ্নিত করে গ্রেফতার এবং বিচারের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে। সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, দখল, চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই বন্ধে সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করা হবে। দকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ও চলমান অভিযান অব্যাহত থাকবে। মাদকাসক্তদের পূণর্বাসনের জন্য সরকারি অর্থায়নে সংশোধনাগারের সংখ্যা বৃদ্ধি করা হবে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমনের জন্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আধুনিকায়নের মাধ্যমে সক্ষমতা বৃদ্ধি করা হবে।   প্রতিরক্ষা: নিরাপত্তা সার্বভৌমত্ব ও অখন্ডতা সুরক্ষা আমাদের প্রতিরক্ষা বাহিনী অতীতের যে কোনো সময়ের তুলনায় এখন শক্তিশালী এবং অভ্যন্তরীণ স্বশাসন, শৃঙ্খলা, প্রশাসনিক ও ব্যবস্থাপনার ক্ষমতা সমুন্নত। দেশের নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব এবং অখন্ডতা রক্ষায় সশস্ত্র বাহিনীর প্রতিরক্ষা সামর্থ বৃদ্ধির লক্ষ্যে ১৯৭৪ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রতিরক্ষা নীতিমালা প্রণয়ন করেছিলেন। সেই নীতিমালার ভিত্তিতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সশস্ত্র বাহিনীকে সকল বিতর্কের উর্ধ্বে রাখার যে নীতি নিয়েছিল, তা অব্যাহত থাকবে।   লক্ষ্য ও পরিকল্পনা    সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমান বাহিনী আধুনিকায়নের চলমান প্রক্রিয়া যুগের সাথে তাল মিলিয়ে সর্বোতোভাবে অব্যাহত থাকবে। প্রতিরক্ষা বাহিনীর অভ্যন্তরীণ স্বশাসন, শৃঙ্খলা, প্রশাসনিক ও ব্যবস্থাপনার ক্ষমতা সমুন্নত রাখা হবে। জ্যেষ্ঠতা, মেধা, দক্ষতা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ, পদায়ন ও পদোন্নতির নীতিমালা কঠোরভাবে অনুসরণ নিশ্চিত করা হবে। সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের শিক্ষা, চিকিৎসা, আবাসন ও অবসরকালীন সুযোগ-সুবিধাসহ গৃহীত বহুমুখী কল্যাণমূলক কর্মসূচী বাস্তবায়ন অব্যাহত থাকবে। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনীতে অধিকতর অংশগ্রহণের সুযোগ সমুন্নত রাখা ও বৃদ্ধি করার উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে। সশস্ত্র বাহিনীর উন্নয়ন ও আধুনিকায়নের পাশাপাশি সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের কল্যাণের জন্য চলমান কাজ চাহিদা ও প্রয়োজন অনুযায়ী ভবিষ্যতে তা অব্যাহত থাকবে।   এসি   

© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি