ঢাকা, রবিবার, ১৬ ডিসেম্বর, ২০১৮ ৭:৫১:২৫

জাতিসংঘে ‘ডেল্টা প্লান ২১০০’ তুলে ধরল বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন

জাতিসংঘে ‘ডেল্টা প্লান ২১০০’ তুলে ধরল বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে মহাসাগর ও সমুদ্র বিষয়ক আইনের ওপর আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের গৃহীত দূরদর্শী ‘ডেল্টা প্লান ২১০০’ এর কথা তুলে ধরল বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন। গতকাল নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ‘মহাসাগর ও সমুদ্র বিষয়ক আইন’-এর উপর ৭৩তম জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ প্লেনারির এজেন্ডাভূক্ত এক আলোচনায় অংশ নেন জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ও উপ-স্থায়ী প্রতিনিধি তারেক মো: আরিফুল ইসলাম। আজ ঢাকায় প্রাপ্ত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে একথা জানা গেছে।   উপ-স্থায়ী প্রতিনিধি বলেন, ‘পৃথিবী নামক গ্রহে টেকসই জীবন, দারিদ্র্য দূরীকরণ এবং সমৃদ্ধি আনতে স্বাস্থ্যকর মহাসাগর অপরিহার্য। ২০১৪ সালে প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমার ও ভারতের সাথে সমুদ্র সীমার শান্তিপূর্ণ মিমাংসার মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকার সমুদ্র ও মহাসাগরীয় সম্পদসমূহ অধিকতর আহরণের দ্বার উন্মুক্ত করতে শুরু করে। সে কারণেই বাংলাদেশে এখন সুনীল অর্থনীতি (ব্লু ইকোনমি) একটি নতুন ‘উন্নয়ন ক্ষেত্র’ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আর এই সুনীল অর্থনীতির বিকাশের জন্য সামুদ্রিক জাহাজ, সমুদ্র বন্দর, জাহাজ নির্মাণ ও জাহাজের পূন:ব্যবহার, সামুদ্রিক মৎস্য, সামুদ্রিক লবণ, উপকূলীয় পর্যটন, মহাসাগরীয় শক্তি, ভূমি পূনরূদ্ধার, সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও নজরদারি এবং মানব সম্পদ উন্নয়ন ও প্রশাসনকে অগ্রাধিকার বিষয় হিসেবে চিহ্নিত করেছে বাংলাদেশ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বে এসকল বিষয়গুলো সম্প্রতি বাংলাদেশ সরকার গৃহীত ‘বাংলাদেশ ডেল্টা প্লান ২১০০’ তে সুনিপুণভাবে সন্নিবেশন করা হয়েছে।’  ‘মহাসাগর ও সমুদ্র বিষয়ক আইন’ সংক্রান্ত এ আলোচনায় বাংলাদেশের জাতীয় পদক্ষেপের এসকল তথ্য উল্লেখ করার পাশাপাশি এসডিজি’র অভীষ্ট ১৪ এর বাস্তবায়ন এবং এক্ষেত্রে মৎস্য ভতুর্কি সংক্রান্ত ডব্লিউটিও এর নেগোসিয়েশান সম্পূর্ণ করার উপর বিশেষ জোর দেন উপ-স্থায়ী প্রতিনিধি।  তাছাড়া জলবায়ুর পরিবর্তনজনিত কারণে সমুদ্রতলের উচ্চতা বৃদ্ধি, মহীসোপানের সীমা নির্ধারণ সংক্রান্ত কমিশনে মুলতবি থাকা বিভিন্ন আবেদন নিষ্পন্ন করার কাজে গতি আনার বিষয়টিও তিনি বক্তব্যে তুলে ধরেন।সমুদ্র ব্যবহার করে ব্যাপকভাবে অভিবাসী ও শরণার্থীদের গমনাগমণের বিষয়ে চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স তাঁর উদ্বেগের কথা জানান। এসকল অনিয়মতান্ত্রিক মানব চলাচল মোকাবিলা করতে সংশ্লিষ্ট দেশসমূহকে এগিয়ে আসা, পুশ ও পুল ফ্যাক্টর বিবেচনা এবং সমুদ্রে নজরদারি বাড়ানোর উপর জোর দেন। এ প্রসঙ্গে বাস্ত্যুচ্যুত রোহিঙ্গাদের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।  সমুদ্র বিষয়ে উন্নয়নশীল দেশসমূহের সক্ষমতা বিনির্মাণ ও সমুদ্র বিষয়ক প্রযুক্তির হস্তান্তর বিষয়টিকে তিনি বিশেষ গুরুত্বের সাথে তুলে ধরেন। জাতিসংঘের সমুদ্র বিষয়ক আইন সংক্রান্ত কনভেনশনের প্রতি বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতি পূনর্ব্যক্ত করেন বাংলাদেশ মিশনের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স।   এসি  
সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্য ২০১৫ থেকে টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট ২০৩০

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আজীবন এদেশের মানুষের জন্য একটি স্বাধীন ভূ-খণ্ডের স্বপ্ন দেখেছিলেন। এদেশের মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি চেয়েছিলেন। সেই লক্ষ্য অর্জনে তিনি সারা জীবন সংগ্রাম করে গিয়েছেন। তাঁর হাত ধরেই এদেশের মানুষ স্বাধীনতা লাভ করেছে। মাটি ও মানুষকে নিয়েই জাতির পিতা আজীবন কাজ করে গিয়েছেন। তাঁর আমলে প্রণীত আমাদের সংবিধানে পরিকল্পিত অর্থনৈতিক উন্নয়নের কথা বলা হয়েছে। তিনি চেয়েছিলেন, সকল শ্রেণি পেশার মানুষের মধ্যে বৈষম্যহীন একটি সমাজ ব্যবস্থা, যেখানে জাত-পাত -এর কোনো ভেদাভেদ থাকবে না। দেশের উত্তর-দক্ষিণ বা পূর্ব-পশ্চিমে কোনো ভেদাভেদ থাকবে না। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে নারী-পুরুষে কোনো ভেদাভেদ থাকবে না। গ্রাম আর শহরের মাঝে কোনো পার্থক্য থাকবে না। ‘কাউকে পিছনে ফেলে, কাউকে অর্থনীতির মূল স্রোতধারার বাইরে রেখে উন্নয়ন পরিকল্পনা নয়’। এই নীতিতেই প্রথম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনাটি তিনি সাজিয়েছিলেন এদেশের মানুষকে বৈষম্যের শৃঙ্খল থেকে মুক্ত করতে এবং দেশকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে। তিনি তাঁর কাজটি শেষ করে যেতে পারেননি। ঘাতকদের নির্মম বুলেট তাঁকে থামিয়ে দিয়েছিল। কিন্তু তাঁর আদর্শ বিলীন হয়নি। তাঁর আদর্শ সকল সময়েই আমাদের সকল ভালো কাজে অনুপ্রেরণার উত্স, আমাদের চির অনুসরণীয়। তাঁর আদর্শ এদেশের মানুষের জন্য অম্লান হয়ে থাকবে অনন্তকাল পর্যন্ত, থাকবে সূর্যের মতো দেদীপ্যমান।বঙ্গবন্ধু সবসময় পরিকল্পিত উন্নয়নের চেষ্টা করে গিয়েছেন। বাংলার মানুষের জন্য তাঁর দর্শন তিনি ১৯৭৩ সালে তাঁর প্রণীত প্রথম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় তুলে ধরেছিলেন। তিনি জাতির উন্নয়নে দেশের গণমানুষের সম্পৃক্ততার বিষয়টি তুলে ধরে তাঁর প্রথম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার মুখবন্ধে বলেন, ‘দেশের জনগণের পক্ষ থেকে কঠোর পরিশ্রম ও প্রয়োজনে যে কোনও ত্যাগের জন্য সর্বাত্মক অঙ্গীকার ছাড়া কোনও পরিকল্পনা, তা যত সুলিখিতই হোক না কেন, সঠিক বাস্তবায়ন হতে পারে না’। তিনি মানুষের মুক্তির সেই দর্শনের কথা ১৯৭৪ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে পুনরাবৃত্তি করেন। জাতিসংঘে প্রথমবার বাংলায় ভাষণ দেওয়ার সময় বিশ্ব নেতৃবৃন্দকে আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আসুন আমরা সকলে মিলে এমন একটি পৃথিবী গড়ে তুলি, যেখানে ক্ষুধা, দারিদ্র্য, যুদ্ধ ও মানুষের সকল কষ্ট দূরীভূত হবে, বৈশ্বিক শান্তি অর্জিত হবে এবং মানবজাতির কল্যাণ রক্ষিত হবে।’ বঙ্গবন্ধু আমাদেরকে যে পথ দেখিয়েছিলেন, যে দর্শন উপহার দিয়েছিলেন, সেটাই আজকে আমরা প্রতিধ্বনিত হতে শুনি জাতিসংঘে সর্বসম্মতিতে গৃহীত ২০৩০ সালের বৈশ্বিক উন্নয়ন এজেন্ডা, টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এসডিজি)-তে, যার মূল বক্তব্যই হলো ‘কাউকে বাদ দিয়ে নয়, কাউকে পেছনে ফেলে নয়’। আমরা অনুপ্রাণিত হই, গর্বিত হই যখন দেখি, বঙ্গবন্ধুর স্বাপ্নিক আদর্শ বিশ্ব দরবারে আজ সমাদৃত। আজ তাঁর দেখানো পথেই হাঁটছেন আমাদের প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা। তাঁর নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধুর দেখানো পথে হেঁটে আজ আমরা বাংলাদেশের সত্যিকারের উন্নয়ন ত্বরান্বিত করে ‘সোনার বাংলাদেশ’ গড়তে দৃঢ় প্রত্যয়ী। টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট বা এসডিজি’র কথা বলতে গেলে সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্য (এমডিজি) প্রাসঙ্গিক ভাবেই এসে যায়। বর্তমান এসডিজি’র পূর্বে প্রথমবারের মতো ২০০০ সালে সারা বিশ্বের জন্য জাতিসংঘ সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্য বা এমডিজি সর্ব-সম্মতভাবে গ্রহণ করেছিল। এর আগে কখনও এতো বড় পরিসরে সবাইকে এক সঙ্গে নিয়ে সারা বিশ্বের জন্য লক্ষ্যভিত্তিক একক উন্নয়ন এজেন্ডা নেওয়া হয়নি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তত্কালীন বাংলাদেশের সরকার প্রধান হিসেবে বাংলাদেশকে এই বৈশ্বিক এজেন্ডায় সম্পৃক্ত করেন। কিন্তু ২০০২ থেকে ২০০৬ মেয়াদে দেশের পরিচালনা উন্নয়নমুখী ছিল না, তাই এমডিজি নিয়েও দেশে বিশেষ কোনো কার্যক্রম পরিচালিত হয়নি। ২০০৮ সালে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ পুনরায় দেশ পরিচালনার দায়িত্বভার গ্রহণ করার পর তিনি এমডিজি’র আলোকে লক্ষ্যভিত্তিক উন্নয়ন কার্যক্রম গ্রহণ করেন। এমডিজি অর্জনের লক্ষ্যে ‘রূপকল্প : ২০২১’ ও ‘ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা’র মাধ্যমে দেশকে প্রস্তুত করেন। তাঁর প্রাজ্ঞ নেতৃত্বে পরিকল্পনার সুষ্ঠু বাস্তবায়নের মাধ্যমে এমডিজি’র ৮টি অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জনেই বাংলাদেশ সফলতা দেখায়। আমরা দারিদ্র্য দূরীকরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত সময়ের দুই বছর আগে, ২০১৩ সালেই অর্জন করে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দেই। দারিদ্র্য হ্রাসকরণ সংক্রান্ত এমডিজি-১ লক্ষ্য অর্জনে বিশ্বে অগ্রগামী ভূমিকা পালনের জন্য বাংলাদেশ জাতিসংঘ কর্তৃক ‘বিশেষ স্বীকৃতি’ লাভ করে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) বাংলাদেশকে এ জন্য ‘ডিপ্লোমা এ্যাওয়ার্ড’ও প্রদান করে। একই কারণে বাংলাদেশ ‘সাউথ-সাউথ এ্যাওয়ার্ড’ লাভ করে। এমডিজি’র চতুর্থ লক্ষ্য শিশু মৃত্যুহার কমিয়ে ২০১০ সালেই আমরা ২০১৫-এর লক্ষ্য অর্জন করি। এর জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে জাতিসংঘ ‘এমডিজি এ্যাওয়ার্ড-২০১০’ এ ভূষিত করে। শিশু ও মাতৃ মৃত্যুহার সংক্রান্ত এমডিজি-৪ ও এমডিজি-৫-এর লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বাংলাদেশ তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার করেছিল। এর ফলে বাংলাদেশের জন্য এ দুইটি লক্ষ্য অর্জন করা সহজ হয়েছিল। এ কারণে বাংলাদেশকে আরেকটি ‘সাউথ-সাউথ এ্যাওয়ার্ড’-এ ভূষিত করা হয়। নারী শিক্ষায় ব্যাপক সাফল্যের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে জাতিসংঘ হতে ‘ইউনেস্কো পিস ট্রি’ এ্যাওয়ার্ড প্রদান করে। এমডিজি-৫-এর আওতায় নারীর ক্ষমতায়নে তাঁর ভূমিকার জন্য ‘এজেন্ট অব চেইঞ্জ’ এ্যাওয়ার্ডে ভূষিত করা হয় এবং ইউএন-উইমেন এর পক্ষ থেকে ‘প্লানেট ৫০-৫০ চ্যাম্পিয়ন’ ঘোষণা করা হয়। এমডিজি-৭-এর লক্ষ্য অনুযায়ী পরিবেশ রক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত মোকাবিলায় সাফল্যের জন্য জননেত্রী শেখ হাসিনাকে তাঁর প্রাজ্ঞ নেতৃত্বের জন্য UNEP হতে ‘চ্যাম্পিয়ন অব দ্য আর্থ’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এমডিজি’র সবগুলো লক্ষ্য অর্জনে সফলতা দেখাবার মাধ্যমে বাংলাদেশ সারা বিশ্বকে অবাক করে দিয়েছিল। তাই জাতিসংঘের ২০১৩ সালের প্রতিবেদনে এমডিজি অর্জনে সফল ১৮টি দেশের তালিকায় জায়গা করে নেয় বাংলাদেশ। এমনটি সম্ভব হয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রাজ্ঞ এবং বলিষ্ঠ নেতৃত্বের কারণে। এমডিজি অর্জনকে প্রধানমন্ত্রী সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়েছিলেন বলেই আমরা এ সকল লক্ষ্যকে সামনে রেখে এগিয়ে গিয়েছি। এ সময়ে সরকার ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার (২০১১-১৫) মাধ্যমে পরিকল্পিত উন্নয়ন কার্যক্রম গ্রহণ করে বলেই এমডিজি’র আর্থ-সামাজিক বিভিন্ন সূচকে বাংলাদেশ এই সফলতা দেখাতে পেরেছে। তাই আজ আমরা বিশ্ব দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পেরেছি। সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে যেমন সাফল্য আমরা দেখিয়েছিলাম, তেমনই আমরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের ক্ষেত্রেও কাজ করে যাচ্ছি। এমডিজি-তে অনেক আর্থ-সামাজিক বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকলেও অনেকগুলো অর্থনৈতিক বিষয় অনুল্লেখিত ছিল। অর্থনৈতিক নিয়ামকগুলোর সঙ্গে পরিবেশগত বিষয়াদি এবং জলবায়ু পরিবর্তনকে এসডিজিতে বিস্তারিতভাবে নিয়ে আসা হয়েছে। এসডিজি’র এই সব নতুনত্বকে বিবেচনায় নিয়েই আমরা সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা সাজিয়েছি এবং সে অনুযায়ী আমরা গত তিন বছর নানামুখী প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি। এসডিজি বাস্তবায়নে সকল মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বয় সাধনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় নিয়মিত তদারকি করে যাচ্ছে। পরিকল্পনা কমিশন থেকে প্রয়োজনীয় সকল নীতি কাঠামো প্রণয়নের কাজ শেষ হয়েছে। এসডিজি অগ্রগতি পর্যালোচনার জন্য এটুআই হতে ডিজিটাল এ্যাপস্ ‘এসডিজি ট্র্যাকার’ তৈরি করা হয়েছে, যার সঙ্গে তথ্য-উপাত্ত দিয়ে সংযুক্ত আছে সকল মন্ত্রণালয় ও সরকারি দপ্তরসমূহ। এর আলোকে আমরা গত বছর জাতিসংঘে আমাদের আংশিক অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিল করেছিলাম আর এ বছর পরিকল্পনা কমিশন একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রণয়ন করছে। শেখ হাসিনার সরকারের পরিচালনায় গত দশ বছরে দেশ বদলেছে, গতিশীল হয়েছে অর্থনীতির চাকা, আর তাই নজরকাড়া উন্নতির মধ্য দিয়ে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। আমাদের সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা বাস্তবায়নের হাত ধরেই আমরা ক্রমে ক্রমে এসডিজি’র অধিকাংশ অভীষ্ট লক্ষ্যের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রাগুলো অর্জনে এগিয়ে যাচ্ছি। এক দশকে আমরা প্রকল্প বাস্তবায়ন করে ২০ লাখ কোটি টাকারও বেশি উন্নয়ন করেছি। বড় ধরনের পরিবর্তনের মাধ্যমে স্বপ্ন বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে শুরুতে কিছুটা সক্ষমতার অভাব থাকলেও এখন যেকোনো প্রকল্প বাস্তবায়নে আমরা শতভাগ সক্ষমতা অর্জন করছি। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনীতি একটি টেকসই গতিশীলতার মধ্যে এসেছে। এই প্রকল্পগুলো যখন শতভাগ বাস্তবায়ন হবে তখন বাংলাদেশ হবে একটি সমৃদ্ধ দেশ। এর প্রভাব ইতোমধ্যেই পরিলক্ষিত হতে শুরু করেছে। বিভিন্ন আর্থ-সামাজিক সূচকে আমাদের সাম্প্রতিক অগ্রগতি তার সুস্পষ্ট প্রমাণ। বঙ্গবন্ধুর রক্তের উত্তরাধিকার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর নির্দেশিত পথে দেশকে অনেক দূর নিয়ে এসেছেন। তাঁর হিরন্ময় নেতৃত্বে আমরা গত দশ বছরে জনবান্ধব উন্নয়ন কৌশল গ্রহণ করেছি যার মূলে রয়েছে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের পাশাপাশি দারিদ্র্য ও অসমতার হ্রাস। সরকারের গৃহীত বিভিন্ন নীতিমালা, বিশেষ করে সামাজিক নিরাপত্তা খাতের বরাদ্দ বৃদ্ধিসহ তা সুবিন্যস্ত করে এর গভীরতা বাড়ানো, অনগ্রসর অঞ্চলের উন্নয়ন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের জন্য ঋণের জোগান, কৃষি ও পল্লী উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব প্রদান, কর ব্যবস্থার গণমুখী সংস্কার প্রভৃতি নীতি মানুষে মানুষে বৈষম্য, গ্রাম-শহরের পার্থক্য, অঞ্চলভিত্তিক অসমতা হ্রাসে ভূমিকা রাখছে। শেখ হাসিনা’র হাত ধরেই আমরা ২০১৫ সালের আগেই এমডিজি অর্জন করেছি। আর তাই, যাঁকে বিশ্বখ্যাত ম্যাগাজিন ফোর্বস, ২০১৮ সালে বিশ্বের ২৬তম ক্ষমতাধর নারী হিসেবে মনোনীত করেছে; তাঁর হাত ধরেই আমাদের সরকারের গৃহীত পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার আওতায় উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করে ২০৩০ সালের আগেই বাংলাদেশ এসডিজি’র সকল লক্ষ্য অর্জন করে সারা বিশ্বের উপরে থাকবে বলে আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।লেখক :এফসিএ, এমপি ও মন্ত্রী, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারএসএ/  

সামাজিক সূচকে এগিয়েছে বাংলাদেশ

জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) প্রকাশিত মানবউন্নয়ন প্রতিবেদনে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন সামাজিক সূচকে ভারত ও পাকিস্তানের চেয়ে এগিয়ে আছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের মানুষের গড় আয়ু ওই দুটি দেশের চেয়ে বেশি। মাতৃমৃত্যু, শিশুমৃত্যু, স্কুলে পাঠগ্রহণ-এসব খাতে বাংলাদেশ বেশ এগিয়ে গেছে। গত শুক্রবার ইউএনডিপি’র প্রকাশিত মানবউন্নয়ন প্রতিবেদন ২০১৮-এ এই চিত্র পাওয়া গেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ি, ১৮৯টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৩৬তম, গতবার ছিল ১৩৮তম । এবার ভারতের অবস্থান ১৩০তম, আর পাকিস্তান ১৫০তম। গতবারের চেয়ে বাংলাদেশ দুইধাপ এগিয়ে গেলেও ভারত ও পাকিস্তান একধাপ পিছিয়েছে। ওই ১৮৯টি দেশের স্বাস্থ্য, শিক্ষা, গড় আয়সহ বিভিন্ন সূচকের ২০১৭ সালের পরিস্থিতি এই প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। সার্বিকভাবে গতবারের মত এবারও নরওয়ে শীর্ষস্থান দখল করে আছে। বাংলাদেশের মানুষ ভারত ও পাকিস্তানের মানুষের চেয়ে গড়ে অনেকদিন বাঁচে। মানব উন্নযন প্রতিবেদন অনুয়ায়ী, বাংলাদেশের মানুষের গড় আয়ু এখন ৭২ দশমিক ৮ বছর। ভারতে গড় আয়ু ৬৮ দশমিক ৮ বছর ও পাকিস্তানের ৬৬ দশমিক ৬ বছর। নবজাতক মৃত্যু ও পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু মৃত্যুর হার হ্রাসেও এগিয়ে আছে বাংলাদেশ। এক হাজার জীবিত শিশু জন্ম গ্রহন করলে বাংলাদেশে ২৮ দশমিক ২ জন নবজাতক মারা যায়। ভারত ও পাকিস্তানে এই সংখ্যা যথাক্রমে ৩৪ দশমিক ৬ এবং ৬৪ দশমিক ২। একইভাবে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু মৃত্যুর হার কমানোর ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ ভালো করছে। বাংলাদেশে ১ হাজার জীবিত শিশুর মধ্যে ৫ বছর বয়স হওয়ার আগেই মারা যায় ৩৪ দশমিক ২ জন। পাকিস্তানের তা দুই গুনের চেয়ে বেশি, ৭৮ দশমিক ৮ জন। আর ভারতের ৪৩ জন। সন্তান প্রসবজনিত মাতৃমৃত্যু অবশ্য তিন দেশই কাছাকাছি অবস্থানে। বাংলাদেশ ভারতের চেয়ে পিছিয়ে, পাকিস্তানের চেয়ে এগিয়ে। বাংলাদেশে প্রতি ১ লাখ গর্ভবতী মায়ের মধ্যে সন্তান জন্ম দিতে গিয়ে গড়ে মারা যান ১৭৬ জন। ভারত ও পাকিস্তানে এই সংখ্যা যথাক্রমে ১৭৪ ও ১৭৮। বাংলাদেশ সাক্ষরতার হার বর্তমানে ৭২ দশমিক ৮ শতাংশ। ভারত ও পাকিস্তানে যথাক্রমে ৬৯ দশমিক ৯ শতাংশ ও ৫৭ শতাংশ। অথচ মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) অনুপাতে বাংলাদেশ ওই দুটি দেশের চেয়ে কম খরচ করে। নারীর ক্ষমতায়নেও এগিয়ে বাংলাদেশ। ভারত ও পাকিস্তানের চেয়ে সংসদে নারী প্রতিনিধিত্ব বেশি। বাংলাদেশের সংসদে যতজন নারী আসন আছে, এর মধ্যে ২০ দমমিক ৩ শতাংশই নারী। পাকিস্তানে তা ২০ শতাংশ ও ভারতে ১১ দশমিক ৬ শতাংশ। তবে মাথাপিছু আয়ে বেশ পিছিয়ে বাংলাদেশ। ক্রয়ক্ষমতার সক্ষমতা অনুযায়ী (পিপিপি হিসাবে) বাংলাদেশের মানুষের মাথাপিছু গড় আয় এখন ৩ হাজার ৬৭৭ ডলার। ভারতের প্রায় দ্বিগুনের কাছাকাছি, ৬ হাজার ৩৫৩ ডলার। আর পাকিস্তানে ৫ হাজার ৩১১ ডলার। সার্বিকভা্বে অবশ্য দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের অবস্থান কিছুটা দুর্বল। ৮টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ৫ম। শীর্ষস্থানে আছে শ্রীলঙ্কা (৭৬তম)। এছাড়া বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে থাকা অন্য দেশগুলো হলো মালদ্বীপ (১০১তম), ভারত (১৩০তম) ও ভূটান (১৩৪তম)। বাংদেশের পিছনে আছে নেপাল (১৪৯ তম), পাকিস্তান (১৫০তম) ও আফগানিস্তান (১৬৮তম)। প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশের নারীরা পুরুষের চেয়ে বেশ পিছিয়ে আছেন। পুরুষরা নারীদের থেকে আড়াই গুন বেশি আয় করতে পারেন। নারীদের মাথাপিছু গড় আয় (পিপিপি হিসাবে) মাত্র ২ হাজার ৪১ ডলার। আর পুরুষের গড় আয় ৫ হাজার ২৮৫ ডলার। তবে বাংলাদেশের পুরুষের চেয়ে নারীরা বেশি দিন বাঁচেন। পুরুষেরা গড়ে ৭১ দশমিক ২ বছর বাঁচেন, নারীরা বাঁচেন ৭৪ দশামিক ৬ বছর। ইউএনডিপির ওই প্রতিবেদনে মানব নিরাপত্তার বিষয়টিও উঠে এসেছে। সেখানে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের প্রতি ১০ লাখ লোকের মধ্যে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারনে ১৩১জন বাস্তুচ্যুত হন। এছাড়া অভ্যন্তরীণভাবে নিজেদের বাড়িঘর ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হয়েছেন এমন মানুষের সংখ্যা ৪ লাখ ৩২ হাজার। সার্বিকভাবে দেশে প্রায় ২৩ লাখ এতিম শিশু রয়েছে। এসএ/    

৯০ শতাংশ মানুষ বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় (ভিডিও)

দেশের প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষ বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় এসেছে। ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দিতে সেপ্টেম্বরের মধ্যেই উৎপাদন সক্ষমতা ২০ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত করতে চায় সরকার। এছাড়া, বাসাবাড়ীসহ শিল্প কারখানায় গ্যাস সংকট থাকলেও এলএনজি সরবরাহ শুরু হলে, দেড় থেকে দুই মাসের মধ্যে সংকট কেটে যাবে আশা করছে জ্বালানি বিভাগ। বিদ্যুৎ বিভাগের হিসাবে ২০০৯ সালের শুরুতে বিদ্যুতের উৎপাদন সক্ষমতা ৪ হাজার ৯শ’ ৪২ মেগাওয়াট থাকলেও, এখন তা দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৬ হাজার মেগাওয়াটে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ উৎপাদন হয়েছে ১১ হাজার ৩শ’ ৮৭ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। সরকারিভাবে ৫৪ শতাংশ বিদ্যুতের চাহিদা পূরণ করা হলেও, ৪২ শতাংশ আসছে বেসরকারি খাত থেকে। আমদানি করা হয় আরও ৪ শতাংশ।  আর সেপ্টেম্বরের মধ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদন ২০ হাজার মেগাওয়াটের সক্ষমতায় উন্নীত করতে চায় সরকার। এছাড়া, বিদ্যুৎ বিতরণ ও সঞ্চালন ব্যবস্থার উন্নয়নসহ এ’ খাতে বড় ধরনের বিনিয়োগে সরকার কাজ করছে। এদিকে, পেট্রো বাংলার হিসাবে দেশে বর্তমানে দৈনিক গ্যাস উৎপাদন হচ্ছে ২ হাজার ৭৫০ মিলিয়ন ঘনফুট। অথচ ২০০৯ এর শুরুতে এই উৎপাদন ছিলো ১ হাজার ৭শ’ ৪৪ মিলিয়ন ঘনফুট। এছাড়া, শিগগিরই লিকুফাইড ন্যাচারাল গ্যাস বা এলএনজি সরবরাহ শুরু হলে গ্যাস সংকট কেটে যাবে বলে দাবি করছে, জ্বালানী বিভাগ। দেশে এখন সব মিলিয়ে ৪১ হাজার গ্রাহক গ্যাস সুবিধা ভোগ করছে।

এগিয়ে যাচ্ছে ই-কমার্স খাত (ভিডিও)

দেশে দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে ই-কমার্স খাত। গত দেড় বছরে শুধু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমভিত্তিক বিজনেস পেইজে লেনদেন হয়েছে প্রায় ১৭শ’ কোটি টাকা। দেশীয় ই-কমার্সের অন্যান্য সাইটের হিসেবে এর পরিমান অনেক বেশি বলে জানালেন ই-ক্যাবের প্রেসিডেন্ট শমী কায়সার। আর এ’ খাতকে সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনার জন্য শিগগিরই নীতিমালা করা হবে বলে জানালেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তফা জব্বার। দেশের অন্যতম সম্ভাবনাময় খাত ই-কমার্স। প্রাতিষ্ঠানিকতার বাইরে ব্যক্তি উদ্যোগেও চলছে বিভিন্ন ই-কমার্স সাইট। এর বেশিরভাগই পরিচালিত হয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। তবে, এই খাতে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে অবকাঠামোগত সহ বিভিন্ন সমস্যার কথা জানান উদ্যোক্তারা। ই-ক্যাবের প্রেসিডেন্ট জানালেন, ক্রেডিট কার্ডসহ আন্তর্জাতিক লেনদেনের ক্ষেত্রে এখনো কিছু সমস্যা রয়ে গেছে। আর প্রান্তিক পর্যায়ে ক্রেতার কাছে পণ্য পৌঁছে দিতে ডাক বিভাগের সহায়তা চাইলেন সংগঠনের ভাইস প্রেসিডেন্ট। ডাক, টেলি যোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রী বললেন, ই-কমার্স খাতকে আরো সুসংহত করতে প্রস্তাবিত ই-কমার্স নীতিমালাকে ডিজিটাল নীতিমালা নামে চূড়ান্ত করা হবে। ই-কমার্স খাত এক সময়ে গার্মেন্ট শিল্পকে ছাড়িয়ে যাবে বলে প্রত্যাশা প্রযুক্তি মন্ত্রীর।

পদ্মা সেতুতে বসানো হয়েছে চতুর্থ স্প্যান (ভিডিও)

পদ্মা সেতুতে বসানো হয়েছে চতুর্থ স্প্যান। এই স্পেনটি বসানো হয়েছে শরীয়তপুরের জাজিরা পয়েন্টে। এর ফলে দৃশ্যমান হলো স্বপ্নের সেতুর ৬০০ মিটার। এমন ৪১টি স্প্যান জোড়া দিয়েই তৈরি হবে স্বপ্নের পদ্মা সেতু। সকাল ৮টায় শরীয়তপুরের জাজিরার নাওডোবা প্রান্তে ৪০ ও ৪১ নম্বর পিলারের ওপর এই সুপার স্ট্রাকচার বসানো হয়। এর আগে শনিবার বিকেলে ১৫০ মিটার দৈর্ঘ্যরে স্প্যানটি এসে পৌঁছায় জাজিরা পয়েন্টে। পদ্মা সেতু প্রকল্পের কর্মকর্তারা জানান, তিন হাজার ১৪০ টন ওজনের একটি ভাসমান ক্রেন দিয়ে মাওয়া থেকে জাজিরা প্রান্তে স্প্যানটি আনা হয়। চতুর্থ স্পেন বসানোয় স্বপ্নের পদ্মাসেতুর ৬শ’ মিটার দৃশ্যমান হওয়ায় খুশি স্থানীয়রা। শরীয়তপুরের জাজিরা পয়েন্টে বসানো হয়েছে পদ্মাসেতুর চতুর্থ স্প্যান; দৃশ্যমান হলো ৬শ মিটার সেতু

সিলেটে হাইটেক পার্কের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে (ভিডিও)

সিলেটের কোম্পানিগঞ্জ ইলেট্রনিক সিটি বা হাইটেক পার্কের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে। এটির নির্মাণ কাজ শেষ হলে সিলেট থেকেই তৈরি করা সম্ভব হবে সফটওয়্যার, ইলেকট্রনিক পণ্য ও যন্ত্রাংশ। আর প্রথম দিন থেকেই এখানে কর্মসংস্থান হবে ৫০ হাজার মানুষের। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষণা অনুযায়ি, ২৮টি হাইটেক পার্কের মধ্যে কোম্পানিগঞ্জ ইলেট্রনিক সিটি বা হাইটেক পার্ক একটি। ফেব্র“য়ারির প্রথম দিকে প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমদ পলক উদ্বোধন করার পর দ্রুতগতিতে চলছে এর নির্মাণ কাজ। ১৬২ দশমিক ৮৩ একর জমিতে প্রকল্পের ভূমি উন্নয়ন, দৃষ্টিনন্দন ডিজাইনের প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুট বিশিষ্ট আইটি বিজনেস সেন্টার, ক্যাবল ব্রিজ, অভ্যন্তরীণ রাস্তা, গ্যাস লাইন স্থাপন এবং সীমানা প্রাচীর নির্মাণের কাজ চলছে পুরোদমে। হাইটেক পার্ক নির্মাণ হলে এখানে সফটওয়্যার, ইলেট্রনিক পণ্য ও যন্ত্রাংশ প্রস্তুত করা হবে। আর চালু হওয়ার দিন থেকে ৫০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হবে বলে জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমদ পলক। হাইটেক পার্কের নির্মাণ কাজ শুরু হওয়ায় উচ্ছ্বসিত স্থানীয় জনপ্রতিনিধি। আর চেম্বার নেতারা মনে করেন, শুধু সিলেটের নয়, প্রবাসী বিনিয়োগকারীরাও এখানে বিনিয়োগ করবেন। আগামি এক দশকের মধ্যে দেশের তরুণ প্রজন্ম তথ্য-প্রযুক্তিতে বিপুল অর্থ আয় করতে পারবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

আরও ৬৩টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের কাজ চলছে (ভিডিও)

দেশের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুতের চাহিদা সামাল দিতে প্রায় ১৬ হাজার মেগাওয়াট ক্ষমতার আরও ৬৩টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের কাজ চলছে। সরকারী ও বেসরকারী খাতে নির্মাণাধীন এসব কেন্দ্রের অগ্রগতি ভালো বলেই জানিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ। জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গ্যাস ও কয়লা নির্ভর বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো বাস্তবায়িত হলে উৎপাদন খরচও সহনীয় পর্যায়ে থাকবে। বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে শাহরিয়ার ইমনের দুই পর্বের ধারাবাহিকের আজ শেষ পর্ব। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ধারাবহিকভাবে বাড়ছে বিদ্যুৎ উৎপাদন। ২০২৪ সালের মধ্যে দেশে আরও ১৫ হাজার ৯শ ৬৭ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। এর মধ্যে সরকারীভাবে ২০টি কেন্দ্র থেকে আসবে ৭ হাজার ৮শ ৫৭ মেগাওয়াট। আর বেসরকারী খাতের ৪৩টি উৎপাদন কেন্দ্র থেকে আসবে আরও ৮ হাজার ১শ ১০ মেগাওয়াট। নতুন এসব কেন্দ্র উৎপাদনে আসলে বিদ্যুতের ক্রমবর্ধমান চাহিদা সামাল দেয়া সহজ হবে বলেই আশা বিদ্যুৎ বিভাগের। প্রতিনিয়ত নতুন কেন্দ্র উৎপাদনে আসায় ভবিষ্যতে বিদ্যুতের কোনো সমস্যা থাকবে না বলে জানান বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী। জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তেলের ওপর নির্ভরতা কমানো গেলে উৎপাদন খরচও অনেকাংশেই কমানো সম্ভব। দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রয়োজনের অতিরিক্ত বিদ্যুৎ প্রতিবেশী দেশগুলোতে রপ্তানি করার বিষযটিও ভেবে দেখা দরকার বলে মনে করছেন, বিশেষজ্ঞরা।

উন্নত চুলায় বদলে যাচ্ছে গ্রামীণ জীবনধারা    

গ্রামীণ এলাকার রান্নাঘরে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার ও দূষণ কমাতে ‘উন্নত চুলা’ ব্যবহারের প্রচলন করে ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি (ইডকল)। মফস্বল শহর ও গ্রামীণ এলাকায় জনপ্রিয় হচ্ছে এটি। কারণ, উন্নত চুলা রান্নাকাজে স্বস্তি আনে। পাশাপাশি জ্বালানি খরচ ও সময় বাঁচায়। সেইসঙ্গে পরিবেশের ক্ষতি কম হয়, স্বাস্থ্যঝুঁকিও কম।    গাবতলী উপজেলা ঘুরে দেখা গেল, ঘরে ঘরে এখন উন্নত চুলার ব্যবহার হচ্ছে। সেখানকার একটি বড় অংশে ব্যবহৃত হচ্ছে ইডকলের এ উন্নত চুলা। সন্ধ্যা গ্রামের শাহিনুর বেগম বলেন, এক পর্যায়ে হাঁপানির সমস্যা দেখা দেওয়ায় মাঝে মাঝে কেরোসিনের চুলা ব্যবহার করা শুরু করি। কিন্তু খরচে পোষায় না। এখন উন্নত চুলায় রান্নাবান্নার কাজ সারি। এতে ধোঁয়া নেই এবং সময়ও লাগে কম। সোনারায় ইউনিয়নের সর্ধনকুটি গ্রামের গৃহিণী রওশন আরা জানান, রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কম্পানি লিমিটেড (ইডকল) থেকে প্রথম যখন তাঁকে উন্নত চুলা ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়, তখন আমলে নেননি। অনেক বোঝানোর পর এই চুলা বসাতে রাজি হন তিনি। তিনি বলেন, মাটির চুলায় লাকড়িও বেশি লাগত। রান্না করতে সময়ও বেশি লাগত। পাতিলের নিচে অনেক কালি জমা হতো। যা ওঠাতে অনেক সময় লেগে যেত। শক্তিও খরচ হতো। ইডকলের বিভাগীয় ব্যবস্থাপক মো. আলী আকবর হোসেন বলেন, প্রচলিত মাটির চুলায় জ্বালানির অপচয় ঘটে ৯০ শতাংশ। উন্নত চুলার আগুন ছড়ায় না তাই দ্রুত তাপে রান্না দ্রুত হয়। ইডকল জানায়, ২০১৩ সালে উন্নত চুলা (ইমপ্রুভড কুক স্টোভস- আইসিএস) প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। চুলার নকশাটি করেছে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)। তারের জালি, চিমনি, মাটি, কংক্রিট, ছাকনি, এমএস শিট এবং র’ কুলের সমন্বয়ে তৈরি এটি।    প্রতিষ্ঠানটির দেওয়া তথ্য মতে, শুধু বগুড়া জেলায় তাদের তত্ত্বাবধানে বিভিন্ন সহযোগী সংস্থার মাধ্যমে এখন পর্যন্ত এক লাখ ৯০ হাজার উন্নত চুলা বসানো হয়েছে। বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদের (বিসিএসআইআর) গবেষণায় উঠে এসেছে, উন্নত চুলা ব্যবহারে ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ জ্বালানি সাশ্রয় সম্ভব। একই সঙ্গে এই চুলা ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ কম কার্বন নিঃসরণ করে। উন্নত চুলা পরিবেশসম্মত হওয়ায় এই খাতে অর্থায়নে এগিয়ে এসেছে বিশ্বব্যাংক। সংস্থাটি এ বাবদ বাংলাদেশকে সহজ শর্তে পাঁচ কোটি ডলার ঋণ দিচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডাব্লিউএইচও) তথ্য বলছে, মাটির চুলা ব্যবহারে ধোঁয়ায় প্রতিবছর বাংলাদেশে প্রায় এক লাখ মানুষের প্রাণহানি ঘটে। যার মধ্যে বেশির ভাগই শিশু। শ্বাসকষ্ট ও হাঁপানি রোগে কষ্ট পায় ২৫ লাখ মানুষ। এখানেও শিশু ও মায়ের সংখ্যা বেশি। বাংলাদেশে এখনও ৯০ শতাংশ পরিবার রান্নার জন্য প্রচলিত চুলা অর্থাৎ মাটির চুলা ব্যবহার করে বলে ইডকলের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। ইডকলের সহকারী ম্যানেজার রাসেল আহমেদ বলেন, উন্নত চুলার ব্যবহার বাড়াতে পারলে কর্মসংস্থানও তৈরি হবে। একে//এসি   

দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে মেট্রোরেল ( ভিডিও )

দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে বহুল প্রত্যাশিত মেট্রোরেল। চলছে ভায়াডাক্ট বা স্প্যান বসানোর কাজ। উত্তরা দিয়াবাড়ি’র পর, চলতি মাসে-ই আগারগাঁওয়ে আরো একটি স্প্যান বসানো হবে। এরপর, দুই দিক থেকে খুঁটি নির্মাণ ও স্প্যান বসানোর কাজ এগিয়ে নেয়া হবে। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে, উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত, প্রথম পর্যায়ে মেট্রোরেল চালুর লক্ষ্য দিয়ে কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা। জানাচ্ছেন, মুহাম্মদ নূরন নবী। দুই পর্বের ধরাবাহিকের প্রথম পর্ব আজ। এমআরটি লাইন-সিক্স- দেশের প্রথম মেট্রোরেল প্রকল্প। দিন কিংবা রাতে সমান তালে চলছে এই বিশাল কর্মযজ্ঞ। কাজের অগ্রগতির পরিসংখ্যান বলছে, প্রকল্পের প্রথম পর্বে, উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত ৯টি টেস্ট পাইলের ৯টিরই নির্মাণ কাজ শেষ। চেক বোরিং ৩শ’ ৮৩টির মধ্যে ৩শ’ ৬৯টি; বাণিজ্যিক পাইল দুই হাজার ৩শ’ ৭৮টির মধ্যে ৮শ’ ৩০টি শেষ হয়েছে। প্রকল্প এলাকার দিয়াবাড়ি অংশে এরিমধ্যে, একটি ভায়াডাক্ট বা স্প্যানের অবয়ব দাঁড়িয়ে গেছে। অন্যদিকে, এ’ মাসেই আগারগাঁও অংশে জেগে উঠছে, আরো দুটি মূল পিলার। তখন, সেখানেও ভায়াডাক্ট দৃশ্যমান হবে। দুই প্রান্ত থেকে নির্মাণ কাজ এগিয়ে নিয়ে, ২০১৯ এর জুনের মধ্যেই প্রাথমিক কাজ শেষ করার পরিকল্পনা প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের। জাপানের গাড়ি প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান কাওয়াসাকি-মিৎসুবিশি ট্রেন নির্মাণের ডিজাইন চূড়ান্ত করেছে। আর, ২০১৯ সালের ডিসেম্বরেই, প্রাথমিকভাবে ৬ সেট বগি দিয়ে, মেট্রোরেল সেবা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

সেবা খাতে মজুরি বেড়েছে বেশি : বিবিএস

কৃষি ও শিল্প খাতের তুলনায় সেবা খাতের কর্মীদের মজুরি বেড়েছে বেশি হারে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) সর্বশেষ যে মজুরি সূচক প্রকাশ করেছে, তা বিশ্নেষণ করে এ চিত্র পাওয়া গেছে। বিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, মজুরি বৃদ্ধিতে সেবা খাতের পরে রয়েছে শিল্প ও কৃষি খাতের শ্রমিকরা। এদিকে সারাদেশের শ্রমিকদের মধ্যে রংপুর বিভাগের শ্রমিকদের আয় বাড়ছে বেশি হারে। আর সিলেট বিভাগের শ্রমিকদের মজুরি সবচেয়ে কম হারে বেড়েছে। গত মার্চ মাসে গত বছরের একই মাসের তুলনায় সারাদেশে মজুরি বেড়েছে ৬ দশমিক ৩৮ শতাংশ। এর মধ্যে সেবা খাতে মজুরি বেড়েছে ৬ দশমিক ৫৬ শতাংশ। কৃষি খাতে বেড়েছে ৬ দশমিক ৩৪ শতাংশ। শিল্পে ৬ দশমিক ৩৯ শতাংশ মজুরি বেড়েছে। ঢাকা বিভাগে মজুরি বেড়েছে ৬ দশমিক ৮১ শতাংশ। শিল্প ও সেবা খাতের কর্মকাণ্ড ঢাকা বিভাগে বেশি। দেশের কলকারখানার বেশিরভাগই এ বিভাগে অবস্থিত। শিল্পসমৃদ্ধ চট্টগ্রাম বিভাগে ৫ দশমিক ৯৬ শতাংশ হারে বেড়েছে মজুরি। এ বিভাগেও অনেক শিল্পকারখানা রয়েছে, রয়েছে সেবা খাতের ব্যাপক কার্যক্রম। কৃষিনির্ভর রাজশাহী বিভাগে মজুরি বেড়েছে ৬ দশমিক ৩৫ শতাংশ। আরেক কৃষিনির্ভর বিভাগ রংপুরে মজুরি বেড়েছে ৭ দশমিক ৩২ শতাংশ। মার্চ মাসে খুলনা বিভাগে মজুরি বৃদ্ধির হার ছিল ৬ দশমিক ৪০ শতাংশ। বরিশাল বিভাগে মজুরি বেড়েছে ৫ দশমিক ৯৪ শতাংশ। সিলেট বিভাগে ৪ দশমিক ৭৯ শতাংশ হারে মজুরি বেড়েছে। কৃষি, শিল্প ও সেবা খাতের ৪৪ ধরনের পেশার মানুষের আয় নিয়ে বিবিএস মাসিক ভিত্তিতে এ মজুরি সূচক তৈরি করে থাকে। এর মধ্যে কৃষি খাতের ১১ পেশা, শিল্প খাতের ২২ পেশা ও সেবা খাতের ১১ ধরনের পেশার আয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। দৈনিক ভিত্তিক অদক্ষ শ্রমিকের মজুরির ভিত্তিতে করা এ সূচকে বেতনভুক্ত ও উচ্চমূল্যের চুক্তিতে যারা কাজ করছেন তাদের আয় অন্তর্ভুক্ত করা হয় না। আয় বাড়লেও মূল্যস্ম্ফীতির সঙ্গে কুলিয়ে উঠতে পারেন না শ্রমিকরা। কারণ শ্রমিকদের আয়ের সিংহভাগ ব্যয় হয় খাদ্য কেনার পেছনে। গড় খাদ্য মূল্যস্ম্ফীতি যে হারে বেড়েছে নিম্ন মজুরির শ্রমিকদের আয় সেই হারে বাড়েনি। মার্চ মাসে গড় খাদ্য মূল্যস্ম্ফীতি ছিল ৭ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ। গত কয়েক মাস ধরে প্রধান খাদ্যপণ্য চাল কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। এসএইচ/

চার জেলার লুঙ্গি রফতানি হচ্ছে ২৫ দেশে

বাঙালিদের কাছে লুঙ্গি প্রিয় এবং ঐতিয্যবাহী একটি পোশাক। এ পোশাক পড়তেই ভালোবাসেন প্রায় সবাই বলা যায়। তা দেশে বা দেশের বাইরে যেখানেই হোক না কেনো। সিরাজগঞ্জ, পাবনা, টাঙ্গাইল ও নরসিংদীর লুঙ্গি এখন দেশের গণ্ডি পেরিয়ে রফতানি হচ্ছে ২৫টি দেশে। প্রায় দুই কোটি পিস লুঙ্গি রফতানি হচ্ছেে এসব দেশে। বছরে প্রায় সাড়ে ১২ কোটি টাকা আয় হচ্ছে। বিদেশে অনেক বাংলাদেশি কাজ করছেন। তাদের চাহিদা পূরণ করতেই মালয়েশিয়া, সৌদি আরব, কাতার, ওমান, বাহারাইন, দুবাই, ইরাক, কুয়েত, লিবিয়া, ইন্দোনেশিয়া, কানাডা, ইংল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট্রসহ ২৫ দেশে লুঙ্গি রফতানি হচ্ছে। এসব দেশে বসবাসকারী বাঙালিরাই মূলত এ লুঙ্গির ক্রেতা। ইন্দোনেশিয়াসহ অনেক দেশের লোকজন শখ করে এ দেশের লুঙ্গি কিনেন। দেশে ১৯৯৮ সালে বিদ্যুৎচালিত পাওয়ারলুমে লুঙ্গি তৈরি শুরু হয়। বর্তমানে এ ধরনের তাঁতে ৯০ শতাংশ লুঙ্গি তৈরি হচ্ছে। এ ছাড়া চিত্তরঞ্জন ও পিটলুমে লুঙ্গি তৈরি হচ্ছে। পাবনা, সিরাজগঞ্জ, টাঙ্গাইল ও নরসিংদীর ছোট-বড় মিলিয়ে লুঙ্গি প্রস্তুতকারক ও বিপণনকারী প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা প্রায় সোয়া এক লাখ। তাঁতিরা জানান, একসময় নামে-বেনামে বিক্রি হওয়া লুঙ্গি এখন পরিচিতি পাচ্ছে নিজস্ব ব্র্যান্ডে। দেশে প্রথম লুঙ্গি ব্র্যান্ডিং শুরু করে নরসিংদীর হেলাল অ্যান্ড ব্রাদার্স। সোনার বাংলা টেক্সটাইল, ডিসেন্ট, ইউনিক, স্ট্যান্ডার্ড, আমানত শাহ, রুহিতপুরী, স্মার্ট, অমর, পাকিজা, এটিএম, বোখারী, ফজর আলী, অনুসন্ধান, জেএম, স্কাই, ওয়েস্ট, রংধনুসহ ১২৫ ব্র্যান্ডের লুঙ্গি বাজারে বিক্রি হচ্ছে। মান ভেদে প্রতিটি লুঙ্গি ৩৫০ থেকে ৭০০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ভালো ডিজাইনের কারণে বাংলাদেশের লুঙ্গির দিকে নজর এখন বিদেশিদেরও। বাংলাদেশি লুঙ্গির বড় ক্রেতা ভারতীয় ব্যবসায়ীরা। তারা বাংলাদেশ থেকে লুঙ্গি নিয়ে মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের বাজারে প্রতি পিস এক হাজার থেকে আড়াই হাজার টাকায় বিক্রি করছেন। ভারতের মালদহ জেলার একজন আমদানি ও রফতানিকারক জানান, বিভিন্ন রাজ্যের ১২ জন আমদানি-রফতানিকারক এখান থেকে লুঙ্গি নিয়ে ভারতের বিভিন্ন নামি প্রতিষ্ঠানের স্টিকার লাগিয়ে অন্য দেশে রফতানি করছেন। ভারতীয় আমদানিকারকরা বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছর প্রায় এক কোটি ২৫ লাখ পিস লুঙ্গি কেনেন বলে তিনি জানান। শাহজাদপুরের পাইকারি কাপড় ব্যবসায়ী আবদুল্লাহ আল মাসুদ জানান, ভারতীয় ব্যবসায়ীরা সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর, এনায়েতপুর; পাবনার আতাইকুলা, টাঙ্গাইলের করটিয়া ও নরসিংদীর বাবুরহাট থেকে প্রতি সপ্তাহে প্রায় ২৫ কোটি টাকার কাপড় কিনে নিয়ে যাচ্ছে। এতে এ অঞ্চলের তাঁতশিল্প প্রাণ ফিরে পেয়েছে। সোনার বাংলা টেক্সটাইলের মালিক রফিকুল ইসলাম বলেন, এখন ক্রেতারা লুঙ্গি কেনার ক্ষেত্রে ব্র্যান্ডকে প্রাধান্য দেন। বাংলাদেশ লুঙ্গি ম্যানুফ্যাকচারার্স, এক্সপোর্ট অ্যান্ড ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েসনের সভাপতি ও আমানত শাহ গ্রুপের চেয়ারম্যান মো. হেলাল মিয়া জানান, সরকারি সহযোগিতা পেলে তৈরি পোশাকের পর লুঙ্গি দিয়ে বিশ্ববাজারে নতুন জায়গা করে নেওয়া যাবে। এসএইচ/

© ২০১৮ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি