ঢাকা, শনিবার   ২৪ আগস্ট ২০১৯, || ভাদ্র ৯ ১৪২৬

Ekushey Television Ltd.

সন্তানের মন বুঝতে যা করবেন

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ১৯:২৮ ১৭ জুলাই ২০১৯

সন্তান বড় হচ্ছে আর কপালে ভাঁজ পরছে অভিভাবকদের। কখনও কখনও দুশ্চিন্তায় আক্রান্ত হচ্ছেন তারা। সন্তান কখন কি করে বসে এ নিয়ে অনেকেই আতঙ্কে থাকে। সন্তানের আচরণ নিয়ে ভাবছেন? কিন্তু তার মন নিয়ে ভেবেছেন কি? সন্তানের মনের কাছাকাছি থাকার চেষ্টা করেছেন কি?

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বয়সসন্ধির এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে আপনার সন্তানের হাতটা ধরুন শক্ত করে। সন্তানের ১২-১৭ বছর বয়সে অভিভাবকরা খানিকটা সচেতন হলেই সন্তান নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকতে হবে না। কয়েকটা নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলেই আপনার খুদে সন্তানের সমস্যাগুলোর সমাধান করতে পারেন সহজেই।

এবার জেনে নিন সন্তানকে যেভাবে বুঝবেন-

মন দিয়ে কথা শুনুন

সন্তানের সব কথা খুব মন দিয়ে শুনুন। আপাতভাবে সেগুলো যতই অযৌক্তিক মনে হোক না কেন। তবুও সন্তান কি বলছে বা কি বলতে চাইছে সেটা আগে শুনুন, যাচাই করুন। তারপরই আপনার বক্তব্য তুলে ধরুন সন্তানের সামনে। তবে আপনার মতামত ওর উপর চাপিয়ে দেবেন না।

পরিবর্তন আনুন আচরণে

প্রত্যক বাবা-মাকে মনে রাখতে হবে আপনার সন্তানের শারীরিক পরিবর্তনের সঙ্গে মানসিক পরিবর্তন হয়েছে। কাজেই আপনার অভিভাবক সুলভ আচরণে পরিবর্তন আনা দরকার। ছোটবেলায় যে ভাবে ওকে শাসন করতেন, তার ধরন বদলে ফেলুন আজই। 

ঘ্যানঘ্যান করবেন না

কোন কাজ করা নিয়ে আপনার সন্তানের সামনে এক কথা বার বার বলবেন না। এই সময়টায় আপনার কথায় বৈচিত্র আনুন। অন্যথায় বেঁকে বসতে পারে আপনার সন্তান।

পারস্পরিক আলোচনা দরকার

সপ্তাহে অন্তত একটা দিন সময় রাখুন পারিবারিক আলোচনার জন্য। এই দিনটায় সন্তানের মুখোমুখি বসে ওর অভাব-অভিযোগগুলো নিয়ে পারস্পরিক আলোচনা করুন বাড়ির সবাই। এ ক্ষেত্রে ওর মন বুঝতে সুবিধা হবে। পাশাপাশি সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো ওর থেকে আড়াল করবেন না, বরং আলোচনা করুন। সমাজর বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ওর মতামত জানতে চান। এতে ওর মানসিক বিকাশ হবে।

বন্ধুর মত সম্পর্ক রাখুন

বাবা-মা কখনও বন্ধু হতে পারে না। আপনি সন্তানের বন্ধু স্থানীয় বা বন্ধুর মতো হতে পারেন। ও হয়ত আপনাকে সব কথা বলবে না। তবে এমন সম্পর্ক রাখুন যাতে ওর যে কোন সমস্যার বেশিরভাগটাই আপনাকে এসে নির্দ্বিধায় বলতে পারে। এ ক্ষেত্রে আপনার প্রতিক্রিয়াও মার্জিত হওয়া প্রয়োজন। 

খেলাধূলায় উৎসাহিত করুন

ঘণ্টার পর ঘণ্টা পড়াশোনা না চাপিয়ে বিভিন্ন রকম শারীরিক খেলাধূলায় সন্তানকে উৎসাহ দিন। এতে ওর মন হালকা হবে। অনুভূতিগুলো প্রকাশ পাবে। বাইরের জগতে মিশতে ওকে উৎসাহ দিন।

অনুরোধের সুরে নির্দেশ দিন

এই বয়সের বাচ্চারা একটু বেশিই অভিমানী হয়। কাজেই আপনার বাক্যচয়ন, শব্দ চয়নে গুরুত্ব দিন। নির্দেশ না দিয়ে অনুরোধ করুন। এতে ফল পাবেন। বাবা-মাও যে ওর ওপর নির্ভর করছেন সেটা ওকে বুঝতে দিন।

সম্মান দু-তরফেই

আপনি আপনার সন্তান থেকে সম্মান আশা করবেন এটাই স্বাভাবিক নিয়ম। কিন্তু আপনি কি খেয়াল করেছেন ওর সঙ্গে আপনি কেমন ব্যবহার করেন? ওকেও ওর প্রাপ্য সম্মান দিন। তাতেই যথার্থ সম্মান ফেরত পাবেন আপনিও। বয়সের ফারাকের কারণে দুজনের পছন্দ মিলবে না কখনও। তবু ওর পছন্দের প্রতি আগ্রহ দেখালেই বিপরীতে আপনিও গুরুত্ব পাবেন।

গতিবিধিতে নজর রাখুন

আপনার সন্তান কি ধরনের বই পড়ছে, কাদের সঙ্গে মিশছে,  মোবাইল আসক্তিসহ সে সবদিকে খেয়াল রাখুন। পাশাপাশি ওর কথাবার্তাও খেয়াল করুন। তবে কোন বিষয়ে নির্দেশ চাপিয়ে দেবেন না।

কাউন্সিলিং প্রয়োজন

বয়সসন্ধি এমন একটা সময় যখন অনেক ক্ষেত্রেই সন্তানের গতিবিধি বুঝতে পারেন না। সে ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। যদি মনে হয় সন্তান আপনার থেকে কোন কথা লুকিয়ে রেখেছে, তখন তাকে এমন কারো সঙ্গে মিশতে সাহায্য করুন, তাতে ওর মানসিক পরিস্থিতি বোঝা সহজ হবে।

এএইচ/কেআই

 

© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি