ভয়ভীতি মুক্ত সাংবাদিকতার পরিবেশ তৈরির প্রতিশ্রুতি তথ্যমন্ত্রীর
প্রকাশিত : ১৮:৫২, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, দেশের সাংবাদিক সমাজকে প্রতিশ্রুতি দিয়ে ঘোষণা করতে চাই আমরা একটি ভয়ভীতি মুক্ত সাংবাদিকতার পরিবেশ তৈরি করব।
তিনি বলেন, তথ্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মানেই হচ্ছে সাংবাদিকদের বন্ধু অথবা সাংবাদিকদের শত্রু। সুতরাং শিগগিরই দেশে একটি ভয়ভীতি মুক্ত সাংবাদিকতার পরিবেশ তৈরি করা হবে।
আজ শনিবার দুপুরে বরিশাল জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে মহান শহীদ দিবস ও আর্ন্তজাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি একথা বলেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে এর আগে কখনোই অবাধ নির্বাচন হয়নি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একটি অবাধ নির্বাচনের মাধ্যমে দায়িত্ব নিয়েছেন। নির্বাচন নিয়ে কোন ধরনের বাঁকা পথ, কারচুপি বা কোন বিতর্কের সুযোগ নেই। এমন কি এই নির্বাচন সম্পর্কে কোন মহল বা ব্যক্তি আজ পর্যন্ত প্রশ্ন তুলতে পারেনি।
তারেক রহমানের ‘আই হ্যাভ এ প্লান’, সেই পরিকল্পনা অনেক বিস্তৃত-এ কথা উল্লেখ করে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী বলেন, তারেক রহমান জনসাধারণের নির্বাচিত নেতা। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আমরা তাঁর নেতৃত্বে একটি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি।
তিনি বলেন, নারী অধিকার, প্রত্যেকটি ফ্যামিলিতে কার্ড পৌঁছানো, বেকারদের কর্মসংস্থান, কৃষকদের জন্য ঋণ মওকুফ এবং কৃষক কার্ড দেয়াসহ অন্যান্য পরিকল্পনাকে গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, সারাদেশে বিশ হাজার কিলোমিটারের মতো খাল খননের পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে। জোয়ার ভাটার নদী থেকে পানি কৃষকের জমি পর্যন্ত নিয়ে যেতে চাই। যাতে কৃষির উৎপাদনের কোন পানির অভাব না ঘটে।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ভোলার গ্যাস যদি পরিপূর্ণভাবে উত্তোলন করা যায় তাহলে শুধু দক্ষিণাঞ্চল নয়, সারা দেশের চাহিদা আমরা পূরণ করতে পারব, পাশাপাশি জ্বালানির চাহিদা পূরণ করতে পারব।
এছাড়াও, দক্ষিণাঞ্চলের পায়রা বন্দরকে রাজধানীর সাথে যুক্ত করার প্রস্তুতি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। সেজন্য পায়রা পর্যন্ত চার লেনের রাস্তার কাজ নতুন করে প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে।
কুয়াকাটার সম্ভাবনাকে গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, কুয়াকাটাকে আধুনিক পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত করতে পারলে এবং সরাসরি যদি বিমান চলাচলের ব্যবস্থা করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হলে আন্তর্জাতিক পর্যটকদেরকে আকর্ষণ করতে পারব। এতে এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নয়ন হবে, তেমনি বাংলাদেশে বৈদেশিক মুদ্রা বাড়বে।
তিনি বলেন, ১৮০ দিনের একটি পরিকল্পনা আমরা হাতে নিয়েছি। নির্ধারিত দিনের কাজ কি কি হতে পারে এবং সেগুলো বাস্তবায়নযোগ্য করতে আমরা কাজ করব।
অনুষ্ঠান শেষে তিনি বরিশাল প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় যোগ দেন।
সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, গণমাধ্যম একটা প্রচলিত ধারায় চলছে বহু বছর ধরে। মাঝখানে কিছু প্রযুক্তি প্রবেশ করেছে। কিন্তু কালচার অফ মিডিয়ার খুব একটা পরিবর্তন হয়নি। অথচ ইকো সিস্টেমের অনেক পরিবর্তন হয়ে গেছে। সেজন্য প্রত্যেকটা জায়গায় ট্রান্সফরমেশন অনেক বড় হয়ে গেছে। সেক্ষেত্রে নলেজ ট্রান্সফর্মেশন তেমন হয়নি। এসময় তিনি সাংবাদিকদেন নানা সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলেন।
মতবিনিময় সভায় বরিশাল প্রেসক্লাবের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ সিনিয়র সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
পরে তার নিজ নির্বাচনী এলাকা গৌরনদী আগৈলঝাড়ায় নানা কর্মসূচিতে অংশ নেন মন্ত্রী।
এএইচ
আরও পড়ুন










