১৯৭১ সালের জামায়াত আর বর্তমান জামায়াত এক না: গোলাম পরওয়ার
প্রকাশিত : ২০:২২, ১ মে ২০২৬
একাত্তরের মহান স্বাধীনতাযুদ্ধের আগের জামায়াতে ইসলামী আর এখনকার জামায়াত এক নয় বলে মন্তব্য করেছেন দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।
শুক্রবার (১ মে) বেলা ১১টার দিকে কুমিল্লা টাউন হল মাঠে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন আয়োজিত শ্রমিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামী অতীতের অবস্থান থেকে বহু পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে গেছে। সেই সময়ের (১৯৭১ সাল) জামায়াত আর বর্তমান জামায়াত এক নয়। দলটির গঠনতন্ত্র, নীতি ও পদ্ধতিতে একাধিকবার সংশোধন আনা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমান গঠনতন্ত্রে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে যে, মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংগ্রামকে শ্রদ্ধার সঙ্গে ধারণ করা হয়। এমনকি দলটির সদস্য হতে হলে দেশের স্বাধীনতার প্রতি শ্রদ্ধা ও আত্মত্যাগের স্বীকৃতি দেওয়া বাধ্যতামূলক।’
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, ‘একটি জাতি যদি স্বাধীনতার ৫০ বা ৬০ বছর পরেও পুরনো বিতর্কে বিভক্ত থাকে, তবে সেই জাতির এগিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। ইতিহাস নিয়ে পড়ে থাকলে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করা সম্ভব নয়। আমাদের পর স্বাধীন হওয়া অনেক দেশ- যেমন মালয়েশিয়া বা সিঙ্গাপুর, আজ অনেক এগিয়ে গেছে, কারণ তারা বিভাজনের রাজনীতি থেকে বেরিয়ে এসেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এত সাংবিধানিক পরিবর্তনের পরও একটা মহল যখন এই বিতর্ক জিয়ে রাখতে চান, এটা দেশপ্রেম নয়, স্বাধীনতার প্রেম নয়; এটা হচ্ছে জাতিকে বিভক্ত করার একটি বিদেশী ষড়যন্ত্রের অংশ। তারা এই কথাগুলো বলে। এই দুরভিসন্ধি থেকে জাতিকে বেরিয়ে আসতে হবে। আমি মনে করি, আমাদের এগবার সময় আছে। জাতির মধ্যে একটা ন্যাশনাল কনসেন্সাস তৈরি হোক। আমাদের এই বিষয়ে এখানেই সমাধান করা উচিত।’
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির মুক্তিযুদ্ধের সংজ্ঞা প্রসঙ্গে আনীত বিলের ব্যাপারে খুবই সুন্দর বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি সেখানে বলেছেন, আমরা এই জাতিকে বিভক্ত করার রাজনীতি থেকে ফিরে আসতে চাই। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েও আমরা সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তখনো বলেছিলাম, এই বিলের মধ্যে রাজনৈতিক খারাপ উদ্দেশ্য আছে, এটা সংশোধন করা উচিত। কিন্তু বারবার এই সংজ্ঞা পরিবর্তন করা হয়েছে, অতীতে কোনো সরকারের সময় এটা ছিল না। দেশের মানুষকে বিভক্ত করার রাজনীতিতে যে অপশক্তি তৎপর আছে, তাদেরই অপতৎপরতার ফল হিসেবে এটাকে এভাবে রাখা হয়েছে। এ ব্যাপারে অত্যন্ত গঠনমূলক ও দায়িত্বশীল ভূমিকা রেখে সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা বক্তব্য রেখেছেন।’
বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন কুমিল্লা মহানগরী সভাপতি অধ্যাপক রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা মাওলানা এটিএম মাসুম, মহানগরীর প্রধান উপদেষ্টা কাজী দ্বীন মোহাম্মদ, কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা মাওলানা ইয়াছিন আরাফাত এবং কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি মু. মজিবুর রহমান ভুঁইয়া। মহানগরী সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট জিল্লুর রহমান ও সহকারী সেক্রেটারি মু. মাইন উদ্দিন সরকার সমাবেশ পরিচালনা করেন।
এমআর//
আরও পড়ুন










