ঢাকা, শনিবার   ২৪ আগস্ট ২০১৯, || ভাদ্র ৯ ১৪২৬

Ekushey Television Ltd.

২১ বছরের জঞ্জাল সরানো একদিনের বিষয় ছিল না

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ২২:১৮ ১৫ আগস্ট ২০১৭ | আপডেট: ১৭:২৯ ১৮ আগস্ট ২০১৭

আমিনুল ইসলাম তৃণমূল থেকে উঠে আসা একজন সজ্জন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের নাম। ওয়ার্ড, চট্টগ্রাম মহানগর,  এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আজ তিনি জাতীয় রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠিত।

তিনি ১৯৬৫ সালে চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় এক মুসলিম সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা আওয়ামী রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত থাকায়  ছাত্রজীবন থেকে মুজিব আদর্শের রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে লোক প্রশাসন বিষয় নিয়ে লেখাপড়া করেছেন। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির উপ-প্রচার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

১৫ আগস্ট ও সমসাময়িক রাজনীতি নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেছেন ইটিভি অনলাইনের সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন কাজী ইফতেখারুল আলম তারেক। 

ইটিভি অনলাইন : আজ ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যাকাণ্ড এবং ৭৫ পরবর্তী সময়ে  বাংলাদেশে কেমন পরিস্থিতি ছিল একটু বলুন ?   

আমিনুল ইসলাম : ১৫ই  আগস্ট বাঙালি জাতির জন্য অত্যন্ত  দুর্ভাগ্যজনক এবং অনাকাঙ্ক্ষিত একটি দিন। মূলত ১৫ আগস্ট নিছক কোনো ব্যক্তি কিংবা রাষ্ট্রপ্রধানের হত্যাকাণ্ড ছিল না। ১৫ই আগস্টের ঘটনা যদি আমরা পর্যালোচনা করি  তাহলে দেখব সেটা মূলত মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত  যে চেতনা, যে স্পিরিট, বাঙালির হাজার বছরের যে ঐতিহ্য সেটাকে মুছে ফেলার একটা ষড়যন্ত্র ছিল। আপনি খেয়াল করলে দেখবেন, বিশ্বের বহু রাজনীতিবিদ এমন হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। কিন্তু কোথাও রাষ্ট্রনায়কদের হত্যার পর এইভাবে ইতিহাস মুছে ফেলার নজির নেই। বঙ্গবন্ধু ও তাঁর  পরিবারকে  যেভাবে হত্যা করা হয়েছে , পৃথিবীর আর কোন রাষ্ট্র নায়কদের পরিবারের উপর এমন বর্বরোচিত  হত্যাকাণ্ড আর কোন দেশে চালানো হয়নি , ঠিক তেমনি হত্যা পরবর্তী সময়ে সংবিধান লঙ্ঘন অথবা সে দেশের ইতিহাস বিকৃতির কোনো দেশে  করতে দেয়া দেওয়া হয়নি। অথচ সেটা বাংলাদেশে হয়েছে। এজন্য আমি মনে করি এটি ছিল দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক সুগভীর চক্রান্তের একটি অংশ। যার মাধ্যমে জাতির পিতাকে হত্যা করা হয়। এরই একটি সম্পূরক হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছিল ৩ নভেম্বর জাতীয় ৪ নেতাকে হত্যা এবং সংবিধানকে ক্ষতবিক্ষত করার মাধ্যমে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, ইতিহাসকে মুছে ফেলে জাতিকে একটি ভঙ্গুর করার অংশ ছিল।

ইটিভি অনলাইন : বঙ্গবন্ধু হত্যাক্যাণ্ডের পর টানা ২১ বছর আওয়ামীলীগ ক্ষমতার বাহিরে ছিল, এসময়  ইতিহাস বিকৃতি ও সংবিধান লঙ্ঘন করা হয়েছে, এক্ষেত্রে আপনি কোন বিষয়গুলোর  দুর্বলতাকে দায়ী করবেন ? 

আমিনুল ইসলাম : ইতিহাস বিকৃতির চেষ্টা ৭৫ থেকে ৯৬ পর্যন্ত এই ২১ বছর করা হয়েছে। আওয়ামীলীগ ক্ষমতার বাহিরে থাকায় এই কাজটি সুকৌশলে করা হয়েছে। বাংলাদেশের একজন প্রধান বিচারপতি পরে যিনি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান ছিলেন বিচারপতি হাবিবুর রহমান, তাঁর মতো একজন বরেণ্য ইতিহাসবিদকে লিখতে বাধ্য করা হয়েছিল যে - ` ইতিহাস এখন রিমান্ডে,  অর্থাৎ রিমান্ডে নিয়ে যেমন আসামিকে নানাবিধ ও নির্মম নির্যাতনের মাধ্যমে তাঁর মুখ থেকে কখনো সত্য, কখনো মিথ্যা জোর করে আদায় করা হয়, ওই একুশ বছর বাংলাদেশে সে মাফিক জিয়া ও এরশাদ গোষ্ঠী কর্তৃক এমনভাবে ইতিহাসকে ভূলুণ্ঠিত করা হয়ছে যেন ইতিহাস তাঁদের ইচ্ছামাফিক হয়। সংবিধানকে নিজের মতো করে তোলা হয়েছিল। যেন তারা যা চায় তাই হয়। যে কারণে দেখা যাবে ওই সময় থেকে আমাদের প্রাথমিক শিক্ষার পর্যায় থেকে সবস্তরে মিথ্যা তথ্য দেয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।

যে জিয়া বঙ্গবন্ধুর পক্ষে একজন সমরিক অফিসার হিসেবে ২৭ মার্চ ঘোষণাপত্র পাঠ করেছিলেন, সেই জিয়াকে স্বাধীনতার ঘোষক, পরবর্তীতে পারলে বঙ্গবন্ধুর চেয়ে উপরে নিয়ে যাবার অপচেষ্টা করা হয়েছে। হেন কোনো অপচেষ্টা বাকি ছিল না যে তারা করেনি। ২১ বছরের এই জঞ্জাল সরানো একদিনের বিষয় ছিল না। এটা অবশ্যই একটা কঠিন কাজ ছিল। এই কাজটি যেমন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাকে করতে হয়েছিল, ঠিক তেমনি ইতিহাসকে একটি সঠিক জায়গায় আনার পাশাপাশি বাংলাদেশের অগ্রগতির ধারাকেও এগিয়ে নেয়ার কাজটি করতে হয়েছে।

বর্তমানে ইতিহাস বিকৃতির গতিধারাকে রোধ করা হয়েছে। আজকে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে পাঠ্যপুস্তকের সঠিক ইতিহাসকে লিপিবদ্ধ করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তবে এটা শেষ হয়ে গেছে এটা বলা যাবে না। এই কাজের প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ছেলে মেয়েরা জানতে পারছেন বঙ্গবন্ধু কী ছিলেন? কেমন ছিলেন ? আওয়ামী লীগের কী অবদান ছিল? এছাড়া বিএনপি তো কোনো দলও ছিল না?

অতীতের সরকারগুলো এই ইতিহাস বিকৃতিকে এমন পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছিল, ৭০, ৭১ সালের তৎকালীন জামাত ইসলামির প্রচারপত্র দৈনিক সংগ্রাম, সে পত্রিকা পড়লেই যুদ্ধাপরাধের আর কোনো সাক্ষী লাগে না। যেখানে তারা প্রতিদিন বলত,  যেমন গোলাম আযম, নিজামী,  মুজাহিদরা প্রতিদিন বলেছিল- পাকিস্তান রক্ষার্থে তারা আলবদর বাহিনী গড়ে তুলেছে। যে কোনো মূল্যে তারা পাকিস্তানের অখণ্ডতা রক্ষা করবেন।  মুক্তিযোদ্ধাদের দুষ্কৃতিকারী বলেছিল। বুদ্ধিজীবীদের হত্যার পরিকল্পনা করেছিল।  এগুলো তাদের নিত্যকার বক্তব্য ছিল। এসব লোককে জিয়াউর রহমান এদেশে রাজনীতি করার সুযোগ দিয়েছে, তাদের মন্ত্রী এমপি বানিয়েছে। তাদের গাড়িতে জাতীয় পতাকা তুলে দিয়েছে। যে কারণে অনেক সময় এদেশের তরুণ সমাজ জানতো না যে তাদের কি ভূমিকা ছিল। এইসব কঠিন জায়গা থেকে বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা জনগণকে মুক্তির পথ দেখাচ্ছেন। ইতিহাস বিশ্লেষণ করে, আন্তর্জাতিক আদালত স্থাপন করে মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচারের মাধ্যমে জাতিকে কলঙ্কমুক্ত করার চেষ্টা করছেন। অতীতে দেখা গেছে পৃথিবীর কোনো দেশে মানবতাবিরোধী আসামিদের আপিলের বিধান ছিল না। অথচ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ট্রাইব্যুনালে আপিলের বিধান রেখে নজির স্থাপন করেছেন। সেই ন্যায় বিচারের মানদণ্ডে অপরাধীদের বিচার করা হয়েছে।

ইটিভি অনলাইন : তরুণ প্রজন্মের কাছে বঙ্গবন্ধুকে পৌঁছে দিতে আপনাদের উদ্যোগ সম্পর্কে কিছু বলুন?

আমিনুল ইসলাম : আমরা ইতিমধ্যে দুটি অসাধারণ বই পেয়েছি, একটি হল বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী, যেটা আরও একটি অংশ প্রকাশের চেষ্টা করা হচ্ছে। আর অন্যটি হলো কারাগারের রোজনামচা। এই দুটি বই পাঠ করলে ইতিহাসের অনেক দ্বারপ্রান্তে যেতে পারবো।

ইটিভি অনলাইন : শুধু আগস্ট মাস আসলে বঙ্গবন্ধু হত্যার আসামিদের দেশে ফিরিয়ে আনার কথা শোনা যায়, অন্যসময় এই তৎপরতায় গতি কম কেন?  

আমিনুল ইসলাম : এটা আসলেই পুরোটা সত্য নয়। বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা সাধারণ কোনো বিষয় ছিল না। এর আগেও বলেছি এটি দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রের অংশ। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে শুধু ইতিহাস বিকৃতি ঠেকালে হবে না,  এর সাথে সাথে আমাদেরকে তো দেশটাকেও এগিয়ে নিতে হবে। এবং এই এগিয়ে নেয়ার জন্য তো ৩০ লাখ লোক প্রাণ দিয়েছে। সমৃদ্ধ উন্নত বাংলাদেশ দেখার জন্য। সে কাজগুলো তো আমাদের করতে হচ্ছে। তবে এটা ঠিক এই মাসের একটা বাড়তি গুরুত্ব আছে। আমার বাবার যখন মৃত্যু হয়, আমার মায়ের যখন মৃত্যু হয়, সেই দিনটিতে আমরা যেমন ধর্মীয় দোয়া মহফিল করি, ভাবগম্ভীর পরিবেশে যেমন তাঁদের স্মৃতির প্রতি সম্মান জানাই, ঠিক তেমনি এই বিশেষ দিনটিও গুরুত্ব দিয়ে পালন করে থাকি।

আপনি যেটা বললেন - বাকি ১১ মাস আমরা কেন করি না, বলি না। আমরা আওয়ামী লীগ যদি এই দাবি থেকে বিচ্যুত হতাম তাহলে তো ৯৬-এর ক্ষমতায় আসার পর বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনিদের বিচারের আওতায় আনতাম না। আমরা এক মুহূর্তের জন্য সেই ঘাতকদের ক্ষমা করতে পারবো না। এখনও যারা বিদেশে অবস্থান করছেন তাদের দেশে ফিরিয়ে আনতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে নিয়মিত যোগাযোগ করা হচ্ছে। সাধারণত এই মাস  আসলেই এই দাবিটা জোরালো হয়।

ইটিভি অনলাইন : বঙ্গবন্ধুর খুনিদের দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া কতোদূর এগিয়েছে?

আমিনুল ইসলাম : কালকেও তো মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কানাডার সরকার প্রধানকে বলেছেন খুনিদের ফেরত দেন। ওই দেশগুলোতে মানবাধিকারের কথা বলে কিছু আইন করা হয়েছে। আপনি জানেন কানাডায় মৃত্যুদণ্ডের বিধানই নাই। আমাদের চেষ্টা অব্যাহত আছে। আমরা শেষ পর্যন্ত চেষ্টা চালিয়ে যাব। কি কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগকে এদেশে রাজনীতি করতে হয়েছে। ১৯৭৫ এর ১৫ আগস্টের পর এদেশে বঙ্গবন্ধুর নামে একটা সভা, সমাবেশ তো দূরে থাক, তৎকালীন স্বৈরাচার জিয়া একটা মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করতে দেয়নি। ওই সময় যে মাওলানা মিলাদ পড়িয়েছেন তাঁদের পর্যন্ত গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এটা আমাদের আবেগ অনুভূতির জায়গা নয়, এটা আমাদের চেতনার জায়গা।

ইটিভি অনলাইন : বঙ্গবন্ধুর শাহদাতবার্ষিকীতে যেখানে পুরো জাতি শোকাচ্ছন্ন থাকেন, ঠিক ওই সময়ে বেগম খালেদা জিয়া তার জন্মদিনের উৎসব পালন করেন। এই বিষয়টিকে আপনারা কীভাবে দেখছেন ? 

আমিনুল ইসলাম : দেখুন, এটা মানুষের মানসিক বিকৃতির চরম বহিঃপ্রকাশ। আমরা যদি বেগম জিয়ার দিকে তাকাই, তাহলে আমরা দেখব তিনি ৯২ সালের আগে কখনও এই দিনে জন্মদিন পালন করেননি। তাহলে আমরা কি ধরে নিব যে উনি ৯২ সালে জন্মগ্রহণ করেছেন। তাহলে উনি এতোদিন করেননি কেন? ওনার স্কুলের কাগজে একটা, বিয়ের কাবিনে জন্মতারিখ আরেকটা, পাসপোর্টে আরেকটা। এই তিনটা বাদ দিয়ে ৯২ সালের পরে তিনি এইদিন বেছে নিয়েছেন। বেগম জিয়া যদি বাংলাদেশে জন্ম না করে ইউরোপ আমেরিকায় জন্ম নিতেন, তাহলে জাতির সাথে এমন প্রতারণার দায়ে রাজনীতি থেকে বিদায় নিতে হতো অথবা সে দেশের মানুষ তাঁকে নিন্দা, ঝাড়ু পেটা করে বিদায় দিত যে তুমি প্রতারক। কিন্তু আমাদের দুর্ভাগ্য যে এটা বুঝবার মতো ক্ষমতা, সেই মূল্যবোধ, নৈতিকতা আমাদের সবার নেই।

আমার কাছে মনে হয়, তাঁকে যারা বুদ্ধি দেয় তারাই হয়তো বুদ্ধি দিয়েছিল ১৫ আগস্টের মূল বেনিফিসারি কিন্তু জিয়াউর রহমান। ১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ডের সাথে তার স্বামীর সম্পৃক্ততার অভিযোগ আছে। হয়তো তার বুদ্ধিদাতারা বলেছেন- শেখ মুজিবের মৃত্যু মানেই তোমার জন্ম, তোমার রাজনীতির জন্ম, স্বাধীনতা বিরোধীদের জন্ম। কারণ বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তারা সবাই গর্তে লুকিয়ে ছিল ইঁদুরের মতন। বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুর মধ্য দিয়েই কিন্তু তারা বেড়িয়ে এসেছে। কাজেই বঙ্গবন্ধুর মৃত্যু মানেই তাদের জন্ম। তাদের রাজনীতির জন্ম। অপরাজনীতির জন্ম, উন্মাদ রাজনীতির জন্ম। এইদিনকে তারা তাদের প্রতীক হিসেবে তাদের নেত্রীকে দিয়ে পালন করিয়ে একটা ঘৃনার সংস্কৃতি এদেশের রাজনীতিতে ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। যেটা একটা মানুষের মানসিক বিকৃতি সর্বোচ্চ পর্যায়ে উপনীত হয়েছে। এই নিন্দনীয় মনোবৃত্তির নিন্দা জানানোর ভাষা আমার জানা নাই।

© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি