ঢাকা, মঙ্গলবার   ০৭ ডিসেম্বর ২০২১, || অগ্রাহায়ণ ২২ ১৪২৮

হেফাজতে ইসলাম এবং আমি

মো. আলম শানু

প্রকাশিত : ১৬:০০, ২৮ নভেম্বর ২০২০ | আপডেট: ১৬:০৯, ২৮ নভেম্বর ২০২০

আল্লামা হাফেজ জুনায়েদ বাবুনগরী। তার জন্ম ১৯৫৩ সালে, চট্রগ্রামে। তিনি একজন বাংলাদেশি ইসলামি পণ্ডিত, শিক্ষাবিদ, হাদীস গবেষক, ধর্মীয় লেখক, আলোচক ও সমাজ সংস্কারক। যিনি হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির। 

আমার নাম মোহাম্মদ আলম শানু। জন্ম ১৯৫৪ সালে, চট্রগ্রামে। আমি একজন প্রবাসী বাঙালি, ইসলামি চিন্তাবিদ, কোরান হাদীস গবেষক, ধর্মীয় সমালোচক, আধুনিক সংস্কারক! আমি কানাডা লিবারেল পার্টির সদস্য।
 
আজ একটা খবর চোখে পড়লো। যেখানে বাবুনগরী বলেছেন, ‘তিনি কোনো ভাস্কর্য তৈরি হলে তা টেনেহিঁচড়ে ফেলে দেওয়া হবে বলে হুমকি দিয়েছেন! কার ভাস্কর্য ফেলে দিবেন তা না বললেও বাঙালিরা জানে তিনি কার ভাস্কর ফেলে দিতে চান?
 
কোরানে কোথাও ভাস্কর্য ধ্বংস করে দেয়ার কোন সূরাই নেই! তাহলে তিনি কোথা থেকে এই হুমকি দিলেন?
 
তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, নাস্তিকদের কাছ থেকে সতর্ক থাকতে এবং বলেন, নাস্তিকরা তাকে হত্যা করবে! তিনি আরও বলেন, ‘মদিনা সনদ’ অনুযায়ী দেশ পরিচালিত হবে! তিনি একজন হাফিজ, যার বাংলা প্রতিশব্দ রক্ষক। তবে আমরা বাঙালিরা মনে করি হাফিজ তাদের বুঝানো হয় যার সমস্ত কোরআন (৩০ পাড়া) মুখস্থ আছে। আসলে কুরআনের হাফেজ হলেই মানুষ কুরআনের জ্ঞানে জ্ঞানী হয় না। কারণ দেশের বেশিরভাগ হাফেজ কোরআন রপ্ত করেন না। কোরআনের সঠিক অর্থ সম্পর্কে জানেন না।

আজ আমি বাবুনগরীর ‘মদিনা সনদ’র দাবি সম্পর্কে কিছু লিখবো! আমার দৃঢ় বিশ্বাস সবাই আমার সাথে একমত হবেন! তবে ‘মদিনা সনদ’ বাবুনগরী পড়েছেন কিনা জানিনা! কিন্তু আমি পড়েছি এবং বহুবার পড়েছি!
 
আমি মনে করি ‘মদিনা সনদের’ মতন এমন আধুনিক এবং ধর্মনিরেপক্ষ সংবিধান পৃথিবীতে কেউই রচনা করতে পারেনি! যার প্রমাণ আমেরিকার সুপ্রিমকোর্টে নবী মোহাম্মদের কোরান হাতে ভাস্কর্য আজও শোভা পাচ্ছে!
 
ভাস্কর্য হচ্ছে সিম্বল! সুপ্রিমকোর্টের নবীর ভাস্কর আসলে সেটা নবীর মূর্তি না! সেটাকে বলা হয় ‘Simbol of justice’ অর্থাৎ ন্যায় বিচারের প্রতীক!
 
৬২২ খ্রিষ্টাব্দের নবী মুহাম্মাদ মদিনা নগরীতে হিজরত করেন। এসময় সেখানে বসবাসরত বনু আওস এবং বনু খাজরাজ সম্প্রদায় দুটির মধ্যে ছিল গোষ্ঠীগত হিংসা-বিদ্বেষ। তাই কলহে লিপ্ত এ দুটি সম্প্রদায়ের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব ও সম্প্রীতি স্থাপন ও মদিনায় বসবাসরত সকল গোত্রের মধ্যে সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ইসলামী নবী মুহাম্মাদ একটি সনদ বা সংবিধান প্রণয়ন করেন। যা ইতিহাসে মদিনার সনদ নামে পরিচিত!
 
এই সনদের কিছু ধারা তুলে ধরছি! এই সনদ বাস্তবায়ন হলে বাংলাদেশের প্রতিটি ধর্মের লোক নিরাপদে বসবাস করতে পারবে!
 
হুজুর, আমির, হাফেজ, আল্লামা, মাওলানা কারোই কোন ক্ষমতা থাকব না!
 
১. সনদপত্রে স্বাক্ষরকারী সম্প্রদায়সমূহ একটি জাতি গঠন করবে।

২. মুসলিম, খ্রিষ্টান, ইহুদি, পৌত্তলিক ও অন্যান্য সম্প্রদায় ধর্মীয় ব্যাপারে পূর্ণ স্বাধীনতা ভোগ করবে, কেউ কারো ধর্মীয় কাজে কোনো রকম হস্তক্ষেপ করতে পারবে না।

৩. রাষ্ট্রের প্রতি নাগরিকের অধিকার ও নিরাপত্তা রক্ষার ব্যবস্থা থাকবে। অসহায় ও দুর্বলকে সর্বাবস্থায় সাহায্য ও রক্ষা করতে হবে।

৪. সকল প্রকার রক্তক্ষয়, হত্যা ও বলাৎকার নিষিদ্ধ করতে হবে এবং মদিনাকে পবিত্র নগরী বলে ঘোষণা করা হবে।

৫. মুসলমান, ইহুদি ও অন্যান্য সম্প্রদায়ের লোকেরা পরস্পর বন্ধুসুলভ আচরণ করবে।

রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিরোধ নিষ্পত্তির অধিকার থাকবে রাষ্ট্রপ্রধানের এবং তিনি হবেন সর্বোচ্চ বিচারালয়ের সর্বোচ্চ বিচারক! সত্যকে মিথ্যা দিয়ে ঢাকা যায় না! মদিনা সনদে কোথাও নেই মূর্তি কিংবা ভাস্কর্য ভেঙে ফেলার কথা! 

যদি বাবুনগরী একবার প্রমাণ করতে পারে মদিনা সনদে মূর্তি, ভাস্কর্য ভেঙে ফেলার আদেশ আছে, তাহলে আমি বাবুনগরীর গোলাম হয়ে থাকবো চিরজীবন! নয়তো ভাস্কর ভাঙবে যারা, হাত ভেঙে দিবো আমরা!
 
পবিত্র ভাস্কর্য অপবিত্র হাত দিয়ে স্পর্শ করার চেষ্টা করিও না!
সূত্র : লেখকের ফেসবুক থেকে


Ekushey Television Ltd.

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি