ঢাকা, মঙ্গলবার   ১৭ মার্চ ২০২৬

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দুই পক্ষের মধ্যে পাঁচ ঘণ্টা পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষ, আহত ৩০

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ২২:১১, ১৭ মার্চ ২০২৬ | আপডেট: ২২:১৩, ১৭ মার্চ ২০২৬

Ekushey Television Ltd.

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত উপজেলার গোয়ালনগর ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে। প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ধরে উভয় পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন বলে জানা যায়। 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন সকালে গোয়ালনগর উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে দায়িত্বপালনকারী এক কর্মকর্তাকে জাল ভোটে প্ররোচনার অভিযোগে মো. জিয়া মিয়াকে সেনাবাহিনী আটক করে। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে ১০ দিনের কারাদণ্ড দেন।

তিনদিন আগে জিয়া মিয়া কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে এলাকায় ফেরেন। তার সন্দেহ ছিল, স্বতন্ত্র প্রার্থী কামরুজ্জামান মামুনের পক্ষের শিশু মিয়া সেনাবাহিনীর কাছে তথ্য দিয়ে তাকে গ্রেপ্তারে সহযোগিতা করেছিলেন। এই সন্দেহ থেকেই গতকাল সোমবার (১৬ মার্চ) বিকেলে একা পেয়ে শিশু মিয়াকে মারধর ও তার মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়। এর জেরে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা চরমে ওঠে।

মঙ্গলবার সকাল থেকেই উভয় পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের প্রস্তুতি চলতে থাকে। দুপুর আড়াইটার দিকে কাশেম মিয়া পক্ষ গোয়ালনগর স্কুলপাড়া জামে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে লোকজন জড়ো করে। একইভাবে লালুয়ারটুক জামে মসজিদ থেকেও সংঘর্ষে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। পরে লালুয়ারটুক এলাকার একটি ইটভাটা থেকে ট্রাকে করে ইটের খোয়া এনে হামলায় ব্যবহার করা হয়।

একপর্যায়ে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপে উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হন। খবর পেয়ে নাসিরনগর থানা ও চাতলপাড় ফাঁড়ির পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

রহিম তালুকদার ও কাশেম মিয়ার কাছে মোবাইল ফোনে ঘটনার বিষয়ে জানতে একাধিকবার দুজনকে ফোন করেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

গোয়ালনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আজহারুল হক বলেন, ‘জালভোট নিয়ে সন্দেহ ও ভুল বোঝাবুঝি থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি।’

নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহিনুর ইসলাম বলেন, সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরবর্তী সহিংসতা এড়াতে এলাকায় পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। এ ঘটনায় তদন্ত চলছে। অভিযোগ সাপেক্ষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে লোকজন জড়ো করা হয়েছে প্রসঙ্গে ওসি বলেন, এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। মানুষ বাড়িয়ে বলছে।

এমআর// 


 


Ekushey Television Ltd.

© ২০২৬ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি