ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০১৮ ১৭:৪৪:১২

মেহেরপুরে সমন্বিত খামারে ঘুঁচছে বেকারত্ব (ভিডিও)

মেহেরপুরে সমন্বিত খামারে ঘুঁচছে বেকারত্ব (ভিডিও)

সমন্বিত খামার উপার্জনের আশা জাগিয়েছে মেহেরপুরের তরুণদের মাঝে। একইসঙ্গে টার্কি, দেশি মুরগি, ছাগল, কোয়েল পাখি, কবুতরসহ নানা জাতের পশু-পাখি পালনে আগ্রহ বেড়েছে। লাভজনক হওয়ায় বেকারত্ব ঘুঁচেছে অনেকের। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রশিক্ষণ পেলে সম্ভাবনাময় এ’খাতে বাড়বে কর্মসংস্থান। বেকারত্ব থেকে মুক্তি পেতে টার্কি, কোয়েল পাখি, কবুতর, দেশি মুরগি নিয়ে সমন্বিত খামার শুরু করেন মেহেরপুর গাংনীর খোরশেদ আলম। লাভজনক হওয়ায় দিনে দিনে বেড়েছে খামারের পরিধি। এ’সব পশু-পাখির মাংসের ভালো কদর থাকায়, বিক্রি হয় প্রত্যাশা অনুযায়ি। একসাথে বিভিন্ন ধরনের পশু-পাখি পালনে খরচ লাগছে কম। খামার থেকে মাসে ৫০ হাজার টাকার বেশি আয় হচ্ছে। এছাড়া, ডিম থেকে বাচ্চা হওয়ার পর সরবরাহ করা হচ্ছে বাজারে। পাশাপাশি খামারের বিষ্ঠা জমির সার হিসাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। লাভজনক হওয়ায় অনেক তরুণই সমন্বিত খামারে উৎসাহী হচ্ছেন। ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা বলছেন, আধুনিক প্রশিক্ষণ এবং ঋণ সুবিধা পেলে এই খাতে বাড়বে কর্মসংস্থান। এদিকে, প্রাণীসম্পদ বিভাগও পশু-পাখি পালনে খামারীদের বিভিন্ন পরামর্শ দিচ্ছে । তবে, সম্ভাবনাময় এ’ খাতের উন্নয়নে সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতা চেয়েছেন খামারীরা।  
পার্বত্য এলাকায় টার্কি পালনে সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত (ভিডিও)

রাঙামাটি নানিয়ারচরের পিয়াল চাকমা। উচ্চ শিক্ষা লাভের পরও বেকার ছিলেন। পরবর্তীতে টার্কি পালন করে হয়ে উঠেছেন স্বাবলম্বী। এখন তার পথ অনুসরণ করছেন অনেকেই। পার্বত্য এলাকায় প্রচুর অনাবাদি জমি থাকায় স্বল্প পুঁজিতে টার্কি পালনে ব্যাপক সম্ভাবনার কথা জানায় প্রাণিসম্পদ বিভাগ। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে টেক্সটাইলে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং পাস করেও বেকার ছিলেন পিয়াল চাকমা। সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে গাজীপুরের এক বন্ধুর কাছ থেকে মাত্র তিনটি টার্কি নিয়ে নানিয়ারচরের টিএন্ডটি বাজার এলাকায় নিজের বাড়িতে পালন শুরু করেন। এরপর আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। বর্তমানে তার খামারে সাড়ে ৫শ’র বেশি টার্কি রয়েছে। বয়স অনুযায়ী প্রতি জোড়া টার্কি ১২শ’ থেকে ৪ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়। তুলনামূলক রোগ-বালাই কম হওয়ায় টার্কি পালনে লাভবান হওয়া যায় বেশি। পিয়ালের খামারে আছে অর্ধশতাধিক তিতির পাখিও। পিয়ালের সাফল্যে অনুপ্রাণিত হয়ে এলাকার অনেক বেকার যুবক শুরু করেছেন টার্কি পালন। পৃষ্ঠপোষকতা পেলে লাভজনক ব্যবসা হিসেবে গড়ে ওঠার সম্ভাবনার কথা জানান তারা। পার্বত্যাঞ্চলের অনাবাদি জমিতে কম পরিশ্রম আর স্বল্প পুঁজিতে টার্কি পালন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারে বলে জানান এই প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা। ২০১০-১১ সাল থেকে বাংলাদেশে বাণিজ্যিকভাবে টার্কি পালন শুরু হলেও রাঙামাটিতে শুরু হয় ২০১৫-১৬-তে।

অনলাইনে কৃষকের ঋণ পাওয়া কতটা সহজ হবে?

অনলাইনের মাধ্যমে কৃষকদের ঋণ সুবিধা পাওয়ার এক উদ্যোগ নিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর ফলে দেশের কৃষকরা বিভিন্ন স্থান থেকে অনলাইনের মাধ্যমে বিভিন্ন লোন নেওয়ার জন্য আবেদন করতে পারবে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যলয়ের এটুআই প্রোগ্রাম- এর প্রযুক্তিগত সুবিধা দেবে। বাংলাদেশে কৃষকদের লোন পাওয়ার ক্ষেত্রে নানা ভোগান্তির শিকারের অভিযোগ ওঠে। সেখানে এই ব্যবস্থা তাদের সেই ভোগান্তি কতটা কমাবে? এই প্রকল্পের সঙ্গে কাজ করছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন যুগ্ম পরিচালক শহীদ রেজা বলছিলেন, এর মূল উদ্দেশ্য কৃষকের হয়রানি কমানো। তিনি বলছিলেন, ‘দেখা যায় কৃষি ঋণ পেতে একজন কৃষককে একটা ব্যাংকের শাখায় কোনও কোনও সময় পাঁচ-ছয় বার যেতে হয়। কিন্তু আমাদের এই নতুন ব্যবস্থায় কৃষক সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের শাখায় একবারেই যেতে হবে। তিনি ঘরে বসেই সব তথ্য দিতে পারবেন, নিজের প্রোফাইল তৈরি করতে পারবেন।’ কার্যক্রমটি শুরু হবে মোবাইল অ্যাপভিত্তিক এবং ওয়েবপেজ ভিত্তিক। ইতিমধ্যে কৃষি লোন নামে একটা মোবাইল অ্যাপলিকেশন তৈরি করা হয়েছে। যেটা গুগল প্লে স্টোর থেকে যে কেউ ব্যবহার করতে পারেন। তিনি বলেন, ‘যারা অ্যান্ড্রয়েড ফোন ব্যবহার করছেন না তাদের জন্য ওয়েবপেজ রয়েছে অনলাইনকৃষি.কম.বিডি নামে। এখানে গিয়ে যে কেউ তার প্রোফাইল যোগ করে কৃষি ঋণের জন্য আবেদন করতে পারবেন।’ প্রথম পর্যায়ে চট্টগ্রাম জোনের ব্যাংকগুলোতে পাইলটিং এর ম্যাধ্যমে শুরু করা হবে। তারপর এর সফলতার ভিত্তিতে সারা দেশে এই কার্যক্রম শুরু করা হবে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। কৃষি লোন পেতে কৃষকেরা যে হয়রানির শিকার হন সেটা স্বীকার করেন এই কর্মকর্তা। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে নিরন্তর চেষ্টা করা হচ্ছে যাতে করে কৃষকরা সহজেই কৃষি ঋণ পেয়ে যান। তবে প্রযুক্তিগত কিছু জটিলতা মোকাবেলা করতে হবে এই উদ্যোগকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে। রেজা বলছিলেন ‘যেসব কৃষক অ্যান্ড্রয়েড ফোন ব্যবহার করছেন না তাদের জন্য ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার যেটা আছে সেখান থেকে তারা সহায়তা নিতে পারবেন।’ সূত্র: বিবিসি একে//

সম্ভাবনাময় রাঙামাটির বাঁশশিল্প (ভিডিও)

সম্ভাবনাময় হয়ে উঠেছে রাঙামাটির বাঁশশিল্প। এই শিল্প বদলে দিয়েছে স্থানীয় আসবাব কারিগরদের জীবনমান। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে বাঁশের আসবাব পৌছে যাচ্ছে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায়। হালকা, টেকসই, পরিববেশ বান্ধব ও স্বল্পমূল্যের হওয়ায় এর চাহিদা বাড়ছে দিন দিন। নিপুণ হাতে তৈরি বাশেঁর আসবাব আর ঘর সাজানোর নানা সামগ্রী। এমন চিত্র চোখে পড়ে রাঙামাটির প্রায় সব আসবারের দোকানে। ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী সংসারের প্রয়োজনীয় পণ্য থেকে সৌখিন পণ্য, কোনো কিছুরই কমতি নেই এখানে। স্থানীয় বাঁশ ভুদুম, যা অন্যান্য বাঁেশর চেয়ে মোটা ও লম্বা তা থেকে তৈরি হয় এসব আসবাব। তিন সপ্তাহ বিশেষ রাসায়নিকের ভিজিয়ে রেখে বাঁশের আসবাবের স্থায়িত্ব বাড়ানো হয়। বাঁশে দেয়া হয় বিভিন্ন আদল আর ডিজাইন। বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা আশিকা, ২০০৮ সালে বাঁেশর আসবাব তৈরীর কাজ শুরু করে। মন মাতানো ডিজাইনের বাঁেশর আসবাবের মধ্যে রয়েছে শোফাসেট, চেয়ার, স্ট্যান্ড ল্যাম্পসহ নিত্য ব্যবহার্য্য নানা সামগ্রী। বাঁেশর ফার্নিচার হালকা, পরিবেশ বান্ধব ও দামে কম হওয়ায় এর চাহিদা বাড়ছে দিন দিন। যাচ্ছে জেলা বাইরেও। পরিবেশ বান্ধব এসব আসবাব তৈরীতে প্রয়োজনীয় পৃষ্ঠপোষকতা পার্বত্য চট্টগ্রামের বাঁশ শিল্পকে আরো এগিয়ে নেবে বলে প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।  

শেখ হাসিনার ভিশনারি নেতৃত্বে দেশের অর্জনগুলো…

স্বাধীনতার নেতৃত্বদানকারী আওয়ামী লীগের হাত ধরেই উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশ। রাজনৈতিক দল হিসেবে সবসময় গণমানুষের পাশে থেকেছে দলটি। ঠিক তেমনি আবার ক্ষমতায় থেকে মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে কাজ করেছে আওয়ামী লীগ। গত দুই মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকার অর্থনীতির বাঁক বদলে দিয়েছে। বৈশ্বিক সব সূচকেই দেশ এগিয়েছে অনেকখানি। উন্নয়নশীল বাংলাদেশের সমুদ্র বিজয়ের পর মহাকাশে জয় এসেছে আওয়ামী লীগের দুরদৃষ্টিতেই। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আওয়ামী লীগের নেতৃত্বেই মহান মুক্তিযুদ্ধ। স্বাধীন বাংলাদেশে দলটি ভোট-ভাতের অধিকার আদায়ে সব সময় মানুষের পাশে থেকেছে। শত বাধা ডিঙিয়ে ২১ বছর পর ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে। আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার নেতৃত্বেই ক্ষুধামুক্ত হয় বাংলাদেশ। উত্তারাঞ্চ্হল থেকে বিদায় নেয় মঙ্গা।  ২০০৮ ও ২০১৪ পর পর দুই মেয়াদে সরকার গঠনের পর আওয়ামী লীগের দুরদৃষ্টিতেই সব সূচকেই এগিয়ে যায় বাংলাদেশ। দশ বছরে বেড়েছে জিডিপি প্রবৃদ্ধি, মাথাপিছু আয়, খাদ্য উৎপাদন, রেমিটেন্স, মূল্যস্ফীতি, আমদানি-রফতানি। ২০১৬-১৭ অর্থবছরের প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ৭ দশমিক ২৮ শতাংশ। এখন মাথাপিছু আয় ১ হাজার ৬শ’ ১০ মার্কিন ডলার। রেমিটেন্স ১২ দশমিক ৭৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার আর বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৩ দশমিক ৪১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার হয়েছে। নারীর ক্ষমতায়ন ও মানব উন্নয়ন সূচকেও এগিয়েছে বাংলাদেশ। প্রতি হাজারে মাতৃমৃত্যু হার কমে ১ দশমিক ৭৮ শতাংশে এসেছে। জাতিসংঘের সহস্রাব্দের উন্নয়ন লক্ষ্য ছুঁয়ে সামনে এখন টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্য।   অনেক বাধা পেরিয়ে মাথা তুলে দাঁড়াচ্ছে পদ্মাসেতু। ঢাকায় চলবে মেট্রোরেল। রেকর্ড ছাড়িয়েছে বিদ্যুৎ উৎপাদন। পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র কল্পনা নয়, বাস্তব। সাগরতলে নিজেদের সাবমেরিন। মহাকাশে বাংলাদেশের নিজস্ব স্যাটেলাইট। এসবই সম্ভব হয়েছে আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভিশনারি নেতৃত্বে।  একে//

ভোলার দ্বীপে কাঁকড়া চাষে সাবলম্বী কৃষক (ভিডিও)

ভোলায় সাগর মোহনার দ্বীপ কুকরি মুকরিতে বাণিজ্যিক ভাবে কাঁকড়া চাষের নতুন সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। ইলিশ, চিংড়ির পর কাঁকড়া এখন এ অঞ্চলের জেলেদের মূল্যবান সম্পদ। এরইমধ্যে কাঁকড়া চাষ করে স্বাবলম্বী হয়ে উঠছেন অনেকেই। পৃষ্ঠপোষকতা ও প্রক্রিয়াজাতকরণে সহায়তা পেলে কাঁকড়া রফতানি করে বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জন সম্ভব বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। চর কুকরি মুকুরির চাষী খলিলুর রহমান, কয়েক বছর আগে অনাবাদি  ১৫ একর জমিতে ঘের তৈরি করে কাঁকড়া চাষ শুরু করেন। নদী থেকে জেলেদের ধরে আনা কাঁকড়ার বাচ্চা তিনি খামারে ছাড়েন। খাবার হিসাবে ব্যবহার করেন কুচিলা, পচা চিংড়ি এবং শুটকি। মাত্র ৩ মাস পরই তা ২শ’ থেকে ৩শ’ গ্রাম ওজনে পরিণত হয় এক একটি কাঁকড়া। দেশে-বিদেশে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় ভোলার চরফ্যাশনের কুকরি মুকরিতে খামারে কাঁকড়া চাষ শুরু হয়েছে। স্বল্প বিনিয়োগে অধিক লাভজনক হওয়ায় এ অঞ্চলে কাঁকড়া চাষ দিনদিন জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। শীত মৌসুমে সাগরমোহনার ডুবোচর ও ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল থেকে কাঁকড়া ধরে খামারে সরবরাহ করে জীবিকা নির্বাহ করে অনেকে। এসব কাঁকড়া আকার ভেদে ৪শ’ থেকে ৮’শ টাকা পর্যন্ত কেজি দরে বিক্রি করে তারা। ছোট বড় এসব খামারে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে এই জনপদের অনেকের। কাঁকড়া চাষে উদ্বুদ্ধ করতে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানান মৎস্য কর্মকর্তা। সম্ভাবনাময় কাঁকড়া চাষ এগিয়ে নিতে সরকারের সহযোগিতা কামনা করেছেন স্থানীয়রা।

পরিত্যক্ত প্লাস্টিক সামগ্রী থেকে সুতা তৈরি (ভিডিও)

পরিত্যক্ত প্লাস্টিক সামগ্রী থেকে সুতা তৈরি হচ্ছে চাঁদপুরে। এতে শহরের পরিবেশ দূষণমুক্ত হওয়ার পাশাপাশি সুযোগ হচ্ছে কর্মসংস্থানের। স্থানীয় চাহিদা পূরণ করে এই সুতা সরবরাহ করা হয় দেশের বিভিন্ন স্থানে। শহরের অলি-গলি থেকে পরিত্যক্ত প্লাস্টিক বোতল ও অন্যান্য সামগ্রী সংগ্রহ করে তা প্রক্রিয়াজাত করা হয় এই কারখানায়। এরপর তৈরি হয় কেঁকড়া নামে পরিচিত এক ধরনের সুতা। নতুন এই সুতা তৈরির ফলে শহরের পরিবেশ দূষণ মুক্ত হচ্ছে। পাশাপাশি কর্মসংস্থান হয়েছে বেশকিছু মানুষের। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এই সুতা সারাদেশে ছড়িয়ে দেয়া সম্ভব বলে জানান কারখানার মালিক। এমন পরিবেশবান্ধব কারখানা সারাদেশেই অনুকরণীয় হতে পারে বলে মনে করেন বিসিক কর্মকর্তা। মাটি ও পরিবেশ রক্ষায় সারাদেশেই কেঁকড়া সুতা তৈরির উদ্যোগ নেবে সরকার- এমন প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।

যশোরে টার্কি চাষে সাবলম্বী হচ্ছেন খামারিরা (ভিডিও)

যশোরের শার্শায় পারিবারিক ও বাণিজ্যিক ভাবে টার্কি পালন শুরু হয়েছে।  অল্প বিনিয়োগ করে বছরের মধ্যেই দ্বিগুণ মুনাফা পাচ্ছেন খামারিরা। বেকারত্ব নিরসনে টার্কি পালন সহায়ক ভুমিকা পালন করছে বলেও মনে করেন স্থানীয়রা। শার্শার দুই যুবক পড়ালেখা শেষ করে টার্কি পালন করে হয়েছেন স্বাবলম্বী। আর তাদের দেখে আরও অনেকেই আগ্রহী হচ্ছেন এখন। টার্কির মাংস চর্বিহীন হওয়ায় পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে জনপ্রিয়। দ্রুত বর্ধনশীল একটি টার্কি বছরে ১২ থেকে ১৫ কেজি ওজন হওয়ায় লাভজনকও। নতুন জন্ম নেয়া বাচ্চা পালন করে মাত্র তিন মাসের মাথায় দ্বিগুণের চেয়েও বেশি দামে বিক্রি করে ভালো মুনাফা পাচ্ছেন খামারীরা। টার্কিদের কলমি, হেলেঞ্চা, সরিষা, পালংসহ বিভিন্ন ধরণের শাক সবজি খাওয়ানো হয়। রোগ বালাই থেকে রক্ষা করতে আড়াই মাস বয়সী টার্কিকে চারটি ভ্যাকসিন দেয়া হয়। টার্কি জ্বর-ঠান্ডা ছাড়া আর কোনো রোগে আক্রান্তও হয় না। তিন বছর আগে লেখাপড়া শেষ করে শার্শার সম্বন্ধকাঠি গ্রামের রাজু হোসেন ও খলিসাখালী গ্রামের সজিব টার্কি পালন শুরু করেন। বর্তমানে অনেকেই আগ্রহী হয়ে উঠেছেন টার্কি পালনে।  লাভজনক হওয়ায় শার্শায় দিন দিন টার্কি পালন প্রসারিত হচ্ছে বলে জানান প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা। বেনাপোল ও শার্শার মানুষ পারিবারিক ও বাণিজ্যিকভাবে টার্কি পালন করে মাংসের চাহিদা পুরণের পাশাপাশি স্বাবলম্বী হচ্ছেন।  

ফল বিক্রেতা থেকে সবজি-মাছ চাষ করে কোটিপতি (ভিডিও)

লঞ্চের কলা বিক্রেতা থেকে কোটি টাকার সবজি ও মৎস্যচাষী নড়াইলের কালিয়া উপজেলার শিবুপদ রায়। ২৬৭ একর জমিতে করেছেন সমন্বিত সবজি ও মৎস্য খামার। মাছ চাষের পাশাপাশি বোরো ধানের আবাদও করছেন। তার খামার থেকে বছরে প্রায় ২ কোটি টাকার কৃষিপণ্য ও মাছ বিক্রি করা হয়। পরিশ্রম আর অধ্যাবসায় মানুষকে সফলতা এনে দেয়, নড়াইলের শিবুপদ রায় তার উৎকৃষ্ট উদাহরণ। ৭১’ এ পাকিস্তানি বাহিনী ও এদেশীয় দোসরদের হাতে শিবুপদ রায়ের বাবা যখন নিহত হন তখন তার বয়স ১১ বছর ৮ মাস। এরপর থেকেই মা ও দুই বোনকে নিয়ে শুরু জীবনযুদ্ধ। লঞ্চে করে নড়াইলের কালিয়া থেকে বড়দিয়া এবং খুলনার দৌলতপুর পর্যন্ত কলা বিক্রি করতেন শিবুপদ। ৩০০ টাকা বেতনে দোকান কর্মচারীর কাজও করেন কিছুদিন। উপার্জনের জমানো ১৬ হাজার ৬০০ টাকা পুঁজি নিয়ে ১৯৭৮ সালে কালিয়া বাজারে নিজে একটা দোকান শুরু করেন।  ১০ একর জমি লিজ নিয়ে করেন চিংড়িমাছের ঘের। আর এরপর থেকে পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি শিবুপদকে। কালিয়া পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ভক্তডাঙ্গা বিলে গড়ে তুলেন বিশাল এই কৃষি খামার। ঘেরের পাশাপাশি করেন রাইসমিল। শিবুপদ রায়ের সমন্বিত কৃষি খামারে নিয়মিত ২২ জন এবং খন্ডকালীন হিসাবে কাজ করেন প্রায় দেড়শ’ শ্রমিক। এ ধরণের কৃষি খামার অন্যদেরও অনুপ্রেরণা যোগাচ্ছে বলে জানান এই কৃষি কর্মকর্তা। শিবুপদ রায়ের খামারে উৎপাদিত কৃষি পণ্য নড়াইল ছাড়াও যশোর, গোপালগঞ্জ, মাগুরা, ঢাকাসহ বিভিন্নস্থানে বিক্রি হচ্ছে।

পাপোস তৈরির কারখানা গড়ে স্বাবলম্বী নারী (ভিডিও)

ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলে পাপোস তৈরির কারখানা গড়ে স্বাবলম্বী হয়েছেন আত্মপ্রত্যয়ী নারী ফাতেমা বেগম। অন্যদেরও আয়ের পথ দেখিয়েছেন তিনি। ফাতেমা বলছেন, সহজ শর্তে ঋণ আর বিপনন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে কর্মসংস্থান হবে অনেক মানুষের। অভাবের সংসার ছেড়ে স্বামী ভারতে চলে যাওয়ার পর অসহায় হয়ে পড়েন ঠাকুরগাঁওয়ের ফাতেমা বেগম। পরে ঢাকায় পাপোস তৈরির কাজ শেখেন তিনি। ২০০৪ সালে ৪টি তাঁত বসিয়ে শুরু হয় ফাতেমার উদ্যোক্তা হওয়ার লড়াই। কয়েক বছরের মধ্যেই ব্যাপক উন্নতি হতে থাকে ব্যবসায়। ফাতেমার পাপোস তৈরির কারখানায় এখন তাঁত ৪৫টি। এখানে কর্মসংস্থান হয়েছে শতাধিক নারীর। ফাতেমার অনন্য উদ্যোগে উৎসাহী হয়ে আরো অনেকে গড়ে তুলেছেন পাপোস তৈরির কারখানা। এখানে তৈরি পাপোস, ওয়ালম্যাট, কার্পেট, জায়নামাজসহ বিভিন্ন পণ্য সরবরাহ করা হচ্ছে ঢাকাসহ দেশের বাইরেও। উদ্যোক্তারা বলছেন, সুতা ও ঝুটের দাম বেশি হওয়ায় প্রত্যাশিত লাভ হচ্ছে না। এই শিল্পের বিকাশে স্বল্প সুদে ঋণ দেয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা। এই শিল্পের উদ্যোক্তাদের সব ধরণের সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা। সরকারি সহযোগিতা আর প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা গেলে আর্থিক স্বচ্ছলতার পাশাপাশি নারী প্রগতিতেও অনন্য অবদান রাখতে পারবে ঠাকুরগাঁওয়ের পাপোস শিল্প।

দিনাজপুরে চমক লাগানো উটপাখির খামার (ভিডিও)

বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো উটপাখির খামার গড়ে তাক লাগিয়ে দিয়েছে দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার আরজুমান আরা বেগম। দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে উটপাখির বাচ্চা এনে বাংলাদেশের আবহাওয়ায় বড় করছেন তিনি। দিনাজপুরের মালিপাড়া গ্রাম। সবুজ-শ্যামল গ্রামে মরুভূমির পাখির খামার। ৭ বিঘা জমির উপর গড়ে ওঠা ইকো এগ্রো ফার্ম দাপিয়ে বেড়াচ্ছে উটপাখি। মালয়েশিয়া প্রবাসী আরজুমান আরা বেগম নেপালে উটপাখির খামার দেখে, বাংলাদেশে এই উদ্যোগ নিতে আগ্রহী হন। ২০১৬ সালে পৈত্রিক জমিতে গড়ে তুললেন মরুর দেশের পাখির খামার। এর চাষপদ্ধতি সম্পর্কে ধারণা নিয়েছেন ইন্টারনেট থেকে। দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে ২০টি একদিনের উটপাখির বাচ্চা নিয়ে এসে খামার শুরু করেন আরজুমান আরা। এখন খামারে ১৫টি পাখি আছে। বাংলাদেশের আবহাওয়ায় বেড়ে ওঠা উটপাখিগুলোর ওজন এখন প্রায় ৬০ কেজি। ফিড, লতা পাতা, ও শাক সবজি খেয়ে বড় হওয়া পাখিগুলো বছরে ৫০ থেকে ৭০টি পর্যন্ত ডিম দেয়। খামারে সব রকমের সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন উপজেলা প্রানি সম্পদ কর্মকর্তা। উট পাখি সঠিকভাবে লালন পালন করতে পারলে মাংসের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি বিদেশে এর মাংস, চামড়া- হাড় পালক রপ্তানী করা সম্ভব বলে মনে করছে প্রানীসম্পদ বিভাগ।

শাক-সবজির নির্যাস দিয়ে নকশী কাঁথায় রঙ [ভিডিও]

সম্পূর্ণ নিজস্ব চিন্তা ও পদ্ধতিতে মৌসুমী ফল, ফুল, পাতা ও শাকসবজির নির্যাস দিয়ে তৈরি করছেন রঙ। আর সেই রঙ পোশাক ও নকশীকাঁথায় ব্যবহার করে এলাকায় ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছেন নেত্রকোনার এক দম্পতি। তাদের সঙ্গে কাজ করে অনেকেই এখন বাড়তি আয়ের মুখ দেখছেন, ফিরছে সংসারের সচ্ছলতা। এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে বিসিক নেত্রকোণা। নেত্রকোণা জেলার পৌরশহরের বড়পুকুরপাড় এলাকার অতনু পত্রনবীশ ছোটন। মাত্র ৪২ বছর বয়সে শারিরীক কারণে কর্মহীন হয়ে পড়েন। সংসারের হাল ধরতে তার সহধর্মিনী শিউলী পত্রনবীশ তুলির একান্ত চেষ্টায় ২০০৮ সালে মৌসুমী ফল-ফুল ও শাকবজীর নির্যাস থেকে রং তৈরি করে বিভিন্ন পোশাকে ব্যবহার শুরু করেন। দৃঢ় মনোবল ও আত্মবিশ্বাস নিয়ে পাড়ি দিলেন দুর্গম পথ-প্রতীক্ষীত হাসি ফুটলো শারীরিক প্রতিবন্ধী ছোটন পত্রনবীশ ও তার স্ত্রীর মুখে। তাদের তৈরি বিভিন্ন ডিজাইনের শাড়ি, থ্রিপিস, বেডশিট, পাঞ্জাবী ,শার্ট ও নকশীকাঁথার ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চাহিদা রয়েছে ভালো। বর্তমানে জেলার দূর্গাপুর, গূবধলা, মদনসহ বিভিন্ন গ্রামের ৬০ জন নারীকে কর্মমুখী করে তুলছেন এই দম্পতি। আর এই দম্পতির এমন উদ্যোগকে এগিয়ে নিতে সহযোগিতার আশ্বাস দিলেন বিসিকের এই কর্মকর্তা।  একে// এসএইচ/

© ২০১৮ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি