ঢাকা, বুধবার, ২১ নভেম্বর, ২০১৮ ১০:০৫:২০

অপ্রয়োজনীয় জিনিস রেখে যান, প্রয়োজনীয়গুলো নিয়ে যান: মানবতার দেয়াল

অপ্রয়োজনীয় জিনিস রেখে যান, প্রয়োজনীয়গুলো নিয়ে যান: মানবতার দেয়াল

“আপনার অপ্রয়োজনীয় জিনিস রেখে যান, প্রয়োজনীয় জিনিস এখান থেকে নিয়া যান”- সাধারণ মানুষের উদ্দেশ্যে এমনটাই আহবান জানাচ্ছে মানবতার দেয়াল। আর এই মানবতার দেয়ালের গোড়াপত্তন করেন নেত্রকোনা জেলার জাহাঙ্গীর মাহমুদ।
জাতীয় দলে খেলতে চায় মোর্শেদ

বাবা বিক্রি করেন বাদাম। আর ছেলে চানাচুন। স্বপ্ন আকাশ ছোয়া। খেলতে চান জাতীয় ক্রিকেট দলে। সেই স্বপ্ন বাস্তবে রুপ দিতে খেলে যাচ্ছেন কুমিল্লা জেলার লাকসাম পৌরসভাধীন বাতাখালী গ্রামের আলী আকবরের ছেলে মোর্শেদ। পরিবারে চার ভাইয়ের মধ্যে মোর্শেদ তৃতীয়। অভাব আর আর্থিক দৈন্যতার কারণে প্রাথমিক স্কুলের গণ্ডিটাও টপকাতে পারেনি। কিন্তু শত অভাব আর কষ্টের মধ্যেও ছেলেটির মনের মধ্যে একটি স্বপ্ন দানা বেধে আছে। সেই ছোট বেলা থেকেই ব্যাট আর বলের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক তার। বাবার সঙ্গে বাদাম বিক্রি করার পাশাপাশি পাড়ার ছেলেদের সঙ্গে লুকিয়ে খেলতেন ক্রিকেট। সেজন্য পরিবারের বকুনি ও তিরস্কার শুনতে হয়নি কম।  কিন্তু ক্রিকেট পাগল ছেলেটির মনের মধ্যে রয়েছে অদম্য ইচ্ছা শক্তি। শুধুই ক্রিকেটের টানে চলে আসেন রাজধানী ঢাকাতে। কিন্তু কঠিন বাস্তবতা মোর্শেদকে বারেবারে পিছু টেনে ধরেছে। যতোই এগিয়ে গেছেন আরও পিছিয়ে পড়েছেন। সবকিছুর মূলে রয়েছে অভাব। তার ইচ্ছে বল আর ব্যাট হাতে দেশের হয়ে জাতীয় দলে খেলা। তাই দিনের বেশিরভোগ সময় ব্যয় করেন টাকা উপার্জনের জন্য বেচতে হয় চানাচুর। আর বাকি সময়টা তার কাটে মাঠে। ২০১৬ সালে চলে আসেন রাজধানীতে। ওই বছর ১৬ আগস্ট কলাবাগান ক্রীড়া চক্রে প্রাক্টিস করার সুযোগ পান। ঢাকায় এসে এক বড় ভাইয়ের সহযোগীতায় কলাবাগান ক্রীড়া চক্রে (অনর্দ্ধ ঊনিশ) ক্রিকেটে অংশ নেন। সেখানে একটি টুর্নামেন্টে অংশ নিয়ে ৪নং ব্যাটম্যান হিসেবে নেমে ২৪ বলে ৩০ রান করে ক্লাব কতৃপক্ষের দৃষ্টিতে পড়েন। পরবর্তী ম্যাচে ৫৩ বলে ৬৩ রানে অপরাজিত হয়ে ম্যান অব দ্যা ম্যাচ হন মোর্শেদ। এরপর থেকে নিয়মিত খেলে যাচ্ছেন তিনি। তবে কখনও কলাবাগান ক্রীড়া চক্রের হয়ে, আবার কখনও অন্য টিমের সঙ্গে। ধারাবাহিক ভাবে বল আর ব্যাটের সঙ্গে থেকেও কোন গতি পাচ্ছেন না মোর্শেদ। কারণ সেই থেকে টানা খেলে যাচ্ছেন কিন্তু সুযোগ পাচ্ছেন না কোন ভালো ক্লাবের হয়ে খেলার। এমনকি ভালো প্রাক্টিসেরও সুযোগ আসছেন না। শুরুতে তার স্বপ্ন ছিল যেকোন ক্লাবের পক্ষে ২য় ডিভিশনে খেলার সুযোগ নেওয়া। কিন্তু নিজের ওপর দারুণ আত্মবিশ্বাস মোর্শেদের। তাইতো তার স্বপ্ন আরও দীর্ঘ হয়েছে। স্বপ্ন দেখছেন বল এবং ব্যাট হাতে জাতীয় দলের হয়ে খেলার। কিন্তু এ মূহুর্তে সেই স্বপ্ন শুধুই স্বপ্ন। কারণ জাতীয় টিমে জায়গা পাওয়া এতো সহজ নয়। বিভিন্ন ক্লাবে ঘুরে সেটা বুঝতে পেরেছেন মোর্শেদ। এ অবস্থায় নিজের মনের দৃঢ়তা প্রকাশ করে একুশে টিভি অনলাইনকে মোর্শেদ বলেন, ‘আমি বিশ্বস করি মানুষ যা চায় তা সে করতে পারে, যদি তার ইচ্ছা শক্তিটা প্রবল থাকে। আমি ক্রিকেটকে ভালোবেসে নিজের এলাকা ছেড়েছি। আমি চাই ব্যাট এবং বল দিয়ে দেশের জন্য কিছু করতে। আমি জানি, আমি পারবো। কিন্তু শুধু সুযোগের অভাব।’ তিনি আরও বলেন, ‘সবার মত আমারও স্বপ্ন জাতীয় দলে খেলার। তবে এমূর্তে যদি তা সম্ভব নাও হয়, ঢাকার যেকোন ক্রিকেট ক্লাবের অর্ন্তভুক্ত হয়ে দ্বিতীয় ডিভিশনে খেলতে চাই।’ মোর্শেদ বলেন, আমি রাতের বেলায় রাজধানীর রাইফেল স্কয়ারের সামনে চানাচুর বিক্রি করি। দিনের বেলায় কলাবাগান মাঠে নিয়মিত প্রাক্টিস করছি। যদি কেউ আমার পাশে দাঁড়াতেন আমি অবশ্যই ভালো কিছু করে দেখাতে পারতাম।’ এসএ/  

ভুয়া সংবাদে বিরক্ত বিশ্বের সবচেয়ে লম্বা জিন্নাত

বিশ্বের সবচেয়ে লম্বা মানুষ হিসেবে দাবিদার জিন্নাত আলীর চিকিৎসার পাশাপাশি তার বাসস্থানের ব্যবস্থা করার দায়িত্ব নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এজন্য তিনি রামু ও কক্সবাজারের সংসদ সদস্য সাইমুম সরোয়ার কমলসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দকে দায়িত্ব দিয়েছেন। সাইমুম সরোয়ার কমল একুশে টেলিভিশন অনলাইনকে বলেন, প্রধানমন্ত্রী জিন্নাত আলীর বাসস্থানের জন্য জায়গা নির্ধারণ ও গৃহনির্মাণের দায়িত্ব আমাদের দিয়েছেন। আমরা সেই লক্ষে ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছি। গত ২২ অক্টোবর রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসার জন্য ভর্তি হন কক্সবাজারের রামু`র যুবক জিন্নাত আলী। মাত্র ২২ বছর বয়সী এ তরুণের শারীরিক উচ্চতা ৮ ফুট ছয় ইঞ্চি। পিজিতে ভর্তি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অতিরিক্ত শারীরিক উচ্চতার জন্য বিভিন্ন গণমাধ্যমের নজরে আসেন জিন্নাত আলী। বুধবার (২৪ অক্টোবর) জিন্নাত আলী গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পান। প্রধানমন্ত্রী তার সব খোঁজ খবর নেন ও তার চিকিৎসা ও বাসস্থানের ব্যয়ভার বহন করার দায়িত্ব নেন। সঙ্গে সঙ্গে জিন্নাত আলীকে নিয়ে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়। শনিবার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে এ প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা হয় জিন্নাত আলীর। বাইশ বছরের এ তরুণের সঙ্গে কথা বলে বুঝা যায়, আশে পাশের পরিবেশের উপর তিনি খুব বিরক্ত। তিনি বলেন, `সবাই আমাকে দেখার জন্য ভিড় করে। আমার সাথে সেলফি তুলতে চায়। আমি ক্লান্ত। আমি এখন নিজেকে লুকিয়ে রাখতে পারলে বাঁচি।` জিন্নাত আলী কিছু কিছু নামসর্বস্ব অনলাইন পোর্টালের উপর বিরক্ত প্রকাশ করে বলেন, `তারা আমাকে নিয়ে অদ্ভুত সংবাদ প্রকাশ করে। যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীণ। একটি পোর্টাল লিখেছে আমি নাকি দৈনিক আঠারো জনের খাবার খাই। এটা সম্পূর্ণ বানোয়াট কথা। একজন স্বাভাবিক মানুষ দৈনিক যা খায় আমিও তাই খাই। শারীরিক উচ্চতা বাদ দিলে আমার অন্যসব কিছু সাধারণ মানুষের মতো।` কক্সবাজারের রামু উপজেলার আমীর হামযা`র ছেলে জিন্নাত আলী। আমীর হামযা`র তিন ছেলে এক মেয়ের মধ্যে জিন্নাত আলীর অবস্থান তৃতীয়। কৃষক বাবার সন্তান জিন্নাত আলী অর্থনৈতিক টানাপোড়নের কারণে তৃতীয় শ্রেণীর পর আর পড়াশুনার সুযোগ পায়নি। জিন্নাত আলীর মেজ ভাই মোহাম্মদ রিয়াজের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চৌদ্দ বছর বয়স থেকে জিন্নাত আলীর শারীরিক অবস্থান অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেতে থাকে। এটাকে প্রথম দিকে কেউ গুরুত্ব না দিলেও পরবর্তীতে তাকে নিয়ে টনক নড়ে আত্মীয় স্বজনের। ২০১৩ সালে পারিবারিকভাবে তাকে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে আনা হয়। ডাক্তাররা নানা পরীক্ষা করে জানায়, তার হরমোনে এক ধরনের টিউমারের অস্তিত্ব পাওয়া যাচ্ছে। যার চিকিৎসার জন্য বারো লক্ষ টাকা প্রয়োজন। অভাবী পরিবারের সন্তান জিন্নাত আলী তখন হতাশ হয়ে কক্সবাজার ফিরে যায়। কিন্তু তার উচ্চতা বাড়তেই থাকে। আট ফুট ছয় ইঞ্চি শরীর নিয়ে তিনি ব্যালেন্স রাখতে হিমশিম খাচ্ছিলেন। জিন্নাত আলীর মেজ ভাই মোহাম্মদ রিয়াজ জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিভিন্ন মানবতামুখী কর্মকাণ্ড দেখে আমরা স্থানীয় সংসদ সদস্য সাইমুম সরোয়ার কমলের শরণাপন্ন হই। তিনি আমাদেরকে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার ব্যবস্থা করে দেন। প্রধানমন্ত্রী আমাদেরকে খুব আন্তরিকতা দেখিয়েছেন। একজন প্রধানমন্ত্রী হয়েও তিনি আমাদের যে ভালবাসা দেখিয়েছেন ও তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়েছেন তাতে আমরা মুগ্ধ। বিএসএমএমইউ- তে জিন্নাত আলীর চিকিৎসা করছেন, এন্ডোক্রাইনোলজী বিভাগের ডা. মোহাম্মদ ফরিদ। তাকে তাৎক্ষণিক ভাবে তখন পাওয়া যায়নি। জিন্নাত আলীর দেখা শুনা করছেন চট্টগ্রামের তাইসিফ। তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ডাক্তাররা ধারণা করছেন, জিন্নাত আলীর হরমোনে এক ধরনের জটিলতা আছে। সেই জটিলতা চিকিৎসার মাধ্যমে নিরসন করা না গেলে তার লম্বা হওয়ার গতি অব্যাহত থাকবে। তাই দ্রুত চিকিৎসার বিকল্প নেই। তবে সেই জটিলতা কী তা এখনো নিশ্চিত করে ডাক্তাররা বলতে পারেননি বলে জানা যায়। জিন্নাত আলী বলেন, `প্রধানমন্ত্রীর ভালবাসায় আমি মুগ্ধ। আমি সুস্থ হতে চাই। আমি স্বাভাবিক জীবন চাই।` আমাকে নিয়ে মানুষের অতিরিক্ত কৌতুহল আমার পছন্দ নয়। মানুষ আমাকে যখন তখন বিরক্ত করছে। আমিও মানুষ। আমাকে প্রদর্শনীর প্রাণী মনে করবেন না।` সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে দীর্ঘদেহী মানুষ জিন্নাত আলী সুস্থ হয়ে উঠবেন, ফিরে যাবেন তার স্বাভাবিক জীবনে এটাই প্রত্যাশা। আ আ//

টাকার অভাবে চিকিৎসা নিতে পারছেন না বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক

`তুমি কী দেখেছো কভু জীবনের পরাজয়। গহীন সাগরে অরুণ রোদনে তিলে তিলে যার ক্ষয়…’ গানের কথাগুলোর মতো টাকার অভাবে ঠিকমতো চিকিৎসা নিতে না পারায় জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক। তিনি অধ্যাপক মো. গোলাম ফারুক। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের চিত্রকলা, প্রাচ্যকলা ও ছাপচিত্র বিভাগের শিক্ষক। হাসপাতালের বেডে তাঁর দিন কাটছে হাজারো অনিশ্চয়তায়। এই জ্ঞানতাপস সারাজীবন ছাত্রদের শিখিয়েছেন কারো কাছে হাত পেতো না, নিজের পায়ে দাঁড়াও। ভাগ্যের নির্মম পরিহাস আর রূঢ় বাস্তবতা এই যে, জীবন সায়াহ্নে এসে তাঁকেই কি না চিকিৎসার জন্য অন্যের মুখপানে চেয়ে থাকতে হচ্ছে। দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠের এই শিক্ষককে যখন টাকার অভাবে চিকিৎসা বাধাগ্রস্ত হয় তখন প্রশ্নের মুখোমুখি হয় মানবতা। বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড়ায় আমাদের বিবেক। যিনি সারাজীবন সুস্থ সমজা ও মানুষ গড়ার পেছনে নিজের শ্রম ও মেধা দিয়েছেন তিনিই আজ টাকার অভাবে চিকিৎসা নিতে পারছেন না। তাকে বাঁচাতে প্রধানমন্ত্রীর সাহায্য চেয়েছেন স্ত্রী কামরুন্নাহার স্বপ্না। পারিবারিক সূত্র জানায়, ২০১৬ সালে উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসের কারণে হৃদরোগে আক্রান্ত হন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক গোলাম ফারুক। তখন তার বাইপাস সার্জারী হয়। সম্প্রতি তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে চিকিৎসার জন্য ভারতের চেন্নাইয়ে একটি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। ডাক্তাররা জানান, তার দুটি কিডনিই অকেজো হয়ে গেছে। ‘মরার উপর খাড়ার ঘাঁ’ এর মতো ঠিক এই সময়ে তার ব্রেন স্ট্রোক হয়। অর্থাভাবে তাকে চেন্নাই থেকে দেশে ফিরে আসতে হয়। পরে তার শারীরিক অবস্থার আরো অবনতি হয়। ভর্তি করানো হয় রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে। এই অবস্থায় তিনি প্যারালাইসিস ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হলে চিকিৎসকরা জানান, আজীবন তাকে সপ্তাহে তিনটা করে হেমোডায়ালাইসিস নিতে হবে। একই সঙ্গে ডাক্তাররা তাকে পায়ের অস্ত্রোপচারটা দ্রুত করে ফেলার তাগিদ দিচ্ছেন। শিক্ষকতার সীমিত আয় দিয়েই তাঁর সংসার চলত। তার উপর তিনি (গোলাম ফারুক) সংসারের একমাত্র উপার্যনক্ষম ব্যক্তি। তাঁর উপর নির্ভরশীল পুরো পরিবার। গোলাম ফারুকের শিক্ষকের চিকিৎসার পেছনে প্রতি মাসে তার পরিবারকে গুণতে হয় এক লাখ টাকারও বেশি। কোথেকে আসবে এই টাকা? কীভাবে চলবে চিকিৎসা? টাকার অভাবে কী থমকে যাবে এই গুণী মানুষটির জীবন? দেশের অন্য সব মানুষের মতো গোলাম ফারুকের পরিবারও বিশ্বাস করে, প্রধানমন্ত্রী চাইলে গোলাম ফারুক তার জীবন ফিরে পাবে। গোলাম ফারুকের পরিবার যেমন পাবে একজন কর্মক্ষম মানুষ তেমনি প্রধানমন্ত্রীর মহত্ত্বের মাত্রায় যোগ হবে নতুন মাত্রা। অা অা// এআর

শেষ বয়সে সন্তানদের কাছে বোঝা হতে চাননি তৈয়ব (ভিডিও)

বার্ধক্য প্রকৃতির স্বাভাবিক ও অবশ্যম্ভাবী একটি বিষয়। বিশ্বে প্রতিদিনই বাড়ছে বয়স্ক মানুষের সংখ্যা। তবে, উন্নয়নশীল দেশগুলোতে বিভিন্ন সমস্যার মুখোমুখি হন বয়োবৃদ্ধরা। পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে অনেকের স্থান হয় বৃদ্ধাশ্রমে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের প্রবীণ জনগোষ্ঠির কল্যাণে সচেতনতার পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা প্রয়োজন। সন্তানদের সুশিক্ষা আর উন্নত জীবন নিশ্চিত করতে জীবনের প্রায় সব সুখ বিসর্জন দিতে হয়েছিল মোহাম্মদ আবু তৈয়বকে। শেষ বয়সে কারো সংসারে আর বোঝা হতে চাননি। তাই বৃদ্ধাশ্রম এখন তার আবাস। জীবন সায়াহ্নে দুর্বল শরীরেও রান্না থেকে শুরু করে যাবতীয় কাজ করতে হয় একাকী। বৃদ্ধাশ্রমের প্রায় সবার গল্পই একই রকম। নিজেদের মধ্যে খুনসুটি আর সুখস্মৃতি রোমন্থন করে সময় পার করেন তারা। আবার কেউ কেউ বৃদ্ধাশ্রমে এসেছেন নিজের মত করে স্বাধীনভাবে বাঁচতে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বার্ধক্যে একজন মানুষের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন হয় চিকিৎসার। সেক্ষেত্রে সন্তানদেরই এগিয়ে আসতে হবে সবার আগে। প্রবীণ হাসপাতালের সহকারি পরিচালক আশরাফুল আলম মাসুম বলেন, এই চিকিৎসা সেবাটা যদি সে সটিক ভাবে পায়, তাহলে তারা খুব ভাল ভাবে চলতে পারে। আমরা সব দিতে পারলেও আত্মীয়তার বন্ধনটুকু দিতে পারিনা। তিনি আরও জানান, ২০১৫ সাল থেকে জেলা পর্যায়ে উপজেলা পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা যতটুকু বরাদ্দ আছে  ততটুকু আমরা দিয়ে থাকি। ২০৬১ সালে দেশে প্রবীণের সংখ্যা হবে প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি। তাই এখনই কার্যকর উদ্যোগ নেয়ার তাগিদও দিলেন তিনি।

জীবন যুদ্ধে হার না মানা মুকলেচুর

পৃথিবীতে সবাই সমান ভাগ্য নিয়ে জন্মায় না। কেউ সুখে বসবাস করেন আবার কাউকে সারা জীবন সংগ্রাম করে বেঁচে থাকতে হয়। তাদের জীবনের সংগ্রাম যেন শেষ হয় না। ভাগ্য তাদের পক্ষে কাজ করতে চায় বলেই এমন মানুষরা মনে করেন। তেমনি একজন হলেন মো. মুকলেচুর রহমান দৃষ্টি প্রতিবন্ধী। জীবন সংগ্রামে জয়ী হওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। সফলতার আশায় বুক বেধে পথ চেয়ে আছেন আজও। তিনি চোখে না দেখেও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পাস করেছেন। তার পিতার মো. আবুল মুনসুর। মাতা মোছা. রাশিদা বেগম। তিনি ময়মনসিংহ জেলার ত্রিশাল থানার ধলা ইউনিয়নের বানিয়াপাড়া গ্রামের এক হতদরিদ্র পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি আড়াই বছর বয়সে অন্ধ সেটা বুঝতে পারে। তারপর তার জীবন স্বাভাবিক থেকে অস্বাভাবিক হয়ে গেলো। তখন তার মা জামালপুরে এবিসি অন্ধ স্কুলে ভর্তি করে দেয় কিন্তু তিনি এটা মেনে নিতে পারেনি। তিনি মনে প্রাণে স্বাভাবিকভাবে বাঁচার জন্য লড়াই করে যান। এভাবে তিনি ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে উঠে পড়েন। তখন তিনি স্বাভাবিকভাবে বেঁচে থাকার জন্য অন্ধ স্কুল ত্যাগ করে চলে আসেন। এবার জীবন সংগ্রামে টিকে থাকার জন্য বাসে বাসে চকলেট বিক্রি করতে শুরু করেন। যার কিছু আয় করা অর্থ জমা হয়। তিনি এইবার পড়াশোনা করার জন্য গাজীপুর বিওপি স্কুলে ৯ম শ্রেণিতে ভর্তি হন। গাজীপুরে পড়াশোনার সময় তাকে কোন বেতন দিতে হতো না। যার ফলে তার একটু চিন্তা কমে। স্কুল জীবনে সব থেকে বেশি সাহায্য করেছে তার বন্ধু নুহান। এছাড়া তার শিক্ষক, সহপাঠীরাও সব প্রকার সাহায্য করেছে। এভাবে তিনি মানবিক বিভাগ থেকে এসএসসি পরীক্ষা দিয়ে জিপিএ-৪.০৬ পেয়ে উত্তীর্ণ হন। তারপরে তিনি গাজীপুর ক্যান্টনমেন্ট কলেজে এইচএসসি ভর্তি হোন। সেখানেও তার সহপাঠী, শিক্ষজরা সব প্রকার সাহায্য সহযোগিতা করেছে। এভাবি তিনি এইচএসসি পরীক্ষাও সম্পন্ন করেন। তিনি মানবিক বিভাগপ জিপিএ-৪.৩০ পেয়ে কৃতকার্য হন। এইবার স্বপ্ন দেখে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়বে। কিন্তু কোচিং করার কোন সামর্থ্য তার মোটেও ছিল না। এমন সময় হাজির হোন তার এক বান্ধুবী।তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়বেন বলে ইউসিসি কোচিং সেন্টারে ভর্তি হন। তার বান্ধুবী কোচিং এর সিটগুলো কঠিন বলে বুঝতে পারতো না। তাই তার বান্ধুবী একসঙ্গে সিট পড়ার জন্য প্রস্তাব করে। এইভাবে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় পরীক্ষার জন্য মোটামুটি প্রস্তুতি নেন। সব প্রস্তুতি শেষ করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা দিয়ে ২৭৬তম মেধাক্রম হয়ে ইংরেজি বিভাগে ভর্তি হন।তিনি জানান, অনেক স্বপ্ন নিয়ে ভর্তি হলাম কিন্তু আর্থিকভাবে আমি বিপর্যস্ত হয়ে গেলাম। তবে সব কিছু পাশ কাটিয়ে "ক্ষুদ্র মেধার ক্ষুদ্র প্রয়াস" নামে গল্প কবিতার বই লিখলেন। এই বই বিক্রি করে কোনোভাবে চলতে থাকলেন। কিছুদিন পরে ডাচবাংলা ব্যাংকের শিক্ষা বৃত্তি পেলেন। এরপর প্রতিমাসে ২০০০ টাকা করে পেতেন যা তার খরচের তুলনায় নগণ্য। তাই তিনি কিছু অর্থ আয় করার জন্য "দম্ভ"নামে একটা উপন্যাস লিখলেন। বাসে, ট্রেনে, বিভিন্ন দোকানে উপন্যাস বিক্রি করে পড়াশোনা শেষ করলেন। পড়া শেষ করে ৭ বার বিসিএস পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছেন। তবে দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের অতিরিক্ত সময় না থাকায় তিনি সব প্রশ্নের উত্তর দিতে পারতেন না। এছাড়া বেসরকারি অনেক জায়গায় আবেদন করেছেন কিন্তু দৃষ্টি প্রতিবন্ধী বলে বাদ দিয়ে দেয়। তিনি একটি চাকরির জন্য জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে বলেছেন তবুও কোন সাড়া পাননি। বর্তমানে তিনি "আমার জীবনী" নামের একটা বই লিখেছেন। প্রতিদিন তিনি গড়ে ১০-১৫ বই বিক্রি করেন যার প্রত্যেকটির মূল্য ১০০ টাকা।এভাবে কোনোমতে সংসার চালাচ্ছেন। তিনি গাজীপুর শিমুলতলি এটিআই গেটে একটি দোকান ভাড়া নিয়েছেন। দোকানে বিকাশে টাকা লেনদেন, কম্পিউটারের কাজ, মোবাইলে ফ্ল্যাকসিলোড, বই বিক্রি ইত্যাদি কাজ করার পরিকল্পনা নিয়েছেন। এসএইচ/

© ২০১৮ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি