ঢাকা, ২০১৯-০৪-২০ ১০:৫১:১১, শনিবার

অবশেষে কৃত্রিম পা পেলেন রাসেল সরকার

অবশেষে কৃত্রিম পা পেলেন রাসেল সরকার

রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে গ্রিন লাইন পরিবহনের বাসের চাপায় পা হারানো রাসেল সরকার অবশেষে কৃত্রিম পা পেয়েছেন। সাভারের পক্ষাঘাতগ্রস্তদের পুনর্বাসন কেন্দ্র (সিআরপি) থেকে তিনি এই কৃত্রিম পা পেলেন।
ডিগ্রি পাস করে ফুটপাতে বই বিক্রি করেন মধুমণ্ডল

পড়ালেখা শেষ করে যুবকরা যখন সার্টিফিকেট নিয়ে বিভিন্ন অফিসের দ্বারে দ্বারে ঘুরছে, বেকারত্বের জ্বালা সহ্য করতে না পেরে অনেকে বেছে নিচ্ছে নানা অপরাধমূলক কাজ, ঠিক তখনই মধুমণ্ডল নামে এক যুবক স্থাপন করেছেন ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত। ডিগ্রি পাস করে তিনি ফুটপাতে বসে বই বিক্রি করছেন। পাশাপাশি নিজে বই পড়েন অন্যকে বই পাঠে উৎসাহিত করেন। রাজধানীর শাহবাগের মোড় থেকে টিএসসি`র দিকে যেতে ঠিক কবি নজরুলের মাজারের সামনে চোখে পড়বে ফুটপাতে ভ্যানের উপর একটি বইয়ের দোকান। কম্পিউটার কম্পোজ কাগজে লেখা `বইপোকা`। যা লেমেনেটিং করে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে ভ্যানের উপর। দোকানটির মালিক মধুমণ্ডল। মুখ ভর্তি দাড়ি গোফের এই যুবক ২০১৩ সাল থেকে এখানে বই বিক্রী করছেন। ভ্যান ভর্তি নানা রকম বই। রাজনীতি, অর্থনীতি, সমাজ, সাহিত্য, সংস্কৃতি, দর্শন, জীবনী- সব ধরনের বই পাওয়া যায় মধুমণ্ডলের এই ভ্যানে। ক্রেতাদের অধিকাংশই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রী। আসা যাওয়ার পথে অনেকেই কয়েক মিনিটের জন্য হলেও `বইপোকা` নামক এই দোকানটির সামনে দাঁড়ায়। নেড়ে চেড়ে বই দেখে। পছন্দ ও সামর্থ্য মিলে গেলে বই কেনে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছাত্রী, শিক্ষক, ছাত্রনেতা, প্রক্টরিয়াল বডির অনেকে মধুমণ্ডলকে নামেই চেনেন। এভাবেই বইপোকা`র কর্ণধার মধুমণ্ডল এখন দেশের সবচেয়ে বড় বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের একজন অলিখিত সদস্য। পৃথিবী যদি একটি বড় পাঠশালা হয় প্রতিটি মানুষ এক একটি বই। বা প্রতিটা জীবনই এক একটা পান্ডুলিপি। জীবনের প্রতিটা দিন সেই পান্ডুলিপির এক একটা পৃষ্ঠা। মধুমণ্ডল- এর জীবন ও এর ব্যতিক্রম নয়। জীবনে চলার পথে নানা সংগ্রাম ও লড়াই মধুমণ্ডলকে এনে দাঁড় করিয়েছে ফুটপাতে বই বিক্রীর জীবনে। অনেকের চোখে মধুমণ্ডল এখন উদাহরণ হলেও তার গ্রামের মানুষের চোখে সে সফল হতে না পারা এক যুবক। মধুমণ্ডলের গ্রামের বাড়ী চুয়াডাঙ্গার সদাবরী গ্রামে। তারা বাবা সিরাজমণ্ডল ছিলেন যাত্রাশিল্পী। এখন যাত্রার সেই সুদিন নেই। ফলে সিরাজ মণ্ডলদেরও নেই কদর। কৃষিকাজ করে কোন রকমে জীবন যাপন করেন তিনি। মধুমণ্ডল গ্রামের ওদূদ শাহ ডিগ্রী কলেজ থেকে ডিগ্রী পাস করেন। এরপর ঢাকায় আসেন আইন পড়ার জন্য। মধুমণ্ডলের ভাষায়, "ছোট বেলা থেকেই আমি স্বাধীনচেতা মানুষ। নিজে কিছু করার স্বপ্ন ছিল"। সেই স্বপ্ন থেকে ২০০৭ সালে ঢাকায় আসেন মধুমণ্ডল। ধানমন্ডি ল` কলেজে ভর্তি হন। একটি ছোট বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে চাকরি নেন। মাস তিনেক কাজ করার পর সেই প্রতিষ্ঠান প্রধান তার (মধুমণ্ডল) সঙ্গে অসদাচরণ করলে মধুমণ্ডল রাগারাগি করে চাকরি ছেড়ে দেন। সবে ধন নীলমণি চাকরিটা হারানোর পর অন্য কেউ হলে হয়তো ভেঙ্গে পড়ত। কিন্তু মধুমণ্ডলের ধাঁচটা ভিন্ন। তিনি ঢাকার অলি গলি ফুটপাতে ঘুরেন আর ভাবেন। ভাবেন আর ঘোরেন। এই প্রতিবেদকের সাথে আলাপ করতে গিয়ে মধুমণ্ডল বলেন, একদিন ঘুরতে ঘুরতে আমি এখানে (কবি নজরুলের মাজারের সামনে) এসে দেখি একজন ফুটপাতে বই বিছিয়ে বই বিক্রী করছেন। পরিচয় হলো। জানলাম তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। বঙ্গবন্ধু হলে থাকেন। তার সাথে আলাপ করে কিছু বই নিয়ে আমি হেঁটে হেঁটে বিক্রী শুরু করি। বেশির ভাগ বইয়ের দাম তখন দশ টাকা বিশ টাকা। দিন শেষে হিসাব করে দেখতাম, আমার একশ-দেড়শ টাকা লাভ হতো। এর মধ্যে আইন (প্রিলিমিনারী) পরীক্ষার রেজাল্ট বের হলে দেখি আমি ফেল করেছি। দোকানের সামনে কিছুক্ষণ দাঁড়ালে দেখা যায়, নানা বয়সি মানুষ বই কিনতে আসছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী শ্রাবনী দত্ত একটি বই কিনলেন। বইটির নাম `যে গল্পের শেষ নেই`। লেখক দেবী প্রসাদ চট্টোপাধ্যায়। মধুমণ্ডল জানালেন সরাসরি প্রকাশকের কাছ থেকে বই কিনেন তিনি। বিক্রী করেন ২৫% ছাড়ে। কখনো কখনো ৫০% ছাড় দিয়ে থাকেন। অতীত হাতড়ে মধুমণ্ডল বলেন, আইনে ফেল করার পর আমি গ্রামে ফিরে যাই। ছোটবেলা থেকেই বইপোকা ছিলাম। সেখানে একটি স্কুল সংলগ্ন কক্ষ নিয়ে শিশু কিশোরদের বই দিয়ে একটি ছোট খাট লাইব্রেরী শুরু করি। সেখানে ছেলে মেয়েরা এসে বই পড়তে পারত। আবার ইচ্ছে করলে কেউ বই কিনতেও পারত। ইতোমধ্যে গ্রামে জানাজানি হয়ে যায় আমি আইনে পাস করতে পারিনি। সেটা নিয়ে পরিবারে শুরু হয় অশান্তি। বাবা মায়ের বড় ছেলে। সবার স্বপ্ন ছিল আমি আইনজীবী হব। কিন্তু তাদের সে স্বপ্ন পূরণ করতে না পারায় পরিবারেও আমাকে নিয়ে অশান্তি দেখা দেয়। ছোট ভাই বোনরাও নানা কথা শোনায়। এরপর মধুমণ্ডল ২০১৩ সালে আবার ঢাকায় ফিরে আসেন। যুদ্ধাপরাধী কাদের মোল্লার যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় বাতিল করে মৃত্যুদণ্ড করার দাবিতে শাহবাগে বসেছে গণজাগরন মঞ্চ। উত্তাল ঢাকা। সেই উত্তালময় পরিস্থিতিতে মধুমণ্ডল ভ্যানে বই নিয়ে ঘুরে ঘুরে বিক্রী শুরু করেন। ভাল বিক্রী হয়। লাভও ভাল। থাকার জায়গা ছিলনা। রাতে কবি নজরুলের মাজারের ভেতর একটি কক্ষে থাকেন (এখন অবশ্য সেই সুযোগ নেই)। ভ্যানটি তাকে কিনে দিয়েছিলেন তার এক বড় ভাই রিপন। যাকে দেখে মধুমণ্ডল বই বিক্রীতে অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন। মধুমণ্ডল এখনো বই বিক্রী করে যাচ্ছেন। এক সময় বিশ্ববিদ্যালয় ও আশে পাশের এলাকায় ঘুরে ঘুরে বই বিক্রী করতেন। গত কয়েকবছর তিনি থিতু হয়েছেন সেই পুরনো জায়গায়। কবি নজরুলের মাজারের সামনে। নিজে যতো বই বিক্রী করেন তার চেয়ে বেশি বই মধুমণ্ডল পড়েন। আলাপকালে মধুমণ্ডল বলেন, বই বিক্রীর আগে আমি নিজে সেই বইটি পড়ি। এতে দুইটি লাভ। আমার নিজের পড়া হয়। দ্বিতীয়ত পাঠকরা যখন সেই বই সম্পর্কে জানতে চায় তাদেরকে বিস্তারিত বলতে পারি। একুশে টেলিভিশন অনলাইনের সঙ্গে আলাপকালে মধুমণ্ডল বলেন, আমি স্বাধীনভাবে ব্যবসা করছি। এটা বড় আত্মতৃপ্তির। চাকরি করলে সে তৃপ্তি পেতাম না। তবে খারাপ লাগে তখন যখন দেখি আমি বই বিক্রী করি এটা নিয়ে আমার পরিবার আত্মীয় স্বজন সবাই বিরক্ত। ফুটপাতে বই বিক্রী করি, তাই তারা অনেক সময় আমার পরিচয় দিতে লজ্জা পায়। তাদের ধারণা, আমি ডিগ্রী পাস করেছি এটা অর্থহীন। আমার সার্টিফিকেট নাকি কোন কাজে লাগেনি। আমি বই বিক্রী করে আনন্দ পাই। এই আনন্দের কী কোন মূল্য নেই? সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসছে। টিএসসি থেকে শাহবাগের মোড়- তরুণ তরুণীদের ভীড় বাড়ছে। মধুমণ্ডলের ছোট `বইপোকা` দোকানটিতে ক্রেতার সংখ্যাও বাড়ছে। ক্রেতার সঙ্গে কথা বলতে বলতে মধুমণ্ডলের চোখে মুখে যে আত্মতৃপ্তি দেখা যায়- তা কী সে চাকরি করলে পেত? আআ/এসি  

সাধারণ মানুষের মতো বাঁচতে চায় বেদে সম্প্রদায়

যাযাবর বেদে জীবন, নদীর কোল ঘেঁষে খোলা আকাশের নিচে পলিথিন আর ছেঁড়া কাপড়ের তাঁবু বানিয়ে যাযাবরের মতো জীবন কাটাতে অভ্যস্থ বেদে সম্প্রদায়রা। বেদে সম্প্রদায় বলে আমরাও সবাই মুসলমান, সাধারণ মানুষরা আমাদের খোটা দেয়। তাই এ পেশা ছেড়ে দিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে চায়। এ বিষয়ে মাওনা পেয়ার আলী ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ আবুল খায়ের ও আব্দুল আউয়াল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ রফিকুল ইসলাম বলেন, বর্তমান ডিজিটাল যুগে তাদের বাচ্চাদের লেখাপড়া শিক্ষিত করতে হলে, তাদের এ পেশা অবশ্যই ছাড়তে হবে। মানবিক দিক বিবেচনায় রেখে বেদে সম্প্রদায়ের মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাপনের জন্য সরকারি উদ্যোগ গ্রহণ করা একান্ত প্রয়োজন। এই সম্প্রদায়ের লোকেরা জীবিকার তাগিদে বছরের অর্ধেক সময়ই নৌকা নিয়ে ছুটে বেড়ায় দেশের নানা প্রাণন্তে। সাপ খেলা ও তাবিজ বিক্রিই তাদের আয়ের উৎস। এ আয় দিয়ে সংসার চালাতে হয় তাদের।  ৩০ মার্চ শনিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়,কাওরাইদ কালীবাড়ি এলাকায় সুতিয়া নদীর পার ঘেঁষে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাদের পলিথিন ও ছেড়া কাপর দিয়ে বানানো ছোট ছোট ঝুপড়ি ঘরে এসেছে আধুনিকতার ছোঁয়া। প্রতিটি ঝুপড়ি ঘরে রয়েছে সোলার আর টিভির ব্যবস্থা। বাপ-দাদার পুরোনো পেশাটি তারা আঁকড়ে ধরে আছেন যুগ যুগ ধরে। নানা প্রতিকূলতার মধ্যে এ পেশা টিকিয়ে রাখতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের। বেদে সরদার আসকর আলী বলেন, আয়ের প্রধান উৎস গাছ গাছালির তাবিজ বিক্রি, সাপ ধরা ও সাপের খেলা দেখানো। ছয় মাসের জন্য আমরা বাড়ি থেকে বের হয়ে আসি। এই ছয় মাস প্রতিটি পরিবারের পক্ষ থেকে সর্দার হিসেবে আমাকে প্রতি দুই মাস অন্তর অন্তর এক দিনের আয় আনুমানিক ৭-৮ হাজার টাকা দিতে হয়। তিনি আরও বলেন, বর্তমানে আমাদের সন্তানদের শিক্ষিত করার জন্য আমরাও আর এ পেশায় থাকতে চাই না। শুধুমাত্র বাপ-দাদার ঐতিহ্যকে ধরে রাখার চেষ্টা করছি। আমাদের দলের ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়া শেখানোর জন্য ইচ্ছা হয়। বেদে আল-আমিন বলেন, আমাদের এ পেশা থাকতে আর ভালো লাগে না। বেদে সম্প্রদায় বলে সাধারণ মানুষরা আমাদের খোটা দেয়। আমরা সবাই মুসলমান। তাই এ পেশা ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে চাই।  বেদেরা এখন সড়ক পথে এসে পথ থেকে প্রান্তরে জনগুরুত্বপূর্ণ হাট-বাজারের সংলগ্নে ছোট-ছোট ঝুপড়ি ঘর তুলে বসবাস করে। সাপ খেলার পাশাপাশি বেদেনীরা তাবিজ-কবজ নিয়ে ঘুরে বেড়ায় গাঁয়ের মেঠো পথে। তবে দিন দিন এ বেদে স¤প্রদায়ের সাপ ধরার নেশা বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। নানা পণ্য এখন তাদের হাতে উঠেছে। বেঁচে থাকার নিরন্তর সংগ্রামেই আজ তাদের ভিন্ন পথে চলা। তারপরও যারা এ পেশাকে আগলে রেখেছে তাদের জীবন চলছে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে। বেদেরা আরও বলেন,আগের মতো এখন আর নদী নেই, নদীতে পানি নেই, বিভিন্ন কলকারখানার বর্জ্য এসে নদীর পানি নষ্ট ও দূর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। এসব পানি দিয়েই আমরা গোসলসহ সকল প্রকার কাজে ব্যবহার করতে হচ্ছে। কারণ আমরা যাযাবর, সরকার আসে সরকার যায়, আমাদের মিলছে না কোনো ঠিকানা। আজ এখানে, কাল ওখানে, এভাবেই চলছে আমাদের জীবন। প্রতিটি বেদে বহর এক একটি রাজ্যের মতো কল্পনা করে এরা। সর্দার এদের রাজা। তার নিয়ন্ত্রণে চলতে হয় বহরের সবাইকে। বেদে বহরের মেয়েরাই আয়ের জন্য দল বেঁধে বের হয়। গ্রাম থেকে গ্রামে ছুটে বেড়ায়। পাড়া মহল্লা ঘুরে মানুষের নানা কথা শুনে সন্ধ্যার দিকে ফিরে আসে। পুরুষরা সারাদিন বাচ্চাদের দেখাশোনা করে। অভাব অনটনের কারণে পুরুষরাও ঘর ছেড়ে বেড়িয়ে আসতে শুরু করেছে, কেউ দিচ্ছে বিভিন্ন রোগের ঝাড়-ফুঁক ও তাবিজ-কবজ। শাড়ি, চুড়িসহ বিক্রি করছে নানা প্রসাধনী। কেউ কেউ ভানুমতি খেলা ও জাদুমন্ত্র নিয়ে হাজির হচ্ছে। নানা সমস্যা-সঙ্কট এদের আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে রেখেছে। এরা কয়েক’শ বছরের পুরনো পেশা হলেও এদের নেই কোনো প্রকার নাগরিক অধিকার। নেহাত কচুরিপানা কিংবা নদীর জলে ভেসে যাওয়া খড়কুটোর মতোই আজীবন নদীর পানিতে ভেসে বেড়ায়। এ সম্প্রদায়ের নাম স্বাক্ষর করতে পারে এ ধরনের মানুষের সংখ্যা খুবই কম। শিশুদের স্কুলে যাওয়ার সুযোগ নেই। এ ছাড়া স্থায়ী ঠিকানা না থাকায় এবং ভূমি সমস্যায় এ সম্প্রদায়ের মানুষের মানবতার জীবন যাপনে বাধ্য। এ সম্প্রদায়ের মানুষের মৃত্যু হলে আগেকার দিনে কলা গাছের ভেলায় লাশ ভাসিয়ে দেওয়া হতো। আজকের দিনেও নদীর পাড়ে বা কোনো ভূ-স্বামীর পরিত্যক্ত ভিটের দানকৃত ভূমিতে ঠাঁই মিলে তাদের লাশের। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেহেনা আকতার বলেন, বর্তমান সরকার, পিছিয়ে পড়া এ জনগোষ্ঠির জন্য কাজ করছে। ঠিকানাবিহীন এই যাযাবর বেদে সম্প্রদায়রা নিজ ভূমে বাস করেও পরবাসী। সাপ নিয়ে খেলা, সাপ নিয়েই তাদের বসবাস। এক সময় নৌকা নিয়ে নৌপথে চলাচল করত। এখন নৌপথে বাধ, সুইসগেটের কারণে নৌকা নিয়ে চলাচল একেবারেই বন্ধ হয়ে গেছে তাদের। কেআই/  

দোসা বিক্রি করে মেয়েকে বিবিএ পড়াচ্ছেন জাহাঙ্গীর আলম   

রাজধানী মোহাম্মদপুরের রিং রোডের টোকিও স্কয়ার একটি ব্যস্ততম এলাকা। সবসময় সেখানে জটলা লেগেই থাকে। বিশেষ করে সন্ধ্যার পরে এখানে তরুণ তরুনীদের ভীড় বেড়ে যায়। এই জটলার কারণ অনুসন্ধানে উঁকি মারলেই চোখে পরবে পরপর কয়েকটি দোসা`র দোকান। দোকানগুলো ঘিরে রাখা বেঞ্চগুলোতে ক্রেতারা খাচ্ছে। কেউ কেউ খাবারের জন্য অপেক্ষা করছে।          মাঝখানের দোকানটিতে একটু বেশী ভিড়। বিক্রেতার মাথায় টুপি। হাত দুটি গরম কড়াইয়ের উপর অনবরত কাজ করছে। নন-স্টিক পাত্রে তেল ব্রাশ করে হাল্কা আঁচে গরম করা হচ্ছে। তেল গরম হয়ে গেলে পাত্রে এক টেবিল চামচ দোসা তৈরির মিশ্রণ ঢালছেন জাহাঙ্গীর আলম। পাত্রের চারদিকে চামচ দিয়ে পাতলা ও গোল করে ছড়িয়ে দিচ্ছে। দোসার নিচের অংশ হালকা বাদামী হয়ে ধারগুলো উঠলে খুব সাবধানে তুলে নিচ্ছে দোসা। দোসা তোলার সময় গোল করে মুড়িয়ে নিচ্ছে। প্রতিবার পাত্রে দোসার মিশ্রণ দেয়ার আগে পাত্রটি কাপড় দিয়ে মুছে তেল ব্রাশ করে নিচ্ছে। প্রস্তুত হওয়া দোসা প্লেটে করে ডাল ভুনা, সবজি, তেতুল বা জলপাইয়ের চাটনি, নারকেল মিষ্টি চাটনি, আমের আচার বা দই দিয়ে পরিবেশন করছেন জাহাঙ্গীর আলম ও তার ক্লাস সেভেনে পড়ুয়া ছেলে। রাজধানী ঢাকার ফুটপাতের খাবারের দোকানে নিয়মিত ক্রেতা পাওয়া কঠিন। কিন্তু জাহাঙ্গীর আলমের দোকানে সন্ধ্যায় এমন কিছু ক্রেতা আছেন যারা প্রায়ই আসেন।   এই দোসা বিক্রেতা জাহাঙ্গীর আলমের গ্রামের বাড়ী চাঁদপুর। অভাবের সংসারে বাবার লড়াই দেখতে দেখতে এক সময় চলে আসেন ঢাকায়। উদ্দেশ্য ছিল বাবা মাকে সাহায্য করা। এই ঢাকায় প্রথম জীবনে অনেক ধরনের কাজ করতে হয়েছে তাকে। কখনো হোটেলের কর্মচারী, কখনো অফিসের পিয়ন, কখনো ফুটপাতে তরকারি বিক্রি এবং ফুটপাতে চা বিক্রিও করেছেন তিনি। হঠাৎ একদিন পরিচয় হয় জহিরুল হক নামে এক বাবুর্চির সঙ্গে। জাহাঙ্গীর আলমের ভাষায় কারীগর। এই কারীগরের কাছে থেকে পান তিনি দোসা তৈরীর বিদ্যা। দোসা সম্পর্কে জানতে চাইলে জাহাঙ্গীর আলম বলেন, দোসা দক্ষিন ভারতের খাবার। এদেশে বড় বড় শপিংমলে পাওয়া যায়। বড় লোকেরা অনেক টাকা খরচ করে খায়। আমি গরীবের দোকানদার। আমার এখানে কম দামে দোসা পাওয়া যায়। জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আমি তিন ধরনের দোসা বিক্রি করি। মাসালা দোসা, এগ দোসা ও চিকেন দোসা। মাসালা দোসা পঞ্চাশ টাকা, এগ দোসা সত্তর টাকা, চিকেন দোসা নব্বই টাকা। তবে মাসালা দোসা বেশি বিক্রী হয়। দোসা কীভাবে তৈরী করেন জানতে চাইলে জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আমি আর কী বানাই! আসল দোসা বানাতো আমার গুরু জহিরুল হক। তার হাতের দোসা যে একবার খেয়েছে তার মুখে লেগে আছে সারাজীবন। সেদ্ধ করা পোলাওয়ের চাল, কলাইয়ের ডাল, খাবার সোডা, লবণ, চিনি ইত্যাদি কোনটা কী পরিমাণে দিতে হবে তা বুঝতে হবে। জাহাঙ্গীর আলম মুচকী হেসে বলেন, খাবারের স্বাদ নির্ভর করে উপাদানের অনুপাতের উপর। অনুপাত কম বেশি হলে শেষ! জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রাজধানীর আদাবরে তিন সন্তান ও স্ত্রী নিয়ে থাকেন তিনি। বড় মেয়ে লালমাটিয়া কলেজে বিবিএ পড়ছে। ছেলে রিফাত ক্লাস সেভেনের ছাত্র। সবচেয়ে ছোট ছেলেটি ক্লাস থ্রিতে পড়ে। বাসা ভাড়া দেন নয় হাজার টাকা। বাড়ীতে নিয়মিত বাবা মাকে টাকা পাঠাতে হয় তাকে। ছোট দুই ভাইকে দোসা বিক্রির টাকা দিয়ে পাঠিয়েছেন মধ্যপ্রাচ্যে। দুটি বোন বিয়ে দিয়েছেন তাও দোসা বিক্রির টাকায়। জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আমার বাবা গরীব ছিলেন। তাই আমরা পড়াশুনা করতে পারিনি। আমি চাই আমার সন্তানেরা পড়াশুনা শিখে সমাজে মাথা উঁচু করে বাঁচুক। তিনি আরও বলেন, মাঝে মাঝে মন খারাপ হয়ে যায় মানুষের অবমূল্যায়ন দেখে। কেউ কেউ খুব তাচ্ছিল্য করে কারণ আমার পড়াশুনা নাই। কোন কোন ক্রেতাও মাঝে মাঝে অপমান করে কথা বলে। মন খারাপ হলেও হজম করে যাই। আমার সন্তানেরা মানুষ হলে আমিও বুক ফুলিয়ে চলতে পারবো। এসি        

শাহনাজের বাইক উদ্ধার, চোর আটক

অ্যাপভিত্তিক রাইড শেয়ারিং নেটওয়ার্কের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করা আলোচিত শাহনাজ আক্তারের চুরি হওয়া মোটরবাইকটি উদ্ধার করেছে পুলিশ। রাজধানী থেকে ছিনতাইয়ের মাত্র ১৪ ঘণ্টার মধ্যেই বাইকটি নারায়ণগঞ্জ থেকে উদ্ধার হয়। বুধবার ভোর ৫টায় নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড এলাকা থেকে বাইকটি উদ্ধার হয়। এ ঘটনায় জনি নামে (২৭) একজনকে আটক করা হয়েছে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। বলেছেন, আমরা তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় জনির অবস্থান সম্পর্কে জনতে পারি। সে মঙ্গলবার বিকেলেই বাইকটি নিয়ে নারায়ণগঞ্জ চলে যায়। আটক জনি নিজেকে পাঠাও রাইডার দাবি করলেও পাঠাও কর্তৃপক্ষের কাছে জনির কোনও তথ্য ছিল না। তার মোবাইল ট্র্যাক করে ও অন্যান্য তল্লাশি নজরদারি বাড়িয়ে নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড এলাকা থেকে বাইকটি উদ্ধার ও জনিকে আটক করা হয়। এর আগে গতকাল মঙ্গলবার বিকেল ৩টার দিকে রাজধানীর খামারবাড়ি এলাকায় প্রতারণার মাধ্যমে বাইকটি চুরি করে নিয়ে যান ওই যুবক। এ ঘটনায় শাহনাজ আক্তার শেরেবাংলা নগর থানায় অভিযোগ করেন। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, জনি নামে ওই যুবক শাহনাজের অল্প দিনের পরিচিত। শাহনাজকে চাকরি দেওয়ার কথা বলে মঙ্গলবার তার সঙ্গে দেখা করেন ওই যুবক। দুপুরে খামারবাড়ি এলাকায় শাহনাজ মোটরবাইকের পাশে ছিলেন, আর ওই যুবক শাহনাজের মোটরবাইকের ওঠে কথা বলছিলেন। রনি শাহনাজকে বাইক চালানোর বিষয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন জিজ্ঞেস করে। বাইক চালিয়ে দেখতে চায়। শাহনাজ তাকে বাইকটির চাবি দিলে জনি বাইকটি নিয়ে চলে যায় যায়। এরপর তার কোনও সন্ধান পাওয়া যায়নি। প্রসঙ্গত, এক মাস ধরে মোবাইল উবারের মাধ্যমে মোটরবাইক চালাচ্ছেন শাহনাজ আক্তার। নারী হয়ে পুরুষদের নিয়ে স্বাচ্ছন্দ্যে রাইড দেওয়ায় সম্প্রতি ফেসবুক ও বিভিন্ন পত্রিকায় ইতিবাচক প্রতিবেদন হয় তাকে নিয়ে। একে//

পতাকা বিক্রির মধ্যে আনন্দ খুঁজে পান ইকবাল

বাবা মারা গেছেন ছোট বেলায়। মা কাজ করতেন মানুষের বাড়ীতে। তিন বোন ও দুই বোনের সংসার। এর মধ্যে ইকবাল শেখ সবার ছোট। বাবার মৃত্যুর পর ভাতের জন্য লড়াই পরিবারের সদস্যদের দিশেহারা করে দিয়েছে। প্রতিদিন পানিতে ভাত মেখে লবন মিশিয়ে খেতে দিতেন মা। খেতে খুব কষ্ট হতো। কিন্তু উপায় নেই। মনে মনে প্রতিজ্ঞা করেছিলেন, মাকে কখনো কষ্ট দিবেন না ইকবাল। আর তাই ঠিক যখন বই-খাতা নিয়ে ইকবালের স্কুলে যাওয়ার কথা, তখনই শুরু হলো বেঁচে থাকার কঠিন লড়াই। যখন যা পেয়েছেন তাই করেছেন। হেটে হেটে চা বিক্রী করা, হোটেলে কাজ করা, ভ্যানগাড়ীতে খেলনা বিক্রী করা সহ অনেক পেশা বদল করেছেন ইকবাল। তবে যখনই ডিসেম্বর মাস আসে ইকবাল হাতে তুলে নেয় বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা। উদ্দেশ্য একটাই। মাকে ভালোবেসে, দেশ প্রেমবোধ থেকে পরিবারের সদস্যদের মুখে ভাত তুলে দেওয়া। সারাদিন পতাকা বিক্রি করে দৈনিক যা আয় হয় তা নিয়ে তুলে দেন মায়ের হাতে।ইকবাল শেখ আজ সকালে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে পতাকা বিক্রি করছিলো। কথা হয় তার সঙ্গে। গায়ে পুরানো সাদা র্শাট। কুচকানো প্যান্ট। শরীরে অযত্নের ছাপ হলেও চেহারায় একটা মায়া ও আত্মবিশ্বাস ফুটে আছে।কথা বলতে বলতে পতাকা বিক্রি করেছিলেন। ইকবাল শেখের বাড়ি ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায়। মা ভাই বোনেরা গ্রামে থাকেন। ছোট বোনদের বিয়ে দিতে হবে। দুই ভাই পড়ে স্কুলে। মাথার উপর অনেক দায়িত্ব। ইকবাল থাকেন গাজীপুর। সকালে পান্তা ভাত খেয়ে ঢাকায় চলে আসেন। গভীর রাতে আবার ফিরে যান গাজীপুর। সারাদিনে কয়টা পতাকা বিক্রী হয় জানতে চাইলে ইকবাল জানান, ঠিক নেই। তবে এবার অন্য বছরের তুলনায় কম মনে হচ্ছে। বড় পতাকা কিনেন সত্তর আশি টাকায়, বিক্রি করেন দেড়শ টাকা। বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে একশ টাকা। হাত পতাকা দশ টাকা করে বিক্রি করছেন। এছাড়া বাংলাদেশের মানচিত্র সংবলিত ব্যাজ বিক্রি করছেন দশ টাকা করে। ছোট বাচ্চরা এমন ব্যাজ বেশী কিনে। ইকবাল ধারনা করছেন আগামী কয়েকদিন পতাকা ভালো বিক্রি হবে। পতাকা বিক্রির টাকা নিয়ে ফিরে যাবেন গ্রামে। দেশ সম্পর্কে ইকবালের জানা শোনা কতটুকু সেই কৌতুহল থেকে তার কাছে জানতে চাওয়া হয়- ডিসেম্বর মাসে কী হয়েছিল? স্বাভাবিক ভঙ্গীতে তার উত্তর, ‘দেশ স্বাধীন হয়েছিল।’ ইকবাল শেখ লজ্জিত মুখে জানায়, তার বাবা বঙ্গবন্ধুকে খুব ভালোবাসত। তাই ছেলের নামে যোগ করে দিয়েছেন শেখ। এটা নিয়ে অনেকে তখন হাসাহাসি করত। তবে ইকবাল শেখ এটা নিয়ে গর্ব করে।ইকবাল শেখের কাছে জানতে চাওয়া হয়, ভোট কাকে দিবে? এতোক্ষণের লাজুক ছেলেটি এবার পাল্টে গেল। দৃঢ় কণ্ঠে বলল, ‘নৌকায়’। প্রতিবেদককে কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে ইকবাল শেখ জানায়, আমাদের এলাকায় এবার অনেক কাজ হয়েছে। নৌকায় ভোট দিলে আরও অনেক কাজ হবে।  আর কয়েকদিন পর মহান বিজয় দিবস। এ দিনে আমাদের মুক্তিযোদ্ধারা বিজয় লাভ করেছিল। কিন্তু এখনো ইকবাল শেখরা যুদ্ধ করছে মায়ের মুখে, পরিবারের মুখে দু’মুঠো ভাত তুলে দিতে। এ যুদ্ধে বিজয় লাভ করতেই হবে। আ আ//    

জাতীয় দলে খেলতে চায় মোর্শেদ

বাবা বিক্রি করেন বাদাম। আর ছেলে চানাচুন। স্বপ্ন আকাশ ছোয়া। খেলতে চান জাতীয় ক্রিকেট দলে। সেই স্বপ্ন বাস্তবে রুপ দিতে খেলে যাচ্ছেন কুমিল্লা জেলার লাকসাম পৌরসভাধীন বাতাখালী গ্রামের আলী আকবরের ছেলে মোর্শেদ। পরিবারে চার ভাইয়ের মধ্যে মোর্শেদ তৃতীয়। অভাব আর আর্থিক দৈন্যতার কারণে প্রাথমিক স্কুলের গণ্ডিটাও টপকাতে পারেনি। কিন্তু শত অভাব আর কষ্টের মধ্যেও ছেলেটির মনের মধ্যে একটি স্বপ্ন দানা বেধে আছে। সেই ছোট বেলা থেকেই ব্যাট আর বলের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক তার। বাবার সঙ্গে বাদাম বিক্রি করার পাশাপাশি পাড়ার ছেলেদের সঙ্গে লুকিয়ে খেলতেন ক্রিকেট। সেজন্য পরিবারের বকুনি ও তিরস্কার শুনতে হয়নি কম।  কিন্তু ক্রিকেট পাগল ছেলেটির মনের মধ্যে রয়েছে অদম্য ইচ্ছা শক্তি। শুধুই ক্রিকেটের টানে চলে আসেন রাজধানী ঢাকাতে। কিন্তু কঠিন বাস্তবতা মোর্শেদকে বারেবারে পিছু টেনে ধরেছে। যতোই এগিয়ে গেছেন আরও পিছিয়ে পড়েছেন। সবকিছুর মূলে রয়েছে অভাব। তার ইচ্ছে বল আর ব্যাট হাতে দেশের হয়ে জাতীয় দলে খেলা। তাই দিনের বেশিরভোগ সময় ব্যয় করেন টাকা উপার্জনের জন্য বেচতে হয় চানাচুর। আর বাকি সময়টা তার কাটে মাঠে। ২০১৬ সালে চলে আসেন রাজধানীতে। ওই বছর ১৬ আগস্ট কলাবাগান ক্রীড়া চক্রে প্রাক্টিস করার সুযোগ পান। ঢাকায় এসে এক বড় ভাইয়ের সহযোগীতায় কলাবাগান ক্রীড়া চক্রে (অনর্দ্ধ ঊনিশ) ক্রিকেটে অংশ নেন। সেখানে একটি টুর্নামেন্টে অংশ নিয়ে ৪নং ব্যাটম্যান হিসেবে নেমে ২৪ বলে ৩০ রান করে ক্লাব কতৃপক্ষের দৃষ্টিতে পড়েন। পরবর্তী ম্যাচে ৫৩ বলে ৬৩ রানে অপরাজিত হয়ে ম্যান অব দ্যা ম্যাচ হন মোর্শেদ। এরপর থেকে নিয়মিত খেলে যাচ্ছেন তিনি। তবে কখনও কলাবাগান ক্রীড়া চক্রের হয়ে, আবার কখনও অন্য টিমের সঙ্গে। ধারাবাহিক ভাবে বল আর ব্যাটের সঙ্গে থেকেও কোন গতি পাচ্ছেন না মোর্শেদ। কারণ সেই থেকে টানা খেলে যাচ্ছেন কিন্তু সুযোগ পাচ্ছেন না কোন ভালো ক্লাবের হয়ে খেলার। এমনকি ভালো প্রাক্টিসেরও সুযোগ আসছেন না। শুরুতে তার স্বপ্ন ছিল যেকোন ক্লাবের পক্ষে ২য় ডিভিশনে খেলার সুযোগ নেওয়া। কিন্তু নিজের ওপর দারুণ আত্মবিশ্বাস মোর্শেদের। তাইতো তার স্বপ্ন আরও দীর্ঘ হয়েছে। স্বপ্ন দেখছেন বল এবং ব্যাট হাতে জাতীয় দলের হয়ে খেলার। কিন্তু এ মূহুর্তে সেই স্বপ্ন শুধুই স্বপ্ন। কারণ জাতীয় টিমে জায়গা পাওয়া এতো সহজ নয়। বিভিন্ন ক্লাবে ঘুরে সেটা বুঝতে পেরেছেন মোর্শেদ। এ অবস্থায় নিজের মনের দৃঢ়তা প্রকাশ করে একুশে টিভি অনলাইনকে মোর্শেদ বলেন, ‘আমি বিশ্বস করি মানুষ যা চায় তা সে করতে পারে, যদি তার ইচ্ছা শক্তিটা প্রবল থাকে। আমি ক্রিকেটকে ভালোবেসে নিজের এলাকা ছেড়েছি। আমি চাই ব্যাট এবং বল দিয়ে দেশের জন্য কিছু করতে। আমি জানি, আমি পারবো। কিন্তু শুধু সুযোগের অভাব।’ তিনি আরও বলেন, ‘সবার মত আমারও স্বপ্ন জাতীয় দলে খেলার। তবে এমূর্তে যদি তা সম্ভব নাও হয়, ঢাকার যেকোন ক্রিকেট ক্লাবের অর্ন্তভুক্ত হয়ে দ্বিতীয় ডিভিশনে খেলতে চাই।’ মোর্শেদ বলেন, আমি রাতের বেলায় রাজধানীর রাইফেল স্কয়ারের সামনে চানাচুর বিক্রি করি। দিনের বেলায় কলাবাগান মাঠে নিয়মিত প্রাক্টিস করছি। যদি কেউ আমার পাশে দাঁড়াতেন আমি অবশ্যই ভালো কিছু করে দেখাতে পারতাম।’ এসএ/  

ভুয়া সংবাদে বিরক্ত বিশ্বের সবচেয়ে লম্বা জিন্নাত

বিশ্বের সবচেয়ে লম্বা মানুষ হিসেবে দাবিদার জিন্নাত আলীর চিকিৎসার পাশাপাশি তার বাসস্থানের ব্যবস্থা করার দায়িত্ব নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এজন্য তিনি রামু ও কক্সবাজারের সংসদ সদস্য সাইমুম সরোয়ার কমলসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দকে দায়িত্ব দিয়েছেন। সাইমুম সরোয়ার কমল একুশে টেলিভিশন অনলাইনকে বলেন, প্রধানমন্ত্রী জিন্নাত আলীর বাসস্থানের জন্য জায়গা নির্ধারণ ও গৃহনির্মাণের দায়িত্ব আমাদের দিয়েছেন। আমরা সেই লক্ষে ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছি। গত ২২ অক্টোবর রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসার জন্য ভর্তি হন কক্সবাজারের রামু`র যুবক জিন্নাত আলী। মাত্র ২২ বছর বয়সী এ তরুণের শারীরিক উচ্চতা ৮ ফুট ছয় ইঞ্চি। পিজিতে ভর্তি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অতিরিক্ত শারীরিক উচ্চতার জন্য বিভিন্ন গণমাধ্যমের নজরে আসেন জিন্নাত আলী। বুধবার (২৪ অক্টোবর) জিন্নাত আলী গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পান। প্রধানমন্ত্রী তার সব খোঁজ খবর নেন ও তার চিকিৎসা ও বাসস্থানের ব্যয়ভার বহন করার দায়িত্ব নেন। সঙ্গে সঙ্গে জিন্নাত আলীকে নিয়ে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়। শনিবার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে এ প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা হয় জিন্নাত আলীর। বাইশ বছরের এ তরুণের সঙ্গে কথা বলে বুঝা যায়, আশে পাশের পরিবেশের উপর তিনি খুব বিরক্ত। তিনি বলেন, `সবাই আমাকে দেখার জন্য ভিড় করে। আমার সাথে সেলফি তুলতে চায়। আমি ক্লান্ত। আমি এখন নিজেকে লুকিয়ে রাখতে পারলে বাঁচি।` জিন্নাত আলী কিছু কিছু নামসর্বস্ব অনলাইন পোর্টালের উপর বিরক্ত প্রকাশ করে বলেন, `তারা আমাকে নিয়ে অদ্ভুত সংবাদ প্রকাশ করে। যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীণ। একটি পোর্টাল লিখেছে আমি নাকি দৈনিক আঠারো জনের খাবার খাই। এটা সম্পূর্ণ বানোয়াট কথা। একজন স্বাভাবিক মানুষ দৈনিক যা খায় আমিও তাই খাই। শারীরিক উচ্চতা বাদ দিলে আমার অন্যসব কিছু সাধারণ মানুষের মতো।` কক্সবাজারের রামু উপজেলার আমীর হামযা`র ছেলে জিন্নাত আলী। আমীর হামযা`র তিন ছেলে এক মেয়ের মধ্যে জিন্নাত আলীর অবস্থান তৃতীয়। কৃষক বাবার সন্তান জিন্নাত আলী অর্থনৈতিক টানাপোড়নের কারণে তৃতীয় শ্রেণীর পর আর পড়াশুনার সুযোগ পায়নি। জিন্নাত আলীর মেজ ভাই মোহাম্মদ রিয়াজের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চৌদ্দ বছর বয়স থেকে জিন্নাত আলীর শারীরিক অবস্থান অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেতে থাকে। এটাকে প্রথম দিকে কেউ গুরুত্ব না দিলেও পরবর্তীতে তাকে নিয়ে টনক নড়ে আত্মীয় স্বজনের। ২০১৩ সালে পারিবারিকভাবে তাকে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে আনা হয়। ডাক্তাররা নানা পরীক্ষা করে জানায়, তার হরমোনে এক ধরনের টিউমারের অস্তিত্ব পাওয়া যাচ্ছে। যার চিকিৎসার জন্য বারো লক্ষ টাকা প্রয়োজন। অভাবী পরিবারের সন্তান জিন্নাত আলী তখন হতাশ হয়ে কক্সবাজার ফিরে যায়। কিন্তু তার উচ্চতা বাড়তেই থাকে। আট ফুট ছয় ইঞ্চি শরীর নিয়ে তিনি ব্যালেন্স রাখতে হিমশিম খাচ্ছিলেন। জিন্নাত আলীর মেজ ভাই মোহাম্মদ রিয়াজ জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিভিন্ন মানবতামুখী কর্মকাণ্ড দেখে আমরা স্থানীয় সংসদ সদস্য সাইমুম সরোয়ার কমলের শরণাপন্ন হই। তিনি আমাদেরকে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার ব্যবস্থা করে দেন। প্রধানমন্ত্রী আমাদেরকে খুব আন্তরিকতা দেখিয়েছেন। একজন প্রধানমন্ত্রী হয়েও তিনি আমাদের যে ভালবাসা দেখিয়েছেন ও তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়েছেন তাতে আমরা মুগ্ধ। বিএসএমএমইউ- তে জিন্নাত আলীর চিকিৎসা করছেন, এন্ডোক্রাইনোলজী বিভাগের ডা. মোহাম্মদ ফরিদ। তাকে তাৎক্ষণিক ভাবে তখন পাওয়া যায়নি। জিন্নাত আলীর দেখা শুনা করছেন চট্টগ্রামের তাইসিফ। তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ডাক্তাররা ধারণা করছেন, জিন্নাত আলীর হরমোনে এক ধরনের জটিলতা আছে। সেই জটিলতা চিকিৎসার মাধ্যমে নিরসন করা না গেলে তার লম্বা হওয়ার গতি অব্যাহত থাকবে। তাই দ্রুত চিকিৎসার বিকল্প নেই। তবে সেই জটিলতা কী তা এখনো নিশ্চিত করে ডাক্তাররা বলতে পারেননি বলে জানা যায়। জিন্নাত আলী বলেন, `প্রধানমন্ত্রীর ভালবাসায় আমি মুগ্ধ। আমি সুস্থ হতে চাই। আমি স্বাভাবিক জীবন চাই।` আমাকে নিয়ে মানুষের অতিরিক্ত কৌতুহল আমার পছন্দ নয়। মানুষ আমাকে যখন তখন বিরক্ত করছে। আমিও মানুষ। আমাকে প্রদর্শনীর প্রাণী মনে করবেন না।` সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে দীর্ঘদেহী মানুষ জিন্নাত আলী সুস্থ হয়ে উঠবেন, ফিরে যাবেন তার স্বাভাবিক জীবনে এটাই প্রত্যাশা। আ আ//

টাকার অভাবে চিকিৎসা নিতে পারছেন না বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক

`তুমি কী দেখেছো কভু জীবনের পরাজয়। গহীন সাগরে অরুণ রোদনে তিলে তিলে যার ক্ষয়…’ গানের কথাগুলোর মতো টাকার অভাবে ঠিকমতো চিকিৎসা নিতে না পারায় জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক। তিনি অধ্যাপক মো. গোলাম ফারুক। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের চিত্রকলা, প্রাচ্যকলা ও ছাপচিত্র বিভাগের শিক্ষক। হাসপাতালের বেডে তাঁর দিন কাটছে হাজারো অনিশ্চয়তায়। এই জ্ঞানতাপস সারাজীবন ছাত্রদের শিখিয়েছেন কারো কাছে হাত পেতো না, নিজের পায়ে দাঁড়াও। ভাগ্যের নির্মম পরিহাস আর রূঢ় বাস্তবতা এই যে, জীবন সায়াহ্নে এসে তাঁকেই কি না চিকিৎসার জন্য অন্যের মুখপানে চেয়ে থাকতে হচ্ছে। দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠের এই শিক্ষককে যখন টাকার অভাবে চিকিৎসা বাধাগ্রস্ত হয় তখন প্রশ্নের মুখোমুখি হয় মানবতা। বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড়ায় আমাদের বিবেক। যিনি সারাজীবন সুস্থ সমজা ও মানুষ গড়ার পেছনে নিজের শ্রম ও মেধা দিয়েছেন তিনিই আজ টাকার অভাবে চিকিৎসা নিতে পারছেন না। তাকে বাঁচাতে প্রধানমন্ত্রীর সাহায্য চেয়েছেন স্ত্রী কামরুন্নাহার স্বপ্না। পারিবারিক সূত্র জানায়, ২০১৬ সালে উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসের কারণে হৃদরোগে আক্রান্ত হন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক গোলাম ফারুক। তখন তার বাইপাস সার্জারী হয়। সম্প্রতি তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে চিকিৎসার জন্য ভারতের চেন্নাইয়ে একটি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। ডাক্তাররা জানান, তার দুটি কিডনিই অকেজো হয়ে গেছে। ‘মরার উপর খাড়ার ঘাঁ’ এর মতো ঠিক এই সময়ে তার ব্রেন স্ট্রোক হয়। অর্থাভাবে তাকে চেন্নাই থেকে দেশে ফিরে আসতে হয়। পরে তার শারীরিক অবস্থার আরো অবনতি হয়। ভর্তি করানো হয় রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে। এই অবস্থায় তিনি প্যারালাইসিস ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হলে চিকিৎসকরা জানান, আজীবন তাকে সপ্তাহে তিনটা করে হেমোডায়ালাইসিস নিতে হবে। একই সঙ্গে ডাক্তাররা তাকে পায়ের অস্ত্রোপচারটা দ্রুত করে ফেলার তাগিদ দিচ্ছেন। শিক্ষকতার সীমিত আয় দিয়েই তাঁর সংসার চলত। তার উপর তিনি (গোলাম ফারুক) সংসারের একমাত্র উপার্যনক্ষম ব্যক্তি। তাঁর উপর নির্ভরশীল পুরো পরিবার। গোলাম ফারুকের শিক্ষকের চিকিৎসার পেছনে প্রতি মাসে তার পরিবারকে গুণতে হয় এক লাখ টাকারও বেশি। কোথেকে আসবে এই টাকা? কীভাবে চলবে চিকিৎসা? টাকার অভাবে কী থমকে যাবে এই গুণী মানুষটির জীবন? দেশের অন্য সব মানুষের মতো গোলাম ফারুকের পরিবারও বিশ্বাস করে, প্রধানমন্ত্রী চাইলে গোলাম ফারুক তার জীবন ফিরে পাবে। গোলাম ফারুকের পরিবার যেমন পাবে একজন কর্মক্ষম মানুষ তেমনি প্রধানমন্ত্রীর মহত্ত্বের মাত্রায় যোগ হবে নতুন মাত্রা। অা অা// এআর

© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি