ঢাকা, সোমবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ২১:৫০:১৫

রোজা পালনে যেসব রোগ থেকে মুক্তি মিলে

রোজা পালনে যেসব রোগ থেকে মুক্তি মিলে

অনেকে মনে করতে পারেন রোজা থাকলে শরীরের ক্ষতি হতে পারে। কিন্তু এ ধারণা ভুল। বরং রোজা পালনে বেশ কিছু রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। রোজা তারুণ্যকে ধরে রাখে, ব্যায়ামের চেয়েও বেশি কাজ দেয় এবং সেই সঙ্গে কমায় ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হার্চ অ্যাটাকের ঝুঁকি। গবেষণায় জানা গেছে, এসব তথ্য। দীর্ঘদিন ধরে মানুষের ধারণা ছিল, কম ক্যালরি খেতে থাকলে মানুষ বোধহয় অসুস্থ হয়ে পড়বে। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, নিয়মিত ভরপেট খাওয়ার চেয়ে মাঝে মাঝে না খেয়ে থাকাটা বরং সুস্বাস্থ্যের জন্যে বেশি সহায়ক। বছর ‍দুয়েক আগে আমেরিকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব এজিং-এর নিউরোসায়েন্টিক ড. মার্ক ম্যাটসন ও তার সহকর্মীদের প্রকাশিত একটি গবেষণা-প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয় যে, মাঝে মাঝে না খেয়ে থাকলে মাস্তিষ্কের বয়স জনিত রোগ যেমন: আলঝেইমার, হান্টিংটন, পার্কিনসন্স ইত্যাদি রোগের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্য হারে কমে যায়। এর ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তারা বলেন, উপবাসের ফলে দেহে এমন কিছু প্রোটিন উৎপন্ন হয়, যা মস্তিষ্কের কোষগুলোকে অক্সিডেশন জনিত ক্ষতি থেকে রক্ষা করে। উপরন্তু বাড়িয়ে দেয় স্নায়ু কোষের কার্যকারিতা। ফলে মস্তিষ্কের ক্ষয় হয় অনেক কম। রোজা রাখলে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমে। ম্যাটসন বলেন, নিয়মিত খাওয়া দাওয়া মানে দেহ কোষগুলোতে ইনসুলিনের নিরন্তর সরবরাহ। এভাবে চলতে থাকলে দেহ কোষগুলোর সক্রিয়তা ও কাজের প্রয়োজন কমতে থাকে। একসময় তৃপ্ত ও অলস এই দেহ কোষগুলো হয়ে উঠে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্ট বা ইনসুলিন প্রতিরোধী। অর্থাৎ এদের ওপর ইনসুলিনের প্রভাব কমে আসে ধীরে ধীরে। আর এটাই ডায়াবেটিসের লক্ষণ। কিন্তু মাঝে মাঝে কিংবা নিয়মিত বিরতিতে খাওয়া বন্ধ থাকলে শরীরের সর্বত্রই দেহকোষগুলো আরও ইনসুলিন সংবেদনশীল হয়ে উঠে, ইনসুলিনের প্রভাবে ভালোভাবে সাড়া দিতে পারে। এবং বিপাক করতে পারে দক্ষভাবে। এর ফলে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমার সঙ্গে সঙ্গে কমে উচ্চ রক্তচাপ এবং হার্ট অ্যাটাকের আশঙ্কাও। তাই বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ওজন হ্রাসের ক্ষেত্রে প্রতিদিনই কঠোরভাবে ক্যালরি নিয়ন্ত্রণের চেয়েও অনেক ভালো ফল দিতে পারে যে অভ্যাসটি সেটি হলো, স্বাভাবিক খাওয়া দাওয়ার পাশাপাশি নিয়মিত বিরতিতে নির্দিষ্ট সময়ের উপবাস। আসলে শরীরের জন্যে কিছু সময়ের এই ক্ষুধা বোধের উপকারিতার মূল সূত্রিটি নিহিত রয়েছে আমাদের ডিএনএ-র মধ্যেই। প্রাচীনকালে আমাদের পূর্বপুরুষরা পশু শিকার করে খাবার যোগাড় করতো। এভাবে একবেলা খাওয়ার পর পরবর্তী শিকার না পাওয়া পর্যন্ত বাধ্য হয়ে ক্ষুধার কষ্ট সহ্য করতে হতো। আর এই ক্ষুধা–অনাহারের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে টিকে থাকার একটি সহজাত ক্ষমতা আমাদের দেহে সঞ্চারিত হয়েছে বিবর্তন-প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে, শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে। কিন্তু আধুনিক মানুষকে তো খাবারের জন্যে না করতে হয় শিকার, না করতে হয় কোনো রকম অপেক্ষা। এখন ঘরে খাবার, ফ্রিজে খাবার, তা-ও না থাকলে হোটেল-রেস্তোরাঁ-দোকানপাট তো আছেই। ফলে আনাহারের কষ্ট থেকে আমরা বেঁচেছি বটে, কিন্তু সঙ্গী করেছি অন্য ঝুঁকিকে। পুষ্টিবিজ্ঞানীরা দেখেছেন, কয়েক ঘণ্টা পর পর নিয়মিত খাওয়া দাওয়ার ফলে রক্তে শর্করার মান দীর্ঘসময় ধরে উঁচু থাকে। দেহে বিভিন্ন কাজের জন্যে দরকার নির্দিষ্ট পরিমাণ ক্যালরি বা শক্তি আর সেই শক্তি উৎপাদনের জন্যে দৈনন্দিন খাবার থেকে প্রাপ্ত শর্করাকে বিপাক হতে হয়। এই বিপাকের একটি উপজাত হলো অক্সিডেশন বা জারণ,যার ফলে দেহে সৃষ্টি হয় অস্থিতিশীল অক্সিজেন অণু। এবং এর সবচেয়ে ধ্বংসাত্মক পরিণতি হলো-এটি বার্ধক্য প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে, শরীরকে বুড়িয়ে দেয়। ড. ম্যাটসন বলেছেন, উপবাস এই প্রক্রিয়াকেই পাল্টে দেয়। আনাহারের ফলে দেহে যে সাময়িক শক্তি-সংকট হয় তা মস্তিষ্কের কোষগুলোকে প্রোটিন উৎপাদনে উৎসাহ দেয়, যা উদ্বেগকর পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার শক্তি যোগায়, এমনকি তখন নতুন ব্রেন সেল বা নিউরোনও জন্মাতে পারে। আর পুরো দেহেই ইনসুলিন ছড়িয়ে পেড়ে ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থায়। এজন্যেই হয়তো বলা হয় যে, মানুষ না খেয়ে মরে না বরং কখনো কখনো অতি পুষ্টিই বিপদ ডেকে আনে। তাই নিজ নিজ ধর্মমতে রোজা বা উপবাস পালন করুন। আর ইফতারে খান পরিমিত ও সহজপাচ্য খাবার। আপনার সুস্থ কর্মময় দীর্ঘ জীবনের সম্ভাবনা তাতে বাড়বে। তথ্যসূত্র: হেলথ এন্ড নিউট্রিশন, টাইম ম্যাগাজিন। এসএইচ/
স্রষ্টার নৈকট্য লাভের অনন্য উপায় ইতেকাফ

ইতেকাফ উম্মতে মোহাম্মদীর জন্য আল্লাহ তাআলার নৈকট্য লাভের এক অনন্য উপায়। `ইতেকাফ` শব্দের অর্থ হলো এক জায়গায় অবস্থান করা। ইতেকাফ শব্দটা `আকেফীন` হিসেবে কুরআনুল কারীমে এসেছে। ইতেকাফকারীদের মর্যাদার কথা আল্লাহ পাক কুরআনুল কারীমে গুরুত্ব সহকারে বলেছেন। আল্লাহ `লাওহে মাহফুয` থেকে আয়াত নাযীল করে ইতেকাফকারীর যে মর্যাদার কথা বলেছেন সেটা অনেক বড় মাহাত্মের ব্যাপার। ইতেকাফ পালন করা যেমন ফযীলতপূর্ণ তেমনি ইতেকাফকারীও খুবই সম্মানীয়। ইতেকাফ সারা বছর করা যায়। একে বলা হয় নফল ইতেকাফ। রোজার নিয়ত করে মসজিদে ঢুকে গেলে একদিন, দু`দিন-যার যেভাবে সম্ভব সেভাবে ইতেকাফ করা যেতে পারে। জঞ্জালের দুনিয়া, টেনসনের দুনিয়া, দু:শ্চিন্তার দুনিয়া ছেড়ে আল্লাহর কাছে নিজেকে সমর্পন করে দেওয়ার নাম ইতেকাফ। এতে ইতেকাফকারীর আধ্যাত্মিক উৎকর্ষতা আসবে। অশান্তির জগতে তার মনে শান্তি আসবে। ইতেকাফ হলো দোয়া কবুল হওয়ার এক সুবর্ণ সুযোগ। ইতেকাফকারী নিজের জন্য,পরিবারের জন্য,  প্রতিবেশীর জন্য,  দেশবাসীর জন্য দোয়া করবেন। এটা সারাবছরই করা যায়। আরেকটা হলো- ওয়াজিব এতেকাফ। যদি কেউ মানত করে যে, আমার এই মনোবাসনা পূরণ হলে আমি ইতিকাফ করব, সেটা ওয়াজিব হয়ে যায়। এটা হলো ওয়াজিব ইতেকাফ। আর মাহে রমজানে যে ইতেকাফের সঙ্গে আমরা পরিচিত সেটা হলো সুন্নতি ইতেকাফ। রমজান মাস যদি ত্রিশ দিনে হয় তাহলে ইতেকাফ পড়বে শেষ দশদিন। আর রমজান যদি ২৯ দিনে হয় তাহলে ইতেকাফ পড়বে ৯ দিন। রমজানের শেষ ১০ দিন বা ৯ দিনে পুরুষরা মসজিদে ইতেকাফ করবে। আর নারীরা ঘরের যেস্থানে নামাজ কালাম পরে, সেই স্থানে বসে ইতেকাফ করবে। আমাদের দেশে আমরা সচরাচর যে ইতিতকাফ করি সেটা হলো সুন্নতি ইতেকাফ। এক্ষেত্রে ২০ রমজানের দিন সূর্যাস্তের আগে মসজিদে প্রবেশ করতে হবে। কারণ সূর্যাস্তের পর থেকে ২১ রমজান শুরু হয়ে গেল। আমাদের সবাইকে একদিন মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হয়। এটা অনেকটা মৃত্যুর রিহার্সেল। আমার সংসারে এতো ঝামেলা, এতো সংকট, মেয়েদের বিয়ে হয় নাই, ছেলে চাকরি পাচ্ছে না- সব সাংসারিক চিন্তা থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া যায় ইতেকাফে। সাংসারিক জীবনে টেনশনের কোনো শেষ নাই। আমরা সেসবকে পিছনে ফেলে আল্লাহকে রাজি খুশি করার এক সুবর্ন সুযোগ ইতেকাফ। ইতেকাফকারী সাংসারিক সব ঝামেলা থেকে মুক্ত হয়ে ইতেকাফে বসে। এটা একটা ট্রেনিংও বটে। আমি যদি না থাকি সংসার কীভাবে চলবে? এই সময়টাতে তিনি সব প্রকার সাংসারিক, পার্থিব কেজ থেকে বিরত থাকেন। স্ত্রী- কণ্যার সঙ্গে যোগাযোগ থেকে বিচ্ছিন্ন থাকেন। একজন এতেকাফকারী আল্লাহর কাছে নিজেকে সমর্পন করে দেন। জিকির-ইবাদতে নিজেকে মশগুল রাখেন। ইতেকাফকারী কোরআন তেলাওয়াতকরা, নফল নামায পড়া, তাসবীহ পড়া- এসবে নিজেকে মশগুল রাখেন। এর ফলে প্রচুর সওয়া হচ্ছে, পূণ্য হচ্ছে। অার এতেকাফ দোয়া কবুল হওয়ার জায়গা। এতেকাফকারী নিজের জন্য, নিজের পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র- সবার জন্য দোয়া করবেন। দোয়ায় নিজেও উপকৃত হই, যার জন্য দোয়া করি সেও উপকৃত হয়। এর ফলে সবার জীবনে শান্তি অাসে। আল্লাহর নবী মুহাম্মদ (সা.) নিজেও ইতেকাফ করতেন। তিনি বলেছেন, অন্যান্য একাধিক নেক আমলের যে সওয়াব, একটি মাত্র ইতেকাফে এতেকাফকারী সেই পরিমাণ সওয়াব পেয়ে থাকেন। ইতেকাফ মানব কল্যাণের, মানুষের জীবনের কল্যাণের, ইহকালীন কল্যাণের, পরকালীন কল্যাণের জন্য একটি বিশাল সুযোগ। তবে এমন যদি পরিস্থিতি হয়, ইতেকাফকারী ব্যাক্তির অবর্তমানে তার পরিবার সংসার সমস্যায় পড়বে, তাদের প্রয়োজন মিটবে না- তাহলে তিনি এতেকাফে আসবেন না। কারণ, ইতেকাফ সুন্নত। কিন্তু সংসারের দায়িত্ব পালন করা ফরজ। সুন্নত পালন করতে গিয়ে ফরজের ত্রুটি করা চলবে না। লেখক: খতিব, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ। / এআর /

‘ভাগ্য নির্ধারণের রাত লাইলাতুল কদর’

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম, অাসসালামু অালাইকুম। সব পাঠককে লাইলাতুল কদরের শুভেচ্ছা। অাল্লাহ রাব্বুল অালামীনের অপার করুণায় অামরা ( মুহাম্মদ সা. এর উম্মত) লাইলাতুল কদর পেয়েছি। অামাদের জন্য এটা অাল্লাহ তা আলার বড় অনুগ্রহ। অন্যান্য নবীর উম্মতরা পাঁচশ ছয়শ বছর হায়াৎ পেত। কিন্তু অামাদের ( মুহাম্মদ সা. এর উম্মতদের) গড় অায়ু মাত্র ষাট-সত্তর বছর। অামাদের প্রিয় নবী ( সা.) কে একদিন অতীত যুগের উম্মতদের অামলনামা দেখানো হলো। তখন অাল্লাহর নবী ভাবলেন, অাগেকার নবীদের উম্মতরা অনেক বেশি হায়াৎ পেয়েছে বিধায় এতো বেশি নামায, রোজা করেছে। বেশি সওয়াব কামিয়েছে। কিন্তু অামার উম্মতরা হায়াৎ পাবে কম। তারা তো এতো অামল করতে পারবে না। তাহলে কী অামার উম্মতরা পেছনে পড়ে থাকবে। এমন চিন্তা করে রাসূলুল্লাহ ( সা.) খুব ব্যথিত হলেন। মনে মনে কষ্ট পেলেন। তখন অাল্লাহ অামাদের রাসূলকে লাইলাতুল কদর দান করলেন। বলেন, লাইলাতুল কদরের খায়রুম মিন অালফে সাহার। এই একটা নাত এতো মর্যাদার যেটা হাজার মাসের চেয়ে বহুগুনে উত্তম।অন্যান্য নবীর উম্মতেরা হাজার মাস এবাদত করে যে সওয়াব পেয়েছে মুহাম্মদ (সা.) এর উম্মতরা একরাত ইবাদত করে তার চেয়ে অনেক বেশী গুণ সওয়াব পাবে। লাইতালুল কদরের দুটো দিক। কদর শব্দের দুটো অর্থ। একটা হলো `ভাগ্য নির্ধারণ ` অার অন্য অর্থটা হলো সম্মান। অাল্লাহ তা অালা নিজেও রাতটিকে মর্যাদাবান করে অামাদের জন্য দিয়েছেন। দ্বিতীয়ত এ রাতে যারা ইবাদত বন্দেগী করে এমানুষগুলো অাল্লাহর কাছে খুবই সম্মান পায়। এই লাইলাতুল কদরেই কোরঅানুল কারীম নাযীল হয়েছিল। মর্যাদার ওপরে মর্যাদা, সম্মানের ওপর সম্মান, প্রাপ্তির ওপর প্রাপ্তির রাত লাইলাতুল কদর। লাইলাতুল কদরের অারেকটা দিক হলো `নির্ধারণ`। অাল্লাহ তা অালা দুনিয়াটা পরিচালনা করেন একটা নিয়মের ভিত্তিতে। অাল্লাহ `ক্বুন ফায়াকুন` বললেই হয়ে যায়। কিন্তু শৃংখলার জন্য একটা নিয়মের ভিত্তিতে পৃথিবী পরিচালিত হয়। এই প্রেক্ষাপটে অাগামী এক বছর হায়াৎ, মউত, সুখ, দুঃখ, ভালো, মন্দ, অায়, উপার্জন, এই এক বছরের ফয়সালা হবে লাইলাতুল কদরে। এজন্য এটার নাম নির্ধারনী। লাইলাতুল বরাতে রিযিক মোটামুটি বরাদ্দ হয় অার লাইলাতুল কদরে তা নির্ধারিত হয়ে যায়। অাল্লাহ তখন দায়িত্বগুলো ভাগ করে ফেরেশতাদের মাঝে বণ্টন করে দেন। অর্থাৎ অামরা দেখতে পাচ্ছি লাইলাতুল কদর একদিকে সম্মানের রাত অন্যদিকে অামাদের তাকদীর নির্ধারণের রাত। অামরা যে যে অবস্থায় থাকি, অামরা সবাই শান্তি চাই। অামরা সবাই একটা উন্নত জীবন চাই। সেজন্য লাইলাতুল কদরের রাতে অামরা জনে জনে অাল্লাহর কাছে অাগামী এক বছর যেন অামাদের হায়াতে বরকত হয়, সুস্বাস্থ্য হয়, পরীক্ষার্থীদের যেন পড়াশোনা ভালো হয়, কর্মজীবীদের যেন অায় রোজগার ভালো হয়, সুখ বৃদ্ধি পায়- এজন্য অাল্লাহর কাছে বলব। অারো অধিকতর প্রাচুর্য্য, অধিকতর সাচ্ছন্দ্যের জীবন চাইব। লাইলাতুল কদরের সূর্যাস্তের পর থেকে ফেরেশতারা জিবরাঈল (অা) এর নেতৃত্বে দুনিয়ার অাকাশে অবতরণ করেন। ওই রাতে যারা ইবাদত বন্দেগী করেন, জিবরাঈল (অা) ফেরেশতাদের বহর নিয়ে এসে সবার জন্য দোয়া করেন। ইবাদতরত লোকদের সঙ্গে মোসাহাবা করেন। হাত মেলান। অন্যান্য ফেরেশতারাও জনে জনে মুমিন মুসলমানদের সালাম দিয়ে যায়। অাল্লাহ অামাদেরকে লাইলাতুল কদরের গুরুত্ব বুঝার মতো জ্ঞান দিয়েছেন। তাই লাইলাতুল কদরের রাত্রিতে অামরা ফরজ, সুন্নাহ, ওয়াজিবতো অাদায় করবই- পাশাপাশি নফল নামাজ, তাসবীহ, কুরঅান তেলাওয়াত, তাহাজ্জুদ অাদায় করব। সদকা করব। মানুষের একটা ভালো কথাও অাল্লাহর কাছে ইবাদত হিসেবে গণ্য হয়। অামরা অামাদের নিজের জন্য, পরিবারের জন্য, সমাজের জন্য, রাষ্ট্রের জন্য, বিশ্বের জন্য দোয়া করবো। সব মানুষ যেন এই জগতেও সেই জগতেও সুখ- শান্তি পায়, অাল্লাহর কাছে সেই দোয়া করব। অাল্লাহ অামাদের সবাই কবুল করুন।অামিন। লেখক : খতিব, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ। অনু লেখক: অালী অাদনান। এসএইচ/

যাকাত গরিবের হক

অাল্লাহ রাব্বুল অালামীনের পক্ষ থেকে ইসলামের যে পাঁচটি রুকন বা স্তম্ভ দেওয়া হয়েছে তার একটি হলো যাকাত। `যাকাত` বলতে অামরা পারিভিষিকভাবে বুঝি, বৎসরান্তে মালের ওপর বা সম্পদের ওপর ধর্মের দিক থেকে একটি কর অারোপিত হয়। সেটা গরিব মিসকিনকে দেওয়া। যাকাত এর শাব্দিক অর্থ দু`রকম। `যাকাত` শব্দের অর্থ পরিশোধিত করা। অামরা যে যাকাত প্রদান করি, তা দেওয়ার পরে মালিকের অবশিষ্ট যে সম্পদ থাকে তা পরিশোধিত সম্পদ হিসেবে অাল্লাহর কাছে গণ্য হয়। এগুলোতে কোন নষ্টামী, অপবিত্রতা, কোন কদর্যতার স্পর্শ এগুলোতে থাকে না। নির্ধারিত অর্থ প্রদান করার পরে বাকি সম্পদ পরিশোধিত হয়, পরিচ্ছন্ন হয়। এজন্য এটাকে বলা হয় যাকাত। `যাকাত` শব্দের অারেকটি অর্থ হলো `অাননাম্মাহ`। এর অর্থ বর্ধিত হওয়া। এই দৃষ্টিকোন থেকে এটা বলা হয়, যাকাত দেওয়ার পরে বাকি যে সম্পদ অবশিষ্ট থাকবে অাল্লাহর পক্ষ থেকে সেখানে বরকত অাসবে। এটা অলৌকিক ও অাধ্যাত্মিক বিষয়। মালিক বুঝতেই পারবে না কীভাকে তার সম্পদ বৃদ্ধি হচ্ছে। এটা অাল্লাহর পক্ষ থেকে ফয়সালা। যাকাত প্রদান করলে বাকি সম্পদ উত্তোরত্তোর বৃদ্ধি পাবে। ইসলাম যেমন একটি পূর্ণাঙ্গ জীবন বিধান তেমনি যাকাত একটি জীবন ঘনিষ্ট বিষয়। ইসলামে সমগ্র মানবতার কল্যাণকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। সমগ্র সৃষ্টির কল্যাণের জন্য একটি জীবন বিধান। প্রশ্ন হচ্ছে অামরা যাকাতে কী কল্যাণটা দেখতে পাই? অাল্লাহ রাব্বুল অালামীন কাউকে বিত্তবান বানিয়েছেন, কাউকে গরিব বানিয়েছেন। এটা অাল্লাহ তা অালার একটি বিশেষ ইচ্ছা, হেকমত, প্রজ্ঞা। যারা বিত্তবান তারাই শুধু অারাম অায়েশে থাকবে, তারাই অাজীবন মালিক থাকবে, অার গরিব বা দরিদ্ররা শুধুই গরিব থাকবে- এটা সমাজ ও অর্থনীতিতে বড় বৈষম্যা হয়ে দেখা দেয়। কিন্তু অাল্লাহ বলছেন এই বৈষম্য চলবে না। সম্পদ কোন একটা নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর হাতে কুক্ষিগত থাকবে তা হতে দেওয়া চলবে না। বরং সম্পদ সবার মধ্যে হাত বদল হবে। ধনী-গরিব সবার মধ্যে সম্পদ হাত বদল হওয়ার অন্যতম উপায় হলো যাকাত। দরিদ্র শ্রেণির সুবিধা বঞ্চিত, অসহায়দের মাঝে যেন সম্পদ যায় সেজন্য অাল্লাহ তা অালা যাকাত তার বান্দাদের জন্য ফরজ করেছেন। যাকাত প্রদানের ফলে বিত্তবানের লাভ, দরিদ্রদেরও লাভ। ধনীদের লাভ হলো যাকাত প্রদানের ফলে অাল্লাহর পক্ষ থেকে বিশেষভাবে সম্পদ বৃদ্ধি পাচ্ছে। অার দরিদ্রদের লাভ হলো, সেই সিস্টেমে তাদের হাতে ধন-সম্পদ অাসছে। এমনো হতে পারে একজন বিত্তবান ব্যক্তি তার সম্পদের একটি অংশ দরিদ্র কাউকে প্রদানের ফলে সেই দরিদ্র ব্যক্তি অার্থিকভাবে সাবলম্বী হয়ে গেলো। পরের বছর সে যেন অন্য কোন ব্যক্তিকে সাবলম্বী করে দিতে পারে। অাল্লাহ তা অালা যাকাত- এর প্রেক্ষিতে বলেছেন, "কেউ কেউ মনে করে সুদী লেনদেনে ধন-সম্পদ বৃদ্ধি পায়। কিন্তু যারা সুদী লেনদেন করে এবং মনে করে যে তাতে তাদের সম্পদের বৃদ্ধি ঘটবে কিন্তু তাদের সম্পদের বৃদ্ধি ঘটে না।" অাল্লাহ অারও বলেছেন, "তোমরা যে যাকাত দিয়ে থাক তা অাল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য দিয়ে থাক। এর প্রেক্ষিতে অাল্লাহ তোমাদেরকে এমন এক প্রক্ষোতে পৌঁছিয়ে থাকেন যে তোমাদের সম্পদ দ্বিগুণ হারে বাড়তেই থাকে।" সুতারাং যাকাত মানবকল্যাণে একটা বিশেষ অর্থনৈতিক পদ্ধতি। এটাকে জরিমানা মনে করার কোন কারণ নাই। দণ্ড মনে করার কোন কারণ নাই। যাকাত দিয়ে গরিবকে অনুগ্রহ করলাম, অনুকম্পা করলাম এটাও ভাবার কোন সুযোগ নেই। এই যাকাতে গরীবদের হক অাছে, দাবি অাছে। এই যাকাত দিয়ে কেউ যদি অহংকার করে সেটা মোটেই সমীচীন নয়। বরং যাকাত গরিবের হক। দিয়ে দিতে পারলে তৃপ্তি পাবে, অবশিষ্ট সম্পদ পরিশুদ্ধ হবে। অাল্লাহর পক্ষ থেকে পরিবর্ধন ঘটবে। যারা গরিব শ্রেণির লোক তারা এই অর্থ পেয়ে উপকৃত হবে। সুতরাং যারা বিত্তবান অাছেন তারা হিসেব করে যাকাত দিয়ে দিবেন। লেখক: খতিব, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ। এসএইচ/

কিডনি সংযোজিত রোগীরাও রোজা রাখতে পারবেন (ভিডিও)

দেশে দুই কোটি লোক কোন না কোনভাবে কিডনির নানা সমস্যায় আক্রান্ত। রমজান মাসে কিডনি রোগীরা খাদ্যাবাসসহ নানা বিষয়ে কিছু নিয়মকানুন মেনে চলা দরকার। তাই নিয়ে লিখেছেন ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট (কিডনী ডিজিজ অ্যান্ড ইউরোলজী) সাবেক পরিচালক ও বিভাগীয় প্রধান ডা. শামীম আহমেদ। কিডনি রোগীরা যা করা উচিৎ নয়- মানবদেহের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলোর মধ্যে দুই কিডনির ভূমিকা অপরিসীম। রমজান মাসে যারা ইতিমধ্যেই ডায়াবেটিস এবং উচ্চ রক্তচাপজনিত কিডনি রোগে ভুগছেন তারা অবশ্যই ব্লাড সুগার এবং ব্লাড প্রেসার নিয়ন্ত্রণে রাখবেন। কিডনি রোগীরা রমজান মাসে খাবারের ব্যাপারেও একটু অনিয়ম করেন, কারণ বিভিন্ন ধরনের রসালো ফল যেমন আম, কলাসহ বেশি পটাশিয়ামযুক্ত ফল খেয়ে থাকেন কিন্তু আপনারা অনেকেই জানেন না রক্তে পটাশিয়ামের পরিমাণ বেশি হলে হাইপারক্যালেমিয়া থেকে রোগীর আকস্মিক মৃত্যু হতে পারে। তাই বেশি পটাশিয়ামযুক্ত ফল খাবেন না। শাকসবজি লিচিংয়ের মাধ্যমে অর্থাৎ দুই ঘণ্টা আগে পানিতে ভিজিয়ে অথবা পিস করে পানি ফেলে রান্না করবেন। অনেক সময় ফলে কার্বাইডসহ বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থ মিশ্রিত থাকে। তাই খাওয়ার আধ ঘণ্টা আগে পানিতে ভিজিয়ে খোসা ফেলে ফল খেতে পারেন। কিডনি রোগীরা অধিক মাত্রায় ভাজাপোড়া এবং ডাল বা ডালের তৈরি জিনিস খাবেন না। বাইরের খাবার না খেয়ে ঘরে তৈরি খাবারের প্রতি মনোযোগী হবেন। কিডনি রোগীরা আলগা লবণ বা অধিক পানি খাবেন না, কারণ কিডনি বিকল রোগীদের প্রস্রাব স্বাভাবিক মানুষের তুলনায় কম হয়, তাই অতিরিক্ত পানি হার্টে এবং ফুসফুসে জমে থেকে রোগীর মৃত্যুও হতে পারে। যাদের জন্য রোজা ঝুঁকিপূর্ণ- যারা দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগী, যাদের কিডনি বিকল হয়ে আছে, যাদের নিয়মিত ডায়ালিসিস করতে হচ্ছে, যাদের মূত্রতন্ত্রের প্রদাহের চিকিৎসা চলছে, আকস্মিক কিডনি বিকল রোগীদের মধ্যে যারা কিডনির কোনো জরুরি অপারেশন করাতে হচ্ছে। তাছাড়া দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগীদের যদি রক্তের উপাদানে কোনো জটিলতা দেখা দেয়, যাদের ডায়ালিসিস বা উচ্চ রক্তচাপ অনিয়ন্ত্রিত আছে, তাদের এগুলো নিয়ন্ত্রণ করে রোজা রাখতে হবে। কিডনি রোগীরা রোজা রাখতে পারেন কিন্তু তাদের বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। কিডনি রোগীর খাওয়া দাওয়া- কোনো জটিলতা নেই এমন কিডনি রোগীরা তারা রোজা রাখতে পারবেন তবে তাদের প্রোটিন জাতীয় খাবার যেমন- মাছ, মাংস, ডিম, দুধ এগুলো পরিমিতভাবে খেতে হবে। পিঁয়াজু ও ভাজা-পোড়া খাবার, অতিরিক্ত তৈলাক্ত খাবার, ঝাল-মসলা পরিহার করতে হবে। যাদের রক্তে পটাশিয়াম বেশি তারা শাকসবজি পটাশিয়ামমুক্ত করে খাবেন ও ফল সীমিত পরিমাণ খাবেন। আপনার ডাক্তারের পরামর্শে রক্তের উপাদান মাঝে মাঝে পরীক্ষা করিয়ে নেবেন। যাদের শরীরে অতিরিক্ত পানি আছে বা শরীর ফোলা তারা একবারে অনেক বেশি পানি খাবেন না। সেহরির সময় ভাত-রুটি, মাছ-মাংস, ডিম, দুধ পরিমিত খাবেন। ইফতারের সময় খাবেন খেজুর, চিড়া, দই, ডিমের পুডিং, সেমাই, পায়েস, পিঠা ইত্যাদি। বেশি করে পানি খেতে হবে- প্রস্রাবে ইনফেকশন প্রতিরোধের জন্য সেহরির সময় ও ইফতারের পর পর বেশি করে পানি খেতে হবে। কমপক্ষে তিন লিটার পানি প্রতিদিন পান করা দরকার। এ ছাড়া ক্রানবেরি জুস অথবা প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী ওষুধ, প্রস্রাবে ইনফেকশন কমিয়ে আনে। প্রতিদিন সেহরির সময় এক বা দুটি ক্যাপসুল বা ট্যাবলেট খাবেন। যাদের ঘন ঘন মূত্রতন্ত্রে ইনফেকশন হয়, তারা ইনফেকশন প্রতিরোধের জন্য কট্রিম অথবা নাইট্রোফোরানটোয়িন জাতীয় অ্যান্টিবায়োটিক অল্প মাত্রায় খেতে পারেন। কিডনিতে পাথর সৃষ্টির সঙ্গে পানির একটা সম্পর্ক আছে। পানি কম খেলে পাথর হওয়ার প্রবণতা বেড়ে যায়। কাজেই যাদের পাথর হওয়ার প্রবণতা আছে, তাদের ইফতার থেকে শুরু করে সেহরি পর্যন্ত ৩-৪ লিটার পানি খেতে হবে। সেই সঙ্গে আলগা লবণ পরিহার করতে হবে এবং প্রোটিন জাতীয় খাবার বিশেষ করে গরু-খাসির মাংস কম খেতে হবে। কিডনি সংযোজনের রোগী ক্ষেত্রে- কিডনি সংযোজিত রোগীরা রোজা রাখতে পারেন। তবে তাদের ওষুধ নিয়মিত খেতে হবে। মনে রাখতে হবে, এখন প্রচণ্ড গরমের সময়। খোলা খাবার, রাস্তার পাশে বিভিন্ন রঙবেরঙের শরবত সহজেই জীবাণু দ্বারা সংক্রমিত হতে পারে। এগুলো খেয়ে ডায়রিয়া, বমিতে আক্রান্ত হয়ে অনেক রোগীর আকস্মিক কিডনি বিকল হয়ে যেতে পারে। এজন্য এ ব্যাপারে সচেতনতাবোধ গড়ে তোলা জরুরি।  এসএইচ/

‘হারাম সম্পদের মালিকের যাকাত আল্লাহ কবুল করবেন না’

যারা হারাম সম্পদের মালিক, যারা হারাম সম্পদ আয় করেন, সেটা ঘুষ, সুদ, দুর্নীতি, লুট-যেভাবেই হোক না কেন- তা দিয়ে যাকাত দিলে সেটা আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না। কারণ, আল্লাহ তাআলা নিজে পরিত্র এবং পবিত্রতাকে তিনি পছন্দ করেন। হারাম সম্পদ অপবিত্র। তাই এ অপবিত্র সম্পদ দিয়ে যাকাত দিলে কবুল হবে না। হারাম সম্পদের যাকাতে সওয়াবের আশা করাটাই বৃথা।এছাড়া দরিদ্র শ্রেণী যাকাত নেবেন ঠিক আছে। তবে এই নিয়ত রাখবেন না যে, আজীবন যাকাত নেবেন। বরং প্রাপ্ত যাকাত কাজে লাগিয়ে তারা সাবলম্বী হয়ে আগামীতে যেন নিজেরা যাকাত দিতে পারেন সেই লক্ষ্য ও চেষ্টা থাকতে হবে।আল্লাহর রাসূল ( সা.) বলেছেন, ‘উপরের হাত নিচের হাতের চেয়ে উত্তম’। দাতার হাত গ্রহীতার হাতের চেয়ে উত্তম। তাই পেশা হিসেবে ভিক্ষাবৃত্তিকে বেছে নেওয়া ঠিক নয। একই সঙ্গে সব সময় যাকাত নিতে থাকা- এটা কোনো প্রশংসার বিষয় নয়। প্রত্যেককে সাবলম্বী হওয়ার জন্য চেষ্টা করতে হবে। নিজের শক্তি, সামর্থ্য, বুদ্ধি, জ্ঞান, মেধা, প্রজ্ঞা ও শ্রম দিয়ে যেন সাবলম্বী হতে পারে এই চেষ্টা থাকতে হবে।ইসলাম সব সময় সাবলম্বী হতে উৎসাহিত করেছে। উপার্জন করতে উৎসাহিত করেছে। একান্ত নিরুপায় অবস্থায় সাহায্য গ্রহণ করতে বলেছে।লেখক: খতিব, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ।/ এআর /

রোজা সম্পর্কিত কোরআনের ৪ আয়াত ও ৫ হাদিস

ইসলামের ৫টি স্তম্ভের মধ্যে রোজা অন্যতম একটি স্তম্ভ। হাদিসে কুদসীতে আল্লাহ তায়ালা রোজার প্রতিদান নিজ হাতে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। আমাদের এই আয়োজনে রোজা সম্পর্কিত কোরআনের ৪টি আয়াত এবং ৫ টি হাদীস উল্লেখ করা হলো। কোরআনের ৪টি আয়াত ১) হে মুমিনগণ! তোমাদের জন্যে সিয়ামের বিধান দেওয়া হলো, যেমন বিধান তোমাদের পূর্ববর্তীগণকে দেওয়া হয়েছিল, যাতে তোমরা মুত্তাকী হতে পার। (সূরা বাকারা-২:১৮৩) ২) সিয়াম নির্দিষ্ট কয়েক দিনের। তোমাদের মধ্যে কেউ অসুস্থ হলে অথবা সফরে থাকলে অন্য সময় এই সংখ্যা পূর্ণ করবে। এটা যাদের সাতিশয় কষ্ট দেয় তাদের কর্তব্য এর পরিবর্তে ফিদইয়া-একজন অভাবগ্রস্তকে খাদ্যদান করা। যদি কেউ স্বা:স্ফূর্তভাবে সৎকাজ করে তবে তা তার পক্ষে অধিক কল্যাণকর। আর সিয়াম পালন করাই তোমাদের জন্যে অধিকতর কল্যাণকর যদি তোমরা জানতে। (সূরা বাকারা-২:১৮৪) ৩) রমাজান মাস, এতে মানুষের দিশারী এবং সৎপথের স্পষ্ট নিদর্শন ও সত্যাসত্যের পার্থক্যকারীরূপে কোরআন অবর্তীর্ণ হয়েছে।সুতরাং তোমাদের মধ্যে যারা এ মাস পাবে তারা যেন এ মাসে সিয়াম পালন করে এবং কেউ অসুস্থ্য থাকলে কিংবা সফরে থাকলে অন্য সময় এ সংখ্যা পূরণ করবে। আল্লাহ তোমাদের জন্যে যা সহজ তা চান এবং যা তোমাদের জন্যে কষ্টকর তা চান না, এজন্যে যে তোমাদের সংখ্যা পূর্ণ করবে এবং তোমাদের সৎপথে পরিচালিত করার কারণে তোমরা আল্লাহর মাহিমা ঘোষণা করবে এবং যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে পারে। (সূরা বাকারাহ ২:১৮৫) ৪) সিয়ামের রাতে তোমাদের জন্যে তোমাদের স্ত্রীদের বৈধ করা হয়েছে। তারা তোমাদের জন্যে এবং তোমরাও তাদের জন্যে পরিচ্ছদ। আল্লাহ জেনেছেন যে, তোমরা তোমাদের নিজেদের সাথে খিয়ানত করছিলে, অতঃপর তিনি তোমাদের তাওবা কবুল করেছেন এবং তোমাদেরকে মার্জনা করেছেন, সুতরাং এখন তোমরা তাদের সাথে সংগত হও এবং আল্লাহ তোমাদের জন্যে যা নির্ধারণ করে রেখেছেন (অর্থাৎ সন্তান) তা অন্বেষণ করো। আর তোমরা আহার করো ও পান করো যতক্ষণ তোমাদের জন্যে (রাত্রির) কালো রেখা থেকে ফজরের সাদা রেখা স্পষ্ট হয়ে যায়। এরপর রাত পর্যন্ত সিয়াম পূর্ণ করো। আর তোমরা মসজিদে ই’তিকাফ অবস্থায় তাদের সাথে সংগত হয়ো না। এগুলো আল্লাহর (নির্ধারিত) সীমা, সুতরাং এর নিকটবর্তী হয়ো না। এভাবেই আল্লাহ মানুষের জন্যে তার আয়াতসমূহ স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেন, যাতে তারা তাকওয়া অবলম্বন করতে পারে। (সূরা বাকারা ২:১৮৭) রোজা সম্পর্কে ৫ হাদিস ১) হযরত আবু হুরায়রা (রা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ(সো:)ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি ঈমান ও ইহতিসাবসহ রমজান মাসের সিয়াম পালন করবে, তার পূর্ববর্তী ও পরবর্তী গুণাহ মাফ করে দেওয়া হবে।(সহীহ বুখারী: ৩৮, সহীহ মুসলিম:৭৬০) ২) হযরত সাহল বিন সা’দ (রা.) হতে বর্ণিত।তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ(সো:)ইরশাদ করেন, জান্নাতের একটি দরজা আছে, একে রাইয়ান বলা হয়, এই দরজা দিয়ে কিয়ামতের দিন একমাত্র সায়িম ব্যক্তিই জান্নাত প্রবেশ করবে। তাদের ছাড়া অন্য কেউ এই পথে প্রবেশ করবে না। সেদিন এই বলে আহবান করা হবে সায়িমগণ কোথায়? তারা যেন এই পথে প্রবেশ করে। এভাবে সকল সায়িম ভেতরে প্রবেশ করার পর দরজাটি বন্ধ করে দেওয়া হবে। অত:পর এ পথে আর কেউ প্রবেশ করেবে না। (সহীহ বুখারী:১৮৯৬, সহীহ মুসলিম: ১১৫২) ৩) হযরত আবু হুরায়রা (রা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ(সো:)ইরশাদ করেন, সিয়াম ঢালস্বরূপ। তোমাদের কেউ কোনোদিন সিয়াম পালন করলে তার মুখ থেকে যেন অশ্লীল কথা বের না হয়। কেউ যদি তাকে গালমন্দ করে অথবা ঝগড়ায় প্ররোচিত করতে চায় সে যেন বলে, আমি সায়িম। (সহীহ বুখারী: ১৮৯৪, সহীহ মুসলিম:১১৫১) ৪) হযরত আবু হুরায়রা (রা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ(সো:)ইরশাদ করেন, আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, সিয়াম ব্যতীত আদম সন্তানের প্রতিটি কাজই তার নিজের জন্য, কিন্তু সিয়াম আমার জন্য এবং আমিই এর প্রতিদান দেব। সিয়াম ঢালস্বরূপ। তোমাদের কেউ যেন সিয়াম পালনের দিন অশ্লীলতায় লিপ্ত না হয় এবং ঝগড়া-বিবাদ না করে। যদি কেউ তাকে গালি দেয় অথবা তার সঙ্গে ঝগড়া করে, তাহলে সে যেন বলে, আমি সায়িম (রোজাদার)। যার হাতে মুহাম্মদের প্রাণ, তার শপথ! অবশ্যই সায়িমের মুখের গন্ধ আল্লাহর নিকট মিসকের গন্ধের চেয়েও সুগন্ধি। সায়িমের জন্য রয়েছে দু’টি খুশি, যা তাকে খুশি করে। যখন যে ইফতার করে, সে খুশি হয় এবং যখন সে তার প্রতিপালকের সাথে সাক্ষাৎ করবে, তখন সাওমের বিনিময়ে আনন্দিত হবে। (সহীহ বুখারী: ১৯০৪, সহীহ মুসলিম:১১৫১) ৫) হযরত আবু হুরায়রা (রা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ(সো:)ইরশাদ করেন, তোমাদের নিকট রমজান মাস উপস্থিত। এটা এক অত্যন্ত বারাকতময় মাস। আল্লাহ তা’য়ালা এ মাসে তোমাদের প্রতি সাওম ফরজ করেছেন। এ মাসে আকাশের দরজাসমূহ উন্মুক্ত হয়ে যায়, এ মাসে জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং এ মাসে বড় বড় শাইতানগুলোকে আটক রাখা হয়।আল্লাহর জন্যে এ মাসে একটি রাত আছে, যা হাজার মাসের চেয়েও অনেক উত্তম। যে লোক এ রাত্রির মহা কল্যাণলাভ হতে বঞ্চিত থাকল, সে সত্যিই বঞ্চিত ব্যক্তি। (সুনানুন নাসায়ী:২১০৬) [লেখকের ‘কুরআন মাজীদের আদেশ ও নিষেধ’ গ্রন্থ থেকে সংকলিত] এমএইচ/  

যাকাত সম্পর্কিত কুরআনের আয়াত ও হাদীস

১. নিশ্চয়ই সদকাহ্ (যাকাত) হলো- ফকীর, মিসকীন, তৎসংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের জন্যে, যাদের চিত্তাকর্ষণ করা হয় তাদের জন্যে, আল্লাহর পথে এবং মুসাফিরদের জন্যে-এটা আল্লাহর বিধান। আল্লাহ্ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়। (সূরা তাওবাহ্ ৯:৬০)। ২. আমি যদি তাদেরকে পৃথিবীতে রাজত্ব দান করি, তাহলে তারা সালাত কায়েম করবে, যাকাত আদায় করবে, সৎকাজের আদেশ দিবে এবং অসৎ কাজ হতে বিরত রাখবে, আর সব কাজের চূড়ান্ত পরিণতি একান্তই আল্লাহর ইচ্ছাধীন। (সূরাহ হাজ্জ ২২: ৪১)। ৩. এটা (যাকাত) প্রাপ্য সেসব অভাবগ্রস্ত লোকদের, যারা আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠায় নিয়োজিত থাকায় জীবীকার জন্যে জমিনে পদচারণা করতে পারে না এবং (আত্মসম্ভ্রমের কারণে) কারো নিকট হাত পাতে না বলে অজ্ঞ লোকেরা তাদেরকে অভাবমুক্ত মনে করে।তোমরা তাদের (দারিদ্র্যের) লক্ষণ দেখে চিনতে পারবে। তারা মানুষের নিকট মিনতি করে যাচনা করে না। আর যে কল্যাণকর কিছু তোমরা ব্যয় কর, নিশ্চয় আল্লাহ তা সবশেষ অবহিত। (সূরাহ বাকারাহ ২:২৭৩) ৪. এবং তিনিই মাচাযু্ক্ত (কাণ্ডবিহীন) ও মাচাবিহীন (কাণ্ডবিশিষ্ট) বৃক্ষ-লতা সম্বলিত বাগানসমূহ, খেজুর গাছ, বিভিন্ন স্বাদের খাদ্য শস্য, যায়তুন ও আনার সৃষ্টি করেছেন- যেগুলো পরস্পর সাদৃশ্যপূর্ণ ও সাদৃশ্যহীন। যখন তা ফলবান হয় তখন তোমরা তার ফল খাও এবং ফল সংগ্রহের দিনে তার হাক্ক (অর্থাৎ উশর) প্রদান কর এবং অপচয় করো না। নিশ্চয় তিনি অপচয়কারীদেরকে ভালোবাসেন না। (সূরাহ আনআম ৬:১৪১) ৫. সে সব লোক, যাদেরকে ব্যবসায়-বাণিজ্য এবং ক্রয়-বিক্রয় আল্লাহর স্মরণ, সলাত কায়িম এবং যাকাত প্রদান হতে বিরত রাখে না। তারা ভয় করে সেই দিনকে যেদিন অনেক অন্তর ও দৃষ্টি বিপর্যস্ত হয়ে পড়বে। (সূরাহ নূর ২৪:৩৭) রাসূলুল্লাহ সা. এর হাদীস- ১. হযরত হারিসাহ ইবনি ওয়াহব রা. হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী কারীম সা.-কে বলতে শুনেছি, তোমরা সদাকাহ (যাকাত) প্রদান কর, কেননা তোমাদের ওপর এমন যুগ আসবে যখন মানুষ আপন সদাকাহ নিয়ে ঘুরে বেড়াবে কিন্তু তা গ্রহণ করার মতো কাউকে পাবে না। (দাতা যাকে দেওয়ার ইচ্চা করবে সে) লোকটি বলবে, গতকাল পর্যন্ত নিয়ে আসলে আমি গ্রহণ করতাম। আজ আমার আর কোনো প্রয়োজন নেই। (সহীহ্ বুখারী: ১৪১১, সহীহ্ মুসলিম: ১০১১) ২. হযরত আবূ হুরাইরা রা. হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সা. ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর কাছ থেকে ধন-সম্পদ পেয়েছে কিন্তু সে তার যাকাত আদায় করেনি, কিয়ামতের দিন ওই ধন-সম্পদ এমন বিষধর সাপে পরিণত হবে যার মাথার ওপর থাকবে দুটি কালো দাগ। এ সাপ সে ব্যক্তির গলায় পেচিয়ে দেওয়া হবে। অতঃপর সাপ উক্ত ব্যক্তির গলায় ঝুলে তার দুগালে কামড়াতে থাকবে এবং বলবে, আমি তোমার মাল, আমি তোমার সঞ্চিত সম্পদ। (সহীহ্ বুখারী: ১৪০৩) ৩. হযরত আবূ হুরাইরা রা. হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. ইরশাদ করেন, প্রতিদিন সকালে দুজন ফেরেশতা অবতরণ করেন। তাদের একজন বলেন, হে আল্লাহ! দাতাকে তার দানের উত্তম প্রতিদান দিন। আর অপরজন বলেন, হে আল্লাহ্! কৃপণকে ধ্বংস করে দিন। (সহীহ্ বুখারী: ১৪৪২, সহীহ্ মুসলিম: ১০১০) ৪. হযরত জারীর ইবনি আবদুল্লাহ্ রা. হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী কারীম সা. ইরশাদ করেন, যখন তোমাদের নিকট যাকাত আদায়কারী আসবে, তখন সে যেন তোমাদের নিকট থেকে তোমাদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়ে যায়। (সহীহ্ মুসলিম: ৯৮৯) ৫. হযরত ‘আবদুল্লাহ ইবনি ‘উমার রা. হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী কারীম সা. ইরশাদ করেন, যেসব জমিতে বৃষ্টি ও ঝরনার পানিতে সেচ হয়, অথবা যেসব জমিতে উপরিভাগ থেকে সেচ করা হয়, সেসব জমির ফসলে যাকাতের পরিমাণ এক দশমাংশ। আর যেসব জমিতে কূপ থেকে পানি সরবরাহ করা হয়, সেসব জমির ফসলের বিশ ভাগের একাংশ যাকাত (উশর) দিতে হবে। (সীহ। বুখারী: ১৪৮৩) তথ্যসূত্র: ‘কুরআন মাজীদের আদেশ ও নিষেধ’ বই থেকে সংকলিত। আরকে/এসএইচ/

রেসিপি : স্ট্রবেরি ও আপেলের ক্রাম্বল

ইফতারের আইটেমে হালকা ও ছোট্ট কিছু করে খাওয়া গেলে মন্দ হয় না। অনেকেই আছেন যাদের ইফতার এককভাবে করতে হয় তাদের ক্ষেত্রে এটি বেশ চমৎকার আইটেম হবে। পেটও ভরবে ফলও খাওয়া হবে। রইলো তাদের জন্য স্পেশাল রেসিপি- উপকরণ ১) আপেল টুকরো করে কাটা দুই বাটি (সবুজ আপেল হলে ভালো হয়)। ২) স্ট্রবেরি টুকরো করে কাটা দেড় বাটি। ৩) রোলড ওটস ১/৪ কাপ। ৪) চিনি এক বাটি। ৫) ময়দা ১/৪ কাপ। ৬) লেবুর রস চার চামচ। ৭) ব্রাউন সুগার ১/২ বাটি। ৮) দারুচিনি গুঁড়ো এক চামচ। ৯) লবণ ছাড়া গলানো বাটার তিন চামচ। ১০) আমন্ড কোচানো ১/৪ কাপ। প্রণালি একটি বাটিতে কোচানো সবুজ অ্যাপল ও স্ট্রবেরি নিন। তার মধ্যে লেবুর রস ও চিনির দিয়ে ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। অন্য একটি বাটিতে ময়দা নিয়ে তাতে দিন ব্রাউন সুগার, দারুচিনি গুঁড়ো, রোলড ওটস। এগুলো ভালোভাবে মিশিয়ে নিয়ে মিশ্রণটিতে গলানো বাটার দিয়ে মেশান। এবার কোচানো আমন্ড দিয়ে আরেকবার সমস্ত উপকরণ মিশিয়ে নিন। যদি আলাদ আলাদা করতে চান তাহলে তিনটি ওভেনপ্রুফ বাটি নিন। কিংবা একটি বড় বাটিতে করলেও হবে। তারমধ্যে আপেল-স্ট্রবেরির মিশ্রণ ঢেলে দিন। ফলের মিশ্রণের উপর থেকে ছড়িয়ে দিন ওটস-আমন্ডের মিশ্রণ। এবার ওভেনে ১৮০ ডিগ্রিতে ২০ মিনিট বেক করুন মিশ্রণটি। ২০ মিনিট পর ওভেন থেকে বের করলেই তৈরি স্ট্রবেরি অ্যাপল ক্রাম্বল। ওভেন না থাকলে এটি চুলাতেও করতে পারবেন। কেএনইউ/ এআর

ইফতার রেসিপি : ছোলার ফ্রুটি চাট

ইফতারে যত কিছুই থাকুক না কেন ছোলা ভুনা যেন থাকাটা চাইই চাই। খেতেও যেমন ভালো লাগে তেমনি এর গুণও অসাধারণ। তবে মসলা দিয়ে তৈরি ভুনা ছোলা ডায়েটের কারণে অনেকেই খেতে চান না। তাই ভুনা ছোলা ছাড়া এটি দিয়ে ভিন্ন আইটেম তৈরি করে খাওয়া যেতে পারে। বিভিন্ন ফলের সমাহারে তৈরি ছোলার ফ্রুটি চাট। এতে যেমন মসলার ভয় নেই তেমনি পুষ্টিও রয়েছে অধিক। উপকরণ ১) ছোলা দুই কাপ (সিদ্ধ)। ২) কাবলি বুট দেড় কাপ (সিদ্ধ)।   ৩) আপেল একটি, পাকা আম একটি, পেয়ারা একটি, বেদানা দেড় কাপ দানা, শসা একটা, আনারস একটি, আঙ্গুর ১৫ থেকে ২০টি, মালটা একটি, ক্যাপসিকাম একটি (সব ছোট ছোট টুকরো হতে হবে)।   ৪) ভুট্টার দানা দেড় কাপ। ৫) লেটুস পাতা চার থেকে পাঁচটি। ৬) গাজর মাঝারি সাইজের দুই থেকে তিনটি। ৭) চিকন চানাচুর এক কাপ। ৮) লেবুর রাস ও লেবুর খোসা এক চামচ। ৯) টক দই দুই কাপ (ঘন)। ১০) চাট মসলা ১/২ টেবিল চামচ, বিট লবণ স্বাদমত। ১১) কাচা মরিচ চার থেকে পাঁচটি (কুচি করে নেওয়া), গোল মরিচ কুচি ১/৩ চা চামচ। ১২) পুদিনা পাতা তিন থেকে চারটি, আদা কুচি এক চামচ। প্রণালি প্রথমে একটি বড় পাত্র নিয়ে তাতে একে একে সিদ্ধ করা ছোলা, কাবলি বুট মিশিয়ে নিতে হবে। এরপরে একে একে সব ফল ও সবজি মিশিয়ে নিতে হবে। আম সব শেষে মেশাতে হবে। সব ফল মেশানো হয়ে গেলে একে একে মরিচ কুচি, আদা কুচি, চাট মশলা, লেবুর খোসা দিয়ে ভাল করে মিশিয়ে নিতে হবে। এরপর টক দই মিশিয়ে নিন। পুদিনা পাতা, গোল মরিচ কুচি, লবণ দিতে হবে। সাথে চিকন চানাচুর দিয়ে তার উপরে লেবুর রস ছিটিয়ে দিয়ে ভাল করে মাখিয়ে নিতে হবে সবকিছু একবার। মাখানোর পরপর ইফতারে পরিবেশন করুন ঝটপট মজাদার এই ফলাহারটি। আরও মুখরোচক ও স্বাস্থ্যকর করার জন্য যোগ করতে পারেন মুরগির মাংসের টুকরা। রোজার মধ্যে এই ফলাহার একদিকে যেমন সহজে তৈরি করা সম্ভব আবার তেমনই শরীরের জন্য খুব উপকারী। এতে তেল ও মশলার অতিরিক্ত ব্যবহার নেই ফলে সারাদিন অভুক্ত থেকে খাবার পরে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা হবেনা। কেএনইউ/ এআর

ইফতারে থাকুক পেয়ারার জুস

সারাদিন রোজা থাকার পর ইফতারে ফলের জুস না হলে যেন শরীরে তৃপ্তি ফিরে আসে না। তাই ইফতারে রাখতে পারেন পেয়ারার জুস। উপকরণ : ১) বড় পেয়ারা দুইটি (পাকা হলে ভালো হয়)। ২) চিনি এক কাপ। ৩) পুদিনা পাতা আধা কাপ কুচি। ৪) আধা কাপ লেবুর রস। ৫) মধু এক টেবিল চামচ। ৬) ঠাণ্ডা পানি ও কয়েক টুকরো বরফ। ৭) লবণ স্বাদমতো। ৮) কাঁচামরিচ একটি। প্রণালি : পেয়ারা কেটে টুকরো করে নিন। পাকা পেয়ারা হলে ভেতরের বীজ ফেলে দিন। ছোট টুকরো করে একটি বোলে নিয়ে চিনি নিয়ে মাখিয়ে দুই-তিন ঘণ্টা ঢেকে রেখে দিন চিনি গলে মেশা না পর্যন্ত। এবার ব্লেন্ডারে নিয়ে তাতে লেবুর রস, কাঁচামরিচ, মধু ও পুদিনা পাতা মিশিয়ে নিন ভালো করে। ব্লেন্ড করুন পানি ছাড়াই। এবার ছেঁকে একটি জগে রসগুলো ঢেলে নিন। এখন একটু পানি মিশিয়ে ফ্রিজে কিছুক্ষণ রাখতে পারেন। পানি না দিলেও পারেন। যদি ঘন খেতে চান সেক্ষেত্রে পানি না দিলেও চলবে। এবার একটি ছোট গ্লাসে ঢেলে বরফ টুকরো দিয়ে ঠাণ্ডা ঠাণ্ডা পরিবেশন করুন। কেএনইউ/ এসএইচ/

রমজানে নিয়ম মেনে চলুন, সুস্থ থাকুন

পবিত্র মাহে রমজান মাসে রুটিন মেনে চলার কারণে রোজা স্বাস্থ্যের জন্য অনেক উপকারী হয়ে উঠে। খাদ্যাভ্যাসের ক্ষেত্রে আমরা সব সময় সিস্টেম ডেভেলপমেন্টের কথা বলি। রমজানে আমাদের সময় মতো খেতে হয়। যেমন মাগরিবের আজান দিলেই আমাদের ইফতার করতে হয়। অন্য সময়ে সকালের নাস্তা একেকজন একেক সময় করে। কিন্তু রমজানে সেটা হয়না। মানসিক স্বাস্থ্য বিকাশে রোজা একটা বড় ভূমিকা রাখে। রোজার সময় পুরো ত্রিশটা দিন আমাদের মধ্যে একটা আমেজ থাকে। এই সময় কারো সাথে খারাপ আচরণ না করা, কথাবার্তাতে সংযম বজায় রাখা, খারাপ কথা না বলা ইত্যাদি কারণে আমাদের মানসিক প্রশান্তি বাড়তে থাকে। তা ছাড়া রমজানে আমাদের শরীরের বিপাক ক্রিয়ার পরিবর্তন হয়। রোজা রেখে কারো কখনো ওজন কমেনা। বরং পরিমিত খাবার ও সময়মতো খাবারের ফলে রমজানে শরীরের সুন্দর ওজন বজায় রাখা সম্ভব হয়। অনেকে মনে করে রোজা রাখলে এ্যাসিডিটি হয়, এটা আমাদের খাদ্যের নির্বাচনের ভুলের কারণে হয়। রোজা আমাদের সংযমী হতে শেখায়। পরিমাণ মতো খাবারে অভ্যস্ত করতে শেখায়। রমজানে তারাবীহর নামায ও অন্যান্য নামাজও পড়া হয়। অনেকে জামাতে নামায আদায় করে, ফলে আলাদা করে কোনো ব্যায়াম না করলেও এসময় চলবে। স্বাভাবিক কাজে যেন গতি ঠিক থাকে সেজন্য শরীরের সঠিক পুষ্টি বজায় রাখতে হবে। খুব বেশি ‘এক্সারসাইজ’ না করাই ভাল। অন্য সময় আমরা হয়তো খুব দৌড় ঝাঁপ করে কাজ করি। রমজানে ধীরে সুস্থে কাজ করা ভাল। যেমন অন্য সময়ে আমরা লিফট ব্যবহার না করে সিড়ি ব্যবহারের জন্য উৎসাহিত করি। কিন্তু রমজানে বেশি ক্লান্ত থাকলে প্রয়োজনে লিফট ব্যাবহারে করা যাবে। রোজায় সবার শারীরীক সামর্থ্য এক রকম না। সেহেতু নিজের উপর অতিরিক্ত চাপ না নেওয়ায় ভালো। আমাদের শরীরে দৈনিক দুই থেকে তিন লিটার তরলের চাহিদা থাকে। যেহেতু এখন গরমকাল তাই আমাদের আরো বেশী সতর্ক থাকা দরকার। এ সময় শরীরে ঘাম হয়, ইউরিন হয়। তাই আমাদের উচিত ইফতারের পর থেকে সেহরি পর্যন্ত পানি পানের বিষয়টি মাথায় রাখা। অন্য কাজের ঝামেলায় পানি পানের বিষয়টি মাথায় নাও থাকতে পারে। তাই একটি বোতলে বিশুদ্ধ দুই লিটার পানি রাখা যেতে পারে। আধা ঘন্টা পর পর সেখান থেকে অল্প অল্প পানি খাওয়া যেতে পারে। যেমন নামাযের আগে এক গ্লাস, নামাজের পর এক গ্লাস, ইফতারের সময় এক গ্লাস, ইফতারের কিছু সময় পরে এক গ্লাস- এভাবে সময় ভাগ করে করে মোটামুটি আট-দশ গ্লাস পানি পান করা যায়। এছাড়া পানির চাহিদা মেটানোর জন্য আমরা কিছু তরল খাবারের কথা বলি। যেমন: ফ্রুট জুস, লাচ্ছি, ডাবের পানি, তোকমা ও মধু দিয়ে শরবত, ইসুবগুলের শরবত খাওয়া যেতে পারে। আবার যারা রাতের খাবার খেতে চান না তাদেরকে আমি পরামর্শ দিই স্যুপ খেতে। অল্প সময়ে এটি প্রস্তুত করে খাওয়া সম্ভব। দুধ ও কিন্তু তরল খাবার। সেটিও আমরা খেতে বলি। [লেখক পরিচিতি:তামান্না চৌধুরী এ্যাপোলো হাসপাতালের প্রধান পুষ্টিবিদ। তিনি বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অফ নিউট্রিশনিষ্টস ও ডায়টিশিয়ানস এর ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন।] অনু লেখক: আলী আদনান। / এআর /

© ২০১৮ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি