ঢাকা, ২০১৯-০৫-২১ ২:৫৭:১৯, মঙ্গলবার

আত্মীয়তার বন্ধনকে সুদৃঢ় করার নির্দেশ আল্লাহর

আত্মীয়তার বন্ধনকে সুদৃঢ় করার নির্দেশ আল্লাহর

মাতা-পিতা, ভাই-বোন, সন্তানাদী, আত্মীয়স্বজন, জ্ঞাতিগোষ্ঠী আমাদের পরিবারের অন্তর্ভুক্ত। ইসলাম পরিবারের অন্তর্ভুক্ত, নিকটবর্তী এবং দূরবর্তী সব শ্রেণীর আত্মীয়ের সঙ্গে উত্তম সম্পর্ক রেখে সদ্ব্যবহার করার জোর তাগিদ দেয়। আমরা সবাই একে অন্যের সুখ-দুঃখের অংশীদার। আন্তরিকতা নিয়ে কুরআন অনুধাবন করতে চাইলে যে কোন সাধারণ মানুষের পক্ষেই তা সম্ভব। কারণ ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষের হেদায়েতের জন্যেই কুরআন নাজিল হয়েছে। আল্লাহর নির্দেশাবলী অনুযায়ী জীবন যাপনেই সফলতা। আত্মীয়-স্বজনের হক সম্পর্কে আল্লাহর নির্দেশ : ‘তারা তোমাকে প্রশ্ন করবে, আমরা অন্যের জন্য কী প্রক্রিয়ায় ব্যয় করব? (হে নবী!) তুমি বলো, তোমাদের অর্থসম্পত্তি প্রথমত মা-বাবা, তারপর পরিবার, আত্মীয়স্বজন, এতিম, অভাবী ও মুসাফিরদের জন্যে ব্যয় করবে। তোমরা যে সৎকর্মই করো না কেন, আল্লাহ তা সবই জানেন।’ (সূরা বাকারা ২১৫) ‘হে মানুষ! সচেতন হও তোমার প্রতিপালকের মহিমা সম্পর্কে! যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন। যিনি সেই ব্যক্তি থেকেই তার সঙ্গিনীকে সৃষ্টি করেছেন। যিনি তাদের দু’জন থেকে অসংখ্য নরনারী জমিনে ছড়িয়ে দিয়েছেন। তোমরা সচেতন হও সেই আল্লাহর, যাঁর নামে তোমরা পরস্পরের কাছে অধিকার দাবি করো। যত্নশীল হও জ্ঞাতিবন্ধন রক্ষায়। নিশ্চিত জেনো, তোমরা আল্লাহর তীক্ষ্ণ নজরদারির মধ্যেই রয়েছে।’ (সূরা নিসা ১) ‘পিতামাতা ও আত্মীয়স্বজনের রেখে যাওয়া সম্পত্তিতে পুরুষের অংশ আছে এবং পিতামাতা ও আত্মীয়স্বজনের রেখে যাওয়া সম্পত্তিতে নারীরও অংশ আছে। তা অল্প হোক বা বেশি, এ অংশ আল্লাহ নির্ধারিত। সম্পত্তি বণ্টনকালে আত্মীয়-স্বজন, এতিম ও অভাবগ্রস্ত লোক উপস্থিত থাকলে সে সম্পত্তি থেকে তাদেরও কিছু দান করো এবং তাদের সঙ্গে সদাচরণ করো।’ (সূরা নিসা ৭-৮) ‘যারা পরবর্তী সময়ে বিশ্বাস করেছে, হিজরত করেছে এবং তোমাদের সঙ্গে একত্র হয়ে আল্লাহর পথে সর্বাত্মক সংগ্রাম করেছে তারাও তোমাদের অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহর বিধান অনুসারে সম্পত্তির উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে আত্মীয়দের দাবি অগ্রগণ্য। নিশ্চয়ই আল্লাহ সব বিষয়ে সবচেয়ে ভালো জানেন।’ (সূরা আনফাল ৭৫) ‘আল্লাহ অবশ্যই সুবিচার, সদাচরণ ও আত্মীয়স্বজনদের দানের নির্দেশ দেন। তিনি অশ্লীলতা, ঈর্ষা ও অন্যায়-জুলুম করতে নিষেধ করেন। তিনি বার বার উপদেশ দেন, যাতে তোমাদের মনে থাকে।’ (সূরা আন-নহল ৯০) ‘তোমাদের মধ্যে কারো মৃত্যুর সময় উপস্থিত হলে, তার যদি ধনসম্পত্তি থাকে, তবে মা-বাবা ও নিকটাত্মীয়ের জন্যে ইনসাফ মোতাবেক অসিয়ত করাকে ফরজ করা হলো। আল্লাহ-সচেতনদের জন্যে এটা অবশ্য কর্তব্য।’ (সূরা বাকারা ১৮০) এএইচ/
তরমুজের গুনাগুন

কালের পরিক্রমার পথ ধরে মুসলিম উম্মাহর কাছে রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের অমিয় বার্তা নিয়ে আবার শুভাগমন করেছে পবিত্র মাহে রমজান। দীর্ঘ এগারটি মাসের পাপ পঙ্কিল থেকে মুক্ত হওয়ার অপূর্ব সুযোগ এনে দেয় এই রমজান। ইতোমধ্যে ১৩টি রমজান অতিবাহিত হয়েছে। রমজান মাস হলো ইবাদাতের বসন্তকাল। আল্লাহপাক এ মাসে রহমতের বারিধারা বর্ষণ করেন। এবারের রজমান প্রায় সাড়ে ১৪ ঘন্টা। একইসঙ্গে প্রচন্ড তাপদাহ,যে কারণে ইফতারে পানি জাতীয় ফলের গুরুত্ব বাড়েছে। এর মধ্যে অন্যতম গ্রীষ্মকালীন সুস্বাদু ফল তরমুজ। আসুন জেনে নিন তরমুজের গুনাগুন।  এই গরমে তরমুজ একটি জনপ্রিয় ফল। তুলনামূলক এই ফলটি সহজলভ্য ।তরমুজের নানাধরনের পুষ্টিগুন রয়েছে তরমুজে রয়েছে ৯২% পানি এবং ভিটামিন এ,সি, বি ১,বি৫,বি৬ ,পটাশিয়াম এবং ম্যাগনেসিয়াম।▪️ তরমুজ শরীরকে হাইড্রেট রাখতে সহায়তা করে।▪️ তরমুজ হার্ট ভালো রাখতে এবং ব্লাড প্রেসার ও কোলেস্টেরল লেভেল নিয়ন্ত্রণে রাখে।▪️ প্রদাহজনিত সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে তরমুজ।▪️ চোখের বিভিন্ন সমস্যা দূর করে থাকে।▪️ তরমুজের জুস হজমে সাহায্য করে।▪️ ব্যাথা উপশমেও সাহায্য করে তরমুজ।▪️ ভিটামিন এ এবং সি থাকায় ত্বক ও চুল সুন্দর রাখতে সাহায্য করে।▪️ এতে প্রচুর ফাইবার ও পানি থাকায় ডায়াবেটিক রোগীর জন্য তরমুজ হতে পারে একটি আদর্শ ফল। লেখকঃ পুষ্টিবিদ তাসনিম আশিক, নর্দান ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতাল

কৃতজ্ঞতা বিপদে স্থিরতা ও প্রশান্তি আনে

মানুষ যখন বিপদে পড়ে তখন মুষড়ে যায় ও যন্ত্রণায় কাতরাতে থাকে। অনেক সময় মুখে কষ্টের হাঁসি বজায় রেখে অন্তরে টেনশনের আগ্নেয়গিরি পুষে রাখে। এ আগুনে পুড়ে ছারখার হয়ে যায় শরীরের প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ। এসব থেকে মুক্তির পথ হলো কৃতজ্ঞতা। যখন টেনশন চলতে থাকে তখন শরীর থেকে এড্রেনেলিন, নরএড্রেনেলিন, করটিসল হরমোন নিঃসৃত হয়ে মাংসপেশি উত্তেজিত হয়, রক্তে সুগারের মাত্রা বেড়ে যায়, রক্ত জমাট বাধার প্রবণতা বেড়ে যায়, হৃৎপিণ্ডের করোনারী ধমনী সংকুচিত হয়, হাড়ের ক্যালসিয়াম ক্ষয় হয় এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। ফলে মানসিক অস্থিরতা, ডিপ্রেশন, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হার্ট অ্যাটাক এবং বিভিন্ন অসুখ-বিসুখে আক্রান্ত হওয়ার হার বেড়ে যায়। এমন কোন মানুষ পৃথিবীতে নেই যে বিপদ বা সমস্যার সম্মুখীন হয়নি। বিপদ ও সমস্যা জীবনের অংশ। বিপদ থেকে পালানো যাবে না। তবে দুঃখ-বিপদ যাতে অন্তরকে স্পর্শ করে অশান্ত না করে তোলে সেই ব্যবস্থা নিতে হবে। তাই অসুস্থতা থেকে বাঁচতে হলে টেনশনের ছোঁচল থেকে মনপ্রাণকে বাঁচাতে হবে। টেনশন বা বিপদ যাতে মনকে আক্রান্ত না করতে পারে সে ব্যবস্থা নিতে হবে। যখনই কোন বিপদ আসে মনকে স্থির করুন, স্রষ্টা কী কী নেয়ামত দিয়েছেন তা চিন্তা করুন। আপনার ভেতর সম্ভাবনার দিকগুলো অবলোকন করুন। আপনি যে শ্বাস-প্রশ্বাস নিচ্ছেন তার প্রতি দৃষ্টি দিন। সৃষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞতায় চোখে অশ্রু এসে যাবে। টেনশনের আগুনও নিভে যাবে এবং মনে প্রশান্তির সুবাতাস বইতে থাকবে। বিপদে পড়ে কিভাবে কৃতজ্ঞতার মাধ্যমে প্রশান্তচিত্ত থাকতে হয় তা আল্লাহ তায়ালা তাঁর রাসূল (সা.)কে শিখিয়ে দিয়েছেন : ‘সুতরাং তারা যা বলে সে বিষয়ে তুমি ধৈর্য্য ধারণ করো এবং সূর্যোদয়ের পূর্বে ও সূর্যাস্তের পূর্বে তোমার প্রতিপালকের সকল প্রশংসা পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করো, রাত্রিকালে ও দিবাভাগে যাতে তুমি সন্তুষ্ট হতে পার।’ (সূরা ত্বাহা ২০/১৩০) যতদিন পৃথিবী থাকবে ততদিন সমস্যা থাকবে, বিপদ থাকবে, টেনশন থাকবে। আল্লাহর নির্ধারিত পদ্ধতি অনুসারে কৃতজ্ঞতার ঢাল দিয়ে তা প্রতিহত করে বাঁচতে হবে। (শোকরিয়া, প্রশান্তি ও প্রাচুর্যের রাজপথ গ্রন্থ) এএইচ/

ইতিকাফ কী ও কেন

কোন স্থানে আটকে পড়া অথবা কোন স্থানে থেমে যাওয়াকে ইতিকাফ বলে। ইসলামী শরীয়াতের ভাষায় ইতিকাফের অর্থ কোনো লোকের দুনিয়ার সংস্রব, সম্বন্ধ ও বিবি বাচ্চা থেকে আলাদা হয়ে মসজিদে অবস্থান করা। ইতিকাফের উদ্দেশ্য হচ্ছে মানুষ দুনিয়াবী কারবার ও সম্পর্ক ছিন্ন করে এবং সাংসারিক কর্মব্যস্ততা ও প্রবৃত্তির কামনা-বাসনা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে চিন্তা ও কাজের শক্তি এবং যোগ্যতাকে আল্লাহর স্মরণ এবং ইবাদতে লাগিয়ে দেবে। তারপর সবকিছু থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে আল্লাহর প্রতিবেশি হয়ে পড়বে। এ কাজের দ্বারা একদিকে সে ব্যক্তি সব প্রকার বেহুদা কথাবার্তা ও মন্দ কাজ থেকে বেঁচে থাকতে পারবে এবং অন্যদিকে আল্লাহর সঙ্গে তার সম্পর্ক মজবুত হবে। তাঁর নৈকট্যলাভ করবে এবং তাঁর ইয়াদ ও ইবাদতের মনে শান্তি লাভ করবে। কয়েকদিনের এ আমল তাঁর মনের ওপর গভীর প্রভাব ফেলবে যে, চারদিকে দুনিয়ার রং তামাশা ও মন ভুলানো বস্তুসমূহ দেখার পরও আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক মজুবত রাখতে পারবে। আল্লাহর নাফরমানি থেকে বাঁচতে পারবে এবং তার হুকুম পালন করে মনে আনন্দ অনুভব করবে। এমনিভাবে সমগ্র জীবন আল্লাহর বন্দেগীতে কাটিয়ে দেবে। ইতিকাফ তিন প্রকারের- ওয়াজিব, মুস্তাহাব, সুন্নাতে মুয়াক্কাদা। ওয়াজিব ইতিকাফ মানতের ইতিকাফ ওয়াজিব। কেউ যদি ইতিকাফের মানত করলো অথবা কোন শর্তসহ মানত করলো- যেমন কেউ বললো, যদি আমি পরীক্ষায় ভাল ফলাফল করি অথবা যদি আমার অমুক কাজ হয়ে যায়, তাহলে ইতিকাফ করবো। তার এ ইতিকাফই ওয়াজিব এবং পূরণ করতে হবে। মুস্তাহাব ইতিকাফ রমজানের শেষ দশদিন ব্যতিরেকে যত ইতিকাফ করা হবে তা মুস্তাহাব হবে। তা রমজানের প্রথম অথবা দ্বিতীয় দশদিনে অথবা যে কোন মাসে করা হোক। সুন্নাতে মুয়াক্কাদা ইতিকাফ রমজানের শেষ দশ দিনের ইতিকাফ সুন্নাতে মুয়াক্কাদা। নবী করীম (সা.) নিয়মিতভাবে প্রতিবছর ইতিকাফ করতেন। মৃত্যু পর্যন্ত তিনি তা পালন করেন। একবার কোনো কারণে ইতিকাফ করতে পারেননি বলে পরের বছর বিশ দিন ইতিকাফ করেন। এ জন্য মুসলমানরা যদি সামষ্টিকভাবে এ সুন্নাত পরিত্যাগ করে তাহলে গোনাহগার হবে। যদি কিছু লোকও সুন্নাত পালনের ব্যবস্থা করে, তাহলে যেহেতু সুন্নাতে কিফায়া, এ অল্প লোকের ইতিকাফ সবার জন্যই যথেষ্ট হবে। তথ্যসূত্র : মাওলানা মোফাজ্জল হকের রোজা ইতিকাফ ফিদইয়া ফিতরা গ্রন্থ। এএইচ/

রমজানের অর্জন হোক গোল্ডেন জিপিএ-৫

শিক্ষার্থীরা লেখাপড়ার মধ্যে কত মেহনত, কষ্ট, পরিশ্রম করে থাকে। ক্লাস, কোচিং, বাসায় শিক্ষক এবং নিজের অনুশীলন। সকাল, বিকাল কিংবা রাত প্রতিটি মুহূর্তে একটিই কামনা গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেতে হবে। এর জন্য সময়সীমা থাকে এক বা দুই বছরের। কিন্তু রমজান তো এক মাসের। খুবই অল্প সময়। সব মুসলিম ধর্মপ্রাণ মানুষরা ইবাদতের অনুশীলনের মাধ্যমে মহান রাব্বুল আলামীনের কাছ থেকে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পাওয়ার চেষ্টা করতেই পারে। রমজানে পূণ্য, দয়া, ক্ষমা ও প্রতিদানের পসরা নিয়ে বসে আছেন আল্লাহ তায়ালা। শুধু বান্দার নেয়ার অপেক্ষা। শিক্ষার্থীরা যেমন দীর্ঘ অনুশীলনের মাধ্যমে জিপিএ-৫ পেয়ে থাকে। বান্দাও তাই আমলের মাধ্যমে আল্লাহর কাছে এসব আশা করতে পারে। রমজানের প্রায় মাঝামাঝি সময়ে চলে এসেছে। বান্দা কি এ ব্যাপারে আত্ম-জিজ্ঞাসায় নিমগ্ন হয়েছে। কি করেছেন, কি করতে পারেননি। কি করার তাগিদ অনুভব করছেন। আল্লাহর কাছে সাহায্য চান আপনি সফলকাম হবেন। সারাবছর সুখে-শান্তিতে, আরাম-আয়েশে অতিবাহিত হয়। একটি মাসের জন্যও কি এগুলো কমিয়ে দেয়া যায় না! রমজানে একটি পূণ্যে বা ভালো কাজের জন্য অন্য মাসের চেয়ে ১০ থেকে ৭০০ গুণ বেশি সওয়াব। আল্লাহ ব্রেন দিয়েছে এটিকে সৎকর্মে, সৎ চিন্তায় কাজে লাগাই। চোখ, মুখ, হাত-পা প্রতিটি অঙ্গকে ব্যবহার করি ইবাদত বন্দেগি, ত্যাগে ও মানুষের কল্যাণে। আত্মাকে উজাড় করে দেই ইবাদতে। এখনও সময় আছে, বাকি দিনগুলোতে নিমগ্ন হই। কর্মও ইবাদত, যদি সৎ নিয়ত ও সৎ পথে হয়। যে দিনগুলো আছে এটিকে মিনিট ও সেকেন্ডে ভাগ করে নিয়ে কর্ম অনুশীলন করি মহান সৃষ্টিকর্তার গোল্ডেন জিপিএ-৫ পাওয়ার আশায়। অবশ্যই আমরা পাব। ‘বান্দার প্রতি আল্লাহর নেয়ামতের যেমন সীমা-পরিসীমা নেই, তেমনি রোজার পুরস্কারের ক্ষেত্রেও তা নির্দিষ্ট পরিমাণের ভেতর সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং প্রতিপালক স্বয়ং রোজার পুরস্কার তুলে দেবেন রোজাদারের হাতে- আর সে পুরস্কার হবে সর্বোত্তম, যা বান্দার কল্পনারও বাইরে।’ এএইচ/

উচ্চ রক্তচাপের কারণ ও করণীয়

  উচ্চ রক্তচাপ বর্তমানে সাধারণ স্বাস্থ্য সমস্যায় পরিণত হয়েছে | উচ্চ রক্তচাপ থেকে সচেতন না হলে অনেক সময় বিপজ্জনক হতে পারে। উচ্চ রক্তচাপ দীর্ঘস্থায়ী এবং কার্ডিওভাসকুলার রোগের প্রবণতা বাড়িয়ে তোলে। এ বিষয়ে সার্বিক পরামর্শ দিয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন অনুষদের  সাবেক ডিন  অধ্যাপক ডা. এ বি এম অবদুল্লাহ। উচ্চ রক্ত চাপের কারণ বিভিন্ন কারণে দেখা দিতে পারে উচ্চ রক্তচাপ। অধিকাংশ রোগীর ক্ষেত্রে উচ্চ রক্তচাপের তেমন কোনো নিদিষ্ট কারণ জানা যায় না। অনেক সময় স্বাভাবিকভাবে উচ্চরক্ত চাপ বাড়ে। উচ্চ রক্তচাপের সম্ভাবনা বাড়ার কারণগেুলো নিম্নরূপ- বংশানুক্রমিক উচ্চ রক্তচাপের বংশগত ধারাবাহিকতা আছে, যদি বাবা-মায়ের উচ্চ রক্তচাপ থাকে তবে সন্তানেরও উচ্চ রক্তচাপ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এমনকি নিকটাত্মীয়ের উচ্চ রক্তচাপ থাকলেও অন্যদের রক্তচাপের ঝুঁকি থাকে। ধূমপান ধূমপায়ীদের শরীরে তামাকের নানা রকম বিষাক্ত পদার্থের প্রতিক্রিয়ায় উচ্চ রক্তচাপসহ ধমনী, শিরার নানা রকম রোগ ও হৃদরোগ দেখা দিতে পারে। অতিরিক্ত লবণ গ্রহণ খাবার লবণে সোডিয়াম থাকে যা রক্তের জলীয় অংশ বাড়িয়ে দেয়। ফলে রক্তের আয়তন বেড়ে যায় এবং রক্ত চাপও বেড়ে যায়। অধিক ওজন এবং অলস জীবনযাত্রা যথেষ্ঠ পরিমাণে ব্যায়াম ও শারীরিক পরিশ্রম না করলে শরীরে ওজন বেড়ে যেতে পারে। এতে হৃদযন্ত্রকে অতিরিক্ত পরিশ্রম করতে হয় এবং এর ফলে অধিক ওজন সম্পন্ন লোকদের উচ্চ রক্তচাপ হয়ে থাকে। অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস অতিরিক্ত চর্বিজাতীয় খাবার, যেমন- মাংস, মাখন এবং ডুবা তেলে ভাজা খাবার খেলে ওজন বাড়বে। ডিমের হলুদ অংশ, কলিজা, মগজ এসব খেলে রক্তে কোলেস্টেরল বেড়ে যায়। রক্তে অতিরিক্ত কোলেস্টেরল হলে রক্তনালীর দেয়াল মোটা ও শক্ত হয়ে যায়। এর ফলে রক্তচাপ বেড়ে যেতে পারে। অতিরিক্ত মদ্যপান যারা নিয়মিত অত্যাধিক পরিমাণে মদ্যপান করে, তাদের উচ্চ রক্তচাপ বেশি হয়। অ্যালকোহলে অতিরিক্ত ক্যালরি থাকে, এর ফলে ওজন বেড়ে যায় এবং এতে রক্তচাপ বেড়ে যায়। ডায়াবেটিস ডায়াবেটিস রোগীদের অ্যাথারোস্ক্লেরোসিস বেশি হয়। ফলে বয়সের সাথে সাথে ডায়াবেটিস রোগীদের উচ্চ রক্তচাপ দেখা দেয়। এছাড়া তাদের অন্ধত্ব ও কিডনির নানা রকম রোগ হতে পারে। অতিরিক্ত উৎকণ্ঠা অতিরিক্ত রাগ, উত্তেজনা, ভীতি এবং মানসিক চাপের কারণেও রক্তচাপ সাময়িকভাবে বেড়ে যেতে পারে। যদি এই মানসিক চাপ অব্যাহত থাকে এবং রোগী ক্রমবর্ধমান মানসিক চাপের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে না পারেন, তবে এই উচ্চ রক্তচাপ স্থায়ী রূপ নিতে পারে।   উচ্চ রক্ত চাপ নিয়ন্ত্রণে করণীয়: জীবন-যাত্রার পরিবর্তন এনে উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি কমানো সম্ভব। বংশগতভাবে উচ্চ রক্তচাপ থাকলে তা কমানো সম্ভব না। তবে এরকম ক্ষেত্রে যে সব উপাদান নিয়ন্ত্রণ করা যায়, সেগুলোর ব্যাপারে বেশি মনোযোগী হওয়া উচিত। যেমন- অতিরিক্ত ওজন কমাতে হবে খাওয়া দাওয়া নিয়ন্ত্রণ করতে হবে ও নিয়মিত ব্যায়াম করতে হবে। একবার লক্ষ্য অনুযায়ী ওজনে পৌঁছালে সীমিত আহার করা উচিত এবং ব্যায়াম অব্যাহত রাখতে হবে। ওষুধ খেয়ে ওজন কমানো বিপজ্জনক। ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া ওজন কমানোর ওষুধ না খাওয়াই ভালো। খাদ্য গ্রহণের ক্ষেত্রে সতর্কতা কম চর্বি ও কম কোলেস্টেরল যুক্ত খাবার গ্রহণ করতে হবে। যেমন- খাশি বা গরুর গোস্ত, কলিজা, মগজ, গিলা, গুর্দা, ডিম কম খেতে হবে। কম তেলে রান্না করা খাবার এবং ননী তোলা দুধ, অসম্পৃক্ত চর্বি যেমন সয়াবিন, ক্যানোলা, ভুট্টার তেল অথবা সূর্য্যমুখীর তেল খাওয়া যাবে। বেশি আঁশযুক্ত খাবার গ্রহণ করা ভালো আটার রুটি এবং সুজি জাতীয় খাবার পরিমাণ মতো খাওয়া ভাল। লবণ নিয়ন্ত্রণ তরকারিতে প্রয়োজনীয় লবণের বাইরে অতিরিক্ত লবণ পরিহার করতে হবে। মদ্যপান অতিরিক্ত মদ্যপান পরিহার করতে হবে। নিয়মিত ব্যায়াম সকাল-সন্ধ্যা হাঁটাচলা, সম্ভব হলে দৌঁড়ানো, হালকা ব্যায়াম, লিফটে না চড়ে সিঁড়ি ব্যবহার ইত্যাদি। ধূমপান বর্জন ধূমপান অবশ্যই বর্জনীয়। ধূমপায়ীর সংস্পর্শ থেকে দুরে থাকুন। তামাক পাতা, জর্দ্দা, গুল লাগানো ইত্যাদিও পরিহার করতে হবে। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ যাদের ডায়াবেটিস আছে, তা অবশ্যই নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। মানসিক ও শারীরিক চাপ সামলাতে হবে নিয়মিত বিশ্রাম, সময় মতো ঘুমানো, শরীরকে অতিরিক্ত ক্লান্তি থেকে বিশ্রাম দিতে হবে। নিজের শখের কাজ করা, নিজ ধর্মের চর্চা করা ইত্যাদির মাধ্যমে মানসিক শান্তি বেশি হবে। রক্তচাপ নিয়মিত পরীক্ষা নিয়মিত চিকিৎসকের কাছে গিয়ে রক্তচাপ পরীক্ষা করানো উচিত। যত আগে উচ্চ রক্তচাপ ধরা পড়ে, তত আগে নিয়ন্ত্রণ করা যায় এবং জটিল রোগ বা প্রতিক্রিয়া হতে রক্ষা পাওয়া যায়। লেখক: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন অনুষদের সাবেক ডিন।

রোজা রাখলে শরীরের কি উপকার হয়?  

রোজা রাখলে শরীরের কি কি উপকার হয়। রোজায় ধর্মীয় বিষয় মেনে নিয়মের মধ্যে চললে কোন কোন রোগ নিয়ন্ত্রনে আসে এসব বিষয়ে কথা বলেছেন অধ্যাপক ডা. জাহীর আল-আমিন। সিনিয়র কনসালট্যান্ট, নাক, কান গলা ও হেড নেক সার্জারি বিভাগ, ইমপালস্ হাসপাতাল। একুশে টিভির জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ‘দি ডক্টরস’-র এবারের পর্বে এসব বিষয়ে তিনি কথা বলেছেন। উপস্থাপনায় ছিলেন- ডা. ইকবাল হাসান মাহমুদ। দর্শক ও পাঠকের সুবিধার্থে আলোচনাটি লিখিত আকারে প্রকাশ করা হলো- অধ্যাপক ডা. জাহীর আল-আমিন বলেন, আমি যদি সারাদিন কাজে ব্যস্ত থাকি, তাহলে তো আমি অন্য কিছু চিন্তা করার সুযোগ পাবো না। তেমনি আমাদের সেল অনেকটা এমন। আমরা যখন হাটা চলা করছি-খাচ্চি তখন সেলগুলোও ব্যস্ত থাকছে। কিন্তু রমজানে খাবারসহ নিয়মের মধ্যে আসায় সেলগুলো বিশ্রামের সুযোগ পায়। এতে দেখা যায় সেলগুলোর ক্ষতিকর টস্কিসগুলো এসময় ধ্বংস করে দেয়। অনেকে রোজা রেখে দেখা গেছে থুথু ফেলেন বার বার। কিন্তু এ থুথু ফেলার তো কোন দরকার নেই। এটা তো আমাদের নিজেরই। আর জাগ্রত অবস্থায় হয়তো আমরা এটা করি কিন্তু যখন আমরা ঘুমে থাকি তখন তো এগুলা আমাদের মুখের ভিতরেই যায়। তাহলে কেন আমরা এগুলো ফেলে রাস্তা ঘাট ময়লা বা দূষিত করছি। তিনি বলেন, বছরে একমাস রোজা তো আছেই। রাসুল (সা.) দেখা গেছে সপ্তাহে একদিন বা দুইদিন রোজা রেখেছেন। এর মাধ্যমে কিন্তু শারীরিক বিভিন্ন উপকার হয়েছে। এজন্য বলবো শুধু রমজানের সময়ই ভালো কাজ করলে হবে না। ভালো জিনিস সবসময় চালু রাখতে হবে। যেমন ফিজিওথেরাপি সুস্থ থাকার জন্য সবসময় চলে, তেমনি ভালো থাকার জন্য ভালো কাজগুলো সব সময় করতে হবে। রমজানে নিজেকে বিভিন্ন জিনিস থেকে কন্টোল রাখার কারণে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রনে থাকে, হাইপ্রেসার নিয়ন্ত্রনে থাকে, এ্যজমা নিয়ন্ত্রনে থাকে। তিনি বলেন, রোজার কারণে আমরা বুঝি যে একজন মানুষ না খেয়ে থাকলে কেমন লাগে। যার কারণে আমাদের উচিৎ আমাদের আশে পাশের মানুষের খোঁজ নেওয়া। অসহায়ের পাশে দাড়ানো আমাদের কর্তব্য। রোজা পালনের মাধ্যমে আমরা একটা নিয়মের মধ্যে আসি যার কারণে আমরা ভালো থাকি। আর শরীরও যত নিয়মের মধ্যে থাককে ততো নিজেকে সুস্থ রাখা যাবে।   এনএম/এসএইচ/  

সৎকর্মশীলদের বিষয়ে কুরআন কি বলে!

কুরআন শতাব্দীর পর শতাব্দী জীবন ও জগৎ সম্পর্কে কোটি কোটি মানুষের অন্তর্দৃষ্টি খুলে দিয়েছে। তাদের বদলে দিয়েছে ভেতর থেকে, খুলে দিয়েছে তাদের সম্ভাবনার দ্বার, দিয়েছে প্রশান্ত ও পরিতৃপ্ত জীবন। যে সৎকর্ম করে, সে নিজের ভালোর জন্যেই তা করে। আর যে অপকর্ম করে, তার প্রতিফলও সেই ভোগ করবে। কেউ যদি গোপনে দান-খয়রাত, মানুষের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি দূর করে শান্তি স্থাপনের পরামর্শ দেয়, তবেই তা সৎকাজ। এই জীবনে যারা সৎকর্মশীল তাদেরকে আল্লাহ তায়ালা সৃষ্টির সেরা ঘোষণা করেছেন। কুরআনে সৎকর্ম সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা যা বলেন : ‘প্রত্যেকেরই একটি লক্ষ্য আছে; যা তার কর্মধারাকে পরিচালনা করে। অতএব তোমরা সৎকর্মে (নিজের সঙ্গে) প্রতিযোগিতা করো। তোমরা যেখানেই থাকো না কেন, আল্লাহ তোমাদের সকলকে সমবেত করবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান।’ (সূরা বাকারা ১৪৮) ‘আর আল্লাহর পথে মুক্তহস্তে ব্যয় করো। (মুক্তহস্তে ব্যয় না করে) নিজের হাতে নিজের সর্বনাশ করো না। সৎকর্মে ক্রমাগত লেগে থাকো। কারণ আল্লাহ সৎকর্মশীলদের ভালবাসেন।’ (সূরা বাকারা ১৯৫) ‘তারপর আল্লাহ তাদের পৃথিবীতে পুরস্কৃত করেছেন এবং আখরাতে পুরস্কৃত করবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ সৎকর্মশীলদের ভালবাসেন।’ (সূরা আলে ইমরান ১৪৮) ‘অধিকাংশ গোপন সলাপরামর্শই মানুষের কোন কল্যাণে আসে না। তবে কেউ যদি গোপনে দান-খয়রাত, সৎকর্ম বা মানুষের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি দূর করে শান্তি স্থাপনের পরামর্শ দেয়, তবে তা নিশ্চয়ই ভালো। আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যে কেউ যদি তা করে, তাহলে আমি তাকে মহাপুরস্কার দেব।’ (সূরা নিসা ১১৪)  ‘কোনো জনপদ ধ্বংস করার আগে আমি সেখানকার বিত্তবান ও প্রভাবশালী লোকদের সৎকর্ম করার নির্দেশ দেই। কিন্তু ওরা আমার আদেশের অবাধ্য হয়ে অন্যায় ও জুলুমে লিপ্ত হয়। তখন ন্যায়সঙ্গতভাবেই আজাবের ফয়সালা হয়ে যায় এবং তারা ধ্বংস হয়।’ (সূরা বনি ইসরাইল ১৬) ‘যারা সাফল্যের সরলপথে চলে, আল্লাহ তাদের সৎপথের উপলব্ধি ও চলার ক্ষমতাকে ক্রমাগত বাড়িয়ে দেন (বাড়িয়ে দেন সৎকর্ম করার আকুতি)। সৎকর্ম তোমার প্রতিপালকের কাছ থেকে স্থায়ী পুরস্কার প্রাপ্তির জন্যে উত্তম, সুফল দানকারী হিসেবেও (শুধু পার্থিব লাভালাভের চেয়ে) অনেক অনেক ভালো।’ (সূরা মরিয়ম ৭৬) ‘আসলে যে সৎকর্ম করে, সে নিজের ভালোর জন্যেই তা করে। আর্ যে অপকর্ম করে, তার প্রতিফলও সেই ভোগ করবে। তোমার প্রতিপালক তাঁর বান্দাদের ওপর কখনো জুলুম করেন না।’ (সূরা হা-মিম-সেজদা ৪৬) ‘আর নিশ্চয়ই যারা বিশ্বাস স্থাপন করে এবং সৎকর্মশীল, তারা সৃষ্টির সেরা।’ (সূরা বাইয়েনাহ ৯৮) সৎকর্মশীল পুরস্কৃত হবেন : ‘আর হে নবী! যারা বিশ্বাসী ও সৎকর্মশীল তাদের সুসংবাদ দাও জান্নাতের, যার পাদদেশে থাকবে প্রবহমান ঝর্ণাধারা। সেখানে যখন তাদের ফলফলাদি খেতে দেয়া হবে, তখন তারা আনন্দে বলবে, ‘হাঁ, দুনিয়ায় আমরা এ ধরনের ফলই খেতাব।’ সেখানে তাদের সঙ্গে থাকবে পবিত্র সাথিরা এবং সেখানে তারা থাকবে চিরকাল।’ (সূরা বাকারা ২৫) ‘আর যারা বিশ্বাসী ও সৎকর্মশীল, আল্লাহ তাদের যথাযথ পুরস্কার প্রদান করবেন। আল্লাহ জালেমদের অপছন্দ করেন।’ (সূরা আলে ইমরান ৫৭) ‘আর আল্লাহ ওয়াদা করেছেন, যারা বিশ্বাস করে ও সৎকর্ম করে, তিনি তাদের ক্ষমা করবেন ও মহাপুরস্কার দেবেন।’ (সূরা মায়েদা ৯) ‘এরপর আমি ইব্রাহিমকে ইসহাক ও ইয়াকুবের মতো সন্তান দিয়েছি। প্রত্যেককে সরলপথ দেখিয়েছি। এর আগে আমি নূহকেও সরলপথ দেখিয়েছি  এবং তারই বংশধর দাউদ, সোলায়মান, আইয়ুব, ইউসুফ, মুসা ও হারুনকে সৎপথ প্রদর্শন করেছি। আমি এভাবেই সৎকর্মশীলদের পুরস্কৃত করি।’ (সূরা আনআম ৮৪) সৎকর্মশীলদের বৈশিষ্ট্য : ‘তারা আল্লাহ ও আখেরাতকে বিশ্বাস করে, সৎকর্মে অন্যদের অনুপ্রাণিত করে, অন্যায় করতে নিষেধ করে এবং তারা সাধ্যমতো সৎকর্ম করে। এরাই সৎকর্মশীল।’ (সূরা আলে ইমরান ১১৪) ‘আসলে যারা তাদের প্রতিপালকের (বিরাগভাজন হওয়াকে) ভয় করে, যারা তাঁর বাণীকে বিশ্বাস করে, যারা তাঁর সঙ্গে কাউকে শরিক করে না, যারা তাঁর কাছেই প্রত্যাবর্তন করতে হবে- এই বিশ্বাস নিয়ে কম্পিত হৃদয়ে অন্তর থেকে দান করে, তারাই সৎকর্মে (নিজের সঙ্গে) আসল প্রতিযোগী, তারাই সৎকর্মে অগ্রগামী।’ (সূরা মুমিনুন ৫৭-৬১) ‘প্রজ্ঞাময় কিতাবের এ ঐশীবিধান সৎকর্মশীলদের জন্যে (করুণাময়ের) রহমত ও পথনির্দেশনা। সৎকর্মশীলরা নামাজ কায়েম করে ও যাকাত আদায় করে। তারা অন্তরের গভীর থেকে পরকালে জবাবদিহিতায় বিশ্বাস করে। তারা তাদের প্রতিপালকের হেদায়েতের পথে আছে আর সেজন্যে তারাই অনন্ত কল্যাণ লাভে ধন্য হবে।’ (সূরা লোকমান ২-৫) আল্লাহ আমাদেরকে জ্ঞান, প্রজ্ঞা, সুস্থতা ও অর্থ দিয়েছেন। এগুলোকে সৎকর্মে বিনিয়োগ করি।  আল্লাহর পুরস্কার অবধারিত। এএইচ/  

জীবনের পরীক্ষায় উত্তীর্ণের পথ কৃতজ্ঞতা

পৃথিবীর জীবন মানুষের জন্য একটি পরীক্ষা ক্ষেত্র। সৃষ্টিকর্তার করুণায় মেধা, পরিশ্রম, প্রেরণা ও যুৎসই পরিবেশের সমন্বয়ে মানুষ অর্থ, ক্ষমতা, খ্যাতির শীর্ষে চলে যায়। এসব প্রাপ্তিকে স্রষ্টার পক্ষ থেকে নেয়ামত মনে করে মানুষ স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞতায় আনত হয় ও মেধাকে সেবায় রূপান্তরিত করে তাহলে সে পরীক্ষায় সফল। আর যদি অহঙ্কারী হয়ে ওঠে ও সীমালঙ্ঘন করে তাহলে খ্যাতির শীর্ষে পৌঁছার পরও জীবনের পরীক্ষায় বিফল। কৃতজ্ঞতা হলো আল্লাহকে স্বীকৃতি দেওয়া আর অকৃতজ্ঞতা হলো আল্লাহকে অস্বীকৃতির পথ। সৃষ্টিকর্তা মেধা, সৃজনশীলতা, দক্ষতা, কারিগরি জ্ঞান, অর্থ বা সম্পদ মানুষের মধ্যে বন্টন করে দেন। এগুলো লালিত-পালিত করে কেউ হয় স্বনামধন্য আর কেউ হয় নগণ্য। কেউ কর্মঠ আর কেউ অলস, কেউ লব্ধপ্রতিষ্ঠ বা কেউ পরজীবী। সৃষ্টিকর্তা মানুষকে সফল ব্যবসায়ী, প্রশাসক, বুদ্ধিজীবী, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, বিজ্ঞানী, গায়ক বা লেখক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে শুধু দেখতে চান সে করুণাময়ের প্রতি কৃতজ্ঞচিত্ত কিনা। ‘আমি মানুষকে সৃষ্টি করেছি মিশ্র বীর্য থেকে তাকে পরীক্ষার করার জন্য। অতঃপর তাকে করেছি শ্রবণ, দৃষ্টিশক্তিসম্পন্ন। আমি তাকে পথের নির্দেশ দিয়েছি- হয় সে কৃতজ্ঞ হবে, না হয় সে অকৃতজ্ঞ হবে। আমি অকৃতজ্ঞদের জন্য প্রস্তুত রেখেছি শৃ্ঙ্খল বেড়ি ও প্রজ্বলিত অগ্নি।’ (সূরা দাহার ৭৬/২-৪) স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞতাই যে কোন মানুষকে জীবনের মঞ্চে উত্তীর্ণ হওয়ার স্বর্ণপথের সন্ধান দেয়। সাধারণ মানুষ এই পৃথিবীতে খ্যাতি প্রতিষ্ঠা, সম্মান, সম্পদের সাগরে ডুবে স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ থাকার সূত্রটি ভুলে যায় এবং ব্যর্থ হয়। আর অনন্য মানুষ খ্যাতির যত শিখরে উঠুক না কেন স্রষ্টার করুণাকে সব সময় স্মরণ রাখে এবং সফল হয়। হযরত সুলায়মান (আ.) ক্ষমতা, যশ, খ্যাতি স্রষ্টার পক্ষ থেকে যে একটি পরীক্ষা মাত্র তা বুঝতে পেরেছিলেন বলেই কৃতজ্ঞতায় স্রষ্টার প্রতি মাথানত করে দিয়েছিলেন ও জীবনের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছিলেন। (শোকরিয়া, প্রশান্তি ও প্রাচুর্যের রাজপথ) এএইচ/    

রোজা ভঙ্গে যা ওয়াজিব

মুসলমান শরীয়াতের শর্তানুযায়ী রোজা রাখতে বাধ্য। কিন্তু কোন মুসলিম ব্যক্তি ওজরে রোজা ভঙ্গ করলো, কেউ ইচ্ছাকৃত রোজা ছেড়ে দিল এবং কেউ রোজা রাখতে অক্ষম, পরবর্তীতে তাদের কি করণীয় আছে? ইসলামী শরীয়া মতে তাদের ওপর যা ওয়াজিব হবে : কাযা : যে ব্যক্তি কোন ওজরে পবিত্র রমজান শরীফের রোজা ভাঙলো তৎপরিবর্তে তাকে উক্ত রোজার কাযা করতে হবে। ঋতুবতী, গর্ভবতী, সন্তানবতী স্ত্রীলোক, মুসাফির, পীড়িত ব্যক্তি এবং মুরতাদ তথা ইসলাম ত্যাগী ব্যক্তি পুনরায় ইসলাম গ্রহণ করলে এদের সবার প্রতিই রোযার কাযা ওয়াজিব, কিন্তু পাগল ও নাবালেগের ওপর রোজার কাযা ওয়াজিব নয়। কাযা হলো একটি রোজার পরিবর্তে একটি রোজা। কাযা রোজা যে কোন সময় সুবিধামতো আদায় করা যায়। কাফফারা : কোন রোজাদার ব্যক্তি ইচ্ছাপূর্বক স্ত্রী সহবাস করলে অথবা বিনা কারণে স্বেচ্ছায় রোজা ভঙ্গ করলে তার প্রতি রোজার কাযা ও কাফফারা উভয়টা ওয়াজিব হবে। রোজার কাযা হলো একটি রোজার পরিবর্তে একটি, আর কাফফারা হলো ৬০টি। মোট ৬১টি রোজা হবে একটি ফরজ রোজার কাফফারা। ফিদইয়া : যে ব্যক্তি রোজা রাখতে সম্পূর্ণরূপে অক্ষম। তার প্রতি ফিদইয়া দেওয়া ওয়াজিব হয়। যে পীড়িত ব্যক্তি প্রাণনাশের ভয়ে রোজা ত্যাগ করে তার প্রতি ফিদইয়া ওয়াজিব নহে। অতি বৃদ্ধ ব্যক্তি বার্ধক্যজনিত দুর্বলতাবশত রোজা রাখতে অক্ষম হলে সে ব্যক্তি রোজার কাযা আদায় না করে কেবল ফিদইয়া দিলেই চলবে। ৬০ জন মিসকিনকে খাওয়ানোর কথা বলা হয়েছে। তথ্যসূত্র : মাওলানা হারুনুর রশিদের রমজানে করণীয় ও বর্জনীয় গ্রন্থ। এএইচ/    

রমজান ইবাদতের শিক্ষক

রমজান ইবাদতের ভিত মজবুত করে, অর্থাৎ পুরো বছরের অভ্যাস গড়ে তোলে। কারণ এ মাসে সবাই জামায়াতের সঙ্গে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করার চেষ্টা করে। বিশেষ করে ফজরের ওয়াক্তে মসজিদে মুসুল্লিদের নীরব সমাগম ঘটে। আর এশার সঙ্গে তারাবীতে উপচে পড়া ভীড় লক্ষ্য করা যায়। রাতের শেষ ভাগে উঠে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য তাহাজ্জুদে দাঁড়িয়ে যায় ও সেহরি খেয়ে নেয়। ইফতারের পূর্ব মুহূর্তে দু’হাত তুলে প্রার্থনা করে। মাগরিবের নামাজের পড়ে আওয়াবীন আদায় করে। সাধারণত ইসলামে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ। এই পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ ছাড়া আরও কিছু নফল নামাজ আছে যেমন ইশরাক, চাশত, আওয়াবীন, তাহাজ্জুত। এর মধ্যে তাহাজ্জুত বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। নবী করীম (সা.) অন্য নফল নামাজের সঙ্গে বেশি বেশি তাহাজ্জুত আদায় করতেন। রমজানে একটি ফরজ ইবাদতে সত্তরটি ফরজের সওয়াব। একটি নফল ইবাদত ফরজ সমতুল্য সওয়াব। কুরআন তেলাওয়াত, জিকির আসকারের শব্দ শোনা যায়। এ মাসে যে যখনই সময় পায় কুরআন তেলাওয়াতে মনোযোগী হয়। অনেকেই জিকিরের মধ্যে মশগুল থাকে। দুটি হাত তুলে অন্তর বিগলিত করে চোখের পানি ছেড়ে আল্লাহর ক্ষমা পাওয়ার জন্য প্রার্থনা করে। কি সুন্দর নিজেকে পরিশুদ্ধ করার ট্রেনিং। তা কেবল রমজানেই সম্ভব। এই ধারা অন্য মাসেও যার ভেতর বহমান থাকে সেই মুমিন, সেই সফলকাম। আমরা সবাই এই ট্রেনিংকে অন্য মাসেও প্রবাহবান রাখি। এএইচ/  

দান করে গর্ব করা মন্দ স্বভাব

দান-খয়রাত করে বড়াই ও গর্ববোধ করা এবং দানগ্রহীতাকে দানের খোটা দেওয়া অনেক মানুষের মন্দ স্বভাব। এটি সংশোধনের জন্য এই বিষয়টি অবগত হতে হবে যে, দানকারী তো কেবল ওই সমস্ত ব্যক্তির কাছে তাদের রিযিক পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব পালন করেছে। প্রকৃতপক্ষে আসল রিযিকদাতা এবং দানকারী হলেন আল্লাহ তাআলা। সে কেবলমাত্র আল্লাহ এবং বান্দাদের মাঝে মাধ্যম হিসেবে কাজ করেছে। সুতরাং হকদারের কাছে তার হক পৌঁছে দেওয়ার মধ্যে গর্ববোধ করা এবং বড়াই করার কিছু নেই। দান করে নিজেকে শ্রেষ্ঠ বলে মনে করা জঘন্য আপরাধ। অনেক মানুষ নিজেকে তার সাথি-সঙ্গীদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ বলে মনে করে। এটিও মানুষের একটি মনের রোগ। এর চিকিৎসা হলো, নিজের ব্যাপারে ভালো মতো অবগত হওয়া। কারণ নিজের ব্যাপারে তার থেকে বেশি অবগত আর কেউ নাই। পাশাপাশি সাথি-সঙ্গীদের ব্যাপারে সুধারণা পোষণ করা। যাতে করে এর মাধ্যমে নিজেকে ছোট ও তুচ্ছ ভাবার সুযোগ পায় সে। ভাইদের ও সাথি-সঙ্গীদের শ্রেষ্ঠত্বকে স্বীকার করে নেওয়া উচিত। আর এটা তখনই কেবল সম্ভব হবে, যখন সে অন্যদের দিকে উন্নত নজরে তাকাবে আর নিজের দিকে তাকাবে সাধারণ নজরে। আমি আমার দাদাকে এমনটি বলতে শুনেছি। তাছাড়া আমি আবূ আবদুল্লাহ সিজযি—রাহিমাহুল্লাহ-কে বলতে শুনেছি, ‘যতোক্ষণ তুমি নিজেকে শ্রেষ্ঠ মনে করবে না ততোক্ষণ তুমি শ্রেষ্ঠ। আর যখনই তুমি নিজেকে শ্রেষ্ঠ মনে করবে তখন আর তুমি শ্রেষ্ঠ থাকবে না।’ (তথ্যসূত্রঃ আবূ আবদুর রহমান আস-সুলামী এর আত্মশুদ্ধি বই থেকে নেওয়া)  

কুরআনে কৃপণ ব্যক্তির পরিণতি জেনে নিন

কোন বঞ্চিত, অবহেলিত বা অধঃপতিত মানুষ যদি কুরআনের মর্মবাণীকে অনুধাবন করতে পারে, অনুসরণ করতে পারে, তাহলে সেও পরিণত হবে যথার্থ মানুষে, সফল মানুষে, আলোকিত মানুষে। ধন-সম্পদ, অর্থ-কড়ি সবকিছুই আল্লাহর দান। কৃপণতা আল্লাহ পছন্দ করেন না, শাস্তিরও বিধান রেখেছেন। কৃপণতা সম্পর্কে কুরআনে আল্লাহতায়ালা ইরশাদ করেন : ‘শয়তান তোমাদের দারিদ্র্যের ভয় দেখায় আর বখিল বা কৃপণ হতে উৎসাহ যোগায়। অপরদিকে আল্লাহ তোমাদেরকে ক্ষমা ও অনুগ্রহের প্রতিশ্রুতি দেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ প্রাচুর্যময়, সর্বজ্ঞ।’ (সূরা বাকারা ২৬৯) ‘কিন্তু যখনই তিনি তাঁর অনুগ্রহ-সম্পদে ওদের ধন্য করলেন, তখন ওরা কৃপণের ন্যায় ধন-সম্পত্তি আঁকড়ে ধরল এবং (আল্লাহর সঙ্গে) অঙ্গীকার ভঙ্গ করল।’ (সূরা তওবা ৭৬) ‘বিশ্বাসীদের মধ্যে যারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে দান করে এবং যাদের শ্রম ছাড়া দান করার মতো আর কিছুই নেই, তাদের নিয়ে এই (ধনশালী কৃপণ) মুনোফেকরা ঠাট্টাবিদ্রূপ করে। আল্লাহ অবশ্যই এই বিদ্রূপের প্রতিফল দান করবেন। ওদের জন্যে অপেক্ষা করছে কঠিন আজাব।’ (সূরা তওবা ৭৯) ‘ব্যয়ের ক্ষেত্রে কৃপণ হয়ো না বা অন্যকে সাহায্য করতে অনিচ্ছুক হয়ো না। আবার ব্যয়ের ক্ষেত্রে মুক্তহস্ত হয়ে (তোমরা সামর্থে্যর) সীমা ছাড়িয়ে যেও না। যদি করো, তাহলে তুমি নিন্দিত বা নিঃস্ব হবে।’ (সূরা বনি ইসরাইল ২৯) ‘(এ বিষয়টি তোমাদের জানা থাকা প্রয়োজন) যাতে তোমরা যা হারাও তার জন্যে বিষণ্ন  না হও আবার আল্লাহ যা দেন তাতে অতিরিক্ত উল্লসিত ও গর্বিত হয়ে না যাও। উদ্ধত, অহঙ্কারী, কৃপণ ও কার্পণ্যে প্ররোচনা দানকারীদের আল্লাহ অপছন্দ করেন। (ধর্ম বিধান থেকে) কেউ মুখ ফিরিয়ে নিলেও (তাতে আল্লাহর কোন ক্ষতি নেই। কারণ) আল্লাহ তো অভাবমুক্ত, সদাপ্রশংসিত।’ (সূরা হাদিদ ২৩-২৪) ‘জাহান্নাম সেদিন উচ্চস্বরে ডাকবে তাদের, যারা ন্যায় থেকে দূরে সরে গিয়েছিল, যারা সত্যকে প্রত্যাখ্যান করেছিল, যারা ধন-সম্পত্তি সংগ্রহ করে (সৎ কাজে ব্যয় না করে) কৃপণের মতো সংরক্ষিত করে রেখেছিল।’ (সূরা মা’আরিজ ১৭-১৮) ‘যখনই মানুষ অভাব বা বিপদে পড়ে তখন হা-হুতাশ করে। আবার যখন স্বচ্ছলতা বা সৌভাগ্য আসে তখন হয়ে যায় স্বার্থপর, অতিকৃপণ।’ (সূরা মা’আরিজ ২০-২১) ‘আর কেউ যদি কৃপণতা করে, স্রষ্টাবিমুখ হয় এবং চিরায়ত ভালো ও সত্যকে অস্বীকার করে, তবে আমি তার জন্যে দুঃখকষ্ট ও ধ্বংসের পথে চলাকে সহজ করে দেবো। কবরে গেলে ধন-সম্পত্তি তার কোন কাজে লাগবে?’ (সূরা লাইল ৮-১১) ‘(দুর্ভোগ এমন প্রত্যেক ব্যক্তির জন্যে) যে (কৃপণের মতো) অর্থ জমায় আর বার বার তা গণনা করে এবং একে নিজের রক্ষাকবচ মনে করে।’ (সূরা হুমাজাহ ২) কৃপণতার পরিণাম : ‘তোমরা কখনো মনে করো না যে, আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তোমাদের যা দিয়েছেন তা থেকে ব্যয়ে কৃপণতা করলে তোমাদের মঙ্গল হবে। আসল সত্য হচ্ছে, কৃপণতা তোমাদের জন্যেই অমঙ্গলের। যা নিয়ে কৃপণতা করবে, কেয়ামতের দিন সেটাই গলার ফাঁস হয়ে দাঁড়াবে। মহাকাশ ও পৃথিবীর সবকিছুর মালিক আল্লাহ। তোমরা যা করো আল্লাহ তা ভালো করেই জানেন।’ (সূরা আলে ইমরান ১৮০) ‘আর যারা নিজেরা কৃপণ এবং অন্যকে কৃপণতা করতে উৎসাহিত করে (বা দানে নিরুৎসাহিত করে) এবং আল্লাহর অনুগ্রহ-সম্পদ গোপন করে, আল্লাহ তাদেরও অপছন্দ করেন। এ ধরনের অকৃতজ্ঞদের জন্যে আমি অপমানজনক শাস্তির ব্যবস্থা করে রেখেছি।’ (সূরা নিসা ৩৭) ‘হে বিশ্বাসীগণ! তোমাদেরকে আল্লাহর পথে ব্যয় করতে বলা হচ্ছে, অথচ তোমাদের অনেকেই কৃপণতা করছ। (আল্লাহর পথে) কার্পণ্য করে, তারা তো আসলে নিজেদের প্রতিই কার্পণ্য করে। নিঃসন্দেহে আল্লাহ অভাবমুক্ত আর তোমরা সবাই তাঁর মুখাপেক্ষী। যদি তোমরা (আল্লাহর পথ থেকে) মুখ ফিরিয়ে নাও, তবে তিনি তোমাদের জায়গায় অন্য জাতিকে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার সুযোগ দেবেন। আর তারা তোমাদের মতো আচরণ করবে না।’ আল্লাহ অনুগ্রহ করে অর্থ-সম্পদ যা দিয়েছেন তা থেকে প্রয়োজন অনুযায়ী খরচ করবো। অতিরিক্ত জমা করবো না। গরীবদের দান করবো, আল্লাহর পথে ব্যয় করবো। যাকাত আদায় করবো। রাব্বুল আলামীন এর চেয়েও বেশি সম্পদ দিতে পারেন। এএইচ/  

© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি