ঢাকা, সোমবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৮ ৪:০৭:২৮

চাঁদের অদেখা অংশে চীনের অভিযান

চাঁদের অদেখা অংশে চীনের অভিযান

চাঁদের অদেখা অংশে প্রথমবারের মতো একটি রোবট যান নামানোর অভিযান শুরু করেছে চীন। চাং’ই-৪ নামের এই অভিযানে চাঁদে ‘ভন কারমান ক্র্যাটার’ নামের যে অংশে রোবট যানটি নামবে, চাঁদের সেই অংশটি কখনও পৃথিবীর দিকে ঘোরে না। ফলে এই অংশটি নিয়ে বরাবরই মানুষের আগ্রহ রয়েছে। শিচ্যাং উৎক্ষেপণ কেন্দ্র থেকে রোবটটি পাঠানো হয়েছে। এর মাধ্যমে চাঁদের পাথর আর মাটির নমুনা সংগ্রহের এই পথ উন্মুক্ত হচ্ছে চীনের জন্য। তবে জানুয়ারি মাসের আগে এই চন্দ্র রোবটটি চাঁদে অবতরণ করতে পারবে না। ‘ভর কারমান ক্র্যাটার’ নামে চাঁদের ওই অংশটি নিয়ে বিজ্ঞানীদের আগ্রহ অনেকদিনের পুরনো। কারণ এখানে চাঁদের সবচেয়ে পুরনো আর নানা উপাদানে সমৃদ্ধ এলাকা চাঁদের দক্ষিণ মেরুর আইকন বেসিন অবস্থিত। ধারণা করা হয়, কোটি কোটি বছর আগে একটি বিশাল উল্কাপিণ্ডের আঘাতের কারণে এই এলাকাটি তৈরি হয়েছিল। এই মিশনের মাধ্যমে ওই এলাকার ভৌগলিক বৈচিত্র্য এবং পাথর ও মাটির বৈশিষ্ট্য বোঝা যাবে বলে বিজ্ঞানীর আশা করছেন। পৃথিবী থেকে সব সময়ে চাঁদের একটি অংশই দেখা যায়। কারণ চাঁদ পৃথিবীর চারদিকে প্রদক্ষিণ করতে যে সময় নেয়, আবার একই সময় নিজের অক্ষ পথে ঘুরতেও সেই সময় লাগে। ফলে পৃথিবীর দিকে সব সময় চাঁদের একটি মুখই থাকে। যদিও ওই অংশটিকে বিজ্ঞানীরা ‘ডার্ক সাইড’ বা ‘অন্ধকার দিক’ বলে ডেকে থাকেন। কিন্তু সেখানেও আসলে সমান হারে সূর্যের আলো পড়ে। বিজ্ঞানীদের এই ‘অন্ধকার দিক’-এর আসলে এভাবে অর্থ করা যেতে পারে, যে অংশটি পৃথিবীর মানুষ দেখেনি। তবে পৃথিবীর কাছাকাছি অংশের তুলনায় এই দূরের অংশটি বেশ আলাদা। এখানে জমাট পুরনো ভূত্বক রয়েছে, যার চারদিকে রয়েছে অসংখ্য গর্ত। সেখানে বেশ কিছু অশ্বখুর আকৃতির আগ্নেয়গিরি জাত শিলা রয়েছে, যেরকমটা রয়েছে পৃথিবীর কাছের অংশেও। যে শক্তির কারণে দক্ষিণ মেরুর আইকন বেসিনের তৈরি হয়েছে, সেটি হয়তো চাঁদের ওপরের আবরণ ভেঙ্গে অনেক গভীরে চলে গেছে। সে ক্ষেত্রে চাং’ই-৪ এর কাজ হবে, এ সব উপাদান পরীক্ষা করে পৃথিবীর এই একমাত্র প্রাকৃতিক উপগ্রহের ইতিহাস আবিষ্কার করা। এই মিশনের আরেকটি লক্ষ্য হবে, চাঁদের অপর পাশে একটি বেতার যোগাযোগের পরিবেশ তৈরি করা এবং সেখানে ভবিষ্যতের টেলিস্কোপ স্থাপনের জন্য একটি ক্ষেত্র তৈরি করা। এই মিশনের মহাকাশযানটিতে করে ৩ কেজি আলুর বীজ আর ফুলের বীজ নিয়ে যাচ্ছে, যা দিয়ে চাঁদে জীববিজ্ঞানের কিছু পরীক্ষা চালানো হবে। কৃত্রিম পরিবেশ তৈরির ‘চাঁদের ছোট জীবমণ্ডল’ নামের এই নকশাটি চীনের ২৮টি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনায় করা হয়েছে। ‘চাঁদে আমরা বীজের অঙ্কুরোদগম এবং আলোক সংশ্লেষণ প্রক্রিয়াটি পরীক্ষা করে দেখতে চাই’ চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা শিনহুয়াকে এর আগে বলেছেন এই গবেষণা প্রকল্পের প্রধান লিউ হানলোং। প্রকল্পের প্রধান নকশাকার শেই জেঙশিন বলেছেন, ‘এই ক্ষুদ্র জীবমণ্ডলের তাপমাত্রা আমাদের অবশ্যই ১ ডিগ্রি থেকে ৩০ ডিগ্রির মধ্যে রাখতে হবে এবং আর্দ্রতা ও পুষ্টির ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখতে হবে।’ যেহেতু চাঁদের ওই অংশটি পৃথিবী থেকে দেখা যায় না, তাই মিশন যানটিকে কুয়িকিয়াও নামের একটি কৃত্রিম উপগ্রহের মাধ্যমে এ সব তথ্য পৃথিবীতে পাঠাতে হবে। এই বছরের মে মাসে ওই উপগ্রহটি উৎক্ষেপণ করেছে চীন। এই মহাকাশযানটি হচ্ছে চাং’ই-৩ এর পরবর্তী সংস্করণ। ২০১৩ সালে চাঁদে ওই যানটি পাঠিয়েছিল চীন। এই যানটিতে দুইটি ক্যামেরা রয়েছে। একটি অংশ তেজস্ক্রিয়তা যাচাই করতে পারে এবং আরেকটি অংশ মহাকাশের স্বল্পমাত্রার তরঙ্গ পর্যালোচনা করতে পারে। চাঁদের ভূপৃষ্ঠের নিচে কি আছে, সেটি পরীক্ষা করে দেখার জন্য একটি রাডার রয়েছে। এমন কিছু যন্ত্র রয়েছে, যেটি খনিজ উপাদান সনাক্ত করে বিশ্লেষণ করতে পারে। চাঁদ নিয়ে গবেষণায় চীনের বিশাল কর্মসূচির অংশ হচ্ছে এই মিশন। প্রথম এবং দ্বিতীয় চাং’ই মিশনের উদ্দেশ্য ছিল কক্ষপথ সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ। তবে তৃতীয় আর চতুর্থ মিশনের লক্ষ্য চাঁদের ভূপৃষ্ঠ। চাং’ই পাঁচ আর ছয়ের লক্ষ্য হবে চাঁদ থেকে সংগৃহীত পাথর আর মাটির নমুনা ফিরিয়ে এনে গবেষণাগারে যোগান দেওয়া। সূত্র: বিবিসি একে//
ভিনগ্রহীরা পৃথিবী ঘুরে গেছে: নাসার বিজ্ঞানী

ভিনগ্রহীরা ইতিমধ্যেই এসে পৃথিবী ঘুরে গেছে কিন্তু আমরাই ওদের দেখতে পাইনি- এমনটাই দাবি করলেন নাসার এক বিজ্ঞানী সিলভানো পি কলম্বানো। তার হালের গবেষণাপত্রে। কেন দেখতে পাইনি, তা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে নাসার এইমস রিসার্চ সেন্টারের কম্পিউটার বিজ্ঞানী কলম্বানো বলেছেন, ‘ভিনগ্রহীদের যে ছবি আমরা এত দিন ভেবেছি, এঁকেছি, সেই সবের সঙ্গে ভিনগ্রহীদের চেহারা মেলে না বলে।’ কলম্বানোর বক্তব্য, ভিনগ্রহীদের শরীরটা যেন কোনও কার্বন যোগ দিয়ে গড়া বলে আমরা ভেবে এসেছি। হয়তো তা আদৌ নয়। তাই পৃথিবী ঘুরে গেলেও আমরা ভিনগ্রহীদের দেখতে পাইনি। ওই গবেষণাপত্রে কলম্বানো লিখেছেন, ভিনগ্রহীদের সম্পর্কে আমাদের ধ্যানধারণায় গলদ রয়েছে। আমরা মহাকাশের এই মুলুকে, ওই মুলুকে যাওয়ার পরিকল্পনা করছি। যাচ্ছি। অথচ, ভিনগ্রহীরাও যে এই ব্রহ্মাণ্ডে ঘুরে বেড়াতে পারে বা তাদের সেই ভ্রমণ যে আমাদেরও আগে শুরু হয়ে থাকতে পারে, এটা আমরা মাথায় রাখছি না।’ পৃথিবী ঘুরে গেলেও ভিনগ্রহীরা যে এখনও পড়েনি আমাদের নজরে, তার আরও একটি ব্যাখ্যা দিয়েছেন কলম্বানো। বলেছেন, ওরা অত্যন্ত বুদ্ধিমান (সুপার ইন্টেলিজেন্ট) আর চেহারায় ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র হতে পারে। তাই হয়তো আমাদের চোখে পড়েনি। ভিনগ্রহীদের দেখার মতো কোনও প্রযুক্তিই হয়তো এখনও পর্যন্ত আসেনি আমাদের হাতে। কতটা পিছিয়ে রয়েছি আমরা প্রযুক্তিতে, তা বোঝাতে গিয়ে কলম্বানো বলেছেন, মানবসভ্যতার প্রযুক্তির বয়স তো সবে ১০ হাজার বছর। আর যত সব বিজ্ঞানের আবিষ্কার, সেই সবই তো ৫০০ বছরের বেশি পুরনো নয়। তার চেয়ে অনেক অনেক উন্নত প্রযুক্তি থাকতে পারে ভিনগ্রহীদের হাতে, যা দিয়ে তারা আমাদের ধোঁকা দিয়ে যাচ্ছে। ভিনগ্রহীদের দেখতে পাওয়ার আগে তাদের সম্পর্কে আমাদের এযাবৎ ধারণাটাই আমূল বদলে ফেলা দরকার বলে তার গবেষণাপত্রের শেষে লিখেছেন কলম্বানো। সূত্র: আনন্দবাজার একে//

সোস্যাল মিডিয়ার বিভিন্ন অ্যাকাউন্ট ঝুঁকি মুক্তি রাখার উপায়

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির বিপুল বিকাশের ফলে সমাজের বিভিন্ন স্তরে নানা ধরনের পরিবর্তন সূচিত হয়েছে। আমার কারণে অকারণে প্রযুক্তির উপরে নির্ভর হয়ে যাচ্ছি। নিজেদের প্রয়োজনে সোস্যাল মিডিয়ার বিভিন্ন অ্যাকাউন্ট খুলে থাকি। তবে `হ্যাকিং`য়ের শঙ্কায় বেশ পেরেশানিতে থাকি। অনেকের মনে প্রশ্ন আসে কিভাবে আমরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন অ্যাকাউন্ট সুরক্ষিত রাখতে পারবো। যাতে করে বিনা অনুমতিতে অন্য কেউ নিজেদের অ্যাকাউন্টে ঢুকতে অথবা হ্যাক করতে না পারে। এই চিন্তা কেবল সোশ্যাল মিডিয়ার জন্যেই নয়, ই-মেইল বা অন্যান্য অনলাইন অ্যাকাউন্টের জন্যেও প্রযোজ্য। এসব অ্যাকাউন্টকে নিরাপদ রাখার কিছু সহজ কৌশল জেনে রাখা জরুরি। কারণ,`হ্যাকিং হয়েছে` কথাটা আমরা একটু বেশিই শুনছি। আমরা যারা কম্পিউটার বা মোবাইলে ফেসবুক, টুইটার, জি-মেইল, ইন্সটাগ্রাম ইত্যাদি সোশ্যাল প্লাটফর্ম ব্যবহার করে থাকি, তারা প্রত্যেকেই পাসওয়ার্ড শব্দটির সঙ্গে পরিচিত। অ্যাকাউন্ট খোলার সময় পাসওয়ার্ড দিতে হয়। আর এই পাসওয়ার্ড দেয়ার সময় প্রায় সকলেই আমরা একটি ভুল করে থাকি। তা হলো, আমরা আমাদের নিজেদের নাম, জন্ম সাল ইত্যাদি পাসওয়ার্ড হিসেবে নিশ্চিন্তে বসিয়ে দেই। আর এটাই কাল হয়ে দাঁড়ায়। এসব ক্ষেত্রে শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার না করলে যেকোনো সময় সাইবার ক্রাইমের শিকার হওয়ার ঝুঁকি থাকে। এর জন্যে আমাদের সকলের উচিত শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার এবং কিছু সতর্কতা অবলম্বন করা। পাসওয়ার্ড শক্তিশালী করার কিছু নিয়ম ► পাসওয়ার্ডে অন্তত আটটি অক্ষর বা তার চেয়ে বেশি অক্ষর ব্যবহার করা। ► ছোট-বড় অক্ষর, সংখ্যা, চিহ্নের সমন্বয়ে পাসওয়ার্ড তৈরি করা। ► পাসওয়ার্ডে বিশেষ কিছু চিহ্নের ব্যবহার ঘটানো, যেমন : #@+-% ইত্যাদি। ► সম্ভব হলে প্রতিমাসে একবার করে পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করা। ► Two-factor authentication চালু করে রাখা। পাসওয়ার্ড ব্যবহারের ক্ষেত্রে যা করা একদম উচিত নয় ► নিজের নাম, জন্ম তারিখ অথবা ১২৩৪৫৬ এসব ব্যবহার না করাই ভালো। ► পাসওয়ার্ডে নিজের ফোন নম্বর ব্যবহার না করা। ► খেয়াল রাখতে হবে নিজের ইউজার নেম আর পাসওয়ার্ড যেন কখনোই এক না হয়। ► ভিন্ন ভিন্ন অ্যাকাউন্টের জন্য ভিন্ন ভিন্ন পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা। ► ওয়েব ব্রাউজারের `রিমেম্বার পাসওয়ার্ড` অপশনটি ব্যবহার না করা। ► নিজের পাসওয়ার্ড অনলাইনে বা অন্য কোনভাবে কারো সঙ্গে শেয়ার না করা।   টিআর/

জন্মদিনে তারেক মাসুদকে গুগলের শ্রদ্ধা

অকাল প্রয়াত চলচ্চিত্রকার তারেক মাসুদের ৬২তম জন্মদিন আজ। এ উপলক্ষে তার প্রতি সম্মান জানিয়ে ডুডল করেছে সার্চ জায়ান্ট গুগল। গুগলের এই ডুডলে দেখা যাচ্ছে, তারেক মাসুদের অনবদ্য সৃষ্টি মাটির ময়নার আদলে একটি প্রতিকৃতি রূপ। প্রতিকৃতিকে ধরে আছে একটি হাত। তার চারপাশে তিনটি ফুল। আর বিশেষভাবে লেখা গুগল।এর আগে বাংলাদেশের পাঁচ কৃতী সন্তানের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে গুগল তৈরি করেছিল ডুডল (ছবিসম্বলিত গুগল সার্চ ইঞ্জিনের হোমপেজ)। তবে সেটা ছিল শুধু বাংলাদেশের গুগল ইউজারদের জন্য। তবে এবারই প্রথমবারের মতো এই সার্চ ইঞ্জিন সাইট বিশ্বব্যাপী দেখাচ্ছে বাংলাদেশি নির্মাতা তারেক মাসুদকে।এর আগে তারেক মাসুদের স্ত্রী-চলচ্চিত্রকার ক্যাথরিন মাসুদ জানিয়েছিলেন, তারেক মাসুদের ৬২তম জন্মদিন উপলক্ষে গুগল কর্তৃপক্ষ তার প্রতি সম্মান জানিয়ে ডুডল করবে। গুগল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছেন।ক্যাথরিন বলেন, ‘এটা সত্যিই অত্যন্ত সম্মানের যে গুগল কর্তৃপক্ষ তারেকের কাজের মূল্যায়ন ও স্বীকৃতি জানাচ্ছে এইভাবে।’এসএ/

আইনস্টাইনের ‘গড লেটার’ চিঠিতে কী আছে, জানেন? 

বিশ্বখ্যাত বিজ্ঞানী আলবার্ট আইনস্টাইনের মৃত্যুর একবছর আগে অর্থাৎ ১৯৫৪ সালে লেখা একটি চিঠি যা গড লেটার হিসেবে পরিচিতি। এটি এখন বেশ আলোচনার তুঙ্গে।        আলোচিত এই চিঠিটি নিলামে ৩ মিলিয়ন ডলারে বিক্রি হয়। আশা করা হচ্ছিল, নিউইয়র্কে নিলামে এটি হয়তো দেড় মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত দামে বিক্রি হতে পারে।   ধর্ম ও বিজ্ঞানের মধ্যকার বিতর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিবৃতি হিসেবেই এটিকে দেখা হচ্ছে । নোবেল বিজয়ী এ বিজ্ঞানী ৭৪ বছর বয়সে লেখা দেড়পাতার ওই চিঠিটি লিখেছিলেন, জার্মান দার্শনিক এরিক গুটকাইন্ডের কাছে। এ চিঠিতে মাতৃভাষা জার্মান ভাষাতেই তিনি ঈশ্বরে বিশ্বাসে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন।  চিঠিতে বিজ্ঞানী আইনস্টাইন লিখেছিলেন, ঈশ্বর শব্দটি আমার কাছে মানুষের দুর্বলতার একটি বহিঃপ্রকাশ ছাড়া আর কিছুই নয়। কোনো ব্যাখ্যাই যে তার এ ধারণার পরিবর্তন করতে পারবে না সেটিও তিনি সেখানে পরিষ্কার করেই লিখে দিয়েছিলেন। নিজ সম্প্রদায় ইহুদিদের তিনি অন্য মানুষ থেকে আলাদা কিছু নয় বলেও তার মতামত দিয়েছেন সেখানে। (বিবিসি) কেআই/এসি    

বেশি রাত পর্যন্ত জাগলে হতে পারে অকালমৃত্যু: গবেষণা

অনেক রাত পর্যন্ত জেগে থাকা। সকালে দেরি করে ঘুম থেকে ওঠা। সঙ্গে অনিয়মিত খাওয়া-দাওয়ার অভ্যাস। এমন জীবনযাপনের ফল খুবই মারাত্মক হতে পারে। শরীরে বাসা বাঁধতে পারে মারণ রোগ। এমনটাই জানাচ্ছে সাম্প্রতিক গবেষণা। বিখ্যাত জার্নাল ‘অ্যাডভান্সেস ইন নিউট্রিশন’-এ গত শুক্রবার প্রকাশিত এক গবেষণাপত্রে বলা হয়েছে রোজ রাত করে ঘুমাতে যাওয়া ও সকালে দেরিতে ওঠার অভ্যেস থেকে হার্টের অসুখ ও টাইপ-২ ডায়াবেটিসের সম্ভাবনা বহুলাংশে বাড়ে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, ঘুমের ক্ষেত্রে এমন অভ্যেস যাদের, সচরাচর তাদের রাতের মেনুতেও থাকে মশলাদার এবং গ্লুকোজযুক্ত খাবার। এমনকি, মদ্যপানের প্রবণতাও এদের ক্ষেত্রে বেশি হয়। তবে এই গবেষণা বলছে, এমন অভ্যেসের বীজ কিন্তু পোঁতা হয়ে যায় প্রতিটি ব্যক্তির শৈশবেই। বড় বয়সে এসে তা-ই ফুলে-ফেঁপে ওঠে। অনিয়মিত জীবনযাপন প্রতিদিনের অভ্যাসে পরিণত হয়। আর তার থেকেই হার্টের রোগ বা ডায়াবেটিসের সম্ভাবনা দেখা দিচ্ছে বলে বিজ্ঞানীদের মত। মানুষের শরীরে রাতের দিকে গ্লুকোজের পরিমাণ থাকা উচিত সবচেয়ে কম। কিন্তু অনেক রাতে, অর্থাৎ ঘুমাতে যাওয়ার ঠিক আগেই ডিনার করার ফলে রাতে শরীরে গ্লুকোজের পরিমাণ বাড়ে। এটিও ক্ষতির অন্যতম কারণ। কাজেই সুস্থ জীবন পেতে চাইলে এই ধরনের লাইফস্টাইল থেকে দূরে থাকাই শ্রেয় বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা। সূত্র: এবেলা একে//

ত্বকের ক্যানসার রুখতে অ্যাপল ওয়াচের পদক্ষেপ

সারাদিন রোদে ঘুরতে হয় বলে সানবার্নের সমস্যায় ভুগছেন, কিন্তু কাজের চাপে কিছুতেই সচেতন হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন না। মনে হচ্ছে রোদে রোদে ঘোরবার সময় কেউ সচেতন করে দিলে ভাল হতো? এ রকমই যাদের প্রতিদিনের রুটিন, তাদের জন্য সুখবর নিয়ে এসেছে অ্যাপল। এই সংস্থার নতুন ‘অ্যাপল ওয়াচ’ আপনাকে ক্রমাগত সচেতন করতে থাকবে রোদে ঘুরে কতটা ক্ষতি হচ্ছে আপনার সেই সম্বন্ধে। অ্যাপলের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, এই নয়া হাতঘড়িতে অজস্র আলট্রা ভায়োলেট লাইট সেন্সর রয়েছে। সারাদিনে কতক্ষণ রোদ্দুরে রোদ্দুরে ঘুরছেন, সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি কতটা ঢুকছে আপনার শরীরে, এই সব সম্পর্কে আপনাকে সতর্ক করতে থাকবে আলট্রা ভায়োলেট লাইট সেন্সরগুলো। ফলে সচেতন হওয়ার সুযোগ পাবেন আপনি। শুধু রোদে পোড়া নয়, ত্বকের ক্যানসারের হাত থেকেও সুরক্ষা দিতে পারে অ্যাপলের এই হাতঘড়ি। অকালে বুড়িয়ে যাওয়া ত্বকের সমস্যা থেকে রেহাই পেতেও সাহায্য করতে পারে এই নয়া প্রযুক্তি, দাবী অ্যাপল কর্তৃপক্ষের। অ্যাপল ওয়াচ সিরিজ ফোর-এ ইসিজি মনিটরিংয়ের সঙ্গেই এই ইউভি ট্র্যাকিং সেন্সর ফিটনেসের দিকে খেয়াল রাখতে আরও বেশি সাহায্য করবে বলে ধারণা বিশেষজ্ঞ মহলের। সূত্র: আনন্দবাজার একে//

লটারিতে মূল্যবান পুরস্কারের নামে প্রতারণা

দেশের বিভিন্ন স্থানে টেলিফোনে কল করে লটারিতে গাড়ি বা মূল্যবান পুরস্কার জেতার খবর দিয়ে গ্রাহকদের অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে একাধিক চক্র। এই ধরনের লটারি জেতার মিথ্যা প্রলোভনে বিভ্রান্ত না হয়ে এ সব চক্রের হাত থেকে সাবধান থাকতে সতর্ক করেছে বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন্স কোম্পানি লিমিটেড (বিটিসিএল)। গতকাল সোমবার বিটিসিএলের জনসংযোগ শাখার জেনারেল ম্যানেজার মীর মোহাম্মদ মোরশেদ এই তথ্য জানিয়েছেন। বিটিসিএল কর্মকর্তারা বলেন, সম্প্রতি চট্টগ্রামসহ কয়েকটি এলাকায় বিটিসিএলের টেলিফোনে কল করে লটারিতে গাড়ি অথবা অন্য কোনও মূল্যবান পুরস্কার জিতেছেন বলে আমাদের গ্রাহকদের বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। এক বা একাধিক চক্র টাকা হাতিয়ে নেওয়ারও চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। ফোনে কল করে বলে, আপনি বিটিসিএলের লটারিতে গাড়ি পুরস্কার পেয়েছেন। টাকা বিকাশের মাধ্যমে এই নম্বরে পাঠিয়ে দেন। এই ধরনের ফোন বহু গ্রাহককে করা হয়েছে। তার মধ্যে সচেতন দুই একজন গ্রাহক বিষয়টি নিয়ে বিটিসিএল অফিসে যোগযোগ করলে তারা বিষয়টি মিথ্যা বলে জানান। এরপর বিটিসিএল কর্তৃপক্ষ গ্রাহকদের এই ধরনের বিভান্তিকর প্রলোভন এড়িয়ে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করছেন। একে//

শুরু হলো ‘সাইবার সিকিউরিটি চ্যালেঞ্জ ২০১৮’

দক্ষ সাইবার নিরাপত্তা কর্মী খুঁজে বের করতে অ্যাডভান্স টেকনোলজি বিডি’র আয়োজনে দেশে প্রথমবারের মতো শুরু হলো ‘সাইবার সিকিউরিটি চ্যালেঞ্জ ২০১৮’ শীর্ষক প্রতিযোগিতা। গতকাল রোববার রাজধানীর আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশ ক্যাম্পাসে এই প্রতিযোগিতার উদ্বোধন হয়। উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বেসিস’র প্রেসিডেন্ট সৈয়দ আলমাস কবীর, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ও এলআইসিটি’র প্রকল্প পরিচালক রেজাউল করিম, বিডিওএসএন এর সাধারণ সম্পাদক মুনির হাসান, আইএসপিএবি’র যুগ্ম-সম্পাদক মইন উদ্দিন আহমেদ, পাঠাওয়ের লিড মার্কেটিং ম্যানেজার সৈয়দা নাবিলা মাহবুব, আইপে সিস্টেমস লিমিটেডের হেড অব মার্কেটিং মোঃ মুনতাসির, রিভ এন্টিভাইরাসের সিনিয়র মার্কেটিং ম্যানেজার ইবনুল করিম রূপেন এবং সাইবার সিকিউরিটি চ্যালেঞ্জ ২০১৮ এর আহবায়ক ও সমন্বয়কারী আব্দুর রহমান শাওন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে উদ্বোধনের পর ‘সাইবার সিকিউরিটি ফর স্টুডেন্ট’ বিষয়ে সচেতনাতামূলক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। পুরো অনুষ্ঠানটি লাইভ সম্প্রচার করে ঢাকালাইভ। ‘বি দ্য আলটিমেট সিকিউরিটি এক্সপার্ট’ স্লোগানে প্রতিযোগিতার পাওয়ার্ড বাই স্পন্সর জনপ্রিয় রাইড শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম পাঠাও। এছাড়া কো-স্পন্সর হিসেবে রয়েছে আইপে, এসসিএসএল ও মেট্রোনেট। আর স্ট্র্যাটেজিক পার্টনার হিসেবে রয়েছে বেসিস, আইএসপিএবি, বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্ক (বিডিওএসএন)। প্রতিযোগিতার মিডিয়া সহযোগী কনসিটো পিআর। প্রতিযোগিতার বিভিন্ন পর্ব ও গ্রুমিং সেশন লাইভ সম্প্রচার করবে ঢাকালাইভ। -সংবাদ বিজ্ঞপ্তি আরকে//

নির্বাচনে ফেসবুকের উপর বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণ কতটা কার্যকর   

বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর উপরে নজরদারি বাড়াতে চায় নির্বাচন কমিশন। এজন্যে টেলিকম রেগুলেটরি সংস্থা থেকে শুরু করে ইন্টারনেট ও মোবাইল ফোন সেবা দানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে গতকাল নির্বাচন কমিশনে একটি বৈঠকও হয়েছে। সূত্রগুলো জানাচ্ছে, ভোট নিয়ে গুজব ও অপপ্রচার ঠেকাতেই কমিশনের এই নজরদারির উদ্যোগ। কিন্তু বাংলাদেশের টেলিযোগাযোগ খাতের নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান বিটিআরসির কাছে এ বিষয়ে কী ধরণের সহায়তা চেয়েছে নির্বাচন কমিশন ? এমন প্রশ্নের জবাবে বিটিআরসির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জহুরুল হক বলেন, ‘নির্বাচনের সময় কমিশনকে সহায়তা করা সবার দায়িত্ব। তারা বলেছেন প্রোপাগান্ডা, গুজব এসব বন্ধ করার বিষয়ে সুযোগ যদি থাকে।’ ‘বিটিআরসি বলেছে তাদের সক্ষমতার মধ্যে যেগুলো আছে সেগুলোর সাহায্য করতে তারা প্রস্তুত।’ তিনি বলেন, বিভিন্ন সময় ফেসবুকে বিভিন্ন ধরণের অপপ্রচার হয় সেটা আসলে বিটিআরসি বন্ধ করতে সক্ষম নয়। বিটিআরসি ফেসবুককে অনুরোধ করতে পারে। ফেসবুকের অনেক গ্রাহক বাংলাদেশে থাকায় তারা কখনো কখনো বিটিআরসি যখন রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনের কথা বললে বিবেচনা করে বলে তিনি জানান। ‘তবে তারা (ফেসবুক) কিন্তু বিবেচনায় নিতে বাধ্য নয়। এছাড়া অন্য কোনো সহযোগিতা যেগুলো বিটিআরসি করতে সক্ষম সেটি নির্বাচন কমিশনকে করতে হবে।’ হক বলেন, ‘বিটিআরসির লোকজন ২৪ ঘণ্টা প্রস্তুত আছে বিভিন্ন অপ্রচার দেখার জন্য এবং অনুরোধ যদি আসে সেটা বিটিআরসি চেষ্টা করবে।’ ফেসবুকে রাজনৈতিক আলোচনার কোনটা গুজব বা অপপ্রচার তা নির্ধারণ কীভাবে? জহুরুল হক এই প্রশ্নের জবাবে বলেন, তারা সেটা করবেননা। তিনি বলেন, ‘আমরা নির্ধারণ করবো রাষ্ট্র-শৃঙ্খলা বিরোধী বা রাষ্ট্রবিরোধী কিছু বললে ফেসবুক কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করতে পারি। আমরা সেটা বন্ধ করতে পারিনা। আমরা বন্ধ করিও না।’ নির্বাচনকে প্রভাবিত করা বা বানচালের কাজে ফেসবুককে অপব্যবহারের চেষ্টা বিভিন্ন দেশে হয়েছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশে কতটা ঝুঁকি আছে? জবাবে বিটিআরসি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, ‘বাংলাদেশে ফেসবুকের ব্যবহারের ইতিহাস তো বেশি দিনের না। ফেসবুক কর্তৃপক্ষের সাথে আমাদের কোনো চুক্তি নাই যে আমরা বললেই তারা বন্ধ করে দেবে।’ ‘আমরা রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়লে বা একান্তই মিথ্যা কিছু হলে রাষ্ট্রীয় প্রয়োজন হলে ফেসবুককে অনুরোধ করতে পারি। কোনো ব্যক্তির বিষয়ে বিটিআরসি কিছু করেনা।’ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নজরদারি প্রতিরোধে নির্বাচন কমিশন কোনো সহায়তা চেয়েছে কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন,  চাওয়া হয়নি। তারা শুধু গুজব বা রাষ্ট্রদ্রোহিতামূলক কিছু হলে তা ফেসবুক কর্তৃপক্ষকে জানানোর অনুরোধ  করেছে।’ তিনি বলেন, ‘ফেসবুক মানতে বাধ্য - তাও না। কিছু তারা করে আবার কিছু করেনা।’ জহুরুল হক বলেন, ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রচার হলে, নির্বাচন কেন্দ্রিক হলে ভোট চাওয়া বা না চাওয়া-এসব বিষয়ে বিটিআরসি কিছু করেনা।  তথ্যসূত্র: বিবিসি এমএইচ/

জুয়ায় হাজার কোটি খুইয়ে দেউলিয়ার পথে জিওনির মালিক   

সস্তায় বাজারে ছেড়ে ভারতে স্মার্ট ফোনের ভালই ব্যবসা করছিল জিওনি। চাহিদাও ছিল ঊর্ধ্বমুখী। কিন্তু কাল হল সংস্থার মালিকের জুয়ার নেশা। জুয়া খেলায় হাজার কোটি টাকা খুইয়ে ফেলার কারণে বন্ধ হয়ে যেতে পারে জিওনির ফোন উৎপাদন এবং বিক্রি। সম্প্রতি একটি ক্যাসিনোতে জিওনির চেয়ারম্যান লিউ লিরং জুয়ায় বিপুল অঙ্কের টাকা হেরে যাওয়ায় এই সম্ভবনা তৈরি হয়েছে। আটকে গিয়েছে বহু সংস্থার পাওনা। বাধ্য হয়ে চিনের আদালতে জিওনিকে দেউলিয়া ঘোষণার আর্জি জানিয়েছে অন্তত ২০টি পাওনাদার সংস্থা। কার্যত মহাভারতের যুধিষ্ঠিরের অবস্থা জিওনি কর্ণধার লিউ লিরংয়ের। চিনের সাইপানের একটি ক্যাসিনোতে জুয়ায় ১৪ কোটি ৪৪ লক্ষ মার্কিন ডলার হেরে কপর্দক শূন্য অবস্থা তাঁর। ভারতীয় মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় এক হাজার আট কোটি টাকা। আর এতেই সিঁদুরে মেঘ দেখছেন বাজার বিশেষজ্ঞরা। জিওনিকে দেউলিয়া ঘোষণা করতে পারে আদালত। বন্ধ হয়ে যেতে পারে সংস্থার স্মার্ট ফোন তৈরি ও বিক্রি। জুয়ায় হারের ফলে সংস্থার কাঁচামাল, প্রযুক্তি ও অন্যান্য সরবরাহকারীদের পাওনা বকেয়া পড়ে গিয়েছে। নতুন করে আর কোনও টাকা দেওয়া হচ্ছে না। তাই বাধ্য হয়ে ২০টি পাওনাদার সংস্থা চিনের শেনঝেন ইন্টারমিডিয়েট পিপল্‌স কোর্ট-এ সংস্থাকে দেউলিয়া ঘোষণার আর্জি জানিয়েছে। জুয়ায় হারের কথা স্বীকার করে নিয়েও লিরং জানিয়েছেন, সংস্থার টাকা তিনি ব্যবহার করেননি। আবার এ-ও বলেছেন, সংস্থার জন্য নতুন ‘ফান্ড’ জোগাড় করা যেতে পারে। ফলে জিওনির টাকা ব্যবহার করা নিয়ে লিরংয়ের দাবির সত্যতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অনেকেই মনে করছেন, পাওনাদার এবং গ্রাহকদের আশ্বস্ত করতেই এ কথা বলেছেন জিওনি কর্তা। চিনে বিক্রির পাশাপাশি জিওনি ভারতের বাজারে স্মার্ট ফোনের ব্যবসা শুরু করে ২০১৩ সালে। কয়েক বছরের মধ্যেই এ দেশে ভাল বাজার ধরে ফেলে। ২০১৭ সালের প্রথম ত্রৈমাসিকে ভারতে স্মার্ট ফোন বিক্রির নিরিখে জিওনির দখলে ছিল ৪.৬ শতাংশ মার্কেট শেয়ার, যা প্রথম সারির অন্যান্য ফোনগুলির বিক্রির তুলনায় ছিল উপরের দিকে।  ২০১৮ সালের গোড়ার দিক থেকে বাজার কিছুটা পড়তির দিকে হলেও আর্থিক দিক থেকে সমস্যায় পড়েনি। কিন্তু সেই সঙ্কটই ডেকে আনলেন সংস্থার কর্তা লিউ লিরং।  তথ্যসূত্র: আনন্দবাজার  এমএইচ/

চাঁদের কণা নিলামে, দাম আকাশছোঁয়া!

আট লাখ ৫৫ হাজার ডলার! তিন টুকরা চাঁদের কণার নিলামে দাম উঠল আকাশছোঁয়াই। ১৯৭০ সালে রাশিয়ার ‘লুনা ১৬’ অভিযানে পৃথিবীতে নিয়ে আসা হয়েছিল উপগ্রহের ওই তিনটি টুকরা। পরবর্তীকালে রুশ সরকার সেগুলো উপহার দেয় সোভিয়েত স্পেস প্রোগ্রামের প্রয়াত চিফ ডিজাইনার এবং ডিরেক্টর সের্গেই পাভলোভিচ কোরোলেভের স্ত্রী নিনা ইভানোভনা কোরোলেভাকে। ১৯৯৩ সালে সেগুলো নিলামে চার লাখ ৪২ হাজার ৫০০ ডলারে কিনেছিলেন কোনও এক অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি। গত বৃহস্পতিবার নিউ ইয়র্কে ফের সেই চাঁদের টুকরাগুলো নিলামে তুলল সদবি’জ। এবারে কিনেছেন এক মার্কিন সংগ্রাহক। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে এ ক্ষেত্রেও নাম গোপন রাখা হয়েছে। পৃথিবী থেকে লক্ষ মাইল দূরের বাসিন্দা চাঁদ। তার ভর লাখ কোটি টন। তবু পৃথিবীতে খুব সামান্যই ‘মুনরক’ বা চাঁদের টুকরা রয়েছে। ১৯৬৯ সাল থেকে ১৯৭২ সালের মধ্যে আমেরিকার ছ’বারের অ্যাপোলো অভিযানে মোট ৩৮২ কেজি চাঁদের মাটি নিয়ে আসা হয়েছিল। তৎকালীন সোভিয়েত তাদের তিনটি ‘লুনা ল্যান্ডারস’-এ নিয়ে এসেছিল ৩০১ গ্রাম। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, আমেরিকা ও রাশিয়ার আনা বেশির ভাগ নমুনাই গোপনে সরকারি হেফাজতে রয়েছে। সেগুলো বিক্রি করা বা কেনা যায় না। সদবি’জ জানিয়েছে, বাজারে মাঝেমধ্যে মুনরক কিনতে পাওয়া যায়। কিন্তু সেগুলো হয় চোরাই জিনিস, না হলে নকল। রুশ ‘লুনা ১৬’-র নমুনাই একমাত্র ব্যতিক্রম। তার পিছনে একটি ব্যতিক্রমী গল্পও রয়েছে। সেই অভিযানে কোনও মানুষ যায়নি। একটি রোবট পাঠানো হয়েছিল। সে-ই নিয়ে আসে চাঁদের কণাগুলো। একটি ছোট্ট কাচের বাক্সে তার আনা তিনটি টুকরাকে সাজিয়ে রাখা হয়েছে। নিচে পাঁচ বাই পাঁচ সেন্টিমিটার ধাতব প্লেটে খোদাই করে লেখা, ‘লুনা ১৬’-র আনা মুনরক। একটি ম্যাগনিফায়ার লাগানো, চাঁদের কণাগুলোকে বড় করে দেখার জন্য। এগুলোও সরকারি সম্পত্তি ছিল। পরে কোরোলেভের স্ত্রীকে দেওয়া হয়। সোভিয়েতের মহাকাশ গবেষণার স্তম্ভ ছিলেন কোরোলেভ। ১৯৬৬ সালে তিনি মারা যান। স্তালিনের অত্যাচারের হাত থেকে বেঁচে ফেরা কোরোলেভ পরে সোভিয়েতের মহাকাশ গবেষণার রূপকার হয়ে ওঠেন। তার হাত ধরেই সোভিয়েতের প্রথম রকেট উৎক্ষেপণ-যন্ত্র তৈরি, কৃত্রিম উপগ্রহ মহাকাশে পাঠানো, মহাকাশে প্রাণী পাঠানো, প্রথম মানুষ পাঠানো, প্রথম কোনও নারীকে পাঠানো। কিন্তু এই অনেকে ‘প্রথম’-এর কাণ্ডারিকে কৌশলগত কারণেই আড়ালে রেখেছিল সরকার। মৃত্যুর পরে তার স্ত্রীকে স্বীকৃতিস্বরূপ বা ক্ষতিপূরণ বাবদ ‘লুনা ১৬’-এর আনা ২০০ মিলিগ্রাম চাঁদের টুকরা উপহার দেওয়া হয়। সোভিয়েত পতনের পরে ১৯৯৩ সালে সেই মুনরক নিলামে ওঠে। এবার ফের সেগুলো নিলামে তুলল সদবি’জ। সূত্র: আনন্দবাজার একে//

মশা দিয়েই মশার বংশ ধ্বংস করবে গুগল

দিন দিন মশাবাহিত রোগের প্রকোপ বাড়ছে বিশ্বজুড়ে। এমন পরিস্থিতিতে মশার বংশ ধ্বংস করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে গুগলের মূল সংস্থা ‘অ্যালফাবেট’! এবার হাজারে হাজারে মশা ছেড়েই মশার বংশ ধ্বংস করবে সংস্থাটি! নির্মূল করবে ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়ার আশঙ্কা। মশাদেরই বানিয়ে দেওয়া হবে ‘ঘরের শত্রু বিভীষণ’! মশাদের নামানো হবে ‘যুদ্ধে’। মশাদের বিরুদ্ধেই। তবে যুদ্ধে যেমন সুন্দরী গুপ্তচরদের ফাঁদে ফেলে বিপক্ষের সেনাবাহিনীর গোপন খবরাখবর নেওয়া, তাদের রণকৌশল আগাম জেনে ফেলার চল রয়েছে, অনেকটা সে রকমই, চিকুনগুনিয়া ও ডেঙ্গুর বিষে ভরা ‘রাক্ষুসে’ স্ত্রী মশাদের টেনে আনা হবে গুগলের ‘পছন্দের’ পুরুষ মশাদের তাদের সামনে এগিয়ে দিয়ে। স্বাভাবিক মিলনের প্রলোভন দেখানো হবে। ‘রাক্ষুসে’ স্ত্রী মশাদের তো আর জানা নেই, যে পুরুষ মশাদের ভাল লেগেছে, যাদের সঙ্গে তাদের মিলন হয়েছে, সেই পুরুষ মশাদের শরীরে গুগলের বিজ্ঞানীরা ঢুকিয়ে দিয়েছেন ‘উলবাচিয়া’ প্রজাতির একটি ব্যাকটেরিয়া। যা স্ত্রী মশাদের বন্ধ্যা করে দেয়। ফলে মিলনের পরেও স্ত্রী মশারা আর ডিম পাড়তে পারবে না। তাই মশার বংশ আর বাড়বে না। মশার বংশ ধ্বংস হতে বেশি সময়ও লাগবে না। ফলে নির্মূল হবে কোনও এলাকায় ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়ার মতো ‘এডিস ইজিপ্টাই’ প্রজাতির মশাবাহিত ভয়ঙ্কর রোগের জন্ম ও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার যাবতীয় সম্ভাবনাও। মিলনের ফাঁদে ফেলে মশা দিয়ে মশা মারার এই অভিনব পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছেন গুগলের মূল সংস্থা ‘অ্যালফাবেট’-এরই আরেকটি ইউনিট ‘ভেরিলি লাইফ সায়েন্স’-এর জীববিজ্ঞানীরা। হালে তারা তাদের উদ্ভাবিত পদ্ধতির পরীক্ষা-নিরীক্ষাও চালিয়েছেন দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার ফ্রেসনো কাউন্টিতে। এভাবেই গোটা বিশ্বে মশাবাহিত রোগগুলো নির্মূল করা যাবে বলে বিজ্ঞানীদের আশা। সংস্থার মুখপাত্র ক্যাথলিন পার্কস বলেছেন, ‘একটি উঁচু মার্সিডিজ ভ্যান ছুটতে ছুটতে ফ্রেসনো কাউন্টির বিশাল একটি এলাকাজুড়ে একটি টিউব থেকে আশপাশের জঙ্গল ও লোকালয়ে ছড়িয়ে দেয় শরীরে বিশেষ এক ধরনের ব্যাকটেরিয়া (‘উলবাচিয়া’) পুরে দেওয়া প্রায় ৮০ হাজার পুরুষ মশা। যাদের টানে কাছে এসে গোটা এলাকার মেয়ে মশারা মিলনের পর পুরোপুরি বন্ধ্যা হয়ে গেছে।’ গবেষণাগারে নিয়ে গিয়ে ওই পুরুষ মশাগুলির শরীরে ‘উলবাচিয়া’ প্রজাতির ব্যাকটেরিয়া ঢুকিয়েছিলেন বিজ্ঞানীরা। এমনকি, বিশেষ ধরনের একটি টিউব থেকে বের করে তাদের বিষে ভরা মেয়ে মশাদের সঙ্গে ‘যুদ্ধে’ নামানোর আগে লেসার রশ্মি দিয়ে তাদের উপর নজরও রেখেছিলেন বিজ্ঞানীরা। প্রতিটি মশার উপর। তাদের দাবি, এই পদ্ধতিতেই সবচেয়ে সহজে আর সবচেয়ে কম খরচে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার বিষে ভরা মশাদের বংশ ধ্বংস করা যাবে। সূত্র: আনন্দবাজার একে//

© ২০১৮ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি