ঢাকা, শনিবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ১১:৪৪:০০

মানুষের স্মৃতি চুরি করতে পারবে হ্যাকাররা?

মানুষের স্মৃতি চুরি করতে পারবে হ্যাকাররা?

চিন্তা করুন যে, আপনি  ইন্সটাগ্রামের ফিডের মতো আপনার স্মৃতিগুলো স্ক্রল করে দেখছেন। বিশদভাবে দেখছেন জীবনের পছন্দের মুহূর্তগুলো কিংবা ফিরিয়ে আনছেন প্রিয় মানুষদের স্মৃতি। এবার কল্পনা করুন এমন এক অরাজক ভবিষ্যতের যেখানে হ্যাকাররা আপনার সেইসব স্মৃতি হাইজ্যাক করে নিয়েছে এবং অর্থ না দিলে তা মুছে ফেলার হুমকি দিচ্ছে। মনে হতে পারে এটি কষ্টকল্পিত কাহিনি, কিন্তু এমন পরিস্থিতি আপনার কল্পনার চেয়েও দ্রুত ঘটে যেতে পারে। নিউরো টেকনোলজির ক্ষেত্রে অগ্রগতি আমাদের সেই সুযোগের কাছাকাছি এরই মধ্যে নিয়ে গেছে, যার মাধ্যমে আমরা আমাদের স্মৃতিশক্তি বা মেমোরি বাড়াতে পারি। আর হয়তো কয়েক দশকের মধ্যেই আমরা স্মৃতিকে নিজের মতো করে সাজাতে বা ব্যাখ্যা করতে অথবা পুনরায় লেখার মতো অবস্থায় যেতে পারবো। মস্তিষ্ক পুন:স্থাপনের জন্যে এই প্রযুক্তির জোরালো ব্যবহার মস্তিষ্কের শল্য চিকিৎসকদের জন্যে হয়তো সাধারণ বিষয় হয়ে দাঁড়াবে। বিশ্বজুড়ে প্রায় দেড়লাখ মানুষের ক্ষেত্রে ডিপ ব্রেন স্টিমুলেশন (ডিবিএস) ব্যবহার করা হয়ে থাকে কিছু সমস্যার মোকাবিলার জন্যে। তার মধ্যে পারকিনসন্স থেকে শুরু করে অবসেসিভ কমপালসিভ ডিসওর্ডার (ওসিডি) রয়েছে। নিরাময়ের এমন পদ্ধতি ডায়াবেটিস বা স্থুলতা নিয়ন্ত্রণেও ব্যবহার করা হতে পারে। বিষন্নতা, স্মৃতিভ্রংশ বা টুরেট সিনড্রোমের মতো বিভিন্ন মানসিক ব্যাধির নিরাময়ের জন্যে এমন নানা প্রযুক্তির পরীক্ষা নিরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। আর এসব পদ্ধতিগুলো রয়েছে এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে, গবেষকরা অনুসন্ধান করে বের করার চেষ্টা করছেন যে আঘাত বা পীড়নের ফলে যদি স্মৃতিলোপ পায় তবে তা কীভাবে পুনরুদ্ধার করা যায়। ইউএস ডিফেন্স অ্যাডভান্স রিসার্চ প্রজেক্টস এজেন্সি-র (ডিএআরপিএ) একটি প্রোগ্রাম রয়েছে যেখানে সেনাদের আঘাতের ফলে ব্রেন ইনজুরি হলে স্মৃতি ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হয়। মেন্টাল সুপারপাওয়ার অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্জিক্যাল সায়েন্সের নাফিল্ড বিভাগের গবেষক লরি পাইক্রফট ভবিষ্যতের কিছু সময়সীমা উল্লেখ করেছেন। তিনি বলছেন, ‘আগামী দশ বছরের মধ্যে যদি বাণিজ্যিকভাবে স্মৃতি পুন:স্থাপনের মতো বিষয় ঘটে তবে আমি মোটেও অবাক হব না।’ তার হিসেবে, আগামী ২০ বছরের মধ্যে প্রযুক্তি হয়তো এমন সুবিধা এনে দেবে যাতে করে মস্তিষ্কের সেই সব সংকেত ধারন করা যাবে যা স্মৃতি বা মেমোরি তৈরি করে। আর এই শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে এসে স্মৃতিকে নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতাও চলে আসবে বলে মনে করেন পাইক্রফট। ব্রেইনজ্যাকিং কিন্তু এই নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি যদি ভুল হাতে পড়ে তবে তার ফলাফল খুবই খারাপ হতে পারে বলে মনে করেন লরি পাইক্রফট। কল্পনা করুন যে, একজন হ্যাকার একজন পার্কিনসন্স রোগীর নিউরোস্টিমুলেটর-এর সূত্র জেনে ফেলেছেন এবং সেটি নিজের মতো করে সাজিয়ে ফেলেছেন। তখন সেই রোগীর চিন্তাশক্তিকে এবং আচরণকে সে প্রভাবিত করতে পারবে কিংবা তাকে পঙ্গুও করে ফেলতে পারবে। একজন হ্যাকার চাইলে ডার্ক ওয়েব-এর মাধ্যমে অর্থ দাবি করে বসতে পারে, আর যদি তা না পায় তবে সব স্মৃতি মুছে ফেলা বা নতুন করে স্মৃতি তৈরির হুমকিও দিতে পারে। ২০১২ সালে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় এবং ক্যালিফোর্নিয়ার বার্কলে বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক হেডসেট ব্যবহার করা হয় এমন একটি জনপ্রিয় গেমিং থেকে মানুষের ব্রেনওয়েভ পর্যবেক্ষণ করে ব্যাংক কার্ডের পিন নম্বরের মতো তথ্য বের করে ফেলেছিলেন। আপনার অতীতকে নিয়ন্ত্রণ ব্রেনজ্যাকিং এবং স্মৃতি পরিবর্তন নিরাপত্তার জন্যে বিভিন্ন ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে, বলছিলেন সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা কোম্পানি ক্যাস্পারস্কির একজন গবেষক দিমিত্রি গ্যালভ। ভবিষ্যতের প্রযুক্তিগত ঝুঁকি কী কী হতে পারে তা নিয়ে ক্যাস্পারস্কি এবং অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় যৌথ ভাবে কাজ করেছিল। ‘স্মৃতি বাজার: ভবিষ্যতে যেখানে সাইবার নিরাপত্তার ঝুঁকি আপনার অতীতকে নিয়ন্ত্রণ করবে’` এটি ছিল সেই যৌথ কাজের রিপোর্টের শিরোনাম। যেখানে বলা হয়েছে যে, এটি মোটেও অবাক হবার মতো বিষয় হবে না যে- ভবিষ্যতের কোনো এক নায়ক তার ইতিহাস আবার লেখার চেষ্টা করতে পারে দেশটির জনগণের স্মৃতিতে হস্তক্ষেপ ক`রে। অনুনমোদিত প্রবেশাধিকার ইন্টারনেটে সংযুক্ত এমন মেডিকেল ডিভাইসকে হ্যাক করা মোটেও গল্পে উল্লেখিত বিষয় নয়। ২০১৭ সালের ঘটনা, যুক্তরাষ্ট্রের কর্তৃপক্ষ সাইবার নিরাপত্তার গোপনীয়তা জনিত ঝুঁকি বিবেচনা করে ৪ লাখ ৬৫ হাজার পেসমেকার পুনরায় ফিরিয়ে আনে। দেশটির ফুড এন্ড ড্রাগ এডমিনিস্ট্রেশন (এফডিএ) জানায়, অসাধু ব্যক্তিরা চাইলে ডিভাইস নিয়ন্ত্রণ করে হৃদযন্ত্রের গতি পরিবর্তন বা পেসমেকারের ব্যাটারি নিয়ন্ত্রণ করে মৃত্যু ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলতে পারতো। যদিও কোনো ধরনের দুর্ঘটনা ঘটেনি সেবার, তবু এফডিএ বলছে যে, মেডিকেল ডিভাইসগুলো ক্রমাগত ইন্টারনেটের মাধ্যমে সংযুক্ত হয়ে পড়ছে হাসপাতালের তথ্যভান্ডার বা অন্য মেডিকেল ডিভাইস বা স্মার্টফোনের সাথে। আর এরইসাথে বাড়ছে সাইবার অপরাধ জনিত ঝুঁকি। অনেক চিকিৎসাক্ষেত্রের জন্যেই এই সমস্যা রয়েছে এবং ক্যাস্পারস্কি মনে করেন যে, ভবিষ্যতে আরো অনেক ডিভাইসই এমনভাবে সংযুক্ত হবে এবং দূরবর্তী যন্ত্রের সাথে সেগুলো নিয়ন্ত্রণও করা যাবে। খুব জরুরি অবস্থাতেই কেবল ডাক্তারকে ডাকা হবে। সাইবার প্রতিরক্ষা সৌভাগ্যক্রমে সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে সচেতনতা তৈরি হওয়ায় মেডিকেল ডিভাইসগুলির নকশা এবং পরিকল্পনা এমনভাবে করা হচ্ছে যাতে করে তা ঝুঁকির পরিমাণ কমাতে পারে। তবে গ্যালভের মতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো রোগী এবং চিকিৎসা সংশ্লিষ্টদের এমনভাবে প্রশিক্ষিত করে তোলা উচিৎ যাতে করে তারা সতর্কতা অবলম্বন করতে পারে। যেমন হতে পারে শক্তিশালী পাসওয়ার্ড নির্ধারন। তবে বাস্তব সমস্যা হলো একজন চিকিৎসককে সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ক বিশেষজ্ঞ হতে বলাও সম্ভব নয়। পাইক্রফটের মতে ভবিষ্যতে মস্তিষ্ক পুন:স্থাপনের ক্ষেত্র আরো জটিল এবং ঝুঁকির পরিধি আরো বিস্তৃত হতে পারে। যদি না এখন থেকেই সতর্কতা অবলম্বন করা হয়। প্রথম প্রজন্মের প্রতিস্থাপনের সমাধানগুলি বিকশিত না হলে দ্বিতীয় ও তৃতীয় প্রজন্মের প্রতিস্থাপনগুলো অনিরাপদ থেকে যাবে এবং আক্রমণকারীরা সেই সুবিধা নেবে বলে গবেষক পাইক্রাফটের মত। তথ্যসূত্র: বিবিসি এমএইচ/  
মঙ্গলে ‘মৃত্যু’ হয়েছে অপরচুনিটির

আমাদের ডাকে আর সাড়া দেবে না ‘মিস অপরচুনিটি’। ‘লাল গ্রহ’ মঙ্গল থেকে আর বার্তাও পাঠাবে না আমাদের জন্য। গত জুন থেকে চলতি বছরের ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রায় ১ হাজারটি সিগন্যাল পাঠানো হয়েছে রোভার অপরচুনিটিকে। বলা হয়েছে, ‘ওপি (অপরচুনিটির ডাক নাম) জেগে ওঠো। হাই, হ্যালো বলো। সাড়া দাও, প্লিজ।’ জাগিয়ে তোলার জন্য শেষ বারের মতো তাকে বার্তা (সিগন্যাল বা কম্যান্ড) পাঠিয়েছিল নাসা। ‘হাই ওপি, হাই... হ্যালো’। কিন্তু না, আর ঘুম থেকে জেগে উঠল না অপরচুনিটি। তার সঙ্গে ‘কথা বলা’র আর সুযোগই দিল না আমাদের। ফলে গত বুধবার রাতে ওয়াশিংটনে সদর দফতরে এক সাংবাদিক সম্মেলনে নাসা জানিয়ে দিল, অপরচুনিটি আর নেই। প্রায় ১৫ বছর ধরে মঙ্গল আর পৃথিবীর মধ্যে যোগাযোগের অন্যতম সেতু হিসেবে কাজ করার পর অপরচুনিটি চলে গেছে শেষ ঘুমে। সর্বনাশা ঝড়ই কাড়ল অপরচুনিটিকে! গত বছরের জুনের গোড়ার দিকে পাসাডেনায় নাসার জেট প্রোপালসান ল্যাবরেটরি (জেপিএল)-র সঙ্গে শেষ বারের মতো বাতচিত হয়েছিল অপরচুনিটির। তার পর সেই ভয়ঙ্কর ঝড় উঠল মঙ্গলের এক প্রান্তে। আর তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ল গোটা মঙ্গলে। অপরচুনিটি ছিল তখন মঙ্গলের প্রেজারভেন্স ভ্যালিতে। সেই ‘প্রাণঘাতী’ ঝড় আর তার সঙ্গে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়া ধুলাবালিতেই ‘অন্ধ’ হয়ে যায় রোভার অপরচুনিটির ক্যামেরা, সিগন্যাল রিসিভার ও সেন্ডার যন্ত্রগুলো। কত পথ হাঁটাহাঁটি মঙ্গলের বুকে... ২০০৩ সালে ফ্লোরিডার কেপ ক্যানাভেরাল এয়ারফোর্স স্টেশন থেকে রওনা হয় অপরচুনিটি। মঙ্গলে পা ছোঁয়াবে বলে। সাত মাস পর ২০০৪-এর ২৪ জানুয়ারি মঙ্গলে নামে অপরচুনিটি। লাল গ্রহের ‘মেরিডিয়ানি প্লেনাম’ এলাকায়। তার ‘যমজ বোন’ রোভার ‘স্পিরিট’ মঙ্গলে পা ছুঁইয়েছিল ঠিক তার ২০ দিন আগে। স্পিরিট অবশ্য নেমেছিল মঙ্গলের আর এক প্রান্তে। ১০৩ মাইল (১৬৬ কিলোমিটার) চওড়া ‘গুসেভ ক্রেটার’ এলাকায়। স্পিরিট অবশ্য খুব বেশি দিন বাঁচেনি। মঙ্গলের বুকে স্পিরিট ঢুঁড়ে বেরিয়েছিল ৫ মাইল (৮ কিলোমিটার) এলাকা। ২০১১-য় শেষ হয়ে যায় স্পিরিটের মিশন। নাসার বিজ্ঞানীরা ভেবেছিলেন, রুখুসুখু লাল গ্রহে বড়জোর ৯০টি দিন (মঙ্গলের দিন) টিঁকতে পারবে অপরচুনিটি। সেই সব হিসেব ওলটপালট করে দিয়ে মঙ্গলে ৫ হাজার দিন (মঙ্গলের দিন) সক্রিয় থেকেছে অপরচুনিটি। এখনও পর্যন্ত মঙ্গলের বুকে আর কোনও রোভারের এত বেশি দিন ধরে সক্রিয় থাকার রেকর্ড নেই। সেই নজির গড়েছে অপরচুনিটি। পাহাড়চুড়া থেকে গভীর নদীখাতে আর শুধুই বেঁচেবর্তে থাকা নয়। কাজও করেছে বিস্তর ৩৮৪ পাউন্ড (১৭৪ কিলোগ্রাম) ওজনের এই রোভার। কখনও অপরচুনিটি এগিয়েছে বিশাল বিশাল পাথর, দৈত্যাকার পাথরের বোল্ডার বা চাঙড়ের উপর দিয়ে, কখনওবা বড় বড় নুড়ি-পাথর বিছোনো ঢালু পথ ধরে পাহাড়ে উঠেছে, নেমেছে। এক পাহাড় থেকে গেছে অন্য পাহাড়ে। চড়েছে অধুনা মৃত বিশাল বিশাল আগ্নেয়গিরির জ্বালামুখে। চড়েছে পর্বতচুড়ায়। আবার তরতরিয়ে নেমে গেছে শুকিয়ে যাওয়া নদীর গভীর খাদে। ঝুলিতে যে রেকর্ডগুলো রয়েছে অপরচুনিটির ২০০৪-এর জানুয়ারি থেকে ২০১৮-র জুন, এই ১৪ বছরেরও বেশি সময় ধরে মঙ্গলের বুকে কী কী কাজ করেছে অপরচুনিটি? ১) এক দিনে মঙ্গলের বুকে সবচেয়ে বেশি পথ হেঁটেছিল এই রোভারই। ৭২১ ফুট বা ২২০ মিটার। ২০০৫-এর ২০ মার্চ। এই রেকর্ড নেই আর কোনও রোভারের। না, আর এক রোভার ‘মিস কিউরিওসিটি’রও নেই। ২) মঙ্গলে পথ হেঁটেছে ১ হাজার ১০০ গজ বা ১ হাজার মিটার। যা একটি রেকর্ড। ৩) জেপিএল-এ নাসার গ্রাউন্ড স্টেশনে পাঠিয়েছে ২ লাখ ১৭ হাজারেরও বেশি ছবি। এটিও রেকর্ড। ৪) ৫২টি দৈত্যাকার শিলাখণ্ডের হদিস দিয়েছে। যেগুলো ভরে রয়েছে বিভিন্ন রকমের খনিজ পদার্থে। ব্রাশ দিয়ে আরও ৭২টি শিলাখণ্ডকে ঝেড়ে-পুঁছে পরিষ্কার করেছে। যাতে ওই শিলাখণ্ডগুলোও খনিজ পদার্থ ভরা কি না, তা স্পেকট্রোমিটার ও মাইক্রোস্কোপিক ইমেজার যন্ত্র দিয়ে পরীক্ষা করা যায়। এটাও রেকর্ড। ৫) মঙ্গলের বুকে যেখানে প্রথম পা ছুঁইয়েছিল অপরচুনিটি, সেখানেই সে প্রথম হদিস দিয়েছিল খনিজ পদার্থ হেমাটাইটের। পানিতে যে খনিজের জন্ম হয়। অভূতপূর্ব আবিষ্কার। ৬) ‘এনডেভার ক্রেটার’ এলাকা আবিষ্কার করেছিল অপরচুনিটি রোভার। এমনকি, এমন ইঙ্গিতও দিয়েছে, ওই এলাকায় এখনও কোনও কোনও বিশাল হ্রদে পানি রয়েছে তরল অবস্থায়। সূত্র: আনন্দবাজার একে//

সমুদ্রের নিচে কার্বন-ডাই-অক্সাইডের গুদাম!

বৈশ্বিক উষ্ণায়নের মোকাবিলায় কার্বন নির্গমন কমানোর নানা উদ্যোগ চলছে৷ সমুদ্রের তলদেশেও কার্বন-ডাই-অক্সাইড মজুত রাখার সম্ভাবনার কথা ভাবছেন বিজ্ঞানীরা৷ এবার তার নানা ঝুঁকি নিয়ে পরীক্ষানিরীক্ষা চলছে৷ সমুদ্রের তলদেশের গভীরে কার্বন-ডাই-অক্সাইডের মতো গ্রিনহাউস গ্যাস মজুত করা কতটা বিপজ্জনক হতে পারে? ইউরোপীয় গবেষকরা সেই প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেষ্টা করছেন৷ ইতালির এয়োলিয়ান দ্বীপপুঞ্জের উপকূলের কাছে তারা ‘কার্বন ক্যাপচার অ্যান্ড স্টোরেজ’ বা সিসিএস-এর সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছেন৷ বৈশ্বিক উষ্ণায়নের জন্য দায়ী গ্রিনহাউস গ্যাসের পরিমাণ কমানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখাই এই প্রয়াসের লক্ষ্য৷ সামুদ্রিক ভূতত্ত্ববিজ্ঞানী ক্লাউস ভালমান বলেন, ‘বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র ও অন্যান্য উৎস থেকে বায়ুমণ্ডলে কার্বন-ডাই-অক্সাইডের নির্গমন প্রতিরোধ করাই এর লক্ষ্য৷ কারণ এর ফলে জলবায়ু পরিবর্তন তরান্বিত হয়৷ তাই সেটি আলাদা করে মাটির নিচে মজুত করতে হবে৷ মাটির নিচে অথবা সমুদ্রের তলদেশে তা রাখা যেতে পারে৷ ইউরোপের ক্ষেত্রে এমন অফশোর স্টোরেজ বেশি উপযুক্ত৷ সমুদ্রের তলদেশে মজুত করা কার্বন-ডাই-অক্সাইড লিক করে সমুদ্রে প্রবেশ করলে ঠিক কী ঘটে, এয়োলিয়ান দ্বীপপুঞ্জের কাছে কর্মরত বিজ্ঞানীরা তা জানতে চাইছেন৷ অগ্নুৎপাতের ফলে সৃষ্ট এই দ্বীপমালার নিচে বিশাল পরিমাণ কার্বন-ডাই-অক্সাইড জমা রয়েছে৷ ফলে গবেষণার জন্য এই জায়গাটিকে আদর্শ বলা চলে৷ সমুদ্রবিজ্ঞানী সিনসিয়া দে ভিটর বলেন, এখানকার জীবজগৎ দীর্ঘকাল ধরে এই পরিবেশের সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নিয়েছে৷ এখানে কার্বন-ডাই-অক্সাইড প্রাকৃতিক কারণে বেরিয়ে পড়ে৷ ফলে অন্যান্য এলাকার তুলনায় এখানে পিএইচ-এর মাত্রা কম৷ বুদবুদ শিকার এই গবেষণার গুরুত্বপূর্ণ অংশ৷ গবেষকদের সমুদ্রের তলদেশ থেকে নির্গত বুদবুদের অবিরাম স্রোতের আচরণ পর্যবেক্ষণ করতে হবে৷ দক্ষ ডুবুরি হওয়ার পাশাপাশি তাদের এই কাজের জন্য বিশেষ সরঞ্জামও তৈরি করতে হয়েছে৷ সমুদ্রবিজ্ঞানী লিসা ফিলস্টেটে বলেন, বুদবুদের আকার মাপতে আমরা এক বাবলবক্স তৈরি করেছি৷ আমরা পেছন থেকে আলো ফেলে বুদবুদ উজ্জ্বল করে তুলি৷ এর মাধ্যমে পরে কম্পিউটারে মাপজোক করতে সুবিধা হয়৷ আমাদের নিউমারিক মডেলগুলোর জন্য এই কাজ গুরুত্বপূর্ণ৷ কার্বন-ডাই-অক্সাইড দৃশ্যমান করে তোলার আরেকটি উপায় হলো সামুদ্রিক পরিবেশে পিএইচ-এর মাত্রা পর্যবেক্ষণ করা৷ তার নির্গমন পর্যবেক্ষণ করতে পারলে গবেষকরা এমন এক মডেল তৈরি করতে পারবেন, যার সাহায্যে গ্যাসের নির্গমন ও তা ছড়িয়ে পড়ার হারের পূর্বাভাষ দেওয়া যাবে৷ মেকানিকাল ইঞ্জিনিয়ার মারিউস ডেওয়ার বলেন, দ্রবীভূত সিওটু পিএইচ-এর মধ্যে পরিবর্তন আনে৷ বিভিন্ন ঋতুতে সেই পরিবর্তন ও সেটি শনাক্ত করার সেরা জায়গাগুলোর দিকে লক্ষ্য রাখছি৷ উত্তর সাগরের তলদেশে তেল উত্তোলনের পর সেখানে বহু বছর ধরে কার্বন-ডাই-অক্সাইড মজুত করা হয়েছে৷ নতুন প্রযুক্তির মাধ্যমে লিকের ঝুঁকি ও তার সম্ভাব্য প্রভাব আগেভাগেই নির্ণয় করা সম্ভব৷ জীববিজ্ঞানী পেটার লিংকে বলেন, আমরা যন্ত্র থেকে সীমিত মাত্রার সিওটু লিক হতে দিয়েছি৷ তারপর আমাদের সেন্সরের মাধ্যমে পানির মধ্যে তার প্রভাব খতিয়ে দেখেছি৷ পূর্বাভাসের লক্ষ্যে আমাদের মডেলের মধ্যে এই তথ্য বিবেচনা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ৷ জার্মানির কিল শহরে এক গবেষণাগারে উত্তর সাগরের পরিবেশ কৃত্রিমভাবে সৃষ্টি করা হয়েছে৷ ছোট ও বড় মাত্রার লিকের পূর্বাভাস করতে এক ডিজিটাল মডেল সৃষ্টি করাই এই উদ্যোগের লক্ষ্য৷ ভূ-রসায়নবিজ্ঞানী মাটিয়াস হেকেল বলেন, সিওটু উঠে আসার সময় যে প্রতিক্রিয়া ঘটে, আমরা তা পরীক্ষা করছি৷ পরের ধাপে বুদবুদের মাপ, তলদেশ ভেদ করে গ্যাসের প্রবাহ পরীক্ষা করবো৷ তারপর গোটা প্রক্রিয়ার বৃহত্তর সার্বিক রূপও জানতে হবে৷ কয়েক হাজার-লাখ লিটারের মাত্রায় সেই উপলব্ধির প্রয়োজন রয়েছে৷ এই সব পরীক্ষা থেকে তথ্য সংগ্রহ করে গণিতের ফর্মুলা সৃষ্টি করতে হয়৷ এই গবেষণা শেষ হতে আরও সময় লাগবে৷ তবে বিজ্ঞানীদের বিশ্বাস, তার ফলাফল মানুষের কাজে লাগবে৷ সূত্র: ডয়চে ভেলে একে//

আরও ১২৭৯টি পর্নো সাইট বন্ধের নির্দেশ

আরও ১ হাজার ২৭৯টি পর্নো সাইট বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে টেলি যোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি। বৃহস্পতিবার সকালে দেশের সবগুলো আইআইজি-কে (ইন্টারন্যাশনাল ইন্টারনেট গেটওয়ে) এই নির্দেশনা পাঠিয়েছে বিটিআরসি। নির্দেশনা পেয়ে এরই মধ্যে আইআইজিগুলো তা কার্যকর করতে শুরু করেছে বলেও জানা গেছে। দেশে ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠন আইএসপিএবির সাধারণ সম্পাদক ইমদাদুল হক বলেন, পর্নো সাইট বন্ধের মাধ্যমে সরকার ইন্টারনেট ব্যবস্থাকে নিরাপদ রাখার যে উদ্যোগ নিয়েছে তাকে আমরা স্বাগত জানাই। এভাবে চলতে থাকলে ইন্টারনেট সেবা নিরাপদ রাখা সম্ভব হবে। প্রসঙ্গত, এর আগে চার দফায় বিটিআরসি প্রায় তিন হাজার পর্নো সাইট (ডোমেইন ও লিংক) আইআইজির সহায়তায় বন্ধ করার নির্দেশ দেয়। একে//

পৃথিবীর ধ্বংস কি আসন্ন?

রহস্যময় বিস্ফোরণ। পৃথিবীর আবহমণ্ডলে ঘটে যাওয়া বিস্ফোরণ দেখে চিন্তার ভাঁজ গবেষকদের কপালে। রাশিয়ান উপগ্রহ লোমোনোসভের ভিতরে রাখা অতিবেগুনি টেলিস্কোপ পাঠিয়েছে চমকে দেওয়া ছবি। এক-দু’টি নয়, বেশ কয়েকটি বিস্ফোরণের ছবি নজরে এসেছে। রাশিয়ান স্টেট ইউনিভার্সিটির অন্তর্গত ইনস্টিটিউট অফ নিউক্লিয়ার ফিজিক্স-এর অধিকর্তা মিখাইল পানাস্যুক বিষয়টি সবার গোচরে এনেছেন। তিনি জানান, ওই বিস্ফোরণটি ঠিক কেমন ধরনের তা এখনও ধরতে পারেননি তারা। অতিবেগুনি টেলিস্কোপে ধরা পড়া বিস্ফোরণের চরিত্র অত্যন্ত শক্তিশালী। অথচ আকাশে কোনও মেঘের চিহ্ন ছিল না। এমনকি, ঝড়ও ওঠেনি। তা সত্ত্বেও কী করে ওই বিস্ফোরণগুলো হলো, তা ভেবে পাচ্ছেন না গবেষকরা। ২০১৬ সালে পৃথিবীর কক্ষপথে স্থাপন করা হয়েছিল রাশিয়ার উপগ্রহটিকে। ওই উপগ্রহটিকে স্থাপনের পিছনে উদ্দেশ্য ছিল উচ্চ আবহাওয়া মণ্ডলের দিকে নজর রাখা। ওই বিস্ফোরণের কারণ ও প্রকৃতি নিয়ে এখনও কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেননি গবেষকরা। কিন্তু কন্সপিরেসি থিয়োরিস্ট, অর্থাৎ যারা সব কিছুতেই ভিনগ্রহী প্রাণীদের অস্তিত্ব খুঁজে পান, তারা এই বিস্ফোরণেও সেটাই দাবি করেছেন। তাদের মতে, অন্য গ্রহের প্রাণীরা পৃথিবী আক্রমণ করতে চায়। তার আগে তারা নিজেদের অস্ত্রের বিস্ফোরণ ঘটিয়ে শক্তি পরীক্ষা করে নিচ্ছে। আবার, কেউ বা মনে করছে, এ সবই প্রলয়ের আগের অবস্থা। এর অর্থ শিগগিরি পৃথিবী ধ্বংস হবে। ক’দিন আগে ‘সুপার ব্লাড মুন’ দেখা গিয়েছিল। আর এবার এই রহস্যময় বিস্ফোরণ। এই সবকে তারা পৃথিবী ধ্বংসের চিহ্ন হিসেবেই দেখছেন। সূত্র: এবেলা একে//

‘#কমনসেন্স’র উদ্বোধন করলো রবি কর্মসূচি

ডিজিটাল জীবনধারা বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে সৃষ্টি হওয়া নানা সামাজিক সমস্যার বিরূদ্ধে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে #কমনসেন্স নামে একটি কর্মসূচি হাতে নিয়েছে মোবাইল ফোন অপারেটর রবি। ডিজিটাল সেবা গ্রহণের সময় কোন কোন বিষয়ে সচেতন থাকা উচিৎ সে বিষয়গুলো তুলে ধরাই এ ক্যাম্পেইনের লক্ষ্য। আজ রাজধানীর একটি সম্মেলন কেন্দ্রে প্রধান অতিথি হিসেবে কর্মসূচিটির উদ্বোধন করেন বাংলা সাহিত্যের শিক্ষক, ভাষা আন্দোলনের কর্মী, মুক্তিযোদ্ধা ও জাতীয় অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান। এসময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান এবং জনপ্রিয় অভিনেতা ও নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের নেতা ইলিয়াস কাঞ্চন। অনুষ্ঠানে রবি’র ম্যানেজিং ডিরেক্টর অ্যান্ড সিইও মাহতাব উদ্দিন আহমেদ, হেড অব কর্পোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স সাহেদ আলম, মিডিয়া, কমিউনিকেশন অ্যান্ড সাস্টেইনেবিলিটি’র ভাইস প্রেসিডেন্ট ইকরাম কবীর উপস্থিত ছিলেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনটি সচেতনতামূলক ভিডিও প্রকাশ করা হয়। এই ভিডিওগুলো বাস্তব জীবনের আবহ দিয়ে সাজানো। ভিডিওগুলোতে সত্যতা যাচাই না করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কনটেন্ট শেয়ার করা, শিশুদের মোবাইল ফোন ব্যবহারের সময় খেয়াল না রাখা এবং গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার করার মতো ভুলগুলো তুলে ধরা হয়েছে। আগামী দিনগুলিতে এ ভিডিওগুলি বিভিন্ন জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া প্লাটফর্মে প্রচার করা হবে। অনলাইন সচেতনতামূলক ভিডিওর পাশাপাশি আচরণগত নানা দিক নিয়ে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে রবি’র; যেমন: রাস্তা পার হওয়ার সময় মোবাইল ফোনে কথা না বলা, একসঙ্গে কয়েকজন কথা বলার সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার না করা, জনসমাগমস্থলে জোরে জোরে মোবাইলে কথা না বলা, মসজিদে যেন হঠাৎ মোবাইল ফোন বেজে না ওঠে সেদিকে খেয়াল রাখা, অনুমতি ছাড়া কারো ছবি না তোলা এবং অনলাইন প্রতারকদের হাত থেকে রক্ষা পেতে সচেতনতা বৃদ্ধি করা। অনলাইন ভিডিও ও অ্যাক্টিভেশন এবং স্যোশাল মিডিয়া পোস্টগুলো সামাজিক সচেতনতা তৈরি করবে। এতে ডিজিটাল সেবা উপভোগের সময় কী ধরণের আচরণ করা উচিৎ বা কোন ভুল করছেন কিনা সে সম্পর্কে একজন ব্যক্তি সচেতন থাকতে পারবেন। এসএমএস ব্যবহারের ক্ষেত্রেও এ সচেতনতা কাজে লাগবে। পরবর্তীতে ডিজিটাল জীবনধারা সম্পর্কিত আরো বিভিন্ন বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টির জন্য কাজ করবে #কমনসেন্স। এসএইচ/

থ্রি ডি প্রিন্টার দিয়ে ব্রিজ বানিয়ে ফেলল চীন!

থ্রি ডি প্রিন্টিং প্রযুক্তির সাহায্যে খেলনা, জুতোর মতো ছোটখাটো জিনিস তৈরি করে ফেলা যায়। এ বার একটা বড়সড় ব্রিজ বানিয়ে চমকে দিল চীন। ৮৬ ফুট দৈর্ঘ্যের এই ফুটব্রিজটি সাংহাইয়ের বাওশান জেলায় অবস্থিত। এটাই বিশ্বের দীর্ঘতম থ্রি ডি প্রিন্টিং ফুটব্রিজ। ব্রিজটার নকশা বানিয়েছেন জয়না বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিজিটাল আর্কিটেকচার বিভাগ আর ব্রিজটা নির্মাণ করেছে সাংহাই উইসডম বে ইনভেস্টমেন্ট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি। ব্রিজটা তৈরি করতে লেগেছে ১৭৬ কংক্রিট ইউনিট। ব্রিজের অংশগুলো প্রথমে বানানো হয়েছিল দুটো বিশালাকার থ্রি ডি প্রিন্টিং মেশিন দিয়ে। চিনের সবচেয়ে পুরনো ব্রিজ আঞ্জি। ১৪০০ বছরের পুরনো ব্রিজ এটি। এই ব্রিজের আদলেই বানানো হয়েছে থ্রি ডি প্রিন্টিং ব্রিজটি। শুধুমাত্র ব্রিজের অংশগুলো বানাতে সময় লেগেছিল টানা ১৯ দিন। এই ভাবে থ্রি ডি প্রিন্টিং প্রযুক্তির সাহায্যে ব্রিজ তৈরিতে খরচ অনেকটাই কম বলে জানিয়েছেন জয়না বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রযুক্তিবিদরা। তবে এটাই বিশ্বের একমাত্র থ্রি ডি প্রিন্টিং ব্রিজ নয়। এর আগে আমস্টারডামে থ্রি ডি প্রযুক্তির সাহায্যে একটি স্টিলের ব্রিজ নির্মাণ করা হয়েছিল। যে যন্ত্রটা দিয়ে এই ব্রিজটা বানানো হয়েছিল, সেটার ওজন ৫ হাজার ৮০০ কেজি। মেশিনটা কিনতে খরচ পড়েছিল ২৮ লক্ষ ডলার। তথ্যসূত্র: আনন্দবাজার এমএইচ/

অনলাইনের ৫ বিপদ, যা আপনি ভাবতেও পারবেন না

আধুনিক তথ্য প্রযুক্তির যুগে কোটি কোটি মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করছে প্রতিনিয়ত৷ ইন্টারনেটের প্রতি আসক্তিও বাড়ছে অধিক হারে। সঙ্গে বাড়ছে বোকামিগুলো৷ অনলাইনে আমাদের একটু বিচক্ষণ হতে হবে বিষয়গুলোর প্রতি নজর দিতে৷ ফোনে লক নেই? ধরুন ফোনে লক দিতে ভুলে গেছেন, বা নিজেই পছন্দ করেন না লক সিস্টেম৷ তাই যেখানে সেখানে ফোন ফেলে আসাটা আপনার জন্য মারাত্মক বিপদ ডেকে আনবে৷ কারণ যেহেতু স্মার্ট ফোনে আপনার ফেসবুক, জিমেইল, কোথাও কোথাও ব্যাংক ডিটেইলও সেভ করা থাকে সেখানে আরেকজনের পক্ষে কপি করা বিষয়ই নয়৷ নিজের ব্যক্তিগত ছবিগুলোর নিরাপত্তা স্বার্থে হলেও ফোন লক করুন৷ ফ্রি ওয়াফাইয়ে বিপদ ফ্রি ওয়াইফাই দেখে ঝাঁপিয়ে পড়লেই বিপদ৷ যদিও ফ্রি ওয়াইফাইয়ের প্রলোভন উপেক্ষা করা কঠিন, তবু বিপদ বুঝে ব্যবহার করতে হবে৷ যেহেতু আপনার মোবাইলের ডাটা অ্যাকসেস পাবে ওয়াফাই সংযোগটি সেহেতু সাবধান৷ এক্ষেত্রে ভিপিএন ব্যবহার করে ওয়াই ফাই সংযোগ গ্রহণ করা উচিত৷ ভিপিএন অর্থ ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটোয়ার্ক৷ এটি একটি টানেল তৈরি করে আপনার ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষিত রাখবে ফ্রি ওয়াফাইয়ে ওঁৎ পেতে থাকা চোরদের থেকে৷  চ্যাটরুমে ভরসা নেই চ্যাটরুম সময় কাটানোর জন্য খুব ভালো মাধ্যম হলেও বিশ্বাস করা যাবে না এখানকার মানুষদের৷ কারণ চ্যাটরুমের পরিচয় থেকে আবেগী হয়ে ভিডিওচ্যাট করে ভীষণ বিপদে পড়েছেন অনেকে৷ বিশেষ করে মেয়েদের হয়রানি করার ঘটনাগুলোর সূত্রপাত চ্যাটরুম থেকে৷ এখানেই ছড়ায় ব্যক্তিগত ছবি, ভিডিওসহ নিজস্ব অনেক তথ্য৷ সুতরাং চ্যাট করতে পারেন কিন্তু তথ্য শেয়ার নয়৷ কঠিন পাসওয়ার্ড মনে থাকবে না এই অজুহাতে পাসওয়ার্ডটাকে একেবারে সহজ কিছু বা ধারণা করা যায় এমন করবেন না৷ ইলেক্ট্রনিক ডিভাইস, মেইল অ্যাকাউন্ট, ফেসবুক অ্যাকাউন্টসহ প্রতিটা বস্তুর জন্য আলাদা আলাদা ভিন্ন ভিন্ন পাসওয়ার্ড রাখুন৷ আর মনে রাখার সুবিধায় পাসওয়ার্ড কোনো ইনবক্সে সেভ করবেন না, কিংবা পাসওয়ার্ড লেখা খাতাটা যেখানে সেখানে ফেলে আসবেন না৷ ক্রেডিট কার্ডের সেলফি? নতুন ক্রেডিটকার্ড পেয়ে খুশিতে সেলফি তুলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করে ফেলবেন না৷ প্রয়োজনে ক্রেডিট কার্ডের ছবি তুলে রাখতে পারেন৷ তবে সেটি একেবারেই গোপন স্থানে রাখবেন৷ ইদানিং ইন্টারনেটে এ ধরনের বোকামি বেশ চোখে পড়ছে৷ আইটি বিশেষজ্ঞরা এই ধরনের ঘটনাকে মানবজাতির বুদ্ধিমত্তার প্রতি হুমকিস্বরূপ বলেই মনে করছেন৷ তথ্যসূত্র: ডয়েচে ভেলে এমএইচ/

শাওমির উন্নত প্রযুক্তির ইলেকট্রনিক স্পোর্টস শুতে কি আছে?

স্মার্ট জুতা ব্যবসায় আগেই নাম লিখিয়েছিল চীনা ইলেকট্রনিক গ্যাজেট প্রস্তুতকারী সংস্থা শাওমি। এ বার পুরুষদের জন্য শাওমি নিয়ে এল আরো উন্নতামানের স্পোর্টস শুয়ের দ্বিতীয় সংস্করণ। এই জুতায় রয়েছে এমন সব যন্ত্রাংশ, যা দিয়ে কত পথ অতিক্রান্ত হয়েছে, কতটা পরিশ্রম হয়েছে এমন সব তথ্য পাওয়া যাবে। সূত্রের খবর, নতুন জুতায় রয়েছে আগের থেকে আরও ভাল সেন্সর। যার ফলে আরও নিখুঁত তথ্য দেবে এই জুতা। এই জুতার সঙ্গে শাওমির ‘মি ফিট’ অ্যাপের লিংক করিয়ে জানা যাবে ব্যবহারকারীর স্বাস্থ্য সম্পর্কিত যাবতীয় তথ্য। আপাতত শাওমির ক্রাউড ফান্ডিং প্ল্যাটফর্মে এই জুতা পাওয়া যাবে। পরবর্তীতে অনলাইনে ও রিটেইল মার্কেটেও নিয়ে আসা হবে এই জুতাকে। আপাতত এই জুতার দাম ঠিক করা হয়েছে ২৪৯৯ টাকা। এই জুতোগুলি ধাক্কা, হোঁচট ও পা পিছলে যাওয়ার ঝুঁকি কমাবে বলে দাবি করা হয়েছে শাওমির পক্ষ থেকে। শুধু তাই নয়। এই জুতাগুলি ধুয়ে ফেলাও সহজ। ওয়াশিং মেশিনেও পরিষ্কার করা যাবে এই জুতোগুলি। আপাতত কালো, ধূসর ও নীল, এই তিন রঙে জুতাগুলি পাওয়া যাবে। তথ্যসূত্র: আনন্দবাজার এমএইচ/

ওজন কমানোর ঔষধ দিয়ে মশা নিয়ন্ত্রণ?

মশা তাড়াতে কত কিছুইনা করেছেন। কিন্তু তারপরও মশার কামড় থেকে বাঁচতে পারছেন না। খুব সাবধান ছিলেন কিন্তু মশারীর কোন এক কোনায় লুকানো একটি মশাই হয়ত সারা রাত আপনাকে গান শুনিয়ে ঘুমের বারোটা বাজিয়েছে। নিউ ইয়র্কের রকফেলার বিশ্ববিদ্যালয়ের এক দল গবেষক বলছেন তারা ‘ডায়েট ড্রাগস’ ব্যবহার করে মশার কামড় কমাতে সক্ষম হয়েছেন। নতুন এই গবেষণা এখনো যদিও প্রাথমিক পর্যায়ে। তবে বিজ্ঞানীরা মনে করছেন সফল হলে খুব কাজে আসবে যিকা, বা ম্যালেরিয়ার মতো মশা-বাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণে। পশ্চিমা বিশ্বে ওজন কমাতে বেশ জনপ্রিয় হল ‘ডায়েট পিল’। সেটাই নাকি কাজ করেছে মশার উপরেও। গবেষকরা এডিস মশার উপর পরীক্ষা চালিয়েছেন। সাধারণত স্ত্রী প্রজাতির মশা মানুষকে কামড়ায়। এই প্রজাতির স্ত্রী মশা অন্য প্রাণীর তুলনায় মানুষের প্রতি খুবই আকর্ষণ বোধ করে। কারণ মানুষের রক্তে একটি বিশেষ প্রোটিন রয়েছে যা এডিস মশার ডিম উৎপাদনে সহায়তা করে। ডায়েট পিলের কাজ হল মানুষের খাওয়ার আগ্রহ কমিয়ে দেওয়া। বিজ্ঞানীরা বলছেন তারা যখন মশাকে ‘ডায়েট পিল’ মেশানো স্যালাইন জাতিয় খাবার দিয়েছেন মশার রক্ত খাওয়ার রুচি বেশ কমে গেছে। ঠিক মানুষের যেমন খাবার আগ্রহ কমে যায় সেরকমই মশাও রক্ত খাওয়ার আগ্রহ পাচ্ছিলো না। মশাদের রক্ত খাওয়ার মাত্রা পরিমাপ করতে বিজ্ঞানীরা মানুষের শরীরের দুর্গন্ধযুক্ত নাইলনের মোজা ঝুলিয়ে দিয়েছিলেন। মশারা এমন মোজার প্রতি সাধারণত খুবই আকর্ষণ বোধ করে, কারণ তারা খাবারের গন্ধ পেতে থাকে এবং রক্ত খেতে উদগ্রীব হয়ে পড়ে। কিন্তু বিজ্ঞানীরা বলছেন এই ঔষধ দেয়ার ফলে দেখা গেছে মশা বেশ কদিন ধরে রক্ত খাওয়া কমিয়ে দিয়েছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন তার অর্থ হল মানুষের প্রতি ও তার রক্ত খাওয়ার প্রতি মশার আগ্রহে পরিবর্তন হয়। গবেষণাগারে নাহয় আটকে রেখে মশাকে ঔষধ খাওয়ানো গেলো কিন্তু প্রকৃতিতে মশাকে এই ঔষধ কিভাবে খাওয়াবেন সেটি একটা বড় সমস্যা। গবেষকদের একজন লেসলি ভশাল বলছেন, নারী মশাকে আকর্ষণ করে এমন ফাঁদ তৈরি করতে হবে। গবেষকরা মশাদের খাওয়ার আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে এমন একটি বিশেষ উপাদান মশার শরীরে খুঁজে পেয়েছে। মানুষের শরীরের উপযোগী এই ঔষধের মতোই তবে শুধু মশার উপরে কাজ করবে এমন একটি উপাদানও খুঁজে পেয়েছে তারা। ভবিষ্যৎ গবেষণায় বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। লেসলি ভশাল বলছেন, ‘মশা নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আমরা নতুন আর কোন বুদ্ধি খুঁজে পাচ্ছি না। কীটনাশকও ব্যর্থ হচ্ছে কারণ মশারা এমনকি কীটনাশক প্রতিরোধী হয়ে উঠছে। তাই এখন একদম নতুন কিছু করতে হবে।’ তবে তিনি আরও বলেন মশাদের পুরোপুরি নিধন করা তাদের উদ্দেশ্য নয়। এই ঔষধ সাময়িকভাবে খাবার রুচি নিয়ন্ত্রণ করে। তাই এর প্রভাব স্থায়ী নয়। তথ্যসূত্র: বিবিসি এমএইচ/

আগামীতে আইসিটি ডেস্টিনেশন হবে বাংলাদেশ: পলক

বাংলাদেশ আগামীতে আইসিটি খাতের ডেস্টিনেশন হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক। আজ শনিবার কক্সবাজার শহরের হোটেল-মোটেল জোনের এক অভিজাত হোটেলে তিন দিনব্যাপী ‘তড়িৎ, কম্পিউটার কৌশল ও যোগাযোগ-প্রযুক্তিবিষয়ক দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক সম্মেলন’-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, নেক্সট আইসিটি লিডার কারা হবে? নেক্সট আইসিটি ডেস্টিনেশন কোথায়? আমরা বলছি, নেক্সট আইসিটি ডেস্টিনেশন হলো বাংলাদেশ। ২০২১ সালে আমরা কোথায় যাব তার একটা টার্গেট আমরা নিয়েছি এবং সেই টার্গেটকে সামনে রেখেই আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। আমাদের এখন সময় এসেছে মেধাভিত্তিক অর্থনীতির ওপরে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলার। জুনায়েদ আহমেদ পলক বলেন, আজ থেকে ১০ বছর আগে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ছিলো ৫৬ লাখ, এখন নয় কোটি ৬০ লাখ। আমাদের গভর্নমেন্টে কোনো ডিজিটাল সার্ভিসই ছিল না। এখন মোটামোটি প্রায় ৫০০ সার্ভিস আমরা করেছি। এ সময় আইটি সেক্টরে কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আইটি সেক্টরে কর্মসংস্থান বলে তেমন কিছুই ছিল না। এখন প্রায় ১০ লাখ ছেলে-মেয়ে কাজ করছে, ছয় লাখ ফ্রি-ল্যান্সার এবং আরো অন্যান্য সফওয়্যার, হার্ডওয়্যার ডিজিটাল ডিভাইস ম্যানুফ্যাকচারিং ক্ষেত্রে কাজ করছে। ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশের প্রত্যেকটি এলাকা ডিজিটাল হাইস্পিড কানেক্টিভিটির আওতায় নিয়ে আসা হবে জানিয়ে তিনি আরো বলেন, কমিউনিকেশন নেটওয়ার্ক ইউনিভার্সিটি থেকে গ্রাম পর্যন্ত চলে গেছে। আমাদের প্রায় তিন হাজার ৮০০টি ইউনিয়নে আমরা ফাইবার অপটিক ক্যাবল, হাইস্পিড ইন্টারনেট, ব্রডব্যান্ড কানেক্টিভিটি পৌঁছে দিয়েছি। ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশের প্রত্যেকটি ইউনিয়ন, প্রত্যেকটি ইঞ্চি মাটি ডিজিটাল হাইস্পিড কানেক্টিভিটির আওতায় আমরা ইনশা আল্লাহ নিয়ে আসব। এ ছাড়াও সমাপনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল মান্নান, চুয়েটের উপচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রফিকুল আলম প্রমুখ। আরকে//

দিল্লির কুয়াশাই দক্ষিণ এশিয়ার উষ্ণায়নের কারণ: গবেষণা

ভারতের দিল্লির কুয়াশার ধাক্কায় ‘প্রাণ যায় যায়’ অবস্থা হয়েছে বাংলাদেশের ভোলার। উষ্ণায়নে হাঁসফাঁস করছে মলদ্বীপের হানিমাধু। দিল্লিসহ উত্তর-পশ্চিম ভারতের সর্বনাশা কুয়াশা আক্ষরিক অর্থেই, দক্ষিণ এশিয়ার আবহাওয়া, জলবায়ুর পক্ষে অভিশাপ হয়ে উঠেছে। বিষিয়ে দিচ্ছে গোটা দক্ষিণ এশিয়ার বাতাস। প্রকৃতি ও পরিবেশ। উৎসাহ দিচ্ছে উষ্ণায়নে। গা আরও গরম করে দিচ্ছে বাংলাদেশ, মালদ্বীপ, মায়ানমারসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর। উড়তে উড়তে গায়ের রং বদলে যাচ্ছে বাতাসের কার্বন কণাদের! এমনটাই বলছে হালের একটি আন্তর্জাতিক গবেষণা। ওই গবেষণা বলছে, স্থলভাগের উপর থেকে সমুদ্রের দিকে উড়ে যেতে যেতে কুয়াশার মধ্যে থাকা সাবানের ফেনার মতো পানিকণাগুলোর জাত বদলে যাচ্ছে। তাদের গায়ে লেগে থাকা কার্বন কণাদের গায়ের রং বদলে যাওয়ার জন্য। তাদের সূর্যালোক শুষে নেওয়ার ক্ষমতার বাড়া-কমায়। কুয়াশায় থাকা কার্বন কণাগুলো কালো থেকে হয়ে পড়ছে বাদামি। গবেষণাপত্রটি বেরিয়েছে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান-জার্নাল ‘সায়েন্স অ্যাডভান্সেস’-এর ৩১ জানুয়ারি সংখ্যায়। কুয়াশার মধ্যে থাকা ওই কার্বন কণারা সূর্যালোকের সাতটি রংকেই প্রায় পুরোপুরি শুষে নিতে পারে বলে তাদের কালো দেখায়। কিন্তু দিল্লি ও উত্তর-পশ্চিম ভারত থেকে স্থলভাগের উপর দিয়ে সমুদ্রকে লক্ষ্য করে দক্ষিণ এশিয়ার অন্য দেশগুলোর দিকে উড়ে যেতে যেতে কুয়াশার মধ্যে থাকা সেই কার্বন কণাদের আলো শুষে নেওয়ার ক্ষমতা কমে যায়। ফলে তাদের গায়ের রং আর কালো থাকে না। হয়ে পড়ে বাদামি। সাম্প্রতিক গবেষণা জানাল, আলো শুষে নেওয়ার ক্ষমতা কমে গেলেও কুয়াশায় থাকা ওই কার্বন কণারা আরও বেশি দিনের আয়ু পেয়ে যায় সমুদ্রের উপর দিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার অন্য দেশগুলোর দিকে যেতে যেতে। যার অর্থ, ওই বাদামি রঙের কার্বন কণাগুলোর যতটা আয়ু (আরও সঠিক ভাবে বললে, অর্ধায়ু বা হাফ-লাইফ) হয় দিল্লিসহ উত্তর-পশ্চিম ভারতে (৩ দশমিক ৬ দিন), দক্ষিণ এশিয়ার অন্য দেশগুলোতে তার আয়ু বেড়ে যায় অন্তত তিন থেকে পাঁচগুণ (৯ থেকে ১৫ দিন)। ফলে কুয়াশায় থাকা বাদামি রঙের কার্বন কণাগুলো আরও বেশি দিন থাকে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশে। গবেষকরা দেখেছেন, এটাই ওই অঞ্চলে উষ্ণায়নকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। কুয়াশাকে আবহবিজ্ঞানের পরিভাষায় বলা হয়, ‘অ্যাটমস্ফেরিক ব্রাউন ক্লাউড’ (এবিসি)। যানবাহনের ধোঁয়া, জীবাশ্ম জ্বালানি ও অন্যান্য উৎস থেকে যে বিষাক্ত কার্বন মৌল ও যৌগের কণা বেরিয়ে আসে তারাই মূলত থাকে এবিসিতে। বায়ুমণ্ডলের একটি বিশেষ স্তরে থাকে ওই কার্বন কণারা। যারা সূর্যালোকের সাতটি রঙের বেশির ভাগটাই শুষে নেয়। ব্লটিং পেপারের মতো। বিচ্ছুরণও (স্ক্যাটারিং) করে, তবে তা খুবই সামান্য পরিমাণে। ওই আন্তর্জাতিক গবেষকদলের অন্যতম সদস্য বেঙ্গালুরুর ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ সায়েন্সের অধ্যাপক শ্রীধরন সতীশ জানান, কুয়াশার সময় বাতাসে ‘অ্যাটমস্ফেরিক ব্রাউন ক্লাউড’-এ থাকা ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র কণাদের মধ্যে মূলত আলো শুষে নেয় দু’ধরনের কার্বন কণা। এক ধরনের কার্বন কণার গায়ের রং হয় কালো। অন্য ধরনের কার্বন কণার গায়ের রং হয় বাদামি। কালো রঙের কার্বন কণাগুলো আসে মূলত ডিজেলে চলা যানবাহন বা যন্ত্রাদি থেকে। আর বাদামি রঙের কার্বন কণাগুলো আসে জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানোর জন্য। গবেষকরা কাজ করেছেন বাদামি রঙের কার্বন কণাদের নিয়ে। তারা দেখতে চেয়েছিলেন, সমুদ্রের উপর দিয়ে উড়ে যেতে যেতে সূর্যালোক শুষে নেওয়ার ক্ষমতা তাদের বাড়ে-কমে কি না। দেখতে চেয়েছিলেন, সেই বাড়া-কমাটা হয় কতটা। শ্রীধরন জানিয়েছেন, তারা তিনটি জায়গা- গাঙ্গেয় সমতলে (ইন্দো-গ্যাঞ্জেটিক প্লেন বা, আইজিপি) থাকা দিল্লি, বাংলাদেশের ভোলা (যা আইজিপি-র কিনারে পড়ে) এবং মালদ্বীপের হানিমাধুতে ক্লাইমেট অবজারভেটির বাতাসের নমুনা পরীক্ষা করেছিলেন। দিল্লিসহ উত্তর-পশ্চিম ভারতের কুয়াশার মধ্যে থাকা কার্বন কণাগুলো সমুদ্রের উপর দিয়ে উড়ে গিয়ে পৌঁছায় ভোলা, হানিমাধু আর তার আশপাশের এলাকায়। তারা দেখেছেন, দিল্লি থেকে ভোলা আর হানিমাধু যাওয়ার পথে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কুয়াশায় থাকা সাবানের মতো পানিকণাগুলোর (অ্যারোসল) রাসায়নিক গঠন পুরোপুরি বদলে যায়। বদলে যায় তাদের চরিত্র। আচার, আচরণ। বাদামি রঙের কার্বন কণাগুলো কুয়াশার পানিকণায় দ্রবীভূত হয়ে যায়। আর সেটা সবচেয়ে বেশি পরিমাণে থাকে দিল্লির কুয়াশায়। সমুদ্রের উপর দিয়ে উড়ে তা বাংলাদেশের ভোলায় পৌঁছালে সেই বাদামি রঙের কার্বন কণার সংখ্যা কমে যায় কুয়াশায়। তা সবচেয়ে কমে যায় মালদ্বীপের হানিমাধুতে। সেই কার্বন কণাগুলোর সূর্যালোক শোষণের ক্ষমতাও উত্তরোত্তর কমে যায় দিল্লি থেকে ভোলা হয়ে হানিমাধুতে পৌঁছে গিয়ে। গবেষকরা জানিয়েছেন, তারা শুধু শীতের আবহাওয়া ধরেই করেছেন কাজটা। তারা দেখতে চাইছেন, বাতাসে থাকা ওই কার্বন কণাদের সূর্যোলোক শুষে নেওয়ার ক্ষমতার তারতম্যে শীত, গ্রীষ্ম, বর্ষার মতো মৌসুমগুলো কতটা বদলাচ্ছে বা তাদের মেয়াদ কতটা বাড়ছে বা কমছে। সূত্র: আনন্দবাজার একে//

© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি