ঢাকা, বুধবার   ২৮ অক্টোবর ২০২৬

ঢাকা মেডিকেলে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স মালিকদের ধর্মঘট, চরম ভোগান্তিতে রোগীরা

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ২৩:০২, ২৭ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ২৩:০৪, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

Ekushey Television Ltd.

ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল প্রাঙ্গণে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সের স্থায়ী পার্কিংয়ের দাবিতে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট শুরু করেছেন অ্যাম্বুলেন্স মালিক ও চালকেরা।

আজ মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকাল থেকে শুরু হওয়া এই আকস্মিক ধর্মঘটের কারণে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে চিকিৎসা নিতে আসা সাধারণ রোগী ও তাঁদের স্বজনদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।

এর আগে গতকাল সোমবার সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বাগান গেটের ভেতরে স্থায়ী পার্কিং এবং সুনির্দিষ্ট ভাড়া নির্ধারণসহ বিভিন্ন দাবিতে মানববন্ধন করেছিলেন বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স মালিক কল্যাণ সমিতির ঢামেক শাখার সদস্যরা। দাবি আদায় না হওয়ায় আজ সকাল থেকে তারা সেবা দেওয়া বন্ধ করে দেন।

সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. ইমন আলী জানান, তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতাল প্রাঙ্গণে অ্যাম্বুলেন্স রেখে রোগীদের জরুরি সেবা দিয়ে আসছিলেন। কিন্তু সম্প্রতি হাসপাতাল প্রাঙ্গণে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স পার্কিং বন্ধ করে দেওয়ায় এবং কোনো বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় গাড়িগুলো আশপাশের প্রধান সড়কে রাখতে হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন তীব্র যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে, অন্যদিকে চালকেরা নিয়মিত ট্রাফিক পুলিশের মামলার শিকার হচ্ছেন। ফলে পূর্বের মতো পার্কিংয়ের সুনির্দিষ্ট সুযোগ না দেওয়া পর্যন্ত এই ধর্মঘট অব্যাহত থাকবে বলে তিনি ঘোষণা দেন।

বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স মালিকদের এই দাবির মুখে কঠোর অবস্থান নিয়েছে ঢামেক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম ফরহাদ হোসেন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, হাসপাতাল প্রাঙ্গণে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স স্থায়ীভাবে পার্কিং করার কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না।

পরিচালক বলেন, হাসপাতালে তীব্র জায়গার সংকট রয়েছে। রোগ ও তাঁদের স্বজনদের জিম্মি করে যদি ধর্মঘট করা হয়, তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় অবৈধভাবে রাস্তায় গাড়ি রাখার দায়ে কঠোর আইনি ব্যবস্থা ও মামলা দেওয়া হবে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জরুরি বিভাগের সামনের যানজট নিরসন, দালাল চক্রের দৌরাত্ম্য বন্ধ এবং হাসপাতালের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতেই এই কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সগুলো শুধু রোগী নামিয়ে দিয়ে তৎক্ষণাৎ চলে যাবে এবং পরবর্তীতে কোনো রোগী নেওয়ার প্রয়োজন হলে এসে নিয়ে যাবে। কোনো অবস্থাতেই দীর্ঘ সময় গাড়ি দাঁড় করিয়ে রাখা যাবে না।

এ ছাড়া, হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স মালিক সমিতির সাময়িক কার্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত কক্ষটি সিলগালা করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। দূর-দূরান্ত থেকে আসা গরিব ও অসহায় রোগীদের স্বজনদের বসার জন্য এই কক্ষটিকে আধুনিক বিশ্রামাগার হিসেবে রূপান্তর করা হবে, যাতে তাঁরা প্রতারক ও দালাল চক্রের হাত থেকে রক্ষা পান।

এমএইচ 


Ekushey Television Ltd.

© ২০২৬ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি