ঢাকা, মঙ্গলবার   ২৭ অক্টোবর ২০২৬

৪৬ বছর পর নতুন কাঠামোয় ফিরছে গ্রাম সরকার

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ২২:২৯, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

Ekushey Television Ltd.

স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার তৃণমূল পর্যায়কে শক্তিশালী করতে দীর্ঘ ৪৬ বছর পর আবারও 'গ্রাম সরকার' ব্যবস্থা চালু করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাসনামলে ১৯৮০ সালে প্রথম প্রবর্তিত এই ব্যবস্থাটি বিভিন্ন সময়ে নানা পরিবর্তন ও বিলুপ্তির মধ্য দিয়ে গেছে। 

এবার স্থানীয় সরকার বিভাগ ইউনিয়ন পরিষদের প্রতিটি ওয়ার্ডে ১৭ সদস্যবিশিষ্ট কাঠামো গঠনের প্রস্তাব রেখে ‘গ্রাম সরকার আইন, ২০২৬’-এর একটি খসড়া প্রস্তুত করেছে।

এর আগে ২০০৩ সালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার নতুন করে গ্রাম সরকার আইন প্রণয়ন করলেও ২০০৯ সালে তা বাতিল করা হয়। দীর্ঘ ১৭ বছর পর আবারও এই তৃণমূল ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হলো। নতুন এই সংগঠনের প্রয়োজনীয়তা ও জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়ে বর্তমানে বিভিন্ন মহলে নানা আলোচনা-পর্যালোচনা চলছে। আইনের এই প্রাথমিক খসড়াটি বর্তমানে সর্বসাধারণের মতামত গ্রহণের জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।

প্রস্তাবিত খসড়া অনুযায়ী, প্রতিটি গ্রাম সরকারে একজন প্রধান, একজন উপদেষ্টা এবং ১৫ জন সদস্য থাকবেন। সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের নির্বাচিত ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্য পদাধিকারবলে গ্রাম সরকারের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। এ ছাড়া সংরক্ষিত আসনের নারী ইউপি সদস্য হবেন ওই এলাকার গ্রাম সরকারগুলোর উপদেষ্টা। প্রথম আনুষ্ঠানিক সভা থেকে এই কমিটির মেয়াদ হবে পাঁচ বছর।

কমিটির ১৫ জন সদস্যের মধ্যে থাকবেন দুজন স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর একজন পুরুষ ও একজন নারী সদস্য এবং দুজন কৃষক। এ ছাড়া নিকাহ রেজিস্ট্রার, সমবায় সমিতির প্রতিনিধি, পল্লিচিকিৎসক, শিক্ষক, ব্যবসায়ী, পেশাজীবী, শ্রমিক ও যুবকদের মধ্য থেকে একজন করে প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব রয়েছে। ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী অধ্যুষিত এলাকায় তাদের একজন প্রতিনিধিও থাকবেন।

গ্রাম সরকারের সদস্য নির্বাচনে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ভোটার তালিকার কমপক্ষে ১০ শতাংশ ভোটারের উপস্থিতিতে সরাসরি 'হ্যাঁ-না' ভোটের প্রস্তাব করা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বা তাঁর ক্ষমতাপ্রাপ্ত কমিটি এই নির্বাচন প্রক্রিয়া পরিচালনা ও তত্ত্বাবধান করবে।

কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় প্রতি দুই মাসে অন্তত একটি সাধারণ কার্যনির্বাহী সভা এবং প্রতি ছয় মাসে একটি বৃহৎ সাধারণ সভা আয়োজনের বিধান রাখা হয়েছে। এই সাধারণ সভাগুলোতে ওয়ার্ডের ন্যূনতম ১০ শতাংশ ভোটারের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

খসড়া আইনে গ্রাম সরকারকে স্থানীয় উন্নয়ন ও সামাজিক সুরক্ষায় ব্যাপক দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। গ্রামীণ রাস্তাঘাট ও কালভার্ট সংস্কারের পরিকল্পনা তৈরি, চলমান প্রকল্পের আর্থিক বিষয় পর্যালোচনা এবং সরকারি সেবা পৌঁছাতে কাজ করবে এই প্রতিষ্ঠান। পাশাপাশি নারী ও শিশু নির্যাতন, মাদক, জুয়া ও চুরির বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা এবং স্থানীয় ছোটখাটো বিরোধ মীমাংসার দায়িত্বও থাকছে তাদের ওপর।

শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কৃষি খাতে ভূমিকা রাখতে শিক্ষার্থীরা যাতে নিয়মিত বিদ্যালয়ে যায় তা নিশ্চিত করা, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, পরিবার পরিকল্পনা, নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশনে সহযোগিতা করবে গ্রাম সরকার। একই সাথে সার ও বীজসহ কৃষি উপকরণের সরবরাহ পর্যবেক্ষণ এবং কুটিরশিল্প ও বৃক্ষরোপণে মানুষকে উৎসাহিত করবে। এসব কার্যক্রম পরিচালনার জন্য একটি পৃথক তহবিল থাকবে, যা ইউনিয়ন পরিষদের নিজস্ব আয় ও অন্যান্য বৈধ উৎস থেকে আসা অর্থ দ্বারা পরিচালিত হবে।

আইনের খসড়ায় কঠোর জবাবদিহিতার বিধানও যুক্ত করা হয়েছে। দায়িত্ব পালনে ক্রমাগত ব্যর্থতা, প্রশাসনিক বা আর্থিক অক্ষমতা, জনস্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হওয়া কিংবা ক্ষমতার অপব্যবহার প্রমাণিত হলে জেলা প্রশাসক (ডিসি) সংশ্লিষ্ট গ্রাম সরকার কমিটি বাতিল বা বিলুপ্ত করতে পারবেন। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অভিযুক্ত কমিটিকে অবশ্যই কারণ দর্শানোর (শো-কজ) যুক্তিসঙ্গত সুযোগ দিতে হবে।

এমএইচ 
 


Ekushey Television Ltd.

© ২০২৬ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি