ঢাকা, রবিবার, ২১ অক্টোবর, ২০১৮ ৮:০৪:১৭

ফেসবুক হ্যাকড হলে কী করবেন?

ফেসবুক হ্যাকড হলে কী করবেন?

সম্প্রতি ফেসবুক কর্তৃপক্ষ সম্প্রতি জানিয়েছে, ফেসবুক থেকে মোট ২ কোটি ৯০ লাখ অ্যাকাউন্টের তথ্য বেহাত হয়েছে। এসব অ্যাকাউন্ট থেকে ব্যক্তিগত তথ্য চুরি করে নিয়েছে সাইবার দুর্বৃত্তরা। গত মাসে কয়েক কোটি অ্যাকাউন্ট হ্যাকড হওয়ার বিষয় নিশ্চিত করেছে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ। আর হ্যাকড হওয়া এসব অ্যাকাউন্ট থেকে নাম, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নাম, ব্যক্তিগত যোগাযোগ নম্বরের মতো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (এফবিআই) সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে বলে জানা যায়। ফেসবুকের আর কোনো সেবা হ্যাক হয়েছি কি না বা হ্যাকাররা ফেসবুকের কী কী ক্ষতি করেছে, তা বের করার চেষ্টা করছে ফেসবুক। কর্তৃপক্ষ বলছে, যাঁদের অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়েছে, তা থেকে কী কী তথ্য নেওয়া হয়েছে বা তাঁরা কী ধরনের হ্যাকিংয়ের শিকার হয়েছেন, তা বার্তা দিয়ে জানানো হবে। তবে ফেসবুকের পক্ষ থেকে এখনো বিষয়টি জানানো শুরু হয়নি। তবে যাঁদের অ্যাকাউন্ট বেহাত হয়েছে বলে আশঙ্কা রয়েছে, তাঁরা সহজে অ্যাকাউন্ট পরীক্ষা করে দেখতে পারেন: প্রথম ধাপ: ডেস্কটপ থেকে ফেসবুক খুলুন এবং ফেসবুকের হেল্প সেন্টারে যান। হেল্প সেন্টারের ঠিকানা https://www.facebook. com/help/securitynotice দ্বিতীয় ধাপ: স্ক্রল করে পেজের নিচে আসুন এবং সেখানে ‘Is my Facebook account impacted by the security issue?’ বিষয়টি খুঁজে বের করুন। যদি অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়ে থাকে, তবে ওই টপিকের নিচে তা দেখানো হবে। সেখানে বলে দেওয়া হবে আপনার কোন কোন তথ্য হ্যাকারদের কাছে চলে গেছে। তবে যে তথ্য চুরি হয়নি, তারও একটা তালিকা দেখতে পাবেন। যাঁদের ভাগ্য ভালো, তাঁদের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের বার্তা দেখাবে না। ভিউ অ্যাজ থেকে তথ্য চুরি: বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে জানানো হয়, গত মাসের শেষের দিকে ফেসবুক প্রথমে জানায়, তাদের কাছ থেকে পাঁচ কোটি ব্যবহারকারীর তথ্য বেহাত হয়েছে। ফেসবুকের নিরাপত্তা ত্রুটি কাজে লাগিয়ে ওই তথ্য হাতিয়ে নেওয়া হয়েছিল। ফেসবুকের ‘ভিউ অ্যাজ’ নামের একটি ফিচারের মাধ্যমে ওই হামলার সুযোগ পেয়েছিল হ্যাকাররা। ব্যবহারকারীরা ভিউ অ্যাজের মাধ্যমে অন্যদের কাছে তাদের অ্যাকাউন্টটি কেমন দেখায়, তা দেখতে পান। এই সুবিধার মাধ্যমে একজনকে ফেসবুক বন্ধুরা কীভাবে দেখে, তা জানা যায়। এতে আক্রান্ত ব্যবহারকারীদের অ্যাকাউন্ট আপনা-আপনি লগ-আউট হয়ে যায় এবং ফের লগ-ইনের নির্দেশ পায়। নিন্দুকেরা বলছেন, ফেসবুক কর্তৃপক্ষ এসব ঘটনায় ব্যবহারকারীদের করণীয় সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা দিতে পারেনি। এ ছাড়া সাইবার হামলার ওই ঘটনায় তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে কারা যুক্ত, সেটিও বের করতে পারেনি। আদতে কী ধরনের তথ্য হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে, তা-ও জানা যায়নি। তবে এখন ফেসবুক কর্তৃপক্ষের দাবি, ক্ষতির পরিমাণ কম ছিল। হ্যাক হওয়া তথ্য থেকে অর্থ আয়: প্রযুক্তি বিশ্লেষকেরা বলছেন, ফেসবুক থেকে হ্যাকড হওয়া তথ্য খুবই মূল্যবান। ফেসবুক হ্যাক করে তথ্য হাতিয়ে নিতে পারলে তা থেকে অর্থ আয় করে সাইবার দুর্বৃত্তরা। এসব তথ্য তারা ডার্ক ওয়েবে বিক্রি করে দেয়। বিশেষ কিছু সফটওয়্যারের মাধ্যমে এ ধরনের ডার্ক ওয়েবে ঢুকে ওই তথ্য তারা কেনাবেচা করে। নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলেন, ফেসবুক থেকে চুরি করা তথ্য কাজে লাগিয়ে পরিচয় প্রতারণা (আইডেনটিটি থেফট) বা ব্ল্যাকমেলের মতো ঘটনা ঘটাতে পারে দুর্বৃত্তরা। ডার্ক ওয়েবে বিটকয়েনের মতো ভার্চুয়াল মুদ্রায় বিক্রি হয় এসব অ্যাকাউন্টের তথ্য। তথ্যের গুরুত্বের ওপর নির্ভর করে একেকটি অ্যাকাউন্ট বিক্রি হয় ৩ থেকে ১২ মার্কিন ডলার দামে। ফেসবুক থেকে যে পরিমাণ তথ্য হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে, তা এককভাবে বিক্রি করলে এর দাম হতে পারে ৬০ কোটি মার্কিন ডলারের কাছাকাছি। যুক্তরাষ্ট্রের সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান সনিকওয়ারের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বিল কনার বলেন, ডার্ক ওয়েবে ব্যক্তিগত তথ্য খুবই মূল্যবান। কোনো প্রতিষ্ঠান বা রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে এসব তথ্য নেওয়া হলে তা আরও গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাজ্যের মানি গুরু নামের একটি প্রতিষ্ঠানের ভাষ্য, হ্যাকিংয়ের ঘটনার পর অনেক তথ্য ডার্ক ওয়েবে পাওয়া যায়। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এসব তথ্য কিনে তা বিজ্ঞাপন দেখানোর কাজে ব্যবহার করে থাকে।
মাইক্রোসফটের সহ-প্রতিষ্ঠাতা পল এলেন আর নেই

যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক কম্পিউটার প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মাইক্রোসফটের সহকারী প্রতিষ্ঠাতা পল এলেন মারা গেছেন। স্থানীয় সময় সোমবার ৬৫ বছর বয়সে রক্তে লিম্ফোমার সমস্যার কারণে তিনি মারা যান।   তার মৃত্যুতে বিল গেটস বলেন, পল এলেনের মৃত্যুতে আমার হৃদয় ভেঙ্গে গেছে। তিনি আমার সবচেয়ে কাছের একজন মনুষ ছিলেন। তাকে ছাড়া কম্পিউটার জগতে এত বিপ্লব ঘটানো সম্ভব হতো না। তার সংকর্মীরা এক বিবৃতিতে জানায়, এই মৃত্যু প্রযুক্তি জগৎসহ আমাদের জন্য একটি বড় ধরণের ক্ষতি। প্রযুক্তি জগতে তিনি যে অবদান রেখে গেছেন তার জন্য আমরা তাকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি।  সহজ সরল জীবন-যাপন, দায়িত্ববোধ এবং পরিবার ও বন্ধুদেরকে সময় দেওয়াসহ প্রতিটি কাজে তিনি আন্তরিক  ছিলেন বলে জানান তারা। স্কুল জীবন থেকে পল এলেন এবং বিল গেটস পরস্পর বন্ধু। তারা ১৯৭৫ সালে যৌতভাবে এই মাইক্রোসফট কোম্পানিটি প্রতিষ্ঠা করেন। সূত্র: বিবিসি এমএইচ/

এক মুঠোফোনে দুই হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করবেন যেভাবে

সব স্মার্টফোনে দুই বা ততোধিক সিম ব্যবহারের সুযোগ থাকে। কিন্তু এক সেটে দুটি সিমে সমানতালৈ হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করার সুযোগ থাকে না। তবে কিছু স্মার্টফোন প্রতিষ্ঠান ব্যবহারকারীদের চাহিদার কথা বিবেচনায় নিয়ে ‘ডুয়াল অ্যাপস’ বা ‘ডুয়াল মুড’ ফিচার চালু করেছে। এর সাহায্যে একই অ্যাপে দুটি আলাদা অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করা যায়। এজন্য কয়েকটি কাজ করতে হবে- স্যামসাং ফোনে দুটি হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করতে হলে প্রথমেই সেটিংস অপশনে যেতে হবে। সেখান থেকে ‘অ্যাডভান্স ফিচারে’ গিয়ে ‘ডুয়াল হোয়াটসঅ্যাপ’ অপশন সিলেক্ট করতে হবে। শাওমিতে এই সুবিধার জন্য সেটিংস অপশনে গিয়ে ‘ডুয়াল অ্যাপসে’ যেতে হবে। ওপ্পোর ক্ষেত্রে সেটিংসে গিয়ে ‘ক্লোন অ্যাপসে’ এবং ভিভোর ক্ষেত্রে সেটিংসে গিয়ে ‘অ্যাপ ক্লোন’ সিলেক্ট করতে হবে। এ পর্যায়ে হোয়াটসঅ্যাপ নির্বাচন করুন। কারণ আপনি হোয়াটসঅ্যাপের দুটি অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করতে চাচ্ছেন। অন্য কোনও অ্যাপে দুটি অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করতে হলেও একই নিয়ম অনুসরণ করতে হবে। হোয়াটসঅ্যাপ ক্লোন হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। ক্লোন হওয়ার পর হোম স্ক্রিনে গিয়ে হোয়াটসঅ্যাপের নতুন যে লগোটি এসেছে, তাতে ক্লিক করতে হবে। তারপর স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় নতুন নম্বর দিয়ে নতুন যুক্ত হওয়া হোয়াটসঅ্যাপে রেজিস্ট্রেশন করুন। এরপরই সচল হয়ে যাবে আপনার দ্বিতীয় হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট। সূত্র : টেকওয়ার্ল্ড। / এআর /

চাঁদেরও চাঁদ থাকে!

চাঁদের গায়ে আর এক চাঁদকে নিয়েই এই মুহূর্তে ভাবিত বিজ্ঞানীরা।২০১৪ সালে এক ৪ বছরেরে শিশু তার মা’কে প্রশ্ন করেছিল, চাঁদেরও কি চাঁদ থাকে। সেই সময় থেকেই মা খুঁজতে শুরু করেন উত্তর। জানা যায়, মহাকাশচারী জুনা কোলমিয়ের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার কার্নেগি অবজারভেটরির সঙ্গে কর্মসূত্রে যুক্ত। ফ্রান্সের বোর্দো বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন রেমন্ডের সঙ্গে জুটি বেঁধে তিনি এক গবেষণাপত্রে প্রকাশ করেছেন, তাতে তারা দেখিয়েছেন যে, সৌরজগতের উপগ্রহগুলি আজ যেমন দেখতে, তেমনটা আগে ছিল না। বিশেষ করে পৃথিবীর উপগ্রহ চাঁদের নিজস্ব চাঁদ ছিল এক সময়। অর্থাৎ পৃথিবীর চারপাশে যেমন চাঁদ পাক খায়, তেমন চাঁদের চারপাশেও সম্ভবত পাক খেত তার নিজস্ব চাঁদ, যাকে বিজ্ঞানের পরিভাষায় ‘সাবমুন’ বলা হয়। কিন্তু মজা করে তারা একে বলছেন ‘মুনমুন’। গবেষকদের মতে, সেই সময়ে চাঁদ ছিল আজকের তুলনায় অনেকটাই বড়। আর তার ‘মুনমুন’ ছিল খুবই ছোট। তাদের গবেষণাপত্রে তারা দেখাতে চেয়েছেন, এমন পরিস্থিতিতে চাঁদ ও তার মুনমুন, উভয়কেই পৃথিবী থেকে অনেকটাই দূরে থাকতে হতো। আরকে//

চালু হলো গ্রামীণফোনের নতুন নম্বর সিরিজ ‘০১৩’ 

এতদিন গ্রামীণফোনের নাম্বর সিরিজ ছিল ‘০১৭’। এবার তারা এর পাশাপাশি নতুন নম্বর সিরিজ ‘০১৩’ চালু করলো। রবিবার (১৪ অক্টোবর) রাজধানীর একটি হোটেলে নতুন এই নম্বর স্কিমের উদ্বোধন করে গ্রামীণফোন। নতুন নম্বর সিরিজটি উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) মহাপরিচালক (ইঅ্যান্ডও) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মোস্তফা কামাল।  এ সময় উপস্থিত ছিলেন গ্রামীণফোনের ডেপুটি সিইও এবং সিএমও ইয়াসির আজমান, চিফ করপোরেট অ্যাফেয়ার্স অফিসার মাহমুদ হোসেন প্রমুখ। ০১৩ সিরিজের একটি নম্বর দিয়ে প্রথম কলটি ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বারের কাছে করেন ইয়াসির আজমান।    মোবাইলফোনে কথা বলার সময় মোস্তাফা জব্বার বলেন, ‘যে সাহসের সঙ্গে আপনারা সারাদেশে নেটওয়ার্ক বিস্তার করেছেন, তার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ জানাই। আমার দৃঢ় বিশ্বাস এই বিপুল সংখ্যক গ্রাহকের জন্য সেবার মান বজায় রাখাও আপনাদের জন্য কঠিন হবে না।’ স্বল্প সময়ের মধ্যে ০১৩ নম্বর সিরিজ চালু করতে পারায় গ্রামীণফোনকে অভিনন্দন জানান বিটিআরসি’র মহাপরিচালক তিনি। অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ০১৭ নম্বরের ব্যাপক চাহিদা সৃষ্টি হয়েছে। ক্রমবর্ধমান চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে ০১৭ সিরিজের নম্বর শেষ হয়ে যেতে থাকে। গ্রামীণফোনের উন্নত নেটওয়ার্ক ও সেবা যে গ্রাহকরা উপভোগ করতে চেয়েছেন, তাদের চাহিদা মেটাতে ০১৭ সিরিজের নতুন নম্বরের অভাবে প্রতিষ্ঠানটি তাদের পুরনো নম্বরগুলোকে পুনরায় ব্যবহার করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিষ্ঠানটির অনুরোধে বিটিআরসি ০১৩ সিরিজের ২ কোটি নম্বর বরাদ্দ করে গ্রামীণফোনকে। অনুষ্ঠানে আরও জানানো হয়, ০১৩ নম্বরের নতুন সিম কার্ড একই দামে পাওয়া যাবে দেশের সব সিম বিক্রয় কেন্দ্রে। এসি  

৩ কোটি মানুষের গোপন তথ্য চুরি হয়ে গেছে: ফেসবুক

ফেসবুকে অ্যাকাউন্ট রয়েছে, এমন ২ কোটি ৯০ লাখ মানুষের ব্যক্তিগত গোপনীয় তথ্যাদি চুরি হয়ে গিয়েছে। আর তা এক হাত থেকে ঘুরতে ঘুরতে ইতিমধ্যেই অন্যান্য হাতে চলে গিয়েছে। বিশ্বের ইতিহাসে তথ্য-চুরির ওই বৃহত্তম ঘটনায় প্রত্যক্ষ ভাবে ও পরোক্ষে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন প্রায় ৫ কোটি মানুষ। শুক্রবার ফেসবুকের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এ কথা জানানো হয়েছে। আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, কার কোন ধরনের, কী কী তথ্য চুরি হয়েছে, ক্ষতিগ্রস্তদের তা অবিলম্বে আলাদা আলাদা ভাবে জানিয়ে দেওয়া হবে। ফেসবুক থেকে জানানো হয়েছে, মোট ২ কোটি ৯০ লাখ ক্ষতিগ্রস্তের মধ্যে ১ কোটি ৪০ লাখের জন্মতারিখ, শিক্ষাগত যোগ্যতার শুরু থেকে শেষ, তাদের ধর্ম, জাতপাত কী, এই সব তথ্য চুরি করা হয়েছে। তাদের সবক’টি কর্মক্ষেত্রের হালহদিশ, তারা যে যন্ত্রের (কম্পিউটার, ল্যাপটপ, মোবাইল) মাধ্যমে ফেসবুকে অ্যাকসেস করেন, তার খুঁটিনাটি, তারা কোন কোন পেজ খোলেন, হালে কোন কোন পেজে অ্যাকসেস করেছেন, সেই সব তথ্যও চুরি হয়ে গিয়েছে।বাকি দেড় কোটি ক্ষতিগ্রস্তের নাম ও তারা কার কার সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন, সেই সব তথ্য চুরি করা হয়েছে। সাইবার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ওই সব তথ্য চুরি হওয়ার ফলে, ক্ষতিগ্রস্তদের আগামী দিনে ‘ফিশিং’ হানায় আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা অনেক গুণ বেড়ে গেল। তবে তথ্য-চুরির ঘটনার জেরে ফেসবুকের ভাবমূর্তি যে ভাবে ধাক্কা খেয়েছিল, গত কালের ঘোষণায় তা কিছুটা পুনরুদ্ধার হয়েছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। শুক্রবার ওয়াল স্ট্রিটে ফেসবুকের শেয়ার-সূচক ০.২৫ শতাংশ বেড়ে যায়। ‘নাসডাক’ সূচক বাড়ে ২.২৯ শতাংশ। ফেসবুকের ভাইস প্রেসিডেন্ট গাই রোজেন সাংবাদিকদের জানান, মার্কিন প্রশাসন হানাদারদের দেশ, এলাকা, কর্মক্ষেত্রের যাবতীয় খুঁটিনাটি চেয়েছে। কী উদ্দেশ্যে হানাদাররা ওই তথ্য চুরি করেছে তা স্পষ্ট হয়নি। ফেসবুকের তরফে গত কাল কিন্তু হানাদারদের দেশ, এলাকা, কর্মক্ষেত্র সম্পর্কে কিছুই জানানো হয়নি। কোন দেশে কত জন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, ফেসবুকের তরফে আলাদা আলাদা ভাবে সেটাও জানানো হয়নি। ফেসবুক জানিয়েছে, তাদের তদন্ত শেষ হয়নি। তবে প্রাথমিক তদন্তে যেটুকু তথ্য মিলেছে, তার ভিত্তিতে বলা যায়, হ্যাকাররা তথ্য চুরির পর ‘হ্যাক’ করা ফেসবুক অ্যাকাউন্টগুলি থেকে তাদের ইচ্ছা মতো কোনও পোস্ট করেনি। সূত্র-আনন্দবাজার আরকে//

সমলিঙ্গের মানুষ থেকেও কি বাচ্চা জন্ম দেওয়া সম্ভব?

দুটি সমলিঙ্গের ইঁদুর মিলে কি একটি বাচ্চা ইঁদুরের জন্ম দিতে পারে? জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এর মাধ্যমে কাজটা করে দেখিয়েছেন চীনের বিজ্ঞানীরা। দুটি মা ইঁদুর থেকে জন্ম নিয়েছে একটি বাচ্চা ইঁদুর, কোনও বাবা ইঁদুরের দরকার পড়েনি। প্রাণী জগতে প্রজননের নিয়ম পাল্টে দেওয়া এই গবেষণাটি চালায় চীনের একাডেমি অব সায়েন্স। চীনের বিজ্ঞানীরা বলছেন, দুটি মা ইঁদুর থেকে জন্ম নেওয়া এই বাচ্চা ইঁদুরগুলো একেবারেই সুস্থ ও স্বাভাবিক। তারাও পরবর্তীতে বাচ্চা ইঁদুরের জন্ম দিয়েছে। একই পরীক্ষা পুরুষ ইঁদুরদের ওপরও চালানো হয়। সেখানেও জন্ম দেওয়া সম্ভব হয়েছে বাচ্চা ইঁদুরের, কিন্তু সে সব বাচ্চা বেশি দিন বাঁচিয়ে রাখা যায়নি। কয়েক দিন পরেই মারা গেছে। যে কারণে এই অভিনব পরীক্ষা গবেষকরা আসলে একটি মৌলিক প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন। প্রজননের জন্য দুই বিপরীত লিঙ্গ আসলে কতটা অপরিহার্য। মানুষ থেকে শুরু করে সব ধরণের স্তন্যপায়ী প্রাণীর ক্ষেত্রে কেবল দুই বিপরীত লিঙ্গের মিলনের মাধ্যমেই নতুন বাচ্চা জন্ম দেওয়া সম্ভব। মায়ের কাছ থেকে দরকার হবে ডিম্বাণু, বাবার কাছ থেকে শুক্রাণু। কিন্তু বিশ্বের অন্য অনেক ধরণের প্রাণীর বেলায় কিন্তু এই একই নিয়ম প্রযোজ্য নয়। কিছু মাছ, সরীসৃপ, উভচর এবং পাখি কিন্তু একা একাই প্রজননের কাজটি করতে পারে। কিন্তু চীনের বিজ্ঞানীরা এখন যে কাজটি করে দেখালেন, তার মানে কি প্রজননের ক্ষেত্রে পুরুষের অপরিহার্য ভূমিকা ফুরিয়ে গেল? কুমারীর পক্ষে কি তাহলে এখন সন্তান জন্ম দেওয়া সম্ভব, যাকে বলা হয় ‘পার্থেনোজেনেসিস।’ প্রজননের ক্ষেত্রে যে নিয়ম-কানুন, তার কোনটি ভাঙ্গতে পারলে একই লিঙ্গের দুজনকে ব্যবহার করে নতুন প্রাণীর জন্ম দেওয়া সম্ভব, সেটাই চীনা গবেষকরা জানার চেষ্টা করছিলেন। এটি জানতে পারলে এটাও বোঝা সম্ভব কেন এসব নিয়ম এত গুরুত্বপূর্ণ। যেভাবে তারা এই কাজটি সম্ভব করলেন খুব সহজ করে বলতে গেলে সর্বাধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ব্যবহার করে। দুই মা ইঁদুর থেকে বাচ্চা ইঁদুর জন্ম দেওয়ার কাজটা ছিল অনেক সহজ। তারা একটি মেয়ে ইঁদুর থেকে একটি ডিম্বাণু নিয়েছেন। আর দ্বিতীয় মেয়ে ইঁদুর থেকে নিয়েছেন এক ধরণের বিশেষ সেল বা কোষ। এগুলোকে বলা হয় ‘হ্যাপলয়েড এমব্রোয়োনিক স্টেম সেল।’ নতুন প্রাণের জন্ম দেওয়ার জন্য যত জেনেটিক কোড বা ডিএনএ দরকার, এই দুটিতে ছিল তার অর্ধেক অর্ধেক। কিন্তু দুটিকে মেলানোই যথেষ্ট নয়। বিজ্ঞানীরা ‘জিন এডিটিং’ এর মাধ্যমে এই দুটি থেকে তিন জোড়া করে জেনেটিক কোড ডিলিট করেছেন বা মুছে ফেলেছেন যাতে করে তাদের মধ্যে মিলন সম্ভব হয়। তবে দুই বাবা ইঁদুরের ক্ষেত্রে কৌশলটা ছিল একটু ভিন্ন ধরণের। বিজ্ঞানীরা একটি পুরুষ ইঁদুর থেকে নিয়েছেন একটি শুক্রাণু, অন্য পুরুষ ইঁদুর থেকে নিয়েছেন একটি হ্যাপলয়েড এমব্রোয়োনিক স্টেম সেল। এটি আসলে এক ধরণের ডিম্বাণু, যা থেকে ‘জিন এডিটিং’ এর মাধ্যমে অনেক তথ্য মুছে ফেলা হয়েছে। যা জানতে পারলেন বিজ্ঞানীরা এই যে প্রকৃতির নিয়ম ভেঙ্গে চীনা বিজ্ঞানীরা একই লিঙ্গের ইঁদুর ব্যবহার করে বাচ্চা জন্ম দিতে সফল হয়েছেন, এ থেকে তারা কী জানতে পারলেন? কী শিখলেন? প্রজননের ক্ষেত্রে দুই বিপরীত লিঙ্গ কেন অপরিহার্য তা বুঝতে পেরেছেন বিজ্ঞানীরা। এক্ষেত্রে দু ধরণের বিপরীত লিঙ্গের দরকার পড়ে। কারণ আমাদের ডিএনএ বা জেনেটিক কোড বাবা নাকি মা, কার কাছ থেকে আসছে, তার ভিত্তিতে ভিন্ন ভিন্ন আচরণ করে। জেনেটিক কোডের একটি যদি পুরুষ এবং একটি নারী থেকে না আসে তাহলে আমাদের পুরো শারীরিক-মানসিক বিকাশ গোলমেলে হয়ে পড়ে। অর্থাৎ আমাদের যে ডিএনএ শুক্রাণু থেকে এবং যে ডিএনএ ডিম্বাণু থেকে আসে, তাতে ভিন্ন ভিন্ন ধরণের ‘ছাপ’ থাকে। এটিকে বলে ‘জেনোমিক ইমপ্রিন্টিং’। সেটাই আসলে নির্ধারণ করে কিভাবে এই দুয়ের সংযোগে নতুন কি তৈরি হবে। এই জেনোমিক ইমপ্রিন্টিং এর ক্ষেত্রে যদি কোনও ভুল হয়, তখন নানা রকম রোগ হতে পারে, যেমন ‘অ্যাঞ্জেলম্যান সিনড্রোম।’ চীনা বিজ্ঞানীরা যখন একই লিঙ্গের ইঁদুর ব্যবহার করে নতুন বাচ্চা ইঁদুরের জন্ম দিয়েছেন, তখন তাদের জেনেটিক এডিটিং এর মাধ্যমে এই জেনোমিক ইমপ্রিন্টিং বা ছাপ সংশোধন করতে হয়েছে বা মুছে ফেলতে হয়েছে। যাতে করে নতুন ইঁদুর জন্ম দেওয়া সম্ভব হয়, সেটিকে বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব হয়। এই পরীক্ষা যারা চালিয়েছেন, তাদের একজন ড. ওয়েই লি বলেন, ‘আমরা এই গবেষণার মাধ্যমে বুঝতে পেরেছি কী করা সম্ভব। আমরা দেখেছি দুই মা থেকে যে বাচ্চা ইঁদুর হচ্ছে, তাদের ক্ষেত্রে অনেক ত্রুটি সারিয়ে তোলা সম্ভব। স্তন্যপায়ী প্রাণীর ক্ষেত্রে দুই বিপরীত লিঙ্গের অপরিহার্যতাকে অতিক্রম করা সম্ভব।’ তার মানে কী একই লিঙ্গের মানুষ থেকে মানবশিশুর জন্ম সম্ভব? এর উত্তর হচ্ছে- না, খুব সহসা এটি সম্ভব হবে না। ইউনিভার্সিটি অব অকল্যান্ডের ড. টেরেসা হোম বলেন, দীর্ঘ মেয়াদে এর সম্ভাবনা আছে। ‘এই গবেষণার মাধ্যমে একই লিঙ্গের যুগলরা নিজেরাই যেন স্বাস্থ্যবান শিশুর জন্ম দিতে পারেন, তার পথ খুলে যেতে পারে।’ তবে তিনি এটি মনে করিয়ে দিচ্ছেন যে, এই পথে অনেক গুরুত্বপূর্ণ নৈতিক প্রশ্নের মীমাংসার দরকার হবে। অনেক ধরণের ঝুঁকি মোকাবেলার উপায় খুঁজে বের করার দরকার হবে। তার মতে যতদিন পর্যন্ত বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত না হবেন যে এভাবে জন্ম নেওয়া শিশু শারীরিক এবং মানসিকভাবে আর দশটা শিশুর মতই বেড়ে উঠতে পারবে, ততদিন এটা ঘটবে না। চীনা বিজ্ঞানীরা এই প্রক্রিয়ায় যে সব ইঁদুরের জন্ম দিয়েছেন, সেগুলো কতটা স্বাভাবিক তা নিয়ে অনেকের সংশয় আছে। ফ্রান্সিস ক্রিক ইনস্টিটিউটের ড. রবিন লোভেল-ব্যাজ বলেন, ‘দুটি মা ইঁদুর ব্যবহার করে যেখানে বাচ্চা ইঁদুরের জন্ম দেওয়া হয়েছেও সেখানেও আমি নি:সন্দেহ নই যে সেগুলো স্বাভাবিক। সেখানে সাফল্যের হার কিন্তু অনেক নীচে। আমার মনে হয় না এ রকম কিছু করার কথা কেউ ভাববে।’ কাজেই প্রজননের ক্ষেত্রে লিঙ্গ এখনও অপরিহার্য। এটির প্রয়োজন খুব শীঘ্রই ফুরিয়ে যাবে, এমনটা বলা যাচ্ছে না। সূত্র: বিবিসি একে//

ভিনগ্রহে প্রাণ খোঁজার যত রকম চেষ্টা

এই বিশ্বব্রহ্মাণ্ডে আমরাই কি একমাত্র প্রাণী? পৃথিবী ছাড়া অন্য কোথাও কি আমাদের কোনও প্রতিবেশী আছে? মানুষ শত শত বছর ধরে এমন প্রশ্ন করে আসছে। আর সে নিয়ে রয়েছে বিজ্ঞানীদের গবেষণা, প্রচলিত গল্প, কল্পকাহিনী, নানা ধারনা ও উদ্ভট তত্ত্ব। গ্যালিলিও ও তার টেলিস্কোপ বলা হয়, গ্যালিলিও সতের শতকের শুরুর দিকে যখন তার অধিক শক্তিশালী টেলিস্কোপটি আবিষ্কার করেন, তখন থেকে মানুষের মধ্যে আকাশে কি আছে সে নিয়ে কৌতূহল অনেক বেশি বেড়ে যায়। খালি চোখে মহাকাশের তারা দেখার চেয়েও টেলিস্কোপে চোখ রাখা অনেক বেশি চমকপ্রদ হয়ে ওঠে। চাঁদের গায়ে যে কালো ছোপ দেখা যায় সে সময় সেগুলো সামুদ্রিক পানি বলে মনে করা হতো। পৃথিবীর সমুদ্রের মতো সেখানেও কি নানা ধরনের প্রাণী গিজগিজ করে? এমন প্রশ্ন উঠেছিলো। ল্যাটিন ভাষায় ‘মারিয়া’ অর্থ সমুদ্র। চাঁদের বুকের সেই সমুদ্রকে বলা হয়েছিলো ‘লুনার মারিয়া’। তবে এখন বিজ্ঞানীরা জানেন যে চাঁদের বুকে যে কালো ছোপ দেখা যায় তা আসলে আগ্নেয় শিলা। মঙ্গলগ্রহের প্রতিবেশীরা মানুষের চেয়ে লম্বা হবে? হলিউডের সিনেমায় প্রায়শই ভিনগ্রহের মানুষ বা ‘এলিয়েন’ কেমন হবে তার একটি নিয়মিত চরিত্র দেখা যায়। যেমন তার গায়ের রঙ সবুজ, বিশালাকার মাথায় ঘিলুর পরিমাণ অনেক, লম্বাটে মুখ, চকচকে কালো চোখ চোখ ইত্যাদি। ১৮৭০ এর দিকে জ্যোতির্বিজ্ঞানী উইলিয়াম হার্শেল একটি তত্ত্ব দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, মঙ্গলগ্রহের প্রাণীরা মানুষের থেকে লম্বা হবে। তিনি গ্যালিলিয়র সময়ের চেয়েও আরও শক্তিশালী টেলিস্কোপ দিয়ে মঙ্গলগ্রহের আকার ও মৌসুম পর্যবেক্ষণ করতেন। তার হিসেবে মঙ্গলগ্রহ যেহেতু পৃথিবীর চেয়ে আকারে ছোট, তাই তার মাধ্যাকর্ষণ শক্তি পৃথিবীর চেয়ে কম হবে। অতএব সেখানে যে প্রাণ রয়েছে তাদের পক্ষে লম্বা হওয়া সম্ভব হবে। অর্থাৎ মার্শানরা মানুষের চেয়ে লম্বা। বোকা ও বুদ্ধিমান এলিয়েন ভিন গ্রহের প্রাণীরা কেমন হবে সে নিয়ে যে শুধু বিজ্ঞানীরাই কৌতূহলী ছিলেন তা নয়। দার্শনিকরাও আগ্রহী ছিলেন। যেমন ধরুন দার্শনিক ইম্যানুয়েল কান্ট তাদের একজন। তিনি বলতেন, সূর্য থেকে দূরত্বের উপর ভিনগ্রহের প্রাণীদের বুদ্ধি নির্ভর করে। তার মতে, যেহেতু বুধ গ্রহ সূর্যের সবচাইতে কাছে তাই সেখানে যে সব প্রাণী আছে তারা হাবাগোবা বা গবেট ধরনের হবে। আর শনি গ্রহের প্রাণীরা অত্যন্ত উর্বর মস্তিষ্কের হবে। এলিয়েন বা ভিনগ্রহের প্রাণী শুমারি আপনি আদম শুমারি সম্পর্কে নিশ্চয়ই শুনেছেন। কিন্তু ভিন গ্রহের প্রাণী শুমারি সম্পর্কে কিছু জানেন? ১৮৪৮ সালের দিকে স্কটল্যান্ডের চার্চের একজন আচার্য ছিলেন থমাস ডিক। তিনি একই সঙ্গে বিজ্ঞানের শিক্ষক ছিলেন। তিনি সৌর জগতে কত ভিনগ্রহের প্রাণী আছে তার একটি শুমারি করার উদ্যোগ হাতে নিয়েছিলেন। ইংল্যান্ডে তখন প্রতি স্কয়ার মাইলে ২৮০ জন বসবাস করতো। ইংল্যান্ডের জনবসতির ঘনত্বের সঙ্গে তুলনা করে তিনি হিসাব দিয়েছিলেন যে তাহলে মহাশূন্যে ২২ হাজার কোটি অধিবাসী রয়েছে। কেমন হবে চাঁদের জীবন? এতদিন পর এমন একটা ধারণা পাওয়া গেছে যে, সৌর জগতে যদি প্রাণের অস্তিত্ব থাকেই তবে তাদের বাস সম্ভবত মঙ্গলগ্রহের মতো পৃথিবীর কাছের গ্রহে হবে না। বরং আরও দুরের চাঁদ যেমন ইওরোপা অথবা এনসেলাদাসে প্রাণের অস্তিত্ব পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। ইওরোপা বৃহস্পতি গ্রহের কক্ষপথ প্রদক্ষিণ করে। আর এনসেলাদাস শনির একটি উপগ্রহ। এই দুটি চাঁদেই রয়েছে পুরু বরফে আচ্ছাদিত আবরণ। যার নিচে রয়েছে তরল সমুদ্র। ধারনা করা হয়, বরফের আবরণের নিচের অংশটি তরল থাকার কারণ নিশ্চয়ই সেখানে কোনও ধরনের তাপের কোনও উৎস রয়েছে। পৃথিবীতে সমুদ্রের তলদেশে এক ধরনের তাপ নির্গমন হওয়ার ফাটল বা রন্ধ্র রয়েছে। যার ফলে সেখানে এক ধরনের রাসায়নিক বিক্রিয়া হয়। যা জলজ জীবের জন্য খাদ্য প্রস্তুতে সহায়তা করে। ইওরোপা অথবা এনসেলাদাস চাঁদেও হয়ত এই একই প্রক্রিয়া থাকতে পারে বলে মনে ধারণা করা হচ্ছে। এসব চাঁদে যদি প্রাণের অস্তিত্ব সত্যিই থাকে তাহলে তারা দেখতে কেমন হবে সে নিয়ে রয়েছে নানা জল্পনা কল্পনা। অনেক ক্ষেত্রে মানুষের কল্পনা শক্তি ভিনগ্রহের প্রাণীদের উদ্ভট, কুৎসিত অথবা হিংস্র ধরনের প্রাণী বলেই আশংকা করে মিথেন গ্যাসের সন্ধান জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা অনুমান করেন যে ছায়াপথে পৃথিবীর মতো ৪০ বিলিয়ন গ্রহ থাকতে পারে। বিজ্ঞানীরা সৌরজগতের বাইরে প্রায় চার হাজারের মতো গ্রহ সনাক্ত করেছে। যাকে বলা হচ্ছে ‘এক্সোপ্ল্যানেট’। এত বিপুল সংখ্যক গ্রহে কিভাবে প্রাণের উৎস খোঁজেন বিজ্ঞানীরা? পৃথিবীতে যত জীবজন্তু রয়েছে তাদের সবার শরীর থেকে বর্ণ ও গন্ধহীন মিথেন গ্যাস নির্গমন হয়। উইপোকা থেকে গরু সব জীবজন্তুর শরীর থেকেই মিথেন গ্যাস বের হয়। বিজ্ঞানীরা মিথেন গ্যাস, অক্সিজেন, ওজোন ইত্যাদির মিশ্রণের উৎস সনাক্ত করার চেষ্টা করেন। তবে আগ্নেয়গিরি থেকেও মিথেন গ্যাস বের হয়। বিজ্ঞানীরা মনে করেন, পৃথিবীর বাইরে প্রাণের উৎস থাকার সবচাইতে আদর্শ যায়গা হল ‘এক্সোপ্ল্যানেট’। কারণ হল এর পরিবেশ। ‘এক্সোপ্ল্যানেট’ নিজেদের নক্ষত্রপুঞ্জ থেকে খুব বেশি দুরে নয় অথবা খুব কাছেও নয়। তাই তাদের আবহাওয়া খুব গরম নয় অথবা ঠাণ্ডাও নয়। তাই এসব ‘এক্সোপ্ল্যানেটেই’ প্রাণের উৎস থাকার সম্ভাবনা বেশি বলে মনে করেন অনেক বিজ্ঞানীরা। অতএব এখানেই আপাতত বেশি মনোযোগ দেওয়া উচিত বলে মনে করছেন তারা। সূত্র: বিবিসি একে//

বিশ্বব্যাপী ৪৮ ঘণ্টা ইন্টারনেট সমস্যা থাকতে পারে 

বিশ্বব্যাপী ৪৮ ঘন্টার জন্য ইন্টারনেট সেবায় সমস্যা দেখা দিতে পারে। মূল ডোমেইন সার্ভার ও এ সংশ্লিষ্ট নেটওয়ার্ক অবকাঠামো এ সময়ের জন্য বন্ধ থাকতে পারে। বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।      রাশিয়া টুডের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, আগামী ৪৮ ঘণ্টায় মূল ডোমেইন সার্ভার নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ (রুটিন মেইনটেন্যান্স) কাজ হবে। এতে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের নেটওয়ার্ক সমস্যায় পড়তে হতে পারে।   আইসিএএনএন মেইনটেন্যান্স করে এখানের ক্রিপটোগ্রাফিক কি পরিবর্তন করবে। আর যা ডোমেইন নেম সিস্টেম (ডিএনএস) অথবা ইন্টারনেট অ্যাড্রেস বুক রক্ষা করতে সাহায্য করবে। কমিউনিকেশন রেগুলেটরি অথরিটির (সিআরএ) তথ্য অনুযায়ী, ক্রিপটোগ্রাফিক কি পরিবর্তন করা ডোমেইনের জন্য নিরাপদ, স্থিতিশীল এবং সক্রিয় রাখার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। সিআরএ বলছে, বারবার স্পষ্ট করে বলছি, ক্রিপটোগ্রাফিক কি পরিবর্তন করতে গিয়ে নেটওয়ার্ক অপারেটর অথবা ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার (আইএসপিএস) যদি ভালো করে প্রস্তুতি নিতে না পারে তাহলে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরা মাঝে মাঝে কিছু সমস্যায় প্রভাবিত হতে পারেন। প্রতিষ্ঠানটি বলছে, তারপরও রক্ষণাবেক্ষণের কাজটি যতোটা সম্ভব উপযুক্ত সিস্টেম নিরাপত্তা এক্সটেনশন সক্রিয় করে করার চেষ্টা চলছে। যাতে করে ইন্টারনেট ব্যবহারকারী প্রভাবিত না হন। বিশ্বব্যাপী সাইবার হামলা প্রতিরোধ করতে ক্রিপটোগ্রাফিক কি পরিবর্তন করা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই মেইন ডোমেইন সার্ভারকে সাপোর্ট দিতে সেটাকে মেইনটেন্যান্স করতে সাময়িক সময়ের জন্য এটি বন্ধ করা লাগতে পারে। এসি    

© ২০১৮ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি