ঢাকা, শুক্রবার   ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মরিয়মের আত্মহত্যায় প্ররোচনা মামলা: এমপি নজরুলের গাড়িচালক ওবায়দুর কারাগারে

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ২২:১০, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ২২:১১, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

Ekushey Television Ltd.

সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় তাঁর গাড়িচালক ও মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলামের আদালত তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ওবায়দুরকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই রফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, আসামিপক্ষ থেকে এদিন জামিনের কোনো আবেদন করা হয়নি।

এর আগে ডিবি পুলিশের তেজগাঁও জোনাল টিমের পরিদর্শক মোহাম্মদ সালাউদ্দিন ওবায়দুরকে আদালতে হাজির করে তাঁকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়, মরিয়মের আত্মহত্যার ঘটনায় ওবায়দুরের সম্পৃক্ততার বিষয়ে তদন্তে সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে।

তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনে আরও বলা হয়, মরিয়মের সঙ্গে গাজী নজরুল ইসলামের বিয়ের আগ থেকেই ওবায়দুর বিভিন্ন কাজে নজরুলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। মামলার তদন্ত সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন ও ন্যায়বিচারের স্বার্থে তাঁকে কারাগারে রাখার আবেদন করা হয়েছে। প্রয়োজনে পরবর্তী সময়ে তাঁর রিমান্ডও চাওয়া হবে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়।

গত ২০ সেপ্টেম্বর রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের সংসদ সদস্যদের আবাসিক এলাকা ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর ভবনের তৃতীয় তলার একটি ফ্ল্যাট থেকে মরিয়ম খাতুনের (১৯) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

এ ঘটনায় মরিয়মের বাবা মো. মাসুম বিল্লাহ বাদী হয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা করেন। মামলায় গাজী নজরুল ইসলাম, তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম এবং ওবায়দুর রহমানকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়, গত জুনে গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে মরিয়মের ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী বিয়ে হয়। ওবায়দুরের প্রত্যক্ষ প্ররোচনায় এ বিয়ে হয়েছিল বলেও এজাহারে দাবি করা হয়েছে।

মরিয়ম তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিভিন্ন সময়ে ফোন করে স্বামী গাজী নজরুল ও তাঁর প্রথম স্ত্রীর বিরুদ্ধে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ জানিয়েছিলেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

এজাহার অনুযায়ী, ২০ সেপ্টেম্বর বিকেলে গাজী নজরুল মরিয়মের বাবাকে দ্রুত বাসায় আসতে বলেন। সেখানে গিয়ে তিনি দেখতে পান, একটি কক্ষে মরিয়ম ওড়না পেঁচিয়ে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলছিলেন। পরে পুলিশের সহায়তায় দরজা ভেঙে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থলে একটি সুইসাইড নোট পাওয়ার কথাও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

মরিয়মকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন এবং আসামিদের প্ররোচনার কারণে তিনি আত্মহত্যা করেছেন—এমন অভিযোগ করেছেন তাঁর বাবা।

এর আগে গত জুলাইয়ে গাজী নজরুল ইসলাম ও মরিয়মের ব্যক্তিগত মুহূর্তের কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়।

এরপর ২২ জুলাই বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করে। দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়, সাংগঠনিক তদন্তে তাঁর নৈতিক স্খলনের বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ায় গঠনতন্ত্রের ৬২ নম্বর ধারা অনুযায়ী এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বিষয়টি নির্বাচন কমিশনকেও জানানো হয়।

ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর অনৈতিক সম্পর্কের প্রতিবাদ এবং ভিডিও ফাঁসের সন্দেহে তাঁকে মারধর ও শ্বাসরোধ করে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে গত ২১ জুলাই পল্লবী থানায় মামলা করেন ওবায়দুর রহমান। ওই মামলায় গাজী নজরুল ইসলাম হাইকোর্ট থেকে গত ১০ আগস্ট আট সপ্তাহের জামিন পান। সেই মামলার বাদী ওবায়দুর রহমানই এবার মরিয়ম খাতুনের আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় আসামি হয়ে কারাগারে গেলেন।

এমএইচ 
 


Ekushey Television Ltd.

© ২০২৬ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি