ঢাকা, মঙ্গলবার   ১৭ মার্চ ২০২৬

বিশ্বকাপে বুড়ো হয়েও জোয়ান যারা

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ১১:৪১, ১৫ জুন ২০১৮ | আপডেট: ১১:৪৪, ১৫ জুন ২০১৮

Ekushey Television Ltd.

ফুটবল খেলতে গেলে শারীরিক কসরত বা গলধঘর্ম হবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। কিন্তু অপেক্ষাকৃত বয়স বেশি বা বুড়ো বয়সে এ কসরত করা সবার পক্ষে সম্ভব হয় না। সবাই যেটা পারে না, বুড়ো বয়সে সেই না পারা বিষয়টি যারা করে দেখাতে পারেন। তারাই হয় সেরা পারফর্মার বা রেকর্ডের অধিকারী। তাদের নিয়েই গোলডটকম বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি বয়সী খেলোয়াড়ের একটি তালিকা প্রকাশ করেছে। রাশিয়া বিশ্বকাপকে সামনে রেখে জেনে নিন সেই বুড়োদের সম্পর্কে -

১.মারিও ইয়েপেস (কলম্বিয়া, ৩৮ বছর ৫ মাস ২১ দিন) : প্যারিস সেইন্ট-জার্মেইর সাবেক সেন্টার ব্যাক মারিও ইয়েপেস কলম্বিয়ার হয়ে ১০২টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে অংশ নিয়েছেন। ১৯৯৯ সালে সিনিয়র দলে তার অভিষেক হয়ে ২০১৪ সালে ব্রাজিল বিশ্বকাপের মাধ্যমে শেষ হয়। ঐ আসরে কলম্বিয়া কোয়ার্টার ফাইনালে ব্রাজিলের মুখোমুখি হয়। ম্যাচটিতে অধিনায়কত্ব করা ইয়েপেসের তখন বয়স ছিল ৩৮ বছর।

২. ভিটোর ডামাস (পর্তুগাল, ৩৮ বছর ৮ মাস ৩ দিন) : ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপে পর্তুগাল তিনটি ম্যাচ খেলেছিল। এক ম্যাচে ইংল্যান্ডকে ১-০ গোলে পরাজিত করলেও বাকি দুটি ম্যাচে পরাজিত হয়ে গ্রুপের একেবারে তলানির দল হিসেবে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেয়। ডামাস ইনজুরি আক্রান্ত ম্যানুয়েল বেনটোর স্থানে দুটি পরাজিত ম্যাচেই খেলেছেন। মেক্সিকো থেকে ফিরেই তিনি অবসরের ঘোষণা দেন।

৩. ডেভিড সিম্যান (ইংল্যান্ড, ৩৮ বছর, ৯ মাস ২ দিন) : ২০০২ সালের ইংল্যান্ড দলটিকে সমর্থকরা স্বর্ণযুগের দল হিসেবে অভিহিত করলেও নিজেদের নামের প্রতি সুবিচার করতে পারেনি ইংলিশরা। কোরিয়া/জাপান বিশ্বকাপে কোয়র্টার ফাইনালে গিয়ে তাদের থেমে যেতে হয়। ঐ আসরে ৩৮ বছর বয়সী খেলোয়াড় হিসেবে সিম্যান থ্রি লায়ন্সদের দলে সবচেয়ে সিনিয়র খেলোয়াড় হিসেবে অংশ নিয়েছিলেন।

৪. ইয়ান হেইন্টজে (ডেনমার্ক, ৩৮ বছর ৯ মাস ২০ দিন) : পিএসভির সাবেক ফুল-ব্যাক হেইন্টজে ডেনমার্কের হয়ে রেকর্ড ৮৬টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন। ২০০২ সালের কোরিয়া-জাপান বিশ্বকাপের পরে তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শেষ হয়। ঐ বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে সেনেগালের সাথে ১-১ গোলের ড্র ম্যাচটিতে ৩৮ বছর বয়সে অধিনায়কত্ব করেছিলেন হেইন্টজে। তবে ইংল্যান্ডের কাছে পরাজিত হয়ে শেষ ১৬ থেকে বিদায় নেয়া ড্যানিশ দলে জায়গা করতে পারেননি।

৫. স্ট্যানলি ম্যাথুস (ইংল্যান্ড, ৩৯ বছর ৪ মাস ২৫ দিন) : ১৯৫৭ সালে থ্রি লায়ন্সদের হয়ে ক্যারিয়ারের ইতি টানেন স্ট্যানলি ম্যাথুস। ১৯৫৪ সালে সুইজারল্যান্ড বিশ্বকাপই ছিল তার শেষ বিশ্বকাপ। উরুগুয়ের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে ৪-২ গোলের জয়ের ম্যাচটিতে ৩৯ বছর বয়সে অংশ নিয়েছিলেন স্ট্যানলি।

৬. জোসেফ এন্টোনি বেল (ক্যামেরুন, ২৯ বছর, ৮ মাস ১৬ দিন) :

মার্সেই ও সেইন্ট-এটিয়েনের সাবেক গোলকিপার জোজো বেল ক্যামেরুনের হয়ে ৫২টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে অংশ নিয়েছেন। এছাড়াও ক্যারিয়ারে ১৯৮২, ১৯৯০ ও ১৯৯৪ সালের বিশ্বকাপে খেলার অভিজ্ঞতা তার রয়েছে। ৯৪ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের বিপক্ষে ৩-০ গোলের পরাজয়ের ম্যাচটিই ছিল তার শেষ বিশ্বকাপ ম্যাচ, ঐ ম্যাচে তার বয়স ছিল ৩৯ বছর।

৭. অ্যাঞ্জেল লাব্রুনা (আর্জেন্টিনা, ৩৯ বছর ৮ মাস ১৮দিন) : রিভার প্লেটের আইকন অ্যাঞ্জেল লাব্রুনা ১৯৫৮ সালে চেক রিপাবলিকের কাছে ৬-১ গোলে বিধ্বস্ত হবার ম্যাচটিতে আজেন্টাইন দলের আক্রমনভাগের নেতৃত্বে ছিলেন। ঐ আসরে ৩৯ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড কোন গোল করতে পারেননি। আর্জেন্টিনার হয়ে ৩৭ ম্যাচে তিনি সর্বমোট ১৭টি গোল করেছিলেন।

৮. ডেভিড জেমস (ইংল্যান্ড, ৩৯ বছর ১০ মাস ২৬ দিন) : ২০১০ সালে জাতীয় দল থেকে অবসরের ঠিক আগে ডেভিড জেমসের সাথে ইংল্যান্ড দলের সম্পর্কটা অনেকটাই আবেগপূর্ণ ছিল। ঐ বছরই দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপের মাধ্যমে ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ ম্যাচ খেলেছেন জেমস। প্রায় ৪০ বছর বয়সে জার্মানীর কাছে ৪-১ গোলের পরাজিত ম্যাচটি ছিল তার ক্যারিয়ারের শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ।

৯. জিম লেইটন (স্কটল্যান্ড, ৩৯ বছর ১০ মাস ৩০ দিন) : ১৯৯৮ সালে স্কটল্যান্ডের হয়ে শেষ বিশ্বকাপ খেলেছেন লেইটন। আসরটিতে স্কটল্যান্ড কোন সাফল্যই দেখাতে পারেনি। গ্রুপ পর্বে ব্রাজিল ও মরক্কোর কাছে পরাজিত হলেও নরওয়ের সাথে কোনরকমে ড্র করে। আর এর মাধ্যমে জিম লেইটন ও তার স্কটিশ সতীর্থরা খালি হাতে দেশে ফিরে। তিনটি ম্যাচেই খেলা লেইটনের তখন বয়স ছিল ৪০ বছর।

১০. আলি বোমনিজেল (তিউনিশিয়া, ৪০ বছর ২ মাস ১০ দিন) : ২০০৬ সালে ইউক্রেনের কাছে ১-০ গোলের পরাজয়ের ম্যাচটিতে ৪০ বছর বয়সী আলি বোমনিজেল ছিলেন তিউনিশিয়ার নাম্বার ওয়ান খেলোয়াড়। গ্রুপ পর্বে তিউনিশিয়া তৃতীয় স্থান লাভ করে। এর এক বছর পরেই বোমনিজেল আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দেন।

১১. ডিনো জফ (ইটালি, ৪০ বছর ৪ মাস ১৩ দিন) : ১৯৮২ সালের বিশ্বকাপে কিংবদন্তিগোলকিপার ডিনো জফ নিজেকে দারুনভাবে প্রমান করেছিলেন। মাদ্রিদের ৯০ হাজার দর্শকের সামনে পশ্চিম জার্মানীকে ৩-১ গোলে হারিয়ে ইটালির শিরোপা দখল করার মূল কারিগর ছিলেন জফ। এর আগে টুর্নামেন্টে ইটালি চতুর্থ স্থান লাভ করেছিল, ঐ আসরেও খেলেছিলেন জফ।

১২. পিটার শিলটন (ইংল্যান্ড, ৪০ বছর ৯ মাস ১৯ দিন) : ইংল্যান্ডের অন্যতম সফল এই গোলকিপার ৪০ বছর বয়সে সর্বশেষ বিশ্বকাপের ম্যাচ খেলেছেন। পশ্চিম জার্মানীর কাছে সেমিফাইনালে পরাজিত হবার পরে তৃতীয় স্থান নির্ধারনী ম্যাচটিতেও ২-১ গোলে পরাজিত হয়েছিল ইংল্যান্ড। ঐ ম্যাচটিই ছিল শিলটনের বিশ্বকাপ ক্যারিয়ারের সর্বশেষ ম্যাচ।

১৩. প্যাট জেনিংস (নর্দান আয়ারল্যান্ড, ৪১ বছর): ১৯৮৬ সালে নর্দান আয়ারল্যান্ডের হয়ে সর্বশেষ ম্যাচ খেলেছিলেন প্যাট জেনিংস। কিন্তু তারপরেও এখন পর্যন্ত দেশের হয়ে সর্বোচ্চ ম্যাচ খেলার রেকর্ড ধরে রেখেছেন। ১৯৮৬ সালে বিশ্বকাপের সর্বশেষ ম্যাচে ওয়ার্টফোর্ড, টটেনহ্যাম ও আর্সেনালের সাবেক এই গোলকিপার ব্রাজিলের বিপক্ষে ৪১ বছর বয়সে খেলতে নেমেছিলেন।

১৪. রজার মিলা (ক্যামেরুন, ৪২ বছর ১ মাস ৮ দিন) : ক্যামেরুনের সাবেক এই জাতীয় দলের খেলোয়াড় রজার মিলা তিনটি বিশ্বকাপে দেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৮২, ১৯৯০ ও ১৯৯৪ সালে তিনি বিশ্বকাপের আসরে নিজেকে মেলে ধরেছিলেন। রাশিয়ার বিপক্ষে ৬-১ গোলের পরাজয়ের ম্যাচটিতে ১৯৯৪ সালে বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি বয়সী খেলোয়াড় হিসেবে মিলা গোল করার কৃতিত্ব দেখিয়েছিলেন।

১৫. ফারিড মোনড্রাগন (কলম্বিয়া, ৪৩ বছর, ৩ দিন) : ৪৩ বছর বয়সে অংশ নিয়ে সাবক ইন্ডিপেন্ডেন্টে, গ্যালাতাসারে ও কোলনের গোলকিপার ফারিড মোনড্রাগন এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপে প্রতিনিধিত্ব করা সবচেয়ে বেশি বয়সী খেলোয়াড় হিসেবে রেকর্ড ধরে রেখেছেন। ২০১৪ সালে জাপানের বিপক্ষে ৪-১ গোলের জয়ের ম্যাচটিতে মোনড্রাগন এই রেকর্ড গড়েন।

আরকে//


Ekushey Television Ltd.

© ২০২৬ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি