শিল্পাঞ্চলে অস্থিরতার জন্য সরকারেই দায়ী: হান্নান মাসউদ
প্রকাশিত : ২১:৫৬, ৩ নভেম্বর ২০২৬
শিল্পাঞ্চলে চলমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতির জন্য সরকারের দূরদর্শিতার অভাব ও অপরিপক্ক সিদ্ধান্তকে দায়ী করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) রাজনৈতিক পর্ষদের সদস্য আব্দুল হান্নান মাসউদ এমপি।
নোয়াখালী-৬ আসনের এই সংসদ সদস্য শ্রমিকদের জন্য ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করার পাশাপাশি মালিক ও শ্রমিকদের সাথে আলোচনার মাধ্যমে এই সংকট সমাধানের আহ্বান জানান।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) জাতীয় শ্রমিক শক্তি আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
এনসিপির এই নেতা অভিযোগ করেন, বর্তমান প্রশাসন শ্রমিকদের ন্যায়সঙ্গত আন্দোলনকে বিগত আমলের স্বৈরাচারী কায়দায় দমন ও নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করছে। তার মতে, গত নয় মাসে রাষ্ট্র পরিচালনায় জনকল্যাণমুখী কোনো টেকসই পরিকল্পনা করা হয়নি। এর পরিবর্তে আর্থিক খাতে অনিয়ম, দুর্নীতি এবং রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের এজেন্ডাকেই প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।
গাজীপুর, সাভার, আশুলিয়া ও নারায়ণগঞ্জসহ বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলের সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, ভুল পরামর্শ ও অদক্ষ নির্দেশনার কারণে দেশের উৎপাদন খাত আজ সংকটে পড়েছে। গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বারবার বৃদ্ধির ফলে উৎপাদন খরচ বেড়ে গেছে। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে তৈরি পোশাক, সার ও চাল উৎপাদনসহ প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্পে।
শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির যৌক্তিকতা তুলে ধরে হান্নান মাসউদ বলেন, ২০২৩ সালে শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ২৫ হাজার টাকা করার দাবি উঠেছিল, যা তৎকালীন বিরোধী দলও সমর্থন করেছিল। বর্তমানের তীব্র মুদ্রাস্ফীতি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের আকাশছোঁয়া দামের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, জীবনযাত্রার ব্যয়ের সাথে সামঞ্জস্য রেখে শ্রমিকদের বেতন বাড়ানো এখন সময়ের দাবি।
আন্দোলনে বহিরাগতদের সংশ্লিষ্টতা নিয়ে সরকারের বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থা থাকা সত্ত্বেও কেন বিশৃঙ্খলাকারীদের দমন করা যাচ্ছে না, সরকারকে সেই জবাব দিতে হবে। শ্রমিক ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থতার দায় স্বীকার করে তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেন।
আন্তর্জাতিক বাজারের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এশিয়ার অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশের গার্মেন্টস শ্রমিকদের মজুরি অনেক কম। বন্দরে অনিয়ম, পরিবহনে চাঁদাবাজি ও প্রশাসনিক হয়রানি বন্ধ করা গেলে মালিকদের উৎপাদন খরচ অনেকটাই কমে আসবে, যা শ্রমিকদের বেতন বাড়াতে বড় ভূমিকা রাখবে।
বিকল্প উপায়ে দাবি আদায়ের হুঁশিয়ারি দিয়ে এই সংসদ সদস্য সতর্ক করেন যে, সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের ন্যায্য দাবিকে অবজ্ঞা করা হলে দেশের প্রতিটি খাতের মানুষ রাজপথে নামতে বাধ্য হবে। শ্রমিকদের ওপর বলপ্রয়োগ বা সংঘাতের পথ পরিহার করে আলোচনার মাধ্যমে শান্তি ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানান তিনি।
এমএইচ
আরও পড়ুন










