চবিতে হলের জায়গা দখল করে দোকান স্থাপন ছাত্রদল নেতার
প্রকাশিত : ২২:২৯, ৩ নভেম্বর ২০২৬
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) শিক্ষার্থীদের আবাসিক হলের জায়গা দখল করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই দোকান স্থাপনের অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের এক নেতার বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত শিশির মাহমুদ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের বিতর্ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। হলের সৌন্দর্য নষ্ট হওয়া এবং চলাচলের রাস্তা সংকুচিত হওয়ার এই ঘটনায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের শহিদ ফরহাদ হোসেন হলের পশ্চিম গেটের দেয়াল ঘেঁষে হলের জায়গা দখল করে এই দোকানটি নির্মাণ করা হয়েছে। হলের ডাইনিংয়ের প্রবেশপথসংলগ্ন এরিয়া এবং সৌন্দর্যবর্ধনকারী গাছগুলোর ঠিক মাঝখানে দোকানটি স্থাপন করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা। তাদের মতে, বাণিজ্যিক কার্যক্রমের জন্য অন্য জায়গা থাকতে পারে, কিন্তু হলের দেয়াল ঘেঁষে অবৈধ দোকান বসিয়ে গাড়ি চলাচল ও শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক যাতায়াতে বিঘ্ন ঘটানোর অধিকার কারও নেই।
এ বিষয়ে হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. এইচ এস ফারুক আলম জানান, শিক্ষার্থীদের অভিযোগ পাওয়ার পর অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতাকে দোকানটি দ্রুত সরিয়ে নিতে বলা হয়েছিল। কিন্তু বারবার বলার পরও তিনি হলের জায়গা থেকে স্থাপনাটি সরিয়ে নেননি। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ঊর্ধ্বতন প্রশাসনকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই অবৈধ স্থাপনার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। চবির এস্টেট প্রশাসক অধ্যাপক মোহাম্মদ মঞ্জুর মোর্শেদ স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই দোকানটি সম্পূর্ণ অবৈধভাবে স্থাপন করা হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে আগামীকালই (বুধবার) দোকানটি উচ্ছেদ করার জন্য প্রাশাসনিক টিম পাঠানো হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. কামরুল হোসেনও এই বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে বা হলে অবৈধভাবে দোকান রাখার অধিকার কারোরই নেই। প্রক্টর অফিস থেকে ইতিমধ্যেই একজনকে এই বিষয়ে উচ্ছেদ প্রক্রিয়া তদারকির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এবং দ্রুতই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে, হলের জায়গা দখলের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা শিশির মাহমুদের সাথে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে তার হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে ক্ষুদে বার্তা প্রেরণ করা হলেও তার পক্ষ থেকে কোনো ধরনের সাড়া মেলেনি।
এমএইচ
আরও পড়ুন










