ঢাকা, বুধবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ৩:৩৪:০৮

৬ উপায়ে চিনুন ইতিবাচক ও নেতিবাচক মানুষ

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ০৭:০২ পিএম, ১৭ আগস্ট ২০১৭ বৃহস্পতিবার | আপডেট: ০৬:৫৫ পিএম, ১৯ আগস্ট ২০১৭ শনিবার

নেতিবাচক মানুষদের সঙ্গ মানুষ উপভোগ করে না। এজন্য বেশিরভাগ মানুষই তাদেরকে এড়িয়ে চলে। নিজের আত্মসম্মানবোধ কমা থেকে শুরু করে জীবনে অনেক সমস্যা নিয়ে আসে নেতিবাচক মানুষ। নেতিবাচক মানুষদের সঙ্গ পায় অপর নেতিবাচক মানুষই! কিন্তু একসময় তারা একে অন্যের উপস্থিতি নিয়েও বিরক্ত হয়ে যায়। আর ইতিবাচক মানুষের ব্যাপারে এসবের উল্টো কথাই বলতে হয়।

আপনি ইতিবাচক না নেতিবাচক জেনে নিন নিচের ৬ টি বিষয় যাচাই করে।

ঝুঁকি বনাম নিরাপত্তা

নেতিবাচক মানুষের অন্যতম প্রধান পরিচায়ক তারা পরিবর্তনকে অপছন্দ করে। পরিকল্পনার বরখেলাপ তাদের মধ্যে চাপের সৃষ্টি করে। এ অনুভূতিটা তারা যে করেই হউক এড়াতে চায়। তারা চিরাচরিত রীতি নীতির মধ্যে স্বাচ্ছন্নবোধ করে। এবং কোনো পরিবর্তন না হলে তারা সন্তুষ্ট থাকে। এর ফলে তারা বিকশিত হতে পারে না, শিখতে পারে না এবং ব্যক্তি হিসেবে উন্নতি করতে পারে না। এই দুনিয়ার এত যে সৌন্দর্য তার বড় অংশই উপভোগ করতে পারে না নেতিবাচক প্রকৃতির মানুষ।

আর ইতিবাচক লোক জীবনটাকে একটি দুঃসাহসী অভিযান হিসেবে নেয়। তারা নতুন নতুন অভিজ্ঞতা নিতে পছন্দ করে এবং জীবনের প্রতিটি মুহূর্তকে উপভোগ করে বাঁচতে চায়। এজন্য তারা পরিবর্তনকে নিজেদের বিকশিত করার উপায় হিসেবে নেয়।

অন্যের দুর্বলতা প্রকাশ বনাম শক্তির উদযাপন

নেতিবাচক লোক অন্যের দুর্বলতা প্রকাশ এবং পরচর্চা করতে ভালোবাসে। এর মাধ্যমে তারা আত্মতুষ্টি লাভ করে এবং নিজের দুর্বলতা বা ব্যর্থতার পক্ষে আত্মসমর্থন লাভ করে। তবে ব্যাপারটা এমন নয় তারা অনেক খারাপ লোক। কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এটা তাদের সমস্যা আরও বাড়িয়ে দেয়। তাদের নেতিবাচক চিন্তা তাদেরকে আরও জঘন্য লোকে পরিণত করে।

আর ইতিবাচক লোক অন্য লোকের সফলতা ও সক্ষমতাকে প্রশংসা করে। তারা এটা করলে নিজেদেরকে নিয়ে অনিরাপত্তায় ভোগেনা। কারণ তারা তাদের আইডেন্টিটি ও মূল্য সম্পর্কে সচেতন। তারা তাদের শক্তির জায়গাতে জোর দেয় এবং দুর্বলতা নিয়েও সচেতন থাকে। তারা এটা অনুভব করে কেউই একেবারে পারফেক্ট নয় আবার এটা নিয়ে অহেতুক কষ্ট পাওয়ারও দরকার নেই।

বহির্মুখিতা বনাম আত্মকেন্দ্রিকতা

একটা লেভেল পর্যন্ত আমরা সবাই স্বকামী ব্যক্তি। আমরা জীবন থেকে কী চাই কীভাবে পেতে চাই সেটা নিয়ে ভাবতে সময় ব্যয় করি। তবে ইতিবাচক মানুষ নিজেদের প্রয়োজন ও অন্যদের প্রয়োজনের মধ্যে ভারসাম্য করতে পারে। তারা সবসময় তাদের আশেপাশে থাকা ব্যক্তিদের আবেগ, তাদের কল্যাণের কথা চিন্তা করে এবং যথাসম্ভব সাহায্য করার চেষ্টা করে। অন্যকে কোনো কিছুতে সফল করার মধ্যে, অপরকে সাহায্য করার মাধ্যমে নিজেদের মধ্যে আরও বেশি ইতিবাচক চিন্তা নিয়ে আসে।

আর নেতিবাচক লোক সবসময় নিজেদেরকেই নিয়ে ভাবে। নিজেদেরকে নিয়ে কি ভাবছে, তাদের কোন প্রয়োজনটা পূরণ হলো বা হলো না। যে কোনো একটা কাজ বা উদ্যোগে তাদের নিজেদের কি লাভ হলো এটা নিয়ে চিন্তা করে। তারা যদি মনে করে কোনো একটা উদ্যোগ থেকে তাদের ব্যক্তিগত কোনো লাভ নেই তাহলে তারা সেটা এড়িয়ে চলবে। অন্যদের কাজে যুক্ত হওয়া বা অন্যদেরকে কোনো সহায়তা করার ব্যাপারে তারা খুবই কিপটে। কারণ তারা সেখানে নিজেদের কোনো লাভ দেখে না। তারা আশপাশে সবার আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হতে চান তবে তাদের নেতিবাচক অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করে।

প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ বনাম সমালোচনা

নেতিবাচক লোক যেকোনো ধরণের প্রতিক্রিয়াকে ব্যক্তিগত আক্রমণ হিসেবে নেয়। তারা প্রতিক্রিয়াকে ভালোভাবে নিতে পারে না। যদিও তারা অন্যকে সমালোচনার বেলায় একটু দ্রুতই করে ফেলে।

ইতিবাচক লোক যেকোনো প্রতিক্রিয়া বা ফিডব্যাককে স্বাভাবিকভাবেই নেয়। তারা সেই ফিডব্যাকের উপর মূল্যায়ন ও বিচার শুরু করে। নির্মোহভাবে যাচাই করে সেটা কতটুকু সত্য। তারপর প্রয়োজন মতো পরিবর্তন বা না পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেয়।

অনুতপ্ত বনাম উদ্ধত

ভুল করা থেকে নিজেকে বিরত রাখার চেষ্টা করে নেতিবাচক লোক। বরং ভুলকে তারা ঘৃণা করে। এজন্য তারা যদি কোনো ভুল করেও ফেলে সেটা স্বীকার করতে এবং এর জন্য ক্ষমা চাইতে কুণ্ঠা বোধ করে। তারা নিজেদের ভুল অনুভব করে কিন্তু সঠিক থাকা তাদের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক থাকার বিষয়টি তাদেরকে এই অনুভূতি দেয় তারা অনেক বুদ্ধিমান এবং তারা পৃথিবীর কাছে গুরুত্বপূর্ণ।

আর ইতিবাচক লোক মনে করে তারা ভুল করতে পারে এবং ভুলের জন্য ক্ষমা প্রার্থনাও করতে হতে পারে। আর একটি ভুল বা ভুল স্বীকার তাদের আত্মমর্যাদাকে কমিয়ে দিতে পারে না।

স্বপ্রণোধিত বনাম জীবনমুখী

নেতিবাচক লোক প্রায়ই জীবনকে নিজেদের উপর চড়িয়ে দিতে পছন্দ করে। জীবনের নৌকার নিয়ন্ত্রণ বা বৈঠা নিতে চায় না বা অসমর্থ। তারা স্রোতকে অনুসরণ করে এবং নিজেদের ব্যক্তিগত ও পারিপার্শিক অবস্থার পরিবর্তন ঘটাতে নারাজ। এর কারণটা আসলে তারা পরিবর্তন অপছন্দ করে।

নিজেদের ব্যর্থতা বা পরাজয়টাকে অন্যের কাজ বলে মনে করে। নিজেদেরকে পরিস্থিতির শিকার বলে মনে করে এবং সেটা নিয়ন্ত্রণে তাদের কোন দায়ভার নেই বলে মনে করে। এজন্য দেখা গেছে তারা তাদের নিজের ভবিষ্যত নিজে নির্মাণ করতে পারে না।

ইতিবাচক লোক ভাগ্যের আশায় বসে থাকে না। তারা তাদের নিজের জীবনের দায়িত্ব নেয় এবং জীবনে ঘটনা ঘটায়। তারা লক্ষ্য নির্ধারণ করে এবং সেটা অর্জনের জন্য পরিকল্পনামাফিক কাজ করে যায়। তারা আসলে তাদের জীবনের প্রধান নির্বাহী (সিইও)।  সূত্র : টাইমস্ অব ইন্ডিয়া।

© ২০১৭ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি