ঢাকা, শুক্রবার, ২৪ নভেম্বর, ২০১৭ ৪:১৩:২৯

‘আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে দিনগুলো কাজে লাগান’

৩৮তম বিসিএস প্রিলি

‘আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে দিনগুলো কাজে লাগান’

৩৮তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষার দিন ঘনিয়ে আসছে। দেশের প্রায় সাড়ে তিন লাখ চাকরি প্রার্থী অংশগ্রহণ করতে যাচ্ছেন এ পরীক্ষায়। প্রিলিমিনারিতে অংশগ্রহণকারী প্রার্থীরা দ্রুত সময়ের মধ্যে কীভাবে প্রস্তুতি নেবেন এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছেন ৩৬তম বিসিএস পররাষ্ট্র ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হায়দার জাবেদ। একুশে টেলিভিশনের অনলাইনের পাঠকদের জন্য তার টিপস নিয়ে লিখেছেন রিপোর্টার মো. মাহমুদুল হাসান। ৩৮তম বিসিএস প্রিলিমিনারি প্রস্তুতি নিয়ে এ মুহূর্তে আপনারা ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। তাই আপনাদের সুস্বাস্থ্য কামনা করছি। পাশাপাশি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছি। অনেকে বলছে ৩৮তম প্রিলির জন্য খুব অল্প সময় রয়েছে। কিন্তু তা আমি মনে করি না। কারণ এখনো এক মাসের বেশি সময় রয়েছে। এই সময়টুকু যদি ভালোভাবে কাজে লাগানো যায়, তবে প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় ভালো করা সম্ভব। এ সময়টুকুতে যদি আপনারা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে প্রস্তুতি নিতে পারেন তাহলে প্রিলিমিনারি পরীক্ষা অনেক সহজ হয়ে যাবে। প্রিলিমিনারি পরীক্ষার মোট ১০টি বিষয়ের মধ্যে যে কোনো ৩টি বা ৪টি বিষয়কে মূল হিসেবে ধরে প্রস্তুতি নিতে পারলে ভালো করা সম্ভব। এ ক্ষেত্রে বাংলা, ইংরেজি, সাধারণ জ্ঞান অথবা বাংলা, ইংরেজি, বিজ্ঞান ও কম্পিউটারকে মূল বিষয় হিসেবে ধরে প্রস্তুতি নিতে পারেন। বাকি বিষয়গুলোতে গড় নম্বর তুলতে পারলে প্রিলিমিনারিতে উত্তীর্ণ হওয়া সহজ হবে। তবে পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য সবার আগে বিসিএস-এর প্রশ্নের কাঠামো জানা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যারা স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে পাশ করেছেন প্রস্তুতির ক্ষেত্রে তারা বিজ্ঞান ও গণিত বিষয়ে তুলনামূলক অনেক এগিয়ে থাকেন। আর যারা বাণিজ্য, কলা ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের বিভাগগুলো থেকে পাশ করেছেন তাদের জন্য এ দু’টি বিষয়ে ভালো প্রস্তুতি নিতে হবে। তবে পরীক্ষার্থীদের একটি বিষয় মাথায় রাখতে হবে যে, প্রিলিমিনারিতে উত্তীর্ণ হওয়ার জন্য ২০০ নম্বরের মধ্যে ২০০ -ই যে পেতে হবে তা কিন্তু নয়। শতকরা ৫০ থেকে ৬০ নম্বর পেলেই প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া সম্ভব। এবার চলুন বিষয় ভিত্তিক কিছু আলোচনা করা যাক।   বাংলা- ৩৫: বাংলা বিষয়ে সাহিত্য ও ব্যাকরণ এই দু’টি অংশ থেকে মোট ৩৫ নম্বরের প্রশ্ন হয়ে থাকে। সাহিত্য অংশের প্রাচীন যুগ, মধ্যযুগ ও অধুনিক যুগ-এই তিনটি ভাগে বিভক্ত। প্রাচীন ও মধ্যযুগ অংশে তুলনামূলক পড়া কম। প্রিলিমিনারির সিলেবাস অনুযায়ী এ অংশ থেকে মোট ৫ নম্বরের প্রশ্ন করা হয়। তাই একটু ভালো করে পড়লে এ অংশে সম্পূর্ণ নম্বর পাওয়া সম্ভব। অন্যদিকে আধুনিক অংশের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের প্রধান প্রধান সাহিত্যিকদের সাহিত্যকর্ম এবং তাদের জীবনী সম্পর্কে জানতে হবে। এ ক্ষেত্রে প্রথম সারির ২৫ থেকে ৩০ জন কবি-সাহিত্যিকের সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে হবে। বিভিন্ন সাহিত্য পত্রিকার সম্পাদকের নাম ও কবি সাহিত্যিকদের উপাধি ও ছদ্মনাম ভালোভাবে আয়ত্ত করতে হবে। এ অংশ থেকে একাধিক প্রশ্ন আসে। আর ব্যাকরণ অংশের জন্য ধ্বনি, বর্ণ, বানান, প্রয়োগ-অপপ্রয়োগ, প্রতিশব্দ, পারিভাষিক শব্দ, বিপরীত শব্দ, পদ-প্রকরণ (বিশেষ করে বিশেষ্য, বিশেষণ ও অব্যয়), সন্ধি ও সমাসের ব্যতিক্রম উদাহরণগুলো পড়তে হবে। বাংলা একাডেমি ও একুশে পদকের সাম্প্রতিক তথ্যসহ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উল্লেখযোগ্য সাহিত্য, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উল্লেখযোগ্য সাহিত্য, বাংলা সাহিত্যের উল্লেখযোগ্য পত্রিকা ও সম্পাদকের নাম জেনে রাখলে ভালো হবে। বাংলা সাহিত্য এবং ব্যাকরণ অংশে ভালো করতে হলে বিসিএসসহ পিএসসির নন-ক্যাডার ও অন্যান্য সরকারি চাকরির বিগত সালের প্রশ্নগুলো ভালোভাবে দেখে নিলে পরীক্ষার ক্ষেত্রে এগিয়ে থাকা যায়। কেননা বিগত বছরের প্রশ্ন থেকে অনেক প্রশ্ন কমন পড়ে অনেক সময়।   ইংরেজি- ৩৫: প্রথমে গ্রামার সম্পর্কিত বিসিএস ও পিএসসির বিগত বছরের প্রশ্নগুলো পড়ে নিতে হবে। অন্যদিকে ইংরেজির জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে ইংরেজি শব্দার্থ জানা। যার যত বেশি শব্দার্থ দখলে থাকবে তিনি তত বেশি এগিয়ে থাকতে পারবেন। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে সিলেবাস অনুযায়ী প্রস্তুতি নেওয়া। প্রস্তুতি নেওয়ার সময় প্রয়োজনে লিখে লিখে পড়া যেতে পারে। এতে গ্রামারের নিয়মগুলো সহজেই আয়ত্বে আসবে। প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় ইংরেজি সাহিত্য অংশের ভালো নম্বর পাওয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ কবি সাহিত্যিকদের নাম, আলোচিত গ্রন্থ, সাহিত্যে তাদের অবদান সম্পর্কে ভালো ধারণা রাখতে হবে। এছাড়াও কিছু ক্ল্যাসিক্যাল বইয়ের নামসহ বিতর্কিত বই সম্পর্কেও ধারণা থাকতে হবে।   গাণিতিক যুক্তি ও মানসিক দক্ষতা -(১৫+১৫): বিগত সালের প্রশ্নগুলো ভালোভাবে পড়তে হবে। পাশাপাশি বিসিএসের সিলেবাস অনুযায়ী অষ্টম এবং নবম-দশম শ্রেণির গণিতসহ উচ্চতর গণিত বইটি ভালোভাবে শেষ করতে হবে। গণিত অনুশীলনের সময় ক্যালকুলেটর ব্যবহার না করা বুদ্ধিমানের কাজ। গণিতের জন্য সামন্তধারা, গুণোত্তরধারা, বিন্যাস-সমাবেশ, সাম্ভাব্যতা, সেট, মান নির্ণয়, সূচক-লগারিদম ও জ্যামিতিক অংশগুলো ভালোভাবে আয়ত্ত করতে হবে। গণিতে ভালো করার মূলমন্ত্র হচ্ছে বেশি পরিমাণে অনুশীলন। যে যত বেশি অনুশীলন করবেন সে তত বেশি এগিয়ে থাকবেন। তাই প্রতিদিন গণিত অনুশীলনের মাধ্যমে নিজেকে প্রস্তুত রাখুন। মানসিক দক্ষতা অংশে ভালো করতে হলে বিগত সালের প্রিলিমিনারি ও লিখিত পরীক্ষার প্রশ্নগুলো ভালোভাবে পড়তে হবে।   সাধারণ জ্ঞান- ৫০: সাধারণ জ্ঞান বিষযে দু’টি অংশ রয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ বিষয়াবলির জন্য ৩০ নম্বর ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলির জন্য ২০ নম্বর। উভয় বিষয়েই সমান গুরুত্ব দিতে হবে। বাংলাদেশের অভ্যূদয়ের ইতিহাস থেকে শুরু করে স্বাধীনতার পূর্বের বিভিন্ন ঘটনা প্রবাহ সম্পর্কে পরিস্কার ধারণা থাকতে হবে। বাংলাদেশের বিখ্যাত ব্যক্তিদের সম্পর্কেও জানা থাকতে হবে। বাংলাদেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য, বিভিন্ন আন্দোলন, গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব, প্রাচীন স্থাপত্যের ওপর বেশি জোর দিতে হবে। বাংলাদেশের সংবিধানের গুরুত্বপূর্ণ ধারাগুলো ভালোভাবে পড়ে নিতে হবে। এ অংশ থেকে তিন নম্বরের প্রশ্ন হয়ে থাকে। বাংলাদেশের কৃষি ও অর্থনৈতিক বিষয়গুলোর সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকতে হবে। বাংলা পত্রিকার প্রথম ও শেষ পাতা, সম্পাদকীয় ও মতামত, আন্তর্জাতিক, বাণিজ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক বিষয়গুলো পড়তে হবে। এছাড়া অর্থনৈতিক সমীক্ষা ও সরকারি বিভিন্ন জরিপের প্রয়োজনীয় তথ্য জেনে নিতে হবে। এছাড়াও আন্তর্জাতিক গুরুত্বপূর্ণ সংগঠন এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানসমূহ সম্পর্কে সঠিক ধারণা রাখতে হবে।   সাধারণ বিজ্ঞান, কম্পিউটার ও তথ্য প্রযুক্তি- (১৫+১৫): সাধারণ বিজ্ঞান ও তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ে ভালো করতে হলে বিসিএসসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় আসা প্রশ্নগুলো পড়ে নিতে হবে। এছাড়া নবম-দশম শ্রেণির বিজ্ঞান বইটি ভালোভাবে পড়তে হবে। বাজারে প্রচলিত যে কোনো একটি বই অনুশীলন করতে পারেন। অন্য দিকে কম্পিউটার বিষেয়ে ভালো করতে হলে বাস্তব জ্ঞানের মাধ্যমে শিখতে পারলে খুব ভালো হয়।   ভূগোল পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা - ১০: এ বিষয়ে ভালো করতে হলে বিগত সালের প্রশ্নগুলো আগে পড়ে নিতে হবে। এছাড়াও মানচিত্র সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকতে হবে। বিশ্বের কোন দেশ কোথায় অবস্থিত সেটা জানা না থাকলে এ অংশে ভালো করা সম্ভব নয়। তাই বিশ্ব মানচিত্র সম্পর্কে ভালো ধারণা থাকতে হবে। নবম-দশম শ্রেণির ভুগোল বইটি পড়ে নিলে ভালো হয়। এছাড়াও পড়ার সময় যে বিষয়টি কঠিন মনে হবে সে বিষয়টি মার্ক করে পড়লে সহজে আয়ত্তে আসবে। অন্যদিকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ নিয়ে কাজ করে এমন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে জানতে হবে।   নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসন- ১০: এ বিভাগের প্রশ্নের উত্তর শতভাগ নিশ্চিত হয়ে দিতে হবে। তা না হলে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। বিগত সালের প্রশ্নগুলো পড়ে এ সম্পর্কে ধারণা নেওয়া যেতে পারে। সবশেষে ৩৮তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় অংশ নিতে যাওয়া সব প্রার্থীর জন্য শুভকামনা রইলো।   এসএইচ/টিকে  
শুক্রবার ৩ দফা দাবিতে মহাসমাবেশ করবে বিসিএস শিক্ষা ক্যাডাররা

তিন দফা দাবিতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আগামীকাল শুক্রবার সমাবেশ করবে ক্যাডারের মর্যাদা রক্ষায় বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তাদের সংগঠন ‘বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডার মর্যাদা রক্ষা কমিটি’। সকাল ১০ থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এ সমাবেশে দেশের বিভিন্ন সরকারি কলেজে নিয়োজিত বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তারা অংশ নিবেন। তাদের দাবিগুলো হলো শিক্ষা ক্যাডার আত্তীকরণ বন্ধে নতুন কোনো কলেজ জাতীয়করণ আদেশের আগেই ২০০০ বিধি সহ ক্যাডারে আত্তীকরণ সংক্রান্ত সকল বিধি বাতিল করে প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন, জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০ এবং বিসিএস নিয়োগ বিধি ১৯৮১ এর কোনো ধরনের ব্যত্যয় না ঘটিয়ে জাতীয়করণের তালিকাভুক্ত কলেজ শিক্ষকদের ক্যাডার বহির্ভুত রেখে তাদের নিয়োগ, পদায়ন ও পদোন্নতি সংক্রান্ত আলাদা বিধিমালা প্রণয়ন করা, “জাতীয় শিক্ষানীতি’ ২০১০” জাতীয় সংসদে অনুমোদনের পর বিধিমালা প্রণয়ন ছাড়াই যে সকল কলেজ জাতীয়করণ করা হয়েছে সেসকল কলেজের শিক্ষকদেরকেও ক্যাডার বহির্ভূত রাখা, এবং “জাতীয়করণের পর সংশ্লিষ্ট কলেজ শিক্ষকদের নিজ প্রতিষ্ঠানেই রাখা, অন্যত্র বদলী হতে পারবেন না” মর্মে প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন প্রদান করার পরও সদ্য জাতীয়করণকৃত কলেজের যে সকল শিক্ষককে বদলী করা হয়েছে তাদের বদলী আদেশ বাতিল করা।   টিকে  

ঢাবিতে ছাত্রী উত্ত্যক্তের জেরে ছাত্রলীগের মারামারি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ছাত্রীকে উত্ত্যক্তের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। বুধবার রাতে ঢাবির কার্জন হল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। জানা যায়, বুধবার রাতে কার্জন হল এলাকায় ঢাবির তিন ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করে ঢাকা কলেজের কয়েকজন শিক্ষার্থী। এ সময় ঢাবির ফজলুল হক হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি শাহরিয়ার সিদ্দিক ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তখন বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ও  জহুরুল হক হল ছাত্রলীগের সহসম্পাদক সায়েমসহ আরো কয়েকজন মিলে ঢাকা কলেজের ওই শিক্ষার্থীদের মারধর করেন। পরে ঢাকা কলেজের ওই শিক্ষার্থীদের পরিচিতজন ঢাবির এ এফ রহমান হল ছাত্রলীগের নেতা লয়েড, সিয়ামসহ ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মী বাংলা একাডেমির সামনে জড়ো হন। সেখানে তারা ছাত্রলীগ নেতা সায়েমকে একা পেয়ে মারধর করেন। ছাত্রলীগ সূত্রে জানা যায়, কার্জন হলে ছাত্রী উক্তত্যের ঘটনার প্রতিবাদ করা সায়েম বাইক চালিয়ে বাংলা একাডেমির দিকে আসছিলেন। তখন সায়েমকে একা পেয়ে মারধর করা হয়।   / এমআর / এআর

‘ইংরেজির প্রস্তুতিতে হোন কৌশলী’

যতই দিন যাচ্ছে ৩৮তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা ততই ঘনিয়ে আসছে। তাই পরীক্ষার্থীদের কাছে এ সময়টা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এবার প্রায় তিন লাখ ৮৯ হাজার শিক্ষার্থী কাঙ্ক্ষিত চাকরির আশায় অংশ নিতে যাচ্ছেন এ পরীক্ষায়। চলছে চূড়ান্ত প্রস্তুতির ঢামাঢোল। বিসিএস পরীক্ষার্থীদের জন্য ইংরেজি বিষয় একটি জটিল বিষয়। এ বিষয়ে রয়েছে ৩৫ নম্বর। একটু সতর্ক হয়ে প্রস্তুতি নিলে এ বিষয়ে ভালো নম্বর তোলা যায়। কিভাবে এ স্বল্প সময়ের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতি নিতে পারেন- এ বিষয়ে ইটিভি অনলাইনের মাধ্যমে পাঠকদের গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছেন ৩৬তম বিসিএসের শিক্ষা ক্যাডারের সুপারিশপ্রাপ্ত মাসুদুর রহমান। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক করেছেন। মাসুদুর রহমান মনে করেন, একটু কৌশলে ইংরেজি বিষয়ে প্রস্তুতি নেওয়া নেওয়া গেলে এ বিষয়ে ভালো করা সম্ভব।  তার টিপসগুলো পাঠকদের উদ্দেশে তোলে ধরা হলো- আমরা সবাই ছোট বেলা থেকে ইংরেজি শিখে আসছি। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো বাংলাদেশের বেশিরভাগ ছাত্র- ছাত্রীর ইংরেজি ভীতি রয়েছে। শুধু বিসিএস নয়, যেকোনো চাকরির পরীক্ষায় ইংরেজি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাই যদি একটু কৌশলে ইংরেজি বিষয়ে প্রস্তুতি নেওয়া যায় তবে বিসিএসসহ অন্যান্য চাকরির পরীক্ষায় ভালো করা সম্ভব। অর্থাৎ এটি স্বীকার করতে হবে যে, ভালো চাকরির জন্য ভালো ইংরেজি জানতে হবে। বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষা টিকে থাকতে হলে ইংরেজি বিষয়ের প্রস্তুতির ক্ষেত্রে যথেষ্ঠ সতর্ক এবং কৌশলী হতে কবে। কারণ ইংরেজি সিলেবাস যতটা না বড় তার চেয়ে তুলনামূলক কঠিন। ইংরেজি সিলেবাসটি দুটি ভাগে বিভক্ত। এখানে প্রথম ভাগটি হল -Language (20) এবং দ্বিতীয় ভাগটি হল- Literature (15)। ইংরেজি প্রস্তুতির ক্ষেত্রে প্রথম কাজ হল- বিগত বিসিএস পরীক্ষায় চলে আসা প্রশ্নগুলো ভালোভাবে সমাধান করা। বিগত সালের প্রশ্ন সমাধান করতে গেলে যেসব সমস্যা সামনে আসে সেগুলো ভালো কোনো ইংরেজি গ্রামার বই থেকে বুঝে নিতে হবে। দরকার হলে খাতায় লিখে নিতে হবে। বিগত সালের প্রশ্ন থেকে কোনো প্রশ্ন হুবহু নাও আসতে পারে। কিন্তু বিগত সালের প্রশ্ন পড়লে বিসিএস পরীক্ষায় কেমন প্রশ্ন আসতে পারে সে সম্পর্কে একটা ধারণা পাওয়া যাবে। Parts of Speech: এখান থেকে প্রথম যে প্রশ্ন আসতে পারে সেটি হল Parts of Speech এর গঠন নিয়ে। যেমন কোন Word এর Noun, Verb, Adjective, Adverb এর গঠন জানতে হবে। ৩৬তম বিসিএসে একটি প্রশ্ন ছিল Number এর Verb কি। তবে এক্ষেত্রে যেগুলো ব্যতিক্রম সেগুলো বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া Determiner সম্পর্কে ধারণা রাখতে হবে। Gender এর ক্ষেত্রে যেগুলো ব্যতিক্রম সেগুলো খাতায় আলাদা করে লিখে রাখতে হবে এবং বারবার পড়তে হবে। Verb এর ক্ষেত্রে Finite এবং Nonfinite সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকতে হবে। বিশেষ করে Gerund, participle এবং Infinitive এর ব্যবহার জানতে হবে। গুরুত্বপূর্ণ Phrasal Verb এবং Appropriate Preposition খাতায় লিখে ফেলতে হবে। যাতে বারবার পড়া যায়। Idioms & Phrases: গুরুত্বপূর্ণ এবং যেগুলো বারবার পরীক্ষায় এসেছে এমন Idioms & Phrases গুলো বুঝে বুঝে পড়তে হবে। Correction: Correction এর ক্ষেত্রে Right forms of Verb এবং Subject Verb Agreement এর নিয়মগুলো পড়তে হবে। পাশাপাশি উদাহরণের সঙ্গে মিলিয়ে এমনভাবে বুঝে নিতে হবে যাতে ওই নিয়মের অন্য প্রশ্ন আসলে উত্তর করতে পারা যায়। Transformations: Transformation এর ক্ষেত্র ৩টি অংশ রয়েছে। প্রথমটি হল- Simple > Compound > Complex. দ্বিতীয়টি হল- Active > Passive . এবং তৃতীয়টি হল- Positive> Comparative> Superlative. এই বিষয়গুলো স্পষ্ট ধারণা রাখতে হবে। Words: যেকোনো চাকরির পরীক্ষার ক্ষেত্রে Word meaning খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বিসিএসসহ প্রায় প্রতিটি পরীক্ষায় Synonyms / Antonyms আসে। এছাড়া Words এর Spelling ও আসতে পারে। আর একটি বিষয় হল যদি Word meaning দূর্বলতা থাকে তবে ইংরেজি প্রশ্ন বুঝতে সমস্যা হবে। কিন্তু Word meanings মনে রাখা অনেক কঠিন। তাই বারবার পড়তে হবে। যাতে করে মনে থাকে। তারপরও যেগুলো কঠিন Words সেগুলো খাতায় লিখে রাখতে হবে। পরে এগুলো বেশি বেশি পড়তে হবে। Composition: এখান থেকে Paragraph এর কয়টি অংশ, Letters এর কয়টি অংশ, Applications এর কয়টি অংশ এবং কোন অংশে কি লিখতে হয় সে সম্পর্কে ধারণা রাখলেই হবে। Literature: ইংরেজির দ্বিতীয় অংশটি হল Literature. এ অংশ থেকে প্রথম কাজ হল Literary Periods (সাহিত্যের যুগবিভাজন) সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা নেওয়া। সঙ্গে সঙ্গে প্রতিটি Literary Periods এর গুরুত্বপূর্ণ এবং খ্যাতিমান Writers এর নাম এবং তাদের অবদান সম্পর্কে জানতে হবে। তাদের বিখ্যাত উপন্যাস, গল্প এবং কবিতাগুলোর নাম জেনে রাখতে হবে। সঙ্গে সঙ্গে এই লেখাগুলোর চরিত্রগুলোর নামও জানতে। ৩৫তম বিসিএস থেকে আলাদা করে Literature অংশটি নতুন সিলেবাসে অন্তর্ভুক্ত করা। তাই বিগত এই তিনটি বিসিএসের প্রশ্ন থেকেই আপনাকে Literature অংশের কেমন প্রশ্ন আসতে পারে সে সম্পর্কে ধারণা নিতে হবে। তবে বিখ্যাত কয়েকজন লেখকের সাহিত্যকর্ম খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তারা হলেন- Alexander Pope, Ben Jonson, Bertrand Russell, Charles Dickens, G B Shaw, Homer, Jane Austen, John Keats, John Milton, Leo Tolstoy, Lord Byron, O` Henry, P B Shelly, S.T.Coleridge, T.S.Eliot, W.Somerset Maugham, W.B.Yeats, William Shakespeare, William Wordsworth... একটু ভালো প্রস্তুতি সফলতা লাভের পূর্বশর্ত। এসএইচ/এআর

১ ফেব্রুয়ারি থেকে এসএসসি পরীক্ষা শুরু

২০১৮ সালের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষার সময়সূচি প্রকাশ করা হয়েছে। আগামী ১ ফেব্রুয়ারি আটটি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের এসএসসি, মাদরাসা বোর্ডের দাখিল ও কারিগরি বোর্ডের পরীক্ষা শুরু হবে। বুধবার শিক্ষা মন্ত্রণালয় এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার সময়সূচি অনুমোদন দিয়ে সংশ্লিষ্ট বোর্ড চেয়ারম্যানদের কাছে পাঠিয়েছে। অন্য বছরের মতো এবারও সকালের পরীক্ষা ১০টা থেকে এবং বিকেলের পরীক্ষা ২টা থেকে শুরু হবে। সময়সূচি অনুযায়ী ১ থেকে ২৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আটটি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এসএসসির তত্ত্বীয় পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এক্ষেত্রে আগামী ২৫ ফেব্রুয়ারি সঙ্গীতের ব্যবহারিক পরীক্ষা এবং ২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ৪ মার্চের মধ্যে বেসিক ট্রেডসহ এসএসসির সব বিষয়ের ব্যবহারিক পরীক্ষা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। দাখিলের তত্ত্বীয় পরীক্ষা শেষ হবে ২৫ ফেব্রুয়ারি। এক্ষেত্রে ৬ মার্চের মধ্যে সব ব্যবহারিক ও মৌখিক পরীক্ষা শেষ করতে হবে। আর কারিগরি বোর্ডের তত্ত্বীয় পরীক্ষা শেষ হবে ২৪ ফেব্রুয়ারি।   টিকে

টাকার অভাবে ঢাবিতে ভর্তির অনিশ্চয়তায় জুয়েল

মেধা তালিকায় উত্তীর্ণ হওয়া সত্ত্বেও অর্থ সংকটের কারণে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) ভর্তি হতে পারছেন না কুষ্টিয়ার ছেলে জুয়েল আহমেদ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় ১৫১৫তম স্থান অধিকার করেন তিনি। জুয়েল রসায়ন বিভাগে ভর্তি হওয়ার জন্য মনোনিত হয়েছেন। জুয়েলের বাবা আবদুর রশিদ পেশায় একজন রিকশাচালক। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি ও আনুসাঙ্গিক খরচ বাবদ আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে ২০ হাজার টাকা প্রয়োজন। কিন্তু তার বাবা দিনরাত রিকশা চালিয়ে এ পর্যন্ত ১০ হাজার টাকা জমাতে পেরেছেন। চলতি মাসের মধ্যে বাকী টাকা জোগাড় করতে না পারলে তার পক্ষে ঢাবিতে ভর্তি হওয়ার বিষয়টি অনিশ্চিত হয়ে যাবে। ছেলের অনিশ্চিত ভবিষ্যতের কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন আব্দুর রশিদ। তিনি জানান, ঢাকার রাস্তায় দিনরাত রিকশা চালিয়ে এ পর্যন্ত মাত্র ১০ হাজার টাকা জামিয়েছেন। বাকী টাকা এত অল্প সময়ের মধ্যে তার পক্ষে জোগাড় করা সম্ভব নয়। কয়েকজনের কাছে আর্থিক সাহায্য চেয়েও তিনি পাননি। অনেকে আর্থিক সাহায্যের আশ্বাস দিয়েও শেষ পর্যন্ত এগিয়ে আসেননি। এমন পরিস্থিতিতে ছেলের ভর্তির বিষয়টি নিয়ে তিনি খুবই চিন্তিত। তার ছেলে জুয়েল এখন কোথায় আছে?- এমন প্রশ্নের জবাবে আবদুর রশিদ একুশে টিভি অনলাইনকে বলেন, জুয়েল এখন ঢাকায় একটি মেসে থাকছে। মেসে থাকতে তার প্রতি মাসে ৫-৬ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে। গত মাসখানেক ধরে জুয়েল ছোটখাটো একটি চাকরি খুঁজছে। কিন্তু পড়াশুনা চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি করা যায় এমন কোনো উপযুক্ত কাজ পাচ্ছেন না। তিনি কান্না করতে করতে বলেন, `আমাগো এই বিপদের দিনে কেউ আগাইয়া আসলে ভালো হতো। কিন্তু এহন ভালো মাইনষের খুব অভাব। পোলার ভবিষ্যতের কথা ভাবতে ভাবতে দুই চোখে আর ঘুম আইসে না।` জুয়েলের মা আরফা খাতুন একজন গৃহিণী। তার চার ভাই বোনের মধ্যে বড় দুই বোনকে এইচএসসি পাশের পর পরই বিয়ে দেওয়া হয়েছে। ছোটবেলা থেকে অভাব-অনটনের মধ্যেই বেড়ে উঠেছেন জুয়েল। তবে দরিদ্রতাকে পেছনে ফেলে টিউশনি করে পড়াশুনাটা চালিয়ে গেছেন। ২০১৫ সালে দাখিল পরীক্ষায় কুষ্টিয়া সদর উপজেলার বায়তুন নূর আলিম মাদ্রাসা থেকে বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ-৫ পান। এরপর কুষ্টিয়া সরকারি কলেজে বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হন। ২০১৭ সালে এইচএসসি পরীক্ষায় ৪ দশমিক ৮৩ পয়েন্ট পেয়ে উত্তীর্ণ হন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের ‘ক’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হন। মেধা তালিকায় ১৫১৫তম স্থান দখল করেন। পরে রসায়ন বিভাগে ভর্তি হওয়ার জন্য মনোনিত হন। কিন্তু অর্থ সংকটের কারণে ভর্তির বিষয়টি নিয়ে অনিশ্চয়তায় থাকায় তাদের পরিবারে চরম হতাশা নেমে এসেছে। সমাজের কোনো বিত্তবানের একটু সহযোগিতায় পূর্ণ হতে পারে জুয়েলের পরিবারের স্বপ্ন। হাসি ফুটতে পারে জুয়েলের মুখে।   কেউ সাহায্য পাঠাতে চাইলে জুয়েলের বাবা আবদুর রশিদের মোবাইল (০১৭৬৫-৪৬০৮৪২) নম্বরে যোগযোগ করার জন্য অনুরোধ করা হলো। টিকে/

জালিয়াতি করে ঢাবিতে শতাধিক ভর্তি : সিআইডি

প্রশ্নফাঁস আর ডিভাইস জালিয়াতির মাধ্যমে গত তিন বছরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছেন শতাধিক শিক্ষার্থী। প্রত্যেকটি পরীক্ষায় জনপ্রতি লেনদেন হয়েছে ৪ থেকে ৭ লাখ টাকা পর্যন্ত। শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নয়, সরকারি বিভিন্ন ব্যাংক নিয়োগ ও মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা জালিয়াতিতেও বড় চক্র জড়িত। মঙ্গলবার দুপুরে সিআইডির সদর দফতরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার মোল্লা নজরুল ইসলাম গণমাধ্যমকে এসব তথ্য জানান। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের অর্গানাইজ ক্রাইম ইউনিট (সিআইডি) সূত্র জানায়, জালিয়াতি চক্রের দুই হোতাসহ ভর্তি হওয়া ৭ ছাত্রকে গ্রেফতারের পর এ তথ্য বেরিয়ে আসে। গত ১৪ নভেম্বর এ চক্রের ‘হোতা’ এনামুল হক আকাশকে গাজীপুর এবং একইদিন নাবিদ আনজুম তনয়কে রংপুর থেকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জালিয়াতির মাধ্যমে ভর্তি হওয়া ছাত্রদের গ্রেফতার করা হয়। প্রসঙ্গত, গত ২০ অক্টেবর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ‘ঘ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার আগের রাতে অমর একুশে হল ও ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হলে অভিযান চালিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী মহীউদ্দিন রানা ও আবদুল্লাহ আল মামুনকে গ্রেফতার করে সিআইডি। এ ঘটনায় শাহবাগ থানায় মামলা করে সিআইডি। আদালতে এই দুজনের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দীতে ডিজিটাল ডিভাইস সরবরাহ এবং প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনার মূল হোতা হিসেবে নাভিদ অনজুম তনয়ের নাম আসে। এছাড়া ওই চক্রের আরও বেশ কয়েক সদস্যের নামও জানা যায় স্বীকারোক্তিতে। সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মোল্লা নজরুল ইসলাম বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতির ঘটনার অন্যতম মূল হোতা নাভিদ আনজুম তনয় (২৪)। সে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী। আর অপরজন হলো আকাশ, সে উন্মুক্ত বিশ্ববিদালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় ডিজিটাল ডিভাইসের মাধ্যমে তারা বাইরে থেকে উত্তর বলে দিয়ে এবং পরীক্ষার দিন প্রশ্ন ফাঁসের মাধ্যমে অবৈধ উপায়ে শিক্ষার্থী ভর্তি করে বিপুল পরিমাণ অর্থ উপার্জন করে আসছিল। নজরুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিক তদন্ত আমরা জানতে পেরেছি, এ জালিয়াতি চক্র শুধু ঢাবি নয়, ব্যাংক নিয়োগ পরীক্ষা ও মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার জালিয়াতির সঙ্গেও জড়িত। ওই সব বিষয়েও তদন্ত চলছে। প্রশ্ন ফাঁস ও জালিয়াতির মাধ্যমে প্রত্যেকটি ভর্তি পরীক্ষায় ৪ থেকে ৭ লাখ টাকা লেনদেন হয়েছে পর্যন্ত। তিনি বলেন, মহীউদ্দিন রানা ও আবদুল্লাহ আল মামুনের স্বীকারোক্তির সূত্র ধরে গত ১ নভেম্বর রাজধানীর আগারগাঁও থেকে ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নাফিকে আটক করা হয়। তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে ৩ নভেম্বর গ্রেফতার করা হয় এ চক্রের আরেক হোতা আনিন চৌধুরী। তারাও ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। গত ১৪ নভেম্বর রংপুরের কামাল কাছনা বাজার এলাকা থেকে তনয়কে ও গাজীপুর থেকে আকাশকে আটক করা হয়। এরপর জিজ্ঞাসাবাদে ডিজিটাল একে একে জালিয়াতির চাঞ্চল্যকর সব তথ্য বেরিয়ে আসতে থাকে। এ পুলিশ কর্মকর্তা জানান, তনয় জানিয়েছে, ২০১৫ সাল এবং ২০১৬ সালে টাকার বিনিময়ে ডিজিটাল ডিভাইস এবং পরীক্ষার আগে কেন্দ্র থেকে প্রশ্ন ফাঁস করে অবৈধ উপায়ে বেশ কিছু শিক্ষার্থীকে সে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়সহ বেশ কয়েকটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিতে সে সহায়তা করেছে। তনয়ের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে কয়েকজনকে চিহ্নিত করতে সক্ষম হয় সিআইডির অর্গানাইজড ক্রাইম টিম। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের অনুমতি নিয়ে প্রক্টোরিয়াল টিমের সহায়তায় অবৈধ উপায়ে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৭ জনকে আটক করা হয়। আটককৃতরা হলেন, তানভীর আহমেদ মল্লিক, মো. বায়জিদ, নাহিদ ইফতেখার, ফারদিন আহমেদ সাব্বির. প্রসেনজিৎ দাস, রিফাত হোসাইন এবং আজিজুল হাকিম। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এসব চক্র পরীক্ষায় জালিয়াতির জন্য মাস্টারকার্ডের মত দেখতে পাতলা এক ধরনের ডিভাইস ব্যবহার করছে, যার ভেতরে মোবাইলের সিম থাকে। ২০১৪, ২০১৫ ও ২০১৬ সালে জালিয়াত চক্রের মাধ্যমে প্রায় শতাধিক ছাত্র ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগে ভর্তি হয়েছে। এছাড়া মেডিকেল ও ব্যাংক নিয়োগ পরীক্ষায় বড় একটি চক্রের আমরা সন্ধান পেয়েছি। এ নিয়েও কাজ চলছে।   / আর / এআর  

কমানো হলো জবির প্রথম বর্ষের ভর্তি ফি

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ২০১৭-১৮ সেশনের ১ম বর্ষের ভর্তি ফি কমিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। সোমবার রাত সাড়ে ১০ টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় ওয়েবসাইটে সংশোধিত ভর্তি নোটিশের মাধ্যমে এ তথ্য জানা যায়। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার বিশ্ববিদ্যালয় ওয়েবসাইটে ২০১৭-১৮ সেশনের ১ম বর্ষের ভর্তির সময়সূচি প্রকাশ করা হয়। এতে ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষে কলা অনুষদ  (‘বি’ ইউনিট) , ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদ (‘সি’ ইউনিট) ,সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের (‘ডি’ ইউনিট ) ভর্তি ফি ১২ হাজার ৪০০ টাকা এবং বিজ্ঞান অনুষদ (‘এ’ ইউনিটের) ভর্তি ফি ১৪ হাজার ৪০০ টাকা বলা হয়। এতে করে ২০১৬-১৭ সেশনের থেকে ২০১৭-১৮ সেশনে দুই হাজার টাকা ভর্তি ফি বৃদ্ধি করা হয়। শিক্ষার্থীদের প্রথম বর্ষের ভর্তি ফি দুই হাজার টাকা বৃদ্ধি করা হলে  বিষয়টি এ প্রতিবেদক বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নজরে আনলে তারা প্রথমে বলেন একাডেমিক কাউন্সিলে ভর্তি ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। পরে বলেন ভর্তি ফি বৃদ্ধি করা হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্যের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাওয়া চাওয়া হলে কথা বলতে রাজি হননি তিনি।  পরবর্তীতে সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় ওয়েবসাইটে ভর্তি ফি সংশোধন করে নতুন করে সংশোধিত বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। সংশোধিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষে কলা অনুষদ ( সংগীত, নাট্যকলা, চারুকলা বিভাগ ব্যতীত), ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদ (‘সি’ ইউনিট) সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের (‘ডি’ ইউনিট) ভর্তি ফি ১০ হাজার ৪০০ টাকা এবং ‘এ’ ইউনিটের (বিজ্ঞান অনুষদ) ভর্তি ফি ১২ হাজার ৪০০ টাকা এবং সংগীত, নাট্যকলা, চারুকলা বিভাগের ১১ হাজার ৪০০ টাকা করা হয়েছে।এসএইচ/

পরিশ্রম ও মানসিক প্রস্তুতিই পাশের মূলমন্ত্র

ক’দিন পরেই ৩৮তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা। দেশের প্রায় তিন লাখ ৮৯ হাজার শিক্ষার্থী কাঙ্ক্ষিত চাকরির আশায় অংশগ্রহণ করতে যাচ্ছেন এ পরীক্ষায়। এ সময়ে নিশ্চয়ই ব্যস্ততম সময় কাটাচ্ছেন বিসিএস প্রত্যাশী বন্ধুরা। কিভাবে এ স্বল্প সময়ের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতি নিতে পারেন- এ বিষয়ে ইটিভি অনলাইনের মাধ্যমে পাঠকদের গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছেন ৩৬তম বিসিএসের প্রশাসন ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত মো. শহীদুল ইসলাম সাঈদ। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক করেছেন। শহীদুল ইসলাম মনে করেন, পরিশ্রম ও মানসিক প্রস্তুতি পাশের মূলমন্ত্র। শহীদুল ইসলামের টিপসগুলো পাঠকদের উদ্দেশে তোলে ধরেছেন একুশে টেলিভিশন অনলাইনের প্রতিবেদক মাহমুদুল হাসান - আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বিসিএস প্রিলিমিনারি প্রস্তুতি নিতে পারলে  সফল হওয়া সম্ভব। অন্যদিকে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে যখন পরিশ্রম যুক্ত হবে তখন সাফল্য খুব সহজেই ধরা দেবে। আর এ জন্য সর্ব প্রথম ভয় দূর করতে হবে।   ৩৮তম প্রিলির জন্য এ পর্যন্ত যতটুকু পড়া হয়েছে ততটুকু ভালোভাবে রিভাইস দেওয়া হচ্ছে বুদ্ধিমানের কাজ। যে বিষয়গুলোতে দুর্বলতা আছে সে বিষয়গুলো বার বার রিভিশন দিয়ে প্রস্তুত করে নিতে হবে। পড়াশুনার পাশাপাশি শরীরেরও  যত্ন নিতে হবে। কেননা শরীর সুস্থ না থাকলে ভালো প্রস্তুতি নেওয়া সম্ভব নয়। প্রিলিতে যেহেতু অনেক বেশি প্রতিযোগি অংশ নেয়, সেহেতু প্রিলির জন্য নিজেকে ওইভাবেই প্রস্তুত করে  নিতে হবে।  পড়ার সময় যে বিষয়টি কঠিন মনে হবে সে বিষয়টি মার্ক করে পড়া যেতে পারে। তবে লিখে লিখে পড়লে তা বেশি কাজে দেবে। এবার আসা যাক বিষয় ভিত্তিক কিভাবে প্রস্তুতি নিবেন সে বিষয়ে। বাংলা: ৩৫ বাংলা সাহিত্যের ক্ষেত্রে প্রথম সারির কবি-সহিত্যিকদের সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে হবে। এছাড়া প্রধান প্রধান সাহিত্যিকদের সাহিত্যকর্ম সম্পর্কে ভালোভাবে ধারনা থাকতে হবে। প্রিলিতে ভালো করতে হলে বিসিএসসহ পিএসসির নন-ক্যাডার ও অন্যান্য সরকারি চাকরিতে আসা  বিগত বছরের প্রশ্নগুলো ভালোভাবে দেখে নিতে হবে। কেননা বিগত বছরের প্রশ্নপত্র থেকে পরীক্ষাতে অনেক  প্রশ্ন কমন পড়ে। অন্যদিকে ব্যাকরণের জন্য  নবম ও দশম শ্রেণির বাংলা ব্যাকরণ বইটি ভালোভাবে পড়তে হবে। বাংলা একাডেমি ও একুশে পদক সম্পর্কে প্রতিবছর প্রশ্ন আসে। এছাড়া মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উল্লেখযোগ্য সাহিত্য, বাংলা সাহিত্যের উল্লেখযোগ্য পত্রিকা ও সম্পাদকের নাম জেনে রাখতে হবে। ইংরেজি: ৩৫ প্রথমেই বিগত বছরের বিসিএস ও পিএসসির বিগত বছরের প্রশ্নগুলো ভালোভাবে রিভাইস দিতে হবে।  ইংরেজির জন্য বিসিএসের সিলেবাসের আলোকে বিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতি নিতে হবে। প্রস্তুতি নেওয়ার সময় প্রয়োজনে লিখে লিখে পড়া যেতে পারে। এতে গ্রামারের নিয়মগুলো সহজেই আয়ত্বে আসতে হবে। অন্যদিকে ইংরেজির জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে ইংরেজি শব্দ ভাণ্ডার। ইংরেজি সাহিত্যের বিভিন্ন যুগ সম্পর্কে পরিস্কার ধারণা রাখতে হবে। ইংরেজি সাহিত্যের ক্ষেত্রে বড় বড় সাহিত্যিকদের সাহিত্যকর্ম সম্পর্কে ভালোভাবে জেনে নিতে হবে। তবে  বিগত বছরের প্রশ্নগুলো পড়া থাকলে এক্ষেত্রে ভালো করা সম্ভব। গাণিতিক যুক্তি ও মানসিক দক্ষতা :(১৫+১৫) গণিতের জন্য সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো বার বার অনুশীলন। কেননা অনুশীলন  ছাড়া গণিত বিষয়টিতে ভালো করা সম্ভব নয়।  তাই কোনো গাফলতি না করে বিগত সালের প্রশ্নগুলো ভালোভাবে পড়তে হবে। পাশাপাশি বিসিএসের সিলেবাস অনুযায়ী অষ্টম এবং নবম-দশম শ্রেণির গণিতসহ উচ্চতর গণিত বইটি ভালোভাবে শেষ করতে হবে। গণিত অনুশীলনের সময় ক্যালকুলেটর ব্যবহার করা যাবে না। কেননা পরীক্ষার হলে ক্যালকুলেটর ব্যবহার নিষিদ্ধ। মানসিক দক্ষতা অংশে ভালো করার জন্য বিগত বছরের প্রশ্নগুলো মনোযোগসহকারে পড়তে হবে। এজন্য বাজারে প্রচলিত জব সল্যুশনগুলোর একটি বইটি ভালোভাবে সমাধান করতে হবে। সাধারণ জ্ঞান: ৫০ সাধারণ জ্ঞানে বাংলাদেশ বিষয়াবলি ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি সম্পর্কে সমান গুরুত্ব দিতে হবে। বাংলা পত্রিকার প্রথম ও শেষ পাতা, সম্পাদকীয় ও মতামত, আন্তর্জাতিক, বাণিজ্য ও প্রযুক্তিবিষয়ক বিষয়গুলো পড়তে হবে। পত্রিকার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক গুরুত্বপূর্ণ সংগঠন এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানসমূহ সম্পর্কে সঠিক ধারণা রাখতে হবে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা থেকে শুরু করে স্বাধীনতার পূর্বের বিভিন্ন ঘটনা প্রবাহ সম্পর্কে পরিস্কার ধারণা থাকতে হবে। এছাড়া অর্থনৈতিক সমীক্ষা ও সরকারি বিভিন্ন জরিপের প্রয়োজনীয় অংশ পড়তে হবে। বাংলাদেশ অংশের জন্য বাংলাদেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য, মুক্তিযুদ্ধ, বিভিন্ন আন্দোলন, গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব, প্রাচীন স্থাপত্যের ওপর বেশি জোর দিতে হবে। বাংলাদেশের বিখ্যাত ব্যক্তিদের সম্পর্কে যাবতীয় তথ্য জানতে হবে। বাংলাদেশ সম্পর্কে ভালো করার জন্য নবম ও দশম শ্রেণির ইতিহাস বইটি পড়া যেতে পারে। সাধারণ বিজ্ঞান, কম্পিউটার ও তথ্য প্রযুক্তি: (১৫+১৫) নবম-দশম শ্রেণির বিজ্ঞান বইটি ভালোভাবে পড়তে হবে। এছাড়াও বিগত সালের প্রশ্নগুলো ভালোভাবে পড়ে নিতে পরলে বিজ্ঞান বিষয়ে ভালো করা সম্ভব। কম্পিউটার ও তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ে ভালো করতে হলে বিগত সালের প্রশ্নগুলো পড়ার পাশাপাশি বাস্তব জ্ঞান লাভের মাধ্যমে আইসিটি বা কম্পিউটার বিষয়ে প্রস্তুতি নিলে ভালো করা সম্ভব হবে।  ভূগোল পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা :১০ এ বিষয়ে ভালো করতে হলে মানিচিত্রের জ্ঞান খুবই গুরুত্বপূর্ণ এছাড়াও ভূগোল পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিগত বছরের প্রশ্নগুলো ভালোভাবে পড়তে হবে। এ ক্ষেত্রে নবম দশম শ্রেণির ভুগোল বইটি পড়ার পাশাপাশি বাজারে প্রচলিত একটি বই পড়া যেতে পারে। এছাড়াও প্রাকৃতিক দুর্যোগ নিয়ে কাজ করে এমন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে জানতে হবে । নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসন: ১০ এ বিভাগের প্রশ্নের উত্তরগুলো শতাভাগ নিশ্চিত না হয়ে দেয়া উচিত নয়। কেননা প্রশ্নের উত্তরের অপশনগুলো প্রায় কাছাকাছি হওয়ায় ভুল হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। এ ক্ষেত্রে বার বার অনুশীলনের মাধ্যমে সমস্যা কাটিয়ে উঠতে পারেন। এসএইচ/ এআর

ঢাবি ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতি : আটক আরও ৮

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ঘ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতির অভিযোগে সাত শিক্ষার্থীসহ ৮ জনকে আটক করেছে সিআইডি। সোমবার দিবাগত রাতে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। সিআইডির অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার মিনহাজুল ইসলাম গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। মিনহাজুল ইসলাম  বলেন, তাদের বিরুদ্ধে ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতির সত্যতা পাওয়ায় তাদেরকে আটক করা হয়েছে। আজ এক সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত জানানো হবে বলে জানান মিনহাজুল ইসলাম। ২০ অক্টোবর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ‘ঘ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতির অভিযোগে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক ও ঢাবির পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্র মহিউদ্দিন রানাসহ ১৫ জনকে আটক করে পুলিশ। এদের মধ্যে রানাসহ তিন জনকে চার দিনের রিমান্ডে দেন আদালত। রিমান্ডে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদে তারা তাদের অন্য সহযোগীদের নাম জানায়। রানার দেওয়া তথ্যমতে গতকাল রাতে অভিযান চালিয়ে পুলিশ এই আটজনকে আটক করে। / এআর /

‘কঠিন বিষয়গুলো মনে রাখুন ছন্দের তালে’

কদিন পরেই ৩৮তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা। দেশের প্রায় তিন লাখ ৮৯ হাজার শিক্ষার্থী কাঙ্ক্ষিত চাকরির আশায় অংশগ্রহণ করতে যাচ্ছেন এ পরীক্ষায়। এ সময়ে নিশ্চয়ই ব্যস্ততম সময় কাটাচ্ছেন বিসিএস প্রত্যাশী বন্ধুরা। বিসিএসে বাংলা বিষয় একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। এ বিষয়ে রয়েছে ৩৫ নম্বর। একটু সতর্ক হয়ে প্রস্তুতি নিলে এ বিষয়ে ভালো নম্বর তোলা যায়। কিভাবে এ স্বল্প সময়ের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতি নিতে পারেন- এ বিষয়ে ইটিভি অনলাইনের মাধ্যমে পাঠকদের গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছেন ৩৬তম বিসিএসের শিক্ষা ক্যাডার মাসুদুর রহমান। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক করেছেন। মাসুদুর রহমান মনে করেন, বাংলায় কিছু কিছু টপিক জটিল। সেগুলো মনে রাখাও কঠিন। তাই সেগুলো মনে রাখতে ছন্দ বানিয়ে নিতে পারেন। মাসুদুর রহমানের টিপসগুলো পাঠকদের উদ্দেশে তোলে ধরা হলো- বাংলা হতে পারে প্রিলিমিনারিতে টিকে থাকার অন্যতম মাধ্যম। বাংলা বিষয় দুটি ভাগে বিভক্ত। ভাষা (১৫) এবং সাহিত্য (২০)। ভাষা অংশের প্রস্তুতির ক্ষেত্রে প্রথম কাজ হলো- বিগত সালে বিসিএস পরীক্ষার আসা প্রশ্নগুলো ভালোভাবে পড়তে হবে। হাতের কাছে খাতা রাখতে হবে। যে টপিকগুলো কঠিন মনে হয় এবং বারবার পরীক্ষায় এসেছে সেগুলো খাতায় লিখে রাখতে হবে। পরে ব্যাকরণ বই থেকে ওই বিষয়গুলো ভালো করে বুঝে পড়তে হবে। ভাষা অংশের জন্য সবচেয়ে সহায়ক বই হলো নবম-দশম শ্রেণির ব্যাকরণ বইটি। এই বইটি থেকে নিয়মের পাশাপাশি উদাহরণগুলো ভালো করে পড়তে হবে। গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণগুলো খাতায় লিখে রাখতে হবে। যাতে করে পরে নোট হিসেবে কাজে লাগানো যায়। কারণ বিভিন্ন নিয়মের চেয়ে উদাহরণ থেকে প্রশ্ন আসার সম্ভাবনা বেশি। এছাড়া ড. সৌমিত্র শেখরের বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বইটি ভালো করে পড়তে পারেন। ব্যাকরণের কিছু অংশ থেকে প্রায় প্রতিটি পরীক্ষায় প্রশ্ন আসে। যেমন- শব্দের শ্রেণি বিভাগ, বানান, বাক্য, সন্ধি, সমাস, বিপরীত শব্দ, উপসর্গ, প্রবাদ-প্রবচন, বাগধারা। এগুলো ভালো করে পড়তে হবে। এর মধ্যে যেগুলো ব্যতিক্রম এবং বিশেষ নিয়মে সিদ্ধ সেগুলো বেশি মনে রাখতে হবে। বিভিন্ন গুরুত্ত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিজের মত করে বিভিন্ন ছন্দ বানিয়ে মনে রাখতে হবে। সাহিত্য অংশের প্রস্তুতি নেওয়া তুলনামূলক কঠিন। তবে একটি কথা মনে রাখতে হবে কোনো সহজ প্রশ্ন ভুল করা যাবে না। এখানে অনেক কবি-লেখক রয়েছে। তাদের লেখাও প্রচুর। তবে বারবার পড়লে অনেক তথ্য মনে থেকে যাবে। ফলে পরীক্ষার হলে যদি সরাসরি উত্তর মনে না থাকে তবে অন্য অপশন দেখে উত্তর মনে আসতে পারে। আবার সব লেখকের সব লেখা গুরুত্বপূর্ণ নয়। তাই একটু বেছে বেছে পড়া যেতে পারে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সাহিত্যিকরা হলেন- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, জীবনানন্দ দাশ, শামসুর রাহমান, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, মাইকেল মধূসুদন দত্ত, জসীমউদদীন, সুফিয়া কামাল, সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ। এই সাহিত্যিকদের লেখার সংখ্যা প্রচুর। তাই এগুলো মনে রাখার জন্য নিজের মত করে ছন্দ বা গল্প তৈরি করে নিতে হবে। যাতে করে মনে রাখা যায়। তবে কিছু কিছু সাহিত্যিকের অনেকগুলো লেখার মধ্যে একটি বা দুটি লেখা বেশি পরিচিত। সেক্ষেত্রে ওই লেখাটি ভালো করে মনে রাখতে হবে। এছাড়া বাংলাদেশের ইতিহাস ঐতিহ্য নিয়ে যে সব সাহিত্য রচিত হয়েছে সেগুলো মনে রাখতে হবে। মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বইগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই অংশের জন্য ড. সোমিত্র শেখরের বইটির পাশাপাশি ডাইজেস্ট ও কারেন্ট অ্যাফেয়ার্সের বিশেষ সংখ্যাটি পড়া যেতে পারে। তবে পরীক্ষার আগে অবশ্যই জব সল্যুশন বইটি একবার পড়ে রাখা ভালো। এসব দিক মাথায় রেখে শেষ সময়ে গুছিয়ে প্রস্তুতি নিলে আশা করি প্রিলিমিনারিতে ভালো করতে পারবেন বন্ধুরা। লেখক : ৩৬ তম বিসিএসের শিক্ষা ক্যাডার ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক। এসএইচ/ এআর

মডেল টেস্ট দেয়ার মাধ্যমে নিজেকে চাঙ্গা রাখুন

কদিন পরেই ৩৮তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা। দেশের প্রায় তিন লাখ ৮৯ হাজার শিক্ষার্থী কাঙ্ক্ষিত চাকরির আশায় অংশগ্রহণ করতে যাচ্ছে এ পরীক্ষায়। এ সময়ে নিশ্চয়ই ব্যস্ততম সময় কাটাচ্ছেন বিসিএস প্রত্যাশী বন্ধুরা। কিভাবে এই স্বল্প সময়ের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতি নিতে পারেন-এ বিষয়ে ইটিভি অনলাইনের মাধ্যমে পাঠকদের গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছেন ৩৬তম বিবিএস শিক্ষা ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত  মো. আশরাফুজ্জামান । তার টিপস নিয়ে লিখেছেন ইটিভি অনলাইনের রিপোর্টার মো. মাহমুদুল হাসান । বিসিএস লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য যোগ্য প্রার্থী বাছাই করা হয় প্রিলিমিনারি বা বাছাই পরীক্ষার মাধ্যমে। তাই বিসিএস ক্যাডার হওয়ার জন্য প্রিলিমিনারি পরীক্ষা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ প্রিলিমিনারি থেকে বাদ পরলে লিখিত কিংবা মৌখিক পরীক্ষার কোনোটাতেই অংশ গ্রহণ করা সম্ভব নয়। প্রিলিমিনারি পরীক্ষার জন্য বেশি জ্ঞান অর্জন করতে পারলে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় বেশি ভালো করা সম্ভব। এজন্য প্রিলিকে বিসিএসের সিংহদ্বার বলা হয়। ২০০ নম্বরের প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় মোট ২০০টি প্রশ্ন থাকবে। তবে এ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হলে ২০০ টি প্রশ্নের উত্তরই যে দিতে হবে তা কিন্তু নয়। ১০ টি বিষয়ের উপর ভিত্তি করে এ প্র্রশ্নগুলো করা হয়। তাই প্রস্তুতির নেওয়ার ক্ষেত্রে আপনার যে বিষয়টিতে সবচেয়ে বেশি দখল আছে সে বিষয়টি প্রথমে শেষ করতে পারেন। যে কয়দিন হতে আছে সে সময় প্রত্যেকদিন অন্তত একটি করে মডেল টেস্ট দিতে পারেন। কারণ, মডের টেস্ট দেয়ার মাধ্যমে ১০ টি বিষয় সম্পর্কে পড়া হয়ে যায়। এতে করে মস্তিষ্কে বিষয়গুলো চাঙ্গা থাকে। অন্যদিকে বিষয় ভিত্তিক পড়াশুনা করলে একটি বিষয় শেষ করে তা পুনরায় পড়তে দীর্ঘ সময় প্রয়োজন হয়। এ সময় শরীরের ভালোভাবে যত্ন নিতে হবে। বিশেষ করে ঘুমের বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম একটু কন্ট্রোলে নিয়ে আসতে হবে। ইংরেজি সাহিত্যে অনেকেরই ভয় থাকে। কেননা বার বার পড়েও কবি সাহিত্যিকদের নাম মনে থাকে না। তাই এর পেছনে আনেক সময় খরচ করতে হয়। তবে একটা বিষয় মনে রাখতে হবে যে, ইংরেজি সাহিত্য বিষয়টি শুধু বিবিএস প্রিলিমিনারিতেই বেশি কাজে লাগে। লিখিত, ভাইভা কিংবা অন্যকোন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় তেমন কাজে আসে না। তাই এ বিষয়টির জন্য পরীক্ষার আগে ২ থেকে ৩ দিন সময় নিয়ে প্রস্তুতি নেওয়া যেতে পারে। গণিতের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ কথা হলো-অনুশীলন ছাড়া গণিত বিষয়টিতে ভালো করা সম্ভব নয়। পরীক্ষাকে সামনে রেখে সম্প্রতিক সময়ে যে কোন একটি ‘জব সল্যুশন’-এর প্রশ্ন সমাধান করা যেতে পারে। এবার বিষয় ভিত্তিক প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা করা যাক।   বাংলা- ৩৫ সাহিত্যের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের প্রধান প্রধান সাহিত্যিকদের সাহিত্যকর্ম সম্পর্কে ভালোভাবে জানতে হবে। এ ক্ষেত্রে প্রথম সারির কবি-সহিত্যিকদের সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে হবে। সম্ভব হলে নোট করে লিখে পড়লে ভালো হয়। বাংলা ও ইংরেজি প্রতিশব্দ, বিপরীত শব্দ, সন্ধি ও সমাসের ব্যতিক্রম উদাহারণগুলো পড়তে হবে। অন্যদিকে নবম ও দশম শ্রেণীর বাংলা ব্যকরণ বইটি-ই বিসিএসে ব্যাকরণ বিষয়ক প্রস্তুতির জন্য যথেষ্ট। ব্যাকরণ অংশে ভালো করতে হলে বিসিএসসহ পিএসসির নন-ক্যাডার ও অন্যান্য সরকারি চাকরির ও বিভিন্ন ব্যংকে নিয়োগের বিগত বছরের প্রশ্নগুলো আগে দেখে নিতে হবে। বিগত বছরের প্রশ্নপত্র থেকে অনেক প্রশ্ন কমন পড়ে। বিপরীত শব্দ, সমার্থক শব্দ, সমাস, বানানরীতি, ণ-ত্ব বিধান, ষ-ত্ব বিধান ইত্যাদি বিষয়গুলো দ্রুত দেখে নিতে হবে। বাংলা বানানের জন্য বাংলা একাডেমি প্রণীত বানান রীতিগুলো আয়ত্ব করে ফেলতে হবে। বাংলা একাডেমি ও একুশে পদক সম্পর্কে প্রতিবছর প্রশ্ন আসে। তাই এ বিষয়েও ভালো করে পড়তে হবে। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উল্লেখযোগ্য সাহিত্য, বাংলা সাহিত্যর উল্লেখযোগ্য পত্রিকা ও সম্পাদকের নাম জেনে রখতে হবে। প্রাচীন ও মধ্যযুগে পড়া কম। তাই একটু ভালো করে পড়লে এ অংশে সম্পূর্ণ নম্বর পাওয়া যায়।   ইংরেজি- ৩৫ ইংরেজির জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে ইংরেজি শব্দ ভাণ্ডার। গ্রামার সম্পর্কিত বিসিএস ও পিএসসির বিগত বছরের প্রশ্নগুলো পড়ে নিতে হবে। বিসিএসের ইংরেজি এতো বেশি কঠিন হয় না। ব্যাংক জবের তুলনায় বিসিএস পরীক্ষার ইংরেজি সহজ হয়। তাই ইংরেজির জন্য বিসিএসের সিলেবাসের আলোকে বিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতি নিতে হবে। প্রস্তুতি নেওয়ার সময় প্রয়োজনে লিখে লিখে পড়া যেতে পারে। এতে গ্রামারের নিয়মগুলো সহজেই আয়ত্বে আসবে। ইংরেজী সাহিত্য বিষটি শুধু বিবিএস প্রিলি ছাড়া রিটেন, ভাইভা কিংবা অন্যকোনো প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় তেমন কাজে আসে না। তাই এ বিষয়টির জন্য পরীক্ষার আগে ২ থেকে ৩ দিন সময় নিয়ে প্রস্তুতি নিতে হবে। তবে ইংরেজি সাহিত্যের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে বিখ্যাত সাহিত্যিকদের নাম, সাহিত্যকর্ম ও সাহিত্যে তাদের অবদান সম্পর্কে জানতে হবে। কিছু ক্ল্যাসিকাল বইয়ের নাম ও লেখকের নাম, বিতর্কিত বই ও লেখকের নাম জেনে নিতে হবে।   গাণিতিক যুক্তি ও মানসিক দক্ষতা -(১৫+১৫) গণিতের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ কথা হলো-অনুশীলন ছাড়া গণিত বিষয়টিতে ভালো করা সম্ভব নয়। তাই প্রতিদিন গণিত অনুশীলনের মাধ্যমে নিজেকে প্রস্তুত রাখতে হবে। এছাড়া উচ্চতর গণিত, ধারা, শতাংশ, পরিসংখ্যান, সম্ভাব্যতা, বিন্যাস ইত্যাদি বিষয়গুলোর প্রতি বিশেষ দৃষ্টি দিতে হবে। এজন্য কোনো গাফলতি না করে বিগত সালের প্রশ্নগুলো ভালোভাবে পড়তে হবে। পাশাপাশি বিসিএসের সিলেবাস অনুযায়ী অষ্টম এবং নবম-দশম শ্রেণীর গণিতসহ উচ্চতর গণিত বইটি ভালোভাবে শেষ করতে হবে। গণিত অনুশীলনের সময় ক্যালকুলেটর ব্যবহার করা যাবে না। কেননা পরীক্ষার হলে ক্যালকুলেটর ব্যবহার নিষিদ্ধ। মানসিক দক্ষতা অংশে ভালো করার জন্য বিগত বছরের প্রশ্নগুলো মনোযোগসহ পড়তে হবে। এজন্য বাজারে প্রচলিত জব সল্যুউশনগুলোর একটি বইটি ভালোভাবে সমাধান করতে হবে।   সাধারণ জ্ঞান- ৫০ সাধারণ জ্ঞানের বাংলাদেশ বিষয়টি প্রিলিমিনারি, লিখিত ও ভাইভা তিনটি পরীক্ষার জন্যই সমান গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণ জ্ঞানে বাংলাদেশ বিষয়াবলি ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি-দু’টাকেই সমান গুরুত্ব দিতে হবে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা থেকে শুরু করে স্বাধীনতার পূর্বের বিভিন্ন ঘটনা প্রবাহ সম্পর্কে পরিস্কার ধারণা থাকতে হবে। এছাড়া, বাংলাদেশের বিখ্যাত ব্যক্তিগণের সম্পর্কেও যাবতীয় তথ্য জানতে হবে। বাংলাদেশ সম্পর্কে ভালো করার জন্য নবম ও দশম শ্রেণীর ইতিহাস বইটি পড়া যেতে পারে। নিয়মিত দৈনিক ও মাসিক পত্রিকা পড়তে হবে। বাংলা পত্রিকার প্রথম ও শেষ পাতা, সম্পাদকীয় ও মতামত, আন্তর্জাতিক, বাণিজ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক বিষয়গুলো পড়তে হবে। পত্রিকার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক গুরুত্বপূর্ণ সংগঠন এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানসমূহ সম্পর্কে সঠিক ধারণা রাখতে হবে। এছাড়া অর্থনৈতিক সমীক্ষা ও সরকারি বিভিন্ন জরিপের প্রয়োজনীয় অংশ পড়তে হবে। বাংলাদেশ অংশের জন্য বাংলাদেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য, মুক্তিযুদ্ধ, বিভিন্ন আন্দোলন, গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব, প্রাচীন স্থাপত্যের উপর বেশি জোর দিতে হবে। আন্তর্জাতিক বিষয়ে ভালো করার জন্য মানচিত্রের জ্ঞান খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বের যখন যে অংশ পড়া হবে সঙ্গে সঙ্গে মানচিত্রের মাধ্যমে নির্দিষ্ট করে পড়লে তা অনেক বেশি কাজে আসবে। পড়ার সময় যে বিষয়টি কঠিন মনে হবে সে বিষয়টি মার্ক করে পড়া যেতে পারে। তবে লিখে লিখে পড়লে তা বেশি কাজে আসবে বলে আমি মনে করি। এর মাধ্যমে রিটেনে আপনি এগিয়ে থাকবেন। এছাড়াও বাংলাদেশের সংবিধানের গুরুত্বপূর্ণ ধারাগুলো ভালোভাবে পড়ে নিতে হবে।   সাধারণ বিজ্ঞান, কম্পিউটার ও তথ্য প্রযুক্তি- (১৫+১৫) বিগত বছরে পিএসসির অধীনে যে প্রশ্ন এসেছে তা ভালোভাবে রিভিশন দিতে হবে। আমি মনে করি বিগত সালের প্রশ্নগুলো ভালোভাবে পড়তে পারলে বিজ্ঞান বিষয়ে ভালো করা সম্ভব। তবে নবম-দশম শ্রেণীর বিজ্ঞান বইটি ভালোভাবে পড়তে হবে। এছাড়াও সৌরজগৎ, আগ্নেয়গিরি, শিলা, ভূত্বক, প্রণালী প্রভৃতি সম্পর্কে জানতে হবে। বিগত সালের প্রশ্নগুলো ভালোভবে পড়তে পারলে আইসিটি বা কম্পিউটার বিষয়ে ভালো করা সম্ভব । তবে বাস্তব জ্ঞান লাভের মাধ্যমে অনুশীলন করতে পারলে শতভাগ কমন পড়া সম্ভব।   ভূগোল পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা - ১০ ভূগোল পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিগত বছরের প্রশ্নগুলো ভালোভাবে পড়তে হবে। বিশ্বের কোনো দেশ কোথায় অবস্থিত সেটা জানা না থাকলে এই অংশে মোটেও ভাল করা সম্ভব নয়। তাই বিশ্ব মানচিত্র সম্পর্কে ভাল ধারণা থাকতে হবে। নবম দশম শ্রেণির ভুগোল বইটি পড়ে নিলে ভালো হয়। প্রাকৃতিক দুর্যোগ নিয়ে কাজ করে এমন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে জানতে হবে ।   নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসন- ১০ এ বিভাগের প্রশ্নের উত্তরের অপশনগুলো কাছাকাছি হওয়ার করণে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই এ বিভাগের প্রশ্নের উত্তর শতভাগ নিশ্চিত হয়ে দেয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। এছাড়াও এ অংশে ভালো করতে হলে গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, আইনের শাসন, মুল্যবোধ, ধর্মীয় অনুশাসন প্রভৃতি বিষয়ে ধারণা নিতে পাড়লে ভালো হয়।   সর্বপরি, এ সময়ে সুস্থ থাকাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাই শরীরের প্রতি যত্নশীল হবেন। বিশেষ করে ঘুমের বিষয়ে সচেতন থাকবেন। অন্যদিকে প্রিলি পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে সময় ব্যবস্থাপনা। পরীক্ষার পূর্বে তাই মডেল টেস্ট দিয়ে নিজেকে সময়ের ব্যাপারে প্রস্তুত রাখুন। অন্যদিকে এ সময়ে কোন চাপ নেয়া যাবে না । বেশি চাপ নিলে জানা বিষয়েও ভুল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই নিজের উপর বিশ্বাস রেখে প্রস্তুতি নিতে থাকুন সফলাতা আশবেই। সবাইকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।   লেখক: মো. আশরাফুজ্জামান ৩৬ তম শিক্ষা ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত (ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি)          

আজ থেকে শুরু প্রাথমিক ও ইবতেদায়ি পরীক্ষা

আজ থেকে শুরু হচ্ছে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী ও ইবতেদায়ি পরীক্ষা। ২৬ নভেম্বর পর্যন্ত পরীক্ষা চলবে। প্রথম দিন অনুষ্ঠিত হচ্ছে ইংরেজি বিষয়ের পরীক্ষা। ৩০ লাখ ৯৬ হাজার ৭৫ জন শিক্ষার্থী এ বছর প্রাথমিক ও ইবতেদায়ি শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে । এর মধ্যে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনীতে ২৮ লাখ চার হাজার ৫০৯ এবং ইবতেদায়িতে দুই লাখ ৯১ হাজার ৫৬৬ জন। গত বছর অংশ নিয়েছিল ৩২ লাখ ৩০ হাজার ২৮৮ জন। এ হিসেবে এবার পরীক্ষার্থী কমেছে এক লাখ ৩৪ হাজার ২১৩ জন। দেশের ভেতরে সাত হাজার ২৬৭টি এবং দেশের বাইরে ১২টি কেন্দ্রে এই পরীক্ষার্থীরা অংশ নেবে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সূ্ত্রে জানা গেছে, প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় অংশ নেওয়া পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ছাত্র ১২ লাখ ৯৯ হাজার ৯৮৫ জন এবং ছাত্রী ১৫ লাখ চার হাজার ৫২৪ জন। এবার ছাত্রীর সংখ্যা ছাত্রের চেয়ে দুই লাখ চার হাজার ৫৩৯ জন বেশি। এছাড়া, ইবতেদায়ির পরীক্ষার্থীরদের মধ্যে ছাত্র এক লাখ ৫৩ হাজার ১৫২ এবং ছাত্রী এক লাখ ৩৮ হাজার ৪১৪ জন। এ পরীক্ষাতেও পরীক্ষার্থী কমেছে আট হাজার ১৪৯ জন।  

© ২০১৭ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি